Death Parade রিভিউ — Iftekhar Rashed

প্রত্যেকটা এনিমে একটা ম্যাসেজ দিয়ে থাকে, ডেথ প্যারেড এর ম্যাসেজটা হবে দাত থাকতে দাতের মর্যাদা বোঝা। অর্থাৎ জীবনের মর্ম বোঝা। হতাশা মানুষের জীবনের অনেক কাছের একটা সঙ্গী এটা মানুষকে এমন এমন সব কাজ করতে বাধ্য করে যার ফল মৃত্যুর পর ও ফল ভোগ করতে হয়।
বর্তমান সময়ের মানুষের জিবনে হতাশার মাত্রা অনেক বেড়ে গিয়েছে বিভিন্ন কারনে এবং এই এনিমেটা আমাদের অনেককে অনেকাংশেই উপকার করবে মানষিক দিক থেকে। এনিমের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো আলোচনা এটা বলতেই হয়।

এবার এনিমের মুল দুটো ক্যারেক্টার কথা বলিঃ চিউকি একটা অসম্ভব সুন্দরি একজন গুনবতী মেয়ে। এবং ডেকিম একজন দক্ষ বিচারক যার আচরন, তার সাথে তার চেহারার ধরন ও এক্সপ্রেশন সবি একটি দক্ষ বিচারকের মতই, সবুজ রঙের চোখ যার অসীম গভিরতা ও সাদা চুল- কিন্তু সে মানুষ না একটা পুতুল যার কাজ মানুষর বিচার করা তবে সে মানুষের অনুভুতি সম্বলিত।

এনিমের মুল পটভুমি হল মৃতদের বিচার করা তাদের পৃথিবীর কর্মের উপর ভিত্তি করে। এবং এই বিচারকদের একজন হল ডেকিম যার বিচারের ধরন চিউকির সাথে দেখা হওয়ার পর বিশেষ ভাবে প্রভাবিত হতে থাকে।………… প্রথম পর্বটাই একজনেকে এনিমটা দেখতে আগ্রহি করতে যথেষ্ট।

কিভাবে ডেকিম প্রভাবিত হল জানার জন্য এনিমটা দেখা শুরু করে দিন জলদি জলদি।

[মানুষকে কখনই একটা ঘটনার ভিত্তিতে জাজ করা উচিত না কারন কোন নিদৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানুষ ভিন্ন রকম আচরন করে থাকে]

1

Anohana রিভিউ — Fatiha Subah

1

আনোহানা
জানরা : স্লাইস অফ লাইফ, সুপারন্যাচারাল, ড্রামা, ট্রাজেডি
পর্ব: ১১+ ১ টা মুভি
বয়স রেটিং: ১৩+
ব্যক্তিগত স্কোর: ৯/১০

