অ্যানিমে সাজেশনঃ ReLIFE; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

FB_IMG_1469771996921

ReLIFE অ্যানিমেটা দেখে শেষ করলাম। আমি এমনিতেই হাইস্কুল স্লাইস অফ লাইফের ভক্ত, কিছু ছেলেমেয়ের দৈনন্দিন জীবনের খুনসুটি দেখতে আমার সবসময়ই ভাল লাগে; কিন্তু এরপরেও বলব, রিলাইফ এক্সেপশনালি ভাল ছিল। কাহিনীটার বিল্ড আপ অনেক ভাল ছিল, অবাস্তব একটা প্লট থেকে বেশ বাস্তব কিছু দৃশ্যপট খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর কাহিনী যত সামনে এগিয়েছে, নতুন নতুন রহস্যের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে, এটা বেশ ভাল ছিল, কাহিনী একটা নির্দিষ্ট গন্ডিতে থেমে না থেকে সামনে এগিয়েছে। হাসিমুখে জীবনকে ফেস করতে থাকা মানুষগুলোর ব্যাকস্টোরি, আপাতদৃষ্টিতে অগুরুত্বপূর্ণ চরিত্রদের হঠাৎ দেয়া সারপ্রাইজ বেশ লেগেছে। চমৎকার আর্ট, এক্সিকিউশন অসাধারণ, ক্যারেক্টার ডিজাইন খুবই ভাল লাগল, স্পেশালি চিবি ফর্মগুলো অনেক উপভোগ করেছি। ওএসটি খুবই সুন্দর, পরে সবগুলো ডাউনলোড করে বারবার শুনব।

সবমিলিয়ে বেশ রিফ্রেশিং ও অনুপ্রেরণাদায়ক অ্যানিমে ছিল। অবশ্যই সেকেন্ড সিজন চাই।

FB_IMG_1469771988673

অ্যানিমে সাজেশনঃ কামিসামা নো মেমোচৌ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

FB_IMG_1469771063124

দেখে শেষ করলাম “কামিসামা নো মেমোচৌ”। অ্যানিমেটার নাম দেখে আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটা রোমান্টিক কোন অ্যানিমে হবে (কামিসামা হাজিমেমাশিতা এফেক্ট), কিন্তু পরে আবিষ্কার করলাম যে এটা আসলে একটা মিস্ট্রি অ্যানিমে!

অ্যানিমের গল্প অ্যালিসকে ঘিরে, যে একজন নীট (NEET) ডিটেক্টিভ। আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হিকিকোমোরি এই মেয়েটি আরও কয়েকজন নীটের সমন্বয়ে চালায় তার “নীট ডিটেক্টিভ এজেন্সি”। পুরোনো একটি রামেন শপের ওপরে অবস্থিত এই এজেন্সির সাথে ঘটনাক্রমে যুক্ত হয়ে যায় নারুমি ফুজিমুরা, আর মুখোমুখি হতে থাকে একের পর এক কেসের। তাদের সাথে আরও রয়েছে ইয়াকুজা গ্যাং, রামেন শপের মালিক মিন-সান এবং শপের কর্মচারী ও নারুমির বন্ধু আয়াকা।

অ্যানিমেটা বেশ কয়েকটি ছোট ছোট স্টোরিতে বিভক্ত, ১২ টি এপিসোডের মাঝে বেশ কয়েকটি কেস সলভ করা হয়। কোন কোন কেস এক এপিসোডেই শেষ হয়ে যায়, আবার কোনটা তিন-চার এপিসোড ধরে চলে। বলতে গেলে প্রতিটা কেসই লাইট হার্টেড ভাবে শুরু হয়ে পরে বেশ সিরিয়াস একটা টার্ন নেয়, সেজন্য অ্যানিমেটা বেশি ভাল লেগেছে। সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে প্রথম এপিসোডে ৪৭ মিনিট ধরে চলা কেসটা আর শেষ কেসটা। আর্ট ওএসটি ডিসেন্ট, আলাদা করে উল্লেখ করার মত লাগেনি।

সবমিলিয়ে মিস্ট্রি অ্যানিমে হিসেবে বেশ ভাল লাগল, চাইলে ট্রাই করে দেখতে পারেন।

FB_IMG_1469771054971

যেরো নো সৌকৌশি [মাঙ্গা সাজেশন] — Zahura Chowdhury Abonti

Zero no Soukoushi

মাঙ্গা সাজেশনঃ যেরো নো সৌকৌশি
চ্যাপ্টার সংখ্যাঃ ৩
স্ট্যাটাসঃ কমপ্লিটেড
জনরাঃ ড্রামা, মিস্ট্রি, শৌজো
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮

কানাদে একজন পারফিউমিস্ট— নানা রকম ঘ্রাণের সংমিশ্রনে নতুন নতুন সুগন্ধী তৈরি করা তার পেশা। গন্ধ নিয়ে কাজ করতে হয় বলেই অন্য দশটা মানুষের তুলনায় তার নাকটা একটু বেশি তীক্ষ্ণ। খুব সহজেই ঘ্রাণের সামান্যতম তফাতও সে ধরে ফেলতে পারে। আর এই কারণেই মাঝে মাঝে তাকে ফেঁসে যেতে হয় অযাচিত বিভিন্ন প্যাঁচালো ঘটনায়। নিজ পেশার প্রতি ভালবাসা থেকেই কানাদে চেষ্টা করে প্রতিটা মানুষের জন্য তার সাথে মানানসই সুগন্ধী তৈরি করে দিতে। পারফিউম ফ্রিক এই মানুষ আপাতভাবে তেমন মিশুক না হলেও সম্পর্কে কাজিন আনাইসের সাথে তার বেশ সখ্যতা রয়েছে। কানাদে যেমন চায় সব ঝামেলা এড়িয়ে চলতে, আনাইস ঠিক তার উলটো। না পারতে তাই এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনাতে জড়িয়ে যেতে হয় কানাদেকেও। আর নিজের সুনিপুণ দক্ষতায় সে বের করে আনে রহস্যের সমাধান।

৩ টি চ্যাপ্টারে তিনটি ভিন্ন মিস্ট্রির খোলাসা করা হয়েছে, যার মাঝে ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দ সর্বপ্রথমটাই। একটু ভিন্নধর্মী এই মাঙ্গার কাহিনী বেশ ভাল ও ইউনিক। মাত্র ৩ চ্যাপ্টার বলে পড়তেও বেশি সময় লাগে না। আর এই মাঙ্গার খুবই আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর আর্ট। খুব বেশি রকমের সুন্দর ও বেশ আনকমন এই আর্ট প্যাটার্নে রয়েছে খানিকটা ওয়েস্টার্ণ ধাঁচ। ৩ চ্যাপ্টারে ক্যারেক্টার ডেভেলাপমেন্ট এর খুব বেশি জায়গা নেই, সে চেষ্টাও মাঙ্গাকা করেননি। পুরো মাঙ্গাতে কানাদেকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং তার চরিত্রটি আমার কাছে কাহিনীর সাথে বেশ মানানসই মনে হয়েছে। আনাইসকে মাঝে মাঝে অবাঞ্চিত মনে হলেও তারও প্রয়োজন ছিল বলেই মনে হয়। অল্প সময়ে বেশ আনন্দদায়ক এক মাঙ্গা বলেই মনে হয় আমার। কিছু কিছু জায়গা অবশ্য অনেক অস্বাভাবিক ও জোরপূর্বক কাহিনী মেলানোর জন্য করে দেয়া বলেও মনে হয়েছে; বিশেষ করে শেষ গল্পটাতে। কিন্তু সামান্য এই দোষ এড়িয়ে যেতে পারলে বেশ উপভোগ্য একটি মাঙ্গা এটি। হাতে সামান্য সময় থাকলে পড়ে দেখতে পারেন। সাথে মাঙ্গার লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি:
http://mangafox.me/manga/0_no_soukoushi/

