অনন্য মাঙ্গা আসর-৬ (Doctor Du Ming)

Du Ming 1
-Du Ming,How do you think I’ll Die?
-Hanging! To a tree like a dead leaf among others….
Your hair would cover your face and your hands
& Your hands would hang limply from your
Body.You would look like a puppet.It’d be
Wonderful………
-Du Ming,Look The flowers grow so well here…..
-It’s because Their Roots are bathing in the blood and excretions of the patients
একটি প্রশ্ন – “ What makes a person Pure?”
মানুষের Purity যাচাই করা যায় কিভাবে? যায় কি? আদৌ কি তা আমাদের পক্ষে সম্ভব? নাকি সে আমার কাছে কেমন তা দিয়ে আমরা তার ভালোমন্দ বিচার করি?
কিছু ঠুনকো “Not Making Sense” কথা মনে হলেও এ কথাগুলোর গুরুত্ব রয়েছে বটে।এমনই ঠুনকো প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হয় ১৯৯৬ ব্যাচের Anesthesia ‘র মেডিকেল পড়ুয়া ছাত্র Du Ming এর কাছে।যে ছুড়ে দিয়েছিল সে Zhang Qian…
সমগ্র কলেজব্যাপী এই Zhang Qian কে নিয়ে রয়েছে নানা কথা।মাত্র ১০ কুয়েই ( ১.৩১ ডলার) খরচ করলেই নাকি তাকে রাত্রীসঙ্গী বানানো যায়। তবুও এত বড় মেডিকেল কলেজে সে খুব একা……
ক্লিনিক্যাল মেডিসিন ‘১৯৯৪ ব্যাচের এই Zhang Qian প্রথম দর্শনেই মনে দাগ কাটে ডু মিং এর।হয়ত মনে ভাবনাও আসে — “যার নামে এধরনের জনশ্রুতি আছে তাকে দেখে কেন নিষ্পাপ মনে হল?” , এটা ডু মিং এর ফেস এক্সপ্রেশন দেখে আমার নিজস্ব ধারণা যদিও,মানহুয়া তে বলা নেই ……
প্রতিদিনের ক্লাস আর ল্যাব ফাঁকি (প্রকৃতপক্ষে ফাঁকি না) দিয়ে ছাঁদে শুয়ে থাকা ডু মিং এর , তারপর প্রায় প্রতিদিনই জাং কিয়ানের সাথে দেখা হওয়া এমন ই এক রোমান্টিক গল্প ……………
………………
………………
………………
………………
এটি নয়।
মানহুয়া : Doctor Du Ming
চাপ্টার : 15
ডাক্তারি পড়তে আসা ছাত্র ডু মিং,কলেজের “Slut” বলে পরিচিত জাং কিয়াং আর গল্পের শেষাংশের নায়িকা [হয়ত নায়িকা নন] ওয়াং ইয়াও – চরিত্র বলতে গেলে এই তিনটাই……
মানহুয়া টি সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই আর্টের কথা উঠে আসে। যারা মানহুয়া বা চাইনিজ কমিকের আর্ট স্টাইলের সাথে পরিচিত নন,তাদের কেবল আর্টের জন্য হলেও মানহুয়া টা পড়ে দেখা উচিত। আর্ট বেশ ভালো,বিশেষ মুহূর্তগুলোতে আর্ট মন কাড়ার মত হয়েছে……
শুরু স্লাইস অফ লাইফ-রোমান্স ভাইব নিয়ে,তবে হাইস্কুল না হয়ে মেডিকেল কলেজ বলে বেশ ম্যাচিউরড সংলাপ ও আবহ পাওয়া যাবে……
কিছুদূর যেতে না যেতেই হালকা কলেজ ড্রামা তারপর অত্যন্ত সাইকোলজিক্যাল এনভায়রনমেন্ট,আত্নহত্যা,খুন,এডাল্ট ও ট্রাজিক টুইস্ট গল্পের বেশ ভালো পটেনশিয়াল দাঁড় করিয়ে দেয় ……
এডাল্ট ম্যাটেরিয়াল রয়েছে কিন্ত এচ্চি নয়।এচ্চি মূলত কেবল ফ্যানসার্ভিস ও নিছক হিউমর এবং কৌতুক উদ্রেক করার জন্য কাপড়ের বিচিত্র সজ্জা ও Nudity দেখায় – যা অনেক সময় অযৌক্তিক ও বিরক্তিকর হয়।কিন্ত এখানে যে এডাল্ট ম্যাটেরিয়াল গুলো এসেছে সেগুলো গল্পটি ডিমান্ড করে।কারণ আফটার অল নারী পুরুষের দৈহিক সম্পর্কও জীবনের একটা অংশ আর গল্প জীবনের সাদা-কালো সবকিছুর প্রতিচ্ছবি,হোক সে সম্পর্ক অনৈতিক বা নৈতিক……
মানহুয়া টি তাড়াহুড়ো করে পড়লে কিছু সমস্যা হতে পারে —
১- এন্ডিং না বুঝতে পারেন……
২-গল্পটাকে খাপছাড়া লাগতে পারে…… [Actually It’s Not]
৩-ডু মিং কে চরিত্রহীন ভাবতে পারেন
৪-টাইম রিএরেঞ্জমেন্ট যার কারণে ১ ও ২ ঘটতে পারে [নিচে ব্যাখ্যা করা হল]
কিছু চরিত্র আছে যারা খুব স্পর্শকাতর কথা খুব ঠান্ডা ভাবে বলতে পারে,ডু মিং তাদের মধ্যে একজন। একদম শুরুতে উল্লেখ করা দুটি সংলাপ পড়লেই আঁচ করতে পারা যাবে ডু মিং এর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে।এ কারণেই হয়ত খুব ভালো লেগেছে ডু মিং কে…………
একজন নারীর Virginity ই কি তার Purity মাপার প্যারামিটার?
আমরা মুখে যাই বলি,অনেকেরই কার্যকরী উত্তর হ্যাঁ।কিন্ত কখনো ভেবে দেখি কি কত ভিত্তিহীন আমাদের এই ধারণা।শরীরের কোন অঙ্গ উন্মোচিত হলেই যদি কোন নারী Impure হয়ে যায় তবে কি মানুষের আত্নার মূল্য নেই? — উত্তর খুঁজতে থাকুন,ভাবতে থাকুন……
মানহুয়াটিতে ডু মিং চরিত্রটির ইমেজ আপনার কাছে শুরুতে যা ছিল তা শেষে গিয়ে থাকবে না কোনভাবেই।চরিত্রটি বেশ লাইট Aura থেকে ক্রমাগত ডার্ক সাইডেড হয়ে গেছে,যে পরিবর্তনটা আনপ্রেডিক্টেবল। ডার্ক সাইডেড দ্বারা কি বুঝাচ্ছি তা কল্পনা না করে নিয়ে ১৫ চাপ্টার পড়ে ফেলাই শ্রেয়…
এছাড়া গল্পটাকে নিতান্ত ছোট পরিসরে জোর করে রাখার একটা প্রবণতা দেখা গেছে,মানে গল্পকে আরেকটু বিস্তৃত করা যেত কোনরকম অযথা লম্বা করা ছাড়াই।কেবল ৩ টি চরিত্রের মাঝে গল্প কে সীমাবদ্ধ না রেখে গল্পটার পরিসীমা বাড়ানো যেতে পারত…
এন্ডিং টা মনঃপূত হবে কি না হবে না সে প্রশ্নের চেয়ে বড় প্রশ্ন হল এন্ডিং টা আপনার কমন প্রেডিকটিভ সত্ত্বা অনুমান করতে পারবে কি না সেটা? শেষ হয়েও হল না শেষ – আবার এ পরিণতি কেন , না এন্ডিং এর ধরনটা এই দুই প্রকারের মাঝামাঝি,দুই ধরনের কোনটিই নয়……
পুরো গল্পটার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল —
টাইম রিএরেঞ্জমেন্ট অর্থাৎ এই বলা হচ্ছে এখনকার কথা,আবার কোনরকম বলা কওয়া ছাড়াই ফ্ল্যাশব্যাক এ চলে যাওয়া।আবার হুট করে কয়েকদিন আগে,আবার বর্তমান এ।এ স্টাইলে কাহিনী বোঝার মাঝে একটা বেশ মজা আছে,কষ্ট করে বুঝে নিতে হয় দৃশ্যের টাইমলাইন।তবে বুঝতে না পারলে কাহিনীর আপাদমস্তক নিয়ে একটু কনফিউশনে ভুগতে হতে পারে……
মানহুয়া টি পড়া শেষ করে ফেললেও এর রেশ থেকে যাবে বেশ কদিন……
কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাবে মনের মধ্যে ,সেরকম কিছু প্রশ্ন উল্লেখ করে আমার লেখা শেষ করছি …… আশা করবো মানহুয়া টি পড়ার পর প্রশ্নের উত্তর সমেত কিছু রিএকশন পোস্ট দেখা যাবে ——–
১ম প্রশ্ন : মানহুয়া টি লেইম/খাপছাড়া লাগল? [উত্তর হ্যাঁ হলে বাকি প্রশ্ন স্কিপ করতে পারেন]
২য় প্রশ্ন : ডু মিং কেন এটা করল? কেন?
৩য় প্রশ্ন : জাং কিয়ান কি Pure নাকি Slut?
চতুর্থ ও শেষ প্রশ্ন : মানহুয়াটির শুরুতে “Our Obscruity in this Murky World” লেখার কারণ কী?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে যদি পান,তবে মানহুয়াটাকে উপভোগ করতে পারবেন।উত্তর যে অধিকাংশের সাথে মিলতে হবে এমন কথা নেই,যদি আপনার মন সায় দেয় যে আপনার উত্তর যথার্থ তবেই সে উত্তর সঠিক।
Du Ming 2

Arakawa Under The Bridge [রিভিউ] — Mithila Mehjabin

 

আমরা যারা মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত সংসারের মানুষ, বড়লোক বাপের বেটা দেখলেই পিঠপিছে কানাকানি শুরু করি!

মানুষের কথা বলি কেন, আমি নিজেই রাস্তার জ্যামে আটকা পরে বড়লোকদের গাড়িগুলোকে যে হারে গালাগালি করেছি, শুনলে ড্রাইভার তো বটেই, গাড়ীও তেড়ে মারত আসত আমাকে!

কিন্তু বড়লোকদের জীবনও কিন্তু বড় সহজ না, স্পেশালি যখন তাদের মানসিকতাটা হয় এরকম, যে কখনই “কারও কাছে ঋণী থাকা যাবে না!”

আজাইরারও একটা লিমিট আছে, কিন্তু Ichinomiya Ko এর বাকওয়াজ ডিকশনারীতে “আজাইরা” বলে কোন শব্দই নাই! নাহলে পোলাপানে টানাটানি করে পরনের প্যান্টখানা যখন ব্রিজের অনেক ওপরে, নাগালের বাইরে ঝুলায় দেয়, তখন আন্ডারওয়্যার পড়া Ichinomiya Ko এর মাথায় “কারো কাছে ঋনী থাকা যাবেনা” ধরনের আজাইরা চিন্তা আসে কোত্থেকে?

তার ঐ চিন্তাটাই কিন্তু কাল হয়েছে!

