Hibike! Euphonium:নো-ওয়েইস্টেড-শট! — Fahim Bin Selim

 

hibike__euphonium_wallpaper_hd_by_corphish2-d8ngduu

একটা ভালো অ্যাডাপ্টেশন হওয়ার জন্য কী প্রয়োজন? অনেক বেশি সংখ্যক অ্যানিমে ফ্যান, এবং সামগ্রিকভাবেই ভিজুয়াল ফিকশনের ফ্যানরাই ভালো অ্যাডাপ্টেশন বলতে সম্ভবত বুঝে তার সোর্স ম্যাটেরিয়ালকে পুরোপুরিভাবে অনুসরণ করাকে। কিন্তু সেটা কি তার গল্প বলায় একটা সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করে না? কারণ শেষ পর্যন্ত, “অ্যাডাপ্টেশন” মানেই তো নতুন পরিস্থীতি, নতুন মাধ্যমের সাথে মানিয়ে নেওয়া – গল্পের বিন্যাস, কাঠামো আর বর্ণনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে হলেও। কারণ, অবশ্যই, বইয়ের পাতার লেখার মাধ্যমে গল্প বলা, আর টেলিভিশন, সিনেমার পর্দায় ছবি আর শব্দের মিলনে তা বলার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য আছে। একই সাথে পার্থক্য আছে, আসলেই গল্প “বলাতে”, এবং তা  কেবল “দেখানো”-র মাঝেও। ছবি আর শব্দের মেলবন্ধন – আর তা যদি ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়, অ্যানিমেশনের সম্ভাবনা অসীম, তৈরি হয় আসলেই ত্রিমাত্রিক অনুভূতির এক জগৎ। কিন্তু অবশ্যই এক্ষেত্রে গল্প বলার ক্ষেত্রে পরিচালকের কল্পনাশক্তির প্রাচুর্য্য থাকা জরুরী, যেহেতু  ছবি এবং শব্দের উপস্থিতি দর্শকদের নিজেদের কল্পনাশক্তি ব্যবহারের সুযোগ অনেকাংশে কেড়ে নিচ্ছে। এবং এটা আরো বিশেষভাবে, যখন একটা উপন্যাসকে অ্যাডাপ্ট করা হয়। কারণ এখানে মাঙ্গার মত আর চরিত্রদের চেহারা, তাদের অঙ্গভঙ্গি কিংবা তাদের আশেপাশের জায়গাগুলোর টেমপ্লেট আগে থেকেই দেওয়া থাকেনা। পুরোপুরিই পরিচালকের নিজের ইন্টারপ্রেটেশনের উপর নির্ভর করে। একজন পরিচালকের প্রতিভার পরিচায়ক তো কেবল সুন্দর কোন গল্প বলাতে নয়, কোন গল্পকে সুন্দরভাবে বলাতেই!

vlcsnap-2016-11-05-01h07m20s868

এখানে আর বাকি সব কিয়োঅ্যানির অ্যানিমের মত সুন্দর অ্যানিমেশন আর ভিজুয়াল উপস্থিত, হয়তো মাঝে মাঝে তুলনামূলক কম ভালোও। কিন্তু Hibike-’র শক্তি বরং এর গল্পবর্ণনায়। এর মূল গল্প বড় এক নভেল সিরিজ থেকে নেওয়া, একারণে গল্প আর চরিত্র – উভয়ের গভীরতাই তুলনামূলক বেশি। কিন্তু এই কারণেই বরং তার পুরোটা টিভির পর্দায় ফুটিয়ে তোলা আরো অনেক, অনেক বেশি কঠিন! কিয়োঅ্যানির ফ্ল্যাগশিপ পরিচালক তাৎসুইয়া ইশিদার কাছ থেকে আসায় যদিও এর সাফল্য নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু তার পরও, ইশিদার বাকি সব অ্যানিমের চেয়ে Hibike আলাদা। Air, Clannad, Haruhi -‘র মত Hibike-তে বড় এনসাম্বলের কাস্ট থাকলেও, এর গল্প অনেক বেশি কানেক্টেড, কমপ্যাক্ট…বাস্তবিক! ফ্যান্টাসি জনরা গায়ে না লেগে থাকা একটা বড় কারণ, কিন্তু এটা বাদ দিলেও Hibike-’র প্রতিযোগীতা, সাফল্য আর ব্যর্থতার গল্প পরিচিত। গল্পবর্ণতাতে আছে আলাদা একটা নিজস্বতা। কেবল “দেখানো”-তেই সীমাবদ্ধ না, Hibike তার গল্পের বড় একটা অংশ “বলে” তার ভিজুয়াল দিয়ে।

“ক্যামেরা”-’র ব্যবহারটাই চিন্তা করা যাক, Hibike-তে ফোকাসিংকে কাজে লাগানো হয়েছে শিল্পের পর্যায়ে। পুরোটা সময় ঘোলাটে ব্যাকগ্রাউন্ড আর চরিত্রদের চেহারার উপর পূর্ণাঙ্গ ফোকাসই বলে দিবে মনোযোগটা কোথায় রাখা জরুরী। কিয়োঅ্যানিমের আর বাকি সব অ্যানিমে থেকেও তো একে এই এক বিষয় দিয়ে আলাদা করা যায়! কুমিকো গল্পের ন্যারেটর, তার স্বগোক্তিতেই সব বলা, প্রতি পর্ব শুরু আর শেষও তা দিয়ে। তার মাথার ভেতর, বিক্ষিপ্ত চিন্তাভাবনা আর স্মৃতি, কুইক-কাট ট্রানজিশনে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নিয়ে যায়। কুমিকো যদিও বেশিরভাগ সময়ই আশেপাশে চলমান ঘটনার পার্শ্বচরিত্র; প্রভাবক, নীরব দর্শক আর গুপ্ততথ্যের রক্ষক। She sees everything and she understands. একজন ওয়ালফ্লাওয়ার! যার জন্য উপন্যাসের পাতা ভর্তি লেখা প্রয়োজন, তার জন্য এখানে একটি শব্দেরও প্রয়োজন হয় না; চরিত্রদের মুখের অভিব্যক্তি আর প্রতিক্রিয়া অনুসরণ করলেই হবে। নো-ওয়েইস্টেড-শট!

vlcsnap-2016-11-05-01h07m20s868

দ্বিতীয় সিজনের তৃতীয় পর্ব এর একটি ভালো উদাহরণ। এই পর্বের শুরুটা কুমিকোর মনোলোগ দিয়ে, কানসাই কম্পিটিশনের আগে শেষ প্রস্ততি পর্ব। কুমিকো আর আসুকার ছোট কথোপকথনের পরবর্তী ৩ঃ১৬-৩ঃ১৬ এ তিন সেকেন্ডের ট্রানজিশন, আর তার সাথে সাথে কুমিকোর এক্সপ্রেশন, সম্পূর্ণ ভিন্ন দুইটি সময় আর জায়গার মধ্যে সংযুক্তি। কোন এবরাপ্ট কাট না যেটা গল্পের গতি নষ্ট করে দিবে, অথবা কোন দীর্ঘায়িত অপ্রয়োজনীয় শট না, বরং দুটো একত্রে মিলিয়ে দেওয়া, গল্পের প্রবাহ বজায় রাখার জন্য! অথবা তার পরবর্তী দৃশ্য, আসল পারফর্মেন্সের আগে শেষবারের মত সব পারফর্মারদের একসাথে থাকা শেষ দৃশ্য। নিয়ামা আর হাশিমোতো-সেনসেই এর বিদায়ী ভাষন, উপদেশ। ক্যামেরা একজনের থেকে আরেকজনের পারস্পেকটিভে বদলাতে থাকে অনবরত, কার কোন কোন দূর্বলতা জানান দেয়, এবং তার সাথে সাথে পারফর্মারদের প্রতিক্রিয়া। কুমিকোর চেহারার অবিশ্বাস, আনন্দ, ভয় এবং একই সাথে অস্থিরতা ইউফোনিয়াম সোলোর অংশ হওয়ার খবর পাওয়ায়, রেইনার সন্তুষ্টির অভিব্যক্তি। কিংবা ইয়োরোইযুকার চোখে হাতের ওবোর দিকে স্থির, রোবোটিক দৃষ্টি, যখন হাশিমোতো তাকে যান্ত্রিকভাবে বাজানো বাদ দিয়ে আরো বেশি “এক্সপ্রেসিভ” হওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তার জন্য তো “এক্সপ্রেস” করা সব সময়ই কষ্টকর ছিলো, সংগীত কিংবা শব্দ দিয়েও। তা তার গতবাঁধা জবাবেই আটকানো, “I’ll try to do better.” ব্যাকগ্রাউন্ড ফোকাসে ইউকোর চেহারায় অনিশ্চয়তা! প্রিয় মানুষের জন্য!

vlcsnap-2016-11-08-11h43m53s360  vlcsnap-2016-11-08-11h44m53s455vlcsnap-2016-11-05-01h13m11s868

গল্পটা কুমিকোর মাথার ভেতরে, তাই তো সবকিছু সামনে থেকে দেখা হয় না। রেইনা যখন তাকি-সেনসেইকে নিয়ামা-সেনসেইয়ের সাথে তার সম্পর্কের কথা জানতে চেয়ে প্রশ্ন করে, আগুনের অপর পাশে। তাদের কথা শোনা যায় না, পর্দায় কেবল দূর থেকে রেইনা আর তাকির শব্দহীন অভিব্যক্তি। কিন্তু অবশ্যই Hibike এই মুহূর্তটা অপচয় করবে না। বরং এপাশে সমান্তরালে হাশিমোতো-সেনসেইয়ের সাথে কুমিকোর কথোপকথন চলতে থাকে। তাকি-সেনসেই এরই অতীত নিয়ে! একই সাথে শব্দ আর ছবি দিয়ে দুটো আলাদা গল্প বলা! কনসার্টেশনে, কোনভাবেই ইনফরমেশনের ওভারফ্লো না, ইকোনমিক! কিংবা আসুকাকে আঁকড়ে ধরা নস্টালজিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত, হাইস্কুলের শেষ বছরে এসে। যদিও তা মুখ ফুটে কেবল বেরোয় না সরাসরি। ক্লাবকে আগলে রাখার প্রতিটি চেষ্টায়, প্রতিটি ধাপ পেরোনোর আনন্দের বিহবল হওয়ার পরবর্তী নীরবতায়, অবশ্যম্ভাবী বিদায়ের কথা মনে পড়ায়, গ্রাস করা বিষাদ ঠিকড়ে বেরোয় তার হাসির পেছন থেকে, আর যখন সে বলে,  “I wish this summer would never end”।

vlcsnap-2016-11-05-01h34m13s058 vlcsnap-2016-11-05-01h31m48s174

কিন্তু সবচেয়ে বড় উদাহরণ অবশ্যই এর পারফর্মেন্সের দৃশ্যগুলো! মিউজিক অ্যানিমের সাফল্যের জন্য তো অসাধারণ সঙ্গীতেরই দরকার সবার আগে! Hibike এইক্ষেত্রে বরং Showa Genroku-’র সাথে তুলনীয়। Hibike-’র সঙ্গীতের বিচারক দর্শক নিজেরাই! কোন শর্টকাট না, এমনকি ৮ মিনিটের লম্বা পারফর্মেন্সেও! প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি বিট অ্যানিমেটেড। আর মনে রাখার মত ব্যাপার, অন্যান্য আর বেশিরভাগ অ্যানিমের মত Hibike-’র সঙ্গীত একক পরিবেশনা না, দলীয়! কন্ডাকটরের হাতের নির্দেশনা, প্রতিটি পারফর্মারের চলমান হাত অথবা মুখ, অথবা দুটোই, সঙ্গীতের সাথে মূর্ছনায়; নড়তে থাকা, সামনে, ব্যাকগ্রাউন্ডে একসাথে; ট্রামবোন, ট্রামপেট, টিউবা, ক্ল্যারিনেট, হর্ন, ট্রিমপানি, চাইম, টামবুরিন, ওবো, ফ্লুট, বেস, ইউফোনিয়াম! একসাথে চলতে থাকা! কোন স্ট্যাটিক শট না! আবার যখন রেইনার সোলোর দৃশ্য আসে, তখন পর্দায় রেইনার কল্পনায় ভেসে স্টেজ আর পাহাড়ের কিনারায় মিশে এক হয় কুমিকোর সাথে ফেস্টিভালের সেই রাতের দৃশ্য, কারণ এই পারফর্মেন্স তো তার জন্যই! অথবা ইয়োরোইযুকার কল্পনায় নোজোমি। কাওশিমার সামনে রাখা স্ট্যান্ডে বন্ধুদের সাথে তার ছবি। তাকি-সেনসেইয়ের সামনে তার স্ত্রীর। সবারই আলাদা আলাদা গল্প!

vlcsnap-2016-11-13-02h22m50s007

সামনে বসে থাকা দর্শকরা ফোকাসের বাইরে, পেছনে ব্যাকস্ট্যাজে বন্ধুদের বিচলিত পায়ের নড়াচড়া কেবল। আর এই দূর্দান্ত পরিবেশনার পরের দৃশ্যটাই কী? প্রথমে সবার হাঁপাতে থাকা চেহারা, বন্ধুদের কান্নার দৃশ্য, আর সবার শেষে দর্শকদের করতালি। আর তা ক্ষীন হতে হতে সরাসরি এন্ড ক্রেডিট। কারণ শেষ পর্যন্ত এটা তো তা-ই ছিলো, যা উপন্যাসের পাতায় কখনোই বোঝানো সম্ভব না, পাতার পর পাতা বাক্য দিয়ে ভরে ফেললেও, একইসাথে শব্দ আর চিত্রের পরিবেশনায়ঃ শ্বাসরুদ্ধ, চিত্তসম্মোহিত আর হতবিহবল করা।

নো-ওয়েইস্টেড-শট!

