The Red Turtle [মুভি রিভিউ] — Torsha Fariha

Red Turtle 3

মুভির নামঃ Red Turtle
Production Company: স্টুডিও জিবলি ও ওয়াইল্ড বাঞ্চ। 
IMDb Rating: ৭.৬
Personal Rating:

২০১৭ সালের অস্কারের best animation feature film এর ক্যাটাগরিতে নমিনেশন পাওয়া।

খুব ছিমছাম সুন্দর ৮০ মিনিটের একটা মুভি। জটিল কোন কাহিনী না, স্নায়ুতে টান ধরানো কোন ক্লাইম্যাক্স না, খুব খুব খুব সাধারন একটা মুভি। এবং খুব চুপচাপ। হাসি আর কিছু চিল্লানো ছাড়া এখানে আর একটা কথাও নেই। মুভির সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং জিনিস মনে হয় এটাই। একটা কথাও না বলে কিভাবে এত সুন্দর একটা কাহিনী ফুটিয়ে তোলা যায়!

কাহিনী খুবই সরলরেখার। জাহাজভাঙ্গার পর এক লোকের জ্ঞান ফিরে নাম না জানা এক দ্বীপে। কয়দিন ধাতস্ত হওয়ার পর প্রথম সুযোগেই সে ভেলা বানায় দ্বীপ ছাড়তে যায়। কিন্তু প্রতিবারই একটু কিছুদূর যাওয়ার পর ভেঙ্গে যায় ভেলাটা। কয়েকবার চেষ্টার পর সে আবিষ্কার করে একটা লাল রঙের কচ্ছপের কাজ এটা।

গল্পটা বেশ ছোটই তাই আর বলতে গেলে এক-দুইটা যে টুইস্ট আছে সেগুলাও বলা হয়ে যায়। তাই বাকিটুকু জানতে দেখতে হবে মুভিটা।

Red Turtle 1

এবার আসি সৌন্দর্যের কথায়। মুভিটা এককথায় চোখের শান্তি। ধূ-ধূ সাগরতট, সবুজ বন, নানা শেডের নীল পানি, উঁচু উঁচু ঢেউ দেখতে খুব ভাল লাগে। কিন্তু সাথে একটা একাকীত্বের অনুভূতি আসে। আমার দেখতে গিয়ে মনে হয়েছে, খাবার-পানি ছাড়া যেমন বাঁচা যায় না, তেমনি বি-শা-ল একটা জায়গায় একা থেকেও বাঁচা যায় না।

এবার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। ডায়ালগের ঘাটতি আসলে এখানে অনেকখানিই মিটিয়ে দিয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। খুব সুদিং।

Red Turtle 2

এমনিতে ড্রব্যাকের কথা যদি খুঁজে খুঁজে বলতে হয়, তবে বলব মুভিটা একটু স্লো। যারা এক্সাইটিং কিছু খুঁজছেন তারা মনে হয় কিছুটা হতাশই হবে। তবে এটা ঠিক ড্রব্যাক না। মুভির জানরাই এমন। স্লাইস অফ লাইফ- সুপার ন্যাচারাল যাদের পছন্দ কিংবা বেশ কিছুদিন ধরে যারা একশন-থ্রিলার দেখছেন, অথবা আমার মত আনিমে দেখা থেকে প্রায় অবসর নিতে বসেছেন- মোট কথা সবারই এই মুভি পছন্দ হবে।

মুভিটা আমার কাছে অনেকটা ছুটি কাটানোর মত রিল্যাক্সিং লেগেছে।

তাই, না দেখে থাকলে দেখে ফেলতে পারেন। সময়টা সুন্দর কাটবে।

Red Turtle 4

Kokkoku [রিকমেন্ডেশন] — Towhid Chowdhury Faiaz

Kokkoku

এই এনিমেটির নাম এনিমে কমিউনিটির সবারই কমবেশি জানা আছে এবং এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এর এনিমে ওপেনিং। এই এক এনিমে ওপেনিং পুরো কমিউনিটিতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলো। ট্যাঙ্ক এবং এ ক্রুয়েল এঞ্জেলস থিসিসের পরে এই প্রথম মনে হয় আমি কোনো এনিমের ওপেনিং স্কিপ করিনি একবারও। কিন্তু খালি ওপেনিং ভালো হলেই সব হয় না। যদিও এনিমেটাকে চমৎকার কিংবা অসাধারণ বলা যাবে না তাও বলবো এর অসাধারণ কনসেপ্ট,কিছু চমৎকার কাহিনীগত উদ্ঘাটন রয়েছে যা আপনাকে ইমপ্রেস করবে।

কাহিনীটা যদিও অসম্ভব রকমের প্রিটেনশিয়াস এবং সুডো ভিত্তিক বিজ্ঞান কল্পকাহিনী কেন্দ্র করে লেখা।মাত্রই চাকরির এক ইন্টার্ভিউ দিয়ে আসা জুরিকে তার বড় বোন ফোন করে তার বড় বোনের ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে আসার জন্য বলে।বাসায় এসে জুরি তার বেকার বড় ভাইকে এই কাজে পাঠায়। কিছুক্ষণ পরেই সে একটি ফোনকল পায় যে তার বড়ভাই এবং মাকোতোকে কিডন্যাপ করা হয়েছে এবং তারা টাকা দাবি করে। এরকম সময়ে জুরির দাদা এমন একটি পাথর তাদের দেখায় যার মাধ্যমে সময় আঁটকে রাখা যায় পৃথিবীর। এই সময়ে কেবল যারা পাথরটা ব্যাবহার করেছে তারা ছাড়া অন্য কেউ চলাচল করতে পারবে না এবং তারা পাথরের মতো আঁটকে থাকবে কারণ সময় বন্ধ কিন্তু জুরি তার দাদা এবং বাবা যখন কিডন্যাপারদের হাত থেকে তার বড় ভাই এবং মাকোতোকে উদ্ধার করতে যায় তখন দেখে কিডন্যাপাররাও তাদের মতো চলাচল করতে পারছে এবং পুরো কিডন্যাপটাই একটা ট্র্যাপ ছিলো তাদের কাছ থেকে সেই বিশেষ পাথরটা নেবার জন্যই।এখান থেকেই শুরু হয় কক্কোকু এনিমের মূল কাহিনী। সিরিজের পুরোটা সময়ই তারা এই সময় থেমে থাকা স্ট্যানিস নামক এই পৃথিবীতে আটকিয়ে থাকে এবং বের হবার চেষ্টা করে।

সিরিজটা দেখে আমার নিকোলাস কেজের Knowing সিনেমাটার কথা মনে পড়ে গেলো। ওই সিনেমাটার সবই ঠিক থাকলেও শেষটা খুবই উদ্ভট এবং আধ্যাত্মিক রকমের ছিলো। কাহিনীগত দিক দিয়ে কক্কোকু এবং নোয়িং এর মিল না থাকলেও কাহিনীর সমাপ্তির প্রতি আমার মনোভাবটা একই।এন্ডিংটা একটু বেশি আধ্যাত্মিক হয়ে গেছে তা ছাড়া বাকি সবই ঠিক ছিলো।

