Sakib’s Hidden Gems – Episode #16

আনিমে: Fuujin Monogatari (Windy Tales)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, সুপারন্যাচারাল, স্কুল
এপিসোড সংখ্যা: ১৩
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/1524/Fuujin_Monogatari
 
জুনিয়র হাই স্কুলের ডিজিটাল ক্যামেরা ক্লাবের সদস্যা উয়েশিমা নাও-য়ের শখ হল সময় পেলেই স্কুলের ছাদে যেয়ে মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকা আর ছবি তোলা। তো একদিন সে ছাদে গিয়ে হঠাৎ একটি শূন্যে ভাসমান বিড়ালকে দেখতে পায়। বিড়ালটার ছবি তুলতে গিয়ে সে ছাদের কার্নিশ থেকে পড়ে যায়, আর তার স্কুলের একজন শিক্ষক (মাকিনো সেনসেই) অলৌকিকভাবে তাকে মাটিতে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। নাও জানতে পারে যে, বিড়ালটা আর ঐ শিক্ষক – দুই-ই বাতাসকে ম্যানিপুলেট করতে জানে। এর আগে কোন অলৌকিক কিছু না দেখা নাও ও ক্যামেরা ক্লাবের বাকি সদস্যা কাতাওকা মিকির জন্য এটা একটা চরম রোমাঞ্চকর জিনিস – যা ওদের সামনে একটা নতুন জগৎ খুলে দেয়। মাকিনো সেনসেই – এর কাছ থেকে ওরা বাতাসকে ম্যানিপুলেট করার বিদ্যা শিখতে শুরু করে। নাও, মিকি, ও জুন নামের একটি ছেলে নানা বিচিত্র (কখনও মজাদার, কখনও শিক্ষামূলক) অভিজ্ঞতা লাভ করতে থাকে।
আনিমেটি মূলত এপিসোডিক। প্রতিটা এপিসোডের থিম ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু সবগুলোই একসূত্রে গাঁথা, কারণ বাতাসের সাথে কোন না কোনভাবে সম্পর্ক থাকে। আর নাওয়ের স্কুলের মুহূর্তগুলিও বেশ মজাদার – টিচারেরা সবাই বন্ধুবৎসল।
আনিমেটি ঠিক যেন গতানুগতিক স্লাইস অফ লাইফ আনিমের মত না। এর ক্যারাক্টার ডিজাইন খুবই ইউনিক। ওদের অনেকসময় খড়কুটোর মত দেখতে মনে হয়, বাতাসের এক ঝটকায় উড়ে যাবে যেন। আরেকটি উল্লেখযোগ্য জিনিস হলো আনিমেটিতে অসাধারণ ওএসটির ব্যবহার – মিউজিক দ্বারা এতো সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা আমি খুব বেশি আনিমেতে দেখিনি।
ভিন্ন স্বাদের স্লাইস অফ লাইফ আনিমের খোঁজে থাকলে এই আনিমেটি দেখতে পারেন। একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে মজাও পাবেন, আর কিছুটা চিন্তার খোরাকও পাবেন আশা করি।
 

উচিয়াগে হানাবি ও কিছু অসংলগ্ন চিন্তাভাবনা — Shifat Mohiuddin

Uchiage Hanabi, Shita kara Miru ka? Yoko kara Miru ka?
 
Warning! পুরো পোস্টটাই একটা স্পয়লার।

উচিয়াগে হানাবি ও কিছু অসংলগ্ন চিন্তাভাবনা:
 
উচিয়াগে হানাবি মুভিটা আমি দেখেছিলাম সেই ২০১৮ সালে। বের হওয়ার পর যখন নেটে আসলো তার পরপরই দেখেছিলাম বলা চলে। দেখার পর স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম দেড় ঘন্টা সময় নষ্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে কেন এতদিন পরে পুরনো জিনিসকে টেনে আনা!
কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখলাম মুভিটার সাথে আমার কোন এক ধরণের আত্মার সংযোগ রয়েছে। হ্যাঁ, সিরিয়াসলিই বলছি। এনিমের সাথে আত্মার সংযোগ হওয়া সম্ভব আসলেই। এখন আপনারা একে নিছক উইবগিরি বলে উড়িয়ে দিতে পারেন, আমি বিতর্কে জড়াবো না কোন।
উচিয়াগে হানাবি নোরিমিচি ও নাজুনা নামের দুই কিশোর-কিশোরীর কাহিনী। কাহিনী না বলে কল্পনাও দাবি করা যেতে পারে। পুরো মুভিটাতে ফ্যান্টাসি আবহ শুরু থেকেই ছিল। এরকম ফ্যান্টাসির আবহ ক্লানাড নামের এনিমেটাতে দেখেছিলাম তবে সীমিত আকারে। উচিয়াগে হানাবিতে ফ্যান্টাসি মাধ্যমের উপূর্যপুরি ব্যবহার ছিল বারবার, ফলে মারাত্মক জগাখিচুড়িতে পরিণত হয়েছিল মুভিটা। বাস্তবতা আর কল্পনার ফারাক ধরতে গিয়ে যদি মুভিই শেষ হয়ে যায় তাহলে উস্মা প্রকাশ করাটাই স্বাভাবিক।
শুরুতেই একগাদা অভিযোগ করে ফেললাম। এখন উচিয়াগে হানাবির সাথে আমার নাড়ির টান কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো সেই আলোচনায় আসি।
উচিয়াগে হানাবির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এর ইউটোপিয়ান ভিশনের মধ্যে। কমবেশ সব স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্টিক এনিমেই ইউটোপিয়ান। এই জনরার এনিমেগুলো বেছে বেছে আমাদের জীবনের ইতিবাচক স্লাইসটাকেই পর্দায় তুলে আনে। বাস্তব জীবনের দুঃলহ-দুর্দশা তুলে ধরার চেষ্টা যে একদুইটা হয় না তা না, তবে বেশীরভাগ প্রদর্শনীই হয় মধুমাখা। কেন জানি ইনজাস্টিসে জর্জরিত এই দুনিয়ার সাথে এনিমের দুনিয়াকে মেলাতে পারি না।
 
উচিয়াগে হানাবি সম্ভবত এই কারণেই স্পেশাল যে এতে ইউটোপিয়ান উপাদানের পরিমাণ এতই বেশী যে দর্শকরা ঠিকভাবে এর সাথে মানসিক সংযোগই স্থাপন করতে পারে নি। একে অপরের হাত ধরে জাপানের কোন এক মফঃস্বল থেকে দুই কিশোর-কিশোরীর পালাতে চাওয়াটা ছিল ইউটোপিয়া তৈরির প্রথম ধাপ। নোরিমিচি আর নাজুনা দুজনেই কিন্তু বাহিরের কঠিন দুনিয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। আবার নোরিমিচির জীবনে নাজুনার আগমনও অপ্রত্যাশিতভাবে। তার উপর সাঁতারের সময় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া ইত্যাদি আসলে শুরু থেকেই মুভিটার চরম অবাস্তবতার দিকে ধাবিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছিলো। খেয়াল করা উচিত, মুভিটা কিন্তু কিশোর মানসিকতাকে আঁকড়ে ধরে বানানো। সেজন্য কিশোর নোরিমিচির চোখে কিশোরী নাজুনা সবসময়েই রহস্যের এক ভাণ্ডার। নাজুনা আকৃতিতে নোরিমিচির চেয়ে দীর্ঘাকৃতির। পুরুষ হিসেবে বলতে পারি ছেলেবেলায় ড্রিমগার্লরা এভাবেই আমাদের মানসপটে এসে জায়গা করে নিতো। তন্বী দেহই ছিল আমাদের অনেকের আদর্শ নারীর উদাহরণ। তুলনামূলক নাতিদীর্ঘ আকৃতির মেয়েরাও যে পূজনীয় হতে পারে তা তো পরে ইস্ট এশিয়ান কালচার হাতে-কলমে শেখালো!
 
