Ima, Soko ni Iru Boku রিভিউ — Fahim Bin Selim

Now and Then, Here and There (今、そこにいる僕 Ima, Soko ni Iru Boku)
প্রচারকাল: ১৯৯৯-২০০০
জনরা : সাইফাই, মিলিটারি, ডিস্টোপিয়া, ওয়ার ড্রামা
পরিচালক : আকিতারো দাইচি
লেখক(অ্যানিমে অরিজিনাল) : হিদেইয়ুকি কুরাতা
প্রযোজক : এ.আই.সি.
পর্ব : ১৩
মাই অ্যানিমে লিস্ট রেটিং : ৭.৮

শুজুও “শু” মাতসুতানি সাধারন এক হাইস্কুল পড়ুয়া বালক। সে থাকে জাপানের ছোট এক শহরে, যার এক কোনায় আছে অনেকগুলো পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরির চিমনী, মধ্য দিয়ে বয়ে চলা সুন্দর একটা নদী, যা এক পাশে গিয়ে মিশেছে সাগরে, যেখানে বিকেলে সূর্যাস্তের গাঢ় লাল আভা ছড়িয়ে পড়ে। শু বেসবল খেলে, বল মেরে প্রতিবেশীর জানলার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে। স্কুলে কেন্দো ক্লাবের সদস্য সে;আবার যে মেয়েটাকে সে পছন্দ করে, সেই মেয়েটা পছন্দ করে তার রাইভালকে। শু ছিল সাধারন এক বালক।

তারপর একদিন স্কুল ছুটির পর সে লালা-রু নামের অদ্ভুত একটা মেয়েকে দেখতে পায় পরিত্যক্ত সেই চিমনীর উপর বসে থাকতে। শু সেখানে উঠে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। আর তখনই যেন ভোজবাজির মত হাওয়া থেকে উদয় হয় কিছু অদ্ভুতদৃশ্য অস্ত্রসজ্জার মানুষ। যেভাবে এসেছিল সেভাবেই তারা লালা-রুকে তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। আর ঘটনাক্রমে তাদের সাথে শু-ও এসে হাজির হয় অন্য এক জগতে।

বিশাল এক দূর্গস্বরুপ জায়গায়, যার পুরোটাই কংক্রিট আর লোহার বিশাল এক গোলকধাঁধাঁ। যার রাজত্বে রক্তপিপাসু এক স্বৈরশাসক, কিং হামদো। আর দূর্গজুড়ে ছড়ানো ছিটানো তার অধীন সৈন্যদল। যাতে আছে প্রাপ্তবয়স্ক, যুবক, কিশোর এমনিক শিশু সৈন্যরাও! শু আটকা পরল কিং হামদোর হাতে। আটকা পরল এই অপার্থিব জগতে, দূর্ভেদ্য এক দূর্গে, যার চারপাশে যতদুর চোখ যায় শুধু ধু-ধু মরুভূমি। নদী আর সাগর তো দুরের কথা, এক ফোঁটা পানি পাওয়াও যেখানে দুঃসাধ্য ব্যাপার!

এই অ্যানিমের ব্যাপারে কথা বলার আগে প্রথম পর্বটার কথা বলা বেশ জরুরী। প্রথম পর্ব দেখে দুটো জিনিস হওয়া স্বাভাবিকঃ (১) নরমাল ফ্যান্টাসি, শৌনেন ভাইব, শৌনেন হিরো দেখে যদি আশাহত হোন, তবে ফিরে আসুন, হাল ছাড়বেন না। আর (২) যদি নরমাল ফ্যান্টাসি, শৌনেন ভাইব দেখে অ্যাকশন প্যাকড, “হিরো সেভস দ্য ওয়ার্ল্ড” অ্যানিমে আশা করেন, তাহলে দেখা বাদ দিন, এটা আপনার জন্য না।

শু আসলেই এক সাধারন শৌনেন হিরো। সে লড়াইয়ে বুদ্ধি ব্যবহার করে না, বরং বেপরোয়া ভাবে আক্রমনই তার সম্বল। কিন্তু পার্থক্য হল আর সব শৌনেন হিরোর মত তার উল্লেখযোগ্য কোন শক্তি নেই;সে অত্যাচারিত হয়, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত হয়, কিন্তু তার কোন “নায়কোচিত” জবাব দিতে পারেনা। সে চরম দুর্দশার মূহুর্তেও আশার বাণী শোনায়, “বন্ধুত্ব”-এর ফাঁকা বুলি আওড়াও। কিন্তু পার্থক্য হল কেউ তার কথায় খুব একটা কান দেয় না, তার কথায় শত্রু বন্ধুতে পরিণত হয় না, বরং অনেকাংশে তার ছেলেমানুষিই অন্যের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শু বিশ্বজয়ী কোন নায়ক না, কিন্তু শু সাধারন এক বালক। এই অ্যানিমের আর সব চরিত্রের মতই। কাউকেই ভালো-খারাপের মানদ্বন্দে বিচার করা সম্ভব হবে না, কিন্তু এমনকি পার্শ্বচরিত্রগুলোও মনে রাখার মত। শুধু হাতে আঁকা কোন ছবি নয়, তারা সবাই-ই যেন নিজস্ব গল্প থাকা, নিজস্ব জীবনঅভিপ্রায় থাকা, বাস্তব এক একজন মানুষ। Now and Then, Here and There যতটা শু এর এই অভিযানের গল্প, ততটাই তার বন্দীসংগী সারা ‘র নিষ্পাপ কৈশোর থেকে নির্মম বাস্তবতার সাথে পরিচয়ের গল্প, বাস্তুহারা কিশোর সৈন্য নাবুকার অসম্ভব স্বপ্ন বুকে নিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার গল্প। এমনকি যেই অ্যান্টাগনিস্টকে দেখে প্রতি মূহুর্তে তাকে গলা টিপে খুন করার কথা মাথায় আসবে, সেই অবিশ্বাস্য নিষ্ঠুর কিং হামদোর অসাধারন চরিত্রায়নও অভিভুত হওয়ার মত। আর ভয়েস অ্যাক্টরদের অভিনয় বিশেষ প্রশংসার দাবিদার।

গত শতাব্দীর অ্যানিমে হওয়ায় স্বভাবতই আর্ট বেশ গুমোট, সাদামাটা; অ্যানিমেশন বিশেষ কিছু না। কিন্তু এর গল্পের সাথে মানিয়ে যাওয়ার মত। আর Now and Then, Here and There-এর গল্প হচ্ছে এর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। অসাধারন অর্কেস্ট্রাল আবহসঙ্গিতের মূর্ছনায় এর সুনিপুণ-নির্মিত দুনিয়ায় একবার হারিয়ে গেলে শেষ না করে উঠতে পারবেন না। ফ্যান্টাসি, শৌনেন ভাইব দেখে হাল ছাড়বেন না; কিন্তু দেখার আগে সতর্ক থাকুন।

Now and Then, Here and There ডার্ক, খুবই ডার্ক অ্যানিমে। হাসির দৃশ্য তো দুরের কথা, সাধারন খুশি করে দেওয়ার মত দৃশ্যও হাতেগোনা। উল্লেখযোগ্য কোন গোর কিংবা ন্যুডিটি নেই, কিন্তু এর ভায়োলেন্স সীমাহীন। তা অত্যাচার আর রক্তপাত থেকে শুরু করে শিশু নির্যাতন, দাসত্ব, হত্যা, গনহত্যা, আত্নহত্যা, এমনকি ধর্ষন পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু এর ভায়োলেন্স কখনোই কুরুচিপূর্ন না, শক-ভ্যালুর জন্য না; তা ভয়ংকর কিন্তু বাস্তব।