”জাপানিজ শিখুন,জীবন গড়ে তুলুন” – ৫৮ তম পার্ট By অরিন শারমিন

 

এই লেসন শুরু করার আগে ৫৪ নম্বর লেসন ১ম অংশে একটু চোখ বুলায়ে আসলে ভাল হয়
http://www.animeloversbd.com/জাপানিজ-শিখুনজীবন-গড়ে-তু-54

তাও আরেকবার রিপিট করি ….এই শব্দগুলা সবারই কমন পড়ার কথা 🙂

কিয়ৌ-today
কিনৌ-yesterday *(সাকুজিতসু মানেও yesterday)
আশিতা-tomorrow *(আসু মানেও tomorrow)
ওতোতোই- day before yesterday *(ইসসাকুজিতসু মানেও day before yesterday)
আসাততে-day after tomorrow
কোনশুউ-this week
সেনশুউ-last week
রাইশুউ-nest week
কোতোশি-this year
কিয়োনেন-last year *(সাকুনেন মানেও last year)
রাই নেন-next year
*কোন গেতসু-this month
*সেন গেতসু-last month
*রাই গেতসু-next month
*সাকিওতোতোই-three days ago
*শিআসাত্তে-three days from now
*ইসসাকুনেন/ওতোতোশি-the year before last
*সারাইনেন-the year after next
*সেনসেনগেতসু-the month before last
*সেনসেনশুউ-the week before last
*সারাইগেতসু-the month after next
*সারাইশুউ-the week after next
*সেনজিতসু-the other day
*হেইজিতসু-week day
*শুকুজিতসু/সাইজিতসু-national holiday

*দেয়া গুলা আজ নতুন দিলাম… বাকিগুলা ৫৪ নাম্বার লেসনেও আছে

Berserk (2016): [Honest Reaction, Rant, Appreciation] — Tahsin Faruque Aninda

berserk_2016_5127

সর্বকালের সেরা মাঙ্গা বলে কোন নাম উল্লেখ করতে বললে সব চাইতে বেশি নাম যেটা আসবে সেটা হল বার্সার্ক। কেন্তারো মিউরার এই অনবদ্য সৃষ্টি শুধু মাঙ্গা হিসাবেই নয়, কমিক্স/গ্রাফিক্স নোভেল হিসাব করতে গেলেও এরকম মানের জিনিস খুব কমই পাওয়া যায়। প্রায় ৩০ বছর ধরে চলে আসা এই মাঙ্গার গল্প যেমন অসাধারণ, আর্ট তেমনই অবাক করার মত সুন্দর! এত বছর ধরে চলে আসার পরেও গল্পের কোন কুলকিনারা করে উঠা যাচ্ছে না তার একটা বড় কারণ মাঙ্গাকার কয়েকদিন পরপর হায়াটাসে চলে যাওয়া। এক নৌকা ভ্রমণে গল্প ৭ বছর আটকিয়ে রাখার মত আকাম করেছে এই লোক। নাহলে কে জানে, গল্প হয়তো এতদূর এগিয়ে যেত যে গল্পের শেষের দিকে কী হতে পারে না পারে তার কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যেত।

সে যা হোক, সর্বজনবিদিত এই মাঙ্গার আনিমে এডাপশনের উপর যেন সবসময়েই একটা অভিশাপ লেগে থাকতো। অনেক নামকরা মাঙ্গার মতই এটারও আনিমে এডাপশনের ভাগ্যের শিকে ছিড়ে উঠে নি অনেকদিন। এডাপশন কনফার্ম হলেও আনিমের বাজেট খুবই কম থাকার কারণে স্টিল শট ব্যবহার করার কারণে কুখ্যাত হয়ে উঠে ১৯৯৭ সালের সেই সিরিজ। অনেকদিন পর আবার বার্সার্কের আনিমের খবর বের হলেও দেখা যায় সেটা মুভি ট্রিলজি, তাও আবার ১৯৯৭ সালে গল্প যতটুকু দেখিয়ে রেখে দিয়েছিল, ততটুকুই আবার রিবুট করবে। এই মুভি তিনটি বের হয়ে থাকলেও এরপর আবার খবর নেই। অনেকদিন পর আবার বার্সার্কের নতুন আনিমে এডাপশনের খবর বের হলেও সবাই চিন্তায় থাকে আবার রিবুট না তো! এবার অন্তত রিবুট হবে না এটা মোটামুটি কনফার্ম হবার পরেও সবার মনে আরেকটা চিন্তা উকি দেয় — CG এর ব্যাবহার আনিমের মানটাকে আবার খারাপ করে ফেলবে না তো!

তা শেষ পর্যন্ত কেমন হয়ে উঠে সিরিজটা? এডাপটেশন খারাপ বলে সবাই গলা ছাড়িয়ে বেড়ালেও আর মাঙ্গা পাঠকদের হতাশ করা হয়ে থাকলেও সব মিলিয়ে সিরিজটি কেমন হয়েছে? দেখার মত নাকি একদমই ফেলে দেবার জিনিস?

মাঙ্গা এডাপশন হিসাবে কেমন, সেই টপিক আপাতত সরিয়ে রাখি। ইন্টারনেটে গত তিন মাস উপস্থিত থাকলে যে কেউই এতক্ষণে জেনে গিয়েছে পাঠকদের রিএকশন কেমন। তাই সে কথা বাদ থাক। আগে থেকে কেউ যদি মাঙ্গা পড়ে না থাকেন, আনিমে দিয়েই শুরু করেন, তাহলে তার জন্যে এই লেখাটি একটি গাইডলাইন হতে পারে সিরিজটা সম্পর্কে বিচার করার জন্যে।

শুনতে অবাক লাগলেও, সিরিজটির বেশ ভাল কিছু দিক আছে। সেই ভাল দিকগুলি তুলে ধরার আগে অল্প কথায় সিরিজটির অনাকর্ষণীয় দিকগুলি নিয়ে আসি:

— CG মানেই খারাপ নয়, ভাল CG-এর ব্যবহার একটা সিরিজকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। বার্সার্কে CG-এর ব্যবহার খারাপ ছিল নিঃসন্দেহে, তবে তার চাইতেও বড় সমস্যা হল CG কিভাবে ব্যবহার হয়েছে এখানে। সিরিজ ডিরেক্টর এর আগে যত আনিমেতে কাজ করেছে, সেগুলি ছিল ৩-৪ মিনিটের পর্ব করে slapstick slice of life comedy সিরিজ। সেই ডিরেক্টর (এবং একই সাথে আগের আনিমেগুলির সেই একই স্টুডিওকে) এমন একটি আনিমের দায়িত্ব দেওয়া হল যা ছিল সবদিক থেকে আগের কাজগুলি থেকে একদম আলাদা। comedy slice of life এর জায়গায় dark fantasy horror, 2d এর জায়গায় 3d cg, short fast paced slapstick আনিমের জায়গায় বড় পর্বের action drama সিরিজ। এত কঠিন সব কন্ডিশনের পরেও সিরিজটা চমৎকার হয়ে উঠতে পারে যদি ডিরেক্টরের গুণ অনেক বিশেষ কিছু হয়ে উঠে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এরকম কিছুই হয়ে উঠে নি। অ্যানিমেশন, স্ক্রিনপ্লে, কোরিওগ্রাফি, কোন কিছুই ঠিকমত হয়ে উঠে নি। এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে এই ভিডিওটি দেখে ফেলুন, সুন্দর করে সবকিছুর analysis করা হয়েছে:

— গল্পের কাটছাট অনেক বেশি হয়েছে। বিশেষ করে Black Swordsman arc ও Conviction arc এই ১২ পর্বে দেখানোর কথা থাকলেও অর্ধেকের মত গল্পের উপাদানই বাদ দেওয়া হয়েছে এখানে। বাকিটুকুও যা দেখানো হয়েছে সেগুলিও অনেক rushed করে দেখিয়েছে।

— Censoring.
এটা বলার আগেই বুঝে নেওয়া যায়, মাঙ্গায় যে ভয়াবহ রকমের বেশি পরিমাণ nudity আর gore ছিল, তা আনিমেতে কোনভাবেই দেখাতো না। HBO যদি Berserk-এর কোন এডাপশন করে, তাহলেই একমাত্র সেখানে এরকম কিছু দেখা যেত [এবং যার কাছে GoT এর nudity-কে রীতিমত childish পর্যায়ে ফেলে দেওয়া যায়]। তা স্বত্ত্বেও কিছু কিছু যায়গায় সেন্সরিং চোখে পড়ার মত ছিল।

এবার আসি সিরিজটার ভাল দিকগুলির কথায়:

+ শুরুর দিকে সিনেম্যাটোগ্রাফি খারাপ থাকলেও ধীরে ধীরে ভাল হয়ে উঠতে শুরু করে। ডিরেক্টরের কাজ দেখে মনে হয়েছে, প্রথম ৪-৫ পর্ব কোনরকম হয়ে থাকলেও এর মধ্যেই সে অনেক কিছু শিখে উঠে। যার কারণে পরের দিকের পর্বগুলি তুলনামূলক বেশ ভাল হয়।

+ মিউজিক চমৎকার ছিল। এন্ডিং গানটা খুব ভাল না হলেও ওপেনিং গানটা এই বছরের অন্যতম পছন্দের গান। মিউজিকের ব্যবহার ভাল তো ছিলই, আমার কাছে সাউন্ড ইফেক্টও ভাল লেগেছে।

+ ক্যারেক্টার ডিজাইন।
হ্যাঁ, গাটসকে বেশি খারাপ লেগেছে আসলে, মুখটা বেশি চিকন করে ফেলেছে, শরীরটাকেও। কিন্তু বাকি সবাই একদম মাঙ্গার মতই রয়ে গিয়েছে।

+ একশন দৃশ্যগুলি বেশ ভাল ছিল। শুরুর দিকে একশন দৃশ্যের মান খারাপ থাকলেও, প্রথম পয়েন্টটার মত এ ক্ষেত্রেও যথেষ্ট উন্নতি ঘটে শেষের দিকে এসে। বিশেষ করে conviction arc-এর শেষের মারামারিটা বেশ মুগ্ধ করেছে আমাকে।

+ আনিমের জন্যে তৈরি নতুন অংশটি।
যেহেতু অনেকদিন পর আনিমে হিসাবে বার্সার্ক এসেছে আবার, আর তাছাড়া এর আগের সিরিজ/মুভিগুলির কারণে আর একই সাথে এইবারের সিরিজে সময়-স্বল্পতার কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দিতে হয়েছে, এই জন্যে apostle জিনিসটা কী সেই ব্যাপারে দর্শকদের পরিষ্কার ধারণা না থাকতে পারে। এজন্যে apostle-এর ব্যাপারটা নতুন দর্শকদেরকে ভাল মত introduce করাবার জন্যে শুরুর দিকে একটি anime only mini arc দেখায়। এই অংশটি “ফিলার” বলে দাবী করতে গেলেও একে ফিলার বলা যাবে না আসলে। কারণ মিউরা নিজেই গল্পের এই অংশটুকু লিখেছে। আর এটি বেশ ভালই হয়েছিল, দেখার সময়ে বিরক্তি তো লাগেই নাই, বরং গল্পের অন্যান্য অংশের সাথে মানিয়ে যাবার মত ঘটনাই দেখিয়েছে। মাঙ্গাকা নিজে লিখেছে বলেই এই অংশটুকু ভাল হয়েছে।

