Great Teacher Onizuka (G.T.O) [রিভিউ] — Portgas D. Soumik

gto-1

Anime: Great Teacher Onizuka (G.T.O)
Genre: Comedy, Slice of Life
Episode: 43
MAL Rating: 8.77
Personal Rating: 9.50

আমাদের প্রায় সবারই টিচার দের নিয়ে কম বেশি অনেক স্মৃতি আছে। কিন্তু এমন টিচার কখনো দেখেছেন যে কিনা ছাত্রদের কাছ থেকে eroge magazine বাজেয়াপ্ত করে আবার ওই ছাত্রদের সাথেই তা পড়ে…..আবার যে কিনা মাঝরাতে খালি গায়ে আর হাতে হাতুড়ি নিয়ে ছাত্রীর বাসায় যায় হোম ভিজিট করতে….আবার যে কিনা তার ছাত্রদের বাচাতে একবার না দুইবারও না.. তিন বার বিল্ডিং থেকে লাফায়ে পরে!!!!

বলছিলাম Eikichi Onizuka এর কথা…. ২২ বছর বয়স,ব্যাচেলর, সাবেক মোটরবাইক গ্যাং লিডার,ভয়ংকর পার্ভার্ট এবং………..টিচার!!!!!

gto-2

হঠাৎ করেই তার ইচ্ছে জাগে টিচার হওয়ার (মূল উদ্দেশ্য ৪০ বছর বয়সে যাতে ১৬ বছর এর বউ খুজে পায় তার ব্যবস্থা করা)
একসময় সে টিচার হিসেবে নিয়োগও পায় এক স্বনামধন্য প্রাইভেট স্কুলে(যদিও তা অত্যন্ত ঘটানাবহুল ইন্টার্ভিউ এর মাধ্যমে)
স্কুলে তাকে দেয়া হয় ক্লাস 3-4 এর হোমরুম টিচার এর দায়িত্ব… এই ক্লাস 3-4 এর আবার পুরো স্কুলে সুনাম(!) আছে টিচার বিতাড়ন,bullying সহ আরো নানান কাজকর্ম এর
স্কুলের চেয়ারম্যান এর বিশ্বাস একমাত্র ওনিজুকা সেন্সেই পারবে এই problem child দের সামলাতে আর স্কুলকে শুধু পড়াশোনার পাশাপাশি মজা করার জায়গাও করে তুলতে

গ্রেট টিচার ওনিজুকা এর গল্প মূলত ওনিজুকা সেনসেই আর তার ক্লাস 3-4 এর ছাত্রদের মাঝের সম্পর্ক, তাদের নানা সমস্যা এবং ওনিজুকা সেনসেই এর উদ্ভট সব সমাধান এসব কিছু নিয়েই গড়ে উঠেছে

আবার টিচাররাও যে মানুষ তাদেরও যে ভুল হতে পারে… তারাও যে ছাত্রদের নিয়ে নানা রকমের সমস্যায় পড়েন তাও এখানে তুলে ধরা হয়েছে

GTO মূলত জীবন ভিত্তিক স্লাইস অফ লাইফ এনিমে যেখানে টিচার আর ছাত্রদের মধ্যকার সম্পর্ক, শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসঙ্গতি হাসি ঠাট্টার মাঝে তুলে ধরা হয়েছে

যারা সিরিয়াস এনিমে দেখতে দেখতে ক্লান্ত এবং যারা লাইট,রিফ্রেশিং আর দম ফাটানো হাসির কিছু দেখতে চান তাদের জন্য এইটা মাষ্ট ওয়াচ

আর হ্যা এনিমেটা একটু পুরনো হওয়ায় এইটার আর্টস্টাইল আর এক্সপ্রেসন গুলো কিছুটা odd লাগতে পারে তবে আমি বলব এইটাকে এর কমেডির অংশ হিসেবে দেখতে

যারা Assassination classroom দেখেছেন তাদের অবশ্যই এই মাষ্টারপিস দেখা উচিৎ

Gintama Fanfiction: প্যারোডি — Rahat Rubayet

গিন্তোকি, কাগুরা আর শিনপাচি ৩ জনই তাদের অফিস রুমে বসে আছে! ওয়েল, তাদের অফিস রুমের বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা অন্যকোন দিনও করা যাবে। তবে, তাদের রুমের একপাশে একটি ১৭ইঞ্চি মনিটর সমেত কম্পিউটর আর তাতে ইন্টারনেট কানেকশান যে এসে পরেছে, তা জানানো প্রয়োজন। ৩ জন মিলে সেই মনিটর স্ক্রীনের দিকে ১ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নেট কানেকশন নিয়েই একটা ডোমেইন আর হোস্টিং নিয়ে একটা ফোরাম খুলে ওরা। ইতিমধ্যে বেশ ভালই সাড়া ফেলে দিয়েছে, শিনসেংগুমির প্রায় সবাইই ফোরামে জয়েন করেছে।
আজ সেই ফোরামে একজন কেউ একজন তাদের নিয়ে একটা ফিকশান পোস্ট করে বসে আছে! তাই ৩ জনে মিলে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সাথে তা খুঁটিয়ে লক্ষ্য করছে কোথাও উলটপালট কিছু লিখেছে কিনা! লিখা পড়তে পড়তেই হটাত, নতুন নোটিফিকেশন আসল, শিনসেংগুমির একজন হাতে আকা একটা ছবি পোস্ট করেছে!
লিখাটা রেখে ছবিটায় ক্লিক করল, গিন্তোকি!
ক্লিক করতেই মুখ দিয়ে অস্ফুটভাবে বেরোয়, “আরে….”
-“কি হল গিন-সান”
-“এই পুলা আবার আমাদের রাইখে ফুলমেটালের ক্যারেক্টার এর ফ্যান আরট আকসে! এত্ত কষ্ট করে, এত্ত এত্ত প্যারোডি বানায়ে এত্ত কমেডি কইরে মাই এনিমে লিস্টের ১ নম্বরে আসলাম- আর……… “

এই পর্যায়ে শিনপাচি তার চশমা ঠিক করতে করতে বলে, “গিন-সান, মাংগা আর এনিমেগুলার একটা আরেকটার প্রতি পারস্পরিক সম্মান রাখাটা উচিত, না হলে ফ্যান্ডমে খুনোখুনি বেধে যাবে! আর তাছাড়া,……… ” এইটুক বলে একটু রহস্যময় একটা লুক দেয় পাঞ্চলাইন-মাস্টার শিনপাচি।
“আর তাছাড়া,….??” অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে কাগুরা।
“তাছাড়া, মাই এনিমে লিস্টের টপ পজিশন আর আমাদের দখলে নেই। গেল হপ্তায় নূতন একটা এনিমে মুভি আমাদের কাছ থেকে এই পজিশন ছিনিয়ে নিয়েছে!”
“না, না না!!! এ হতে পারে না, চৌধুরী সাহেব! এ ঘটনা ঘটার আগে আমি কেন বেচে উঠলাম না!” বলে বিলাপ করতে থাকে কাগুরা।
“ওয়ে, কাগুরা! এইসব বাংলা সিনেমার ডায়লগ দিয়ো না! এইসব উলটাপালটা ডায়লগ শিখলেই বা কই থেকে”
“আরে, আমি কি করবো, ধুর! স্ক্রিপ্টে তো অমনই লিখে রেখেছে! সব ওই নচ্ছার লেখকের কারসাজি! সেইদিন আমার ইতাচিকুনকে পচায়ে কি প্যারোডিই না করলো এক লেখায়!”
” ওয়ে কাগুরা! শান্ত হও! আমরা এখনো তার লেখার ভিতরেই বন্দী। কাজেই ওকে নিয়া উলটাপালটা কিছু বলা ঠিক হবে না!”
এবার কথা পারলো শিনপাচি ” তাছাড়া, নারুতো এনিমেটা শেষ এর দিকে- আমার মনে হয়, আমাদের একটা ট্রিবিউট এর মতন দেয়া উচিৎ, গিনসান!”
-“হুম, বোকু নো হিরো আকাদেমিয়া থেকে এট্যু যেড কপি করলেও ফিলার দিয়ে এনিমেটা সবার মনে জায়গা করে নিয়েছে”, বলে চলে গিন্তোকি সাকাতা “তাই আমাদের উচিৎ কিশিমোতো সেন্সেইর প্রতি একটা ট্রিবিউট দেয়া!”
“হুম হুম, ইতাচি আর ইতাচি শিপ্পুডেন এনিমেটা আসলেই সর্বকালের সেরা এনিমে” যেন ঘোষনা করল কাগুরা।”
“কিন্তু, গিনসান! তাহলে তো আমাদের ব্লিচ নিয়েও একটা প্যারোডি থুক্কু ট্রিবিউট দেয়া উচিৎ।”
গিন্তোকি উত্তর করে, শিনপাচির উদ্দেশ্যে, “না! কারন, এই ফিকশানের লেখক নারুতো এনিমের ফ্যান- ব্লিচের ফ্যান না! আমরা যদি ব্লিচ নিয়ে কিছু করতে যাই- নগদে খায়ে দেবে লেখক”
-“কিন্তু, গিনসান আমার তো ব্লিচের একশন বেশি ভাল্লাগে। ইভেন, আমার কাছে ব্লিচ ইজ বেটার দ্যান……………”
………………
………………
দু:খিত যান্ত্রিক গোলযোগ আর মব সাইকোর ১০ম এপিসোড দেখার জন্য ফ্যানফিকের রাশ এন্ডিং টানতে বাধ্য হলেন লেখক!