কত জানরা, কত কি কিছু নিয়েই তো অ্যানিমে তৈরি হয়। একটা খুব সাধারণ বিষয় হিসেবে অনেক অ্যানিমেতেই বন্ধুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে। তবে কেউ যদি কোন অ্যানিমে দেখতে চায় যেটা শুধুমাত্রই বন্ধুত্বকে উৎসর্গ করে তৈরি করা তাহলে তার জন্যে আনোহানা একটি আদর্শ অ্যানিমে। পুরো নাম “আনো হি মিতা হানা নো নামায়ে য়ো বকুতাচি ওয়া মাদা শিরানাই”। অনেক বিশাল নাম তাই না?! ইংরেজিতে নাম “উই স্টিল ডোন্ট নো দ্যা নেম অফ দ্যা ফ্লাওয়ার উই সও দ্যাট ডে”। সংক্ষেপে “আনোহানা: দ্যা ফ্লাওয়ার উই সও দ্যাট ডে।“
কাহিনীটি গড়ে উঠেছে ছয়জন ছোটবেলার বন্ধুকে ঘিরে। জিনতা ইয়াদোমি (জিনতান), মেইকো হোনমা (মেনমা), নারুকো আনজোও (আনারু), আৎসুমু মাৎসুয়ুকি (য়ুকিইয়াতসু), চিরিকো সুরুমি (সুরুকো), তেৎসুদো হিসাকাওয়া (পোপ্পো); এই ছয়জনের একটা দল ছিল যার নাম সুপার পিস বাসটারস্। বনের মত এক জায়গায় রয়েছে তাদের গোপন আস্তানা যেখানে ছোটবেলায় হাসি-আনন্দ, হইহুল্লোর, ছুটে বেড়ানো আর খেলায় কাটত তাদের দিনগুলো। কিন্তু সেই সুখের দিনগুলো হারিয়ে যায় যখন মেনমা এক দুর্ঘটনায় পানিতে পড়ে মারা যায়। তাদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠে হাই স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েগুলো পরস্পর থেকে আলাদা হয়ে যায়। ইয়ুকিয়াতসু আর সুরুকো চলে যায় এক স্কুলে। পোপ্পো স্কুল ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরায় এবং পার্ট-টাইম জব করে টাকা আয় করে। আনারু আর জিন্তানও পড়ে একই হাই স্কুলে। কিন্তু জিন্তান মেন্মার মৃত্যুতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। স্কুলে, মানুষের মাঝে না গিয়ে নিজেকে ঘরের মাঝে বন্দী রাখতেই সে বেশি সাছন্দ্য বোধ করে। সেই জিন্তানের সামনে এক গ্রীষ্মে হাজির হয় মেন্মা। জিন্তান ব্যাপারটিকে তার মানসিক চাপ থেকে তৈরি নিছক কল্পনা হিসেবে ধরে নেয়। কিন্তু জিন্তান বুঝতে পারে মেন্মা তার কল্পনা থেকে সৃষ্টি কেউ নয়। সে আসলেই তার সামনে এসেছে একটি অনুরোধ নিয়ে। মেন্মা জানায় সে একটি অপূর্ণ ইচ্ছে নিয়ে মারা গিয়েছিল। যেটার কারণে তার আত্মা স্বর্গে প্রবেশ করতে পারছে না। মেন্মার আত্মা পৃথিবী থেকে চলে যেতে পারবে যদি তার সেই ইচ্ছে পূরণ হয়। কিন্তু কি সেই ইচ্ছে? মেন্মা সেটাই মনে করতে পারে না। সে জিন্তানকে অনুরোধ করে তার সেই ইচ্ছে পূরণ করে দেয়ার জন্যে। তবে তাতে অবশ্যই লাগবে তাদের সেই ছোটবেলার বন্ধুদের সাহায্য।
কি করবে জিন্তান? খুঁজে কি পাবে বিছিন্ন হয়ে যাওয়া বন্ধুদের? যাদের সাথে এত দূরত্ব তৈরি হয়েছে পারবে কি তাদের মাঝের দূরত্ব আবার কমিয়ে ফেলতে? ফিরে পাবে সেই হারানো দিনগুলো? জোড়া লাগবে কি তাদের বন্ধুত্ব? মেন্মা কি স্বর্গে যেতে পারবে? উত্তরগুলো জানা নেই জিন্তানের…
অ্যানিমেটিতে বন্ধুদের মাঝের মান-অভিমান, বিরোধ, কিছু চাওয়া-পাওয়ার জন্যে স্বার্থপর আচরন, অপরাধ বোধ, ভালবাসার মানুষকে না পাওয়ার বেদনা, ছোট থেকে বড় হয়ে উঠে মানসিকতার পরিবর্তন, জীবনে কাছের মানুষের মৃত্যুর প্রভাব ইত্যাদি বিষয়গুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গল্পের অগ্রগতির সাথে সাথে প্রতিটা প্রধান চরিত্রই বিকশিত হয়েছে। আর এই সিরিজটি নিয়ে কথা বলতে গেলে এর এন্ডিং সং “সিক্রেট বেস” বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অসম্ভব সুন্দর এই গানটি। গানটির কথাগুলোও অপূর্ব। অ্যানিমে ফ্যানদের কাছে এই গানটি অতি জনপ্রিয়।
মাত্র ১১ পর্বেই অ্যানিমেটির কাহিনীর সমাপ্তি হয়। কিন্তু সব অ্যানিমে এটার মত সন্তোষজনক সমাপ্তি দিতে সক্ষম হয় না। আনোহানা এক অসাধারণ অ্যানিমে যা মনে গভীর দাগ কেটে রাখবে। খুব কম মানুষই আছে যারা এটা দেখে কাঁদেনি। তবে না কাঁদলেও চোখের কোণে এক ফোঁটা অশ্রু আসবেই এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি! এর মুভিটিতে কাহিনী বেশি আগায়নি বরং সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পুনরায় দেখায়।
এই ব্যস্ত জীবনে এখন আমাদের সময় কই পুরনো দিন আর বন্ধুদের নিয়ে ভাবার? তবু কেউ যদি সময় পান তো দেখে ফেলতে ভুলবেন না এই ছোট অ্যানিমেটা। আর যদি বন্ধুদেরও সাথে পান তাহলে তো বাজিমাত! বন্ধুরা মিলে একত্রে বন্ধুত্ব নিয়ে অ্যানিমে দেখার চেয়ে ভালো আর কিই বা হতে পারে?! যারা ইতিমধ্যে এটা দেখে ফেলেছেন এবং আনোহানা’র মত আরও অ্যানিমে দেখতে চান তারা দেখে ফেলতে পারেন “আনো নাতসু দে মাত্তেরু” বা “ওয়েটিং ইন দ্যা সামার”।

Kaiba রিভিউ — Fahim Bin Selim

6

কাইবা[Kaiba](২০০৮)
টিভি – পর্ব ১২
জনরাঃ সাইন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসী, রোমান্স, মিস্টেরী
প্রযোজকঃ ম্যাডহাউস
মূলঃ মাসাকি ইউয়াসা
পরিচালনাঃ মাসাকি ইউয়াসা

২০০৬ এর কেমোনোজুমে দিয়ে টেলিভিশনে ইউয়াসার আত্নপ্রকাশ। আর ২০১০-এ তার সবচেয়ে জনপ্রিয় আর প্রশংসিত কাজ তাতামি গ্যালাক্সি। এখন কিছু সাধারন পার্থক্য থাকলেও মৌলিক দিক দিয়ে ইউয়াসার সব অ্যানিমের আর্টে মিল খুঁজে পাবেন। কিন্তু কেমোনো আর তাতামির মাঝে স্যান্ডুইজড হয়ে ২০০৮ সালে যে কাইবা বের হল, তা শুধু আর সব পরিচালকের সব অ্যানিমের থেকেই আলাদা না, ইউয়াসার যেকোন কাজের থেকেও আলাদা! আর কাইবা, তার রেট্রো আর্ট স্টাইল দিয়ে – অ্যানিমের সাথে যা কল্পনাও করা যায় না – ছোট পর্দায় ফুটিয়ে তুলল এক জাঁকালো, প্রাণবন্ত আর চাদর ঘেরা রহস্য গল্প। তার সাথে আবার সাইন্স ফিকশন আর রোমান্স!