Basilisk [রিভিউ] — Amor Asad

Basilisk

জেনারেশনের পর জেনারেশন একে অপরকে ঘৃণা করার ইতিহাস পর্দায় দেখলে না-চাইতেই বাস্তব দুনিয়ায় মিলেনিয়াম ধরে চলে আসা সংঘর্ষগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। এসব দ্বন্দ্বের অনেকগুলিই এখনও বর্তমান এবং সমানে ঘৃণা ছড়িয়ে যাচ্ছে।
একটা পর্যায়ে সংঘর্ষের পিছনে আদর্শগত কারণগুলোকে আর বাটিচালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না, কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায় বা পরিবর্তিত হয়ে যায় — থেকে যায় কেবল সংঘর্ষটুকু।
ভায়োলেন্সে আনন্দ পাওয়া মানুষের লং ফরগটেন আদিমতম বৈশিষ্ট্যগুলোর একটা। সংঘর্ষের উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত পুলক লাভে গিয়ে দাঁড়ায়, তা সে অবচেতনে আদিপুরুষের ঘাড়ে কাঁঠাল ভেঙ্গে হলে হলেও।
উদাহরণ দিতে চাচ্ছি না, তবুও কিছু একটা ভিজুয়ালাইজ করতে চৌধুরী বাড়ি আর মির্জা বাড়ির দ্বন্দ্ব ধরে নিন।
.
ব্যাসিলিস্ক-এ এমন দুটো আলাদা গোষ্ঠীর মধ্যে কয়েক শতাব্দীর পুরনো দ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে দুটো গোষ্ঠীই কল্পিত পৃথিবীর প্রসিদ্ধ দুটো নিনজা-ক্লান। দুপক্ষই মোটাদাগে সেরা দশজন নিনজা নিয়ে গঠিত এবং কোন অজানা এক কারণে দশ-দশ মোট বিশজন বাদে এই দুই ক্লানে আর কোন দক্ষ নিনজা নেই। নিনজারা সবাই অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পন্ন। ক্ষমতাগুলোর প্রদর্শনী ঠিক সুপারপাওয়ারের কথা মনে করায় না — বরঞ্চ মিউটেশনের সাথে ঢের মিল আছে। এসব যদিও নিনজা আর্ট বা নিনজুৎসু হিসেবে দেখানো হয়েছে — ক্ষমতাগুলো আপন করে নেয়ার দুর্ভাবনা কুক্ষণেও আসে না মাথায়। কদাকার, নিষ্ঠুর এবং ভয়ানক কিছু ক্ষমতা। এছাড়া চাইলেই একজন অন্যের নিজস্ব নিনজুৎসু শিখতে পারে না। সবার ক্ষমতা আর তাঁর কার্যকারণ আলাদা — কিভাবে কে কোন ক্ষমতা পেয়েছে তাঁরও কোন ব্যাখ্যা নেই। না, একে সিরিজের নেতিবাচক নয় বরং ইতিবাচক দিক হিসেবেই ধরছি।
জাপানিজ কালচারে নিনজাদের কেমন দেখা হয় হাতে-কলমে জানতে পারলে ভালো লাগতো, কিন্তু নারুতো আর ব্যাসিলিস্ক দ্যাখার পর মনে হয়েছে তাঁদের কাছে নিনজারা মানুষ যোদ্ধা থেকে বেশী কিছু ছিলো।
গল্পে ফিরে আসি — এই দুই ক্লান বিভিন্ন সময়ে দ্বন্দ্বের সমাধান করার চেষ্টা করেছে কিন্তু পুরোপুরি সফল হয়নি; উল্টো সংঘাতের ইতিহাসে নতুন রক্তের ছোপ লেগেছে। তবু যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আসা গেছে, সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। অ্যানিমের গল্পের সময়টাতে দুই-ক্লান সমাধানের দ্বারপ্রান্তে চলে আসে। কিন্তু এত বছরের খুনোখুনি চাইলেই ভুলে গিয়ে হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মেলানো যায়? দু-পক্ষের জন্যে অবস্থা জটিলতর হয়ে যায় যখন ঘটনাক্রমে যুদ্ধবিরতি যুক্তি বরবাদ হয়ে যায়। এসব প্রথম এপিসোডের প্লট — বাকিটা জানতে অ্যানিমে দেখতে হবে।
.
ব্যাসিলিস্ক বাস্তবিকই ডার্ক এবং পুরোদস্তুর ম্যাচিউরড অ্যানিমে – ভাবগত এবং চরিত্রগত দুভাবেই। চরিত্রগুলোর সবকটি পূর্ণবয়স্ক মানুষ। অনড় ন্যায়নীতি আর মূূল্যবোধের মত বালখিল্যতার পরিবর্তে নিজ নিজ ক্লানের প্রতি চির আনুগত্য আর অপর ক্লানের প্রতি ঘৃণাই তাঁদের পরিচালিত করে। গল্পে প্রটাগনিস্ট অবশ্যই আছে — কিন্তু তাঁর বা তাঁদের চোখে মাঙ্গাকা কোন মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করেন না। ব্যাসিলিস্ক দেখার সময় কোন চরিত্রের প্রতি আলাদা আকর্ষণ বা বিকর্ষণ কাজ করে না — উপরন্তু মোটিভেশন গুলো আমলে নিলে সবার অবস্থানকে ব্যাখ্যা করা যায়, তাঁদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করা যায়। অর্থাৎ অমক চরিত্র পটল তুললে সব শেষ — এই অনুভূতি দর্শককে তাড়িত করে না।
থিম ছাড়াও সিরিজে গ্রাফিক ভায়োলেন্স অত্যাধিক বেশী যে, গোর বললে ভুল হবে না। সেই সাথে সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স আর এক্সপ্লিসিটনেস উল্লেখ করার মত। সিরিজ দেখার ইচ্ছে থাকলে এটায় মাথায় রেখে বসতে হবে।
.
ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ঘটনাগুলোর তীব্রতা ভালভাবে ফুটিয়ে তুলতে। অ্যানিমেশন আর আর্টস্টাইলের প্রশংসা করা যাক। ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যানিমেশন দেখতে অনেকটা জিবলি স্টুডিওর অ্যানিমেশনের মত লাগে। আলোচনা করার চেয়ে দেখালে বোধহয় ভালো হবে। অ্যানিমে থেকে কিছু স্ক্রিনশটের লিঙ্ক দিচ্ছি, চাইলে ক্লিক করে দেখা যাবে।
https://imgur.com/gallery/Zg3pW/
.
ডার্ক ফ্যান্টাসি অ্যানিমের তালিকায় উপরের দিকে রাখতে চাই ব্যাসিলিস্ককে। ভালোবাসা, বিরহগাথা, স্বজনপ্রীতি, প্রতিশোধ, ক্রোধ – সবকিছু এক মোড়কে। এখানে কোন কিছুর কোন নিশ্চয়তা নেই। দপদপে কোন হৃদয়ের আর কোন প্রতিশ্রুতির কানাকড়ি মূল্য নেই। তাই গল্পের ব্যপ্তি খুব বেশী না হলেও, ব্যাসিলিস্ক-এর দুনিয়া প্রভাবিত করে। দিনশেষে দু-পক্ষের অতীতের সবটুকু জানার ইচ্ছে যাগে মনে।
আমার রেটিং ৮/১০

