এফ এ সি ৩৭

দ্বীপ দেশ জাপানের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা তুলনামুলকভাবে কম। কারণ মূলত জীবনযাত্রার বিশাল ব্যয়, সেই সাথে বেশিরভাগই সংসার শুরু করতে চায় না, স্বাধীন জীবনযাপনই এদের বেশি পছন্দ। সরকার বেশি সন্তানের বাবা-মাকে ইনসেন্টিভ দিচ্ছে, তবুও এই ব্যাপারে জাপানের অধিবাসীদের তেমন মাথাব্যথা নেই।

পারিবারিক চেতনা বা মূল্যবোধ সব জায়গাতেই কমে যাচ্ছে, জাপানও এর ব্যতিক্রম নয়।

আনিমে সাজেশন

ইয়ামাতো নাদেশিকো শিচি হেঙ্গে[Yamato Nadeshiko Shichi Henge]

নাকাহারা সুনাকো হল ভয়াবহ ধরনের অসামাজিক, নিজের ঘরে বসে আপন মনে প্রেতচর্চা করা এক তরুণী। সে যে কতটা পিকুলিয়ার, সেটা বোঝার জন্য এটুকু জানাই যথেষ্ট, তার ভালবাসার পাত্র হচ্ছে স্কুলের এনাটমি বোঝানোর জন্য যে ম্যানিকিন ব্যবহার হয়, আর কঙ্কাল। তো তাকে এক পারফেক্ট গার্ল, বা ইয়ামাতো নাদেশিকো বানানোর জন্য সুনাকোর আনটি পাঠালেন চার সুদর্শন তরুণকে। তাদের ঔজ্বল্যে চোখ ধাধিয়ে গেলো সুনাকোর, নোজব্লিডের শিকার হল সে। এরপর?

কেন দেখবেনঃ টিপিক্যাল শোউজো না, চমৎকার ক্যারেক্টার ডিজাইন, সেই সাথে কমেডির মিলন।

ম্যাল রেটিং ৭.৯৮
আমার রেটিং ৯

মাঙ্গা সাজেশন

মেরু পুরি[Meru Puri]

 

আইরি স্বপ্নে বিভোর, তার সামনে একদিন এসে হাজির হবে রাজপুত্র, বিয়ে করবে তাকে, তারা সুখে ঘরসংসার করবে। তো একদিন রুপকথার রাজ্য থেকে এক রাজকুমার সত্যি সত্যি হাজির হল, কিন্তু সে যে হাইস্কুল পড়ুয়া আইরির সাথে তুলনা করলে স্রেফ এক বাচ্চা ছেলে! এই অসমবয়সী দুইজনের সম্পর্ক কি আদৌ প্রেমে পরিণত হবে?

কেন পড়বেনঃ খুবই জনপ্রিয় শউজো মাঙ্গা ভ্যাম্পায়ার নাইটের মাঙ্গাকার আঁকা, ভদ্রমহিলার আঁকার হাত তো ভালই, কাহিনীকে এগিয়েও নিতে পারেন সুন্দরভাবে। মেইন দুই ক্যারেক্টারও যথেষ্ট লাইকেবল।
কেন দেখবেন/পড়বেন নাঃ শউজো জন্রার, কাজেই বুঝতে পারছেন মারপিট খুব একটা নেই, মূল পাত্রপাত্রীদের দৈনন্দিন খুনসুটিই সিরিজের প্রাণ। সেই মতো বুঝে নিন।

ম্যাল রেটিং ৮.৩১
আমার রেটিং ৮

এফ এ সি ৩৬

রান্ডম টপিক

 খাদ্যাভাস

 

 

আমরা বেশিরভাগ বাঙালি খাবার সময় কি করি? একগাদা ভাত নেই, তার সাথে এক চিমটি সবজি। আর জাপানিরা করে উল্টো, তারা সবকিছুই মোটামুটি সমান পরিমাণে নেয়। জাপানিরা মহিলারা যে ৪০ এও চালশে হয়ে যায় না, শারীরিক গঠন চমৎকার থাকে, তাঁর কারণ এই পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, প্রচুর পরিমাণে সী-ফুড, আর চিনিছাড়া চা।

আপনিও এটা ট্রাই করতে পারেন, শুধু মাংস খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

 

 

আনিমে সাজেশন

 ক্রস গেম[Cross Game]

 

কৌ আর ওয়াকাবার বাল্যকালের প্রেম কুঁড়ি হয়ে ফুটতে না ফুটতেই ঝরে গেলো। বড় বোন মারা যাওয়ায় নিজেকে খানিকটা হলেও দোষী মনে করল আওবা, সেও যে ভালবাসত কৌকে! কিন্তু কৌর কি আর সেদিকে খেয়াল আছে? তার এখন স্বপ্ন একটাই, সে তার প্রথম প্রেমের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে, যাবে সে কশিয়েনে[হাইস্কুল বেসবল এর ন্যাশনাল টুর্নামেন্ট], হবে সে দুর্দান্ত এক পিচার!