সব মিলিয়ে এনিমেটা ভালোই। খুবই ভিন্নধর্মী একটি কনসেপ্ট এবং মোটামোটি ভালোই এক্সিকিউশন ছিলো ওই কনসেপ্টের। একটু ভিন্নধর্মী সাইয়েন্স ফিকশন কিংবা সুডো সাই-ফাই এর প্রতি আকর্ষণ থাকলে এটা রেকোমেন্ডেড।

Shiki [রিভিউ] — Amor Asad

Shiki

সোতোবা নামের গ্রামটা মোটামুটি নিরিবিলি, অল্প কিছু মানুষের বাস। দেশ উন্নত বলে সভ্যতার ছোঁয়া পৌঁছেছে, যতটুকু না হলেই নয়। তবুও সবুজ ঠিকরে বেরোয়। শহুরে জোম্বিদের আশ্রম, অনেকেই বায়ু পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আসে। চাষাবাদ করে গ্রামের অধিবাসীরা। অবসরে ভুড়ি এলিয়ে এর ওর নামে উড়ো কথা ছড়ায়।
শহুরে জোম্বিরা এরকম গ্রামে গেলে বিহবল হবে। প্রথমে আনন্দের আতিশয্যে, পরেরবার করার মত কাজ খুঁজে না পেয়ে।
কিন্তু সোতোবায় কেউ বসে নেই। গ্রামে মড়ক লেগেছে। একের পর এক গ্রামবাসী মারা যাচ্ছে। মৃত্যুর আগে সবার লক্ষণ এক।
মহামারী নয়তো? — স্থানীয় ডাক্তার ভাবে।
দু’চারজন মৃত ব্যক্তিকে আবার চলতে ফিরতে দেখা গেলো। এ কী করে সম্ভব? ডাক্তারের ব্যাখ্যার জন্যে বসে নেই স্থানীয় ওঝা। প্রচার করে বেড়ালো, গ্রামের এক কোণে বড় প্রাসাদ। নতুন অধিবাসী এসেছে শহর থেকে। ওরাই সব মৃত্যুর কারণ, ওরাই মৃতদের জাগিয়ে তুলছে।

মিস্টেরি/ভ্যাম্পায়ার ঘরানার এই সিরিজখানা নিজের বক্তব্যে নিশ্চিত না। খেলো দর্শন কপচানো বড় একটা অংশ জুড়ে। ভ্যাম্পায়ারদের মানুষ হত্যাকে বেচে থাকার জন্যে অত্যাবশ্যক হিসেবে দেখায় মানুষের পশু ভক্ষণের উদাহরণ দিয়ে। মিথোলজিতে ভ্যাম্পায়ার অশুভের প্রতীক, ইশ্বরবিমুখতার প্রতীক। শিকি সিরিজখানা মিথ এড়িয়ে প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান দিয়ে একটা দর্শনগত দোটানা তৈরী করতে চায়। কিন্তু এভাবে দেখলে, ভ্যাম্পায়ার আলাদা প্রজাতি না। বিদ্যমান প্রজাতিতে বিকৃতি। প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানে কোন প্রজাতির সদস্য বিকৃতির স্বীকার হলে অন্যেরা তাঁকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। পাখির ঝাক বা পিঁপড়া দিয়ে উদাহরণ দেয়া যাবে। মানুষেরাও এর বাইরে না।

সিরিজের গল্পকথন অবশ্য ভাবনার দাবীদার। অনেকাংশে ব্রুটাল। প্রচুর চরিত্রের সমাগম, স্ক্রিনে সময় নিয়ে আসীন হবার দাবীদারও অনেক। ফলে ঘটনা বেশ ধীর গতিতে এগোয়, কিন্তু গল্প সাজানোর ঢঙ্গ আকর্ষণ ধরে রাখতে সক্ষম। এক বসায় দেখে ওটার মত গতিশীলও মনে হতে পারে।

৭.৫/১০

Petshop of Horrors [রিভিউ] — Krista King

Petshop of Horrors 1

Anime: Petshop of Horrors
Genre: Mystery, Philosophical, Psychological, Horror
Demographic: Josei
Episode: 4
Author: Matsuri Akino
Aired: 1999

 

 

 

সারসংক্ষেপ-
চায়না টাউন নামক একটি জায়গায় পোষ্য বিক্রয়ের দোকান, যার মালিক কাঊন্ট ডি। ক্রেতা নিজের একান্ত ইচ্ছার পোষ্যকে কিনতে আসে, কিন্তু এই পোষ্যগুলি সাধারণ নয়। কিছু শর্ত পালন করতে হয় পোষ্যগুলির জন্য, এই শর্ত ভঙ্গ করলেই বিপদ, এমনকি ক্রেতার মৃত্যুও সম্ভব। এইভাবেই বিভিন্ন ক্রেতার পোষ্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতা, তাদের রাগ, অভিমান, দুঃখ, হতাশা নিয়েই গল্প।

My view-
প্রতি পর্বের ঘটনা ভীষণই মর্মস্পর্শী। ঘটনাগুলোর মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ও দার্শনিকতা খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, হিস্পানিক ও ভয়াবহ ভাব পরিবেশের সঙ্গে মানানসই। অনেকটা xxxholicএর ভাব খুঁজে পাবেন, কিন্তু তবুও অনেকটাই ভিন্ন।
তবে, সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো মাত্র চারটি পর্ব। আপনার মনে যখন রহস্য তুঙ্গে তখনই শেষ।
তবুও আমি বলব, দেখতে অসুবিধা হবে না বরং ভালোই লাগবে কারণ প্রতিটা পর্বে ভিন্ন গল্প। হয়তো এই animationটা বানানোই হয়েছে দর্শকদের mangaটার প্রতি আগ্রহী করে তোলার জন্যই।

Character-
Count D- এমনই এক পুরুষ, যার রুপকে শরবতের মতো পান করতে ইচ্ছে করবে। দার্শনিকতায় উত্তম চরিত্রটির প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে উপায় নেই।
এছাড়া নানান পর্বের নানান গল্পানুযায়ী বিভিন্ন মানসিকতার ভালো মন্দ tragic চরিত্রগুলি লক্ষ্যণীয়।

Petshop of Horrors 2

Dallos [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Dallos 1

এনিমে: Dallos
পর্ব সংখ্যা:

একবিংশ শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে এতোই বৃদ্ধি পায় যে পৃথিবী মানুষদের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এমনই সময় মানুষ বেঁচে থাকার জন্য চাঁদের খনিজ সম্পদকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। এভাবেই চাঁদে মানুষদের বসবাস শুরু হয় কিন্তু পুরনো প্রজন্মের যারা পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য চাঁদে এসেছে তাদের দৃষ্টি এবং নতুন প্রজন্মের যারা পৃথিবীকে কখনো না দেখা সত্তেও পৃথিবীর জন্য কাজ করতে বাধ্য হয়েছে তাদের দৃষ্টি কি কখনো এক হতে পারে? এটিই ড্যালাস গল্পের কাহিনীর মূল ভিত্তি।

