Steins; Gate review by Farhad Mohsin

 

কখনো মনে হয়েছে যদি অতীতে চলে যেতে পারতেন তাহল কোন পরিবর্তনটা করে আসবেন? বা অতীতে যদি যেতে নাও পারেন, যদি সুযোগ দেওয়া হয় কেবলমাত্র একটা ইনফরমেশন অতীতের আপনার কাছে পাঠাতে, তাহলেই বা কি বলবেন? টাইম ট্রাভেলের উদ্দেশ্য কি হবে আপনার কাছে? অর্থ? ক্ষমতা? না বিশ্বশান্তি। স্টেইন্স গেটের শুরুটা অনেকটা এরকম বিভিন্ন প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করতে করতেই।
স্টেইন্স গেট নিয়ে লিখতে গেলে প্রথম যেটা মনে হয় সেটা হচ্ছে স্পয়লার না দিয়ে এর কাহিনীর সিনোপ্সিস দেওয়াটা কঠিন। তাই আমি সেই চেষ্টাটাও করব না। আনিমের পুরোটা জুড়ে আছে সময় পরিভ্রমন (টাইম ট্রাভেল)। আছে ম্যাড সায়েন্টিস্ট হিয়োঔইন কিয়োমা ওরফে ১৮ বছর বয়সী ওকাবে রিনতারো। আছে তার টাইম গ্যাজেট ল্যাবের ল্যাবমেটরা। যাই হোক, আনিমেটা নিয়ে পয়েন্টওয়াইজ ডিস্কাস করার চেষ্টা করি।

কাহিনী:
টাইম ট্রাভেল নিয়ে ফিকশনের বিভিন্ন মিডিয়ামে কাজ তো আসলেই কম হয় নাই। এর মধ্যে ডিফারেন্ট কিছু হিসেবে এস্টাব্লিশ করাটাও একটু টাফ কাজ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই হিসেবে স্টেইন্স; গেট বেশ ভালোমতই সফল। স্টেইন্স গেটের সবচেয়ে বড় ব্যাপার মনে হয় টাইম ট্রাভেল স্টোরি হিসেবে বা শুধু সায়েন্স ফিকশন হিসেবে বিচার করলেও এর লজিক যথেষ্ট সলিড। খুব কম জায়গাতেই ইনকন্সিস্টেন্সি দেখা যায়।
তবে সবকিছুর পরেও, একটা টাইম ট্রাভেল স্টোরির মূল ফোকাস কখনোই তার লজিক হয় না। বরং টাইম ট্রাভেলের এপ্লিকেশনটাই অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়। এখানেও তাই। যদিও প্রথম দিকে শুরু হয়ে পুরো সায়েন্টিফিক রিসার্চের মত। টাইম ট্রাভেলের ফলাফল কি হতে পারে, পাস্ট চেঞ্জ করা যায় কি না ইত্যাদি নিয়ে ডিল করে প্রথম পর্বগুলো, এই অংশের হিউমার খুবই ভাল। কিন্তু এর পরেই ব্যাপারটা মোড় নেয় টাইম ট্রাভেলের কনসেকুয়েন্স নিয়ে। টাইম ট্রাভেলের ফলে তার কাছের মানুষের যে ক্ষতি হয়, তার রেস্পন্সে একশনে যায় কিয়োমা ওরফে ওকারিন। এবং গল্পের শেষটা আসলেই অনেক বেশি টাচিং। মাঝের ও শেষের পর্বগুলোতে খুব ভালোভাবে ইমো খেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
রেটিং: ১০

ক্যারেক্টার:
স্টেইন্স গেটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে এর ক্যারেক্টাররা আর ক্যারেক্টারদের মধ্যেকার ইন্টারেকশন। এদের মধ্যে মূল ক্যারেক্টার ওকাবে রিনতারো আসলেই পুরো অন্য লেভেলের। প্রথম দিকে মনে হচ্ছিল এরকম ড্রামাটিক ক্যারেক্টার কখনো দেখি নাই। কিন্তু শেষতক এও মনে হয়েছে এরকম হিরোয়িক ক্যারেক্টারও মনে হয় আমি অনেক কম দেখেছি। এর বাইরে প্রতিটা ক্যারেক্টার ও গল্পে তাদের ভূমিকাই আসলে খুবই ওয়েল রিটেন।
রেটিং: ১০