Arakawa Under the Bridge 1

রিভিউ: Arakawa Under The Bridge
এপিসোড: ১৩
ম্যাল রেটিং: ৭.৭
জনরা: কমেডি, রোমান্স, সেইনেন
Ichinomiya Ko মস্ত বড়লোক বাপের একমাত্র ছেলে। একদিন এক সুন্দর দুপুরে আরাকাওয়া নদীর ব্রিজের ওপর দিয়ে হাটাঁর সময় কিছু ছেলেপেলে তার বড়লোকি ভাব সইতে না পেরে তার প্যান্টখানি খুলে ব্রিজের সবচেয়ে উঁচু পিলারটায় ঝুলিয়ে দেয়। আন্ডারওয়্যার পড়া Ko তার অতিসুখী জীবনের চিন্তায় এতই রোমাঞ্চিত, যে আধান্যাংটো হয়ে ব্রিজের ওপর দাড়িয়ে থাকাটা তার কাছেই নিতান্তই ক্ষুদ্র একটা ব্যাপার মনে হয়। আর তখনই সে খেয়াল করে যে নীল চোখের হলুদচুলো একটা মেয়ে ব্রিজের কিনারে বসে বড়শী দিয়ে মাছ ধরছে। “কারও কাছে ঋনী থাকা যাবেনা” নীতিতে বিশ্বাসী Ko মেয়েটির সাহায্যের প্রস্তাব বেশ ডাটের সাথে ফিরিয়ে দেয়, আর বানরের তেলা বাঁশ বেয়ে ওঠার ভঙ্গিতে প্যান্ট নামানোর জন্য পিলার বেয়ে উঠতে গিয়ে আরাকাওয়া নদীতে পরে যায়! মেয়েটা তখন বাধ্য হয় সাহায্য করতে, কিন্তু ডাঙায় উঠে জ্ঞান ফেরামাত্রই মেয়েটি তার জীবন বাঁচিয়েছে, এই ঋণ শোধের চিন্তায় পুরোপাগল হয়ে যায় আধাপাগল Ichinomiya!
কি করলে মেয়েটির ঋণটি শোধ করতে পারে সে, এই প্রশ্নের উত্তরে মেয়েটি বলে তাকে ভালোবাসতে! আর ঠিক এখানেই ফেসেঁ যায় Ko, মেয়েটির সাথে আরাকাওযা নদীর পাগলা বাসিন্দাদের একজন হয়ে যায় মাল্টিবিলিয়নেয়ার কোম্পানীর ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট Ichinomiya Ko ওরফে Recruit! মেয়েটার দাবি সে একজন ভেনাসবাসী! আরও আছে কস্টিউম পড়া কাপ্পা, সিস্টার ওরফে গালকাটা ব্রাদার, তারামুখো গিটারিস্ট হোশি, এইগো নো স্টেলা, গাইওয়ালা, সবজিওয়ালা সহ আরো অনেকেই!

কাহিনীটা অনেকের কাছে বেশ সাধারণই মনে হবে, কিন্তু উপাস্থাপন করা হয়েছে অসাধারণ ভাবে। বেশ আগের একটা এনিমে হওযা সত্বেও প্রায় ইরেডিসেন্ট একটা স্বচ্ছ পর্দার ভেতর দিয়ে যেন দেখানো হয়েছে পুরো জিনিসটা! যেটাকে বলে ফটো ম্যাটেরিয়াল, কাহিনীর প্লেসমেট আরাকাওয়া নদী এবং ব্রিজ এর আশপাশ থেকে খুব একটা সরেনা যদিও, নদী এবং এর আশে পাশের ছোট পল্লীমতন তাদের জগৎটা খুবই দৃষ্টিনন্দনভাবে দেখানো হয়েছে!

Arakawa Under the Bridge 3

 

কমেডি সেই লেভেলের, ক্যারেক্টারগুলির তো মাথাই নষ্ট! পুরো সময়টা “একদল পাজি পোলাপানের হাতে ধোলাই হচ্ছেন এক আজাইরা ভদ্দরনোক” ধরনের একটা পৈশাচিক শৈশবকালীন মজা পাওয়া যায়! অদ্ভুত সব এঙ্গেল থেকে দেখানোটাও ভালোই হাসির খোরাক যোগায়! হালকা রোমান্স, কমেডি আর এত্তগুলা সুন্দর সুন্দর দৃশ্য, স্ক্রীনশট নিকে নিতে আঙ্গুল ব্যাথা হয়ে গেছে!

দারুণ একটা এনিমে, সব রমকম লাভারদের জন্য রেকমেন্ডেড!

বড়লোক পোলাপাইনদের: নো অফেন্স বাই দা ওয়ে! স্রেফ কৌতুক করার স্বার্থে পকপকানি!

Arakawa Under the Bridge 4

নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 4] — Rahat Rubayet

———— Naruto Fan Fiction- part:4 (last part)—————————-
———————————————————-
লর্ড জিরাইয়া আর নারুটোর সাথে পেইনের ব্যাটেলের কথা মনে পড়ল শিসুইয়ের। ও শুনেছে পেইনের লিডার নাগাটো মারা যাবার সময় নারুটোকে তার রিনেঙ্গান দিয়ে যায়, যা এতদিন পর অর্থাৎ আজ এওয়োক করে ও। কাঁধ থেকে ইটাচিকে নামিয়ে রেখে বলল,”তুমি বিশ্রাম নাও, ইটাচি “। ইটাচিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বডি ফ্লিকার এ নারুটর পাশে চলে যায় ও। কাধে হাত রাখে।
ওদিকে তখনও স্বাভাবিক হতে পারে নি নারুটো। শরীরের কাঁপুনিটা থেমেছে কেবল। ফিরে তাকালো একবার শিসুইয়ের দিকে। ভয়ানক চমকে ওঠে শিসুই। এ দৃষ্টি আগেও দেখেছে ও। হিংস্র বাঘ আঘাত হানার আগে এ দৃষ্টিতে তাকায়। ও বলতে গেল, “আমাদের একটা প্ল্যান ধরে এগোন উচিৎ”, কিন্তু বলতে পারলো না শিসুই।
তার আগেই নারুটো তার হাত উঁচু করলো। গমগম করে উঠলো ওর কণ্ঠস্বর ,”চিবাকু টেন্সে(প্লানেটারি ডিভাস্টেশন)”। চোখের সামনে থেকে ধীরে ধীরে সব উপরদিকে উঠে যাচ্ছে। ওদিকে সাস্কে ভীষণ চমকে গেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গ্রাভিটি ফিল হারাতে শুরু করেছে। ওপর দিকে প্রচন্ড আকর্ষণ অনুভব করতে থাকে ও। তাকিয়ে দেখল, ওপরে একটা ছোট গোলোকের মতো, নিচে থেকে সবকিছু উঠে গিয়ে তাতে জোড়া লাগছে। এমন কি পাথুরে মাটি ফেটে বিশাল বড় বড় টুকরো হয়ে জোড়া লাগছে তাতে। ছাড়া পেতে সুসানোর পাখা নিয়ে নানা কসরত করতে লাগলো ও।
কিন্তু কিছুতেই ছাড়া পায় না ভয়ঙ্কর ওই সিলিং জ্যুতসু থেকে। ধীরে ধীরে নাইনটেইল আর সুসানো সমেত চিবাকু টেন্সের ভেতর সেধিয়ে যায় সবচাইতে শক্তিশালী উচিহা ওই সাস্কে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রাখে ও। শারিঙ্গান দিয়ে চারপাশটা ভাল করে তাকিয়ে দেখে আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দিয়ে তা জাজ করতে থাকে। ও খুব ভাল করেই জানে, নারুটো আর শিসুইকে এখনো মেরে ফেলা কোন ব্যাপারই না ওর জন্যে। স্রেফ এলিমেন্ট অফ সারপ্রাইজে ওকে আটকে দিয়েছে নারুটো। এর পরে আর তা হবে না। কিন্তু তার আগে তো এর থেকে বেরুনো চাই,…
হটাতই কোর অংশটার দিকে নজর গেল ওর। ওটাই তাহলে এই জ্যুতসুর উইক পয়েন্ট। ওটাকে যদি ভাঙ্গা যায়,…… আরে তাই তো। এখান থেকে বেরুতে হলে ওই কোর অংশটাই ভাংতে হবে। তাছাড়া কোন উপায় নেই। কিন্তু, কিভাবে? এখান থেকে তো নড়তেই পারছে না সাস্কে।একটাই উপায় আছে। হুম, ওটা ভাঙার জন্যে একটা জ্যুতসু কাস্ট করবে মনে মনে ঠিক করলো। কিন্তু তার জন্যে চাই ন্যূনতম প্রিপারেশান। অন্তত মিনিট খানেক সময় ওর লাগবে, ওই অস্বাভাবিক শক্তিধর জ্যুতসু কাস্ট করতে গেলে।
এর মাঝে নারুটো আর শিসুই দেখল, আকাশ হটাত করেই ভয়ঙ্কর কালো হয়ে গেল। কালো মেঘে ছেয়ে গেছে পরিষ্কার আকাশ। কি হচ্ছে বুঝতে পারার আগেই আলোর ঝলকানি দেখল ওরা ওপরে। ১ সেকেন্ড পরেই বজ্রপাতের শব্দ। পরমুহূর্তেই প্লানেটারি ডিভাস্টেশনের কোর অংশে আঘাত করে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে, সাস্কের কিরিন নামক মারণাস্ত্র। সিলিং জ্যুতসু ভেঙে যেতেই সাস্কে বেড়িয়ে এল। তার সুসানো নেই এই মুহূর্তে। ওকে ধাতস্থ হবার সুযোগ দেয়া যাবে না, ভাবে নারুটো। শিসুইও একই কথা ভাবছে মনে মনে।
দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখালো শিসুই। ও জানে এখোনো ওদেরকে আন্ডার-এস্টিমেট করছে সাস্কে। তাই শিসুই সুসানো বের না করলে সাস্কেও করবে না। কাজেই ওকে সুসানো বের করতে দিবে না,শিসুই তার আগেই একটা ওপেনিং বের করে দিতে হবে নারুটো কে। মূল আঘাতটা নারুটোই হানবে। বাতাসে ভেসে ডজন খানেক কুনাই ছুড়ল সাস্কের চারিপাশে শিসুই।