+ নতুন জেনারেশনকে বার্সার্কের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
আনিমেটাকে মাঙ্গার এডভার্টাইজমেন্ট হিসাবে ধরে নেওয়া হোক বা না হোক, এই সুযোগে এখনকার জেনারেশনের অনেক দর্শক এবং একই সাথে পাঠকদেরকে বার্সার্কের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যে একটা ভাল উদ্যোগ। “READ THE MANGA” বলে চেঁচানোর কারণে অনেকে আনিমে দেখে এরপর আর সাসপেন্স সইতে না পেরে মাঙ্গাটা শুরু করে দিবে সন্দেহ নাই।

সব মিলিয়ে এটুকু বলবো, কেউ যদি মাঙ্গা পড়ে না থাকেন, তার কাছে এই বার্সার্ক একদম ভয়াবহ খারাপ লাগবে না। সব মিলিয়ে একটা ইন্টারেস্টিং সিরিজ হিসাবেই মনে হবে। মাঙ্গা পড়তে না চাইলে এবং শুধু আনিমে দর্শক হয়ে থাকলে, সিরিজটা উপভোগ্য লাগবে পরের দিকে গিয়ে। বিশেষ করে সময়ের সাথে সাথে সিরিজটার making-এ উন্নতির ছাপটা বুঝা যাবে। তবে মাঙ্গা পড়তে আপত্তি না থেকে থাকলে অবশ্যই মাঙ্গা পড়তে অনুরোধ করবো।

সবশেষে বলবো, যেহেতু এর সিকোয়েল আসবে সামনের বছর, তার অর্থ খুব নিকট ভবিষ্যতে অন্য কোন ভাল স্টুডিওর পক্ষ থেকে এর রিবুট আসছে না। তাই প্রথম সিজনের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় সিজনটা যেন আরও ভাল করে তুলে সেটাই আশা করছি। Falcon of the Millennium Empire Arc-টা কোনভাবেই খারাপ কিছু যেন না হয়ে উঠে এই আশাতেই আছি।

Yuri!!! on ICE [রিএকশন/মিনি রিভিউ] — Mithila Mehjabin

yuri-on-ice

রিএকশন(এপি ১-৩)+মিনি রিভিউ
Yuri!!! on ICE
জনরা: স্পোর্টস
স্ট্যাটাস: অনগোয়িং

এনিমেটার প্রথম পোস্টার দেখে আহামরি কিছু হতে পারে, তা ঘুনাক্ষরেও মনে হয়নি। অথচ গত রাত থেকে এনিমেটার প্রথম তিনটা পর্ব তিনবার করে দেখা শেষ, প্রতিবারই এনিমে স্টার্ট করার আগে ওপেনিং শুনতে শুনতে কান দিয়ে ধোয়া বের হওয়ার আগ পর্যন্ত শুনে গেছি, এত বেশী শুনেছি যে ঘুমের ভেতরেও মাথার ভেতর বাজছে গানটা, বিরক্ত হয়ে ভোর চারটা সময় উঠে পড়তে বাধ্য হই!

ইয়ুরি অন আইস- নামটাই গড়বড়ে!  এনিমের মধ্যে না তো ইউরি আছে না ইয়াওই, ফ্যানসার্ভিস আছে যদিও, এবং ভালো পরিমাণেই আছে! সাবজেক্ট: ফিগার স্কেটিং। সোজা কথায় বরফের ওপর স্পেশাল ধরণের জুতা পড়ে পিছলিয়ে যে নাচ বা খেলা।
ম্যালের মতে, স্টুডিও মাপ্পা’র (MAPPA) চার বছর ধরে প্ল্যান করা অরিজিনাল একটি সিরিজ এটি। ক্রিয়েটর মিত্সুরো কুবো এবং ডিরেক্টর সায়ো ইয়ামামোতো সিরিজ প্ল্যানিং এর আগে রাশিয়া, বার্সেলোনা ও বেইজিং ঘুরে এসেছেন লোকেশন হান্টিং এর জন্য। ক্যারেক্টার ডিজাইনারদের একজন তাদাশি হিরামাত্সু, পরিচিত Parasyte: The Maxim এর ক্যারেক্টার ডিজাইনিংয়ের জন্য, এনিমের মেইন ক্যারেকটার: কাত্সুকি ইউরি কে দেখলেই ইযুমি শিনিচি’র কথা মনে হয়। ওপেনিং থিম “History Maker” গেয়েছেন ডীন ফুজিওকা, এই মাল্টিলিংগুয়াল মডেল, অভিনেতা ও গায়কের গাওয়া ওপেনিংটা সম্পূর্ণ চমৎকার ঝরঝরে ইংরেজীতে!  সাসুগা…ইকেমেনদের জন্য গাওযা ওপেনিং এর গায়কও একজন ইকেমেন!

গল্পের শুরু কাত্সুকি ইউরি’কে নিয়ে, যার ফিগার স্কেটার হওয়ার স্বপ্নের উদ্যোক্তা পরপর পাঁচ বার গ্র্যান্ড প্রিক্স ফাইনাল জেতা ২৭ বছর বয়সী রাশান স্কেটার ভিক্টর নিকিফরভ্! ছোট থেকে দেখে আসা স্বপ্নের পথ ধরে গ্র্যান্ড প্রিক্সে আসার সুযোগ পেলেও সেটা ধরে রাখতে পারে না কাত্সুকি, প্রচন্ড পরিশ্রমের পরও প্রেশারের কাছে পরাজিত হয় সে, এবং জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড প্রিক্স এ শেষ স্থান পাওয়ায় তার ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়! শেষমেষ সবকিছু ছেড়েছুড়ে, ফিগারের বারোটা বাজিয়ে আপাতত জাপান ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় ও, বাস্তবতার হাত থেকে পালিয়ে!

পাচঁ বছর পর বাড়ী ফিরলেও মন ভালো নেই কাত্সুকি’র, শুয়ে-বসে ডিপ্রেশনে ভুগতে ভুগতে বিরক্ত কাত্সুকি অবশেষে ঘর থেকে বেরোয়, উদ্দেশ্য: ছেলেবেলার স্মৃতিঘর হাসেত্সু আইস ক্যাসেল। ফিগার স্কেটিংয়ের শুরু এখান থেকেই, প্রবেশ করতেই দেখা হয় ছেলেবেলার স্কেটিং সঙ্গীনী ইউ-চান এর সাথে! দুবছরের সিনিয়র মেয়েটি ছিল তার অনুপ্রেরণার আরেক অন্যতম উৎস্য। অফিশিয়াল স্কেটিং থেকে আপাত অবসর নিলেও পঞ্চম গ্র্যান্ড প্রিক্সে ভিক্টরের পারফর্ম করা ডান্স টা আয়ত্ত করেছে ও, ইউ-চান কে দেখাবে বলে। বরফের উপর ভিক্টরের পারফর্ম করা নাচটা পারফর্ম করছে কাত্সুকি, মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখছে ইউ! কি মনে হয়..একটি প্রেমের সূচনা?
মোটেই না, ইউ যখন মুগ্ধ হয়ে কাত্সুকির নাচ দেখছে, তার তিনি বদের হাড্ডি আশেপাশেই কোথাও লুকিয়ে ভিডিও করছে নাচটির!  গোলগাল তিনটে বাচ্চা, জামাই নিশিগোরিও কাছাকাছিই আছে কোথাও!

রিইউনিয়ন ও খুনসুটির পর বাড়ী ফিরে নানান ভাবে ক্লান্ত কাত্সুকি মেসেজ পায় নিশিগোরির কাছ থেকে, খবর হলো: নাচটার ভিডিও অনলাইনে আপলোড করে দিয়েছে তার তিন সুকন্যা! 😀 ব্যাস, আর যায় কই! হাজার হাজার বার রিটুইট হয়ে পৌছে যায় ভিডিওটি স্বয়ং ভিক্টর নিকিফরভের কাছে! তারপর?

তারপর কি হয় জানতে চাইলে দেখতে হবে!  

এনিমেটা সম্বন্ধে প্রথমেই যা বলতে হয়, তা হলো মনোমুগ্ধকর এনিমেশন! এবং যেনতেন ধরণের মনোমুগ্ধকর না, দম বন্ধ করা মনোমুগ্ধকর!  বিশেষ করে ওপেনিংয়ে তাদের ডান্সগুলো দেখলে ঘন্টাখানেক আর অন্য কিছুই দেখতে মন চাইবে না! প্রধান তিনটে ক্যারেকটার রুপোলী চুল ও নীল চোখের ভিক্টর নিকিফরভ, শিনিচির ছোট, হ্যান্ডসাম ভাই কাত্সুকি ইউরি আর সোনালী চুল ও সবুজ চোখের গর্জিয়াস লুকিং পাঙ্ক ইউরি পিলসেতস্কি! ক্যারেক্টার ডিজাইন ছাড়াও লাইট রেফলেকশন, কস্টিউম, ডান্স-কোরিওগ্রাফি আর সং চয়েসে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে মাপ্পা!  নীলাভ সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডটা দারুণ ভাল্লাগে!  ভিএ হিসেবে আছেন ভিক্টর, কাতসুকি আর পিলসেতস্কির জন্য যথাক্রমে জুনিচি সুয়াবে, তোনিশি তোয়োনাগা, কোউকি উচিয়ামা।

স্টোরিটা দারুণ আগাচ্ছে, লেটেস্ট তিন নম্বর এপিসোডটা চমৎকার ছিল!  হালকা ফ্যানসার্ভিসটা, এইরকম একটা স্পোর্টের ক্ষেত্রে তেমন বেমানান কিছু লাগে না। খালি অনসেন-সিনগুলোর সময় ভিক্টরের অস্তিত্বের কথা মাথা থেকে বাদ রাখলেই হয়, দৃশ্যত আর কোনো সমস্যা নেই কোথাও….এখনও পর্যন্ত!  আইস-স্কেটিং বিষয়ে শূণ্য জ্ঞানহীন আমি ইউটিউবে মেন’স ফিগার স্কেটিং সার্চ দিয়ে যে ভিডিওই পাই, কমেন্টবক্সে ইউরি অন আইসের জয়জয়কার!

অনগোয়িং এনিমেটার তিনটে এপিসোড এসেছে এই পর্যন্ত, কত এপিসোডের হবে তা এখনও নির্দিষ্ট করা হয়নি ম্যাল এ। ডাবের এনাউন্সমেন্ট দিয়েছে ফানিমেশন, অক্টোবর ২৪, ২০১৬ অর্থাৎ আগামীকাল ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী রাত ১০ টায় প্রথম এপিসোডের ডাব রিলিজ হওয়ার কথা রয়েছে। *-*

মিনি রিভিউ বলেছিলাম, কিন্তু এরচেয়ে বড় রিভিউ দেয়া আদৌ পসিবল কি না, জানি না!  বালিকার উচ্ছাস কে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল!

আমার কাছে যে অসাধারণ লেগেছে তা নতুর করে বলা বাহুল্য, এবং আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে বলে সবার কাছেই অসাধারণ লাগবে- এরকম হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু অন্তত ওপেনিংটা দেখুন, এবং নিজেরাই বিচার করুন দেখবেন কি দেখবেন না! ওপেনিংটার কথা আলাদা করে বলতেই হয়, ম্যাল অনুযায়ী আমার দেখা এনিমের সংখ্যা মাত্র ১৪১ টা, সেই হিসেবে আহামরি অনেক ওপেনিং দেখা বা শোনা আছে, এটা বলা যায় না। কিন্তু এই ওপেনিংটা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। বেস্ট বলে না, ওয়ান অফ আ কাইন্ড বলে। এরকম অভিভূত করা একটা ওপেনিং সচরাচর চোখে পড়েনা বলেই আমার মনে হয়েছে!  জাপানীজ একজন লোক এরকম শুদ্ধ ইংরেজী উচ্চারণ করতে পারে, না শুনলে বিশ্বাস করাই মুশকিল! এরইমধ্যে এক মিলিয়নের বেশী ভিউ পড়েছে ওপেনিং ভিডিওটিতে, চেক করে আসতে পারেন নিচের লিঙ্কটি থেকে:

 

ভালো এনিমেটা ভালোভাবে শেষ হলে বছরের অন্যতম সেরা এনিমেগুলোর একটি হলেও হতে পারে!  সবাইকেই দেখার অনুরোধ থাকবে!