দ্রষ্টব্য : (সথাসম্ভব সংক্ষেপিত আর প্রচন্ড মাত্রায় পরিমার্জিত)

Black Joke [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

black-joke

ডার্ক, গোর, নুইডিটি আর সেইনেনের সাথে রসিকতার মিক্সে যে মাফিয়া নিয়ে এমন মাঙ্গা আছে কেই বা জানতো!? আন্দাজে উড়াধুরা মাঙ্গা সিলেক্ট করে পড়ার সময় পাইলাম এই কালো হীরা! মাসুদ রানার চাই ঐশ্চর্যর কথা মনে পড়ছিল এই মাঙ্গা পড়ার সময়।

এই মাঙ্গার কাহিনী হল জাপান U.S.A এর ৫১নাম্বার রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এবং সেখানের চলে মাফিয়াদের রাজত্ব। এই শহরে ড্রাগ চালান, দেহব্যাবসা সব লিগাল। জুয়াবাজি তো ডালভাত! তো এইখানে মূল ২ চরিত্র হল কিরা আর কোডামা, তারা এক ক্যাসিনোর ব্যাবস্থাপনায় যুক্ত। কিরা লম্বা, অতি সুদর্শন, চার্মিং, প্লেবয়, বহু ভাষায় পারদর্শী এবং শার্লকের মত অবজারভেশন ক্ষমতা। তার সহযোগী কোডামা। এর বডি যেন গ্রীক গড অফ ওয়ারের মত। শ্রীকান্তের ইন্দ্রের মত এর হাতের দৈর্ঘ এর হাটু পর্যন্ত। এবং তার মাথার চাইতে তার হাতের মুষ্টি বড়। তাদের বিভিন্ন মিশন নিয়েই কাহিনী।

আরও আছে স্যাডিস্টিক এসাসিন ললিতা আর পঙ্গু খুনে মাফিয়া বস আরও অনেক।
এই মাঙ্গাতে একটা ভালো বা সত্‍ ক্যারেক্টার নাই। সবাই শয়তান এবং সবাই ব্যাডাস! এইটার কাহিনী খুবই ইন্টারেস্টিং, কিরার বুদ্ধি আর কোডামার শক্তি দেখার মত জিনিস!!! তবে একটা কথা বলতে হচ্ছে এইটা প্রচুর ডির্স্টাবিং। এর আর্ট কাহিনীর সাথে পুরোপুরি মানায় । আর্ট ফ্রেশ এবং ডিটেইলড। এই মাঙ্গাতে অনেক রেফারেন্সও আছে যেমন পাল্প ফিকশান এবং ওল্ড বয়। নগ্নতা আর গোরে ভরা ফলে অনেকেরই ঘেন্না লাগতে পারে। তবে এর একশান এবং কিলিং সিনগুলা অস্থির। শিরদাঁড়া বের করে ফেলা, গুলি লেগে ধীরে ধীরে মগজ চোখ বের হয়ে যাওয়া, আইসক্রিমের চামচ দিয়ে চোখ তুলে ফেলা এইসব। এই মাঙ্গা পড়ার জন্য ১৬ প্লাস হওয়া উচিত এবং সবার হজম হবে না এটা আগেই বলে দিলাম, পরে বকতে পারবেন না কিন্তু! যার গোর, মাফিয়া এবং ইচ্চি ভক্ত তারা অবশ্যই পড়বেন। কমপ্লিট না। তবে আপডেট অনেক দেরীতে আসে। তবে এক বা ২ চ্যাপ্টারে এক একটা কাহিনী তাই পড়ে শান্তি আছে। আশা করি ভালো লাগবে পড়ে!

Kaguya-hime no Monogatari (The Tale of the Princess Kaguya) [মুভি রিভিউ] — Etminan Kabir

the-tale-of-the-princess-kaguya

Movie: Kaguya-hime no Monogatari (The Tale of the Princess Kaguya)
Duration: 2 hr 17 min
MAL Score: 8.39

নার্সারিতে পড়তে একটা বই প্রাইজ পেয়েছিলাম- ‘ফোক টেলস অফ বেঙ্গল’। বই পড়ার খুব নেশা ছিল তখন, শেষ করতে বেশিদিন লাগে নি (কোন ক্লাসে পড়েছি মনে নেই)। রাজা-রাজকন্যা, সোনার কাঠি-রুপোর কাঠি, রাক্ষস-পেত্নি…গল্প পড়ার সময় আমি সত্যি সত্যি বিভোর হয়ে যেতাম, মনে হত চোখের সামনে সব দেখতে পাচ্ছি। সে থেকেই রুপকথার প্রতি আমার আগ্রহ; এর উপর বিদেশী অনেক গল্প পড়েছি, মুভি-এনিমেশন দেখেছি; কিন্তু আজকের অভিজ্ঞতা পুরো আলাদা।
মুভিটি নিয়ে বলতে চাইলে প্রথমেই এর এনিমেশনের কথা আসবে, আর ট্রেইলারে এই আর্ট স্টাইল দেখেই আমি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হয়েছি। প্রতিটি সিন অনেকটা মোমরঙে আঁকা ছবির মতো, মনে হবে হয়তো সময় ছিল না হাতে, তাড়াহুড়ো করে শখের কোন আঁকিয়ের আঁকা। কিন্তু এর মাঝে যে কী ছিল! মুভিটি দেখার সময় বারবার আর্টের দিকে চোখ পরছিল, কাহিনীর দিকে খেয়ালই নেই। ‘রুপকথা’ থিমের সাথে মিলিয়ে এর চেয়ে মানানসই এনিমেশন বোধ হয় সম্ভব না। ছোটবেলায় দাদীর কাছে গল্প শোনার সময় মনে যেমন ছবি ভাসে, এর আর্ট ঠিক সেরকম।

