I Sold My Life For 10,000 Yen A Year / Three Days of Happiness [মাঙ্গা রিভিউ] — Md. Anik Hossain

I Sold My Life For 10,000 Yen A Year
/
Three Days of Happiness
_______________________________________
 
একটা মানুষের জীবনের দাম কত ? কীসের বিনিময়ে আপনার জীবনের একেকটা বছর বেঁচা যেতে পারে ? আপেক্ষিক একটা বিষয় হতে পারে । যত আনন্দদায়ক হবে একটি বছর , সেটির দাম হয়ত তত বেশী । আরেকটু স্পষ্ট করে জিজ্ঞাসা করলে, আপনার সেই একেকটা বছরের “টাকায়” মূল্য কত হতে পারে ? কল্পনা করুন আপনার অবশিষ্ট জীবনকাল বিক্রি করা সম্ভব । এমন একটা দোকান আছে যেখানে বছর হিসাব করে আপনি ইচ্ছামতো আপনার আয়ুষ্কাল বেঁচতে পারবেন নগদ অর্থের বিনিময়ে । জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ আপনি । সামান্য রুটি রুজি করতে হিমশিম খাচ্ছেন । অভাবের তাড়ণায় বই-পত্র , গানের ক্যাসেট সব বিক্রি করতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে । বাকি ভবিষ্যত্টা একেবারেই অন্ধকারাচ্ছন্ন । এই বাকি জীবনটা রেখে তবে লাভ কি ? এই অনিশ্চিত্ , লক্ষ্যহীন , অপদার্থ জীবনটার কয়েক বছর বিক্রি করে যদি কিছু টাকা পাওয়া যায় তাহলে খারাপ কি ? এমন ই ভাবনা থেকে কুসুনোকি নামক বিশ বছরের এক যুবক সন্ধান পায় এমন একটি দোকানের, যেখানে মানুষের আয়ুষ্কাল , সময় এবং স্বাস্থ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। যেখানে গিয়ে সে তার অবশিষ্ট জীবনের সবটাই বিক্রি করে দেয়, মাত্র ৩মাস বাদে । বছর প্রতি কয় টাকার বিনিময়ে জানেন ? মাত্র ১০ হাজার ইয়েনের বিনিময়ে । একইসময় সে তার অবশিষ্ট ৩ মাসে যেন কোন সমস্যা তৈরি না করে, সে জন্য দোকান থেকে পাঠানো হয় মিয়াগি নামের এক মেয়েকে । যে কিনা গ্রাহকের পর্যবেক্ষক হিসাবে সর্বদা তার পাশে থাকবে, সে যেখানেই যাক না কেন । এই ৩ মাসে কুসুনোকি নিজের জীবনের কতটুকু মূল্য ও আনন্দ খুঁজে পাবে, অতীত জীবনের ভুল ও অপ্রাপ্তিগুলো কতটা আবিষ্কার করতে পারবে এক সহচারীর উপস্থিতিতে, তা নিয়েই আবর্তিত হয় কাহিনী ।
মাত্র ১৮ চাপ্টারের এই চমত্কার পটভূমিতে তৈরি মাঙ্গাটি আপনাকে যেমন জীবনের মূল্য শেখাবে… তেমনি শেখাবে হাজারো অপ্রাপ্তি , নিরানন্দ উপেক্ষা করে অল্প, কিন্তু মনে রাখার মতো কিছু স্মৃতিকে জীবিকা করে সন্তোষজনক এক পরিণতি বরণ করতে।
সুন্দর পটভূমির আড়ালে কিছু সীমাবদ্ধতা মাঙ্গাটিতে দেখতে পেয়েছি । মাঝে মাঝে কাহিনীর গতিশীলতা হারিয়ে ফেলছিল । আর্ট খারাপ ছিল না মোটেও, তবে অমায়িক এই প্লটের তুলনায় একটু সাদামাটা লেগেছে । চরিত্রের পরিমাণ এমনিতেই অত্যন্ত কম, আবার মূল চরিত্র বাদে বাকি কারো অতীত নিয়ে সেভাবে কিছু দেখানো হয়নি । হয়ত আরেকটু ভালোভাবে তাদের অতীতগুলো তুলে ধরলে আরো ইমোশনাল বানানো যেত গল্পটা ।
তবে মোদ্দাকথা , প্রত্যেক কে বলব মাঙ্গাটি পড়ে দেখতে । অত্যন্ত আবেগপূর্ণ , চিন্তা জাগানিয়া সিরিজটি এক বসাতেই পড়ে ফেলতে পারবেন । হয়ত আমার মতো আপনারাও জীবনের সুখ দূঃখের সম্পর্কে অন্যরকম এক অর্থ খুঁজে পাবেন !?
 
(ব্যক্তিগত রেটিং):
* প্রেক্ষাপট: ৯.৫/১০
* গল্প: ৮/১০
* আর্ট: ৮/১০
* চরিত্রসমূহ: ৮.৫/১০
চূড়ান্তভাবে: ৯/১০
 

Monster [Review] — Naziur Rahman Nayem

Monster
Writer: Naoki Urasawa
Original Run: 7 April, 2004 – 28 September, 2005
Rating: 8.8/10
 