সকল তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া এবং মাইএনিমেলিস্ট।

yuri-on-ice-2

Yuri!!! on Ice: ফিগার স্কেটিংয়ের ওয়ান-টু-থ্রী! — Mithila Mehjabin

Yuri on Ice দেখার আগে দুনিয়াতে ফিগার স্কেটিং বলে কিছু আছে, তাই জানতাম না! :’) ফিগার স্কেটিং বলতে আইস স্কেটিং বুঝতাম, যার মানে তলা পিছলা জুতা পড়ে বরফের ওপর স্লিপ কাটা! 😐 এবং সেটা যে একটা অফিশিয়াল স্পোর্টস্, সেটাও জানতাম না! ইয়ুরি নিয়ে বিন্দুমাত্র এক্সপেক্টেশন ছিল না, কিন্তু এই জিনিস যে এরকম যাদু করে ছাড়বে, তা কে জানত? >\\\<
ফিগার স্কেটিং বলি বা আইস স্কেটিং বলি, এর ইতিহাস অনেক পূরোনো, এ নিয়ে বেশী কিছু বলার ইচ্ছে নেই আমার। আন্তর্জাতিক ভাবে ফিগার স্কেটিং প্রতিযোগিতা শুরু হয় ১৮৯৬ সাল থেকে, এবং সেটা অলিম্পিকের অংশ হয় ১৯০৮ সাল থেকে। সেই থেকে হাজারো উথান-পতন ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চলে এসেছে ফিগার স্কেটিং, কিন্তু এর সৌন্দর্যতা এখনও মলিন হয়ে যায়নি! :’)
এবং ফিগার স্কেটিংয়ের এই জটিল সৌন্দর্যতাকে এনিমেশনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার সাহস দেখিয়েছে মাপ্পা, এবং ভালোই মুন্সিয়ানা দেখাচ্ছে এখন পর্যন্ত! 😀 আমরা দর্শকরাও ভালোই এঞ্জয় করছি! কিন্তু এনিমেটা যেখানে স্পোর্টস্, বারবার সানকাইতেন (আক্ষরিক অর্থ: তিনবার ঘোরা) টো লুপ, বা ইয়োনকাইতেন (চারবার ঘোরা) সালকো বলছে কমেন্টর, আমরা আদৌ কি কোনো পার্থক্য বুঝতে পারছি দুটার মধ্যে? :3 স্কেটার বাতাস উড়াল দিয়ে দুইবার কি তিনবার কি চারবার ঘোরে…এটুকুই বুঝতে পারছি আমরা! XD এবং ইউরি জাম্প মিস করে আছাড় খেলে “এই গেলো গেলো!” বলে মাথায় হাত দিয়ে বসার পর যখন দেখি ভালো মার্কস পেয়ে প্রথম হচ্ছে, তখন নিজেকে বেকুব ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছেনা! :v
কিন্তু ফিগার স্কেটিং শুধু জাম্পস না, অনেক জটিল এলিমেন্টস এর সমন্বয়, এবং এটা শুধু স্পোর্টস্ই না, তার সাথে আর্ট এবং এক্টিংয়ের একটি সুন্দর সমাহার! :’) আমরা ভিউয়ার্সরা না বুঝেই জাজ করতে যাই এটাকে স্পোর্টস ভেবে, এবং পার্ফর্মাররাও সবসময় নিজেদেরকে চ্যালেঞ্জ করতে চায়, কিন্তু পাশাপাশি তার পার্ফর্মেন্স আনন্দদায়কও হতে হবে! সেই সেন্সে বর্তমানে ফিগার স্কেটিঙটা একটা আর্টিস্টিক স্পোর্টস্ অবস্থায় বিরাজ করছে, যেখানে শুধু তার টেকনিকাল ক্যাপাবিলিটি না, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, এক্সপ্রেশন, দর্শককে বিনোদিত এবং চমকিত করার ক্ষমতা, সবই নাম্বার বহন করছে, এবং এ সবকিছু হিসেব করেই নাম্বারিং করা হয় একজন স্কেটারকে, এবং এখানেই ফিগার স্কেটিংয়ের সৌন্দর্যতা এবং সাফল্য! 🙂
তাই এই সোন্দর্যতাকে উপলব্ধির স্বার্থে, এবং এনিমেটাকে পুরোপুরি এনজয়ের স্বার্থে, চলুন জেনে আসি কিছু ব্যাপার! 3:) ^_^
ফিগার স্কেটিং, যেখানে আইস রিংকে প্রবেশ করার পর থেকে স্কেটারের সবকিছুই জাজ করা হয়। শুধু জাম্পস বা এলিমেন্টস না, জাজ করা হয় তার কস্টিউম, কোরিওগ্রাফি, ট্রানজিশন, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, ফুটওয়ার্ক, এক্সপ্রেশন, প্রেজেন্টেশন এবং এলিমেন্টস। সবকিছুর একটা সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করছি! 🙂 বর্ণনায় সঙ্গতি রক্ষার স্বার্থে শব্দ বা টার্মসগুলোকে ইংরেজীতেই ব্যাবহার করা হয়েছে, বোঝার সুবিধার্থে যথাসম্ভব অর্থটা মাথায় রাখার জন্য নিম্নের বিশ্লেষন:
এলিমেন্টস- উপাদান।
কম্পোনেন্ট- কাঠামো উপাদান।
কোরিওগ্রাফি- নৃত্যবিন্যাস বা নাচের পরিকল্পনা।
ফুটওয়ার্ক- পায়ের ব্যাবহার
ট্রানজিশন- রূপান্তর (অঙ্গভঙ্গির এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় পরিবর্তন।
রোটেশন/রেভোলুশন- ঘূর্ণন বা ঘোরা।
টো পিক- পায়ের পাতার আঙ্গুল বা অগ্রভাগ।
এড্জ- কিনারা।
টেকঅফ- মাটি ত্যাগ করা।
ল্যন্ডিং- মাটিতে নামা।
হাইট কাভারেজ- অতিক্রান্ত উচ্চতা বা যতটুকু উচ্চতায় জাম্প করা যায়।
ডিসট্যান্স কাভারেজ- অতিক্রান্ত দূরত্ব, বা জাম্পের সময় যতটুকু দূরত্ব পার করা হয়।
মেন্স সিঙ্গেল- ছেলেদের একক পার্ফরমেন্স।
ইউরি অন আইস যেহেতু মেন্স সিঙ্গেল নিয়ে, তাই এখানে যা কিছু বলা হয়েছে সবকিছু ছেলেদের প্রতিযোগিতার নিয়ম মাথায় রেখেই। লেডিজ সিঙ্গেল, পেয়ার স্কেটিং, আইস ডান্স এবং সিনক্রোনাইজ স্কেটিংয়ের নিয়মে খানিকটা ভিন্নতা আছে।
কম্পিটেটিভ ফিগার স্কেটিং দুটো সেগমেন্টের সমন্বয়, যে দুটির একটি হলো শর্ট প্রোগ্রাম, অপরটি লং প্রোগ্রাম বা ফ্রি স্কেট। শর্ট প্রোগ্রামের সময়সীমা আড়াই মিনিট এবং লং প্রোগ্রামের সাড়ে চার মিনিট। এই দুটি সেগমেন্টের মার্কের সমন্বয়ে স্কেটারের টোটাল মার্ক নির্ধারিত হয়।
এলিমেন্টস:
ফিগার স্কেটিংয়ে প্রধান এলিমেন্ট বলতে যেটা বোঝায়, সেটা হলো জাম্পস।
একেকটা জাম্পকে আমরা বেসিকালি তিনটা জিনিসের সমন্বয় ভাবতে পারি, যেগুলো হলো: টেকঅফ, রোটেশন এবং ল্যান্ডিং। এখন জাম্পগুলোর পার্থক্য কোথায়? সহজ উত্তর হচ্ছে এক্সেকিউশন সিস্টেমে।
দুধরণের এক্সেকিউশন সিস্টেমের একটি হলো টো জাম্প, যেখানে জুতোর সামনের অংশে দিয়ে বরফে খোঁচা মেরে গতিতে ব্রেক সৃষ্টির মাধ্যমে জাম্প করা হয়। আরেকটি হলো এড্জ জাম্প, যেখানে হাটু ভেঙে প্রেসারের বিপরীতে লাফ দেয়া হয়, অনেকটা স্প্রিং এর মত। ফিগার স্কেটিং বিশ্বে এই দুধরণের এক্সেকিউশন সিস্টেমের আন্ডারে মূলত ছয়রকমের জাম্প সবচেয়ে বেশী পরিচিত। তিনটা টো জাম্প হলো: টো-লুপ, ফ্লিপ এবং লুটয্। তিনটি এড্জ জাম্প হলো: সালকো, লুপ এবং এক্সেল। এখন কথা হলো, একই নিয়মে করা প্রতিটা জাম্পকে আলাদা করা হয় কিভাবে? যেমন: ফ্লিপ, টো-লুপ, লুটয্, তিনটাই টো জাম্প, তাহলে ডিফারেন্স টা কোথায়? উত্তর টা হচ্ছে, এড্জ, বা ব্লেডের কিনারার ব্যাবহারে, ল্যান্ডিং এবং টেকঅফে যেটার ভূমিকা বিশাল!
জাম্প বোঝার আগে আমরা স্কেটিংয়ের জন্য ব্যাবহৃত জুতোগুলোর দিকে মনোযোগ দিই। স্কেটিংয়ের জুতাগুলোর নিচে ব্লেড লাগানো থাকে, এটা এখন আমরা সবাই জানি। এই ব্লেড গুলোর কারণেই বরফের ওপর যেকোনোদিকে ভর দিয়ে গ্লাইড করা যায়। ব্লেডের সামনের দিকটায় দাতের মত খাজ কাটা থাকে গতিতে ব্রেক আনার জন্য বা বরফে খোঁচা মেরে টো জাম্পের জন্য। পাশাপাশি দুই পায়ের নিচে দুই জুতার দুটো ব্লেডের মধ্যবর্তী ফাঁকা অংশের দিকে যে কিনারা তাকে বলে ইনসাইড এড্জ বা ভেতরের কিনারা। দুই জুতোর ভিতরের কিনারা দুটি পরপস্পরের দিকে মুখ করে থাকে। আর ব্লেডের বাইরের অংশের দিকের কিনারা, যেক্ষেত্রে দুই জুতোর দুই কিনারা বিপরীতমুখী, তাকে বলে আউটসাইড এড্জ বা বাইরের কিনারা। স্কেটার যেকোনো দিকে ভর দিয়ে বা কাঁত হয়ে এড্জ পরিবর্তন করতে পারে। টেকঅফে বিভিন্ন জাম্পের জন্য বিভিন্ন সাইডের এড্জ ব্যাবহৃত হলেও ল্যান্ডিংয়ে সাধারণত আউটসাইড ব্যাক এড্জ ব্যাবহার করা হয়, অর্থাৎ স্কেটার পায়ের পেছনের অংশে ভর দিয়ে ব্লেডের বাইরের কিনারার দিকে কাঁত হয়ে ল্যান্ডিং করে। শুধু এক্সেল জাম্পে টেকঅফের সময় ফরোয়ার্ড বা সামনের দিকের এড্জ ব্যাবহার করা হয়, যার কারণে এক্সেল জাম্পে একটি এক্সট্রা হাফ রেভোলুশন পাওয়া যায়, এবং এজন্য সবগুলো জাম্পের মধ্যে এক্সেল যথেষ্ট কঠিনও বটে। অবশ্য কার কাছে কোনটা কঠিন, সেটা একেকজনের জন্য একেকরকম, যেমন ইউরি এক্সেল ভালোই করতে পারে, খালি সালকো’র বেলায়ই আছাড় খায়! :'( আবার ইউরিওর কাছে সালকো হোক বা এক্সেল হোক, সবই ডালভাত! টেকঅফ ও ল্যান্ডিংযের সময় এই এড্জ এর ব্যাবহারের দিকে লক্ষ রেখেই জাম্পগুলোর পার্থক্য এবং স্কোরিং করা হয়, এবং যেখানে যে এড্জ ব্যাবহার করার কথা, তা না করে অন্য কোনো এড্জ ব্যাবহার করলে এড্জ ভায়োলেশনের জন্য পয়েন্ট ডিডাকশন হতে পারে।
জাম্পের সময় বাতাসে যে কয়বার ঘোরা হয়, তা সেই জাম্পের নামের সাথে যোগ করা হয়, দুবার ঘুরলে ডাবল্, তিনবার ঘিরলে ট্রিপল্ এবং চারবার ঘুরলে তাকে কুয়াড্রুপল বা কোয়াড বলা হয়। মেন্স সিঙ্গেলে স্কেটাররা সাধারণত ট্রিপল্ এবং কুয়াড্রুপল্ জাম্পের প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকে, কারণ রেভোলুশন বেশীর জন্য পয়েন্টও বেশী।