যুদ্ধের ভয়াবহতা, নির্মমতা নিয়ে এরকম বাস্তব আর হৃদয়বিদারী ভিজুয়াল ফিকশন হয়তো আর খুব বেশি নেই। Legend of the Galactic Heroes যদি শাসক আর নেতাদের দৃষ্টি থেকে যুদ্ধ-রাজনীতির গল্প হয়, তবে Now and Then, Here and There হল সাধারন মানুষের চোখে দেখা যুদ্ধের গল্প। নির্দিষ্ট করে বললে The Boy In The Stripped Pajamas-এর মত শিশুদের চোখে দেখানো যুদ্ধের গল্প, কিন্তু পার্থক্য হল এর বর্বরতা ব্যাকগ্রাউন্ডে না;বরং Schindler’s List আর The Pianist-এর সাথে তুলনীয় – বারবার চোখ ভিজিয়ে দেওয়া, গলা বাষ্পরুদ্ধ করা আর রাগে হতবিহবল করে দেওয়া।

কিন্তু এই অচেনা জগতের আড়ালেই সবচেয়ে ভয়াবহ আর দুঃখজনক বিষয় হল, Now and Then, Here and There-এর মূলগল্প অতিরঞ্জিত কিছু না। এটা যুদ্ধ বিগ্রহের গল্প, আমাদের চারপাশে হওয়া যুদ্ধ-বিগ্রহের গল্প; যা হাজার হাজার বছর আগেও হয়েছে, এবং এখনোও হচ্ছে। এখন আর তখন, এখানে আর সেখানে। সবসময়, সবজায়গায়। কিন্তু তারপরও Now and Then, Here and There শুধু নিরাশার গল্প না, মানবতার সৌন্দর্যের গল্পও, ভালোবাসার গল্প, পরিবারের গল্প। সকল হতাশার পরও হাল না ছাড়ার, নতুন শুরুর গল্প।
Now and Then, Here and There সম্ভবত একবার দেখা শেষ করলে আর দ্বিতীয়বার দেখতে চাইবেন না, কিন্তু একবার দেখা শেষ করলে আর কোনদিন ভুলতে পারবেন না।

সাজেস্টেড অডিয়েন্স : প্রাপ্তবয়স্ক (এবং শুধু বয়সের দিক দিয়ে না); ট্র্যাজেডি, হিউম্যান ড্রামা প্রেমীদের।
সামগ্রিক : চুম্বকাকর্ষী গল্প, ধীর কিন্তু ঘটনাবহুল, চিরদিন মনে রাখার মত চরিত্র, ‘৯০ এর আর্ট অ্যানিমেশন, চমৎকার আবহ সংগীত।
আমার রেটিং : A+

Nodame Cantabile রিভিউ — Sumaiya Kabir

nodame-cantabile

অ্যানিমে রিভিউ:
নাম: নোদামে কান্তাবিলে
জনরা: জীবনের টুকরা, রম-কম, ড্রামা এবং সবসময়… মিউজিক (Et puis toujours la musique)

অ্যানিমে সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য আগে দিয়ে দেই। নোদামে একজন সত্যিকারের মিউজিসিয়ানের উপর বেস করা ক্যারেক্টার! মাঙ্গাকা কাহিনীর ইন্সপিরেশন পান যখন এই সত্যিকারের নোদামে তার রুমের ছবি মাঙ্গাকার আন্ডারে থাকা এক ওয়েবসাইটে পোস্ট করে (রুমটা কেমন ছিল, তা অ্যানিমে দেখলেই বুঝতে পারবেন)। এই অ্যানিমেতে ব্যবহৃত সকল ক্লাসিক্যাল মিউজিক প্লে করার জন্য বিশেষ এক “নোদামে অর্কেস্ট্রা” তৈরি করা হয়েছিল। অ্যানিমের নামের “কান্তাবিলে” অংশটি একটি মিউসিকাল Jargon, যার অর্থ হচ্ছে অর্কেস্ট্রার এমন ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক, যা শুনতে গাওয়া গানের মত শোনায় (Citation Needed).

মোমোগাওকা মিউজিক ইউনিভার্সিটির পিছিয়ে পরা কিন্তু ট্যালেন্টেড নোদা মেগুমি ওরফে নোদামে আর আনওয়িলিং আইডল চিয়াকি শিনিচিকে নিয়ে কাহিনীর শুরুটা জাপান থেকে। অসম্ভব মেধাবী হবার পরেও নিজের আকাশ এবং নৌপথের যানবাহনের ভয় মেটাতে না পেরে জাপান ছেড়ে বিদেশে যেতে অপারগ চিয়াকি তার ছোটবেলার টিচার ভিয়েরা সেন্সের দেশে ফিরে যেতে পারছে না। একদিন “হারিসেন” টিচারের কাছে মার ও বকা খেতে খেতে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে, টিচারকে যা তা শুনিয়ে চিয়াকি ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়। ঘটনা পরিক্রমায় সেদিনই তার প্রেমিকা তাকে “ফেলিয়ার” বলে ছেড়ে চলে যায়। ড্রাঙ্ক হয়ে শেষমেষ চিয়াকি নিজের বাসার সামনে বেহুঁশ না হয়ে, পাশের বাসার অজানা অচেনা সেই নোদা মেগুমির বাসার সামনে এসে বেহুঁশ হয়ে পড়লো। পরদিন সকালে অপূর্ব মিউজিকে তার ঘুম ভাঙল। এমন করে কে বাজাচ্ছে পিয়ানো? চোখ বুজেও সে দেখতে পেল পিয়ানোর রঙ্গিন তরঙ্গ। এমন তো সে আগে শোনেনি! চোখ খুলে যে রুমটা চিয়াকি দেখল তা দেখে তার মিউজিকাল ওয়ান্ডার উড়ে গেল। ময়লায় জর্জরিত, পোকামাকড়ে ভর্তি রুমের মাঝে বসে পিয়ানো বাজাচ্ছে তারই পাশের বাসার মেয়েটি। সেই মেয়ের আজব ব্যবহার, একই টিচারের কাছে পিয়ানো শেখা, একসাথে পিয়ানো বাজানো, প্রতিদিন সেই মেয়েকে রেধে খাওয়ানো, তার ভালবাসার তোড় সামলানো, তাকে শাসন করা, কোন কারণ ছাড়াই তার খেয়াল রাখা, পিয়ানো শেখায় হেল্প করা যেন চিয়াকির জীবনের অংশ হয়ে গেল। এরই মাঝে নিত্যনতুন বন্ধু বানানো, পিছিয়ে পরা অন্যান্য স্টুডেন্টদের মধ্যেও নোদামের মত প্রতিভার আভা দেখতে পাওয়া, মেজর চেঞ্জ করে পিয়ানো থেকে কন্ডাক্টিং এ যাওয়া, স্ট্রেসম্যানের মত মায়েস্ট্রর শিষ্য হতে পারা, এবং আস্তে আস্তে কন্ডাক্টিং এ হাত পাকানো। এরই মাঝে নব্য কন্ডাক্টরের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। স্ট্রেসম্যানের তৈরি বিশেষ “এস অর্কেস্ট্রা” পরিচালনা করে চিয়াকি কি পারবে “এ অর্কেস্ট্রা” কে হারাতে?