কাইবা এক কল্পনার জগতের সাথে তুলনা করা যায়। সাইন্স ফিকশন অ্যানিমে সাধারণত যা হয় – অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, অত্যাধুনিক এক জগত। কিন্তু তবুও বর্তমান জগতের সাথে তার মিলটা স্পষ্টই থাকে। কাইবা আসলেই এক কল্পনার জগত; স্বপ্ন অথবা দুঃস্বপ্ন; পরাবাস্তব আর অপরিচিত; নিজ চোখে আশেপাশে যা দেখেন তার সাথে এর মিল খুঁজে পাওয়া প্রায় দুঃসাধ্য এক ব্যাপার।
আর কাইবার এই জগতে মানুষের স্মৃতিশক্তি জমিয়ে রাখা যায় বিভিন্ন নির্জীব বস্তুতে! স্থানান্তর করা যায় এক দেহ থেকে আরেক দেহ, এক বস্তু থেকে আরেক বস্তুতে; যোগ করা যায়, বদলানো যায়…মুছে ফেলা যায়। অমরত্বের এখানে এক নতুন সংজ্ঞা আছে – তা শারীরগত না, অস্তিত্বগত। কিন্তু এ ধরনের জগতে, কোন জিনিসটাকে প্রানী বলা যায়? কীভাবে জানবেন আপনার মাথায় ছোটকালের সুখের যে স্মৃতিগুলো আছে তা আসলেই ঘটেছে, যোগ করা কোন ব্যাপার না? কীভাবে বুঝবেন – আপনি আসলেই আপনি?
আকাশে ভেসে বেরাচ্ছে মেঘের দল, তার উপরে রাজকীয় জীবনের হাতছানি। কিন্তু যা পার হতে হওয়ার একটাই মূল্য – হারাতে হবে আপনার সব স্মৃতি।
আর তার নিচে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা আর প্রতারণার এক জগত। জায়গায় জায়গায় ফাঁদ পাতা, দারিদ্রতায় জর্জরিত মানুষগুলোর কাছে মূল্যবোধের চেয়ে বেঁচে থাকাটাই আসল।
আর এই স্মৃতির চরম বিশৃঙ্খলার জগতে আমাদের নায়ক, কাইবা, জেগে উঠল – স্মৃতিভ্রষ্ঠ হয়ে; একেবারেই ‘শুন্য মাথায়’; এমনকি নিজের নাম, পরিচয় সম্পর্কেও কোন ধারণা নেই। গলায় শুধু একটা হার ঝুলানো, আর তাতে এক মহিলার ছবি, অবশ্যই যার কোন স্মরণও তার নেই! শুরু হল নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক যাত্রা…

ক্লিশে, অ্যামনেশিয়া গল্প? শুধু আর্ট বাদ দিলেও কাইবা আর যেকোন সাই-ফাই থেকে আলাদা। রহস্য গল্পের অসাধারন এক সম্পাদনা আর তার নিখুঁত এক আখ্যান। প্রথম দুটো পর্ব হয়তো পুরোপুরি মাথার উপর দিয়ে যাবে। কিন্তু বাকানো!-র মত এলোমেলো পূর্বাভাসগুলো সবজায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সময় দিন, ধাঁধার ছড়ানো টুকরা গুলো এক হতে শুরু করবে।

কাইবা উজ্জ্বল রঙ-এ ভরপুর, সম্মোহিত করে রাখা এক জগত। সিরিজের প্রথম অংশ, এপিসোডিক, মূশি-শির মত মন ঠান্ডা করা এক একটি পর্ব, আস্তে আস্তে এই অপরিচিত জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে। হয়তো কয়েক পর্ব যেতেই আর অচেনা মনে হবে না; অর্থকষ্টে থাকায় নিজেদের দেহ বিক্রি করা(আক্ষরিক অর্থেই) এক পরিবার, দুঃখের স্মৃতি ভুলার চেষ্টারত এক বৃদ্ধা অথবা ক্রনিকোর আর তার পরিবারের গল্পে(পর্ব ৩ – আমার দেখা যেকোন অ্যানিমের অন্যতম সেরা পর্ব) আপনিও হয়তো সহমর্মী হবেন।
আর এই পর্বগুলো ভিত্তি করে দেবে পরবর্তী অংশের জন্য। যেখানে রহস্যের জট খুলতে শুরু করবে একে একে; নান্দনিক কায়দায়। সাধারন অ্যাডভেঞ্চার থেকে যা দ্রুতই বদলে যাবে বিদ্রোহ, রাজনীতি আর বিশ্বাসঘাতকতার এক গল্পে।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় এর আবহ সংগীত; এই আজানা, অদেখা জগতের পরাবাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। আর তার সাথে আছে দুটি চমৎকার ওপেনিং আর এন্ডিং থিম। কাইবার সংগীত আবেগময়, বিষন্ন এক ভালো লাগার অনুভূতি দিয়ে যাবে।

সাধারন অ্যানিমে আর্টওয়ার্কের বাইরে কিছু পছন্দ না হলে, কাইবা আপনার জন্য না। অ্যানিমে স্টুডিওতে দিনরাত বসে বসে আর্টিস্টের সুনিপূণ হাতে আঁকা না, ঘরে বসে আনাড়ি হাতে মাইক্রসফট পেইন্টে আঁকা ছবির সাথেই এর মিল খুঁজে পাবেন বেশি। কিন্তু এতোটুক ‘অস্বস্তি’ কাটিয়ে উঠতে পারলে, পাবেন এক চমৎকার গল্প; সাই-ফাই, রহস্য আর ভালোবাসার এর অসাধারন মেলবন্ধন।
তাতামি গ্যালাক্সি, পিংপং অথবা মাইন্ড গেম দেখে ইউয়াসা সম্পর্কে নূন্যতম ধারনা থাকলেও তা ভুলে যান। কাইবা আরো চিত্রানুগ, বাস্তবতা বিচ্ছিন্ন আর অচেনা। আর তা আপনাকে নিয়ে যাবে ‘সমুদ্রের তলদেশ’, আর নিয়ে যাবে ‘মেঘের উপরে’; পুরো জগৎ উলট পালট করে দেওয়া, নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এই যাত্রায়। আপনি প্রস্তুত?