পরপর কয়েকটা জাম্প করা হলে তাকে বলে কম্বিনেশন জাম্প। এড্জ এর জাম্পগুলো সাধারণত পারফর্ম করা মুশকিল, তাই কারও প্ল্যানিংয়ে কম্বিনেশন জাম্প থাকলে সে সাধারণত একটি এড্জ জাম্পের পর একটি টো জাম্প পারফর্ম করে, যেমন: প্রথমে সালকো করা হলে ঠিক পরেরটা হতে পারে টো-লুপ।
তারপর আসি স্পিন এর কথায়! 😀
স্পিন হচ্ছে যখন স্কেটার পায়ের ওপর ভর দিয়ে বরফের ওপর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘোরে। সেটা দুপায়ে অথবা একপায়ে হতে পারে, পায়ের মাঝখান এবং আঙ্গুলের মধ্যবর্তী অংশে ভর দিয়ে ঘোরা হয়। বাঁ পায়ে ভর দিয়ে বাম থেকে ডানে ঘোরাকে বলে ফরোয়ার্ড অথবা ফ্রন্ট স্পিন, আর ডান পায়ে ভর দিয়ে ডান থেকে বামে ঘুরলে সেটা হলো ব্যাক স্পিন। স্পিন শুরুর আগে ছোট্ট একটা জাম্প দিয়ে নিলে সেটাকে বলা হয় ফ্লাইং স্পিন। এই তিন ধরণের সিস্টেমের আন্ডারে শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যাবহার, রোটেশন, এড্জ, দাড়ানো বা বসার ভিত্তিতে একেক ধরণের স্পিনকে কম করে হলেও দশ ভাগে ভাগ করা যায়!
অনেকটা কম্বিনেশনের জাম্পের মতই, একই স্পিন এ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির পরিবর্তন, এড্জ বা রোটেশনের পরিবর্তন…অর্থাৎ একই এটেম্পটে পরপর বিভিন্ন ধরণের স্পিন পারফর্ম করাকে বলা হয় কম্বিনেশন স্পিন। কম্বিনেশন স্পিন এবং জাম্প, দুটোই ভারী মার্ক আনতে সক্ষম।
স্পিন এবং জাম্প ছাড়াও স্টেপ সিকুয়েন্স এবং কম্পালসরি ফিগারও ফিগার স্কেটিংয়ের দুইটি আবশ্যক এলিমেন্ট। স্পিন এর মতই, বিভিন্ন ধরণের স্টেপ সিকুযেন্স এবং কম্পালসরি ফিগার আছে। যেমন: পাঁচ নম্বর এপিসোডে ইউরির স্কেটিংয়ের সময় আমরা ভিক্টরকে ইনা বাউয়ার (Ina Bauer), এবং স্প্রেড ঈগল (Spread Eagle) এর কথা বলতে শুনি। স্প্রেড ঈগল হলো কিছুটা দুই পায়ের পাতা দুদিকে ছড়িয়ে দেয়ার ভঙ্গি, যেখান দুপায়ের গোড়ালী একে অপরের দিকে মুখ করে থাকে, এবং দুপায়ের সম্মুখভাগ তথা আঙ্গুল থাকে পরস্পরের থেকে সবচেয়ে দূরে। স্কেটার যেকোন সাইডের এডজ ব্যাবহার করে স্প্রেড ঈগল পারফর্ম করতে পারে। ইনা বাউয়ার ঠিক স্প্রেড ঈগল এর মতই, শুধু এটার বেলায় হাটু ভেঙে করা হয়। ভালো করে বোঝার জন্য পঞ্চম এপিসোডে ইউরির করা স্প্রেড ঈগল আর ইনা বাউয়ার দেখলেই পার্থক্য টা পরিষ্কার বোঝা যায়।
স্পাইরাল হচ্ছে যখন এক পায়ের ওপর ভর দিযে পুরো শরীর কে বিভিন্নভাবে বাঁকিয়ে ফেলা পজিশন, সাধারণত কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত সামনের দিকে বাকিয়ে দুহাত ও এক পা ছড়িয়ে দিয়ে পাখির ওড়ার মত করে পজিশন নিয়ে এক পা দিয়ে স্কেট করা হয়। এটাতেও, যেকোন এড্জ ব্যাবহার করতে পারে স্কেটার। ইউরি অন আইস এর পারফর্মেন্সে ইউরিকে আমরা স্পাইরাল করতে দেখেছি।
এ তিনটা ছাড়াও আরও বিভিন্ন রকমের অনেক স্টেপ সিকুয়েন্স এবং কম্পালসরি ফিগার রয়েছে।
কস্টিউম, সং এবং থিম:
ফিগার স্কেটিংকে একটা আর্টিস্টিক স্পোর্টস হিসেবে ধরা হয়, এখানে স্কেটারের টেকনিকাল এ্যাসপেক্টক গুলো যতটা মূল্য বহন করে, তারচেয়ে বেশী মূল্য বহন করে দর্শককে চমকিত বা বিনোদিত করতে পারার ক্ষমতা! তাই কস্টিউম, সং চয়েস এবং থিম একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ বৈ কি!
কম্পিটিশন ফিগার স্কেটিংয়ের কস্টিউম সাধারণত চাকচিক্যময় ও দৃষ্টিনন্দন হয়। পোশাকের ডিজাইন স্কেটার নিজেও করতে পারে অথবা প্রফেশনাল ফ্যাশন ডিজাইনারকে দিয়েও করাতে পারে। স্কেটিংয়ের জন্য ডিজাইনকৃত কস্টিউম অনেক এক্মপেন্সিভ হয় এর উপর ক্রিস্টালের ব্যাবহারের কারণে। এসব ক্রিস্টাল হাতে বসাতে হয়, যাতে প্রচুর সময় লাগে।
মেন্স ফিগার স্কেটিংয়ে কস্টিউম রুল একটাই, সেটা হলো ট্রাউজার থাকতে হবে, কোনোপ্রকার টাইট্স বা অন্য কিছু পড়া যাবে না। তারমানে এই না যে শুধু ট্রাউজারই পড়বে, গায়ে কিছু থাকতে হবে বৈ কি! এরেঞ্জাররা সবসময়ই চায় স্কেটারের পোশাক দৃষ্টিনন্দন, কিন্তু পরিশীলীত হোক। সুন্দর পোশাকে সুন্দর প্রেজেন্টেশনে সহায়ক, কস্টিউম রুল ব্রেক করলে পয়েন্ট ডিডাকশন হতে পারে।
ফিগার স্কেটিং সং চয়েসে সাধারণত কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু স্কেটারকে সং এর টেম্পোর সাথে তাল মিলিয়ে প্রেজেন্টেশন করার ক্ষমতা থাকতে হবে। আগে কম্পিটিটিভ স্কেটিংয়ের সং এ লিরিক্স এলাউড ছিল না, সম্প্রতি লিরিক্স এলাউ করেছে ISU।
থিম বা টেম্পো হল স্কেটারের আর্টিস্টিক ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, যার মাধ্যমে সে কোনো না কোনো ধরণের ইমোশন ডেলিভার করতে চায়। সং এর ফিলিং এবং বিট এর সাথে মিল রেখে থিম ঠিক করা হয়, অথবা যেধরণের থিম এ পারফরমেন্স করতে চায় স্কেটার, সেধরণের থিম অনুযায়ী সং সেলেকশন হয়ে থাকে। ভালো প্রেজেন্টেশন এবং দর্শককে বিনোদিত করার জন্য একটা সুন্দর থিমের তুলনা নেই!
এবার আসি ফিগার স্কেটিঙয়ের গভর্নিং বডি, কম্পিটিশন লেভেল এবং স্কোরিং ও জাজমেন্ট সিস্টেমে।
ফিগার স্কেটিং কম্পিটিশন লেভেলকে আমরা প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করতে পারি, ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল লেভেল, সেটা জুনিয়র বা সিনিয়র যাই হোক না কেন। যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীন ফিগার স্কেটিং কম্পিটিশন হলো ন্যাশনাল কম্পিটিশন, যেমন: পঞ্চম এপিসোডে ইউরি যে কম্পিটিশনে পারফর্ম করল।
যেকোন ধরণের আন্তর্জাতিক ফিগার স্কেটিং কম্পিটিশন পরিচালিত হয় এই স্পোর্টসের সর্বোচ্চ গভর্নিং বডি, ISU (International Skating Union) এর তত্বাবধায়নে। ন্যাশনাল কম্পিটিশনগুলোও ISU এর রুল মেইনটেইন করে কম্পিটিশন পরিচালনা করে থাকে।
ISU এর সরাসরি তত্বাবধায়নে পরিচালিত আন্তর্জাতিক কম্পিটিশনগুলো হলো:-
♦World Championship
♦European Championship
♦Four Continents Championship
♦World Junior Championship
♦Olympic Games
♦ISU Grand Prix Championship
ISU Grand Prix কে ফিগার স্কেটিং কম্পিটিশনের সর্বোচ্চ ফিল্ড হিসেবে ধরা হয়। ISU Grand Prix এর ফাইনালে যেতে হলে Grand Prix কতৃক আয়োজিত অন্তত দুটি কম্পিটিশনে জিততে হয়। Grand Prix আয়োজিত কম্পিটিশনের প্রাথমিক ধাপ পরিচালনার দায়িত্ব নির্দিষ্ট ছয়টি দেশ পেয়ে থাকে, যেমন: ইউরির ক্ষেত্রে তার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে তাকে চায়নায় এসাইন করা হয়েছে, একই জায়গায় এসাইন করা হয়েছে ওর রিংক মেট পিচিত চুলানন্ত কে। সেখানে ভালো পারফর্ম করতে পারলে তার পরবর্তী ধাপ হবে রাশিয়া, যেখানে তাকে ইউরি প্লিসেত্স্কির সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
এখানে ইউরির ব্যাপারটা ক্লিয়ার হওয়া যাক। গ্র্যান্ড প্রিক্সের মত ফিল্ডে কম্পিট করতে হলে একটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকতে হয়। ISU রাঙ্কিঙে যারা ভালো স্কেটার হিসেব স্থান পায়, তারাই গ্রান্ড প্রিক্সে কম্পিট করার সুযোগ পায়। আবার ISU এর রাঙ্কিঙে স্থান পায় তখনি, যখন ন্যাশনাল লেভেলে ভালো পারফর্ম করে।
এখন চায়নাতে পারফর্ম করতে ইউরি তো আর নিজের টাকায় উড়ে যাচ্ছে না, তাকে নিযে যাবে ন্যাশনাল এরেঞ্জমেন্ট। ইউরি আগের বছর গ্র্যান্ড প্রিক্সে ষষ্ঠ হয়েছে, ISU নিয়মস্বরুপ গ্রান্ড প্রিক্স কমিটি তাকে এবছর আবার এ্যাসাইন করেছে চায়নাতে। কিন্তু আগেরবার খারাপ করার কারণে, এবার যদি সে যোগ্য পারফর্ম করতে না পারে, ন্যাশনাল টিম তাকে চায়নায় উড়াবার দায়িত্ব নেবে না। সুতরাং, তাকে প্রথমে তার ন্যাশনাল টিমের সাপোর্ট পাওয়ার জন্য নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে হবে, সেজন্যই চুগোকু, শিকোকু এবং কিয়ুশু চ্যাম্পিনশিপ থেকে ব্লক পর্যায়ে পারফরমেন্স শুরু করে ইউরি।
yuri-on-ice
এবার স্কোরিং সিস্টেম:
সত্য কথা বলতে কি, ফিগার স্কেটিংয়ের স্কোরিং সিস্টেমের মত ভেজাইল্যা স্কোরিং সিস্টেম দুনিয়ার আর কোথাও আছে কিনা, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার! >:( এমনকি হিসাব বিজ্ঞানের (যেটাতে আমার চেয়ে বেশী কাঁচা হওয়া মানব ইতিহাসের আরও কারও পক্ষেই সম্ভব না!) ফাইনাল একাউন্টস নামক খবিশটাও মেলা সোজা ছিল এর চেয়ে! :'( যাই হোক, প্রাথমিক একটা ধারণা দেযার চেষ্টা করছি:
আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি যেকোনো পর্যায়ের ফিগার স্কেটিং কম্পিটিশন মূলত দুটি ধাপের সমন্বয়, যে দুটি হলো শর্ট প্রোগ্রাম এবং ফ্রি-স্কেট বা লং প্রোগ্রাম।
