অনন্য মাঙ্গা আসর – ১ (Major)

এনিমে বের হয়েছে,নিউ সিজন,এই এনিমের গ্রাফিক্সের কাজ,কোনটা ভাল কোনটা মন্দ তা নিয়ে মাতামাতি,আলোচনার অন্ত নেই।অথচ যেই মেধাবী শিল্পীদের হাতে তৈরি মানগা হতে এনিমের এডপ্টেশন হয়,তারা গুরুত্ব পান বটে,তবে মানগা পড়ার প্রতি আকর্ষণ কম।অথচ মাঙ্গাতে কাহিনীর সুসজ্জিত বিবরণ আর সুন্দর উপস্থাপনা পাওয়া যায় যার অনেকাংশ এনিমেতে কেটে ফেলে দেওয়া হয়।

তাই,গ্রুপে মানগা নিয়ে আলোচনা করা হয় মাঝে মধ্যে,একটু আধটু।তাই মানগা পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে মানগার প্রতি ফ্যানডম এর প্রসারে হাজির হলাম “অনন্য মানগা আসর” নিয়ে। অনেক শ্রদ্ধেয় সেনপাইরা অনেক মানগা পড়েছেন,জানেন অনেক কিছু। তাই যেকোন ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর ১৮ বছরের ছোট্ট জীবনে নিয়মিত কিছু করতে পেরেছি বলে মনে পড়ে না,তাই এই সেগমেন্টের কোন নিয়মিত ডেটলাইন দিতে পারছি না।

আজকের মানগা মেজর। স্পোর্টস সিরিজ নিয়ে আলোচনায় স্লামডাঙ্ক,কুরোকো,হাজিমে নো ইপ্পো,ক্রস গেম,এইস অফ ডায়মন্ড ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হলেও এই মাস্টারপিস নিয়ে তেমন আলোচনা পাই নি। তাই আজকে কথা হোক Major নিয়ে।

magur

গোরোউ হোন্ডা নামের এক কিন্ডারগার্টেন পড়ুয়া ছেলের বেসবল খেলার আদ্যোপান্ত গল্পের মূল অংশ। এদিক দিয়ে উপরোক্ত যেকোন স্পোর্টস সিরিজের মধ্যে ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্টের ব্যাপারে এটা চ্যাম্পিয়ন। কিন্ডারগার্টেন এর প্লেগ্রাউন্ড থেকে ডিস্ট্রিক্ট ,ডিস্ট্রিক্ট থেকে ন্যাশনাল এভাবে মারাত্নক উদ্দীপনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই মাঙ্গাটি। আর্টের ধরন ভালো কি না বলব না,বরংচ বলি এথলেটিক। খেলার মাঝে কি হচ্ছে তা বোঝার জন্য আর্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

অনেকেই বলেন মেইন ক্যারেকটার এর খেলা শেষ হয়ে গেলে গল্পও শেষ,এটা তাদের পছন্দ না।তাদের জন্য একট ছোট্ট ——- স্পয়লার (((((হোন্ডার পর হোন্ডার ছেলেকেও দেখতে খেলায় দেখতে পাবেন এখানে))))))

মানগা প্রথম সিজনে ৭৮ টি ভলিউম আছে। কিন্তু সিজন ২ এখনো অনগোয়িং…

রচয়িতা- তাকুয়া মিতসুদাজেনরা – কমেডি,শোউনেন,স্পোর্টস MAL রেটিং- ৮.৩৯খেলাগুলোর মধ্যে সেইশুর সাথে ম্যাচ আর বেসবল বিশ্বকাপ এর ম্যাচগুলো উল্লেখ করার মত। মাঙ্গাতে খেলাগুলোর উপস্থাপন ভালো হলেও এনিমেতে স্পোর্টস থিমের চেয়ে শোউনেন বা ইন্টিমিডেটিং কিছু দৃশ্য দেওয়া হয়েছে যা মাঙ্গাতে নাই।মেজর মাঙ্গাতে ধাপে ধাপে বেসবল বিশ্বকাপ,মেজর লিগ,হাইস্কুল টুর্নামেন্ট এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে স্পোর্টস এর আসল থিম বা চেতনাকে।

সবচেয়ে মজার বিষয় ক্লাবের নয় দেশে দেশের মধ্যকার খেলাও রয়েছে এই মাঙ্গাতে। আরো আছে সলিড ডিটেইলিং যা খেলার উত্তেজনা বারিয়ে দিয়েছে।শিগেহারু,হোশিনো সেনসেই,সাতো এবং শিমিজুর মত কিছু চরিত্র থাকায় মানগাটির চরিত্রে বৈচিত্র্য ও চোখে পড়ার মত।আলোচিত এক চরিত্র হল জো গিবসন। মাঙ্গাটি পড়লেই বুঝতে পারবেন Major না পড়লে ওনেক কিছু মিস ;-)আজকের মত মাঙ্গা আসর এ পর্যন্তই থাকুক…সামনে ভালো কোন মাঙ্গাতে নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে।লেখা লম্বা করলাম না,কারন তাতে স্পয়লার মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে।মানগা পড়ুন,অন্যকেও পড়তে বলুন 🙂

Behind the Voices – 05

জুন ফুকুয়ামা

একজন মানুষ সাধারণত এক ধাঁচের কণ্ঠেই কথা বলে অভ্যস্ত। খুব কম মানুষই একাধিক স্বরে কথা বলতে পারে, এমনকি দক্ষ কণ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যেও হাতে গোনা কয়েকজন এই কাজটা পারে। জুন ফুকুয়ামা হলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি একাধিক স্বরে নির্ভুলভাবে কণ্ঠ অভিনয় করে যেতে পারেন। এমনকি একটি আনিমেতে ভিন্ন স্বরের একাধিক চরিত্রকে অসাধারণ ভাবে তুলে ধরার নমুনাও আছে; উদাহরণ: আমাগি ব্রিলিয়ান্ট পার্ক, ব্লিচ ।

জুন ফুকুয়ামা এখন পর্যন্ত অনেকগুলো চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয় করেছেন, যার মাঝে এমন সব চরিত্রও আছে যার সাথে তারআরেকটি কণ্ঠ দেওয়া চরিত্রের কণ্ঠের মধ্যে মিল পাবেন না। এমনকি নিজে থেকেই প্রশ্ন করবেন ” আরে, এই দুইটা চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছে একই মানুষ, কেমনে কি ?”। এছাড়া সে যে কত সহজ ভাবে কণ্ঠ বদলাতে পারে সেটার এক নমুনা দেখুন এই ভিডিওটিতে https://goo.gl/mN9uxM

যাই হোক, আমার দেখা জুন ফুকুয়ামার সেরা রোল হল xxxHOLiC-এর ওয়াতানুকি কিমিহিরো এবং নুরারিহিয়োন নো মাগোর রিকুও চরিত্র দুটি । তার আরও অনেক চরিত্র আমার কাছে ভালো লেগেছে তবে এই দুইটা চরিত্রকে সেরার তালিকায় রাখার মূল কারণ হল এই দুইটি চরিত্র আমার মতে জুন ফুকুয়ামা ছাড়া আর কেউ মনে হয় এত অসাধারণ ভাবে তুলে ধরতে পারতো না । হাইস্কুলের চঞ্চল ওয়াতানুকি এবং প্রাপ্ত বয়স্ক ওয়াতানুকি; তারপর সাধারণ রিকুয়ো এবং ইয়োকাই রিকুয়ো। শুধু তাই নয়, আনসাৎসু কিয়োশিৎসুর কোরো সেনসেই, তেগামি বাচির গশে, কোড গিয়াসের লেলুশ প্রত্যেকটা চরিত্রের কণ্ঠে তফাৎ ছিল কিন্তু সবাইকেই ত্রুটিহীন ভাবেই জুন ফুকুয়ামা তুলে ধরেছেন। এই চরিত্র বাদেও তার অনেক চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয় আমার ভালো লেগেছে, যেমন ওয়ার্কিং-এর তাকানাশি, ব্লিচের ইয়ুমিচিকা, চুনিবিওর ইয়ূতা, কুরোকো নো বাস্কেটের হানামিয়া মাকোতো, দুরারারার শিনরা, ব্লু এক্সোরসিস্টের ইউকিও, বুসৌ রেঙ্কিনের কাযুকি, কে-প্রজেক্টের ইয়াতা এবং আরও অনেক । তবে সে যে সব চরিত্রেই অসাধারণ কণ্ঠ অভিনয় করেন এই বিষয়ে আমি ঠিক একমত না কারণ স্পাইস এন্ড উল্ফ আনিমেটিতে আমার মতে তার লরেন্স চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয়টি ঠিক তেমন ভালো ছিল না, তার বদলে অন্য কেউ হয়তো আরও সুন্দর করে চরিত্রটিকে তুলে ধরতে পারতো। তার এতোগুলো চরিত্র সব এক নজরে দেখে নিতে পারেন।

জুন ফুকুয়ামা 1

আনিমের ওএসটিতেও তার অনেক কাজ রয়েছে। বিভিন্ন আনিমের ওপেনিং এবং এন্ডিং তার গাওয়া আছে । তার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে আমার ব্যক্তিগতভাবে প্রিয় ‘Wild Crow'( https://goo.gl/gCiH2y ), ‘Dedicate’ (https://goo.gl/BGJWQ0 ), ‘Regeneration’ ( https://goo.gl/NB9WdJ ) যেটা লেলুশের ক্যারেক্টার সং । এছাড়া তার গাওয়া ‘ Bamboo☆Scramble’ ( https://goo.gl/eHZmK0 ) গানটা বেশ মজা লাগে । তার ৪ টা এলবাম রিলিজ আছে, সেই গানগুলোও সুন্দর, শুনে দেখতে পারেন।

তার জন্ম ২৬ নভেম্বর, ১৯৭৮ । ১৯৯৬ সালে তার অভিষেক । একজন কণ্ঠ অভিনেতা এবং গায়ক হিসেবে তিনি নিঃসন্দেহে সফল। 1st Seiyuu Awards-এ তিনি ‘Best Voice Actor’ খেতাবটা অর্জন করেছিলেন লেলুশ ভি ব্রিটানিয়া চরিত্রটির জন্য। এখনো তিনি অনেক চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয় করে যাচ্ছেন এবং সামনেও তা করবেন এই আশা রইলো। আমার মতে তাকে কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে কিংবদন্তী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিৎ ।

