Sakib’s Hidden Gems – Episode #23

আনিমে: Ima, Soko ni Iru Boku (Now and Then, Here and There)

জানরা: অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি, সাই-ফাই, মিলিটারি, ড্রামা
এপিসোড সংখ্যা: ১৩
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/160/Ima_Soko_ni_Iru_Boku
 
গল্পের নায়ক মাতসুতানি শুউ হাসিখুশি, প্রাণবন্ত, ও অত্যন্ত অপটিমিস্টিক একটি ছেলে। একদিন সে লালা রু নামের এক অদ্ভুত ও রহস্যময়ী মেয়ের দেখা পায়। এর কিছু পরেই এক তীব্র আলোর ঝলকানির সাথে শুউ নিজেকে আবিষ্কার করে লালা রু এর সাথে এক সম্পূর্ণ অচেনা জগতে। সে জানতে পারে যে সে পড়ে গিয়েছে এক পাষণ্ড একনায়ক রাজা হামদোর খপ্পরে, যে কিনা নিজের স্বার্থের জন্য লালা রুকে চায়। শুউ কী পারবে লালা রুকে বাঁচাতে? সে কী পারবে নিজের জগতে ফিরে যেতে?
 
গল্পের সেটিং অত একটা অসাধারণ না হলেও আনিমেটি অনেক দিক দিযেই অসাধারণ। এতে মানবমনের কুৎসিত দিক ও ভালো দিক দুটিই কঠোর বাস্তবতার মিশেলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মানবমনে এর বিচিত্রমুখী প্রভাব ও সবশেষে ভায়োলেন্সের খারাপ পরিণতিগুলি চোখের সামনে চলে এসেছে কোনরকম রাখঢাক ও কৃত্রিমতা ছাড়াই। আনিমেটি বেশ ডিপ্রেসিং হলেও অবশ্যই দেখার মতো।
 
গল্পের চরিত্রগুলিকে অনেক যত্নের সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিধায় ওদের আপন বোধ হয়। ওপেনিং আর এন্ডিং গানদুটি চমৎকার। ডিরেকশন ও ওএসটির জবাব নেই। ধীরলয়ে, যত্নের সাথে এক অত্যন্ত মানবিক গল্প বলেছে আনিমেটি।
 
ডিপ্রেসিং জিনিসে আপত্তি না থাকলে অবশ্যই অবশ্যই দেখবেন। এইরকম আনিমে পাওয়াই যায় না।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #22

আনিমে: Eikoku Koi Monogatari Emma (Emma: A Victorian Romance)

জানরা: রোমান্স, হিস্টোরিকাল, স্লাইস অফ লাইফ, সেইনেন
এপিসোড সংখ্যা: ১২ + ১২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/345/Eikoku_Koi_Monogatari_Emma
 
লন্ডন, ১৮৯৬ সাল। এক অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধা গভর্নেসের বাসায় মেইডের কাজ করছে এমা নামের এক তরুণী। মিতভাষী শান্ত সুন্দরী এমার পাণিপ্রার্থীর অভাব হয় না, কিন্তু সবাইকে সে কেন জানি মানা করে দেয়। গভর্নেসকে দেখা করতে একদিন এলো উনার যত্নে বড় হওয়া লন্ডনের এক উচ্চবিত্ত ঘরের ছেলে উইলিয়াম। এমাকে দেখেই তার ভালো লেগে গেল। ফুর্তিবাজ ও খোলামেলা উইলিয়ামকে এমারও বেশ ভালোই লাগলো। এরপর শুরু হলো মন দেওয়া-নেওয়ার পালা। কিন্তু সমাজের একেবারে দুই প্রান্তে থাকা জুটি কী পারবে এক হতে?
 
আনিমের পুরোটা জুড়ে একটা ধীরলয়, শান্ত সৌন্দর্য আছে। ওএসটি সুদিং, ওপেনিং ও এন্ডিং গানদুটিতে লিরিক্স নেই, কিন্তু বেশ প্রশান্তি আনে। আর্টস্টাইল সিমপ্লিস্টিক ও দেখতে ভালো লাগে। তৎকালীন ইউরোপের একটি বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে আনিমেটিতে। চরিত্রগুলি বেশ বাস্তবিক আচরণ করায় ওদের বেশ ভালো লেগে যায়, যোগস্থাপন করা যায় সহজেই। রোমান্টিক ডেভেলপমেন্টও বেশ বাস্তবসম্মত। তাই আমি রোমান্স জানরার বড় ভক্ত না হওয়া সত্ত্বেও এই আনিমেটি খুব উপভোগ করেছি।
 
বাস্তবতার ছোঁয়াসমৃদ্ধ ধীরলয়ের রোমান্টিক গল্পের সন্ধানে থাকলে এটি দেখবেন। মাঙ্গাটিও পড়তে পারেন। লেখিকা মরি কাওরু উনার আর্টের জন্য বিখ্যাত। ওনার Otoyomegatari মাঙ্গাটি পড়ে দেখার প্রস্তাব রইল।
 
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #21

আনিমে: Detroit Metal City

জানরা: কমেডি, মিউজিক, সেইনেন
এপিসোড সংখ্যা: ১২ (প্রতিটি এপিসোড ১৩ মিনিটের)
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/3702/Detroit_Metal_City
 
কলেজ গ্র্যাজুয়েট নেগিশি এক অতি সাধারণ শান্তশিষ্ট ছেলে। পড়াশুনার জন্য টোকিওতে আসা নেগিশির লক্ষ্য হল নিজের পায়ে দাঁড়ানো, আর বাপমায়ের মুখ উজ্বল করা। ওর আবার পপ মিউজিকের উপর খুব শখ। সে চায় নিজে গান গাইতে, আর নিজের ব্যান্ড খুলতে। কিন্তু আসল ঘটনা এত সহজ নয়। কারণ নেগিশি ঘটনাচক্রে এক ডেথ মেটাল ব্যান্ডের লীড ভোকালিস্ট হিসাবে যুক্ত হয়ে পড়ে! ডেথ মেটাল ব্যান্ডের অবস্থাও তথৈবচ – অদ্ভুত সব কস্টিউম পরে অত্যন্ত উচ্চস্বরে অশ্রাব্য লিরিক্সের গান চলে সারাক্ষণ। তাই বেচারা নেগিশির এখন দুই কূল সামলাতে হয়। বন্ধুবান্ধব আর তার love interest এর সামনে ভদ্র সাজতে হয়, আর স্টেজে উঠে ডেথ মেটাল গায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। কিন্তু বিধি বাদ সাধেন বারবার, আর হাস্যকর সব পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাকে।
মজাদার কিছু মুহূর্তের স্বাদ পেতে চাইলে এখনি শুরু করে দিন।
 