আগের সিক্স পয়েন্ট জিরো সিস্টেমে এই দুটি প্রোগ্রামকে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদাভাবে স্কোরিং করা হত। কিন্তু ২০০২ এর অলিম্পিকে ফিগার স্কেটিং স্ক্যান্ডাল (যেখানে ফিক্সিং এর অভিযোগ ভয়াবহ গুরুতর পর্যায়ে চলে যায়) এর পর থেকে IJS (International Judging System) এর আন্ডারে স্কোরিং করা হয়, যেটা ISU এর দ্বারাই গঠিত এবং বাস্তবায়িত। ISU জাজিং সিস্টেমের আন্ডারে, প্রতিটা স্কেটিং এলিমেন্ট এর জন্য ইন্ডিভিজুয়াল মার্কিং করা হয়, এবং এই এলিমেন্ট মার্কিং করে টেকনিকাল স্পেশালিস্ট রা। একেকটা স্পিন বা জাম্প, সব এলিমেন্টই ক্যামেরায় রেকর্ডের মাধ্যমে বারবার রিপ্লে করে করে দেখা হয় স্কেটারের স্টেপ সিকুয়েন্স বা কম্পালসরি ফিগারের যথার্থতা, জাম্পের সময়কার টেকঅফ এবং ল্যান্ডিং পজিশন, হাইট কাভারেজ, ডিসট্যান্স কাভারেজ, এবং কোনোধরণের ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সেজন্যে নাম্বার ডিডাকশন করে সবগুলো টেকনিকাল এলিমেন্টের জন্য বেস ভ্যালু বা প্রাথমিক স্কোর নির্ধারন করেন টেকনিকাল স্পেশালিস্টরা।
ফিগার স্কেটিং কম্পিটিশন পর্যবেক্ষণ বা জাজ করার জন্য টেকনিকাল স্পেশালিস্ট ছাড়াও নয়জন জাজ থাকেন, যাদের কাছে স্কেটারের টেকনিকাল মার্ক কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রেরণ করেন টেকনিকাল বিশেষজ্ঞ দল। জাজেস প্যানেল তখন স্কেটারদের গ্রেড অফ এক্সিকিউশন (GOE) অর্থাৎ এলিমেন্টসগুলোর এক্সেকিউশনের মানের ওপর একটা কোয়ালিটি মার্কিং করে থাকেন, যেটা সাধারণত -৩ থেকে +৩ (খারাপ হলে -১, তার চেয়ে বেশী খারাপ হলে -২ এবং জঘন্য হলে -৩, একইভাবে মোটামুটি হলে ১, ভালো হলে ২, বেশী ভালো হলে ৩) এর পূর্ণসংখ্যার একটি স্কেলের মধ্যে হয়ে থাকে। গ্রেড অফ এক্সেকিউশনের নাম্বারকে আবার ISU এর SOV (Scale of Value) তালিকা অনুযায়ী আরেকটি নাম্বারে রুপান্তরিত করা হয়। এই রুপান্তরিত সংখ্যাকে আবার trimmed mean বা ছাটাইকরণ পদ্ধতিতে গড় করা হয়। এই গড় সংখ্যাকে (ধনাত্নক বা ঋণাত্নক, দুটোই হতে পারে) তখন টেকনিকাল স্পেশালিস্টদের দেয়া বেস ভ্যালুর সাথে যোগ করে এলিমেন্টের টোটাল স্কোরিং করা হয়। টোটাল এলিমেন্টস স্কোরকেই স্কোরবোর্ডে TES হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
এলিমেন্ট ছাড়াও জাজে’স প্যানেল আরও যা জাজ করেন তা হলো স্কেটিং স্কিল, কস্টিউম, কোরিওগ্রাফি, ফুটওয়ার্ক, ট্রানজিশন এবং ল্যান্ডিঙ, পারফরমেন্স ও এক্সেকিউশন, এবং সবশেষে থিম এবং গানের সাথে স্কেটারের বডি ল্যাঙ্গুয়েজের সামঞ্জস্যতা এবং টাইমিঙ। এসকল কিছুর প্রতিটাকে ০.২৫ থেকে ১০ পর্যন্ত একটা স্কেলের মধ্যে স্কোরিং করা হয়, যেগুলোকে আবার ছাটাইকরণ পদ্ধতিতে গড় করে কম্পোনেন্ট ভ্যালু বের করা হয়। এখন এই কম্পোনেন্ট স্কোরকে আবার কম্পিটিশন লেভেল, ডিসিপ্লিন ও সেগমেন্টের হার্ডনেস লেভেল অনুযায়ী একটা ভগ্নাংশ সংখ্যা দিয়ে গুণ করে একটা ভগ্নাংশে রুপান্তর করা হয়। তারপর যেটা পাওয়া যায়, সেটা হলো টোটাল কম্পোনেন্ট স্কোর।
টোটাল কম্পোনেন্ট স্কোরের সাথে টোটাল এলিমেন্ট স্কোর যোগ করে তারপর সেটা থেকে মাইনাস স্কোর বা ডিডাকশন ভ্যালু বাদ দিলেই যেটা পাওয়া যায় সেটা হলো স্কেটারের প্রাপ্ত নম্বর যেটাকে স্কোরবোর্ডে TSS বা টোটাল সেগমেন্ট স্কোর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়! শর্ট এবং ফ্রি প্রোগ্রামের TSS যোগ করে যে নম্বর পাওয়া যায, সেটা হচ্ছে স্কেটারের প্রাপ্ত মোট নম্বর, যেটাকে স্কোরবোর্ডে TOTAL হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়!
পাঠক এই মুহুর্তে কি ভাবছেন, বুঝতে পারছি! “জাহান্নামে যাক শালার স্কোরিং সিস্টেম! এত ঝামেলা কেউ করে?!” >:( আমিও একমত, বিষযটাকে এতটা জটিল করে তোলার কারণ বা যথার্থতা বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবে, কিন্তু এই সিস্টেমও যে সর্বজন স্বীকৃত, তা কিন্তু নয়! বরং উল্টোটাই সত্য, এ সিস্টেম নিয়ে সমালোচনা করার মানুষ রয়েছেন প্রচুর! এমনকি টেকনিকাল মার্কিং নিয়েও প্রচুর কন্ট্রোভার্সি রয়েছে স্বয়ং বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই। তবে ব্যাপারটা পড়তে বা শুনতে যতটা জটিল মনে হয়, আসলে অতটা জটিল নয়, কম্পিউটারাইয্ড্ প্রোগ্রামের কারণে পারফর্মেন্সের কিছুক্ষণের মধ্যেই ফলাফল দেখতে বা জানতে পারে স্কেটার ও দর্শকরা। প্রতিটা পার্ফরমারের প্রাপ্ত নম্বর তার প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পরই দিয়ে দেয়া হয়।
এখানে একটা ব্যাপার লক্ষণীয় যে, জাম্প মিস করার কারণে নাম্বার ডিডাকশন করা হয় প্রেজেন্টেশনের রিদম্ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে কম্পোনেন্ট স্কোর থেকে, টেকনিকাল স্কোর থেকে না। জাম্পের যে অংশটা (টেকঅফ, ল্যান্ডিং বা রোটেশন) মিস করবে স্কেটার, সে অংশের জন্য সে টেকনিকাল নম্বর পাবে না, কিন্তু এজন্য নম্বর ডিডাকশনও হবে না। টেকনিকাল মার্ক ডিডাকশন হতে পারে শুধুমাত্র কোনো এলিমেন্টের টেকনিকাল রুলের অন্যথা ঘটলে, যেমন এড্জ ভায়োলেশন (ভুল এড্জ এর ব্যাবহার), টাইম ভায়োলেশন (অতিরিক্ত সময় নেয়া বা সময়ের আগে শেষ করে ফেলা) ইত্যাদি ঘটলে। তাই ফিগার স্কেটিঙয়ে প্রেজেন্টেশন অনেক গুরুত্ব বহন করে। সং এর থিম বা টেম্পোর সাথে মিল রেখে গানের সাথে নিজের পারফর্মেন্সের ছন্দ বজায় রাখা ভালো প্রেজেন্টেশন মার্কের জন্য আবশ্যক। জাম্প মিস করলে ছন্দপতন ঘটে, যার জন্য প্রেজেন্টেশনের রিদম্ নষ্ট হয়ে যায়, সেজন্যই স্কেটারদের আত্নবিশ্বাসী থাকাটা খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণ, রিংকে নামলে আক্ষরিক অর্থেই নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর রাজপুত্র বা রাজকন্যা মনে করে স্কেটাররা, যার পড়ে যাওয়ার মত সামান্য ভুলটা কোনো ভুলই না! এই আত্নবিশ্বাসই পড়ে যাওয়ার পরও তাদেরকে রিদম্ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে, এবং এ কাজে যে যতটা সফল হয়, ডিডাকশনের ভয় তার তত কম!
সুতরাং, পরে যাওয়া, বা জাম্প মিস তথা ল্যান্ডিং মিস করাটাকে আমরা যতটা ভয়াবহ অপরাধ মনে করি, ততটা ভয়াবহ নয় আসলে! :3 এমনকি জাজেস রা যদি মনে করেন কারও প্রেজেন্টেশন, এড্জ এর ব্যাবহার, টেকঅফ এবং রোটেশন এর ব্যাবহার ভালো হয়েছে অনেকগুলো ল্যান্ডিং মিস করার পরও, তাহলে তাকেই বরং কম্পিটিশনে এগিয়ে থাকার সুযোগ দেয়া হয় তার চেয়ে বেশী, যে কোনো জাম্পই মিস করেনি, কিন্তু প্রেজেন্টশনে গানের রিদম্ ধরে রাখতে পারেনি। একটা সুন্দর উদাহারণ হলো ইউরির এরোস, এবং ইউরিওর আগাপে! রিয়েল লাইফ উদাহারণও প্রচুর আছে, উল্লেখযোগ্য একটা হতে পারে ২০১৪ এর উইন্টার অলিম্পিকের ফিগার স্কেটিং মেন্স সিঙ্গেলে ইউযুরু হানইয়্যু’র পারফর্মেন্স টা। একটা সালকো ও একটা ফ্লিপ পুরাপুরি মিস করার পরও সেবছর গোল্ড মেডেল পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে সে! 😀 অতএব ফিগার স্কেটিং আসলে যতটা দেখা যায়, তারচেয়ে অনেক বেশী কিছু! মাপ্পাকে আমরা অভিনন্দন জানাতেই পারি এই জটিল ব্যাপারটাকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলার সাহস দেখানোর জন্য! ^_^
আশা করি পাঠকরা এখন খানিকটা হলেও বুঝতে পারছেন ফিগার স্কেটিংয়ের রুলস্ এন্ড রেগুলেশন! :’) পোস্টটা বিশাল বড় হয়ে গেছে বলে দুঃখিত, এবং যারা কষ্ট করে পড়েছেন (আদৌ যদি কেউ পড়ে থাকেন!), তাদেরকে অভিনন্দন! 🙁 :’) ^_^ সবধরণের তথ্যই বারবার পড়ে ও দেখে যাচাই করা হয়েছে, তারপরও যদি কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, সেটাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে সঠিক তথ্যটা জানালে কৃতজ্ঞ থাকব! 🙂 ফিগার স্কেটিং একটা স্পোর্টস বটে, এই জিনিসটা মাথায় রেখে এনিমের ব্রোমান্স আন্ডারটোনটাকে উপেক্ষা করতে পারলে এই পোস্টের উদ্দেশ্য স্বার্থক! :’)
সবাইকে শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা। ^_^ Yuri!!! on Ice দেখুন, এঞ্জয় করুন এবং ভালো থাকুন! 😀 ^_^
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, ইউটিউব, এবং আরো অন্যন্য কিছু ওয়েবসাইট।