নোরিমিচির মতো কিশোরকালে মিশুক মেয়েদের দিকে মন ঝুঁকে থাকতে চাইতো বেশী। মুভিতে খেয়াল করলে দেখা যায় নাজুনা বেশ বাঁচাল প্রকৃতিরই। নোরিমিচির দ্বিগুণ কথা সে নিজেই বলেছে বলা যায়। সে কথার টানেই কিন্তু নোরিমিচি সিদ্ধান্ত নিল বাসা থেকে পালাবে।
 
মুভির সবচেয়ে সুন্দর জায়গার একটা ছিল সাইকেলের পেছনে নাজুনাকে বসিয়ে নোরিমিচির ঢালু পথ বেয়ে নেমে যাওয়া। দৃশ্যটা দুটো জায়গার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল এক মুহূর্তে:
১। Whisper of the heart মুভির একেবারে শেষে ভোরে নায়ক-নায়িকার সাইকেলে চড়ে কাটানো সময়।
২। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ‘রাজু ও আগুনালির ভূত’ নামের কিশোর উপন্যাসের একেবারে শেষে ১১০ সিসি হোন্ডা বাইকে করে রাজু আর শাওনের পালিয়ে যাওয়া।
 
এই যে সাত-পাঁচ না ভেবে বাসা থেকে পালানোর মত ভয়ানক সিদ্ধান্ত নেয়ার যে তড়িৎ ক্ষমতা, অনেকে একে অদূরদর্শীতা বললেও আমি একে বয়ঃসন্ধিকালের সবচেয়ে বড় শক্তি বলবো। হাইস্কুলের কিশোর নোরিমিচি নাজুনাকে নিয়ে যে অবাস্তব স্বপ্ন দেখেছিল তা সে নিশ্চয়ই বিশ পেরিয়ে গেলে এত সহজে নিতে পারতো না। নাজুনাও সাহস যোগাতে পারতো না কোথাকার এক অর্ধপরিচিত ছেলের হাত ধরে টোকিওর মত বিশাল শহরে যাওয়ার।
কথা প্রসঙ্গে নাজুনার মনস্তত্ত্ব নিয়ে কিছু বলি। শ্যাফটের অ্যানিমেশনের কারিগরির কারণে তাকে প্রথম দিকে খুবই দুর্বোধ্য মনে হচ্ছিল। এতদিন পরে আস্তে আস্তে তাকে কিছুটা হলেও উপলদ্ধি করতে পেরেছি। নাজুনাও আসলে বয়ঃসন্ধি কালের অস্থির সময়ের এক প্রতিনিধি। পরিবারের শেকল ভেঙে সে কিছু দিনের জন্য হলেও বাঁধনহারা জীবন উপভোগ করতে চায়। প্রবল ইচ্ছে থাকার পরেও নানা বাঁধার কারণে কাজটা করতে পারছিল না সে। নোরিমিচিকে সঙ্গী করার মাধ্যমে সে শেষমেষ নিজেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করতে পারে কাজটা করার। আমার মতে নাজুনার সম্পূর্ণ আবেগে বয়ঃসন্ধিকালের আধাআধি বেড়ে উঠা যৌন চেতনার কোন প্রভাব ছিল না। পুরো ব্যাপারটাই ছিল তার কাছে কৌতুহলের খেলা। টোকিওতে গিয়ে সে কিভাবে নিত্য প্রয়োজনের যোগাড় করবে তার দুশ্চিন্তা বিন্দুমাত্র তার মাথায় ছিল না। সম্ভবত নোরিমিচিকে আশ্বাস দেয়ার জন্য সে কাজ খোঁজার কথা বলেছিল।
 
তবে ট্রেনের বগির ভেতরে আমরা নাজুনার চিন্তার আরেকটা পিঠ দেখতে পাই। Ruriiro no Chikyuu গানটা গাওয়ার সময় নাজুনা নিজেকে রাজকুমারী হিসেবে কল্পনা করে। সে কল্পনা করে নোরিমিচি রাজপুত্র বেশে তাকে রথে করে অনেক অনেক দূরে কোথাও নিয়ে যাচ্ছে। শ্যাফটের অপূর্ব অ্যানিমেশন কিশোরী মস্তিষ্কের নিউরনের প্রতিটি স্পন্দনকে পিক্সেলে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছে এই জায়গাটাতে। নির্ভেজাল আবেগমেশা এই মুহূর্তগুলো তখন স্পর্শ না করলেও এখন হৃদইয়ে দাগ কাটতে সমর্থ হয়েছে।
নোরিমিচির জীবনে নাজুনার আগমনের মত করে আমাদের জীবনে কারোর আসার প্রশ্নই আসে না। তবে এর কাছাকাছি অনুভূতি নিশ্চয়ই অনেকেই নিয়েছেন কল্পনায় অথবা বাস্তবে। আমি আমার কিশোরকালের ব্যক্তিগত একটা ঘটনার বিবরণ দিচ্ছি প্যারালাল টানার জন্য:
 
২০১১-২০১২ সালের দিকে প্রচুর হংকংভিত্তিক মার্শাল আর্টস সিনেমা দেখা হতো। সেসব সিনেমায় নায়িকারা থাকতো চরম অবলা, নায়করা উদ্ধার না করলে তারা কিছুই করতে পারতো না। damsel in distress ই ছিল আমার কাছে নারীর একমাত্র সংজ্ঞায়ন, femme fatale বলতে যে কিছু আছে তা জানতাম না তখন!
স্কুলের একটা মেয়েকে বেশ ভাল লাগতো তখন। যদিও মুখ ফুটে কখনো বলা হয়ে উঠে নি। সে মেয়েটা আবার এলাকায় নতুন আসায় রাস্তাঘাট চিনতো না একদম। পাশাপাশি পাড়াতেই ছিল দুজনের বাসা।
ঘটনাক্রমে একদিন রাত নয়টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাস্তার মোড়ে দেখা! মফঃস্বল এলাকায় রাত আটটা বাজলেই তখন ঘুরঘুট্টি অন্ধকার। তার উপর লোডশেডিং চলছিল। জানতে পারলাম আত্মীয়ের বাসা থেকে ফেরার পথে পথ হারিয়ে ফেলেছে! এলাকার ছেলে হওয়ায় অনায়াসেই বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যেতে পেরেছিলাম। কিছুদিন আগেই The Karate Kid দেখায় নিজের উপর নিজেরই ভক্তি বেড়ে গিয়েছিল!
 
এই মেলোড্রামাটিক ঘটনার রেশ আমার উপর মাসখানেক ছিলো। তখন যদি নাজুনার মত আমাকে বলা হতো পালিয়ে যেতে, অনায়াসেই পনের বছরের আমি দু-চোখ যেদিকে যায় সেদিকে চলে যেতাম। যে চিন্তা ও কাজ উভয়ই এই বিশোর্ধ্ব নাগরিক আমার দ্বারা কোনভাবেই সম্ভব হতো না। অগ্রীম নানারকম দুশ্চিন্তার বেড়াজালে আটকে শেষমেষ ইতস্ততই করতাম। নোরিমিচি কিন্তু এই দ্বিধায় ভুগে আটকে থাকে নি, ঐ বয়সে আমিও অত ভাল-মন্দের ধার ধারতাম না।
 
উচিয়াগে হানাবি বয়ঃসন্ধি কালের এই অপার সম্ভাবনাকে সেলিব্রেট করে। একই সাথে মুভিটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সীমাবদ্ধতাকে ফ্যান্টাসির বর্শা দিয়ে বিদ্ধ করতে চায়। মরবিড চিন্তাভাবনার এ জায়গাটাতেই মুভিটার সার্থকতা আমার মতে। তবে তারমানে এই নয় যে এই দিকগুলো অন্য কোন এনিমের চেয়ে অনেক বেশী ভাল দেখিয়েছে। দিনশেষে প্রচন্ড সীমাবদ্ধতা থাকা একটা মুভি উচিয়াগে হানাবি। তবে কিছু জিনিস থাকে যার শত ক্রুটি থাকার পরেও মনের মধ্যে আলাদা একটা আবেদন থাকে, উচিয়াগে হানাবি আমার জন্য সেরকম একটা এনিমে।
 