জুন ফুকুয়ামা 2

কোশিমিযু আমি

আমার সবচেয়ে প্রিয় কণ্ঠ অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন কোশিমিযু আমি। প্রায় সব ধাঁচের চরিত্র সে অনেক সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারেন তিনি ।

তার কণ্ঠ-অভিনয় করা চরিত্রগুলো আমার বরাবর-ই ভালো লাগে । তবে যে রোলগুলো সবচেয়ে ভালো লেগেছে সেগুলো হল স্কুল রাম্বলের সুকামোতো তেনমা কারণ চরিত্রটির কণ্ঠ খুব-ই কিউট লেগেছে আমার কাছে, পার্সোনা ৪-এর আমাগি ইউকিকো, এউরেকা ৭-এর আনেমোনে, কোড গিয়াসের কালেন, তেগামি বাচির আরিয়া লিঙ্ক, কিল লা কিলের মাতোই রিউকো, মাওয়ূ মাওউ ইয়ূশার মাওউ, স্পাইস অ্যান্ড উল্ফের হোলো এবং A certain scientific railgun S-এর মুগিনো শিযুরি। এছাড়া আরও যেই চরিত্রগুলো ভালো লেগেছে সেগুলো হল ওরেগাইরুর কাওয়াসাকি সাকি, কামি নোমি দ্বিতীয় সিজনের কাসুগা সেনপাই, ব্লাড +-এর মাও, ওমামোরি হিমারির হিমারি, ব্লাক বুলেটের শিবা মিওরি, D-Frag!-এর মিনামি সেনসেই Dog Days-এর লিওনমিশেল্লি, মারিয়া-সামা গা মিতেইরুর কানাকো । তার কণ্ঠ-অভিনয় অনেক ভালো কিন্তু কেন জানি এই বছর সহ বিগত কয়েক বছর ধরেই তিনি পার্শ্বচরিত্র-এর রোল পেয়ে যাচ্ছে । এছাড়া তার অনেক গেমে জাপানি ডাব-এ অনেক ভালো রোল আছে। এই লিঙ্কে  http://goo.gl/JbcHBj যেয়ে এক নজরে দেখে নিতে পারেন তার আনিমে এবং গেমের সব রোলগুলো ।

আনিমের ওএসটিতেও তার কাজ আছে। মাই-ওতোমে, স্কুল রাম্বল, ওমামোরি হিমারি, স্ট্রাইক উইচেস এই আনিমেগুলার এন্ডিং এবং লেডিস ভার্সাস বাটলার আনিমেটির ওপেনিং-এ তার কণ্ঠ আছে। তার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে আমার ‘Hari no Sora'( https://goo.gl/e1mrfY ) গানটা বেশ প্রিয়।

তার জন্ম ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ এবং তার কণ্ঠ-অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক ২০০৩ সালে । তিনি 1st seiyuu awards-এ ‘Best Actress in supporting roles’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তার কণ্ঠ-অভিনয় অনেক বেশি ভালো তাই আশা করি সামনে সে আরও অনেক আনিমেতে ভালো রোল পাবে।

কোশিমিযু আমি 1

 

ওহ! আর এই দুইজনের আনিমেতে অনেকগুলা কাপলের রোল আছে। কাপলগুলো হল তেগামি বাচির গশে x আরিয়া, স্পাইস এন্ড উল্ফের লরেন্স x হোলো, মাওয়ূ মাওউ ইয়ূশার ইয়ূশা x মাওউ।

কোশিমিযু আমি 2

”জাপানিজ শিখুন,জীবন গড়ে তুলুন” – ৫১ তম পার্ট By অরিন শারমিন

জাপানিজ শিক্ষাকার্যক্রমের ৫১ তম লেসন

আজকের লেসনে শিখাব আগের লেসনে শুরু করা “Japanese adjective” আরো কিছু অংশ.. (এই লেসন পড়ার আগে আগের লেসন আরেকবার পড়ে আসুন/আস)

আগের লেসনে কিছু i-adjective এর উদাহরণ দিয়েছিলাম … আজকে ১মে ঐগুলার আরো কিছু প্রয়োগ দেখাব..

“তাকাই” হল একটা i-adjective..যার মিনিং হল “expensive”এর একটা উদাহরণ দেই..

তাকাই কাবান দেসু-very expensive bag…অথবা এভাবেও বলা যায় “কাবান ওয়া তাকাই দেসু-the bag is very expensive”

ব্যাগের সাথে আমরা আরো i-adjective এর উদাহরণ দিতে পারি .. যেমনঃ “ইয়াসুই কাবান দেসু-very cheap bag”, ওওকিই কাবান দেসু- very big bag, আতারাশি কাবান দেসু-new bag, ফুরুই কাবান দেসু-old bag… ইত্যাদি..

i-adjective এর conjugation এর ব্যাসিক তো আগের লেসনে শিখাইছি আজকে আরো একটু ক্লিয়ার করি .. ধর একটা ব্যাগের দাম কিছুদিন আগেও অনেক বেশি ছিল ..হটাত সেল দিয়ে দাম কমে গেছে … তাইলে এভাবে বলা যেতে পারে “কাবান ওয়া তাকাকাত্তা দেসু দেমো ইমা ইয়াসুই দেসু/তাকাকুনাই দেসু “-the bag was very expensive but now it is cheap/not expensive” ….

এবার আসি na-adjective এ ..

“গেনকিনা” হল একটা na-adjective..মিনিং হল “healthy”

গেনকিনা কোদোমো দেসু-healthy child…কোদোমো ওয়া গেনকি দেসু-the child is healthy…এই ২ টা বাক্য একই অর্থ প্রকাশ করছে কিন্তু গঠনে কিছুটা পার্থক্য আছে…na-adjective যখন noun এর আগে বসে তখন “na” সহ লিখে (১ম বাক্য)..আর পরে বসলে “na” ছাড়া বসে (২য় বাক্য)…অর্থ সেম থাকে যদিও ..

আরো কিছু উদাহরণ দেই … তোকিও ওয়া নিগিইয়াকানা মাচি দেসু-Tokyo is very lively city..(noun এর আগে বসছে বলে “না”সহ লিখেছি)…তোকিও ওয়া নিগিইয়াকা দেসু- Tokyo is very lively.. (পরে noun নাই তাই “না”ও নাই)

কানজেননা আইদিয়া দেসু-perfect idea..আইদিয়া ওয়া কানজেন দেসু-the idea is perfect.. কানতান না শিগোতো দেসু-easy job…কিরেই না হানা দেসু-beautiful flower.. লুফি ওয়া ইউমেই দেসু-luffy is famous…ইত্যাদি…

এবার আসি na-adjective এর conjugation এ..

এখানেও ৪ প্রকারের conjugation আছে… present affirmative,present negative,past affirmative,past negative.

যেমনঃ গেনকিনার ক্ষেত্রে

present affirmative-গেনকি দেসু ,present negative-গেনকি দেয়া আরিমাসেন,past affirmative-গেনকি দেশিতা,past negative-গেনকি দেয়া আরিমাসেন দেশিতা..

অন্যান্য na-adjective ও  সেম নিয়মে চেঞ্জ হবে… আজকে এপর্যন্তই থাক…নেক্সট নেসনে নতুন কিছু নিয়ে হাজির হব..আশা করি adjective সম্পর্কে হালকা ধারণা দিতে পেরেছি.. মাতা নে 🙂

Movie Time With Yami – 67

Name: Bungaku Shoujo / Literature Girl
Duration: 1 hr. 40 min.
MAL Score: 7.71
Ranked: 981
Genres: Drama, Mystery, Romance, School

একটা সুন্দর মুভি বা টিভি সিরিজ দেখার পরে আপনার ভাললাগার অনুভূতিটা নষ্ট করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়টা কি বলতে পারেন? উত্তর- বিভিন্ন ফোরামে গিয়ে “বিখ্যাত” ক্রিটিকদের বিশ্লেষণমূলক রিভিউ পড়া। বুঙ্গাকু শৌজো মুভিটি দেখার পর আমার এত বেশি ভাল লেগেছিল যে, আমি দৌড়ে গেছিলাম এটার রেটিং, রিভিউ ঘাটাঘাটি করতে। এবং সেগুলো দেখার পরে আমি উপলব্ধি করি, কোনরকম ধারণা ছাড়া মুভিটি দেখা শেষ করে আমি আসলেই ভাল কাজ করেছি।

ইনৌয়ে কোনোহা, আমাদের অ্যাভারেজ হাইস্কুল স্টুডেন্ট। শান্তশিষ্ট, চুপচাপ এ ছেলেটির সাথে একদিন স্কুলের ক্যাম্পাসে দেখা হয় একটি অদ্ভুত মেয়ের। নিজেকে “বুঙ্গাকু শৌজো” বা লিটারেচার গার্ল নামে পরিচয় দেয়া এ মেয়েটি প্রতীকী অর্থে নয়, বরং আক্ষরিক অর্থেই বই এর পৃষ্ঠা চিবিয়ে খায়। এক একটি গল্প এ মেয়েটির কাছে এক একটি সুস্বাদু স্ন্যাক!

