Movie Time With Yami – 62

earthsea

Name: Tales from Earthsea / Gedo Senki
Duration: 1 hr. 55 min.
MAL Score: 7.21
Ranked: 2464
Genres: Adventure, Fantasy, Magic.

বলা হয়ে থাকে, চাপ নিয়ে কাজ করলে সেই কাজটা নাকি ভাল হয়। কোন একটা কাজের ওপর যখন মানুষ ভরসা করে থাকবে, সেই কাজটা ভালভাবে করার স্পৃহা তত বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু, অনেক সময় দেখা যায়, বেশি প্রত্যাশার পাহাড় মাথায় নিয়ে মানুষ ভেঙে পড়ে। গেদো সেঙ্কি মুভিটার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা তাই হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।

মুভিটি বানানো হয়েছে তিনটি উপন্যাসের কাহিনী একত্রিত করে। স্টুডিও জিবলীর ব্যানারে তৈরি এ মুভিটি বিখ্যাত পরিচালক হায়াও মিয়াজাকির পুত্র গোরো মিয়াজাকির ডেবিউ ফিল্ম। সবমিলিয়ে মুভিটির ওপর প্রত্যাশার চাপ ছিল আকাশছোঁয়া, এবং খুব সম্ভবত এটিই কাল হয়েছে মুভিটির জন্য।

স্টোরির শুরুটা বেশ প্রমিজিং। হঠাৎ করেই রাজ্যে দেখা দেয় অভাব অনটন, রাজ্যের মানুষের আচার আচরণে আসে পরিবর্তন, এবং রাজ্যে ড্রাগনের দেখা পাওয়া যেতে থাকে। তবে কি শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে? রাজ্যের রাজকুমার এক ভয়াবহ অপরাধ করে রাজ্যছাড়া হল। দিশেহারা এ বালকের সাথে দেখা হল জাদুকর স্প্যারোহক এর। কিভাবে এতগুলো রহস্যের সমাধান হবে?

শুরুটা খুব প্রমিজিং হলেও মুভিটি পরবর্তীতে এই প্রমিস রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। কাহিনীটা কিছুদূর আগানোর পর কেমন যেন খাপছাড়া হয়ে যায়, কোথা থেকে কি হচ্ছে বুঝতে বেগ পেতে হয়। কোন চরিত্রই মনে রাখার মত লাগেনি। এন্ডিংটা ভাল করেছে, তবে অনেক রহস্য অমীমাংসিত রেখে, এটা বেশ হতাশার ব্যাপার।

তাহলে মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, এত সমস্যাযুক্ত মুভি তাহলে কেন দেখব? অবশ্যই দেখার পক্ষেও যুক্তি রয়েছে। মুভিটির আর্ট খুবই চমৎকার, প্রতিটা দৃশ্যে যত্নের ছাপ স্পষ্ট। স্টুডিও জিবলীর আর্টের মর্যাদা রাখতে পেরেছে এটি। আর সেইসাথে রয়েছে মনোমুগ্ধকর ওএসটি। এগুলোর কারণে শেষপর্যন্ত মুভিটি অন্তত উপভোগ্য হয়েছে। আপনি যদি প্রশ্নের ঝাঁপিটা বন্ধ রেখে দেখতে বসেন, সময়টা খারাপ কাটবে না।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Tales-from-Earthsea

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 61

ocean-waves

Name: The Ocean Waves / Umi ga Kikoeru
Duration: 1 hr. 12 min.
MAL Score: 7.01
Ranked: 3124
Genres: Drama, Romance, School, Slice of Life

মোরিসাকি তাকু একজন ইউনিভার্সিটির ছাত্র। তার বাড়ি জাপানের সমুদ্র তীরবর্তী শহর কোচিতে। হাইস্কুলের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্যে সে টোকিও থেকে কোচিতে ফিরে আসার সময়টায় মুভির কাহিনী শুরু। তাকু মনে করতে থাকে তার হাইস্কুলের দিনগুলোর কথা, তার বন্ধুদের কথা, এবং তার প্রথম প্রেমের স্মৃতির কথা।

মুভিটির কাহিনী কিছুটা টিপিক্যাল হাইস্কুল প্রেমকাহিনীর মত, কিন্তু এখানে মিষ্টি মিষ্টি ভাবটা একেবারেই অনুপস্থিত, বরং কিছুটা কাঠখোট্টা এবং রূক্ষ ভাব রয়েছে। হাইস্কুল ছাত্রদের জীবনের নির্মম দিকটায় বেশি ফোকাস করা হয়েছে মুভিটাতে, আবার একইসাথে কিছু রোমান্টিক এবং হালকা দৃশ্য দিয়ে কাহিনীটাকে হালকা করতে চেষ্টা করা হয়েছে।

স্টুডিও জিবলীর আর্ট সবসময়ই সুন্দর, কিন্তু এই মুভিটির আর্ট আমার তেমন ভাল লাগেনি। ক্যারেক্টারগুলো এক্সপ্রেশনলেস, তাই সিরিয়াস কনভার্সেশনের সময় দেখে বেশ অস্বস্তি লেগেছে। কাহিনীর পেসিং বেশ খাপছাড়া, তাই মাঝে একটু বোরিং লেগেছিল, তবে এন্ডিং দেখে ভালই লেগেছে। সাউন্ডট্র্যাক ভাল, দেখা চালিয়ে যেতে বেশ সাহায্য করেছে।

সবকিছু মিলিয়ে মুভিটি আমার খুব ভাল লেগেছে বলতে পারব না, তবে একেবারে দেখার অনুপযোগীও লাগেনি। তাই, সাহস করে নিজ দায়িত্বে কেউ দেখতে চাইলে মানা করব না! tongue emoticon

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/The-Ocean-Waves

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

 

সেন্সেই, সায়োনারা!! যেতসুবৌ সেনসেই রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

tumblr_lvxkayIyLP1qdg1mko1_500

আমার ইদানীং এমন একটা অবস্থা হয়েছে, কেন যেন মনে হচ্ছে তাবৎ দুনিয়ার ভাল অ্যানিমে আমার দেখা শেষ, আর কিছু দেখার বাকি নেই। পিসি ভর্তি অ্যানিমে পড়ে থাকলে যা হয় আরকি। জেতসুবোশিতা জেতসুবোশিতা বলে মাথা কুটতে কুটতে হঠাৎ মনে হল, তাহলে জেতসুবো সেনসেই কেই একবার সুযোগ দেই, তার নেগেটিভ অরা আর আমার নেগেটিভ অরা কাটাকাটি হয়ে যাক!!দেখলাম, সায়োনারা জেতসুবো সেনসেই এর প্রথম সিজন। ইতোশিকি নোজোমু একজন ভয়াবহ লেভেলের পেসিমিস্টিক মানুষ। সবসময় ট্রাডিশনাল জাপানিজ আউটফিট পরে থাকা এই স্কুলশিক্ষক পুরো পৃথিবীজুড়ে শুধু ডেসপেয়ারই খুঁজে পান। বসন্তের মৃদু হাওয়া, কিংবা শরতের মেঘমুক্ত আকাশের মাঝেও তিনি খুঁজে পান বিষণ্ণতা!!