এরপর আসি নোদামের কথায়। পুরো ইউনিভার্সিটি যখন ভবিষ্যত ক্যারিয়ারের পথ গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত, নোদামে তখন তার সেন্সের সাথে মোজা মোজা মোজামির সুইট তৈরি করছে। ঘটনাক্রমে সেনপাই এর সাথে পিয়ানো বাজিয়ে জীবনে প্রথম প্রেমে পড়লো নোদামে। কিন্তু পারফেকশনিস্ট চিয়াকিকে সেন্সের মত ভুজুং ভাজং দিয়ে সন্তুষ্ট করা সম্ভব না। নোদামের “গিয়াবো”, “মুক্যা” চিৎকার, অগোছালো লাইফস্টাইলের মাঝেই দুজনের চমৎকার মিউজিকের অনুশীলন। জীবনীশক্তি ও উদ্দিপনায় ভরপুর নোদামের পিয়ানো চিয়াকির ছোঁয়ায় আরও চমৎকার করে বেজে উঠল। এতদিনে এই Raw diamond ক্যাম্পাসে পরিচিত হয়ে উঠল তার প্রতিভার জন্য। চিয়াকির সেই “হারিসেন” টিচারও এবার নোদামের প্রতিভায় বিমহিত। কিন্তু তার বাজে ব্যবহার ও মার নোদামের বুকের গভীরে চেপে রাখা ছোটবেলার কোন Trauma এর স্মৃতির কথা তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে?

চিয়াকির প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও সে জাপান ছেড়ে যেতে পারছে না। নানা ভাবে চেষ্টা করেও তার উড়োজাহাজ ও জাহাজের ভয় দূর করা যাচ্ছে না। নোদামে Raw Diamond হওয়া সত্ত্বেও পারছে না নিজের প্রতিভাকে আরও ঘষামাজা করে তার দীপ্তি চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে। কিছু স্মৃতি আমাদের পিছনে টানে, মনকে ভারাক্রান্ত, ভীরু করে। নোদামে আর চিয়াকি কি পারবে একে অপরের ভয়কে দূর করতে? মনকে মুক্ত করে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে? একসাথে কত পথ তারা পাড়ি দিতে পারবে? এতদিন সুনদেরে-গিরি করে চিয়াকি যখন শেষ পর্যন্ত নোদামের দিকে এক কদম এগিয়ে গেল … তখন নোদামে কেন দুই কদম পিছালো?

এই তো গেল ১ম সিজনের কথা। ২য় সিজনে নোদামে আর চিয়াকি শেষ পর্যন্ত সুদূর প্যারিসে পাড়ি জমালো। তাদের বিল্ডিং এ এবং স্কুলে অনেক বিদেশি মিউজিসিয়ানদের সাথে দেখা হল, বন্ধুত্ব হল। ফ্র্যাঙ্ক, তানিয়া, ইয়ুং লং, রুই এবং কুরকিদের সাথে নতুন ভাবে মিউজিককে আবিষ্কার করার যাত্রা শুরু হল।
এতদিনে চিয়াকি তার প্রিয় ভিয়েরা সেন্সের দেশে ফিরে এল। কিন্তু সেন্সের সামনে যাবার আগে তার নিজের পরিচয় তৈরি করে নিতে হবে। মাত্র দুই বছর কন্ডাক্টিং করে কম্পিটিশনে নেমে পড়া চিয়াকির এখন পারিসিয়ান পিয়ারসদের মুগ্ধ করার পালা। পরবর্তীতে ঐতিহ্যবাহী রু মার্লে অর্কেস্ট্রার দায়িত্ব পাবার পর মুষড়ে পড়া এই অর্কেস্ট্রাকে চিয়াকি আবার নিজের পায়ে খাড়া করতে পারবে কি?

এতদিন চিয়াকির আগে পিছে ঘোরা নোদামে এখন নতুন দেশ, নতুন ভাষা, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিজের থেকে কম বয়সী স্টুডেন্টের অনেক বেশি ভালো করতে দেখে নোদামে মিউজিকালি ফ্রাস্ট্রেটেড। এদিকে চিয়াকি নোদামের অবহেলা সহ্য করতে পারছে না। এই নিয়ে দুইজনের ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি এবং শেষ পর্যন্ত সংগীতের তৈরি করা দূরত্ব সংগীত দিয়েই দূর করা। চিয়াকি ভাবে, নোদামে কাছেই, আবার দূরেও বটে। কিন্তু যতদিন সে তার নজরের মধ্যে আছে, ততদিন সব ঠিক থাকবে। পাশাপাশি ওদের বন্ধুদের, বিশেষ করে তানিয়া, কুরকি এবং ইয়ুং লং এর মিউসিকাল জার্নি সামনে এগিয়ে চলছে। প্রথম নজরেই অপছন্দ হওয়া তানিয়া আর কুরকির মধ্যেও কি রোমান্সের বীজ দানা বাঁধছে? এদিকে শুধুমাত্র চিয়াকির সাথে পিয়ানোর কনসেরতো পারফর্ম করার স্বপ্নের চারিদিকে নিজের মিউজিককে আরও সাবলীল করে তুলতে ব্যস্ত নোদামের পরিণতি কি হবে?

৩য় সিজনে দেখা গেল তানিয়ার কম্পিটিশনে শোনা রাভেলের জি মেজরের পিয়ানো কনসেরতোটি চিয়াকির অর্কেস্ট্রার সাথে পারফর্ম করতে নোদামে এক পায়ে খাড়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে একই মিউজিক পিস চিয়াকিকে পারফর্ম করতে হল সিদ্ধহস্ত পিয়ানিস্ট রুই এর সাথে। নোদামেরও এতে আপত্তি ছিল না। কিন্তু পারফর্মেন্স শোনার পর মনঃক্ষুণ্ণ নোদামে ডেভিলের সাথে ডিল করে চিয়াকিকে ফেলে পালিয়ে গেল। এতদিন যে নোদামে নজরের সীমার মধ্যে ছিল তাকে হারিয়ে চিয়াকিও দিশেহারা। একশ দুইশ বছর পুরানো মিউজিককে যখন একই ভাবে অনুভব করার কারণে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুজন মানুষ কাছে আসতে পারে, তখন সেই মিউজিককে আশ্রয় করে চিয়াকি কি নোদামকে ফিরিয়ে আনতে পারবে? নোদামের ইনপালসিভ কিন্তু তাদের দুইজনের জীবনের সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট প্রশ্নের জবাব হ্যাঁ হলেও, চিয়াকির সেই জবাব একসেপ্ট করার মানসিকতা নোদামের থাকবে কি? বাতাসে যে অপূর্ব তরঙ্গ ধ্বনি ছড়িয়ে পরছে, তা কি বিদায়ের সংকেত, নাকি চিয়াকি আর নোদামের নতুন জীবনের Prelude (Kurikaesu atarashi prelude)?
জানতে হলে দেখে ফেলুন নোদামে কান্তাবিলে।
শুধুমাত্র মিউজিক্যাল experience টার জন্যে হলেও অ্যানিমেটা দেখা উচিত বলে আমি মনে করি। অন্য কারো কেমন লাগবে জানিনা, কিন্তু আমার জন্য আনিমেটা ছিল কান্তাবিলে (গানের মতন)।

Dude, Dat’s Deep (BECK) – By Kuro-Hat no “Deep”to Haque

Anime: BECK
Episodes: 26
Genre: Music, Drama, Slice of Life
Year: 2004
বেক এনিমেটা একটা উঠতি মিউসিশিয়ান ও ব্যান্ডকে নিয়ে। এতে প্রতি পর্বের আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে নানা রেফারেন্স, নানা মৃত রকস্টারদের প্রতি ট্রিবিউট। যাদের জীবনে মিউসিক অনেক বড় অংশ জুড়ে আছে, তাদের জন্য একটা পারফেক্ট এনিমে হল বেক (যদিও এর কাহিনী পুরাটুকু জানার জন্য মাঙ্গা পড়তে হবে…)