দ্রষ্টব্য: জাফর ইকবাল পরবর্তীতে ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ নামে একটা বই লিখেছিল। এটাও কিছুটা এই ঘরানার হলেও আগুনালির মত হতে পারে নি মোটেই। চরিত্রগুলা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়াতেই সম্ভবত গল্পটা মাঠে মারা গিয়েছিল। আগুনালির মত গল্পের সাজেশন চাচ্ছি সবার কাছে।

Sakib’s Hidden Gems – Episode #15

আনিমে: Hikaru no Go (Hikaru’s Go)

জানরা: শৌনেন, গেইম
এপিসোড সংখ্যা: ৭৫ + ১টি মুভি
 
গল্পের নায়ক শিনদো হিকারু এলিমেন্টারি স্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্র। কিছুটা ডানপিটে স্বভাবের হিকারু একদিন পুরনো জিনিসের খোঁজে তার দাদামশাইয়ের স্টোররুমে গিয়ে আবিষ্কার করে একটি বেশ পুরনো “গো” খেলার বোর্ড (“গো” হল দুইজনে মিলে খেলার জন্য একটি বোর্ড গেম। প্রতি দানে একটি করে গুটি বসিয়ে আস্তে আস্তে বর্ডার তৈরি করে বোর্ডের এরিয়া দখল করতে হয়। প্রতিপক্ষের গুটি কাটার ব্যবস্থাও আছে।)। এখন ঘটনা হলো, এই বোর্ডটির সাথে জড়িত আছে জাপানি হেইসেই আমলের বিখ্যাত গো ইন্সট্রাক্টর ফুজিওয়ারা নো সাই এর অতৃপ্ত আত্মা। শুধু হিকারুই সাইকে চোখে দেখতে পায়। গো খেলার আশ মেটাতে সাই সঙ্গ নেয় হিকারুর। সাইকে নিয়ে গো সেন্টারে গিয়ে হিকারু ওরই সমবয়সী আকিরা নামের প্রতিভাবান ছেলের সাথে একদান খেলে। আসলে হিকারুর মাধ্যমে সাই-ই চাল দেয়। এরপর কিছুটা সাই-এর চাপাচাপিতে ও বাকিটা নিজের ইচ্ছাতেই হিকারু গো খেলা শিখতে শুরু করে। গো খেলার সৌন্দর্য আবিষ্কার করে হিকারু সাইকে ওর গো ইন্সট্রাক্টর হতে বলে। সে চায় আবার কোন একদিন আকিরার সাথে খেলতে, আর নিজের শক্তিতে ওকে হারাতে। এর জন্য সে এখনকার একজন প্রফেশনাল গো খেলোয়াড়ের মতই তার ক্যারিয়ার গঠন শুরু করে।
একটি স্পোর্টস আনিমেতে যা যা আশা করা যায়, আনিমেটি তার যথেষ্টই পূরণ করে। গল্পের ফ্লো যথেষ্ট ভাল, হিকারু আর আকিরার উপরই ফোকাস করেছে, আর খুব একটা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করেনি। প্রফেশনাল গো এর জগতটা বেশ ভালোভাবেই বুঝিয়েছে। এক এপিসোড শেষ করে পরেরটা শুরু করার ক্ষুধাটা সবসময়ই ছিল। আনিমের আর্ট, সাউন্ড ইত্যাদিতেও খারাপ লাগার মত কিছুই নেই। গো খেলাটা বেশি একটা না বুঝলেও সমস্যা নাই।
স্পোর্টস আনিমের ভক্তরা এটা ট্রাই করে দেখতে পারেন। আর পুরো গল্পের স্বাদ পেতে চাইলে মুভি পর্যন্ত দেখে মাঙ্গার ১৪৯ নং চ্যাপ্টার থেকে পড়া শুরু করবেন। মাঙ্গায় মোট ১৯৮টা চ্যাপ্টার আছে।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #14

আনিমে: Hai to Gensou no Grimgar (Grimgar of Ashes and Fantasies)

জানরা: ইসেকাই, একশন, অ্যাডভেঞ্চার, ড্রামা
এপিসোড সংখ্যা: ১২
 
গল্পের নায়ক হারুহিরো হঠাৎ করে নিজেকে এক অজানা অচেনা জগতে আবিষ্কার করে। সে সাথে পায় তারই মত একই ভাগ্য বরণ করা আরও কয়েকজনকে, আর পায় তার এই অবস্থায় আসার আগের জীবন সম্পর্কে ভাসা ভাসা কিছু স্মৃতি। এখন তাদের একমাত্র ধ্যানজ্ঞানের বিষয় হয়ে ওঠে কীভাবে এই নতুন জগতে নিজেকে টিকিয়ে রাখা যায়। ওরা নির্দেশনা পায় যে, আপাতত টিকে থাকার একমাত্র উপায় হল কয়েকজনের দল গঠন করে মন্সটার হান্টিং করা। এটাই ওদের জন্য টাকাপয়সা কামানোর একমাত্র উপায়। তো এটা শুনে হারুহিরো আরও কয়েকজনের সাথে দল গঠন করে শুরুতে গবলিন মারার সিদ্ধান্ত নেয়।
এইটুকু শুনে তেমন আকর্ষণীয় মনে না হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু আমার মতে এই আনিমেটি মূলত দুই দিক দিয়ে ট্রাডিশনাল ইসেকাই থেকে আলাদা। একটি হচ্ছে পেইন্টিং এর মতো দেখতে ব্যাকগ্রাউন্ডগুলি। ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ডের সাথে খুবই সুন্দর খাপ খেয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে ক্যারাক্টার গুলোও খুব সুন্দরভাবে মিশে যায়। মোটকথা আনিমেটি ভিজুয়ালের দিক থেকে অনবদ্য।
আরেকটি দিক হচ্ছে এর পেসিং, ক্যারাক্টার ডেভেলপমেন্ট, আর ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং-এর নিপুণতা। আজকাল অনেক সাধারণ ইসেকাইয়ে দেখা যায় যে, দর্শক ইসেকাই জগৎ সম্পর্কে খুব বেশি জানার আগেই নায়ক হুটহাট ফাইট শুরু করে দেয়, আর গল্পও বহুদুর এগিয়ে যায়। এই আনিমেটি কিন্তু ব্যতিক্রম। গল্পের প্রথম আর্কে খুব যত্নের সাথে ও সময় নিয়ে ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং করা হয়েছে, আর চরিত্রগুলির বৈশিষ্ট্য ও তাদের নিজেদের মধ্যে মিথষ্ক্রিয়াগুলি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অচেনা জগতের সাথে খাপ খাওয়াতে প্রথমদিকে হারুহিরোদের স্ট্রাগল বেশ বাস্তবসম্মতভাবেই তুলে ধরা হয়েছে। ১২ পর্বের ইসেকাই আনিমেতে এটা আনেক্সপেক্টেড ছিল, আর আমার খুব ভাল লেগেছে। তার পরের দুই আর্কে কিন্তু যথেষ্ট উত্তেজনাকর একশন আছে।
আনিমেটি কিন্তু শেষমেষ লাইট নভেলটার প্রোমোশনের জন্যেই বানানো। তাই গল্প শেষ করা হয়নি। এতে আপত্তি না থাকলে কিছুটা ভিন্ন স্বাদের এই ইসেকাই আনিমেটি দেখতে পারেন।
 