 
 
 
::::: বোনাস :::::
আনিমে: Dareka no Manazashi (Someone’s Gaze)
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/17121/Dareka_no_Manazashi
 
মাত্র ছয় মিনিটের এই শর্টফিল্মটি মাকোতো শিনকাই নির্মিত। ফিল্মটিতে পাবেন বাপ-মেয়ের মাঝে হাসি-কান্না মিশ্রিত কিছু পারিবারিক মুহূর্ত। আর তার সাথে টিপিকাল শিনকাই স্টাইলের আলট্রা-রিয়ালিস্টিক ভিজুয়াল তো থাকছেই।
 

মিলেনিয়াম একট্রেস ও একটি জাতির পুনর্জন্ম — Fahim Bin Selim

[সহযোগ
কন আর্ট – স্বপ্ন, বিভ্রম আর চলচ্চিত্রের প্রতি প্রেমপত্র: http://www.animeloversbd.com/satoshi-kon-fahim-bin-selim/]
 
তাইওয়ানিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা এডওয়ার্ড ইয়াং-এর ২০০০ সালের চলচ্চিত্র Yi Yi-এর এক পর্যায়ে এর অন্যতম চরিত্র পাঙ্গজি বলে, “[…]we live three times as long since man invented movies.”
চিয়োকো ফুজিওয়ারা বেঁচে থাকলো এক সহস্রাব্দ – জীবন, স্মৃতি আর চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে – সেনগোকু কাল থেকে দূর ভবিষ্যৎ পর্যন্ত; যে সময়টায়, চন্দ্রমাসের চতুর্দশ দিন হোক আর পঞ্চদশ, চাঁদের পুরোটা জুড়েই মানুষের পদচারণা, আর অসীম মহাকাশের দিকে যাত্রা শুরুর জন্য তার উপর তৈরি পদ্মাকৃতির ঘাঁটি।
কোনো কোনো পদ্মফুল বেঁচে থাকতে পারে হাজার বছর। ঠিক যেমনটা জাপানিরা বিশ্বাস করে লালচাঁদি বা মাঞ্চুরিয়ান সারসের ক্ষেত্রে। তাই তো সারস নকশার কিমোনো জড়িয়ে জন্ম চিয়োকোর, ১৯২৩-এর বৃহৎ কান্টো ভূমিকম্পের সময়। ভূমিকম্পের সাথে জাপান আর চিয়োকোর যোগসূত্র চিরকালের। তার বাবার মৃত্যুও এসময়টায়। চিয়োকো বলে, একজনের জীবনের পরিবর্তে যেন আরেকজনের জন্ম।
 
 
চিয়োকোর তখনো বাইরের বিশ্বের সাথে সংযোগ হয়নি। ম্যাগাজিনের পাতায় নায়ক-নায়িকাদের ছবি দেখে অপার মুগ্ধতায় ডুবে থাকে। এই কৈশোরেই তার সাথে পরিচয় মুখে-ক্ষতওয়ালা একজন সেনার কিংবা একটি রাস্ট্রের, মাথায় টুপি-পড়া নাম-না-জানা একজন বিদ্রোহীর কিংবা একটি আদর্শের; আর প্রথম ভালোবাসার। তবে জাপান সাম্রাজ্যের কাছে তখন ভালোবাসার একমাত্র সংঙ্গা জাতীয়বাদ। আর তার একমাত্র লক্ষ্য সম্প্রসারণ। তারই প্রেক্ষিতে ১৯৩১-এ চীনের শাসনাধীন মাঞ্চুরিয়া দখল করে বসানো হলো মাঞ্চুকুয়ো পুতুল রাস্ট্র। শুরু হলো দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ। কোরীয় উপদ্বীপ আর দক্ষিণ মাঞ্চুরিয়ার রেল-এলাকা আগে থেকেই তাদের দখলে ছিলো। মাঞ্চুরিয়ার সাধারণ মানুষের উপর চালানো হলো নিপীড়ন; ভাগ্য ভালো থাকলে তাদের জোরপূর্বক শ্রমে কাজে লাগানো হবে, ভাগ্য খারাপ থাকলে হতে হবে জৈব-রাসায়নিক গবেষণার বস্তু। এখানেই বসানো হলো মাঞ্চুকুয়ো ফিল্ম এসোসিয়েশন, আর তার অধীনে নির্মিত হতে শুরু করলো সব প্রোপাগান্ডা চলচ্চিত্র। জাতীয়তাবাদের সুরায় তখনও নেশাগ্রস্থ সাধারণ জাপানিরা।
 
 
ভালোবাসার আশায় সেখানেই পদার্পণ চিয়োকোর। সময়ে সময়ে তার অভিনীত চলচ্চিত্র, স্মৃতিতে থাকা মাঞ্চুরিয়ার জীবন আর গেনিয়ার কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকার – তিন স্তরের আখ্যান যেন একসাথে মিশে যায়। বিদ্রোহীর খোঁজে উত্তরের রেলযাত্রায় চিয়োকোর প্রথম দেখা মিলে প্রতিরোধশক্তির – দেশরক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়া চৈনিক সৈন্যদল। “জাতীয়তাবাদী নাকি সাম্যবাদী?” একজন যাত্রী জিজ্ঞেস করে। জীবনমরণের প্রশ্নে সেটায় কীইবা তফাত! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে সময়। নানকিং, ওকিনাওয়া কিংবা হিরোশিমা-নাগাসাকি তখনো লাশের ভাগাড়ে পরিণত হয়নি।
 
সবশেষে পড়ে রইলো একটি বিধ্বস্ত বিশ্ব। আর একটি বিধ্বস্ত জাতি। সেই জাতির ফিরে আসার অবলম্বন হলো চলচ্চিত্র। গেনিয়ার স্বগোতক্তি,পঞ্চাশের দশক চিয়োকোর সেরা সময়। জাপানের চলচ্চিত্রেরও তো স্বর্ণযুগ এটাই। যুদ্ধপরবর্তী বাস্তবতায় একদল তরূণ আর মাঝবয়সী লোক নেমে পড়লো ক্যামেরা হাতে – কেঞ্জি মিযোগুচি, মাসাকি কোবায়াশি, আকিরা কুরোসাওয়া, মিকিও নারুসে, ইয়াসুজিরো ওযু – জাপানের বর্তমান আর অতীত সেলুলয়েডে তুলে ধরতে। তা যত তিক্তমধুরই হোক। একটি জাতির টিকে থাকার আশা-আকাঙ্খা, অনুভূতি আর অনুতাপের সাথে বহির্বিশ্বের পূনর্পরিচয় হলো কুরোসাওয়া আর কোবায়াশিদের প্রতিটি শট, প্রতিটি ফ্রেমে। আর এই নতুন জাপানি চলচ্চিত্রের মুখপাত্র হলো অদম্য কিছু নারী চরিত্র। চিয়োকো তো বেঁচে রইলো তাদের মাঝেই।
 