এ পর্যন্ত শোনার পর মনে হতে পারে, এইতো, শুরু হল হাইস্কুল রোমান্স এর প্যানপ্যানানি, খালি এই বই চিবিয়ে খাওয়ার ব্যাপারটা একটু নতুন লাগছে। আমিও তাই ভেবে বসেছিলাম! এই মুভিটি দেখার আগে এর ১৫ মিনিটের একটি ওভিয়ে দেখা ছিল, সেটিও এমনই একটা আভাস দিয়েছিল। সুন্দর আর্টওয়ার্ক, প্রশান্তিদায়ক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কাহিনীটাকে উপভোগ করতে বেশ সাহায্য করছিল।

কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই মোড় ঘুরে গেল কাহিনীর!! বেরিয়ে এল কোনোহার অতীত জীবনের এক বেদনাদায়ক কাহিনী, হাইস্কুল রোমান্স পরিণত হল মানবিক টানাপড়েন এর এক অপরিচিত গল্পে।

আচ্ছা, অনেকেই তো বলে, ভালবাসার মানুষকে কাছে রাখার জন্য আমি সবকিছু করতে পারব। সেই সবকিছুর দৌড়টা আসলে কতদূর? মিরাই নিক্কির গাসাই ইউনোর কল্যাণে সেই কতদূরের দৌড় কিছুটা হয়ত জানা আছে আমাদের, কিন্তু সেটা আমার কাছে অতি অবাস্তবতার মত লেগেছিল। এই মুভিটিতে বরং ব্যাপারগুলো বাস্তবতার খুব কাছাকাছি রেখে দেখানো হয়েছে, আর তাই আরও বেশি ভাল লেগেছে।

এ পৃথিবীতে কোন কিছুই নিখুঁত নয়, অবশ্যই এ মুভিটিও তার ব্যাতিক্রম নয়। আমার কাছে মনে হয়েছে মুভিটি তার প্রাথমিক উদ্দেশ্য থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরে গেছে, অবশ্য এটা রিভিউ নিয়ে ঘাটাঘাটি করার আগে তেমন বড় হয়ে চোখের সামনে আসেনি। আর তা হল, লিটারেচার গার্ল নিজে। মুভিটির মাঝখানের বড় একটা অংশে তার কোন খোঁজ নেই, যদিও ঠিক সময়ে সে তার গুরুত্ব ঠিকই ফিরে পেয়েছে। কিন্তু তার এই বই চিবিয়ে খাওয়ার ব্যাপারটায় কোন আলোকপাত করা হয়নি, এটা একটু হতাশার ব্যাপার।

যাই হোক, সবমিলিয়ে মুভিটি আমার অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে, মানবিক সম্পর্ক ও টানাপড়েন এর ব্যাপারটা এর আগে কোন মুভিতে এত সুন্দরভাবে পাইনি, আর ভুলোমনা লিটারেচার গার্ল এর পরিণত আচরণ আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Book-Girl
OVA Link-
http://kissanime.com/Anime/Book-Girl-OVA

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Anohana: The Flower We Saw That Day [এনিমে রিভিউ] — Mehedi Zaman

এনিমে রিভিউ
Anohana: The Flower We Saw That Day
(Ano Hi Mita Hana no Namae wo Bokutachi wa Mada Shiranai)

পর্বঃ ১১
জনরাঃ জীবনের খণ্ডাংশ (Slice Of Life), অতিপ্রাকৃত (Supernatural)।

শৈশব, এক অসাধারণ আনন্দময় সময় আমাদের সকলের জন্য। এ সময় আমাদের থাকে কিছু অন্তরঙ্গ বন্ধু যাদের নিয়ে আমরা গড়ে তুলি আমাদের মনের মতো একটি দল। এই দলের জন্য সকলে মিলে ঠিক করি একটি আজগুবি নাম এবং ওই দলের মিটিং এর জন্য থাকে এক গুপ্ত স্থান। কিন্তু আমাদের সবার ক্ষেত্রেই কি শৈশব অত্যন্ত আনন্দের ছিল? আমাদের এই বন্ধুদের মাঝেও কিছু বন্ধুর শৈশবে হয়ত ঘটে গেছে কোন দুর্ঘটনা। যেই ঘটনা তাদের সুখময় শৈশবকে করে তুলেছিল দুঃসপ্নময়। যদি আপনারও এমন কিছু অভিজ্ঞতা থেকে থাকে অথবা আপনিও পেতে চান সেইসব অভিজ্ঞতা, তাহলে আপনারই জন্য আনোহানা।

কাহিনীঃ
ইয়াদমি, ছোটবেলায় যে জিনতান নামে পরিচিত ছিল এখন এক ঘরকুনো কিশোর, যে ঠিকমতো স্কুলেও যায় না। কিন্তু শৈশবে এই জিনতান-ই ছিল তার অন্তরঙ্গ দলের নেতা। তার দলের নাম ছিল “সুপার পিস বাসটারস্‌” (Super Peace busters)। সময় অনেক ভালই কাটছিল সুপার পিস বাসটারস্‌ -এর, হঠাৎ সেই দলের সবচেয়ে ছোট এবং পছন্দনীয় সদস্য, মেনমা, এক দুর্ঘটনায় তার জীবন হারায়। ভেঙ্গে যায় সুপার পিস বাসটারস্‌ এবং সকলে একে অপর হতে বিছিন্ন হয়ে যায়। বেশ কিছু বছর পর মেনমার ভূত (আত্মাও বলা যায়) জিনতান এর কাছে এসে হাজির হয়। প্রথমদিকে জিনতান নিজের দেখার ভুল বলে মেনমাকে এড়িয়ে চলে, কিন্তু কিছুদিন পর সে বাধ্য হয়েই মেনমার কথা শুনে এবং জানতে পারে যে মেনমার কোন এক ইচ্ছা অপূর্ণ থাকায় সে এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে পারছে না। জিনতান তার সকল বন্ধুদের একত্র করে মেনমার অজানা ও অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণে সচেষ্ট হয়। কিন্তু সে কি পেরেছিল তার শৈশবের বন্ধুদের একত্র করে মেনমাকে মুক্তি দিতে?

চরিত্রঃ
আনোহানা এনিমেটির মূল চরিত্র ছয়জন- জিনতান, মেনমা, আনারু, ইয়ুকিয়াটসু, সুরুকো এবং পোপ্পো। এদের প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য এবং সকলের জীবনধারণই ভিন্ন। তবে এরা সবাই ছেলেবেলায় ‘সুপার পিস বাসটারস্‌’- এর সদস্য ছিল। জিনতান এর কথা আগেই বলেছি এখন অন্যদের কথা বলি। মেনমা ছিল এক মিষ্টি মেয়ে। সে সবসময় সকলের কাছে অনেক ভাল বলে পরিচিত ছিল। আনারু শৈশবে ভাল থাকলেও পরবর্তীতে কিছু অসৎ বান্ধবীর সাথে মিশে তাদের মতো আচরণ শুরু করে। তবে সে তার পুরনো বন্ধুদের সঙ্গ পেয়ে আবার নিজের আগের পরিচয় ফিরে পায়। ইয়ুকিয়াটসু ও সুরুকো দুজনেই পড়াশোনায় মনোযোগী এবং এদের চরিত্র কিছুটা একে অপরের সাথে মিলে যায়। তবে আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে পোপ্পোকে। সে হচ্ছে সবকিছু মেনে নেওয়া রকমের এবং সবসময় হাসি-তামাশায় মেতে থাকার মতো ছেলে। তো, চরিত্র ভালোভাবে তুলে ধরার দিক দিয়ে আনোহানা চমৎকার কাজ করেছে মাত্র ১১ পর্বে।

এনিমেশনঃ
এনিমেশনের ক্ষেত্রে আমার তেমন কিছু বলার নেই কারণ এর এনিমেশন বেশ সাধারণ ছিল এবং আমার এটা ভালই লেগেছে। আর্ট ও পরিবেশ বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল। প্রত্যেকটি চরিত্রের মুখভঙ্গি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে মেনমার বয়স বাড়ার পরও তাকে অনেকটা একই রকম লেগেছিল যা আমার কাছে একটু অস্বাভাবিক।

সাউন্ডট্র্যাকঃ
Kimi to natsu no owari shourai no yume Ookina kibou wasurenai
Juu nen go no hachigatsu mata deaeru no wo shinjite…
আনোহানার এই এন্ডিংটা আমার অনেক প্রিয়। এই অসাধারণ গানটি গেয়েছে Kayano Ai & Tomatsu Haruka & Hayami Saori। গানটি হল secret base ~Kimi ga Kureta Mono~ (10 years after ver.) । বুঝতেই পারছেন আনোহানার সাউন্ডট্র্যাক গুলো আমার কাছে মারাত্মক লেগেছে। ওপেনিং-ও বেশ ভাল ছিল এবং প্রায় প্রত্যেকটি পর্বের শেষে এন্ডিং থিম সং বাজানোর জন্য পরের পর্ব না দেখে থাকা যায় না। এককথায়, আনোহানা তার সাউন্ডট্র্যাক এর জন্য আমার কাছে আরও বেশি ভাল লেগেছে।

আনন্দঃ
আনোহানা এনিমেটি দেখার সময় আমি ভেবেছিলাম ১১টি পর্বে কিই বা আনন্দ দিবে? কিন্তু না, ১১টি পর্বে আনোহানা আমাকে এতো স্মৃতিকাতরতা, কান্না এবং আনন্দ দিয়েছে যে আমি পুরোপুরি মুগ্ধ। এছাড়াও, বাস্তবতার সাথে অতিপ্রাকৃতিক কিছু বিষয়ের মিশ্রণের ব্যাপারটি অনেক দুর্লভ এবং আমি এই এনিমেতে এই বিষয়ের একটি সেরা উদাহরণ পেয়েছি। তাই অবশ্যই আনোহানা আমাকে অনেক আনন্দের পাশাপাশি নতুন কিছু অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

সার্বিকঃ
সবকিছু মিলিয়ে আমি আনোহানাকে ৯/১০ দিব। আসলে এই এনিমেটি দেখার পর থেকেই আমি Slice Of Life জনরার ভক্ত হয়ে গিয়েছি। আনোহানার বাস্তবিক দৃশ্যপট, অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক, বিভিন্ন চরিত্রের মানসিকতা এবং আরও অনেক কিছুর দ্বারা এটি আমার মন জয় করেছে। সত্যি বলছি, হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি এনিমেই আনোহানার মতো আমার এতটা ভাল লেগেছে।

পরিশেষে আমি সকলকে (যারা আনোহানা দেখেননি) এটি দেখার জন্য আহ্বান জানাবো। যদি আপনি Slice Of Life এর ভক্ত না-ও হন তাও আনোহানা দেখার চেষ্টা করবেন, এতটুকু বলতে পারি যে এনিমেটি আপনার খারাপ লাগবে না। একটি উদ্ধৃতি দিয়ে আমার লেখা শেষ করব।
“I thought I could apologize to you tomorrow. But that tomorrow…never came.”-Jinta Yadomi.