Genshiken [রিভিউ] — Md. Anik Hossain

𝙂𝙚𝙣𝙨𝙝𝙞𝙠𝙚𝙣

সম্প্রতি দেখে ফেললাম ওতাকু সংস্কৃতি নিয়ে তৈরি 𝙂𝙚𝙣𝙨𝙝𝙞𝙠𝙚𝙣 নামক সিরিজটি। ৩ টি সিজনে বিভক্ত সিরিজটির প্রেক্ষাপট একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ও তার সদস্যদের কেন্দ্র করে। 𝗠𝗼𝗱𝗲𝗿𝗻 𝗩𝗶𝘀𝘂𝗮𝗹 𝗖𝘂𝗹𝘁𝘂𝗿𝗲 𝗦𝘁𝘂𝗱𝘆 𝗦𝗼𝗰𝗶𝗲𝘁𝘆 বা সংক্ষেপে গেনশিকেন নামক ক্লাবটিতে সদস্যরা মূলত এনিমে, মাঙ্গা, গেইম , কসপ্লে, হেন্তাই এবং যাবতীয় ওতাকু সম্পর্কিত জিনিস নিয়ে আলাপ আলোচনা করে । গল্পের শুরু হয় ভার্সিটিতে সদ্য ভর্তি হওয়া কেঞ্জি সাসাহারা নামক ছেলেকে নিয়ে। বেশ নম্র ভদ্র স্বভাবের হলেও তার ইচ্ছা জাগলো বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে ওতাকু জগতে একটু প্রবেশ করে দেখবে । গেনশিকেনের খোঁজ পেয়ে ক্লাবটিতে সানন্দে সদস্য হয়ে গেল সে। একইসাথে মাকোতো কোসাকা নামক আরেক ছেলে তার সাথে ক্লাবে যোগ দেয়। কোসাকা দৈহিকভাবে বেশ সুদর্শন । একইসময় সাকি কাসুকাবে নামক মেয়ে প্রথম দেখাতেই কোসাকা এর প্রেমে পড়ে যায় এবং অদ্ভুতভাবে দুইজনে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে যায় এই অল্প সময়ে । কিন্তু ওতাকু কালচারকে অপছন্দ করা কাসুকাবে তার প্রেমিকের গেনশিকেন ক্লাবে যোগদানের ব্যাপারটা ভালো চোখে দেখলো না। তবু বাধ্য হয়ে ক্লাবে নিয়মিত যাতায়াত চলতে থাকে তার । একই সময় ক্লাবের পুরাতন সিনিয়র সদস্যদের সাথে সদ্য যোগ দেয়া এই ৩ জনের নানা হাসি ঠাট্টা, খোঁচাখুচি চলতে থাকে এবং এভাবে দিনকাল অতিবাহিত হতে থাকে।

মতামত ও পর্যালোচনা:
এই সিরিজের সবচেয়ে বড় দিকটা আমার মতে এর বাস্তবতা এবং ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট। ভার্সিটির শেষ বছরগুলোতে সবার চাকরি খোঁজা নিয়ে ব্যস্ততা ও হতাশা, প্রেমের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সঙ্গীর ভালো মন্দ লাগার ব্যাপারটা না চাইতেও মেনে নেয়া ও একটা সময় তাতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া, পেশাগত জীবনকে আলিঙ্গন করতে যেয়ে পুরনো সুখ স্মৃতিগুলো বিসর্জন দেয়ার মতো দিকগুলো ফুটে এসেছে। অন্যদিকে প্রায় প্রতিটি মূল চরিত্রকে বেশ ভালো রকম স্ক্রিন টাইম দিয়ে তাদেরকে গভীরতা দান করা হয়েছে । প্রত্যেকের দৃষ্টিকোণ থেকে একে অপরকে দেখানো হয়েছে। ধীরে সুস্থে সময় ও যত্ন নিয়ে এদের মধ্যে একটা গভীর বোঝাপড়া গড়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে সিরিজের আরেকটা ভালো দিক ছিল এর গল্প। স্লাইস অফ লাইফ হিসাবে গল্পের পেসিং নিয়ে এ ধরনের সিরিজে অনেক সময় সমস্যা দেখা যায়, বোরিং লাগে। কিন্তু সিরিজটিতে সেরকমটা লাগেনি মোটেও। যতটুকু ধীর ছিল, সেটা চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন ছিল।
এতক্ষণ যা যা বললাম সেগুলো মূলত প্রথম ২ সিজনের ব্যাপারে বলেছি। ৩য় সিজন থেকেই শুরু যত বিপত্তি। নতুন চরিত্রগুলোর মাঝে আগের মতো সেই চারিত্রিক দৃঢ়তা ছিল না। ক্লাবের কাজগুলো খুব রসকষহীন লাগছিল। গল্প Repetitive হয়ে যাচ্ছিল। পুরো গল্প বলতে গেলে শুধু ২ টা চরিত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছিল যেটা প্রথম ২ সিজনের পুরো বিপরীত। তবে মাদারামে এর চরিত্রটার এক্ষেত্রে প্রচুর বিকাশ ঘটে। ক্লাবের সবচেয়ে “বড় ওতাকু” এই সময় ম্যাচিউরিটি অর্জন করে। মাদারামে এর এই পরিপক্বতা দেখার মতো ছিল। কিন্তু সামগ্রিকভাবে পুরো ৩য় সিজন মানে 𝗚𝗲𝗻𝘀𝗵𝗶𝗸𝗲𝗻 𝗡𝗶𝗱𝗮𝗶𝗺𝗲 একটা আক্ষেপের নাম ছিল আমার কাছে। ক্লাবের পুরো ফোকাস হঠাৎ করে BL আর cross-dressing এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। প্রথম ২ সিজনে যেভাবে ছোটো থেকে বড় সকল চরিত্রের সুন্দর ডেভেলপমেন্ট দেখা গেছে, সেই তুলনায় ৩য় সিজনে মন ভরেনি। বিশেষত কুচিকি নামক চরিত্রটাকে তো ব্যবহার ই করা হয়নি ঠিকমতো। অল্প যেটুকু স্ক্রিনটাইম দেয়া হয়েছে কুচিকি কে, তা অযথা কাজকারবারে নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ ভারী রকম character based এই সিরিজে কুচিকি কে খুব ভালো করে ব্যবহারের সুযোগ ছিল।
সে যাই হোক। ৩য় সিজনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল মাদারামে এর চারিত্রিক বিকাশ। সম্ভবত, মাদারামে এর জন্যই পুরো ৩য় সিজনটা বানানো হয়েছে এক হিসাবে। পুরো সিরিজের সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হিসাবে মন জয় করে নিয়েছে।
সর্বোপরি, ওতাকুদের নিয়ে এ পর্যন্ত বেশ অনেকগুলো সিরিজ দেখেছি। তবে নিঃসন্দেহে 𝐆𝐞𝐧𝐬𝐡𝐢𝐤𝐞𝐧 এদের মধ্যে সেরা। ৩য় সিজনের কথা বাদ দিলে চমৎকার একটা সিরিজ। এনিমে, মাঙ্গা নিয়ে আমরা যারা সারাদিন মেতে থাকি, তাদের জন্য সিরিজটা দেখা আবশ্যক আমার মতে।

রেটিং
প্লট: ৮/১০
গল্প: ৮/১০
চরিত্রায়ন: ৮.৫/১০
এনিমেশন-আর্টওয়ার্ক: ৭.৫/১০ (আগের দিনের সিরিজ। সেই হিসাবে ভালোই)
সামগ্রিকভাবে –
সিজন ১+২: ৮/১০
সিজন ৩: ৭.৫/১০ (মাদারামে এর জন্য ০.৫ বাড়িয়ে দিলাম। এছাড়া ৭/১০ এর বেশি দিতে মন সায় দিচ্ছে না। বলে রাখা ভালো, আমার ৭ রেটিং হয়ত অন্যদের ৬.৫ বা ৬ এর সমান হবে 😂)

Sakib’s Hidden Gems – Episode #13

আনিমে: Princess Principal

জানরা: একশন, হিস্টোরিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ১২
 
সময়কাল বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগ। মিলিটারি ক্ষমতাবলে ও ক্যাভোরাইট নামক জ্বালানীর উপর একচেটিয়া দখলদারিত্বের ফলে অ্যালবিয়ন সাম্রাজ্য তখন পৃথিবীর চালকের আসনে অধিষ্ঠিত। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সাম্রাজ্যটি পূর্বে Kingdom of Albion এবং পশ্চিমে Commonwealth of Albion – এই দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আর এই দুই দেশ গুপ্তচর নিয়োগ করে একে অপরের বিরুদ্ধে Information Warfare চালিয়ে যেতে থাকে। গল্পের মূল চরিত্র হল Kingdom of Albion এর চতুর্থ রাজকুমারী শার্লট। ওকে এক রকম অপহরণ করার জন্য Commonwealth এর গুপ্তচর নিয়োগ করা হয় (এই আনিমেতে কেন জানি সাধারণত ছোট মেয়েদেরকে গুপ্তচর বানানো হয়)। কিন্তু শার্লট এই গুপ্তচরদের পরিচয় জেনে ফেলে এবং ওদের সাথে যোগ দেয় এই শর্তে যে ওরা ওকে সিংহাসনে বসানোতে সহায়তা করবে। এরপর শার্লটসহ অন্য গুপ্তচরেরা একের পর এক মিশনে অংশ নিতে থাকে। এর সাথে শার্লটের জীবনরহস্য উন্মোচিত হতে থাকে।
এই আনিমেটিকে ললিফেস্ট মনে করবেন না কিন্তু। আনিমেটি যথেষ্টই সিরিয়াস। মিশনগুলোতে পাবেন বুদ্ধি ও সাহসের খেলা। ভিজুয়াল চমকপ্রদ আর ওএসটি শুনতে ভাল লাগে। কাহিনী এখনও অসমাপ্ত, কিন্তু সামনে সিকুএল মুভি আসছে। তাই গুপ্তচরবিদ্যার উপর কোন আনিমে দেখার ইচ্ছা থাকলে এটি চেখে দেখতেই পারেন।
 