সঙ্গী হয়ে আকিরা কুরোসাওয়ার সাথে যাত্রায় প্রাচীন জাপানে। কখনো সে যেন ইসুযু ইয়ামাদা, তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় এক প্রেতাত্মা। আর দেওয়ালের রক্তের ছোপ। প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসার। সে অবলোকন করে অন্ধবিশ্বাস আর ঔদ্ধত্য, বিশ্বাসঘাতকতা আর পতন। কখনোবা মিসা উয়েহারার মত ঘোড়সওয়ার হয়ে তার খুঁজে বেড়ানো বিদ্রোহীর, আর পেছনে সবসময় লেগে থাকা মুখে-ক্ষতওয়ালা সেই ব্যক্তির; ভিন্ন বেশে, ভিন্ন সময়ে, সবসময়। সেনগোকু, এদো, মেইজি – প্রেতাত্মার অথবা সময়ের চরকার অনবরত ঘূর্ণন, আর বারবার ফিরে আসা একই জায়গায়। যুদ্ধ-বিগ্রহ, ক্ষমতালোভ, আর রক্তের ধারা। যুগে যুগে শান্তির এক নিরন্তর খোঁজ।
 
আকিরা কুরোসাওয়ার Throne of Blood

 

 

লেডি আসাজি চরিত্রে ইসুযু ইয়ামাদা; আকিরা কুরোসাওয়ার Throne of Blood

 

 

প্রিন্সেস ইউকি চরিত্রে মিসা উয়েহারা; আকিরা কুরোসাওয়ার The Hidden Fortress

 

মিকিও নারুসের দৃষ্টিপাত বরং নিকট অতীত আর বর্তমানে – যুদ্ধ-পূর্ববর্তী এক গ্রামীন স্কুল কিংবা যুদ্ধ-শেষে টোকিওর ধ্বংসস্তুপ। যুদ্ধের ভয়াবহতা যে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দেশের ভিতরেও চলে এসেছিলো। আকাশে ভেসে বেড়ানো কালো মেঘের ভেতর থেকে বর্ষণ হলো গুলি-বোমা। তা বিদায় নিলে আবার হাজির দূর্ভিক্ষ, বাস্তুহরণ আর বেকারত্ব। আর নিজভূমে থেকেও পরাধীনতার স্বাদ পাওয়া প্রথমবারের মত। রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো আমেরিকান সেনারা জানান দেয় সেই নতুন বাস্তবতার। সে সময়টায় চিয়োকো মাথায় জড়ায় হিদেকো তাকামিনের স্কার্ফ। ভাঙ্গা কাঠ আর জঞ্জালের নিচে হাতড়ে ফিরে স্মৃতি আর স্বপ্ন। গলায় তখনো ঝুলতে থাকে সেই আরাধ্য চাবি।

ওইশি-সেনসেই চরিত্রে হিদেকো তাকামিনে; মিকিও নারুসের Twenty-four Eyes

 

 

ইউকিকো কোদা চরিত্রে হিদেকো তাকামিনে; মিকিও নারুসের Floating Clouds

 

কারণ তবুও তো জীবন থেমে থাকে না। ইয়াসুজিরো ওযু তাই আসন গাড়েন মেঝেতে, ক্যামেরা সাজান এমনভাবে যাতে ধরা পড়ে পুরো ঘর আর তাতে থাকা সব মানুষ। বাইরের সব কোলাহলমুক্ত, অন্তত ব্যক্তিগত এই জায়গা-ই তো শেষ সম্বল। অতীতকে পাশে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্রণা দেন। সেৎসুকো হারার হাসি জায়গা নেয় চিয়োকোর ঠোঁটে। নাকি তার পুরোটাই দখল করে নেয়! তাই কি ষাটের দশকের মাঝ থেকে দুজনেই হারিয়ে গেলো লোকচক্ষুর আড়ালে?

নোরিকো চরিত্রে সেৎসুকো হারা; ইয়াসুজিরো ওযুর Late Spring

 

সে-ও তো অনেক বছর আগের কথা। সবার স্মৃতিতেই কিছুটা মরচে পড়েছে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে কীভাবে! চিয়োকো যে পান করেছে অমরত্বের সুধা। ফিল্মের ফিতা আর গেনিয়ার মুগ্ধতায় চিয়োকোর প্রতিটি সংলাপ আর অভিব্যক্তি টিকে আছে আগের মতই। তাই গেনিয়া হাজির হলো চাবি নিয়ে। ধুলোর আস্তরণ সরিয়ে খুলে বসলো বাক্সটা আবার। চিয়োকো, জাপান, সাতোশি কনের নিজের কিংবা আমাদের স্মৃতির। মুখে-ক্ষতওয়ালা লোকটা এখনো বিদ্যমান; নতুন চরিত্র নিয়ে, নতুন জায়গায় দখলদারিত্ব আর সাম্রাজ্যবিস্তারের সেই পুরনো নাটকের মঞ্চায়ন।

তাই চিয়োকো বাড়ির পশ্চাতে জন্মায় তার অতিপ্রিয় পদ্মফুল। কর্দমাক্ত মাটিতে শিকড় গেড়েও সেগুলো যখন পানির উপর ভেসে উঠে তখন থাকে শ্বেতশুভ্র। শত ঘাত-প্রতিঘাতের পরও আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হওয়ার দর্শন নিয়ে প্রস্ফুটিত যেন: মানবসভ্যতার অন্ধরূপের সাথে সাক্ষাতের পরও তার উপর আশা না হারানোর প্রতিজ্ঞা, মাঝেমাঝেই সেই আশা দুরাশা বলে সাব্যস্ত হলেও; জীবন আর মৃত্যুর অনন্ত চক্রে বিদ্রোহীর খোঁজে সময় আর কাল পাড়ি দেওয়ার সংকল্প, তার চেহারা এখন বিস্মৃত হলেও। মাঞ্চুরিয়া কিংবা দূর মহাকাশে। শান্তির খোঁজে। ভালোবাসার খোঁজে। পথচলাটাই মুখ্য।
আর সেই পুনর্জন্ম কিংবা নির্বাণের যাত্রায় চলচ্চিত্রের চেয়ে ভালো মাধ্যম আর কী হতে পারে?