আর্টওয়ার্ক:
স্টেইন্স; গেটের আর্টওয়ার্ক খারাপ না, খুব এক্সেপশনাল কিছু না যদিও। এমনিতে ক্যারেক্টার ডিজাইন, ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইন ইত্যাদি বেশ স্যুটেবল স্টোরির জন্য।
রেটিং: ৯

ওএসটি ও মিউজিক:
থিমের সাথে বেশ অ্যাপ্রোপ্রিয়েট। ওপেনিং, এন্ডিং কোনটাই যদিও ঠিক কানে লেগে থাকে নি, খারাপও লাগে নি আসলে।
রেটিং: ৮

ওভারাল:
সব মিলিয়ে আমার কাছে স্টেইন্স গেট একটা মাস্টারপিস। আমি নিজে কনসেপচুয়াল সায়েন্স ফিকশন বা টাইম প্যারাডক্স রিলেটেড গল্পের প্রতি অনেক বেশি বায়াসড বলেও সেটা মনে হতে পারে অবশ্য। যাই হোক, এত ওয়েল মেড, লুপহোল ছাড়া, অসাধারণ ক্যারেক্টারাইজেশনওয়ালা একটা আনিমে দেখতে কার না ভাল্লাগে।
ওভারাল রেটিং: ৯.৫

Children Who Chase Lost Voices – Anime movie review by Torsha Fariha

ডিরেকটর- মাকোতো শিনকাই
আইএমডিবি রেটিং- ৭.৩/১০

যারা মাকোতো শিনকাই এর নাম শুনেই ৫ সিএম পার সেকেন্ড কিংবা কোতোনোহা নো নিওয়া’র মত ম্যাচিউরড অ্যানিমেশন মুভি আশা করছেন তাদের বলছি এই মুভিটা ফিকশনাল( অনেকটা মিয়াজাকির ঘিবলি মুভিগুলার মত)। তাঁর নরমাল কাজের তুলনায় বেশি লাইভলি, অ্যাডভেঞ্চারাস। তবে একেবারে বাচ্চাদের কাহিনী এটা না। বোঝার, ফীল করার, কষ্ট পাবার, শূন্যতা অনুভব করার সব উপকরণই আছে। 

এই কাহিনীর নায়িকা আসুনা নামের একটা মিডল স্কুলে পড়া মেয়ে। আসুনার বাবা মারা যায় ছোট থাকতেই আর মা নার্স। যেহেতু কাজের চাপে মা খুব একটা সময় দিতে পারে না আসুনাকে। তাই দিনের অনেকটা সময়ই সে একা একা তার বাবার দেয়া ক্রিস্টাল রেডিও শুনে কাটায়। মাঝে মাঝেই সে খুব অদ্ভুদ সুর শুনতে পেত রেডিওতে। খুব সুরেলা কিন্তু কেমন যেন মনকে বিষাদ করে দেয়া একটা ভিনদেশী গান।
একদিন ক্লাব হাউজে যাবার পথে আসুনাকে হঠাৎই একটা অদ্ভুত জন্তু আক্রমন করে বসে। এবং তাকে বাঁচায় শুন নামের এক রহস্যময় ছেলে। এভাবেই দেখা হয় শুন আর আসুনার।
পর পর দুইদিন দেখা হয় তাদের। আসুনা শুনকে তার হাইড আউটে নিয়ে আসে, তার ক্ষত পরিষ্কার করে দেয়, তাকে ক্রিস্টাল রেডিওতে সেই অদ্ভুত গান শুনায়।

শুন জানায় সে আগার্থা নামের এক দেশ থেকে এসেছে একটা জিনিস খুঁজতে। শেষ দিন শুন বিদায় নেয়ার সময় আসুনার কপালে কিস করে ব্লেসিং হিসেবে। আসুনা তো লজ্জায় লাল হয়ে কোন মতে পরের দিন আসবে বলে পালিয়ে আসে।

কিন্তু পরের দিন তার মা তাকে জানায় পাহাড়ের কাছে এক ছেলের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এবং দেখা গেল সেটা শুনের মৃতদেহ ছিল। আসুনা কোনভাবেই বিশ্বাস করে না শুন মারা গেছে। 
সে এরপর একদিন ক্লাসে আগার্থা নামে দেশের কথা জানতে পারে তাদের নতুন টিচারের কাছ থেকে। আগার্থা হল মৃতদের দেশ। এর কিছুদিন পর তার সাথে শুনের জমজ ভাইয়ের সাথে দেখা হয় যে শুনকে খুঁজতে এসেছিল।