ওটা একটা ফাঁদ। দেখা যাক ফাঁদে পা দেয় কিনা সাস্কে। আর ওদিকে শিসুইকে কুনাই ছুরতে দেখেই সাস্কে ভাবল, নারুটো আর হোকাগের মতোই শিসুইও নিজেকে টেলিপোরট করবে কুনাই তে। ওখানেই ভুলটা করল ও। শিসুই টেলিপোরটার না, স্পেশালিস্ট বডিফ্লিকার। ওর বডি ফ্লিকার এতই দ্রুত যে টেলিপোরট বলে ভুল হয়। সাস্কে আধ-সেকেন্ডের জন্যে দ্বিধায় ভুগলো। কোন কুনাইতে নিজেকে টেলিপোরট করবে শিসুই?
ঠিক ওটুকুন সময়ই দরকার ছিল শিসুই এর। ও বডি ফ্লিকার দিয়ে সাস্কের ঠিক সামনে হাজির হল, সরাসরি বুকে বসিয়ে দিতে চাইলো ধারালো সোরড। এতো কাছ থেকে এত দ্রুত সরে যেতে পারবে না। নিজেই বুঝতে পারলো সাস্কে। তাই সে চেষ্টা না করে অদ্ভুতভাবে শরীরটা বাঁকাল, পরে যেতে দিল নিজেকে। ওর বুকে সোওরড ঢুকানো নয়, ওকে অফ গার্ড আর অফ ব্যালেন্সড করাই উদ্দেশ্য ছিল, শিসুই এর। বাকি কাজ টা নারুটো করবে, জানে ও।
কিন্তু অবাক হয়ে গেলো শিসুই, শক্তিশালী কোন জ্যুতসু কাস্ট হতে না দেখে। দেখল, সাস্কে কে পেছন থেকে পেঁচিয়ে ধরেছে নারুটো। স্রেফ শক্ত করে পেচিয়ে ধরে রেখেছে ও। কোন নিঞ্জ্যুতসু ইয়ুজ করতে দেখল না, শিসুই।
এদিকে ওর কান্ড দেখে সাস্কে হো হো করে হেসে ওঠে। বলে, ” কি হে নারুতো, তোমার নিনজ্যুতসুর ভান্ডার খালি নাকি হে? শেষতক এভাবে আমাকে কাবু করবে ভাবছ?” নারুটো কোন উত্তর দেয় না। আরো কিছু বলতে শুরু করতে গিয়েই থেমে যায় সাস্কে। দুর্বল বোধ করতে শুরু করেছে, ব্যাপার কি-কিছুই বুঝতে পারে না ও। নারুটোর হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে হাসফাস করতে থাকে।
হটাত কুরামার গলা শুনতে পায়, গর্ধব বলে গালমন্দ করছে ওকে। রিনেঙ্গান এর আরেকটা পাওয়ার হচ্ছে, চাকরা এব্জরভিং। এখন তাই করছে নারুটো। নাইন টেইলের ইয়েন চাকরা শুষে নিচ্ছে দ্রুত। অনেক কষ্টে পাগলের মতন হাত-পা ছোড়া থেকে নিজেকে বিরত রাখলো ও। তবে দ্রুতই মাথা খাটাল। কি করে মুক্তি মিলবে এর থেকে। সহজ সমাধানটা এতো দেরি করে মাথায় এল দেখে শাপ শাপান্ত করতে থাকলো নিজেকে। কিন্তু সময় নষ্ট করলো না মোটেই। নারুটোকে খুন করার এর চাইতে আর মোক্ষম সুযোগ হয় না। লাইটেনিং চাকরা রিলিজ করলো ও। হাতে আনলো চিদোরি সোওরড। ওই অবস্থায়ই পেছন দিয়ে নারুটোর বুকে গেথে দিল ।
নারুটোর বুকের বাম দিক থেকে ঢুকলো। পাজরের হার ২ টো সাথে সাথেই ভাংলো। নারুটো বুঝতে পারলো আর দেড় ইঞ্চি ভেতরে ঢুকলেই ওর হার্টের নাগাল পেয়ে যাবে সাস্কে। কিন্তু সবে মাত্র ইয়েন চাকরা শুষে নিল ও। এখনো ইয়াং চাকরাটা বাকিই রয়ে গেছে। কিন্তু, এ অবস্থায় তা নিতে পারবে বলেও মনে হচ্ছে না। কাজেই, তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিতে হল ওকে। হালকা স্বরে শুধু বলল “শিনরা টেন্সে”
সাস্কে ছিটকে ২০/২৫ হাত দূরে গিয়ে পড়ল। সাথে সাথেই উঠে দাঁড়াল। মাথাটা বোঁ বোঁ করে উঠলো যদিও, তবু, সুসানো এরাইজ করলো। আর ভুল করবে না ও।
ওদিকে নারুটো ঊঠে দারাবার শক্তিটুকুন পাচ্ছে না। বুক থেকে ক্রমাগত রক্ত ঝরে যাচ্ছে। নিচের স্বচ্ছ পানি লাল হয়ে গেছে ওর রক্তে। ওর ক্ষতটা বাধা দরকার। প্রচুর রক্ত ঝরছে ও থেকে। তাছাড়া, সাস্কের নাইন টেইলের অরধেকটা চাকরা নিয়ে নিলেও এখনো ভয়ানক শক্তিশালী ও।
এদিকে শিসুই একা হাতে সাস্কের সাথে ফাইট করে যাচ্ছে। প্রচন্ড শক্তিধর আক্রমণগুলো একের পর এক নিখাদ রিফ্লেক্স আর চাতুরতার সাথে ফাকি দিয়ে যাচ্ছে ও। সুসানো সহই দ্রুত বডি ফ্লিকার দিয়ে ভ্যানিশ হয়ে যাচ্ছে মুহূর্তের নোটিসে। এর মাঝেই নারুটোর সাথে একবার কথা হয়েছে ওর। নারুটো শুধু বলল, “তুমি শুধু একটা ওপেনিং বের করে দাও”
-“তুমি এই শরীরের কি ফাইট করবে?”, শিসুই অবাক হয়।
“তুমি শুধু ওর সুসানোর একটা ব্যবস্থা করো, বাকিটা আমিই সামলাবো” ওর দৃঢ়তা দেখে আর কিছুই বলে না, শিসুই। নিজের কাজে মন দেয়।
এর প্রায় মিনিট ১০ হতে চলল। সাস্কের গায়ে একটা আঁচরও কাটতে পারে নি শিসুই। ইতিমধ্যেই ওর চাকরা ফুরিয়ে এসেছে প্রায়। তাই, নিজের শেষ এবং বিশেষ অস্ত্রটাই ইয়্যুজ করল ও। নারুটোর দিকে তাকিয়ে এক ফাকে ছোট্ট করে একটু মাথা ঝাঁকাল। যেন, ইশারায় তৈরি হয়ে নিতে বলল। জ্যুতসু টা আসলে খুবই এডভান্স লেভেলের বডি ফ্লিকার এর মতো। দেখলে শ্যাডো ক্লোন বলে ভুল হবে। সুসানো সমেত এই জ্যুতসু কাস্ট করায়, আসে পাশে ডজন খানেক সুসানো দেখলো সাস্কে।
ওদিকে নারুটোও তৈরি হল। কিন্তু, হটাতই দেখল, সাস্কে শিসুইকে উদ্দেশ্য করে একটা টেইল্ড বিস্ট বম্ব ছুড়ল। প্রত্যাশিতভাবেই শিসুই তা ডজ দিতেই গ্রামের দিকে ছুটলো তা। চোখে আতঙ্ক আর ভয় নিয়ে তাকিয়ে তাখে নারুটো। মনে মনে একটা কঠিন ডিসিশান নিয়ে নিল। সাস্কেকে আটকানোর এছাড়া কোন উপায়ও নেই।
আর ওদিকে হতভম্ব ভাব কাটিয়ে উঠেই চারপাশ থেকে সুসানোর চাকরা নিডল মারতে শুরু করলো। সাস্কে, ওর সুসানোর পাখা দিয়ে তা কোনরকমে এড়াতে চাইলো। কিন্তু, পারলো না। ক্রমাগত চাকরা নিডলে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকলো, ওর আল্টিমেট ডিফেন্স।
গ্রামের ভেতর কেবলই সবকিছু শান্ত করেছে ৩য় হোকাগে, ৪র্থ হোকাগে আর জিরাইয়া। তাই থার্ড হোকাগেকে সেখানে রেখে জিরাইয়াকে নিয়ে ফাইনাল ভ্যালীতে আসার জন্যে রওনা দেয় ওরা।
ঠিক সেই মুহূর্তেই সাস্কের সুসানোর একটা পাশ ওর সুসানোর ড্রিল মেশিনের-সদৃশ অস্ত্র দিয়ে ভেঙে ফেলেছে শিসুই। প্রায় একই সাথে দু’জন-নারুটো আর মিনাটো ফ্লাইং রাইজিন অর্থাৎ টেলিপোরট করল। মিনাটো জিরাইয়াকে নিয়ে ফাইনাল ভ্যালী তে আর নারুটো টেলিপোরট করে সাস্কে আর শিসুই এর ঠিক মাঝখানে পৌঁছে গেল।
এসেই মিনাটো আর জিরাইয়া দেখল, নারুটো হ্যান্ড ওয়েভ করছে। ওর হ্যান্ড সাইন দেখে দু’জনেই ভীষণ চমকে ওঠে। জিরাইয়া নড়ে উঠতেই মিনাটো ওকে বাধা দেয়। বলে,”জিরাইয়া সেন্সে, নারুটো ওর ডিসিশান নিয়েছে। আমার মনে হয় আমাদের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান দেখানো উচিৎ। আর তাছাড়া, আমাদের এখন আর কিছু করারও নেই। ”
জিরাইয়ার মুখ দিয়ে কথা সরে না। ওর চোখের পাতা শুধু বার কয়েক কেপে ওঠে। মুখ দিয়ে কোন শব্দ বেরোয় না।”
কিন্তু, ওদিকে সাস্কে ভয়ানক চমকে গেছে অন্য কারনে। নারুটো বাদে একমাত্র সেই দেখতে পাচ্ছে শিনিগামী কে। হুম, রিপার ডেথ সিল ইয়্যুজ করেছে নারুটো। সাস্কের হতভম্ব ভাব কাটবার আগেই সুসানোর ফাটল দিয়ে ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দেয় শিনিগামী।
একবার ঘুরে এরো সেননীনের দিকে তাকায় নারুটো। শুধু বলল,
“sorry Pervy sage. i’m not the child of prophecy. am just another utter disappointment. ”
মিনাটোর দিকে ফিরে বলল, “গোমেননা সাই, তো-চান”।
বলেই ধীরে ধীরে ঢলে পরলো। প্রায় একই সাথে সাস্কের প্রানহীন দেহও পরে গেল নিচে।
ধীরে ধীরে ফাইনাল ভ্যালীতে ডুবে যেতে থাকে ওদের মৃতদেহ। ডুবে যেতে থাকে আশুরা আর ইন্দ্রার রি- ইনকারনেশান।
(সমাপ্ত)
—————————————–
[স্পেশ্যাল থ্যাংকসঃ নিয়াজ রাশীদ]

নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 3] — Rahat Rubayet

———– Naruto Fan Fiction- part:3—————————-
————————————————————–
ফাইনাল ভ্যালীর পরিবেশ শান্ত-সমাহিত। কোন অস্থিরতা নেই কোথাও। তবে ভাল করে খেয়াল করলেই বোঝা যায়, বাতাসে একটা গুমোট ভাব। কোন ঝড়ের পূর্বাভাস যেন। প্রকান্ড দুই প্রতিমূর্তি মাদারা আর হাশিরামার পাশেই ছোট্ট একটা বিলের মতন। বিলের ওপর ঠায় দাড়িয়ে আছে সাস্কে আর নারুটো। সাস্কে নাইন টেইল-অর্থাৎ বিজু মোডে আর নারুটো সেইজ মোডে।
সাস্কের চোখে অবজ্ঞার দৃষ্টি। অবজ্ঞা করবে না-ই বা কেন? ভাবে সাস্কে। নারুটোর মতো ল্যুজারকে ইচ্ছে করলেই পিষে ফেলতে পারে ও। ভাবতে ভাবতেই নিজেকে নিয়ে গর্ব অনুভব করে সাস্কে। বলল,
“নারুতো, আমার সাথে ফাইট করে কি লাভ? তোমাকে খুন করতে ১মিনিট সময় লাগবে না আমার। তার চাইতে বরং আমার কাছে প্রানভিক্ষা চাও। এক সময়কার কমরেডের জন্য এটুকুন……..।”
“ইনাফ অলরেডি।” গমগম করে ওঠে নারুটোর কণ্ঠস্বর। মাথার লিফ-নিনজার সাইন সমেত হেডব্যান্ড টা শক্ত করে বেধে নেয়। তারপর একটা হাত মুঠি করে সামনে নেয় নারুটো। তারপর বলে,
” আমার গ্রামের নামে শপথ করে বলছি, সাস্কে। i will take you down.” বলেই হাতে থাকা কুনাই টা আলতো করে উপরে ছুড়ে দেয় নারুটো। অনেকটা খেলাচ্ছলে যেন। সাস্কে দেখলো কুনাইটা নিচে পরার আগেই হাওয়া হয়ে গেছে নারুটো। মনে মনে প্রমাদ গুনল। ও জানে ঠিক ঘাড়ের পেছনেই হাজির হবে নারুটো। বাকা একটু হাসল সাস্কে। ও এক ভুল ২ বার করে না। ঘাড়ের পেছনে নির্দয়ভাবে চিদোরি সোওরড চালিয়ে দিল। নারুটোর বুক বরাবর ঢুকল তা। বিস্ময়ে হা হয়ে গেছে নারুটো।
পরক্ষনেই ভুল ভাঙল সাস্কের। ওটা নারুটোর কাগে বুনশিন বা শ্যাডো ক্লোন ছিল। নারুটো তার কাগে বুনশিন কে টেলিপোরট করেছে। আর ওদিকে পানিতে তলিয়ে যাওয়া কুনাইতে নিজেকে টেলিপোরট করে নিয়ে যায় পানির ভেতর। সাস্কের ঠিক নিচে থেকেই উঠে আসে আচমকা। হাতে ম্যাসিভ রাসেঙ্গান।
কিন্তু বিজু মোডে থাকায় তা সেন্স করতে পারলো সাস্কে। অনেকটা বাউলি কেটে একপাশে সরে যায় ও। তবুও ম্যাসিভ রাসেঙ্গানের একটা অংশ নাগাল পেয়ে গেল ওর। কিন্তু, গায়ে নাইন টেইল- চাকরা ক্লোক থাকায় সাস্কের গায়ে আঁচড়টি পর্যন্ত কাটলো না, ভয়ঙ্কর ওই জ্যুতসু।
সাস্কে পাশ কেটে গেলে, নারুটোকে পুরোপুরি অফ-গার্ডে পেয়ে গেল সাস্কে। ও শুধু নারুটোর কব্জিটা ধরলো। নারুটো তাকিয়ে দেখলো, সাস্কের চোখে ক্রূঢ় হাসি। বুঝলো এই মুহূর্তে সড়ে যেতে হবে ওর। কিন্তু ততক্ষনে সাস্কে আমাতেরাসু কাস্ট করে ফেলল, ওর ওপর।
অসহ্য যন্ত্রণায় চেচিয়ে ঊঠল, নারুটো। ডাঙ্গায় তোলা মাছের মতো খাবি খেতে লাগলো। মাংস পোড়া উৎকট গন্ধ বেড়িয়েছে। পাগলের মতো শরীরে পানি লাগাতে থাকল। কিন্তু, কিছুতেই আগুন নেভেনা। ব্যথা-যন্ত্রনায় চোখে পানি চোলে আসে নারুটোর। হটাতই, বিদ্যুৎ চমকের মতন একটা কথা মাথায় চলে আসে নারুটোর। এতক্ষন ধরে পুড়তে থাকলে নিশ্চিতভাবেই মারা যাবার কথা ওর। কিন্তু, প্রচন্ড যন্ত্রনা স্বত্বেও হাত-পা ঠিকই নারাতে পারছে ও। নিজেকে তিরস্কার করল মনে মনে। এভাবে সাস্কের গেঞ্জ্যুতসুতে আক্রান্ত হওয়াটা চরম মূর্খতা। কি করে ছাড়া ভাবে এই যন্ত্রণাকর জ্যুতসু থেকে, ভাবতে থাকে নারুটো। এরো সেননীনের শেখানো চাকরা ব্লাস্ট করাটাও এখন পসিবল হবে না ওর পক্ষে। কোনভাবে যদি এর থেকে বের হওয়া যায়,……… আরে তাই তো। কোন ভাবে যদি ও সাস্কের নিয়ন্ত্রনের বাইরে যেতে পারে, তবেই তো তা ব্রেক হবে।
সময় নষ্ট না করে, সেখান থেকেই ফ্লাইং রাইজিন ইয়্যুজ করল ও। একেবারে ইচিরাকুর দোকানের সামনেটায় চলে এল ও। মুহূর্তেই বেড়িয়ে এল গেনজ্যুতসু কাস্টার সাস্কের নিয়ন্ত্রণ-বলয় থেকে। এতে গেনজ্যুতসু সহজেই ভেঙে গেল।
পরপর দু’বার টেলিপোর্ট করল নিজেকে। পরক্ষনেই সাস্কের ঠিকে মাথার ওপরে পৌঁছে গেল। হাতে বেড়িয়ে এল রাসেঙ্গান। সাস্কের পিঠে সিমপ্লি বসিয়ে দিল ওই মারণাস্ত্র। সাস্কের নাইন টেইল চাকরা ক্লোক প্রায় পুরো আঘাতটাই ঠেকিয়ে দেয়। তবে পিঠে প্রচন্ড ধাক্কার পুরোটাই টের পেল। বুল্ডোজার চালিয়েছে যেন ওর ওপর কেউ। ছিটকে ১০ হাত দূরে গিয়ে পরলো তবে উঠে দাঁড়াল সাথে সাথেই। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়েই থমকে দাঁড়ায় ও। হটাত, চিরচেনা কন্ঠের সেই ডাক শুনতে পেয়েছে ,”সাস্কে”।
ঘুড়ে তাকাতেই দেখল, ইটাচি আর শিসুই দাড়িয়ে আছে। ইটাচি বলতে থাকে,
“তুমি কোনোহার একজন শিনোবি। তোমার কাজ গ্রাম রক্ষা করা, ধ্বংস করা না। গ্রামের প্রত্যেক ক্ল্যান-প্রত্যেকে একে অন্যের ফ্যামিলি।”
সাস্কে অবাক হওয়ার ভান করে,”ফ্যামিলি??? তুমি কি করেছ তোমার ফ্যামিলির জন্যে? উপরন্তু, হোকাগের দাস হয়ে নিজের ক্ল্যানের ওপরই স্পাইগিরি করছ। শিসুইকে দিয়ে বাবা-মার ওপর গেনজ্যুতসু কাস্ট করে রেখেছ। আর যাই হোক, তোমার মুখে ফ্যামিলি শব্দটা মানায় না, ইতাচি। তার’চে আমাদের সাথে যোগ দাও। পুরো নিনজা সিস্টেমকেই আমরা নতুন করে গরে তুলবো।”
ক্লান্ত চোখে বেশকিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে ইটাচি। তারপর বলে,
“তুমি কি আমার উত্তরের অপেক্ষা করছো? তাহলে, তুমি জানো আমার উত্তর কি।
সাস্কে এখনো সুযোগ আছে। লর্ড হোকাগের সাথে আমি কথা,…………….­ ” ওকে মাঝপথেই থামিয়ে দেয় সাস্কে। অবজ্ঞার দৃষ্টিতে ৩জনের দিক তাকাল একবার। তারপর ফুলবডি কুরামা(নাইন টেইল শেপ) মোডে গেল। আর তারপর ফুলবডি আরমার্ড সুসানো দিয়ে তা ঢেকে দিল।
শিসুই আর ইটাচিও সুসানো এরাইজ করলো-ফুলবডি সুসানো। ইটাচির সুসানো লাল রঙের। এক হাতে টোতস্কা ব্লেড, আরেক হাতে ইয়াটা মিরর। শিসুই এর সুসানো সবুজ দেখতে। অয়েপন হিসেবে এক হাতে ড্রিল মেশিনের মতো কিছু একটা ধরা। তাছাড়া সুসানোর বুকে চাকরা নিডলস তো রয়েছেই। আর সাস্কের সুসানোর এক হাতে সোওরড। সুসানোর নিচে নাইন টেইল। ওদিকে নারুটো সামোন করল গামাকিচিকে। গামাচিকির শারীরিক গ্রোথ মানুষের মতো নয়। তাই গতবারের চাইতে এবার অনেক বেশিই বড় লাগছে ওকে।
সাস্কে শুরুতেই আক্রমন করল ইটাচিকে। সুসানোর পাখায় ভর করে ইটাচির ঠিক ওপরে এসেই হাল্কা মতন সোওরড টা ঘুরাল কেবল। সেই সাথে নাইন টেইলের লেজ গুলো দিয়ে প্রচন্ড বাড়ি বসালো শিসুইয়ের সুসানোর ওপর। নেই, মুহূর্ত আগেই সুসানো সমেত স্রেফ গায়েব হয়ে গেছে ও। আর ওদিকে সহজেই সাস্কের সুসানো-সোওরডকে এরিয়ে গেল ইটাচি। হটাত, এক লাফে গামাকিচি সাস্কের ঠিক সামনেই চলে আসে। তার ওপর নারুটো। ওর হাতে উইন্ড স্টাইলের রাসেন-শুরিকেন। সাস্কেকে অফ-গারড পেয়েই আর এক সেকেন্ডও দেরি করে নি নারুটো। ওর সবচাইতে শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে চাইল সুসানোকে।
সাস্কের মাঙ্গেকিইয়্যু শারিঙ্গানের এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তার পর্যবেক্ষণী ক্ষমতা। ইটাচি আর শিসুইকে আক্রমন করলেও ঠিকই খেয়াল করল নারুটো কে। সুসানোর আরেক হাট দিয়ে চেপে ধরলো নারুটোর ওই জ্যুতসু। প্রচন্ড শব্দে কানে তালা লেগে যাবার যোগাড়। হটাত, ঠিক সামনেই শিসুই সুসানো সমেত হাজির হল। সবকিছুই এত দ্রুত ঘটে গেল, সাস্কে প্রতিক্রিয়া দেখাবার সময় পেল না। তার আগেই শিসুই এর অজস্র চাকরা নিডলস আঘাত করতে থাকল সাস্কের সুসানোতে।
উপায়ন্তর না দেখে নাইন টেইলের লেজ দিয়ে প্রচন্ড আঘাত হানল, শিসুই এর সুসানো লক্ষ্য করে। কিন্তু তার আগেই গায়েব হয়ে গেছে যেন শিসুই। একই সাথে হাতের সুসানো-সোওরড দিয়ে ইটাচি কে আঘাত করে সাস্কে। ইটাচি অনায়াসে পাশ কেটে বেড়িয়ে যায়। ওদিকে ওকে অফ-গারড পেয়েই লাফিয়ে সামনে চলে এল গামাকিচি। নারুটো তার ওপর রাসেন-শুরিকেন হাতে দাড়িয়ে আছে। কাছে আসতেই আঘাত করল। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল সাস্কে। একই ঘটনা এর আগেই ঘটে গেছে। এক হাতে নারুটোর জ্যুতসু ঠেকিয়েই প্রমাদ গুনলো। ঠিক এক সেকেন্ড পরেই শিসুই তার সবুজ সুসানো নিয়ে হাজির হল। সুসানোর বুক থেকে হাজার হাজার চাকরা নিডল বেড়িয়ে আসছে।
আসলে ইটাচি সাস্কের ওপর ইজানামি ইয়্যুজ করেছে। তাই বাস্তব দুনিয়ায় এক জায়গায় ঠায় দাড়িয়ে থাকলেও, সাস্কে তার মনের ভেতর একই লুপে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে। যতক্ষন না সংশোধিত হচ্ছে ও, এর থেকে মুক্তি নেই কোন। এই জ্যুতসু আসলে ফেইট সিলিং বা ভাগ্য নির্ধারণী জ্যুতসু। ভয়ঙ্কর এই জ্যুতসু কাস্টারকে চরম মূল্যও দিতে হয়ে এর জন্যে। যে এই জ্যুতসু ইয়্যুজ করবে, তার এক চোখ নষ্ট হয়ে যাবে। শর্তানুযায়ী ইটাচি তার একচোখ হারাল। ওর সুসানো ব্রেক হয়ে গেল তাতে।
সাস্কেকে এক জায়গায় দাড়িয়ে থাকতে দেখে আর ইটাচির একচোখ সাদা হতে দেখেই যা বুঝার বুঝে নিল শিসুই। কিন্তু নারুটো, স্রেফ বোকা বনে গেছে ঘটনার আকস্মিকতায়। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই ইটাচি বলতে শুরু করলো,
“যত যাই হোক, দিনশেষে ও আমার ভাই। ওর যাবতীয় দায়ভার আমারই”, একটু থামল। তারপর যোগ করল, “আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি, শিসুই।”
“i wonder!” হটাতই পেছন থেকে সাস্কের গলা শুনে ভয়ানক চমকে ওঠে ওরা তিনজন। সামনে ঠায় দাড়িয়ে থাকা সুসানো-শ্যাডো ক্লোন টা মুহূর্তে মিলিয়ে যায়। “কি মনে করেছ আমাকে? অত সহজেই তোমার ফাঁদে পা দেবো?” বলতে থাকে সাস্কে,”আমি জানতাম তোমরা গেনজ্যুতসু টাইপ কিছু কাস্ট করবে। তাই……….” কথা শেষ না করেই থেমে যায় ও। সুসানো দিয়ে ঢাকা কুরামার আল্টিমেট অস্ত্র টেইল বিস্ট বম্ব তৈরি করছে। তারপর বলল, “একটা উপদেশ দিই। never underestimate an uchiha” বলেই ইটাচির দিকে ছুড়ে দিল তা।
তখনো হতভম্ব ভাবটা কাটিয়ে ওঠে নি ওরা কেউ। তবে শিসুই দ্রুত নড়ে উঠলো। ইটাচিকে টেইল বিস্ট বম্বের লাইন থেকে সরিয়ে নিল। কিন্তু, সাস্কের চোখে-মুখে পৈশাচিক হাসি থামে নি। কারন খুজতেই পেছনে তাকায় নারুটো। দেখল, ইটাচিকে মিস করা টেইল বিস্ট বম্ব গ্রামের একটা অংশ স্রেফ উরিয়ে দিয়েছে। কতজন মারা গেছে তার ইয়ত্তা নেই।
রাগ-ক্ষোভ, দুঃখ-হতাশা আর ক্রোধের মিশ্র অনুভূতি খেলা করতে থাকে নারুটোর ভেতর। থরথর করে কাঁপছে ওর সারা শরীর। ক্রোধের অনুভূতিটা সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেল। মাথার লাল চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত থরথর করে কাঁপছে। চোখ দুটো হিরের মতো জ্বলজ্বল করছে যেন। ওর নিল-সাদা চোখ দুটো ধীরে ধীরে রঙ বদলে বেগুনি রঙ ধারন করতে থাকে। তার সাথে অদ্ভুত এক প্যাটার্ন লক্ষ্য করল ইটাচি আর শিসুই। দেখা মাত্র চিনে ফেলল।
রিনেঙ্গান!!!!!!!!!
———————————————–

The Cat Returns [মুভি রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

The Cat Returns 1

ছোটবেলায় সুকুমার রায়ের একটা অসাধারণ চীনা লোকগাথার অনুবাদ পড়সিলাম । গল্পটার নাম লোলির পাহারা । গল্পটার কেন্দ্রীয় চরিত্র হল লোলি নামক এক কুড়ের হদ্দ ছেলে ।তো লোলির বাবা তাদের একমাত্র শুয়োরটাকে বিক্রি করবে এবং সেইটা পাহাড়ার দায়িত্ব দিয়ে যায় লোলিকে । তো লোলি ওই পাহারার ধার না ধেরে সোজা দিল ঘুম । ঘুম থেকে উঠে দেখে শুয়োর হাওয়া । তো শুয়োর খুজতে গিয়ে দুর্ভাগ্যক্রমে নিজেই শুয়োর হয়ে যায় । তো কল্পনা করুন আপনি যদি একদিন হঠাত্‍ করে বিলাই হয়ে যান !!?