Sakib’s Hidden Gems – Episode #20

আনিমে: Capeta

জানরা: শৌনেন, মোটরস্পোর্টস
এপিসোড সংখ্যা: ৫২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/388/Capeta
 
গল্পের মূল চরিত্র দশ বছর বয়সের মা-মরা ছেলে তাইরা কাপেতা। বাবাকে নিয়ে থাকা কাপেতা এই কচি বয়সেই টুকটাক ঘরের কাজ করে বাবাকে সাহায্য করে। ওর বাবা কন্সট্রাকশন ওয়ার্কার, দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করায় কাপেতাকে খুব একটা সময় দিতে পারেন না। তাই তিনি চান ছেলেকে কিছু একটা উপহার দিয়ে ওর মুখে সত্যিকারের হাসি ফোটাতে। তো একদম পিচ্চি থাকতেই গাড়ি নিয়ে কাপেতার খুব আগ্রহ ছিল। তা লক্ষ্য করে ওর বাবা ওকে একটা পুরনো গো-কার্ট মেরামত করে মোটামুটি চালানোর উপযোগী করে উপহার দেন। সেটা পেয়ে কাপেতা অতি উৎসাহের সাথে চালানো শুরু করে। গল্পের শুরুটা এভাবেই, একদম রুট লেভেল থেকে। তারপরে কাপেতা ধীরে ধীরে প্রফেশনাল রেসিং ক্যারিয়ার গঠনে আরও বহুদূর এগিয়ে যায়। অবশেষে সে একজন রেসারের কাঙ্খিত স্বপ্ন – ফর্মুলা ওয়ান টুর্নামেন্ট পর্যন্ত যায়।
 
এই জানরার অন্যান্য কিছু রেসিং আনিমের থেকে আনিমে কাপেতাকে আলাদা রাখব এটার সিমপ্লিসিটির জন্য। এটা পূর্ণরূপে উপভোগ করতে আপনার গাড়ি সম্পর্কে অতটা জ্ঞান বা উৎসাহ না থাকলেও চলে। গল্পটি বেশ ইমোশনাল, কাপেতার সুখদুঃখের মুহূর্তগুলি আর ওর বেড়ে ওঠা দর্শকের মনে দাগ কাটে। আর একদম শুন্য থেকে একজন সফল রেসার হয়ে ওঠার ধাপগুলি এই আনিমেতে বেশ যত্নসহকারে দেখিয়েছে।
 
আনিমেটির ভিজুয়াল আর এনিমেশন মোটামুটি, রেসিং আনিমেগুলিতে এটাই কমন আসলে। তবে জমাটি গল্প আছে, দারুণ একটি রাইভালরি আছে, আর রেসিং-এর টানটান উত্তেজনা তো আছেই। তাই প্রথম কয়েকটি এপিসোড ট্রাই করেই দেখুন না।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #19

আনিমে: Bartender

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, সেইনেন, হিস্টোরিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ১১
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/1589/Bartender
 
গল্পের কর্ণধার সাসাকুরা রিউ হলো জাপানের গিনজা শহরে অবস্থিত “ইডেন হল” বারের বারটেন্ডার। গল্পের প্রতিটি এপিসোডে ওর কাছে কাস্টোমার আসে। তবে তারা শুধুই মদ খেতে আসে না – তারা চায় একটু মানসিক শান্তি আর জীবনের নানা ঝুটঝামেলা থেকে মুক্তি। অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, জ্ঞান, আর বিষয়বুদ্ধির অধিকারী রিউ প্রত্যেকবার ওর কাস্টোমারের মনের সুপ্ত ইচ্ছা বুঝতে পারে আর ওদের সমস্যার সমাধান দেয়। ব্যস, গল্প মোটামুটি এতটুকুই।
গল্পের প্রতি পর্বে বার ও বহুরকম ককটেলের ব্যাপারে নানা জিনিস জানানো হয়। আনিমেটার ভিজুয়াল খুব সিমপ্লিস্টিক হলেও ক্লাসিক ঘরানার ওএসটি আছে। ওপেনিং এন্ডিং গানগুলোও ভালো। প্রতি পর্বের শেষে লাইভ একশন পার্টে একজন বারটেন্ডার একটি ককটেল প্রস্তুত করেন।
একটি মনোমুগ্ধকর ও ধীরলয়ের বাস্তব শিক্ষামূলক আনিমের স্বাদ পেতে চাইলে এটি দেখতে পারেন। ভালো লাগলে মাঙ্গাটাও পড়ে দেখতে পারেন।
 

Tower of God, Season 1 Anime – রিভিউ, আশা/হতাশা, ২য় সিজন নিয়ে আকাঙ্ক্ষা, এবং ১ম সিজনের গল্প নিয়ে সামান্য স্পয়লারযুক্ত আলোচনা – Tahsin Faruque

