রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩৭: Fullmetal Alchemist Brotherhood — Abed Rahman

নাম: ফুলমেটাল আলকেমিস্ট ব্রাদারহুদ
পর্ব সংখ্যা:৬৪
ধরণ: একশন, এডভেঞ্চার, শৌনেন, ড্রামা, ফ্যান্টাসি।
রেটিং:৯.৫/১০।

“This is what happens when you tread into god’s territory or whatever you wanna call it”-Edward Elric

গ্রীক পুরাণের ইকারাস এর কথা মনে আছে? এই অভাগা চরিত্রটি মোমের তৈরি পাখায় করে সূর্যের খুব কাছে চলে গিয়েছিল, ফলে তার পাখা গলে সে পরে যায়। প্রকৃতি রীতিবিরুদ্ধ্ব কোন কিছুকেই মেনে নেয় না। একথা সকলেরই জানা। কিন্তু ভালবাসার জন্য কি আপনি বিধাতার নিয়ম ভাঙবেন? আর বিধাতা কিংবা প্রকৃতিই বা কি তা মেনে নিবেন? সহজ উত্তর হল না। তবুও কি আপনি সেই প্রিয় মানুষটির জন্য বিধাতার নিয়মের বিরুদ্ধে যাবেন? আর বিধাতা কিংবা প্রকৃতির দেওয়া শাস্তির প্রায়শ্চিত্তইবা কিভাবে করবেন? মূলত এইসব তাত্ত্বিক প্রশ্নের উত্তর সুন্দর সাবলীল কাহিনী এবং না ভোলার মত কিছু চরিত্রের দ্বারা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই এনিমেতে।

পটভূমিঃ ফুলমেটাল আলকেমিস্ট ব্রাদারহুদ এর জগতটাও আমাদের জগত থেকে অনেকটাই ভিন্ন। আলকেমিস্টরা হলেন এ জগতের বিজ্ঞানি। যারা কিনা জাদুর মত যেকোনো জিনিস কে তিনটি ধাপের মধ্য দিয়ে তৈরি করেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু। এর নাম হল ট্রান্সমিউটেশন বা রূপান্তর। কিন্তু যথারীতি তারাও নিয়মের ঊর্ধ্বে না। যেকোনো কিছু পেতে হলে তাদের সমান কিছু বিনিময়ে দিতে হবে। এটাই হল Law of Equivalent Exchange অথবা সমান বিনিময়ের বিধান।এসবের পরেও আপাতদৃষ্টিতে এই আলকেমিস্টদের সর্বশক্তিমান মনে হলেও তাদেরও একটি এই বিদ্যা ব্যবহারে বাঁধা আছে। আর সেটি হল হিউম্যান ট্রান্সমিউটেশন কিংবা মানব রূপান্তর করা। এটাকে ধরা হয় আলকেমির সবচাইতে নিষিদ্ধ কাজ or greatest taboo । এমনি এক জগতের দুভাই হল এডওয়ার্ড এবং আলফন্স। তাদের আলকেমিস্ট বাবা ছোট বেলায় কোন এক কারণে তাদের মার কাছে রেখে চলে যান। সে থেকেই তাদের জগত তাদের মাকে ঘিরেই। বাবার লাইব্রেরির বই পরে আলকেমি ব্যবহার শিখে যায় এই দুই ভাই। উদ্দেশ্য মার জন্য নতুন নতুন উপহার বানানো।কিন্তু সেই মাও একদিন তাদের ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে।সোজা ইংরেজিতে  prodigy এদুভাই ভালবাসার জন্য করে বসে সবচাইতে বড় ভুল। নিজেদের মাকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে করে হিউম্যান ট্রান্সমিউটেশন । ফলে এই জগতের ঈশ্বর যাকে ‘Truth’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে শাস্তি স্বরূপ তাদের দেহগুলকে বিনিময় হিসেবে নিয়ে নেন। বড় ভাই এডওয়ার্ড হারায় তার বাম পা আর আলফন্স হারায় তার সমগ্র শরীর। পরবর্তীতে এডওয়ার্ড নিজের ডান হাতের বিনিময়ে নিজের ভাইয়ের আত্মাকে এক দেহবর্ম তে আটকে ফিরিয়ে আনে।নিজেদের সকল পিছুটান ছেড়ে তারা নিজেদের যাত্রা শুরু করে কল্পকথার পরশমণি কিংবা Philospoher’s Stone এর খোঁজে যা কিনা Law of Equivalent Exchange অথবা সমান বিনিময়ের বিধানের বাহিরে; যা তাদের হারানো শরীর ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে । এই দুই ভাইয়ের এই খোজকে কেন্দ্র করেই উন্মোচিত হয়েছে এই এনিমের নানান ঘটনা।

দৃশ্যকল্প ও চরিত্র উন্নয়নঃ এক কথায় অসাধারণ। সত্যিকারের থিম একটু ডার্ক হলেও হাসিঠাট্টা, আবেগঘন থেকে শুরু করে সোজা বাংলায় মারমার কাটকাট দৃশ্যের অভাব ছিল না মোটেই। আর দৃশ্যগুলোর প্রত্তকেটাই কাহিনির প্রবাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণও বটে। অপরদিকে, অনেক চিরাচরিত শোনেন এনিমেতে পার্শ্ব চরিত্রগুলো মূল চরিত্রদের আড়ালে পরে যায়, এখানে এমনটি হয়নি।

সাউন্ডট্র্যাকঃ আবারো তারিফ করতে হচ্ছে। Yui এর জাদুকরী গলার থিম হোক কিংবা Let it all out হোক, সবগুলই একটা নির্দিষ্ট গুনগত মান বজায় রেখেছে। আর কিছু ট্র্যাক আপনাকে আজীবন মোহিত করতে সক্ষম, এটুকু জোরের সাথে বলাই যায়।

ব্যক্তিগত মতামতঃ আবারো এক কথায় আসি। আমি এই এনিমে নিয়ে রিভিউ লেখার কারন হল আমার মতে এটা এলিমে ওয়ার্ল্ড এর Jack of All Trades কিংবা সব কাজের কাজি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটা ক্ষেত্রেই এনিমে নির্মাতারা মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। আর এন্দিং হ্যাপি এন্দিং হলেও তা পুরোপুরি রুপকথার গল্পের শেষের মতও নয়। আর উপসংহার সঠিক সময়ে টানা হলেও কবিগুরুর “শেষ হয়েও হইলনা শেষ” ধরনের একটা আমেজও থেকে যায়।একমাত্র সমালোচনা হোল প্রধান খলনায়ক “Father” এর চরিত্রটি। তার “Dwarf in the flask” হিসেবে হটাত আগমন চিরাচরিত Deus Ex Machina এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলেই মনে হয়েছে। কিছু Homunculus এর চরিত্রও এই দোষে দুষ্ট। তবে এটুকু মাফ করাই যায় বলে আমার ধারনা।  

37 Fmab-poster

Comments