Kimetsu no Yaiba [রিয়্যাকশন/সাজেশন] — Shifat Mohiuddin

KnY 1

সত্যি বলতে এই সিজনে এই এনিমেটা যে বের হচ্ছে তা আমি জেনেছি অনেক পরে। AOT আর OPM এর উপরেই মনযোগটা নিবদ্ধ ছিল বেশী, সিজনের নতুন জিনিস হিসেবে কোন এক কারণে Fairy Gone ই দেখছিলাম শুধু। কারণ ছিল ইন্টারনেট হাইপ আর শিল্প বিপ্লব পরবর্তী ঘরানার পটভূমি। অথচ যে কয়টা পর্বই দেখলাম আপাতত, ফেয়ারি গন পুরোই হতাশ করছে আমাকে এপর্যন্ত। তখনই আসলে কিমেতসু নো ইয়াইবা নিয়ে গ্রুপের বিভিন্ন পোস্ট বিশেষ করে গ্রুপের কাভার ফটোর সুন্দর পোস্টটা চোখে পড়লো। সেখান থেকেই জানতে পারলাম এনিমেটা ইউফোটেবলের, আমি মোটামুটি ইউফোটেবলের ফ্যানবয় হিসেবেই দাবী করি নিজেকে, এখন এত বড় খবর মিস হয়ে যাওয়ায় নিজের কাছে নিজেরই লজ্জায় মাথা কাটায় যোগাড়!

তো প্রথম পর্বটা প্লে করার সাথে সাথেই হুকড হয়ে গেলাম বরফে আচ্ছাদিত ল্যান্ডস্কেপ দেখে। তাতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখতে অসাধারণ সুন্দর দেখাচ্ছিল যদিও মনে মনে বিশাল অমঙ্গলের আশা করছিলাম। শেষমেশ কী যে বিশাল অমঙ্গল হয়েছে তা তো দর্শকদের সবার জানাই! তারপর বলতে গেলে একটানেই দশটা পর্ব দেখে ফেললাম। সেই ডিসেম্বরে গুরেন লাগান দেখার পর আর কোন এনিমে এভাবে একটানা দেখতে পারি নি। সে হিসেবে জিনিসটা খুব স্বস্তির ছিল, ভয় পাচ্ছিলাম যে এনিমের প্রতি আগের সেই অনুরাগ হারিয়ে ফেলছি বুঝি।

তো এনিমেটার যেসব জিনিস ভাল লেগেছে তা সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরছি:

প্রথমেই এনিমের শুরুটা, প্রথম পর্বেই যথেষ্ট পরিমাণে ভায়োলেন্স আর গোর দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে এনিমেটা ডার্ক ফ্যান্টাসি ঘরানার। এটাতে যে দর্শকদের অনেক আশার প্রতিফলন হবে না তাও যেন জানান দেয়া হল। প্রথম পর্ব হিসেবে যথেষ্ট ক্লাইমেটিক ছিল যা দর্শকদের এনিমেটা আরো দেখাতে আগ্রহী করেছে বলতেই হবে।

দ্বিতীয়ত ইউফোটেবলের অসাধারণ ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের কাজ। বিশেষ করে তানজিরোর মুভমেন্টের সাবলীলতা। জানি না কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ফ্লুয়েন্সিটা আনা হয়, সম্ভবত মোশন সেন্সর জাতীয় কিছু দিয়ে। এ ঘরানার ফ্লুয়েন্ট মুভমেন্ট দেখেছিলাম Kara no Kyoukai সিরিজের মুভিগুলাতে। সবার নিশ্চয়ই শিকির করিডোর ফাইটের কথা মনে আছে! তানজিরোর থ্রি ডাইমেনশনাল নাড়াচাড়ার সাবলীলতা মুগ্ধ করার মত। অন্যকোন স্টুডিও হলে নিশ্চিত ভজকট পাকিয়ে ফেলতো, ভিডিও গেইম অ্যাডাপ্টেশনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ইউফোটেবলকে এখানে অনেক সাহায্য করেছে মনে করি।