যাহোক ঘটনাক্রমে আসুনা জানতে পারে তাদের নতুন টিচার মুরাসাকি আগার্থায় যেতে চায় তার মৃতা স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে। এভাবেই আসুনা, শুনের যমজ ভাই আর মুরাসাকি সেন্সেই এর আগার্থা অভিযান শুরু হল। একদিকে সেই গানের রহস্য অন্যদিকে শুনের অন্তর্ধানের রহস্য- সব কিছুর সমাধানে বিপদ সংকুল পথে পা বাড়ায় আসুনা।

মোটামুটি এটাই হল কাহিনী। চমৎকার একটা মুভি। যদিও আমি প্রথমে বলেছি ঘিবলির হাসিখুশি মুভির মত এটা । প্রথমে হয়তো যে কারোই সেরকম মনে হবে। কিন্তু দেখা শুরু করলে বোঝা যাবে মাকোতো শিনকাই এর হাতের কাজ কতটা ইউনিক… কতটা অন্যরকম!

Planetes anime reaction post by Fahim Bin Selim

অনেক জায়গায় লেখা দেখলাম মাঙ্গাটা নাকি মাস্টারপিস, অ্যানিমে অ্যাডাপটেশন নাকি খুবি খারাপ। তাই অ্যানিমে দেখা শেষে উইকি থেকে মাঙ্গার সিনোপসিস দ্রুত পড়ে নিলাম। আমার মনে হয় গল্পটা অ্যানিমেতে টিউনিং করে আরো ভালোভাবে শেষ করা হয়েছে।

অ্যানিমের ভিতরের কথা বললে, এতো বড় পরিসরে, এতগুলো চরিত্র নিয়ে এইটাই সম্ভবত আমার দেখা সবচেয়ে ইমোশোনালী রিয়েলস্টিক অ্যানিমে। হাচিমাকিকে শেষের দিকে খুবি বিরক্তিকর লাগা শুরু হলেও সেইনেন অ্যানিমেতে ফেইরিটেল রোমান্স আশা করাটাও হয়তো বোকামি।

ড্রামা, প্রেম, রাজনীতি আর সাইন্স-ফিকশন; কিন্তু ফিকশনটা ডালপালা ছড়ানো অবাস্তব না, নিকট ভবিষ্যত বলাই ভালো। অসাধারন কাহিনী, অসাধারন আর্ট আর এন্ডিংটাও চিরদিন মনে থাকার মত। খুব সহজেই আমার সেরা পাঁচে ঢুকে গেল।

সেরা হার্ড সাই-ফাই অ্যানিমে এবং খুবই, খুবই আন্ডাররেটেড।

“Every ship needs a homeport to get back to.” :’)

Corpse Part: Tortured Sould anime suggestion by Kazi Rafi

রাত ১টার পরে, রুমের দরজা ভিড়িয়ে, বাতি নিভিয়ে, কানে হেডফোন লাগিয়ে দেখার মতন ৪ পর্বের দম ফাটানো হাসির আর বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুকে ভরপুর এক এনিমে Corpse Part: Tortured Soul. এইযে নাম শুনে আপনি হতভম্ব হয়ে গেলেন, এনিমের নির্মাতারা ঠিক এইটাই আশা করছে আপনার পক্ষ থেকে। কিভাবে একটা কমেডি এনিমের নাম এরকম উদ্ভট আর কিছুটা ভীতিকর হতে পারে এই প্রশ্ন নিয়ে আপনি এনিমেটি দেখা শুরু করবেন, এইটাই তাদের মূল লক্ষ্য কারন এই ৪ পর্ব ধরে এই বিষয়টি নিয়েই এই এনিমের কাহিনিটি মূলত গড়ে উঠেছে। এনিমের কাহিনী নিয়ে আর বেশী কথা বাড়ালাম নাহ, কিন্তু একটা কথা নাহ বলে পারছি নাহ, যদিও এটি মূলত খুবই হালকা মেজাজের একটি এনিমে কিন্তু প্রতি পর্বে রয়েছে বেশ গতি আর টুইস্ট যা আপনি অনেক কাছ থেকেও প্রেডিক্ট করতে পারবেন নাহ। 
ওহ হ্যাঁ, বলতে একদমই ভুলে গেছি, এই এনিমে The Association of Japanese Animations (AJA) দ্বারা ‘Kid-Friendly’ সার্টিফাইড, সো গ্রুপে বাচ্চা কাচ্চা কেও থেকে থাকে এই এনিমে তাদেরো দেখার আমন্ত্রন রইল। আর অন্যরা, আপনারা আর সময় নষ্ট নাহ করে নামিয়ে দেখে ফেলুন ভয়াবহ হাসির এই এনিমেটি !!!