মাইঅ্যানিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.৩২
আমার রেটিংঃ ৮৬/১০০

Tokyo Ghoul রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

4

১) মাঙ্গা পড়ি নাই (পড়বও না); সুতরাং “মাঙ্গাটা এনিমটা থেকে হাজার গুণ ভাল” জাতীয় কথা শুনতে আগ্রহী না; ওই ইতিহাস বহু আগেই জানা আছে।
২) এইখানে সেইখানে গুড়াগাড়ি স্পয়লার থাকতে পারে; বেশি ডরাইলে পইরেন না। পরে আবার কইয়েন না আমি সাবধান করি নাই।
৩) আন্সেন্সর্ড ভার্শন দেখসি। আলোচনা সেইটা নিয়েই।

রিভিউঃ টোকিও ঘুল

কানেকি কেন শান্ত শিষ্ট সারাক্ষণ বইয়ে ডুবে থাকা একটা ছেলে। যে কোন ভাবেই হোক, সে একবার রিজে কামিশিরো নামক ভয়াবহ এক সুন্দরীর সাথে ডেট জুটিয়ে ফেলে; যে কিনা তার মতনই বইপড়ুয়া। রিজের আরেকটা বড় পরিচয় সে একজন ঘুল। ঘুল হচ্ছে এক ধরণের মানুষের মতন জীব; যাদের জীবন ধারণের একমাত্র উপায় নরমাংস ভক্ষণ। স্বাভাবিক খাবার খেলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডেটের শেষটা অবশ্য খুব সুখকর হয় না। এক কন্সট্রাকশন বিল্ডিং এর নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কিছু বীম মাটিতে পড়ে গেলে তার আঘাতে রিজে মারা যায়। গুরুতর আহত কানেকি নিজেকে আবিস্কার করে হাসপাতালের বিছানায়, রিজের শরীরের কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ট্রান্সপ্লান্ট অবস্থায়; যা কিনা তাকে আধামানুষ আধাঘুল বানিয়ে দেয়। এই অবস্থায় কানেকি মনুষ্য সমাজেও ফিরে যেতে পারে না; ঘুল সমাজও তাকে গ্রহণ করে না। এই অবস্থায় কানেকির আভ্যন্তরীণ লড়াই; বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প নিয়েই টোকিও ঘুল।

2

সিরিজটার প্রথমেই যে জিনিসটা দৃষ্টি আকর্ষণ করবে সেটা হল ওপেনিং সং। ওয়ান অফ দা বেস্ট এনিম ওপেনিং। চমৎকার কাজ। 🙂

এনিমেশন বেশ চমৎকার, বিশেষ করে ফাইটগুলোতে। কাগুনে, কুইঙ্কিগুলোর ডিজাইন বেশ ভাল ছিল। আক্ষরিক অর্থেই রক্তাক্ত লড়াই ছিল; গ্যালন গ্যালন রক্ত বয়ে গেসে একেক্টা ফাইটে। 😀

গল্প বেশ ভাল; বিশেষ করে মানুষ এবং ঘুল দুই দিকের সাইকোলোজিই পাশাপাশি শো করার চেষ্টাটা বেশ আকর্ষণীয় ছিল। ঘুল রা যে শুধুই মানুষখেকো জন্তু না; তাদেরও ইমোশন আছে; পরিবার আছে; আন্তেকুর মতন কিছু কিছু ঘুলরা যে মৃত মানুষ খেয়ে মানুষের সাথে মিলে মিশে বাস করছে; করতে চেষ্টা করছে – এই ব্যাপারগুলার চিত্রায়নের ব্যাপারটা ভাল ছিল।

আরেকটা চমৎকার দিক বোধহয় ভয়েস এক্টিং। বেশ গোছানো এবং চিত্তাকর্ষক কাজ।

১২ এপির সিরিজ; তাই “খুব বেশি ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট হয় নি” বলাটাও বোধহয় আন্ডারস্টেটমেন্ট হয়ে যায়। মোটামুটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা রাশড এন্ডিং দিয়ে সিরিজটা শেষ হয়ে গেসে। মাঝে হিনামি সহ কিছু কিছু চরিত্র “ঘুলরাও মানুষ” ধরণের আইডিয়া দেওয়া ছাড়া গল্পে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে নাই।

3

সো সব মিলিয়েঃ
পজেটিভঃ ওপেনিং সং, কিছু ফাইট সিন, কুইঙ্কি ডিজাইন, স্টোরি প্রেমিজ, ভয়েস এক্টিং।
নেগেটিভঃ রাশড এন্ডিং, আন্ডার ডেভেলপড ক্যারেক্টার, কিছু কিছু চরিত্রের অতি নাটুকেপনা।

মনে রাখার মতন কিছু না হোক, মাঙ্গার জন্য অপমানজনক এডাপশন হোক, ওভারহাইপড হোক; শুধু এঞ্জয় করার জন্য কোন একটা সিরিজ দেখতে তো সমস্যা থাকার কথা না। মাঙ্গা না পড়া যে কেউই সিরিজটা এঞ্জয় করবেন বলেই আমার বিশ্বাস ! 🙂

5

Hotarubi no Mori e রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

স্মৃতি কি আমারও আছে?

স্মৃতি কি গুছিয়ে রাখা আছে
বইয়ের তাকের মত,
লং প্লেইং রেকর্ড-ক্যাসেটে
যে-রকম সুসংবদ্ধ নথীভুক্ত
থাকে গান, আলাপচারীতা?

