Naruto Fanfic: Minakushi — Rahat Rubayet

——————————————————————

(পারলে, https://www.youtube.com/watch?v=R451rerZ_Fw ost টা প্লে করে দিতে পারেন ব্যাকগ্রাউন্ডে)

——————————————————————

মিনাতো উত্তর পাশের ঝাউবনের পাশটায় দাঁড়িয়ে আছে। খাবারের দোকানগুলো কেবলই শেষ হয়েছে এদিকটায়। সকাল শেষ হয়েছে কেবল। দুপুরের আভাস পাওয়া যাচ্ছে রোদ আর বাতাসের অবস্থা দেখে। মিনাতোর ছোট বড় হলুদ চুল মৃদু বাতাস উড়িয়ে দিয়ে গেলেও, জুলফি বেয়ে ঘামের স্রোত ধীরে নেমে আসছে। গায়ে জোনিন জ্যাকেট নেই, দুধ-সাদা রঙের শার্ট যার পাশ দিয়ে একটা মাত্র কালো স্ট্রাইপ, পড়ে আছে। ফিরে তাকালো, “মিনাতো নি-চান” ডাক শুনেই।
পরিচিত মিষ্টি কন্ঠের আদ্রতাটুকু বরাবরের মতনই উপেক্ষা করে ফিরে তাকায়, ওর ছোট বোন, মৌনতা নামিকাজের দিকে। খুব ছোট বেলায় মৌনতাকে একটা মিশন থেকে উদ্ধার করে,নিজের ছোট বোন পরিচয়ে বড় করেছে।
-“হম,কি বলবে, বল?”
-“তুমি নাকি কয়েকদিনের ছুটি পাচ্ছো ৩য় হোকাগের কাছ থেকে? এবার কিন্তু আমাকে ঘুরতে নিয়ে যেতেই হবে।”
মিনাতো তার স্বভাবসুলভ হাসি প্রশস্ত করে, একটা হাত রাখে ওর আদরের ছোট বোনের মাথায়। একটা বার চুলগুলো এলোমেলো করে দেয়,ওর আহত চোখগুলোর দিকে তাকিয়ে। বলে,
“এবারের মতন ভাইটিকে মাফ করতে হবে যে। আমি কুশিনাকে আগেই কথা দিয়ে ফেলেছি, একটা যায়গায় ঘুরতে বেরুবো। ইনফ্যাক্ট, ও এই আসলো বলে”
মৌনতার মুখ কালো হয়ে যায়। কালো চুলের ফ্রেমে জমে ওঠে অভিমান। যার প্রকাশ পায় কন্ঠেও,
“সবসময়ই শুধু কুশিনা কুশিনা আর কুশিনা”, বলেই উলটো ঘুরে। হাটতে থাকে বিন্যস্তভাবে, যেন প্রতিটা পদক্ষেপই খুব মেপে মেপে ফেলছে। যাবার সময়ই কুশিনার সাথে দেখা হয়ে গেলো। কুশিনার হাসির প্রতিউত্তরের মাথা নামিয়ে রাখে মৌনতা।
“ওর আবার কি হলো?” পিছনে তাকিয়েই জিজ্ঞেস করে কুশিনা।
“সেরম কিছু না।”
কুশিনা সাদা রঙের একটা ফ্রক এর মতন জামা পরে আছে, বুকের কাছে ফিতা আঁটা আর মাথায় সুন্দর একটা হ্যাট পরে আছে ও। দুজনের জামা একই রঙের হওয়ায় একটু অপ্রভিত বোধ করে কুশিনা। পরক্ষনেই হেসে ফেলে। বলে,
“তা আজ আমাদের কোথায় যাওয়া হচ্ছে মশাই?”
“বলো, কোথায় যেতে চাও? ”
“একটু ঠান্ডা কোথাও গেলে ভালো হত না?” বলে কুশিনা অনিশ্চিত ভাবে।
মিনাতো হাতটা বাড়িয়ে ধরে। কুশিনা তাতে আলতো করে হাত রাখতেই, টেলিপোরট করে মিনাতো। একটানা টিপটিপ শব্দে কানে নেশার মতন বোধ হয়। শীত শীত ভাব আর ঠান্ডা একটা ভাব….. চোখ মেলতেই কুশিনার কপালে টুপ করে পানি পরে গাছের পাতা থেকে।