*Spoiler Alert
 
Tsugumi Ohba- এর Death Note এর পর Psychological-Mystery genre তে Naoki Urasawa-এর আরেকটা মাস্টারপিস হল এই “Monster” নামক এনিমে। এর এপিসোড মোট ৭৪ টা। যা “Death note”- এর তুলনায় দ্বিগুণ। এটা হল মিস্ট্রি সাইকো থ্রিলার জনরার এনিমে। এর জন্য এটা দেখা আরকী। ভাবলাম বহুত গভীর চিন্তা হইছে,,, এবার একটু বিনোদন নিয়ে আসি। তবে বিনোদন আর নেওয়া হইলো না। এটাতেও ডিপ ফিলোসফিকাল ব্যাপার স্যাপারের সম্মুখীন হতে হইল।
নাম শুনে মনে হতে পারে এটার মধ্যে সুপারন্যাচারাল ব্যাপার স্যাপার আছে। কিন্তু আদপে এর ভেতর তা নেই। এখানে কাহিনীকে যেভাবে টেনে নিয়ে যাওয়া হইছে ও যে চরিত্রগুলো যেভাবে দেখানো হইতে তা একদম বাস্তবভিত্তিক। তারপরও সাউন্ড ইফেক্ট ও এর স্লো পেসের জন্য এটা যেকোন হরর ও থ্রিলিং এনিমের থেকেও কম না। বাস্তবভিত্তিক হয়েও এটা আপনাকে যথেষ্ট থ্রিল প্রদান করবে। আর তার কারণ হলো এর প্লট ও কেন্দ্রীয় ভিলেন চরিত্রকে নিয়ে টুইস্ট।
এটি হল দুটি বিপরীত চরিত্রের ফিলোসফি নিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্বমূলক এনিমে। এই এনিমে নায়কের নাম থাকে হল ড. টেনমা যে কীনা একজন স্পেশালিষ্ট নিউরোসার্জন এবং যে ভিলেন তার নাম হল ইয়োহান লিবার্ট(যদিও এটা তার প্রকৃত নাম নয়!! এনিমে দেখলে ঘটনা বোঝা যাবে) এবং সে চরম এন্টাগনিষ্ট ও নিহিলিস্ট প্রকৃতির। অপরদিকে ড. টেনমা তিনি হলেন অপটিমিস্টিক ও জাস্টিস- এর প্রতীক।
কিন্তু ইনিই ঘটনাচক্রে একদিন যে হাসপাতালে তিনি কাজ করতেন সেখানে দুটো বাচ্চা ছেলে ও মেয়ে আহত হয়ে আসে। ছেলেটির মাথায় গুলি লাগে। আর এ চিকিৎসা ভার নায়কটি নেয়। যেহেতু তিনি বেশ দক্ষ সার্জন তিনি ছেলেটির সফলতার সাথে অপারেশন করেন।
কিন্তু বিপত্তী ঘটে পরবর্তীতে গিয়ে এ অপারেশন হবার কিছুদিন পর ছেলেটি হঠাৎ করে হাসপাতাল বেডের থেকে উধাও হয়ে যায় ও যে মেয়েটি ছিল সেও উধাও হয়ে যায়। সবাই সন্দেহ করতে থাকে এ হল খুনীর কাজ, খুনীই ছেলে ও মেয়েটিকে কিডন্যাপ করেছে।
এরপর রহস্যজনকভাবে হাসপাতালেরই ৩ জন মারা যায়। এসব কাহিনী ঘটার পর পুলিশী তদন্ত চলে এবং একজন দক্ষ গোয়ন্দা এ কেস সমাধানের দায়িত্ব নেয়। এ ঘটনায় গোয়েন্দাটির সন্দেহ গিয়ে পড়ে ড. টেনমার উপর। কেননা যে তিনজন মারা যায় তার ভেতর একজন হলেন হাসপাতালের ডিরেক্টর যিনি ড. টেনমাকে চক্রান্ত করে তার পদ থেকে ডিমোশন দিয়ে দেয়। আর এ ডিমোশনের কারণ হলো ঐ দুটি বাচ্চা ছেলে, মেয়েকে অপারেশনের সময় একজন মেয়রের অপারেশন করার জন্য ডিরেক্টর নির্দেশনা দিয়েছিলো।
এখন অন্যান্য ডাক্তারও ছিল কিন্তু নায়কের দক্ষতা মারাত্মক লেভেলের হওয়ায় এবং মেয়রের চিকিৎসা করলে হাসপাতালের রেপুটেশন বাড়বে ও ডোনেশন পাওয়া যাবে এটা ছিল ডিরেক্টরের হাবভাব। কিন্তু ড. টেনমা এটা বুঝতে পেরে এবং সে যেহেতু প্রথমে ঐই বাচ্চা দুটির কেসই হাতে পায় সে নির্দেশ অমান্য করে ঐ ছেলের অপারেশন করে। এর ফলে তার পদ থেকে তাকে ডিমোশন দেওয়া হয়। এতে ডাক্তার যে নতুন গবেষণা করছিলেন এটার সাহায্যও বন্ধও হয়ে যায়।
আর ডিরেক্টরের মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল, এটাও ভেঙ্গে যায়। সবমিলিয়ে প্রচন্ড ক্ষোভ আর হতাশা জন্মে ড. টেনমার মনে। এটাকেই গোয়েন্দা হত্যাকান্ডের মোটিভ হিসেবে ধরে নেন। কিন্তু তারপরও সুযোগ্য প্রমাণ ও খুনের সময় ডাক্তারের অন্য জায়গায় উপস্থিতির কারণে ব্যাপারটা প্রায় নয় বছর স্থগিত থাকে। আর এ নয়বছর পর তেমন খুনটুন আর হতে দেখা যায় না।
কিন্তু নয়বছর পর। ডিরেক্টর মারা যাবার পর নতুন ডিরেক্টর আসে ও ড. টেনমা তার পুরনো পদ আবার ফিরে পায়। সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চলছিলো, কিন্তু এরপরই আসে ঘটনার আসল টুইস্ট… হঠাৎ আরেকটা খুন হয় এবং সে খুনের সাক্ষী একজন চোর মারাত্মকভাবে আহত হয় ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে।
ড. টেনমা তাকে সুস্থ করে তোলার পর যেই চোরটি খুনীর বর্ণনা বলবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় ঠিক সেই রাতেই খুনীকে যে গার্ড নজরদারির মধ্যে রাখত সে মারা যায় ও চোরটি আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যায়। এরপর সেইসূত্র ধরে ড. টেনমাও চোরকে তাড়া করলে নয় বছরের সেই পুরনো স্মৃতি ফিরে আসে।
ভিলেনের সাথে তখন ডক্টরের মোলাকাত হয়। ভিলেনকে এত তাড়াতাড়ি দেখানো হবে এটা আমি আশা করিনি। তারপর ভিলেনটি বলে সে হল সেই বাচ্চা ছেলেটি যাকে টেনমা নয় বছর আগে অপারেশন করে বাঁচিয়েছিলো। এরপর যে খুনগুলো হয় এটা তারই করা। এরপর ড. টেনমার নৈতিকতা, ভ্যালু তাকে হন্টিং করা শুরু করে।
সে তো একজন ডাক্তার, মানুষ বাঁচানোই তার কাজ… কিন্তু তার বাঁচানো মানুষটাই আজ এসব ভয়ানক কাজ করছে। সে কী আসলেই ঠিক করেছে। তখন তার কাছে ভালো-খারাপের যে নৈতিকতা রয়েছে এই দ্বন্দ্ব এর যাতনায় সে প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। সে ভিলেনকে থামাবার চেষ্টা করে কিন্তু তার চোখের সামনে সে ঐ সাক্ষীকে খুন করে চলে যায়।
আর এরপরে ডক্টর হতাশ হয়ে গোয়েন্দাটিকে সমস্ত কথা বললে গোয়েন্দাটি তারপরও একে কাহিনী বলে সন্দেহ করতে থাকে ও মনে করতে থাকে ড. টেনমার নিশ্চয়ই দ্বৈত চরিত্র তথা ডাবল ক্যারেক্টার রয়েছে। সে সবার সামনে ভালো মানুষ কিন্তু যখন তার ক্যারেক্টার জেগে ওঠে তখন সে খুন করে ও আবার ভালো মানুষ হয়ে উঠে।
এরপর ডক্টর হাসপাতালের কাজ ছেড়ে দিয়ে ভিলেনকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে ও তাকে খুন করার কামনা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এতে পুলিশদের সন্দেহ বেড়ে গেলে ও তার এভাবে হঠাৎ উধাও হয়ে যাবার কারণে সে হয়ে যায় মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল।
এভাবেই অপরাধী হয়ে পালিয়ে বেড়িয়ে সেই ভিলেনকে খুঁজতে বেরিয়ে আরও ভয়ানক সব তথ্য বেরিয়ে আসে ও বেরিয়ে আসে গোপন অর্গানাইজেশনের কথা। ভিলেনের সম্বন্ধে মর্মান্তিক ও ভয়ানক সব তথ্য বের হতে থাকে। এবং এর সাথে আরও যুক্ত হতে থাকে অনেক চরিত্রের।
এ এনিমের মূল বিষয়ই হল ভিলেন। মানে ইয়োহানকে ঘিরে সমস্ত ঘটনা আবর্তিত হয়। আর এই চরিত্রকে এত সুন্দর করে চিত্রায়িত করা হয়েছে এটি আমাদের ভেতরকার শূন্যতা, একটা মানুষ যখন জীবনের অর্থ খুঁজে না পায় সে কিরূপ অসহায় হতে পারে ও শিশুমনে ভুল শিক্ষার কী পরিমাণ মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে তা আমাদেরে স্মরণ করিশে দিবে। ইয়োহান কে বলা যায় সে হল “Pessimistic nihilist” অর্থাৎ নেতিবাচক নৈরাশ্যবাদীর প্রতীক আর এর পেছনে রয়েছে তার অতীত জীবনের পারিপার্শ্বিক বিশাল প্রভাব যা ধীরে ধীরে এই চরিত্রটিকে গড়ে দেয়।
অপরদিকে ডক্টর এখানে আশাবাদী তার কথা হল একদিন না একদিন সুদিন আসবেই। সকল মানুষের জীবনের মূল্য সমান।
কিন্তু ইয়োহানের ধারণা হল মানুষ শূন্য,, এখানে মৃত্যু ছাড়া কিছুই নেই। তাই সবকিছু সে ধ্বংস করে দিতে চায় এমনকী নিজেকেও।
এভাবে পরস্পর দুটি ধারণা আমাদের এই এনিমের শেষে নিয়ে গিয়ে একটি গভীর বার্তা প্রদান করে যায়। নায়ক ও ভিলেন ছাড়াও এ এনিমে আরও যেকজন চরিত্র আছে তাদের নাম হলো – ডিটেক্টিভ লুংগে, এভা হাইনাম্যান, উলফ গ্রিমার, রবের্টো, নিনা, ডিটার, ফ্রান্স বোনাপার্টা ইত্যাদি ইত্যাদি। এর মধ্যে থেকে আমাদের পছন্দের চরিত্রটি হল উলফ গ্রিমার। আর সবচেয়ে অপছন্দ হয়েছে রবের্টো কে। ডিটেক্টিভ লুংগে প্রথম প্রথম ভালো না লাগলেও পরবর্তীতে যেয়ে ভালো লেগেছে। ভিলেনকেও ভালো লেগেছে তবে তার থেকে বেশী লেগেছে ভয়। এরকম ইমোশনলেস ভিলেন হলে তা খুবই স্বাভাবিক, আর কথা তো বলে না যেন ঠান্ডা ছুরি। সবমিলিয়ে অনবদ্য ছিল এই এনিমে টি।
সবশেষে বলা যায়, এই এনিমে পরবর্তীতে গিয়ে আমাদের শেখায় ভালো-খারাপের দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হতে গিয়ে একটা পর্যায়ে এক চরম শূন্যতার মুখোমুখি হতে হয়। আর তখন জীবনের জন্য কিছু ভ্যালু বা অর্থ (meaning) এর প্রয়োজন হয় যা চূড়ান্ত ভালোবাসা থেকে আসে, ক্ষমা থেকে আসে, সমস্ত দ্বন্দ্বের উর্ধ্বে থেকে আসে।
 