ড্যালাস এনিমেটার নাম প্রথম আমি প্ল্যানেটস এবং রয়্যাল স্পেস ফোর্স এনিমের রেকোমেন্ডেশন ফরামে খুঁজে পাই। যেহেতু ওই দুটি এনিমে অনেক ভালো লাগে সেহেতু এই এনিমেটা দেখার জন্য অনেক আগ্রহ জন্মে। একটু ঘাঁটা-ঘাঁটি করার পর দেখি এই এনিমের পরিচালক গোস্ট ইন দ্যা শেল এর পরিচালক মামোরু অশী। এই কাজটা তার একদম প্রথম দিকের।

এই এনিমের সবচেয়ে শক্তিশালী জিনিসটি হলো এর কাহিনীর বিষয়বস্তু। চাঁদে মানুষের কলোনি হলে এক সময় ভবিষ্যৎ কীরকম হবে তার একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি এই এনিমেটা প্রকাশ করে। কাহিনীর মূল অংশটুকু ভালো হলেও চিত্রনাট্যের অনেকটুকু অংশই খুবই দুর্বল ছিলো। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এনিমেটার দুর্বল চরিত্রায়ন। কোনো চরিত্রকেই এই এনিমেতে বিশেষ মনে হয় নি আর এনিমে শেষ হবার আগেই আপনি চরিত্রগুলোর নাম ভুলে যাবেন। পরিচালনার দিক দিয়েও এনিমটা অসম্ভব রকমের হতাশ করেছে আমাকে। এই এনিমেটার ৩ বছর পর মামোরু অশী অ্যাঞ্জেল’স এগ পরিচালনা করেন যা আমার মতে কেবল এনিমে নয় বরং সিনেমা পরিচালনার সেরা কাজগুলোর মধ্যে একটি। প্রতিটি মুহূর্ত এর চমৎকার দৃশ্য পরিচালনার জন্য স্মরণীয় কিন্তু ওই তুলনায় ড্যালাস একদম সাদা-মাটা। ড্যালাসের পরিচালনা এবং দৃশ্য পরিচালনা অনেক ভালো করা যেতো।

এনিমেটা যে খারাপ তা নয় কিন্তু এনিমেটার যেই কাহিনী এবং থিম-সেটিং ছিলো সেটা দিয়ে ২ ঘণ্টার একটি চমৎকার এনিমে ফিল্ম কিংবা ১২ পর্বের সিরিজ বানানো যেতো। হয়তবা অশীর প্রথম দিকের কাজ বলে এতো ভুল হয়েছে এনিমেটাতে। বর্তমান অশী যদি এখন এই এনিমেটা নিয়ে কাজ করে তাহলে আমি নিশ্চিত এটি কমপক্ষে ৮/১০ এর মতোই একটি সিরিজ হবে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে এই এনিমেটা ৫-৬/১০ এর মতো একটি সিরিজ।

Dallos 2

খুবই ভিন্ন এবং বাস্তব অনেকগুলো বিষয় এনিমেটা দেখিয়েছে এবং কাহিনীটাও বেশ ভালো যদিও এর দুর্বল চিত্রনাট্য এনিমেটার অনেক ক্ষতি করেছে। “দেখতেই হবে” এমন ধাঁচের কোনো এনিমে না কিন্তু আপনি যদি মামোরু অশীর ফ্যান হয়ে থাকেন তাহলে দেখতে পারেন।

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিভিউ] — Safin Zaman

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu

শৌয়া গেনরোকু রাকুগো শিনজু সিজন ১+২ 
Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu
[স্পয়লারবিহীন রিভিউ]

ভালো একটা গল্প শুনতে কেই-ই বা পছন্দ করে না? সেই ছোটবেলায় দাদী-নানিদের কাছ থেকে রুপকথার গল্প শোনা থেকে বড় হবার পর মুভি, সিরিজ, অ্যানিমেতে ঝোঁকা- সবই একটা ভালো গল্পের আশায়। এই গল্পের পেছনে ছোটার মাঝে হয়তো চোখেই পরে না মানুষের জীবনেও কতশত গল্প,অণুগল্প লুকিয়ে আছে। এই জিনিসটাই চোখে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেয় Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu। একজন গল্পকথকের জীবনটা যে তার বলা গল্পগুলোর চেয়ে কোন অংশে কম নয় তাই এনিমটির উপজীব্য বিষয়। আর শৌগেন এই বিষয়টা এতটাই চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে তার প্রশংসা না করলেই নয়।

রাকুগো। আক্ষরিক অনুবাদ করলে হয় ‘পড়ন্ত শব্দ’। জাপানের এক ঐতিহ্যবাহী গল্পকথন মাধ্যম। সাধারণত একজন গল্পকথক মঞ্চে বসে দর্শকদের অনবরত গল্প বলে যান। গল্প বলার মাঝে গল্পের চরিত্রগুলোর কথাবার্তাও কথককে অভিনয় করে দেখাতে হয় যা মোটেও সহজ কাজ নয়। রাকুগো মেইজি পিরিয়ড এর মাঝামাঝি শুরু হয়ে পূর্ণ জনপ্রিয়তা লাভ করে শৌয়া পিরিয়ডে। কালের বিবর্তনে অনেকটাই বিলুপ্ত আজ একসময়কার জনপ্রিয় এ বিনোদন মাধ্যম।

শৌগেনের গল্প শুরু হয় সদ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়া ইয়োতারো এবং তার বিখ্যাত রাকুগো শিল্পী ইয়াকুমোর শিষ্য হিসেবে নিযুক্ত হবার মধ্য দিয়ে। ইয়োতারো আর কয়েকজন চরিত্রের সাথে পরিচয় হবার পরপরই গল্প চলে যায় ফ্ল্যাশব্যাকে যেখানে আমরা দেখতে পাই কিভাবে সামান্য এক কিকুহিকু জাপানের অন্যতম সেরা রাকুগো শিল্পী ইয়াকুমোতে পরিণত হয়। এর সাথে পরিচিত হই ইয়াকুমোর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মানুষ সুকেরোকো, মিয়োকিচি এবং আরো কিছু চরিত্রের সাথে যারা পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রথম সিজন প্রায় সবটুকুই ফ্ল্যাশব্যাক। প্রথম সিজন শেষে দ্বিতীয় সিজনে শুরু হয় এনিমের একেবারে শুরুতে দেখা ইয়োতারোর গল্প। মডার্ন জাপান, যেখানে হাত বাড়ালেই টেলিভিশন,রেডিওর মত বিনোদন মাধ্যম সেখানে রাকুগোকে বাঁচিয়ে রাখার মত অসম্ভব দায়িত্ব নিয়ে ইয়োতারোর প্রচেষ্টা । হয়তো ইয়োতারোর তার মাস্টারের মত প্রতিভা নেই, কিন্তু তার যা আছে তা হলো রাকুগোর প্রতি ভালবাসা। এই ভালবাসা আর তার কমেডিক রাকুগো দিয়ে সে চায় দর্শকদের মনে রাকুগোর প্রতি ভালবাসা তৈরী করতে।