 

কেন দেখবেনঃ রিফ্রেশিং রোমান্টিক স্পোর্টস আনিমে, কোন এচি কন্টেন্ট নেই, কাহিনী খুব সাবলীলভাবে এগিয়েছে, বেশিরভাগ স্পোর্টস আনিমে থেকে ব্যতিক্রম, কারণ এখানে নায়ক একেবারে নবিস পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনের কাছে ট্রেনিং নিয়ে মহা ফ্যান্সি কোন পাওয়ার পায় না। বাস্তবধর্মী আনিমে।

কেন দেখবেন নাঃ হাইস্কুল স্লাইস অব লাইফ স্পোর্টস স্টোরি, এ থেকে বুঝে নিন কাদের ভালো লাগবে, আর কাদের না।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৬০

আমার রেটিং ৯

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

দেনপা কিওশি[Denpa Kyoushi]

 

 

কাগামী জুনিচিরো মহা ব্রিলিয়ান্ট হলে কি হবে, সে হচ্ছে এক অতাকু হিকিকমরি। বড় বোনের জ্বালায় ঘরে থাকতে না পেরে সে হল এক স্কুলের টিচার। তারপর?

 

কেন পড়বেনঃ এটাকে মোটামুটিভাবে গ্রেট টিচার অনিজুকার সফটকোর ভারশন বলা যায়, যারা দ্য ওয়ার্ল্ড গড অনলি নোজ পড়েছেন, তাদের ভালো লাগার কথা।

কেন পড়বেন নাঃ আর্ট তেমন একটা ভালো না, প্যানেলগুলো খুবই মেসি, পড়তে গিয়ে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আর আমি অনেকদিন পড়ছি না, ৬০ চ্যাপ্টারের মতো পড়ে স্টপ।

 

ম্যাল রেটিং ৮.২৫

আমার রেটিং নেই, কারণ অন্গিং।

এফ এ সি ৩৫

রান্ডম টপিক

তোহো প্রজেক্ট[Touhou Project]

 

এই ঘটনার সাথে অনেকেই পরিচিত হয়ে থাকবেন, কোন ভকালয়েডের ছবি দেখলেই অনেকে জিজ্ঞাসা করে, কোন আনিমে থেকে এই ক্যারেক্টার। এর পাশাপাশি আরেকটা নাম যুক্ত হয়েছে, যার ক্যারেক্টারগুলোকে দেখেও অনেকেই একই প্রশ্ন করে। নামটা হল তোহো প্রজেক্ট। শুধু জাপানেই না, অন্যান্য দেশেও এই গেমটা খুব জনপ্রিয়। গেমের প্রিমিস হচ্ছে গেনসোকিও নামের একটা জায়গা, যেখানে অনেক ইওকাই এর সহাবস্থান। সব ক্যারেক্টার এরই বিশাল ব্যাকগ্রাউন্ড হিস্ট্রি।

 

এই গেম জনপ্রিয় মূলত এর ক্যারেক্টারগুলোর জন্য, সেই সাথে অদ্ভুত সুন্দর থিম মিউজিকগুলো তো আছেই। আপনারা ইয়ুতিউবে গিয়ে শুনতে পারেন, আমি এখানে শুধু চিরুনোর ক্যারেক্টার থিম দিয়ে দিলাম। http://www.youtube.com/watch?v=AyHJpHqI5uY

 

 

 

আনিমে সাজেশন

এয়ার[Air]

কামিও মিসুজু ভারী শান্ত, ভারী মিষ্টি এক মেয়ে। তাঁর সাথে পরিচয় হয়ে গেলো এক ভবঘুরে জাদুকরের সাথে। এরপর?

