ট্যাঙ্ক, ললি এবং মোয়ে — Anirban Mukherjee

 

Girls & Panzer 1

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুনিয়া কাঁপানো ট্যাঙ্ক , আর একবিংশ শতকের দুনিয়া কাঁপানো মোয়ে এবং ললি চরিত্রগুলোর সংমিশ্রণ একটাই,গার্লস উন্দ পানজার । এম ফোর শের্মান,পানজার ফোর বা পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট মাউস এর মতো শক্তিশালী ট্যাঙ্ক গুলোর পাশাপাশি মিশো,সাউরি বা হানার মতো কাওয়ায়ি চরিত্রগুলো কল্পনা করতে হয়ত এতদিন বেমানান লাগতো , কিন্তু গার্লস উন্দ পানজারে নয়। এনিমখোরে যেহেতু রিভুর একটা ভালো রিভিউ আছে, সেজন্য সেদিকে না গিয়ে আমি এই লেখাতে ট্যাঙ্ক, ট্যাঙ্ক সম্পকে ব্যাবহৃত পরিভাষা এবং গার্লস উন্দ পানজারে ব্যাবহৃত ট্যাঙ্ক গুলোর বৈশিষ্ট্য এবং ইতিহাস সম্পকে আলোকপাত করবো।

Girls & Panzer 2

ইতিহাসের দিকে……….

যারা প্রেমেন্দ্র মিত্রের সৃষ্টি ঘনাদা চরিত্রের একনিষ্ঠ ভক্ত তাদের বলতে হবে না ট্যাঙ্ক কার প্রথম আবিষ্কার ।ঘনাদা তখন বনমালী নস্কর লেনের মেসবাড়ির মজলিশ ছেড়ে লেকের ধারে জমিয়ে বসেছেন ।এখানে তিনি আর ঘনাদা নন,বরং ঘনশ্যাম বাবু ।এবং তার গল্পের বিষয় তার “তস্য তস্য পূর্বপুরুষ”গন ।সেইরকম এক পূর্বপুরুষ ঘনরাম দাস ওরফে গানাদো , বাংলা সাহিত্যে ক্লাসিক প্রতিম “সূর্য কাঁদলে সোনা” উপন্যাসে ইনকা সভ্যতার আর রাজা আতাহুয়াল্পার পতনে যোগ দেওয়ার আগে ,একটা ছোট গল্প “দাস হলেন ঘনাদা”তে তার পরিচয় পায় ।সেখানে দেখি মায়ানদের খপ্পর থেকে বাঁচার জন্য স্পেনীয় অভিযাত্রী এবং টেনচটিটলান বিজয়ী এর্নান কোর্তেস গানদোর হাতে পায়ে ধরছে।আর গানদো তৈরি করল “মান্টা” ।”রথের মত মোটা তক্তায় তৈরি দোতলা সাঁজোয়া গাড়ি ।সে ঢাকা সাজোঁয়া গাড়ির তলাতেই বন্দুক নিয়ে থাকবে সৈনিকরা ।নিজেরা কাঠের দেওয়ালের আড়ালে তীর বল্লম আর ইট পাটকেলের ঘা বাঁচিয়ে নিরাপদে বন্দুক ছুড়তে পারবে শত্রুপক্ষের উপর ।” ঘনাদার দাবী এই মান্টাই হলো পৃথিবীর প্রথম ট্যাঙ্ক ,যার সাহায্যে এর্নান কোর্তেস আর তার সৈনিকরা ,মায়ার দ্বীপ-নগরী টেনটচটিটলান থেকে জানে-প্রানে বেঁচেছিলো ।
কিন্তু ঘনাদা মানেই গুল,একেবারে শিল্পসম্মত গুল ।তাই ফিকশনের দুনিয়া ছেড়ে আমাদের খোঁজ করতে হবে বাস্তবের দুনিয়াতে । পৃথিবীর প্রথম ট্যাঙ্কের কনসেপ্ট সেই এর্নান কোর্তেস এর মেক্সিকো বিজয়ের কয়েক দশক আগেই আসে ।ইতালিয়ান পলিম্যাথ এবং মোনা লিসা বা লা জকোন্দা খ্যাত লিওনার্দো দা ভিঞ্চির নোটবই এ পাওয়া যায় তাঁবু বা ছুঁচলো ইএফও মতো এর কাঠের তৈরি এক ধরনের বাহনের নকশা ,সেটাই নাকী আদি ট্যাঙ্কের কনসেপ্ট ।

Tank 1

[লিওনার্দো দা ভিঞ্চির “আদি” ট্যাঙ্ক কনসেপ্ট]

আবার সায়েন্স ফিকশনের দুনিয়াতে গেলে পাবো 1903 খ্রিস্টাব্দে এইচ .জি ওয়েলসের লেখা ছোটগল্প “দ্যা ল্যান্ড আইরন ক্লাদ্স ” ,যেখানে বর্ননা দেওয়া আছে এমন একধরনের লোহার তৈরি ক্যানন আর মেশিনগান যুক্ত বাহনের ,যেটা লোহা আর ইস্পাতের শক্ত বর্ম দ্বারা আচ্ছাদিত ।

Tank 2

[এইচ.জি ওয়েলস এর গল্প অনুযায়ী ট্যাঙ্ক কনসেপ্ট]

তবে পৃথিবীকে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হলো না ,এর তেরো চোদ্দ বছর পর ,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ব্রিটিশ মার্ক ওয়ান,টু ,থ্রি থেকে আরম্ভ করে টেন পযন্ত সিরিজের ট্যাঙ্কের লড়াই দেখলো পৃথিবী ।ব্রিটেনের শত্রু-মিত্র সবার কাছে ছিলো এই সিরিজের ট্যাঙ্ক । ব্রিটেনের কাছে ছিলো মার্ক ওয়ান থেকে টেন অবধি সব শ্রেণীর ট্যাঙ্ক , জার্মানের কাছে ছিলো মার্ক ফোর শ্রেণীর ট্যাঙ্ক , জাপানের কাছেও ছিলো মার্ক ফোর শ্রেণীর ট্যাঙ্ক ।তবে ফরাসি ট্যাঙ্ক রেনাউল্ট এফ টি হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম মর্ডান ট্যাঙ্ক ।এটাই পৃথিবীর প্রথম ট্যাঙ্ক ,যার মাথায় একটা 360○ ঘূর্ণমান উঁচু গান টারেট ছিলো ,যেখান থেকে 37 মিমি শর্ট ব্যারেলের একটা ক্যানন বন্দুক শত্রুর ঢেরা ছিন্নভিন্ন করে দিতো । রেনাউল্ট একটা হাল্কা শ্রেণীর ট্যাঙ্ক হলেও এটা ব্রিটেনের মার্ক সিরিজের ট্যাঙ্কগুলো থেকে একটা জায়গায় এগিয়ে ছিলো ,উঁচু গান টারেট ।

Tank 3[ব্রিটিশ মার্ক ওয়ান]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জার্মান এ সেভেন ভি(A7V) সিরিজের ট্যাঙ্ক গুলো ছিলো একটা ছোটখাটো চলন্ত দূর্গ,এরও কোন উঁচু টারেট ছিলো না ।

Tank 4

[জার্মান এ সেভেন ভি, যেন একটা চলন্ত দূর্গ]

পরিভাষাসমূহ…….

1. ট্যাঙ্ক টারেট:-
টারেট বা গান টারেট হচ্ছে ট্যাঙ্কের প্রচন্ড প্রয়োজনীয় অংশ ।এই শব্দটার বাংলা অনুবাদ করলে পাবো চূড়া অথবা কামান রাখিবার ঘূর্ণিমান মঞ্চবিশেষ ।প্রধানত ট্যাঙ্কের উপরে যে উঁচু অংশটায় ট্যাঙ্কের প্রধান কামানটি থাকে তাকে ট্যাঙ্কের টারেট বলে,এটি 360○ ঘুরতে পারে,ফলে ট্যাঙ্কের গতিমুখের সমকোনে ঘুরে গোলা দাগতে সক্ষম হয় ।প্রথম যে ট্যাঙ্কে টারেট ব্যাবহৃত হয় সেটি ফ্রান্সের রেনাউল্ট এফ টি,সেটা আগেই বলেছি ।টারেট এর ওজনও ট্যাঙ্কের একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, যেমন আধুনিক কালের জার্মানের লেপার্ড টুএফোর (2A4) এর টারেটের ওজন 16 টন এবং আরও কিছু ফাংশান (বৈশিষ্ট্য )যোগ হওয়া লেপার্ড টুএসিক্স(2A6) এর ওজন 21 টন।

Tank 5

[পৃথিবীর প্রথম আধুনিক ট্যাঙ্ক ,ফ্রান্সের রেনাউল্ট]

টারেট একবার 360○ ঘুরতে যতটা সময় নেয় সেটাও যুদ্ধের ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ ।যেমন জার্মান লেপার্ড টু সিরিজের সমস্ত ট্যাঙ্কের টারেট একবার পূর্ণ 360○ ঘুরতে সময় নেয় নয় সেকেন্ড।

2. ট্যাঙ্ক আর্মর বা ট্যাঙ্কের বর্ম:-
ট্যাঙ্কের বর্ম ,ট্যাঙ্ককে বিভিন্ন গুলি,বোম ,শেলের হাত থেকে রক্ষা করে ।বিভিন্ন ধরনের বর্ম আবিষ্কার হয়েছে ট্যাঙ্ককে রক্ষা করার জন্য ।যেমন স্লোপেড আর্মর ,রিয়াকটিভ আর্মর , সল্ট আর্মর ইত্যাদি ।গোটা ট্যাঙ্ক আর্মর কে দুভাগে ভাগ করতে পারি,হুল আর্মর এবং টারেট আর্মর ।

3. হুল আর্মর :-
টারেট বাদে অন্য কাঠামোর আর্মর বা বর্ম ।যেমন পানজার ফোরের সামনে আর্মর আশি মিলিমিটার মোটা,দুপাশে ত্রিশ এবং পেছনে কুড়ি মিলিমিটার মোটা ।

4. টারেট আর্মর :-
শুধু টারেটকে আলাদা ভাবে বাঁচানোর জন্য একটা বর্ম আঁটানো হয় ।পানজার ফোরে সামনের টারেট আর্মরটা 50 মিলিমিটার ঘনত্বের এবং পাশের এবং পেছনের আর্মরের ঘনত্ব ত্রিশ মিলিমিটার ।

পানজারের ট্যাঙ্কসমূহ………
ভূমিকাতে কিছু আলোচনা করে এবার মূল বিষয়ে ফিরি । গার্লস উন্দ পানজারের জগতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ট্যাঙ্কগুলো এখন খেলা এবং প্রতিযোগিতার বিষয় ।একসময়ের বিভিষকা, বর্তমান সময়ে রোমাঞ্চ এবং উত্তেজনার বিষয় । গার্লস উন্দ পানজারে মোট আট ধরনের ট্যাঙ্ক, প্রধানত দেখা পেয়েছি ।নামগুলো হলো জার্মানের পানজার ফোর, পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট “মাউস”, পোর্সে টাইগার, স্তুগ ত্রি,জাপানের টাইপ এইটটি নাইনবি আই গো অতসু, টাইপ নাইনটিন সেভেন চি হা,আমেরিকার এম ফোর শের্মান, ফ্রান্সের রেনাউল্ট বি ওয়ান ।এছাড়া আছে আরও কিছু ট্যাঙ্ক, যেগুলো নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা হবে ।