anohana

Reaction Post: Tsuritama (2012) — Abdullah Ar Rayhan

প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত ফুজিসাওয়া শহরের অন্তর্ভুক্ত ছোট্ট একটি দ্বীপ এনোশিমা। মেইনল্যান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মনোমুগ্ধকর এ দ্বীপটি ৬০০মিটার লম্বা একটি ব্রিজ দিয়ে ফুজিসাওয়া-র সাথে যুক্ত। অপূর্ব সামুদ্রিক সৌন্দর্য দেখলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়; ইচ্ছে করে স্ক্রিনের ভেতর ঢুকে যাই। দাদির চাকুরির সুবাদে এখানকার স্থানীয় স্কুলে ট্রান্সফারড হয়ে আসে ইউকি। কোন বন্ধুবান্ধব নেই ওর। মানুষের সাথে কমিউনিকেট করতে জানে না। কারো সাথে কথা বলতে গেলেই মনে হয় ডুবে যাচ্ছে, সে সাথে নার্ভাস হয়ে চেহারা এমন হয়ে যায় যে দেখে মনে হয় সাক্ষাত দানব, রাগে এখুনি খেয়ে ফেলবে। প্রথমদিনেই তার সাথে দেখা হয় হাতে রহস্যময় ওয়াটার-গান নিয়ে ঘুরে বেড়ানো অদ্ভুত এক ছেলের। হারু নামের সরল সিধে এ ছেলেটি নিজেকে এলিয়েন বলে দাবি করে। মানুষকে কাছে টানার আশ্চর্য এক গুণ আছে ওর। শুরুতে অসহ্য লাগলেও ক্রমেই হারু ইউকি-র সবচেয়ে কাছের বন্ধুতে পরিণত হয়। ওদের সাথে একই ক্লাসে পড়া আরেকটি ছেলে নাতসুকি। গোমড়ামুখো নাতসুকি মাছ ধরায় তুখোড় দক্ষতার সুবাদে স্কুলের বাইরে প্রিন্স নামে পরিচিত। আর এদেরকেই সবসময় দূর থেকে লক্ষ্য রাখে কোলে হাঁস নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ইয়ামাদা নামের এক ভারতীয়। সিরিজের প্রধান চারটি চরিত্রের সবারই নিজস্ব একটা গল্প আছে। আছে বৈপরিত্য। তারপরও কিভাবে তারা এক বিন্দুতে মিলিত হয়? কিভাবে কাছের বন্ধু হয়ে ওঠে একেকজন? উত্তর মিলবে শুরুতেই। হারুর চাপে মাছ ধরতে রাজি হয় ইউকি। এখানেই এসে পড়ে নাতসুকি, যে এ দুজনকে মাছ ধরা শেখায়।

আপাতদৃষ্টিতে সিরিজটি হাসি, রাগ আর মাছধরার মধ্য দিয়ে চার স্ট্রেঞ্জারের বন্ধু হয়ে ওঠার গল্প। সমুদ্রে মাছ ধরা আর হারু-র অদ্ভুত কিন্তু নির্দোষ কর্মকান্ড দেখতে দেখতে নিজের অজান্তেই মন ভাল হয়ে যাবে। ঈর্ষা হবে। একেবারে আদর্শ কমেডি – স্লাইস অফ লাইফ মিক্স। তাহলে এর মাঝে সায়েন্স ফিকশনটা কোথায়? মনে কি আছে কি হারু-র ইউকি-কে মাছ ধরতে চাপাচাপির কথা? এর কারণ কি? হারু-ই বা কোত্থেকে এসেছে? ইয়ামাদা-র উদ্দেশ্য কি? সামান্য মাছ ধরার সাথে দুনিয়া বাঁচানোর যোগসূত্র কোথায়?

সিরিজটি শুরু হয়েছে দারুণভাবে। চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশ ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে আর্টওয়ার্কে। ব্যক্তিগতভাবে ইউকি-র ফেইসটা আমার পছন্দ হয়েছে। উঠতি বয়সের সব বৈশিষ্ট্যের সাথে লাল চুল যোগ করাটা ভাল লেগেছে কেন জানি বেশ। আর মিউজিক নিয়ে অভিযোগ করার কোন উপায় নেই। ওপেনিং-এন্ডিং এত্ত চিয়ারফুল যে একটাও স্কিপ করার মত না। খুব সম্ভাবনাময় এ অ্যানিমেটি কিছুটা ট্র্যাক হারিয়ে ফেলে শেষের দিকে এসে, সায়েন্স ফিকশন রিলেটেড ব্যাপারগুলো বোঝা দায়। যেগুলা কোন সেন্স তৈরি করে না উল্টো কেমন যেন একটা ভজকট পাকিয়ে দেয়। সিরিজটি এ জনরার প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। এন্ডিংটা বেশ অদ্ভুত। অ্যানিমের কাহিনী নিয়ে কিছু জটিলতা থাকলেও আমি বলবো কমেডি-র ক্ষেত্রে সুবিচার করেছে, সে সাথে কিছুটা থ্রিলিংও বটে! বিশেষ করে ইউকির প্রথম মাছ ধরার সময়টায় আমি নিজেও উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলাম। শেষের দিকের অংশটুকু ঠিক বুঝে কুলিয়ে উঠতে না পারলেও ওভারঅল দেখার মত একটা অ্যানিমে।

Episodes: 12
Genres: Comedy, Sci-Fi, Slice of Life, Sports
MAL Score: 7.88
Personal Rating: 7.5

Tsuritama

Mobile Suit Gundam 00 [রিভিউ] — Rezo D. Skylight

এনিমে রিভিউঃ
Mobile Suit Gundam 00
সিজন: ০২ (+১ মুভি)
পর্ব সংখ্যা: ৫০
জনরা: অ্যাকশন, ড্রামা, মেকা, মিলিটারি, সাই-ফাই, স্পেস
স্টুডিও: সানরাইজ
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.২৭ (১ম সিজন); ৮.২৪ (২য় সিজন)
আমার রেটিং: ৯/১০

Gundam 00 1

প্রথমে বলে নেই, ‘গান্ডাম ০০’ গান্ডাম ফ্র্যাঞ্চাইজের ‘Anno Domini’ উনিভারসের একমাত্র সিরিজ। সুতরাং কেউ গান্ডাম ০০ দেখতে চাইলে তার বাকি গান্ডাম দেখার কোন প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ একে ‘Standalone series’ হিসেবেই যেকেউ দেখতে পারবে। এখন আসল কথায় আসি।

গান্ডাম ০০ এর প্লট ২৩ শতকের পৃথিবীকে কেন্দ্র করে রচিত। এইসময় পৃথিবীতে খনিজ জ্বালানীর প্রচুর চাহিদা ছিল। সেজন্য বিগত শতাব্দী ধরে মানুষ পৃথিবীর চারদিকে বৃহৎ সৌরচাকতি নির্মাণ করেছে। আর সৌরচাকতি থেকে প্রাপ্ত সৌরশক্তি ব্যাবহারের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি ‘সোলার পাওয়ার জেনারেটর’। এই সোলার পাওয়ার জেনারেটরগুলো ব্যাবহারের লক্ষে তৎকালীন পৃথিবীকে তিনটি মেজর সেক্টরে ভাগ করা হয়। এরা হল – The Union (formerly United States of America), The Human Reformist Alliance (Russia, China and India) এবং The AEU (Europe)। কিন্তুু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই লেগে থাকতো যুদ্ধ-বিগ্রহ। তখন পৃথিবী থেকে এইসকল যুদ্ধ-বিগ্রহের অবসান ঘটাতে আবির্ভাব হয় ‘Celestial Being’ নামের একটি নন-প্রফিট মিলিটারি অর্গানাইজেশন । এই প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে গান্ডাম নামের চারটি অতি শক্তিশালী রোবট। “সকল যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ‘United World’ গঠন করা” – Celestial Being তাদের এই স্বপ্নটি পৃথিবীবাসির উদ্দেশ্যে ঘোষণা করে এবং যারা তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা দিবে তাদের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবেই গান্ডাম ০০ এর যাত্রা সূচনা হয় এক দুর্দান্ত কাহিনীর মধ্যে দিয়ে।

Gundam 00 2

গান্ডাম ০০ এর প্রত্যেক ক্যারেক্টারই ইউনিক টাইপের। প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা আলাদা চরিত্র। মেইন ক্যারেক্টার সেতসুনা কিছুতা চুপচাপ টাইপের কিন্তুু সে বেশ ম্যাচুরিটি সম্পন্ন। অনন্যা ক্যারেক্টারের মধ্যে রয়েছে লকঅন, টিয়েরিয়া, আলেলুঝা। এর মধ্যে সিরিজে মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখে লকঅন ক্যারেক্টারটটি। টিয়েরিয়া কিছুটা আনসোশাল টাইপের। কিন্তুু কাহিনী আগানোর সাথে সাথে তার চরিত্রেরও বেশ পরিবর্তন ঘটতে থাকে। আর আলেলুঝা বলতে গেলে সবচেয়ে ইউনিক ক্যারেক্টার। কারণ সে ডাবল পার্সোনালেটির অধিকারী। এছাড়া আরও কিছু চমৎকার চমৎকার ক্যারেক্টার রয়েছে। যেমন – এস পাইলট গ্রাহাম, যুদ্ধ প্রিয় আলি আল সাজেদ, সুপার সোলজার সউমা প্রেরিস, প্রিনসেস মারিনা ইসমাইল, রিব্বন্স ওলমার্ক, সাজি ক্রসরোড, লউসেসহ আরও অনেকে। এরা প্রতেকেই সিরিজে গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গান্ডাম ০০ এর প্রত্যেক ক্যারেক্টারের ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরিগুলো অসাধরন। যা নিঃসন্দেহে এই সিরিজের অন্যতম প্লাসপয়েন্ট।

Gundam 00 3

গান্ডাম ০০ স্টুডিও সানরাইজের কাজ। তাই ২০০৭ সালের এনিমে হওয়া সত্ত্বেও গান্ডাম ০০ তে বেশ হাই কোয়ালিটির ভিজুয়াল ইফেক্ট ব্যাবহার করা হয়েছে। মেকা ডিজাইনগুলো বেশ সুন্দর ছিল। এতে কোন প্রকারের CGI ইফেক্ট ব্যাবহার করা হয়নি। তাই মেকা ফাইটগুলো বেশ উপভোগ করেছি। আর যুদ্ধের সিনগুলো খুব ডিটেইলিং করে দেখানো হয়েছে। আমি মহাকাশের ভিজুয়াল ইফেক্ট দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলাম। অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই দৃশ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। ক্যারেক্টার ডিজাইন আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। বলতে গেলে আমার দেখা অন্যান্য মেকা এনিমে থেকে গান্ডাম ০০ এর ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর লেগেছে।