The Cat Returns 6
তো দ্যা ক্যাট রিটার্নস এর কাহিনী হল হারুকে নিয়ে । হারু স্কুলপড়ুয়া এক মেয়ে ।সে কিছুটা আলসে , অনেকখানি ছটফটে এক মেয়ে । তো একদিন স্কুল থেকে ঝাড়ি বকা খেয়ে বাসায় ফেরার পথে দেখে একটা অদ্ভুত দেখতে বিলাই প্রায় ট্রাকচাপা পড়তে যাচ্ছে । তো হারু অসম্ভব ক্ষিপ্রতার সাথে বিড়ালটাকে বাচায় । তো বিড়ালটাকে বাঁচানোর পর যখন হারু ধাতস্থ হতে থাকে তখন দেখে বিড়ালটা দুই পায়ের উপর দাড়িয়ে গা ঝাড়ছে । এরপর চমক আরও বাকি । বিড়ালটা মানুষের ভাষায় হারুকে কৃতঙ্গতা প্রকাশ করে । হারুর তো মাথা খারাপ হবার যোগাড় । কেউ বিশ্বাস করে না হারুকে । তো হারুর দেখে যে সে বিলাইয়ের সাথে কথা বলতে পারে । তো একদিন রাতে বাদনা-বাজ্য বাজিয়ে হারুর বাসার সামনে উপস্থিত হয় একদল বিড়াল ।হেই বিড়ালদের মধ্যে থাকে একটা বিশাল ধুমসো বুড়ো হুলো । সে হল বিলাইদের রাজা ।সে হারুকে ধন্যবাদ জানাতে এসেছে কারণ হারু যে বিড়ালকে বাচিয়েছে সে হল স্বয়ং বিড়াল রাজ্যের রাজপুত্র । এবং চমকের আরও কথা হচ্ছে তারা হারুকে চায় রাজপুত্রের কনে হিসেবে নিতে ! তো এখন কি করবে হারু !? নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে যায় হারু । পরিচিত হয় মুটকো বিড়াল নাম মুটো এবং হৃদয়ের স্বরের সেই ব্যারন বিড়াল । উপস্থিত হয় বিড়ালের রাজ্যে এবং ঘটতে থাকে নানা মজার ঘটনা ।

The Cat Returns 2
মুভি স্টুডিও গিবলির । এর আর্টওয়ার্ক মানে ক্যারেকটার ডিজাইন নরমাল জিবলীর আর্ট থেকে বেশ আলাদা , যা সুন্দরই লেগেছে । এর আছে খুব সুন্দর এবং মজার সাউন্ডট্র্যাক এবং এর কাহিনীও সেরকমই । এর ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট জিবলীর মতই অর্থাত্‍ অসাধারণ । এই মুভি হল মনে শান্তিদায়ক মুভি । মনের স্ট্রেস নামক জিনিস ধুয়মুছে নিয়ে যায় ।কাহিনী ,ক্যারেকটার সবই সুন্দর । ব্যারন বিলাইয়ের উপস্থিতি ( হ্যা Whisper of the hearts এর সেই ব্যারন বিড়াল ) ! যারা বিলাই প্রেমিক তাদের জন্য এই মুভি দেখা সুন্নত 🙂 ! যারা দেখেননি তারা তাড়াতাড়ি দেখে ফেলুন । তবে একটা কথা । এটাকে গিবলির মাস্টারপিস ভেবে দেখতে বসলে হতাশ হতে পারেন । তাই আশার পারদ বেশি না রেখে শুধু উপভোগ করুন । বিলুই প্রেমিকদের জন্য এটা স্পেশাল ট্রিট ।

The Cat Returns 3

ডাউনলোড করুন: https://torcache.net/torrent/CC6F9B40B0FC173EC3774F4C68EC7E68C6D8B6C4.torrent?title=%5Bkat.cr%5Dthe.cat.returns.2002.dual.audio.1080p.hevc.x265

অনলাইনে দেখুন: https://kissanime.to/Anime/The-Cat-Returns-Dub
আমার রেটিং: ৮/১০

The Cat Returns 4

The Cat Returns 5

Behind the Voices – 23

 

Matsuoka Yoshitsugu

হারেম আনিমের ভক্ত হয়ে থাকলে মাৎসুয়োকা ইয়োশিৎসুগুর নামটা হয়তো অপরিচিত নয় আপনার কাছে। ২০১৩ থেকে এর পরের বছরগুলোর যতগুলো নামকরা হারেম-এচ্চি আনিমে রিলিজ পেয়েছে প্রায় সবগুলোতেই মূল চরিত্র কিংবা পার্শ চরিত্রের রোল পেয়েছেন তিনি। এছাড়া আজকাল overpowered মূল চরিত্রদের কণ্ঠেও তাকে বেশির ভাগ সময় পাওয়া যায়। অনেকগুলো হারেম আনিমের মূল চরিত্রের রোলের জন্য অনেক ভক্তদের মাঝে তিনি ‘সুগু সুগু’ নামটি বাদে ‘Harem King’ হিসেবেও পরিচিত। তার কণ্ঠটা ম্যানলি নয় বরং বেশ বয়িশ একটা টোন এবং তাই তার প্রায় সবগুলো চরিত্রই কিশোর। তার কণ্ঠ অভিনয়ের সবচেয়ে আইকোনিক দিক হল সে বেশ অদ্ভুট একটা স্বরে বেশ ভালোভাবেই চিল্লাচিল্লি করতে পারে যা শুনতেও বেশ মজা লাগে।

মাৎসুয়োকার সেইয়ূ হওয়ার পেছনে অনুপ্রেরণা যিনি সে হল ইশিদা আকিরা । ইশিদা আকিরার নাম হয়তো অনেকেই শুনেছেন গারা, যারযিস ব্রেক, কাৎসুরা কোতারো এই রোলগুলোর জন্য বেশ পরিচিত । মাৎসুয়োকা ইয়োশিৎসুগুর কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে অভিষেক ২০০৯ সালে Eden of the East আনিমেটির এক পার্শ চরিত্র দিয়ে । কিন্তু তার খ্যাতি অর্জন করতে অপেক্ষা করতে হয় ২০১১ পর্যন্ত, সে বছর Kamisama no Memochou-এর ফুজিশিমা নারুমি রোলটা দিয়ে । ঠিক তার পরের বছর Sword Art Online আনিমেটির মূল চরিত্র কিরিতো দিয়েই সবচেয়ে পরিচিতি অর্জন করেন তিনি । এরপর আস্তে আস্তে একজন খ্যাতিমান কণ্ঠ অভিনেতা হয়ে উঠেন তিনি । একাধিক আনিমের ক্যাস্টিং-এ দেখা গিয়েছে সে মূল চরিত্র থাকলে সাধারণত সে আনিমের নায়িকার সেইয়ূ কায়ানো আই থাকে ।

কম বেশি প্রায় সবরকম চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ারই খ্যআতি আছে মাৎসুয়োকা ইয়োশিৎসুগু । কিরিতোর পাশাপাশি তার নামকরা রোলগুলো হল ইয়ুকিহিরা সৌমা (Shokugeki no Souma), সোরা (NGNL), লাবক (Akame ga Kill!), সোরাতা (Sakurasou no Pet na Kanojo), তোমোয়া আকি(Saekano), ইচিজৌ মাসাকি (Mahouka Koukou no Rettousei), ক্রানেল বেল (Danmachi), আলেক্সিস টিটাস (Magi), আইতো ইয়ূকি (Mangaka-san to Assistan-san), কুসানাগি গোদৌ (Campione!) । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল ইয়ুকিহিরা সৌমা (Shokugeki no Souma), লাবক (Akame ga Kill!), সোরাতা (Sakurasou no Pet na Kanojo), আইতো ইয়ূকি (Mangaka-san to Assistan-san), ইয়ুকিমুরা তোরু (Aoharu x Kikanjuu), ওয়াতাসে আওবা (Buddy Complex), ইচিজৌ মাসাকি (Mahouka Koukou no Rettousei), ইকেজাওয়া মাসাওমি (Love Lab) এবং চিফ (Denki-gai no Honya-san) ।

এখন পর্যন্ত সে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত নয় । তবে Ace of Diamond, Aoharu x Kikanjuu, Nijiiro Days, Makai Ouji: Devils and Realist, Nijiiro Days, Super Lovers এই আনিমেগুলোর কাস্টের বাকি সদশ্যদের সাথে ওপেনিং/এন্ডিং গেয়েছেন ।

তার জন্ম ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬ । ২০১২ সালে 6th seiyu awards-এ Best New Actor এবং ২০১৬ সালে 10th seiyu awards-এ Best Lead Actor খেতাব পেয়েছেন তিনি। সে বেশ লাজুক স্বভাবের এবং প্রথম প্রথম ইন্টারভিয়ুগুলোর সময় সে ক্যামেরার দিকে সামনা-সামনি তাকাতেই বেশ লাজুক বোধ করতো । নোবুনাগা শিমাজাকি এবং তাৎসুহিসা সুজুকির বেশ ভালো বন্ধু তিনি । তার কণ্ঠ অভিনয় বেশ অসাধারণ এবং এখন বেশ ভালো পরিমাণের রোলই পাচ্ছেন তিনি । আশা করি ভবিষ্যৎেও সে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে ।

Matsuoka Yoshitsugu

 

Satomi Satou

সাতোমি সাতৌ সাধারণত ঠাণ্ডা স্বভাবের চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য বেশ পরিচিত । কিন্তু তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোল তাইনাকা রিৎসু (K-On!) তার সাধারণ গোছের চরিত্রগুলোর তুলোনায় ঠিক উল্টো । এমনকি চরিত্রটার ক্ষেত্রে সে যেই কণ্ঠটা ব্যবহার করেছে তা একেবারে তার সাধারণ কণ্ঠের সাথে মিলে না । ভক্তদের মাঝে ‘sugar’ হিসেবেও পরিচিত, যেহেতু সাতৌ (砂糖) শব্দটির অর্থ চিনি, যদিও তার নামের কানজিটা হল 佐藤 যা চিনির কানজির এক নয় । তার কণ্ঠটাও তার নামের মতই মিষ্টি ।

কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিষেক ২০০৭ সালে । সে মূলত সবচেয়ে বেশি খ্যাতি অর্জন করে তাইনাকা রিৎসু রোলটা দিয়েই । তবে তার আরও কিছু জনপ্রিয় রোল আছে যেগুলো হল চিতান্দা এরু (Hyouka), ওয়েন্ডি মারভেল (Fairy Tail), শিবাতা মিজুকি (Mahouka Koukou no Rettosei), শিচিজৌ আরিয়া (Setokai no Yakuindomo), তাকাহাশি চিয়াকি (SKET Dance), তামুরা মানামি (Oreimo) এবং চিয়া (Gochiusa) । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল রিৎসু (K-On!), চিয়া (Gochiusa), চিতান্দা (Hyouka), শিবাতা মিজুকি (Mahouka), সুমোরি হারুকা (Denki-gai no Honya-san) কারাসুমা সাকুরা (Kiniro Mozaic) এবং কানজাকি ইয়ুকিকো (Ansatsu Kyoushitsu) ।

তার মিউজিক ক্যারিয়ার মূলত ‘character song’ অথবা ওপেনিং-এন্ডিং এর মাঝেই সীমিত । এগুলো বাদে সুধু তার Kisty নামক এই ইউনিটের অংশ হয়ে সুধু একটি সিঙ্গেল আছে । এককভাবে সে Oreimo-এর প্রথম সিজনের ৬ষ্ঠ পর্বের এন্ডিং ‘Megami’ গানটা, Girlfriend (Kari) আনিমেটির এন্ডিং ‘Hareru Kanaa’, Seitokai Yakuindomo*-এর এন্ডিং ‘Mirai Night’, Waremete আনিমেটির ওপেনিং ‘Le jour’ এই গানগুলো গেয়েছেন এবং কায়ানো আইয়ের সাথে হিয়োকার ২টি এন্ডিং গেয়েছেন । আর Ansatsu Kyoushitsu, Fairy Tail, Golden Time, K-On!, Shoujo-tachi wa Kouya wo Mezasu এই আনিমেগুলোর ওপেনিং/এন্ডিং কাস্টের বাকি সদশ্যদের সাথে গেয়েছেন ।