1. পানজার ফোর:-
পানজার ফোর বা পানজারক্যাম্পফাওগেন ফোর হচ্ছে জার্মান মাঝারি শ্রেনির ট্যাঙ্ক, যেটা 1930 থেকে 1945 অবধি বানানো হয়েছিলো ।এইসময় প্রায় 8569 টা পানজার ফোর বানানো হয়।এর মোট দশটা ভারসন ছিলো ।পোল্যান্ড আক্রমণের সময় এবং ফ্রান্সের যুদ্ধের সময় এই ট্যাঙ্ক প্রচন্ড ব্যাবহৃত হয় ।পোল্যান্ড আক্রমণের সময় 211 টা পানজার ফোর ব্যাবহার করে জার্মানি ।সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে কুর্স্কের যুদ্ধে 841 টা পানজার ফোর হারায় জার্মান ।সব মিলিয়ে পূর্ব সীমান্তে দুহাজারের উপর পানজার ফোর হারায় জার্মান ।

Tank 6

[পানজার ফোর]

2. পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট “মাউস”:-
পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট মাউস হচ্ছে জার্মানির “সুপার হেভি ট্রাঙ্ক” ।অনেকে একে এখনও পযন্ত সবচেয়ে ভারী “আর্মর ফাইটিং ভেহিকলস” বলে ।কিন্তু এর মাত্র দুটো প্রোটোটাইপ তৈরি হয়েছিলো(v1 আর v2)।188 টন ওজন নিয়ে সবচেয়ে বেশি কুড়ি কিলোমিটার গতিবেগে যেতে পারতো,গড়ে তেরো থেকে আঠরো কিলোমিটার ।এর আর্মরের ঘনত্বও ছিলো প্রচণ্ড ।হুল আর্মর আর টারেট আর্মরের সামনের দিকে ঘনত্ব ছিলো 220 মিলিমিটার ।

Tank 7

[অতিকায় “মাউস”]

3. পোর্সে টাইগার:-
আর একটা হেবি ট্যাঙ্ক যেটা জার্মানরা প্রোটোটাইপ অবধিই সীমাবদ্ধ রেখেছিলো সেটা হলো পোর্সে টাইগার ।এর সামনের হুল আর্মর আর টারেট আর্মর এর ঘনত্ব একশ মিলিমিটার ।

Tank 8

[অতিকায় “টাইগার”]

4. স্তুগ ত্রি:-
জার্মানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে বেশি বানানো ট্যাঙ্ক হচ্ছে স্তুগ ত্রি ।এগারো হাজারের উপর বানানো হয় ।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়াও ইজরায়েল আর মিশরের মধ্যে 1964 এ সংগঠিত ছয় দিনের যুদ্ধেও এটা ব্যাবহৃত হয় ।নাজি জার্মান ছাড়াও বুলগেরিয়া,কিংডম অফ রোমানিয়া, কিংডম অফ বুলগেরিয়া ,ফিনল্যান্ড,ইটালি,সিরিয়া ব্যাবহার করে ।সোভিয়েত এটা টেস্টিং এর জন্য ব্যাবহার করে ।এর এগারোটা ভারসন বানানো হয় ।যেহেতু এটা একটা ট্যাঙ্ক ডেসট্রয়ার ,সেজন্য এখানে টারেট ব্যাবহৃত হয়নি ,সেজন্য এটা ট্যাঙ্ক কম ,বড় আর্টিলারী বন্দুক বেশি মনে হয়।

Tank 9

[স্তুগ থ্রি]

5. টাইপ এইটটি নাইন বি আই গো অতসু:-
জাপান এই ট্যাঙ্কটা ডিজাইন করেছিলো 1928 এ ।এটা দ্বিতীয় সিনো জাপান যুদ্ধে চীনের বিরুদ্ধে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যাবহৃত হয় ।এর দুটো ভারসন ছিলো ।

Tank 10

 

[টাইপ এটটি নাইন]

6. টাইপ নাইনটি সেভেন চি হা:-
এই ট্যাঙ্কটা ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের জাপানের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ট্যাঙ্ক ।একটা মেন গান ছাড়াও দুটো মেশিনগান থাকতো ।1162 টা ট্যাঙ্ক প্রস্তুত করা হয় মোট ।

Tank 11

 

[টাইপ নাইনটি সেভেন]

এম ফোর শের্মান :-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্রপক্ষের অন্যতম সেরা বাজি ছিলো এম ফোর শের্মান ।আসলে এটি পূর্বতন এম থ্রি লি এর উন্নত সংস্করন।এম থ্রি লি এর মাথার উপর একটা রোটিং টারেট বসিয়ে এবং সেখানে আরও উন্নত এম থ্রিফোর এ ওয়ান ক্যানন গান চরিয়ে তৈরি করা হয় এম ফোর শের্মান ।শুধু আমেরিকা নয়,ব্রিটিশরাও এই ট্যাঙ্ক ব্যাবহার করেছে ।তারা চাইছিলো শের্মান এর মত আমেরিকান ট্যাঙ্কের উপর ব্রিটিশ ট্যাঙ্ক গান বসাতে ।তো তৈরি হয়ে গেল এম ফোর শের্মান ফায়ার ফ্লাই ।এই ট্যাঙ্কের সবচেয়ে বিখ্যাত বৈশিষ্ট্যটি হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে এর ব্যাবহারকারী পরস্পরের শত্রু মিত্র দেশ ।যেমন দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর জাপান,ইতালি,বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন,কানাডা,ফ্রান্স এমনকী নাজি জার্মান ।এছাড়া বাংলাদেশ,ভারত,পাকিস্তান, ইরাক,ইরান,ইজরায়েল, লেবানন,ভিয়েতনাম ।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়াও এই ট্যাঙ্ক লড়েছে 1965 এর ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধে,1971 এ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ এবং পশ্চিম ফ্রন্টে ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধে ,ইজরায়েল এর সিক্স ডে ওয়ার বা বিখ্যাত ছদিনের যুদ্ধে,ইরান-ইরাক যুদ্ধে,কিউবান বিপ্লবে, সুয়েজ ক্যানেল ক্রাইসিসে ।

ইনফ্রানটি ট্যাঙ্ক মার্ক থ্রি মাটিলডা:-
সাধারনত ইনফ্রানটি বাহিনীর সহায়ক হিসাবে এই ট্যাঙ্ক তৈরি করে ব্রিটিশরা ।এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিকে জার্মান ট্যাঙ্ক যেমন পানজার থ্রির বিরুদ্ধে ভালো পারফর্ম করেছিল ।এর এর 78 মিলিমিটার ঘনত্বের সামনের হুল আর্মর আর 75 মিলিমিটার ঘনত্বের টারেট আর্মর খুব মজবুত হলেও এটি কাছের টার্গেটের বিরুদ্ধে ভালো পারফর্ম করতে পারতো না ।এর আর একটি নাম ছিলো,কুইন অফ ডেজার্ট বা মরুভূমির রানি ।প্রধানত 1940-41 এ আফ্রিকার অপারেশন এ ইটালিয়ান ট্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ভালো পারফর্মের জন্য ।

টি চৌত্রিশ /টি থারট্রি ফোর/T-34:-
শুধু সোভিয়েত রাশিয়া নয়,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সবচেয়ে বেশি যে ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়েছিলো ।এই ট্যাঙ্কের মহিমা বহু কথাতেও শেষ করা যাবে না ।1930 সালে ডিজাইন করা এই ট্যাঙ্কটা আজও বহু দেশের আর্মিতে ব্যাবহার হয় ।টি সিরিজের অন্য ট্যাঙ্ক যেমন টি -62,টি-72 এবং টি-90 এর দিশারী ছিল এই টি-34 ট্যাঙ্ক ।সম্ভবত এখনও অবধি সবচেয়ে বেশি তৈরি করা ট্যাঙ্ক এই টি-34 ,এমনকী হালে 1996 অবধি এই ট্যাঙ্ক উৎপাদন করা হয়েছে ।তৈরি হয়েছে বহু ভারসন,উৎপাদন করা হয়েছে আশি হাজারেরও বেশি ।তখনকার দিনে তৈরি হলেও অনেক বিষয়ে এগিয়ে ছিলো এই ট্যাঙ্ক, এর আর্মর ছিলো প্রচণ্ড মজবুত ,পশ্চিম সীমান্তে নাৎসিদের সম্পূন ভাবে রুখে দিয়েছিলো এই ট্যাঙ্ক।নাৎসিদের বিভীষকা স্বরুপ এই ট্যাঙ্ক ব্যাবহার করেছে নাৎসি এবং ইটালিরাই ।এছাড়া অস্ট্রিয়া,বসনিয়া, লাউস,কিউবা,তৎালীন ইস্ট জার্মানি, লিবিয়া,পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া,গনচীন,প্যালেস্তাইন ।

এম থ্রি লি:-
পানজার সিরিজে যে কিউট পিঙক কালারের ট্যাঙ্ক টা ছিলো,যেটা দেখতে অনেকটা শের্মান এর মত ,সেটাই এম থ্রি লি ।আসলে একেই উন্নত করে তৈরি করাহয় শের্মান ।এটি কর্নেল রবার্ট. ই. লি এর সম্মানে নাম দেওয়া হয় ।ব্রিটিশরা এর নাম দেয় ইউনিয়ন জেনারেল এবং আঠোরো তম আমেরিকান রাষ্ট্রপতি ইউলিসিস গ্রান্টের নামে,এম থ্রি গ্রান্ট ।

তথ্যসূত্র :- পানজারউইকি,ট্যাঙ্কগুরু

আইরিস জেরো (Iris Zero) [মাঙ্গা রিভিউ] — Zuhayer Anjun Dhruba

Iris Zero

২৭ বছর আগে, পৃথিবীতে কিছু শিশুরা বিশেষ দৃষ্টিশক্তি নিয়ে জন্মগ্রহন করে, যাকে বলে আইরিস (IRIS)। সবার আইরিসের যোগ্যতা ভিন্ন ভিন্ন। কারও আইরিস মানুষের মধ্যে ত্রুটি দেখতে পারে, তো আরেকজনেরটা মানুষের মধ্যে যোগ্যতা দেখতে পারে।

কাহিনী শুরু হয় Toru Mizushima কে নিয়ে, যার নীতি হলো Low Exposure; অর্থাৎ সবার নজরের আড়ালে থাকা, কারণ তার কোন আইরিস নেই। এই নিয়ে কাহিনী। আইরিস এর যোগ্যতা সম্পন্ন দেশে যাদের আইরিস নেই তাদের কেউ পছন্দ করে না। কিন্তু তার Low Exposure এর জীবনে বাঁধা আসে যখন স্কুলের আইডল সবার প্রিয় Koyuki Sasamori তাকে পুরো ক্লাসের সামনে কনফেস করে।

কোয়্যুকির আইরিসের ক্ষমতা হল কোনো কাজের জন্য সঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করা। সে সবার মাথার উপর ‘X’ আর ‘O’ চিহ্নটি দেখে বুঝতে পারে কোন একটা কাজের জন্য মানুষটি সঠিক কিনা। কোয়্যুকি আইরিস ব্যবহার করে স্টুডেন্ট কাউন্সিলের জন্য যোগ্য প্রেসিডেন্ট খোঁজার ব্যাপারে তোরুর কাছে সাহায্য চায়। আর তোরু প্রথমে সাহায্য করতে রাজি না হলেও, পরে বুদ্ধি খাটিয়ে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। কিভাবে করে, তা মাঙ্গা পড়ে জানতে হবে। এভাবে তোরুর বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা দেখে আরো মজা পাওয়া যাবে।

পরে মাঙ্গায় দেখা হয় আরো কিছু নতুন চরিত্রের সাথে, যেমন, Asahi Yuki এবং Hijiri Shinozuka; যারা তোরুর ছোটবেলার ফ্রেন্ড, সেইসাথে Nanase Kuga এবং আরও অনেকের সাথে। সবার আইরিস তাদের চরিত্রকে আরো ইউনিক করে তোলে।

মাঙ্গাটির আর্ট অনেক সুন্দর। কোয়্যুকির মোয়ে মোয়ে স্বভাব। আর তোরুর বন্ধুদের অতীতের কাহিনী সবই ভাল। মাঝে তোরুকে নিয়ে মজার কিছু মুহূর্তও রয়েছে। আর একটা মজার বিষয় হলো এই মাঙ্গাটি পড়ে Hyouka-র Orekiর কথা মনে পড়বে। (⊙.⊙(☉̃ₒ☉)⊙.⊙)