বসন্তের এক আলোকজ্জ্বল সকালে এক পূর্ণ প্রস্ফুটিত সাকুরা গাছের ডালে ঝুলে আত্মহনন করছিলেন ইতোশিকি সেনসেই। আর তখনই ঘটল এক ঘটনা, যা তার বিষণ্ণ জীবনটাকে পদে পদে আরও বিষণ্ণ করে তুলল!!

শ্যাফটের অ্যানিমে, বোঝার জন্য গুগল ঘাটতে হয়নি, সেনসেই এর চোখা নাকমুখ আর অস্বাভাবিক বাঁকা ঘাড়ই ফাঁস করে দিয়েছে, আর কনফার্ম হয়েছি অ্যানিমের মাঝে হঠাৎ হঠাৎ এক সেকেন্ডের জন্য ডায়ালগ এসে হাওয়া হয়ে যাওয়া দেখে। আমি শ্যাফটের ভক্ত নই, তবে এই স্টাইলটা এই অ্যানিমেতে বেশ মানিয়েছে। সেনসেই মুখ খোলার সাথে সাথে বুঝেছি এটা হিরোশি কামিয়ার কণ্ঠ, তাই আগ্রহটা বেড়ে গেছে। আর কাহিনীটা যেমন ইউনিক, এক্সিকিউশনের কারণে আরও বেশি ভাল লেগেছে। বহুদিন পর টানা একের পর এক এপিসোড দেখার আগ্রহ পেলাম!

সবচেয়ে মজা লেগেছে এই ব্যাপারটা, সেনসেই যা যা করতে যান, আউটকামটা হয় ঠিক তার উল্টো!! তিনি তার বিষণ্ণতা কাটাতে পারলেন কিনা, বা তার স্টুডেন্টদের বিষণ্ণ করতে পারলেন কিনা, সেটা দেখার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি!!

Sayonara.Zetsubou.Sensei.full.84087

Noragami রিভিউ — Maruf Raihan

অনেক সুপার হাইপ এনিমে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যদি গিয়ে থাকেন তবে একটু শর্ট ঠাণ্ডা গল্পের এনিমে দেখলে ক্ষতি কি!!

কম্পিউটার অন রেখে একবার বাইরে গেলাম ফ্লেক্সিলোড করতে।এসে দেখি আমার ৭ বছর বয়সী খালাতো ভাই কম্পিঊটারে কি জানি একটা ভিডিও ছেড়ে হা করে দেখছে,গিলছে বললেও ভুল হবে না। আমি ওকে বুঝতে না দিয়ে পিছন থেকে উকি মেরে দেখতে লাগলাম যে কি দেখছে ও,দেখি এনিমে চলছে কোন একটা,কালো কাপড় পড়া একজন বিশাল লম্বা এক তলোয়ারের মত কিছু একটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে সামুরাই টাইপ মিউজিক। আর এভাবেই আমার দেখা শুরু Noragami……

এনিমের গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হল প্রধান চরিত্র ইয়াতো-গামি।আরও রয়েছে ইকি হিয়োরি,ইউকিনে সহ আরো অনেক মুখ……

ইয়াতো এক ভবঘুরে গড যে তার উপাসক ও ভক্তের খোঁজে আত্নভোলা,তার স্বপ্ন। আর এজন্য সে বিড়াল খোঁজা থেকে শুরু করে বাথরুমের ট্যাপ ও ঠিক করার কাজ করতেও রাজি। আর অনেকটা অদ্ভুতভাবেই ইকি হিয়োরি সহ অন্যান্য চরিত্রের আগমন ঘটে।

এনিমের শুরুটা বেশ অগোছালো লাগলেও পরবর্তীতে তা অনেকটা মানানসই হয়ে গেছে।কিন্তু এই এনিমের প্রথম এপিসোড দেখার পর ‘খারাপ না তো।পরের এপিসোড টা দেখা যাক’ এটা ভেবেই এনিমেটা দেখা শুরু করতে পারেন,অন্তত আমার সাথে এমিনটিই হয়েছে।

মানগাতে আহামরি কোন অতিরিক্ত ডিটেইলিং নেই।আর এনিমেটির ক্যারেক্টার গুলোর মুখমণ্ডল অনেকটা ছোকলা ছাচা নাশপাতির মত দেখতে,কিছু কিছু দৃশ্যে মনে হবে যেন নাককাটা পড়েছে সবার।

এনিমেটির শেষের দিকে একটি অনন্য প্লট টুইস্ট আছে যা শুরুর দিকে ইয়াতো চরিত্রের ইমেজ আপনার কাছে পুরোপুরি পালটে দেবে এবং ১২ পর্বের এনিমেটি উপভোগ করতে শুরু করবেন।

১২ এপিসোড গল্পের তুলনায় খুবই কম সময়।তাছারা অতি সমালোচকরা তো MAL এ রীতিমতো একে ‘অল্প এপিসোডের জগাখিচুড়ি’ বলেছেন,তবে আশ্বস্ত করতে পারি এতটা খাপছাড়া এই এনিমেটা নয়।

আর যাই হোক…. টাইম ওয়েস্ট মনে হবে না…..

