Sakib’s Hidden Gems – Episode #20

আনিমে: Capeta

জানরা: শৌনেন, মোটরস্পোর্টস
এপিসোড সংখ্যা: ৫২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/388/Capeta
 
গল্পের মূল চরিত্র দশ বছর বয়সের মা-মরা ছেলে তাইরা কাপেতা। বাবাকে নিয়ে থাকা কাপেতা এই কচি বয়সেই টুকটাক ঘরের কাজ করে বাবাকে সাহায্য করে। ওর বাবা কন্সট্রাকশন ওয়ার্কার, দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করায় কাপেতাকে খুব একটা সময় দিতে পারেন না। তাই তিনি চান ছেলেকে কিছু একটা উপহার দিয়ে ওর মুখে সত্যিকারের হাসি ফোটাতে। তো একদম পিচ্চি থাকতেই গাড়ি নিয়ে কাপেতার খুব আগ্রহ ছিল। তা লক্ষ্য করে ওর বাবা ওকে একটা পুরনো গো-কার্ট মেরামত করে মোটামুটি চালানোর উপযোগী করে উপহার দেন। সেটা পেয়ে কাপেতা অতি উৎসাহের সাথে চালানো শুরু করে। গল্পের শুরুটা এভাবেই, একদম রুট লেভেল থেকে। তারপরে কাপেতা ধীরে ধীরে প্রফেশনাল রেসিং ক্যারিয়ার গঠনে আরও বহুদূর এগিয়ে যায়। অবশেষে সে একজন রেসারের কাঙ্খিত স্বপ্ন – ফর্মুলা ওয়ান টুর্নামেন্ট পর্যন্ত যায়।
 
এই জানরার অন্যান্য কিছু রেসিং আনিমের থেকে আনিমে কাপেতাকে আলাদা রাখব এটার সিমপ্লিসিটির জন্য। এটা পূর্ণরূপে উপভোগ করতে আপনার গাড়ি সম্পর্কে অতটা জ্ঞান বা উৎসাহ না থাকলেও চলে। গল্পটি বেশ ইমোশনাল, কাপেতার সুখদুঃখের মুহূর্তগুলি আর ওর বেড়ে ওঠা দর্শকের মনে দাগ কাটে। আর একদম শুন্য থেকে একজন সফল রেসার হয়ে ওঠার ধাপগুলি এই আনিমেতে বেশ যত্নসহকারে দেখিয়েছে।
 
আনিমেটির ভিজুয়াল আর এনিমেশন মোটামুটি, রেসিং আনিমেগুলিতে এটাই কমন আসলে। তবে জমাটি গল্প আছে, দারুণ একটি রাইভালরি আছে, আর রেসিং-এর টানটান উত্তেজনা তো আছেই। তাই প্রথম কয়েকটি এপিসোড ট্রাই করেই দেখুন না।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #19

আনিমে: Bartender

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, সেইনেন, হিস্টোরিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ১১
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/1589/Bartender
 
গল্পের কর্ণধার সাসাকুরা রিউ হলো জাপানের গিনজা শহরে অবস্থিত “ইডেন হল” বারের বারটেন্ডার। গল্পের প্রতিটি এপিসোডে ওর কাছে কাস্টোমার আসে। তবে তারা শুধুই মদ খেতে আসে না – তারা চায় একটু মানসিক শান্তি আর জীবনের নানা ঝুটঝামেলা থেকে মুক্তি। অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, জ্ঞান, আর বিষয়বুদ্ধির অধিকারী রিউ প্রত্যেকবার ওর কাস্টোমারের মনের সুপ্ত ইচ্ছা বুঝতে পারে আর ওদের সমস্যার সমাধান দেয়। ব্যস, গল্প মোটামুটি এতটুকুই।
গল্পের প্রতি পর্বে বার ও বহুরকম ককটেলের ব্যাপারে নানা জিনিস জানানো হয়। আনিমেটার ভিজুয়াল খুব সিমপ্লিস্টিক হলেও ক্লাসিক ঘরানার ওএসটি আছে। ওপেনিং এন্ডিং গানগুলোও ভালো। প্রতি পর্বের শেষে লাইভ একশন পার্টে একজন বারটেন্ডার একটি ককটেল প্রস্তুত করেন।
একটি মনোমুগ্ধকর ও ধীরলয়ের বাস্তব শিক্ষামূলক আনিমের স্বাদ পেতে চাইলে এটি দেখতে পারেন। ভালো লাগলে মাঙ্গাটাও পড়ে দেখতে পারেন।
 

Tower of God, Season 1 Anime – রিভিউ, আশা/হতাশা, ২য় সিজন নিয়ে আকাঙ্ক্ষা, এবং ১ম সিজনের গল্প নিয়ে সামান্য স্পয়লারযুক্ত আলোচনা – Tahsin Faruque

বিশাল বড় টাইটেল দেখে আগেই বিরক্ত না হতে অনুরোধ করছি। সিরিজটা নিয়ে বেশ অনেক কিছু বলার ছিল। এক পোস্টেই আপাতত মনের কথাগুলি বলে ফেলছি। টাইটেলের মত পোস্ট এত বড় হবে না আসলে।
টাওয়ার অভ গড – ২০২০ সালের সবচাইতে আলোচিত এনিমেগুলির একটি। ১০ বছর আগে শুরু হওয়া ও দিনে দিনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠা কোরিয়ান ওয়েবটুনের উপর ভিত্তি করে বানানো এনিমেটি নিয়ে আগ্রহের একটা বড় কারণ ছিল যে, এই সিরিজের মাধ্যমে কোরিয়ান মানহা বা ওয়েবটুনের এনিমে এডাপ্টেশনের পথে যাত্রার শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে নোবেলিজের ছোট ২-১ পর্বের এডাপ্টেশন ছিল, কিন্তু সেগুলিকে ঠিক আসল এনিমে বলা যায় না। টাওয়ার অভ গড দিয়েই আসল যাত্রাটা শুরু, যা এরপরে গড অভ হাই স্কুল দিয়ে সামনের দিকেই আগাতে থাকবে। এজন্যে এই সিরিজটি একটি বিশাল বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে। তো, মাইলফলক সিরিজ হিসাবে কেমন অবদান রাখলো এটি?
আমার মতে, সিরিজটি অনেক অনেক বেশি ভাল হতে পারতো। তবে সেরকম ভাল না হলেও খারাপ হয় নি। সিরিজটি যদি দেখে থাকেন, তাহলে হয়তো আপনার মনে সিরিজটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকবে, মনে হবে কিছুই তো বুঝলাম না কী হল, কেন হল, একগাদা প্রশ্নের উত্তর পাবার বদলে আরও একশত প্রশ্ন গড়ে উঠলো। ব্যাপারটা স্বাভাবিক, কারণ শুধু এটুক মনে করতে পারেন যে এই ১৩ পর্ব যা দেখলেন (কিংবা যা দেখবেন যদি সিরিজটি দেখার প্ল্যান করেন), এটি অনেকটা নারুতো বা ব্লিচ বা ওয়ান পিস ধরণের বিশাল বড় এক মেগাসিরিজের সূচনা মাত্র। প্রথম ১৩ পর্ব মানহাটির প্রথম সিজন (অর্থাৎ প্রথম ৮০ পর্ব) এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও, এটুক অংশকে আসলে বড় সাইজের একটি prologue বলা যায়। ১ম সিজন শেষে গল্প যেখানে এসে দাঁড়ালো, সেখান থেকেই “আসল গল্প” শুরু হতে যাচ্ছে।
তবে এই কথা বলার অর্থ এটা না যে এর সব ত্রুটি মাফ হয়ে গেল। গুণ অনেক আছে যেমন, তেমনই দোষও নেহাত কম নেই। আপাতত ভাল অংশটুকু নিয়ে আলোচনা দিয়ে শুরু করি।
  • সম্ভবত সিরিজটির সবচাইতে ভাল দিক হচ্ছে এর মিউজিক। কেভিন পেনকিন সামনের দিনের সবচাইতে বড় এনিমে মিউজিক কম্পোজারদের একজন যে হতে যাচ্ছে, তা মেইড ইন এবিস, শিল্ড হিরোর পর টাওয়ার অভ গডের মাধ্যমে আবার একবার প্রমাণ করলো।
  • প্রথম দেখায় এনিমেশন তেমন ভাল লাগে নি, তবে এরপর একটু হাই কোয়ালিটির ভিডিওতে দেখার সময়ে বুঝলাম এনিমেশন আসলে খারাপ নয়। মানহার অরিজিনাল আর্টস্টাইল শুরুর দিকে খারাপ ছিল বেশ, নুবিশ আঁকা ছিল। পরের দিকে মাঙ্গাকার স্কিল বাড়তে থাকে, এবং আঁকার মানও উপরের দিকে উঠতে থাকে। এনিমের আর্টস্টাইল অনেকটা মাঙ্গাকার পরের দিকের আর্টস্টাইলের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে। কিছুটা নতুনত্ব আছে তা অস্বীকার করবো না।
  • যদিও ওয়ার্ল্ড বিল্ডাপ-এর প্রায় কিছুই দেখি নি আমরা, তারপরেও টাওয়ার অভ গডের দুনিয়াটা যে বেশ নতুনত্ব কিছু নিয়ে এসেছে, সেটা অবশ্যই বলতে হবে। টাওয়ার-টা আসলে কী, এর বাইরে কী আছে, এটা কত বড় – এমন হাজারোটা প্রশ্ন এটাকে বিভিন্ন মেগাসিরিজের মধ্যে একটাকে ইউনিক কিছু বানাতে পেরেছে। তথাকথিত “টাওয়ার” বেয়ে উঠতে গেলে যে বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা উতরে যেতে হবে, এটা দেখলে প্রথমেই হান্টার হান্টারের কথা মনে পড়তে পারে দর্শকের। তবে তারপরেও সিরিজটিতে এসব পরীক্ষানিরীক্ষার ধরণে অন্যরকম স্বাদ পাওয়া যায়।
  • একগাদা চরিত্র থাকলেও প্রায় সব বড় চরিত্র দর্শকদের পছন্দ হবার মত করেই বানাতে পেরেছে।
এবার আসি ক্রিটিসিজম প্রসঙ্গে।
 