মাঙ্গাকার হঠাৎ অসুস্থতার কারণে এখনো মাঙ্গাটির সম্পূর্ণ হয়নি। তারপরেও অবশ্যই সময় করে এই মাঙ্গাটা পড়ে ফেলবেন।

Status: Publishing
MyAnimeList Score: 8.13
My Score: 8
Genre: Mystery, Drama, Fantasy, Romance, School, Supernatural, Psychological, Seinen

Hanayamata [রিভিউ] — Santo Kun

Hanayamata 1

Anime name: HANAYAMATA

MAL Information:
Type: TV
Episodes: 12
Status: Finished Airing
Genres: Comedy, School, Seinen, Slice of Life
MAL Statistics:
Score: 7.45
Ranked: #1698
Popularity: #993
Personal score: 8.00 (অবশ্যই MAL থেকে একটু বেশি দেওয়া লাগে কারন আমার ফেভারেট। তেহে!! )

স্পেশাল এমন কি আছে আমাদের প্রধান চরিত্র নারু সেরকিয়ার মধ্যে? সবইতো সাধারণ, না আছে অন্যান্য এনিমে ক্যারেক্টারের মত সুন্দর চেহারা, না আছে ট্যালেন্ট।

Hanayamata 2

“Petals fluttering, the cherry blossoms are in full bloom. The encounter I had on that moonlit night changed my life”

এনিমের শুরুটা এইভাবেই। নারু সেকিয়া ১৪ বছর বয়সী একজন সাধারণ মেয়ে। তার জীবনটাও অনেক সাধারণ। প্রত্যেকদিন একই রকম কোন নতুনত্ব নেই। সবারই একটা লক্ষ থাকে কিন্তু নারুর বেলায় তা ভিন্ন। কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও প্রথম স্টেপটা নিতেই ভয় পায় সে। খুবই লাজুক ধর্মী। যেখানে তার বান্ধবীরা তাদের সর্বস্ব ঢেলে দিচ্ছে সেখানে নারু শুধু পিছনে থেকে তাদের প্রশংসা করে যাচ্ছে। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে তার মধ্যে।

“I was hoping something would change once I started middle school, but….”

Hanayamata 3

এই কিন্তুটাই ঘটে এক জ্যোৎস্না রাতে এক পরীর সাথে দেখা পেয়ে। পরী তাকে অন্য জগতে নিয়ে যাবে,তার সব ইচ্ছা পূরণ করবে। এসবই নারুর চিন্তা ভাবনা কারন ছোট বেলা থেকে ফেইরি টেইল পছন্দ ও বিশ্বাস করে। নিজের চিন্তার সাথে খাপ খায়িয়ে পরীকে বলতে থাকে তাকে অন্য জগতে নিয়ে যেতে। সেখানে কিছু ঘটনা ঘটে। এবং নারু শেষে সেখান থেকে পালিয়ে চলে আসে।

সেই লম্বা হলদে চুল, টানা টানা চোখ , সুন্দরী পরীর মত দেখতে মেয়েটা হল “হানা”। পরের দিনেই স্কুলে তাদের দেখা হয়। হানা আমেরিকা থেকে এসেছে, ছোট বেলায় জাপানে থাকা অবস্থায় ইয়াসাকই নাচ দেখে মুগ্ধ হয়। সেখান থেকেই ইয়াসাকই নাচের লক্ষ ঠিক করে । এবং সেই জ্যোৎস্না রাতে সে ইয়াসাকই নাচই করছিল , ভাগ্য ক্রমে নারুর সাথে তার দেখা… নারুকেও নাচের জন্য আমন্ত্রন জানায় সে কিন্তু নারু সেখান থেকে পালিয়ে আসে এই ভেবে সে কোন কিছুই করতে পারে না। হানা নারুর কথা শুনে কিছু বুজেনি কিন্তু তাকে প্রমিস করে বসে সে তার জন্য ফিরে আসবে। তাই পরের দিনই নারুকে আবার আমন্ত্রন জানায় ইয়াসাকই নাচের জন্য।

Hanayamata 4

এছাড়া অনেক ইন্টারেস্টিং চরিত্রের সাথে পরিচয় হবে এনিমেতে। এনিমেতে দেখার বিষয় হল নারুর ক্যারেক্টার ডেভ্লপমেন্ট , ভিসুয়াল, ওএসটি, ওপেনিং এবং এন্ডিং । তাছাড়া এনিমেরে কাহিনীটা অনেক বাস্তবধর্মী । অনেক সুন্দর করে প্রতিটি ইমসন এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। প্রত্যেকটি সিচুয়েসনে ওএসটি গুলো পারফেক্ট আর ওপেনিংটা অনেক জোস। আপনাদের পার্সনাল ফেভারিট হয়ে যেতে পারে। ওভার অল অনেক ভাল একটা এনিমে ।এনিমেটা দেখা শেষে মনে একপ্রকার শান্তি অনুভব করেছিলাম। এই ফিলিংস গুলো Slice Of Life এনিমে থেকে ভাল পাওয়া যায়।

ও আরেকটা কথা এনিমের নামটা আমার কাছে অনেক কুল লেগেছে(হানায়ামাতা)। নামের আসলে কোন অর্থ নেই এনিমের প্রধান ৫টি চরিত্রের নামের কম্বিনেসন এ নামকরন। হানার “হা” নারুর “না” মাচির “মা” ইয়ায়ার “ইয়া” আর তামির “তা” “হানায়ামাতা”

যারা এনিমেটা দেখেননি আসা করি দেখবেন।

ধন্যবাদ।

 Hanayamata 5

মাঙ্গা রিভিউঃ ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ড — Rezo D. Skylight

Deadman Wonderland 1জনরাঃ অ্যাকশান, অ্যাডভেঞ্চার, ড্রামা, সাই-ফাই, শৌনেন, সুপারনেচারাল
মাঙ্গাকাঃ কাজুমা কন্দউ এবং জিনসেই কাতাওকা
চাপ্টারঃ ৫৮
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.২৭
মাঙ্গাআপডেটস রেটিংঃ ৮.৩০
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০

“Only frustrated adults and naive kids believe themselves to be special.” – Kiyomasa Senji

“If you can’t see what’s important, then it’s because you’re too ashamed to open your eyes.” – Ganta Igarashi

ধরুণ আপনি প্রতিদিনের মত স্কুলে ক্লাস করতে এলেন, বন্ধুদের সাথে হাসি-ঠাট্টা করছেন। ঠিক এই সময়ে হটাৎ করেই অজ্ঞাত কেউ এসে আপনি বাদে আপনার সকল সহপাঠিকে আপনার চোখের সামনে মেরে ফেলল এবং পরবর্তীতে সেই মৃত্যুর দায়ভার পড়ল আপনার ঘাড়ে। আপনার কথা-বার্তা কেউ না শুনেই মিথ্যা কারণ দেখিয়ে আপনাকে পাঠানো হল টোকিয়োর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আর ভয়াবহ কারাগার ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডে। যেখানে আপনার নিজের জীবন বাজি রেখে অংশগ্রহণ করতে হবে বিভিন্ন সারভাইভাল-গেমে। তখন আপনার অবস্থা কি হবে ভেবেই দেখুন? ঠিক এই একই রকমের কাহিনীর স্বীকার হয় মাঙ্গার মেইন প্রোটাগোনিস্ট গান্তা ইগারাসি। তার জীবনের এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডের কাহিনী।

Deadman Wonderland 2

ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডের প্রতিটি ক্যারেক্টারই ইন্টারেস্টিং। বিশেষ করে এর সকল ক্যারেক্টারগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরিগুলো অসাধরণ। প্রতেকেই জীবনে কিছু না কিছু ভুল করেই বাদ্ধ হয়ে প্রবেশ করেছে ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ড নামক কারাগারে। কেউ হয়তবা নিজের আপন কাউকে বাঁচাতে গিয়ে, কেই হয়তবা বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে, কেউ হয়তবা নিজের জীবনকে বাঁচাতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। আবার কেউ কেউ মিথ্যা হত্যার দায়ভার বহন করে কারাগারে প্রবেশ করেছে। এভাবে বিভিন্ন ধরণের মানুষের সমাবেশ এই কারাগারে। প্রতেকেরই নিজের জীবন রক্ষার্থে সবসময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। এখানে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না, কেননা যে কেউ যে কোন সময় বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। ঠিক এরকম ক্যারেক্টারদেরকে ফোকাস করেই স্টোরি বিল্ড-আপ হয়েছে। ক্যারেক্টারদের মধ্যে আমার ক্রো (কিয়োমাসা সেনজি) খুব পছন্দের। মেইন ক্যারেক্টার গান্তাকে প্রথমে তেমন ভালো লাগেনি, তবে পরবর্তীতে গান্তার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট দেখানোর জন্য শেষমেশ তাকে বেশ ভালোই লেগেছে। আর সিরোও আমার খুব পছন্দের ক্যারেক্টার।

Deadman Wonderland 3

ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডের আর্টও বেশ দারুণ। প্রতিটি প্যানেলে অ্যাকশানের দৃশ্যগুলো বেশ সুন্দরভাবে বুঝা যায়। আর গোরের দৃশ্যগুলাও বেশ ডিটেইল করে দেখানো হয়েছে। সবমিলিয়ে, মাঙ্গার কাহিনীর সাথে আর্ট বেশ মানানসই।

আমি এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ শৌনেন মাঙ্গা পড়েছি, তাতে কম বেশি শৌনেন মাঙ্গার ভাব-সাব দেখলে বুঝি। বেশিরভাগ সময় শৌনেন মাঙ্গাগুলতে স্ট্রেট-প্রেডিকটেবল স্টরিলাইন থাকে, তাই সহজেই কাহিনী কিভাবে আগাবে তা অনুমান করা যায়। একইভাবে আমি ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডকে সাধারণ শৌনেন মাঙ্গা ভেবে পড়া শুরু করেছিলাম এবং পরে পড়তে গিয়ে বেশ চমকেছি। এটি শৌনেন মাঙ্গা হয়া শর্তেও এতে গোর আর সেইনিন এলিমেন্ট তুলনামূলক খবু বেশি। এছাড়া রয়েছে আনপ্রেডিকটেবল স্টরিলাইন, চমৎকার কিছু প্লট-টুইস্ট, আর অসাধরণ মিস্টেরি-সাস্পেন্স, আর মারাত্মক কিছু অ্যাকশান-সিন। এজন্যই বাকি পাঁচ-দশটা শৌনেন মাঙ্গা থেকে এটি ব্যতিক্রমধর্মী। আর এই কারণেই একেবারে প্রথম চ্যাপ্টার থেকেই আমার আকর্ষণ ধরে রেখেছিল।

Deadman Wonderland 4

যারা এখনো ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ড পড়েননি বা এনিমে দেখেছেন কিন্তুু মাঙ্গা পড়েননি তারা মাঙ্গাটা পড়া শুরু করে দিন। এনিমের পর মাঙ্গা চ্যাপটার ২২ থেকে শুরু করতে পারেন। আশা করি মাঙ্গাটা আপনার খুবই ভাল লাগবে, এমনকি আপনার পছন্দের মাঙ্গার তালিকায় স্থানও পেতে পারে।

[ওহ!! ডেডম্যান ওন্ডারল্যান্ড এনিমের OST গুলাও শুনে ফেলুন। অত্যন্ত চমৎকার চমৎকার OST – https://youtu.be/fhiXua2Q-to?list=PL26CF63D7FD1BE5CC]

Deadman Wonderland 5

Nobunaga Concerto: জাপানের এক টুকরো ইতিহাস – আসিফুল হক

horriblesubs-nobunaga-concerto-07-720p-mkv_snapshot_12-32_2014-08-31_10-33-24

“If the cuckoo does not sing, kill it.”

