অনিক মিয়ার ক্ষুদে মাঙ্গার বাক্স, পর্ব #০৪

মাঙ্গার নাম : 𝗢𝗴𝗲𝗵𝗮
চাপ্টার : ১৫ টি
মাঙ্গাকা : Oimo
ধরন : রহস্য, শিশু (পোকা) নির্যাতন
 
কীট-পতঙ্গ নিয়ে সাতোশি কিজির এক অদ্ভুত আকর্ষণ কাজ করে। একদিন হঠাৎ অজানা এক পোকার দেখা পায় সে। কিন্তু পোকার মুখটা দেখতে মেয়ে মানুষের মতো। পোকাটিকে সে বাড়িতে নিয়ে আসে। পোকা নিয়ে আকর্ষণ থাকলেও পোকার প্রতি খুব যে যত্ন নেয় তা নয়। উলটো পোকার সাথে যাচ্ছেতাই আচরণ করাটাই তার স্বভাবের সাথে যায়। কিন্তু এই খারাপ আচরণকে অদ্ভুত মেয়ে পোকাটা অস্বাভাবিক হিসাবে নেয় না। কারণ জন্মের পর সাতোশিকেই শুধু দেখেছে পোকাটি। ভালো-মন্দের তফাৎ করার মতো জ্ঞান এখনো হয়নি। লোকচক্ষুর আড়ালে অজানা পোকা পালন, অন্যদিকে ভিনগ্রহী সদৃশ কিছু উটকো পতঙ্গ মেয়ে পোকাটিকে খুঁজে চলেছে দিক-বিদিক। কে এই মেয়ে পোকা? কেনই বা একে হন্যে হয়ে খুঁজছে অন্য কিছু পোকা? সাতোশির সাথে পোকার সম্পর্ক আগাবে কীভাবে এসব নিয়ে গল্পের ফোকাস।
মাঙ্গাটা পড়ে অধিকাংশের ভালো লাগবে, এমনটা আমি আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করতে পারছি না। কিন্তু এ ধরনের অতিপ্রাকৃত, অদ্ভুতুরে অভিজ্ঞতা এখন পর্যন্ত তেমন পাইনি আমি। পোকা নিয়ে একটা গা ঘিনঘিন ব্যাপার তো এখানে রয়েছেই, আবার সামনে কী হবে এমনটা ভেবে থ্রিল নেওয়ার অবকাশও রয়েছে মাঙ্গাটিতে। তাই কিছুটা বিরল গল্প অবলোকনের অভিজ্ঞতা সঞ্চারে এই মাঙ্গাটি পড়ার সুপারিশ করব সবাইকে।
 
✪জানলে ভালো, না জানলে ক্ষতি নাই✪
পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার প্রজাতির এবং তার চেয়ে অধিক রঙের মিশেলের প্রজাপতি রয়েছে। প্রজাপতির রঙবেরঙের ডানা কিন্তু প্রকৃতপক্ষে স্বচ্ছ। কাইটিনের তৈরি এই ডানাগুলো আসলে হাজার হাজার ক্ষুদ্র আঁশ দিয়ে গঠিত। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে সূর্যের আলো এই আঁশগুলোতে প্রতিফলিত হয়েই অজস্র প্যাটার্নের রঙিন অবস্থার সৃষ্টি করে।
 
 

Yawara! A Fashionable Judo Girl [রিভিউ] — Nazmus Sakib

আনিমে – Yawara! A Fashionable Judo Girl
এপিসোড সংখ্যা – ১২৪ + ১টি মুভি
লেখক – নাওকি উরাসাওয়া
স্টুডিও – ম্যাডহাউজ
ম্যাল রেটিং – ৭.৫০
ব্যক্তিগত রেটিং –
 
ধীরলয়ের, রিল্যাক্সিং, ও ব্যতিক্রমী স্পোর্টস কমেডি ড্রামা। “মন্সটার”- খ্যাত উরাসাওয়ার অপেক্ষাকৃত হাল্কা স্বাদের ও হ্যাপি মুডের কাজ এটি। পুরোনো দিনের স্লো পেসড ড্রামা দেখতে চাইলে এটি হতে পারে আইডিয়াল।
 
সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
সময়কাল আশির দশকের শেষদিক। ভীষণ প্রতিভাধর এক জুডো খেলুড়ে পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের কিশোরী মেয়ে ইয়াওয়ারা। জুডোতে তার জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু জুডোতে মোটেও আগ্রহ নেই ওর। সে বরং চায় সাধারণ মেয়ের মতই জীবনটাকে উপভোগ করতে, যৌবনের স্বাদ নিতে, ট্রেন্ডি স্টাইলের কাপড়চোপড় পরতে। কিন্তু বাদ সাধেন ওর দাদু। এক সময়কার ডাকসাইটে জুডোকা ঐ দাদুর শাসনে ইয়াওয়ারাকে প্রতিনিয়ত জুডোর প্র্যাকটিস করতে হয়। তার দাদুর একটাই ইচ্ছা – ইয়াওয়ারা যেন বার্সেলোনা অলিম্পিকে স্বর্ণ জয় করে। শুরু হয় ইয়াওয়ারার স্বাভাবিক জীবন আর জুডোকা হিসেবে ক্যারিয়ারের মাঝে ব্যালেন্স করে পথচলা। পথে ওর অনেক বন্ধু জুটে, ভালোবাসার পাত্রও জুটে যায়। এভাবেই আমাদের চোখের সামনে সে বেড়ে উঠতে থাকে আর জীবনের নানা মোড় পেরোতে থাকে।
 
গল্পঃ ৭
ট্রাডিশনাল স্পোর্টস সিরিজগুলো থেকে এটি একটু আলাদা। এখানে মেইন ক্যারেক্টার ইতিমধ্যেই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হবার দাবি রাখে। কিন্তু সে কিছু মানসিক বাধার কারণে নিজের ফুল পটেনশিয়ালটা ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করে। উল্টাদিকে ওর সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেশ কিছু রাইভ্যালের আবির্ভাব ঘটে, যারা দিনরাত খেটে ওর লেভেলে যাবার চেষ্টা করতে থাকে। এর পাশাপাশি গল্পে ঐ সময়কার জীবনের নানা দিক ও আবেগ ফুটে উঠেছে নৈপুণ্যের সাথে।
 
চরিত্রায়ণঃ ৯
সিরিজের স্ট্রং পয়েন্ট আসলে এই জায়গাতেই। ইয়াওয়ারাকে ভালো না লেগে থাকাই যায় না, এমন করেই বাস্তবতার ছোঁয়া দিয়ে তাকে গড়ে তুলেছেন লেখক। প্রায় প্রতিটা পার্শ্বচরিত্রের আছে আলাদা বৈশিষ্ট্য, যা মনে গেঁথে যায়। বেশ দীর্ঘ এই সিরিজে মূল চরিত্র ছাড়াও এদের সবাইকে সময় নিয়ে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন লেখক। প্রায় কেউকেই ওয়ান ডিমেনশনাল বলা যাবে না।
 
আর্ট ও এনিমেশনঃ ৮
আনিমের সময়কার আর্ট ও এনিমেশন স্টাইল ফলো করা হয়েছে। উরাসাওয়ার চিরাচরিত বাস্তবধর্মী ডিজাইনের প্রয়োগ ঘটেছে এখানে, যা গল্পের সাথেও যুতসই হয়েছে। “A Fashionable Judo Girl ” তকমা পাওয়া ইয়াওয়ারাকে একেক এপিসোডে একেক সাজে দেখতে পাওয়া যায়। জুডো ম্যাচের ডাইন্যামিক মুভমেন্টগুলো যত্নের সাথে দেখানো হয়েছে।
 
সাউন্ডঃ ৭
তিনটার মতো আলাদা ওপেনিং ও এন্ডিং গান ব্যবহার হয়েছে। কয়েকটা বেশ মনে ধরার মতো। তাছাড়া পুরনো দিনের কিছু সুদিং মিউজিক শোনা যাবে এই আনিমেটিতে।
 
এঞ্জয়মেন্টঃ ৯
উরাসাওয়ার ও পুরনো দিনের আনিমে ভক্ত হিসেবে এটি সত্যিকার অর্থেই এঞ্জয় করেছি। মধ্যভাগে এসে খুব বেশি স্লো হয়ে যাওয়ায় ধৈর্যচ্যুতি যে একেবারেই হয়নি তা বলতে পারি না, তবে মোটের উপর এটি দেখে সময়টা দারুণ কেটেছে। দেখার পর আনিমেটাকে মিস করছি। আনিমেটি দেখতে গিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন রকম আবেগ অনুভব করেছি। চরিত্রগুলিকে খুব কাছের মনে হয়েছে।
 