Kabaneri of the Iron Fortress [রিএকশন/রিভিউ] — Amor Asad

Kabaneri

আসুন, Kabaneri of the Iron Fortress কে কয়েক বাক্যে প্রকাশ করি —
অভিমান জমিয়ে রাখা, চুলে আলতা মাখা, ফাদার-কমপ্লেক্সে ভোগা ভালোবাসাহীন তরুণ, যে পোস্ট অ্যাপাক্যালিপ্টিক যুগের ডারউইন হতে চায়;
ডারউইন তরুণকে কাঁচকলা দেখাতে বেদুইনদের উত্তরসূরি-স্টাইলিশ-নার্ড কিশোরের ওয়ান ম্যান অ্যর,
এনিমখোরের ললিখোরদের উস্কে দিতে মারকুটে পিচ্চি বালিকা, যার আবার ব্রাদার কমপ্লেক্স আছে,
সুন্দরী প্রিন্সেস আর তাঁর লজ্জ্বাবতী বডিগার্ড,
টাইটানদের উত্তরসূরি লটস অফ লাভাখোর মরা মানুষ, ব্যাডঅ্যাস ট্রেইন।

মানে, হেটাররা এমনটাই ভাবে। আমি ভাবিনা। কাবানেরি অফ দ্য আয়রন ফোর্ট্রেস আমার দারুণ ভাল্লাগছে। এইতো ওপেনিং সংটা ডাউনলোড করে রিপিট দিয়ে শুনছি। পিসি আর ফোনের ওয়ালপেপার চেঞ্জাইলাইছি। স্বয়নে স্বপনে ইউকিনাকে দেখতেছি। ফ্যান না হইলে এই কাজ কেউ করে?

এবারে Kabaneri of the Iron Fortress এর প্লট কয়েক বাক্যে প্রকাশ করি —
জোম্বি ভাইরাস অ্যাপোক্যালিপ্স,
মানব সভ্যতা বিলুপ্তির পথে,
সারভাইভাররা নিজস্ব অর্ডার বানিয়ে নিয়েছে,
কিন্তু না — আশার বাত্তি নিভে নাই, ডালমে কুছ কালা হ্যায়, মিশ্র একদল শক্তিশালী আদমি আছে।
তাগো ভীতর একজন আবার এক্সট্রা ব্যতিক্রম। দুনিয়ার যাবতীয় দায়িত্ব তেনার ঘাড়ে নিয়ে বাকীদের তিনি দায়মুক্তি দ্যান।

অ্যাগেইন, এসব হেটারদের কথা। আমার না।
===
2013 সালে একটা সাই-ফাই মুভি রিলিজ পেয়েছিলো, Snowpiercer. ওই বছরের দারুণ ফিল্ম হলেও তেমন সাড়া পায়নি। স্নোপিয়ার্সারের গল্পটাও ট্রেনে। মানব সভ্যতা চিরস্থায়ী শীতকালের বশবর্তী, পৃথিবী বাসের অনুপযোগী। সারভাইভাররা সবাই একটা জায়ান্ট ট্রেনে উঠে বছরের পর বছর ঘুরতে থাকে। যদিও ওই মুভির বাকি সব গল্প আলাদা, কাবানেরি দেখতে গিয়ে প্রথমেই ওটার কথা মনে পড়েছিলো।

এরকম দ্রুতলয়ের কিছু দেখতে আলাদারকম ভাল্লাগে। অনেকদিন পর কোন অ্যানিমে এক বসায় শেষ করেছি। তাই হয়তোবা শেষের দিকে গোঁজামিল বা রাশড হবার পপুলার দাবীর যথাযথতা নিয়ে সন্দেহ আছে। আমার কাছে পুরো অ্যানিমেই সমান ভালো লেগেছে। সত্যি বলতে, ক্লিশে গুলো বাদ দিলে কাবানেরি দারুণ উপভোগ্য। চমৎকার অ্যানিমেশন, উত্তেজনাকর অ্যাকশন সিকোয়েন্স, সেই সাথে রক্ত গরম করা মিউজিক স্কোর। বিশেষ করে গল্পকথনের সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের এমন সামঞ্জ্যতা সহসাই দেখা যায় না। শেষবার এই টালমাতাল অনুভূতি পেয়েছিলাম ম্যাড ম্যাক্স ফিউরি রোডে। কাবানেরির ওএসটি নামিয়েছি, কিন্তু কেবল OP টাই শোনা হয় কেন যেন।
সেই সাথে সিনেম্যাটোগ্রাফি ছিলো বোনাস, ফাঁকা দুনিয়ার মাঝখান দিয়ে ট্রেইন ছোঁটার, বিশেষ করে এপিসোড শেষে স্টেশন থেকে কোন মতে জান নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার অংশটুকু যেন অনেকটাই পোয়েটিক – দেয়ার গোজ দ্য লাস্ট হোপ অফ সারভাইভাল।

কাবানেরি পছন্দ হবার আরেকটা কারণ হচ্ছে, আডিওলোজির কনফ্লিক্ট দেখলে ভাল্লাগে, যতই পুরনো হোক না কেন। আমাতরি বিবার দর্শনটা ফেলে দিতে পারিনি। বিভিন্ন সিচুয়েশনে তাঁর ভাবনার ধরণই বেশী গ্রহণযোগ্য মনে হয়। আবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইকোমা নিজ অবস্থানে ঠিক আছে, ইকোমা সেটা ইঁদুরের মতো চিঁ চিঁ করে বললেও।

Attack on Titan এর সাথে Kabaneri of the Iron Fortress এর মিল আছে, তবে অমিলই বেশী। এটা ওটার ছোট ভার্সন, ছোট ভাই, সেকেন্ড ভার্সন – ইত্যাদি বক্তব্য ভিত্তিহীন মনে হয়। AOT থেকে Kabaneri কোন দিক দিয়েই লেসার অ্যানিমে না, বরঞ্চ কিছু দিক দিয়ে এগিয়েই থাকবে।

আমার রেটিং ৮/১০

Akatsuki no Yona [রিভিউ] — Etminan Kabir

Akatsuki no Yona

Anime: Akatsuki no Yona
Episode: 24 (S1)

