Baby Steps [রিভিউ] — Arafin Shanto

Baby Steps

Anime: Baby Steps (শিশুর পদক্ষেপ)
Genre: Sports, Romance, School, Shounen 
Episode: 50 (season 1 + season 2)
Rating: MAL- season 1:- 7.95, season 2:- 8.19
Personal- season 1:- 7, season 2:- 8(Higher)

সারসংক্ষেপ-
Honor student বা সন্মানিত শিক্ষার্থী শব্দটার সাথে আমরা সবাই পরিচিত।শ্রেণীকক্ষের সবচাইতে বুদ্ধিমান চরিত্র বলা যায় তাদের।
তাদেরকে আমরা বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে দেখি।কারো মতে সে যেমন শ্রেণীকক্ষের সবচাইতে আদর্শ চরিত্র আবার অনেকেই একবাক্যেই বলে দেই এদের চেয়ে একঘেয়ে,রসকসহীন প্রজাতি দ্বিতীয়টি পাওয়া দুষ্কর। (আমি দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গের মধ্যে পড়ি 😛) সবকিছুতেই তারা অস্বাভাবিকভাবে পার্ফেক্ট।

তেমনি একজন নার্ভে ওঠা সন্মানিত ছাত্রকে নিয়েই গড়ে উঠেছে শিশুর পদক্ষেপ এনিমের গল্প।আরেকটু ভদ্রভাবে বললে “একজন পেশাদার নার্ড থেকে পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হয়ে ওঠার গল্প।”

Maruo Eiichiro আমাদের গল্পের নায়ক।অন্যান্য পেশাদার নার্ডের মত সেও শ্রেণীকক্ষের সবচাইতে ব্যাস্ত চরিত্র। তার তৈরি করা নোটবুকগুলো নাকি শিক্ষকের লেকচার তো বটেই পাঠ্যবইয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর। (SFX;Kill him -_-)

এখন প্রশ্ন সে কিভাবে টেনিস খেলোয়াড়ে রূপান্তরিত হল!

না, তার টেনিস খেলার কোন ইচ্ছাই ছিল না। সে তার জীবনেই সুখী ছিল। এমনকি উচ্চ বিদ্যালয়ে ওঠার আগ পর্যন্ত সে জানতোও না টেনিস নামের কোন খেলা পৃথিবীতে আছে। মারুয়ো কেবল তার ব্যাস্ত জীবনের মাঝে কিছুটা সময় বের করে প্রাত্যহিক শরীরচর্চা করতে চেয়েছিল।কি করা যায় সেটা চিন্তা করতে করতে ঘটনাচক্রে টেনিস খেলার সাথে পরিচিত হয় এবং টেনিসকেই তার প্রাত্যহিক শরীরচর্চার জন্য ব্যাবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।(মূলত এক সুন্দ্রী টেনিস প্লেয়ারের রূপে মুগ্ধ হয়ে ._.)

Baby Steps 2

নিজস্ব ভাবনা-
আমি স্পোর্টস এনিমে খুব বেশি দেখেছি বলা যায় না, যে কয়েকটা দেখেছি বেশিরভাগই দলগত খেলাভিত্তিক। কারণ স্পোর্টস এনিমের ক্ষেত্রে আমি সবসময় দলগত খেলাকেই প্রধান্য দিয়ে থাকি।একক কোন খেলোয়াড়ের গল্প থেকে দলগত খেলা বেশি ইন্টারেস্টিং এজন্যই হয়তবা।
কিন্তু শিশুর পদক্ষেপ দেখার পর আমার মত আপনারও সে ধারণা পালটে যেতে বাধ্য।একক খেলাতেও যে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখা যায় শিশুর পদক্ষেপ তার অনন্য উদাহরণ। টেনিস এমনিতেই টেনিস খুবই একটি মজার খেলা এবং সময়ে সময়ে যথেষ্ট ইন্ট্যান্স। আমরা সবাই টেনিসের সাথে কমবেশি পরিচিত।কিন্তু আপনি যদি আগে টেনিস নাও দেখে থাকেন বিচলিত হবার কিছু নেই।এনিমের মধ্যেই টেনিসের প্রতিটি নিয়মকানুন সুন্দরভাবে ধাপে ধাপে বিশ্লেষন করা হয়েছে। এতই সুন্দর এবং গোছানোভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে আপনি টেনিস সম্পর্কে ধারণা তো পাবেনই সাথে টেনিসের খুটিনাটি এমন অনেক বিষোয় সম্পর্কে জানতে পারবেন যা হয়ত আপনি রাফায়েল নাদাল কিংবা রজার ফেদেরারের খেলার নিয়মিত দর্শক হয়েও জানতেন না বা খেয়াল করেননি কোনদিন। 😛
একজন টেনিস খেলোয়াড়ের প্রতিটা শটের পেছনে কতটা শ্রম,কত আবেগ ও তাৎপর্য লুকিয়ে থাকে আপনি সেটাও খুব ভালভাবেই উপলব্ধি করতে পারবেন।তাই এনিমে শেষ করার পর একজন ডাই-হার্ড টেনিস ফ্যান হয়ে গেলেও অবাক হবার কিছুই থাকবে না। xD