আমার স্মৃতিরা বড় উচ্ছৃঙ্খল,
দমকা হাওয়া যেন
লুকোচুরি, ভাঙাভাঙি,
ওলোটপালটে মহাখুশি
দুঃখেরও দুপুরে গায়,
গাইতে পারে, আনন্দ-ভৈরবী।

সময় খুব নিষ্ঠুর সত্ত্বা। তার কাজ শুধু বয়ে যাওয়া; সে কারো জন্যই অপেক্ষা করে না; না ঝিঁঝিঁ ডাকা তপ্ত গ্রীষ্মের দুপুরের জন্য, না শরতের ঝড়ে পড়া পাতার জন্য, না জীর্ণ শীর্ণ নিরুত্তাপ শীতের জন্য। কোন একদিনের ঝুম বৃষ্টি আর মাটির সোদা গন্ধ পরমুহুরতেই স্মৃতি হয়ে যায়।

Hotarubi no Mori e এর চরিত্রগুলো ঠিক এমন করেই সময়ের পাকে বাঁধা। ছেলেটি মানুষের ছোঁয়ায় বিলীন হয়ে যাবে বলে পাহাড়ী দেবতার বন ছাড়তে পারে না। মেয়েটি পুরো একটি বছর পার না করে তাকে দেখতে পায় না। তাই প্রতি গ্রীষ্মেই মেয়েটি ছুটে যায় ছেলেটির কাছে; কোন একদিন হটাত করেই আর এই ছুটাছুটির দরকার পড়বে না – এটা খুব ভালভাবে জেনেই।

Hotarubi no Mori e “ফিজিকাল ভালবাসা”র কনসেপ্টটা জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ভালবাসার যে আসল নির্যাস তাকে খুজে ফিরেছে। যে ভালবাসাকে আমরা খুজে পাই যখন আমরা প্রিয়জনের কাছাকাছি থাকি; কিঞ্চিত দুষ্টুমিতে তার মুখের হাসিটুকু দেখি; যখন কি বলব তা খুজে না পেয়ে দম বন্ধ হয়ে আসে; কিংবা দুজনে পাশাপাশি নিরিবিলি বসে থাকি। ভালবাসা সব সময় সরব হতে হয় না; মাঝে মাঝে নীরবতায়, অনেক কিছু না বলাতেও ভালবাসা লুকিয়ে থাকে। Hotarubi no Mori e সেই থিমের উপর দাঁড়িয়েই আমাদের একটা ভালবাসার গল্প শোনায়; যে ভালবাসাটা কোন রকম চাওয়া পাওয়া বিবর্জিত; যে ভালবাসাটা খুব স্নিগ্ধ।

পুরো মুভিটার পরতে পরতে দুর্দান্ত আর্টওয়ার্ক; চমৎকার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আর দুটো ভিন্ন জগতের বাসিন্দার কথোপকথন – ৪২টা মিনিট যে কোন দিক দিয়ে পার হয়ে যাবে টেরও পাওয়ার কথা না। “ভাল না বাসাটা দুঃখের, ভাল বাসতে না পারাটা বোধহয় তার চেয়েও বেশি” – স্প্যানিশ কবি মিগুয়েলের কথাগুলো যেন এক হয়ে যায় মুভিটার সাথে।

শুরুটা করেছিলাম পুর্নেন্দ পত্রীর একটা কবিতায়। শেষ করি নির্মলেন্দু গুণের কবিতার কয়েকটা লাইন দিয়ে –

কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়ে
গুটিয়ে নিয়েছি হাত-সে কথা ঈশ্বর জানেন।
তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও
কতবার যে আমি সে কথা বলিনি
সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন।

এমত উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো তোমার উদ্দেশ্যে
কতবার যে এরকম একটি দৃশ্যের কথা আমি মনে মনে
কল্পনা করেছি, সে-কথা আমার ঈশ্বর জানেন।

1

Time of Eve রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

7

“Are you enjoying the time of eve?”

কিছু গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। হলিউড মুভির গল্প না; একেবারে নিখাদ বাস্তব জীবনে ঘটতে থাকা কিছু গল্প। জাপানের চুকিও ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক কিছু বাচ্চাকাচ্চা রোবট বানিয়েছেন। এই রোবটগুলো একেবারে মানুষের বাচ্চার মতন; হাসে, কাঁদে ঘুমায়ে যায়। ওল্ড হোমে থাকা নিঃসঙ্গ মানুষগুলোকে একটু সময় কাটানোর সুযোগ করে দিতেই এই প্রজেক্টের উদ্ভব। ওদিকে টেরাসেম মুভমেন্ট নামে একটা সংগঠন মানুষের স্মৃতি, ব্যাক্তিত্ত, আবেগ – এগুলো রোবটের মধ্যে জমায়ে রাখার কাজ শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যেই। আবার হোন্ডা বানাচ্ছে হাটতে চলতে সিড়ি বাইতে পারে এমন রোবট।

এতো গেল গায়ে গতরে খাটানো যায় এমন রোবট নিয়ে প্যাচাল। টেক্সাস অস্টিন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা রীতিমত কম্পিউটারকে স্কিতজোফ্রেনিকই বানিয়ে ছেড়েছেন। আর জর্জিয়া টেক স্কুলের রোনাল্ড আরকিন তো বানিয়েছেন মিথ্যেবাদী রোবট। এই রোবটে মিথ্যে আগে থেকে প্রোগ্রাম করা থাকে না; সে নিজে নিজেই পরিবেশ দেখে মিথ্যে বলাটা আয়ত্ব করে নেয় !!!