#Characterizations:

১। Yoshiyuki Taira: বেক ব্যান্ডের বেসিস্ট। একে পোট্রে করা হয়েছে সম্পূর্ণভাবে Red Hot Chilli Peppers ব্যান্ডটির বেসিস্ট Michael “Flea” Balzary এর উপর ভিত্তি করে। দুজনের বেইজ গিটার বাজানোর স্টাইল একরকম, দুজনেরি ব্লিচড চুল ও খালি গায়ে পারফরমেন্স করার অভ্যাস।

২। Tsunemi Chiba: বেক ব্যান্ডের ভোকাল (র‍্যাপার)। তার র‍্যাপিং ও গান গাওয়ার স্টাইলের সাথে Rage Against the Machine ব্যান্ডের Zack De La Rocha এর অনেক মিল পাওয়া যায়। বাই দা ওয়ে, দুজনেরই AFRO আছে…

৩। Eddie Lee: রিউসকে এর বড় ভাই এর মত। Dying Breed ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট। একে দেখতে অনেকটা Kurt Cobain এর মত।

৪। Matt Reed: Dying Breed ব্যান্ডের ভোকালিস্ট। The Smashing Pumpkins ব্যান্ডের ভোকাল ও সং রাইটার Billy Corgan যদি সানগ্লাস পড়ত, তাইলে ওরে ম্যাটের মত দেখাইত…

৫। Beck(কুত্তা), Page(কাকাতুয়া) and Keith(আরেকটা কুত্তা): এদের নাম যথাক্রমে Jeff Beck (Guitarist, The Yardbirds), Jimmy Page (Guitarist of Led Zeppelin) এবং Keith Richards (Guitarist of The Rolling Stones) এর নাম থেকে এসেছে।

# কোইউকির স্বপ্নঃ

না এখানে কোইউকির বড় মিউজিশিয়ান হওয়া বা মাহোকে কাছে পাওয়ার স্বপ্নের কথা বলা হচ্ছে না।

এপিসোড ১৪ তে কোইউকির জ্বর হয় ও তখন ঘুমের ঘোড়ে সে একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে। এতে দেখা যায় অনেক আজব কিছু ব্যাক্তি বিশাল এক মাঠে ময়লা পরিষ্কার করছে। এরা আসলে প্রত্যেকেই নানা মৃত রকস্টার। তাদের নাম নিচে এপেয়ারেন্স অনুসারে দেয়া হলঃ

i) John Lennon : চশমা পড়া লম্বা চুলের ভদ্রলোক। The Beatles এর ফাউন্ডিং মেম্বার ও আমার প্রিয় মিউসিক ব্যাক্তিত্ব। নিজের কনসার্টে নিজেরই একজন ভক্তের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন।

ii) Freddie Mercury: সাদা প্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরা মোচওয়ালা গে-ইশ পুরুষ। Queen ব্যান্ডের ভোকাল ও এখন পর্যন্ত বিশ্বের সেরা ভোকাল (Scientifically Proven!)। বাইসেক্সুয়াল ছিলেন ও এইডস এ মারা যান।

iii) Jim Morrison: আওড়া কাওড়া কালো চুলের তরুণ। The Doors ব্যান্ডের ভোকাল ও পিয়ানিস্ট। The Lizard King নামেও পরিচিত। এও মাত্র ২৭ বছর বয়সে (সম্ভবত অতিরিক্ত ড্রাগস নেয়ার জন্যই) মারা গেছে।

iv) Kurt Cobain: সোনালি চুলের হ্যান্ডসাম যুবক। Nirvana ব্যান্ডের গিতারিস্ট ও ভোকাল। মাত্র ২৭ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যু নিয়ে অনেক গুজব ও রহস্য রয়েছে।

v) Sid Vicious: চেহারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভচকা করে রাখা খাড়া চুলের তরুণ। The Sex Pistols ব্যান্ডের বেসিস্ট ও টেকনিকালি পাঙ্ক এর জনক। ইনি প্রেমিকার মৃত্যুশোকে আত্মহত্যা করেন।

vi) দুঃখিত… ইনাকে চিনতে পারতেসি না…

vii) Jimi Hendrix: কোঁকড়ানো চুলের বিড়ি খেতে থাকা লোক। এও মাত্র ২৭ বছর বয়সে অতিরিক্ত ড্রাগস নেয়ার জন্য মারা গেছে। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গিটারিস্ট হিসেবে বিবেচিত। একে Guitar God ও বলা হয়ে  থাকে।

#Lucille:

Lucille হল বেক এনিমেতে রিউসকের ব্যবহার করা গিটার। এতে অনেকগুলা গুলির গর্ত আছে। এনিমেতে বলা হয়, এটা আসলে Sonny Boy এর গিটার। কিন্তু ঘটনা অন্য জায়গায়…

Lucille নামে আসলেই একটা গিটার আসে, এবং সেটা B. B. King এর। সেটার ইতিহাস হলঃ

একবার এক বারে (Random Word pun) বসে বি বি কিং গিটার বাজাচ্ছিলেন। এমন সময় ২ ব্যক্তির মধ্যে লুসিল নামের এক মেয়েকে নিএ বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ব্যাপারটা ভয়াবহ আকার ধারন করে ও বারে আগুন লেগে যায়।

অগ্নিস্নাত বার থেকে বি বি কিং বের হয়ে আসার পর বুঝতে পারলেন যে উনি উনার মাত্র ৩০ ডলারের(গিটারের জন্য অনেক কম) গিবসন গিটারটি ফেলে এসেছেন। তাই, উনি আবার সেই জ্বলন্ত বারে আবার ঢোকেন সেই গিটারটি আনার জন্য।

সেই গিটারটি ফেরত পাবার পর এই ঘটনাকে স্মরণীয় করার জন্য গিটারটির নাম দেন “লুসিল”।

(বাই দা ওয়ে, সনি বয় নামে আসলেই একজন ব্লুস মিউজিসিয়ান ছিলেন… কিন্তু এই ঘটনার সাথে উনার কন সম্পৃক্ততা খুজে পাওয়া যায় নি…)

#বিবিধঃ

১। এনিমেতে ক্যারেক্টারদের গায়ে প্রায়ই নানা ব্যান্ডের টি-শার্ট দেখা যায়, যেমন- The Rammones, The Pixis, The Who, etc.

২। মাহো আর কোইউকির পুনর্মিলন যে রেলস্টেশনে হয়, ডার্টফোর্ডের ঠিক একই রকম এক স্টেশনে Mick Jagger ও Keith Richards এর রিইউনিয়ন হয়, আর সেখান থেকেই The Rolling Stones নামের এক বিখ্যাত ব্যান্ড তৈরি হয়।

আশা করি কোন ভুল ইনফো দেই নাই। কোন কারেকশান এর প্রয়োজন বোধ হলে জানাতে ভুলবেন না।

I hope you all liked it!