আর দৃঢ় ইচ্ছা ও প্রতীক্ষা থাকলেও Noragami ২য় সিজন বের হবে কি না তা এখনও অস্পষ্ট……

#এনিমে: Noragami
#এপিসোড: ১২
#জেনরা: একশন,এ্যাডভেন্চার,শোউনেন,সুপারন্যাচারাল
#স্টুডিও: বোনস মাল্টিমিডিয়া
#MALস্কোর: ৮.১৫
#ব্যক্তিগত_রেটিং: ৭.৪

Noragami

Movie Time With Yami – 60

Name: xxxHOLiC Movie- Manatsu no Yoru no Yume
Duration: 1 hour
MAL Score: 8.05
Ranked: 465
Genres: Comedy, Drama, Mystery, Psychological, Supernatural

হলিক আমার অত্যন্ত পছন্দের একটি সিরিজ, সেইসাথে এই মুভিটিও আমার খুব পছন্দের।এটি মূল সিরিজের কোন সিক্যুয়াল নয়, বরং একটি সাইড স্টোরি। তবে এটি দেখার আগে আপনারা অন্তত হোলিকের সিজন ১ দেখে নেবেন, চরিত্র পরিচিতি এবং কাহিনীর ধরণের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্যে।

ইউকো সানের শপে আরেকটি সাধারণ দিনের সূচনা, বরাবরের মত ওয়াতানুকিকে খাটিয়ে নিচ্ছে ইউকো সান ও মোকোনা। এমন সময় ইউকো সানের কাছে এসে পৌছল এক অদ্ভুত নিমন্ত্রণ পত্র। সেখানে বলা হয়েছে, ইউকো সানের সংগ্রহ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। সেটিকে সম্পূর্ণ করতে চাইলে সে যেন দাওয়াত গ্রহণ করে নির্ধারিত বাড়িতে চলে আসে। কৌতুহল এবং রহস্যের হাতছানি দেখে দৌমেকি এবং ওয়াতানুকিকে নিয়ে ইউকো সান হাজির হলেন সেই রহস্যময় নিমন্ত্রণকারীর বাড়িতে।

মুভিটির কাহিনী হলিক অ্যানিমেটির মতই রহস্যময়তা এবং উত্তেজনায় ভরপুর, কাহিনীটির সেটিং দেখলে প্রথমে মনে হতে পারে গতানুগতিক হরর মুভির সেটিং, কিন্তু পরবর্তীতে কাহিনীটি অত্যন্ত দারুণ মোড় নেয়। আর্টওয়ার্ক এখানে অনেক ইমপ্রুভড, ওয়াতানুকির লাফালাফি আরও ফ্লেক্সিবল হয়েছে! সাউন্ডট্র্যাক অ্যানিমের মতই চমৎকার, মুভির কাহিনীর সাথে সুন্দরভাবে মানিয়েছে। আর সেইসাথে সারপ্রাইজ হিসেবে রয়েছে ক্ল্যাম্প ভার্সের ক্রসওভার!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/xxxHOLiC-Manatsu-no-Yoru-no-Yume

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

The Secret World of Arrietty রিভিউ – আসিফুল হক

“আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্য মারা যাবো
ছোট ঘাসফুলের জন্যে
একটি টলোমলো শিশিরবিন্দুর জন্যে
আমি হয়তো মারা যাবো চৈত্রের বাতাসে
উড়ে যাওয়া একটি পাঁপড়ির জন্যে
একফোঁটা বৃষ্টির জন্যে

আমি সম্ভবতখুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো
এক কণা জ্যোৎস্নার জন্যে
এক টুকরো মেঘের জন্যে
আমি হয়তো মারা যাবো টাওয়ারের একুশ তলায়
হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজাপতির জন্যে
এক ফোঁটা সবুজের জন্যে”

দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারটা আসলে খুব মজার। কিভাবে দেখা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে একটা ঘটনাই একেক জনের কাছে একেক রকম ভাবে ধরা দিতে পারে। প্রতিদিনকার উঠোন, ঘাস, দুর্বোলতা কিংবা চিলেকোঠার ছোট্ট পুতুল খেলার ঘরটাই হয়ে উঠতে পারে সুবিন্যস্ত মই, বিস্তীর্ণ জঙ্গল অথবা ছোট্ট সুখের সংসার।

“The Secret World of Arrietty” বিলুপ্তপ্রায় ছোট মানুষদের একটা পরিবারের গল্প; ছোট্ট, সুন্দর, ছিমছাম। বাবা, মা আর ১৪ বছরের আরিয়েত্তিকে নিয়ে এই ছোট মানুষদের পরিবারের বাস শহরতলীর একটা বাগানবাড়ির কুলুঙ্গিতে, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিসীমার বাইরে। সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে তাদের অগোচরে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ধার করেই এদের জীবন-যাপন। কিন্তু সবকিছু বদলে যায় যখন শো নামের একটা বালক এসে উপস্থিত হয় সেই বাড়িতে; এবং ঘটনাক্রমে আরিয়েত্তিকে আবিষ্কার করে। এক অদ্ভুত কিন্তু অনন্য সাধারণ বন্ধুত্বর সুচনা হয় এদের মাঝে; যেটা কিনা দিনশেষে আরিয়েত্তির পরিবারকে বিপদের মুখেই ঠেলে দেয় এক রকম।

মুভির সবচেয়ে চমৎকার দিকটা বোধহয় ছোট মানুষদের অস্তিত্বকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য ছোট ছোট দিকগুলোর দিকে দেওয়া প্রচন্ড মনোযোগ। আরিয়েত্তিদের জীবনযাপনের এবং মানুষের কাছ থেকে ধার করার সময় তাদের বাড়িতে সহজে চলাচলের সৃজনশীল অথচ খুবই সহজ পদ্ধতিগুলো ছিল রীতিমত মুগ্ধ করার মতন; মাছ ধরার হুক থেকে শুরু করে ডাবল সাইডেড স্কচটেপ কিংবা ছোট ছুরি থেকে শুরু করে একটা পিন – প্রত্যেকটা জিনিস ছোট মানুষদের চরিত্রগুলোকে দেয় আলাদা মাত্রা।

সাউন্ডট্র্যাকগুলো এক কথায় অসাধারণ। প্রত্যেকটা মিউজিক পিস আমার খুব খুব খুব বেশি পছন্দ হইসে। আর এনিমেশন? দুর্দান্ত ! এনিমেশনের দিক থেকে আমার দেখা কোন জিবলী মুভিই এক বিন্দুও ছাড় দেয় নাই; এইটাও না। বাড়ির পিছনের উঠোন অথবা শান্ত জলস্রোত – সবকিছু এত উজ্জ্বল আর এতো ভিন্নভাবে দেখানো হয়েছে যে ৯০ মিনিটের পুরোটা সময় স্ক্রিনের সামনে আঠার মতন আটকে রাখবে।