এখন আসি এই এনিম কেন দেখবেন। শৌগেন দেখবেন এর গল্পের স্বাচ্ছন্দ্যময়তার জন্য। এত ভালো পেসিং এনিমেতে খুব কমই দেখেছি। খুব দ্রুতও না, আবার ধীরে ধীরে যেয়ে দর্শকদের বোর করে দেওয়ার মতনও না। দুইয়ের মাঝামাঝি এক সুন্দর গতিতে এগিয়ে চলে গল্প, যা দর্শকদের সম্মোহনী শক্তিতে আবদ্ধ করে ফেলতে সক্ষম। এমনো হয়েছে শৌগেন দেখে আমি এতটাই বুঁদ হয়ে গিয়েছি যে বৃষ্টির ঝাপটা খাতাপত্র ভিজিয়ে দিচ্ছে কিন্তু আমি কানে হেডফোন দিয়ে কিকুহিকুর রাকুগো শুনছি।

এরপর আছে এর চরিত্র আর তাদের চরিত্রায়ন। শৌগেনের প্রত্যেকটা চরিত্রই তাদের নিজেদের দিক থেকে অনন্য। কাকে রেখে কার কথা বলব। কিকুহিকু, ছোটবেলা থেকেই যে তার বন্ধু সুকেরোকোর সহজাত রাকুগো প্রতিভা দেখে হীনম্মন্যতায় ভুগত নাকি মিয়োকিচি, ভুল সময়ে ভুল দেহে জন্ম নেওয়া এক নারী যে কিনা কোন তৎকালীন সময়ে কোন পুরুষের সাহায্য ছাড়াই স্বাধীন জীবনযাপন করার স্বপ্ন দেখে। এনিম দেখে এমন চরিত্র পাওয়া কঠিন যাদেরকে ভালো না বেসে পারা যায় না। এতটাই চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তাদের।
প্রথম সিজন আর দ্বিতীয় সিজন আলাদা আলাদা করে বিচার করলে শৌগেন ভাল একটা এনিমে, কিন্তু যখন দুইটা একত্রে বিচার করা হয় এইটা একটা মাস্টারপিস হয়ে উঠে। প্রথম সিজনের ক্যারেক্টারগুলো দ্বিতীয় সিজনে না থেকেও যে কত বিশাল প্রভাব ফেলে তা না দেখলে বোঝা সম্ভব না। দুই সময়ের, দুই জেনারেশনের কতকগুলো মানুষ রাকুগোর মধ্য দিয়ে যেন এক অবিচ্ছেদ্য সুতোয় বাধা। কিছু মানুষ সুতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার পরেও যে সুতোয় হঠাৎ টান পড়ে।

সত্যিই এই এনিম নিয়ে বলার জন্য নেগেটিভ কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। যদি কিছু বলতেই হয় বলার স্বার্থে বলবো এর দীর্ঘ রাকুগো পারফরমেন্স গুলো। কিছুটা বোরিং হলেও আমার কাছে ওইগুলো অনেক ভাল লেগেছে এবং মনে হয়েছে প্রত্যেক চরিত্রের নিজস্ব রাকুগোর ধরণ দেখানোর জন্য জরুরী ছিল এইই পার্ফরমেন্সগুলো। এনিমটাই যেখানে রাকুগো নিয়ে সেখানে রাকুগো না থাকলে কিভাবে কি!
তবে সবারই যে একই মতামত থাকবে তা আশা করা বোকামি। তাই যদি শো এর মাঝে দীর্ঘ রাকুগো দেখে বোর হয়ে ড্রপ দেবার চিন্তা করেন তবে কি জিনিস মিস করতে যাচ্ছেন না ঘুনাক্ষরেও বুঝবেন না। আমার দেখা কিছু সেরা প্লট টুইস্ট এই এনিমেতেই আছে।

পরিশেষে, ভালো কিছু দেখবেন হা-হুতাশ করছেন কিন্তু খুঁজে পাচ্ছেন না অথবা নতুন কোন এনিম দেখবেন ভাবছেন। এইক্ষেত্রে শৌগেন হাইলি রেকমেন্ডেড। এইরকম এনিম পাঁচ বছরে দুই একটা আসে। না দেখে ফেলে রাখলে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই দেখে ফেলুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই মাস্টারপিস।

Anohana: The Flower We Saw That Day [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Anohana 1

এনিমে: Anohana: The Flower We Saw That Day
পর্ব: ১১
স্টুডিও: A-1 Pictures
মুক্তি: ২০১১
MAL রেটিং: ৮.৬

কাহিনী সংক্ষেপ: সিক্সস্থ গ্রেডে পড়া ছয় কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে কাহিনীর শুরু। ছয় বন্ধুর তিনজন ছেলে, তিনজন মেয়ে। তারা একে অপরকে ডাক নামেই ডাকে। নাম: জিনতা, মেনমা, আনারু, সুরুকু, ইয়োকিয়াতসু ও পোপ্পো। সমবয়সী আর সব ছেলেমেয়েদের মত তারাও মাঠে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। পুরাতন এক কাঠের কেবিনে তাদের সংগঠনের হেডকোয়ার্টার। তাদের দলের নাম: Super Peace Busters.

অনেকটা তিন গোয়েন্দা বা ফেমাস ফাইভের কথা মনে পড়ছে না? চলুন দেখে আসি এরপর কী হয়।

হুট করে দলের সবচেয়ে উচ্ছল সদস্য মেনমা রহস্যজনক ভাবে মারা যায়। মনমালিন্যে ভেঙ্গে যায় সুপার পিস বাস্টারস। বাকী পাঁচ বন্ধুকে জোড়া দেবার জন্য মেনমা আর রইলো না, সবাই চলে গেল যার যার পথে।

কিন্তু কাহিনীর এখানেই শেষ নয়। দলের নেতা জিনতা হাইস্কুল ফাঁকি দিয়ে অলস দুপুর কাটাচ্ছিল একদিন বসে বসে। হুট করে তার ঘরে এসে হাজির হয় মেনমা! জিনতা তো অবাক, প্রথমে ভেবেছিল অতিরিক্ত গরমের কারণে মরীচিকা বুঝি। পরে ভূত মনে করে ভয়ই পেয়েছিল!

মেনমা আসলে ভূতই বটে। পরকাল থেকেই এসেছে সে। তবে কেনই বা তার পরকাল থেকে এই ইহলোকে আসার দরকার পড়লো! কারণ একটাই: মেনমার শেষ আবদার! মেনমা জানায় যে বেঁচে থাকতে তার একটা অপূর্ণ শখ ছিল। সেটা পূরণ না হওয়ায় সে পরকালে ফিরে যেতে পারছে না অতৃপ্ত আত্মা বলে। জিনতার প্রতি তার একটাই অনুরোধ, যেভাবেই হোক তার এই উইশ পূরণ করতে হবে। মজার ব্যাপার হল সেই ইচ্ছের কথা মেনমা নিজেই মনে করতে পারছে না!

অনুরোধটা কঠিন হয়ে যায় জিনতার কাছে। সুপার পিস বাস্টারসের সবাই প্রায় বিচ্ছিন্ন। সবাইকে একই ছাতার নিচে আনা সম্ভব হবে না সহজে। আরো বড় বিপদ হল মেনমাকে জিনতা ছাড়া আর কেউ দেখতে পায় না। এখন কিভাবে জিনতা বাকী চারজনকে মেনমার কথা বিশ্বাস করাবে! তাই বলে কী বেচারী মেনমার শেষ ইচ্ছাটা পূরণ হবে না!