  • অনেক তাড়াহুড়া করে গল্প আগাবে মনে হতে পারে। ৮০ চ্যাপ্টারের কন্টেন্ট ১৩ পর্বে এঁটে দেওয়া সহজ ব্যাপার না। পর্ব সংখ্যা অন্তত আরও ৩-৪টা বেশি হওয়া উচিৎ ছিল।
  • বড় বড় অনেক রহস্যের ব্যাখ্যা এখন না দিলেও, গল্পের এই পর্যায়ে এসে ওয়ার্ল্ড বিল্ডাপ নিয়ে যেসব সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দর্শকের জানতে পারা উচিৎ, তার অনেক কিছুই খোলাসা করা হয় নি।
  • আর বাকি যেসব নেগেটিভ দিক নিয়ে আলোচনা করবো, তা একটু নিচে স্পয়লার ট্যাগে আছে। দেখে নিতে পারেন।
 
 
২য় সিজন নিয়ে আশা/হতাশাঃ
১ম সিজন যেমনই হোক না কেন, দর্শকমহলে বেশ ভাল রিসিপশন পেয়েছে। ক্রাঞ্চিরোলের নিজস্ব প্রোজেক্ট বলে তারা ভাল করেই জানে কত বেশি দর্শক এটা দেখতে পেরেছে। (এক্ষেত্রে বলে রাখি, আপনি যদি বাংলাদেশে বা এই সাবকন্টিনেন্টে বসে দেখতে চান, ক্রাঞ্চিরোলে গিয়ে একদম 1080p-তেই দেখতে পারবেন আরামসে, একদম ফ্রিতে। তাই ফ্রিতে অরিজিনাল কন্টেন্ট সাপোর্ট করতে চাইলে একদম ক্রাঞ্চিরোলে গিয়েই দেখুন।) এজন্যে ২য় সিজন না আনাটা বোকামিই হবে তাদের জন্যে। তবে কিছু leaked source থেকে জানা গিয়েছে সামনের বছর ২য় সিজন আসবে। অফিশিয়াল ঘোষণা না আশা পর্যন্ত খবরটিকে আপাতত গুরুত্ব দিচ্ছি না।
তবে ২য় সিজন যদি আসে, আমি চাইবো যেন তারা rush না করে ভাল এডাপ্টেশন করতে পারে। ১ম সিজনের গল্প মানহাতে অনেক ধীরে ধীরে আগায়, যেটা আসলে rush না করলে দর্শককে বিরক্ত করে ফেলতে পারতো। তবে ২য় সিজন থেকে গল্প মানহাতেই ভাল স্পিডে আগায়। এটার স্পিড এনিমেতে আরেকটু বাড়াতে গেলে সর্বনাশ হবে। খেয়াল রাখবেন, টাওয়ার অভ গডের দুনিয়াটা বিশাআআআল, আর এখানে এত বেশি বেশি চরিত্র আছে যে, এনিমের পেসিং ঠিকমত না হলে দর্শকদের মাথা খারাপ হয়ে যাবে। স্পয়লার না দিয়েই বলি, মূল গল্পের অনেক মেইন চরিত্রকে এখনও আমরা এনিমের ১ম সিজনে দেখিই নাই। ২য় সিজন থেকেই আসলে এসব মেইন চরিত্রদের দেখতে পারবো। এজন্যে তাদের ক্যারেক্টার বিল্ডাপ খুব ভালমত হওয়া দরকার। ভালমত হওয়া দরকার সামনের দিকের কয়েকটা অসাধারণ রকমের ভাল story arc-এর। তাই, শুধু পেসিং জিনিসটি যদি ঠিক করতে পারে, আর গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ না কেটে ফেলে, তাহলে ২য় সিজন থেকে এনিমে নিয়ে কোন চিন্তা থাকবে না আমার।
 