 

কেন দেখবেনঃ এটা কী এর একটা আনিমে, যাদের অন্য কাজগুলোর মধ্যে আছে ক্ল্যানাড, ক্যানন ২০০৬ ইত্যাদি। বুঝতেই পারছেন, আশ্চর্যরকম সুন্দর কিছু সাউন্ডট্র্যাকের সাথে আবেগের মেলবন্ধন। কয়েক বাক্স টিস্যু নিয়ে বসতেই পারেন। আর অতি অবশ্যই আনিমেটা শেষ করে দুটো অভিয়ে দেখে নেবেন, তাহলে কাহিনী পুরোপুরি বুঝতে পারবেন।

 

ওপেনিংএ লিয়ার গানটা এখনি শুনে দেখুন না। http://www.youtube.com/watch?v=NtJnix-9niI

 

কেন দেখবেন নাঃ কোন কারণ নেই।

 

 

 

ম্যাল রেটিং ৭.৬৫

আমার রেটিং ৮

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

গকিবুরি গিজিঙ্কা[Gokiburi Gijinka]

 

গোকিচা না, ভারী ভালো মেয়ে। সে সব মানুষকে ভীষণ ভালবাসে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে চায়। কিন্তু তাকে কেউ দেখতে পারে না। সে একটা আরশোলা, এই কি তার অপরাধ?

 

কেন পড়বেনঃ খুব ভালো স্লাইস অব লাইফ কমেডি। এমন না যে মহা হিউমারাস, বা কাতুকুতু, গোকিচার কার্যকলাপ দেখলে মুচকি না হেসে পারবেন না, এতুকু গ্যারান্টি দেয়াই যায়।

 

কেন পড়বেন না: কোন কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৫০

আমার রেটিং নেই, কারণ সিরিজ অন্গিং।

 

এফ এ সি ৩৪

রান্ডম টপিক

 ফুতন

ফুতন হলো ম্যাট্রেস দিয়ে বানানো বেডিং, যাতে রাতে ঘুমিয়ে থাকার পর সকালে খুব সহজে গুছিয়ে আলমারিতে রেখে দেয়া যায়. এতে খুব বড় একটা সুবিধা, ঘরে অনেক বেশি স্পেস পাওয়া যায়. জবরজং খাটের চেয়ে ফুতন আসলে বেশি কাজের।

আর ফুতন যে শুধু ঘুমানোর কাজেই ব্যবহার করা হয় তা না, বসার জন্যও এক ধরনের বর্গাকার ফুতন ব্যবহার করা হয়, একে বলে জাবুতন।

 

 

আনিমে সাজেশন

প্যানটি অ্যান্ড স্টকিং উইথ গার্টারবেল্ট[Panty and Stocking with Garterbelt]

 

এনারকিরা দুই বোন, প্যানটি আর স্টকিং। তারা দুজন এঞ্জেল, এক পাদ্রি গার্টারবেল্টের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ইরেগুলারিটিকে ধ্বংস করে, এদেরকে বলে গোস্ট। এই পোস্টে এর চেয়ে বেশি কিছু বলাটা সেফ হবে না।

 

কেন দেখবেনঃ দারুন সব প্যারোডি, অ্যাকশান সিকোয়েন্স, এবং আমার মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটে যাওয়া ট্রান্সফরমেশন সিন।

আর অবশ্যই, দ্যাট এন্ডিঙ।

কেন দেখবেন নাঃ অনেকটা আমেরিকান কার্টুন স্টাইল এর অ্যানিমেশন, তুলনামূলক বেশি ভালগার কন্টেন্ট।

এবং এক্ষেত্রেও, দ্যাট এন্ডিঙ।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৮৫

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

 মনস্টার মুসুমে নো ইরু নিচিজৌ

পৃথিবীতে এমন একটা সময় চলছে, যাতে মানুষ ছাড়াও মানুষের মতো বিভিন্ন প্রজাতি সহাবস্থান করছে। তো এচি হারেমে যা হয় আর কি, মেইন ক্যারেক্টার এর বাড়িতে সব সুন্দরীরা এসে ভিড় জমালো, এদের মধ্যে আছে লামিয়া, সেন্টর, মারমেইড ইত্যাদি। এরপর?