ও, অলমোস্ট ফরগট, Beck নামে আসলেও একটা ফেমাস মিউজিশিয়ান আছে, যার পুরা নাম Beck Hansen. (এর বিখ্যাত গান “Loser” শুনে দেখতে পারেন… )

beck

Kaze no Stigma রিভিউ — Mithila Mehjabin

Kaze.no.Stigma.full.93320

“Kaze no Stigma” বা “Stigma of the wind”, বাংলা করলে দাড়ায় “বাতাসের কালিমা” সত্যিই খুব চমৎকার একটা অ্যানিমে! 🙂

কাহিনীটা এরকম: Kanagi ফ্যামিলীর সবচেয়ে বড় ছেলে Kazuma kanagi তাদের পরিবারের ঐতিহ্যবাহী “Fire magic” আত্নস্থ করতে ব্যার্থ হয়, এবং স্ব-পরিবারের চার বছরের ছোট কাজিন Ayano kanagi এর সাথে একটি ডুয়ালে হেরে যায়। এতে তার পিতা Genma Kanagi অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে ত্যাগ করে। কাহিনী শুরু হয় যখন এই Kazuma Kanagi চার বছর পর Kazuma Yogami নাম নিয়ে এবং Fire magic এর বদলে অসম্ভব Wind magic পাওয়ার নিয়ে বিদেশ থেকে জাপানে ফিরে আসে। Kanagi পরিবার তার এই হঠাৎ আবির্ভাব এর কথা জানতে পারে এবং পরিবারের ওপর তার রোষ থেকে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি হতে পারে ভেবে শঙ্কিত হয়। এদিকে হঠাৎ করে পরিবারের দুজন সদস্য Wind magic দ্বারা খুন হয়ে যায়। যদিও খুনী থাকে অন্য কেও, পরিবারের সদস্যরা এতে Kazuma কেই খুনী ধরে নেয় এবং তারা তাকে হন্যে হয়ে খুজতে থাকে , তন্মধ্যে সবচেয়ে আগ্রহী থাকে পরিবারের ভবিষ্যৎ প্রধান এবং Kazuma’র সেই ছোট বেলার কাজিন মেয়েটি, Ayano Kanagi, যে থাকে কাহিনীর মূল নারী চরিএ। তারপর বিভিন্ন প্লট টুইস্টের মাধ্যমে Kazuma, Ayano এবং Kazuma’র ছোট ভাই Ren Kanagi কে ঘিরে কাহিনী এগিয়ে যায়…

এখানে Ren Kanagi’র কথা না বললেই নয়। Kazuma’র এই ছোট ভাইটি থাকে অসম্ভব kawai!! 😀 ইনোসেন্ট লুকিং নরম স্বভাবের ছেলেটা যে কারো ভালোবাসা জয় করে নিতে বাধ্য! কাহিনীতে তার ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য।
এদিকে রাগী এবং গরম স্বভাবের, অথচ সৎ সুন্দর Ayano Kanagi এবং স্থির, তেড়া, একরোখা এবং হ্যান্ডসাম লুকিং Kazuma Kanagi’র রসায়নটি থাকে খুবই মজার! 😀

মোট ২৪ টা এপিসোড এর কাহিনী, ডাব এবং সাব দোনোটাই এভেইলেবল। সাব টা দেখিনি যদিও, তবে ডাব টা এক কথায় অসাধারণ! বিশেষ করে Kazuma’ র গর্জিয়াস ভয়েসটা সবার ই ভাল্লাগার কথা।
এপ্রসঙ্গে একটা মজার জিনিস বলি, Kazuma’র ভয়েসে সবচেয়ে মজার শোনায় যে ওয়ার্ড টা, সেটা হলো “Basturd!” আর Ayano’র ভয়েসে “Pervert!” 😀

সো, আগ্রহী বন্ধুরা দেখে ফেলতে পারো। 🙂

বি:দ্র: কাহিনীটা একটানা এ্যাকশন মতন কিছু না, রোমান্স এবং কমেডিরও প্রচুর খোরাক রয়েছে…সুতরাং একঘেয়ে লাগবে না, এটা আশা করা যেতেই পারে!
Arigatou Minna! 🙂

Ouran Highschool Host Club রিভিউ — Mithila Mehjabin

প্রথমে যখন এই এনিমে টা দেখতে শুরু করলাম, মেজাজটা খুব খারাপ হচ্ছিল, কারণ সহজকথায়, এহেন ছাগলমার্কা এনিমে আর দেখিনি।
আর যখন দেখা শেষ করলাম তখনও মেজাজ খারাপ হচ্ছিল, কারণ পাগলামি-ছাগলামি যে এত মজার হতে পারে, তার নমুনাগুলো আর দেখা হবেনা…!

হ্যা…বলছি Ouran Highschool Host Club এর কথা!
আসলে এই এ্যানিমে সম্পর্কে বেশী কিছু বলতে গেলে Spoiler হয়ে যায়…আর না বললে বোধহয় অবিচার হয়ে যায়..তাই একটুকিছু বলা উচিৎ..
কাহিনীর শুরু এরকম: ধনী এবং উচ্চবংশীয় ছেলে-মেয়েদের অভিজাত স্কুল Ouran Academy তে স্কলারশিপ পাওয়া একজন মধ্যবিত্ত স্টুডেন্ট Haruhi Fuziwoka পড়ার সুবিধার্থে একটু নিস্তব্ধতার আশায় একটি পরিত্যাক্ত মিউজিক রুম এ ঢুকে পড়ে, এবং অবাক হয়ে যায় ৬ জন অত্যন্ত ধনী এবং উচ্চবংশীয় স্টুডেন্ট তাকে ওয়েলকাম করছে দেখে, যা সে মোটেই আশা করেনি। সেখানে সে জানতে পারে যে এই ৬ জন স্টুডেন্ট মিলে গড়ে তুলেছে একটি হোস্ট ক্লাব, Ouran Highschool Host Club, যেখানে উচ্চবংশীয় সুদর্শন হোস্টরা অনেক অবসর সময় নিয়ে সেসকল উচ্চবংশীয় মেয়েদের এন্টারটেইন করে যাদের হাতেও অনেক অবসর সময় রয়েছে! পুরো ব্যাপারটাই Haruhi’র কাছে খাপছাড়া লাগে, কিন্ত ঘটনাচক্রে একটা অত্যন্ত দামী ভাস্ ভেঙে ফেলায় তার দায় মেটানোর জন্য তাকে বাধ্য হয়েই ক্লাবটিতে জয়েন করতে হয়। প্রখমে তাকে ঠুনকো কাজ করার জন্য রাখা হলেও পরে সে যে অত্যন্ত কাওয়াই, সেটা আবিষ্কার করে ক্লাবের হেড তাকে হোস্ট হিসেবে নিয়োগ করে, তারপর একটি চমক, এবং এখান থেকেই গল্পটির যাত্রা শুরু….:)

জীবনে যে হাসেনাই, এই এনিমেটি দেখে এমনকি সেও হাসতে বাধ্য! 😀

এনিমেটা মূলত কমেডি, তবে হালকে রোমান্স এর ছোয়াঁটা খুবই আবেদনময়। হোস্টক্লাবটির হেড Tamaki Suo এবং অন্যন্য সদস্য…Kyoya Outory, Hikaru এবং Kaoru Hitachi, Hanni Nozuka, Mory Nozuka এবং Haruhi Fuziwoka…এদেরকে ঘিরে যত কীর্তিকারখানাই এনিমেটার কাহিনী।

এনিমেটাতে মূলত বড়লোকদের বড়লোকীয় কাজকারবারের অর্থ বুঝতে অনভিজ্ঞ একজন মধ্যবিত্তের মিশেলে অম্ল-মধূর মুহুর্তগুলোর মধ্য দিয়ে দু’দলের কাছে পরস্পরকে বোঝার এবং পরস্পরের কাছে পরস্পরের প্রয়োজনীয়তা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। এই আদর্শটিই এনিমেটাকে আরও ইন্টারেস্টিং করে তুলেছে… 🙂

২৬ টি এপিসোড এর এনিমেটাতে পাগলামি-ছাগলামির কোনো অভাব নেই! ডাব এবং সাব দুটোই আছে। তাড়াহুড়ো করে দেখতেও মন চাইবে না…যখন খুশি তখন দেখাতেও মজা বাড়বে বৈ কমবে না।

সো, হাতে অবসর থাকুক বা না থাকুক, যারা দেখনি তারা দেখে ফেলতে পারো! এনিমেটা যদিও নতুন নয়, আর এর একেকটা পর্ব দেখা মানেই অবসর সার্থক! বলে রাখা ভালো, এনিমেটার আসল স্বার্থ জাস্ট্ ফান্ …আর কিছু নয়। 🙂

এনিমেটা নতুন কিছু নয়, তারপরও এতকিছু লিখে যাদের বিরক্তি ধরিয়ে ফেললাম, তাদেরকে আগে থেকেই সরি বলে রাখছি! গোমেন্নাসাই!