কাট-কন্টেন্ট যা থাকা উচিৎ ছিল, পরিবর্তিত কন্টেন্ট যা পরিবর্তন করা উচিৎ ছিল নাঃ
২য় সিজনের স্পয়লার দিব না, তবে ১ম সিজন যদি আপনি দেখে থাকেন, তাহলে আশা করি নিচের লেখাটি পড়তে সমস্যা হবে না। এখানে আমি মূল মানহার ১ম সিজনের শেষ পর্যন্ত গল্পের অংশে যেসব বড় বড় কন্টেন্ট এনিমেতে বাদ দিয়েছে বা পরিবর্তিত করেছে তা নিয়ে আলোচনা করবো। তাই, একটি স্পয়লার ওয়ার্নিং থাকলোঃ
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
  • সবার আগে সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা বাদ দিয়েছে এনিমেতে (যেটার জন্যে আমি বেশ ভাল রকমের বিরক্ত), তা হল…
    আপনি কী জানেন যে Bam x Endorsi একটা বিরাট ব্যাপার!? জানেন না? ওয়েবটুনটি না পড়লে জানার কথাও না, কারণ এনিমেতে এই বিশাল জিনিসটা সোজা সাপটা বাদ দিয়ে দিয়েছে!!! খুব বিশ্বাস না হলে গুগলে গিয়ে Bam x লিখুন, এরপর Endorsi নিজে থেকেই চলে আসবে। গল্পের এই পর্যায়ে বাম ও এন্ডোরসির এই সম্পর্কে যে একদম রোমান্টিক তা নয়, তবে তাদের অনেক interaction একদম চোখ বন্ধ করে বাদ দিয়েছে এনিমেতে। তাদের এই সম্পর্ক এত বিশাল বড় যে এটার এক বড় প্রভাব ২য় সিজনে দেখতে পারবেন (যদি এনিমেতে দয়া করে সেটাও বাদ না দিয়ে রেখে দেয়)।
  • এন্ডোরসির ক্যারেক্টার বিল্ডাপের অনেক কিছু বাদ পড়ে গিয়েছে। বিশাল বড় ইগো-ওয়ালা এই চরিত্র যে ১ম সিজন শেষের আগেই best girl হয়ে যায়, তা এনিমে দর্শক হয়তো জানবেও না মানহা না পড়লে। Bam x Endorsi এর অংশগুলা যা বাদ দিয়েছে, সেখানেই এগুলির অনেক কিছু পড়েছে।
  • Rachel-এ সিরিজে অনেকবারই এমন আচার আচরণ করতে দেখিয়েছে, যাতে তার প্রতি শুরু থেকেই সন্দেহ থাকে সবার। ব্যাপারটি মানহাতে সেরকম ছিল না। এন্ডোরসির কথাতে এনিমের মত সে রাগ হয় নি, কথায় কথায় মানুষজনের তাকে সন্দেহ করতে দেখা যায় নি। সোজা কথা, ১২-১৩ পর্বে তার সেই বিট্রেয়ালটা একটা সারপ্রাইজ হিসাবেই ছিল মানহাতে, এনিমতে সেটা foreshadow করে এসেছে যখনই পেরেছে।
  • ক্রাউন গেমের শেষের দিকে গিয়ে বাম শিনসুতে পরিবর্তিত হয়ে যায় নি আসলে, মানহাতে জিনিসটা এভাবে দেখিয়েছিল যে, হোয়া রিউনের দিকে তার কাছ থেকে এক ঝলক শিনশু এটাক গিয়েছিল। তার ঐ শিনসু এটাকে ক্রাউন ধ্বংশও হয় নি, আর রাগ হারিয়ে রিউনকে মারতে গেলে ব্ল্যাক মার্চ সময় থামিয়েও দেয় নি, বরং বাম সেখানেই সেন্সলেস হয়ে যায়।
  • ব্ল্যাক মার্চের কথা যেহেতু এসেছিল, যতদূর মনে পড়ে, এনিমেতে একে কাতানা বলে উল্লেখ করেছিল মনে হয়। কোরিয়ান থেকে জাপানিজ ট্রান্সলেশনের ভুল কিনা জানি না, কিন্তু ব্ল্যাক মার্চ কাতানা নয়, নিডল (needle)। হ্যাঁ, নিডল বা সুই-টাইপের অস্ত্র। সোর্ড আর নিডল দুই আলাদা জিনিস, কেন সেটাও এনিমেতে ভাল করে বলে নি।
  • বাম যে বিশেষ কিছু, বা ওর মধ্যে যে ভয়ংকর পটেনশিয়াল লুকানো, সেটা আমার মনে হয় এনিমতে ভালমত দেখায় নি। কয়েকটা উদাহরণ দেইঃ
    * লেরো রো-এর সেই শিনসু টেস্টের সময়ে সবাই শিনসু দেওয়ালের পিছে চলে গিয়েছিল, বাম বাদে। এই ঘটনাটা এনিমেতে দেখে মজা লাগতে পারে, তবে যেটা সবচাইতে বড় ধাক্কা দিত, সেটা ছিল লেরো রো-এর মুখের এক্সপ্রেশন। মানহাতে লেরো রো যেই চেহারা করেছিল, সেটা দেখলে মনে হত ও জীবনের সবচাইতে বড় ভয়ংকর কিছু দেখেছে নিজ চোখে।
    * ক্রাউন টুর্নামেন্টে শুধুমাত্র ওর uncontrollable shinsu flowটাই ওর ক্ষমতার একমাত্র indication ছিল না। মাঝখানে একটা বড় ফাইট একদম বাদ দিয়েছিল। সেখানে বামের ছোটখাট কিছু কারিশমা দেখলে বুঝা যেত ওর ট্যালেন্ট ধীরে ধীরে বাড়ছে।
    * Position training class, Hide and Seek – এই দুই জায়গাতে ranker-দের শিখানো দুইটা কৌশল এক দেখাতেই বাম শিখে ফেলে, যেটা ঐ ranker-দের ২-৩ বছর বা কয়েকশত বছর লেগেছিল শিখতে। বামকে একবারেই সেগুলি করতে দেখার পর ranker-দের মুখের এক্সপ্রেশন দর্শকদেরকে খুব সহজেই বুঝিয়ে দিতে পারতো বাম আসলে কোন লেভেলের monster. দুঃখের ব্যাপার, এনিমতে এগুলি ভালমত দেখায় নি।
  • বিভিন্ন পজিশনগুলি নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল (Fisherman, Wave Controller, Light Bearer, Scout etc.), সেই অংশটি অল্পের মধ্যে সেরেছে এনিমেতে। এই জিনিসটা এনিমেতে মানহার মত বড় করে দেখানো উচিৎ ছিল। সেটা না করাতে অনেকেই কনফিউজড হয়ে যেতে পারে, কারণ এই ধরণের পজিশন আইডিয়াটার সাথে আমরা এনিমে দর্শকরা পরিচিত না। ইউনিক একটা কন্সেপ্ট যেহেতু, এটা ভাল করে বুঝানো উচিৎ ছিল এনিমেতে। মানহাতে সেটা করেছিল।
  • আবার বাম ও এন্ডোরসির কথায় আসি। শেষ দৃশ্যে বামকে অনেক বেশি আশাবাদী হিসাবে দেখিয়েছে এনিমেতে। মানহাতে বাম তখন এত বড় বিট্রায়ালের পর মানসিকভাবে ভেঙ্গেচুড়ে গিয়েছে। জিনিসটা ২য় সিজনে রেটকন না করলে আসলে দুই সিজনের বামকে মিলাতে কষ্ট হবে দর্শকের। আর ওদিকে বামের “মৃত্যু”-এর খবরে এন্ডোরসির মনের ভিতর যেন শূন্যতায় ভরে গিয়েছিল। হ্যাঁ, মানহার এই বড় জিনিসটাও এনিমেতে নাই, কারণ কোন এক অদ্ভুত কারণ পুরা Bam x Endorsi জিনিসটা বাদ দিয়েছে এনিমেতে (যেই জিনিসটা মাফ করতে পারবো না)।
আরও কিছু ছোটখাট পরিবর্তন বা কাট-কন্টেন্ট ছিল, তবে সেগুলি অত গুরুত্বপূর্ণ না। এডাপ্টেশন করতে গেলে ওটুক পরিবর্তন করাই যায়। তবে উপরে বলা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলি শুধু শুধু গল্পকেই পরিবর্তন করে দিবে।
 
সবশেষে বলবো, মানহা যদি পড়তে চান, কষ্ট করে ১ম সিজনটা পাড়ি দিতে পারলেই চলবে। ২য় সিজনের একদম শুরু থেকে টানটান উত্তেজনা! খুবই ফ্যানফেভারিট একগাদা নতুন মেইন চরিত্র যুক্ত হবে, থাকবে পুরানো চরিত্রদের badass প্রত্যাবর্তন, আর সবচাইতে বড় আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবে বাম নিজেই। এনিমের ২য় সিজনটাতে মানহা থেকে ভালমত এডাপ্টেশন করুক, এই আশায় পোস্ট এখানে শেষ করছি।

