Bloom Into You [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Bloom Into You

দুঃখজনক ভাবে এনিমে কমিউনিটির খুব বড় একটি অংশ এনিমেতে ইয়ুরি কিংবা ইয়াওয়ি ট্যাগ দেখলেই এনিমেগুলোকে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেয় অর্থাৎ কখনোই দেখে না এবং সত্যি কথাতে তাদের দোষ দেয়া যায় না। বেশিরভাগ সময় এসব শৌজো এ আই মার্কা শোগুলি নির্লজ্জ ফ্যানসার্ভিস দিয়ে কিছু টাকা বাগানোর জন্যই বানানো হয়। গত বছরের (২০১৮) শুরুর সিটরাস তার একটি উদাহরণ। কিন্তু যখন আসলেই একটা ভালো ইয়ুরি কিংবা ইয়াওয়ি এনিমে আসে যেখানে তাদের সেক্সুয়্যালিটি কোনো ফ্যানসার্ভিস নয় বরং চমৎকার চরিত্রায়ন এবং গল্প বলার মাধ্যমে ফোটানো হয় তখন সেটা আর কেউ দেখে না।

গত বছরের (২০১৮) জমজমাট ফলের এনিমের মধ্যে এই রত্নটা প্রায় হারিয়েই গেছে। এর বড় একটি কারণ সিটরাস মোটামুটি ইয়ুরি জিনিসটাকেই একটি হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করেছে। ব্লুম ইন্টু ইয়ু কেবল আমার দেখা সেরা শৌজো এ আই এনিমেই নয় বরং আমার প্রিয় রোমান্টিক এনিমে হবার দাবি রাখে যদিও ওই ক্যাটাগরিতে কারে কানো আর টোরাডোরা ছাড়া কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেবার মতো নেই। সিরিজটার পরিচালনা থেকে শুরু করে দৃশ্য পরিকল্পনা, সিনেমাটোগ্রাফি, মিউজিক্যাল স্কোর প্রতিটি অংশই প্রশংসার দাবীদার।

খুব কম টিভি সিরিজ তরুণ বয়সের রোমান্সের বিষয়টা বুঝে। বাইরে থেকে সবার কাছেই মনে হয় যে যখনই তোমার “সউল মেট”কে দেখবে তখন সময় তোমার জন্য থেমে যাবে কিংবা সবকিছুই তখন মধুর মনে হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সত্যিতে ওই মুহূর্তটা ডিজনির জমকালো রূপকথার তুলনায় কিছুটা হতাশজনক। সিরিজটি যতটুকু রোম্যান্টিক তার চেয়ে বেশি বেশি ইয়ুই এবং অন্যান্য চরিত্রের আত্মবোধ নিয়ে। এখানে নানামি ইয়ুইকে মেয়ে বলে ভালোবাসে নি বরং ভালবেসেছে কারণ সে মনে করে যে ইয়ুই তাকে বুঝতে পারবে এবং কেবল ইয়ুই এর সাম্নেই সে তার সত্যিকারের নিজেকে প্রকাশ করতে পারবে। এই জিনিসটার আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে যে এখনে হোমোসেক্সুয়্যালিটির বিষয়টা কোনো আচরণ-ধর্ম নয় বরং দুইজন “মানুষের” দুইজন “মানুষ”কে ভালোবাসা দিয়ে প্রকাশ করেছে। এখানে আমি মানুষ শব্দটিতে গুরুত্ব দিচ্ছি কারণ এরকম অন্যসব এনিমের মতো এটা নির্লজ্জ সেক্সুয়াল এপিলে ভর করে না।

সত্যি কথাতে এনিমেতে রোমান্সজিনিসটা এতোই স্ল্যাপস্টিক কমেডি নির্ভর যে এরকম লীলায়িত এবং সিরিয়াস ধরণের গল্পবলাটা অপ্রত্যাশিত ছিলো আর এনিমেটা যখন ইয়ুরি তখন জিনিসটা আরো ইম্প্রেসিভ। এই সিরিজের টোন অন্যসব রোমান্স নয় বরং কিছু স্লাইস অফ লাইফ জন্রার সিরিজ যেমন কিডস অন দ্যা স্লোপ কিংবা মার্চ কামস ইন লাইক এ লায়ন এর সাথে সদৃশ।

Grand Blue [রিভিউ] — মুবাশ্বির মুহিব আসিফ

Grand Blue

অ্যানিমে: Grand Blue
এপিসোড সংখ্যা: ১২
স্টুডিও: Zero-G
জন্রা: কমেডি, এচ্চি (মূলত মেইল নুডিটি), স্লাইস অফ লাইফ

ইওরি কিতাহারা। বয়স ২০। ইযু ইউনিভারসিটিতে তার কলেজ জীবন শুরু করবে। তাই সে তার আংকেলের গ্র্যান্ড ব্লু ডাইভিং সপে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। ঝলমলে কলেজ জীবনের স্বপ্ন দেখে সে।