 

Beastars [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

এই উপমহাদেশের লোকগল্পের একটা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এতে প্রচুর পরিমাণে anthropomorphic চরিত্র ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের জীবনের নানা কাহিনীর বর্ণায়ন করা হয়। ছোটবেলায় শেয়াল পণ্ডিত আর কুমিরের বাচ্চাদের সেই কাহিনী শুনে নি এমন কেউ বোধহয় নেই। এই গল্পে পশুপাখির মাধ্যমে যেভাবে মানব চরিত্রের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে সেটাকেই anthropomorphism বলে। লোকগল্পে এই উপাদানটার ব্যবহার বেশ পুরনো। অনেক অনেক আগের পঞ্চতন্ত্রে যেমন এর ব্যবহার আছে, আমাদের সুপরিচিত ঠাকুরমার ঝুলিতে আম-সন্দেশ নামের একটা অধ্যায়ই আছে পশুপাখির মাধ্যমে বলা রূপকথাগুলো নিয়ে। আধুনিক সাহিত্যেও এর ব্যবহার আছে। লর্ড অফ দ্যা রিংসের কথা উল্লেখ করা যায় আর জর্জ অরওয়েলের অ্যানিমেল ফার্মের কথা তো সবারই জানা।

তো জাপানিজ পপ কালচারে জিনিসটা যেভাবে ব্যবহার করা হয় সচরাচর তাকে আর যাই হোক সুশীল কিছু বলা যায় না। ইন্টারনেটে furry কমিউনিটির কার্যকলাপ অনেক দেখা যায়, তা নিয়ে আমার কোন আপত্তি নেই। অন্যকে বিরক্ত না করে সবাই যার যার আগ্রহের জিনিস চর্চা করা মোটেই খারাপ কিছু নয়।

তো এই গতানুগতিক ধারায় একটা নতুন হাওয়া নিয়ে আসা এনিমের নাম Beastars. সিরিজটা একই নামের একটা মাঙ্গা থেকে অ্যাডাপ্ট করা হয়েছে। সেই ২০১৬ সাল থেকে মাঙ্গাটা চলছে, অথচ এতদিন এটা নজরেই পড়ে নি কখনো।

বিস্টার্সের দুনিয়া আমাদের দুনিয়ার মতই এক দুনিয়া যেখানে পশুপাখিরা মানুষের মত সামাজিক জীবনযাপন করে। মানবসমাজে সাধারণত যা দেখা যায় তার সবই আছে সেখানে শুধু মানুষই নেই। সেখানে নগর, বন্দর, সভ্যতা যা বলা যায় সবই আছে। এখানে পশুপাখি মানুষের মত নয়টা-পাঁচটা অফিস করে বাসায় এসে সন্তানের কপালে চুমু খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। তারা সুখ পেলে হাসে, দুঃখ পেলে কান্নাও করে। ধর্ম, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সবগুলা superstructure ই সেখানে দারুণভাবে বিদ্যমান।

তবে মানবসমাজের হাজার বছরের পুরনো অভিশাপ বর্ণবাদ বিস্টার্সের দুনিয়াতে এখনও প্রবলভাবে নিজের আসন গেঁড়ে বসে আছে। বিস্টার্সের সমাজ মোটা দাগে তৃণভোজী ও মাংসাশী; এই দুই জাতিতে বিভক্ত। সমাজে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় এখানে তৃণভোজী আর মাংসাশীরা একই সাথে বসবাস করে। তারপরেও সর্বদা একটা অদৃশ্য টেনশন কাজ করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। মাংসাশীরা কোন একদিন নিজেদের মধ্যকার
শিকারী সত্ত্বার কাছে হার মানবে এই ভয়ে তৃণভোজী প্রাণীরা সবসময়েই তটস্থ থাকে।

সেই দুশ্চিন্তায় জ্বালানি যুগিয়ে দেয় এনিমের শুরুতেই ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা। তেম নামের এক মেষকে মৃত ও আধাখাওয়া অবস্থায় আবিষ্কার করা হয় চেরিংটন হাইস্কুলের অডিটোরিয়ামে। ধারণা করা হয় তেমের কোন মাংসাশী সহপাঠীই খুনটা করেছে। পুরো স্কুলে একটা আতংকের জোয়ার বয়ে যায়। তৃণভোজী প্রাণীরা রাত ও অন্ধকার এড়িয়ে চলতে শুরু করে আর তাদের মাংসাশী বন্ধুদের অবিরাম সন্দেহের চোখে রাখা শুরু করে।

তো এসব ঘটনার সাক্ষী চেরিংটন হাইস্কুলের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমাদের প্রোটাগনিস্ট লেগোসি। এই স্কুলের সবাই ডরমিটরিতে থেকে পড়াশুনা করে। লেগোসি একজন নেকড়ে, লম্বা একহারা তার গড়ন; চালচলনে একজন স্বাভাবিক নেকড়ের পুরো উল্টো সে। ক্লাসের সবাই লেগোসিকে ধোয়া তুলসি পাতা বলেই জানে, কারোর সাত-পাঁচ কোনটাতেই নেই সে। তেম নামের সেই মেষ ছিল ড্রামা ক্লাবে তারই ক্লাসমেট, তাই মানসিকভাবে সেও কিছুটা মুষড়ে পড়ে।
তার পরের দিনই লেগোসির জীবনে একটা মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে যায়। ড্রামা ক্লাবের একটা কাজের জন্য সে যখন ক্যাম্পাসে রাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে তখন তার চোখে একাকী এক খরগোশকে চোখে পড়ে। দেখামাত্রই চকিতে তার মধ্যের শিকারী মনোভাব জেগে উঠে। সারাজীবনেও সে যে কাজ করার কথা ভাবে নি সে তাই করে বসে, প্রচণ্ড এক লাফে সে সেই খরগোশটার উপর ঝাপিয়ে পড়ে…

থিমের দিক দিয়ে চিন্তা করলে বিস্টার্স অসাধারণ একটা গল্প। সুক্ষ্ম ও স্থূল, দুই ভাবেই এখানে এই এনিমেতে বর্ণবাদের নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শ্রেণী বৈষম্যকে পশুপাখির মাধ্যমে বেশ বাস্তবভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই এনিমের গল্পে। আধুনিকায়ন যে আসলে আদিম সমাজের শিকারী ও শিকার মনোভাবকে দমিয়ে রাখতে পারে না তার সুন্দর চিত্রায়ণ ঘটেছে এই এনিমেতে। টুকরো টুকরো অনেক জায়গা আছে বিস্টার্সে যা আসলে মানবসমাজের অনেক অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এর ফলেই বিস্টার্স পরিণত হয়েছে একটা দারুণ সাইকোলজিকাল এনিমেতে। এখানে হাইস্কুলের একগাদা ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে পুরো সমাজব্যবস্থাটাকেই সুনিপুণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই জায়গায় মাঙ্গাকার প্রশংসা করতেই হবে, এরকম ভিন্নধর্মী চিন্তাভাবনা সচরাচর দেখা যায় না। কিশোর-কিশোরীরা গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় coming-of-age স্টোরি হিসেবেও বিস্টার্সকে অনবদ্য মনে হয়েছে আমার কাছে।