Sakib’s Hidden Gems – Episode #18

আনিমে: Ashita no Joe (Tomorrow’s Joe)

জানরা: একশন, ড্রামা, স্পোর্টস, শৌনেন
এপিসোড সংখ্যা: ৭৯
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/2402/Ashita_no_Joe
 
গল্পের নায়ক ইয়াবুকি জো এক পথেঘাটে ঘুরে বেড়ানো যুবক। আপাতদৃষ্টিতে তাকে বখে যাওয়া অকর্মা ছেলে মনে হলেও ওর মধ্যে আছে বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করার ইস্পাতকঠিন মনোবল, আর অতীত নিয়ে পড়ে না থেকে নিজের ভবিষ্যৎ গঠনের তাগিদ। তাছাড়া ফাইটিং করার জন্য জো-এর আছে প্রকৃতিপ্রদত্ত প্রতিভা। কেউ এটা ধরতে না পারলেও এক বয়স্ক বক্সিং কোচ দাঙ্গে তানপের কাছে তা ধরা পড়ে। ব্যর্থতার ভারে জরাজীর্ণ দাঙ্গে জো-এর মধ্যে নিজের ভবিষ্যতকে দেখতে পায়। বহু অনুরোধ ও কষ্টের পরে সে জোকে বক্সিং শুরু করতে রাজি করায়। শুধু জাপান নয়, সারা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বক্সার হওয়ার লক্ষ্যে জো এগিয়ে যায়।
ট্রাডিশনাল স্পোর্টস আনিমের থেকে এটি অনেকাংশে আলাদা। কারণ এতে বক্সিংয়ের পাশাপাশি জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য জো-এর সংগ্রামকে ফোকাস করা হয়েছে। গল্পে অনেক ইমোশনাল ঘটনা ঘটছে, ক্রাইম ঘটছে, মানুষজন জেলে যাচ্ছে – এগুলা আসলে এখনকার স্পোর্টস আনিমেগুলোতে ঘটে না। আসলে ৭০ এর দশকের এই আনিমের সাথে এখনকার সময়ের বিস্তর তফাৎ।
গল্পে আপনি আরও পাবেন চোখে পানি এসে যাওয়ার মতো কষ্টের স্ট্রাগল, স্রেফ অসাধারণ একটি রাইভালরি, আর সর্বোপরি আনিমে ইতিহাসের অন্যতম ট্রাজিক ও শ্রেষ্ঠ সমাপ্তি।
গল্পের গতি বেশ ধীর। আর খুবই পুরনো আনিমে হওয়ার কারণে এখনকার মনকাড়া ভিজুয়াল ও আনিমেশন নেই এইটাতে। কিন্তু তাই বলে ক্যারাক্টারগুলো ও তাদের মুভমেন্ট দেখতে খারাপ লাগবে না আশা করি। আসলে আশিতা নো জো আপনি মূলত দেখবেন গল্পের জন্য, ভিজুয়ালের জন্য নয়।
এটার একটা সিকুএলও আছে (৪৭ পর্বের)। তবে আমার মতে সেটা প্রথম সিজনের গল্পের কোয়ালিটি ধরে রাখতে পারেনি বলে দেখা আবশ্যক নয়।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #17

আনিমে: Kamisama no Inai Nichiyoubi (Sunday Without God)

জানরা: ফ্যান্টাসি, অ্যাডভেঞ্চার, মিস্টেরি
এপিসোড সংখ্যা: ১২ + ১টি ওভিএ
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/16009/Kamisama_no_Inai_Nichiyoubi
 
গল্পটি লেখা হয়েছে খ্রিস্টধর্মের ক্রিয়েশন স্টোরিকে আধার করে। এই গল্পে ঈশ্বর এক সপ্তাহের প্রথম ছয়টি দিনে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করে সপ্তম দিনে অর্থাৎ রবিবারে কোন কারণে তাঁর সৃষ্টিজগতের প্রতি অনাসক্ত হয়ে পড়েন। যার মনের তীব্র ইচ্ছা যা ছিল তা পূরণ করে তিনি বিদায় গ্রহণ করেন। এখন মানুষের তীব্র ইচ্ছা ছিল অমর হওয়ার, তাই এই জগতে মানুষের প্রকৃত মৃত্যু নেই। দৈহিক মৃত্যুর পর সেখানকার মানুষজন অনেকটা জোম্বির মত হয়ে পড়ে। আবার অনন্ত জীবনকে ভয় পেয়ে অনেকে ঈশ্বরের কাছে তখন মৃত্যুকামনা করে। তাই দেখে তিনি Gravedigger সৃষ্টি করেন। কারও দৈহিক মৃত্যুর পর কোন Gravedigger তাকে কবর দিলে সে আর ফিরে আসবে না। এই অদ্ভুত জগৎ নিয়েই এই আনিমেটি।
গল্পের নায়িকা হলো আই আস্টিন নামের এক কিশোরী। তার মা ছিল Gravedigger, আর বাবা হলো হাম্পনি হামবার্ট নামের এক “অমর” মানুষ। ছবির মতো সুন্দর গ্রামে গ্রামবাসীদের সাথে থাকা আই ওর মৃত মায়ের মতই চায় এমন এক জগতের, যেখানে সবাই সুখী হতে পারবে। মা মারা যাওয়ার পর আই নিজের কাঁধে নেয় Gravedigger এর দায়িত্ব। কিন্তু হঠাৎ একদিন ওর বাবা তাদের গ্রামে হাজির হয়ে গ্রামবাসীদের মেরে ফেলে। কেন? জানতে হলে আনিমেটি দেখতে হবে।
আনিমেটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো এর অত্যন্ত সুন্দর, রঙিন ভিজুয়াল এবং সাউন্ডট্র্যাক। ফ্যান্টাসির জগৎটাকে মনোরমভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওপেনিং আর এন্ডিং গানদুটি ভাল। গল্প মোটেও খারাপ নয়। বেশ ডিপ্রেসিং এক জগতে বেশ কিছু ডিপ্রেসিং মুহূর্ত উপহার দিয়েছে এটি।
গল্পের বুননে কিছু ছোটখাট ত্রুটি রয়েছে, কাহিনী খুব একটা আগায়নি। তবুও বেশি এক্সপেক্টেশন নিয়ে না দেখে সুন্দরভাবে সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে আনিমেটি দেখলে ভালো লাগবে আশা করি।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #16

আনিমে: Fuujin Monogatari (Windy Tales)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, সুপারন্যাচারাল, স্কুল
এপিসোড সংখ্যা: ১৩
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/1524/Fuujin_Monogatari
 