এই এনিমের আর্ট নিয়ে অনেকেই কিছুটা নেগেটিভ রিভিউ দেন। কিন্তু আমার কাছে তেমন নিম্নমানের কিছু মনে হয়নি। আহামরি কিছুও নয়। খেলা চলাকালীন ব্যাকগ্রাউন্ডের দর্শকদের দিকে তাকালে কিছুটা আজব অনুভূতি হতে পারে এই যা। গল্পের মাঝে ঢুকে গেলে এগুলো চোখে পড়বে না।

শিশুর পদক্ষেপের সবচাইতে বড় সফলতা হল এটি তার গল্পের প্রতিটি চরিত্রকে খুব সুন্দরভাবে পোট্রে করতে পেরেছে। মারুয়োর চরিত্র অনেক টিপিক্যাল শৌনেন স্পোর্টস এনিমের মূল চরিত্র থেকে অনেকক্ষেত্রেই আলাদা। তাছাড়া এই এনিমের আরেকটি সুন্দর দিক হল তারা চরিত্রগুলোকে এত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে গল্পে যেই চরিত্রের তেমন কোন প্রয়োজন নেই তাকেও আপনি অনেকদিন মনে রাখবেন।

এনিমের চরিত্রগুলোর ডেভেলাপমেন্ট চোখে পড়ার মত। বিশেষত গল্পের নায়ক মারুয়োর চরিত্রের উন্নতি খুব সুন্দরভাবে ধাপে ধাপে করা হয়েছে। মারুয়োর সাথে অন্যান্য খেলোয়াড়ের সম্পর্ক,তার বন্ধুমহলের সাথে সম্পর্ক খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গল্পের একটা অসাধারণ দিক হল অনেক স্পোর্টস এনিমের মত এখানে মূল চরিত্রের পরিবারকে দৃশ্যপটের বাইরে ফেলে রাখা হয়নি।বরঞ্চ গল্পের প্রতিটি মোড়ে বিশাল কিছু ভূমিকা দেয়া হয়েছে। যার কারণে আপনার জন্য হয়ত গল্পের সাথে আত্মিক একটা সম্পর্ক তৈরি করে নিতে সহজ হবে।

রোমান্স ট্যাগ টা দেখে প্রশ্ন জাগতে পারে কিভাবে বা কেমনভাবে দেখানো হয়েছে রোমান্স।আপনাক আশ্বস্ত করতে পারি মোটেই ক্রিঞ্জি ভাইবটা নেই। এনিমেতে স্পোর্টসের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। স্পোর্টসের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই রোমান্স ফ্যাক্ট টা তুলে ধরা হয়েছে। ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ছিল ততটুকুই রাখা হয়েছে।

শিশুর পদক্ষেপের সাউন্ডট্র্যাকগুলো সত্যিকার অর্থে অসাধারণ না বলা গেলেও যথেষ্ট ভাল। গল্পে মজে গেলে হয়ত ওএস্টির দিকে তেমন মনোযোগ দিবেন না কিন্তু একইসাথে এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়। ঠিক অন্য কথা বলা যায় ওপেনিং এবং ইন্ডিং গান নিয়ে। বিশেষত Mao Abe এর গাওয়া “Believe in Yourself” গানটি একবারও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব তো নয়ই কিছুক্ষেত্রে লুপেও শুনতে বাধ্য হবেন।