মুভির দুর্বলতার দিকটা বোধহয় সংঘাতের অনুপস্থিতি আর আর ভিলেন চরিত্রের প্রায় কমিকাল রুপ, যেটা মুভির অন্তরদন্দকে আরো ম্লান করে দেয়। ছোট মানুষদের প্রতি হারুর কি এত ক্ষোভ ছিল যে তাদের ধরে ধরে বয়ামে পুরে রাখতে হবে? শুধু “তারা বাসা থেকে জিনিসপাতি চুরি করে; আমার ধারনা” লাইনে এইরকম ঘটনা পুরোপুরি জাস্টিফাই হয়ে যায় না। এর বাইরে পুরো মুভির সবচেয়ে এক্সাইটিং মোমেন্ট বোধহয় ছিল মানুষ আর একটা কাকের মাঝে ছোট্ট একটা যুদ্ধ – ব্যাপারটা বেশ খানিকটা হতাশাজনকই বটে। আরিয়েত্তি একটা পিনকে তলোয়ার হিসেবে ব্যাবহার করে; যদিও পুরো মুভিতে কখনই তা ব্যাবহারের প্রয়োজন পরে নি; কারণ তার শত্রুরা কম বেশি অজানা; এবং কেউই পিনের গুতো খেয়ে কুপকাত হবার মতন নয়। আরিয়েত্তির কিছু সিদ্ধান্ত খুব একটা মেক সেন্স করে না; শো যখন তাকে দেখে ফেলসে বলে মনে হল তখন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে সে কি করল? সরাসরি ফেইস টু ফেইস দেখা করে তাদের বিরক্ত করতে মানা করল ! কেন? কি বুঝে সে এই কাজ করল যখন তার বাবা মা তাকে ছোট বেলা থেকে যদি একটা শিক্ষাই দিয়ে থাকে তাহলে সেটা ছিল মানুষের ধারে কাছেও না যাওয়া এবং তারা প্রচন্ড রকমের ভয়ঙ্কর? এছাড়া মুভিটা অনেক জায়গাতেই অনেকের কাছে কিছুটা স্লো মনে হতে পারে; যদিও আমার কাছে স্বাভাবিকই লেগেছে।

সামগ্রিক বিচারে গভীর ভাব অথবা রুপক বর্জন করে আরিয়েত্তি বুঝি ঐন্দ্রজালিক এক রুপকথাই হতে চেয়েছে শেষতক। যদি তাই হয়ে থাকে তবে মুভিটা পুরোপুরি সার্থক তার আবেদনে। জিবলীর মুভিগুলো সবসময়েই আমাদেরকে সাথে করে অভিযানে বেরিয়ে পড়ে; কখনও বড় পরিসরে; কখনও বা একেবারে ক্ষুদ্র সীমায়। আরিয়েত্তি দুটো কাজই করেছে এই মুভিতে; পুরোপুরি সফলতার সাথেই। আর কিছু না হোক; দেড় ঘন্টার জাদুকরী অভিযান শেষে মুখের কোনে যে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠবে আপনার, আরিয়েত্তিকে অন্ততপক্ষে ভালবেসে ফেলবেন তার সরলতার জন্য, তার অভিযানগুলোর জন্য, লুকিয়ে থাকা বিষণ্ণতা কিংবা শো এর সাথে অদ্ভুত কিন্তু মিষ্টি বন্ধুত্বর জন্য; সে কথা বোধকরি লিখে দেওয়াই যায় !  🙂

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৪০: GOTH — Kazi Rafi

মাঙ্গা- GOTH
জন্রা- সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, হরর।
মাঙ্গাকা- Otsuichi
Art- Kenji Ooiwa
চ্যাপ্টার- 5
স্ট্যাটাস- কমপ্লিট

আপাতদৃষ্টিতে ইতসুকি কামিয়ামা বেশ হাসিখুশি, বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের মনে হলেও  ছোটবেলা থেকেই সে আর দশটা সাধারণ ছেলের থেকে সম্পুর্ণ আলাদা। তাই, প্রথম যেদিন ক্লাসের সবচেয়ে চুপচাপ,‌ নিঃসঙ্গ মেয়েটি, ইয়োরো মরিনোর ডান হাতের কব্জির কাঁটা দাগটা চোখে পরে কামিয়ামার, সেদিন থেকেই ওর মনে জেঁকে বসে এক সুপ্ত বাসনা, যেভাবেই হোক তাঁর পেতে হবে মরিনোর ডান হাতটি! অন্যদিকে, সেই সময়ে পুরা শহরে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এক ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলিং এর ঘটনা! জনসাধারণের মনে প্রচণ্ড ভীতির সৃষ্টি করে অজ্ঞাত অপরাধীর অপহৃত ব্যক্তিদের কব্জিহীন লাশের দেখা মিলতে লাগলো একের পর এক!! এদিকে হঠাৎ করেই একদিন, রীতিমত অপ্রত্যাশিতভাবেই কামিয়ামার সামনে হাজির হয়ে যায় এক সুবর্ণ সুযোগ! সেই সুযোগ এর সদ্ব্যবহার করতেই প্ল্যান মাফিক কাজে নেমে পরল কামিয়ামা। অবশেষে সে পেতে চলেছে তাঁর কাঙ্ক্ষিত, মরিনোর ডান হাতটি!

বলছি মাঙ্গা GOTH এর কথা! ৪টি সংযুক্ত কাহিনী (৫টি চ্যাপ্টার) নিয়ে রচিত এই ছোট্ট মাঙ্গাটি গড়ে উঠেছে হাই স্কুল পড়ুয়া দুই চরিত্র কামিয়ামা ইতসুকি এবং ইয়োরো মরিনোকে ঘিরে! হাসিখুশি, বন্ধুত্বসুলভ ও অমায়িকতার মুখোশে ঢাকা কামিয়ামা আদতে প্রখর বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এবং নিষ্ঠুর প্রকৃতির, যার মনের গভীরে লুকিয়ে আছে এক সুপ্ত বাসনা, অন্যদিকে কমনীয় চেহারার ইতসুকি বেশ চুপচাপ ও নিঃসঙ্গ স্বভাবের, যার কারনে নেই কোন বন্ধুবান্ধবও। বেশীরভাগ সময় একাকি বই পড়ে সময় কাটায়। তাঁর এই আবেগহীন আচার আচরনের পেছনে রয়েছে এক অন্ধকার অতীত যা তাকে মাঝেমধ্যেই তাড়া করে ফেরে! কিন্তু এই দুজনের ভিতরেই রয়েছে একটি বিশেষ মিল! মাত্র একটি বিষয়, যা নিয়ে তাদের দুইজনের ভিতরেই কাজ করে একধরনের প্রচণ্ড মোহ, যা এই দুজনকে অমোঘ নিয়তির মতন কাছে টেনে এনে গেঁথেছে এক সুতোয়, আর তা হল- মৃত্যু! এর প্রচণ্ড আকর্ষণে তারা একত্রিত হয়ে  সমাধান করতে থাকে তাদের আশপাশে ঘটতে  থাকা বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের রহস্য!