Owari no Chronicle/The Ending Chronicle [লাইট নোভেল রিভিউ] — তৌফিক সরকার

owari-no-chronicle-1

Owari no Chronicle বা The Ending Chronicle
লেখকঃ Minoru Kawakami
জনরাঃ সাইন্স ফিকশ, ফ্যান্টাসী, একশন,রোমান্স

এই সিরিজ নিয়ে লেখার আগে এর ইউনিভার্স নিয়ে কথা বলি। Owari no Chronicle এর লেখক মিনোরু কাওয়াকামি নিজস্ব একটা ইউনিভার্স তৈরী করেছেন। সেই ইউনিভার্স ছয়টা এরা (era) ভাগে ভাগ করেছেন। সেই ছয়টা এর নিচে দেয়া হলঃ

১) FORTH- সিরিজ নামঃ Rapid-fire King – এর দুটো বই বের হয়েছে (ইংরেজী অনুবাদ হয়নি)।

২) AHEAD- সিরিজ নামঃ Owari no Chronicle – মোট ১৪টা বই বের হয়েছে এবং সম্পূর্ন হয়েছে (সম্পূর্ন ইংরেজী অনুবাদ হয়েছে।)

৩) EDGE- এখনো কোনো বই বের হয়নি।

৪) GENESIS- সিরিজ নামঃ Kyoukai Senjou no Horizon- ২৩ টা বই এবং এখনো চলমান (ইংরেজী অনুবাদ চলছে।) [Owari no Chronicle এর সিক্যুয়েল এটা।]

৫) OBSTACLE- সিরিজ নামঃ Clash of Hexennacht- ৩ টা বই বের হয়েছে এবং চলমান (ইংরেজী অনুবাদ চলছে।)

৬) CITY- CITY সিরিজ নামে পরিচিতি ৭টা ভাগে মোট ১৭ টা বই বের হয়েছে এবং সম্পূর্ন (ইংরেজী অনুবাদ চলছে।)

Owari no Chronicle সিরিজটা AHEAD- era এর মধ্যে অন্তর্গত। এটাকে জাপানের সেরা সাইন্স ফিকশন সিরিজের কাতারে ফেলা হয়, এবং এই সিরিজ বেশ কয়েকটা পুরষ্কারও পেয়েছে।

কাহিনী শুরু একসম ১৯৪৫ সালের দিকে। তখন ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলছে, কিন্তু এই বিশ্ব যুদ্ধের আড়ালে আরেকটা যুদ্ধ হয়েছে সেটাকে বলা হয় কনসেপ্ট ওয়ার ( Concept War), যেটা কিনা ইতিহাসের পাতায় লেখায় হয়নি।

এরপর ষাট বছর পর, গল্পের নায়ক সায়ামো মিকোটোর দাদা মারা গিয়েছে। মারা যাওয়ার আগে তার জন্যে একটা উইল রেখে গিয়েছেন তিনি। সে উইল জানার জন্যে একটা বিশাল কম্পানী ও রিসার্চ সেন্টার আইএআই( IAI) তে যায় জানতে পারে, পৃথিবী ধ্বংসে কাছাকাছি, কারণ নেগেটিভ কনসেপ্ট এর পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, তার কাজ হচ্ছে এখন অন্যন্যা প্যারালাল ওয়ার্ল্ড থেকে তাদের কনসেপ্ট নিয়ে আসতে হবে, তবে সেটা নেগোসিয়েশন বা সন্ধি করে।

এখন সে কিভাবে অন্যান্য প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের সাথে সন্ধি করবে যেখানে তার পূর্বসূরীরা সেই ওয়ার্ল্ডকে ধ্বংস করেছে বলা বাহুল্য সেই পূর্বসূরীদের মধ্যে তারা দাদাও ছিল।

আর এভাবেই Owari no Chronicle এর কাহিনী শুরু।

কাহিনী সংক্ষেপ গুরুগম্ভীর দিয়ে শুরু হলে পুরো কাহিনীতে একশন, রোমান্স আর কমেডিতে ভরপুর। আর প্রতিটা চরিত্রই ইউনিক একেক দিক দিয়ে। তবে সিরিজের মেইন নায়ক সায়ামা মিকোটো ইউনিকের দিক দিয়ে রাজা। তার হ্যালিরিয়াস যুক্তি এবং সেটা দিয়ে যেকোনো বিপদ কাটানোতে তার জুড়ি নেই।

তাছাড়া এই সিরিজের আসলে যে ব্যাপারটা হচ্ছে সম্পূর্ন নায়ক কেন্দ্রিক না হওয়াটা। জাপানিজ লাইট নভেলের বেলায় দেখা যায় যে নায়কই সব করে দিচ্ছে, A-Z সব। কিন্তু এই সিরিজে তা নয়, নায়কের সাথে সাথে আরো বেশ কয়েকটা ডিপেন্ডেবল চরিত্র আছে যারা নায়কের সন্ধি স্থাপনায় সাহায্য করেছে, যেখানে সায়ামা একটা সন্ধিতে ব্যস্ত সেখানে তার সঙ্গীরা এই সন্ধিতে যাতে ব্যাঘাত না ঘতে সেটা নিয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আর লেখক সবার চরিত্র একদম সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাদের আচার আচরণ, রোমান্স, স্ট্রাগল, সুখ-দুঃখ সব ।উদাহরণ দেয়া যায় তৃতীয় আর্কের বেলায়, মেইন ক্যারেক্টার বাদের, দুই সাইড ক্যারেক্টার (অবশ্য তারা পরের দিকের বেশ ভালো ভূমিকা রাখে) এর রোমান্স ছিল আমার ফেভারিট। খুব কম সময়ের মধ্যে তাদের রোমান্সটা লেখক খুব দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন।

আর রোমান্স যখন আসলোই, তখন নায়ক সায়মা ও নায়িকা শিনজৌ সাদাগিরি রোমান্সটুকু খুব সুন্দরভাবে ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, এমনকি সাদাগিরির সিক্রেট (নভেলের খুব ক্রুশিয়াল পয়েন্ট এটা।) জানার পরেও সায়ামা সাদাগিরিকে গ্রহণ করেছে এবং নভেলের শেষে অফিশিয়ালি কাপোল হয়েছে।

এই সিরিজটা সাইন্স ফিকশন হলেও, এর মধ্যে ফ্যান্টাসীর মিশ্রণ ছিল। এবং লেখক ফ্যান্টাসী ও সাইন্সের মধ্যে জগাখিচুড়ী লাগিয়ে দেয়নি বরং একে অপরের সাথে এত সুন্দরভাবে যোগ করেছে যে সহজে ভ্রু কুঁচকে উঠবে না।

আর কাহিনীর শেষের দিকে টুইস্টটা ছিল মারাত্মক, একদম কল্পনার করা যায়নি এমন কিছু একটা হবে।

তাই যারা সাইন্স ফিকশন পড়তে পছন্দ করেন তারা নির্দ্বিধায় পড়ে ফেলতে পারেন এই সিরিজ।

ছবিতে Owari no Chronicle বইয়ের এক অংশ দেখানো হলো, ডান পাশেরটা Owari no Chronicle এর সব বই আর Kyoukai Senjou no Horizon এর প্রথম ৮ টা বই।

owari-no-chronicle-2

The King of Pigs [মুভি রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

মাঝে মাঝে MAL এ হাবিজাবি ঘাঁটতে গিয়ে এমনকিছু চোখে পড়ে যেগুলো হয়ত নিজে কখনও খুঁজব না। দুইদিন আগে The King of Pigs এর কথা জানলাম এভাবে। MAL rating এ ৭ যেখানে তা ৮ এর উপরে হওয়া উচিৎ এবং হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। আর একেকজনের রেটিং এও আকাশপাতাল ফারাক। মুভিটা শুরু থেকেই ডিপ্রেসিং ছিল। হয়ত অনেকে সহজভাবে নিতে পারেনি।

the-king-of-pigs
Yeon Sang-ho’র নাম হয়ত অনেকের কাছেই এখন পরিচিত এই বছরের Train to Busan নামের চলচ্চিত্রটির কারণে। তবে তিনি বিখ্যাত তাঁর কোরিয়ান এনিমেটেড মুভিগুলোর জন্যে। মূলত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ধাঁচের এই মুভিগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল চরম বাস্তবতা। মানুষের জীবনের স্ট্রাগলকে কোন রকম অতিরঞ্জিত করা হয়নি। মানুষের ইম্পালসিভ ন্যাচার সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে তার মুভিগুলোতে। Satoshi Kon এর কাজগুলো দ্বারা তিনি বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত। তাঁর The King of Pigs মুভিটি Busan International Film Festival এ ৩টি এওয়ার্ড জিতেছে। তাছাড়া এটি Cannes Film Festival এ প্রদর্শিত প্রথম কোরিয়ান এনিমেটেড ফিল্ম। কোরিয়ান থ্রিলার মুভিগুলোর সাথে যারা মোটামুটি পরিচিত তারা নিশ্চয়ই ভায়োলেন্সের পরিমাণ অনুমান করতে পারছেন। ফিজিকাল এ্যাবিউজ থেকে শুরু করে এনিম্যাল এ্যাবিউজ কিছুই বাদ যায়নি এখানে।
নিজের স্ত্রীকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় Kyung Min এর কাহিনী। ব্যবসায় ব্যর্থতার দরুণ সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সে রাতে সে কল দেয় তার একসময়ের বেস্ট ফ্রেন্ড Jung Jong-suk কে। Jung একজন জার্নালিস্ট। তবে তার লেখক হবার স্বপ্ন। কিন্তু তার বই পাব্লিশ করতে কোন প্রকাশকই রাজি হচ্ছেনা। ঐদিন রাতে বাসায় গিয়ে তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে বেরিয়ে পড়ে। এই সময়ে Kyung min এর কল পায়। দুজন একটা রেস্টুরেন্টে বসে। ১৫ বছর পর তাদের দেখা। এরপর ফ্ল্যাশব্যাকে কাহিনী আগাতে থাকে।
১৫ বছর আগে হাইস্কুলে থাকার সময় এই দুই বন্ধু বুলির শিকার হত প্রতিদিন। তখনকার সময়ে গরীব বা অসহায়দের Pigs আর ধনী বা শোষণকারীদের Dogs বলে অভিহিত করা হত। তাদের ক্লাসের ২ জন ছিল এলিট সোসাইটির। তাদের কারণে সবাই আতংকে থাকত। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কেউ ছিল না। ভুল করে যদি একবার তর্ক করে ফেলে তখন সিনিয়রদের নিয়ে এসে একসাথে পেটায় তাকে। প্রতিদিনের মত Kyung min কে হেনস্তা করছিল তারা। হঠাৎ একটা ছেলে পেছন থেকে উঠে দাঁড়ায় এবং এসে ঐ ছেলেগুলোকে পেটায়। ছেলেটার নাম Chul Kim। হিংস্র হলেও এক পর্যায়ে Kyung min আর Jung এর ভাল ফ্রেন্ড হয়ে যায় সে। সবার কাছে সে হয়ে ওঠে King of pigs. একদিন ঐ ছেলেগুলোকে মারার সময় টিচার দেখে ফেলে। তাই কিছুদিনের জন্য তাকে সাস্পেন্ড করা হয়। দুই বন্ধু একটা পরিত্যক্ত গোডাউনে আসত Chul এর সাথে দেখা করার জন্য। সেখানেই তারা তাদের প্রথম ক্রাইমটি করে। আর এই ঘটনা আজও Jung কে কুড়ে কুড়ে খায়। যাই হোক ঘটনার এক পর্যায়ে স্পাইনলেস Kyung min বিট্রে করে। কিন্তু Chul তাকে কিছু বলেনা। বরং ফন্দি করে ঐ বুলিগুলোকে শিক্ষা দেয়ার। সে ঠিক করে একদিন এসেম্বলির সময় স্কুল ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সে আত্মহত্যা করবে। আর এই সিদ্ধান্ত সে নিয়েছিল এই ভেবে যে এই ঘটনা সবার মনে দাগ কাটবে। যারা আজ তাদেরকে টর্চার করছে, পরবর্তীতে এই দিনের কথা মনে করে তাদের মুখের হাসি যাতে চলে যায়। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু ঘটনার একটু আগে Chul তার সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলে। কেন? কারণ একদিন তার মাকে সে কাঁদতে দেখে, নির্যাতিত হতে দেখে। সে ঠিক করেছিল নিজেকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিবে। নতুন করে সব শুরু করবে। তার মায়ের পাশে থাকবে। কিন্তু তারপরও সে ছাদ থেকে লাফ দেয়। কেন? এটা কি শুধুই সুইসাইড ছিল? আর কেউ যদি তাকে হত্যাও করে কারণ টা কী?
মুভির লাস্ট ১৫ মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ টুইস্ট টা থাকে এই মুহূর্তে। মুভির শেষটাও খুব ডিপ্রেসিং।
এই তিনজনের ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড দেখানো হয় কাহিনীর বিভিন্ন সময়ে যাতে করে দর্শকেরা তাদের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে চিন্তা করতে পারে। এবং তাদের ভাগ্যটাও যে পরস্পর সাথে সম্পর্কিত তা অনুধাবন করতে পারে। তাদের প্রত্যেকের স্ট্রাগল দেখানো হয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হবে সে এটা না করলেও পারত। কিন্তু একজন হাইস্কুলের ছাত্র হিসেবে তার মানসিক পরিপক্কতা আর কতটুকুই বা থাকবে? এছাড়া তাদের ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট ছিল চোখে পড়ার মত। একসময়ের স্পাইনলেস ছাত্রের খুনী হয়ে ওঠা বা Jung এর মত একটা ছেলের হিংস্রতার কাছে হার মানা সবকিছু আপনাকে অভিভূত করবে, আপনাকে ভাবাবে।
এই মুভি নাকি Yeon San-ho’র জীবন থেকেই নেয়া। হয়ত এ কারণেই প্রতিটি চরিত্রের আবেগ-অনুভূতি আলাদা এবং সুচারুভাবে ফুটে উঠেছে।
গ্রুপে এটা নিয়ে অনেক আগে একজন পোস্ট দিয়েছিল যদিও। A must watch.