Gundam 00 4

গান্ডাম ০০ এর সাউন্ডইফেক্ট ও OST আসলেই অনেক সুন্দর। প্রত্যেক ওপেনিং ও এন্ডিং সং বার বার শুনতে ইচ্ছা করে। ওপেনিং সং এর মধ্যে আমার সবচেয়ে ফেভরাইট UVERworld এর গাওয়া “Hakanaku mo Towa no Kanashi” গানটি [ লিঙ্ক- https://www.youtube.com/watch?v=eztenJFXqBw ] এবং এন্ডিং সং এর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের Stephanie এর গাওয়া “Friends” গানটি [ লিঙ্ক-https://www.youtube.com/watch?v=HnyM12Y5CnI ]। আর OST এর মধ্যে Tommy heavenly6 এর “Unlimited sky’’ খুব ভালো লেগেছে [ লিঙ্ক-https://www.youtube.com/watch?v=10n1ZJGx7A0 ]। গান্ডাম ০০ এর ভয়েস অ্যাক্টিং রোলও বেশ ভালো। Miki Shinichiro, Kamiya Hiroshi, Irino Miyu, Nakamura Yuuichi, Miyano Mamoru, Yoshino Hiroyuki, Park Romi, Kugimiya Rie সহ আরও ভালো ভালো ভয়েস এক্টর-এক্ট্রেস গান্ডাম ০০ এর ভয়েস অ্যাক্টিং রোলে ছিল।

Gundam 00 5

ওভারওল, গান্ডাম ০০ আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। কাহিনী থেকে শুরু করে ক্যারেক্টার, আর্টওয়ার্ক, সাউন্ড সবকিছুই ছিল অসাধরন। গান্ডাম ০০ দেখার সময় অনেকটা কোড গিয়াসের ভাইব পেয়েছিলাম। সুতরাং, আপনারা যারা কোড গিয়াসের ভক্ত তারা এটা ট্রাই করে দেখতে পারেন। অনেকেই আছে মেকা হজম করতে পরেনা তাদের উদ্দেশে বলছি, গান্ডাম ০০ তে শুধু মোবাইল সুটের মধ্যে ফাইটিং এর পাশাপাশি বেশ সুন্দর স্টোরিলাইন আছে। তাই, আশা করি গান্ডাম ০০ দেখে কখনোই উদাস হবেন না। এখন সময় নিয়ে দেখে ফেলুন গান্ডাম ০০।

[ এখান থেকে ডাউনলোড করুন Mobile Suit Gundam 00 (Complete) ব্লুরে –http://www.animechiby.com/mobile-suit-gundam-00-cs-bd/ ]

Gundam 00 6

এনিমে সায়েন্স ১ – স্পাইস এন্ড উলফ ট্রেনি কাহিনী ১

আজ ২৮/১০/২০১৫ইং তারিখ বুধবার থেকে আমি পাভেল আহমেদ সকল সম্মানিত এনিমখোরের জন্য এনিমে সায়েন্স নামে একটি অভূতপূর্ব নতুন সেগমেন্ট চালু করতে যাচ্ছি।

AS 1

সাধারনত আমি ANIME কে আনিমু, এনিমু, আনিমে বা এনিমের পরিবর্তে এনিম উচ্চারন করি।
কিন্তু এই সেগমেন্টের নাম তো এনিমে সাইন্স!
তবে তার মানে এই নয় যে আমি আমার উচ্চারনভঙ্গি পরিবর্তন করে ফেলছি।
বরং এর মানে এই যে আমি এনিমে সায়েন্স দিয়ে বোঝাচ্ছি এনিমের মধ্যে সায়েন্স! (সেগমেন্টের নামের মধ্যেও এমনকি ভাষাগত সায়েন্স দেখা যাচ্ছে!!)
এই সেগমেন্টে এনিমের ভিতরের পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, বাংলা, অংক, ইংলিশ সব ধরনের সায়েন্স নিয়ে আলোচনা করে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দেওয়া হবে!
এমনকি রীতিমতো এনিম লজিক অনুসারেও সাইন্টিফিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণসমূহ এই পোস্টে দেওয়া হবে!!

কয়েকদিন আগে NO VO চান একটি পোস্টে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, কেউ কি তাকে Spice and Wolf এর মধ্যযুগীয় অর্থনৈতিক ব্যাপারগুলো বুঝিয়ে দিতে পারবে কি না?
সে জন্যই মূলত এই লেখাটির জন্ম হয়েছে। কিন্তু এত বিশাল এক্সপ্লেনেসন কমেন্ট হিসেবে দেওয়া সম্ভব ছিল না বলেই সরাসরি পোস্ট করছি।
বিঃদ্রঃ মিরাজ সব তোর দোষ! -_-

স্পাইস এন্ড উলফ এর মধ্যযুগীয় অর্থনীতি বুঝতে হলে চাহিদা, জোগান, বিনিময় এবং অবশ্যই অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ অর্থ বা টাকা বা মানি সম্পর্কে বেসিক ধারনা থাকতে অবে। আর বলাই বাহুল্য যে মানির মান আল্লায় রাখে!
এখানে বলে রাখা ভালো যে আমি কিন্তু অর্থনীতির ছাত্র না। স্কুলে থাকতে সমাজ বইতে যা পড়েছিলাম আর ভার্সিটিতে এক সেমিস্টারে যা পড়ানো হয়েছিল সেটাই আমার ভরসা!!
তো আমি যতটা সম্ভব সহজভাবে একদম বেসিক থেকে শুরু করছি তাই একটু ধৈর্য ধরুন এবং পড়তে থাকুন। বোরিং লাগলে আমি, আপনি, কোন অর্থনীতিবিদ, এনিমখোরের এডমিন প্যানেল, দুনিয়া অথবা পুরো ইউনিভার্সের কেউই কোনক্রমে দায়ী নয়!!!
তবে তার আগে…..
যারা যারা স্পাইস এন্ড উলফ দেখেনি তাদের জন্য স্পয়লার এলারট!
তবে স্পয়লার এখনই শুরু হবে না।
আসল স্পয়লার শুরুর আগে আরেকদফা এলারট দেওয়া হবে।

আমরা যখন পণ্যদ্রব্য কেনাকাটা করি তখন সেগুলো নির্দিষ্ট দামের বিনিময়ে কিনি। প্রাচীনকালে যখন টাকা ছিল না তখন বিনিময় প্রথা চালু ছিল। অর্থাৎ এক পণ্যের বিনিময়ে অন্য একটি পণ্য কিনতো তখন মানুষ। যেমনঃ একজন কৃষক হয়তো ১ জন জেলেকে ১০ কেজি চাল দিয়ে ১০ টি ইলিশ মাছ কিনতে পারতো।

কিন্তু এই সিস্টেমের প্রধান ২ টি সমস্যা ছিলঃ
১। আমি চালের বিনিময়ে মাছ কিনতে চাইলেও যার কাছে মাছ আছে তার চাল প্রয়োজন নাও হতে পারে। সুতরাং সে আমাকে চালের বিনিময়ে মাছ বিক্রি করতে চাইবে না। তার হয়তো গম প্রয়োজন কিন্তু আমার কাছে গম নেই। তার মানে আমরা উভয়েই এক্ষেত্রে অসফল।
২। দ্রব্য মূল্যের কোন স্ট্যান্ডার্ড বা আদর্শ মাপ কাঠি ছিল না। ফলে কোন জিনিসের মূল্য কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে কারও কোন ধারনাই ছিল না। যার কারনে বিনিময় করার সময়ে একেক জন একেক হিসাবে পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বেচাকেনা করতো।

দ্রব্য মূল্যের স্ট্যান্ডার্ড বলতে আমরা মূল্য পরিমাপ করার একককেই বোঝাচ্ছি। যেমনঃ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ মাপার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (SI) এককে মিটারকে আদর্শ মানা হয়। সময় মাপার জন্য সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা ইত্যাদি ব্যাবহার করা হয়।

তো এসকল সমস্যা সমাধান করার জন্য Intermediary বা মধ্যবর্তী কিছু একটার প্রয়োজন ছিল। এবং মধ্যযুগে সেই মধ্যবর্তী জিনিস হিসেবে ব্যাবহার করা হয় স্বর্ণ আর রূপা। আরও স্পেসিফিকালি বলতে গেলে স্বর্ণ আর রূপার মুদ্রা। ফলে দাম নির্ধারণে এবং কেনাকাটায় সকল সমস্যার সমাধান হয়ে গেলো।

স্বর্ণ আর রূপা কেন ব্যাবহার করা হতো?

কারন ধাতুগুলো প্রাকৃতিকভাবেই চকচকে, স্বাভাবিকের থেকে ভিন্ন রং বিশিষ্ট এবং প্রকৃতিতে এর সুলভতা কম অর্থাৎ এগুলো খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক কঠিন ব্যাপার।
এছাড়াও স্বর্ণ আর রূপার আরেকটি সুবিধা হল পরিবনযোগ্যতা। ছোট ছোট স্বর্ণ এবং রূপার টুকরা বা কয়েন খুব সহজেই কোন ধরনের থলেতে করে পরিবহন করা যায়। ধাতু হবার কারনে স্বর্ণ ও রূপার নমনীয়তা বৈশিষ্ট্যের কল্যাণে একে গলিয়ে ইচ্ছামত আকৃতি দেওয়া যায়।
পরিবহনযোগ্যতা বৃদ্ধি করার জন্য টাকার আকৃতি ছোট রাখতে হয় এবং একই সাথে সহজে যেন ক্ষয় না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হয়। স্বর্ণ আর রূপার মুদ্রা একই সাথে ছোট আকৃতির হবার কারনে সহজে পরিবহনযোগ্য এবং সহজে ক্ষয় হয় না বলে মধ্যযুগে এর জনপ্রিয়তা ব্যাপক ছিল। ঠিক একই কারনে বর্তমানে কাগজের টাকা বা ধাতব কয়েনের পরিবর্তে ক্রেডিট কার্ড সিস্টেম এবং মোবাইল ব্যাংকিং এত জনপ্রিয় হয়েছে।

এখন স্বর্ণ দিয়ে যখন কয়েন বানানো হয় তখন ওই কয়েনের মূল্য নির্ভর করে কয়েনে থাকা খাঁটি স্বর্ণের পরিমানের উপর। সোজা ভাষায় যে কয়েনে স্বর্ণের পরিমান বেশি সে কয়েনের মূল্যও বেশি। একই কথা রূপার কয়েনের ক্ষেত্রেও খাটে। অবশ্যই স্বর্ণমুদ্রার দাম রৌপ্যমুদ্রার থেকে বেশি। এখানে আরেকটা কথা আছে। কয়েনের ফেস ভ্যালু বা ব্র্যান্ড ভ্যালুও কিন্তু একটা ফ্যাক্ট। একেক কয়েন একেক রাজ্যের লর্ড ইস্যু করেন। সত্যি কথা হল যে কয়েনের ব্র্যান্ড বা ফেস ভ্যালু এতে থাকা স্বর্ণ বা রূপার থেকেও বেশি। আমেরিকান ডলার আর বাংলাদেশি টাকার মূল্যের পার্থক্য দিয়ে ব্যাপারটা বুঝা যেতে পারে।

এখন এই ব্র্যান্ড ভ্যালু কিভাবে কয়েনের মূল্যকে প্রভাবিত করে?