গল্পের কাহিনী খুবই সুন্দর, পরিপক্ব। গরিব কাঠুরে(!), বাঁশ কেটে জীবন চালায়, বাঁশ কাটতে গিয়ে একদিন অতিপ্রাকৃতভাবে ছোট্ট এক মেয়ের দেখা পায়। দু হাতের মাঝে এঁটে যাওয়া মেয়েটিকে আশীর্বাদ ভেবে সে বাড়িতে নিয়ে আসে। বুড়োবুড়ি মিলে ঠিক করে এখন থেকে নিজের মেয়ে হিসেবে বড় করবে তাকে। এরপর থেকে তাদের জীবনটা অন্যরকম হয়ে গেল, বুড়ো মাঝে মাঝেই বাঁশ কাটতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত সব জিনিশ পায়। তার ধারণা হয়- মেয়েটিকে ‘noble princess’ হিসেবে বড় করার জন্য স্বর্গ তাকে আদেশ করছে। যে মেয়েটি গ্রামের আর ১০টি ছেলেমেয়ের মতো নেচে-কুঁদে বেড়াত তার স্থান হয় শহরের এক জমিদার বাড়িতে। বুড়ো বাবা স্বপ্ন দেখে ‘noble princess’ হবার মাঝেই মেয়ে সুখ খুঁজে পাবে, আর মেয়ে খাঁচায় বন্দী পাখির মতো শুধু ছটফট করে। রাজকন্যার রুপ-গুণের ভূয়সী প্রশংসা রাজ্যসম ছড়িয়ে পড়ে, বড় বড় রাজপুত্র এসে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে যায়, কিন্তু সুখ কোথায়? আর তার অস্তিত্বের রহস্যটাই বা কী!

মুভিজুড়ে রাজকন্যার বড় হওয়াটা দেখার মতো। গ্রামের ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের সাথে তার উচ্ছল বিচরণ, খুনসুটি আর দলবেঁধে কোরাস গাওয়া দেখে মনে হালকা এক ধরনের পবিত্রতা এসে ভর করে। আর শহরের হাজার নিয়মের বেড়াজালে সেই স্বত্বা যখন স্তিমিত হয়ে পড়ে, তখন চাপা কষ্ট অনুভুত হয়। এর মাঝেও নিয়ম ভেঙ্গে হঠাত হঠাত তার স্বেচ্ছাচারিতা দেখলে মন ভরে যায়।

মুভির soundtrack একেবারে জুতসই। বেশিরভাগ সময়েই কোন background sound থাকে না, মাঝে মাঝে পিয়ানোর মতো কি যেন একটা বাজে, মনে খুব ধরেছে সেটা।

সব মিলিয়ে রুপকথার যথাযথ আবেশ নিয়ে একটি পুর্ণাঙ্গ রুপকথা The Tale of the Princess Kaguya। আর্ট আর মিউসিক এমনই যে আপনি হয়তো রুপকথার রাজ্যে ঘুরে আসার অনুভূতি পাবেন। at least আমি পেয়েছি। মুভিজুড়ে জাপানের অনেক ঐতিহ্যের পরিচয় পাওয়া যায়। ব্যাক্তিগতভাবে আমার কোন আগ্রহ ছিল না, কিন্তু মুভির সাথে ট্র্যাডিশনাল ব্যাপারগুলো এমনভাবে মিশে গিয়েছে যে দেখতে ভালো লাগে (অবশেষে কোন এক Ghibli মুভি আমার মন কাড়ল)।

পছন্দের চরিত্রঃ Kaguya (স্বাভাবিক), Me no Warawa (বেঁটে করে ভোম্বল এক মেয়ে, যাকে দেখলেই হাসি পায়)।