বিশাল বড় টাইটেল দেখে আগেই বিরক্ত না হতে অনুরোধ করছি। সিরিজটা নিয়ে বেশ অনেক কিছু বলার ছিল। এক পোস্টেই আপাতত মনের কথাগুলি বলে ফেলছি। টাইটেলের মত পোস্ট এত বড় হবে না আসলে।
টাওয়ার অভ গড – ২০২০ সালের সবচাইতে আলোচিত এনিমেগুলির একটি। ১০ বছর আগে শুরু হওয়া ও দিনে দিনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠা কোরিয়ান ওয়েবটুনের উপর ভিত্তি করে বানানো এনিমেটি নিয়ে আগ্রহের একটা বড় কারণ ছিল যে, এই সিরিজের মাধ্যমে কোরিয়ান মানহা বা ওয়েবটুনের এনিমে এডাপ্টেশনের পথে যাত্রার শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে নোবেলিজের ছোট ২-১ পর্বের এডাপ্টেশন ছিল, কিন্তু সেগুলিকে ঠিক আসল এনিমে বলা যায় না। টাওয়ার অভ গড দিয়েই আসল যাত্রাটা শুরু, যা এরপরে গড অভ হাই স্কুল দিয়ে সামনের দিকেই আগাতে থাকবে। এজন্যে এই সিরিজটি একটি বিশাল বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে। তো, মাইলফলক সিরিজ হিসাবে কেমন অবদান রাখলো এটি?
আমার মতে, সিরিজটি অনেক অনেক বেশি ভাল হতে পারতো। তবে সেরকম ভাল না হলেও খারাপ হয় নি। সিরিজটি যদি দেখে থাকেন, তাহলে হয়তো আপনার মনে সিরিজটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকবে, মনে হবে কিছুই তো বুঝলাম না কী হল, কেন হল, একগাদা প্রশ্নের উত্তর পাবার বদলে আরও একশত প্রশ্ন গড়ে উঠলো। ব্যাপারটা স্বাভাবিক, কারণ শুধু এটুক মনে করতে পারেন যে এই ১৩ পর্ব যা দেখলেন (কিংবা যা দেখবেন যদি সিরিজটি দেখার প্ল্যান করেন), এটি অনেকটা নারুতো বা ব্লিচ বা ওয়ান পিস ধরণের বিশাল বড় এক মেগাসিরিজের সূচনা মাত্র। প্রথম ১৩ পর্ব মানহাটির প্রথম সিজন (অর্থাৎ প্রথম ৮০ পর্ব) এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও, এটুক অংশকে আসলে বড় সাইজের একটি prologue বলা যায়। ১ম সিজন শেষে গল্প যেখানে এসে দাঁড়ালো, সেখান থেকেই “আসল গল্প” শুরু হতে যাচ্ছে।
তবে এই কথা বলার অর্থ এটা না যে এর সব ত্রুটি মাফ হয়ে গেল। গুণ অনেক আছে যেমন, তেমনই দোষও নেহাত কম নেই। আপাতত ভাল অংশটুকু নিয়ে আলোচনা দিয়ে শুরু করি।
  • সম্ভবত সিরিজটির সবচাইতে ভাল দিক হচ্ছে এর মিউজিক। কেভিন পেনকিন সামনের দিনের সবচাইতে বড় এনিমে মিউজিক কম্পোজারদের একজন যে হতে যাচ্ছে, তা মেইড ইন এবিস, শিল্ড হিরোর পর টাওয়ার অভ গডের মাধ্যমে আবার একবার প্রমাণ করলো।
  • প্রথম দেখায় এনিমেশন তেমন ভাল লাগে নি, তবে এরপর একটু হাই কোয়ালিটির ভিডিওতে দেখার সময়ে বুঝলাম এনিমেশন আসলে খারাপ নয়। মানহার অরিজিনাল আর্টস্টাইল শুরুর দিকে খারাপ ছিল বেশ, নুবিশ আঁকা ছিল। পরের দিকে মাঙ্গাকার স্কিল বাড়তে থাকে, এবং আঁকার মানও উপরের দিকে উঠতে থাকে। এনিমের আর্টস্টাইল অনেকটা মাঙ্গাকার পরের দিকের আর্টস্টাইলের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে। কিছুটা নতুনত্ব আছে তা অস্বীকার করবো না।
  • যদিও ওয়ার্ল্ড বিল্ডাপ-এর প্রায় কিছুই দেখি নি আমরা, তারপরেও টাওয়ার অভ গডের দুনিয়াটা যে বেশ নতুনত্ব কিছু নিয়ে এসেছে, সেটা অবশ্যই বলতে হবে। টাওয়ার-টা আসলে কী, এর বাইরে কী আছে, এটা কত বড় – এমন হাজারোটা প্রশ্ন এটাকে বিভিন্ন মেগাসিরিজের মধ্যে একটাকে ইউনিক কিছু বানাতে পেরেছে। তথাকথিত “টাওয়ার” বেয়ে উঠতে গেলে যে বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা উতরে যেতে হবে, এটা দেখলে প্রথমেই হান্টার হান্টারের কথা মনে পড়তে পারে দর্শকের। তবে তারপরেও সিরিজটিতে এসব পরীক্ষানিরীক্ষার ধরণে অন্যরকম স্বাদ পাওয়া যায়।
  • একগাদা চরিত্র থাকলেও প্রায় সব বড় চরিত্র দর্শকদের পছন্দ হবার মত করেই বানাতে পেরেছে।
এবার আসি ক্রিটিসিজম প্রসঙ্গে।
 
  • অনেক তাড়াহুড়া করে গল্প আগাবে মনে হতে পারে। ৮০ চ্যাপ্টারের কন্টেন্ট ১৩ পর্বে এঁটে দেওয়া সহজ ব্যাপার না। পর্ব সংখ্যা অন্তত আরও ৩-৪টা বেশি হওয়া উচিৎ ছিল।
  • বড় বড় অনেক রহস্যের ব্যাখ্যা এখন না দিলেও, গল্পের এই পর্যায়ে এসে ওয়ার্ল্ড বিল্ডাপ নিয়ে যেসব সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দর্শকের জানতে পারা উচিৎ, তার অনেক কিছুই খোলাসা করা হয় নি।
  • আর বাকি যেসব নেগেটিভ দিক নিয়ে আলোচনা করবো, তা একটু নিচে স্পয়লার ট্যাগে আছে। দেখে নিতে পারেন।
 
 
২য় সিজন নিয়ে আশা/হতাশাঃ
১ম সিজন যেমনই হোক না কেন, দর্শকমহলে বেশ ভাল রিসিপশন পেয়েছে। ক্রাঞ্চিরোলের নিজস্ব প্রোজেক্ট বলে তারা ভাল করেই জানে কত বেশি দর্শক এটা দেখতে পেরেছে। (এক্ষেত্রে বলে রাখি, আপনি যদি বাংলাদেশে বা এই সাবকন্টিনেন্টে বসে দেখতে চান, ক্রাঞ্চিরোলে গিয়ে একদম 1080p-তেই দেখতে পারবেন আরামসে, একদম ফ্রিতে। তাই ফ্রিতে অরিজিনাল কন্টেন্ট সাপোর্ট করতে চাইলে একদম ক্রাঞ্চিরোলে গিয়েই দেখুন।) এজন্যে ২য় সিজন না আনাটা বোকামিই হবে তাদের জন্যে। তবে কিছু leaked source থেকে জানা গিয়েছে সামনের বছর ২য় সিজন আসবে। অফিশিয়াল ঘোষণা না আশা পর্যন্ত খবরটিকে আপাতত গুরুত্ব দিচ্ছি না।
তবে ২য় সিজন যদি আসে, আমি চাইবো যেন তারা rush না করে ভাল এডাপ্টেশন করতে পারে। ১ম সিজনের গল্প মানহাতে অনেক ধীরে ধীরে আগায়, যেটা আসলে rush না করলে দর্শককে বিরক্ত করে ফেলতে পারতো। তবে ২য় সিজন থেকে গল্প মানহাতেই ভাল স্পিডে আগায়। এটার স্পিড এনিমেতে আরেকটু বাড়াতে গেলে সর্বনাশ হবে। খেয়াল রাখবেন, টাওয়ার অভ গডের দুনিয়াটা বিশাআআআল, আর এখানে এত বেশি বেশি চরিত্র আছে যে, এনিমের পেসিং ঠিকমত না হলে দর্শকদের মাথা খারাপ হয়ে যাবে। স্পয়লার না দিয়েই বলি, মূল গল্পের অনেক মেইন চরিত্রকে এখনও আমরা এনিমের ১ম সিজনে দেখিই নাই। ২য় সিজন থেকেই আসলে এসব মেইন চরিত্রদের দেখতে পারবো। এজন্যে তাদের ক্যারেক্টার বিল্ডাপ খুব ভালমত হওয়া দরকার। ভালমত হওয়া দরকার সামনের দিকের কয়েকটা অসাধারণ রকমের ভাল story arc-এর। তাই, শুধু পেসিং জিনিসটি যদি ঠিক করতে পারে, আর গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ না কেটে ফেলে, তাহলে ২য় সিজন থেকে এনিমে নিয়ে কোন চিন্তা থাকবে না আমার।
 