KnY 2

আরেকটা ভাল লাগা ছিল এনিমেতে সুন্দর সিজিআইয়ের ব্যবহার। সাথে সাথে এটাও স্বস্তিদায়ক ছিল মানুষ ও বিশেষ করে ডিমনগুলাকে পরিশ্রম বাঁচানোর জন্য সিজিআই দিয়ে অ্যানিমেট না করাটা! আসলে চলন্ত আর নাড়াচাড়া করা জিনিস অ্যানিমেট করার বেলায় হাতে আঁকা ফ্রেমই এখনো শ্রেষ্ঠ। অথচ সেই জায়গায় ফেয়ারি গনের ফেয়ারিগুলাকে সিজি দিয়ে বীভৎস বানানো হয়েছে।  ইউফোটেবল খুব বুদ্ধিমানের মত অন্ধকার জঙ্গল, গাছপালা, বাড়িঘর ইত্যাদিকেই শুধু সিজি দিয়ে তৈরি করেছে। আর আমরা তো সবাইই জানি ইউফোটেবল রাতের দৃশ্য বানানোর ওস্তাদ! (UBW দ্রষ্টব্য) সেই হিসেবে KNY এনিমেটার বলতে গেলে সব মেজর দৃশ্যই রাতে, (যেহেতু শুধু রাতের বেলাতেই ডিমন আসে) ইউফোটেবলের অ্যাডাপ্ট করার জন্য একেবারে পারফেক্ট এনিমে ছিল এটা।

এনিমেটার স্টোরি আর ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংয়েরও প্রশংসা করতে হবে। নেজুকোকে ডিমন বানানোর কারিগরকে বেশ তাড়াতাড়ি স্টোরিতে দেখানোটা খুব ভাল হয়েছে আমার মতে। আবার এটাও জানান দেয়া হয়েছে যে তার বারোজন ঘনিষ্ঠ সহচরও আছে, মানে তাদের মুখোমুখি না হওয়ার আগ পর্যন্ত বস ফাইট হবে না। আবার Demon Slayer Corps. এর অর্ডারেরও বেশী কিছু খোলাসা করা হয়নি। তারমানে অনেক চমকপ্রদ জিনিস এখনো আছে মাঙ্গাকার ঝুলিতে। শুধু নেজুকোকে নিয়ে তানজিরোর একা একা জার্নি করাটাই ভাল লাগছে বেশী আপাতত। শীঘ্রই মনে হয় কমরেড পেতে যাচ্ছে তানজিরো, দেখি তারা কেমন ক্যারেকটার হয়।

এনিমেটাতে যথেষ্ট শৌনেন এলিমেন্ট আছে। যেমন পাওয়ারের নাম মুখে এনে পাওয়ার ব্যবহার করা ইত্যাদি। তানজিরোর সোর্ডের স্কিলগুলা দেখার মত। ওর সোর্ডের পানির যে অ্যানিমেশন সেরকম অ্যানিমেশন আমি এর আগে দেখি না কোনখানে। দারুণ অ্যাস্থেটিক স্কিলগুলা আর নামগুলাও খুব সুন্দর। তানজিরো একদমই মাথা গরম ঘরানার প্রোটাগনিস্ট না, সেটা আরো বড় স্বস্তির। আর তার পাওয়ারফুল হওয়ার কাজটাও হচ্ছে ধীরে ধীরে, আশা করি এই মাঙ্গার মাঙ্গাকা হুটহাট পাওয়ার বাড়ানোর ভুলটা করবেন না। (যেটা নারুতোসহ অনেক ভাল শৌনেন মাঙ্গার বিশাল একটা সমস্যা ছিল।)

এই এনিমের আরেকটা অত্যন্ত আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর মিউজিক, শুনেই বুঝেছিলাম কাজিউরা ইউকির কাজ! বিশেষ করে ডিমন আসার ক্রিটিকাল মোমেন্টে যে অশরীরী choir টা বাজে সেটা পুরোই গায়ের লোম দাঁড় করিয়ে দেয়। এই মিউজিকটা আবার প্রতি পর্বের নাম দেখানোর জায়গাটাতেও দেয়া হয় যেটা দারুণ একটা ভৌতিক আবহ তৈরি করে। প্রতিটা পর্বের নাম যে ক্যানভাসের উপর স্ক্রিপ্ট আকারে আসে সেই জিনিসটাও ভাল লাগে, এনিমেটা যে সম্রাট হিরাহিতো আমলের পটভূমিতে রচিত তা টের পাওয়া যায়।