Arigatou Minna!

Ghost Hunt রিভিউ — Mithila Mehjabin

হরর/প্যারানর্মাল ইনভেস্টিগেশন/মিস্টেরি/একশন/টিমওয়ার্ক- এই জাতীয় এনিমে যাদের পছন্দ, তাদের জন্য এই এনিমে টা একশবার রেকমেন্ডেড!

বলছি Ghost Hunt এর কথা! 🙂

শুরুটা এরকম: Mai Taniyama স্কুলে ক্লাস শেষে রুমের আলো নিভিয়ে বন্ধুদের নিয়ে ভূতের গল্প করতে পছন্দ করে। একদিন তাদের পুরোনো স্কুলবিল্ডিংটি নিয়ে এমনই গল্পচলাকালীন একজন অপরিচিত সুদর্শন যুবক হঠাৎ করে তাদের ক্লাসরুমটিতে ঢুকে পড়লে ভয় পেয়ে যায় মেয়েগুলো! সুদর্শন ছেলেটির নাম Kazuya Shibuya, নিজেকে একজন ফ্রেশমেন হিসেবে পরিচয় দিলেও ছেলেটার কথা, কন্ঠ, স্থির – অচঞ্চল ভাবটার মধ্যে কোথাও যে একটা রহস্য লুকিয়ে আছে, এ ব্যাপারটা Mai ঠিকই বুঝতে পারে। পরদিন স্কুলে যাওয়ার পথে তাদের সেই পরিত্যাক্ত পুরোনো ভুতুড়ে স্কুল বিল্ডিংটা চোখে পড়লে কৌতুহল বশে Mai এর ভেতরে ঢুকে পড়ে, এবং পরিত্যাক্ত বিল্ডিংটিতে একটি ক্যামেরা দেখতে পেয়ে অবাক হয়ে যায়। যেই না ক্যামেরাটি ধরতে যাবে, অমনিই ঘটে যায় বিপত্তি! হঠাৎই একটা কন্ঠ শুনে ভয় পেয়ে যায় Mai, আর তারই ধাক্কায় একটা বুকশেলফ তার ওপর পড়ে যেতে নিলে কন্ঠধারী ব্যাক্তিটি তাকে বাচাঁতে গিয়ে নিজেই মারাত্নক ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এসময় Kazuya নামের গতদিনের সেই রহস্যময় ছেলেটি এসে হাজির হয়, এবং আঘাতপ্রাপ্ত ব্যাক্তিটিকে সাহায্য করে। একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায় অবাক হয়ে গেলেও পরে Mai জানতে পারে সেই আঘাতপ্রাপ্ত ব্যাক্তিটি ছিল Kazuya’র এসিস্টেন্ট, এবং ১৭ছর বয়সী Kazuya নামের রহস্যময় ছেলেটি আসলে একজন প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর, একটি সাইকিক রিসার্চ সেন্টার এর মালিক, যাকে ঐ ভুতুড়ে স্কুলবিল্ডিংটার রহস্যোদ্ঘাটনের জন্য হায়ার করা হয়েছে! এদিকে ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলায়, এবং তার কারনে Kazuya’র এসিস্টেন্ট আপাতত কিছুদিনের জন্য অচল হয়ে যাওয়ায় তাকেই আপাতত Kazuya’র এসিস্টেন্ট হিসেবে যোগ দিতে বাধ্য হতে হয়। তাদের ইনভেস্টিগেটিং এ আরও যোগ দেয় Monk Takigawa- একজন এক্সরসিস্ট, John Brown- প্রিস্ট, Masuko Hara- স্পিরিচুয়ালিস্ট, Ayako Matsuzaki- স্রাইন মেইডেন। শুরু হয় গল্প, এবং একের পর এক রুদ্ধশ্বাস্ অভিযান!

স্টোরির আর্টওয়ার্ক এবং প্লটগুলো অসাধারণ, এবং এক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রশংসার দাবিদার হচ্ছে স্টোরির সাউন্ড সিস্টেম টা। এক কথায় ভয়ঙ্কর! শুধু সাউন্ড গুলোই যে কাউকে ভয় পাওয়াতে যথেষ্ট……আর মিস্টেরি ও একশন তো আছেই! 😀

২৫ টি এপিসোড্, ডাব্ ও সাব্ দুটোই আছে। সো, যারা এই ধরনের প্লটে আগ্রহী, তারা বিনা দ্বিধায় দেখে ফেলতে পারো, নিরাশ হবে না! 🙂
আর, ইয়ে….দূর্বল চিত্তের মানুষদের রাতে না দেখাই ভালো! 😛

আর এই ধরণের প্লটের আরও কোনো সাজেশন থাকলে তা জানাবেন, প্লীজ! 🙂

আরিগাটোও মিন্না!

Myself ; Yourself! রিভিউ — Mithila Mehjabin

সো দিস ইস্ দা স্টোরি অফ Myself;Yourself! 🙂
(May contain a bit spoiler)

কথায় আছে, ” Childhood is all about future, youth is about present and Old age is all about past!” 🙂

আমরা যারা ইয়ুথ যাপন করছি, সবাই আমরা বর্তমানে বেচেঁ থাকি, এবং ভবিষ্যত কে সাজাই, অতীত নিয়ে যেহেতু করার কিছু নেই, তা নিয়ে মাথা ঘামাই না। সুন্দর অতীত নিঃসন্দেহে সম্পদ, আর দুঃসহ অতীত থেকে পালিয়ে বেড়াই! 🙁
হ্যা, অতীত কে বদলানোর কোনো উপায় নেই, কিন্তু দুঃসহ অতীতের প্রতি আমাদের অনুভূতি বা দৃষ্টিভঙ্গি কে বদলে, ‘খারাপ কিছুও আমার জীবনে ঘটেছে’- এই ব্যাপারটাকে স্বস্তির সাথে স্বীকার করেও যে সামনে এগুনো যায়, এই ধরণের একটা অনুভূতি কে জাগিয়ে তোলা কাহিনীই হলো Myself;Yourself!
🙂
শুরুটা এরকম: Sana Hidaka নামক অতিমাত্রায় কিউট ছোট্ট ছেলেটিকে পারিবারিক কারণে প্রিয় শহর, এবং প্রিয় বন্ধুদেরকে রেখে অনেক দূরে চলে যেতে হয়। পাচঁ বছর পর যখন সে আবার ফিরে আসে, ছোটোবেলার সেই প্রিয় শহর এবং বন্ধুদের চেনা ব্যাপারগুলোর সাথে মিল-অমিল, মান-অভিমান এবং স্মৃতিকাতরতা তাকে একইসাথে আনন্দ এবং অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। এবং তার অস্বস্তির সাথে কাটাঁ হয়ে বিধেঁ সেই ছোট্টবেলার শান্ত – শিষ্ট, মিষ্টি, মার্জিত, অতিচেনা-পরিচিত মেয়ে Nanaka Yatsushiro এর আমূল বদলে যাওয়াটা। কি হয়েছিল এই পাচঁটি বছরে? Nanaka কেন আর ভায়োলিন বাজায় না? Shuu এবং Shuri Wakatsuki কেন এত ক্লোজ্? রক্তাক্ত ছুরি কেন Sana কে এত ভয় পাইয়ে দেয়?
এসব প্রশ্নের উওর জানতে হলে দেখে ফেলতে হয় সিম্পল, অথচ সুন্দর এই ছোট্ট এনিমে টা.. 🙂