শিশুর পদক্ষেপ এনিমেটি তার নামের সাথে মিল রেখেই গল্প ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে। একটি শিশু যেমন প্রথম হাঁটতে শেখে এবং সেই শেখার মাঝে যে আনন্দ খুজে পায়।এভাবে চেষ্টার মাধ্যমে সবার উৎসাহে একসময় হাঁটতে সমর্থ হয়, আমাদের গল্পের নায়ক মারুয়োও ঠিক একই গাইডলাইন ফলো করেছে টেনিসের ক্ষেত্রে।

শিশুর পদক্ষেপ এনিমেটির অন্যতম বড় দিক হল এর বাস্তবধর্মী এপ্রোচ। গল্পের কোন জায়গাতেই ফোর্স করে মূল চরিত্রকে জিতিয়ে দেয়ার কোনরকম চেষ্টাই করা হয়নি। এমন কোন টেকনিক বা ট্যাকটিক যুক্ত করা হয়নি যার কোন ব্যাখ্যা নেই। মূল চরিত্র তার ম্যাচগুলো আবেগ দিয়ে নয় বরং এনালাইজ করে খেলে। উড়ে এসে জুড়ে বসা কোন মুভ দেখবেন না আপনি। খেলার মাঝে নেয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই পূর্বপরিকল্পিত। তাই অসাধারণ গল্পের সাথে বাস্তবধর্মী এবং একইসাথে ইন্ট্যান্স স্পোর্টস এনিমের অভাব যদি বোধ করতে থাকেন দেরি না করে দেখতে বসে যান শিশুর পদক্ষেপ।

এখন এনিমেটি শুরু করার আগে আপনাকে যে বিষয়ে ভাবতে হবে তা হল আপনার হাতে কতটা অলস সময় আছে!কারণ একবার শুরু করলে বারবার নেক্সট এপিসোড ক্লিক না করে আপনি থাকতে পারবেন কিনা সেটা ভাববার বিষয়। :3

পুনশচঃ (যদি এই রিভিউ পড়ে এনিমেটা দেখেন,দ্বিতীয় সিজন শেষ করার পর আপনার কাছ থেকে ধন্যবাদ পাই আর না পাই গালি ঠিকই খাইতেসি এইটা আমি শিওর। not because of story. কারণটা ভিন্ন। তাই উহ্যই থাক। 😛)

Ninja Batman (2018) [মুভি রিভিউ] — Md Anik Hossain

Ninja Batman

কয়েক সপ্তাহ যাবত্‍ দেখব দেখব করে দেখা হচ্ছিল না। শেষে আজ সকালে দেখলাম।

মূল কাহিনীর সারাংশ হয়ত শিরোনাম দেখেই বোঝা যায়। তবুও বলি আর কি- ব্যাটম্যান যখন গোরিলা গ্রড এর সাথে মারামারি করছে এমন সময় গ্রডের বানানো টাইম মেশিন সম্ভবত দুর্ঘটনাঃবশত এক্টিভেট হয়ে যায়। আর ব্যাটম্যান টাইম মেশিনের বদৌলতে প্রাচীন জাপানে চলে আসে। সেখানে গিয়ে খুঁজে পায় তার কিছু চিরশত্রুদেরকে। আর তাদের খতম করে আবার বর্তমানে ফিরে আসা নিয়েই Ninja Batman এর মূল theme.

প্রথমেই স্টোরিলাইনের কথা বললে কাহিনী পুরাই লুলমার্কা হাস্যকর মনে হইছে আমার কাছে। কিন্তু একইসাথে প্লট টা মজাদার ছিল এটা মানতে হবে।
প্লট-কাহিনী মিলিয়ে 6/10 দিব।

আর্টওয়ার্ক বেশ ভালো লেগেছে। ওয়েস্টার্ন কমিকের এডাপ্টেশন হিসেবে মানানসই ছিল। এটার এনিমেশনে বেশ Uncommon একটা vibe পাওয়া যায়। Afro Samurai খ্যাত তাকাশি ওদাকাই এর সৃষ্টি বলে কথা। CGI এনিমেশন এর মুভমেন্টগুলো খারাপ লাগেনি। আর একশন সিকোয়েন্সগুলো অস্থির ছিল। বিশেষত একবারে শেষের ব্যাটম্যান বনাম জোকার এর Duel টা 
এই খাতে 8/10 দিলাম।