জানতে হলে এনিমেটার এগারোটা পর্ব পেরিয়ে যেতে হবে মন শক্ত করে।

Anohana 2

প্রতিক্রিয়া:

রোমান্টিক এনিমে তো এই জীবনে কম দেখা হল না। বেশীরভাগ এনিমেতে বন্ধুত্ব জিনিসটা প্রধান থিম থাকে না। বন্ধুতা একপর্যায়ে রাইভাল বা প্রেমের সম্পর্কে গিয়ে গড়ায় জাপানিজ কালচারে। সেই জায়গায় আনোহানা একটি উজ্জ্বল ব্যতিক্রমী উদাহরণ। আনোহানার আগাগোড়া থিমটাই গড়ে উঠেছে বন্ধুত্বকে নিয়ে।

বাকী চার বন্ধুকে একত্র করতে গিয়ে জিনতা আর মেনমাকে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তা অত্যন্ত বাস্তবিক। না বলা অনেক কথা-আবেগ-অনুভূতি অনেক সময় বন্ধুত্বের কাল হয়ে দাঁড়ায়। সুপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাও অনেক সময় দেয়াল তুলে দেয় বন্ধুত্বের মধ্যে। অতিরিক্ত অনুরক্ততা ও লুকিয়ে রাখা ভালবাসা যথেষ্ট একটা সার্কেলের জমাট দেয়ালে ফাটল ধরাতে। কুড়ে কুড়ে খাওয়া অপরাধবোধের কারণে যে অনেকে নিজের বন্ধুদের ছেড়ে চলে যায় তার উদাহরণ অনেক আছে। আর হীনম্মন্যতার মত বড় শত্রু বুঝি বন্ধুত্বের আর নেই।

তো আনোহানার চরিত্রগুলোকে উপরের মোটামুটি সবগুলা সমস্যাতেই ভুগতে দেখা যায়। এনিমেটা শুধুই বন্ধুত্বকে নিয়ে। এনিমেটা শুধুমাত্র এক মৃত বন্ধুর অসম্ভব ইচ্ছাকে পূরণ করার অনেকগুলা মানুষের আত্মগরিমা বিসর্জনের গল্প। ভুল বোঝাবুঝি হতে হতে যখন জিনতার সব প্রচেষ্টা যখন ভেঙে পড়ার যোগাড় তখন বন্ধুত্বের সুতোর টানে সবাই এক হয়। সেই এক হওয়া কি ক্ষণস্থায়ী হবে নাকি চিরস্থায়ী হবে তা বলে দেবে এনিমের গল্পটা। মেনমার অপূর্ণ ইচ্ছা কি আসলেই তাদের এত এত বিসর্জনের যোগ্য কিনা তাও বলে দেবে গল্পটা। সাথে বের আসবে ছয় বন্ধুর মনে লুকিয়ে থাকা যত খেদ-ক্ষোভ-অভিযোগ-বিরাগ আর ভালবাসা।

ব্যক্তিগতভাবে বন্ধুত্ব জিনিসটা মূল থিম হওয়ায় আনোহানা দেখতে আমি আগ্রহী হয়েছিলাম। যদিও চেইন রিয়্যাকশনের মত প্রেমের ব্যাপার ছিল তবে তা বেশী বাঁধা দেয় নি গল্পটা উপভোগের রাস্তায়। এনিমেটা দেখার পর ভয়ানক ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল অন্তরের ভেতরটা। ইচ্ছে করছিল বন্ধুদের সাথে এতদিন যা যা অন্যায় করেছি তার জন্য করজোরে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আসলেই আনোহানা আপনাকে এই চিন্তার যোগান দেবে, ইচ্ছে করবে লুকিয়ে রাখা সকল অপরাধবোধের কথা বন্ধুদের বলে দিতে। সেটা যে অবশ্যই একটা খাঁটি কাজ তা শেষ পর্বের সমাপ্তির পর একটা অদ্ভুত পূর্ণতা অনুভবের মাধ্যমে উপলদ্ধিও হবে। দু ফোঁটা অশ্রু গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লেও একে চেপে রাখা উচিত হবে না।

এনিমের গল্প লিখে দিয়েছেন মারি ওকাদা যিনি True Tears, Nagi no Asukara, Anthem of the Heart, Hanasaku Iroha ইত্যাদি এনিমের গল্প লিখে দেবার জন্য খ্যাত। গাদা গাদা মিডিওকোর এনিমের মধ্যে আনোহানার মত কিছু এনিমেই A-1 Pictures এর সবেধন নীলমণি। ভাল কাজ দেখিয়েছে A-1 তা বলতেই হবে। পুরো এনিমেটার অ্যানিমেশনেই একটা আলোকিত ভাব ছিল। বিশেষ করে দিনের বেলার দৃশ্যগুলা ছিল উজ্জ্বল ও মনমাতানো। জঙ্গল, কেবিন, নদী, ব্রিজ, মাঠঘাটের দৃশ্যের অ্যানিমেশন এনিমেটার ইমোশনাল সাইডটাকে ভালভাবে সাহায্য করেছে। রাতের দৃশ্যগুলা আরেকটু ভাল হতে পারতো বলে আমার মতামত। তবে ফায়ারওয়ার্কসের পর্বটার বেলায় এই অভিযোগ খাটবে না।

আর আনোহানা যে জিনিসটার জন্য বিখ্যাত তা হল এর ওপেনিং আর এন্ডিং সং। Aoi Shiori
ওপেনিং সংটা বারবার দেখতাম, বিশেষ করে বাকী পাঁচ বন্ধুর মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা মেনমার ফুল হয়ে যাওয়ার জায়গাটা। গ্যালিলিও গ্যালিলাই ব্যান্ডটা আর নেই, তাদের ভোকালের আরো দুয়েকটা গান শুনেছি, তবে আওই শিয়োরিই সেরা আমার মতে।

এখন আসি এন্ডিং সংয়ের বেলায়। Secret Base Kimi ga Kureta mono- 10 years after ver. নামের এই গানটা শুনে অন্তর কাঁদে নাই এমন দর্শক মনে হয় আর পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্রতিটা পর্বের একেবারে শেষে এমন জায়গায় গানটা বাজানো শুরু করে দিত যে বুকটা কেঁপে উঠতো প্রতিবারই। শেষ পর্বে ফুল ভার্সনটাই ছেড়ে দেওয়ার পর আর সহ্য না করতে পেরে পজ করে দিয়েছিলাম ভিডিও প্লেয়ার। এনিমের তিন নারী চরিত্রের তিন হেভিওয়েট ভয়েস অ্যাক্ট্রেস কায়ানো আই, তোমাতসু হারুকা আর হায়ামি সাওরির গাওয়া এই জাদুকরী গানের তালে তালে পিচ্চি মেনমা, আনারু আর সুরুকোকে দেখতে খুব ভাল লাগতো। একটা লাইভ পারফরমেন্স আছে এই গানের, দেখলে আবেগে ভেসে যেতে হয়।