Aria [Anime Recommendation/Review] — Arijit Soumik

Aria
Seasons :
  1. Aria the Animation (1st season)
  2. Aria the Natural (2nd season)
  3. Aria the OVA: Arietta
  4. Aria the Origination (3rd season), and
  5. Aria the Avvenire (OVA series with 3 episodes)
Genre: Sci-fi, Slice of life, Fantasy
 
এনিমে দেখার পিছে অনেক কারন থাকতে পারে। কেউ দেখে টাইম পাস করার জন্য, কেউ দেখে নিজের সময়টাকে ভালোভাবে উপভোগ করার জন্য আবার কেউবা দেখে ক্লান্ত মনকে রিফ্রেশ করার জন্য। আর এই জন্য এক নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি আছে। একে Iyashikei or feel good/healing anime ও বলে। আর এই ধরনের এনিমেগুলোর মাঝে একটি হচ্ছে Aria.
 
Plot and setting:
অন্যান্য SoL/Iyashikei anime থেকে Aria এর বৈচিত্রময় আকর্ষন হচ্ছে এর সেটিং। Aria এর গল্পের শুরু আর আবর্তন মূলত Aqua নামের এক গ্রহে (যা কিনা mars এর নতুন নাম) Neo Venezia শহরে। এই Neo Venezia আবার ইতালির Venice এর অনুপ্রেরণায় নির্মিত। আর এই শহরের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে Water gondola guides যারা Prima Undine নামে পরিচিত। মিযুনাসি আকারি, Aria company এর এক apprentice যার স্বপ্ন prima undine হওয়ার। এই মনোরম শহরে তার ও তার বন্ধুদের জীবনযাত্রা কে কেন্দ্র করেই মূলত গল্প এগিয়ে যায়।
 
“A fateful encounter in life can lead to many miracles “ ~
এনিমেতে এটি খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। এছাড়াও জীবনে যেমন মোলাকাত আছে ঠিক তেমনি বিদায়ও আছে… তবে তা মেনেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এনিমে এই মেসেজটি অত্যন্ত নান্দনিক ভাবে দিয়েছে।
 
এনিমেটি প্রথমে কিছু ধীর মনে হতে পারে। তবে আমি বলবো এই ধীর গতি বরং এই এনিমের সাথে অত্যন্ত মানানসই। কারন এনিমেটিতে 1st season ছিলো মূলত character introduction আর Neo Venezia সম্পর্কে ধারনা দেওয়া। 2nd season ছিলো পুরো Aqua নিয়ে ধারনা দেয়া আর সাথে কিছু world building. আর এর ফল পাওয়া যায় 3rd season এ এসে। তার মানে এই না যে প্রথম দুই সিজনে কোন point of focus নেই। বরং এই দুই সিজনই গল্পের ভিত গড়ে দেয় আর 3rd সিজন একে আরো ডেভেলপ করে।
 
এনিমের art and animation আমার কাছে standard মনে হয়েছে। আহামরি কিছু না তবে এর যা purpose ছিলো তা ভালোভাবে fullfil করেছে মানে setting টা ভালোভাবে প্রকাশ করতে হেল্প করেছে। তবে যেদিকে এনিমেটি অসাধারণ সেটি হলো এর soundtrack. প্রতিটা গান এত্ত সুন্দর আর মনোমুগ্ধকর তা বলার মত না।
 
আর এনিমেটির প্রত্যেক ক্যারেকটার likeable and down to earth. Character interaction গুলো অত্যন্ত উপভোগ্য ছিলো। ক্যারেকটার গুলো কখন যে আপন হয়ে উঠবে বুঝতেও পারবেন না।
 
তবে voice acting এর কথা আলাদাভাবে না বললে VA দের প্রতি অসম্মান হবে। প্রত্যকে যে এনিমেটিকে নিয়ে কেয়ার করে তা তাদের ভয়েস এক্টিং শুনেই বুঝা যায়।
 
যাদের এই লকডাউনে আর কিছু ভালো লাগছে না বা যারা অনেক স্ট্রেসড আছেন তারা দেখে ফেলতে পারেন এই অসাধারণ এনিমে।
This one deserves more love to be honest.
 