ব্যাটম্যান সেই চিরাচরিত ব্যাটম্যানের মতোই ছিল। নিজের আদর্শ ও বাস্তবতার মাঝে বিরোধ ভালোভাবেই ফুটেছে মুভিতে। আর বিখ্যাত জোকার মামু এবং কুইন এর পাগলামি ছিল এক্কেবারে দারুণ! পুরা মুভিতে জোকার মামুর কান্ডকারখানাই সবচেয়ে উপভোগ্য ছিল। ক্যাটওমেন,টু ফেইস,গোরিলা গ্রুড কেও কমবেশি ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছে বলে মনে হলো। অন্যান্য ক্যারেক্টার রা খুব বেশি স্ক্রীনটাইম পায়নি।যেটুকুও পেয়েছে, চলে আরকি।
তো চরিত্রগুলোর মিথস্ক্রিয়ার দিকটাতে 7+1/10 দিব(জোকার মামুর জন্য ১ বোনাস)

নেগেটিভ দিকের কথা আর কি বলব, মুভির নাম দিছে নিনজা ব্যাটম্যান আর পোশাক পরাইছে সামুরাই যোদ্ধাদের মতো, পুরাই আজব! তার উপ্রে প্রাক-শিল্পবিল্পব জমানায় ইয়া বিশাল বড় বড় রোবোট নিয়ে মারামারি দেখায় দিল। দেখে তো আমি হাসতে হাসতে কতক্ষণ লুটোপুটি খেলাম।

মুভির সবচেয়ে সেরা মূহুর্ত: বাতুমান-দোনো যখন হাত দিয়া নারুটোর মতো শারিনগান(?) জুত্‍সুর হ্যান্ড সিগনাল দেখাইল।

তো সে যাইহোক, সামগ্রিকভাবে সময় কাটানোর জন্য ভালোই লাগল। ৭/১০ দিলাম সব মিলিয়ে।

Major [রিভিউ] — Rahat Rubayet

Major 2

এনিমেঃ মেজর 
সিজনঃ ৬ টা সিজন + ২টা এক্সট্রা এপিসোড (আরো কিছু আছে এদিক সেদিক)

অনেকদিন পর এনিমে দেখতে বসা। মানে শুরু করে শেষ করা আরকি। বেশ বড়সড় একটা সিরিজ। গড়ে ২৫ এপি ধরে ২৫*৬= ১৫০ এর কমবেশি।
বেশ আশা নিয়ে দেখতে বসা, যেখানে বেজবল নিয়ে এর আগে দেখা ২ টা এনিমেতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। সেদিকে না যাই।
প্রতি সিজনেই কত রকম কথা মনে হয়েছে যা রিয়েকশান হিসেবে লিখতে চেয়েছি, কিন্তু ৬ টা সিজন শেষ করে অনেক কিছুই মাথায় আসছে না।

>> মেজর-
মেইন ক্যারেক্টার এর নিজেকে ভাঙ্গা গড়ার এনিমে। বন্ধুত্বের ভিতকে আগলে একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা নয়, বরং বন্ধুদের ক্রমাগত রাইভালে পরিনত করতে করতে এগিয়া যাওয়ার গল্প।
না, এই জায়গাটায় আমার কোন সমস্যা নেই- বরং ভালই লেগেছে গোরোর জার্নিটা।
>>মেইন ক্যারেক্টার কে কিছু এপিসোড পরে থেকেই পিটানোর ইচ্ছা দমন করে রেখেছি, কারন তা সম্ভব না। না, সে ইরিটেটিং ক্যারেক্টার মোটেই না। হিরো তো বটেই, চিৎকার করে ডান হাত বাম হাত দিয়ে যে কামানের গোলা ছোড়ে তাকে হিরো না বলে…. সে যাক।
ক্লিশে ব্যাপারে আমার খুব যে সমস্যা আছে তা না, বরঞ্চ মূল চরিত্রের এথলেটিক বডি বিল্ডিং টা বেশ করে দেখিয়েছে শুরুতেই।
কেন যেন থেকে থেকে মূল চরিত্রের সেলফ ডেস্ট্রাক্টিভ কাজকর্মে মেজাজ চড়ে গেছিল। (নিজেকে গোরোর বাবার চরিত্রে কল্পনা করেছি কি? হতে পারে, হতেই পারে)
এমন পোলাপানকে সকালে বিকালে ২ ঘা দেয়া দরকার।
যদিও অনেকের কাছে মনে হতে পারে, প্যাশনের জন্য নিজেকে উজার করে দেয়া, হ্যান-ত্যান….. পারসোনালি আমার তাকে পিটাতে ইচ্ছা করেছে।
যদিও, ছেলে ভালো, শুধু নিজের ভালমন্দ বুঝে না- এই আরকি।