শেষমেশ এনিমেটার এন্ডিং সংয়ের পর যে ফান সেগমেন্টটা হয় সেটা অনেক প্রশান্তি দেয়। পুরো পর্বের ভয়ানক ভয়ানক ঘটনার পর যখন নেজুকোর মৃদু মৃদু কণ্ঠস্বর শুনি তখন আসলে মন ভাল না হয়ে উপায় থাকে না।

KnY 3

Haikara-san ga Tooru Movie 1: Benio, Hana no 17-sai [রিভিউ] — Trisha Islam

Haikara-san 1

Haikara-san ga Tooru Movie 1: Benio, Hana no 17-sai
Genres: Comedy, Historical, Romance, Shoujo

এই এনিমে মুভিটির প্লট আসলে ১৯৭৫ সালের একটা বিখ্যাত মাঙ্গার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। মুভিটির নামের ট্রান্সলেশন করলে দাঁড়ায় Here Comes Miss High-Collar বা Here Comes Ms. Modern.

মুভিটার সেটিং হল ১৯১৭ অর্থাৎ ১ম বিশ্বযুদ্ধের টাইম পিরিয়ডকে কেন্দ্র করে কাহিনির বিচরন। ঐ সময়টাতে জাপান আস্তে আস্তে একটা আইসোলেটেড আইল্যান্ড থেকে মডার্ন জাপানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সে সময়টা তে ট্রাডিশন আর মডার্নিজম এর মধ্যে যে কনফ্লিক্ট কাজ করছিলো, কিভাবে ট্রাডিশনাল রোলস গুলো পরিবর্তন হচ্ছিল আর বিভিন্ন বয়স এবং শ্রেনীর মানুষ এই পরিবর্তনকে কিভাবে নিচ্ছিলো তা এই এনিমেতে বেশ সুন্দর করে দেখানো হয়েছে। আবার যেহেতু ১ম বিশ্বযুদ্ধে জাপান মিত্রপক্ষের একটা দেশ ছিল, তাই যুদ্ধের ব্যাপারটাও কিছুটা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে এইসব কঠিন কঠিন হিস্টোরিক্যাল বিষয়গুলোর থেকেও বড় কথা হচ্ছে, এটি একটি লাভ-কমেডি। তাই অনেকটা হাসতে হাসতে শেখার মত ব্যাপার আছে।

এখন কাহিনিতে চলে যাই, আমাদের Haikara-san বেনিও হানামুরা (Benio Hanamura) নিজেকে Modern লেডি হিসাবে ভাবেন এবং কিছুতেই ট্রাডিশনাল অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করতে রাজি নন। কিন্তু তার ভ্যাগেই যেন কার সাথে বিয়ে হবে দুই জেনারেশন আগে ঠিক করে রাখা হয়েছে। Modern লেডি, বিদ্রোহি কন্যা তোহ ঝাসির রানি। সে কিছুতেই বিনা যুদ্ধে হার মানবে না।

Haikara-san 2

কাহিনির শুরু হয় এভাবে। এরপর চলতে থাকে বিভিন্ন টুইস্ট অ্যান্ড টার্নের মাধ্যমে তার প্রেমে পড়ার কাহিনি। অনেক ধরনের বাধা আর বিপত্তির মধ্যে কি পারবে বেনিও হানামুরা তার নিজের পছন্দ করা কাউকে জীবন সঙ্গী পেতে? নাকি সে বাধ্য হবে দুই জেনারেশন আগে ঠিক করে রাখা মানুষটার সাথেই ঘর বাধতে? এমনটাও হতে পারে “Fate has some other plans for our miss High-collar”.

এই মুভির আসলে দুইটা পার্ট, যার প্রথমটা হলো এইটা। শেষ পার্ট এখনো আসেনি। বেশ উপভোগ্য একটা মুভি আর আপনার যদি History নিয়ে আগ্রহ থাকে তাহলে তোহ কথাই নেই – ভালো লাগতে বাধ্য। আর্ট ওয়ার্ক বেশ ভালো। আমার নিজের পুরান আর্টের প্রতি এলার্জি আছে তাই অনেক ভালো ভালো সিরিজ দেখা হয় না। কিন্তু এরকম ক্লিন আর্ট দিয়ে সব পুরান এনিমে গুলা রিমেক করলে বেশ হয়।