জুনিয়র হাই স্কুলের ডিজিটাল ক্যামেরা ক্লাবের সদস্যা উয়েশিমা নাও-য়ের শখ হল সময় পেলেই স্কুলের ছাদে যেয়ে মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকা আর ছবি তোলা। তো একদিন সে ছাদে গিয়ে হঠাৎ একটি শূন্যে ভাসমান বিড়ালকে দেখতে পায়। বিড়ালটার ছবি তুলতে গিয়ে সে ছাদের কার্নিশ থেকে পড়ে যায়, আর তার স্কুলের একজন শিক্ষক (মাকিনো সেনসেই) অলৌকিকভাবে তাকে মাটিতে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। নাও জানতে পারে যে, বিড়ালটা আর ঐ শিক্ষক – দুই-ই বাতাসকে ম্যানিপুলেট করতে জানে। এর আগে কোন অলৌকিক কিছু না দেখা নাও ও ক্যামেরা ক্লাবের বাকি সদস্যা কাতাওকা মিকির জন্য এটা একটা চরম রোমাঞ্চকর জিনিস – যা ওদের সামনে একটা নতুন জগৎ খুলে দেয়। মাকিনো সেনসেই – এর কাছ থেকে ওরা বাতাসকে ম্যানিপুলেট করার বিদ্যা শিখতে শুরু করে। নাও, মিকি, ও জুন নামের একটি ছেলে নানা বিচিত্র (কখনও মজাদার, কখনও শিক্ষামূলক) অভিজ্ঞতা লাভ করতে থাকে।
আনিমেটি মূলত এপিসোডিক। প্রতিটা এপিসোডের থিম ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু সবগুলোই একসূত্রে গাঁথা, কারণ বাতাসের সাথে কোন না কোনভাবে সম্পর্ক থাকে। আর নাওয়ের স্কুলের মুহূর্তগুলিও বেশ মজাদার – টিচারেরা সবাই বন্ধুবৎসল।
আনিমেটি ঠিক যেন গতানুগতিক স্লাইস অফ লাইফ আনিমের মত না। এর ক্যারাক্টার ডিজাইন খুবই ইউনিক। ওদের অনেকসময় খড়কুটোর মত দেখতে মনে হয়, বাতাসের এক ঝটকায় উড়ে যাবে যেন। আরেকটি উল্লেখযোগ্য জিনিস হলো আনিমেটিতে অসাধারণ ওএসটির ব্যবহার – মিউজিক দ্বারা এতো সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা আমি খুব বেশি আনিমেতে দেখিনি।
ভিন্ন স্বাদের স্লাইস অফ লাইফ আনিমের খোঁজে থাকলে এই আনিমেটি দেখতে পারেন। একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে মজাও পাবেন, আর কিছুটা চিন্তার খোরাকও পাবেন আশা করি।
 

উচিয়াগে হানাবি ও কিছু অসংলগ্ন চিন্তাভাবনা — Shifat Mohiuddin

Uchiage Hanabi, Shita kara Miru ka? Yoko kara Miru ka?
 
Warning! পুরো পোস্টটাই একটা স্পয়লার।

উচিয়াগে হানাবি ও কিছু অসংলগ্ন চিন্তাভাবনা:
 
উচিয়াগে হানাবি মুভিটা আমি দেখেছিলাম সেই ২০১৮ সালে। বের হওয়ার পর যখন নেটে আসলো তার পরপরই দেখেছিলাম বলা চলে। দেখার পর স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম দেড় ঘন্টা সময় নষ্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে কেন এতদিন পরে পুরনো জিনিসকে টেনে আনা!
কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখলাম মুভিটার সাথে আমার কোন এক ধরণের আত্মার সংযোগ রয়েছে। হ্যাঁ, সিরিয়াসলিই বলছি। এনিমের সাথে আত্মার সংযোগ হওয়া সম্ভব আসলেই। এখন আপনারা একে নিছক উইবগিরি বলে উড়িয়ে দিতে পারেন, আমি বিতর্কে জড়াবো না কোন।
উচিয়াগে হানাবি নোরিমিচি ও নাজুনা নামের দুই কিশোর-কিশোরীর কাহিনী। কাহিনী না বলে কল্পনাও দাবি করা যেতে পারে। পুরো মুভিটাতে ফ্যান্টাসি আবহ শুরু থেকেই ছিল। এরকম ফ্যান্টাসির আবহ ক্লানাড নামের এনিমেটাতে দেখেছিলাম তবে সীমিত আকারে। উচিয়াগে হানাবিতে ফ্যান্টাসি মাধ্যমের উপূর্যপুরি ব্যবহার ছিল বারবার, ফলে মারাত্মক জগাখিচুড়িতে পরিণত হয়েছিল মুভিটা। বাস্তবতা আর কল্পনার ফারাক ধরতে গিয়ে যদি মুভিই শেষ হয়ে যায় তাহলে উস্মা প্রকাশ করাটাই স্বাভাবিক।
শুরুতেই একগাদা অভিযোগ করে ফেললাম। এখন উচিয়াগে হানাবির সাথে আমার নাড়ির টান কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো সেই আলোচনায় আসি।
উচিয়াগে হানাবির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এর ইউটোপিয়ান ভিশনের মধ্যে। কমবেশ সব স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্টিক এনিমেই ইউটোপিয়ান। এই জনরার এনিমেগুলো বেছে বেছে আমাদের জীবনের ইতিবাচক স্লাইসটাকেই পর্দায় তুলে আনে। বাস্তব জীবনের দুঃলহ-দুর্দশা তুলে ধরার চেষ্টা যে একদুইটা হয় না তা না, তবে বেশীরভাগ প্রদর্শনীই হয় মধুমাখা। কেন জানি ইনজাস্টিসে জর্জরিত এই দুনিয়ার সাথে এনিমের দুনিয়াকে মেলাতে পারি না।
 
উচিয়াগে হানাবি সম্ভবত এই কারণেই স্পেশাল যে এতে ইউটোপিয়ান উপাদানের পরিমাণ এতই বেশী যে দর্শকরা ঠিকভাবে এর সাথে মানসিক সংযোগই স্থাপন করতে পারে নি। একে অপরের হাত ধরে জাপানের কোন এক মফঃস্বল থেকে দুই কিশোর-কিশোরীর পালাতে চাওয়াটা ছিল ইউটোপিয়া তৈরির প্রথম ধাপ। নোরিমিচি আর নাজুনা দুজনেই কিন্তু বাহিরের কঠিন দুনিয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। আবার নোরিমিচির জীবনে নাজুনার আগমনও অপ্রত্যাশিতভাবে। তার উপর সাঁতারের সময় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া ইত্যাদি আসলে শুরু থেকেই মুভিটার চরম অবাস্তবতার দিকে ধাবিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছিলো। খেয়াল করা উচিত, মুভিটা কিন্তু কিশোর মানসিকতাকে আঁকড়ে ধরে বানানো। সেজন্য কিশোর নোরিমিচির চোখে কিশোরী নাজুনা সবসময়েই রহস্যের এক ভাণ্ডার। নাজুনা আকৃতিতে নোরিমিচির চেয়ে দীর্ঘাকৃতির। পুরুষ হিসেবে বলতে পারি ছেলেবেলায় ড্রিমগার্লরা এভাবেই আমাদের মানসপটে এসে জায়গা করে নিতো। তন্বী দেহই ছিল আমাদের অনেকের আদর্শ নারীর উদাহরণ। তুলনামূলক নাতিদীর্ঘ আকৃতির মেয়েরাও যে পূজনীয় হতে পারে তা তো পরে ইস্ট এশিয়ান কালচার হাতে-কলমে শেখালো!
 