গল্পের প্রতিটি চরিত্রের ভূমিকাই অনেক যত্ন নিয়ে সাজানো হয়েছে। Aoi’র কমেডি, Hinako’র ছেলেমানুষি, এবং Hoshino’র ভিতরের সত্তাটি গল্পে অন্যরকম প্রভাব ফেলে।

রোমান্স, ড্রামা, স্কুল, স্লাইস অফ লাইফ জেনরের এই এনিমেটা মোটেই টিপিকাল কিছু না, তাই দেখার জন্য কোনো তাড়াহুড়ো অনুভব হয় না। এই হাসিখুসি, প্রাণোচ্ছল মানুষগুলোর হাসির পেছনে জীবনটা যে কতটা কুৎসিত হতে পারে, তা-ই এই কাহিনীর মূল আকর্ষণ। জীবনের তুচ্ছ ব্যাপারগুলোই হাসি-কান্নার খোরাক, গল্পটা সেটাই বারবার মনে করিয়ে দেয়। অনেকের কাছেই নষ্টালজিক মনে হতে পারে। 🙂

এনিমেটির আর্টওয়ার্ক খুবই সুন্দর, এবং টাচিং সাউন্ডট্র্যাক। গল্পজুড়ে যে ব্যাপারগুলো রেফ্লেক্টেড হয়, তা মনে ছাপ ফেলে। ১৩ টি এপিসোড এবং ৩ টি স্পেশাল এপিসোড্, সাবড্ এভেইলেবল্।। 🙂

MAL rating: 7.53
Personal rating: 7
🙂

সো, আগ্রহী বন্ধুরা দেখে ফেলতে পারো! 😀

Arigatou! 🙂

Clannad : After Story, একটি স্পয়লারহীন (প্রায়) রিভিউ — সাজিদ হাসান আপন

“I laughed…
I cried…
I experienced something that changed my life… ” – My Anime List

“It will captivate your heart.” – IMDb

Clannad : After Story যারা দেখসে, আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি সবার অনুভূতি একই রকম। উপরের এই quote দুইটা দিয়েই আসলে পুরা অ্যানিমেটা বর্ণনা হয়ে যায়।

Genre: Drama, Romance
IMDb Rating : 8.9 / 10
My Rating : 9 / 10
22 Episodes + 1 Extra + 1 Summary + 1 OVA = 25 In total.

কেনো দেখবো?

সর্বকালের সেরা ইমোশনাল অ্যানিমেগুলার মধ্যে এটার নাম অনায়াসে থাকবে। Friendship, পারিবারিক টানাপোড়ন, কঠোর বাস্তবতা, জীবনের ছোট-ছোট চাওয়া-পাওয়া – এই জিনিসগুলা একটামাত্র অ্যানিমেতে উপস্থাপনের কঠিন কাজটা Kyoto Animation Limited চমৎকারভাবে করসে এই সিরিজে। Kyoto’র অ্যানিমে মানেই অস্থির Graphic Detail, Nostalgic soundtrack আর চমৎকার Character building. তবে এই অ্যানিমের Soundtrack বিশেষভাবে বিশেষ। (Soundtrack এর link নিচে দেয়া আছে।)

কমেডিগুলা সুন্দর, Meaningful. সুড়সুড়ি দিয়ে হাসানোর চেষ্টা করেনি। (Season: 1 টা বেশি হাসির। Season: 2, মানে যেটা নিয়ে লিখতেসি, কিছুটা গম্ভীর।)

সিরিজটার সবচেয়ে বড় Twist হইলো এর Ending – একেবারেই কল্পনার বাইরে ছিলো Ending টা. আর পুরা সিরিজ জুড়ে চলতে থাকা আপাত অর্থহীন আর কাহিনীর সাথে সম্পর্কহীন জিনিসগুলা Ending-এ এমনভাবে প্রভাব ফেলসে যে (আর কমু না। নিজে দেইখা লন। শুধু এটুকুই বলতে পারিঃ হুমায়ূন আহমেদ টাইপ Ending – “নিজের মতো কল্পনা কইরা লন” জাতীয়।)

Clannad – যার অর্থ Family বা Clan – এই অ্যানিমের মূল Theme. ধুম-ধারাক্কা অ্যাকশন, খুনাখুনি, রক্তারক্তি, Ecchi আর Harem দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে গেলে Watch-list এ অ্যাড করার জন্য Clannad: After Story এর চেয়ে ভালো অপশন বোধ হয় আর নাই। আর সেই সাথে আপনি যদি খানিকটা Fantasy-lover হয়ে থাকেন, তাইলে এখনই বসে পড়েন দেখতে।

কেনো দেখবো না?

লুতুপুতু-মার্কা অ্যানিমে-বিদ্বেষীরা আর পইড়েন না। আপনাদের জন্য এইটা না। Action-lover রাও কাইটা পড়েন। আপনারা বরং Deadman Wonderland দেখতে পারেন।

এই অ্যানিমেতে কিছু (আসলে বেশ কিছু) অপ্রাকৃতিক ব্যাপার (Fantasy) আছে যেগুলা ভালো না-ও লাগতে পারে। (আমার কাছে lame লাগসে।)

Ending টা হঠাৎ করে চলে আসছে এবং Kyoto Animation এর কাছে আরও ভালো Ending আশা করাই যায়। তবে Visual Novel এর সাথে মিল রাখতে গিয়ে এমন Ending দরকার ছিলো।

নায়িকাটারে খারাপ লাগে নাই। তবে আরও ভালো Female Character ছিলো। (Season: 1)

কান্নাকাটি করতে না চাইলে এই অ্যানিমে দেইখেন না।

শেষকথাঃ

আমার কাছে কেউ ১০টা অ্যানিমের লিস্ট চাইলে এটা সেই লিস্টে থাকবে। English Subbed টা দেইখেন, Dubbed না।

পুনশ্চঃ

Clannad: After Story আসলে Clannad এর 2nd Season. এবং এইটা দেখার আগে 1st Season দেখা আবশ্যক। 1st Season টা 2nd Season এর ধারে-কাছেও নাই তবে কাহিনী বুঝতে হইলে এটা দেখা জরুরী। তাই আমারে গালি না দিয়ে ধৈর্য ধরে দেখতে থাকেন – হতাশ হবেন না।

Download Link:

Season 1:

http://www.animeout.com/clannad-720p-bd-90mb-encoded/

Clannad

Season 2:

http://www.animeout.com/clannad-after-story-complete-batch-bd-100mb-720p-encoded/

Clannad ~After Story~

Original soundtrack:

https://www.youtube.com/watch?v=7EOEcE-3v0E (Album 1)
https://www.youtube.com/watch?v=gdh5ysIgl1A (Album 2)

 

Donten ni Warau রিভিউ — Hussain Shoykot Ash

Name- Donten ni Warau/Laughing under the clouds
Episodes- 12
MAL Score- 7.64
Ranked- 1103
Genres- Action, Historical, Shoujo