অনিক মিয়ার ক্ষুদে মাঙ্গার বাক্স, পর্ব #৩

মাঙ্গার নাম: Oyaji
চাপ্টার: ২৪টি
মাঙ্গাকা: Tsuru Moriyama
ধরন: হাস্যরসাত্মক, নাটকীয়, জীবনবোধক
 
কুমাদা এক বিশালদেহী, ভয়ংকর দেখতে মানুষ। কোনো এক কারণে বহু বছর জেলে কারাভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু লোকটা খুব ভালো। এতগুলো বছর পরিবারের খবর রাখতে পারেনি। তাই বাবার অনুপস্থিতিতে সন্তানেরা উচ্ছন্নে গিয়েছে। একজন হয়েছে এলাকার পাতি মাস্তান, যদিও বড় মাস্তান দেখলেই ভয়ে পালায়। আরেকজন প্রেম জীবন নিয়ে ঝামেলায় জানটাই হারাতে বসেছে। অন্যদিকে সংসারের ভাড়ে স্ত্রী হারিয়েছে তার রূপ-লাবণ্য, যৌবন, মানসিক শান্তি।
অনেক বছর পর ঘরে ফিরেছে কুমাদা। এত বছর পরিবারে না থাকার ফলে দায়িত্ব-কর্তব্য কিছুই পালন করতে পারেনি। তাই যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা এবার ঢেলে দিতে চায় পরিবারের জন্য। কিন্তু কুমাদার চেহারা-সুরত দেখে নিজের সন্তানেরাই তাকে নিয়ে অস্বস্তিতে আছে। বাপজান আবার কথাও বলে অতি অল্প। সারাদিন ঢোক ঢোক করে মদ গিলে। কিছুতেই বল-ব্যাটে মিলছে না দুই পক্ষের। তাদের বনিবনা হওয়া এবং স্বল্পভাষী পিতার অস্বাভাবিক সব উপায়ে পরিবারকে রক্ষা করা নিয়েই মাঙ্গাটি।
 
✪জানলে ভালো, না জানলে ক্ষতি নাই✪
“ও-য়াজি” শব্দটি মূলত “ও-য়াচিচি” শব্দের অপভ্রংশ। যা আবার “চিচিহুয়ে” হতে এসে থাকতে পারে(?)। সবগুলোর আক্ষরিক অর্থ “পিতা/বাবা”। ওয়াজি শব্দটা তার মধ্যে সবচেয়ে casual । “বুড়া বাপ” এর জাপানি সংস্করণ বলা যায়। বাপ ছাড়াও অপরিচিত চাচা, মামা বয়সী লোকজনকেও ও-য়াজি বলে অনেকে। প্রায় সবাই হয়ত জানেন ব্যাপারটা তাও জানালাম।
 

অনিক মিয়ার ক্ষুদে মাঙ্গার বাক্স, পর্ব #২

মাঙ্গার নাম: Koukoku no Shugosha
চাপ্টার : ৩৪টি
মাঙ্গাকা: Satou Daisuke
ধরন: ঐতিহাসিক, সামরিক, ফ্যান্টাসি
 