শুরুতে ২টি কথা-
১। ছোটবেলা থেকেই রুপকথার গল্পের প্রতি আমার বিশেষ মোহ ছিল, এ নিয়ে দেশী-বিদেশী অনেক বই পরেছি।
২। যে কোন সিরিজে আমি খুব চাই হাসির উপাদান থাকুক যাতে প্রাণ খুলে হাসতে পারি, কিন্তু কেন যেন খুব কম এনিমে দেখে আমি সত্যিকার অর্থে তৃপ্তি পেয়েছি। অনেক নামি-দামি হাস্যকর এনিমে- সবার মুখে প্রশংসা, কিন্তু দেখা যায় আমার বিরক্তি লেগেছে।

Spoiler-free summary: যুদ্ধ-বিরোধী রাজার একমাত্র আদরের মেয়ে Yona. তার চিন্তামুক্ত বিলাসী জীবন হঠাৎ একদিন তছনছ হয়ে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে Yona তার বিশ্বস্ত সঙ্গী Hak এর সাথে পালিয়ে যায় রাজ্য ছেড়ে। ধীরে ধীরে সে রাজ্যের বাইরের নিষ্ঠুর বাস্তবতার সাথে পরিচিত হতে থাকে, দেখা যায় একসময়ের আহ্লাদী রাজকন্যা ‘strong’ হওয়ার জন্য কীভাবে সংগ্রাম করে চলে, আর তার দল ভারি হতে থাকে mythical সব চরিত্র দিয়ে।

সিরিজের একটা ব্যাতিক্রম ব্যাপার হল এর ভিলেন। অন্যায়ভাবে সে সিংহাসন দখল করে ঠিক, কিন্তু এরপর রাজ্যের জন্য দক্ষতার সাথে এমন কিছু কাজ করে যে চাইলেও তাকে ঘৃণা করা যায় না, দ্বিধায় পরে যেতে হয়।

আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে এর কমেডি অংশ। chibi আর কণ্ঠ পরিবর্তন করে একদম সঠিক সময়ে এত সুন্দরভাবে সেগুলো উপস্থাপনা করা হয়েছে যে হাসি আসতে বাধ্য। opening theme 2 এ কিছু একটা ছিল যার জন্য নেশা হয়ে গিয়েছিল।

আমি adventure এনিমে খুব বেশি দেখি নি, তবুও বলতে পারব- তাদের অভিযান ছিল সতেজতায় ভরা। এনিমের সবকিছুই আমার কাছে perfect মনে হয়েছে। I enjoyed every single second of the series.

Adventure, Comedy, Fantasy পছন্দ থাকলে এটা ‘must watch’ একটা সিরিজ।

Enjoyment: 9+ (কাহিনী শেষ হয় নি, নাহলে ১০ হতেও পারতো)
অতিরিক্ত কথা- অনেকদিন পর MAL এ গিয়ে ‘favourites’ list edit করতে পারলাম।

আসানো ইনিও – মাঙ্গায় সাহিত্য-বাস্তবতা — Fahim Bin Selim

সাধারণভাবে কমিকবই অথবা মাঙ্গাকে সম্ভবত সবসময়ই হালকা শিল্প হিসেবে ধরা হয়ে এসেছে। একই সাথে সাহিত্য আর চিত্রকর্মের সংযোগ, কিন্তু কোনটাই পুরোপুরি না। লেখা ও ছবি দুটোই ব্যবহার করায়, কমে যাওয়া পাঠকের উপর অর্পিত ভাবনা আর কল্পনার সুযোগও। আমেরিকার সুপারহিরো কিংবা জাপানের কিশোর-নায়ক – বরং প্রচলিত কমিকবই, মাঙ্গার সাথে টেলিভিশন সিরিজ অথবা ম্যাগাজিনের ধারাবাহিক গল্পের তুলনাটা বেশি যুক্তিযুক্ত; নির্দিষ্ট কিস্তিতে অনেক সময় ধরে প্রকাশ হয় বলে বাজারে কাটতি ধরে রাখা অপরিহার্য ব্যাপার যেখানে, শিল্পের পাশাপাশি টিকে থাকার জন্য ব্যবসায়িকও চিন্তাটাও। বাস্তবতা থেকে টেনে নিয়ে বিমোহিত করা ফ্যান্টাসি গল্প, কিংবা পাতার পর পাতা লোমখাঁড়া করা অ্যাকশন দৃশ্য – এমনকি ভালোবাসা, বেড়ে ওঠা আর জীবন সংগ্রাম নিয়ে স্লাইস-অফ-লাইফ গল্পের ঘাটতিও জাপানের কখনো ছিলো না। কিন্তু আসানো ইনিওর রীতি ভাঙ্গার চেষ্টাটা তার গল্পের জনরাতেও না, গল্পের ধরনেও না — তা আরো সুক্ষ্ণ — গল্প বর্ণনায়, তার চরিত্রের উপস্থাপনায় লুকানো।

ইনিওর মাঙ্গায় বারবার ঘুরে ফিরে আসে পুরোপুরি কালো প্যানেলে কেবল ন্যারেশন কিংবা মোনোলোগ, সাহিত্যের কাছাকাছি যাওয়া সবসময়ই হয়তো তার চেষ্টা ছিলো। শুরুটাও সাহিত্যিকদের মত ছোট ব্যপ্তীতে, কতগুলো ওয়ান-শট মাঙ্গা দিয়ে। ধীরে ধীরে হাত শানিয়ে নেওয়া, নিজের জীবন থেকে টেনে আনা গল্পতে। এই সময় ইনিও মাত্র বিশের ঘরে পা রাখা যুবক। বেশিরভাগ গল্পতেই তাই স্লাইস-অফ-লাইফ, সেইনেন, এই দুই জনরা উপস্থিত। প্রথম দিকের ধারাবাহিক মাঙ্গা Solanin(২০০৫-২০০৬) আর Hikari no Machi[City of Lights](২০০৪)-তে আধুনিক শহুরে জীবনকে কাছ থেকে তুলে আনার চেষ্টা। ঘটনাকেন্দ্রিক না হয়ে ইনিওর মূল দৃষ্টি বরং তার চরিত্রদের উপর, চ্যাপ্টার ভেদে গল্প-বর্ণনার পয়েন্ট-অফ-ভিউ পরিবর্তিত হওয়া, ওমনিবাস ন্যারেটিভে হালকাভাবে সংযুক্ত অনেকগুলো সুতো দিয়ে ধীরে ধীরে মাকড়সার জালের মত শক্ত একটা গল্প-কাঠামো তৈরিতে।

005

Solanin-এর মূলচরিত্র মেইকো যেমন জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে দুই বছরের চাকরি ছেড়ে দেওয়া ২৪ বছরের এক যুবতী, ইনিওর বয়সটাও এসময় ২৪-ই। কৈশোর আর তারুণ্যের নদী পেরিয়ে জীবনসমুদ্রের অথৈজলে প্রথম অভিগমনের অভিজ্ঞতা এ মাঙ্গার পাতায় পাতায় — ভালোবাসা আর জীবন নিয়ে উদ্বেগ আর আশংকা, যখন প্রথমবারের মত নৌকাটার দাঁড়টা নিজের হাতেই, আর তার প্রতিটি টানের পরিণামও। নিজের স্বপ্ন আর সামর্থ্য নিয়ে চিরন্তন অন্তর্দ্বন্দ্বে আটকা থাকা। “Freedom without purpose feels a whole lot like a burden” – কালো প্যানেলের ন্যারেশনে মেইকোর স্বগতোক্তি আঁকা থাকে। মেইকোর সাথে সাথে হয়তো ইনিওর নিজেরও। শিল্পী হওয়ার চেষ্টাটা যখন সবসময়ই অনিশ্চয়তার এক পথ। “Maybe what you really want is something dreamy and unreal, and you are hesitating because of that.”