Major 1

>> মেজর এনিমেতে একটা নির্দিষ্ট ডেথের ইন্সিডেন্ট খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছে। মানে আমার কাছে খুবই খুবই সুন্দর লেগেছে জায়গাটা। (মৃত্যুর আবার সুন্দর কি? মৃত্যু মানেই তো অসুন্দর)
মানে, কোন একটা ক্যারেক্টার এর ডেথ আর তাতে সবার প্রতিক্রিয়া বেশ নাটকীয় ভাবে উপস্থাপন ছিল। আমার ভাল লেগেছে।

>> অপেনিং সং ২ টা (২ নং আর ৬ নং) বেশ, বেশ……বেশ ভালো লেগেছে। এখনো Saraba Aoki Omokage লুপে চলছে। লুপে চলার মতন?
কম্পোজিশন, লিরিক আর মূলভাব যদি ঠিকমতন ফুটে ওঠে, তখনই এমন সাউন্ডট্র্যাক পাওয়া যায় কেবল।
লিরিকের কয়েকটা লাইন দিই এখানে যেটা এনিমের ভেতর এমন ট্রান্সলেশনে পাবেন, কিন্তু গুগলে সার্চ দিলে দায়সারা ধাচের ট্রান্সলেশন।
what should i see, when i close my eyes?
will surely be- shining you there.
let your passion rise now,
until your despair becomes hope
get yourself fired up with a golden vow
you can face a challenge without end

>> মেজরের ফিমেইল ক্যারেকটার প্রায় সবগুলো কেই ভালো লেগেছে শুধু শিমিজু আর তার বান্ধবী বাদে। তার বিশেষ টোনে ‘হোন্দা’ বলে চুপসে যাওয়াটা বোধহয় একমাত্র ভাল লাগার দিক।
সবথেকে ভালো লেগেছে বোধহয় Ryoko , Momoko আর Sophia কে।
আর কেন যেন, সোফিয়ার মাঝে হালকা রকমের নাচ্চানের(বেবি স্টেপ্স) ছায়া পেলাম। আচার ব্যবহার+ চেহারা সুরতে মিল আছে সম্ভবত।

>> মেজর বোধ হয় একমাত্র এনিমে আমার জন্য, যেই এনিমের মূল ক্যারেকটার কে মাটিতে পরে যাবার জন্য বারবার প্রে/উইশ করছিলাম।
সিরিয়াসলি!
‘অমুক দলে’র বিপক্ষে ‘অমুক ম্যাচে’ বারবার করে চাইছিলাম – ‘ব্যাটা পর, পরে হস্পিটালাইজড হ, আর সহ্য করা যাচ্ছে না’
>> গিবসন
গিবসন আর গোরো সম্ভবত যুগ্মভাবে আমার পছন্দের চরিত্র এই এনিমেতে।
কেন? দেখলেই বুঝবেন।
>> কোন খারাপ দিক নেই?
আছে, প্রচুর আছে। যেমন সময়ে সময়ে বোরিং লাগতে পারে অনেকের কাছে (আমার লাগে নি মোটে)। ক্লিশে ব্যাপার এর ঘাটতি খুব একটা ছিল না।
তবে, অমুক তমুক এনিমের মতন, মেইন ক্যারেক্টারের সবকিছু জিতে ফেলার মতন ঘটনা ঘটে নি।
>> একটা জিনিষ বলা দরকার।
অনেক অনেক এনিমেতে দেখা যায় অনেক এপিসোড খরচ করে মূল চরিত্রের ছোট থেকে বড় হওয়াটা দেখায় (যদিও আরো অনেক বিষয় থাকে- মানা করছি না), কিন্তু মেজরে ১৫০ এপিসোড যদিও অনেক, তবু এর মাঝেই প্রধান চরিত্রের এত পরিবর্তন যা আবার দৃষ্টিকটু লাগে নি- প্রশংসনীয়।