এন্ডলেস এইট আর মেলানকলি অফ ইউকি নাগাতো — Fahim Bin Selim

[The Melancholy of Haruhi Suzumiya এবং The Disappearance of Haruhi Suzumiya স্পয়লার সতর্কতা]
 
1
“কিওন-কুন, দেনওয়া!”
“ইউওয়ারেনদেমো, ওয়াকাত্তেইরু।”
Endless Eight-এর প্রথম দৃশ্য।
 
হারুহির ফোন, কিন্তু কিওনের মনে হয় আগে থেকেই সে জানতো তা আসবে। কীভাবে? আবার সুইমিং পুলে যখন সবার সাথে দেখা হয় – হারুহি কিছু বলার আগেই শব্দগুলো চলতে থাকে মাথায়, যেন সেগুলো অনেকবার শোনা। দেজা-ভ্যুঁ! কোইযুমি কী বলতে নিয়ে বলে না? পানির ধারে একাকী বসে থাকা নাগাতোর চেহারায় কি রাজ্যের হতাশা ভর করা? না একঘেয়েমি? ক্যাফেতে হারুহি লিস্ট করতে বসে গ্রীষ্মের ছুটির বাকি দুই সপ্তাহে যা যা করা হবে – ঘুরঘুরে পোকা ধরার প্রতিযোগিতা, খন্ডকালীন চাকরি, আকাশ পর্যবেক্ষণ, বেসবল প্র্যাকটিস, আতশবাজি উৎসব, সাহসের পরীক্ষা, চলচ্চিত্র দেখতে যাওয়া, সমুদ্রে সাঁতার কাটা, বোওলিং আর ক্যারাওকে! আর কিছু? আসাহিনা বলে, তার গোল্ডফিশ স্কুপিং-এর খুব শখ। নতুন আরেকটা যোগ হলো তাহলে – কিনগিও-সুকুই, সাথে কোনো ও-বোন উৎসবও ঘুরা হয়ে যাবে তাহলে!
সবাই যখন বাড়ির পথে হাঁটা ধরে, কিওন আবার লক্ষ করে নাগাতোকে। পেছন থেকে ডেকে জিজ্ঞাস করে সব ঠিক আছে কিনা। অভিব্যক্তিহীন চেহারায় এক শব্দের জবাব, গেনকি। আসলেই কি? গত কয়েক মাস ধরে যা কিছু সে সয়ে গেছে – কিওনের ত্রাণকর্তা হয়ে বারবার আবির্ভাব হয়ে।
 
 
2
“কিওন-কুন, দেনওয়া!”
 
লাইট নভেল ভলিউম ১ পুরোটা, আর ৩, ৫, ৬ এর অংশবিশেষ নিয়ে, ভলিউম ১ এর নামানুসারেই ২০০৬ সালে The Melancholy of Haruhi Suzumiya টিভি অ্যানিমের প্রথম সিজন প্রচারিত হয়। হয়তো ভাবা হয়েছিলো এক সিজনেই শেষ হয়ে যাবে, তাই ৬ পর্বের প্রথম আর্কের পর বাকি ৮ পর্ব মোটামুটি খন্ড কাহিনী নিয়েই তৈরি। মোট ১৪ পর্ব। কিন্তু জনপ্রিয়তার কারণে ২০০৯ সালে আবার ফিরে আসে, দ্বিতীয় সিজন নিয়ে। গতানুগতিক ধারায় দ্বিতীয় সিজন অবশ্য ঠিক বলা যায় না। নতুন আরো ১৪টি পর্ব, কিন্তু আগের ১৪ পর্বের সাথে আগে-পরে মিল করে একসাথে প্রচার করা হয় টিভিতে। মূল উপন্যাসগুলোয় কালক্রম অনুসরণ না করা হলেও, এখানে তা করা হয় – বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত – হাইস্কুলের প্রথম বর্ষ। এপ্রিলে স্কুল শুরুর দিন থেকে নভেম্বর-শেষে যখন শীত জাঁকিয়ে বসা শুরু করছে।
আরেকটা বড় পরিবর্তন – ভলিউম ৫ The Rampage of Haruhi Suzumiya-’র মাত্র একটি চ্যাপ্টার যেখানে Endless Eight, সেখানে টিভি অ্যানিমেতে তা দেখানো হলো আসলেই ৮ পর্ব ধরে! সিরিজের সবচেয়ে বড় আর্ক! উপন্যাস সবগুলোই লেখা কিওনের বর্ণনায়, সেখানে এটা যুক্তিসম্মতই যে কিওন আটকে থাকা সময়চক্রের কেবল শেষবারের কথাই মনে করতে পারবে। আর তার গ্রীষ্মের ছুটির শেষ দুই সপ্তাহের বর্ণনাও তাই হবে কেবল একবারের। তাহলে ৮ পর্ব ধরে বারবার একই জিনিস দেখানোর কী অর্থ? এই ৮টি পর্বের কারণেই যেখানে এই অ্যানিমের এত কুখ্যাতি!
প্রথমত, অবশ্যই তা কম খরচে টেলিভিশনের বেশি এয়ারটাইম দখলের জন্য না। কারণ প্রত্যেকটি পর্বের কাহিনী এক হলেও, তার প্রত্যেকটি আলাদা করে অ্যানিমেট করা। শুধু প্রথম আর শেষ পর্ব বাদে(মিৎসুহিরো ইওনেদা) বাকি সব পর্বের পর্ব-পরিচালক আলাদা। কোন দুই পর্বের একই সীনের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকি প্রত্যেক পর্বের অ্যানিমেশন কিংবা ন্যারেটিভ স্টাইল একটা আরেকটার চেয়ে ভিন্ন। দ্বিতীয় পর্ব Endless Eight II যেমন আর বাকি সব পর্বের চেয়ে স্বতন্ত্র তার অতিউজ্জ্বল কালার কম্পোজিশনের জন্য, এই পর্বে আবার অনেক বেশি ফ্যানসার্ভিসও দেওয়া(পর্ব-পরিচালক তোমোয়ে আরাতানি)। তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় পঞ্চম পর্ব Endless Eight V, যার পর্ব-পরিচালক সিরিজের নির্মাতা নিজেই – তাৎসুইয়া ইশিহারা(Hibike, Clannad, Kanon, Nichijou, Air)। এই পর্বে কিছু কিছু জিনিস আলাদাভাবে দেখানো, যা আর বাকি কোন পর্বে হয় না। এটা শুধু এই আর্কই নয় পুরো সিরিজেরই অন্যতম সেরা পর্ব। আগষ্ট ৩১-এর রাতে সময় যখন ১২টার দিকে আগায় তখন একই সাথে ক্যামেরাটাও ঘুরতে থাকে; বিছানায় থাকা কিওন আর ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটাটার মধ্যে পর্যায়ক্রমে বদলাতে থাকে দৃশ্য, যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনটি কাটা মিলিত হয় একসাথে – সিরিজের অন্যতম সেরা দৃশ্যও এই পর্বে!
দ্বিতীয়ত,…
 
3
“কিওন-কুন, দেনওয়া!”
 