নোরিমিচির মতো কিশোরকালে মিশুক মেয়েদের দিকে মন ঝুঁকে থাকতে চাইতো বেশী। মুভিতে খেয়াল করলে দেখা যায় নাজুনা বেশ বাঁচাল প্রকৃতিরই। নোরিমিচির দ্বিগুণ কথা সে নিজেই বলেছে বলা যায়। সে কথার টানেই কিন্তু নোরিমিচি সিদ্ধান্ত নিল বাসা থেকে পালাবে।
 
মুভির সবচেয়ে সুন্দর জায়গার একটা ছিল সাইকেলের পেছনে নাজুনাকে বসিয়ে নোরিমিচির ঢালু পথ বেয়ে নেমে যাওয়া। দৃশ্যটা দুটো জায়গার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল এক মুহূর্তে:
১। Whisper of the heart মুভির একেবারে শেষে ভোরে নায়ক-নায়িকার সাইকেলে চড়ে কাটানো সময়।
২। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ‘রাজু ও আগুনালির ভূত’ নামের কিশোর উপন্যাসের একেবারে শেষে ১১০ সিসি হোন্ডা বাইকে করে রাজু আর শাওনের পালিয়ে যাওয়া।
 
এই যে সাত-পাঁচ না ভেবে বাসা থেকে পালানোর মত ভয়ানক সিদ্ধান্ত নেয়ার যে তড়িৎ ক্ষমতা, অনেকে একে অদূরদর্শীতা বললেও আমি একে বয়ঃসন্ধিকালের সবচেয়ে বড় শক্তি বলবো। হাইস্কুলের কিশোর নোরিমিচি নাজুনাকে নিয়ে যে অবাস্তব স্বপ্ন দেখেছিল তা সে নিশ্চয়ই বিশ পেরিয়ে গেলে এত সহজে নিতে পারতো না। নাজুনাও সাহস যোগাতে পারতো না কোথাকার এক অর্ধপরিচিত ছেলের হাত ধরে টোকিওর মত বিশাল শহরে যাওয়ার।
কথা প্রসঙ্গে নাজুনার মনস্তত্ত্ব নিয়ে কিছু বলি। শ্যাফটের অ্যানিমেশনের কারিগরির কারণে তাকে প্রথম দিকে খুবই দুর্বোধ্য মনে হচ্ছিল। এতদিন পরে আস্তে আস্তে তাকে কিছুটা হলেও উপলদ্ধি করতে পেরেছি। নাজুনাও আসলে বয়ঃসন্ধি কালের অস্থির সময়ের এক প্রতিনিধি। পরিবারের শেকল ভেঙে সে কিছু দিনের জন্য হলেও বাঁধনহারা জীবন উপভোগ করতে চায়। প্রবল ইচ্ছে থাকার পরেও নানা বাঁধার কারণে কাজটা করতে পারছিল না সে। নোরিমিচিকে সঙ্গী করার মাধ্যমে সে শেষমেষ নিজেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করতে পারে কাজটা করার। আমার মতে নাজুনার সম্পূর্ণ আবেগে বয়ঃসন্ধিকালের আধাআধি বেড়ে উঠা যৌন চেতনার কোন প্রভাব ছিল না। পুরো ব্যাপারটাই ছিল তার কাছে কৌতুহলের খেলা। টোকিওতে গিয়ে সে কিভাবে নিত্য প্রয়োজনের যোগাড় করবে তার দুশ্চিন্তা বিন্দুমাত্র তার মাথায় ছিল না। সম্ভবত নোরিমিচিকে আশ্বাস দেয়ার জন্য সে কাজ খোঁজার কথা বলেছিল।
 
তবে ট্রেনের বগির ভেতরে আমরা নাজুনার চিন্তার আরেকটা পিঠ দেখতে পাই। Ruriiro no Chikyuu গানটা গাওয়ার সময় নাজুনা নিজেকে রাজকুমারী হিসেবে কল্পনা করে। সে কল্পনা করে নোরিমিচি রাজপুত্র বেশে তাকে রথে করে অনেক অনেক দূরে কোথাও নিয়ে যাচ্ছে। শ্যাফটের অপূর্ব অ্যানিমেশন কিশোরী মস্তিষ্কের নিউরনের প্রতিটি স্পন্দনকে পিক্সেলে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছে এই জায়গাটাতে। নির্ভেজাল আবেগমেশা এই মুহূর্তগুলো তখন স্পর্শ না করলেও এখন হৃদইয়ে দাগ কাটতে সমর্থ হয়েছে।
নোরিমিচির জীবনে নাজুনার আগমনের মত করে আমাদের জীবনে কারোর আসার প্রশ্নই আসে না। তবে এর কাছাকাছি অনুভূতি নিশ্চয়ই অনেকেই নিয়েছেন কল্পনায় অথবা বাস্তবে। আমি আমার কিশোরকালের ব্যক্তিগত একটা ঘটনার বিবরণ দিচ্ছি প্যারালাল টানার জন্য:
 
২০১১-২০১২ সালের দিকে প্রচুর হংকংভিত্তিক মার্শাল আর্টস সিনেমা দেখা হতো। সেসব সিনেমায় নায়িকারা থাকতো চরম অবলা, নায়করা উদ্ধার না করলে তারা কিছুই করতে পারতো না। damsel in distress ই ছিল আমার কাছে নারীর একমাত্র সংজ্ঞায়ন, femme fatale বলতে যে কিছু আছে তা জানতাম না তখন!
স্কুলের একটা মেয়েকে বেশ ভাল লাগতো তখন। যদিও মুখ ফুটে কখনো বলা হয়ে উঠে নি। সে মেয়েটা আবার এলাকায় নতুন আসায় রাস্তাঘাট চিনতো না একদম। পাশাপাশি পাড়াতেই ছিল দুজনের বাসা।
ঘটনাক্রমে একদিন রাত নয়টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাস্তার মোড়ে দেখা! মফঃস্বল এলাকায় রাত আটটা বাজলেই তখন ঘুরঘুট্টি অন্ধকার। তার উপর লোডশেডিং চলছিল। জানতে পারলাম আত্মীয়ের বাসা থেকে ফেরার পথে পথ হারিয়ে ফেলেছে! এলাকার ছেলে হওয়ায় অনায়াসেই বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যেতে পেরেছিলাম। কিছুদিন আগেই The Karate Kid দেখায় নিজের উপর নিজেরই ভক্তি বেড়ে গিয়েছিল!
 
এই মেলোড্রামাটিক ঘটনার রেশ আমার উপর মাসখানেক ছিলো। তখন যদি নাজুনার মত আমাকে বলা হতো পালিয়ে যেতে, অনায়াসেই পনের বছরের আমি দু-চোখ যেদিকে যায় সেদিকে চলে যেতাম। যে চিন্তা ও কাজ উভয়ই এই বিশোর্ধ্ব নাগরিক আমার দ্বারা কোনভাবেই সম্ভব হতো না। অগ্রীম নানারকম দুশ্চিন্তার বেড়াজালে আটকে শেষমেষ ইতস্ততই করতাম। নোরিমিচি কিন্তু এই দ্বিধায় ভুগে আটকে থাকে নি, ঐ বয়সে আমিও অত ভাল-মন্দের ধার ধারতাম না।
 
উচিয়াগে হানাবি বয়ঃসন্ধি কালের এই অপার সম্ভাবনাকে সেলিব্রেট করে। একই সাথে মুভিটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সীমাবদ্ধতাকে ফ্যান্টাসির বর্শা দিয়ে বিদ্ধ করতে চায়। মরবিড চিন্তাভাবনার এ জায়গাটাতেই মুভিটার সার্থকতা আমার মতে। তবে তারমানে এই নয় যে এই দিকগুলো অন্য কোন এনিমের চেয়ে অনেক বেশী ভাল দেখিয়েছে। দিনশেষে প্রচন্ড সীমাবদ্ধতা থাকা একটা মুভি উচিয়াগে হানাবি। তবে কিছু জিনিস থাকে যার শত ক্রুটি থাকার পরেও মনের মধ্যে আলাদা একটা আবেদন থাকে, উচিয়াগে হানাবি আমার জন্য সেরকম একটা এনিমে।
 