দুই প্রতিবেশী দেশ কৌকোকু এবং তেইকাকু। ক্ষমতা ও প্রভাবের লড়াইয়ে লড়ে চলেছে তারা। তবে এতদিন কূটনৈতিক পর্যায়ে থাকলেও তা শীঘ্রই মাঠের লড়াইয়ে রূপ নেয়। উত্তরের হীম শীতল অঞ্চলের দখলটা নিয়ে শুরু হয় প্রথম ঝামেলা। শুধু মানুষ নয়, সঙ্গে লড়ছে ঘোড়া, লড়ছে বাঘ সদৃশ বিড়ালেরা।
হঠাৎ একদিন তেইকোকুর পূর্ব ডিভিশনের সেনারা আচমকা হামলা করে কৌকোকুর উত্তরাঞ্চল প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর উপর। ভারী, উন্নত অস্ত্র ও সমর কৌশলের সামনে তাসের মতো ভেঙ্গে পড়ে কৌকোকুর প্রাথমিক প্রতিরক্ষা। শত্রুর প্রথম ধাক্কায় উদভ্রান্তের মতো রণে ভঙ্গ দিয়ে পালাতে থাকে কৌকোকুর সেনারা। কিন্তু সুশৃঙ্খলভাবে পিছু হটে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দরকার এমন এক ইউনিটের, যারা মূল বাহিনী নিরাপদে সরার আগ পর্যন্ত শত্রুর অগ্রাভিযান রোধ করে রাখবে। সামরিক ভাষায় যাকে বলে Rear guard action । এই কাজে ডাক পড়লো ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট শিঞ্জো নাউয়ের ব্যাটালিয়নের। প্রথম আক্রমণে তার ব্যাটালিয়নের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হয় মৃত, আহত, নয়তো বন্দী। সেনা সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে ব্যাপক। তবু সাকুল্যে ৬০০ সৈন্যের এই ব্যাটালিয়নকে রুখে দিতে হবে শত্রুকে। ৪০ হাজার সেনার বিশাল শত্রুকে বেধে রাখা লাগবে যতক্ষণ না তাদের বাহিনী নিরাপদ পশ্চাদপসরণ সম্পন্ন করে। প্রয়োজনে শেষ সিপাহির প্রাণের বিনিময়ে হলেও লড়ে যেতে হবে এই ইউনিটকে।
এই অসম যুদ্ধে আদৌ কতক্ষণ টিকবে শিঞ্জোর ব্যাটালিয়ন, কৌকোকুর মূল বাহিনী নিরাপদে পিছু হটতে পারবে কি না – এই কাহিনি নিয়েই মাঙ্গাটি।
মাঙ্গাটায় যদিও কিছু কিছু সময় ভাগ্যের খেল দেখে বাড়াবাড়ি লাগতে পারে, তবে যুদ্ধে ভাগ্য বিধাতার সহায়তার অনেক ইতিহাস, পৌরাণিক গল্পই তো আমরা জানি। কাহিনি এমনিতে যথেষ্ট বাস্তবিক ও চিত্তাকর্ষক। বিশুদ্ধ যুদ্ধ নিয়ে মাঙ্গা বিরল। যদিও এনিমের তুলনায় পরিমাণটা একটু বড়। সেরকম একটার নমুনা এই মাঙ্গাটি।
 
✪জানলে ভালো, না জানলে ক্ষতি নাই✪
মাঙ্গাটির প্রেক্ষাপট ঊনিশ শতকের শেষ দিকে রুশ-জাপানি সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্বের একটা অল্টারনেট সেটিং এর উপর ভিত্তি করে গড়া। এশিয়াতে রাশিয়ার পূর্বমুখী বিস্তার এবং জাপানের মেইজি যুগ পরবর্তী সময়টার একটা বিকল্প রূপ দেখানো হয়েছে গল্পে। ইতিহাস প্রেমীদের জন্য একটা আকর্ষণীয় দিক হতে পারে মাঙ্গাটা। উপরে মাঙ্গাকার নাম হিসাবে সাতো দাইসুকের নাম লিখেছি। ইনি কিন্তু সেই একই ভদ্রলোক যিনি Highschool of the Dead এর মূল গল্প লেখক। অনেকেই জানেন তিনি হৃদরোগে ভুগে মারা গিয়েছেন ২০১৭ সালে। ভদ্রলোক অল্টারনেটিভ ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন গল্প লিখতে খুব পছন্দ করতেন। এটা ছাড়াও এরকম কিছু মাঙ্গায় কাজ করেছেন তিনি, যদিও সেগুলোর অনুবাদ না থাকায় নেটে নেই বললেই চলে। অন্যদিকে পোস্টের মাঙ্গাটির আঁকিয়ে হিসাবে কাজ করেছেন Itoh Yu । ২০০৪ সালের মাঙ্গা হিসাবে স্ট্যান্ডার্ড আর্ট বলা যায়।
 

Kenichi the Mightiest Disciple [রিভিউ] — Zunaid Mashrafee

কেনিচি দ্য মাইটিয়েস্ট ডিসাইপল
Kenichi the Mightiest Disciple
 
জাপানি উচ্চারণ: শিজো সাইকিয়ো নো দেশি কেনিজি
মাঙ্গা:
(original)
লেখক:-সিয়ুন মাৎসুয়েনা
প্রকাশকাল:-১৯৯৯-২০০২
ভলিউম:-৫
(Remake)
এপ্রিল ২০০২-সেপ্টেম্বর ২০১৭
ভলিউম:-৬১টি
এনিমে:
প্রকাশকাল:-অক্টোবর ২০০৬- সেপ্টেম্বর ২০০৭
এপিসোড সংখ্যা: ৫০টি
স্টুডিও:- TMS entertainment
নির্দেশনা:-হাজিমে কাগেয়ামা
ওভিএ:
প্রকাশকাল: মার্চ ২০১২-২০১৪
স্টুডিও: Brains Base
পর্বসংখ্যা: ১১
 