বেনিও হানামুরা ভয়েস এক্টর হচ্ছে Hayami Saori যার করা Yukinoshita Yukino কে অনেক বেশি ভালো আর Shiba Miyuki কে অনেক বেশি বিরক্তিকর লেগেছিলো। কিন্তু এখানে আবার বেশ উপভোগ করেছি তার কাজ। আর লিড মেইল এর ভয়েস এক্টর হচ্ছে Miyano Mamoru, যার কাজ বেশ ভালো লাগে।

আমার কাছে বেশ লেগেছে আর রেটিং হচ্ছে: ৮।

Kimetsu no Yaiba / Demon Slayer [সাজেশন] — Kazi Rafi

Kimetsu no Yaiba

গল্পের নামঃ কিমেতসু নো ইয়্যাইবা ( ডিম্যান স্লেয়ার)

শ্রেষ্ঠাংশেঃ কয়লা বিক্রেতা তাঞ্জিরো কামাদো, তাঞ্জিরোর আদরের ছোট বোন নেযুকো, পিশাচদেব মাইকেল জ্যাকশন ওরফে মুযান কিবুতশুশি ও প্রমুখ।

কাহিনিঃ কয়লা বেঁচে মোটামোটি দিন চলে যাচ্ছিল তাঞ্জিরো ও তার পরিবারের। কিন্তু কোন পিশাচের জানি ক্যাড়া উঠসিল, সহ্য হইচ্চিল নাহ তাঞ্জিরোর পরিবারের সুখ দেখতে, এক রাত্রে এসে খতম করে দিয়ে গেল পুরো পরিবারকে। ওহ আচ্ছা, তাঞ্জিরো সেদিন আবার কোন এক গ্রামে গেছে কয়লা বেঁচতে, এসে দেখে এই হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। এদিকে পুরো পরিবার ইন্তেকাল করলেও দেখা যায় তাঞ্জিরোর ছোট বোন নেযুকো, মৃত্যুর পরিবর্তে পিশাচ এ পরিণত হইছে কিন্তু এখানেও আবার আরেক জিলাপির প্যাঁচ, বেঁচে থাকা বড় ভাইয়ের প্রতি মায়ার টান আর পরিবারের মর্মান্তিক পরিনাম ভুলতে নাহ পেরে পিশাচ হয়েও কিছুটা মনুষ্যত্ব নিজের মধ্যে ধরে রাখতে পারছে; আচ্চা বড়ই ভাল কথা। এদিকে তাঞ্জিরোর তখন মাথা খারাপ অবস্থা, পরিবার হারায়ে এই বোনরে নিয়ে কেমনে কি করবে কিছুই বুঝতে পারতেছে নাহ। পরে, পিশাচ নিধন করে বেড়ায় এমন এক কোম্পানির বড় ভাইয়ের রেফারেন্সে, পিশাচঘাতক পদে চাকুরী নেয় তাঞ্জিরো। সেইখানেই সেই বড় ভাইয়েরই প্রাক্তন বসের কাছে তাঞ্জিরো জানতে পারে যে ওর পরিবার আর নেযুকোর এই পরিণতির পিছে হাত থাকার ষোলআনা সম্ভাবনা আছে পিশাচদেব মাইকেল জ্যাকশন ও তার কোম্পানির। সাথে সাথে তাঞ্জিরো ঠিক করে ফালায় ওর ‘Aim in Life’- বোনের রোগ সারায় তুলার অ্যান্টিবায়োটিক খুজে বের করতে হবে, আর মাইকেল জ্যাকসন ও তার কোম্পানিকে ব্যাবসায়ে লাল বাত্তি দেখানোর ব্যাবস্থা করবে। এই মূলমন্ত্রে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে চাকুরী শুরু করে তাঞ্জিরো। একি টীমে পরে আরও দুইজন সহকর্মী যোগ দেয় তাঞ্জিরোর সাথে।