দ্রষ্টব্য: জাফর ইকবাল পরবর্তীতে ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ নামে একটা বই লিখেছিল। এটাও কিছুটা এই ঘরানার হলেও আগুনালির মত হতে পারে নি মোটেই। চরিত্রগুলা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়াতেই সম্ভবত গল্পটা মাঠে মারা গিয়েছিল। আগুনালির মত গল্পের সাজেশন চাচ্ছি সবার কাছে।

Sakib’s Hidden Gems – Episode #15

আনিমে: Hikaru no Go (Hikaru’s Go)

জানরা: শৌনেন, গেইম
এপিসোড সংখ্যা: ৭৫ + ১টি মুভি
 
গল্পের নায়ক শিনদো হিকারু এলিমেন্টারি স্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্র। কিছুটা ডানপিটে স্বভাবের হিকারু একদিন পুরনো জিনিসের খোঁজে তার দাদামশাইয়ের স্টোররুমে গিয়ে আবিষ্কার করে একটি বেশ পুরনো “গো” খেলার বোর্ড (“গো” হল দুইজনে মিলে খেলার জন্য একটি বোর্ড গেম। প্রতি দানে একটি করে গুটি বসিয়ে আস্তে আস্তে বর্ডার তৈরি করে বোর্ডের এরিয়া দখল করতে হয়। প্রতিপক্ষের গুটি কাটার ব্যবস্থাও আছে।)। এখন ঘটনা হলো, এই বোর্ডটির সাথে জড়িত আছে জাপানি হেইসেই আমলের বিখ্যাত গো ইন্সট্রাক্টর ফুজিওয়ারা নো সাই এর অতৃপ্ত আত্মা। শুধু হিকারুই সাইকে চোখে দেখতে পায়। গো খেলার আশ মেটাতে সাই সঙ্গ নেয় হিকারুর। সাইকে নিয়ে গো সেন্টারে গিয়ে হিকারু ওরই সমবয়সী আকিরা নামের প্রতিভাবান ছেলের সাথে একদান খেলে। আসলে হিকারুর মাধ্যমে সাই-ই চাল দেয়। এরপর কিছুটা সাই-এর চাপাচাপিতে ও বাকিটা নিজের ইচ্ছাতেই হিকারু গো খেলা শিখতে শুরু করে। গো খেলার সৌন্দর্য আবিষ্কার করে হিকারু সাইকে ওর গো ইন্সট্রাক্টর হতে বলে। সে চায় আবার কোন একদিন আকিরার সাথে খেলতে, আর নিজের শক্তিতে ওকে হারাতে। এর জন্য সে এখনকার একজন প্রফেশনাল গো খেলোয়াড়ের মতই তার ক্যারিয়ার গঠন শুরু করে।
একটি স্পোর্টস আনিমেতে যা যা আশা করা যায়, আনিমেটি তার যথেষ্টই পূরণ করে। গল্পের ফ্লো যথেষ্ট ভাল, হিকারু আর আকিরার উপরই ফোকাস করেছে, আর খুব একটা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করেনি। প্রফেশনাল গো এর জগতটা বেশ ভালোভাবেই বুঝিয়েছে। এক এপিসোড শেষ করে পরেরটা শুরু করার ক্ষুধাটা সবসময়ই ছিল। আনিমের আর্ট, সাউন্ড ইত্যাদিতেও খারাপ লাগার মত কিছুই নেই। গো খেলাটা বেশি একটা না বুঝলেও সমস্যা নাই।
স্পোর্টস আনিমের ভক্তরা এটা ট্রাই করে দেখতে পারেন। আর পুরো গল্পের স্বাদ পেতে চাইলে মুভি পর্যন্ত দেখে মাঙ্গার ১৪৯ নং চ্যাপ্টার থেকে পড়া শুরু করবেন। মাঙ্গায় মোট ১৯৮টা চ্যাপ্টার আছে।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #14

আনিমে: Hai to Gensou no Grimgar (Grimgar of Ashes and Fantasies)

জানরা: ইসেকাই, একশন, অ্যাডভেঞ্চার, ড্রামা
এপিসোড সংখ্যা: ১২
 
গল্পের নায়ক হারুহিরো হঠাৎ করে নিজেকে এক অজানা অচেনা জগতে আবিষ্কার করে। সে সাথে পায় তারই মত একই ভাগ্য বরণ করা আরও কয়েকজনকে, আর পায় তার এই অবস্থায় আসার আগের জীবন সম্পর্কে ভাসা ভাসা কিছু স্মৃতি। এখন তাদের একমাত্র ধ্যানজ্ঞানের বিষয় হয়ে ওঠে কীভাবে এই নতুন জগতে নিজেকে টিকিয়ে রাখা যায়। ওরা নির্দেশনা পায় যে, আপাতত টিকে থাকার একমাত্র উপায় হল কয়েকজনের দল গঠন করে মন্সটার হান্টিং করা। এটাই ওদের জন্য টাকাপয়সা কামানোর একমাত্র উপায়। তো এটা শুনে হারুহিরো আরও কয়েকজনের সাথে দল গঠন করে শুরুতে গবলিন মারার সিদ্ধান্ত নেয়।
এইটুকু শুনে তেমন আকর্ষণীয় মনে না হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু আমার মতে এই আনিমেটি মূলত দুই দিক দিয়ে ট্রাডিশনাল ইসেকাই থেকে আলাদা। একটি হচ্ছে পেইন্টিং এর মতো দেখতে ব্যাকগ্রাউন্ডগুলি। ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ডের সাথে খুবই সুন্দর খাপ খেয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে ক্যারাক্টার গুলোও খুব সুন্দরভাবে মিশে যায়। মোটকথা আনিমেটি ভিজুয়ালের দিক থেকে অনবদ্য।
আরেকটি দিক হচ্ছে এর পেসিং, ক্যারাক্টার ডেভেলপমেন্ট, আর ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং-এর নিপুণতা। আজকাল অনেক সাধারণ ইসেকাইয়ে দেখা যায় যে, দর্শক ইসেকাই জগৎ সম্পর্কে খুব বেশি জানার আগেই নায়ক হুটহাট ফাইট শুরু করে দেয়, আর গল্পও বহুদুর এগিয়ে যায়। এই আনিমেটি কিন্তু ব্যতিক্রম। গল্পের প্রথম আর্কে খুব যত্নের সাথে ও সময় নিয়ে ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং করা হয়েছে, আর চরিত্রগুলির বৈশিষ্ট্য ও তাদের নিজেদের মধ্যে মিথষ্ক্রিয়াগুলি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অচেনা জগতের সাথে খাপ খাওয়াতে প্রথমদিকে হারুহিরোদের স্ট্রাগল বেশ বাস্তবসম্মতভাবেই তুলে ধরা হয়েছে। ১২ পর্বের ইসেকাই আনিমেতে এটা আনেক্সপেক্টেড ছিল, আর আমার খুব ভাল লেগেছে। তার পরের দুই আর্কে কিন্তু যথেষ্ট উত্তেজনাকর একশন আছে।
আনিমেটি কিন্তু শেষমেষ লাইট নভেলটার প্রোমোশনের জন্যেই বানানো। তাই গল্প শেষ করা হয়নি। এতে আপত্তি না থাকলে কিছুটা ভিন্ন স্বাদের এই ইসেকাই আনিমেটি দেখতে পারেন।
 