এফ এ সি ৩৩

রান্ডম টপিক

সিকাডা ব্লক[Cicada Block]

 

২০১২ সালে টুইটারে অরিজিনেট হওয়া এই মিমটা খুব পপুলার। এটা মূলত ওয়ালের কোণায়  নিজের হাত পা ব্যবহার করে ওয়ান ম্যান ব্যারিকেড তৈরী করে কাউকে আটকে রাখার কায়দা। পোজটা দেখতে সিকাডার মত, তাই একে সিকাডা ব্লক বলে. উদাহরণ কমেন্টে।

 

আনিমে সাজেশন

মুশি-শি[Mushi-shi]

 

মুশি হল অদ্ভুত এক অরগানিজম, যেগুলো উদ্ভিদও নয়, প্রাণীও নয়। এদের ব্যাপারে বিস্তারিত কেউই জানে না, সবচেয়ে বেশি যারা জানে এবং মুশি নিয়ে গবেষণা করে, তাদের বলা হয় মুশি-শি। গিনকো এদেরই একজন।গিনকোর ভ্রমণ কাহিনী, সে কিভাবে মুশি সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা ট্যাকল দেয়, এই নিয়ে আনিমেটা।

 

কেন দেখবেনঃ অদ্ভুত সুন্দর ভিজুয়াল, সাথে একই ধরনের আবহ সঙ্গীত। ঐতিহ্যবাহী ছাপটা চোখে পড়ার মত। ভীষণ মন ছুয়ে যাওয়া কাহিনী, দেখলে মন ভীষণ শান্ত হয়ে যায়, একটা পবিত্র ভাব আসে।

যারা লাস্টের লাইনটা পড়ে হাসছেন, তারা আসলে মুশি-শি না দেখলে বুঝবেন না আমি কি বলতে চাইছি।

 

কেন দেখবেন নাঃ তেমন কোন কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৮১

আমার রেটিং ৯

সেকেন্ড সিজন এখন অন এয়ার, তাই রেট করছি না, তবে ৯ এর কম দেব না, মোটামুটি শিউর।

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

ভ্যাগাবন্ড[Vagabond]

 

মিয়ামতো মুসাশি নাম নিয়ে তাকেজো বেরিয়ে পড়ল অদৃষ্টের খোঁজে। লক্ষ্য একটাই, সে হতে চায় সূর্যের নিচে দাঁড়ানো মানুষগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু কাজটা কি এতই সোজা?

 

কেন পড়বেনঃ তাকেহিকো ইনউয়ের আঁকা, মানে বুঝতেই পারছেন কত অসাধারণ। ভীষণ ডিটেইলড, লড়াইগুলো দেখানো হয়েছে দারুণভাবে, সুপারন্যাচারাল কন্টেন্ট নেই, পিউর স্কিল আর পাওয়ার এর প্রদর্শনী। মাংগাকা অসাধারনভাবে তা ডেলিভার করেছেন। আর মাঙ্গাটা আঁকা হয়েছে সত্য ঘটনার আলোকে।

 

কেন পড়বেন নাঃ তেমন কোন কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৮৬

আমার রেটিং আমার রেটিং নেই, কারণ সিরিজ অন্গিং।

 

এফ এ সি ৩২

রান্ডম টপিক

 গাঙ্গুরো[Ganguro]

 

১৯৯০ এর মধ্যভাগ থেকে জাপানের “বিদ্রোহী গোছের তরুণী প্রজন্ম” ঠিক করলো তারা সব নিয়মকানুনের বাইরে চলে যাবে। তাই তারা করলো কি, কড়া ট্যান করলো, আর সেই সাথে চুলে  ব্লিচিং, আর হেভি মেকআপ। সব মিলিয়ে দেখায় ভূতের মত, কিন্তু তাদের এটাই পছন্দ। ভুতের মত বলছি তার কারণ আছে, এর সাথে জাপানি ফকলোরের সম্পর্ক আছে.