হারুহির ফোনে সকাল সকাল কিওনের ঘুম ভাঙ্গে। ও-বোন উৎসবে সবাই মিলে ইউকাতা পরে না গেলে গ্রীষ্মের ছুটি পূর্ণ হবে কী করে! হারুহি আর আসাহিনা গোল্ডফিশ স্কুপিং-এ যায়। কিওন ইউকিকে প্রথমে খাবার কিনে দিতে চায়, পরে আবার ইউকি মুখোশ কিনতে গেলে, তার টাকা দিতে চায়। ইউকি দুবারই না করে দেয়, ইই। দোকান থেকে আলট্রাম্যান-এর একটা মুখোশ কিনে নেয় ইউকি। আলট্রাম্যান – যে মানুষের দেহে স্থান নেওয়া প্রযুক্তিগত অত্যুন্নত ভিনগ্রহবাসী! আর কার মত যেন?
আতশবাজি ফাটানোর সময় কিওন প্রথম অযাচিত প্রসঙ্গটা তুলে। ছুটিতে মজা করে বেড়ানো ভালো, হ্যাঁ, কিন্তু এত যে বাড়ির কাজ বাকি তা কবে শেষ করবে সবাই! হারুহি জানায় সে তো তার গুলো আগেই শেষ করে ফেলেছে। কিন্তু বাকিদের কী হবে? পরদিন সারাদিন লাগিয়ে ঘুরঘুরে পোকাগুলো বাক্সে ধরে আবার দিনশেষে ছেড়ে দেওয়ার সময় কিওনের নিজেকে প্যান্ডোরা বলে মনে হয়। কিন্তু বাক্সটা সে তো খুলেছে আগেরদিন রাতেই।
 
 
4
“কিওন-কুন, দেনওয়া!”
 
২০০৬ আর ২০০৯ দু্টো সিরিজেরই শেষ পর্ব Someday in the Rain. নভেম্বর-শেষের কোনো এক দিন। কিওনের বাজারে যাওয়া প্রয়োজন। ঢালটা বেয়ে নামতে হবে, তারপর ট্রেনে আসা-যাওয়া, আবার ঢালটা বেয়ে উঠতে হবে। এই শীতল দিনে! হারুহির বাকপটুতার খাতিরে দোকান থেকে পটিয়ে পাওয়া বিনামূল্যের একটা হিটার নিয়ে আসার জন্য। আর নাগাতো বই পড়ে একা দিনটা কাটায় ক্লাবঘরে, যখন বাকি তিনজন ব্যস্ত আসাহিনার ফটোশ্যুট নিয়ে। বৃষ্টি পড়ার সম্ভাবনা ১০%। কিন্তু ফেরার পথেই তার শিকার হয় কিওন। ক্লান্ত আর কিছুটা কি বিরক্ত কিওন ক্লাবঘরে এসে ঘুমিয়ে পড়ে। সাথে উপস্থিত একমাত্র নাগাতো।
 
 
5
কিওন-কুন, দেনওয়া!
 
আসাহিনার ফোনে মধ্যরাতে ঘুম ভাঙ্গে কিওনের। মস্ত গোলযোগ! ভবিষ্যতে আর ফেরত যাওয়া যাচ্ছে না। আসলে ভবিষ্যতে বলেই তো আর কিছু নেই, যেখানে সময় এক চক্রের মধ্যে আটকে আছে। কোইজুমি ব্যখ্যা করে কিওনকে:
– We are currently looping through the same period of time over and over again.
– What?
– We are currently looping through the same period of time over and over again.
-…
– We are currently looping- (Endless Eight III, পর্ব-পরিচালক ইয়োশি কিগামি)
নির্দিষ্ট করে বললে আগষ্ট ১৭ থেকে আগষ্ট ৩১। গ্রীষ্মে ছুটির শেষ দুই সপ্তাহ। একই ১৪ দিন। বারবার। এর কারণেই তো বারবার দেজা-ভ্যুঁর অনুভূতি হচ্ছিলো! আগের চক্রগুলোর অবশিষ্ট স্মৃতি। বাকিদের স্মৃতি বারবার পুনর্লিখিত হলেও একজন কিন্তু প্রত্যেকটি ১৪ দিন একইভাবে মনে রেখেছে, স্থান-কালের বাধা থেকে যে মুক্ত।
কতবার এই চক্রর ভেতর দিয়ে গেছে নাগাতো?
১৫,৪৯৮ বার।
১৫,৪৯৯ বার।
১৫,৫১৩ বার।
১৫,৫২১ বার।
১৫,৫২৪ বার।
১৫,৫২৭ বার।
১৫,৫৩২ বার।
পেছনে দায়টা কার?
কোইযুমি জানায়, হারুহি।
 
 
6
“কিওন-কুন, দেনওয়া!”
 
২০১০-এর মুক্তি পেল ভলিউম ৪ নিয়ে পুরো একটা মুভি The Disappearance of Haruhi Suzumiya, ২ ঘন্টা ৪২ মিনিট, মোটামুটি হিসেব করলে ৮ টিভি পর্বের সমান!
এসওএস ব্রিগেডের বড়দিনের পার্টির ঠিক এক সপ্তাহ আগে, ১৮ আগষ্ট সকাল। কিওন ঘুম থেকে উঠে আবিষ্কার করে পুরো জগৎটা পালটে গেছে। হারুহি এখন আর তার স্কুলে পড়ে না, কোইযুমিও। আসাহিনা কেবলই উপর ক্লাসের একজন সিনিয়র। নাগাতো, লিটারেচার ক্লাবের একমাত্র সদস্য। কেউ এসপার না, টাইম ট্রাভেলার না, ইন্টেগ্রেটেড ডেটা এনটিটির ইনটারফেস না! সাধারণ মানুষ। কিওনের সাধারণ, চাঞ্চল্যহীন জীবনে।
প্রথম পর্বে ক্লাস শুরুর আগে কিওনের মনোলোগে যখন শোনা যায় – “Deep in my heart, I wished that aliens, time travelers, ghost, demons, espers or evil organizations might pop up in front of me. But reality is rather cruel.”, সেই বাস্তবতা ৯ মাস পর এসে নির্মমতার রূপ ধরলো? সেই সাদাকালো প্রোলোগের দৃশ্য, যা হঠাৎ করেই রঙিন হয়ে যায় যখন হারুহি ঘোষণা দেয়, “…Haruhi Suzumiya. I have no interest in ordinary humans. If there are any aliens, time travelers, sliders, or espers, come join me.”
হারুহির অগোচরেই যে এতদিন আসাকুরা এসে খুন করার চেষ্টা করলো কিওনকে, একের পর এক তৈরী হল ক্লোজড স্পেস, তারপর সময়চক্র; বেসবল ব্যাট থেকে ছুটলো হোমরানের ফোয়ারা, শরৎকালে সাকুরা গাছে ফুলে ভরে গেলো, লাল পায়রারা সাদা বেশ ধরলো, আসাহিনার লেন্স থেকে লেজার এসে আঘাত করতে নিলো কিওনকে। জগত ধ্বংসের কাছাকাছি চলে গেলো কয়েকবার।
এতদিন পর এসে কি কিওন হারুহির অত্যাচারে ক্লান্ত, বিরক্ত?
 
 
7
“কিওন-কুন, দেনওয়া!”
 