 
একটি চরম underrated এনিমে।
শোনেন জনরায় কিছু বিষয় এতোই কমন যা প্রতিটি এনিমেতেই এসে হাজির হয়। তাদের মধ্যে একটি বিষয় হলো, দুর্বল চিকনচাকন প্রধান চরিত্রের হাট্টাকাট্টা বিশ্ববিজয়ী হয়ে ওঠার গল্প। এইটা প্রায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সব শোনেনে পাওয়া যায়, যার ফলে এটাই সবচেয়ে কমন “ট্রোপ”।
বিরিয়ানি তো দিনশেষে গিয়ে ভাত আর মাংস‌ই। কিন্তু রন্ধনের পদ্ধতি আর গুণে কিছু হয় কাচ্চি, কিছু হয় তেহারি কিছু হয় স্রেফ খাওয়ার অযোগ্য। শোনেন‌ও তেমনি এক‌ই কনসেপ্টের উপর বেজ করে হলেও কাহিনী বর্ণনার গুণে কোনগুলো লিজেন্ড, কোনগুলো উল্লেখ করার মতো না।
আর তারপর আসে কেনিচি দ্য মাইটিয়েস্ট ডিসাইপলের মতো আন্ডাররেটেড, কেউ চিনে না টাইপ রত্ন।
জাপানি স্কুল পড়ুয়া চিকন চাকন বুলির হাতে পেদানি খাওয়া ছেলে কেনিচি। নিজেকে ডিফেন্ড করা শিখতে তাই বিভিন্ন ব‌ইপত্র পড়ে কেনিচি। কিন্তু গ্রন্হগত বিদ্যা দিয়ে কি আর বাস্তবজীবনে টিকে থাকা যায়?
বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। বিশ্বাস হোক, আর যা হোক কোনো না কোনোভাবে রিওজানপাকু বলে একটা মার্শাল আর্ট দোজোর সন্ধান পায়। পায় বলতে, দোজোটা তাকেই একধরণের খুঁজে নেয়।
এই এনিমেটাতে যেই জিনিসটা ভালো লেগেছে, সেটা হলো মার্শাল আর্টের বাস্তবসম্মত উপস্হাপন। টেকনিক ও প্রাক্টিসের সমন্বয়ে যে সাধারণ মানুষ‌ও অসাধারণ কিছু করে দেখাতে পারে, এই মেসেজটা এখানে স্পেশাল। পপুলার মার্শাল আর্ট এনিমেগুলো বলতে সাধারণত আমরা যেগুলো চিনি, যেমন বাকি দ্য গ্রাপলার, কেনগান আশুরা এগুলোর থেকে কেনিচি দ্য মাইটিয়েস্ট ডিসাইপলের একটা দিক একটু অনন্য বলতে হবে। এখানে নেই কোন ভয়ংকর রকমের রক্তারক্তি বা masculine fantasy. এটা আমার আপনার মতো স্রেফ একটা সাধারণ ছেলের বুলির বিপক্ষে রুখে দাঁড়ানোর একটা অসাধারন কাহিনী।
কাহিনীর পেসিং শুরুর দিকে ভালো থাকলেও মাঝখানে একটু বোরিং লাগতে পারে, তবে ধৈর্য ধরে দেখতে থাকলে রতন পেতে পারেন। এনিমেশনটা পুরনো যুগের এনিমের মতোই, ঐখান থেকে ঝা চকমকে ইউফোটেবল বা মাপ্পা ক্লাসের কিছুই পাবেন না। কমেডি আছে প্রচুর, কারো কাছে একটু sketchy লাগতে পারে। কেনিচির সময় সময় হাল্কা করে মরে যাওয়ার expression টা দারুণ লেগেছে।
তো, সময় করে দেখে নিতে পারেন এই আন্ডাররেটেড এনিমেটা। কম ভালো লাগলেও হতাশ হবেন না। আর Ost টা মিস করবেন না।

অনিক মিয়ার ক্ষুদে মাঙ্গার বাক্স, পর্ব #১

মাঙ্গার নাম: Saltiness
চাপ্টার: ৪৪ টি
মাঙ্গাকা: Furuya Minoru
ধরন: হাস্যরসাত্মক, সেইনেন, স্লাইস অফ লাইফ
 