BECK: Mongolian Chop Sqad [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

beck_mongolian_chop_squad

Anime: BECK: MONGOLIAN CHOP SQUAD
Genre: Music, Slice of life, Comedy-drama
Episode: 26
Year: 2004
Studio: Madhouse
¤
কুরবানির ছুটিতে কিছুদিন বাড়িতে ছিলাম। একটা এনিমে দেখবো দেখবো করছিলাম। এক সিনিয়রের পরামর্শে বেক নামালাম ও দেখলাম। মিউজিক বোধহয় আসলেই জীবনের কথা বলে আর এজন্যই সব মিউজিক ভিত্তিক এনিমেগুলা ভালো হয়। BECK ও এর ব্যতিক্রম নয়। ছাব্বিশটা পর্ব আর হাতে সময় ছিল সাত দিন। কিন্তু ডেটলাইন শেষ হওয়ার দুই দিন আগেই এনিমেটা দেখে শেষ করি। ক্লাসিকাল মিউজিক নিয়ে কিছু এনিমে দেখা হলেও রক মিউজিক নিয়ে এটাই প্রথম অভিজ্ঞতা। শিগাতসুর পর আরেকটা এনিমে পেলাম যার মধ্যে অনেকগুলো ভালো ভালো অরিজিনাল সং আছে।
¤
কাহিনী আবর্তিত হয় তানাকা কয়ুকি নামক এক নিরীহ মিডল স্কুল বালককে ঘিরে। ক্রমাগত বুলিংয়ের শিকার হওয়া কয়ুকি যখন পৃথিবীর সব ধরণের এলিমেন্টের উপর আকর্ষন হারিয়ে ফেলছিল ঠিক তখনই ঘটনাচক্রে BECK নামক এক অদ্ভুত দর্শন কুকুরের সাথে তার দেখা হয়ে যায়। কিছু অল্প বয়স্ক বালকের কবল থেকে কুকুরটাকে রক্ষা করার পর কুকুরটির মালিক রিয়ুসকে মিনামি তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানায়। পরবর্তিতে বন্ধু মারফত কয়ুকি জানতে পারে যে, রিয়ুসকে নিজেকে বিশ্ববিখ্যাত ব্যান্ড ‘THE DYING BREED’ এর লিড গিটারিস্ট এডি লি এর বন্ধু বলে দাবি করে। রিয়ুসকে আট বছর USA এ তে কাটানোতে জাপানিজের চেয়ে ইংরেজিতেই বেশি দক্ষ। তারপর কয়ুকি আবিষ্কার করে যে, রিয়ুসকে আসলেই একজন প্রতিভাবান গিটারিস্ট এবং তাকে নেকস্ট জিমি পেইজ নামে ডাকা হয়। রিয়ুসকে ‘SERIAL MAMA’ নামক একটা ব্যান্ডের সদস্য যারা কিনা বিভিন্ন কনসার্ট হলে লাইভ পারফরম্যান্স করে থাকে।কিন্তু ব্যান্ডের আরেক সদস্য এইজির সাথে রিয়ুসকের দ্বন্দ্ব বাঁধে এবং এই দ্বন্দ্বের জের ধরে সিরিয়াল মামা ব্যান্ডটি ভেঙ্গে যায়। রিয়ুসকে ও এইজি উভয়েই একটি আল্টিমেট ব্যান্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ নেয় এবং সেই লক্ষ্যে নতুন মেম্বার খোঁজা শুরু করে। রিয়ুসকে তায়রা কুন নামের এক প্রতিভাবান বেসিস্টকে বেস গিটারিস্ট হিসেবে পাশে পায়। নিমরাজি হওয়ার পরও চিবা কুনকে সে দলে নেয় ভোকাল হিসেবে যে কিনা কারাতেতেও পারদর্শী। আর কোগা সান নামক একজনকে ড্রামার হিসেবে ব্যান্ডে নেওয়া হয়। ব্যান্ডের নাম দেওয়া হয় রিয়ুসকের অদ্ভুতদর্শন কুকুর BECK এর নামে। এই ফাঁকে রিয়ুসকের সাথে কয়ুকির ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে ও এরই প্রভাবে সারাজীবন আইডল মার্কা গান শোনা কয়ুকি রক মিউজিকের দিকে ঝুঁকে পড়তে শুরু করে। সে BECK এর বিভিন্ন লাইভ শো তে উপস্থিত থাকা শুরু করে। এরকম এক শো তেই রিয়ুসকে তার চতুর্দশী কিশোরি বোন মাহো মিনামির সাথে কয়ুকির পরিচয় করিয়ে দেয়। সমবয়সী হওয়ায় মাহো আর কয়ুকির মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। পশ্চিমা সংষ্কৃতির স্পর্শে বেড়ে উঠা মাহোর সাহসী চলাফেরা কয়ুকির মনে ভালোবাসার অনুভূতির সঞ্চার করে। মাহো নিজেও খুব ভালো গায়কির অধিকারী কিন্তু তারপরও সে মিউজিকে ক্যারিয়ার গড়তে চায় না। একদিন রিয়ুসকের আস্তানা হতে ফেরার সময় সুইমিং পুলের পানিতে চাঁদের পূর্ণ প্রতিবিম্ব দেখে অদ্ভুত সুরেলা কণ্ঠে মাহো ‘THE DYING BREED’ এর ‘MOON ON THE WATER’ গাওয়া শুরু করে। সঙ্গে থাকা কয়ুকিও তখন আবেগবশত গানটির প্রথম চার লাইন গেয়ে উঠে। তখনই মাহো কয়ুকির প্রতিভা অনুধাবণ করতে পারে এবং কয়ুকিকে BECK এ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রিয়ুসকেকে অনুরোধ করে। ইতোমধ্যে কয়ুকি সাইটো সান নামক এক সাবেক সাঁতারু ও সঙ্গীতপ্রেমীর কাছে গিটারের তালিম নেওয়া শুরু করে। পরবর্তিতে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে কয়ুকি BECK এর সদস্যপদ পায়। সাথে সঙ্গী হিসেবে পায় ট্রান্সফার হওয়া স্কুল ফ্রেন্ড সাকুরাই ওরফে সাক্কুকে যাকে কিনা কোগা সানের বদলে ড্রামার হিসেবে দলে নেওয়া হয়। শুরু হয় একদল নবীন অভিযাত্রী কাঁটাভরা পথে দুর্গম যাত্রা…
¤
বেক নিয়ে কথা বলতে গেলে এর গ্রাফিক্স নিয়ে কিছু কথা বলতেই হবে। এনিমেটা যে ম্যাডহাউজের তা একটুও আন্দাজ করতে পারি নি। এনিমেশন খুবই পুরনো ধাঁচের তবে তাতে পশ্চিমা সংষ্কৃতির ধাঁচটা ভালোভাবেই উঠে এসেছে। আর ক্যারেকটার ডিজাইন খুবই সাদামাটা। এতই সাদামাটা যে কোন চরিত্রকে অনিন্দ্যসুন্দর করে উপস্থাপন করার চেষ্টাই করা হয় নি (মানে এক দৃষ্টিতে ক্রাশ খাওয়ার মত করে কাউকে ডিজাইন করা হয় নি)। তবে গিটারগুলোর ডিজাইনে অসাধারণ কম্পিউটার গ্রাফিক্সের ব্যবহার করা হয়েছে। গিটারগুলোকে অনেকটা বাস্তবই মনে হয়েছে বটে। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে Lucille আর White Falcon এর ডিজাইন দুটো।
¤
বেক এনিমেটার মূল আকর্ষনই হল মিউজিক যেখানে অরিজিনাল সংগুলাই মূখ্য, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকই বরং গৌণ। অসাধারণ একগাদা অরিজিনাল সং ব্যবহৃত হয়েছে এনিমেটাতে। বেক মূলত হিপহপ ও ওল্ড ব্লুজ রক ঘরানার গান পরিবেশন করে থাকে। এর মধ্যে চিবা কুনের গাওয়া ‘BRAINSTORM’ ও ‘SPICE OF LIFE’ গান দুটো উপভোগ্য। তবে মূল আকর্ষন হল কয়ুকির গাওয়া ব্লুজ রক গানগুলো। তার গাওয়া ‘FACE’, ‘MOON ON THE WATER’, ‘SLIP OUT’ গানগুলো আন্তর্জাতিক মানের বলে মনে করি। আর সাথে আছে একেবারে ভিন্ন আঙ্গিকে গাওয়া দ্য বিটলসের ‘I’ve got a feeling’ অসাধারণ গিটারওয়ার্কও এনিমেটার অন্যতম প্লাসপয়েন্ট।আর BEAT CRUSEDARS এর গাওয়া ওপেনিং ‘HIT IN THE USA’ গানটা একেবারেও স্কিপ করতে পারবেন না। প্রথম এন্ডিং ‘MY WORLD DOWN’ গানটাও ভালো মানের।
¤
সর্বোপরি এনিমেটাকে আমি মাস্টারপিসের ক্যাটাগরিতে রাখতে চাইবো। কারণ এরকম একটা অপরিচিত সংষ্কৃতিকে কেন্দ্র করে শক্ত কাহিনীর গাঁথুনি দিয়ে এনিমেটাকে অত্যন্ত মজবুত করা হয়েছে এবং কাজটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সাসপেন্স, থ্রিল, হালকা মিস্ট্রি, রোমান্স, ম্যাচিউরড কনটেন্ট, ব্যাকস্টেজ পলিটিকস সবকিছুই অত্যন্ত পরিমাণমত দেখানো হয়েছে। এনিমেটা সাবে দেখলেও এত বেশি ইংরেজি সংলাপ আছে যে মাঝে মাঝে মনে হত ইংলিশ ডাব দেখছি। আর মাহো আর কয়ুকির রিলেশন দেখে একটা জিনিসই শিখেছি আর তা হল, “বামুন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে নেই।” আর মাহোর প্রতি রিয়ুসকের দায়িত্বপরায়ণতা দেখে আমি পুরা তব্দা খাইছি।

Basilisk [রিভিউ] — Roronoa Sazzed

basilisk

৪০০ বছর ধরে দুই রাইভ্যাল ক্ল্যান “ইগা” ও “কোউগা” এর দুই মেম্বার এর মধ্যে নিনজা ডুয়েলটি দিয়ে এনিমে শুরু হয়।সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক মনোভাব একে অপরের মধ্যে শতাব্দী ধরে বহন করে আসছে।অনেক বছর আগে “হাতোরি হানজো” নামের এক শোগান এর মাধ্যমে তাদের যুদ্দের অবসান হয় দুই ক্ল্যান হাতোরি এর সার্ভিসে থাকার মাধ্যমে।কিন্তু অবশেষে হাতোরি রিটায়ার্ড হবার হবার সময় তার নাতিদের মধ্যে একজনকে তার সরকারের সাকসেসর নির্বাচনের সময় জটিলতা দেখা দেয় যা বাড়ার আগেই দুই ক্ল্যান এর শান্তি চুক্তি বাতিল করে দেয় এবং আদেশ দেয় দুই ক্ল্যান থেকে সবচেয়ে ভালো দশ জন করে নিনজা কে প্রস্তুত হতে যারা একেক নাতিকে রিপ্রেজেন্ট করবে।রক্তারক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে এক ক্ল্যান অন্য ক্ল্যান এর দশ জনকে শেষ করতে হবে।১০ জনের নামের তালিকা দিয়ে দেয়া হবে এবং এর মধ্যে যেই ক্ল্যান মেম্বার এই তালিকা নিয়ে বেঁচে থাকবে শেষ পর্যন্ত অই রিপ্রেসেন্টেটিভ ই ক্ষমতায় আসবে এবং জয়ী ক্ল্যান কে পরবর্তী ১০০০ বছরের জন্য সাপোর্ট দিবে।
এই ব্যাপারটা বুঝে উঠতে আমার মতো এয়ার হেডের একটু বেশি টাইম লেগে গিয়েছিলো।ব্যাপারটা অনেকটা ফাউল মনে হয়েছিলো এবং এখনো হচ্ছে কিন্তু
রক্তারক্তি হাড্ডা হাড্ডি,অসাধারন সব মারামারি দিয়ে ভরা ও আমরা নিনজা বলতে যা বুঝি তার থেকেও অনেক ব্যাতিক্রমি ভাবে তাদেরকে ফুটিয়ে তোলা আবার এর মধ্যে প্রেম ভালোবাসা নিবন্ধিত করে তোলা এক অসাধারন ভাবে সাজানো এক এনিমে এটি।আর সে কি ভয়েস এক্টিং,অসাধারন।আমি প্রথমে অল্প একটু ডাব দেখলেও মিউজিকের জ্বালা যন্ত্রণায় সাব দেখা স্টার্ট করসি।আর সিরিজ শেষে মনে হচ্ছে সাবটাই বেশি ভালো হয়েছে।
Specially যখন Oboro বলে “Gennosuke-Sama”.
যদিও প্রথমেই বুঝে গিয়েছিলাম কি হবে লাস্ট এ এরপর ও ভাবতে পারিনি এতো ভালো লাগবে ও এতো অসাধারন লাগবে আমার কাছে এনিমেটি। গ্রুপ এ এক ভাইয়ার কমেন্ট দেখে এনিমেটি নামিয়ে ছিলাম।কিচ্ছু বলবোনা আর, খালি বলবো This anime is Worth it,so if you can then watch it.
একটা কথা না বললেই নয় শিকি দেখার সময় “একটা” ফিলিংস কাজ করসিলো।এমন একটা,যা সাধারণত কাজ করেনা ঠিক সেই ফিলিংস এই সিরিজ দেখার সময় ও কাজ করছিলো।যদিও শুরুতে আমি আন্ডারডগ এর সাপোর্টার ছিলাম।