সেনাপতি বসে আছেন চিন্তিতমুখে। পিছনে তার অনুগত ৩০০০ সৈনিক। প্রত্যেকেই তার জন্য জান কুরবান। কিন্তু ভদ্রলোকের চিন্তার কারণ সামনে। বিপক্ষদলের সৈনিকের সংখ্যা হাজার ২৫ এর কিছু বেশি। তিনি জানেন তিনি জিতবেন; কিন্তু তার সৈনিকরা খুব একটা সাহস পাচ্ছে না আক্রমণের।

যুদ্ধের যাত্রাপথে একটা মন্দির পড়ে। সেনাপতি মন্দিরের সামনে আসতেই বলে উঠলেন, আমি এখন ভেতরে গিয়ে প্রার্থনা করব। তারপর বের হয়ে একটা মুদ্রা নিক্ষেপ করব। মাথা উঠলে জিতে গেসি; আর লেজ পড়লে কিছু করার নেই। আজকে সব কিছু ভাগ্যের হাতেই ছেড়ে দিলাম।

প্রার্থনা শেষ হল। সেনাপতি সাহেব বের হয়ে সবার সামনে মুদ্রা নিক্ষেপ করলেন। মাথা উঠল। সব সৈনিক এমনভাবে চিৎকার করতে লাগলো যেন তারা ইতিমধ্যেই যুদ্ধ জিতে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা-ই হয়েছিল।

যুদ্ধ শেষে তার সহকারী তাকে বললেন, ভাগ্যকে তো কেউ বদলাতে পারে না !
তিনি জবাব দিলেন, অবশ্যই। বলেই দুই পাশেই মাথাওয়ালা মুদ্রাটা বের করে সহকারীকে দেখালেন।

সেনাপতির নাম নবুনাগা।

ep_561192_2 (1)

পুরো জাপানকে এক পতাকাতলে আনার জন্য যে কয়জনের নাম ইতিহাসে লেখা নবুনাগা (১৫৩৪ – ১৫৮২) তাদের মধ্যে অন্যতম। জাপানের ইতিহাসে নবুনাগা অবশ্য সবসময়েই কম বেশি ভিলেনিয়াস চরিত্র হিসেবেই খ্যাত; যার অন্যতম প্রধান কারণ ১৫৭১ এ একটা বৌদ্ধ মন্দির এবং এর ভিতরে থাকা বহু সন্ন্যাসীকে পুড়িয়ে মারা।

নবুনাগা ইতিহাসের পাতা ছেড়ে উঠে এসেছে জাপানের সাহিত্য উপন্যাস কিংবা এনিমের জগতে। সেই রকমই একটা সিরিজ “nobunaga concerto” যা মুলত “সাবুরো”র সময় ভ্রমণের মাধ্যমে অতীতে চলে যাওয়ার গল্পের মাধ্যমে নবুনাগার গল্প শোনায় আমাদের।

সাবুরো বর্তমান সময়ের জাপানের এক স্কুলের অমনোযোগী এক ছাত্র; ইতিহাসে বরাবরই দুর্বল। একদিন হটাত করেই তার জীবনে ঘটে যায় এক অদ্ভুত ঘটনা। হটাত করেই সাবুরো সময় ভ্রমণের মাধ্যমে নিজেকে আবিস্কার করে মধ্যযুগের জাপানে; নবুনাগার সমসাময়িক সময়ে। তারপর কি ঘটল তাই নিয়েই এই সিরিজ।

ভাল দিকঃ ক্লিশে নাই; সেন্স অফ হিউমার চমৎকার; পছন্দনীয় চরিত্র; দুর্দান্ত ভয়েস এক্টিং; অনেকটা ইতিহাসকে অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ; ভাল সাউন্ডট্র্যাক।

খারাপ দিকঃ ব্যাতিক্রমী এনিমেশন; সময় অগ্রগতির সামঞ্জস্যহীন গতি।

যদিও খুব একটা হইচই নেই; কিন্তু নবুনাগা কন্সার্ট ইতিহাস আর কমেডির মিশেলে চমৎকার একটি সিরিজ।

রিকমেন্ডেড।

CIWuOFs

ভিডিও গার্ল আই :গান আর নব্বই দশকের রঙিন স্বপ্ন — Anirban Mukherjee

Video Girl Ai 1

শুরুর কথা……..

আমি কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন দোচালাতে ভুগছি ।প্রথমে ভাবলাম একটা সেগমেন্ট নামাই,ফ্রেঞ্চ নিউওয়েভের বিভিন্ন টেকনিকের সঙ্গে আনিমের মিল সম্পকে ।কিছু গদার ,ত্রুফো,শাব্রল,রিভেট, রোমার আচ্ছাশে রিওয়াচও দিলাম ।তারপর একটা ভোরে লিখতে আরম্ভ করলাম সেগমেন্টের প্রথম পর্ব, কিছুটা লেখার পরই বুঝলাম সিনেমা দেখা আর সিনেমা বোঝার মধ্যে কী দুঃসহ পার্থক্য ! তো,তখনকার মতো লেখা শেষ ।
এরপর বিকেলে একটা পুরোনো সেগমেন্টের পরিকল্পনা করতে করতে চা নিয়ে বসলাম ,মাসখানেক আগে দেখা নব্বই দশকের ওএভিগুলোর কথা মনে পড়ছে,নব্বই দশক যেহেতু বেশ ভালোই লাগে ( নষ্টালজিক টাইপের আরকি) ,তখনই ভিডিও গান আই এর কথা মনে পড়ল ।(খুব তারাতারিই নব্বই দশকের ওএভি নিয়ে একটা সেগমেন্ট নামাবো )।এই ভিডিও গার্ল আই নিয়েই আজকে আমার আলোচনা ।

Video Girl Ai 2
প্রথমে ,আপনি গান কেন শোনেন ? কিছু সুন্দর শব্দ এবং কিছু ভাষার অর্থ আপনার কর্ণকুহর হয়ে মস্তিকে প্রবেশ করে আপনাকে আবেশ করে রাখে(আর আমার মতে আবেশ করে রাখাই যেকোনো আর্টের মূল বৈশিষ্ট্য ),সেখানে গানের লেখক এবং গায়ক- গায়িকার উভয় সমান অবদান থাকে ।কিন্তু ইংরেজি ছাড়া বিদেশি গানের ক্ষেত্রে জিনিসটা আলাদা হয় ।যারা নিয়মিত জে পপ,কে পপ বা স্প্যানিশ পপ গান নিয়মিত শোনেন তারা বিষয়টি আরো ভালো বুঝবে ।প্রথমে গানের সুরে আবেশ থাকা ,তারপর লিরিকের অর্থ উদ্ধার করে আর একবার গানের গভীরে প্রবেশ করা ।গান আপনাকে নষ্টালজিক করে দিতে পারে ,বিশেষ করে পুরোন দিনে যে গানটা আপনার শুনে প্রচণ্ড পছন্দ হয়েছিলো ,বহুবছর পরে আবার শুনলেন ,নতুন করে আবিষ্কার করলেন ।যেমন কদিন আগে একটা সূত্রে পেয়ে গেলাম 2002 এর “লেস কেচাপের” বিখ্যাত স্প্যানিশ পপ দ্যা কেচাপ সং।শূন্য দশকের প্রথম দিকে বিখ্যাত হওয়া এই গানটা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম ।আবিষ্কার করলাম নতুন ভাবে ।
কিন্তু কিছু গান হয়ত কোন দিনও শোনেননি , কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ড এনিমেশনের আর সুরের জন্য নব্বই দশকের প্রতি নষ্টালজিক করে তুললো ।সেই গ্রানজ পোষাক,এমটিভি,মম জিনস,জ্যিন সুট আর নীল -কমলার এক আশ্চর্য দুনিয়া।ভিডিও গার্ল আই তে এইরকমই কিছু গানের সন্ধান পেয়ে এই সিরিজটার প্রতি আমার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিলো ।

Video Girl Ai 3

গল্পের আরম্ভ…..

আমাদের গল্পের “বেচারা” নায়ক ইয়োটা প্রচণ্ড ভালোবাসে তারই স্কুলমেট মোয়েমি কে , কিন্তু মোয়েমির নজর অন্যদিকে ,তাকাশি,স্কুলের “টল , ডার্ক,হ্যান্ডস্যাম পপুলার গাই” ।কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার ,তারা তিনজনেই প্রচণ্ড ভালো বন্ধু, তাকাশি ইয়োটাকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতো দেখে ।অন্যদিকে তাদের অজান্তেই তিনজনের মধ্যে ত্রিভুজ প্রেমের সম্পক তৈরি হচ্ছে ।
ওভিএর প্রথমে দেখব ইয়োটা যেনে যায় মোয়েমির আগ্রহ তাকাশির প্রতি,তার প্রিয় বন্ধু ।সেইদিনই ইয়োটা সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে একটা রহস্যময় ভিডিও শপ দেখে,যেটা আগে কখনও সেখানে ছিলো ছিল না ।সেই ভিডিও শপের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে “ভিডিও গার্ল” ভিডিও টেপ ।যে কোন একটা ভিডিও টেপ থেকে একটা মেয়ে বেরিয়ে আসবে,যখন সেই ভিডিও টেপটা চালানো হবে ।”এ আবার হয় নাকি” এই ধরনের মনোভাব নিয়ে ইয়োটা ভাড়া নিয়েই ফেলল একটা ভিডিও ।সেদিন রাতেই তার ভিডিও রেকর্ডারে চালালো ভিডিওটা ,এবং যথারীতি ঘর কাঁপিয়ে বেরিয়ে এল “আই আমানো “।যে ইয়োটার দূঃখের সময়ে সঙ্গী হবে,তাকে চিয়ার করবে এবং “অন্যান্য”।
কিন্তু ইয়োটার ভিডিও রেকর্ডার ভাঙা থাকার কারনে আই এর মধ্যে চলে এলো “অনুভূতি “।ফলে সে আর চিয়ার ডল না থেকে পরিনত হলো ইয়োটার অন্যতম বন্ধু, পরামর্শদাতা এবং পরবর্তীতে প্রেয়সী ।

Video Girl Ai 4
জাতে কমেডি এবং ইচি হলেও এখানে আইএর মাধ্যমে ইয়োটার মধ্যে নারী সম্পকে অনেক ধারনার পরিবর্তন আসে ।বিশেষ করে মেয়ে মাত্রই কিছু বিশেষ অঙ্গসর্বস্ব পুতুল বা বস্তু নয়,এই ধরনের বার্তাই মাঙ্গাকার এবং ওভিএ পরিচালক দিতে চেয়েছেন ।
তবুও এই ওভিএর শেষ এপিসোড অতটা ভালো লাগেনি আমার।
কিন্তু কনসেপ্টটা ভালো লেগেছে। আই একজন এনার্জি বিইং ,আমাদের পদার্থগত অস্তিতের বিপরীতে ।
ওভিএতে টার্মেনটর টু সিনেমার একটা একটা ইস্টার এগ আছে,আগ্রহী দর্শকরা খুঁজে বার করতে পারেন ।সিনেমাটাও মুক্তি পেয়েছিলো 1991 এ ।

Video Girl Ai 5

এবং গানের কথা ও নব্বই এর স্বপ্ন…..