আসলে আনোহানা ঐ ধরণের এনিমে যার হয়তো বিধ্বংসী কোন প্লট নেই, ডিরেক্টর সাহেবের ক্যামেরার কারিকুরিও নেই অতটা, মাকাতো শিনকাইয়ের মত সিনেমাফটোগ্রাফি নেই, সিরিয়াস বা ম্যাচিউরড থিমও অল্পই। তারপরেও ইমোশনাল রাইড আর সুন্দর সমাপ্তির জন্য এনিমেটা ভক্তদের মনে মনে অনেক অনেক দিন অক্ষয় হয়ে থাকবে তা নিশ্চিত হয়েই বলা যায়।

Anohana 3

Kaze to Ki no Uta Sanctus/The Poem of Wind and Trees [রিভিউ] — Krista King

Kaze To Ki No Uta 1

Anime: Kaze to Ki no Uta Sanctus / The Poem of Wind and Trees.
Genre: Drama, Social Life, Psychological, Historical, Romance, Mature, Shounen-Ai.
Demographic: Shoujo, Josei (in my opinion)
Duration: 60 min
Author: Keiko Takemiya
Aired: 1987

সারসংক্ষেপ:
ফ্রান্সের এক অভিজাত ছাত্রাবাসে অনেকদিন বাদে ফিরে আসে এক প্রাক্তন ছাত্র সার্জ বাটর(Serge Battour), আর সে মনে করে যৌবনের কিছু স্মৃতিকথা।

মনে পরে, সে যখন প্রথম এসেছিল এই স্কুলে, তাকে থাকতে দেওয়া হয়েছিল এমন এক কক্ষে যেখানে কেউ থাকতে চায় না। প্রথমে টের না পেলেও সেই রাতেই পরিচিত এক ভয়ানক দৃশ্যের সঙ্গে, এক সিনিয়র ছাত্র তার রুম-মেটকে ধর্ষণ করছে। সরলমনা সার্জ বাধা দিতে গিয়ে জানতে পারে, আসলে তার রুম-মেট গিলবার্ট ককটিউ (Gilbert Cocteau) চেয়েছে তাকে বেধরক মাড়ার জন্য। এত তিরস্কার সত্তেও সার্জ গিলবার্টকে স্বাভাবিক জীবনে জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। বুদ্ধি প্রতিভা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরনে সার্জ সকলের মন জয় করলেও গিলবার্টকে সে বুঝে উঠতে পারেনা কিছুতেই। তবে ক্লাসে সবাই যেভাবে গিলবার্টকে হেনস্থা করে কোথাও একটা লোকানো ব্যাথার আঁচ করে সার্জ গিলবার্টের মনে। যার ফলে স্কুলের সকলের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যায় তার জন্য। অবশেষে বাস্তব সমাজ হিংসা মাদক ধর্ষণ আর অসম্ভব মানসিক যন্ত্রণা সহ্য না করতে পেরে গিলবার্ট আঁকড়ে ধরে সার্জের হাত, সার্জও অনুভব করে, হয়ত সেই পারে গিলবার্টকে অন্ধকার জগতে আলোর পথ দেখাতে।

চরিত্র:
প্রথমেই বলে রাখি গল্পের প্রত্যেক চরিত্রই ভীষণ স্বাধীন ও পরিণত।
Serg Battour – সার্জ একজন অভিজাত ও জিপসির পুত্র। সে মায়ের মত কৃষ্ণাঙ্গ হলেও বাবার মত ভীষণ প্রতিভাশালী। কোথাও একটা অসম্ভব জেদী পতিতকে দলিত হতে দেব না –”Even if it kills me, I’ll never allow someone to act violently towards others”–। তার সাথে পরিণত বিচারবুদ্ধি ও বিচক্ষণতা সার্জকে করে তুলেছে আরো আকর্ষণীয়– ”How can you call him dirty? Are you clean yourself!? All men are dirty.”–

Kaze To Ki No Uta 2

Gilbert Cocteau – গল্পের এক বিস্ময়কর অন্যতম প্রধান চরিত্র হল গিলবার্ট। স্বর্ণকেশ নীলাভ নয়ন, গিলবার্ট যেন রুপকথার রাজকুমার। ফুলের মত সুন্দর গিলবার্টের জীবন যেন অভিশাপ। প্রথমে তাকে দেখলে উদ্ভট নোংরা চরিত্রের ভিলেন মনে হলেও, পড়ে বোঝা যায়, সেই সবচেয়ে বেশী জর্জরিত ও সামাজিক নোংরামিতে আক্রান্ত। অগাস্ট বিঊ (Auguste Beau) নামক এক ব্যক্তি এর জন্য দায়ী, যার বিশ্বাস– ”The more he suffers, the more he’ll develop artistically. He will lose his indecency and become nude; his sensitivity will be pure”. সার্জ গিলবার্টকে আলো দেখালেও, অন্ধকার গিলবার্টকে শেষ পর্যন্ত গ্রাস করেই নেয়।

Kaze To Ki No Uta 3

My View:
এটি হল প্রথম সৌজো মাঙ্গা যেখানে দুটি কিশোরের মধ্যে রোমান্টিকতা ও যৌনতা দুটোই দেখানো হয়েছে, যেখানে তিক্ততা ও মাধুর্য দুইই বর্তমান।

এই গল্প সম্পর্কে যতই বলি ততই কম। প্রচুর জটিল বস্তু যেমন- মাদক, ধর্ষণ, গণিকাবৃত্তি, সামাজিক হিংসার শিকার, দ্বন্দ্ব, স্বাধীনতা ও ভালোবাসা এক ভীষণ সুন্দর আর্টিস্টিক ভাবে পরিবেশিত।

চরিত্রগুলির ভাব, ঘটনার পরিণতি আকর্ষণীয় কবিতা, জলরঙা চিত্র ও সুর দ্বারা প্রকাশিত। যেমন শুরুতেই দেখানো হয় এক শুকনো পাতা ঝরা অরণ্যের দৃশ্য আর সাথে একটা কবিতা, চিত্রগুলি যেন এক একটা কথা বলছে। আর কবিতা–
”Can you hear the song of wind and trees?
Can you hear the ruslting of our youth?
Ah, there must be others who remember.
Those who remember the good old days of their youth.”