মজার কথা হচ্ছে, প্রতিটি গল্পে কেইস সমাধান করে অপরাধীকে হাজতে প্রেরণের চেয়ে বরং এর প্রত্যেকটা হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন কারণসমূহ, ভিক্টিম ও হত্যাকারীর মধ্যকার যোগসূত্র, তাদের অতীত জীবনের কথা এবং মাঙ্গার মূল দুই চরিত্রের নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা কাহিনীর অন্যসব রেখার সঙ্গে একসঙ্গে কীভাবে এসে মিলিত হয় তাইই এই মাঙ্গার মূল উপাদ্যে হিসেবে পরিবেশন করেছেন মাঙ্গাকা!

মাঙ্গার আর্ট ভিন্ন একজনের করা যা বেশ চমৎকার এবং স্পষ্ট, প্রত্যেকটি দৃশ্যপট আলাদা করে নির্ণয় করে যায়। কাহিনীর সঙ্গে মিল রেখে, শিল্পী প্রতিটি গল্পে একটি বেশ ভৌতিক এবং বিষণ্ণতার ছোঁয়া ফুটিয়ে তুলেছে সার্থকতার সঙ্গে!

সবশেষে এইটাই বলব যে, মানবসম্প্রদায়ের সবচেয়ে অন্ধকারাছন্ন বৈশিষ্ট্যের জাজ্বল্যমান উদাহরণই লেখক তাঁর এই সাইকলজিকাল-থ্রিলার ঘরানার মাঙ্গা GOTH এর মাধ্যমে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করেছেন! এই জন্রার ভক্তরা চাইলেই দ্রুত পড়ে শেষ করতে পারবেন এই ছোট্ট সিরিজটি! আশাকরি এটি আপনাদের হতাশ করবে নাহ! ধন্যবাদ!

40 GOTH Manga

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩৯: Monster — Adnan Shafiq Ricky

“এনিমখোর রিভিউ কন্টেস্ট [২০১৫] – বিশেষ পুরস্কার অধিকারী এন্ট্রি”

————————————————————————————————————-

এনিমে : মনস্টার ( Monster )
মাঙ্গাকা : নাওকি উরাসাওা
জনরা : মিস্ট্রি , ড্রামা , হরর , সাইকোলজিকাল , থ্রিলার , সেইনেন
পর্ব সংখ্যা : ৭৪
মাই এনিমে লিস্ট রেটিং : ৮.৭৫

প্রায়শই এনিমেতে খুঁজে পাওয়া সকল কল্পকাহিনীর অতিমানবীয় শক্তি ও অতিপ্রাকৃত ঘটনা থেকে অনেক দূরে ,”মনস্টার”  হচ্ছে বাস্তবতার নিরিখে গড়ে ওঠা এক শিহরণ জাগানো কাহিনী । জোরপূর্বক মানুষের মনস্তাত্ত্বিক গঠন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা  , একজন সোসিওপ্যাথের মনজগতের চিন্তাভাবনা  , অশুভ সবকিছুর উৎস ও মানব জীবনের প্রকৃত মূল্য এর মত কিছু অস্বস্তিকর বিষয় এইখানে বেশ ভয়ংকরভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পাওয়া যায় । সকল অশুভ শক্তির এক মূর্তিমান প্রতীক, এক মানবরূপ দানবের বিরুদ্ধে নিজের মনুষ্যত্ব বজায় রেখে এই দুনিয়ার যা কিছু নষ্ট তা ঠিক করার জন্য সংগ্রামের এক ব্যাতিক্রমধর্মী , রহস্যময় , রোমাঞ্চকর এক গল্প “মনস্টার” ।

 

কাহিনী : ( ৯/১০)

সময়কাল আশির দশকের মাঝামাঝি, পশ্চিম জার্মানি । আইসলা মেমোরিয়াল হাসপাতালে কর্তব্যরত দক্ষ নিউরোসার্জন , ডাক্তার কেনজো টেনমা, আমাদের গল্পের মুল নায়ক । এক সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি , হাসপাতাল পরিচালকের অনুগ্রহ   এবং বাগদত্তা হিসেবে তার সুন্দরী কন্যা ; সবই ভালো চলছিল তার । কিন্তু একটি সিদ্ধান্ত তার দুনিয়া সম্পূর্ণ ওলট-পালট করে দেয় । হাসপাতালের অভ্যন্তরের রাজনীতি , দুর্নীতি ও রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মে অতিষ্ঠ ডাক্তার টেনমা যখন দোটানার সম্মুখীন হয়ে নিজের বিবেকের কথায় সাড়া দিয়ে পরিচালকের আদেশ অমান্য করে শহরের মেয়রকে বাদ দিয়ে এক গুলিবিদ্ধ বালকের চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয় তখন থেকেই তার সুন্দর জগতের সব ধিরে ধিরে ভেঙ্গে পরতে শুরু করে । তাকে পদচ্যুত করা হয়, তার বাগদত্তা তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে , তার উন্নতির সব পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয় ।

 

হাসপাতাল থেকে সেই আহত বালক এবং তার জমজ বোনের উধাও হয়ে যাওয়া এবং পরিচালক ও আরও দুই চিকিৎসকের রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নেয় । কিন্তু এই রহস্যের সমাধান করা তখন সম্ভব হয়ে উঠে না । এই ঘটনার দশ বছর পরে, পুনরায় বিভিন্ন রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড ঘটতে থাকে , টেনমার সামনে হত্যা হয় তার এক রোগী । পারিপার্শ্বিক প্রমাণের কারণে সন্দেহের তীর তার দিকে ধেয়ে আসে । বাধ্য হয়ে সে নেমে পরে সব অঘটনের পিছে দায়ী  এই “দানবের” খোঁজে , সব অশুভ অশুভ শক্তিকে মূলে ধ্বংস করতে । তার এই খোঁজে বেড়িয়ে আসে তৎকালীন সময়ে গোপনে চলতে থাকা এবং পূর্বে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার  ভয়ংকর চিত্র ।