হিমুকে তো চিনেন? হুমায়ুন আহমেদের হলুদ হিমু। সেই ভবঘুরে, উদ্ভট চালচলন, মাথা চক্কর দেওয়া থতমত খাওয়া দার্শনিক কথাবার্তার হিমু।
Saltiness মাঙ্গার কেন্দ্রীয় চরিত্র তাকেহিকো নাকামুরা কিছুটা হিমুর মতোই, কিন্তু হিমু না। কর্মহীন , ঘুরঘুর, খাইখাই করা সমাজের অকর্মা লোকটি “জীবন” কে বশীভূত করে ফেলেছে বলেই বিশ্বাস করে। দুনিয়ার সকল প্রকার দুঃখ, কষ্ট, ভেজালের ধরাছোঁয়ার বাইরে সে। তয় একদিন বোধদয় হয় প্রিয় বোনের মাথা থেকে বোঝা কমাতে নিজে থেকে কিছু করতে হবে। যতদিন সে তার বোনের ঘাড়ে চেপে থাকবে, বোনের আর বিয়ে করা হবে না, সংসার পাতা হবে না। সে যেই “জীবনকে” বশীভূত করে ফেলেছিল বলে ভেবেছিল, সেই জীবনের বাস্তবতা এক ধাক্কায় তাকে চুরমার করে দিল। “জীবন” নামের এক হিংস্র অস্তিত্বের সম্মুখীন হলো সে । এই হিংস্র জিনিসটাকে বধ করার সুবুদ্ধি হবার সাথে সাথেই তার মাথায় ঢুকে আরেক কুবুদ্ধি। হঠাৎ করেই ঘর থেকে পালায়। গ্রাম ছেড়ে টোকিওর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দাড়াতে হবে নিজের পায়ে। টোকিও পৌছে সাক্ষাৎ হয় নানা কিসিমের weirdo দের সাথে। আর এইসব অস্বাভাবিক প্রাণীরা একত্রিত হয়ে যখন নানা তরিকায় জীবিকা নির্বাহের সন্ধান চালানো শুরু করলো, হাস্যকর সব ঘটনাও অবতীর্ণ হতে থাকল।
মাঙ্গার আর্ট সুন্দর, পরিচ্ছন্ন। বিশেষ করে এই মাঙ্গাকার খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা চেহারা আঁকার দৃশ্যের ভক্ত হয়ে গেছি। ৪৪ চাপ্টারের কাহিনি আগেই শেষ। সম্প্রতি ইংলিশ অনুবাদ সমাপ্ত হয়েছে। তাই আপনার হাতে সময় কম থাকলে, নিখাদ বিনোদন পেতে চাইলে আজই শুরু করে দেন Saltiness!
 
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #53

আনিমে: High Score Girl

জানরা: রোমান্স, গেইম, সেইনেন, কমেডি
এপিসোড সংখ্যা: ১২ + ৩ + ৯
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/21877/High_Score_Girl

সময়টা নব্বইয়ের দশক। গেমিং ইন্ডাস্ট্রি তরতরিয়ে বেড়ে উঠছে। পাড়ায় পাড়ায় গেম সেন্টার গড়ে উঠছে, যেখানে পয়সা খরচ করে কিশোর ও তরুণ বয়সীরা গেম খেলার স্বাদ নিচ্ছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে একই গেমের নানা নতুন সংস্করণ আসছে।

এমতাবস্থায় আমরা দেখতে পাই প্রাইমারি স্কুলপড়ুয়া আমাদের গল্পের নায়ক ইয়াগুচি-কে। লেখাপড়া বা বন্ধুদের সাথে মেলামেশার চাইতে গেম খেলার দিকেই তার আসক্তি বেশি। একমাত্র গেম খেলার জগতেই সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। একদিন সে গেম সেন্টারে তারই বয়সী এক মেয়ে প্লেয়ারের খোঁজ পায় ও ওর খেলার প্রতিভা দেখে খুবই আশ্চর্য হয়।

এই মেয়েটি হল গল্পের নায়িকা ওনো। সে খুব বড়লোক পরিবারের মেয়ে। পরিবারের অতিরিক্ত শাসন ও শৃঙ্খলে অতিষ্ঠ হয়ে সে মাঝেসাঝে গেম সেন্টারে গিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। শিশুকাল থেকেই তার সমবয়সীদের সাথে মেলামেশার সুযোগ না পাওয়ায় কারণেই হয়তো সে একেবারেই চুপচাপ থাকে। ইয়াগুচি আর ওনোর মাঝে একটা সুন্দর প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয় আর ওরা একে অপরকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে ওদের সম্পর্কের উত্থান-পতন-পরিবর্তন হতে থাকে।