তাছাড়া ও দেখানো হয়েছে ফরাসি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমাজ।

জানেন, আমি এটা আগে দেখিনি কারণ এর প্রধান চরিত্র দুটিকে একটু বেশিই কম বয়সই দেখতে। কিন্তু আমার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ছিল, এতটা পরিণত চরিত্র আমি আর কোথাও দেখিনি।

আমি বলব মাঙ্গাটা পড়ে দেখুন, ওখানে আরো চরিত্রগুলির detail ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য গুলো আছে। ওটার কাছে এই ovaটা অনেকটা ম্লান বলেই মনে হবে।

[যেমন আপনি শুধুমাত্র Soujo-Ai বলে যদি Revolutionary Girl Utena না দেখেন, তেমনই শুধুমাত্র Shounen-Ai বলে যদি না দেখেন তবে একটি মাস্টারপিস থেকে আপনি অজ্ঞাত থেকে যাবেন, এই যা।]

Kaze To Ki No Uta 6

The Big O [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

The Big O 1

মনে করুন আপনি কোন এক ডিস্টোপিয়ান পৃথিবীতে বাস করছেন। রোজকার অভ্যেস মত ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিশাল জানালার সামনে আর পেছনে জ্যাজের হালকা সুর ভেসে আসছে। সুউচ্চ দালান থেকে পিপীলিকার মত ছোট ছোট গাড়ি আর এ্যান্ড্রয়েডের ছোটাছুটি দেখে হয়ত নস্টালজিক হয়ে যাবেন স্মৃতিকাতরতায় যে স্মৃতির অস্তিত্ব নিয়ে নিজেই সন্দিহান। এমন এক পৃথিবীতেই রচিত হয়েছে Big O’র প্লট।
ফিল্ম নয়ের, সাইফাই, মেকা ও সাইকোলজিক্যাল জন্রার অদ্ভুত সুন্দর মিশেলে ২৬ টি এপিসোডের এনিমেটি আপনাকে একাধারে ব্যাটম্যানের স্বভাবসুলভ এলেগ্যান্স, কাউবয় বিবপের হালকা চালের ভারী দর্শন বা নিওন জেনেসিসে শিঞ্জির প্রলাপের কথা মনে করিয়ে দিবে।

Paradigm City, a city of amnesia. চল্লিশ বছর আগে কোন এক ঘটনায় সবার স্মৃতি হারিয়ে যায়। মুছে যায় শহরের ও সব স্মৃতি। তবে কিছু ফ্র‍্যাগমেন্ট আজও মানুষের মনে রয়ে গেছে। তাছাড়া স্মৃতি হারানোর পরও মানুষ দিব্যি জীবন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনকার স্বভাবমতো কাজে যাচ্ছে, কিন্তু কেন ও কীভাবে তারা আজ এখানে সেটি পুরোই অজানা। শহরের প্রতিটি লোকালয় একেকটি ডোমে আবদ্ধ। ডোমের ভেতর নানা ধরণের মানুষের বাস।
এই শহরের জনপ্রিয় নেগোশিয়েটর রজার স্মিথ। কিডন্যাপিং থেকে শুরু করে বিজনেস বা পলিটিকাল ডিল সব ক্ষেত্রেই রজার স্মিথ এক জনপ্রিয় নাম। ব্যাটম্যানের মত মাল্টিবিলিয়নিয়ার হয়ত না, তবে পারিশ্রমিক হিসেবে যে চেক পায় তাতে শূন্যের অংক নেহাত কম নয়। আছে স্মিথ ম্যানশন আর নরমান নামের বাটলার। আরও আছে বিশালাকায় মেগাডিউস এবং প্রতিদিনের সঙ্গী গ্রিফিন। মেগাডিউসকে এক ধরণের উইপন বলা যায়। সোজা ভাষায় নিওন জেনেসিসের এভা। প্রথম দুটো এপিসোডের পর তাদের সাথে যোগ দেয় ডরোথি নামের এক এন্ড্রয়েড। প্রথম সিজন এপিসোডিক। রজার বিভিন্ন কেস হাতে নেয়। বেশিরভাগ সময় নেগোশিয়েশন শেষ হয় মেগাডিউসদের মধ্যকার যুদ্ধে। তবে দ্বিতীয় সিজনে কাহানী অন্যদিকে মোড় নেয়। মেকার চেয়ে বরং ফিলোসফিকাল এনিমেতে রূপ নেয় আর তার সাথে আছে ধর্মীয় রেফারেন্স।
এনিমের প্রতিটা রিকারিং চরিত্রই গুরুত্বপূর্ণ।
প্যারাডাইম সিটির মিলিটারি পুলিশের চিফ ডাস্টিন। পুলিশের বিভিন্ন কেসে রজার তাকে সাহায্য করে। রজার নিজেও একসময় মিলিটারিতে ছিল। তাই তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক বিরাজ করে।
প্যারাডাইম সিটির কর্ণধার এ্যালেক্স রোজওয়াটার। ক্ষমতার লোভে মানুষ যে কী করতে পারে তার উদাহরণ এ্যালেক্স। নিজেকে ‘গড’ প্রমাণের জন্য নিজের শহর ধ্বংস করতেও দ্বিধা হয়না তার।
গর্ডন রোজওয়াটার হলেন এ্যালেক্সের বাবা। তার বিশাল ক্ষেত আছে টমেটোর। তবে তার মানসিক ভারসাম্য দ্রুতই লোপ পেতে থাকে। এই প্যারাডাইম সিটি তার হাতে গড়া। অন্তত লোকে যা বলে আর কি। অনেক বছর আগে কিছু বাচ্চাদের উপর একটা এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়েছিল। রজার, এ্যালেক্স ও এঞ্জেল ঐ এক্সপেরিমেন্টেরই ফসল। কিন্তু তাদের মন থেকে এই স্মৃতি একদম মুছে ফেলা হয়েছে। এনিমে জুড়ে টমেটো উৎপাদন নিয়ে নানান কথা আছে। খুব ভাল করে খেয়াল করলে বোঝা যায় এগুলো আসলে মেটাফোর ঐ ভয়ংকর স্মৃতির। মূলত চল্লিশ বছর আগে গর্ডন রোজওয়াটার ই মানুষের স্মৃতিগুলো মুছে ফেলে। তার ভাষ্যমতে স্বপ্নে পাওয়া আদেশক্রমে এই কাজটি করেছেন। কিন্তু কার আদেশ?
এঞ্জেল একজন স্পাই। তার উদ্দেশ্য হল ৪০ বছর আগের স্মৃতি সংগ্রহ করা। বিভিন্ন সময় রজারের বিভিন্ন কেসের সাথে সে কেমন করে যেন জড়িয়ে যায়। এনিমে জুড়ে রজার আর এঞ্জেলের কেমিস্ট্রি উপভোগ করার মত।