1992 সালে প্রচারিত এই ছয় পার্ট ওভিএর মধ্যে এর অন্যতম প্রধান সম্পদ হলো দুটো ওপেনিং এন্ডিং সং আর আটটা অন্যান্য গান ।ওপেনিং সং “উরেশি নামেদা” শুরু হয়েছে গ্রীষ্মের এক ছটফটে রঙীন দিন রাত্রের মধ্যে ,নব্বই এর চিহ্ন এখানে সব জায়গায়, তার মধ্যে আই নিজের পৃথিবীকে উপভোগ করছে ।এন্ডিং সং “আনো হি নি” বা “টু দ্যাট ডে” একটা বিগত দিনের নষ্টালজিয়ার স্বাদ নিয়ে আসে ।একদিকে একটা জানালার ছায়ার সামনে চার বন্ধু (আই সমেত)র “জীবন্ত”ফ্রেমে বাধানো ছবি আর তার চারপাশে কখনও গ্রীষ্ম বা বসন্তের লাল -হলুদ পাতাঝড়ার ছবি বা কখনও রাতের নীল বা গাঢ় নীল আবরন ।একেবারে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট।একেবারে শেষ এপিসোডে এন্ডিং ভিডিওটা পাল্টাবে আর দর্শকদের মনে একটা প্রশ্ন রেখে যাবে ।
অথবা ম্যাসেজ গানটা, ইয়োটার আর মোয়েমির বিমর্ষ নীল রাত্রের সঙ্গী হতে পারি আমরাও ,যেখানে আই শেষে ইয়োটাকে ভরসা দেবে ।ব্যাকগ্রাউন্ড অসাধারণ, একটা ক্যান পর্দার মধ্যে থেকে বেরিয়ে হাওয়ার তোরে দূরে চলে যাচ্ছে বা ছোট হিরের মত উজ্জ্বল শহর চীরে চলে যাচ্ছে ট্রেন এবং সেই সঙ্গে মোয়েমির হলুদ ঘরের বিমর্ষতা খুবই ক্যাচি ।প্রধানত সুন্দর গানের সঙ্গে সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ডের আধিক্য দেওয়ার জন্যই আমার এখানে ডিরেক্টর মিজুহো নিশিকুবোকে মাপ করা যায়,শেষ এপিসোড দুটো যতই খারাপ হোক না কেন ।হয়ত অন্যদের খারাপ নাও লাগতে পারে বা আমারই মত পরে বদলে যেতে পারে ।
মাঙ্গা পড়েও ভালো লাগবে ,বিশেষত এর ড্রয়িং গুলোর জন্য।

Video Girl Ai 6

Studio Monogatari: Episode 03

Kyoto Animation (KyoAni)

1. Kyoto Animation Logo

এই সময়ের সেরা কয়েকটি আনিমে স্টুডিওর নাম বলতে গেলে একদম উপরের সাড়িতে যেসব নাম চলে আসবে তার মধ্যে কিয়োঅ্যানি অন্যতম। মুশি-প্রো ছেড়ে আসবার পর ১৯৮১ সালে Hideaki Hatta ও তার স্ত্রী Yoko Hatta মিলে এই স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন। তখন এর নাম ছিল Kyoto Anime Studio. লোগোর ভিত্তি হিসাবে kyō-এর কাঞ্জি (京) ব্যবহার করা হয়। শুরুর দিকে তারা বিভিন্ন আনিমে মুভি ও অন্যান্য আনিমে সিরিজের জন্যে cell painting ও বিভিন্ন কমিশন কাজ করতো। এরকম চলতে থাকার পর ১৯৮৫ সালে তারা একটি লিমিটেড কম্পানি হিসাবে এবং ১৯৯৯ সালে কর্পোরেশন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে, আর তাদের অফিশিয়াল নাম হয় Kyoto Animation. এই সময়ে কিছু বড় প্রোজেক্টের সাথে তারা কাজ করে, যেমন Cowboy Bebop, গান্দাম সিরিজ, এমনকি কিছু জীবলি মুভিতেও তারা সাহায্য করেছে।

১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এই ৩০+ বছর সময়ে তাদের কাজ মাত্র ২২টি টিভি সিরিজ ও ৯টি ফিল্ম। এর কারণ তাদের প্রথম নিজস্ব কাজ আসে ২০০৩ সালে, যখন স্টুডিও গনজোর Full Metal Panic! এর সিকোয়েল সিরিজ Full Metal Panic! Fumoffu তৈরির দায়িত্ব পায় তারা। অবশ্য রিলিজ পাওয়া হিসাবে তাদের সর্বপ্রথম নিজস্ব কাজ OVA সিরিজ Munto. Munto তৈরি করেছিল তারা স্টুডিও হিসাবে নিজেদের ক্ষমতা দেখাবার জন্যে, আর Full Metal Panic! Fumoffu এর সাফল্যের কারণে সিরিজটির পরবর্তী এন্ট্রিগুলিও তৈরির দায়িত্বও তাদেরকে দেওয়া হয়।

কিয়োঅ্যানির অধীনে ২০০০ সালে Animation Do নামের একটি সাবসিডিয়ারি অ্যানিমেশন স্টুডিও তৈরি হয়, এই স্টুডিও কিয়োঅ্যানিরই একটি অংশ হিসাবে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে থাকে।

আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে কিয়োঅ্যানির রয়েছে অভূতপূর্ব সাফল্য। এই সাফল্য প্রমাণ করার জন্যে একটি মজার তথ্য দেওয়া যাক-

২০০৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে কিয়োঅ্যানির চেয়ে বেশি সফল হতে পারে নি অন্য কোন স্টুডিও। এই সময়ের মধ্যে ২০টি সিরিজ রিলিজ দেয় কিয়োঅ্যানি, যার ১৮টিরই DVD-Bluray বিক্রয়ের সংখ্যা ৩০০০ ছাড়িয়ে যায়। শতকরা হিসাবে ৯০% সাফল্যের হার, যা ২য় স্থানে থাকা ৬৯% সাফল্য নিয়ে Shaft-এর সাথে পার্থক্যটা চোখে পরার মত!

2. 2005-2014 success

আনিমে স্টুডিও হলেও জাপানের তথাকথিত আনিমে স্টুডিও হতে কিয়োঅ্যানি অনেক আলাদা। এই আলাদাভাবে কাজকর্ম এগিয়ে নিয়ে যাবার কারণে তাদের সাফল্যের ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়-

  • আভ্যন্তরীণ কাজ: সবচাইতে বড় কারণ হল, কিয়োঅ্যানি তাদের সব কাজ আভ্যন্তরীণভাবে করে থাকে। ডিরেক্টিং, অ্যানিমেশন, রাইটিং – সবকিছু কিয়োঅ্যানি নিজেদের স্টুডিওর ভেতরেই করে থাকে। অন্যান্য আনিমে স্টুডিওগুলির ক্ষেত্রে যেখানে ডিরেক্টর কিংবা অ্যানিমেটর-এর জন্যে ফ্রিল্যান্স কিংবা অন্য কোন স্টুডিওর কাছে যেতে হয়, সেখানে কিয়োঅ্যানি সবকিছু নিজেরা নিজেরাই করে থাকে। আর এর সুফলও পায় কিয়োঅ্যানি – যেহেতু নিজেদের মধ্যেই সব কাজ হয়ে থাকে, তাই আনিমে প্রস্তুতকর্তাদের মধ্যে একটা ভাল যোগাযোগ থাকে। একজন আরেকজনকে ভালমত বুঝতে পারে, ঠিকমত জেনে যায় কে কেমন কাজ চাচ্ছে, কেমন ফলাফল আশা করছে।
  • অ্যানিমেশন স্কুল: অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে নিজেরা নিজেরা করবে – এই ব্যাপারটা নিয়ে কিয়োঅ্যানির এতই কড়াকড়ি যে তারা নিজেরাই একটি স্কুল খুলেছে যেখানে অ্যানিমেটরদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিয়োঅ্যানির Kyoukai no Kanata-এর প্রায় সবটুকু অ্যানিমেশনই কিয়োঅ্যানির সেই স্কুলের গ্র্যাজুয়েটদের করা।
  • পারিশ্রমিক: একটি বড় কারণ কিয়োঅ্যানির পেমেন্ট সিস্টেম। কিয়োঅ্যানি তাদের স্টাফদেরকে বেতন হিসাবে পারিশ্রমিক দেয়, যেখানে অন্যান্য স্টুডিওর ক্ষেত্রে  স্টাফদেরকে কমিশন হিসাবে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। এই কাজটা কিয়োঅ্যানির নিজেদের সাফল্যেরও একটা অন্যতম বড় কারণ, যেহেতু মাসিক বেতনের কারণে স্টাফরা নিজেদের কাজ ঠান্ডা মাথায় চিন্তাহীনভাবে করতে পারে। কোন এক আনিমে তৈরির জন্যে কাজে তাড়াহুড়া করা লাগে না, নিজেদের সময় নিয়ে সুন্দরমত কাজ শেষ করতে পারে।
  • অ্যানিমেশন প্রস্তুতি: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিয়োঅ্যানি তাদের কোন আনিমের অ্যানিমেশনের সব কাজ সিরিজটি টিভিতে প্রচার শুরুর বেশ আগেই প্রস্তুত করে ফেলে। এর ফলে তারা সময় নিয়ে অনেকরকমের ডিটেইলস নিয়ে কাজে লেগে যেতে পারে – যে কারণে কিয়োঅ্যানির সব সিরিজই দেখতে খুবই সুন্দর হয়ে থাকে।
  • LN প্রকাশণাস্বতন্ত্র স্টুডিও হিসাবে তাদের সাফল্যের আরেকটি বড় কারণ বিভিন্ন লাইট নোভেল প্রকাশনা। নিজেদের প্রতিষ্ঠান হতে প্রতিবছর একটি লাইট নোভেল কম্পিটিশনের আয়োজন করে তারা, এবং এখান থেকে উঠে আসা ভাল লাইট নোভেলের উপর ভিত্তি করে আনিমে বের করে তারা। এই ব্যাপারটি অন্য সব আনিমে স্টুডিও থেকে তাদেরকে অনেক উপরে নিয়ে রেখেছে একটি ব্যাপারে – কাজের নিশ্চয়তা। অন্যান্য আনিমে স্টুডিওগুলিকে কোন এডাপশনের জন্যে একধরণের নিলামে জিতে নিতে হয়, প্রতিপক্ষ স্টুডিওগুলিকে হারিয়ে দখল করতে হয় কোন LN, VN বা মাঙ্গা এডাপশনের অধিকার। এরকম কাজ না পেতে থাকলে এক সময়ে স্টুডিওটি বিলুপ্তির পথেও পরতে হতে পারে [খুব সাম্প্রতিক এমন ঘটনা দেখা হয়েছে Studio Manglobe-এর ক্ষেত্রে, বেশি কাজ না পেতে পেতে দেউলিয়া হয়ে যায় তারা]। কিয়োঅ্যানির এখানে সবচেয়ে বড় বাজিমাত – নিজেদের প্রকাশণা থেকে LN বের হয় বলে তাদের হাতে সবসময়েই কোন না কোন এডাপশনের সত্য থাকে, কাজ ফুরিয়ে যাবার চিন্তা থাকছে না আর [অবশ্য নিজেদের LN বাদেও বাইরের কোন LN থেকেও তারা এডাপশন নিয়ে আসে মাঝেমধ্যে, যেমন Amagi Brilliant Park, Hibike! Euphonium]। আবার এই সুযোগে নিজেদের LN-এরও বিজ্ঞাপন হয়ে যায় – সবদিক থেকেই Win-Win অবস্থা কিয়োঅ্যানির।
  • Visual Storytelling: কিয়োঅ্যানির একটি স্ট্রং পয়েন্ট হল ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং। একজন ন্যারেটর বা কোন ক্যারেক্টার কথার মাধ্যমে কোন ঘটনা কিংবা কারও চরিত্রের কোন দিক বুঝিয়ে দেওয়ার থেকে বরং দর্শকদেরকে চাক্ষুষরূপে একটা ঘটণা বা চরিত্রের দিক তুলে ধরা হল ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং। কোন ক্যারেক্টারের নরণ-চরণ, আচার-আচরণ, ইন্ট্যার‍্যাকশন, সিনেমাটোগ্রাফি ইত্যাদির মাধ্যমে কোন একটা ব্যাপার দর্শকদের অবচেতন মনে ঢুকিয়ে দেবার এই কাজটা কিয়োঅ্যানি অনেক ভালভাবে করতে পারে। যার জন্যে Moe চরিত্র দিয়ে আনিমে ভরিয়ে রাখলেও এবং কোন বিশেষ ঘটনা না থাকলেও একটা গল্প অনেক মন ছোঁয়ার পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে কিয়োঅ্যানি।

এক্ষেত্রে একটা প্রশ্ন আসে, কিয়োঅ্যানি এরকম সব পদক্ষেপ নিয়ে এত সফল হলে অন্যান্য স্টুডিও কেন এরকম করছে না?

