নারুটো ফ্যান-ফিকশান: Jiraiya — Rahat Rubayet

কোনোহার আকাশপথে বিশালাকারের বেলুনযানে গ্রাম এর অবস্থা তদারকি করছেন ৭ম হোকাগে। গ্রামের বিভিন্ন জায়গায়-নানা কাজে এখানে সেখানে অন্তত শ’খানেক শ্যাডো ক্লোন বা কাগে বুনশিন ঘুরে বেড়াচ্ছে। গ্রামে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগতে কাজের চাপ পাহাড়সম। এই এখন বহুতল অত্যাধুনিক হাঁসপাতালের উদ্বোধন তো ১ মিনিট বাদেই নতুন ব্রীজের কাজে শ্রমিক-বিদ্রোহ, পরক্ষনেই পাশের গ্রামের কাগের স্পেশাল গেস্ট হিসেবে গ্রামে আসা, তারওপর গাদা গাদা ডেস্কজব, টেলিভিশনের বিশেষ ইন্টারভিউ- তারপর নিজের ফ্যামিলি।
এছাড়াও গ্রামের এখানে সেখানে হাজারটা দরকারে স্বয়ং হোকাগে হিসেবে নিজেই কাজ করে যাচ্ছে। যদিও গ্রামের দেখভালের কাজটা সানন্দেই করে চলেছে নারুতো। তবু মাঝে মাঝে এতটাই ব্যস্ত সময় পার করে যে, কাজের বাইরেও যে একটা জীবন আছে তা ভুলে যেতে বসেছে ধীরে ধীরে।
এতসবের মাঝেও প্রায়ই একটা দীর্ঘশ্বাস চাপে ও মনে মনে। জীবনের চাওয়া পাওয়ার মাপকাঠিতেতে প্রাপ্তির পাল্লাটা হেলে পরলেও অপ্রাপ্তির ভারটাও নেহায়েত কম না।
নারুতো সেই ছোট থেকেই চাইতো গ্রামের সবাই ওকে গ্রহন করুক আর সম্মান করুন। সে থেকেই হোকাগে হওয়ার স্বপ্ন আর তাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার এত সাধনা।
ইরুকা সেন্সে, কাকাশি সেন্সের পাশাপাশি এরো সেননিনও থাকবে- হোকাগের ক্লোকটা গায়ে চাপিয়ে…. চাইল্ড অব প্র……… এবার আর দীর্ঘশ্বাস গোপন করে না নারুতো। মাথাটা নামায় ডেস্কের স্তুপ করে রাখা কাগজে। চোখ দুটো বুজে এসেছে -অবসন্ন। চিন্তায় ছেদ পরল দরজায় টোকা পরায়।
এরই মধ্যে নিজের অফিসে ফিরে এসেছে ও। শিকামারু ঢুকল টোকা দিয়ে।
নারুতো এরর মাঝে ধাতস্থ হয়েছে। একমনে কাজ করে যাওয়ার একটা অভিব্যক্তি চোখে মুখে।
-“নারুতো, ওরোচিমারু এসেছে, কি নিয়ে যেন কথা বলবে তোমার সাথে।”
একটু অবাক হয় নারুতো। শ্যাডো ক্লোনের সাইন করতে যেতেই বাধা দেয় শিকামারু।
-“ক্লোন নয়, তোমাকে সশরীর এ যেতে বলেছে বারবার করে। ছাদে চলে যাও সরাসরি।”
এবারে বেশ অবাক হলেও কিছু না বলে দরজার দিকে এগোয়। কাছে যেতেই দরজায় নকের শব্দ পায়, খুলেই দেখলো বোরুতো এসেছে হিমাওয়ারিকে নিয়ে।