তো এই হইল এই গল্পের কাহিনী। আর এইটা এনিমেতে রুপ দেবার দায়িত্ব নিছে ফেট সিরিজ ভাঙ্গায় খাওয়া Studio Ufotable. কুনো একটা ফেট যদি দেখে থাকেন, তাইলে নিশ্চয় বুঝতেই পারতেছেন অতিযত্ন সহকারে পুরো এনিমেটা বানাচ্ছে Ufotable. ব্যাকগ্রাউন্ড সিনসিনারি, অ্যাকশন সিক্যুয়েন্স থেকে শুরু করে সাউন্ডট্র্যাক বলেন, সব কিছুই এতো নিখুঁত, দেখলে চোখ, কান, দিল সব জুড়ায়ে যাবে। এখন কথা হচ্ছে Ufotable হঠাৎ শৌনেন জাম্প সিরিজের দিকে হাত বাড়াইল কেন? সোজাসাপ্টা উত্তর হচ্ছে এই মাঙ্গার ঐতিহাসিক পটভূমি, কাহিনী, মাঙ্গার ইউনিক আর্টস্টাইল সবকিছু বিবেচনা করে স্টুডিয়োর মনে হইছে এই সিরিজ তাদের সাথে যায়। আরও সোজা উত্তর হচ্ছে- এখন মোটামোটি সব নামকরা স্টুডিও যখন একটা/ দুইটা করে শৌনেন জাম্পের সিরিজ বাগায় নিচ্ছে তখন Ufotable এর মতন বনেদি স্টুডিওই বা কেন পিছায়ে থাকবে? সারাজীবন গেম বেসড এনিমে বানায়লে চলবে? অন্যদিকেও তো একটু মনোযোগ দেওয়া লাগে মাঝেমধ্যে, আর তাছাড়া শৌনেন জাম্পের একটা সিরিজের মাধ্যমে চারিপাশ থেকে বিভিন্ন পন্থায় ট্যাকা আসতেই থাকে, এগুলা কি মিস করা যায়?
যাইহোক, কথা হচ্ছে আপনি যদি শৌনেনভক্ত হয়ে থাকেন, শুরু করে দেন এটা দেখা, কারন দিনশেষে নেযুকো Best Girl!!

Paradox Paradigm (Kara no Kyoukai, EP 5) [অ্যানালাইসিস] — Amor Asad

KnK 5

গার্ডেন অফ সিনারস দেখতে গিয়ে মনে হলো এটা নিয়ে big pile of shit লিখবো কোন এক সময়, তবে পাঁচ নম্বর এপিসোড Paradox Paradigm বিশেষ নজরে আসায় স্থগিত করতে মন চাইলো না। সিরিজটা দেখে ফেলেছি এবং পুরো সিরিজে এটা সবচেয়ে পছন্দের এপিসোড। কারণ সমেত এটা তাই—মাঝারি pile of shit.

প্রথমত, পুরো সিরিজে এটা সম্পূর্ণ একটা গল্প। এর আগের এপিসোডগুলো একটার সাথে একটা জড়িত মনে হয়েছে, স্বতন্ত্র মনে হয়নি। প্যারাডক্স প্যারাডাইম ওই গল্পগাথার সাথে জড়িত হলেও, একে আলাদা ভাবে দাঁড় করানো যায়। অন্যতম মূল চরিত্র Tomoe-এর পরিচয় পর্ব, মূল গল্পের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা, তাঁর সাথে Shiki-র যোগাযোগ পর্ব এবং একই সময়কালে Tauko এবং Kokutou এর অবস্থান, শিকির উধাও পর্বের সাথে তাঁর কমরেডদের পদক্ষেপ, মূল অ্যান্টাগনিস্টের পরিচয় পর্ব ও পুরো ব্যাপারে তাঁর ভূমিকা সবকিছু একটা গল্পের নানা অংশ যা অন্য এপিসোডগুলোর উপর নির্ভরশীল না। শিকি হয়তো সিরিজের প্রোটাগনিস্ট কিন্তু এই গল্পের চাবিকাঠি ছিলো Tomoe.
এছাড়া গল্পটা যে চমৎকার, এটা আলাদা করে বলছি না।

মেকার নন-লিনিয়ার স্টোরিটেলিং ব্যবহার করে ভালো কাজ করেছেন। সোজা সাপ্টাভাবে গল্প এগোলে ভালো লাগতো ঠিকই, কিন্তু এখন যেমন মনে হয়েছে, অতটা হয়তো লাগতো না।

দ্বিতীয়ত, মন্টেজ এর সঠিক ব্যবহার। মন্টেজ ফিল্মমেকিং এর একধরনের টেকনিক, যেখানে একাধিক এলোমেলো ছবি যোগ করে কোন অর্থ প্রকাশ করা হয়। যেমন, কারো পা দেখা গেলো, এর পর একটা রোড দেখানো হলো, ক্লোজ শটে একটা গাড়ি দ্রুত বেগে ধেয়ে আসা দেখানো হলো, আরেকটা শটে দেখান হলো একজন রাস্তায় পড়ে আছে, গায়ে রক্ত। এই এলোমেলো শটগুলো দিয়ে বোঝানো যায় রোড-অ্যাকসিডেন্ট ঘটেছে।