বিস্টার্সের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক নিঃসন্দেহে এর চরিত্রগুলো। এখানে মাঙ্গাকার প্রশংসা করে কুলানো সম্ভব নয়। তিনি রীতিমতো বাধ্য করেছেন আমাদের চরিত্রগুলোকে মানুষের মত বিবেচনা করতে। কল্পনাশক্তি ও বাস্তবতাবোধের পরিমিত মিশ্রণ না ঘটাতে পারলে বিস্টার্সের চরিত্রগুলো এত ইন্টারেস্টিং হতো না। নানা দ্বন্দ্বে ভোগা লেগোসি, জীবনের কোন অর্থ খুঁজে না পাওয়া খরগোশ হারু, অতি উচ্চাভিলাষী হরিণ লুই; এই তিনটি ক্যারেকটারের আচার-আচরণ যেন আমাদের জীবনের পাতা থেকেই তুলে আনা। ছোট ছোট চরিত্র যেমন লেগোসির কৌহাই আরেক নেকড়ে জুনো আর তার ড্রামা ক্লাবের ক্লাসমেটগুলো অনেক কম স্ক্রিনটাইম পেয়েও নিজেদের কাজ পুরোপুরি করতে সমর্থ হয়েছে। সাথে আছে বিপদের বন্ধু পান্ডা গিওর্নো-সান যে কিনা লেগোসির কমপ্লেক্স সাইকোলজির উপর আলোকপাত করতে সমর্থ হয়। চরিত্রগুলো একে অপরের প্রতি যে অনুভূতিগুলো ধারণ করে থাকে যেমন: লেগোসি-হারু-লুইয়ের ত্রিভুজ প্রেম দ্বন্দ্ব, বিলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা তৃণভোজীদের প্রতি ঘৃণা আর সে সুবাদে লুইয়ের প্রতিও সুপ্ত জিঘাংসা মনোভাব, জুনো আর হারুর মধ্যে লেগোসিকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা; এগুলো এত এত বাস্তব যে পশুপাখির মুখোশের আড়ালে যেন নিজেদের চেহারাই দেখতে পাই। শুধু নেতিবাচক ঘটনগুলোই মনে দাগ কাটে এমন নয়, কিছু ছোট ছোট ইতিবাচক ঘটনাও আমাকে দারুণ স্পর্শ করেছে। ব্ল্যাক মার্কেটে পথ হারানো লুই যখন শেষে দেখে তার মাংসাশী বন্ধু আওবা সৎবিৎ ফিরে পেয়ে তার মতই অন্ধকার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তখন লেগোসির মত আমিও সমান আনন্দিত হই এত এত আবর্জনার ভিড়ে এমন এক পদ্মফুল ফুটতে দেখে। আরেকটা ছোট গল্প খুব ভাল লেগেছিল, সেটা হল লেগোসির ক্লাসে তার পাশে বসা মুরগীর কাহিনী। এই মুরগীর মত মানবিক চরিত্র কমই আছে এই সিরিজে আর সেটা সে তার পাঁচ মিনিটের উপস্থিতিতেই বুঝিয়ে দিয়ে সক্ষম হয়েছে। মুরগীটা নিয়মিত উন্নতমানের ডিম পাড়ে যেন মাংসাশীদের পুষ্টির অভাব না হয় সাথে এটাও যেন না হয় যে মাংসাশীরা খাদ্যের অভাবে তাদের সুপ্ত প্রবৃত্তির কাছে হার না মেনে ফেলে। এরকম সর্বমুখী আদর্শবাদী কাজকর্ম সমাজে এখন বিরল।

বিস্টার্সের একটা বড় থিম হলো শিকারী প্রাণীদের শিকার করার প্রবৃত্তি ও তা নিবৃত্ত করার জন্য সমাজব্যবস্থার গ্রহণ করা নানা পদক্ষেপ। এই জায়গাটাতে এসে আমি চিন্তার খোরাক পেয়েছি অনেক। শিকার করা যদি মাংসাশীদের মজ্জার মধ্যে মিশেই থাকে তাহলে সেটাকে এভাবে নিয়মকানুন দিয়ে চাপিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টাটা আসলে কতটা সফল? আমরা মানুষেরা এভাবে নানা বেড়াজালের মধ্যে ক্রমাগত আটকে থেকে আসলেই নিজেরাই নিজেদের বন্দী করে রাখছি, বিপরীতে অন্যান্য সৃষ্টিকুল নিজেদের প্রবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত হয়ে একটা স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে; এরকম চিন্তা বিস্টার্স দেখে আবারও এসেছে আমার মাথায়। বিস্টার্সের দুনিয়ার নাগরিকরা মানুষের মত নিজেদের নানা নিয়মে আবদ্ধ রেখে এই অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। আর এই অস্বস্তিকর পরিবেশে তৈরি হওয়া টেনশনকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে মাঙ্গাকা এই ভাল ভাল গল্পগুলো উপহার দিয়েছেন আমাদের। এই জায়গায় আবারও মাঙ্গাকার ভূয়সী প্রশংসা করবো।

অ্যানিমেশনের প্রসঙ্গে আসি। কোন এনিমের সাথে সিজিকে এত সুন্দরভাবে খাপ খাওয়াতে খুব কমই দেখেছি বিস্টার্সের মত। দেখে মনে হয়েছে মাঙ্গাটা লেখাই হয়েছিল এভাবে থ্রিডি সিজিতে তৈরি করার জন্য। সিজির ব্যবহারে যে জড়তা তৈরি হয় অ্যানিমেশনে, সেটা ব্যবহার করে এনিমেটা আরো দশগুণ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। রটোস্কোপিক অ্যানিমেশনের কারণে যেমন আকু নো হানার এনিমে রীতিমতো জান্তব হয়ে উঠেছিল। এনিমেটা স্টুডিও অরেঞ্জের বানানো, যারা এর আগে Land of the lustrous বানিয়ে সিজির ঝলক দেখিয়েছিল। এই স্টুডিও কোন মাঙ্গা অ্যাডাপ্ট করার সিদ্ধান্ত নিলে সেটার এনিমে ভিন্ন একটা আবহ নিয়ে বের হয়ে আসে। সামনে তাদের আরো একক কাজের অপেক্ষায় রইলাম।

ওপেনিং সং Wild একটা অসাধারণ মিউজিক কম্পোজিশনের উদাহরণ। ইউটিউবে দেখলাম আর্টিস্ট ব্যান্ড ALI একটা মাল্টিন্যাশনাল গ্রুপ। জ্যাজ আর র‍্যাপ মিশিয়ে তারা দারুণ একটা গান তৈরি করেছে। আর এর সাথে সমানভাবে তাল মিলিয়েছে স্টপ মোশন অ্যানিমেশনে বানানো ওপেনিং ক্রেডিটটা। ওপেনিং ক্রেডিটটা সিরিজটাকে আরো জান্তব করে তুলেছে। বিশেষ করে That’s called Jazz বলার মুহূর্তে যে রক্তের দৃশ্যটা দেখানো হয় তার মত ক্রিপি দৃশ্য আমি কমই দেখেছি। এরকম অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়েছিল আরেক গ্রেট সাতোশি কনের এনিমে Paranoia Agent এর ওপেনিং ক্রেডিট দেখার সময়। চরম অস্বস্তিকর হওয়ার পরেও একবারও স্কিপ করতে পারি নি ওপেনিংটা।

২০১৯ সালের অনেকগুলো ভাল এনিমে দেখা বাকী পড়ে ছিল এতদিন, বিস্টার্স তার মধ্যে একটা। এখন আফসোস হচ্ছে আগে দেখে থাকলে টপচার্টে সাইকোলজিকাল পোলে একে ভোট দিতে পারতাম। বিস্টার্স নিঃসন্দেহে ম্যাচিউর ঘরানার এনিমে দর্শকদের জন্য বড় একটা উপহার। আবার নেটফ্লিক্সে সম্প্রচারিত হওয়ার কারণে অনেক নন-এনিমে দর্শকও এনিমের প্রতি ঝুঁকবে এর মাধ্যমে। সেকেন্ড সিজনের ঘোষণাও এসে গেছে শুনলাম। মাঙ্গাটা পড়বো কিনা ভাবছি। সিরিজের অ্যানিমেশনের স্টাইল নিয়ে মাঙ্গা ফ্যানদের বেশ কিছু আপত্তিও দেখলাম।