Aoi Bungaku Series [রিভিউ] — Barkat Hridoy

শুরু করি কবির ভাষায়,
কবি বলেছেন :
“যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখো তাই,
পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন”

এনিমের এই বিশাল দুনিয়াকে একটা ছাইয়ের গাদার সাথে তুলনা করা যেতেই পারে। এনিমের এই গাদায় ছাই (পড়ুন আজেবাজে এনিমে) অনেক থাকলেও ‘রত্ন’ খুব কমই আছে যা আমাদের বেশিরভাগরই দৃষ্টিগোচর থাকে। ঠিক তেমনই একটি রত্ন ‘আওই বুঙ্গাকু’।

aoi-bungaku-series-1

এনিমে: আওই বুঙ্গাকু সিরিজ (Aoi Bungaku Series)
জনরা: ড্রামা, সাইকোলজিকাল, সেইনেন, হিস্টোরিকাল, থ্রিলার
পর্ব: ১২
স্টুডিও: ম্যাডহাউস

Synopsis: জাপানের ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা ছয়টি উপন্যাস/গল্পের অ্যাডাপ্টেশন নিয়ে তৈরি এই এনিমে সিরিজ। গল্পগুলো হলো: ওসামু দাজাইয়ের ‘নো লংগার হিউম্যান’ ও ‘রান!মেলস’, আঙ্গো সাকাগুচির ‘আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম’, নাতসুমে সোসেকির ‘কোকোরো’ এবং আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের ‘ দ্য স্পাইডারস থ্রেড’ ও ‘হেল স্ক্রিন’।প্রতিটি গল্প ভিন্ন এবং ভিন্ন ভিন্ন দিক তুলে ধরে।

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
সাইকোলজিকাল এনিমে মানেই যে ‘মাথার তিন হাত উপর দিয়ে যাওয়া ‘ স্টোরি বা ভুরি ভুরি গোর সিন ওয়ালা সিরিয়ালকিলিং সাইকোপ্যাথদের কাহিনী না, তার উৎকৃষ্ট উদাহরন হলো ‘আওই বুঙ্গাকু’। এ সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন পর্যায় আর এ পর্যায়কালীন সময়ে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো।এর স্টোরিগুলো এতটাই ক্যাচি আর থ্রিলিং যে দেখতে দেখতে কখন যে সিরিজের চরিত্রগুলোর সাথে এক হয়ে যাবেন আর তাদের সুখ-দুঃখ,কষ্ট,বেদনা আপনার সুখ- দুঃখ হয়ে গেছে বুঝতেও পারবেন না।

aoi-bungaku-series-2

প্রতিটি স্টোরি একে অপর থেকে আলাদা। তাই প্রতিটি স্টোরির আলাদা আলাদা ইনসাইট/রিভিউ তুলে ধরলাম:

নো লংগার হিউম্যান:
সিরিজের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় গল্প। লেখক ওসামু দাজাইয়ের অনবদ্য এই সৃষ্টি অনেকটা অটোবায়োগ্রাফি ই বলা যেতে পারে কেননা লেখক প্রায় নিজের জীবনের কথায় কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। চার এপিসোডের এ গল্পে দেখানো হয়েছে ধনী,হতাশাগ্রস্থ ও প্রত্যাশার ভারে পিষ্ট এক তরুনের সমাজে বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা।কোনো মানুষের জীবন যে এতটা দুঃখজনক আর ডিপ্রেসিং হতে পারে তা নো লংগার হিউম্যান না দেখলে জানা সম্ভব না। চিরকাল মনে দাগ কাটার মত ক্ষমতা রাখা এ গল্পটি কেন জাপানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রিত ও সর্বাধিক পঠিত গল্প/উপন্যাস তা দেখলেই জানতে পারবেন।

আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম:
সিরিজের সবচেয়ে টুইস্টেড স্টোরি আর বড় ফ্ল বলা যায়। ফ্ল বলার কারণ হলো এর খারাপ অ্যাডাপ্টেশন। কারন বইয়ে যেখানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একধরনের ইন্টেসিটি ছিল এনিমেতে তা অনুপস্থিত।সেই সাথে প্রেজেন্টেশনও হতাশাজনক ছিল।

কোকোরো:
নাতসুমে সোসেকির অসাধারন সৃষ্টি এবং জাপানের সর্বোচ্চ বিক্রিত উপন্যাস। দুই এপিসোডের এ গল্পতে একটি ত্রিভুজ প্রেম দেখানো হয়েছে।কিন্তু নতুনত্ব হলো, এখানে দুই ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে আলাদা আলাদাভাবে গল্পটিকে দেখানো হয়েছে। আমাদের মধ্যে একজনের দৃষ্টিকোণ অন্যজন থেকে কতটা ভিন্ন হতে পারে তাই তুলে ধরা হয়েছে।আর নামের সার্থকতা রক্ষার স্বার্থেই কিনা এটি আপনার ‘কোকোরো’ নিয়ে খেলবে এবং তা চুরমার করবে। কিছু ভুলত্রুটি থাকলেও এটি সিরিজের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং গল্প।

রান!মেলস:
সিরিজেরএকমাত্র প্যাঁচগোছহীন গল্প। Damon and Pythias নামক এক গ্রিক লেজেন্ড দিয়ে তৈরি নাটিকার সাথে তুলনা করে দুই বন্ধুর বন্ধুত্বের গল্প বলা হয়েছে। হার্টওয়ার্মিং একটা গল্প।

দ্য স্পাইডারস থ্রেড:
‘ডুবন্ত মানুষ খড়কুঁটো ধরেও বেঁচে থাকতে চায়’ কথাটির জাপানিজ সংস্করণ হলো দ্য স্পাইডারস থ্রেড। পার্থক্য শুধু খড়কুটোর বদলে এখানে মাকড়শার সুতাকে দেখানো হয়েছে।একজন মৃত্যুভয়হীন গুপ্তঘাতক যখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছায় তখন তার মধ্যে জেগে উঠা বেঁচে থাকার অদম্য চেষ্টাকে এ গল্পে তুলে ধরা হয়েছে। আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের লেখা এ ছোট গল্পটি মূলত বাচ্চাদের জন্য লেখা হলেও এনিমেতে ম্যাচিউর দর্শকদের উপযোগী করে তুলে ধরা হয়েছে। এর মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো ভালো ছিল।