  • ভাগ্য। কিয়োঅ্যানির সৌভাগ্য যে তাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলি ঠিকমত সফল হতে পেরেছে।
  • কিয়োঅ্যানিও একসময়ে অন্যান্য স্টুডিওর মত কাজ করতো, প্রায় ১০ বছর ধরে তারা Kadokawa-এর সাথে পার্টনারশিপে ছিল। এ সময়ে তারা বেশ কয়েকটি VN এর key adaption করে, নিয়ে আসে অন্যান্য প্রোজেক্টের এডাপশন যেমন Haruhi Suzumiya, Lucky☆Star ।
  • ২০০৯ সালে তারা এক বিশাল জুয়াখেলা খেলে। নিজেদের নামে একটি কম্পিটিশনের আয়োজন করে যাতে বিজয়ী LN-এর আনিমে আডপশন করবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এই প্রোজেক্ট সাফল্যের মুখ দেখতে পাওয়ায় পরবর্তীতে এই কন্টেস্টের এন্ট্রিগুলির মধ্য থেকে Chuunibyo, Tamako Market, Free! এর এডাপশন নিয়ে আনে কিয়োঅ্যানি।

কিয়োঅ্যানির কিছু জনপ্রিয় আনিমে-

3. KyoAni Collage

কিয়োঅ্যানির এই সাফল্যের পথটার একটা ছোট্ট বিবরণ দেওয়া যাক-

  • ২০০৫ সালকিয়োঅ্যানির জন্যে বছরটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এই বছরই তারা নিয়ে আসে তাদের প্রথম VN adaption: Air. এয়ার আনিমেটি ছিল সেই সময়ের নতুন বাড়ন্ত Moe ট্রেন্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং একই সাথে VN adaptation-এর জনপ্রিয় হয়ে উঠার সময়ের অন্যতম এন্ট্রি। এয়ার আনিমেটি কিয়োঅ্যানিকে আনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে শক্ত স্থানে নিয়ে আসতে সাহায্য করে।
  • ২০০৬ সালআরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বছর কিয়োঅ্যানির জন্যে, এ বছর তারা নিয়ে আসে তাদের ২য় VN adaption: Kanon. তবে ২০০৬ সালে কিয়োঅ্যানি স্পটলাইট কেড়ে নেয় যেই সিরিজটি দিয়ে তা হল The Melancholy of Haruhi Suzumiya. এমনিতেই হারুহি সুজুমিয়ার ফ্যানবেজ বেশ বড় ছিল তখন, তার উপর অল্প কয়েকটি আনিমে নিয়ে আসা কিয়োঅ্যানির জন্যে ব্যাপারটি ছিল অনেক বড় চাপের। বলাই বাহুল্য, চাপকে উড়িয়ে দিয়ে সাফল্যের মুখ দেখতে পায় তারা।
  • ২০০৭ সাল৩য় VN adaption নিয়ে আসে কিয়োঅ্যানি: Clannad, একই সাথে আরেকটি জনপ্রিয় Moe Comedy সিরিজLuckyStar নিয়ে হাজির হয় তারা। দুটি সিরিজই কিয়োঅ্যানির জন্যে ব্যবসাসফল ছিল।
  • ২০০৯ সালহারুহি সুজুমিয়া ফিরে আসে এই বছর, এবং নতুন সিরিজটির কুখ্যাত/বিখ্যাত Endless Eight-এর জন্যে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় কিয়োঅ্যানির উপর দিয়ে। কন্ট্রোভার্শিয়াল হয়ে থাকলেও সিরিজটির ব্লুরে বিক্রয় বেশ ভাল হয়। একই সাথে এই বছর থেকেই তারা LN এর পাবলিশার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে বছরটি কিয়োঅ্যানির জন্যে বিশেষ কিছু ছিল কারণ এই বছরেই তারা নিয়ে আসে K-On! যার ব্লুরে বিক্রয় সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়!
  • ২০১১ সালNichijou এই বছরে আসে, এবং এর ব্লুরে বিক্রয় ৩০০০ ছাড়ালেও তা কিয়োঅ্যানির জন্যে খুব বেশি ছিল না। তবে তারপরেও সংখ্যাটা অন্যান্য স্টুডিওর হিসাবে বেশ বড় একটা সংখ্যা।
  • ২০১২: পরবর্তী বছরগুলিতেও একই ট্রেন্ড দেখা যায়। Hyouka, Chuunibyo বেশ ভাল বিক্রয় হলেও কিয়োঅ্যানির জন্যে সেটা খুব বেশি ছিল না।
  • ২০১৩ সালTamako Market বেশ বড় ধরণের হতাশার কারণ হয় কিয়োঅ্যানির জন্যে। তবে এই বছরই এমন এক সিরিজ নিয়ে আসে কিয়োঅ্যানি যা তাদের অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজে পরিণত হয়: Free!. সিরিজটি রিলিজ পাবার আগে থেকেই হিট হয়ে যায় একদম, আর এর ২য় অ্যাড মুক্তি পাবার পর তা একদম ভাইরাল হয়ে যায় নেটজুড়ে।
  • ২০১৪ সাল: বছরটা তেমন ভাল ছিল না কিয়োঅ্যানির জন্যে। Kyoukai no Kanata তেমন ভাল ব্যবসা করতে পারে না, আর Amagi Brilliant Park তার চাইতে অল্প কিছু ভাল ব্যবসা করতে পারে।
  • ২০১৫ সালHibike! Euphonium অনেকটা K-On ধাঁচের বানানোর চেষ্টা করা হয়, সিরিজটা বেশ জনপ্রিয় হয়।
  • ২০১৬ সালএ বছরে এই মুহুর্তে এয়ার হচ্ছে Musaigen no Phantom World, সিরিজটি নিয়ে এই মুহুর্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

কিয়োঅ্যানির কাজকর্মের ধরণ নিয়ে কয়েকটি মজার তথ্য-

  • Snarky Male Leads: কিয়োঅ্যানির আনিমেগুলিতে খামখেয়ালী, মুডি ধরণের নায়ক চরিত্র রাখবার একটা প্রবণতা দেখা যায়: Air-এর Yukito, Haruhi Suzumiya-এর Kyon, Kanon-এর Yuuichi, Clannad-এর Tomoya, Hyouka-এর Houtarou এবং কিছুক্ষেত্রে Free! এর Haruko ও Kyoukai no Kanata-এর Akihito.
  • Carbon-Copy: কিয়োঅ্যানির বিপক্ষে একধরণের নালিশ আছে যে তারা একই রকম দেখতে সব চরিত্র তৈরি করে থাকে। চুলের স্টাইল বাদ দিলে মুখের গড়ণ, চোখের স্টাইল, সবকিছু হুবহু একইরকমের হয়ে থাকে কিয়োঅ্যানির আনিমেগুলিতে।

4. Carbon Copy

শুধু তাই নয়, বরং তাদের আনিমের চরিত্রগুলির ডিজাইন দেখতে গেলে একটা মজার ব্যাপার দেখা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের সময়টাতে তাদের সবগুলি সিরিজের চরিত্র দেখতে প্রায় একইরকম ছিল:

5. Evolution

  • Cute Girls Doing Cute Things: Moe চরিত্র, কোন প্লট বা গল্প নাই, খালি cute girls doing cute things – এরকম কারণ দেখিয়ে অনেক দর্শকই কিয়োঅ্যানির আনিমে দেখতে চায় না, তবে এই ট্রেন্ডটা এখন অনেক জনপ্রিয়। আর একে জনপ্রিয় করার পিছনে কিয়োঅ্যানিই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। Lucky☆Star, K-On!, Nichijou ইত্যাদি এই ধরণের আনিমে শুধু বড় সাফল্যই পায় নি কিন্তু, বরং পরবর্তীতে একই ঘরানার অনেক আনিমের জন্যে পথ দেখিয়ে গিয়েছে। Non Non Biyori, Gochuumon ধরণের সিরিজগুলি এই জাতীয় আনিমের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। অবশ্য এরকম আনিমে তৈরি করে কিয়োঅ্যানি যে পরিমাণ সাফল্য পেয়েছে অন্যান্য স্টুডিও তার খুবই সামান্য অংশ অর্জন করতে পেরেছে মাত্র!
  • 1st Doesn’t Win: কিয়োঅ্যানি ঘটা করে তাদের LN কন্টেস্ট আয়োজন করে থাকলেও সেখান থেকে আনিমে এডাপশন করার ক্ষেত্রে বিজয়ী এন্ট্রিকে তারা গ্রহণ করে নাই!! Chuunibyo, Kyoukai no Kanata, Free!, Musaigen no Phantom World – সব ক্ষেত্রেই যেগুলি আনিমে এডাপশন পেয়েছে তা হল কন্টেস্টের Special Mentionগুলি।

 

কিয়োঅ্যানির কাজ নিয়ে সমালোচনা যতই হোক, একটা জিনিস অবশ্যই মানতে হবে – তাদের তৈরি আনিমেগুলি বেশ ভালই সফল। তারা জানে কিভাবে জনপ্রিয় আনিমে তৈরি করতে হয়, এবং সেটাই তারা করে আসছে।

School Days [রিভিউ] — Zakaria Mehrab

ড়িভিউ! ড়িভিউ!! ড়িভিউ!!! 😀 😀 😀

আজ একটু আগে পড়ন্ত বিকেলে একটি সুন্দর এনিমে শেষ করিয়া আমি যারপরনাই ইম্প্রেসড । ইম্প্রেশনের ঠেলায় আমার হাত একটু পরপর ই কেঁপে কেঁপে উঠছে । কাজেই কিছু বানান ভুল টুল হলে একটু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি তে দেখবেন ।

Anime: ইশকুলের দিনগুলি / School days (কি কিউট নাম , আসলেও কিউট একটা এনিমে)

Genre: ইয়ে আসলে এমন কোন জানরা নাই যেটা এই এনিমে কভার দেয় নাই । পুরাই মাস্টারপিস একখান ।

School Days 2
প্লটঃ
জাপানের ছোট একটি স্কুল । সেইখানে ছোট ছোট বাচ্চারা পড়ে । তাদের মধ্যে কিউট একটি বাচ্চা হল মাকোতো শিশিও থুক্কু মাকোতো ইতো । সে পছন্দ করে আরেক কিউট বাচ্চা কাটাছিড়া থুক্কু কাতসুরা রে (ইয়ে আসলে একটু ভূমিকম্প হইতেসে মেবি , তাই হাত টা বেশি ই কাঁপতেসে) । কিন্তু ইতো এরশাদের থেকেও লাজুক কিনা , সরাসরি কিছু বলতে পারে না । তাই এ বিষয়ে তার আরেক কিউট বান্ধবীর সাহায্য নেয় (হুম সে ও আরেক কিউট বাচ্চা) । এভাবেই একটি কিউট প্লটের ভিতর দিয়ে গল্পের কাহিনী আগাতে থাকে । আসলে আমার লেখায় তো আর বুঝা যাবে না এইটা কি একটা মাস্টারপিস । বরং কাছাকাছি ধারনা পাওয়ার জন্য আসিফুল হক ভাই এর একটি উক্তির কথা স্মরণ করতে পারি —