আকাশ পর্যবেক্ষণের রাত। নাগাতোর এপার্ট্মেন্টের ছাদে। কোইজুমির নিয়ে আসা টেলিস্কোপ। হারুহি বলে, এর চেয়ে ইউএফও খুঁজে বের করা মজার। কিওনকে জিজ্ঞেস করে সে ভিনগ্রহবাসীতে বিশ্বাস করে কিনা। নাগাতোর চোখ রাখা টেলিস্কোপে। বেসবল প্র্যাকটিস কিংবা সাহস পরীক্ষার সময়(Endless Eight V) কিওন ইউকিকে জিজ্ঞেস করে, সে কেন সময়চক্রের কথা আগে থেকেই তাদের বলেনি। নাগাতো জানায় অংশগ্রহণ করা তার কাজ না, সে কেবল একজন দর্শক।
কিন্তু আসাকুরার আক্রমণ, আসাহিনার লেজাররশ্মি, ক্লোজড স্পেসে ঝিঁঝিঁ পোকার আক্রমণ, কিংবা হারুহির সাথে আটকে পড়ার সময় কম্পিউটারে দিয়ে দেওয়া হিন্ট – বারবারই তো হস্তক্ষেপ করেছে ইউকি! আবির্ভাব হয়েছে ত্রানকর্তা হিসেবে! কিওনের।
বারবার চক্রে আটকে থেকেও তা মেনে নিয়েছে, কিওনের হোমওয়ার্ক যে এখনো করা হয়নি! নাগাতোর থাকার কথা ছিলো নীরব দর্শক। নিরপেক্ষ, অনুভূতিশূন্য। কিন্তু ইন্টেগ্রেটেড ডেটা এন্টিটির তৈরি হিউম্যানয়েড ইন্টারফেসেরও অনুভূতি জন্মাতে শুরু করলো।
 
 
“কিওন-কুন, আসাদায়ো, ওকিতে!”
 
…দ্বিতীয়ত, Endless Eight আর Disappearance-এর সমাপ্তীর সম্পূর্ণ গভীরতা উপলব্ধির জন্য Endless Eight-এর আটটি পর্বের মধ্যে দিয়ে যাওয়া এক রাইট অফ প্যাসেজ। Disappearance-এর কিওনের মনোলোগের মাঝে নিজের মাথায় পা রাখার দৃশ্যটা যেখানে পুরো সিরিজের সবচেয়ে আইকনিক দৃশ্য হিসেবে ধরা হয়, তখন আরো দুটো দৃশ্যের কথা ভুলে যাওয়া রীতিমত অপরাধই।
Endless Eight-এর শেষ পর্বের অবশেষে ক্যাফেতে বসে কিওন শেষবারের মত যখন চিন্তা করে আর কী করা বাকি আছে, তখন আগের ১৫,৪৩১ পুনরাবৃত্তির স্মৃতি তার মাথায় এসে হানা দেয়, আমাদেরও, অন্তত আগের ৭ বারের, হানাবি, সমুদ্রের ডাক, তারাভরা আকাশ, আর হাতে ফেরত আসা ঘুরঘুরে পোকা; ৭০ সেকেন্ডের মনোলোগের পর কিওনের ঘোষনা, “I HAVEN’T FINISHED MY HOMEWORK YET.”
প্যান্ডোরার বাক্স বন্ধ হলো। কিন্তু তার সবটুকুর জন্যই তো Endless Eight পার করে আসা দরকার ছিলো।
Disappearance-এর শুরুর কারণটা বুঝার জন্যও। এক আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের অনুভূতি জন্মানোর জন্য কী প্রয়োজন? এতদিন পর এসে হারুহির অত্যাচারে ক্লান্ত, বিরক্ত হওয়ার জন্য? তাকে বিষাদ গ্রাস করার জন্য? নীরব দর্শক থেকে সম্পূর্ণ জগতটাই পালটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত অবস্থায় পৌছানোর জন্য? এর চেয়ে বেশি অংশগ্রহণ তো আর সম্ভবও না!
আসাকুরা, আসাহিনা কিংবা ঝিঁঝিঁপোকার আক্রমণ, সবকিছুই অনুঘটক কিন্তু তার চেয়েও বেশি ১৫,৪৩২ বারের সময়চক্রে আটকে থাকা; ১৫,৪৩২ বার, ২ সপ্তাহ করে, ২১৭,৪৪৮ দিন, ৭,১৪৮ মাস…প্রায় ৫৯৫ বছর। হারুহি কিংবা কিওনের খেয়ালের কারণে। হাসপাতালের ছাদে কিওন আর নাগাতো…ইউকির কথোপকথনের সময় তো কেবল আগের আড়াই ঘন্টার কাহিনীই না, Endless Eight-এর প্রতিটি মুহূর্ত তুষারপাতের মত এসে স্মৃতিতে জমা হয়। এত কিছুর পর এবার Great Goddess ইউকিরই তো এক ত্রানকর্তার দরকার ছিলো। আর কিছু না হোক, কেবল একটি কথা বললেই হবে-
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #31

আনিমে: Kareshi Kanojo no Jijou (Kare Kano, His and Her Circumstances)

জানরা: শৌজো, রোমান্স, কমেডি, স্কুল, স্লাইস অফ লাইফ
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/145/Kareshi_Kanojo_no_Jijou
 
 
গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হল হাইস্কুলের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ইউকিনো মিয়াযাওয়া। একদম ছোটবেলা থেকেই ওর শখ হল সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা আর সবার প্রশংসা কুড়ানো। এর জন্য সে দিনরাত খেটে একই সাথে লেখাপড়া ও সিলেবাসের বাইরে অন্যান্য কাজে নিজেকে গড়ে তুলেছে। সে স্কুলের সবার সামনে একজন আদর্শ ছাত্রীর ইমেজ রক্ষা করে চলে, আর বাসায় আসলে তা ঝেড়ে ফেলে। তো এইসময় হঠাত করে ওর সামনে উপস্থিত হয় আরেকজন “আদর্শ ছাত্র” আরিমা সৌইচিরৌ। আরিমার কাছে পরীক্ষায় প্রথম স্থান হারিয়ে ইউকিনো রেগেমেগে আরও বেশি করে পড়াশুনো করতে থাকে ও পরের পরীক্ষায় ঠিকই প্রথম স্থান দখল করে। কিন্তু তার প্রত্যাশার বিপরীতে আরিমা হাসিমুখে তাকে অভিনন্দন জানায়। এভাবেই ইউকিনোর কাছে আরিমা বেশ কৌতূহলের বস্তু হয়ে ওঠে। কিছু সময় পর ঘটে আরেকটি ঘটনা – আরিমা ইউকিনোর কাছে কনফেস করে বসে! আবার ইউকিনোর অসাবধানতায় আরিমা ওর আসল রুপটিরও সন্ধান পেয়ে যায়। এরপর ইউকিনো কী করবে? আরিমা আর ইউকিনোর মধ্যে কি ট্যালেন্ট ছাড়াও আরও অনেক দিক দিয়ে মিল আছে? ইউকিনো কি পারবে নিজেকে বদলাতে?
 