তাকিয়ে দেখে মিনাতো এক হাতে ঝুলে আছে একটা বিশাল গাছের ডাল ধরে। আরেক হাতে ওর কোমরটা পেচিয়ে ধরে রেখেছে। বিকট শব্দে বজ্রপাত হতেই চমকে ওঠে কুশিনা। একবার ভাবলো, মিনাতোর গলাটা জড়িয়ে ধরে। কি মনে করে যেন ধরলো না।
কুশিনাকে নিয়ে নিচে নামে মিনাতো। তাকিয়ে থাকে আড়চোখে কুশিনার দিকে। আড়ষ্টভাবটা কাটিয়ে উঠেছে এরই মধ্যে। বনের মধ্যটা ছপছপ করছে পানিতে। একপাশেই, দোতলা একটা বাড়ি দেখা যাচ্ছে। দেখে পরিত্যক্তই মনে হচ্ছে। বাড়িটার গা ঘেষে নেমুনোকি গাছের প্রশস্ত ছায়া দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির সাথেই কড়া গন্ধে মাথাটা একটু ঝিমঝিম করে যেন ওদের।
লোহার মরিচা ধরা গেটটা সরিয়ে হাটতে থাকে ভেতরের দিকে। পুরনো সিড়ি বেয়ে কুশিনার আগে উঠে পরে মিনাতো। খাবারের র‍্যাকস্যাক টা কাধে থেকে নামায় দোতলায় উঠেই। কুশিনা খুটিয়ে খুটিয়ে সবকিছু দেখছে।
এমন একটা নির্জন যায়গায় বাকিটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারলে মন্দ হতো না, ভাবতে থাকে ও। একটা ফুটফুটে সুন্দর বাচ্চা, ও আর ওর বর। চিন্তা করতেই চোখের নিচেটা লাল হতে চায় ওর। সেই সাথে প্রশস্ত চোখে তাকায় মিনাতোর দিকে।
আর কতদিন দেরি করবে ছেলেটা? একটা বার মুখ ফুটে বলে দিলেই তো হয়। কুশিনা বুঝে উঠতে পারে না, ওর কি নিজে থেকে কিছু করা উচিৎ?
মিনাতোর ডাকে হুশ ফেরে ওর,
“কিছু বলো?”
“বললাম, বাকিটা জীবন এভাবে কাটিয়ে দিতে পারলে ভালো হতো”
“অবশ্যি ভালো হতো” প্রতুত্তর করে যেন কুশিনা।
“বিয়েথা করে এমন একটা নিরিবিলি পরিবেশেই থাকার ইচ্ছে আমার।”
কুশিনা অপেক্ষা করছে। নিঃশ্বাস টাও নিচ্ছে না, আটকে রেখেছে-যদি মিনাতোর কোন একটা কথা শুনতে না পায়!
আড়চোখে তাকিয়ে দেখে, মিনাতোর হাতে একটা আংটির বক্স শোভা পাচ্ছে। কুশিনা আর থাকতে না পেরে, জড়িয়ে ধরে মিনাতোকে।
কতদিন, কতদিন………… কত্তদিন অপেক্ষার পর…… কুশিনা কিছু চিন্তা করতে পারে না। মাথাটা ফাঁকা হয়ে গেছে ওর। মুখ তুলে মিনাতোর অপ্রস্তত মুখের দিকে তাকায় একটা বার। অপলক চোখে কিসের অপেক্ষা করতে থাকে যেন।
কুশিনার চুলের গন্ধে মিনাতোর সবটা কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যেতে চায়। মাতালের মতন লাগে কেন জানি ওর। হাত দিয়ে কুশিনার মাথা থেকে হ্যাট টা ফেলে দেয়।
ইতস্তত বোধ ছাড়াই কুশিনার ঠোঁটে ঠোট মিলায় মিনাতো। সময় গতি হারাতে শুরু করে যেন।

Watashi no Ashinaga Ojisan (My Daddy Long Legs) [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