ব্যক্তিগত মতামত: এটা আসলে সুন্দরী মেয়েদের কুত্সিত সাজার চেষ্টা।  উদাহরণ কমেন্টে।

 

 

আনিমে সাজেশন

 সাকামিচি নো অ্যাপোলন[Sakamichi no Apollon]

 

 

ধনী পরিবারে জন্ম প্যাম্পারড কাওরুর সাথে পরিচয় হয়ে গেলো সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর দরিদ্র পরিবারের এক ইয়াঙ্কি সেন্তারোর সাথে। তাদের দুজনেরই ভালো লাগার বিষয়? সঙ্গীত। কাহিনী অবশ্য এখানেই থেমে থাকল না, সঙ্গীতের ডালপালা বেয়ে প্রেমের সম্পর্ক হল বহুভুজ। হ্যাপি এন্ডিঙ, কথাটা কি সবার জন্যই বরাদ্দ?

 

কেন দেখবেনঃ এই পর্যন্ত যতগুলো জোসেই আনিমে দেখেছি, সবগুলোই এক্সেপশনাল, সাকামিচিও এর ব্যতিক্রম নয়। বন্ধুত্ব, প্রেম, নানা ধরনের সম্পর্ক, সবকিছুই খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে, অসাধারণ আবহ সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে।

কেন দেখবেন নাঃ তেমন কোন কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৫১

আমার রেটিং ৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

 সেইশুন ফরগেট[Seishun Forget]

তাইও হিনাতার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা একটাই, হিনাতা এক দিন পরপর আগের কাহিনী ভুলে যায়! তাহলে সবই কি পণ্ডশ্রমে পর্যবসিত হবে?

 

কেন পড়বেনঃ রিসেন্টলি ইসশুকান ফ্রেন্ডস এর প্রশংসায় অনেকেই পঞ্চমুখ, সেইশুন ফরগেটকে বলতে পারেন এর কমেডিক টেইক। যথেষ্ট ভালো আঁকা, রিফ্রেশিং, এঞ্জয়েবল স্লাইস অব লাইফ।

কেন পড়বেন নাঃ কোন অ্যাকশান, ক্লিফহ্যাঙ্গার, সাস্পেন্স ইত্যাদি নেই। প্রেডিকটেবল কাহিনী।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৮০

আমার রেটিং ৭

এফ এ সি ৩১

রান্ডম টপিক

 জাপানী নববর্ষ

 

 

১৮৭৩ সাল থেকে উদযাপন শুরু হয়, দিনের মূল কর্মকান্ড হলো মন্দিরে গিয়ে ঘণ্টা বাজানো, এরপর পরিবারের সাথে মচি, সোবা ইত্যাদি খাওয়া। বড়রা ছোটদেরকে খামে ভরে টাকা দেন, অনেকটা সালামির মত, একে বলে ওতশিদামা। ১০০ ডলার পাওয়াও বিচিত্র কিছু না.

 

 

আনিমে সাজেশন

ফুশিগি ইয়ুগি[Fushigi Yuugi]

 

 

জাদুর বলে অতীতের এক জগতে পা রাখল মিয়াকা। জড়িয়ে পড়ল সে সেখানকার ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িত দুই গোষ্ঠীর সাথে। একই সাথে সে খুঁজে পেল তার ভালবাসা। এর পরিণতি কি হতে যাচ্ছে?

 

কেন দেখবেনঃ খুব ভালো অ্যাকশান শউজো, কাহিনী মসৃণভাবে এগিয়েছে, কাহিনী দেখে যারা ইনু ইয়াশার সাথে খানিকটা মিল পাচ্ছেন, তাদেরকে বলি, কাহিনিবিন্যাসের ক্ষেত্রে এটা ইনু ইয়াশার চেয়েও ভালো। ওপেনিং আর এন্ডিঙ থিম দারুন, বিশেষ করে কোন পর্ব শেষ হবার ১-২ মিনিট আগেই এন্ডিঙ থিম এর মিউজিক প্লে করত, সাথে সাথে রোম দাঁড়িয়ে যেতো। এবং, অবশ্যই, এর ফিনিশিং যেভাবে হয়, আমার কাছে সবচেয়ে স্যাটিস্ফাইং আর শকিং ফিনিশিং গুলোর একটা।

