অ্যানিমের ইতিহাস যোকু শৌ – ১.৯৪৮ তম পর্বঃ ওসামুশি(-শি)

“You should work doing the thing you like most of all.”

২০ বছর বয়সে যখন ওসামু তেজুকা জীবনের এক সন্ধিক্ষনে পৌছলেন, চিকিৎসক না মাঙ্গাকা, কোন নেশাটাকে পেশা হিসেবে নিবেন তা নিয়ে দোদুল্যমান, তখন এটাই ছিল তাঁর মায়ের উপদেশ। দুই পেশার প্রতিই তার ভালোবাসা আর সম্মান ছিল। যদিও সামাজিকভাবে মাঙ্গাকা হওয়া সেসময় যেমন খুব একটা সম্মানের পেশা ছিল না, আর সম্মানীটাও ছিল সেরকমই কম। কিন্তু যদি আসলেও পারিবারিক চাপে তুলনামূলক ভালো আর্থিক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মাঙ্গাকা হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিতেন, তাহলে ভাবুন তো মাঙ্গার ইতিহাসটা কতটা বদলে যেত?
অ্যানিমের ইতিহাস?
জাপানের ইতিহাস, তাদের পুরো সংস্কৃতিও কি না?

তিন সন্তানের সবচেয়ে বড়, ওসামু তেজুকার জন্ম ৩ নভেম্বর, ১৯২৮; ওসাকা প্রিফেকচারের তোয়োনাকা শহরে। কিন্তু তাঁর বেড়ে ওঠা হিয়োগো প্রিফেকচারের তাকারাযুকা শহরে। ছোট ওসামু তেজুকার ভালোবাসার বিষয় ছিল তিনটি।

পোকা সংগ্রহ।
থিয়েটার। তার মায়ের সাথে তাকারাযুকা থিয়েটারে তাকারাযুকা গিতীমঞ্চনাটক দেখতে যাওয়া। তাকারাযুকা থিয়েটারের মঞ্ছস্থ হত রোমান্টিক সব গল্প, রাজকন্যা আর রাজপুত্রের গল্প। কিন্তু মজার বিষয় এর অভিনেত্রী-“অভিনেতা” সবাই ছিলেন মেয়ে। এমনকি পুরুষ চরিত্রেগুলোতেও।
আর বাসায় তার বাবার সংগ্রহের কমিকস আর কার্টুন। তেজুকার আগ্রহী চোখ নিবিদ্ধ থাকতো ওয়াল্ট ডিজনী আর ম্যাক্স ফ্লাইসার(পপাই, বেটি বুপ, সুপারম্যান) এর অনবদ্য অ্যানিমেশনে। তার দুই অনুপ্রেরণা।
জ্বলজ্বল করা বড় বড় সব চোখের চরিত্রের কার্টুন।
বাম্বি, মিকি মাউস, পপাই।

তেজুকা কমিকস দ্বারা এতটাই মুগ্ধ হলেন যে এলিমেন্টারি স্কুলের দ্বিতীয় বর্ষেই নিজে তা আঁকা শুরু করলেন। কিন্তু বাদ সাধল ভাগ্য। যে হাত দুটো দিয়ে তিনি বছর বছর পরে আঁকবেন Black Jack, সেই হাতদুটোই সংক্রমণের ফলে এত ফুলে গেল যে তা হারানোর যোগাড়। চিকিৎসকের নিবিড় পরিচর্যায় তেজুকা সুস্থ হয়ে উঠলেন। তবে এ ঘটনা তার মনে বড় একটা প্রভাব ফেলল। তেজুকা মাঙ্গা লেখা চালিয়ে গেলেন ঠিকই, কিন্তু একই সাথে ভর্তি হলেন ওসাকা ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টিতে। কলেজের প্রথম দিকেই, মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার প্রথম মাঙ্গা প্রকাশ পেল ছোটদের পত্রিকায়, চার-প্যানেলের এক মাঙ্গা, The Diary of Ma-chan.
[http://i.imgur.com/OqWZzNk.jpg]

তার কাজে পশ্চিমের অনুপ্রেরণা ভালোভাবে প্রকাশ পেল তার পরবর্তী মাঙ্গায়, ১৯৪৭ এ। ছোটবেলায় যেসব ধ্রুপদী গল্প পড়ে বড় হয়েছেন, তেমনই একটি, Tressure Island এর গল্পে নিজের ছোঁয়া লাগিয়ে তিনি লিখলেন The New Tressure Island/Shin Takarazima। যা আগের সব মাঙ্গার থেকে আলাদা ছিল তার অসাধারন গল্পবুঁনট, সিনেমাটিক দৃশ্যায়ন আর দ্রুতগতির কাহিনীর কারণে। Shin Takarazima জনপ্রিয়তা জাপান জুড়ে ছড়াল, তা বিক্রি হল হটকেকের মত। প্রায় ৪ লাখ কপি!
[http://i.imgur.com/DWoL60k.jpg]

“পোকা সংগ্রাহক” তেজুকা অবশ্য তার এই ভালোবাসাটাও ভুললেন না। Osamushi বা Ground Beetle এর নামে রাখলেন নিজের ছদ্মনাম।
মেডিকেল স্কুলের পাঠ শেষ হল। কিন্তু “ডক্টর ওসামু তেজুকা” চিকিৎসাবিদ্যা বাদ দিয়ে যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের মানুষের জীবনকে পরিবর্তনের দায়িত্ব নিলেন।
মাঙ্গার প্যানেলে।

10451023_911098545588630_673127875041019372_n

 

Comments

comments