Genshiken [রিভিউ] — Md. Anik Hossain

𝙂𝙚𝙣𝙨𝙝𝙞𝙠𝙚𝙣

সম্প্রতি দেখে ফেললাম ওতাকু সংস্কৃতি নিয়ে তৈরি 𝙂𝙚𝙣𝙨𝙝𝙞𝙠𝙚𝙣 নামক সিরিজটি। ৩ টি সিজনে বিভক্ত সিরিজটির প্রেক্ষাপট একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ও তার সদস্যদের কেন্দ্র করে। 𝗠𝗼𝗱𝗲𝗿𝗻 𝗩𝗶𝘀𝘂𝗮𝗹 𝗖𝘂𝗹𝘁𝘂𝗿𝗲 𝗦𝘁𝘂𝗱𝘆 𝗦𝗼𝗰𝗶𝗲𝘁𝘆 বা সংক্ষেপে গেনশিকেন নামক ক্লাবটিতে সদস্যরা মূলত এনিমে, মাঙ্গা, গেইম , কসপ্লে, হেন্তাই এবং যাবতীয় ওতাকু সম্পর্কিত জিনিস নিয়ে আলাপ আলোচনা করে । গল্পের শুরু হয় ভার্সিটিতে সদ্য ভর্তি হওয়া কেঞ্জি সাসাহারা নামক ছেলেকে নিয়ে। বেশ নম্র ভদ্র স্বভাবের হলেও তার ইচ্ছা জাগলো বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে ওতাকু জগতে একটু প্রবেশ করে দেখবে । গেনশিকেনের খোঁজ পেয়ে ক্লাবটিতে সানন্দে সদস্য হয়ে গেল সে। একইসাথে মাকোতো কোসাকা নামক আরেক ছেলে তার সাথে ক্লাবে যোগ দেয়। কোসাকা দৈহিকভাবে বেশ সুদর্শন । একইসময় সাকি কাসুকাবে নামক মেয়ে প্রথম দেখাতেই কোসাকা এর প্রেমে পড়ে যায় এবং অদ্ভুতভাবে দুইজনে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে যায় এই অল্প সময়ে । কিন্তু ওতাকু কালচারকে অপছন্দ করা কাসুকাবে তার প্রেমিকের গেনশিকেন ক্লাবে যোগদানের ব্যাপারটা ভালো চোখে দেখলো না। তবু বাধ্য হয়ে ক্লাবে নিয়মিত যাতায়াত চলতে থাকে তার । একই সময় ক্লাবের পুরাতন সিনিয়র সদস্যদের সাথে সদ্য যোগ দেয়া এই ৩ জনের নানা হাসি ঠাট্টা, খোঁচাখুচি চলতে থাকে এবং এভাবে দিনকাল অতিবাহিত হতে থাকে।

মতামত ও পর্যালোচনা:
এই সিরিজের সবচেয়ে বড় দিকটা আমার মতে এর বাস্তবতা এবং ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট। ভার্সিটির শেষ বছরগুলোতে সবার চাকরি খোঁজা নিয়ে ব্যস্ততা ও হতাশা, প্রেমের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সঙ্গীর ভালো মন্দ লাগার ব্যাপারটা না চাইতেও মেনে নেয়া ও একটা সময় তাতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া, পেশাগত জীবনকে আলিঙ্গন করতে যেয়ে পুরনো সুখ স্মৃতিগুলো বিসর্জন দেয়ার মতো দিকগুলো ফুটে এসেছে। অন্যদিকে প্রায় প্রতিটি মূল চরিত্রকে বেশ ভালো রকম স্ক্রিন টাইম দিয়ে তাদেরকে গভীরতা দান করা হয়েছে । প্রত্যেকের দৃষ্টিকোণ থেকে একে অপরকে দেখানো হয়েছে। ধীরে সুস্থে সময় ও যত্ন নিয়ে এদের মধ্যে একটা গভীর বোঝাপড়া গড়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে সিরিজের আরেকটা ভালো দিক ছিল এর গল্প। স্লাইস অফ লাইফ হিসাবে গল্পের পেসিং নিয়ে এ ধরনের সিরিজে অনেক সময় সমস্যা দেখা যায়, বোরিং লাগে। কিন্তু সিরিজটিতে সেরকমটা লাগেনি মোটেও। যতটুকু ধীর ছিল, সেটা চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন ছিল।
এতক্ষণ যা যা বললাম সেগুলো মূলত প্রথম ২ সিজনের ব্যাপারে বলেছি। ৩য় সিজন থেকেই শুরু যত বিপত্তি। নতুন চরিত্রগুলোর মাঝে আগের মতো সেই চারিত্রিক দৃঢ়তা ছিল না। ক্লাবের কাজগুলো খুব রসকষহীন লাগছিল। গল্প Repetitive হয়ে যাচ্ছিল। পুরো গল্প বলতে গেলে শুধু ২ টা চরিত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছিল যেটা প্রথম ২ সিজনের পুরো বিপরীত। তবে মাদারামে এর চরিত্রটার এক্ষেত্রে প্রচুর বিকাশ ঘটে। ক্লাবের সবচেয়ে “বড় ওতাকু” এই সময় ম্যাচিউরিটি অর্জন করে। মাদারামে এর এই পরিপক্বতা দেখার মতো ছিল। কিন্তু সামগ্রিকভাবে পুরো ৩য় সিজন মানে 𝗚𝗲𝗻𝘀𝗵𝗶𝗸𝗲𝗻 𝗡𝗶𝗱𝗮𝗶𝗺𝗲 একটা আক্ষেপের নাম ছিল আমার কাছে। ক্লাবের পুরো ফোকাস হঠাৎ করে BL আর cross-dressing এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। প্রথম ২ সিজনে যেভাবে ছোটো থেকে বড় সকল চরিত্রের সুন্দর ডেভেলপমেন্ট দেখা গেছে, সেই তুলনায় ৩য় সিজনে মন ভরেনি। বিশেষত কুচিকি নামক চরিত্রটাকে তো ব্যবহার ই করা হয়নি ঠিকমতো। অল্প যেটুকু স্ক্রিনটাইম দেয়া হয়েছে কুচিকি কে, তা অযথা কাজকারবারে নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ ভারী রকম character based এই সিরিজে কুচিকি কে খুব ভালো করে ব্যবহারের সুযোগ ছিল।
সে যাই হোক। ৩য় সিজনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল মাদারামে এর চারিত্রিক বিকাশ। সম্ভবত, মাদারামে এর জন্যই পুরো ৩য় সিজনটা বানানো হয়েছে এক হিসাবে। পুরো সিরিজের সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হিসাবে মন জয় করে নিয়েছে।
সর্বোপরি, ওতাকুদের নিয়ে এ পর্যন্ত বেশ অনেকগুলো সিরিজ দেখেছি। তবে নিঃসন্দেহে 𝐆𝐞𝐧𝐬𝐡𝐢𝐤𝐞𝐧 এদের মধ্যে সেরা। ৩য় সিজনের কথা বাদ দিলে চমৎকার একটা সিরিজ। এনিমে, মাঙ্গা নিয়ে আমরা যারা সারাদিন মেতে থাকি, তাদের জন্য সিরিজটা দেখা আবশ্যক আমার মতে।

রেটিং
প্লট: ৮/১০
গল্প: ৮/১০
চরিত্রায়ন: ৮.৫/১০
এনিমেশন-আর্টওয়ার্ক: ৭.৫/১০ (আগের দিনের সিরিজ। সেই হিসাবে ভালোই)
সামগ্রিকভাবে –
সিজন ১+২: ৮/১০
সিজন ৩: ৭.৫/১০ (মাদারামে এর জন্য ০.৫ বাড়িয়ে দিলাম। এছাড়া ৭/১০ এর বেশি দিতে মন সায় দিচ্ছে না। বলে রাখা ভালো, আমার ৭ রেটিং হয়ত অন্যদের ৬.৫ বা ৬ এর সমান হবে 😂)