দোন্তেন নি ওয়ারাউ। এটা একটি হিস্টোরিকাল এনিম, এখানে তিন ভাইয়ের কথা বলা হয়েছে, যারা সামুরাই এবং তারা একটি গ্রামের রক্ষাকর্তা ও সেইখানকার প্রধান হিসেবে আছে, সেখানে কোনোরকমবিশৃঙ্খলা দেখা দিলে রক্ষা করে। পদে পদে নানা ধরণের বিপদ দেখা দেয়, তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই সবচাইতে শক্তিশালী সামুরাই সে তার দুই ভাইকে অনেক ভালবাসে এবং সব ধরনের বিপদ থেকে আগলিয়ে রাখে। কিন্তু মেজ ভাই তার বড় ভাইয়ের থেকেও শক্তিশালী হতে চায় এবং পদে পদে বিপদে পড়ে, মূলত এইএনিমটার কাহিনী গড়ে উঠেছে Good vs Evil এইভাবে।

এই এনিমটা আমার ভাল লেগেছে মূলত এর কাহিনীটা যেভাবে গড়ে উঠেছে, এর অসাধারণ soundtrack, opening song এগুলার জন্য আর মাত্র ১২টা পর্বের মধ্যে এর সম্পূর্ণ কাহিনীটা যেভাবে শেষ করা হয়েছে সেইটা দেখে।

যদি আপনি নতুন কোন এনিমে দেখতে চান, তাহলে আজই এই এনিমটা দেখা শুরু করতে পারেন।

Anime Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Donten-ni-Warau

D.Gray-man রিভিউ — Hussain Shoykot Ash

Name- D.Gray-man
Episodes- 103
Mal Score- 8.23
Ranked- 272
Genres- Action, Adventure, comedy, shounen

আচ্ছা যদি মানুষকে এমন সুযোগ দেওয়া হত যে সে তার প্রিয়জন, যে মারা গেছে তাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে, তাহলে সে কি করত? তাহলে সে নিশ্চয়ই দ্বিতীয়বার না ভেবে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যা করতে বলা হয়েছে, তাই করত।

হ্যা, ডি.গ্রে-ম্যান এ ঠিক তাই দেখানো হয়েছে। এখানে কেউ মারা গেলে সাথে সাথে মিলিনিয়াম আর্ল নামক একজনের আবির্ভাব হয়, যে মৃত ব্যক্তির আপনজনের কাছে এমন একটি যন্ত্র নিয়ে আসে, যার সাহায্যে সেই ব্যক্তি তার সদ্য মৃত আত্মীয়ের আত্মাকে ডেকে আনতে পারবে। এবং এখানেই ভুল করে ফেলে মানুষ, ডেকে নিয়ে আসে তার মৃত প্রিয়জনকে।

এখন বলে দিই, যেই যন্ত্রের সাহায্যে আত্মাকে ডেকে আনা হয়, তাকে বলা হয় আকুমা। এই যন্ত্রের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে আত্মা আটকা পড়ে যায় এবং আত্মা মিলিনিয়াম আর্ল এর কথা শোনে। কিন্তু আত্মার মুক্তি হয়না, তাই সে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মিলিনিয়াম আর্লের কথা শুনে এবং ইভিল স্পিরিট হয়ে আটকা পড়ে যায় পৃথিবীতে আকুমা নামক যন্ত্রের
মধ্যে।

এখন আসি, স্বভাবতই আমাদের জানা মতে যখন কেউ মারা যায় তখন সে মুক্তি চাইবেই, কিন্তু তাকে যদি আটকে রাখা হয় তখন সে মনোঃক্ষুণ্ণ হবে। মিলিনিয়াম আর্ল যখন মৃত ব্যক্তির আত্মাকে তার প্রিয়জনের সাহায্যে আকুমাতে পরিণত করেছে, তখন আকুমাকে যাতে সাধারণ মানুষ চিনতে না পারে তাই তাকে আদেশ দেয়, যেন সে যে তাকে ডেকে এনেছে তার শরীর ধারণ করে।

এ তো গেল আকুমাতে পরিণত হওয়ার ঘটনা, কিন্তু যখন ইভিল থাকবে তখন নিশ্চয়ই হিরোও থাকবে যারা পৃথিবীকে রক্ষা করবে!

হ্যা, এখানেও তেমন আছে এবং তাদেরকে এক্সরসিস্ট বলা হয়। এদেরকে গড এমন পাওয়ার দেন যাতে তারা আকুমা ধ্বংস করতে পারে। এদেরকে যে পাওয়ার দেওয়া হয় তাকে বলা হয় ইনোসেন্স। যেই সংগঠন আকুমা ধ্বংসের কাজ করে তাদের নাম হচ্ছে ব্ল্যাক অর্ডার। ইনোসেন্স নিয়ে গবেষণা করে এমন বিজ্ঞানী, এক্সরসিস্ট এবং আকুমা শনাক্ত করে এমন রিসার্চ টিম থাকে। মূলত এই নিয়েই গঠিত ব্ল্যাক অর্ডার। বিভিন্ন এক্সরসিস্টের বিভিন্ন পাওয়ার আছে, এবং বিভিন্ন আকুমার বিভিন্ন পাওয়ার।

 

অন্যান্য বিভিন্ন শৌনেন এনিমের মতো এখানেও একজন কেন্দ্রীয় নায়ক চরিত্র আছে। তার নাম হচ্ছে এলেন ওয়াকার, তিনি অন্যান্য এক্সরসিস্ট থেকে আলাদা। তার ওপর একটা অভিশাপ আছে, যার কারণে সে তার বাম চোখের সাহায্যে মানুষের ছদ্মবেশে আকুমা থাকলে তা দেখতে পারে। এবং যেই অস্ত্র সে আকুমা মারতে ব্যবহার করে, তা আর কিছুই না; তার নিজের হাত। হ্যা, তার হাত একটা অস্ত্র। যখন কোনও আকুমা শনাক্ত হয় তখন এটা একটিভেট হয় এবং এলেন আকুমা মারতে তা ব্যবহার করে।

প্রথম ৫ টা পর্ব একটু বোরিং, কারণ এখানে নায়কের প্রবেশ হয় এবং শুধু আকুমা বনাম এক্সরসিস্টের সংঘর্ষ হয়, তাই প্রথম প্রথম মনে হতে পারে যে এটা এমন এনিম যেখানে প্রতিটা পর্বে এক্সরসিস্ট আকুমা হান্টে বের হবে এবং একটা পর্ব একটা মিশন নিয়ে গঠিত, কিন্তু ৫ টা পর্ব ধৈর্য নিয়ে দেখুন, আর তার পর দেখুন কিভাবে কাহিনী ডালপালা মেলে আপনার সামনে উপস্থিত হয়। এনিমটার গ্রাফিক্স একটু খারাপ, তবে পুরানো এনিম হিসেবে ভালই বলতে হয়। ওপেনিং এবং এন্ডিং গানগুলি অসাধারণ। তবে যেই জিনিসটা আমার এই এনিমের সবচাইতে ভাল লেগেছে সেইটা হচ্ছে যেভাবে স্টোরি গড়ে উঠেছে এবং যেভাবে কাহিনী অগ্রসরহয়েছে।

যদি এই এনিমটা না দেখে থাকেন তাহলে আপনি বুঝবেন না কি মিস করেছেন, তাই যদি কোন নতুন স্বাদের শৌনেন এনিম দেখতে চান, তাহলে আজই দেখা শুরু করতে পারেন অসাধারণ এই এনিমটি

Anime download link-http://kissanime.com/Anime/D-Gray-man