 

সম্পূর্ণ গল্পটি বেশ গুছিয়ে লেখা হয়েছে । সকল ঘটনার জট ধীরে ধীরে  খুলতে শুরু  করে , গল্পের  এই গতি দর্শকদের  কাছে বিস্ময় ও সামনের ঘটনার জানার আকাঙ্ক্ষার অনুভুতি জাগাতে সহায়ক ছিল । বেশ সুচিন্তিত ডায়ালগগুলো চরিত্রগুলোর ব্যাক্তিত্ত সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্ট ধারনা দেয়  । বিশেষ করে প্রত্যেক চরিত্রের মাঝে যে সম্পর্ক ,অতি যত্নের  সাথে যেভাবে তাদের নিজ নিজ পরিবেশের সাপেক্ষে উপস্থাপন করা হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয় । মাঝে কাহিনীর গতি কিছুটা ধীর যাওয়া দর্শকের কাছে বিরক্তির কারণ হতে পারে কিন্তু আমার মতে তা সম্পূর্ণ গম্প উপস্থাপন করতে প্রয়োজন ছিল । যদিও মাঝে কাহিনীর সাথে তেমন সম্পর্কহীন কিছু পর্ব বাদ দিলে এনিমেটির আবেদন আরও বাড়তো ।

 

আর্ট ও অ্যানিমেশন :(৮.৫/১০)

বর্তমানের এনিমের মত ঝকঝকে না হলেও, গল্পের আবহের সাথে সম্পূর্ণ মানানসই । আলো এবং ছায়ার সাহায্যে বিভিন্ন ঘটনা , অনুভূতির প্রকাশ বেশ দক্ষভাবে দেখানো হয়েছে । চরিত্রগুলোর ডিজাইন বেশ বাস্তবধর্মী , তাদের দেহের ও মুখের গঠনে এর ছাপ স্পষ্ট । এছাড়া বিভিন্ন সময় পরিচয় করিয়ে দেওয়া নানা জাতির মানুষের ডিজাইনে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে  । ব্যাকগ্রাউন্ডে জার্মানি , চেক প্রজাতন্ত্র ও ফ্রান্সের বিভিন্ন  স্থানের  চিত্র উপস্থাপনে যে বৈচিত্রের দেখা মিলে তা সত্যি মনোমুগ্ধকর ।

 

সাউন্ড : (৮.৭/১০)

বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহৃত আবহ সঙ্গীত সম্পূর্ণ গল্পকে আরও বাস্তবধর্মী করে তুলেছে । প্রতিটি বন্ধুকের গুলির শব্দও যেভাবে বন্ধুকের ধরনের সাথে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে তাতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে । ওপেনিং হিসবে ব্যবহার করা সাউন্ডট্রাকটি ( https://www.youtube.com/watch?v=i8Rhb-Ln01Q ) আমাদের মনে যে ছমছমে ভাবের জন্ম দেয় , তা গল্পের ভাবকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে ।  এন্ডিং হিসেবে ব্যবহার করা ” ফর দ্যা লাভ অফ লাইফ ” (https://www.youtube.com/watch?v=qhPGbr51jfc )  আমার শোনা  অন্যতম অদ্ভুতুড়ে এন্ডিং ।  আবার রয়েছে “আইডলার হুইল” (https://www.youtube.com/watch?v=GBim5JAZQrY&index=17&list=PLA78A59F7388EC1A7) এর মত মন ভালো করে দেওয়া সাউন্ডট্রাক । এই এনিমে কেবল তার সাউন্ডট্রাক এর জন্য সুপারিশযোগ্য । এই এনিমের ডাব্বড ভার্শন দেখতে আমি সুপারিশ করবো কেননা আমার মতে সাব্বড এর তুলনায় ডাব্বড ভার্শন গল্পের সেটিং এর সাথে ভালোভাবে মিলে ।

 

চরিত্র : ( ৯.৫ / ১০)

এই  গল্পের মুল আকর্ষণ  এর চরিত্রগুলোর গভীরতা এবং  যেভাবে সুক্ষভাবে যত্নের সাথে এদের চরিত্রায়ন করা হয়েছে  ।  এইখানে আমাদের দেখা মিলে এই জনরের অন্যতম শক্তিশালী কিছু চরিত্রের । পার্শ্ব চরিত্রগুলো অন্যান্য সিরিজের মূল চরিত্রের তুলনায় অনেক ভালভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । সমগ্র সিরিজ জুড়ে অনেক চরিত্রের অবতারনা করা হলেও তাদের প্রত্যেকের মধ্যে আলাদাভাবে পার্থক্য করা সম্ভব । পার্শ্ব চরিত্রগুলো অনেক ক্ষেত্রেই মূল চরিত্রগুলোকে ছাপিয়ে দর্শককে আকর্ষণ করার ক্ষমতা রাখে  ।  চরিত্রগুলো ধরন এবং তাদের মধ্যের সম্পর্ক আবিষ্কার করাই হবে দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা ।

 

সর্বোপরি, এর অসাধারণ সব চরিত্রের দক্ষ চরিত্রায়ন থেকে এর বাস্তব সেটিং, দুর্দান্ত সাউন্ডট্রাক ও সুষম গতিতে চলতে থাকা কাহিনী  ,  সবই আপনাকে আপনার সিটের কিনারে এনে ছাড়বে । এনিমে জগতে এরকম বাস্তবধর্মী গল্প খুজে পাওয়া আসলেই দুর্লভ এবং যদিও ৭৪ পর্বের এই কাহিনী কিছুটা দীর্ঘ হলেও পরিশেষে আপনি তৃপ্তই হবেন । সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে, এই চিন্তায় আপনি সবসময় ব্যস্ত থাকবেন । তাহলে  আর অপেক্ষা কেন ? দেখে ফেলুন রোমাঞ্চে ভরপুর , বাস্তব অথচ  অপার্থিব এক থ্রিলার  “মনস্টার” ।

39 Monster

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩৮: Shin Sekai Yori [From the New World] — Hasin RA Aunim

এনিমে রিভিউঃ শিন সেকায়ি ইয়োরি (ফ্রম দ্যা নিউ ওয়ার্ল্ড)
পর্বসংখ্যাঃ ২৫
ম্যাল রেটিংঃ ৮.৫৪
আমার রেটিংঃ ৮.৭

“Which came first, the chicken or the egg? Either way, we are like bubbles on the surface of a pond”

শিন সেকায়ি ইয়োরি ইয়ুস্কে কিশি রচিত একটি উপন্যাস, যা পরবর্তীতে মাঙ্গা ও এনিমে রূপ পায়!