মন্টেজের ব্যবহার অ্যানিমেতে প্রচুর দেখা যায়। বিশেষ করে মাকোতো শিনকাই একদম খামোখা ব্যবহার করেন। স্রেফ একটা বিশেষ আবহ আনতে। এই কাজ অবশ্য Garden of Sinners-এও আছে, হাবিজাবি শট এক করে একটা আবহ আনার চেষ্টা। কিন্তু এর মাঝেও একটা অংশ আছে যখন মন্টেজের ভালো ব্যবহার ছিলো।

Tomoe শিকির ঘরে থাকা শুরু করলো, দিন পার হয়ে যাওয়া বোঝাতে দরজার হ্যান্ডেল ঘোরানো, বেসিনে কাপের পর কাপ আইসক্রিম জমা হওয়া আবার ফাঁকা হওয়া এরকম একগাদা সদৃশ ফ্রেম ব্যবহার করা হয়েছে।

এখানে সফলতাটা হচ্ছে, যে সময়ের ভিতর দেখানো হয়েছিলো সেই সময়ে স্রেফ কোন একটা চরিত্রকে দিয়ে বলানো যেত, ‘অনেকদিন পার হয়ে গেছে।’— কিন্তু মন্টেজ দিয়ে আক্ষরিকভাবে সময়পার হবার একটা আপেক্ষিক রূপ দর্শককে দেখানো হচ্ছে। এতগুলো আইসক্রিম খেতে কতদিন সময় লাগতে পারে একটা খসড়া হিসেব হয়ে যায় মনে মনে।

তৃতীয়ত, পয়েন্ট অফ ভিউ শট। প্রথমার্ধের শেষে যখন শিকি বন্দি হলো আরায়া সৌরেন এর দেহরুপী ইমারতে, তার পরের কিছু অংশে সরাসরি শিকি-কে না দেখিয়ে পয়েন্ট অফ ভিউ স্টাইল ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাপারটা অনেকটা ফার্স্ট-পার্সন-শুটার গেম এর ভিউ এর মতো। শিকির চোখ এখানে ক্যামেরা, তাঁর চোখে দর্শক দেখছে, কথা শুনছে, কিন্তু তাঁকে দেখতে পাচ্ছে না। প্রথমার্ধের পর শিকিকে না দেখিয়ে কেবল পয়েন্ট অফ ভিউতে দর্শকের মধ্যে এক ধরণের প্রবল কৌতুহল আর টেনশন সৃষ্টি করা হয়। আমি জানি না গল্পের এই পর্যায়ে কাজটা ইন্টেনশনাল ছিলো কিনা, ইনটেনশনাল হলে সত্যিই ব্রিলিয়ান্ট কাজ।

চতুর্থত, ম্যাচ কাট। প্রথমার্ধে বেশ কটা ম্যাচ কাট ছিলো, বিশেষ করে আপাত মূল চরিত্র Tomoe-কে নিয়ে। ম্যাচ কাট বিশেষ ধরণের সিন-ট্রানজিশন, যেখানে একটা দৃশ্যপটের সাথে ভিন্ন আরেকটা দৃশ্যের মিল করা হয় পারিপার্শ্বিকতা মিল করে। এই কাজটা সুচারুরূপে অ্যানিমেতে প্রথম এবং শেষ যাকে করতে দেখেছি, তিনি ক্ষণজন্মা মাস্টারমাইন্ড, সাতোশি কন। ম্যাচ কাট নিয়মিত ব্যবহার করে অনেকেই, কিন্তু স্টাইলিস্ট সিন ট্রানজিশন এর উপায় হিসেবে খুব কমই করে। প্যারাডক্স প্যারাডাইমের কয়েকটা অংশ হুট করে কন-এর কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলো।

এটা অবশ্য অ্যানিমের পক্ষে খুব শক্তিশালী কোন প্রমাণ নাও হতে পারে, হতে পারে কেবলই কনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে অযথাই মেলাচ্ছি।

যাই হোক, কেবল এই এপিসোডের জন্যে আমার রেটিং ৯/১০
ভালো থাকুন, ভালো অ্যানিমে দেখুন।