Lion Book series [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

হাল আমলের ফ্ল্যাশি এনিমে থেকে একটু ব্রেক নিতে চাইলে দেখে আসতে পারেন Lion Book series টি। Astro Boy, Kimba the Lion, Black Jack এর স্রষ্টা Osamu Tezuka’র কিছু মাংগার কালেকশন নিয়ে এই সিরিজ। এ ব্যাপারে অবশ্য একটু কনফিউজন আছে। যদিও বলা হয় এই সিরিজ মূলত ১৯৫৬ এবং পরবর্তীতে ‘৭০ এর কিছু মাংগার কালেকশন, তবে এর মধ্য থেকে শুধুমাত্র ৬টির এনিমে এডাপটেশন হয়েছিল যেগুলো Osama Tezuka’র রচনা এবং ডিরেক্ট করা। ৬টি ইউনিক গল্প দিয়ে সাজানো এই এনিমে কালেকশন খুব একটা মন্দ না। কিছু পরিচিতি দেই-

*1.The Green Cat:
গল্পের মূল চরিত্র বলতে গেলে ৪টে, বিড়ালটা সহ। একটি দূর্ঘটনার কারণে সাংগো ছোটবেলাতেই একা হয়ে পড়ে। ঐসময় ত্রাণকর্তা হিসেবে তার কাছে আসে এক সবুজ বিড়াল। তার জীবন পাল্টে দেয় এই বিড়াল। একসময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের বড় নাম হয়ে যায় সাংগোর। অন্যদিকে দেখা যায় শুনসাকু-বান নামের একজন ডিটেক্টিভ তার বন্ধুর খুনের রহস্য ভেদ করায় জান-প্রাণ দিয়ে খাটছে। ঘটনাক্রমে সাংগো এবং তার বিড়াল ও শুনসাকু-বানের মধ্যে কাকতালীয় সম্পর্ক বিরাজ করে। প্রকাশ পায় সবুজ বিড়ালের রহস্য।

lion-book-1

*2.Rain Boy:
পুরো কালেকশনে এই গল্পটিই সবচাইতে সুন্দর। বন্ধুত্ব এবং বন্ধুত্বের মর্যাদা দেয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে এই গল্পে। ছোট্ট মোউতা’র কোন বন্ধু নেই। এই ছোট্ট জীবনে তার হতাশার শেষ নেই। হঠাৎ একদিন সে দেখে তারই সমান একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে ঘিরে আছে একটি পুরান ছাতা এবং মাথার উপরে এক টুকরো মেঘ। এক পর্যায়ে বন্ধুত্ব হয় তাদের। ছাতাবন্ধু মোউতার নতুন জুতা দেখে খুব করে বলে তাকে ঐ জুতোজোড়া দিয়ে দিতে বিনিময়ে তার ৩টা ইচ্ছা পূরণ করবে। মোউতার ৩টা ইচ্ছা পূরণ ও হয়ে যায়। কিন্তু সে ছাতাবন্ধুর কথা ভুলে যায়, ভুলে যায় তাদের প্রতিজ্ঞার কথা। ৪০ বছর পর হঠাৎ মোউতার মনে পড়ে। তখন সে শহরের এক ব্যবসায়ী। তাড়াতাড়ি সে গ্রামে ছুটে যায়। এবং ব্রিজের নীচে গিয়ে দেখে তার সেই ছাতাবন্ধু দাঁড়িয়ে আছে একা।

lion-book-3

*3. Lunn Flies into the Wind:
হাইস্কুলের স্টুডেন্ট আকিরা প্রতিদিন তার ক্লাসমেট এবং টিচারদের দ্বারা বুলিড হয়। একদিন বাসায় ফেরার পথে একটি কফির বিজ্ঞাপনের পোস্টার দেখে থমকে যায় সে। এক দেখাতেই ভালবেসে ফেলে পোস্টারের মেয়েটাকে। সে পোস্টারটা খুলে তার পড়ার টেবিলের সামনে টাঙিয়ে রাখে। মেয়েটাকে নাম দেয় লুন। সারাদিনের কাহিনী এবং জীবনধর্মী আলোচনা ছিল প্রতিদিনের বিষয়। একসময় সে খুঁজে বের করে পোস্টারের মেয়েটিকে। কিন্তু সে জানতে পারে এই কফির বিজ্ঞাপন অনেক পুরোনো। পোস্টারের মেয়েটির বিয়ে হয়ে এখন সে বুড়িয়েও গেছে। একটা মেয়েও আছে তার। যখন সে হাল ছাড়তে যাবে তখন সে ঐ মেয়েটিকে দেখল। আর পোস্টার টা? সেটা নাহয় দেখেই জানুন।

lion-book-4

*4. Yamataro Comes Back:
ভাল্লুকছানা ইয়ামাতারো ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারায়। বন্ধুত্ব পাতায় এক স্টিম ইঞ্জিনের সাথে নাম যার C64। এভাবে দিন কেটে যাচ্ছিল। সময়ের সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়। টাউনের মানুষেরা ইয়ামাতারো কে মারতে আসে। কিন্তু C64 তার হুইসেল দিয়ে তাকে সতর্ক করে দেয়। এভাবে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল ইয়ামাতারো। একসময় সভ্যতার ছোঁয়ায় স্টিম ইঞ্জিনকে রিপ্লেস করে হাইস্পীড রেইল। তো টাউনের মানুষরা ফন্দি আঁটে সেই স্টিম ইঞ্জিনের হুইসেল দিয়ে ইয়ামাতারো কে ফাঁদে ফেলবে। কিন্তু C64 যখন এ কথা জানে তখন সে নিজে ক্র্যাশ করে, নিজেকে স্যাক্রিফাইস করে বন্ধুত্বের টানে। এভাবে শেষবারের মত সতর্ক করে ইয়ামাতারো কে।

lion-book-5

*5. Adachi-ga Hara:
যদিও এটাকে সাই-ফাই তকমা দেয়া হয়েছে কিন্তু এটাকে সাই-ফাই বললে অপমান হবে। কাহিনী শুরু হয় একজন বৃদ্ধা মহিলাকে দিয়ে যাকে ডাইনী হিসেবে সন্দেহ করা হয়। জেস একজন তরুণ এস্ট্রোনাট। পৃথাবীতে থাকাকালীন সময়ে তৎকালীন স্বৈর সরকার কে উৎখাত করতে বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দেয় জেস এবং তার স্ত্রী। ঘটনাক্রমে তারা আলাদা হয়ে যায়। বছরের পর বছর কেটে যায়। জেস কে মিশনে পাঠানো হয় এই গ্রহে যেখানে গুজব রয়েছে এক ডাইনী এবং তার কুকীর্তির। একসময় ডাইনীর রহস্য ফাঁস হয়। কিন্তু ততক্ষনে দেরী হয়ে যায় অনেক।

lion-book-2

*6.Akuemon:
হিদারি তাইশো গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। একদিন এক জোতিষী তাকে বলে, যদি সে ১০০০ টা শেয়াল শিকার করতে পারে তবে সে দেশের শাসক হতে পারবে। এদিকে আকুয়েমন ছিল রগচটা ও হিংস্র একজন শিকারি। কেউ তাকে পছন্দ করত না। স্ত্রী এবং এক ছেলেকে নিয়ে থাকত। হিদারি তাকে বাছাই করে, নির্দেশ দেয় ১০০০ শেয়াল হত্যা করার। বিনিময়ে এটা-সেটা দিয়ে তার পরিবারকে সচ্ছল রাখত। ওদিকে শেয়ালবাহিনীর তরফ থেকে এক নারী শেয়ালকে পাঠাল আকুয়েমন কে শায়েস্তা করার জন্য। তো সেই নারী-শেয়াল আকুয়েমনের স্ত্রীর রূপ নেয়। এবং তার সাথে থাকতে শুরু করে। যখন আকুয়েমন শিকার করতে যায় তখন সে বাকিদের সতর্ক করে দেয়। একসময় আকুয়েমনকে ভালবেসে ফেলে সে। আর তাদের বাচ্চার সাথে অন্যরকম বন্ধন তৈরি হয়। একসময় ধরা পড়ে যায় সে। একদিকে তার শেয়ালবাহিনী আরেকদিকে আকুয়েমন ও তার বাচ্চাকে ছেড়ে যাবার শোক তার হৃদয়কে বিদীর্ণ করে দেয়।

lion-book-6

এই গল্পগুলো হয়ত অনেকেরই চেনা-জানা। কিন্তু এগুলোর এনিমে এডাপটেশনে অনেক কিছুই আপনি উপলদ্ধি করতে পারবেন যেটা হয়ত এমনি গল্পটি পড়ে আপনার মনে হয়নি। আবার অনেক কিছু আপনার কাছে ক্লিশে মনে হতে পারে। তবে ৬টা না দেখলেও Rain Boy, Lunn flies into the wind এবং Yamataro comes back, Akuemon -এই ৪টি পার্সোনালি রিকমেন্ড করব। যেহেতু এটা ‘৮০র এনিমে তাই এক্সপেকটেশন কম রাখাই ভাল। এখনকার ঝলমলে গ্রাফিক্সের সাথে তুলনা না করে দেখলেই মজা পাবেন। No one would watch this anyway.

লার্নিং কানজি উইথ বাকারিন সামা – ৪৪তম পাঠ

 

***কানজি কানজি কানজি***

kanji-21

আজকের কানজি “開”

কুনইয়োমি ( জাপানিজ রিডিং): “আকু,হিরাকু”(あく,ひらく)…অনইয়োমি (চাইনিজ রিডিং):”কাই”(かい)..

“আকু/হিরাকু” (開く)মানে “to open”.. এই কানজি টা লিখে “কু” হিরাগানা দিয়ে লিখতে হয়…এটা একটা ভার্ব… (যে কোন verb/adjective এর রুট টা কানজি দিয়ে লিখতে হয় আর শেষে যাইই থাকুক হিরাগানা দিয়ে লিখতে হয় যেমনঃ এখানে “কু” আছে)

“কাইকাইসুরু” (開会する) মানে to open a meeting ….

“কাইতেনসুরু” (開店する) মানে to open a shop….

“কাইকাইশিকি”( 開会式 ) মানে opening ceremony….

এখানে “কাই” এর জায়গায় এই কানজি বসে..

kanji-22

কানজির ছবি স্ট্রোক অর্ডারসহ দেয়া হল:

kanji-23

লার্নিং কানজি উইথ বাকারিন সামা – ৪৩তম পাঠ

 

***কানজি কানজি কানজি***

kanji-19

 

আজকের কানজি “建”

কুনইয়োমি ( জাপানিজ রিডিং): “তাতেরু” (たてる) অনইয়োমি (চাইনিজ রিডিং):”কেন”(けん)

“তাতেরু”(建てる) মানে to build…এই কানজি টা লিখে “তেরু” হিরাগানা দিয়ে লিখতে হয়…এটা একটা ভার্ব… (যে কোন verb/adjective এর রুট টা কানজি দিয়ে লিখতে হয় আর শেষে যাইই থাকুক হিরাগানা দিয়ে লিখতে হয় যেমনঃ এখানে “তেরু” আছে)

“তাতেমোনো” (建物) মানে “building” …. এখানে “তাতে”র জায়গায় এই কানজি বসে…

“কেনসেতসু” (建設) মানে “construction” এখানে “কেন” এর জায়গায় এই কানজি বসে..

kanji-18

কানজির ছবি স্ট্রোক অর্ডারসহ দেয়া হলঃ

kanji-20