একটা ব্যাপার বুঝতে হবে যে টাকার আসলে কিন্ত কোন মূল্য নেই। টাকার মূল্য দিয়ছি আমরা। টাকা মানুষের তৈরি একটা জিনিস যাকে মানুষ কোন কিছুর মূল্য নির্ধারণে ট্রাস্ট করছে। যদি কোন কয়েন বা কারেন্সির উপর থেকে মানুষের ট্রাস্ট হারিয়ে যায় তখন সেই কারেন্সি ভ্যালুলেস হয়ে যায়। তার মানে যে কারেন্সি বা কয়েনের অর্থাৎ কয়েনের যে ব্র্যান্ডের উপর মানুষ বেশি ট্রাস্ট করবে সে কয়েন বা কারেন্সির অর্থাৎ সেই ব্র্যান্ডের মূল্যও বেশি হবে। আর ট্রাস্ট কম করলে তার মূল্যও কম হবে। এটা যেমন কোন প্রোডাক্ট এর ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে সত্য ঠিক তেমনি টাকার ফেস বা ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেও সত্য।

উদাহরনঃ ইজি (EASY) বা প্লাস পয়েন্ট ব্র্যান্ডের একটি টি সার্ট এর মূল্য একটি নন ব্র্যান্ডের টি শার্ট এর থেকে বেশি হয় যেহেতু মানুষ এই দুটি ব্র্যান্ডকে ট্রাস্ট করে। আবার পোলো শার্টের মূল্য এই দুই ব্র্যান্ডের শার্ট এর থেকেও বেশি। একই কথা আমেরিকান ডলার এবং বাংলাদেশি টাকার ক্ষেত্রেও খাটে। এই ব্যাপারটা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য C MONEY OF SOUL AND POSSIBILITY CONTROL নামের মাত্র ১১ পর্বের এনিমটি দেখতে পারেন।

বর্তমান সময়ে চালু থাকা কাগজের/প্লাস্টিকের টাকা বা ধাতব কয়েনের মূল্যও কিন্তু আসলে একটি দেশের স্বর্ণের রিজার্ভ এর উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ আসলে আমরা এখনও সেই প্রাচীন আমলের মত স্বর্ণ দিয়েই কেনাকাটা করছি। পার্থক্য হল যে সরাসরি স্বর্ণ বা রূপা আদান প্রদান করার পরিবর্তে আমরা অন্য এমন কিছু ব্যাবহার করছি যা স্বর্ণের রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ টাকা, ডলার, পাউন্ড, রুপী, দিনার, রিয়াল, ইয়েন, পেসো এগুলো সবই আসলে কোন না কোন নির্দিষ্ট পরিমানের স্বর্ণকেই রিপ্রেজেন্ট করে।

এখান থেকেই স্পাইস এন্ড উলফের প্রথমদিকের কাহিনীর ঘোরপ্যাঁচ এর সাথে সম্পর্ক শুরু হয়েছে যেখানে আমিও বেশ কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম শুরুর দিকে।

স্পয়লার এলারট>>>>>
.
.
.
.
.
ক্রাফট লরেনসকে এক ছিঁচকা ব্যাবসায়ি তথ্য দেয় যে কোন একটি নির্দিষ্ট সিলভার কয়েনের পিউরিটি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মানে ওই কয়েনে সিলভারের পরিমান আরও বেশি হবে। লরেন্স ব্যাপারটা নিয়ে কিছুটা সন্দিহান থাকলেও একে একটা সম্ভাবনা হিসেবে ধরে নিয়েছিল এজন্য যে, সাধারনত কয়েনের পিউরিটি বৃদ্ধি করার ব্যাপারটি কমন একটা প্র্যাকটিস।
এখন প্রশ্ন হল যে পিউরিটি বৃদ্ধি করা হলে কার কি?
কয়েন তো একই থাকছে।
এর উত্তর একটাই।
আর সেটা হল একই কয়েনে সিলভারের পরিমান বাড়ছে। ফলে নতুন কয়েনগুলোর মূল্য পুরানো কয়েনগুলো থেকে বেশি হবে। তার মানে কয়েনও টেকনিক্যালি একই থাকছে না।
এখন এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হল নতুন কয়েন সার্কুলেশনের সময় পুরানোগুলো অন্য কোন দেশের কয়েনের সাথে এক্সচেঞ্জ করে ফেলা অর্থাৎ বিক্রি করে ফেলা।

ক্রাফট Holo কে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে যে ওই ছিঁচকা মিথ্যা বলছিল। ক্রাফট এর কথা অনুসারে কয়েনের ভ্যালু নিয়ে জালিয়াতি নতুন কিছু নয়, কিন্তু সে এই মিথ্যার পিছনের কারণটি ধরতে পারছিলো না। কারন তথ্যটি যদি মিথ্যা হয় এবং ক্রাফটের যদি লস হয় অথবা লাভ-লস কিছুই না হয় তাহলে ওই ছিঁচকারও কোন লাভ হওয়ার কথা না।
ক্রাফট এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয় যে সে এই তথ্যটি বিশ্বাস করার ভান করবে কিন্তু পিছনে সে তথ্যের যথার্থতা জাচাই করার জন্য তদন্ত চালিয়ে যাবে। যদি তথ্যটি সত্যি হয় তখন সে প্রফিট করতে পারবে। আর তথ্যটি মিথ্যা হবার মানে হল যে, কেউ একজন ষড়যন্ত্র করছে। তখন ক্রাফট এই তথ্যটি ব্যাবহার করে প্রফিট করতে পারবে। মানে যেদিকে তাকাই শুধু প্রফিট আর প্রফিট!

যাই হোক ক্রাফট আর ছিঁচকার মধ্যে ডিল হয় যে ছিঁচকা ক্রাফটের কাছ থেকে ১০ ট্রেনি/থরেনি সিলভার কয়েনের বিনিময়ে ইনফরমেশন দিবে যে কোন কয়েনের সিলভার বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এছাড়াও ক্রাফট প্রফিট করার পর প্রফিটের ১০% ও তাকে দিতে হবে। পুরান এবং নতুন কয়েনের ভ্যালুর পার্থক্য থেকেই প্রফিট আসবে। অবশ্যই তাদের মাঝে অফিসিয়াল কাগজেই চুক্তিপত্র সই করে ডিল হয়। কারন মুখের কথায় তো আর চিড়া ভিজে না!

তো শেষ পর্যন্ত জানা গেলো যে ট্রেনি/থরেনি সিলভার কয়েনের সিলভার পিউরিটি বৃদ্ধি পেতে পারে।

এখানে ক্রাফট হোলো এর কাছে কয়েনের মূল্য এক্সপ্লেইন করে ট্রেনি আর ফিলিং সিলভার কয়েনের তুলনা দিয়ে। ফিলিং সিলভার কয়েন বেশ জনপ্রিয় এবং এর সিলভার এর পরিমাণও বেশ রিচ। একারনে এটা ট্রেনি সিলভার কয়েনের প্রতিদ্বন্দ্বী রাইভাল। যখন মার্কেটে বিদেশী নতুন কোন কয়েন নিয়ে আসা হয় তখন দেশি কয়েনের রাইভাল বৃদ্ধি পায়। ওই বিদেশী কয়েন প্রস্তুতকারক দেশ তখন মার্কেটে প্রভাব বিস্তার শুরু করে। এটা ঠেকানোর জন্য দেশি কয়েনগুলোর পিউরিটি বৃদ্ধি করার প্রয়োজন পড়ে যাতে দেশি কয়েনের ভ্যালু আরও বেশি হয়।

উদাহরণঃ কাপড়ের ব্যাবসায়িদের মধ্যে কাপড়ের কোয়ালিটি নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। যে যত কম মূল্যে যত ভালো কাপড় দিতে পারবে মানুষ তার কাপড়ের দিকেই বেশি আগ্রহী হবে। কয়েনের কম্পিটিশনের ব্যাপারটিও অনেকটা এরকমই।
এই লজিক থেকে ক্রাফট ধারনা করে যে হয়তো ওই ছিঁচকা সত্যি কথাই বলছিল।

তদন্ত করার জন্য ক্রাফট হোলোকে নিয়ে তার এক পরিচিত মানি এক্সচেঞ্জ ব্যাবসায়ির কাছে যায়। এই মানি এক্সচেঞ্জ এর সিস্টেম আজ অবধি একইভাবে চালু আছে। তারা এক ধরনের কারেন্সির বিনিময়ে আরেক ধরনের কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করে দেয় এবং কারেন্সি হ্যান্ডেলিং এর জন্য একটা নির্দিষ্ট পরিমান ফি রাখে।
সাধারনত মধ্যযুগে কয়েনের পিউরিটি বাড়ানো-কমানো কমন একটা ব্যাপার ছিল। আর মানি এক্সচেঞ্জারেরা এই ব্যাপারে বেশ সেন্সিটিভ ছিল। যখন কয়েনের পিউরিটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তার আগে বেটা টেস্টিং এর উদ্দেশ্যে পিউরিটি সামান্য বৃদ্ধি করে মার্কেটে ছাড়া হয় মানুষের রিএকশন দেখার জন্য। এই রিএকশনের উপর নির্ভর করে যে পিউরিটি বাড়ানো হবে কিনা।

যা বলছিলাম, মানি এক্সচেঞ্জারের কাছে যখন তারা যায় তখন সেও বলতে পারে না যে আসলেই পিউরিটিতে কোন পরিবর্তন আছে কিনা। তাই হোলো দুটি ট্রেনি কয়েন হাতে নিয়ে কানের কাছে ঝাঁকিয়ে শব্দ থেকে রূপার ঘনত্ব বোঝার চেষ্টা করছিল। একটি ট্রেনি কয়েনকে পার্মানেন্টলি হাতে রেখে অন্য কতোগুলো ট্রেনি কয়েনকে একটা একটা করে বার বার এক্সচেঞ্জ করে সে এই কাজ করছিল। অনেক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানি এক্সচেঞ্জারেরা নাকি এভাবে কয়েনের পিউরিটি পরীক্ষা করতে পারেন যদিও ব্যাপারটা লেজেন্ডে পরিনত হয়েছে!