নারুতো অন্যমনস্ক থাকলেও ঠিকই খেয়াল করল ওদেরকে। কিছু না বলে ইশারায় বসতে বলে ছাদের পথ ধরলো। ইচ্ছে করলেই জানালা গলে লাফ দিয়ে ছাদে পৌঁছতে পারত ও। কিন্তু, এখন ও হোকাগে। ইচ্ছে থাকলেও অনেক কিছুই করা সম্ভব না ওর পক্ষে।
ছাদে ওরোচিমারু দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিনমুখো হয়ে। গ্রামের প্রায় পুরোটা অংশেই চকিতে চোখ বুলিয়ে নেয়া যায়। মেয়েলি চুলগুলো কোমর ছাড়িয়ে নেমে গেছে- দুলছে বাতাসে। নারুতো পেছনে গিয়ে দাড়াতেই ওর দিকে ফিরলো। নারুতোর গায়ে কাটা দিয়ে ওঠে। দেখতে ওদের থেকেও কমবয়সী লাগছে ওরোচিমারুকে। কথা ওরোচিমারুই বলতে শুরু করে প্রথমে।
ধির ঠান্ডা গলায় তার জীবনবোধ নিয়ে বেশ কিছু কথা বলে গেলো ওরোচিমারু। নারুতো চুপ করে শুধু শুনে গেলো। বলতে বলতে জিরাইয়ার কথায় এসে হালকা দীর্ঘশ্বাস কি ফেললো ওরোচিমারু? নারুতোর কাছে দীর্ঘশ্বাসই মনে হল।একটু থামলো, উলটো ঘুরে নারুতোর মুখোমুখি হল।
হাত নাড়ল ওরোচিমারু। হ্যান্ডসাইন ওয়েভ করেই মাটি স্পর্শ করল। সামোনিং জুতসুর সাইন ভালই চিনে নারুতো। চকিতে অনেকগুলো চিন্তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল, নারুতো পাত্তা দিল না। ওরোচিমারু এখন আর গ্রামের জন্য কোন থ্রেট নয়। তাছাড়া তার অভিব্যক্তিতেও এমন কিছু একটা আছে যা নারুতো ধরতে না পারলেও তা থেকে বিপদের আভাস পেল না।
ওদিকে ওরচিমারুর সামোনিং জুতসুতে সাড়া দিয়েই ধিরে একটা কফিন উঠে এল।
নারুতো তাকিয়ে আছে কফিনের দিকে। তাকিয়ে থাকতে থাকতেই দেখলো, কফিনের দরজা খুলে আছড়ে পরল একপাশে। নারুতো কফিনের দরজার দিকে তাকায় না। ওর দৃষ্টি নিবদ্ধ কফিনের ভেতরের মানুষটার দিকে। এরো সেননিন(পারভি সেইজ)!
জিরাইয়া এক পা ফেলে কফিনের বাইরে, তারপর আরেক পা।
সূর্যের তাপ কি কিছুটা কমে এলো? চারিদিক কেমন যেন ম্লান আর নিষ্প্রভ লাগে নারুতোর কাছে। সেই, সাদা চুল- অদ্ভুত পোষাক। পায়ের খড়মগুলো কেমন যেন ঝাপসা লাগে নারুতোর চোখে। ইচ্ছে করলেই হাত দিয়ে চোখটা মুছে নিতে পারে ও।
নারুত ঝাপসা দৃষ্টি নিয়ে বোকাচোখে তাকিয়ে থাকে। বুকটা চাপ দিয়ে ওঠা অনুভূতিটা মরে গিয়ে কেমন যেন ফাকা ফাকা লাগে হটাত।
জিরাইয়ার কন্ঠ গমগম করে ওঠে “হিসাশিবুরি দানা”
নারুতো কিছু না বলে তাকিয়ে থাকে শুধু।
“আরে, হোকাগের ক্লোকে দারূন মানিয়েছে তোমাকে। তবে, বড্ড ছোট হয়ে গেছে- এই যা। ৪র্থ হোকাগের ক্লোকটা সে দিক থেকে বলতে চমৎকার বানিয়েছিল।”