“স্টোরিটা হয়ত একেবারে ইউনিক কিছু না; কিন্তু যেভাবে পুরো গল্পটা সাজানো হয়েছে; উপস্থাপনা, দৃষ্টিকোণ এবং সম্পাদনা – তা আসলেই চমৎকারিত্বের দাবি রাখে। একটা টিপিকাল কিউট প্লটের মাঝেও অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বে পূর্ণ চরিত্রগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, লড়াই এবং একত্রে একে অপরের পাশে থাকার যে প্রবণতা এবং নাকামার জন্য যে আত্মত্যাগ – তা এই সিরিজকে দিয়েছে অন্য এক মহিমা।”

চরিত্রঃ
কি আর বলব চরিত্রের কথা !! একটি কিউট ছেলে আর অনেক গুলা কিউট মেয়ে । প্রত্যেকের অবদান ই সমান গুরুত্বপূর্ণ । আর মেইন ক্যারেক্টার এর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট তো অসাধারণ । শুরুতে মেইন ক্যারেক্টার একটু ঘুমিয়ে থাকে, কিন্তু গল্পের মাঝামাঝি সময়ে সে জেগে উঠে । আর সে কি জাগরণ !! সেই জাগরণের পর সে নিজে তো আর ঘুমায় ই না , অন্য কাউকেও আর ঘুমাতে দেয় না । আমার প্রায় ই মনে হচ্ছিল “এমুন জাগরণ ই কি আমরা চেয়েছিলুম ?” অন্যান্য ক্যারেক্টার গুলার ও ডেভেলপমেন্ট উল্লেখযোগ্য । বলা যায় সকল চরিত্রের পারস্পরিক সহযোগিতায় ( কিংবা আবারও আসিফুল হক ভাইয়ের ভাষায় “মিথস্ক্রিয়ায়”) ক্যারেক্টার গুলা ডেভেলপমেন্টের এক চরম শিখরে আরোহণ করেছে ।

School Days 1

ওএসটি/গানঃ ইয়ে আসলে হয়েছে কি , প্লট দেখে এত ই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম , যে এ দিকে আর কোন খেয়াল ই ছিল না । (প্লিজ মাইরেন না আমারে ) । তবে এত মাস্টারপিস এনিমের গান গুলাও তো মাস্টারপিস ই হবে, কি বলেন ?

এন্ডিংঃ সবচেয়ে পারফেক্ট এন্ডিং কোন এনিমের বলেন তো ? ফুলমেটাল ? আরে নাহ । কোডগিয়াস ? হাসাইলেন । স্টেইন্স গেট ? ধুর মিয়া, মজা লন ক্যা ? অবশ্য ই ইস্কুল ডেজ । কিউট একটু একশন এর এন্ডিং কে এমন এক পূর্ণতা এনে দিয়েছে যে এটি দেখার পর আপনার দেহ মন সবকিছু পরিপূর্ণ হয়ে যাবে এবং আপনি আক্ষরিক অর্থেই একজন নতুন মানুষে রূপান্তরিত হবেন ।

একটাই কথা । মাস্ট ওয়াচ !! এই জিনিস যারা দেখবে , তারাই অনুভব করতে পারবে , জীবন কত কিউট !!

ম্যাল রেটিং জানার দরকার নাই । আমার রেটিং ? এত মাস্টারপিস এনিমেকে রেটিং দিব ? আমার ঘাড়ে আর কটা মাথা ?

পরিশেষে দুটি কথা বলতে চাই

১)এনিমে টি এত ই কিউট যে এটা বাচ্চাদের দেখানো উচিত না । কারণ কিউটনেস ওভারলোড হয়ে বাচ্চা হাঁ করে ফেলতে পারে এবং তখন তার মুখে মশা মাছি ইত্যাদি ঢুকে নানারকম রোগ সঞ্চার করতে পারে

২) এনিমে টি দেখার সময় আপনি পুরাপুরি perplexed হয়ে যাবেন এবং আপনার স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে । এজন্য এনিমে টি দেখার সময় অন্যান্য কাজ যেমনঃ খাওয়া দাওয়া ইত্যাদি না করা ই ভালো (গলা দিয়ে খাবার না নামতে পারে , কারণ আপনার গলা তো perplexed)

School Days 3

Behind the Voices – 15

নামিকাওয়া দাইসকে

নামিকাওয়া দাইসকে তার কূল ভয়েস এবং সেই ধরনের পার্সোনালিটির চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্যই বিশেষ ভাবে পরিচিত । এমনে আমার দেখা সেরা সেইয়ূদের মধ্যে তিনি একজন এছাড়া আমার প্রিয় সেইয়ূদের তালিকায় তার নাম আছে । এছাড়া তার কণ্ঠ দেওয়া চরিত্রের সংখ্যাও ১০০ এর উপরে ।

যাই হোক, তার এত্তগুলো রোলের মাঝে বেশ কয়েকটা রোল সবারই শোনা এবং এদের মাঝে প্রিয় অনেকের চরিত্রও আছে । কেননা ব্লিচ, হান্টার হান্টার এবং ফেইরি টেইল এই ৩ টি সিরিজের অন্যতম কূলেস্ট চরিত্র উলকিয়োরা, জেলাল とমিস্টোগান, হিসোকা এই ৩ জনেরই কণ্ঠ দিয়েছেন এই এক ব্যক্তি । সুধু তাই নয় আরও অনেক পরিচিত আনিমেরই সেরা চরিত্রগুলোর কণ্ঠ তার দেওয়া ।

আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল কাতেকিয়ো হিটমান রিবর্নের ভঙ্গোলা প্রিমো ( জিওট্টো ), ব্ল্যাক লেগুনের রক, পার্সোনা ৪-এর নারুকামি ইয়ূ , ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্ট ব্রাদারহুডের ভন হোয়েনহাইম, কে-প্রোজেক্টের শিরো, এস অফ ডায়ামন্ডের ক্রিস সেনপাই, হাইকিয়ুর ওইকায়া তোরু, মেদাকা বক্সের আকুনে কৌকি, আর্স্লান সেঙ্কির নার্সাস এবং শিনসেকাই ইয়োরির ইয়াকোমারু । আর এ যে সবসময়ই ব্যডঅ্যাস পার্সোনালিটির চরিত্রের কণ্ঠ দেয় তা কিন্তু নয় কেননা হেতালিয়া ইতালি এবং ফেট জিরোর ভেলভেট ওয়েভার এর কণ্ঠ এর দেওয়া, যদিও দুটা চরিত্রকেই খুব ভালো লেগেছে ।

Namikawa Daisuke 1

সে একজন কণ্ঠ-অভিনেতার পাশাপাশি গায়কও । সে একটা ব্যন্ডে আছে যার নাম Jin-Ger PARADISE । এছাড়া তিনি ৪ টা মিনি-অ্যালবামও রিলিজ করেছেন । এছাড়া কয়েকটা আনিমেতে তিনি ওপেনিং/এন্ডিং/ইন্সার্ট সংও গেয়েছেন । তার গাওয়া গানগুলোর মাঝে হেতালিয়ায় ইতালির এন্ডিংটা (https://goo.gl/VIq43S ) আমার বেশ মজা লাগে শুনতে ।

তার আসল জন্মদিন মার্চ ২৯, ১৯৭৬ কিন্তু রেজিস্ট্রিতে দেওয়া এপ্রিল ২, ১৯৭৬ ( তাও ভালো আমাদের মত ২ বছর কমায় না :3 ) । ১৯৯৩ থেকে কণ্ঠ অভিনয় করেন তিনি । তার ভয়েস বরাবরই ভালো লাগে এবং চাই সে সামনে আরও রোল করুক ।

Namikawa Daisuke 2

 

কানেমোতো হিসাকো

কানেমোতো হিসাকো আমার দেখা এক্সেপশনাল সেইয়ূগুলার মধ্যে একজন । তিনি সাধারণত বেশ চঞ্চল-হাইপার অ্যাক্টিভ অথবা একেবারেই চুপচাপ চরিত্রের রোল করে । এ পর্যন্ত তার মুল চরিত্রের রোলে যে কয়টা আনিমে দেখেছি সবগুলো ভালো লেগেছে, তার রোলের জন্য না বরং আনিমেগুলোর কাহিনী একটু আলাদা ধাঁচের হয় যেমন কোকোরো কানেক্ট, গেট, সুইসেই নো গার্গানটিয়া, কোতোউরা-সান, সোরা নো ওতো, জুঙ্কেৎসু নো মারিয়া এগুলো ।

তার কণ্ঠ প্রথম বার শুনেই ধরে ফেলার মত এমন না, কিন্তু আস্তে আস্তে তার বেশ কয়েক রোল দেখলেই পরে আর তাকে ধরতে অসুভিধা হয় না । তার যে রোলগুলো দেখেছি প্রত্যেকটি আমার ভালো লেগেছে । সর্ব প্রথম তার যে রোলটা ভালো লাগে তা হল কোকোরো কানেক্টের ইয়ুই । এবং তার পর ভালো লেগেছিল দুরারারার ওরিহারা কুরুরি, যদিও চরিত্রটাকে কথা বলতে খুব সময়ই দেখেছি । এই রোল দেখার পরপরই নেট ঘেটে দেখি তার বেশ কিছু রোল আগেই দেখেছি এবং চরিত্রগুলোও ভালো লেগেছিল, সেগুলো হল ব্লিচের নোযোমি যে ঠিক ওই ৩১১-৩৪০ পর্যন্ত ফিলার আর্কটির প্রধান একটি চরিত্র হিসেবে থাকে এবং টোকিয়ো রাভেন্সের সৌমা তাকিকো । এরপর তার আরও রোল দেখেছি এবং সবকটিই ভালো লেগেছে । তার কিছু পছন্দের রোলগুলো হল সোরা নো ওতোর কানাতা, গার্লস উন্ড পান্জার এর কাতিয়ুশা, কোরে ওয়া জোম্বি দেস কা-এর ইয়োশিদা ইয়ুকি, স্ট্রাইক দি ব্লাডের মিনামিয়া নাৎস্কি, গেট-এর টুকা, জুঙ্কেৎসু নো মারিয়ার মারিয়া, কোতোউরা-সান এর কোতোউরা, আকুমা নো রিডেল-এর ইচিনোসে হারু এবং সুইসেই নো গার্গানটিয়ার এইমি ।

Kanemoto Hisako 1

কণ্ঠ-অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন গায়িকা । ২০১৪ সালে তার প্রথম অ্যাল্বাম বের করেছিলো, অ্যালবামটির নাম ছিল Fantastic Voyage । সে প্রায় তার কণ্ঠ দেওয়া আনিমেগুলার ওপেনিং/এন্ডিংগুলো নিজে অথবা গ্রুপ পার্ফমেন্সে গায় । যেমন বোকুরা ওয়া মিন্না কাওয়াইসৌ, গেট, কোতোউরা-সান, ওরেশুরা, শিনরিয়াকু ইকা মুসুমে এগুলোর ওপেনিং/এন্ডিং এ তার কণ্ঠ ছিল । এছাড়া আরো বেশ কিছু আনিমেতে ইনসার্ট সং পর্যন্ত গেয়েছেন তিনি ।

তার জন্ম ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৭ । কণ্ঠ-অভিনয় করে আসছেন ২০০৯ থেকে এবং প্রথম প্রথম স্টেজ নেম হিসেবে জুরি আইকাওয়া নামটি ব্যবহার করতেন । সে স্পট লাইটে আসে প্রথম ২০১০ সালে সোরা নো ওতোতে কানাতা রোলটি করে এবং তারপর থেকে আজ পর্যন্ত একের পর এক অসাধারণ রোল পেয়ে যাচ্ছেন এবং তার সেরা পার্ফরমেন্স দিয়ে যাচ্ছে ।