সবশেষে, ম্যাচিউরড ও কিঞ্চিৎ ডার্ক জিনিস পছন্দ করা দর্শকদের জন্য বিস্টার্স প্রচণ্ডভাবে রেকমান্ডেড। Furry জিনিস বলে একে এড়িয়ে যাবেন না।

Sakib’s Hidden Gems – Episode #12

আনিমে: Michiko to Hatchin (Michiko & Hatchin)

জানরা: একশন, অ্যাডভেঞ্চার
এপিসোড সংখ্যা: ২২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/4087/Michiko_to_Hatchin

গল্পের মূল চরিত্র দুইটি – নয় বছরের মেয়ে হানা মরেনোস ওরফে হাচিন আর যুবতী মহিলা মিচিকো ম্যালান্ড্রো। মা-মরা হাচিনের বাবা হলো কুখ্যাত গ্যাং লীডার হিরোশি মরেনোস, যে পুলিশের থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আর ওদিকে হাচিন পড়ে আছে ওকে দত্তক নেওয়া এক পরিবারের কাছে, যারা ওর জীবন দুর্বিষহ করে ফেলেছে। অন্যদিকে স্বাধীনচেতা মিচিকো হল বারবার জেল পালানো আসামী। প্রথম জীবনে সে হিরোশির প্রেমে মজে গিয়েছিল। পরে সে বহু খুঁজেও ওর দেখা পায় নি। কিন্তু জেলে থাকা অবস্থায় সে হিরোশির মেয়ে হাচিনের কথা জানতে পায়, আর ওর সাহায্যে হিরোশিকে খোঁজার আরেকটা চেষ্টা চালায়। এই জন্য সে আবার জেল পালিয়ে হাচিনকে দত্তক নেওয়া পরিবারের ওখানে হামলা করে হাচিনকে নিয়ে আসে। এরপর চলতে থাকে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ওদের হিরোশিকে খোঁজার অভিযান।

বেশ সিমপ্লিস্টিক সেটিং হলেও আনিমেটি খুব মজার। ল্যাটিন আমেরিকার সেটিং-ওলা আনিমেটি ক্যারাক্টার ডিজাইন, রং, ও সাউন্ডের ব্যবহারের দিক দিয়ে যথেষ্ট ব্যতিক্রমধর্মী ও স্টাইলিশ। অরিজিনাল আনিমেটির শেষটাও যথেষ্ট ভাল। মিচিকো ও হাচিন দুজনই ভালো লাগার মতো চরিত্র।

হালকা স্বাদের, দ্রুতলয়ের ও মজাদার আনিমের খোঁজে থাকলে এটি চেখে দেখতে পারেন। আর এটি ইংলিশ ডাব-এ দেখাই বোধহয় ভালো।

Chainsaw Man [মাঙ্গা রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Chainsaw Man

জনরা: অ্যাকশন, ডার্ক ফ্যান্টাসি

১৬ বছরের অনাথ কিশোর দেনজি। সদ্য সে নিজের একটা কিডনি বারো লাখ ইয়েনে, একটি চোখ তিন লাখ ইয়েনে আর নিজের একটি অণ্ডকোষ বিক্রি করেছে এক লাখেরও কম ইয়েনে। গাছ কেটে সে কষ্টেসৃষ্টে আরো হাজার ষাটেক ইয়েন যোগাড় করেছে। তারপরেও ইয়াকুজার কাছে তার ঋণ শোধ করা বাকী আছে আরো তিন কোটি আশি লাখ চল্লিশ ইয়েনের মতো। অযোগ্য বাবা মরে গিয়ে তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে গেছে এই ভার। প্রিয়জন বলতে তার আছে শুধু পোষা কুকুর পোচিতা যে আসলে একটা চেইন-স সদৃশ ডেভিল।
তো পোচিতাকে নিয়ে ঋণ শোধের জন্য ডেভিল হান্ট করে দেনজি। জীবনের সব মৌলিক চাহিদা থেকে বলতে গেলে বঞ্চিতই দেনজি। স্কুলে যায় নি সে কখনো, থাকে একটা নড়বড়ে ঘরে, যা পায় তাই খায়। বুক ভরে তার স্বপ্ন একটা সুন্দর জীবনযাপন করার, হয়তোবা সুন্দরী কোন এক মেয়ের সঙ্গও পাওয়ার আশা করে দেনজি।

বিন্দু বিন্দু শিশির দিয়ে দীঘি পূর্ণ করার আশা রাখা দেনজিকে একদিন তার ইয়াকুজা বস ডেকে নেয় বিশেষ কাজে। এক পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাওয়া দেনজিকে ডেভিল হান্ট করার জন্য। সেখানে ইয়াকুজার সাঙ্গপাঙ্গরা পোচিতাসহ তাকে টুকরো টুকরো করে কেটে ময়লার ড্রামে ভরে রাখে। আসলে ইয়াকুজারা সবাই এক ম্যানিপুলেটিং ডেভিলের আদেশ মানছিল এতক্ষণ। বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়া দেনজি অবচেতন মনে পোষা কুকুর পোচিতার সাথে চুক্তি করে, সে নিজের পুরো দেহ দান করবে পোচিতাকে বিনিময়ে পোচিতা তাকে দেবে স্বাভাবিক মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণের সুযোগ।

লাইফ লাইন পেয়ে দেনজি আবির্ভূত হয় চেইন-স ম্যান হিসেবে। চেইন-সর নির্মম আঘাতে সে কেটে টুকরো টুকরো করে ডেভিল আর তার চেলাপেলাদের। সরকারি ডেভিল হান্টাররা ঘটনাস্থলে এসে রক্ত-মাংসের স্তুপের মাঝে দেনজিকে আবিষ্কার করে। উচ্চতর অফিসার মাকিমার নজরে পড়ে যায় দেনজি আর মাকিমা তাকে সরকারি ডেভিল হান্টারদের দলে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে তিনবেলা খাবার আর একটা শোয়ার জায়গার প্রস্তাব পেয়ে খুশীমনে রাজি হয়ে যায় দেনজি।

তো চেইন-স ম্যানের কাহিনী শুরু এখানেই। মাঙ্গাটা ২০১৯ সাল থেকে উইকলি শোউনেন জাম্পে প্রকাশিত হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত বের হয়েছে ৭২ চ্যাপ্টার। বেশ জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে এর মাঝে। Mangaplus এ টপ টেনে থাকে প্রতি সপ্তাহেই।

চেইন-স ম্যান মাঙ্গাটার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সম্ভবত এর আন-অর্থোডক্স অ্যাপ্রোচ। মাঙ্গাটা আসলেই শোউনেন জাম্পে কিভাবে এত ভালভাবে ছাপানো হচ্ছে সেটা আসলে চিন্তার বিষয়। জাম্পে সাধারণত এত ব্রুটাল আর grotesque আর্টের মাঙ্গা সহজে দেখা যায় না। শোউনেন হিসেবে ধরলে এর স্টোরি, ক্যারেকটার ডিজাইন, আর্টস্টাইল আর সংলাপ সবই অত্যন্ত প্রথাবিরোধী। পুরো মাঙ্গাটাতেই গোছানো জিনিস খুঁজে পেলাম না তেমন, সবকিছুই প্রচণ্ড রকমের অগোছালো। যেন কেউ চেইন-স দিয়েই এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে মাঙ্গাটাকে আগাগোড়া।