নারুতো সামলে নিয়েছে নিজেকে। চোখের পানি অদৃশ্য হয়ে, মুখের ম্লান হাসিটা স্বরূপে ফিরে এসেছে। জিরাইয়া তির্যক চোখে নারুতোর নিল চোখের দিকে তাকিয়ে ভ্রুকুটি করলো। শেষবার যে নারুতোকে দেখেছিল তার সাথে এখনকার নারুতোর অমিল থাকবেই- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, কিছু একটার ছায়া দেখতে পেলো সে নারুতোর চোখেমুখে। ২ ২টো নিঞ্জা ওয়ার চাক্ষুষী চোখ তা চিনতে ভুল করলো না। আগেও এমন ছায়া অনেকের চোখেই দেখেছে জিরাইয়া। তবে নারুতোর প্রাণবন্ত মুখটার জায়গায় অমন ভারিক্কী চেহারা দেখে অস্বস্তি লাগছে জিরাইয়ার। ও কি মিনাতোর মৌন অনুরোধ ঠিকমতন রাখতে পারে নি? আরো বেশি সময় কি নারুতোকে দেয়া কর্তব্য ছিল তার?
না, তা নয়। জিরাইয়া তার অস্বস্তির কারনটা ধরতে পারে। অস্বস্তি লাগার কারন তাকে রিএনিমেট করা হয়েছে। আর তা করেছে, পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা চিরনবীন ওরোচিমারু।

ওরোচিমারুর দিকে তাকাতেই মুখের অভিব্যক্তি পরিবর্তন হয় জিরাইয়ার।
-“পুরনো বন্ধুর কাছ থেকে অভিবাদন মূলক কথাবার্তাকে সৌজন্যতা বলে বোধ হয়, জিরাইয়া।”
–“বন্ধু, সৌজন্যতা, অভিবাদন- খেয়ালি শব্দগুলো তোমার মুখ থেকে বেরুচ্ছে, বিশ্বাস হয় না।”
-“হাহাহাহা, এত সিরিয়াস হবার কিছু নেই। তোমাকে গ্রাম ধ্বংসের কাজে ম্যানুপুলেট করার কোন ইচ্ছে আমার নেই।”
–” তাহলে?”
-“আমাদের ৭ম হোকাগের সাথে দেখা করিয়ে দেবার জন্যই এই ‘আয়োজন’।”
–” ৭ম? ৬ষ্ঠ হোকাগে কে?”, বলেই ঘুরে স্টোন-ফেইসগুলোর তাকায় জিরাইয়া।
“কাকাশি? ছোকরার মুখোশ সমেতই মুখচ্ছবি বানিয়েছে!!” বলেই হাসতে থাকে উঁচু গলায়।
এর মাঝে বেশ অনেকটা সময় কথা বলল, জিরাইয়া নারুতো আর ওরোচিমারুর সাথে।
এর মাঝে থাকতে না পেরে ঘুমন্ত হিমাওয়ারিকে সোফায় রেখে ছাদে এসেছে বোরুতোও তাও বহুক্ষণ। ছাদের দরজার আড়াল থেকে তার বাবা, ওরোচিমারু আর অচেনা ওই দীর্ঘদেহী লোকটাকে দেখে যাচ্ছে।
হটাত, হিমাওয়ারির শব্দ পেয়ে পাশে তাকাল। দেখলো, চোখ কচলে দাঁড়িয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে। বোরুতো তাকাতেই দেখলো, অচেনা সেই লোকটা যেন বালুর মতন ঝড়ে পরছে ছাদের ওপর।
হিমাওয়ারি আরেকবার চোখ কচলে নিয়ে ভাল করে তাকায়। তার বাবা শিশুদের মতন কাদছে ওখানে। হিমাওয়ারি ভায়ের জামাটা শক্ত করে ধরে চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে থাকে।

Comments

comments