Kanemoto Hisako 2

Cat Soup-এ মৃত্যু-ভাবনাঃ ভালোবাসা এবং অনিবার্যতা — Fahim Bin Selim

মানুষের জ়ীবনের সবচেয়ে বড় ভয়গুলোর মধ্যে একটা সম্ভবত পরিবর্তন; চেনা-পরিচিত জগৎটার পালটে যাওয়া। তা পরিস্থিতির বদলে হতে পারে, স্থান-কালের বদলে হতে পারে, হতে পারে পাত্রের বদলে; কিংবা অনুপস্থিতিতে। এক্ষেত্রে পরিবারের কথাই কি সবার আগে মাথায় আসে না, যেখানে মোটামুটি পরিবারকে ঘিরেই পরিচিত জগৎ-টার শুরু, এবং বড় একটা সময় জুড়ে সেটাই পুরো জগৎ হয়ে থাকে? শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরো বেশি।

নিয়াত্তার যুদ্ধটা এই পরিবর্তনের বিপক্ষে – পরিণতি আর অনিবার্যতার বিপক্ষে। স্রষ্টা-সর্বপরিচালকের বিপক্ষেও কি না? Cat Soup-এর শুরুটা মাসাকি ইউয়াসার[১]  ট্রেডমার্কড পারস্পেকটিভ শট দিয়ে। ক্যামেরা বাথটাবের ভিতর পরে থাকা, তার উপরে জলের আবরণ – স্থির – আপাত পরিস্থিতির মত। কিন্তু এরপরই নিয়াত্তার আগমন, খেলনা নিয়ে পানির ভেতর হাত ডুবিয়ে খেলতে থাকা, অতঃপর তাতে উপুড় হয়ে পরে যাওয়া, জলের আবরণে আন্দোলন এবং হ্যালুশিনেশনের শুরু। পরাবাস্তবতারও।

vlcsnap-2016-02-21-18h04m26s131

একটা মরা পোকার খোলস দেখা যায়, দেখা যায় বাইরের ঘরে শুয়ে থাকা অসুস্থ নিয়াকোকে। এবারের পারস্পেকটিভ শটটা তার চোখ দিয়ে দেখা – উপরের সিলিং, ক্রমশ জট পাকিয়ে যাওয়া, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, ক্রমশ অন্ধকার হয়ে যাওয়া দৃষ্টি। বারান্দায় মৃত্যু দেবতার আগমন। কাছাকাছি দুটি মৃত্যু এবং মহাবৈশ্বিক চিন্তাভাবনায় কোনটাই কোনটার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিয়াত্তার যুদ্ধটা এখান থেকেই শুরু। সে মৃত্যু দেবতার হাত থেকে নিজের বোনের আত্নাকে একরকম টানাটানি করেই ফিরিয়ে আনে। তারপর তার মৃতদেহের ভেতর তা পুরে দেয় – আর জাদুর মত তার বোনও মৃত্যুর কোল থেকে ফিরে আসে! জাদুবাস্তবতা অথবা শিশুমনের অলীক কামনা। কিন্তু এভাবেই তাদের অভিযাত্রার সূত্রপাট।

তাদের প্রথম বিরতি এক রঙ্গমঞ্চে – দ্য বিগ হোয়াইট সার্কাস। আরো ভালোভাবে বলতে গেলে স্রষ্টা -‘র সার্কাসে। সবার সামনে একটা মেয়েকে কেটে টুকরো টুকরো করা হয় এবং তার হাতের ছোঁয়ায় তারপর ভোঁজ়বাজির মত তা আবার জুড়েও দেওয়া হয়! দর্শকদের মধ্য থেকে এবার অনুরোধ নেওয়া পালা, প্রথমে চেয়ার, তারপর মাছ, এবং সবশেষে এক হাতি – এবং আর্শ্চর্যজনকভাবে এবারও জাদুর মত সে শুধু বলে – এবং তা হয়ে যায়! তবে দর্শকদের মনোরঞ্জনের পর্ব শেষ হলে স্রষ্টা-‘রটা শুরু। এক প্রবল স্রোতের বন্যায় সবার ভেসে যাওয়া, “নোয়া’হ ফ্লাড” যেন। চারিদিক যতদুর চোখ যায় কেবল পানি আর পানি, কিন্তু নিয়াত্তা আর নিয়াকোর “আর্ক”-এ প্রাণীকূলের প্রতিনিধি হিসেবে কেবল তারা ভাইবোন দুজন বিড়াল আর তাদের “প্রিয়” পোষ্য শুকর(Cat Soup Original দ্রষ্টব্য)। লৌহ-পাখার এক প্রজাপতি উড়ে যায়। নিয়াত্তা আবারো বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকায় তার বোনের পরিচর্যা করা শুরু করে, তাকে খাইয়ে দেয়, এমনকি পোষ্য শুকরের ক্ষতি করে হলেও – নৈতিকতা আর ভাবাদর্শ চুলোয় যাক(আক্ষরিকভাবেই!), পরিবারই সবার আগে অবশ্যই!

Screenshot_2016-02-21-11-00-12

এই নৌকায়ই নিয়াত্তার দেখা পানিতে ভাসতে থাকা মৃত পশুর জীবনচক্র – তার মৃতদেহের পাখিদের পেটে যাওয়া, শিশুপাখির মল হিসেবে পানি-বাতাস পেরিয়ে আবার ভুপৃষ্ঠে ফিরে আসা, অতঃপর পুষ্টি হিসেবে কাজ করে গাছের ডালে ফুল হিসেবে ফোটা। “Adventure Time” কার্টুন সিরিজের মাসাকি ইউয়াসা পরিচালিত পর্ব Foodchain-এ এই থিম পরবর্তীতে আরো বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়েছে।

Screenshot_2016-02-21-11-02-09

অনেক তো সুখের সময় গেল – এপর্যায়ে স্রষ্টা-‘র পুনরাগমন। এবং তার খাওয়ার দৃশ্য। এবং অনেকটা তার খামখেয়ালীপনার কারণেই চারিদিক পানিতে ভেসে যাওয়া জায়গাগুলোরই এখন ধুঁ ধুঁ মরুভূমি হওয়ার পালা। “নোয়া’স ফ্লাড” হয়েছে আর “জোসেফ’স ফেমাইন” হবে না? প্রথমে পোষ্য-শুকর এবং পরে মরুভুমির নিচ থেকে বের করা জল-হস্তীর মৃত্যুর পর জলের অভাবে ধুঁকতে থাকা দুই ভাইবোনের এবার আশ্রয় হয় এক স্যাডো-ম্যাসোকিস্ট বুড়োর দূর্গে। আর এখানেই মুভির অন্যতম সেরা দৃশ্যের অবতারনা। খাবার টেবিলে বুড়ো নিয়াত্তা আর নিয়াকোর জন্য আয়োজন করে রাজকীয় ভোজ়ন আর তার পূর্বের রন্ধনদৃশ্যও! মৃত্যু নিয়ে Cat Soup-এর গাঢ়-রসিকতার চূড়ান্ত প্রদর্শনী। নিশ্চিতভাবেই নিয়াত্তার জন্য তা বেশ উপভোগ্যও ছিলো। যতক্ষন পর্যন্ত না তারা নিজেই আবার এর অংশ হয়ে যায় – ক্যাটস্যুপ-এর উপকরণ হিসেবে বিড়ালই তো লাগবে সবার আগে! নিয়াত্তা আর নিয়াকো কোনমতে বেঁচে ফিরে। তবে এবার স্রষ্টা-‘র খামখেয়ালীপনার দ্বিতীয় পর্বের শুরু।
Screenshot_2016-02-21-11-10-34

গড-এর হাত থেকে পরে যাওয়া খাবারের টুকরো ঘড়ির কল-কব্জা আটকে দেয়। আটকে যায় সময়ও। নিয়াত্তার নিজের বোনকে ফিরিয়ে আনার যুদ্ধটা যতটাই স্রষ্টা-‘র বিপক্ষে হোক না কেন, এক্ষেত্রে তাঁর ভ্রুক্ষেপ নেই বললেই চলে – পুরোটাই তার উপভোগের বিষয়, এখানে কেউ তাঁর সহযোগী নয়, কেউ তার শত্রু নয়। আটকে থাকা সময়ে নিয়াত্তা ঘুরে বেড়ায় পৃথিবীর বুকে। তার দেখা হয় আপাতত সময়ে আটকে থাকা, শীঘ্রই ট্রেনের নিচে চাপা পরে মরতে যাওয়া এক নারীর সাথে। নিয়াত্তা তার চোখে লেগে থাকা শক্ত হয়ে যাওয়া দুঃখ মুঁচড়ে খুলে নেয় এবং নিচে আছড়ে ফেলে। তা ভেঙ্গে চুরমার হয়। জীবনের সব সৌন্দর্য আর ভালোলাগার দেখা পাওয়ার জন্য কষ্টগুলো পার হওয়া খুবই তুচ্ছ। যাত্রাটা দুর্গম কিন্তু অসম্ভব নয়। লজ্জা, অপমান, ব্যর্থতা – সবকিছুর কষ্ট সহ্য করে হলেও কি বেঁচে থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ না?

Screenshot_2016-02-21-11-12-19

ঘড়ির কাঁটা সামনে এবং তারপর পিছে আগায়। এবার একগাদা অসংযুক্ত ভিনিয়েট পর্দায় খেলা করে। Mind Game[৩]-এর অনুরূপ! বিড়াল-সহোদর সময়ের চক্রে বুড়ো হয়ে যায়, আবার ফিরে আসে। মানুষেরা পেছনে দুপায়ে হাঁটতে হাঁটতে আদি-বানরের চারপায়ে নেমে আসে, সরীসৃপেরা ডাঙ্গা ছেড়ে নেমে যায় প্রাগৈতিহাসিক জলে। ডাইনোসরদের নির্বংশ করা উল্কাপিন্ড তার অধিবৃত্ত পথে অভিকর্ষ ত্যাগ করে ফিরে যায় মহাকাশে। “উন্নত” মানুষের হিংস্রতার খন্ডচিত্র দেখা যায় – মানুষ মারা যায়; যুদ্ধের মিসাইলে, বন্দুকের গুলিতে, দালানের ধ্বসে, গাড়ি দূর্ঘটনায়। আর এ সবকিছুই হয় নিস্পৃহ স্রষ্টা-‘র ভোজনামোদের অংশ। বিড়াল-সহোদর আবার তাদের নৌকায় ফিরে আসে। কর্দমাক্ত নোংরা জলে যান্ত্রিক মানুষের দেখা মেলে। পুনরাগমন ঘটে লৌহ-ডানার প্রজাপতির। ভাইবোনকে সে পথ দেখায়। আর দেখা মেলে সেই ফুলের, চক্রশেষে যার জন্ম হয়েছিল তাদের থেকেই। নিয়াকো তার প্রাণ ফিরে পায়। সুখী সমাপ্তী!

Screenshot_2016-02-21-11-18-05

অথবা শিশুমনের অলীক কামনা। নিয়াত্তার জীবনের সুখের স্মৃতিগুলো হারাতে থাকে একেক করে – তার বাবা, তার মা, সব শেষে তার বোন। এমনকি সে নিজেও হারিয়ে যায়। মৃত্যুর পর সবই সমান। অন্ধকার।

তাই প্রতিটি মূহুর্তই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে টিকে থাকা, তা যত কষ্ট সহ্য করেই হোক, সবসময়ই তা বিলিয়ে দেওয়ার চেয়ে সুন্দর। কারণ জীবনের প্রতিটি স্মৃতিই, প্রতিটি মূহুর্তই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের অংশ হও। তা এমনকি ছোটবেলায় পরিবারসহ সৈকতে গিয়ে তোলা কোন ছবিতে হলেও

vlcsnap-2016-02-21-17h47m20s104

 

 

[১] – [https://en.wikipedia.org/wiki/Masaaki_Yuasa]

[২] – [http://kisscartoon.me/Cartoon/Adventure-Time-with-Finn-Jake-Season-06/Episode-007-008?id=3768]

[৩] – [https://en.wikipedia.org/wiki/Mind_Game_(film)]