গল্পটি প্রচলিত রমকম গুলির চাইতে একদম আলাদা। ঐ বয়সে প্রেমে পড়লে একটি মেয়ে বা ছেলের মধ্যে মানসিক দিক দিয়ে যা যা চলে, তা নিখুঁতভাবে ও সাহসিকতার সাথে ফুটে উঠেছে। খুব ভালো কিছু সংলাপ, নিপুণ চরিত্রায়ন, বাস্তবসম্মত লেখনী, দারুণ পেসিং, ও দারুণ সব সাইড ক্যারাকটার আর্ক এই আনিমেটিকে রমকম হিসেবে (প্রায়) পূর্ণতা দিয়েছে। দারুণ এন্ডিং গান, খুব সুন্দর ওএসটির ব্যবহার ও অনন্য উপস্থাপনা আনিমেটিকে প্রানবন্ত করে তুলেছে। আর অবশ্যই এর পিছনে কিছুটা হলেও বিখ্যাত পরিচালক হিদেয়াকি আন্নোর (ইভাঞ্জেলিওন) অবদান আছে।
 
আনিমেটির কম রেটিং-এর প্রধান (নাকি একমাত্র?) কারণ হল- আনিমেটিতে খুব বেশি পরিমাণে রিক্যাপ এপিসোড, ফিলার, ও উদ্ভট কিছু জিনিসপাতি আছে। আর মাঝপথে আনিমেটি শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এইসব ত্রুটি সত্ত্বেও অসাধারণ, অ-সা-ধা-রণ এই আনিমেটি সব্বাই দেখবেন কিন্তু। আর সামনের ঘটনা জানতে মাঙ্গা তো আছেই।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #30

আনিমে: Wangan Midnight

জানরা: একশন, মোটরস্পোর্টস, সেইনেন
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/2608/Wangan_Midnight
 
হাইস্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্র আসাকুরা আকিওর গাড়ির দিকে খুব ঝোঁক। পড়াশুনায় মন না দিয়ে সারাদিন পার্ট টাইম কাজ করে ওর গাড়ির পিছনে খরচ করে, আর রাতের বেলায় শহরের ওয়ানগান নামের হাইওয়েতে হাই স্পিডে গাড়ি চালিয়ে বেড়ায়। গতির নেশায় উন্মত্ত আকিওর লক্ষ্য হল তার চাইতেও ফাস্ট ড্রাইভার, ওয়ানগানের সম্রাটখ্যাত শিমা তাতসুইয়াকে রেসিং এ হারানো। তো একদিন হঠাত সে খবর পায় যে, একটা স্যাল্ভেজ ইয়ার্ডে একটা Nissan S30Z Fairlady গাড়ি পড়ে আছে। সে গাড়িটা দেখতে যায়। প্রথম দেখাতেই ওর গাড়িটাকে ভালো লেগে যায়। গাড়িটার আবার নাকি পুরান ইতিহাস আছে। এর আগে বেশ কয়েকজন ড্রাইভার গাড়িটা চালাতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করেছে, কিন্তু গাড়ির তেমন ক্ষতি হয়নি। এজন্য গাড়িটার নাম হয়ে গিয়েছে “শয়তান Z”। কিন্তু গাড়িটা চালিয়েই আকিও নির্দ্বিধায় সেটা কিনে ফেলে। এখন ও কি পারবে গাড়িটার বদনাম ঘোচাতে? সে কি পারবে ওয়ানগানের সম্রাট হতে?
 
এই আনিমের সাথে Initial D এর অনেক সাদৃশ্য থাকায় অনিচ্ছাসত্তেও তুলনা এসে পড়ে। ঐ আনিমের মত এটাতেও গাড়ীগুলোকেই আকর্ষণীয় করে দেখান হয়েছে। ক্যারাকটার ডিজাইনগুলো কেমন কেমন। ভিজুয়ালও তেমন আহামরি কিছু না। তবে গল্প বেশ জমাটি। গল্পের স্পিড ভালো, বেশ ভালো রাইভালরি আছে। ধুম ধারাক্কা ওএসটি আছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল – Initial D তে ড্রাইভারের টেকনিকের উপর ফোকাসটা যেমন বেশি, এইটাতে গাড়ির Specification আর টিউনিং এর উপর ফোকাসটা ততই বেশি। আর প্রফেসনাল রেসিং এর জগতে এইটাই আসলে বেশি বাস্তবসম্মত। এতে একই সাথে রেসিং আনিমে হিসাবে এর মান যেমন বেড়েছে, তেমনি আনিমেটার টার্গেট অডিয়েন্স ও বোধহয় কিছুটা কমে গিয়েছে। কারন গাড়ি নিয়ে আগ্রহ না থাকলে এই আনিমে অত একটা বোধহয় উপভোগ করা যায় না।
 
এই টাইপের আনিমেতে আগ্রহী যারা, তারা রেসিং নিয়ে বানানো অন্যতম সেরা এই আনিমেটি চেখে দেখতে পারেন।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #29

আনিমে: 𝘠𝘰𝘮𝘪𝘨𝘢𝘦𝘳𝘶 𝘚𝘰𝘳𝘢: 𝘙𝘦𝘴𝘤𝘶𝘦 𝘞𝘪𝘯𝘨𝘴

জানরা: মিলিটারি, ড্রামা, সেইনেন, স্লাইস অফ লাইফ
এপিসোড সংখ্যা: ১২ + ১
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/798/Yomigaeru_Sora__Rescue_Wings
 
“ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন” – আপনি কী এই প্রচলিত কথাটিতে বিশ্বাসী? আপনি কী রিয়ালিস্টিক আনিমের আশায় বসে থাকেন, যেগুলোতে চরিত্রদের জীবন-মরণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আর কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়? জীবনের কঠোর বাস্তবতার সাথে পরিচয় করানোর মত আনিমেগুলি কী আপনার পছন্দের? তাইলে এটি এমন একটি আনিমে, যা আপনি একেবারে কোনভাবেই মিস করতে পারবেন না!
 
জাপানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (জে এস ডি এফ) এয়ার রেস্কিউ বিভাগের কার্যকলাপ নিয়ে এই আনিমের গল্প। গল্পের মূল চরিত্র কাযুহিরো উচিদার শৈশব স্বপ্ন ছিল ফাইটার পাইলট হবার (শিশুকালের বেশ কমন কিছু লক্ষ্যগুলির একটি, তাইনা?)। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে রেস্কিউ বিভাগের হেলিকপ্টার চালকের কাজ নিয়েই সন্তুষ্ট হতে হয়। সে বেশ অখুশিমনে সেখানে জয়েন করে। কিন্তু অচিরেই নিজের কাজের মর্যাদা সম্পর্কে তার ধারনা পালটে যায়। কাকে রেখে কাকে বাঁচাই – এই ধরণের কঠোর কিছু সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয় সে। আর ধীরে ধীরে একজন দায়িত্বশীল যুবক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলে সে।
 
আনিমেটির আর্ট, সাঊন্ড, আর এনিমেশন – সবই এর অসাধারন গল্পের মর্যাদা রাখতে পেরেছে। এয়ারক্রাফটগুলি ডিজাইন করতে সিজিয়াই ব্যবহার করা হলেও কোয়ালিটি বেশ ভাল।
 
মিলিটারি কথাটা শুনলে আমাদের মানসপটে সচরাচর সশস্ত্র যুদ্ধের ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা ছাড়াও সেনাবাহিনীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল দুর্যোগে বা কোন অন্য বিপদ থেকে মানুষকে উদ্ধার করা। তুলনামূলক লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই বিষয়টি উঠে এসেছে এই আনিমেটিতে।
 
একটি স্লাইস অফ লাইফ আনিমে যে কত ভাল মানের হতে পারে – এই আনিমেটি তার একটি সুন্দর উদাহরণ। তাই এই তুলনামূলক ছোট্ট আনিমেটি ট্রাই করে দেখতে পারেন।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #28

আনিমে: 𝘝𝘦𝘳𝘴𝘢𝘪𝘭𝘭𝘦𝘴 𝘯𝘰 𝘉𝘢𝘳𝘢 (𝘛𝘩𝘦 𝘙𝘰𝘴𝘦 𝘰𝘧 𝘝𝘦𝘳𝘴𝘢𝘪𝘭𝘭𝘦𝘴)