হেল স্ক্রিন :
আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের এ ছোটগল্পকে দুটি শব্দে প্রকাশ করা যায় এবং সেটি হলো ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’। এতে দেখানো হয়েছে এক সৎ চিত্রশিল্পী ও তার মেয়ের কথা এবং তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর গল্প। এটির গল্প যেমন আপনার রক্ত হিম করে দিবে ঠিক তেমনি এর সৌন্দর্যে আপনি অস্ফুটে বলে উঠবেন ‘অসাধারন!’। অসাধারন একটি অ্যাডাপ্টেশন। আমার পার্সোনাল ফেভারিট।

আরেকটা কথা না বললেই নয়, প্রতি গল্পের শুরুতে সে গল্পের লেখক সম্পর্কিত টীকাগুলো অসাধারন ছিল।

aoi-bungaku-series-3

আর্ট ও অ্যানিমেশন:
প্রথমে আসি অ্যানিমেশনে,আমার দেখা স্টুডিও ম্যাডহাউসের কাজগুলোর মধ্যে বেস্ট। গল্পের ভাব বুঝে কালার আর অ্যানিমেশনের এত সুন্দর প্রেজেন্টেশন আর কোনো এনিমেতে দেখিনি। মন খারাপ করা পরিবেশ থেকে রঙে পরিপূর্ণ পরিবেশের পরিবর্তনগুলো(আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম বাদে) অসাধারন লেগেছে।

আর্ট অসাধারন। বিখ্যাত মাঙ্গাকারা আর্ট করেছেন তাই অসাধারন হওয়াটাই স্বাভাবিক।এনিমের পোস্টারে বসে থাকা ক্যারেক্টারকে দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, “আরে! ইয়াগামি লাইট না!!” এর কারন হলো এ এনিমের পোস্টার এবং দুটি গল্প নো লংগার হিউম্যান আর কোকোরো এর জন্য আর্ট করেছেন মাঙ্গাকা ‘তাকেশি ওবাতা'(ডেথনোট,বাকুমা­ন,প্লাটিনা এন্ড)।এছাড়া আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম, দ্য স্পাইডারস থ্রেড, হেল স্ক্রিনের আর্ট করেছেন ‘টিটে কুবো'( ব্লিচ)। রান মেলসের জন্য আর্ট করেছেন ‘তাকেশি কোনোমি'( প্রিন্স অফ টেনিস)।

aoi-bungaku-series-4

সাউন্ড ও মিউজিক:
এনিমের দূর্বল জায়গা বলা যায়। সিরিজে কোনো ওপেনিং সং ছিল না আর এন্ডিংটা আমার শোনা সবচেয়ে বাজে এন্ডিং সংয়ের মধ্যে একটা। তবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক মোটামুটি ভালো ছিল।

এন্জয়মেন্ট:
একটি এনিমের এন্জয়মেন্ট বড় একটি বিষয় কেননা দিনশেষে এনিমেটি এন্জয় করেছি কিনা সেটাই মূখ্য। এক্ষেত্রে আওই বুঙ্গাকুর এন্জয়মেন্টকে অনেকটা মরুভূমি ভ্রমনের সাথে তুলনা করা যায়। মরূভুমির মতো এনিমেটিরও পুরো পথ পাড়ি দিতে অনেক কষ্ট হতে পারে, এ পথ হয়ত মাঝেপথেই শেষ করতে চাইবেন।কিন্তু ধৈর্য্য ধরে যদি পথটি শেষ করতে পারেন তবে এটি হতে পারে আপনার সেরা ভ্রমনের একটি। তাই দেরী না করে দেখে ফেলুন জাপানী সাহিত্যেকে অসাধারনভাবে ফুঁটিয়ে তোলা মারাত্মকরকমের সুন্দর এবং দূর্দান্ত এই এনিমেটি।

My Animelist Rating: 7.92
Personal Rating: 9

aoi-bungaku-series-5

তোমোদাচি নো হানাশি [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

tomodachi-no-hanashi

তোমোদাচি নো হানাশি
ইংরেজি নামঃ দ্যা সিক্রেট অফ ফ্রেন্ডশিপ
জানরাঃ ড্রামা, স্কুল, শৌজো, রোমান্স
চ্যাপ্টারঃ
মাঙ্গাকাঃ কাওয়াহারা আযুনে (গল্প), ইয়ামাকাওয়া আইজি (আর্ট)
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.২৩
ব্যক্তিগত রেটিং: ১০/১০

শৌজো মাঙ্গায় সাধারণত কি হয়? একটি মেয়ে এবং ছেলে তাদের মনের মানুষকে খুঁজে পায় তারপর চারপাশের সবকিছু ভুলে নিজেদের জগতে হারিয়ে যায়। আচ্ছা এবার ভাবুন তো, আপনিও জীবনে ঠিক এমনটি ঘটতে দেখছেন। না না, নিজেকে শৌজো মাঙ্গার নায়ক বা নায়িকা ভাবতে বলিনি তো! থামেন! বলছি আপনার কাছের কোন মানুষের কথা। তার জীবনে এমন কিছুর সূচনা দেখলে আপনার কি প্রতিক্রিয়া হবে? আপনি সুন্দেরের মত অস্বীকার করেন আর নাই করেন, জানা কথা আপনি মনে মনে হলেও ইয়ুনো গাসাইয়ের মত ইয়ান্দেরে মোডে গিয়ে পারলে আপনার কাছের মানুষের জীবনে হাজির হওয়া ওই মানুষটাকে কোপ দিয়ে আসবেন!! আর কাছের মানুষটা যদি হয় আপনার জিগরি দোস্ত তাহলে তো কথাই নেই! কেননা এই নতুন মানুষটিই এতদিনের চেনা ফ্রেন্ডটিকে আপনার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারে। বাস্তবে যে এটা হয় তার অসংখ্য উদাহরণ আছে। এরূপ নিষ্ঠুর বাস্তবতায় বেঁচে থাকলে এইকো নামক মেয়েটিকে নিয়ে আপনার ঈর্ষা হবেই।

এইকো সাকামোতো বন্ধুত্ব নিয়ে এই মাঙ্গার প্রধান চরিত্র। তাকে কখনোই সম্পর্ক হয়েছে বলে বেস্ট ফ্রেন্ড হারিয়ে যাবে এই ভয়ে থাকতে হয় না। বরং ভয়ে থাকতে হয় তার উল্টোটা নিয়ে। সে শঙ্কিত কারণ তার জন্যেই তার ফ্রেন্ড মোয়ে হয়ত কখনও তার মনের মানুষ খুঁজে পাবে না। এমন না যে সে মোয়ের কাছে কোন ছেলেকে ঘেঁষতে দেয় না কিংবা সে খুবই সুন্দরী। মোয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর এবং অনেক ছেলেই তাকে পছন্দ করে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? প্রতিবার যখন কোন ছেলে মোয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় মোয়ে সবসময় একটি উত্তরই দেয়। সে রাজি হবে শুধু একটি শর্তে। সেই শর্ত হল তার চেয়েও বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে এইকোকে। মোয়ের সাথে সময় কাটানো মানেই এইকোর সাথে সময় কাটানো। যেই ছেলে তার এই শর্তে রাজি হবে তাকেই বেছে নেবে মোয়ে। কিন্তু কোন ছেলেই বা রাজি হবে এমন প্রেমিকা পেতে যে তাদের ডেটিংয়েও তার ফ্রেন্ডকে নিয়ে হাজির হবে? তবু শেষমেশ কেউ একজন রাজি হয়েই গেল। “বন্ধুত্বের গল্প” মাঙ্গার গল্পটা শুরু হল এখানেই।