কাট-কন্টেন্ট যা থাকা উচিৎ ছিল, পরিবর্তিত কন্টেন্ট যা পরিবর্তন করা উচিৎ ছিল নাঃ
২য় সিজনের স্পয়লার দিব না, তবে ১ম সিজন যদি আপনি দেখে থাকেন, তাহলে আশা করি নিচের লেখাটি পড়তে সমস্যা হবে না। এখানে আমি মূল মানহার ১ম সিজনের শেষ পর্যন্ত গল্পের অংশে যেসব বড় বড় কন্টেন্ট এনিমেতে বাদ দিয়েছে বা পরিবর্তিত করেছে তা নিয়ে আলোচনা করবো। তাই, একটি স্পয়লার ওয়ার্নিং থাকলোঃ
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
  • সবার আগে সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা বাদ দিয়েছে এনিমেতে (যেটার জন্যে আমি বেশ ভাল রকমের বিরক্ত), তা হল…
    আপনি কী জানেন যে Bam x Endorsi একটা বিরাট ব্যাপার!? জানেন না? ওয়েবটুনটি না পড়লে জানার কথাও না, কারণ এনিমেতে এই বিশাল জিনিসটা সোজা সাপটা বাদ দিয়ে দিয়েছে!!! খুব বিশ্বাস না হলে গুগলে গিয়ে Bam x লিখুন, এরপর Endorsi নিজে থেকেই চলে আসবে। গল্পের এই পর্যায়ে বাম ও এন্ডোরসির এই সম্পর্কে যে একদম রোমান্টিক তা নয়, তবে তাদের অনেক interaction একদম চোখ বন্ধ করে বাদ দিয়েছে এনিমেতে। তাদের এই সম্পর্ক এত বিশাল বড় যে এটার এক বড় প্রভাব ২য় সিজনে দেখতে পারবেন (যদি এনিমেতে দয়া করে সেটাও বাদ না দিয়ে রেখে দেয়)।
  • এন্ডোরসির ক্যারেক্টার বিল্ডাপের অনেক কিছু বাদ পড়ে গিয়েছে। বিশাল বড় ইগো-ওয়ালা এই চরিত্র যে ১ম সিজন শেষের আগেই best girl হয়ে যায়, তা এনিমে দর্শক হয়তো জানবেও না মানহা না পড়লে। Bam x Endorsi এর অংশগুলা যা বাদ দিয়েছে, সেখানেই এগুলির অনেক কিছু পড়েছে।
  • Rachel-এ সিরিজে অনেকবারই এমন আচার আচরণ করতে দেখিয়েছে, যাতে তার প্রতি শুরু থেকেই সন্দেহ থাকে সবার। ব্যাপারটি মানহাতে সেরকম ছিল না। এন্ডোরসির কথাতে এনিমের মত সে রাগ হয় নি, কথায় কথায় মানুষজনের তাকে সন্দেহ করতে দেখা যায় নি। সোজা কথা, ১২-১৩ পর্বে তার সেই বিট্রেয়ালটা একটা সারপ্রাইজ হিসাবেই ছিল মানহাতে, এনিমতে সেটা foreshadow করে এসেছে যখনই পেরেছে।
  • ক্রাউন গেমের শেষের দিকে গিয়ে বাম শিনসুতে পরিবর্তিত হয়ে যায় নি আসলে, মানহাতে জিনিসটা এভাবে দেখিয়েছিল যে, হোয়া রিউনের দিকে তার কাছ থেকে এক ঝলক শিনশু এটাক গিয়েছিল। তার ঐ শিনসু এটাকে ক্রাউন ধ্বংশও হয় নি, আর রাগ হারিয়ে রিউনকে মারতে গেলে ব্ল্যাক মার্চ সময় থামিয়েও দেয় নি, বরং বাম সেখানেই সেন্সলেস হয়ে যায়।
  • ব্ল্যাক মার্চের কথা যেহেতু এসেছিল, যতদূর মনে পড়ে, এনিমেতে একে কাতানা বলে উল্লেখ করেছিল মনে হয়। কোরিয়ান থেকে জাপানিজ ট্রান্সলেশনের ভুল কিনা জানি না, কিন্তু ব্ল্যাক মার্চ কাতানা নয়, নিডল (needle)। হ্যাঁ, নিডল বা সুই-টাইপের অস্ত্র। সোর্ড আর নিডল দুই আলাদা জিনিস, কেন সেটাও এনিমেতে ভাল করে বলে নি।
  • বাম যে বিশেষ কিছু, বা ওর মধ্যে যে ভয়ংকর পটেনশিয়াল লুকানো, সেটা আমার মনে হয় এনিমতে ভালমত দেখায় নি। কয়েকটা উদাহরণ দেইঃ
    * লেরো রো-এর সেই শিনসু টেস্টের সময়ে সবাই শিনসু দেওয়ালের পিছে চলে গিয়েছিল, বাম বাদে। এই ঘটনাটা এনিমেতে দেখে মজা লাগতে পারে, তবে যেটা সবচাইতে বড় ধাক্কা দিত, সেটা ছিল লেরো রো-এর মুখের এক্সপ্রেশন। মানহাতে লেরো রো যেই চেহারা করেছিল, সেটা দেখলে মনে হত ও জীবনের সবচাইতে বড় ভয়ংকর কিছু দেখেছে নিজ চোখে।
    * ক্রাউন টুর্নামেন্টে শুধুমাত্র ওর uncontrollable shinsu flowটাই ওর ক্ষমতার একমাত্র indication ছিল না। মাঝখানে একটা বড় ফাইট একদম বাদ দিয়েছিল। সেখানে বামের ছোটখাট কিছু কারিশমা দেখলে বুঝা যেত ওর ট্যালেন্ট ধীরে ধীরে বাড়ছে।
    * Position training class, Hide and Seek – এই দুই জায়গাতে ranker-দের শিখানো দুইটা কৌশল এক দেখাতেই বাম শিখে ফেলে, যেটা ঐ ranker-দের ২-৩ বছর বা কয়েকশত বছর লেগেছিল শিখতে। বামকে একবারেই সেগুলি করতে দেখার পর ranker-দের মুখের এক্সপ্রেশন দর্শকদেরকে খুব সহজেই বুঝিয়ে দিতে পারতো বাম আসলে কোন লেভেলের monster. দুঃখের ব্যাপার, এনিমতে এগুলি ভালমত দেখায় নি।
  • বিভিন্ন পজিশনগুলি নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল (Fisherman, Wave Controller, Light Bearer, Scout etc.), সেই অংশটি অল্পের মধ্যে সেরেছে এনিমেতে। এই জিনিসটা এনিমেতে মানহার মত বড় করে দেখানো উচিৎ ছিল। সেটা না করাতে অনেকেই কনফিউজড হয়ে যেতে পারে, কারণ এই ধরণের পজিশন আইডিয়াটার সাথে আমরা এনিমে দর্শকরা পরিচিত না। ইউনিক একটা কন্সেপ্ট যেহেতু, এটা ভাল করে বুঝানো উচিৎ ছিল এনিমেতে। মানহাতে সেটা করেছিল।
  • আবার বাম ও এন্ডোরসির কথায় আসি। শেষ দৃশ্যে বামকে অনেক বেশি আশাবাদী হিসাবে দেখিয়েছে এনিমেতে। মানহাতে বাম তখন এত বড় বিট্রায়ালের পর মানসিকভাবে ভেঙ্গেচুড়ে গিয়েছে। জিনিসটা ২য় সিজনে রেটকন না করলে আসলে দুই সিজনের বামকে মিলাতে কষ্ট হবে দর্শকের। আর ওদিকে বামের “মৃত্যু”-এর খবরে এন্ডোরসির মনের ভিতর যেন শূন্যতায় ভরে গিয়েছিল। হ্যাঁ, মানহার এই বড় জিনিসটাও এনিমেতে নাই, কারণ কোন এক অদ্ভুত কারণ পুরা Bam x Endorsi জিনিসটা বাদ দিয়েছে এনিমেতে (যেই জিনিসটা মাফ করতে পারবো না)।
আরও কিছু ছোটখাট পরিবর্তন বা কাট-কন্টেন্ট ছিল, তবে সেগুলি অত গুরুত্বপূর্ণ না। এডাপ্টেশন করতে গেলে ওটুক পরিবর্তন করাই যায়। তবে উপরে বলা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলি শুধু শুধু গল্পকেই পরিবর্তন করে দিবে।
 