কেন দেখবেন নাঃ বলা উচিত, কি দেখবেন না। অভিয়েগুলো দেখার কোনই কারণ নেই।

 

 

ম্যাল রেটিং ৭.৭৯

আমার রেটিং ৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

 মাই হার্ট ইজ বিটিং[My Heart is Beating]

 

 

অভিভাবকরা সাধারণত ছেলেমেয়েদের উপর একটু বেশিই চাপ দেন। বায় সুগুর অবস্থা হল আরও খারাপ, কারণ তাঁর বাবা স্কুলের ভাইস-প্রিন্সিপাল। আন্ডারএচিভার সুগুএকদিন মেয়েদের সাঁতারের ছবি তুলতে গিয়ে পড়ে গেলো গাড্ডায়, তাকে জোর করে স্কুলের প্রমীলা সুইমিং টিমের অংশ করে নেয়া হল। এরপর?

 

কেন পড়বেনঃ মেইন ক্যারেক্টার এর সাথে অনেকেই হয়তো রিলেট করতে পারবেন। সম্পূর্ণ রঙিন মানহুয়া, পড়তে বেশ মজা। ভালো রোমান্টিক কন্টেন্ট আছে। আর এটা আন্নারাসুমানারার মান্গাকার আঁকা।

কেন পড়বেন নাঃ পুরো স্কুল লাইফ বেইসড, খানিকটা কামিং অব এইজ কন্টেন্ট আছে। যারা উত্তেজনাবিহীন মাঙ্গা পড়তে পছন্দ করেন না, তারা এটা স্কিপ করে যেতে পারেন।

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.২১

আমার রেটিং ৮

 

 

এফেসির অন্য সংখ্যাগুলো পাবেন এই লিঙ্কে।

http://www.animeloversbd.com/tag/%E0%A6%8F%E0%A6%AB-%E0%A6%8F-%E0%A6%B8%E0%A6%BF/

Skip Beat manga review – Zahura Chowdhury Abonti

মোগামি কিয়োকো সাধাসিধে গোবেচারা এক মেয়ে। ছোটবেলা থেকে তার বন্ধু ফুওয়া শোতারো বা সংক্ষেপে শো। কিয়োকো শো এর প্রতি খুবই বিশ্বস্ত। তার ধারণা সে বড় হয়ে শো-কে বিয়ে করবে। শুধুমাত্র শো এর জন্য কিয়োকো একা একা পাড়ি জমায় অন্য শহরে। সেখানে গিয়ে সে শো এর জন্য কি না করে! Part time job করে টাকা জমিয়ে শো এর আবদার পূরণ করে। অথচ এর জন্য কিনা সে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু তার এতে কোন দুঃখ নেই। Aspiring star শো কে সে সব সময় উতসাহ দিয়ে যায় এই বলে যে শো এর মত ভাল গায়ক আর নেই। শো-ও এদিকে বেশ নামডাক কামাতে থাকে। শো এর প্রতিদ্বন্দী আরেক সুদর্শন নায়ক তসুরুগা রেন। শুধুমাত্র শো কে খুশি করতে কিয়োকো কখনো রেনের প্রশংসা করে না। সব মিলিয়ে এমন কিছু নেই যা কিয়োকো করে না তার ভালবাসার জন্য। বিপত্তি বাধে তখনই যখন একদিন কিয়োকো শো-কে দেখে ফেলে আরেক মেয়ের সাথে। আর শুনে ফেলে শো এর কথা। শো নিজের মুখে বলে যে কিয়োকো তার ফরমায়েশ পূরণ করে বলেই কিয়োকোর সাথে সে আছে, এছাড়া তার কাছে আর কোন মূল্য নেই কিয়োকোর। নিজ কানে এসব শুনে প্রচন্ড রকমের ধাক্কা খায় কিয়োকো আর ঠিক করে এই বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ সে নিবেই। সে উঠেপড়ে লাগে শোবিজ join করার জন্য, পাল্টেফেলে নিজের বেশভূষা। কিন্তু ব্যাপারটা এত সোজা নয়। অনেক রকম চড়াই উতরাই পার হয়ে (যার অনেকগুলোই বেশ হাস্যকর) এক সময় কিয়োকো মোটামুটি এক জায়গাতে এনে নিজেকে দাঁড়া করায়। আর এখানে এসে তার সামনাসামনি পরিচয় হয় রেনের সাথে; যাকে সে আগে কতনা গালমন্দ করেছে শো এর প্রতিদ্বন্দী হওয়ার কারণে! আর সেই রেনই কিনা দেখা যায় পদে পদে কিয়োকোকে সাহায্য করে। কিয়োকোকে অভিনয় নিয়ে, জীবন নিয়ে নানা রকম বুদ্ধি দেয়, মাঝে বকাবকিও করে। কিয়োকো মাঝে মাঝে রেনকে অনেক ভয় পেলেও, মনে মনে অনেক বেশি শ্রদ্ধা করে আর কৃতজ্ঞতাবোধও অনুভব করে।