শুরুতেই আপনার মাথায় একটি প্রশ্ন ঘুরঘুর করবে। মোয়ে কেন এরকম অদ্ভুত শর্তে জুড়ে দেয় ছেলেদের কাছে? স্কুলে কিংবা আলাদা করে ঘুরতে বেরিয়েই তো সে এইকোকে সময় দিতে পারে। তার এরপরের কিছু আচরণও অনেক বাড়াবাড়ি লাগবে। এমনও মনে হবে যে এই মেয়ের মানসিকতায়ই সমস্যা আছে। কিন্তু এরপরেই আপনি এমন ভাবার জন্য দুঃখ করবেন। এরপরের দুই চ্যাপ্টারে যে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট হয়েছে এবং কাহিনী যেভাবে এগিয়েছে তা এক কথায় অসাধারণ। অন্যান্য মাঙ্গাগুলো ১০-২০ চ্যাপ্টারেও যা দেখাতে পারে না এই মাঙ্গা মাত্র ২ চ্যাপ্টারেই তা দেখিয়েছে। এত ছোট একটা মাঙ্গা যে পড়ছেন তা মনেই হবে না। মাত্র দুই এক দিনের কাহিনী দেখায়নি এখানে। দেখিয়েছে একটা সময় কালের ঘটনা। এবং তা খুব যত্ন নিয়েই তুলে ধরা হয়েছে। কোথাও কোন তাড়াহুড়া নেই। শুরুতে যেমনই লাগুক চরিত্রগুলোও প্রত্যেকেই ভালো লাগার মত। যেসব ছেলে ভাবে মেয়েরা শুধু ন্যাকামি এবং অন্যের সমালোচনা, কূটনামি করে বেড়ায় তাদের নারুগামি চরিত্রটি বেশ ভালো কিছু শিক্ষা দেবে। আর মোয়ে আমার খুব বেশি পছন্দের একটা চরিত্র।

এত কিছু বলার পরেও আপনি ভাবতে পারেন মাঙ্গাটি কেন পড়বেন। অল্প চ্যাপ্টার, ভালো গল্প আর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আছে-বোঝা গেল। কিন্তু এই কথা হয়ত অন্য আরো মাঙ্গার জন্যেও শুনবেন। তাহলে এত মাঙ্গা থাকতে তোমোদাচি নো হানাশিই কেন পড়বেন? পড়বেন কারণ এখানে খুব দুঃখ-কষ্ট, কে কাকে পছন্দ করে এই নিয়ে বিশাল প্যাঁচ, ত্রিভুজ প্রেম, নায়িকার ক্ষতি করতে চাবে এমন হিংসুটে মেয়ে, বুলিং, অতিরিক্ত মিষ্টি প্রেম এসবের বালাই নেই। আছে শুধু বন্ধুত্বের উষ্ণ গল্প আর হালকা রোমান্স। এইকো আর মোয়ের মাঝে যে বন্ধন আছে তা দেখলে মন ছুঁয়ে যায়। ওদের বন্ধুত্বের মতই হওয়া উচিৎ প্রতিটি বন্ধুত্ব। পড়তে পড়তে আপনারও এমন বন্ধু পাওয়ার ইচ্ছা জেগে উঠবে। যদিও শৌনেন মাঙ্গাতে এসব অহরহ দেখা যায় তারপরেও এখানকার গল্পটি একদম অনন্য। একেবারে “রেয়ার জেম” যাকে বলে।

আর্টের দিক থেকে বিচার করলে ভালো না খারাপ বলা উচিৎ ঠিক নিশ্চিত না। অনেক হালকা দাগ দিয়ে আবছা আবছা করে ছবিগুলো আঁকা হয়েছে। সাধারণ সাদা-কালো এর চেয়ে ধূসর ভাবটা বেশি। যে কারণে তাকিয়ে থাকতে অস্বস্তি লাগতে পারে। তবে সবকিছুর গঠন, অবয়ব একদম যথাযথ। আবার শৌজো মাঙ্গার চিরচেনা আর্ট স্টাইলে যে বিশাল গোল গোল, জ্বলজ্বলে চোখ থাকে তা এখানে একেবারেই অনুপস্থিত। বরং এখানে অনেক ছোট আর কুতকুতে চোখ। তাই যাদের ওই সাধারণ শৌজো মাঙ্গার আর্ট পছন্দ না তাদের কোন সমস্যা হবে না। এই ক্যারেক্টার ডিজাইন মাঙ্গাটির সাথে বেশ মানিয়ে গেছে।

দুঃখের বিষয় এই মাঙ্গার শেষ চ্যাপ্টারটি আজ অব্দি স্ক্যানলেশন করা হয়নি। অদূর ভবিষ্যতে চতুর্থ চ্যাপ্টার স্ক্যানলেটেড হওয়ারও কোন আশা নেই। চ্যাপ্টার ৩ বেরিয়েছিল সেই ২০১৩ তে। তাই বলে মাঙ্গাটি না পড়ার কারণ নেই। ৩ নম্বর চ্যাপ্টার যেভাবে শেষ হয়েছে তা ছিল সন্তোষজনক। কাহিনী ওখানে শেষ ধরে নিলে কোন সমস্যা হবে না। শেষ চ্যাপ্টারে কি হতে পারে ওটা আগে থেকেই বুঝে নেওয়া যায়। তাই সমাপ্তিটা ফ্যানফিকশনের মত নিজের মনমত বানিয়ে নিতে পারবেন।

শেষ কথা, তোমোদাচি নো হানাশি আমার পড়া অন্যতম একটি অসাধারণ মাঙ্গা এবং আমার সবচেয়ে প্রিয় মাঙ্গাগুলোর একটা। শৌজো হিসেবে নয়, এটিকে নাকামা বা তোমোদাচি নিয়ে তৈরি মাঙ্গা হিসেবেই পড়বেন। সুতরাং ছেলে মেয়ের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আশা করছি আপনারও আমার মত মাঙ্গাটি খুব ভালো লাগবে।

A Poet’s Life [মুভি রিভিউ] — Bashira Akter Anima

a-poets-life

A Poet’s Life নামে একটা শর্ট স্পপ মোশন মুভি দেখে শেষ করলাম এখন। বরাবরের মতোই আমার এমন জিনিস ভালো লাগে, সেটা যদি এরকম উইয়ার্ড হয় তাহলে তো কথাই নাই।
গল্পের শুরুতে দেখা যায় এক কারখানার শ্রমিককে যে কিনা চাকরী হারায় কারখানার মালিকের সাথে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বাক-বিতন্ডায়। বিষন্ন শ্রমিক বাড়িতে পড়ে থাকে হতাশায়। বাড়িতে তার সাথে থাকে বৃদ্ধা মা যে কিনা সর্বদায় সুতা তৈরীতে ব্যস্ত।

সুতো বুনতে বুনতে তিনি ক্লান্ত যেনো, একদম তিলে তিলে ক্ষয় হয়ে গিয়েছেন জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে। তেমনি সেদিন ক্লান্ত মা সুতো বুনে শেষ করলেন, বরাবরের মতোই ক্লান্ত ছেলে ঘুমিয়ে পড়েছে মেঝেতেই। ঠিক তখনই এক অদ্ভুত কান্ড ঘটে গেলো, হঠাৎ করে নিজেই যেনো সুতোতে বনে গেলেন তিনি। অবশ্য এটা হওয়াই হয়তো বাকী ছিলো। সবার অন্তরালে ঘুমন্ত ছেলেকে পাশে রেখে সুতোর বান্ডিলে পরিণত হলেন তিনি। সেই সুতো এই হাত থেকে সেই হাতে হলো স্থানান্তর।
কারখানার মালিকরা তাদের আনন্দে মশগুল, সেই আনন্দে পিষে যাচ্ছে কারখানার শ্রমিকেরা। বিষন্ন-হতাশ-দরিদ্র শ্রমিকেরা বেঁচে থাকার লড়াইয়ে যেখানে হেরে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত সেখানে উঁচু শ্রেণীর মানুষেরা ব্যস্ত কি করে ব্যবসাতে আরো লাভ করা যায়। কিন্তু সেই হতাশা-বিষন্নতা যেনো পৃথিবীকে ঘিরে ফেললো, ঘিরে ফেললো শহরবাসীকে শুরু হলো প্রচন্ড তুষারঝড় এবং ঠান্ডা। যার কাছে কোনো শ্রেণীর ভেদাভেদ নেই, ধনী-গরীব কাউকে সে মানে না, কখনো মানেও নি। এইখানে হেরে যেতে লাগলো সেই উঁচু শ্রেণীর মানুষেরা।
সিনেমাটাতে প্রচন্ড বিষন্নতায় ভরপুর হলেও কি করে যেনো শেষ দৃশ্যে এক টুকরো আনন্দ যেনো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দেখানো হয়েছে বৃদ্ধা মা এর ছেলের প্রতি অসীম ভালোবাসা এবং সবশেষে কবি হিসেবে নিজেই যেন আবিষ্কার করা নিজের কাছে।