২ দিন আগেই তার ৩০তম জন্মদিন ছিল (৮ মে, ১৯৮৬) । ব্যক্তিগত জীবনে ইয়োকো হিকাসার সাথে বেশ ভালো বন্ধুত্ব আছে তার । তার কণ্ঠ অভিনয় অসাধারণ, সামনে তার আরো রোল পাবো সেই আগ্রহে রইলাম ।

Satomi Satou

অনন্য মাঙ্গা আসর – ৫ (Boku no Hero Academia)

BnHA
কিং কিং সিটি,চীন
জন্ম হল এক শিশুর,যার সমগ্র শরীর থেকে বিচ্ছুরিত হতে লাগল আলো। এ কেমন নবজাতক?
স্বাভাবিক – অস্বাভাবিক নিতান্তই আপেক্ষিক। যে বৈশিষ্ট্য অধিকাংশের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় তাকেই স্বাভাবিক বলা হয়ে থাকে। এ মানুষের এক হাস্যকর যুক্তি। ঠিক এ উপায়েই তারা অসম্ভব-সম্ভব, ট্রাজিক-লিনিয়ার এর মধ্যে পার্থক্য করে থাকে।
ধীরে ধীরে সমগ্র পৃথিবীতে অস্বাভাবিক শিশুর জন্ম হয়ে উঠল সাধারণ ব্যাপার।আর এভাবেই আজকের পৃথিবী এমন অবস্থায় উপনিত হল যে —
৮০% মানুষের মাঝেই জন্মগতভাবে দেখা যায় সুপারপাওয়ার যা ৩-৪ বছর বয়সের দিকে প্রকাশ পায়।যা “Quirk” নামে পরিচিতি লাভ করে।
কিন্ত বাকি ২০% ……
তাদের গল্পটা কেমন…
সুপারন্যাচারাল এবিলিটি সূত্রপাত এর সুযোগে অপরাধ ও ক্রাইম ইফেক্ট তার ডালাপালা ছড়াতে আরম্ভ করলে জন্ম হয় হিরো কর্পোরেশন এর।হিরোদের জন্য স্কুল,ভার্সিটি থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা সেক্টরে সংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে ওঠে………
আর এই পৃথিবীতে সবার কাছে “Symbol of Jsutice” হয়ে ওঠে হিরোদের টপেস্ট র‍্যাংকে থাকা “ALL MIGHT” ………
এরকমই এক পৃথিবী যেখানে কোয়ার্ক ছাড়া জীবন অচলপ্রায়,সেখানে ইজুকু মিদোরিয়া জন্মেছে কোন কোয়ার্ক ছাড়া। এই রূড় সত্য জানতে পারে সে তিন বছর বয়সে……
ছোটবেলার বন্ধু,পরিবার সবার কাছে নিজেকে অসহায় মনে হয় ইজুকুর……
কিন্ত যে দুটো কথা পারত তাকে জীবনে ঘুরে দাঁড়াতে শেখাতে,সে দুটো শব্দ তাকে শোনালো তার পরিবার,বন্ধুদের কেউ না ……………
যে হিরো ইজুকুর ছোটবেলা থেকে আদর্শ,সমগ্র পৃথিবীর সিম্বল অফ জাস্টিস “ALL MIGHT” ই তাকে বিশ্বাস করতে শেখালো “You can become a Hero”
এরপর ইজুকুর প্রবেশ ঘটে তার স্বপ্নের হিরো একাডেমিক স্কুলে – “ Yuuei High” তে
আর এই স্কুলের পথ ধরে ইজুকুর হিরো হয়ে ওঠার গল্পই মাই হিরো আকাডেমিয়া……
বিখ্যাত গ্রাম সর্দার হওয়ার গল্পের ইতি টানার পর উইকলি শোউনেন জাম্পে প্রকাশিত হয় হোরিকোশি কৌহেই এর “Boku no Hero Academia” । মানুষজন ঠিক যেভাবে এইচিরো ওডার মুখে আকিরা সেন্সেই”এর প্রশংসা শুনে ওয়ান পিস কে ড্রাগন বলের সাথে তুলনা করতে শুরু করে ঠিক সেভাবেই হোরিকোশির মুখে মাশাসি’র প্রশংসা শুনে ও প্রথম কয়েক চাপ্টার পড়ে একে গ্রাম সর্দার ভেবে ভুল করে বসে হঠকারী ফ্যানসমাজ……
জনরা ট্যাগে শোউনেন বেশ বড়সড় করেই লেখা আছে ……
মাঙ্গার রিএকশন এর দিকে একটু দৃষ্টিপাত করা যাক—
প্রথম – (১০-১৪ চাপ্টার)
বাহ! দাত্তেবায়ো! তুমি গ্রামের সর্দার না,টপ হিরো হবে – তফাৎ টা কোথায়? । আরেকটা টিপিক্যাল ঝনঝনানি আসছে [দীর্ঘদিন ড্রপড]
(২০-৩০ চাপ্টার)
চুনিন এক্সাম!! হুবহু লুকানো পাতা নকল মারা হচ্ছে নাকি?
যাই হোক ফাঈটগুলো বেশ ইন্টেন্স!!
(৫০ চাপ্টারের পর)
………………
………………
………………
প্লাস আলট্রা!!!!
প্লাস আলট্রা!!!!
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে
পড়ার মাঙ্গা এটি নয়………
গল্পের বাকে বাকে অত্যন্ত উত্তেজনাকর ইন্টেন্স মুহূর্ত চলে আসছে……
(৭৮-৮০ চাপ্টারের দিকে)
আবার গ্রাম সর্দারের মত সাসকে ভাইকে গায়েব করে দিবা নাকি?
(৮৫-চলমান)
সেপুক্কু করা ছাড়া উপায় নেই(সন্দেহ করার অপরাধে) ,এক নিমেষে সব সন্দেহ দূর ……
খুঁজে পাওয়া গেল আরেকটি মাস্টারপিস মাঙ্গা…………
এই ছিল মাঙ্গাটা পড়ার সময়ে আমার রিএকশন,যখনই মনে হয়েছে গল্পটা সেই পুরোনো শিবের গীতের দিকে মোড় নিচ্ছে তখনই মাঙ্গাকা এমন প্লট টুইস্টের অবতারণা করেছেন যাতে পরবর্তী চাপ্টারের জন্য আগ্রহ জন্মানোটা স্বাভাবিক।
৮৯ চাপ্টার পর্যন্ত বের হওয়া মাংগাটি এখনো অনগোয়িং………
এপ্রিল ৩ থেকে শুরু হওয়া ১৩ এপিসোডের এনিমেটি মূল গল্পের PROLOGUE ও না, INTRODUCTION মাত্র……
সময় বের করে কষ্ট করে ৪০/৪৫ চাপ্টার পর্যন্ত যেতে পারলে বাকিটা আর কাউকে বলতে হবে না………
একশন সিকুয়েন্স গুলোর মাঝে অন্যরকম একটা ফ্লেভার পাওয়া যাবে।প্রতিটা ব্যাটল ই স্ট্রাটেজিভিত্তিক।বেশ ভালো কিছু সায়েন্টিফিক রেফারেন্স ও এসেছে কিছু কোয়ার্ক এর ক্ষেত্রে……
অনেকেরই ছিঁচকাঁদুনে মিদোরিয়াকে নিয়ে অনেক সমস্যা —
প্রথম প্রথম তাকে গ্রাম সর্দারের চেয়েও বেশি বিরক্তিকর লাগে,কিন্ত মিদোরিয়া চরিত্রের বেশ ভালো কিছু দিক আছে।প্রথমত,তার মাঝে বিখ্যাত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নেই।দ্বিতীয়ত,সে উপস্থিত বুদ্ধি খাটাতে সক্ষম।
সবচেয়ে ভালো দিকটি হল,মিদোরিয়ার ক্ষমতা যে কত কম তা শুরু থেকেই অঙ্গুলিসংকেত করা হয়েছে।আকস্মিক পাওয়ার আপ দিয়ে ব্যাপারটাকে তেজপাতা করা হয়নি……
মাঙ্গার আর্ট যতই চাপ্টার এগিয়েছে,ততই ভালো হয়েছে।বিশেষ করে কমব্যাট এনভায়রনমেন্ট এর আর্টস্টাইল Nurarihyon no Mago র মত পরিষ্কার হয়েছে।তবে এখানে বিস্ফোরণ সহ অন্যান্য ম্যাটেরিয়ালস চলে এসেছে যার কারণে হোরিকোশি কৌহেই কে স্যালুট দিতেই হবে……
যারা Katekeyo Hitman Reborn এর ভক্ত,তারা ব্যাপারটি ভালো বুঝতে পারবেন। প্রথম প্রথম বেশ বোরিং লাগলেও পরবর্তীতে শোউনেন জনরার “হিডেন জেম” খুঁজে পেয়েছি – এমন অনুভব হলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।
৮৯ চাপ্টার অবধি ব্যাক্তিগত রেটিং – ৯.০
বেশ ভালো কিছু চরিত্র এসেছে যা ভিন্নমাত্রা এনেছে স্টোরিলাইনে।তবে গল্পের মেইন ভিলেইন কে এটা নিয়ে বেশ ঘোলা রহস্য ছিল।কখনো শিগারাকি,কখনো স্টেইন …… কিন্ত আসল উত্তর …….. মাঙ্গা পড়লে এই শূন্যস্থান নিজেই পূরণ করা যাবে।
স্পেশাল নোট :
মাঙ্গাতে মাঝে মাঝে দেয়া U.A. File গুলো না পড়লে কোয়ার্ক গুলোর ফুল এবিলিটি সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যাবে না।তাই ওগুলা স্কিপ করা উচিত হবে না ………

নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 2] — Rahat Rubayet

 