কিয়োকো জানেনা যে রেনের সাথে তার পরিচয় হয়েছিল ছোটবেলায়। তখন রেনের আসল পরিচয়ই সে জেনেছিল। তার আসল নাম রেন নয়, কুওন। আর নিজের পরিচয় ঢেকে রাখার পিছনে আছে অতীতের গাঢ় এক রহস্য যা রেন কাওকে জানতে দিতে চায় না। 
শো এর থেকে প্রতিশোধ নিতে বদ্ধ পরিকর আর কখনো কারো প্রতি দুর্বল না হয়ে পড়ার প্রতিজ্ঞা করা কিয়োকোর কি হবে পরিণতি? রেনের আসল পরিচয়ই বা কিভাবে নেবে কিয়োকো?

কাহিনী বেশ গতবাধা মনে হলেও ঠিক তেমনটা নয়। কিয়োকোর কাজকারবার বেশ মজার। তার expression গুলি আরো বেশি মজার। খুবই সাধাসিধে এই মেয়ে মাঝে মাঝে খুবই শক্ত আর তখন তাকে দেখে মনে হয় না এই মেয়েই মাঝে মাঝে এমন সব বোকার মত কাজ করতে পারে। আমার বেশ পছন্দের মাঙ্গা। পড়ে দেখতে পারেন।

Tokyo Magnitude 8.0 anime suggestion by Mohaimenul Haque

 

জাপানে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে । চারিদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ, তার নিচে মৃত মানুষ আর আহতদের হাহাকার । এরই মধ্যে দুই ভাই বোন Mirai আর Yuuki Onozowa এবং তাদের সাথে একজন কর্মজীবী মহিলা Mari Kusakabe এই দুর্যোগ কাটিয়ে নিজ বাসস্থানে ফিরতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় । দুর্যোগের অনেক ধাপ পেরিয়ে তাদের পৌছতে হবে নিজ শহরে ।
খুবই সাধারণ একটা এনিমে । কোন একশন নাই, কমেডি থাকার প্রশ্নই উঠে না এমনকি সেরকম ড্রামাও নেই । পুরো কাহিনী জুড়ে শুধু দুর্যোগ পরবর্তী সমস্যা ও সংকট উত্তরণের প্রচেষ্টা । অনেকটা ক্লাস নাইন টেনের সমাজ বইয়ে দুর্যোগ চ্যাপ্টারে যেমন থাকত তারই একটা ভিডিও ভার্সন । এমনকি দুর্যোগের পরে বাথরুমে যাওয়াও যে একটা সমস্যা হতে পারে এটাও দেখান হয়েছে ।
শুধু শেষ চার পর্বে যা দেখান হল that was enough to surpass any tragic anime . আমি খুব “শক্ত ধরণের” “আবেগ বর্জিত” মানুষ না । তাই বলে গল্প,উপন্যাস,এনিমে দেখে “চোখ ফেটে এল জল” টাইপও না । But the last three episodes really made my eyeas wet . এর আগে কোন এনিমে দেখে আমার এত মন খারাপ হয়নি । শেষে মনে হয়, এভাবেই কেন শেষ হতে হল ।খুব অল্প সংখ্যক এনিমে দেখেছি কিন্তু এর থেকে sad এনিমে আর দেখিনি দেখব বলেও মনে হয় না ।
Opening and ending sound track গুলো বেশ সুন্দর । মাত্র ১১ পর্বের এই এনিমে না দেখলে আপনার দেখার লিস্টে একটা অপূর্ণতা থেকে যাবে । কাজেই সময় পেলে দেখে ফেলুন । আর পারলে টানা না দেখে একটু সময় নিয়ে দেখুন । (আমি ১১ সপ্তাহ ধরে দেখেছি যদিও শেষ তিনটা পর্ব এক বসায়)
MAL rating 8.22
আমার রেটিং ৮.৫