অনেকদিন ধরে কিছুই দেখতে পারছিলাম না। কোন এনিমের দুটো এপিসোড দেখে আর কন্টিনিউ করতে পারছিলাম না। ধৈর্য হচ্ছিল না মনোযোগ দিয়ে কিছু দেখার। এরকম এক অবস্থায় যখন এটা সেটা খুঁজছিলাম তখন World Masterpiece Theater এর সন্ধান পাই। এবং randomly একটা বাছাই করে দেখতে বসি।

My Daddy Long Legs

Watashi no Ashinaga Ojisan (My Daddy Long Legs) এনিমে টি Jean Webster এর Daddy Long Legs এর উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে। এক অনাথ মেয়ের জীবন ও তার স্বপ্ন-আকাঙ্খা নিয়ে এই এনিমে।
খুব ছোটবেলায় Judy Abott এর বাবা-মা তাকে এক চার্চের সামনে রেখে যায়। তার পাশেই John Grier নামের অনাথাশ্রমে তার জায়গা হয়। এই অনাথাশ্রমের ডিরেক্টর Mrs Lippet. ছোটবেলা থেকেই জুডি অনেক বেশি চঞ্চল ও ক্লামসি ছিল। যেকোন কাজেই কোন না কোন অঘটন ঘটাত। এর জন্য মিসেস লিপেটের বকাবকি তো আছেই। তবে ছোট বাচ্চাদের কাছে সে বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রতিটা দিনই আনন্দে কাটত। কিন্তু তারপরও একটা সুপ্ত বাসনা ছিল। সে এই অনাথাশ্রম থেকে বের হতে চায়, নিজের মত করে বাঁচতে চায়। একসময় একটা সুযোগ ও আসে। অনাথাশ্রম এবং রেপুটেড কিছু স্কুলের ট্রাস্টি মেম্বারদের জন্য লাঞ্চের আয়োজন করা হয়। তারা একজনকে বাছাই করবে এবং তার পড়াশোনা ও মাসিক এ্যালাউয়েন্সের ভার বহন করবে। কিন্তু জুডি খেয়ালের বশে অনেক ভুল করে ফেলে। তার হাত থেকে এই সুযোগ চলেই যেত কিন্তু ঐদিন রাতে তার ত্রানকর্তা হয়ে আসে John Smith যে কিনা ট্রাস্টি মেম্বারদের একজন। যেহেতু এ্যানোনিমাসলি পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছিল তাই খুবই কমন এই নাম দিয়েই জুডির কাছে পরিচয় দেয়া হয়েছিল। যদিও জুডির সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। এবং পরবর্তী সময়ে সব ধরণের যোগাযোগ পালন করা হত তার সেক্রেটারি Walter Griggs এর মাধ্যমে। যাহোক, এর পর Lincoln Memorials High School এ শুরু হয় নতুন জীবন।
নতুন শহরে এসে নতুন এক পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল জুডি কে। তার রুমমেট Julia Pendleton ও Sallie Mcbride দুজনই এলিট সমাজের বাসিন্দা। জুলিয়া খুব ইগোয়িস্ট আর নিজের বংশ নিয়ে খুব বড়াই করে। সে তুলনায় স্যালি চুপচাপ কিন্তু মিশুক। তার পরিবারও খুব অমায়িক। জুলিয়া সবসময় জুডিকে অপদস্থ করতে চায় আর স্যালি দুজনকে শান্ত করতে চায়। একসময় দেখা যায় তারা খুব ভাল বন্ধু হয়ে যায়। তবে জুডি কিন্তু কখনোই তার ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা জানায়না। তারা শুধুই জানে জুডির একজন গার্ডিয়ান যাকে সে ‘Watashi no Ashinaga Ojisan’ বলে ডাকে। জুডি প্রায়ই তাকে চিঠি লিখে। তার জীবন কেমন যাচ্ছে বা যেকোন কিছুর জন্য পরামর্শ সবকিছু জানায়।