The Big O 2
এনিমের আরেক চরিত্র বেক একজন রিকারিং ক্রিমিনাল। রজারের সাথে সে প্রায়ই ঝামেলা করতে আসে। আর আছে ম্যানিয়াক এলান গ্যাব্রিয়েল। অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক এন্ড্রয়েড।
তবে এনিমের অন্যতম এক চরিত্র মাইকেল সিবাক/শোয়ার্জওয়াল্ড। একজন জার্নালিস্ট যে সারাজীবন সত্যের খোঁজ করে গেছে। সে নামমাত্র কয়েকটি এপিসোডে ছিল। কিন্তু তার ইমপ্যাক্ট ছিল ভয়াবহ! বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে তার ন্যারেটিভ এনিমেতে এক নতুন মাত্রা দেয়। মানুষ, ধর্ম আর প্যারাডাইম সিটির প্রকৃত রূপ সে সবাইকে জানিয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্বাস করেনি কেউই। শেষ এপিসোড দেখার পরেই আসলে বুঝতে পারি তার স্পিচ ও ন্যারেটিভ কতটা মূল্যবান ছিল। আর সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার ছিল তার লিফলেট বিতরণ। উইলিয়াম ব্লেকের এর Illustrations of the Book of Job এ Behemoth ও Leviathan কে নিয়ে যে আর্টওয়ার্ক ছিল, তার ছবিই থাকে ঐ লিফলেটে।
এতো গেল চরিত্রের ছোটখাটো পরিচয়। এবার আসি কাহিনীতে। আগেই বলেছি এটি এপিসোডিক এনিমে। কিন্তু চল্লিশ বছর আগের ঐ ঘটনা নিয়ে একটু একটু রহস্য জমতে থাকে সিজন ১ এ। দ্বিতীয় সিজন ফোকাস করে রজারের উপর। “A megadeus chooses its dominus.” রজারের সাথে তার মেগাডিউস Big 0’র সম্পর্ক নিয়ে অনেক কিছু জানতে পারি। তাদের পরস্পর বোঝাপড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি এলিমেন্ট। এই মেগাডিউসদের সাথে ডরোথির সম্পর্ক পরে বুঝতে পারি। এঞ্জেলের প্রকৃত পরিচয় জানা যায় শেষের আগের এপিসোডে। শেষ এপিসোডে এসে কাহিনী অন্য উচ্চতায় চলে যায়। এঞ্জেল আর রজারের আবেগঘন নেগোশিয়েশনের পরিসমাপ্তি কোথায়, তা নিয়েই সব ধরণের বিতর্ক। শেষের আগের দৃশ্যে রজারের কিছু মেমোরি ফ্র‍্যাগমেন্টস দেখি যা আমার নিজের জন্যও চপেটাঘাত। আর শেষ দৃশ্যে নতুন আরেক রিয়েলিটির সৃষ্টি হয় যেখানে রজার স্মিথ পুনরায় একজন নেগোশিয়েটরের রোল প্লে করে। অনেকের মতে পুরো এনিমেটি হল শেষ দৃশ্যের লুপে চলতে থাকা এক কোনানড্রাম। আর সবচেতে মজার ব্যাপার হল শেষের আগের এপিসোডে গর্ডন রোজওয়াটার একটা ছবি দেখায় রজারকে। রজারের সাথে তার চল্লিশ বছর আগের ছবি। কিন্তু রজারের তখন জন্মই হয়নি। চল্লিশ বছর আগে রজার গর্ডনকে প্রমিজ করে প্যারাডাইম সিটির ডিরেক্টরের সাথে নেগোশিয়েট করার, যাতে একটা সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ পৃথিবীবাসীকে উপহার দিতে পারে। প্রশ্ন হল প্যারাডাইম সিটির ডিরেক্টর কে? গর্ডন রোজওয়াটার একটি বই লিখে যেখানে তার স্মৃতি লিপিবদ্ধ করে। আর এই বই সে পায় অন্য আরেকজনের কাছ থেকে। অর্থাৎ বইটির প্রকৃত লেখক সে নয়। এই বই অনেকের হাত ঘুরে এসেছে । প্রশ্ন হল গর্ডন যদি তার লেগ্যাসি অন্য কাউকে হস্তান্তর করে, তবে ঐ লেগ্যাসি সর্বপ্রথম কার ছিল? আরও কিছু বলে ফেলি, চল্লিশ বছর পর পর মেমোরি রিসেট করা হয়। অর্থাৎ এনিমের টাইমলাইনের চল্লিশ বছর আগে মেমোরি মুছে ফেলা হয়। যার কারণে মানুষের কোন আইডিয়াই থাকেনা নিজের অস্তিত্বের ব্যাপারে। আর প্রতিবার রিসেটে মানুষদের চরিত্র এবং রোল ভিন্ন হতেও পারে, নাও পারে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কার?
এনিমের শেষ দুটো এপিসোড নিয়ে অনেক কন্ট্রোভার্সি আছে। অনেকখানি রাশড অবশ্যই। কিন্তু আমার একটুও খারাপ লাগে নি। অনেক ধরণের থিওরি আছে এন্ডিং নিয়ে। তবে ভাল লেগেছে এই ওপেন এন্ডেড এন্ডিং। দর্শক তার ইচ্ছেমত কল্পনা করবে। সিমুলেটেড রিয়েলিটি না
চোখে দেখা সত্য, বাছাই করার দায়িত্ব দর্শকদের উপরেই ছেড়ে দেয়া হয়।
বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে এই পৃথিবী একটি মঞ্চ আর আমরা কিছু ক্ষুদ্র অভিনেতা যারা প্রতিদিনই বিভিন্ন চরিত্রে, বিভিন্ন রূপে হাজির হচ্ছি, প্রশ্ন হল কোন সময়ে, কোন কালে? সত্যি বলতে এটিই পুরো এনিমের সারাংশ।
**কেন দেখবেন না?
– অনেকের কাছে এটাকে ব্যাটম্যানের কপি মনে হতে পারে, যদিও আকাশপাতাল তফাৎ। আর্ট নিয়েও অনেকের কমপ্লেইন থাকতে পারে। কিন্তু নয়ের এনিমেতে এই আর্ট খুব ভালই মানিয়ে গেছে। তাছাড়া একই স্টুডিও এর আগেই ওয়ার্নার ব্রসের ব্যাটম্যান এনিমেটেড সিরিজে কাজ করেছিল। খুব স্বাভাবিক আর্টে তার ইনফ্লুয়েন্স থাকবে। তবে কারও কাছে ক্লিশে মনে হলে না দেখাই ভাল। আর যেহেতু এটি মেকা এনিমে, অনেকেই আকর্ষণীয় ফাইটের আশা করবেন। তবে ফাইটগুলো এতটা আহামরি কিছু না।
**কেন দেখবেন?
– কারণ এটি পটেনশিয়াল কাল্ট ক্লাসিক। কাউবয় বিবপ ভাল লাগলে এই এনিমেও ভাল লাগার কথা। আর সাথে আছে অসাধারণ সব মিউজিকাল স্কোর। যদি সাইকোলজিক্যাল মারপ্যাঁচে ডুবতে চান, বিব্লিওকাল রেফারেন্স আপনার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হয় কিংবা ডিভাইন জাস্টিস নিয়ে আপনার কৌতূহল থাকে, তবে এ এনিমে আপনার জন্য।
আর আছে ভয়েস এ্যাক্টরদের কারিশমা। এই এনিমের ডাব হাইলি রিকমেন্ডেড। আমি প্রথম ৪/৫ টা এপিসোড জাপানিজে দেখেছিলাম। পরে ভাবলাম ডাব ট্রাই করি। শুনেই দেখি এ যে স্পাইক আর ফে’! স্টিভ ব্লাম ও ওয়েন্ডি লি এর ভয়েস একদম পারফেক্ট ছিল। শোয়ার্জওয়াল্ডের ডাব ভয়েস অনেক বেশি ভাল এবং তা আবেগটাকে খুব ভালভাবে ক্যাপচার করতে পেরেছে। তবে অন্যতম আকর্ষণ হল এলান গ্যাব্রিয়েলের ভয়েস। এরপর ক্রিস্পিন ফ্রিম্যানের ফ্যান হয়ে গেলাম। পরে তার বায়ো তে গিয়ে দেখলাম কোতোমিনে কিরেই বা শিজুও’র মত ভারী কিছু চরিত্রের নাম।
এতকিছু চিন্তা না করে শুধু মজার জন্যেই নাহয় দেখে ফেলুন Big O.