কিন্তু ডাইভিং শপে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে সে সম্মুখীন হয় কিছু মাতাল উলঙ্গ পুরুষদের। যারা হচ্ছে মুলত ইযু ভার্সিটির ডাইভিং ক্লাবের সদস্য। ক্লাবের দুই লিডার তোকিতা আর কোতোবুকি ইওরিকে তাদের ডাইভিং ক্লাবে যোগ দেওয়ার জন্য জোর দেয়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও পর্যায়ক্রমে ইওরি ক্লাবে যোগ দেয়। তার সাথে আরো যোগ দেয় ইওরির কাজিন চিসা কোতেগাওয়া আর ওতাকু ইমামুরা কোহেই। শুরু হয় ইওরির কলেজ জীবন।

মূলত অ্যানিমেটা ডাইভিং নিয়ে হলেও এতে ডাইভিং বাদে উরাধুরা কাজকর্মই বেশি। এই উরাধুরা কাজকর্মই আপনাকে এটা দেখতে বাধ্য করবে। দারুন সব ক্যারেক্টার আর তাদের কাজকর্ম দেখে আপনি না হেসে থাকতে পারবেন না।

অ্যানিমের ওপেনিং আর এন্ডিং আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। বিশেষ করে এন্ডিং টা।

ম্যালে ৯ রেটিং পাওয়া মাংগাটার এডাপশন আরো ভালো কোনো স্টুডিও করলে অ্যানিমেটা আরো ভালো হতে পারতো। তাও স্টুডিও Zero-G এর এডাপশন খারাপ হয় নি। ফেস এক্সপ্রেশন গুলা অনেক ভালো করে ফুটে উঠেছে।

যারা এখনো দেখেননি তারা আর দেরি না করে দেখে ফেলুন গ্রুপে নির্বাচিত ২০১৮ সালের সেরা কমেডি এনিমে Grand Blue.

ম্যাল রেটিং: 8.4/10
পারসোনাল রেটিং: 8.5/10

যারা মাংগা পড়তে চান তারা অ্যানিমে দেখার পর চাপ্টার ২২ থেকে শুরু করুন।

Otoyomegatari [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Otoyomegatari

ডিসকভারি চ্যানেলে প্রায়ই নানা উপজাতিদের নিয়ে ডকুমেন্টারি দেখাত। আমাজনের উপজাতি, এস্কিমোদের জীবন আরও নানা কিছু। তো আমার সবচেয়ে পছন্দের ছিল কিরিগিজ জাতি, যারা যাযাবর টাইপের। রুক্ষ পরিবেশে বাস, অসাধারন তাদের জীবন ও সংস্কৃতি!!
তো ভালো আর্টের মাঙ্গা খোজ করতে গিয়ে পেয়েছিলাম Otoyomegatari মাঙ্গা আর পড়ার পর আমি মুগ্ধ!!
মাঙ্গার কাহিনী এক প্যারালালে না, বিভিন্ন লোকের কাহিনী নিয়ে এই মাঙ্গা। মাঙ্গার কাহিনী শুরু হয় কারলুক আর আমিরা হালগাল এর বিয়ের কাহিনী দিয়ে। বউ আমিরার চাইতে স্বামী কারলুক ৮বছরের ছোট। এইরকম এইজগ্যাপ ম্যারিজ ওদের সমাজে চালু আছে। এখন মনে হতে পারে যে এরা কি মানিয়ে নিতে পারবে! কিন্তু তাদের মত মিষ্টি রোমান্স বেশি দেখি নাই। কারলুক, আমিরা ও তাদের জীবনের দিনগুলো নিয়ে শুরু হয় মাঙ্গা, এরপর আছে দুই জমজ বোনের, শয়তানি, তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে এক গল্প। এই পার্ট অনেক কমেডির আর আমাদের দেশের বিয়ের অনুষ্ঠানের সাথে রিলেট করতে পারবেন!! আছে আরও ছোট ছোট নানা সুন্দর গল্প।

মাঙ্গা সেইনেন, সুতরাং কোন রকমের ন্যাকামি এই মাঙ্গাতে নেই। কাহিনীর পেসিং অসাধারন। রোমান্স আছে, কমেডি আছে, সংঘাত আছে। এখন আসি আসল কথায়! এই মাঙ্গার আর্ট আমার দেখা অলটাইম বেস্ট আর্টগুলার একটা। ড্রেসের ডিজাইন, কানের দুল, চাদর, ব্যাকগ্রাউন্ড, কভার আর্ট এত সুন্দর তা বলার মত না। মাঙ্গা পড়ার সময় প্যানেলের দিকে তাকিয়ে কল্পনায় হারিয়ে যাবেন!! এত সুন্দর। কাওরি মরি সেন্সেই একটা জিনিয়াস!!!
সুন্দর আর্ট সাথে সুন্দর কাহিনী। না পড়ার কোন কারন নাই। এই মাঙ্গা হল একটা আর্টিস্টিক জার্নাল বই! এই বেদুঈনদের জীবন, তাদের চিন্তাধারা, ভাবনা সব দেখতে পারবেন, বুঝতে পারবেন! অনুভব করতে পারবেন!! এই মাঙ্গার ক্ষেত্রে একটা কথাই খাটে! অতিরিক্ত অসাধারন!!!
তো আজকেই পড়া শুরু করে দিন মাঙ্গা Otoyomegatari!!