এদিকে সময় এগিয়ে যায়। রঙ্গমঞ্চে হিদাকা নামের আরেকটি মেয়ের আবির্ভাব হয়। ইয়াগুচির প্রভাবে সেও গেমিং-এর জগতে প্রবেশ করে। এই তিনজনের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে কাহিনী এগিয়ে যায় আর ওরাও বড় হয়ে উঠতে থাকে।

গল্পের সবচাইতে আকর্ষণীয় দিক হলো এর চরিত্রগুলি। খুব যত্নের সাথে লেখক ওদের ফুটিয়ে তুলেছেন যাতে ওদের ব্যাকগ্রাউন্ড আর চিন্তাচেতনা আমরা বুঝতে পারি। গল্পের পার্শ্বচরিত্রগুলিও বেশ সুগঠিত আর গল্প এগিয়ে নেওয়ায় ও প্রয়োজনে হাস্যরস সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গল্পের নায়কের ক্যারেক্টার প্রোগ্রেশন আর গল্পের সমাপ্তি এনে দেয় অনির্বচনীয় তৃপ্তি।

গেমিং ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আগ্রহ থাকলে বা নস্টালজিক হতে চাইলে এই আনিমেটি দেখবেন। সত্যিকার অর্থেই একটি উৎকৃষ্ট মানের রোমকম দেখতে চাইলে এই আনিমেটি দেখবেন। গল্পের শুরুর কয় এপিসোড দেখতে অসুবিধা হতে পারে – এনিমেশন স্টাইল খাপছাড়া লাগতে পারে – তবুও পুরোটা শেষ করার মেন্টালিটি নিয়ে দেখুন। আশা করি আপনার পছন্দের তালিকায় স্থান পাবে।

 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #52

আনিমে: Hakumei to Mikochi (Hakumei and Mikochi)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, ফ্যান্টাসি
এপিসোড সংখ্যা: ১২ + ১
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/36094/Hakumei_to_Mikochi
 
কিউট পিচ্চি কিছু লিলিপুটদের নিয়ে এই আনিমের গল্প। গল্পের প্রধান চরিত্র হলো কাপড় সেলাই, রান্না ও অন্যান্য নানা কাজে পারদর্শী মিকোচি আর ছটফটে ও হাসিখুশি হাকুমেই নামের দুইটি মেয়ে। মাকানাতা নামের মফস্বল এলাকার একটি গাছের কোটরে তাদের বাড়ি। মজা ও আবেগ মিশানো ওদের নিত্যদিনের জীবন ও খুনসুটি নিয়েই গল্পের বুনন।
 
গল্পের প্রতিটি চরিত্রকেই পছন্দ হয়ে যায়। ওদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি সুন্দর করে ফুটে ওঠে আর ওদের একান্ত আপন বোধ হয়। এছাড়া প্রকৃতিঘেঁষা ওদের নৈমিত্তিক জীবনাচরণ দেখে দারুণ একটা প্রশান্তি কাজ করে। তার সাথে মনোরম ভিজুয়াল ও সাউন্ড একটি রিল্যাক্সিং অভিজ্ঞতা দেয়।
 
ধীরলয়ের ও প্রশান্তিকর একটি এপিসোডিক আনিমের খোঁজে থাকলে এটি বেছে নিতে পারেন। মাঝেমধ্যে এক দুইটি এপিসোড দেখলে তা আপনাদের কর্মক্লান্ত জীবনের ফাঁকে টনিক হিসেবে কাজ করবে আশা করছি।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #51

আনিমে: Shirokuma Cafe (Polar Bear Cafe)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, কমেডি, জোসেই
এপিসোড সংখ্যা: ৫০
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/12815/Shirokuma_Cafe
 
জাপানের কোন এক শহরতলীতে আছে “শিরোকুমা কাফে” নামের একটি চা-নাস্তা খাওয়ার রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টের মালিক কিন্তু কোন মানুষ নয়, বরং একটি শ্বেতভল্লুক! সকালে কাজে যাওয়ার আগে বা কাজ শেষে অবসাদ দূর করতে মানুষ আর জন্তু-জানোয়ার উভয়ের কাছেই এই ক্যাফেটি জনপ্রিয়। ক্যাফেতে কাজ করে সুন্দরী ও মিশুকে সাসাকো আপা। আর ক্যাফের নিয়মিত খদ্দেরের মধ্যে আছে বোকাসোকা কিউট পান্ডা এবং ব্যঙ্গে আর ব্যর্থ প্রেমে পারদর্শী পেঙ্গুইন। এছাড়াও আছে লামা, কচ্ছপ, স্লথ, আরো অনেক পশুপাখি। এছাড়া আছে শিরোকুমার বন্ধু গ্রিজলি ভালুক। এদের মজাদার দিনকাল নিয়েই এই স্লো ও রিল্যাক্সিং এনিমেটি বানানো হয়েছে।
 