সবশেষে বলবো, মানহা যদি পড়তে চান, কষ্ট করে ১ম সিজনটা পাড়ি দিতে পারলেই চলবে। ২য় সিজনের একদম শুরু থেকে টানটান উত্তেজনা! খুবই ফ্যানফেভারিট একগাদা নতুন মেইন চরিত্র যুক্ত হবে, থাকবে পুরানো চরিত্রদের badass প্রত্যাবর্তন, আর সবচাইতে বড় আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবে বাম নিজেই। এনিমের ২য় সিজনটাতে মানহা থেকে ভালমত এডাপ্টেশন করুক, এই আশায় পোস্ট এখানে শেষ করছি।

Sakib’s Hidden Gems – Episode #18

আনিমে: Ashita no Joe (Tomorrow’s Joe)

জানরা: একশন, ড্রামা, স্পোর্টস, শৌনেন
এপিসোড সংখ্যা: ৭৯
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/2402/Ashita_no_Joe
 
গল্পের নায়ক ইয়াবুকি জো এক পথেঘাটে ঘুরে বেড়ানো যুবক। আপাতদৃষ্টিতে তাকে বখে যাওয়া অকর্মা ছেলে মনে হলেও ওর মধ্যে আছে বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করার ইস্পাতকঠিন মনোবল, আর অতীত নিয়ে পড়ে না থেকে নিজের ভবিষ্যৎ গঠনের তাগিদ। তাছাড়া ফাইটিং করার জন্য জো-এর আছে প্রকৃতিপ্রদত্ত প্রতিভা। কেউ এটা ধরতে না পারলেও এক বয়স্ক বক্সিং কোচ দাঙ্গে তানপের কাছে তা ধরা পড়ে। ব্যর্থতার ভারে জরাজীর্ণ দাঙ্গে জো-এর মধ্যে নিজের ভবিষ্যতকে দেখতে পায়। বহু অনুরোধ ও কষ্টের পরে সে জোকে বক্সিং শুরু করতে রাজি করায়। শুধু জাপান নয়, সারা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বক্সার হওয়ার লক্ষ্যে জো এগিয়ে যায়।
ট্রাডিশনাল স্পোর্টস আনিমের থেকে এটি অনেকাংশে আলাদা। কারণ এতে বক্সিংয়ের পাশাপাশি জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য জো-এর সংগ্রামকে ফোকাস করা হয়েছে। গল্পে অনেক ইমোশনাল ঘটনা ঘটছে, ক্রাইম ঘটছে, মানুষজন জেলে যাচ্ছে – এগুলা আসলে এখনকার স্পোর্টস আনিমেগুলোতে ঘটে না। আসলে ৭০ এর দশকের এই আনিমের সাথে এখনকার সময়ের বিস্তর তফাৎ।
গল্পে আপনি আরও পাবেন চোখে পানি এসে যাওয়ার মতো কষ্টের স্ট্রাগল, স্রেফ অসাধারণ একটি রাইভালরি, আর সর্বোপরি আনিমে ইতিহাসের অন্যতম ট্রাজিক ও শ্রেষ্ঠ সমাপ্তি।
গল্পের গতি বেশ ধীর। আর খুবই পুরনো আনিমে হওয়ার কারণে এখনকার মনকাড়া ভিজুয়াল ও আনিমেশন নেই এইটাতে। কিন্তু তাই বলে ক্যারাক্টারগুলো ও তাদের মুভমেন্ট দেখতে খারাপ লাগবে না আশা করি। আসলে আশিতা নো জো আপনি মূলত দেখবেন গল্পের জন্য, ভিজুয়ালের জন্য নয়।
এটার একটা সিকুএলও আছে (৪৭ পর্বের)। তবে আমার মতে সেটা প্রথম সিজনের গল্পের কোয়ালিটি ধরে রাখতে পারেনি বলে দেখা আবশ্যক নয়।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #17