সাহিত্য-বাস্তবতা নিয়ে কাজ করলেও এই ড্রিমী এবং আনরিয়েল সুরা আর পরাবাস্তবতার ইনিওর গল্পে প্রবেশ করেছে হরহামেশাই। তার অ্যাবসার্ডিস্ট কমেডির হাত ধরে। Subarashi Sekai![What a Wonderful World!](২০০২-২০০৪) আর Sekai no Owari to Yokomae[Before Sunset and the End of the World](২০০৫-২০০৮), তার দুই গল্প-সংকলন, এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। প্রতি চ্যাপ্টারে আলাদা আলাদা চরিত্র আর তাদের গল্প। সদ্য মৃত্যু বরণ করা উড়ে বেড়ানো কোন আত্নার নতুন চোখে জীবনকে দেখা। কিংবা স্কুলে যাওয়ার পথে কাকের সাথে কোন মেয়ের কথোপকথন। আবার কোন তরূণীর বৃষ্টিস্নাত তন্দ্রায় এসে হাজির হয় মুরাকামির ব্যাঙ। ব্যর্থ এক মাঙ্গাকার অনেক বছর পর স্কুলের পূণর্মিলনীতে গিয়ে দেখা হয় ছোটবেলার প্রথম ভালোবাসার সাথে, এখন যখন সে অন্য এক বন্ধুর স্ত্রী।

007

“Sometimes I think if I open my eyes, I’ll be a kid again and none of this will have happened.
But this has happened. And this is the only me there is,” গ্রাস করা অনুশোচনা অথবা হতাশা।
জীবন কখন ছকে বাঁধা ছিলো? অথবা অনুমিত?
ইনিওর গল্প থেকে ঠিকরে বেড়োয় স্মৃতিকাতরতা। কৈশোরের বন্ধুত্ব আর প্রেম নিয়ে।

Umibe no Onnanoko[A Girl on the Shore](২০০৯-২০১৩)-র মত হয়তো তা কেবলই দৈহিক। র’ আর অনেস্ট। ভেঙ্গে পড়া মানুষের মাথার ভেতর ঢুকে যাওয়া। ভালোবাসার সংঙ্গাটাকে পুনর্নির্ধারনের চেষ্টায়। সোফিয়া কোপোলার Lost in Translation এর প্রাপ্তবয়স্ক হ্যারিস আর শার্লটের নিষ্পাপ ভালোবাসার সাথে বৈপরিত্য টানতেই যেন তখন ইনিওর হাতের কলম এঁকে বেড়ায় কৌশরে পা রাখা ইসোবে আর সাতৌর ব্যক্তিগত সব মূহুর্তে; Kafka on the Shore-এর কাফকা তামুরার মত সেক্সুয়ালিটি নিয়ে কৌশোরের দূর্নিবার কৌতুহলে। তাদের একাকীত্ব আর অবসন্নতায় ভর করা কোন দুপুরে, কানের হেডফোনে যখন বাজতে থাকে Kaze wo Atsumette.
Nijigahara Holograph(২০০৩-২০০৫)-এ সেটা আবার সাইকোলজিক্যাল হররে রূপ নেওয়া। নিষিদ্ধ কোন সম্পর্কে। আপাত সাধারণ জীবনের মাঝে হঠাৎ মাটি খুঁড়ে বের হওয়া কোন পুরনো, লুকানো, স্মৃতি। যেন সাদা কালো কালিতে আঁকা ডেভিড লিঞ্চের কোন ফিল্ম। টুইস্টেড আর আননার্ভিং। কিন্তু বাস্তব আর জীবন্ত।

dass

Oyasumi Punpun[Goodnight Punpun](২০০৭-২০১৩)-এ পুনপুন আর আইকোর ভালোবাসাটা শৈশবের শুভ্র সাদা কাপড়ে মোড়ানো, সহজ এবং সরল। তাদের প্রথম শপথের মত, “Punpun, if you ever betray me, I’ll kill you.” এবং পুনপুনেই প্রথমবারের মত “সাহিত্যিক” ইনিওর বড় গল্পের পথে পা বাড়ানো। ১৪৭ চ্যাপ্টার আর ১৩ ভলিউমে, পুনপুন তো একটা উপন্যাসই! Oyasumi Punpun পুনপুনের জীবনের পিছে ঘুরে বেড়ায় একেবারে শৈশব থেকে। কোন রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে নভোচারী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জন্মানোর মূহুর্তে, স্কুলে নতুন বদলি হয়ে আসা কোন বালিকার প্রেমে পরে যাওয়াতে, অথবা বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বেড়োনো কোন সন্ধ্যায় পরিত্যক্ত এক দালানের ছাদে অতিপ্রাকৃতের মুখোমুখি হওয়ায়। আবারো কালো প্যানেলে ন্যারেশন লেখা উঠে, কিন্তু কখনো পুনপুনকে আমরা কথা বলতে দেখি না, অথবা দেখি না তার আসল চেহারা। পুনপুনের ভাবনাগুলো জানতে পারি মধ্যম পুরুষে। পুনপুনের বুলিতে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায় আফ্রো চুলের জাপানী এক ঈশ্বর! হয়তো অনির্ভরযোগ্য সত্যতায়। পুনপুনই যেখানে চুপচাপ, লাজুক এক ওয়ালফ্লাওয়ার, তখন সেটাই তো স্বাভাবিক! মাঙ্গাতে উত্তর-আধুনিক আখ্যানের আবির্ভাব!