জুডির এই ধনী এলিট সমাজের মানুষের প্রতি সবসময় এক বিতৃষ্ণা কাজ করত। অনাথাশ্রমে থাকার সময় সে দেখেছে তাদের প্রতি কেমন করুণা করা হত। কিন্তু এই ধারণা বদলে দেয় Jervis Pendleton. জুলিয়ার চাচা। পেন্ডেল্টন বংশের অন্য সবার মত নাকউঁচু নয় সে। কোন অহংবোধ নেই। খুব সৎ, অমায়িক আর খামখেয়ালি মানুষ। জার্ভিসকে ভাল লেগে যায় সাথে সাথে। ভাল লাগার মতই এক চরিত্র। তার ব্যাক্তিত্বের এই সরলতা দেখে জুডির ধারণা বদলে যায়। একসময় সে জার্ভিসকে পছন্দ করাও শুরু করে। কিন্তু যখনই সে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তখনই তার সবকিছু ঘোলাটে হয়ে আসে। জার্ভিস যদি জুডির ফ্যামিলি হিস্ট্রি জানে হয়ত সে তাকে আর মেনে নিবেনা। এর মধ্যে জুডি তার প্যাশন ঠিক করে। জুডি যতই চঞ্চল হোক না কেন তার লেখার হাত বেশ ভাল ছিল। তার লেখা essay ই তাকে এই স্কুলে পড়ার সুযোগ দেয়। একজন এ্যাস্পায়ারিং রাইটার হিসেবে স্কুলেও সে পরিচিতি পায়। এরপর সে ম্যাগাজিনে তার ছোট গল্প পাঠানো শুরু করে। প্রথমবার ছাপালেও পরে তার লেখা রিজেক্ট হয়। নিজের প্রতি হতাশা ঘিরে ফেলে তাকে। আবার অন্যদিকে দেখা যায় সে নিজের খরচ চালানোর জন্য টিউশন শুরু করে। সে স্বাধীন হতে চায়। অন্যের উপর নির্ভর করে থাকা – এই ব্যাপারটা সে মানতে পারেনা। কিন্তু জন স্মিথ তাকে নিষেধ করে দেয়। এর কারণে সে তার ‘বাবা’র প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে চিঠিও দেয়। এরকম মানসিক টানাপোড়ন আর চড়াই উৎরাই পার হয়ে তার গ্র্যাজুয়েটের দিন ঘনিয়ে আসে। যেহেতু কামিং অফ এজ স্টোরি, তাই পুরো গল্প জুড়ে জুডির মানসিক অবস্থা, চিন্তা ভাবনা এবং তার মানসিক পরিপক্কতা সবকিছুর চিত্র পাওয়া যায়। অনেক কিছুই রিলেটেবল মনে হয়। অনেককিছু মনে হয় আমি নিজেই ফেস করছি।
এই এনিমের যে বিষয়টা সবচেতে ভাল লেগেছে তা হল জুডির চিঠিগুলো। খুব ইন্টারেস্ট নিয়ে পড়েছি। মানে জুডি পড়ে শোনায় আর কি। আর শুধু জুডি নয়, জুলিয়া ও স্যালির মানসিক পরিবর্তন ও অবাক করে দেয়। আর টিনেজ বয়সের প্রেম যখন সিরিয়াস হয়ে যায়, সেই ট্রানজিশনটাও ভাল লেগেছে। অনেক মোমেন্ট ছিল যখন জুডির ব্লাশিং দেখে নিজেই ব্লাশড হয়েছি। জুডির সাথে সাথে যেন নিজেও আরেকটু বড় হয়েছি। আর সবচেয়ে বড় কথা এই গল্পের হ্যাপি এন্ডিং। যদিও বেশকিছু জায়গা ক্রিঞ্জওয়ার্দি ছিল কিন্তু এমন সুখের সমাপ্তির কাছে তা কিছুই না।
এই এনিমে দেখার দুটো ওয়ে আছে। ১৪/১৫ এপিসোডের পরে স্পয়লার জেনে ফেলা আর নাহয় শেষ এপিসোড পর্যন্ত অপেক্ষা করা। আমি এ্যাক্সিডেন্টলি স্পয়লার জেনে গেছিলাম। প্রথমে ব্যাপারটা নিয়ে খুব বিরক্ত হলেও পরে মজাই পেয়েছিলাম। এবং মনে হল শুধুমাত্র স্পয়লার জানার কারণেই আরও বেশি উপভোগ করতে পেরেছি। মন ভালো করে দেয়ার মতই এনিমে।