আনিমের কমেডি অংশটুকু বিশেষ করে নজর কাড়ে। মুলত স্ল্যাপস্টিক কমেডি ঘরানার এই হাস্যরসে অনেক বাস্তব জীবনের ও বুদ্ধিদীপ্ত বিষয়ের মিশেল থাকায় বেশ ফ্রেশ আর উপভোগ্য হয়। ভয়েস কাস্টে বেশ কয়েকটি পরিচিত নাম খুঁজে পাবেন। এছাড়া আর্টস্টাইল ভালো, পর্ব শুরু বা শেষের গানগুলো উপভোগ্য, কিছু হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মুহূর্তও আছে। চরিত্রগুলিকে anthropomorphize করা হলেও ওদের জান্তব বৈশিষ্ট্যগুলি থেকে গিয়েছে। ইউনিক বৈশিষ্ট্যের চরিত্রগুলির দু-তিনটেকে পছন্দ হয়ে গেলে আপনি এটাতে হুকড হয়ে যাবেন আশা করি।
 
ধীরলয়ের কমেডির মুডে থাকলে এইটে ট্রাই করে দেখার প্রস্তাব রইল।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #50

আনিমে: Tenkuu no Escaflowne (The Vision of Escaflowne)

জানরা: এডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি, রোমান্স, মেকা, সাইকোলজিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/182/Tenkuu_no_Escaflowne
 
গল্পের নায়িকা হাইস্কুল পড়ুয়া ছাত্রী কানযাকি হিতোমি। সে তার ভালোবাসার পাত্রকে কনফেস করার মুহূর্তে জাদুবলে চলে যায় পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী Gaea নামক এক জগতে। সেখানে প্রকাশিত হয় তার এক আশ্চর্য ক্ষমতা – সে ভবিষ্যতে কী ঘটবে তার কিছু খন্ডচিত্র দেখতে পায় (premonition) আর তীব্র মনোনিবেশ করলে অজানা জিনিসের সন্ধান পায়। তার এই এবিলিটির কথা টের পেয়ে সাম্রাজ্যবাদী Zaibach এর রাজা ওকে নিয়ে যেতে চায়। এতে অলরেডি চলমান Fanel আর Zaibach রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ আরো প্রকট আকার ধারণ করে। এরই মধ্যে হিতোমি পার্শ্ববর্তী Asturia রাজ্যের নাইট এলেনের প্রতি দুর্বলতা অনুভব করে। ফানেল আর তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলি কি পারবে Zaibach রাজার আগ্রাসনকে ঠেকাতে? হিতোমি কি পারবে ওর ভালোবাসার মানুষকে নিজের হৃদয়ের কথা জানাতে? ও কি পারবে নিজের জগতে ফিরে যেতে?
 
নব্বই-এর দশকের ট্র্যাডিশনাল আর্টস্টাইল এতে রক্ষিত হয়েছে। বেশ এস্থেটিক বলা যায়। চরিত্রগুলির বৈশিষ্ট্য বেশ নিপুনভাবে ফুটে উঠেছে। তাদের মনের অন্তর্দ্বন্দ্বগুলি তুলে ধরা হয়েছে বেশ বাস্তবিকভাবে। ক্লাসিক ঘরানার বৈচিত্র্যপূর্ণ ওএসটি আনিমেটিকে আরো উপভোগ্য করেছে। Mecha গুলোর ডিজাইন আর ফাইটগুলিও ভালোই বলা চলে। তবে সবচাইতে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে নায়িকার মানসিক বিকাশ ও তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি বেশ ম্যাচিওর ধাঁচের প্রেমের বহুভুজ।
 
যারা পুরোনো যুগের আনিমে পছন্দ করেন বা ফ্যান্টাসি জগতে ড্রামা খুঁজছেন তাদের হাই প্রায়োরিটি তালিকায় এটা জায়গা করে নেবার যোগ্যতা রাখে বলে আমি মনে করি।