তো এভাবেই হোলো এবং ক্রাফট বুঝতে পারে যে কয়েনের পিউরিটি নেমে গিয়েছে। অর্থাৎ ওই পুচকা ছিঁচকা আসলে একটা মিচকা!

কয়েনের ভ্যালু কমে যাওয়ার পরেও যদি ক্রাফট প্রফিট করতে পারে তাহলে প্রফিটের ১০% ওই ছিঁচকা পাবে। আর যদি ক্রাফট লস করে তাহলে ছিঁচকা শুধুমাত্র ক্রাফটের কাছ থেকে নেওয়া ১০ ট্রেনি সিলভার কয়েন ফেরত দিবে। অর্থাৎ কোনভাবেই ছিঁচকার লস হচ্ছে না। উল্টো এই ১০ ট্রেনি সিলভার কয়েনকে পুঁজি হিসেবে খাটিয়ে ইতিমধ্যে সে হয়তো প্রফিট করে নিতে পারবে কোথাও থেকে (হয়তো!)।

হোলো এরপর নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ক্রাফটের কাছে সম্ভাব্য পরিস্থিতি ধরিয়ে দেয়। হয়তো ছিঁচকা সরাসরি ক্রাফটের কাছ থেকে প্রফিট করবে না। হয়তো কোন থার্ড পার্টির কাছ থেকে সে প্রফিট নিবে। ক্রাফটের মস্তিষ্কের বেয়ারিংগুলো বন বন করে ঘুরতে থাকে এবং অবশেষে সে এই মিথ্যার পিছনের জালিয়াতি ধরতে পারে! সে বলে যে কয়েনের মূল্য কমে গেলে তার থেকে প্রফিট করার একটা ট্রিক তার জানা আছে।
সে গিয়ে তৎক্ষণাৎ মিলন (!) কোম্পানিকে পরিস্থিতি সম্পর্কে ইনফর্ম করে তাদের সাথে এই বিষয়ে ডিল করার উদ্দেশ্যে। মিলন কোম্পানি সামান্য তদন্ত করে জানতে পারে যে ছিঁচকার পিছনের মিচকা হল মেডিও কোম্পানি। কিন্তু মেডিও কোম্পানিরও এমনকি এত বড় আকারের ষড়যন্ত্র করার মত ক্ষমতা নেই। তার মানে এদেরও পিছনের আসল মিচকা হল কোন এক অভিজাত ছিঁচকা।

এখন প্রশ্ন হল যে ট্রেনি সিলভার কয়েনের পিউরিটি বৃদ্ধি পাচ্ছে এই গুজব ছড়িয়ে তাদের লাভটা কি?

গুজব ছড়িয়ে লাভটা কি সে প্রশ্নের উত্তর পরের পর্বে পাবেন। আপাতত যা পেয়েছেন তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুন। একদিনে বেশি ডোজ নেওয়া ঠিক নয়!
আজকের মত এখানেই শেষ করছি।
ভালো থাকুন
সুস্থ থাকুন
সুখে থাকুন
শান্তিতে থাকুন এবং
এনিম দেখুন!

2 B Continued

Shigatsu wa Kimi no Uso রিভিউ — Iftekhar Rashed

ব্যক্তিগত রেটিং- ৯.৩/১০

“A Journey You Would Love. A Story you can’t Stop Listening. It’s Something You will Never Forget More Like you Can’t forget ( That is Something the Creator Wants too; Never to forget it).”

ক্লাসিকাল মিউজিক যা এনিমটার মুল খোড়াক এবং আকর্ষন, ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক এনিমটার একটা মুহুর্তকেও অহেতুক ভাবার ক্ষ্মতা আমাকে দেয় নি। এক কথায় এতটাই Beautiful যা একমহুর্তের জন্যও চোখকে পলক ফেলতে দেয়নি। এতটাই Deep যা এক মুহূর্তের জন্য অমনোযোগী হয়ে অন্যকিছু চিন্তা করার সুজোগ দেয় নি, এবং বসন্তের বাতাসের মত এমন এক অনুভুতির সৃষ্টি করেছে যা মনের সমস্ত অনুভুতির স্তর গুলোতে আপন ক্ষিপ্রতার সাথে প্রতিটা মুহূর্তে আঘাত হানতে থাকে, ভুলার মত নয় যা। এটা একটা ব্রিজ যা প্রত্যেক মানুষের স্মৃতির কিছু না কিছু অংশের সাথে যোগাযোগ স্তাপন করতে সক্ষম হয়ে ভিতর থেকে আলতো করে নাড়া দেয়। আবার উঠে দাড়ানোর, স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেয়ার অন্যতম উদাহারন এই এনিমটি।

shiga 2

Arima Kousei সবচেয়ে কম বয়সে সাকি প্রতিযোগিতা জ়েতা একমাত্র পিয়ানিস্ট। যে তার ক্যারিয়ারের শুরুতে আকাশচুম্বি সাফল্য অর্জন করে। সুক্ষ ও নির্ভুল ভাবে বাজানো যা পার্ফেক্ট স্কোর এনে দেবে ছিল তার মুল বৈশিষ্ট। কিন্তু মা মারা যাওয়া এবং নিজের বাজানো পিয়ানোর আওয়াজ শুনতে না পাওয়ার কারনে সেই অল্প বয়সেই পিয়ানোকে চির বিদায় জানায়। আরিমার জীবন আর সবার মত চলতে থাকে। কিন্তু সবকিছুর মাঝে থেকেও অদৃশ্য। একটু সমাজ বিকেন্দ্রিক। তারপরও তার দুজন ক্লোজ ফ্রেন্ড আছে যারা ওয়াতারি এবং সোয়াবে। সোয়াবে শুধু ক্লাস ফ্রেন্ডই না একদম ছোট্ট বেলার প্রতিবেশি বন্ধু। একজন মেয় হওয়া সত্ত্বেও সোয়াবের ছেলে সুলভ আচরন একটু আলাদা মাত্রাই দিয়েছে এনিমটাতে এবং আরিমার জীবনেও। সেই ছোট্ট বেলা থেকেই আরিমার প্রত্যেক্টা প্রতিযোগিতার দর্শক সে। মা মারা যাওয়া পর বলতে গেলে ওই আরিমার খারাপ ভাল সব সময় পাশে থেকে আসছে। এবং মনে প্রানে চাইতে থাকে আরিমার জীবনে যেন আবার রঙ্গিন মাত্রা যোগ হয়।
গল্পটা এভাবে চলতে চলতে হঠাৎ করেই একটা নতুন মোড় নেয় যা আরিমার ধুসর জীবনকে রোলার কোস্টার রাইড বানিয়ে দেয়। সোয়াবে আরিমাকে তার এক বন্ধুর সাথে দেখা করানোর জন্য আমন্ত্রন জানায়, যে কিনা ওয়াতারিকে পছন্দ করে। সোয়াবে আরো যোগ করে মেয়েটাও একজন মিউজিশিয়ান তাই আরিমার মিউজিক নিয়ে কথা বলার সুজোগ থাকছে। আরিমার সময় মতই দেখা করার স্থানে চলে যেয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। কাছ থেকেই ভেসে আসতে থাকা মন কাড়া মেলোডিকার শব্দ শুনে উৎপত্তি স্থানের দিকে ছুটে যায় আরিমা। এবং ঐ মুহুর্ত থেকেই আরিমার জীবনের বিশাল পরিবর্তন হতে যাচ্ছে এটা হয়তো আরিমা নিজেও জানতো না। ওখানে যেয়ে দেখে একটি সোনালি কেশি মেয়ে কিছু বাচ্চাদের সাথে মেলডিকা বাজাচ্ছে। মেয়েটা মেলডিকার সুরে হাসিতে, ছেলে মানুষিতে আরিমা অদ্ভুত রঙ দেখতে পায়, এমন কিছু যা সবসময় আরিমা মনে মনে খুজতে থাকে। অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্যটি আরিমা ক্যামেরা বন্দি করবে। এমন সময় দক্ষিনা তীর্ব বাতাসে মেলডিকা বাজানোর ব্যঘাত ঘটে গল্পের নাইকা কাওরি মিয়াজানোর এবং একটি অপ্রিতিকর অবস্থায় কাওরি আরিমাকে ছবি তুলতে দেখলে আরিমার ব্যাড টাইমিং এর সিকার হয়, এবং কাওরির রুদ্র মুর্তির সম্মুক্ষিন হয়। এর পরপরই দৃশ্যপটে আগমন ঘটে ওয়াতারি ও সোয়াবের।
কাওরি মিয়াজানো আসলে তোয়া হলে একটা ভায়লিন কম্পিটিশনে অংশ গ্রহন করেতে যাচ্ছিল এবং ওরা সবাই কাওরির পারফর্ম দেখতে আসছিলা। পারফর্মেন্স শুরু হলে পুরো হল নিস্তব্ধ হয়ে যায় কাওরির মনমুগ্ধকর ভায়লিনের সুরে, যেখানে সে তার একোম্পানিস্ট পিয়ানো বাজককে,গ্রামারকে গ্রায্য করে পুরো নোটটা নিজে্র করে নিয়ে বাজাতে থাকে। আরিমা মনে বিশেষ রঙ্গে আন্দলিতে হয়ে উঠে, তবে সে এও বুঝতে পারে এটা দর্শকদের নাড়া দিলেও কম্পিটিশনের ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করে না। পারফর্মেন্স শেষ হলে বেরুনোর সাথে সাথে কাওরিকে দুটো বাচ্চা ছুটে এসে ফুল দেয়। ফুল নিতে নিতে আরিমা ওয়াতারি আর সোয়াবেকে দেখে কাওরি। কিন্তু সে ছুটে সবার আগে আরিমার কাছে আসে জানার জন্য যে ওর কেমন লেগেছে।