————-Naruto Fan Fiction — Part: 2————————-
—————————————————————————-
(১৬ বছর আগে)
নাইন টেইল ফক্স কে উচিহা ক্লানের বিশেষ এক সিলিং জ্যুতসু দিয়ে এক বাচ্চার ভেতরে সিল করে দেয় ক্ল্যান লিডার ফুগাকু। এই সিলিং জ্যুতসুর বৈশিষ্ট হল তা প্রায় বাড়তি কোন চাকরা ছারাই নাইন টেইল বিস্ট চাকরাকে সিল করে রাখবে। বলাবাহুল্য, উপায়ন্তর না দেখেই এ কাজ করতে হয়েছে ফুগাকুর। কারন, ডানযো আর ৩য় হোকাগে মিলে আধডজন টেইল বিস্ট বম্ব সিল করে পৌঁছে গেছে ক্লান্তির সীমায়। শেষে তাই, বাধ্য হয়েই নিজের ছোট্ট ছেলে সাস্কের ভেতর নাইন টেইল সিল করে দেন ফুগাকু।
সাস্কের ভেতর টেইল বিস্ট সিল করতে দেখেই যেন বাতাসে উড়ে এল ডানযো। উদ্দেশ্য- শিশু সাস্কে, তথা উচিহাদের কাছ থেকে নাইন টেইলকে ছিনিয়ে নেয়া। আরেক অর্থে সাস্কে কে খুন করা। মরিয়া ফুগাকুর সাথে সেখানে লড়াইয়ে বেঘোড়ে মারা পড়ে ডানযো। এর পর ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকে। সাস্কের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করেন লর্ড হোকাগে। উচিহারাও সব বিবেচনা করে তা মেনেই নিয়েছিল। প্রায় ৯ বছরের মত সময় সব ভালমতোই কাটে।
তবে ধীরে ধীরে উচিহাদের ভেতর চাপা ক্ষোভ আর অসন্তোষ দেখা দিতে থাকে। নাইন টেইলের জিনঝুরিকি সাস্কে বড় হতে থাকলে ঘটনা আরও খারাপের দিকে মোড় নেয়। এর মাঝে অভ্যন্তরীণ ক্যু ঘটাবার জন্যে প্ল্যান করতে থাকে তারা। উপায়ন্তর না দেখে, শিসুই উচিহা তাদের ক্ল্যান লিডার ফুগাকুর ওপর কোতো-আমাত্সুকামি নামক গেনজ্যুতসু কাস্ট করে,। এরপর সবকিছুই শান্ত হয়ে আসে।
এসবের প্রায় ৭ বছর হতে চলল। আজ আবার সেই উচিহাদের থেকেই সঙ্কটের উৎপত্তি। উচিহাদের থেকে ক্যু এর নেতৃত্ব দিচ্ছে ১৭ বছর বয়স্ক সাস্কে উচিহা। এরই মাঝে সে ফুল-নাইন টেইল এর চাকরার ওপর কন্ট্রোল নিয়ে নিয়েছে। এতে তার শারিঙ্গান আর ওই বিশেষ সিলিং জ্যুতসুর কৃতিত্বই বেশি। তাই বিজু মোডেও যেতে পারে সে।
আজকের এই ক্যু এর কারন একটাই। উচিহাদের দাবি, গ্রামের শাসন ব্যবস্থা উচিহারা কন্ট্রোল করবে। অন্য যেকোন ক্ল্যানের থেকে তারা শারিঙ্গানের জন্যে অনেক বেশি শক্তিশালী। উপরন্তু তাদের মাঝে ফুল নাইন টেইল কন্ট্রোলিং জিনঝুরিকি , শিসুই দ্য বডি ফ্লিকার, ইটাচি উচিহা রয়েছে। কাজেই তারা গ্রাম পরিচালনা করলে অন্য গ্রামের কেউ ভুলেও আক্রমন করার স্পর্ধা দেখাবে না। শিসুই আর ইতাচি প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করায়, তারা সাস্কের নেতৃত্বে ক্যু ঘটাবার প্ল্যান করেছে।
এতক্ষন ধরে সেই উচিহাদের ব্যাপারেই ব্রিফ করছিলেন জিরাইয়া সেন্সে। তিনি থামতেই মিনাটো বলল,
“নারুটো তোমাকে না মাকে নিয়ে বাড়ি যেতে বললাম। আমরা এখনো জানি না, ওরা কি প্ল্যান করছে। তুমি কুশিনা কে এ………”
মিনাটো কথা শেষ করতে পারলো না, তার আগেই নারুটো বাতাসে মিলিয়ে গেছে যেন।
ওদিকে হোকাগের বাড়ির দরোজার ঠিক বাইরে হাজির সাস্কে। কুশিনাকে জিজ্ঞেস করে মিনাটো আর নারুটো কোথায়। ওর উদ্দেশ্য পরিষ্কার। হোকাগে কে সপরিবারে খুন করে গ্রামের দায়িত্ব হাতে নেবে। আর তারপর ঢেলে সাজাবে কলুষিত এই নিনজা সিস্টেমকে।
তাই, হোকাগে বাসায় নেই শুনে সাস্কে বলল, “কি আর করা, তোমাকে সপরিবারে মারা যাওয়ার আনন্দ দিতে না পারায় দুঃখিত, লেডি কুশিনা।’
কুশিনা কিছু বুঝতে পারে না। শুধু বলতে গেল, “নারুটো সম্ভবত ইরুকার সাথে আছে।”
কিন্তু বলতে পারল না। তার আগেই দেখল, সাস্কের চোখের চাহনি পাল্টে গেছে হটাত করে। কিছু বুঝে উঠার আগে শুধু শুনলো, “আমাতেরাসু”।
ওদিকে সাস্কে আমাতেরাসু ইয়ুজ করেই তাজ্জব বনে গেছে। হটাতই উধাও হয়ে গেছে কুশিনা। শারিঙ্গান দিয়ে খুঁজেও কোন চাকরার অস্তিত্বই খুঁজে পেল না। হটাত, কানের কাছে নারুটোর গলা শুনতে পায়।
“ফ্লাইং রাইজিন, লেভেল ৩”
পরক্ষনে পিঠে প্রচন্ড ধাক্কা খায় সাস্কে। ইতিমধ্যে হাফবডি সুসানো বের করে ফেলেছিল সে। তাই রাসেঙ্গানের ঝড় টা তার ওপরই গেছে। শব্দ লক্ষ্য করে সোরড চালাতেই অবাক হয়ে দেখল, নারুটো তার ৫গজ সামনে দাড়িয়ে আছে।
নারুটোই মুখ খোলে প্রথমে, “আমি জানি না, তুমি নিনজা সিস্টেম চেঞ্জ করবে কি করবে না। কিন্তু এই মুহূর্তে তুমি আমার বাড়ির সদর দরজায় দাড়িয়ে আমার মাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করতে যাচ্ছিলে। তুমি আমার বন্ধু হতে পারো। কিন্তু, এই মুহূর্তে তুমি আমার শত্রু। আর এর ফয়সালা করতে যা করা প্রয়োজন আমি তা নির্দ্বিধায় করবো।”, বলে এক মুহূর্ত থামল ও। তারপর বলল,”তুমি জান, আমাদের কোথায় যাওয়া উচিৎ”
বলতে বলতেই হাওায় মিলিয়ে যায় নারুটো। তার বাবার কাছ থেকে শেখা, স্পেস-টাইম নিনজ্যুতসু ইয়ুজ করেছে সে। আর এদিকে সাস্কেও ফাইনাল ভ্যালির পথ ধরে।
ওদিকে, উচিহা ক্ল্যানের সকলে গ্রাম আক্রমন করে বসেছে। তাদের আক্রমনের ধরনটা খুবই সিম্পল-কিন্তু ভয়ঙ্কর। অন্য ক্ল্যানের লোকজনের ওপর গেনজ্যুতসু কাস্ট করে তাদের দিয়েই আক্রমন করছে তারা। আর তা ঠেকাতেই, গ্রামের আনবু, জৌনিন-চুনিনদের জলদঘর্ম অবস্থা। উপায়ন্তর না দেখে, ৩য় আর ৪র্থ হোকাগে ছুটে গেছে ক্যু থামাতে। কিন্তু নাইন টেইলের জিনঝুরিকি সাস্কেকে কোথাও না পাওয়া যাওয়ায় ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে ওঠে ৪র্থ হোকাগে। সে নিজে সেন্সরি-টাইপ নিনজা। কাজেই নাইন টেইল চাকরা ইনফিউজ করতে শুরু করলেই ধরতে পারবে তা।
হটাতই, নাইন টেইলের বিশাল চাকরার ভর সেন্স করতে পারে সে, সেই সাথে নারুটোর সেইজ চাকরা-আসছে ফাইনাল ভ্যালী থেকে। এদিকের কাজ ফেলে যাওয়াও অসম্ভব। অগত্যা, তার হাইলি কোওালিফাইড আর বিশ্বস্ত দুই নিনজা কে পাঠাল, নারুটোকে সাহায্য করতে।
ওদের উদ্দেশ্যে বলল,” শিসুই, ইতাচি! সাস্কে আর নারুটো ফাইনাল ভ্যালী তে। বিজু মোডে সাস্কেকে থামাতে পারবে না, নারুটো। আমি চাই, ওকে তোমরা এসিস্ট কর।”
“জী, লর্ড হোকাগে”, বলে বডি ফ্লিকার দিয়ে উধাও হয়ে যায় ওরা।
মিনাটো ভাবতে থাকে, খুব কি দেরি করে ফেলবে ওরা পৌঁছতে?
———————————————————————————–

নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 1] — Rahat Rubayet

 