চেইন-স ম্যানের ক্যারেকটারগুলো চরম ব্যতিক্রম। শোউনেন মাঙ্গার নিয়মিত বৈশিষ্ট্য যে বন্ধুত্বের জয়গান তার ছিটেফোঁটাও নেই ক্যারেকটারগুলোর মাঝে। ক্যারেকটারগুলো এমন একটা দুনিয়ায় বসবাস করে যেখানে যেকোন মুহূর্তে জীবন চলে যেতে পারে ডেভিলের হাতে। তার প্রভাবে ক্যারেকটারগুলো হয়ে উঠেছে প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রীক, নিষ্ঠুর আর বাস্তববাদী। দিনে এনে দিনে খেতে খেতে ক্যারেকটারগুলো মানুষ মানুষের জন্য এই প্রবাদটা যেন সবাই ভুলেই গেছে। আর মাঙ্গাকাও যেন এই জিনিসটা লুকানোর কোন চেষ্টাই করেন নি। পাবলিক ডেভিল হান্টাররা বেশিরভাগই জনগণের সেবার জন্য কাজে যোগ দেয় নি। বেশীরভাগই ডেভিলদের হাতে কোন না কোনভাবে ক্ষতির স্বীকার তাই প্রতিশোধস্পৃহাই তাদের কাজে লেগে থাকার মোটিভেশন। হিরোইজমের ছিটেফোঁটাও নেই তাদের মাঝে। মানুষও তাদের অত মহান কিছু মনে করে না। এই বৈশিষ্ট্যটা মাঙ্গাটার ডার্ক ফ্যান্টাসি হওয়ার পেছনে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে যে জিনিসটা Shueisha এর অন্য দুই মাঙ্গা হিরো অ্যাকাডেমিয়া আর ওয়ান পাঞ্চ ম্যান সযত্নে পরিহার করেছে। ক্যারেকটারগুলো মারাও যায় ধুপধাপ, এমনকি টেরও পাওয়া যায় না কখন কে মারা গেল। বেঁচে থাকা মানুষগুলোও মারা যাওয়া মানুষগুলো নিয়ে অত চিন্তিত না। বিশাল একটা ম্যাসাকারের মাধ্যমে বড় একটা পেইজ শেষ হয়ে গেলে দেখা যায় পরের পেইজেই সবাই দৈনন্দিন জীবনযাপন করছে, যেন সবকিছু সয়ে গেছে তাদের। এই জায়গাটাতে মাঙ্গাকা তাতসুকি ফুজিমোতোকে রীতিমত ‘uncensored’ বলবো আমি।

মাঙ্গার শ্রেষ্ঠ দিক নিঃসন্দেহে এর brutal, gritty, grotesque আর্টস্টাইল। কালো কালির অত্যধিক ব্যবহারের কারণে প্যানেলগুলো আরো ভয়াবহ রকমের ভায়োলেন্ট হয়ে উঠে। বিশেষ করে কিছুটা মানুষের মত দেখতে (হিউমনয়েড) ডেভিলগুলার আর্টগুলো সবচেয়ে ভয়াবহ। দেনজির প্রতিটা ট্রান্সফরমেশন গায়ে কাঁটা দেয়। এনিমে আসবে নিঃসন্দেহে তবে এই gory পরিবেশটা কিভাবে স্টুডিও ধরে রাখবে সেটা একটা দেখার মত বিষয়। অ্যাকশন প্যানেলগুলো সব দুর্দান্ত আর প্রচণ্ড ফাস্ট-পেসড। ইউসুকে মুরাতার আঁকার সাথে মিল পাওয়া যায়, তবে মুরাতার মত অত ডিটেইলড না। ক্যারেকটারগুলোর ভয়ার্ত, আতংকিত আর নিষ্ঠুর ভাবলেশহীন চাহনি মাঙ্গাটাতে হরর এলিমেন্টের আমদানী করেছে সুন্দরভাবে।

তারমানে মাঙ্গাতে কমেডি নেই এমন না। দেনজির জীবন-দর্শনটাই একটা বিশাল কমেডি। বিশেষ করে ভয়ংকর ভয়ংকর কাজ করার পেছনে তার হাস্যকর স্বার্থসিদ্ধিগুলো সবচেয়ে মজার। বিস্তারিত বলে পাঠকদের মজা নষ্ট করতে চাচ্ছি না এখানে। তবে বেশীরভাগ কমেডিগুলাই কেমন জানি অস্বস্তিকর। এচ্চি কিছু ম্যাটেরিয়াল দেয়া হয়েছে তবে সেগুলাও সস্তা বিনোদনের যোগান দেয় না। বিন্দুমাত্র কামভাব জাগায় নি এচ্চি সিচুয়েশনগুলা। বরং বয়ঃসন্ধিকালের অস্বস্তিকর মানসিক টানাপোড়েন উঠে এসেছে আকু নো হানার মতো। পাওয়ার আর দেনজির এক বাথটাবে শুয়ে সময় পার করার দৃশ্যটা ভিন্ন এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। এই সাইকোলজিকাল দিকগুলো মাঙ্গাটাকে বেশ মৌলিক করে তুলেছে আমার মতে। শোউনেন জাম্পের পাতায় এমন জিনিস দেখতে পাবো ভাবি নি।

সব মিলিয়ে বিধ্বংসী এক অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে আমাকে চেইন-স ম্যান আমাকে। দুইদিনেই পড়ে ফেলেছি সবগুলা চ্যাপ্টার। আস্তে আস্তে ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিংও হচ্ছে মাঙ্গাটাতে। গান ডেভিলই সম্ভবত সিরিজের মেইন ভিলেন, দারুণ একটা মিথ গড়ে উঠেছে তাকে ঘিরে। সবাই কেন চেইন-সর হার্ট শিকার করতে চাইছে তাও একটা দারুণ সাসপেন্স জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথাবিরোধী এই মাঙ্গার সাফল্য কামনা করছি, আশা করি জাম্পের টপ ফাইভে উঠে আসবে সামনে। (যেহেতু Kimetsu no yaiba শেষ ও The Promised Neverland শেষের দিকে)

Sakib’s Hidden Gems – Episode #11

আনিমে: Fune wo Amu (The Great Passage)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, জোসেই, ড্রামা
এপিসোড সংখ্যা: ১১
 
আজ আলোচনা করব একটি বাহুল্যবর্জিত ও ধীরলয়ের রিল্যাক্সিং আনিমে নিয়ে। গল্পের প্রধান চরিত্র মাজিমে – যে কিনা প্রথমে কাজ করত গেনবু পাবলিশিং কোম্পানির সেলসম্যান হিসাবে। কিন্তু কিছুটা অন্তর্মুখী প্রকৃতির হওয়ার কারণে সে এই কাজে সুবিধা করছিল না। মানুষের সাথে ভাবের আদান-প্রদানে দক্ষতা আনবার চেষ্টায় সে বেশি বেশি বই পড়ে, নতুন শব্দ শেখে, আর তার অর্থ জেনে রাখে। এখন ভাগ্যের ফেরে সে গেনবু কোম্পানির ডিকশনারি পাবলিশিং ডিপার্টমেন্টের একজনের চোখে পড়ে য়ায় এবং ওনার সুপারিশে ওখানে বদলি হয়। শেষমেষ এই ডিপার্টমেন্টে সে একদম তার মনের মতো কাজ পায়। এরপর এই ডিপার্টমেন্টের লোকজনদের নিয়ে নতুন একটি ডিকশনারি একদম শুরু থেকে বানানো নিয়েই কাহিনী এগোতে থাকে।
এই আনিমেটি বেশ সংক্ষিপ্ত পরিসরের হওয়ায় কোনরকম তাড়াহুড়ো নেই। আনিমেটি সবসময় টপিকের মধ্যেই থেকেছে। তার পরেও সংক্ষিপ্ত পরিসরে খুব সুন্দর একটি রোমান্স আছে, বেশ কিছু লাইফ লেসন আছে। মাজিমে ছাড়াও অন্যান্য চরিত্রগুলিকে একান্ত আপন বোধ হয়। ভিজুয়াল আর সাউন্ডট্র্যাক খুব ভালো, ওপেনিং আর এন্ডিং গানদুটোও ভালো।
এই আনিমের মতো এমন শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশের মধ্যেও মোটামুটি সিরিয়াস ও ম্যাচিওর থীম আমি পাইনি খুব একটা। তাই আমার অত্যন্ত প্রিয় এটি।
ধীরলয়ের রিল্যাক্সিং আনিমে দেখতে আপত্তি না থাকলে অবশ্যই এটি দেখবেন।