8

জি হ্যা; এতক্ষণে বোধহয় এতো রোবট আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কচকচানির উদ্দেশ্য বুঝে যাবার কথা। যে মুভিটা নিয়ে লিখতে বসেছি সেটা মানুষ, রোবট আর মনুষ্যত্ব, বুদ্ধিমত্তা – এইসব কনসেপ্টকে নিয়েই বানানো।

দেখলাম “Time of eve”. ১০৬ মিনিটের এই মুভির সেটিংস নিকট ভবিষ্যতে; যেখানে মানুষ এবং হিউম্যানয়েড রোবট “এন্ড্রয়েড” এর পাশাপাশি সহাবস্থান। বাস্তবের রোবটরা না করলেও গল্প সিনেমার বেশিরভাগ রোবটই আসিমভ সাহেবের তিনটে সুত্রই মেনে চলে; এখানেও তার ব্যাতিক্রম নয়। তবে সেখানে একটা “কিন্তু” থেকে যায়। আসিমভের ল গুলোতে “রোবট তাকে দেওয়া আদেশের বাইরে কিছু করা যাবে না” কিংবা “রোবট মিথ্যে বলতে পারবে না” এই ধরণের কোন বাইলজ নেই। আমাদের এই গল্পে বেশিরভাগ মানুষই রোবটকে “শুধু মেশিন” হিসেবে দেখে যেভাবে ট্রিট করার কথা – স্বার্থপর, ঠান্ডা এবং নিষ্ঠুর – সেভাবেই ট্রিট করে। কিন্তু এর মাঝেও কিছু কিছু মানুষ থাকে; যারা আসলে “শুধু মেশিন” এর ধারণার বাইরে গিয়ে এন্ড্রয়েডদের আলাদা “সত্ত্বা” হিসেবে দেখার চেষ্টা করে; বোঝার চেষ্টা করে। কিন্তু কেন? রোবটদেরকে অধিক বুদ্ধিমত্তা দিলে সেটা কি মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে না অভিশাপ? একটা খেলনা গাড়ির প্রতিও কিছুদিন পরে একটা মায়া, একটা ভালোবাসা জন্মে যায়; সেখানে একটা বাচ্চাকে লালন পালনের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোন রোবটের হাতে ছেড়ে দিলে সম্পর্কটা কি হতে পারে? মানবিক আবেগ কি শুধু মানুষের করায়ত্ত থাকবে? মানুষ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটা সত্ত্বার সাথে মানবিক আবেগের সম্পর্কের মাত্রাটা কি হবে? এ ধরণের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে মুভিটিতে।

6

মুভিটা দেখার সময় আমার বার বার যে কথাটা মনে হয়েছে সেটা হল “স্নিগ্ধ”। মুভিটার সেটিং সিম্পল, আমাদের বর্তমান পৃথিবীর সাথে সমান্তরাল, কিন্তু তার মাঝেও খুব সূক্ষ্ম একটা পার্থক্য আছে; যেটা মুভির অদেখা কিন্তু সম্ভাব্য ভবিষ্যতে প্লট সাজাতে সাহায্য করে। চরিত্র রুপায়ন, তাদের চলাফেরা, চারপাশের পরিবেশ এতটাই বাস্তবের সাথে মিল যে খুব সহজেই নিজের চেনাজানা জগতের সাথে মিলিয়ে ফেলতে পারবেন। কিন্তু তার মাঝেই, এই এত শত বাস্তবতার ভীড়েও ফুটপাথের বিষণ্ণ ছায়ায় কি যেন লুকনো রহস্য কিংবা উজ্জ্বল সূর্যালোকে ঝলমলে কিন্তু প্রাণহীন শহরের পথ অথবা ধূসর বাদামী আবহ অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দেয় যেন !!

চরিত্র, গল্প অথবা সাউন্ডট্র্যাক – কোন কিছুই নিয়েই আর আলাদা করে তেমন কিছু একটা বলার নেই আসলে। শুধু এইটুকু প্রমিজ করতে পারি মুভিটা দেখা শুরু করলে সবকিছু ভুলে গিয়ে কোন দিক দিয়ে সময়টা পার হয়ে যাবে টেরই পাবেন না !

9

The Tatami Galaxy রিভিউ — Asfina Hassan Juicy

4

The Tatami Galaxy
Episodes: 11

জনৈক দার্শনিক বলেন “মানুষ মাত্রই অসন্তুষ্ট।” মানুষ এক মূহুর্ত হাসে,পরমূহুর্তেই নাসিকা দিয়ে ফোঁস করে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করে বলে “হুম,আমি অসন্তুষ্ট।” মানুষের মনের এই অসন্তোষের কক্ষে এসে যোগ দেয় অতীতকে দোষারোপ,নিজেকে দোষারোপ,মানুষকে দোষারোপের এক ধরণের প্রবণতা এবং একটি ‘যদি’র কাল্পনিক কোর্ট।‘যদি এই কাজটা না করতাম’, ‘যদি এই জিনিসটা না হইত’, ‘যদি এই ব্যাটা এই আকাম না করত’…কিন্তু এই ‘যদি’ই যদি বাস্তব হত তবে কি জীবনের সব অসন্তোষ ঘুঁচে গিয়ে চিরকাঙ্খিত ‘rose coloured life’ এর আগমন ঘটত?
গল্পের ন্যারেটর কলেজের নতুন জীবনের দ্বারকোঠায়।আর দশজন স্বাভাবিক যুবকের মত সেও এক গ্যালন বসন্তপূর্ণ ফুলেল জীবনের আশা নিয়ে প্রবেশ করে তার ক্যাম্পাসে।অজস্র নব নব ক্লাব বা অতিরঞ্জিত করে বললে ‘জীবনের দরজা’র মধ্যে থেকে সে পছন্দ করে নিল টেনিস ক্লাব।কিন্তু হ্যাঁ, জীবন তাকে স্বভাবতই কচু দেখিয়ে সব আকাঙ্খা পণ্ড করে দিল।আর কচু দেখাতে সাহায্য করল টেনিস ক্লাবের নিন্দনীয় এক চরিত্র Ozu। তবে যদি সে প্রথমে টেনিস ক্লাব না নিয়ে অন্য কোন ক্লাব বেছে নিত? যদি তার জীবনের choice এবং activity ভিন্ন হত? সে কি পেত চিরকাঙ্খিত ‘rose coloured life’ ?