ইনিও অনুসরণ করে পুনপুনের স্বপ্নগুলোকেও। ছোটোবেলার নভোচারী হওয়া থেকে যা কৈশোরে বদলে যাওয়া মাঙ্গাকা হওয়ার ইচ্ছায়। অথবা আরো পরে, যখন চোখে অগুণিত সম্ভাবনার স্বপ্নালুতার বদলে জায়গা করে নিয়েছে ব্যর্থতার শূন্যতা। থাকে পুনপুনের ভাঙন ধরা পরিবার, হারানো ভালোবাসা আর আলগা হওয়া বন্ধুত্বের গল্পে।
বেড়ে ওঠা কখন সহজ ছিলো? অথবা নিখুঁত?
এবং পুনপুন বেড়ে ওঠার গল্প, কামিং-অফ-এজ এর অনবদ্য উদাহরণ; শুধু মাঙ্গা না, সাহিত্য…শিল্পের যেকোন মাধ্যমেই অন্যতম সেরা।

oyasumi-punpun-239358

ইনিও তার চরিত্রদের চিন্তাভাবনার ব্যবচ্ছেদ করে। পাঠকদেরও। তার গল্পগুলো কখনোই এসকেপিস্ট ফ্যান্টাসী না। ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করা তার নিজের ক্যামেরায় তোলা আসল রাস্তাঘাট আর ঘরবাড়ির ছবিগুলো বারবার বাস্তবতায় টেনে আনবে। সব উদ্ভট রসিকতা আর সুরা-পরা-বাস্তবতার আড়ালে ইনিওর চরিত্ররা চিন্তা করে সত্যিকারের মানুষের মত, কথা বলে সত্যিকারের মানুষের মত। তাদের সংগ্রামগুলোও সত্যিকারের মানুষের। মেইকো, ইসোবে অথবা পুনপুনের জীবনে – তাদের বেড়ে ওঠায়, বেড়ে ওঠার পর পেছনে ফিরে তাকানোয়, অথবা অনিশ্চয়তায় ঘেরা ভবিষ্যতে; স্কুলের টিফিনে বন্ধুদের আড্ডায়, প্রথম প্রেমে পরায়, অথবা তারূণ্যের জটিলতায়; বন্ধুত্বের ভাঙ্গা-গড়ায়, অনেক কাছের মানুষকে ভুলতে শেখায়; স্বপ্ন দেখায়, তা ভাঙতে জানায়, নতুন স্বপ্নে বিভোর হওয়ায়; মন্ত্র পড়ে ঈশ্বরকে ডাকার চেষ্টায়, পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কামনায়; ছোটবেলায় বড় হওয়ার বাসনায়, বড় হয়ে স্মৃতিকাতরতায় ভোগায়; মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখায়, নতুন জীবনের সাথে পরিচিত হওয়ায় – নিজেদের খুঁজে না পাওয়াটা দুষ্কর।

এবং তারপর তার ব্ল্যাক-কমেডি, অ্যাবসার্ডিসিজম আর সিনিসিজমের ভেতরে ইনিও যখন মাঙ্গার পাতায় জীবনের গল্প বলে আদি-অকৃত্রিমতায়, তার আঁকায় তুলে আনে সাধারণে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য্য, অথবা সাধারণে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার, হতাশ করে, বিদ্ধ করে বাস্তবতার ছুড়ি দিয়ে, বলে মানুষের ব্যর্থতা আর সীমাবদ্ধতা নিয়ে, আবার শেষ পাতায় এসে লিখে যায়, “As long as you are alive, something good is bound to happen”, আমাদের আটকে ফেলে পুনপুনের পাখির অবয়বে, আইকোর সাথে ভালোবাসায় অথবা আরো পরে সাচির সাথে সাক্ষাতে, কিংবা মেইকোর সাথে অনেক দিন আগে ফেলে রাখা গিটার তুলে নেওয়ায়, আর তা যখন ভাবতে শেখায় – নতুন জিনিস এবং পুরনো জিনিস নতুন করে, আর মনে গেঁথে থাকে, চিরদিনের জন্য গেঁথে থাকে, একই সাথে লেখা আর আঁকার ভাষায় – তখন তা সাহিত্য…শিল্প, উঁচুদরের শিল্পই।

Chapter121pg7

 

 

[১] Lost in Translation: https://en.wikipedia.org/wiki/Lost_in_Translation_(film)

[২] Kaze wo Atsumette: https://www.youtube.com/watch?v=k2SPeEeCj3I

[৩] Kafka on the Shore: https://en.wikipedia.org/wiki/Kafka_on_the_Shore

জুনজি ইতো হরর [মাঙ্গা সাজেশন] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

junji ito

ঈদ স্পেশাল সাজেশন

জুনজি ইতো হরর
বর্তমানে ভূতের গল্প বা মাঙ্গা পড়ে এখন অনেকেই আর ভয় পায় না :'( ! পাবে ক্যামনে !? দুপুর বেলাতে বা লাইট ফ্যান শহরে বইসা ভয়ের ঠিক আমেজ আসে না ! এবার ঈদে গ্রামে যারা গেছেন বা যাচ্ছেন তাদের বলি ! মোবাইলে করে জুনজি ইতো সমগ্র নিয়ে যাবেন । দুপুরে ঘোরাঘুরি , রাতে ফিরলেন । কুপির আলো জ্বলছে , বাইরে ঝিঝি পোঁকা , শেয়াল বা খাটাশ ডাকছে !অসাধারণ পরিবেশ । তখন মোবাইল খুলে শুরু করবেন ইতো পড়া । এই ইতো আবার কে অনেকেই ভাবছেন । ইতো হল হরর কমিকসের রাজাপুত্র । কত যে ফোবিয়া মানুষের আছে ! গর্তভীতি, পানিভীতি , পোকাভীতি , চুলের ভীতি আরও অনেক ।সেই ফোবিয়া নিয়ে ইউনিক আর্টের সাহায্যে ইউনিক সব হরর গল্প ফেদে বসেন । যার নমুনা দেখলে রক্ত ডিপফ্রিজের পানি মার্কা ঠান্ডা হতে বাধ্য ! স্পাইরাল নিয়ে উযুমাকি , জীবন্ত গ্রহ নিয়ে হেলস্টার রেমিনা , মাকড়সার মত পা বিশিষ্ট জম্বি মাছের আক্রমণ নিয়ে গিয়ো , ছলনাময়ী , লাস্যময়ী কামিনী ডাইনী মত তোমিয়ে এবং আরো অনেক ছোট ছোট চমকপ্রদ গল্প । তার কাহিনী হঠাত্‍ শুরু এবং হঠাত্‍ শেষ ! এবং আপনার দুঃস্বপ্নে কিছু একস্ট্রা এলিমেন্ট যোগ করবে ! তার মাঙ্গা পড়ার তার কাহিনী এবং হরর আর্টের এক ভয়ঙ্কর মোহ আপনাকে ঘিরে ধরবে 😀 পুকুড়ে সাতার কাটতে গিয়ে দেখবেন কিলবিলে পাযুক্ত মাছ সাতার কেঁটে চলে গেল , জানালার পাশে তোমিয়ের রিনরিনে হাঁসি , গাছের গুড়িতে স্পাইরাল গর্ত যা আপনাকে টেনে আধারে মিলিয়ে দেবে 😀 এক কথায় আপনার গ্রামে ভ্রমণকে থ্রিলিং ও আনন্দময় করে তুলবে 😀 !
বোনাস সাজেশন : সাথে বিভূতিভূষণের গল্পসমগ্র এবং হূমায়ুন আহমেদের সংকলিত ভৌতিক গল্পসমগ্রও পড়তে পারেন 😀
আপনার ঈদ আনন্দময় হোক ।

প্লানেটিস [রিভিউ] — Barkat Hridoy

Planetes 1

*** ঈদ স্পেশাল এনিমে রিকমেন্ডেশন+ ছোট এনিমে রিভিউ****

এনিমে: প্লানেটিস (Planetes)
জনরা: সাই-ফাই,ড্রামা,রোমান্স,সেইনেন,স্পেস
এপিসোড: ২৬
স্টুডিও: সানরাইজ

মহাকাশ নিয়ে মানুষের আকর্ষণ সেই আদিমকাল হতেই। মানুষ প্রতিনিয়তই চাইছে মহাকাশের সকল অজানাকে জানতে, মহাকাশের অজানা স্থানগুলো সবার আগে আবিষ্কার করতে ।যা Star Trek এর Captain Kirk এর ভাষায়, “To boldly go where no man has gone before”। ভবিষ্যতে কোনো এক সময় হয়ত মানুষ এতে সফলও হবে। যখন মহাকাশ যাত্রা শুধু স্বপ্ন থাকবে না, হবে বাস্তব। তখন কিরকম হবে আজকের পৃথিবী? তখন মানুষের জীবনধারাই বা কেমন হবে?