দা তাতামি গ্যালাক্সি [রিভিউ] — Safin Zaman

The Tatami Galaxy

The Tatami Galaxy Review
পর্ব সংখ্যাঃ ১১
জনরাঃ মিস্টেরি, সাইকোলজিকাল, রোমান্স

প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। বেশ ইন্টারেস্টিং একটা কনসেপ্ট। ভাবতে মজাই লাগে আমাদের এই জগতের বাইরেও আরো অনেক জগত আছে যেখানে প্রায় সবকিছু একই, দুই একটা ক্ষুদ্র জিনিস ছাড়া। হয়তো আপনি এখন এই রিভিউ পড়ছেন, কিন্তু অন্য জগতের আরেক আপনি এই রিভিউ দেখেই স্ক্রল করে চলে গেছে। তার মানে বলা যায় এখন দুইটা জগত বিদ্যমান। একটাতে আপনি রিভিউ পড়ছেন, আরেকটাতে পড়ছেন না। হয়তো এমনও একটা জগত আছে যেইখানে আমি এই রিভিউই লেখি নাই। সব মিলিয়ে মজার হলেও বেশ জগাখিচুড়ি একটা অবস্থা। কিন্তু এই জগাখিচুড়ি কনসেপ্টকে এতটা সুন্দর আর উপভোগ্যভাবে দর্শকের সামনে উপস্থিত করেছে তাতামি গ্যালাক্সি তার প্রশংসা না করলেই নয়।

তাতামি গ্যালাক্সি তোমিহিকো মোরিমির লেখা এক উপন্যাসের অ্যাডাপ্টেশন যা স্টুডিও ম্যাডহাউজ ২০১০ অ্যাডাপ্ট করে। উপন্যাসের পুরোটাই ফার্স্ট পারসন ন্যারেটিভে লেখা । তাই হয়তো এনিমের কোথাও প্রোটাগনিস্টের নাম উল্লেখ করা হয় নি। লেখার স্বার্থে ধরি প্রোট্যাগনিস্টের নাম ‘ওয়াতাশি’। এই ওয়াতাশি এক কলেজ ছাত্র। অন্যসব কলেজ ছাত্রদের মতও তার স্বপ্ন এক পার্ফেক্ট কলেজ লাইফের যেখানে বন্ধুবান্ধব, ভালবাসার মানুষ নিয়ে কাটবে তার দিনকাল। তার ভাষায় এক “গোলাপী রঙ এর ক্যাম্পাস জীবন”। এই পরম আরাধ্য ক্যাম্পাস জীবনের জন্য সে বিভিন্ন সার্কেল বেছে নেয় আর স্বপ্ল দেখে সে বন্ধুবান্ধব ঘেরা থাকবে, কৃষ্ণকালো চুলের এক রমণী তার প্রেমে পড়বে… কিন্তু ফ্যান্টাসি তো ফ্যান্টাসিই। বাস্তব জীবনের সাথে তার আকাশ পাতাল তফাৎ। কৃষ্ণকালো চুলের রমণী তো দূরের কথা, পুরো ক্যাম্পাস লাইফে তার পরিচয়ই হয় দুইজন মেয়ের সাথে। আর বন্ধুবান্ধব ঘেরা থাকার বদলে তার সংগী ‘ওযু’ নামক এক আজব প্রাণীর যাকে দেখলেই পাতাল থেকে বের হওয়া এক ভূতের কথা মনে পরে।