মানুষ আকাশের দিকে তাকালে তার জীবন নিয়ে ভাবে,ঘুমানোর সময় তার জীবন নিয়ে ভাবে,খামোখা বসে থাকলেও তার জীবন নিয়ে ভাবে।ভাবে নিজের choice এর কথা আর পাল্টে দিতে চায় অতীতের হতাশাময় ব্যাপারগুলোকে।ঘরের বাইরের ঘাসের উপর শিশির না দেখে আকাশ পাতাল ঘুরাঘুরির মতই আমরা আমাদের আশেপাশের রঙ্গিন ব্যাপারগুলো না দেখে খুঁজে বেড়াই এক অস্তিত্বহীন ঝলমলে জীবনকে।কিন্তু আমরা ভুলে যাই চিরসত্যটি।১০০০/২০০০ প্যারালাল পৃথিবী ঘুরে আসলেও,শত শতবার নিজের choice, অতীত পরিবর্তন করলেও সর্বশেষে আমাদের অবস্থান অপরিবর্তনীয়।সব ক্ষেত্রেই আমাদের হতাশা,কষ্ট সমানুপাতিক। যেখানে জীবন আছে সেখানে হাসির কলরব আছে,আবার যেখানে জীবন আছে সেখানে সমপরিমাণে অবশ্যই আছে অসন্তোষ এবং ব্যর্থতা।
জীবনের এই চিরন্তন ব্যাপার এবং জীবনের দর্শনপাত না করা সুন্দর জিনিসগুলিই এই এনিমেতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চমৎকার স্টোরি ন্যারেশন, চমৎকার ভয়েস অ্যাক্টিং, চমৎকার ইলাস্ট্রেশন(পড়ুন মাসাকি ইয়ুয়াসার হা করে দেয়া ব্যাপার স্যাপার) এবং আটকে রাখা এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে।

MAL rating: ৮.৬১
আমার রেটিং : ১০ বললে কম মনে হচ্ছে।
http://myanimelist.net/anime/7785/Yojouhan_Shinwa_Taikei

5

Natsume Yuujinchou রিভিউ — আকাশ

যখনই বোর লাগে, অথবা দেখার মতো কোন এনিমে পাই না,অথবা মন খারাপ থাকে, অথবা কিছু করতে ইচ্ছা করে না সে সময় দেখার মতো একটা এনিমে হলো Natsume Yuujinchou.

কাহিনি হলো , নাতসুমে একজন স্কুল পড়ুয়া ছাত্র, সে youkai অর্থাৎ আত্মা / ghost দেখতে পারে যা অন্য কেউ দেখতে পারে না। সে তার চাচীর সাথে থাকে এবং শুধু সেই একমাত্র মানুষ যে ইয়োকাই দেখতে পারে বলে তার মন খারাপ থাকে। উল্লেখ্য যে , তার গ্র্যান্ডমাদার রেইকো নাতসুমে ও ইয়োকাই দেখতে পারতো এবং সে ‘ Book of Friends’ বই এর ক্রিয়েটার, যেই বই এ বিভিন্ন ইয়োকাইদের সাথে নির্দিষ্ট কন্ট্রাক্ট সিল করে তাদের নাম এন্ট্রি করা হয়েছে। তার মৃত্যুর পরে তার নাতি নাতসুমের কাছে এই বই থাকে এবং বিভিন্ন ইয়োকাই তাদের নাম ফেরত নিতে আসে। এসময় সর্বদা তার বডিগার্ড হিসেবে সাথে থাকে Madara নামের অত্যন্ত শক্তিশালি এবং নোবেল একজন ইয়োকাই নেকো , যার সাথে তার চুক্তি হলো নাতসুমের কিছু হয়ে গেলে [মাদারার মতে মৃত্যু] Book Of Friends মাদারা নিয়ে নিবে।

এভাবেই এপিসোডিক এনিমেটির কাহিনি এগিয়ে যায়, আস্তে আস্তে আরো অনেকেই আসে , নাতসুমে তার গ্র্যান্ডমাদার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারে। প্রচণ্ড শান্তি আর রিলাক্সনেস পাওয়া যায় শুধু এই এনিমেই । সাউন্ডট্র্যাক ও অনেক সুন্দর। আর এনিমেশন ও যথেষ্ট ভালো !

না দেখে থাকলে ১ টি ১ টি এপি করে দেখে সময় নিয়ে দেখে ফেলুন নাতসুমে ইউজিনচো। ৪ টা সীজন মোট। একটা এডভাইস , এই এনিমেটা শেষ করবেন না অথবা প্রাইম এনিমে হিসেবে দেখবেন না, বরং অন্য কোন এনিমে দেখার মাঝে এটার ১ থেকে ২ টা করে এপি দেখবেন, তাহলে সবচেয়ে বেশিক্ষন নাতসুমের সুধা পান করতে পারবেন।

2

Anime Recommendation: Xam’d: Lost Memories (Bounen no Xamdou) — Rezo D. Skylight

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>এনিমে Recommendation<<<<<<<<<<<<<<<<<<<

নামঃ Xam’d: Lost Memories (Bounen no Xamdou)
এপিসোডঃ ২৬
Genres: Action, Sci-Fi, Military
MAL score: 7.89
My score: 8.5/10

1

“Xam’d: Lost Memories” মাত্র ২৬ এপিসোডের এই ONA সিরিজটা কিছুদিন আগে দেখে ফেললাম। বিখ্যাত “Full Metal Alchemist” এনিমের অ্যাডাপশন কোম্পানি “Studio Bones” এর অরিজিনাল এনিমে এটি। আর্টস্টাইল “Eureka 7” এর সাথে যথেষ্ট মিল আছে। OP & ED song দুইটাও চমৎকার।