আর হ্যাঁ, মেজর বোধ হয় যারা ধুম ধারাক্কা থ্রিলিং স্পোর্টস এনিমের খোঁজে আছেন, তাদের চাহিদা মেটাবে না।
পছন্দের স্পোর্টস এনিমে লিস্টে ৩ বা ৪ এ থাকবে মেজর। সিজন ৭ এর অপেক্ষায় রইলাম।

অনেক কিছু বলার ছিল, আঙ্গুলে ঝাল আর শীতে স্থবিরতা এনে দিয়েছে, এই পর্যায়ে।

Major 3

Kono Subarashii Sekai ni Shukufuku wo! [লাইট নোভেল রিভিউ] — তৌফিক সরকার

KonoSuba 2

Kono Subarashii Sekai ni Shukufuku wo! /Give Blessings to This Wonderful World!

জনরা- ফ্যান্টাসি, কমেডি, অ্যাডভেঞ্চার
মোট ভলিউম- ১৩

সাতৌ কাজুমা পারফেক্ট হিকিমোরি। হিকিমোরি হচ্ছে নিজের রুমে সারাদিন বসে কম্পিউটার গেম, অ্যানিমে ও সিনেমার মাঝে ডুবে থাকা। খুব কমই ঘর থেকে বের হয় হিকিমোরিরা। কিন্তু কাজুমা একদিন বাসা থেকে বের হলো, তবে এক ফেভারিট গেম কেনার জন্য। বিপত্তি বাধে সেখানেই, গেম কিনে ফিরে আসার সময় সে দেখে এক স্কুল পড়ুয়া মেয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, এক ট্রাকের ছায়া এগিয়ে আসছে মেয়েটার দিকে। মেয়েটাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে মারা যায়, আর আবিষ্কার করে অন্য এক জায়গায়। সেখানে এক সুন্দরী মেয়ে বসে ছিল তার অপেক্ষায়।

সুন্দরী মেয়েটি ছিল পানির দেবী আকুয়া। তার কাজ হলো জাপান থেকে মৃত লোকদের স্বর্গে নাইলে অন্য আরেক দুনিয়ায় পাঠানো। আর ভালো কথা, কাজুমা কিন্তু ট্রাকের চাপায় পড়ে মারা যায়নি। মারা গেছে ট্রাক্টরের কারণে। কিন্তু সেটাও ওকে চাপা দেয়নি, সময়মত থেমে যায়। কিন্তু ট্রাক্টরকে ট্রাক মনে করে সে হার্ট অ্যাটাক করে, আর মরার আগে নিজের প্যান্ট ভেজাতে ভুল করে না!

আকুয়া এটা নিয়ে হাসাহাসি করে, কাজুমা যায় রেগে। তাকে বলা হয় যে সে প্যারালাল এক ফ্যান্টাসি দুনিয়ায় যেতে পারবে যেখানে ডেমন কিং আছে, এবং তার চ্যালা-পুলা মানুষদের উপর বারবার আক্রমণ করছে। তাদের রক্ষা করতে হবে। ডেমন কিং-কে পরাজিত করার জন্য সে নিজের ইচ্ছেমত যেকোনো নিতে পারবে, সেটা অস্ত্র কিংবা অসীম ক্ষমতা, যেকোনো কিছু। কাজুমা এক পায়ে খাড়া। কিন্তু দেবী আকুয়ার তাচ্ছিল্য সে সহ্য করতে পারল না। তাই সে দেবীকে নিয়েই ফ্যান্টাসির মাটিতে নামল। আর দেবী আকুয়া তো বাকহারা।

KonoSuba 1

কাজুমা মনে করেছিল আকুয়া যেহেতু দেবী, সেই কাজুমার অর্ধেকের বেশি কাজ করে দিবে। কিন্তু বিধিবাম, দেবী কোনো কাজের না, অলস আর নারসিসিস্ট টাইপের। আর ফ্যান্টাসি দুনিয়ার হিরো হবার যোগ্যতা নেই কাজুমার। সবচেয়ে নিচু লেভেলের অ্যাডভেঞ্চারার হতে হলো তাকে। তার দলে যোগ দিল আরো দুটো মেয়ে, প্রতিভাবান জাদুকর মেগুমিন, যে কিনা বিস্ফোরণের জাদু ছাড়া আর কোনো জাদুতে আগ্রহী না। আর ডার্কনেস, হাজার ধাক্কা সহ্য করতে পারলেও শত্রুর গায়ে ফুলে টোকা মারতে পারে না, আর মেয়েটা প্রচুর পরিমানে masochist।

এই অদ্ভুত টিম নিয়ে কাজুমা কীভাবে ডেমন কিং ও তার চ্যালা-পুলাদের সামলাবে?