Synopsis:
সাল ২০৭৫। মানুষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেক উন্নতি করেছে। চাঁদ কিংবা মঙ্গলে যাওয়া এখন আর কোনো স্বপ্ন নয় বরং অনেক বাস্তব! এতটাই বাস্তব যে চাঁদ এখন মানুষের ছুটি কাটানোর জনপ্রিয় জায়গা!! কি নেই এখানে? দালানকোঠা, হাসপাতাল,গবেষণাগার সবই আছে।আরও আছে এই চাঁদ আর পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থানরত অসংখ্য স্পেস স্টেশন ও কৃএিম উপগ্রহ। মানুষ আছে, এতশত জিনিশ আছে, আর আবর্জনা থাকবে না? তা কখনো সম্ভব?

আবর্জনাও আছে। কিন্তু এই আবর্জনা স্পেস ডেভেলপমেন্টের জন্য একটি বড় বাধা কেননা সামান্য আবর্জনা থেকেও ঘটতে পারে বিশাল দূর্ঘটনা। আর এসব আবর্জনা পরিষ্কারের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত, তাদের বলা হয় ডেব্রি(Debris) কালেক্টর।
স্পেস স্টেশনগুলোতে থাকা হাজারো কোম্পানীর মাঝে একটি – “টেকনোরা”-‘র ডেব্রি সেকশনে নতুন যোগদান করল জাপানী তরুণী ‘আই তানাবে’। তার নতুন কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে যা ধারনা ছিল তা প্রথম দেখাতেই তা সম্পূর্ণ বদলে গেল।পৃথিবীতে আবর্জনা পরিস্কারকারীদের মত মহাকাশের আবর্জনা পরিস্কারকারীরাও অবহেলিত,সকলের হাসির পাত্র।যদিও তারাই জীবন বাজী রেখে এই কঠিন কাজ করে যাচ্ছে। এই অচেনা পরিবেশে, অচেনা সহকর্মীদের সাথে জীবনযাপন, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার – ‘আই তানাবে’ এর এই পথচলাকে কেন্দ্র করেই তৈরি ‘প্লানেটিস’, যা একইসাথে স্বপ্ন,জীবন,বাস্তবতা আর একটি মিষ্টি ভালোবাসার গল্প।

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
‘প্লানেটিস’ এর বড় শক্তি এবং আকর্ষনীয় দিক এর গল্পের বাস্তবিকতায়। সাল ২০৭৫ নিয়ে চিন্তা করতে গেলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে হাই টেক গ্যাজেট কিংবা সম্পূর্ন রোবট নির্ভর একটি পৃথিবীর চিত্র। কিন্তু আদতেই কি আমরা তাই পাব? উত্তরটা না বোধকই হওয়ার কথা।কেননা এত স্বল্প সময়ে এতটা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। কেমন পৃথিবী পাবো সম্ভবত তার সবচেয়ে আদর্শ রূপটাই তুলে ধরেছে প্লানেটিস।তাছাড়াও প্লানেটিস বিজ্ঞাননির্ভর।প্রায়ই সাই-ফাই এনিমেতে বিজ্ঞানের সূত্রকে তূড়ি মেরে বিভিন্ন কাজ করতে দেখা যায়।কিন্তু প্লানেটিসে অনেকটা বিজ্ঞানসম্মত ভাবেই সবকিছু যেমন: গ্র্যাভিটি, স্পেস স্টেশন,স্পেস ওয়াক, স্পেস সিকনেসের মত বিষয়গুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এবার আসি গল্পে। পুরো এনিমেকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম অংশকে অনেকটা এপিসোডিক স্লাইস অফ লাইফ বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু এই এপিসোডিক পর্বের মধ্যে চরিত্রদের মধ্যকার ইন্টারেকশন গুলোই গল্পের পরবর্তী অংশের জন্য শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।দ্বিতীয় অংশ টা অনেক ডার্ক, রোমান্চকর এবং চিন্তাউদ্দোপক। যাতে আছে পুঁজিবাদ,সাম্রাজ্যবাদ, রাজনীতি,জীবন শিক্ষা এবং মিষ্টি ভালোবাসার ছোয়াঁ। এত সবকিছু খুব সুন্দরভাবে কোনো ফ্ল ছাড়াই তুলে ধরা হয়েছে। এ অংশ অনেকটা এই বার্তাই দিয়ে যায় যে, পৃথিবীর বাহ্যিক পরিবর্তন যতই ঘটুক না কেন ভেতরটা সেই আগের মতই থাকবে।আর এন্ডিং নিখুঁত।এর থেকে ভালো এন্ডিং হতে পারেনা।

ক্যারেক্টার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট:
এনিমেতে প্রধান ক্যারেক্টার হিসেবে তানাবে আর হাচিমাকিকে দেখানো হলেও এনিমের প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং প্রায় প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্টই ছিল অসাধারন যা সচরাচর দেখা যায় না। স্পেশালি হাচিমাকির ডেভেলপমেন্ট আমার দেখা বেস্ট ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের মধ্যে একটি।একগুঁয়েমিতা ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পিছনে দৌড়ানো, নিজের ভয়কে জয় কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন সবকিছুই একটা নির্দিষ্ট পেসে খুব সুনিপুন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া তানাবে, ফি, ইউরিরাও ক্যারেক্টার হিসেবে ছিল অসাধারন।

আর্ট ও আ্যনিমেশন:
নিঃসন্দেহে সানরাইজ স্টুডিও এর বেস্ট কাজগুলোর একটি প্লানেটিস। আর্ট, আ্যনিমেশন, ক্যারেক্টার ডিজাইন, ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইন সবকিছুই টপনচ ছিল।

কিছু কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড এনিমেশন যেমন স্পেস থেকে দেখা সূর্যোদয়ের দৃশ্য, স্পেস স্টেশনের দৃশ্যগুলো দূর্দান্ত ছিল।

সাউন্ড ও মিউজিক:
এনিমেতে ওপেনিং হিসেবে আছে Mikio Sakai এর “Dive in the Sky” এবং ১ম এন্ডিং হিসেবে আছে একই গায়িকার “Wonderful Life”। দুটোই মোটামুটি ভালো। তবে প্লানেটিসের আসল আকর্ষণ এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে ‘Hitomi Kuroishi’ অসাধারন কাজ করেছেন। ইন্সার্ট সং হিসেবে থাকা তার গাওয়া “A secret of the moon” এবং দ্বিতীয় এন্ডিং “Planetes” সারাদিন লুপ দিয়ে শোনার মত গান।

এন্জয়মেন্ট:
ভাল এনিমে খুজঁছেন? সাই-ফাই লাভার? স্পেস বিষয়ক জিনিস ভালো লাগে? হলিউডের “গ্র্যাভিটি” মুভির ভক্ত? ক্লিশে শৌনেন, স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের প্রেম দেখতে দেখতে বিরক্ত? প্রিয়তমাকে ভিন্নভাবে প্রেম নিবেদন করতে চান?