**এনিমেশন টা চমৎকার লেগেছে আমার কাছে, সবচেয়ে বেশি ভাল্লাগছে আমার সুতো হয়ে যাবার অংশটা। গল্প লেখলে এই অংশটা বলা যত সহজ কিন্তু ভিজ্যুয়ালি এই জিনিসটাই পোট্রে করা এবং দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করা ততটাই কঠিন বলে আমি মনে করি। কিন্তু আমি দেখে পুরা ওয়াও অবস্থা। আহ ভাল্লাগছে।

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero (Part-5); Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction — Rahat Rubayet

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero Part-5
[Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction]

আসলে Boar এর কথাই ঠিক। Don Freecs ডার্ক কন্টিনেন্টের উপর লিখা বইয়ের ১ম কপি পাওয়া গেলেও ২য় পর্ব বা কপিটা পাওয়া যায় নি। তবে, কথিত আছে নিনজা ভিলেইজগুলোর এদিকদিয়েই ওয়েস্টার্ন এন্ট্র্যান্স ডার্ক কন্টিনেন্টের। তাই বলা যায় অনেকটাই অনিশ্চিত অবস্থায়ই হান্টার এ্যাসোসিয়েশন এই মিশনে নামে। তবে, আর কোন উপায়ও ছিল না তাদের- সরকারের কাছে যে তাদের হাত বাঁধা। কাজেই বাধ্য হয়েই এই অপ্রিয় কাজে নেতেরোর আগমন।
আর ডার্ক কন্টিনেন্ট এক্সপ্লোর এর ফলাফল যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা খুব করে জানে নিনজা ভিলেইজগুলো। তাই সকলে একজোট হয়েছে আজ হান্টার এসোসিয়েশনকে আটকাবে বলে-যে কোন মূল্যে। তাদের থেকে হাশিরামা তথা হোকাগেই মুখপাত্র হিসেবে প্রতিনিধিতব করছে সবার। ক্যাজুয়ালিটি মিনিমাইজ করতে নেতেরোর ওয়ান-অন-ওয়ান ব্যাটেলের প্রস্তাবে সম্মত হয় হাশিরামা। আর ওদের কে জায়গা করে দেয় দু’পক্ষই।
হান্টার এসোসিয়েশানের মতন না হলেও কিছুটা নির্ভার বোধ করছে নিনজা ভিলেইজ গুলোর প্রধানেরা, এই ভেবে যে লোকালয়ে এর এফেক্ট পরবে না। অর্থাৎ গ্রামের মানুষেরা আপাতত নিরাপদ। আর হাশিরামার ওপর তাদের আস্থা আছে। হাশিরামাকে টপকে ওদের ওপর আর ভিলেইজে এটাক করতে আসা চাট্টিখানি কথা না। আর হান্টার এ্যাসোসিয়েশন আর গভঃ ফোরস পুরোপুরিই নেতেরোর দিকে তাকিয়ে আছে। আসলে তাদের একজনও নেতেরোর ফুল পাওার ব্যাটেল তো দূরে থাক কোনদিন গুরুতর পরিস্থিতির সবীকার হয়ে লড়তেও দেখে নি। আর- কেউ দেখেছে বলেও জানা নেই কারো। কাজেই আস্থার মাত্রাটা অমূলক নয় মোটে।
হাশিরামাই আক্রমণ করলো প্রথমে। আন-আর্মড কমব্যাটে লড়তে শুরু করলো তার জীবনে সবচাইতে কঠিন প্রতিপক্ষের। যার নীতিবোধকে এতোদিন প্রশংসা আর সম্মানের সাথে দেখে এসেছে, তার বিরুদ্ধে এভাবে লড়াই করতে হবে ভাবে নি। অবশ্য, তাতে কি কিছু এসে যায়? নেতেরো এই মুহূর্তে তার গ্রামের জন্য একটা ‘থ্রেট’ আর তাকে প্রতিহত করার জন্য যতদূর যেতে হয় যাবে হাশিরামা।
মাথায় চিন্তার ঝড় বইতে থাকলেও থেমে নেই বডি মুভমেন্ট। নেতেরোর ঠিক বা পাশে দাঁড়িয়েই পায়ের পাতায় ভর দিয়ে কাঁধের নার্ভ পয়েন্টে সজোরে আঘাত করতে যায় সে। দেখলো বাতাসে ভেসে একটু যেন সরে গেল এক দিকে নেতেরো, মুখে তখনো হাসির ছটা লেগে রয়েছে। হাশিরামা জানতো এতো সহজে আঘাত হানা যাবে না তার ক্যালিবারের কাউকে। তাই অনেকটা ফাঁদে ফেলার জন্যেই অমন ডামি দিয়েছে। নেতেরো হালকা ডান দিকে সরে যেতেই দেখলো ইতিমধ্যেই হাশিরামার এক হাঁটু তার পাকস্থলি স্পর্শ করেছে। প্রথম আঘাতটা নেতেরো ডজ করবে জেনেই সাথেসাথেই ডান দিকে এক হাতের ওপর ভর করেই ভাঁজ করা হাঁটু সজরে ছুঁড়ে দিয়েছে।
পরক্ষনেই নেতেরো প্রায় উড়ে গিয়ে প্রায় ১০ হাত পিছনে ছিটকে পরলো। সজোর আঘাতে ফুসফুস খালি হয়ে গেছে নেতেরোর- জানে হাশিরামা। তাই ধাতস্থ হবার সময় দিবে না বলেই নেতেরোর দিকে ছুটে যায় সে। গিয়েই দেখলো কিসের কি- হাসি হাসি মুখ করে তার দিকে তাকিয়ে আছে নেতেরো। হাত দুটো অদ্ভুতভাবে বুকের কাছে তুলে ধরেছে। প্রতিক্রিয়া দেখাবার সময় পায় না হাশিরামা। তার আগেই দেখলো নেতেরোর হাত অদৃশ্য হয়ে গেছে-পরমুহূর্তেই বুকে প্রচন্ড আঘাত চোখে অন্ধকার দেখলো। একটা পাথরে পিঠ ঠেকতেই উঠে বসতে বসতে বুঝলো, এতটা স্রেফ উড়ে এসে পরেছে নেতেরোর আঘাতে। আঘাতটার দিকে নজর দেয়ার দরকার নেই। তবে বুকের গার্ড ভেঙে গেছে সেটা ঠিকই লক্ষ্য করলো।
ওদিকে মাদারা, টোবিরামাও বাকি সবার সাথেই দেখতে পাচ্ছে লড়াইয়ের প্রতিটা বিষয়। অনেকটা ক্ষেদোক্তির মতন বলতে থাকল মাদারা-“আমি বুঝতে পারছি না হাশিরামা গেঞ্জুতসু ব্যবহার করছে না কেন?” টোবিরামা কিছু বলল না, তার বড় ভায়ের জাজমেন্ট আর এবিলিটির ওপর অগাধ বিশ্বাস আছে।