তবে আরেকটা কথা বলি, কাজুমা কিন্তু দুধে ধোঁয়া তুলসী পাতা না। শত্রুর সামনে দুই নাম্বারী, চালিয়াতি করতে তার মন বিন্দুমাত্র কাঁপে না। তাছাড়া সাথীদের ঢাল বানিয়ে নিজেকে রক্ষা করতেও দ্বিধা করে না, তবে বিপদে পড়লে তাদের আবার ঠিকই রক্ষা করে। সাথে সে প্রচুর পরিমাণে অলস আর পার্ভাট স্বভাবের।

আর ভাবেই এগিয়ে যায় তাদের অ্যাডভেঞ্চার। আর তাদের অ্যাডভেঞ্চারের মাধ্যমে এগিয়ে যায় কোনোসুবা সিরিজ।

এখন আপনি যদি ইংরেজী কোনো সিরিজ পড়তে চান, কিন্তু সেটা সহজ ভাষায়। আর হাসতে চান দম ফাটিয়ে। তাহলে আমি আপনাকে এটা রেকমেন্ড করব। এই সিরিজটা লেখাই হয়েছে আপনাকে হাসানোর জন্য। কখনো কাজুমার কীর্তিকালাপে, কখনো মেগুমিনের পাগলামি, কখনো আকুয়ার বোকামি, কখনো ডার্কনেসের নিজের চাহিদা(!) এর উপর সঁপে পড়তে দেখে আপনি নির্দ্বিধায় হাসবেন। পড়ে আরো কিছু মজার চরিত্র আসে, প্রাক্তন ডেমন কিং দলের সদস্য ও লিচ (আনডেড জাদুকর) উইজ যে কিনা এক ম্যাজিকশপ খুলেছে কিন্তু লসের মুখে আছে। আরেক ডেমন কিং দলে সদস্য ভানির, যার একমাত্র লক্ষ্য মানুষকে ধোঁকা দিয়ে মজা করা। মেগুমিনের সহজ সরল বান্ধবী (কাজুমার ভাষায় একমাত্র স্বাভাবিক মেয়ে) ইয়ুনইয়ুন। ডার্কনেসের বান্ধবী, ও বিখ্যাত চোর ক্রিস। সাথে আছে কাজুমার তলোয়ার চুনচুনমারু (নাম মেগুমিনের দেয়া), মেগুমিনের অদ্ভুত বিড়াল চমুস্কে, আর আকুয়ার তথাকথিত ড্রাগন কিন্তু অন্যের চোখে বাচ্চা মুরগী এম্পায়ার যেল (সে অনেক পড়ে আসে)।

এখন কেন এই নভেল সিরিজ পড়বেন? আগেই বলেছি দম ফাটিয়ে হাসার জন্য। বইয়ের প্রতিটি পরতে পরতে হাসির এলিমেন্ট ঢুকানো আছে যা আপনাকে হাসিয়ে ছাড়বে। আর প্রচুর সহজবোধ্য করে জাপানি থেকে ইংলিশে ট্রান্সলেট করা হয়েছে। ডেমন কিং দলের সাথে মারামারি করা সময় কাজুমা ও তার দলের পাগলামি পড়লে তো হাসাহাসি খাবেন। আর ওদের পাগলামির একটু বর্ণনা যদি দিই তাহলে গল্পের কিছুটা স্পয়লার হয়ে যাবে। তাই দিলাম না। এছাড়া এটার অ্যানিমে সিরিজও আছে। সেটাও কিন্তু কম হাসির না, ভয়েস আর্টিস্টরা খুব যত্নের সাথে চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন। কিন্তু অ্যানিমে চারটা নভেল অ্যাডাপ্ট করেছে, সেখানে মোট নভেলের পরিমাণ ১৩টা, তাই আমি বলব প্রথম থেকেই পড়া শুরু করে দিন। মজা শতভাগ উসুল হবে।

KonoSuba 3