নারুটো ফ্যান-ফিকশান (Naruto Fan-Fiction)
————————- Part- 1—————————-
—————————————————————————–
ইচিরাকুর রামেনশপে আজ যেন মেলা বসেছে। হইহুল্লোড়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে সেই বিকেল থেকেই। স্বয়ং ৪র্থ হোকাগে উপস্থিত আজ। সপরিবারে গোগ্রাসে রামেন গিলে চলেছে ওঁরা। এর মাঝেই লিজেন্ডারী সাননীন দের একজন, জিরাইয়া এসে প্রবেশ করলো। মিনাটো- মানে ৪র্থ হোকাগে আর তার ছেলে নারুটো দুজনেই ওঁর ছাত্র। মিনাটোর হাতে খড়ি হয় জিরাইয়া সেন্সের কাছে। তারপর থেকে ওঁকে গরে পিটে একদম গ্রামের প্রধান-অর্থাৎ হোকাগে হওয়া পর্যন্ত, সবসময়ই জিরাইয়া ওঁর পাশে ছিল একজন দায়িত্ববান শিক্ষক হিসেবে।
ওদিকে নারুটো নিঞ্জা একাডেমি থেকে গ্রাজুয়েট হয়ে তার নিঞ্জা স্কিল বাড়াতে জিরাইয়ার কাছে জুতসু শেখা শুরু করে। আর তার বাবা হোকাগে হিসেবে ব্যস্ত থাকলেও, সময় পেলেই নারুটোর খোঁজ নিতে ছুটে যায় তার টেলিপোরটেশান জুতসু দিয়ে।
জাজ্ঞে, ফিরে আসি ইচিরাকুর রামেনশপে।
কুশিনা আর মিনাটো বহু আগেই খাওয়া শেষ করেছে, তবে নারুটো তার ১১ নম্বর পেয়ালাটা খালি করে মাত্রই তৃপ্তির ঢেকুর তোলে। ফুলে ওঠা পেটে হাত বুলাতে বুলাতে ভাবল, আজ বোধয় একটু বেশিই খাওয়া হয়ে গেছে। আর চোখে একবার মায়ের দিকে তাকায় ও। রাতের খাবারের যদি একটা ফোঁটাও নষ্ট করে নারুটো আজ ওর কপালে বেধড়ক মার আছে। ঘুরে বাবার দিকে তাকাতেই দেখল, জিরাইয়া সেন্সের সাথে কি নিয়ে যেন নিচু গলায় কথা বলছে সে। নারুটো তাতে যোগ দিতে গেলে দুজনেই কথা থামিয়ে দিল।
-‘নারুটো, তোমার মাকে নিয়ে বাড়ি যাও। আমার একটু জরুরী কাজ পরে গেছে। এক্ষুনি বেরোতে হবে। আর কুশিনা, আমার ফিরতে রাত হবে, খাবার ঢেকে রেখে ঘুমিয়ে পোরো।”
কপট রাগ আর অভিযোগের সুরে কিছু বলতে গেলো কুশিনা। কিন্তু, কাকে বলবে? এর মধ্যেই যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে মিনাটো আর জিরাইয়া সেন্সে। কুশিনা জানে, মিনাটো তার ফ্লাইং রাইজিন জ্যুতসু ইয়ুজ করেছে। ক্লান্ত চোখে নারুটোর দিকে তাকাল।
নেই, সুযোগ বুঝে কেটে পরেছে সে। আজ আসুক বাড়িতে, ওর একদিন কি আমার একদিন, ভাবতে থাকে কুশিনা। কি এমন জরুরী কাজ পরে গেল- এত তারাহুরো করল মিনাটো? ভাবতে ভাবতেই বাড়ির পথ ধরল। কপালে চিন্তার রেখা।
ওদিকে নারুটো গেছে ইরুকা সেন্সের সাথে দেখা করতে। ইরুকা, নারুটোর নিঞ্জা একাডেমিতে থাকাকালীন টিচার, বড় স্নেহ করে ওকে। ইরুকা সেন্সের ঘরের সদর দরজায় তালা ঝুলছে, বাসায় নেই। পথে নেজি, শিকামারু, সাই, কাকাশি-সেন্সে সবার বাসায়ই একবার করে ঢু মারল। অবাক হয়ে দেখল, এদের কেউই বাসায় নেই।
সবাই গেল কোথায়-ভাবতে ভাবতে হোকাগের অফিসের নিচে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখল এই সময়েও লাইট জলছে সেখানে। মানে, তার বাবা এখন অফিসেই এসেছেন। কি মনে করে গিয়ে অফিসে ঢুকল ও। ভেতরে ঢুকেই দেখল গ্রামের সব জোনিন আর চুনিন নিঞ্জারা হাজির। নিশ্চয় কোন জরুরী মিশন। কিন্তু তাই বলে সবাই এভাবে জড় হবার মানে হয় না। ব্যাপারটা কি? ভাবতে থাকে নারুটো। তার উত্তর পেতে হলে, বাবার সাথে কথা বলতে হবে। ভীর ঠেলে সামনে এগিয়ে যায় নারুটো। মিনাটো একবার তাকাল শুধু ওর দিকে, কিন্তু কিছু বলল না। কপালে চিন্তার ভাঁজ। জিরাইয়া সেন্সে- নারুটোর ভাষায় এরো সেননীন কথা বলছেন।
আড়চোখে একবার পুরো রুমটা দেখে নেয় নারুটো। ৩য় হোকাগেও আছেন রুমে। সব ক্লানের নিঞ্জাই আছে শুধু উচিহা ক্লান বাদে। উচিহাদের ভেতর শুধু শিসুই আর ইটাচি রয়েছে এখানে। বাকিদের জানানো হয় নি। কারন, আজকের সংকটের মধ্যমণি ওই উচিহারাই। জিরাইয়া সেন্সে তার ব্রিফিং মাত্রই শেষ করলেন। তবু, নারুটো নামিকাজে আর আমার পাঠকের সুবিধার জন্যে জিরাইয়া সেন্সের ব্রিফিঙের চুম্বকাংশ আমিই তুলে ধরছি।
আজ থেকে প্রায় ১৬ বছর আগে মাদারা উচিহা স্বয়ং গ্রাম-আক্রমন করেন। মাদারার সাথে ফেইস ট্যু ফেইস ব্যাটেল করেন ৪র্থ হোকাগে মিনাটো। মাদারা শুধু যে নিজে গ্রাম আক্রমন করে তাই না, সাথে নাইন টেইল ফক্সকেও নিয়ে আসে।
৪র্থ হোকাগে মাদারার সাথে লড়াই করতে থাকার এক পর্যায়ে নাইন টেইল ফক্স কে মাদারার কমপ্লিট সুসানো থেকে আলাদা করে ফেলে। সাথে সাথে ৩য় হোকাগে, ডানযো আর উচিহা ক্ল্যান লিডার ফুগাকু সবাই মিলে নাইন টেইলকে সিল করতে চেষ্টা করতে থাকে। অপর দিকে ওরোচিমারু(রোগ নিঞ্জা) ভিলেইজ এটাক করে বসে, উদ্দেশ্য নাইন টেইল এর চাকরা নিয়ে তার জিনঝুরিকি হওয়া। তার সাথে লড়াই হয় তারই একসময়ের সতীর্থ জিরাইয়ার।
আর এদিকে মিনাটো লড়তে থাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা আর ভয়ংকর ধুরন্ধর শিনোবি মাদারা উচিহার সাথে। ওঁর ফুল বডি সুসানোর সাথে ফাইট করতে ভীষণ বেগ পেতে হয় মিনাটোর। শেষ ৩০ সেকেন্ডে সে ক্রমাগত-সেকেন্ডে ২ বার করে ফ্লাইং রাইজিন ইয়ুজ করেছে। শুধুমাত্র মাদারাকে কনফিউজড করে দেবার জন্যে সে গত আধ মিনিটে ৬০ বার টেলিপোরট করেছে নিজেকে। পৌঁছে গেছে ক্লান্তির চরম মাত্রায়। কিন্তু তার পরেও থামে না, মিনাটো। চোখের সামনে কুশিনা আর ছোট্ট নারুটোর মুখ টা ভেসে উঠতেই ভেতর থেকে দায়িত্ববোধের বিশাল একটা ধাক্কা অনুভব করে সে।
মিনাটো জানে, যতই বাড়াবাড়ি মনে হোক, এটুকু পরিশ্রম প্রাপ্য- অসম্ভব বুদ্ধিমান শিনোবি ওই মাদারা উচিহার। তাই আক্রমন না করে শুধু বাতাসে ভেসে বেড়াতে লাগলো। সেইজ মোডের চাকরাটুকু নিঃশেষ হতেই তার রিজার্ভ করা চাকরার বাকিটুকু সামোন করল। ওঁর টেলিপোরটেশান জ্যুতসুর একটা অনন্য বৈশিষ্ট হল, এর মার্কার তার ইয়ুজারের ইচ্ছা অনুসারে মুভ করতে পারে। ক্রমাগত ফ্লায়িং রাইজিন ইয়ুজ করার পাশাপাশি ওঁর জ্যুতসু মার্কারকে মাদারার সুসানোর ভেতর প্রবেশ করিয়ে নিতে থাকে মিনাটো।
ওদিকে মাদারা তার দৈত্যাকৃতির সুসানো নিয়ে দাড়িয়ে আছে। চারপাশে শুধু মিনাটোর আফটার ইমেজ দেখছে। বুঝতে পারছে, ভয়ংকর কোন ফাঁদ আঁটছে এই হলুদ-চুলো ছোকরা। টেলিপোরটেশানের প্যাটার্ন বের করতে গিয়েও হতাশ হল। অবশ্য অবাক হলেও থেমে নেই তার ক্ষুরধার বুদ্ধি আর এটারনাল মাঙ্গেকিয়্যু শারিঙ্গান। একবার ভাবল, গেনজ্যুতসু কাস্ট করবে। পরক্ষনে বাদ দেয় চিন্তাটা। ‘স্পেস-টাইম নিনজ্যুতসু’র ওপর মোটেই এফেক্টিভ নয় গেনজ্যুতসু। তার থেকে পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন করে কোর্স অব একশান ঠিক করে নেয় সে।
স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আমার ফুলবডি সুসানো ভাঙার মতো শক্তিশালী কোন জ্যুতসু নেই এই ছোকরার কাছে, ভাবতে থাকে মাদারা। কাজেই সোরড গুলো ইয়ুজ করা যেতে পারে।
সুসানোর দু’হাতের সোরড দুটো দিয়ে বিশেষ ভঙ্গিমায় বাতাসে আঘাত করতে থাকে সে। লক্ষ্য, চারপাশে, মিনাটোর আফটার ইমেজ। সোরডের ধারালো অংশ সাময়িক সময়ের জন্য ম্যাগনেটিক ফিল্ডের মতো তৈরি করল সুসানোর চারিপাশে। মিনাটোর আফটার ইমেইজগুলো যেন কর্পূরের মতন উবে গেল। ঠোঁটে বাকা একটা হাসি ফুটতে শুরু করে মাদারা উচিহার।
ওদিকে, মিনাটো যেন এরই অপেক্ষা করছিল। অস্বাভাবিক ক্ষিপ্রতা, ন্যাচারাল স্পীড আর ফ্লাইং রাইজিনের সমন্বয়ে সেকেন্ডের ২০ ভাগেরও কম সময়ের ভেতর ৫০ গজ দূরত্ব পেরিয়ে যায় সে। হাজির হয় তার মার্কার এর ঠিক ওপর, অর্থাৎ মাদারার ঠিক পাশেই। সঙ্গে সঙ্গে হাতে চলে আসে রাসেঙ্গান। পাশ ফেরারও সময় পায় না মাদারা, তার আগেই মিনাটোর রাসেঙ্গান সাদা হতে শুরু করে দিয়েছে, ওতে তার চাকরা নেচ্যার অ্যাড হচ্ছে অতি দ্রুত। একইসাথে সুসানোর কাস্টার আর কোর অংশে আঘাত করতে থাকে ভয়ংকর মারাত্মক ওই জ্যুতসু।
ঘটনার আকস্মিকতায় মূর্তির মতো জমে গেছে মাদারা। প্রতিক্রিয়া দেখাতে মূল্যবান আধা সেকেন্ড সময় নষ্ট করে ফেলেছে সে। কিন্তু এরই মাঝে মিনাটো তার সুসানো আর ‘এদো টেন্সে’র শরীর গুড়িয়ে দিয়েছে। শূন্য থেকেই যেন আবার তৈরি হতে থাকে মাদারার শরীর। মিনাটো বুঝতে পারে, ওঁকে সিল করার এটাই মোক্ষম সময়। কুশিনার কাছ থেকে শেখা- উজ্যুমাকিদের বিশেষ ফ্যুইনজ্যুতসু দিয়ে সিল করে ইতিহাসের দুর্ধর্ষ এই শিনোবিকে!
—————————————————————————–

Chika Gentou Gekiga: Shoujo Tsubaki [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Chika Gentou

Chika Gentou Gekiga: Shoujo Tsubaki – ১৯৯২ সালে নির্মিত ৫০ মিনিটের ট্রেডিশনাল জাপানিজ হরর মুভি। এই ‘disgustingly beautiful piece of art’ তৈরির নেপথ্যে মূলত একজন- Hiroshi Harada। দীর্ঘ ৫ বছরের এই প্রজেক্টের কাজে তিনি তার সারাজীবনের কামাই ঢেলে দিয়েছেন। তার এই অসামান্য ডেডিকেশনের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই রিভিউ লেখা।

আমরা কম-বেশি সবাই নিষ্ঠুর। অন্যজনের কাছে এই নিষ্ঠুরতা কতখানি প্রকাশ করব তার উপর ভিত্তি করেই আমরা মানুষ বিচার করি। কিন্তু এমনকিছু ঘটনা থাকে যার কাছে সব ধরণের নিষ্ঠুরতা হার মানে। Shoujo tsubaki এমন একটি মুভি যার মাঝে নিষ্ঠুরতার বিভিন্ন রূপ আমরা দেখতে পাব।

মিদোরির মায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু দিয়ে কাহিনীর শুরু হয়। তার বাবা আগেই মারা গেছে। একদিন এক ভদ্রলোক মিদোরির দুর্দশা দেখে তার খরচাপাতি বহন করার প্রস্তাব দেয়। স্কুলে যেতে পারবে- এই মিথ্যা আশায় মিদোরির নিষ্পাপ মন আনন্দে নেচে উঠে। কিন্তু হায়! তার ভাগ্যে কি এ-ই অপেক্ষা করছিল?? তার ঠাঁই হয়েছে এক ‘ফ্রিক শো’ তে, যেখানে মানুষরূপী কিছু পশুর অত্যাচার ও লাঞ্চনা ছিল প্রতিদিনের রুটিন। কিন্তু তার তো আর কোথাও যাওয়ার নেই। বের হলেই সে ট্রেনের দিকে হাত নাড়ত। মনে শুধু একটাই আশা ছিল কোন এক রাজপুত্র তাকে উদ্ধার করবে এই নরক থেকে। শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে চরমভাবে বিপর্যস্ত হবার পর যখন মিদোরি আশা ছেড়ে দেবার কথা চিন্তা করে তখনই আবির্ভাব হয় ‘আরাশি’ নামের এক জাদুকরের। যে কিনা মিদোরির ত্রাণকর্তা।
জাদুকর আরাশি ও মিদোরির মাঝে এক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের মত এমন রোমান্টিক জুটি এই জগতে মেলা ভার। তাদের একসাথে থাকার স্বপ্ন মনকে নাড়া দেয়।

কিন্তু এই নির্ভেজাল ভালবাসার মধ্যে যখন ঈর্ষা কাজ করে তখন সবকিছু একটু কঠিন হয়ে যায়। বামন জাদুকর আরাশি যখন দেখে তাদের দলের একজন মিদোরিকে পছন্দ করে, তখন তাকে অদ্ভুতভাবে মেরে ফেলে। একদিন কোন এক কারণে আরাশির মেজাজ খারাপ থাকে। তখন সে তার দর্শকদের উপর চড়াও হয়। যার ফল হয় মারাত্মক। কত ব্রুটালি মানুষকে মারা যায় তা দেখে হতবাক হয়ে যেতে হয়। মিদোরিও ক্রমশ আরাশিকে ভয় পাওয়া শুরু করে। মিদোরি কি পারবে এই নরক থেকে ফিরে আসতে? সে কি তার স্বপ্নের পথে আগাবে? নাকি জাদুকরের ধূম্রজালে আটকা পড়বে?

কোন একটি সৃষ্টির সার্থকতা তখনই যখন তা থেকে শিক্ষা নেয়া যায়। যখন আপনার সাথে কেউ নিষ্ঠুর আচরণ করবে তখন চুপচাপ বসে না থেকে ট্যাক্টফুলি কীভাবে তার মোকাবেলা করা যায় তা আপনাকেই ভাবতে হবে। যদি এমন কোন অবস্থায় পড়েন যেখানে চারপাশে আপনার শত্রু তখন চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। নাইলে মিদোরির মতই আপনার কোন প্রিয় মানুষকে রেঁধে খাওয়ালেও আপনি হয়ত জানবেন না। এছাড়া মানুষকে সবসময় তার এ্যাপিয়ারেন্স দিয়ে বিচার করতে নেই এই সত্যিটাও আমরা শিখতে পারি এ মুভি থেকে। ট্রান্সভেস্টাইটদের অধিকার সম্পর্কেও ভাবায় এই মুভি। আর সবচেতে বড় শিক্ষা হল জীবনযুদ্ধে কখনই হার মানা যাবেনা। মিদোরি এত নিপীড়ন সহ্য করার পরও যখন সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তখন মনে হয় এই পৃথাবীতে কিছুই অসম্ভব না।

সাস্পেন্স, থ্রিলার, হরর, রোমান্স এ সবকিছুর মিশেল এই মুভি। আপনার হার্ট যদি ভুল জায়গায় হয় এবং আপনি যদি স্যাডিস্ট হন, তাহলে এটা আপনার জন্য পারফেক্ট মুভি। আর এম্নিই যদি দেখতে ইচ্ছা করে তবে caution নিতে ভুলবেন না।