আনিমে: Kamisama no Inai Nichiyoubi (Sunday Without God)

জানরা: ফ্যান্টাসি, অ্যাডভেঞ্চার, মিস্টেরি
এপিসোড সংখ্যা: ১২ + ১টি ওভিএ
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/16009/Kamisama_no_Inai_Nichiyoubi
 
গল্পটি লেখা হয়েছে খ্রিস্টধর্মের ক্রিয়েশন স্টোরিকে আধার করে। এই গল্পে ঈশ্বর এক সপ্তাহের প্রথম ছয়টি দিনে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করে সপ্তম দিনে অর্থাৎ রবিবারে কোন কারণে তাঁর সৃষ্টিজগতের প্রতি অনাসক্ত হয়ে পড়েন। যার মনের তীব্র ইচ্ছা যা ছিল তা পূরণ করে তিনি বিদায় গ্রহণ করেন। এখন মানুষের তীব্র ইচ্ছা ছিল অমর হওয়ার, তাই এই জগতে মানুষের প্রকৃত মৃত্যু নেই। দৈহিক মৃত্যুর পর সেখানকার মানুষজন অনেকটা জোম্বির মত হয়ে পড়ে। আবার অনন্ত জীবনকে ভয় পেয়ে অনেকে ঈশ্বরের কাছে তখন মৃত্যুকামনা করে। তাই দেখে তিনি Gravedigger সৃষ্টি করেন। কারও দৈহিক মৃত্যুর পর কোন Gravedigger তাকে কবর দিলে সে আর ফিরে আসবে না। এই অদ্ভুত জগৎ নিয়েই এই আনিমেটি।
গল্পের নায়িকা হলো আই আস্টিন নামের এক কিশোরী। তার মা ছিল Gravedigger, আর বাবা হলো হাম্পনি হামবার্ট নামের এক “অমর” মানুষ। ছবির মতো সুন্দর গ্রামে গ্রামবাসীদের সাথে থাকা আই ওর মৃত মায়ের মতই চায় এমন এক জগতের, যেখানে সবাই সুখী হতে পারবে। মা মারা যাওয়ার পর আই নিজের কাঁধে নেয় Gravedigger এর দায়িত্ব। কিন্তু হঠাৎ একদিন ওর বাবা তাদের গ্রামে হাজির হয়ে গ্রামবাসীদের মেরে ফেলে। কেন? জানতে হলে আনিমেটি দেখতে হবে।
আনিমেটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো এর অত্যন্ত সুন্দর, রঙিন ভিজুয়াল এবং সাউন্ডট্র্যাক। ফ্যান্টাসির জগৎটাকে মনোরমভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওপেনিং আর এন্ডিং গানদুটি ভাল। গল্প মোটেও খারাপ নয়। বেশ ডিপ্রেসিং এক জগতে বেশ কিছু ডিপ্রেসিং মুহূর্ত উপহার দিয়েছে এটি।
গল্পের বুননে কিছু ছোটখাট ত্রুটি রয়েছে, কাহিনী খুব একটা আগায়নি। তবুও বেশি এক্সপেক্টেশন নিয়ে না দেখে সুন্দরভাবে সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে আনিমেটি দেখলে ভালো লাগবে আশা করি।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #16

আনিমে: Fuujin Monogatari (Windy Tales)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, সুপারন্যাচারাল, স্কুল
এপিসোড সংখ্যা: ১৩
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/1524/Fuujin_Monogatari
 
জুনিয়র হাই স্কুলের ডিজিটাল ক্যামেরা ক্লাবের সদস্যা উয়েশিমা নাও-য়ের শখ হল সময় পেলেই স্কুলের ছাদে যেয়ে মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকা আর ছবি তোলা। তো একদিন সে ছাদে গিয়ে হঠাৎ একটি শূন্যে ভাসমান বিড়ালকে দেখতে পায়। বিড়ালটার ছবি তুলতে গিয়ে সে ছাদের কার্নিশ থেকে পড়ে যায়, আর তার স্কুলের একজন শিক্ষক (মাকিনো সেনসেই) অলৌকিকভাবে তাকে মাটিতে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। নাও জানতে পারে যে, বিড়ালটা আর ঐ শিক্ষক – দুই-ই বাতাসকে ম্যানিপুলেট করতে জানে। এর আগে কোন অলৌকিক কিছু না দেখা নাও ও ক্যামেরা ক্লাবের বাকি সদস্যা কাতাওকা মিকির জন্য এটা একটা চরম রোমাঞ্চকর জিনিস – যা ওদের সামনে একটা নতুন জগৎ খুলে দেয়। মাকিনো সেনসেই – এর কাছ থেকে ওরা বাতাসকে ম্যানিপুলেট করার বিদ্যা শিখতে শুরু করে। নাও, মিকি, ও জুন নামের একটি ছেলে নানা বিচিত্র (কখনও মজাদার, কখনও শিক্ষামূলক) অভিজ্ঞতা লাভ করতে থাকে।
আনিমেটি মূলত এপিসোডিক। প্রতিটা এপিসোডের থিম ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু সবগুলোই একসূত্রে গাঁথা, কারণ বাতাসের সাথে কোন না কোনভাবে সম্পর্ক থাকে। আর নাওয়ের স্কুলের মুহূর্তগুলিও বেশ মজাদার – টিচারেরা সবাই বন্ধুবৎসল।
আনিমেটি ঠিক যেন গতানুগতিক স্লাইস অফ লাইফ আনিমের মত না। এর ক্যারাক্টার ডিজাইন খুবই ইউনিক। ওদের অনেকসময় খড়কুটোর মত দেখতে মনে হয়, বাতাসের এক ঝটকায় উড়ে যাবে যেন। আরেকটি উল্লেখযোগ্য জিনিস হলো আনিমেটিতে অসাধারণ ওএসটির ব্যবহার – মিউজিক দ্বারা এতো সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা আমি খুব বেশি আনিমেতে দেখিনি।
ভিন্ন স্বাদের স্লাইস অফ লাইফ আনিমের খোঁজে থাকলে এই আনিমেটি দেখতে পারেন। একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে মজাও পাবেন, আর কিছুটা চিন্তার খোরাকও পাবেন আশা করি।