সোজা দেখতে বসে যান এই মাস্টারপিস এনিমেটি।ইউনিক স্টোরি, অসাধারন এক্সিকিউশন,সুথিং মিউজিক, দূর্দান্ত ক্যারেক্টার সমৃদ্ধ এই এনিমেটি আপনাকে হাসাবে,নতুন করে ভাবাবে,মনে রোমান্চ জাগাবে এবং শেষে প্রশান্তি জোগাবে। এজন্যই ‘প্লানেটিস’ অনন্য, পার্ফেক্ট এনিমে এবং ট্রু মাস্টারপিস। তাই দেরী না করে দেখে ফেলুন ‘প্লানেটিস’।

MyAnimelist Rating: 8.30
Ranked: #160
Personal Rating: 10

Planetes 2

Hotarubi no Mori e [মুভি রিভিউ] — নাফিস মুহাইমিন

ছোট্ট হোতারু বনে হারিয়ে গেছে, বাড়ি ফেরার কোনো উপায় পায় না। কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। হঠাৎই আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে একজন, মুখ ঢাকা মুখোশে। নাম গিন।

গল্পটা কোনো এক গ্রীষ্মকালের। সে’বার হোতারুকে বাড়ি যাওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়েছিল গিনই। ভালো বন্ধু হয়ে যায় তারা।

মজার ব্যাপার হলো, গিনকে স্পর্শ করা যায় না। কোনো মানবসন্তান যদি ওকে ছুঁয়ে দেয় তাহলে ও অবলিটারেটেড হয়ে যাবে।

Hotarubi no Mori e

Title: Hotarubi no Mori e (蛍火の杜へ)
Alternative Title: Into the Forest of Fireflies’ Light
Release Date: September 17, 2011
Director: Takahiro Omori
Music: Makoto Yoshimori
MAL: 8.63 (http://myanimelist.net/anime/10408/Hotarubi_no_Mori_e)
Running Time: 44 min
Genre: Romance, Supranatural, Drama
Studio: Brain’s Base

কিছুটা অটোকনক্লুসিভ এই মুভির সোর্স হলো ইয়ুকি মিদোরিকাওয়ার সেম টাইটেল্ড ওয়ান-শট ম্যাঙ্গা। গল্পের সাথে রিলেটেড কীপসেক এডিশন ম্যাঙ্গাও রিলিজ পেয়েছিল যদিও। যারা ম্যাঙ্গাকাকে চেনেন না, তাদের বলি, নাতসুমে ইয়ুজিনচৌ – এর স্রষ্টা তিনি। মুভিটা যথেষ্ট প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয় দেশে বিদেশে। গল্পের সেটিং ছিল জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারের কামিশিকিমি কুমানোয়মাসু শ্রাইন।

জাপানীজ ফোকলোর, মিথোলজি বা ফ্যান্টাসির গল্পে অ্যাডাপ্টেশন খুব বিরল কিছু না। হোতারুর পারসপেক্টিভ থেকে বলতে চাওয়া গল্পতে মানুষ এবং অতিপ্রাকৃত সত্তার সম্পর্ক উঠে এসেছে। আর্টওয়ার্ক যথেষ্ট ভালো। রং ব্যবহারে কোমলতা, আলোর প্রাচুর্য চোখে পড়ার মতো। এবং সব ফিগারই চমৎকারভাবে ডিটেইলড ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ব্রেইন’স বেস তাদের অ্যাবিলিটি দেখিয়েছে বটে। অ্যানিমেশন ক্রুরা মুভিটা তৈরির পেছনে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে। ছোট ব্যাপ্তির এই মুভির কাহিনীতে দর্শক ডুবে যায়, বশীভূত হয় আবেগের। মুভিতে পুরোটা সময় জুড়ে একটা সারল্য বিরাজ করে। হায়াও মিয়াজাকি বা মাকোতো শিনকাইয়ের কাজ যারা দেখেছেন তারা বুঝতে পারবেন। সেইয়ুদের কাজও চমৎকার হয়েছে। হোতারুর ভয়েস দিয়েছে আয়ানে সাকুরা, গিনের কোউকি উচিইয়ামা।

সাউন্ডট্র্যাক খুবই ইনটেন্স। এক একটা দৃশ্যের সাথে এর মিউজিক যে প্রণোদনা সৃষ্টি করে তা লিখে বোঝানো সম্ভব হবে না কখনোই। এন্ডিং সংটা মনে দাগ কেটে যায়। মেলানকোলিক আবহে ইনস্ট্রুমেন্ট প্লেয়িং — লিরিক্যাল থিমকে রিফ্লেক্ট করেই তা করা। ট্র্যাকটা শুনতে শুনতে ঘণ্টার পর ঘন্টা পার করেছি। শিজুরু য়ুকাতার গাওয়া “Natsu wo Miteita” ঠিক এতটাই প্রিয়। গল্পের প্রগ্রেশনের সাথে সাথে পিয়ানো আর ভায়োলিনের শব্দব্যঞ্জনা আচ্ছন্ন করে রাখে দর্শককে। কাহিনীর সারল্য, উত্তেজনাশূন্য শান্ত সময়কে ডিপিক্ট করতে বা রোমান্টিসিজমে — হোতারুবি নো মোরি এর সাউন্ডট্র্যাক অসম্ভব ব্রিলিয়্যান্ট কিছু কাজের একটি। ব্যাকগ্রাউন্ডে যখন “Kanakana Shigure” প্লে হচ্ছিল, আবেগে, অবসন্নতায় চোখ বুজে ফেলেছিলাম।

কাহিনীর প্রাঞ্জলতা একটা রিফ্রেশিং ভাব তৈরি করে। মুভিটা দেখতে বসে রিল্যাক্সড ফিলিংস চলে আসাটা অসম্ভব কিছু না। এই মুভির একটাই নেগেটিভিটি — শর্ট লেন্থ।

আর কোনো মুভিতে নায়িকা মনে হয় না এতবার ধপাস করে পড়ে গেছে, রেকর্ড বটে! রোমান্স জনরাতে খুব প্রিয় কিছু মুভির মাঝে এটা একটা। এতটা ভালোলাগা আর কখনোই কাজ করেনি।

কেউ কাউকে ছুঁয়েছে কি ছোঁয়নি, গল্পটা আমাকে ছুঁয়ে গেছে, চেতনার গভীরে।