জানরা: শৌজো, ড্রামা, হিস্টোরিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ৪০
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/338/Versailles_no_Bara
 
ফ্রান্স, ১৭৫৫ সাল। রাজা ও রানির রক্ষীবাহিনীর প্রধানের ঘরে জন্ম নিল ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান। কিন্তু কন্যা হওয়ায় অসন্তুষ্ট বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন, একে ছেলের মত মানুষ করবেন। তাই ওর নাম দিলেন অস্কার। অস্কার নিজেও ছেলেদের মত পোশাক পরে, আর অসিচালনায় পারদর্শী হয়ে ওঠে। এভাবে কেটে যায় ১৪টি বছর। দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটে গল্পের দ্বিতীয় মূল চরিত্রের – অস্ট্রিয়ার রাজকুমারী ও ফ্রান্সের যুবরাজের হবুপত্নী ম্যারী আঁতোয়ানেতের। অস্কারের অসিচালনার কথা শুনে ফ্রান্সের রাজা ওকে আঁতোয়ানেতের দেহরক্ষী হিসেবে নিযুক্ত করেন। দুই জগতের দুই কিশোরী এভাবেই একে অপরের কথা জানতে পায়, ও তাদের জীবনটাই বদলে যায়। তারপর কাহিনী এগুতে থাকে আর মাত্র বিশ বছর পর ঘটা ফরাসি বিদ্রোহের দিকে।
 
বেশ পুরনো এই আনিমেটি খুব যত্নের সাথে বানানো হয়েছে। ভিজুয়াল আর ক্যারেক্টার ডিজাইন তখনকার শৌজো আনিমের মত, বেশ ভাল লেগে যায়। সুন্দর মিউজিকের ব্যবহার আছে। ওপেনিং গানটা ভাল। কাহিনী বেশ হৃদয়বিদারক গোছের। তবে এর ঐতিহাসিক দিকটাই সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য। আনিমেটিতে তৎকালীন ইউরোপের অভিজাত সমাজ, রাজপরিবার, ও সাধারণ সমাজের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আনিমেটি দেখে ম্যারী আঁতোয়ানেত সম্পর্কে প্রচলিত ধারনায় কিছু পরিবর্তন ঘটা অস্বাভাবিক কিছু হবে না।
 
একটি হিস্টোরিকাল ক্লাসিক আনিমের স্বাদ পেতে চাইলে ট্রাই করে দেখুন না।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #27

আনিমে: 𝓡𝓸𝓶𝓮𝓸 𝓷𝓸 𝓐𝓸𝓲 𝓢𝓸𝓻𝓪 (𝓡𝓸𝓶𝓮𝓸’𝓼 𝓑𝓵𝓾𝓮 𝓢𝓴𝓲𝓮𝓼, 𝓡𝓸𝓶𝓮𝓸 𝓪𝓷𝓭 𝓽𝓱𝓮 𝓑𝓵𝓪𝓬𝓴 𝓑𝓻𝓸𝓽𝓱𝓮𝓻𝓼)

জানরা: এডভেঞ্চার, স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, হিস্টোরিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ৩৩
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/2559/Romeo_no_Aoi_Sora
 
আনিমেটি বিখ্যাত সুইডিশ উপন্যাস “Die schwarzen Brüder (“The Black Brothers)” এর আলোকে বানানো হয়েছে। গল্পটি ঊনিশ শতকের, স্থান হচ্ছে ইতালির সীমান্তবর্তী সুইজারল্যান্ডের ছোট একটি গ্রাম। সেই গ্রামে বাবা, মা, ও ছোট দুইটি ভাইকে নিয়ে থাকত দশ বছরের ছেলে রোমিও। অভাব-অনটন ও ধারদেনার সংসারে রোমিও নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করত বাবা-মাকে সাহায্য করে ওদের সবার মুখে হাসি ফোটাতে। কিন্তু একদিন তাদের গ্রামে যমদূতের মত ও শয়তানি বুদ্ধিতে ভরা এক দাসব্যবসায়ীর আগমন হল। লোকটার চক্রান্তে রোমিও অর্থের বিনিময়ে তার সাথে ইতালির মিলান শহরে চিমনি পরিষ্কারকের কাজ করতে যেতে বাধ্য হল। পথে সে পেল তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বন্ধু আলফ্রেডোকে। মিলানে গিয়ে নানা লোকের অত্যাচার যেমন তাকে সইতে হল, তেমনি জুটে গেল তারই মত চিমনি পরিষ্কারক কিছু বন্ধু। তাদের সাথে রোমিও তার এক নতুন জীবন শুরু করল।
 
আনিমেটি জুড়ে একটি শান্ত, সুন্দর স্নিগ্ধতা আছে। আনিমেটি ধীরগতির, ওএসটিগুলি বেশ ভাল। হিস্টোরিকাল আনিমে হিসেবেও বেশ সার্থক এটি; তৎকালীন ইউরোপের একটি স্পষ্ট খন্ডচিত্র পাওয়া যায়। তবে গল্পের আবেগঘন দিকটাই যেন সবচেয়ে বেশি মনে থাকে ও মনে গাঁথে। আনিমেটিতে হাসি-খুশির কিছু মোমেন্ট থাকলেও মূলত এটি বেশ দুঃখের কাহিনী। আপনার চোখে পানি আসাটা অস্বাভাবিক কিছু হবে না।
 
পুরনো ভিজুয়ালে ও বিয়োগাত্মক কাহিনীতে আপত্তি না থাকলে দেখে ফেলুন।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #26

আনিমে: 𝘖𝘵𝘰𝘯𝘢 𝘑𝘰𝘴𝘩𝘪 𝘯𝘰 𝘈𝘯𝘪𝘮𝘦 𝘛𝘪𝘮𝘦

জানরা: জোসেই, স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, রোমান্স
এপিসোড সংখ্যা:
MAL লিঙ্ক:  https://myanimelist.net/anime/10178/Otona_Joshi_no_Anime_Time
 
আনিমেটির প্রতিটি এপিসোড হল একটি করে ছোটগল্পের এডাপটেসন। প্রতিটি গল্পই পুরস্কারপ্রাপ্ত। একেকটির থিম একেকরকম হলেও প্রতিটি গল্পেরই কেন্দ্রে থাকে একেকজন প্রাপ্তবয়স্কা নারী। ওদের জীবনের কিছু সুখ-দুঃখের ও রোমান্টিক মুহূর্তের কথা অত্যন্ত নিপুণতার সাথে বলা হয়। আনিমেটির ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত বাস্তব; মনে হবে যেন কোন উঁচুমানের টিভি ড্রামা দেখছেন।
 
আনিমেটির ভিজুয়াল মোটামুটি। এছাড়া সবকিছুই অসাধারণ। মিউজিকের ব্যবহার অতুলনীয়, আমার দেখা অন্যতম সেরা। চরিত্রগুলি একেকটি যেন বাস্তব জীবন থেকে উঠে এসেছে। ওদের হাসি-কান্নার মুহূর্তগুলি দর্শকের মনে সহজেই নানা অনুভূতির সঞ্চার করে। আর প্রধান চরিত্রের স্বগতোক্তিগুলি (monologue) খেয়াল করবেন, নিশ্চয়ই আপনার মনে দাগ কাটবে।
 
একেবারেই ছোট সাইজের জিনিস। দেখেই ফেলুন না। পস্তাবেন না।