Golden Time reaction post by Tahsin Faruque Aninda

গোল্ডেন টাইমটা দেখার সময়ে শুরুর দিকে একটু বেশি দ্বিধায় পরে গিয়েছিলাম যে বানরির সাথে কাকে কাপল হিসাবে বেশি সাপোর্ট করবো, কোকোকে? নাকি লিন্ডাকে?
তবে, কাহিনী কিছুদূর আগানোর পরে আমার কাছে বানরির সাথে কোকোকেই বেশি মনে ধরেছে। এই আশায় ছিলাম যে বানরি-কোকো কাপলটাই শেষ পর্যন্ত দেখতে পাব! অবশ্য লিন্ডার জন্যেও মারাত্মক খারাপ লাগতো, তবে বানরি-লিন্ডার সময় আসলে অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। আর এই অবস্থায় বানরি কোকোকে ছেড়ে লিন্ডার কাছে যদি যায় তাইলে রাগে মনিটর ভেঙ্গে ফেলবো – এমন অবস্থাও মনে উঠেছিল!

পরের অংশটুকু স্পয়লার, তাই যারা শেষটুক দেখেননি তারা পোস্টের বাকি অংশ স্কিপ করতে পারেন।

শেষ দুই পর্বে কাহিনী অনেক বেশি তাড়াতাড়ি দেখিয়ে ফেলছিল বলে মনে হয়েছে। অন্যদিকে বানরির “ঘোস্ট” ব্যাক করছে করছে – এমন অবস্থা হওয়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত কয়েকটা পর্ব মনে হচ্ছিল যে কাহিনী টেনে নেওয়ার চেষ্টা করার জন্যেই দিয়েছে হয়তো! তবে পরে বুঝলাম যে, ঐসব পর্ব না থাকলে আনিমেটা এত জমতো না!
শেষ পর্বের আগেরটি দেখার সময়ে মনে হচ্ছিল যে কাহিনী কিভাবে শেষ করবে, এখনও তো অনেক কিছু বাকি! যদিও সেখান থেকে বেশ দ্রুত এন্ডিং দেখাতে পেরেছে।
শেষ পর্বের মাঝামাঝি পর্যন্ত মনে মারাত্মক ভয় ছিল যে বানরি-কোকোর মিল হবে কিনা! বানরির লিন্ডা অধ্যায় মোটামুটি সমাপ্ত হয়ে গিয়েছে তা টের পাচ্ছিলাম, তবে কোকো আবার ব্যাক করবে কিনা সেই ভয়েই ছিলাম। শেষ মুহুর্তের আগ পর্যন্তও মন খুবই খারাপ লাগছিল যে এভাবে শেষ হয়ে যাবে!
তবে শেষ মুহুর্তে লিন্ডার উত্তর দিয়ে বানরির “ঘোস্ট”-এর মন হালকা করে দেওয়া, এবং আসল বানরির পথ পরিষ্কার করে দেওয়া – এইটা খুবই মনে ধরেছে! বেশ ইমোশোনালও লাগছিল সেই মুহুর্তটা!

আর অবশেষে যেই মুহুর্তের জন্যে সেইইইইই কত আগ থেকে অপেক্ষা করছি তা চলে আসলো! খুশির চোটে রাত্রে ঘুম হয় নাই ঐদিন যেইদিন দেখলাম

তবে ওকা চিনামির জন্যে কষ্ট লেগেছে একটু। মিতসুয়োর সাথে চিনামির মিল দেখালে মনটা ঠান্ডা হত! অবশ্য ওর এন্ডিংটা স্যাড এন্ডিং, নাকি পরে কিছু হতেও পারে [যা দর্শকের চিন্তাভাবনার জন্যে রেখে দেওয়া হয়েছে] তা বলতে পারছি না।

নানা ক্যারেক্টারটা অসাধারণ! বেশিইইই জোস! :))
আর 2D-kun শেষের দিকে ইমেইল-চালাচালি অংশটা বেশ মজা লেগেছে!

আনিমের সাউন্ডট্র্যাকটা অনেক বেশি মনে ধরেছে। এইটা কবে রিলিজ পাবে তা কেউ জানলে জানিয়েন। অসম্ভব সুন্দর!

পুরো আনিমেটার সবকিছু এঞ্জয় করেছি। সবকিছুই ভাল লেগেছে!