 

কেন পড়বেনঃ এচি তো, পড়তে বেশ মজা লাগে। হেহে।

কেন পড়বেন নাঃ এচি পড়তে খুব মজা লাগে, কিন্তু শেষ করে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, কেন এটা পড়ে সময় নষ্ট করলাম। এখন পর্যন্ত তেমন ধারাবাহিক কোন কাহিনী নেই, প্রতি কয়েক চ্যাপ্টারে একের পর এক সুন্দরীরা আসছে, এই যা।

 

ম্যাল রেটিং ৮.০৪

আমার রেটিং নেই, কারণ সিরিজ অন্গিং।

অ্যানিমের ইতিহাস – পঞ্চম পর্বঃ বিশ্বজয় – চেনা জগত; লা এইচ ট্রিও– ফাহিম বিন সেলিম

ষাটের দশকে শুধু টিভিতে অ্যানিমের জাগরণের গান।
ওসামু তেজুকা আর তার মুশি প্রোডাকশন শুধু অ্যাস্ট্রো বয়েই থেমে থাকেননি। সেটা তো ছিল মাত্র শুরু। ১৯৫৯ আর তারপর ১৯৬৩ তে মাইটি অ্যাটম বা আরো বেশি জনপ্রিয় নাম, অ্যাস্ট্রো বয়ের নতুন যে সিরিজ শুরু হল সেগুলোর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৫ সালে তেজুকা তার নিজের লেখা মাঙ্গা জাঙ্গল এম্পেররের অ্যানিমে তৈরি করেন; যা সারা বিশ্বে আরো বেশি পরিচিত কিম্বা – দ্য হোয়াইট লায়ন নামে(Kimba – The White Lion)।
আফ্রিকার অরন্যের বেড়ে উঠা লিও(ইংরেজিতে কিম্বা) আর তার অভিযান নিয়েই তৈরি এই ৫২ পর্বের সর্বপ্রথম পুর্নরঙ্গিন অ্যানিমে। মাত্র এক বছরের মাথায় এটা আমেরিকায়ও মুক্তি পায়। আর এভাবেই জাপান থেকে সুদূর যুক্তুরাস্ট্র হয়ে সারাবিশ্বে অ্যানিমে প্রসার শুরু হল। যা পরবর্তীতে অনুদিত হয়েছে ইতালি, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, কাতালান, ডাচ, জার্মান সহ বিভিন্ন ভাষায় আর প্রচারিত হয়েছে শ’ কয়েক দেশে – হয়ত বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দায়ও আপনি তা দেখে থাকবেন। যা আজ পর্যন্ত, এই প্রজন্মের কাছে না হলেও এবং অ্যানিমে হিসেবে তেমন প্রচার না থাকলেও, অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাব বিস্তারকারী অ্যানিমে।

আর এসব অ্যানিমে শুধু জাপানই নয়, বিশ্বব্যাপী ছোট ছেলেমেয়েদের ‘চাইল্ডহুড’ বদলে দিচ্ছিল চিরদিনের জন্য। তেজুকার এসময়ের আরো একটি উল্লেখযোগ্য কাজ প্রিন্সেস নাইট, সর্বপ্রথম সৌজো, ম্যাজিকাল গার্ল জনরার অ্যানিমে। তবে তেজুকা যে একাই সব করছিলেন তা না, জাপানের ‘ডিজনী’ তোয়েই অ্যানিমেশন আর অন্যান্য নতুন গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোও বসে ছিল না। ১৯৬৩ সালেই প্রচারিত হয় জাইগেন্টর(Gigentor), আমেরিকার সেসময়কার বেশ জনপ্রিয় এক ‘কার্টুন’; যা মাত্র এক বছরের মাথায় আমেরিকা আর অর্ধদশক না পেরোতে পা রেখেছিল ডাউন-আন্ডারে। টিভি ডৌগার ম্যারিন বয়(Marine Boy), তোয়েই-এর সাইবর্গ ০০৯(Cyborg 009) এর পাশাপাশি ‘৬০-এর সবচেয়ে বড় নাম, তাতসুয়োকো প্রোডাকশনের – মাক গোগোগো(Mach GoGoGo)। টিনেজার স্পীড আর তার মাক ফাইভের রক্তগরম, শিরদারা আর হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেওয়া সব রেসিং। সাথে আছে রহস্যময় রেসার এক্স। ওহ, অ্যানিমেটার ১৯৯৭ সালের রিমেক, ২০০৮-এর কার্টুন রিমেক নেক্সট জেনারেশন অথবা একই সালের হলিউড লাইভ অ্যাকশন ফিল্ম হয়ত দেখে থাকবেন। অ্যানিমেটা বিশ্বব্যাপী পরিচিত স্পীড রেসার(Speed Racer) নামে।

আর এসব অ্যানিমে দেখে বড় হওয়া প্রজন্ম কয়েক দশক পর আনবে নতুন এক মেলবন্ধন। জাপান, আমেরিকা – অ্যানিমে, হলিউডের মাঝে। তবে সে অনেক পরের গল্প।