তাতামি গ্যালাক্সির স্পেশালিটি এর গল্পকথন। কিংবা সোজা ভাষায় বললে, এর ন্যারেটিভ। এনিমের ১১টা এপিসোড ১১ রকমের পরিস্থিতি দেখায়, যার মুখোমুখি ওয়াতাশি হতে পারে। শেষ দুই পর্ব বাদে প্রত্যেক পর্ব শেষেই গল্প রিওয়াইন্ড হয়ে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ফেরত যায় যেইখানে ওয়াতাশি কোন গুরুত্বপূর্ণ ডিসিশন নিচ্ছিল। ফলাফল হিসেবে একেক এপিসোডে দর্শক ওয়াতাশির নেওয়া একেক ডিসিশনের ফলাফল দেখতে পারে। উদাহারণ হিসেবে এক এপিসোডে ওয়াতাশি ইংলিশ ক্লাবের সদস্য আরেক এপিসোডে সিনেমা ক্লাব। এই ডিসিশনের ভিন্নতার কারণে তৈরী ওয়াতাশির ভিন্ন ভিন্ন জীবন , আরেক কথায় প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। এক প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের ওয়াতাশি ইংলিশ ক্লাবের সদস্য, তার পরিচিত মানুষজন এক রকম, তার চিন্তাভাবনা এক রকম। আবার আরেক প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের ওয়াতাশি সিনেমা ক্লাবের সদস্য।তার জীবন ইংলিশ ক্লাবের ওয়াতাশি থেকে ভিন্ন। এইভাবে নয় এপিসোডে ওয়াতাশির নেওয়া নয় রকম ডিসিশনের ফলাফল হিসেবে নয় রকমের জীবন দেখানো হয়। কিন্তু একটা জীবনও ওয়াতাশির পছন্দ নয়। তার চাই সেই কল্পনার “Rose colored campus life”।ওয়াতাশি তার পরম আরাধ্য ক্যাম্পাস জীবনের পিছনে আজীবনই ছুটে যেত যদি না ৪.৫ তাতামির লুপহোলে পড়ে সে জীবনের চরম সত্যটা অনুধাবন না করত, “যা আছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা”।

ন্যারেটিভ বাদে তাতামি গ্যালাক্সির চরিত্রগুলো আর এর আর্টস্টাইলের কথা না বললেই নয়। চরিত্র এতে কম কিন্তু যেইগুলো আছে প্রত্যেকেই তাদের নিজস্বতায় পরিপূর্ণ। এমন কোন চরিত্র নাই যেইটা কেবল থাকার জন্য ছিল। প্রত্যেক চরিত্রেরই গল্পের পেছনে কিছুনা কিছু অবদান ছিল আর সেইটা চমৎকারভাবেই উপস্থাপন করেছে তাতামি গ্যালাক্সি।

তার পর আছে এর আর্টস্টাইল। এর আর্টস্টাইল শুরুতে কিছুটা অন্যরকম লাগলেও কাহিনী যত আগাবে তত মনে হবে এইরকম গল্পের জন্য এর চেয়ে ভালো আর্টস্টাইল হতেই পারে না। ডার্ক শেডেড কালার থেকে ভাইব্রেন্ট কালারের আর্টস্টাইলে শিফটগুলো অনেক সুন্দর ছিল। আর শেষ দুই পর্বে রিয়েল লাইফ ইম্যাজারি যোগ করেছে নতুন মাত্রা। সব মিলিয়ে এক অনবদ্য রঙের খেলা যেন এটা।

আমার কাছে এটা ১০/১০ এনিমে। তাই নেগেটিভ কোন পয়েন্ট থাকলেও খুঁজে পাচ্ছি না।আমার মতে এই এনিমে খারাপ লাগতে পারে একমাত্র যদি এই ধরণের এনিমে আপনার টেস্টের না হয়ে থাকে। এছাড়া তাতামি গ্যালাক্সি উপভোগ না করার কোন কারণ নেই। যদিও এর ন্যারেটিভ সাধারণ এনিমের তুলনায় একটু বেশিই দ্রুত তবে প্রথম ১০/১৫ মিনিটের পর অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। আর অভ্যস্ত না হলে স্লো করে দেখার অপশন তো আছেই।

সব মিলিয়ে এক কথায় মাস্টারপিস লেভেলের এক এনিমে তাতামি গ্যালাক্সি। একটা বড় পাজল অনেকখন ধরে মেলানোর চেষ্টা করার পর মিলালে যেমন আনন্দময় একটা অনুভূতি হয় ঠিক তেমন অনুভূতি পেয়েছি এই এনিমে শেষ করে। যাদের কাছে ব্রেইন টিজার টাইপের শো পছন্দ তাদের জন্য অবশ্যই রেকমেন্ডেড।