কাওরির এই আবির্ভাব আরিমার মনে গেথে যায় প্রথম দিন থেকেই। এরপর একদুপুরে ওতারি না থাকায় কাওরি আরিমার সাথে বের হয়ে এক রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। ওখানে ওদের মনোযোগ ভাঙ্গে দুটো বাচ্চার Twinkle Twinkle Little star এর পিয়ানো ভার্সন বাজাতে শুনে। কাওরি বাচ্চাদের কাছে গেলে বাচ্চারে ওদের শেখানোর জন্য বলে কিন্তু কাওরি আরিমাকে দেখিয়ে বলে ওর কাছ থেকে শিখতে, আরিমা প্রথমে না করলে কাওরির হুমকির মুখে অসহায় হয়ে শেখাতে রাজি হয়। বাজানো শুরু করলে সবার নজর আরিমার দিকে পড়ে। আরিমা হারিয়ে যেতে থাকে এবং হুঠ করেই আবার আরিমার সামনে থেকে নোট গুলো হারিয়ে যেতে থাকে আর সেই সাথে সে তার বাজানো সুর আর শুনতে না পেয়ে তৎক্ষনাত বাজানো বন্ধ করে দেয়। যা খুব ভাল মতই কাউরির চোখে ধরা পড়ে।
কাহিনি মুলত নুতুন মোড় নেয় যখন কাওরি তোয়া কম্পিটিশানে অডিয়েন্স ভোটে সেকেন্ড রাউন্ডে উঠে। সে হুঠ করেই আরিমাকে তার একম্পানিস্ট হওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং একমত জোর পুর্বক আরিমাকে রাজি করায় তার সাথে পারফর্ম করার জন্য, এটা জানা সত্তেও যে আরিমা পিয়ানো বাজাতে সক্ষম নয়। আরিমাকে দিয়ে রাত দিন প্রাক্টিস করিয়ে নিতে থাকে পারফর্ম করার জন্য যার মধ্যে বেশ কিছু নজর কাড়া মুহূর্ত আছে।

কম্পিটিশনের দিন পারফর্মের সময় আরিমা আবার খেই হারিয়ে ফেলতে থাকে এবং একপর্যায়ে সে বাজানো বন্ধ করে দেয় কিন্তু কাওরি তার ভায়োলিন বাজানো চালিয়ে যেতে থাকে, এক পর্যায়ে কাওরিও বাজানো বন্ধ করে দেয়। তারপর আরিমাকে সাহস জাগানোর জন্য ওকে কিছু কথা বলে। পেছন থেকে যতই ভায়লিন বাজানো রত কাওরিকে আরিমা দেখে ততটাই মুগ্ধ আর সাহস পেতে থাকে। কম্পিটিশনের নিয়ম অনুযায়ি মাঝ পথে বাজানো বন্ধ করলে ডিকোয়ালিফাইড। এবং তারা দুজনই এটা ভাল করে বুঝতে পারে। কিন্তু কাওরির উদ্দেশ্য আসলে অন্যকিছু ছিল এটা আরিমা কিছুটা আচ করতে পেরেছিল তাই আরিমা তার সব দিয়ে বাজানো আবার শুরু করে শুধু মাত্র কাওরির জন্য, এরপর দুজন একত্রে মিলে একটি মিরাকল পারফর্ম করে যা সবাইকে মুগ্ধ করে দেয় এবং একটি আনফরগেটেবল পারফর্মেন্স গিফট করে সবাইকে। তবে পারফর্মেন্স শেষে কাওরি মুখ থুবড়ে পড়ে যায় স্টেজের উপর।

আরিমার জীবনের নতুন অধ্যায় , কাওরির হস্পিটালের জীবন শুরু এখান থেকে এবং এর প্রভাব সোয়াবের উপরও পড়ে, কাহিনী আরো অনেক মোড় নিতে থাকে আমাদের দেয় অসম্ভব কিছু সুন্দর মুহুর্ত যা আমি চাইব সবাই নিজেরা দেখে অনুভুতিটা নেক, আমার মতই।

বিঃদ্রঃ এপ্রিলের বলা মিথ্যাটা কিন্তু পুরো এনিমটা দেখেই জেনে নিতে হবে। যদিও আমি মাঝ পথে আচ করতে পেরেছিলাম

Tsuritama অ্যানিমে রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Tsuritama.full.1107613

জনরাঃ কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ, স্পোর্টস, সাই-ফাই

“Even if the world ends tomorrow, I just want to fish!”

আচ্ছা, আপনারা কেউ কখনো বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছেন? কেমন লাগে ব্যাপারটা? কাঠির গায়ে সুতো বেঁধে পানিতে টোপ ফেলে চুপ করে বসে বোরিং সময় কাটানোর মাঝে কি এমন থাকতে পারে, যা নিয়ে হারু আর কোকো এত হাইপড? কিংবা বড়শিতে মাছ গাঁথার পর সেটাকে খেলিয়ে ডাঙায় তোলা কি এমন কঠিন কাজ, যার জন্যে নাতসুকিকে “প্রিন্স” উপাধি দেয়া হয়েছে?কি এমন রয়েছে এই মাছধরাতে, যে দুনিয়া উল্টে গেলেও কিছু যায় আসে না??

কিংবা মনে করুন, আপনি একজন ট্রান্সফার স্টুডেন্ট। কিন্তু অনেক লোকজনের সামনে আপনি অত্যন্ত অকওয়ার্ড ফিল করেন। তাও কষ্টেসৃষ্টে ফার্স্ট ইমপ্রেশনটা ঠিক রাখার জন্য অনেক প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে গেলেন। বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটানোর শব্দ শুনতে শুনতে আপনি স্পীচ দেয়া শেষ করে কেবল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন, এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে এসে উদয় হল রাস্তায় দেখা হওয়া সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন ছেলেটি! কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজেকে আবিষ্কার করলেন পুরো ক্লাসের সামনে, হাত নেড়ে এনোশিমা ডান্স করা অবস্থায়!! গেল আপনার সাধের ফার্স্ট ইম্প্রেশন!

HorribleSubs_Tsuritama_-_10_720p.mkv_snapshot_04.04_2012.06.16_13.44.05
অথবা, সবসময় একটা হাঁস বগলদাবা করে ঘুরে বেড়ানো ইয়ামাদার আসল উদ্দেশ্যটা কি? হারুর ব্যাপারে সে এত সতর্ক কেন? ইউকি আর নাতসুকিকে জোর করে মাছ ধরতে নিয়ে যাওয়ার মত পাগলামি ছাড়া তো আর তেমন কিছুই করেনা সে। কিংবা হারুই বা সমুদ্রে মাছ ধরতে এত আগ্রহী কেন? এনোশিমার প্রাচীন লোকগাঁথার সাথে কি ওদের কোন সম্পর্ক আছে?

অ্যানিমেটার শুরুটা এমনই ওলট পালট মার্কা, কোথা থেকে কি হচ্ছে আমি কিছু ঠাহর করে উঠতে পারছিলাম না। মাথায় মাছের জার নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন হারুর কাজকর্ম দেখে হাসি পাচ্ছিল, আবার ওর সরলতা দেখে মায়াও লাগছিল। কিন্তু যত এগোলাম, তত যেন কাহিনীটা আমাকে ভেতরে টানতে থাকল! ভেবেছিলাম কি, আর শেষে হলটা কি! সিম্পল একটা মনকে খুশি করে দেয়া হাসিখুশি স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমে হঠাৎ হয়ে গেল একটি জমজমাট রূদ্ধশ্বাস সাইফাই অ্যানিমে! এবং সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপারটি হল, এতকিছুর মধ্যেও অ্যানিমেটা আমার মুখ থেকে একবারের জন্যেও হাসিটা মুছতে দেয়নি!
tsuritama_by_squ_chan-d56d05l
অ্যানিমেটার আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত সুন্দর। উজ্জ্বল, ঝলমলে রঙ ব্যবহার করে এনোশিমা নামক সমুদ্র উপকূলের শহরটিকে খুব মনোমুগ্ধকর উপায়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে; দেখে যে কারও মনে হতে বাধ্য, একবার যদি এনোশিমায় যেতে পারতাম! ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ উদ্ভট, আর এই উদ্ভট ডিজাইনের কারণেই যেন অ্যানিমেটা প্রাণ পেয়েছে। নাতসুকির মাছধরা বিষয়ক জ্ঞান, ইউকি ও হারুর এ বিষয়ে অজ্ঞানতা, শুধুমাত্র এই ফিশিং এর কারণে চারটা ছেলের জীবনে পরিবর্তন, তাদের মানুষ হিসেবে পরিণত হয়ে উঠতে দেখলে নিজের অজান্তেই তাদেরকে আপন মনে হতে থাকবে!

অ্যানিমেটার ওএসটি খুবই চমৎকার, ওপেনিং এন্ডিং একটাও স্কিপ করার মত না। আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক প্রতিটা সিচুয়েশনে পার্ফেক্টভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। মাছধরা থেকে শুরু করে ক্লাইম্যাক্স, সবখানেই নিখুঁত আবহ তৈরি করেছে এর ওএসটি।

সবমিলিয়ে অ্যানিমেটা আবার খুবই ভাল লেগেছে, ভিন্নধাঁচের স্লাইস অফ লাইফ ও সাই-ফাইয়ের মিশ্রণ দেখে আরও বেশি ভাল লেগেছে। অনেকদিন পরেও তাপিওকার “ডাক” মনে করে আমি হাসব, নাতসুকি, ইউকি, হারু আর ইয়ামাদার বন্ধুত্বের কথা মনে করে আনন্দ পাব। আর ক্লাইম্যাক্সের সেই লোম খাড়া করা মূহুর্তগুলো তো কখনোই পুরনো হবার নয়!

tsuritama_wallpaper_by_chatlantic-d5974r8