 

কাহিনীঃ

শিন সেকায়ি ইয়োরি এনিমেটির সময়কাল ঠিক এক সহস্রাব্দ পর, ২১১১ সালের দিকে। সভ্যতায় বিপ্লব জাগিয়েছে মনের সাহায্যে সব কিছুকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করার এক অভাবনীয় ক্ষমতা, যার নাম ক্যানটাস (জুওরিয়োকু)। সর্বপ্রথম মানুষের মাঝে এই ক্ষমতার প্রকাশ ঘটে ২০১১ সালে।

কেন্দ্রীয় চরিত্র সাকি ওয়াতানাবের মাঝে এই শক্তির আবির্ভাব ঘটে অন্যদের চেয়ে একটু দেরিতে। তবে অবশেষে সেও অন্যদের মত ক্যানটাস ব্যবহারে সক্ষম হয় এবং বন্ধুদের সাথে সেও একটি বিশেষ স্কুলে যাওয়া শুরু করে যেখানে এর ব্যবহারের যথাযথ কৌশলাদি শিখানো হয়।

সাকি আর তার বন্ধু সাতোরু আসাহিনা, শুন আওনুমা, মামোরু ইতোও আর মারিয়া আকিযুকির হাত ধরেই কাহিনীর অবতারণা। তাদের নানা অভিযান, অভিজ্ঞতা আর উপলব্ধির মিশেলে এনিমেটি হয়েছে শিল্পসুন্দর।

প্রত্যেকটি চরিত্র অংকনে বিশেষ মুন্সিয়িনার পরিচয় পাই আমরা এনিমেটিতে। এতে আমরা কুইর‍্যাট (বাকেনেযুমি) নামের এক ধরণের প্রাণীর দেখা পাই যারা অবলীলায় কাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়ে।

সাকি আর তার বন্ধুদের নানা ঘাত প্রতিঘাত, একটি অতি রক্ষণশীল ও পাষাণহৃদয় সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাদের নিরন্তর সংগ্রাম কাহিনীকে যেমন করেছে অনবদ্য সেই সাথে চরিত্র চিত্রায়ন হয়েছে অনিন্দ্যসুন্দর।

ছোটখাটো ডিটেইলের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে, ফলে কাহিনীটি সমৃদ্ধ হয়েছে। সেই সাথে পরতে পরতে বিস্ময়, কাহিনী কোন দিকে মোড় নিবে তা অনুমান করতে গেলে বেশ বেগ পেতে হবে।

 

আর্টওয়ার্ক ও এনিমেশনঃ

শিন সেকায়ি ইয়োরির আর্টওয়ার্ক সত্যিই মনোমুগ্ধকর ও চোখের জন্য আরামদায়ক। চরিত্রগুলো আঁকা হয়েছে সুচারুরূপে, ফলে তারা হয়েছে চিত্তাকর্ষক। প্রথম এন্ডিং এর এনিমেশন টি একেবারেই আলাদা যা ভাল লাগার মত। নিসর্গশোভা অংকনে এনিমেটর ছিলেন তুখোড়।

 

শব্দ সংযোজনঃ

পরিবেশ ও ঘটনাপ্রবাহের সাথে যুতসই ছায়াসংগীতের ব্যবহার দেখা যায় এনিমেটিতে। অনবদ্য সব সুরের ব্যবহার এনিমেটিকে অন্য উচ্চতা দিয়েছে। এনিমেটিতে কোন ওপেনিং এর ব্যবহার করা হয়নি যা কিছুটা অদ্ভুত লাগলেও দুটি মনে রাখার মত এন্ডিং সেই অভাব অনেকাংশে মিটিয়ে দেয়।

 

কন্ঠাভিনয়ঃ

এনিমেটিতে কানা হানাযাওয়া, ইয়ুকি কাজি, আয়া এন্দো প্রমুখের মত প্রথিতযশা কন্ঠাভিনেতাদের সমাবেশ ঘটেছে। সাকির কন্ঠে রিসা তানাদে সুদক্ষ ছিলেন। অন্যদের কাজ ও প্রশংসনীয়।

এনিমেটির ৮ম পর্বে কিছু অপ্রীতিকর দৃশ্যের দেখা মিলবে যার কারণে অনেকে এনিমেটি ড্রপ করতে পারেন। তবে ঐ বিষয়গুলো এসেছে কাহিনীর প্রয়োজনেই, আর কিছুদূর আগালেই যা বুঝা যাবে।

শিন সেকায়ি ইয়োরি আপনাকে ভাবাবে। প্রশ্ন করাবে। উত্তর খুঁজাবে। ঠিক ভুলের দ্বন্দ্ব, আলো আঁধারির মাঝের আবছায়া, সাদা কালোর ছেদের ধূসর জায়গাটার দিশা দিবে কতগুলো উচ্ছ্বল কিশোরকিশোরীর সাথে নেমে পড়ুন সমাজের স্বরূপ উদঘাটনে, তাদের সাথেই পেয়ে যান চূড়ান্ত অভিজ্ঞান – “নতুন পৃথিবী থেকে।”

38 Shisekai Yori

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩৭: Fullmetal Alchemist Brotherhood — Abed Rahman

নাম: ফুলমেটাল আলকেমিস্ট ব্রাদারহুদ
পর্ব সংখ্যা:৬৪
ধরণ: একশন, এডভেঞ্চার, শৌনেন, ড্রামা, ফ্যান্টাসি।
রেটিং:৯.৫/১০।

“This is what happens when you tread into god’s territory or whatever you wanna call it”-Edward Elric