ঘটনার মূল চরিত্রের নাম Akiyuki Takehara। সে তার মার সাথে সেন্টান দ্বীপে বসবাস করে। প্রতিদিনের মতো সে একদিন বাসে করে স্কুলে আসে। কিন্তু সেইদিন হটাত করে বাসটি বিস্ফোরিত হয়। আর সেই বিস্ফোরণের স্বীকার হয় সে ও তার বন্ধু Haru ও Furuichi এবং স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। আর সেই বিস্ফোরণ থেকে রহস্যময় এক আলো Akiyukiর হাতে এসে প্রবেশ করে। তখনই সে পরিনত হয় Xam’d নামের এক রহস্যময় জন্তুতে। সবাই তাকে ভুল বুঝে বিস্ফোরণ এর জন্য দায়ী মনে করে। ঠিক সেই সময় Humanfrom/Mutant নামক দানবাকার জন্তু সেন্টান দ্বীপবাসীদের আক্রমন করে। এই ঘটনায় প্রান হারায় হাজার হাজার মানুষ। এভাবে ঘটনাক্রমে Akiyukiর দেখা হয় Nakiami নামের এক অদ্ভুত মেয়ের সাথে যেকিনা তাকে রক্ষা করতে পারবে Xam’d-এ পরিনত হবার হাত থেকে।

এনিমেটা আমার কাছে যথেষ্ট ভালো লেগেছে। Nakiamiকে দেখে অনেকেরি ঘিব্লির “Nausicaä of the Valley of the Wind” মুভির Nausicaä-র কথা মনে পড়বে। আর Akiyuki-র পরিস্থিতি হয় অনেকটা “Tokyo Ghoul” এর Kaneki অথবা “Parasyte” এর Shinji-র মতো। এনিমেটাতে war, politics, romance, adventure & mecha-রও সংমিশ্রণ রয়েছে।
সুতরাং, সময় পেলে ২৬ এপিসোডের এই এনিমটা দেখে ফেলতে পারেন। আশা করি এনিমেটা উপভোগ করবেন।

**এখানে দেখুন- http://kissanime.com/Anime/Xam-d-Lost-Memories

Movie Time With Yami – 47

girl-who-leapt-through-time

 

Name: The Girl Who Leapt Through Time / Toki wo Kakeru Shoujo
Duration: 1 hr. 37 min.
MAL Score: 8.52
Ranked: 104
Genres: Adventure, Drama, Romance, Sci-Fi
 
সময় এক আশ্চর্য রহস্য। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ চেষ্টা করে গেছে সময়কে নিজের বশে আনতে। বাস্তব পৃথিবীতে যদিও তা করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি, মানুষের কল্পনা তাই বলে থেমে থাকেনি। গল্প উপন্যাস, মুভি, এরকম বিভিন্ন মাধ্যমে লেখকেরা বর্ণনা করেছেন, সময়কে বশে আনার গল্প, তা দিয়ে কেউ কখনো ঘটিয়েছে বড় বড় পরিবর্তন, যা পৃথিবীর ইতিহাস নতুন করে লিখেছে; আবার কেউ দেখিয়েছেন খুব সামান্য কিছু পরিবর্তন, যা দিয়ে পৃথিবীর ওপর কোন সার্বিক প্রভাব হয়ত পড়েনা, কিন্তু কয়েকজন নির্দিষ্ট মানুষের জীবনকে পরোপুরি ওলটপালট করে ছেড়েছে। সময়ের বাঁধা অতিক্রমকারী বালিকার গল্পটি কিছুটা এমনই।
 
কোনো মাকোতো এক সাধারণ জাপানি বালিকা। আর দশটা হাইস্কুল বালিকার মতই স্বাভাবিক তার জীবন। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার, বোনের সাথে খুনসুটির সম্পর্ক, স্কুলজীবন, সেখানকার বন্ধুবান্ধব, পরীক্ষার টেনশন, ক্রাশ, সবকিছু মিলে মাকোতোর জীবন চলছিল ভালভাবেই।
 
একদিন স্কুল শেষে ল্যাবরেটরী রুমের পাশের রূমে কিছু জিনিস পৌছে দিতে যায় মাকোতো। তখন হঠাত সে পাশের ঘরটিতে কিছু শব্দ শুনতে পায়। কৌতুহলী মাকোতো শব্দের উৎস খোঁজার জন্য পাশের রূমে যায়। এবং যাওয়ার পরে সে এমন একটা জিনিস আবিষ্কার করে, যা তার সাধারণ জীবনটাকে মূহুর্তেই করে তোলে অসাধারণ।
 
মুভিটির ডিরেক্টর মামোরু হোসোদা, তার অন্যান্য কাজগুলোর মাঝে রয়েছে সামার ওয়ার্স এবং উলফ চিলড্রেন আমে অ্যান্ড ইউকি। তিনটি মুভিতেই আর্টওয়ার্কের প্রচুর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। চোখকে প্রশান্তি দেয়া উজ্জ্বল ঝলমলে আর্টওয়ার্ক, বিস্তৃত খোলা আকাশের সৌন্দর্য ভালভাবে ফুটিয়ে তোলা অ্যানিমেশন, এবং সেইসাথে মানানসই ওএসটি মুভিটির কাহিনীর সৌন্দর্য খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। ক্যারেক্টারগুলোর আবেগ, অনুভূতি, তাদের আনন্দ, কষ্ট সবকিছুই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যার ক্রেডিট জাপানি ও ইংরেজী, দুই ভাষার ভয়েস অ্যাক্টরদেরই প্রাপ্য। মুভিটির নামই বলে দেয়, সময়কে অতিক্রম করার সাথে মুভিটির সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু সাই ফাই মুভির পাশাপাশি রোমান্টিক মুভি হিসেবেও এটি বেশ চমৎকার! মুভিটির এন্ডিংটা আমাকে কিছুটা হতাশ করেছে, কিন্তু তারপরেও এটি ওভারঅল খুবই এঞ্জয়েবল একটি মুভি।
 
তাই, যারা এখনও মুভিটি দেখেননি, সময় করে দেখে ফেলুন এই চমৎকার মুভিটি।
 
Movie Download Link-
 
 
Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!