গ্রীক পুরাণের ইকারাস এর কথা মনে আছে? এই অভাগা চরিত্রটি মোমের তৈরি পাখায় করে সূর্যের খুব কাছে চলে গিয়েছিল, ফলে তার পাখা গলে সে পরে যায়। প্রকৃতি রীতিবিরুদ্ধ্ব কোন কিছুকেই মেনে নেয় না। একথা সকলেরই জানা। কিন্তু ভালবাসার জন্য কি আপনি বিধাতার নিয়ম ভাঙবেন? আর বিধাতা কিংবা প্রকৃতিই বা কি তা মেনে নিবেন? সহজ উত্তর হল না। তবুও কি আপনি সেই প্রিয় মানুষটির জন্য বিধাতার নিয়মের বিরুদ্ধে যাবেন? আর বিধাতা কিংবা প্রকৃতির দেওয়া শাস্তির প্রায়শ্চিত্তইবা কিভাবে করবেন? মূলত এইসব তাত্ত্বিক প্রশ্নের উত্তর সুন্দর সাবলীল কাহিনী এবং না ভোলার মত কিছু চরিত্রের দ্বারা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই এনিমেতে।

পটভূমিঃ ফুলমেটাল আলকেমিস্ট ব্রাদারহুদ এর জগতটাও আমাদের জগত থেকে অনেকটাই ভিন্ন। আলকেমিস্টরা হলেন এ জগতের বিজ্ঞানি। যারা কিনা জাদুর মত যেকোনো জিনিস কে তিনটি ধাপের মধ্য দিয়ে তৈরি করেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু। এর নাম হল ট্রান্সমিউটেশন বা রূপান্তর। কিন্তু যথারীতি তারাও নিয়মের ঊর্ধ্বে না। যেকোনো কিছু পেতে হলে তাদের সমান কিছু বিনিময়ে দিতে হবে। এটাই হল Law of Equivalent Exchange অথবা সমান বিনিময়ের বিধান।এসবের পরেও আপাতদৃষ্টিতে এই আলকেমিস্টদের সর্বশক্তিমান মনে হলেও তাদেরও একটি এই বিদ্যা ব্যবহারে বাঁধা আছে। আর সেটি হল হিউম্যান ট্রান্সমিউটেশন কিংবা মানব রূপান্তর করা। এটাকে ধরা হয় আলকেমির সবচাইতে নিষিদ্ধ কাজ or greatest taboo । এমনি এক জগতের দুভাই হল এডওয়ার্ড এবং আলফন্স। তাদের আলকেমিস্ট বাবা ছোট বেলায় কোন এক কারণে তাদের মার কাছে রেখে চলে যান। সে থেকেই তাদের জগত তাদের মাকে ঘিরেই। বাবার লাইব্রেরির বই পরে আলকেমি ব্যবহার শিখে যায় এই দুই ভাই। উদ্দেশ্য মার জন্য নতুন নতুন উপহার বানানো।কিন্তু সেই মাও একদিন তাদের ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে।সোজা ইংরেজিতে  prodigy এদুভাই ভালবাসার জন্য করে বসে সবচাইতে বড় ভুল। নিজেদের মাকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে করে হিউম্যান ট্রান্সমিউটেশন । ফলে এই জগতের ঈশ্বর যাকে ‘Truth’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে শাস্তি স্বরূপ তাদের দেহগুলকে বিনিময় হিসেবে নিয়ে নেন। বড় ভাই এডওয়ার্ড হারায় তার বাম পা আর আলফন্স হারায় তার সমগ্র শরীর। পরবর্তীতে এডওয়ার্ড নিজের ডান হাতের বিনিময়ে নিজের ভাইয়ের আত্মাকে এক দেহবর্ম তে আটকে ফিরিয়ে আনে।নিজেদের সকল পিছুটান ছেড়ে তারা নিজেদের যাত্রা শুরু করে কল্পকথার পরশমণি কিংবা Philospoher’s Stone এর খোঁজে যা কিনা Law of Equivalent Exchange অথবা সমান বিনিময়ের বিধানের বাহিরে; যা তাদের হারানো শরীর ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে । এই দুই ভাইয়ের এই খোজকে কেন্দ্র করেই উন্মোচিত হয়েছে এই এনিমের নানান ঘটনা।

দৃশ্যকল্প ও চরিত্র উন্নয়নঃ এক কথায় অসাধারণ। সত্যিকারের থিম একটু ডার্ক হলেও হাসিঠাট্টা, আবেগঘন থেকে শুরু করে সোজা বাংলায় মারমার কাটকাট দৃশ্যের অভাব ছিল না মোটেই। আর দৃশ্যগুলোর প্রত্তকেটাই কাহিনির প্রবাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণও বটে। অপরদিকে, অনেক চিরাচরিত শোনেন এনিমেতে পার্শ্ব চরিত্রগুলো মূল চরিত্রদের আড়ালে পরে যায়, এখানে এমনটি হয়নি।

সাউন্ডট্র্যাকঃ আবারো তারিফ করতে হচ্ছে। Yui এর জাদুকরী গলার থিম হোক কিংবা Let it all out হোক, সবগুলই একটা নির্দিষ্ট গুনগত মান বজায় রেখেছে। আর কিছু ট্র্যাক আপনাকে আজীবন মোহিত করতে সক্ষম, এটুকু জোরের সাথে বলাই যায়।

ব্যক্তিগত মতামতঃ আবারো এক কথায় আসি। আমি এই এনিমে নিয়ে রিভিউ লেখার কারন হল আমার মতে এটা এলিমে ওয়ার্ল্ড এর Jack of All Trades কিংবা সব কাজের কাজি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটা ক্ষেত্রেই এনিমে নির্মাতারা মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। আর এন্দিং হ্যাপি এন্দিং হলেও তা পুরোপুরি রুপকথার গল্পের শেষের মতও নয়। আর উপসংহার সঠিক সময়ে টানা হলেও কবিগুরুর “শেষ হয়েও হইলনা শেষ” ধরনের একটা আমেজও থেকে যায়।একমাত্র সমালোচনা হোল প্রধান খলনায়ক “Father” এর চরিত্রটি। তার “Dwarf in the flask” হিসেবে হটাত আগমন চিরাচরিত Deus Ex Machina এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলেই মনে হয়েছে। কিছু Homunculus এর চরিত্রও এই দোষে দুষ্ট। তবে এটুকু মাফ করাই যায় বলে আমার ধারনা।  

37 Fmab-poster