টিভির কাছে স্তিমিত হয়ে গেলেও হলে তখনো অ্যানিমে মুভি বের হওয়া বন্ধ হয়নি। কিন্তু ১৯৬৯ সালে মাঙ্গার জনক, আধুনিক টিভি অ্যানিমের জনক, তেজুকা যা বানালেন তার কথা কেউ ভাবতেও হয়ত পারেনি। ১৯৬৯ সালের জুনে জাপানের হলগুলোতে বেরোল ওয়ান থাউজ্যান্ড এন্ড ওয়ান নাইটস(1001 Nights), হ্যা আলাদিনের সেই ধ্রুপদি কাহিনী। কিন্তু তেজুকার হাতে এই চেনা কাহিনীটাই আমূল বদলে গেল। শব্দ আর চিত্র গ্রহনের অনন্য পরিচালনায় তৈরি হল অনবদ্য মুভি, তাতে আছে শিল্পের ছোয়া আবার যৌনতা আচড়। আর-এক্স রেটেড, আনসেন্সরড – ওয়ান থাউস্যান্ড এন্ড ওয়ান নাইটস হয়ে গেল সর্বপ্রথম অ্যানিমেটেড পর্নোগ্রাফি – হেন্তাই। যদিও তা বর্তমানের ‘হেন্তাই’-শব্দটার ব্যবহারিক অর্থের সাথে মিলে না। বাগদাদ, অ্যাামাজন অথবা আলিবাবার ও ৪০ চোরের গুহা পার হয়ে এ অ্যানিমে পরিবেশন করবে বাস্তব আর স্বপ্নের এক অসাধারন সমাহার।

শুধু এখানেই অবশ্য শেষ না, পরের বছর বেরোল ক্লিওপেট্রা – দ্য সেক্স কুইন(Cleopetra The Sex Queen) আর ১৯৭৩-এ ২৩তম বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালে মুক্তি পেল বেলাডোনা অফ দ্য স্যাডনেস(Belladona of the Sadness)। সবগুলোই আর-এক্স হেন্তাই।

আর এভাবেই টিভির জাগরন আর থিয়েটারে বড়সড় একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ‘৭০-এ পা রাখল অ্যানিমে। কাতসুদো সাশিন আর কুমো তো চুরিপ্পুর মত অজানা এক জগত পেরিয়ে এজায়গাটা সাধারন অ্যানিমে ভক্তদের কাছে অবশ্য বেশ পরিচিত। ১৯৭০-এর অনেক অ্যানিমেই আমাদের হয়ত আমাদের প্রিয়, বারবার দেখা। আবার হয়ত কারো দেখা সেগুলোর সাম্প্রতিককালে প্রচারিত রিমেক। নামগুলো শুনেই হয়ত মুখে ক্ষীন একটা হাসির আভাস দেখা দিবে। অ্যানিমে এখন বিশ্বব্যাপী, অ্যানিমে এখন বিশ্বজয়ী।

কারণ ‘৭০-এ অ্যানিমে জগতে পা রাখবে –
লুপিন দ্য থার্ড, আশিতা নো জো, ফিউচার বয় কোনান, মাজিঙ্গার জি, গ্যালাক্সি এক্সপ্রেস ৯৯৯, রোস অফ ভার্সাইলেস, স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো, মোবাইল স্যুট গুনদাম।
ডোরেমন!

// জাপান থেকে আমেরিকায় অ্যানিমের প্রভাব, প্রচার ও প্রসার সম্পর্কে বেশ ভালো একটা ডকুমেন্টারি – অ্যানিমে ড্রয়িং এ রেভ্যুলুশন। দেখতে পারেনঃ http://www.veoh.com/watch/v15806437gxSnEpdK?h1=anime+drawing+a+revolution //

 

Cardcaptor Sakura review – ইশমাম আনিকা

card-captor-sakura-anime-free_1465987

আনিমে রিভিউঃ ক্যার্ডক্যাপ্টর সাকুরা
জনরাঃ অ্যাডভেঞ্চার, কমেডি, ড্রামা, ম্যাজিক, রোম্যান্স, স্কুল, শৌজো
এপিসোড সংখ্যাঃ ৭০
ম্যাল স্কোরঃ ৮.১৯

বর্তমান অ্যানিম লাভারদের একটা ভালো অংশের অ্যানিমের সাথে পরিচয় ঘটেছে টুনামির মাধ্যমে। ২০০৩ সালের দিকে পোকেমন এবং কার্ডক্যাপ্টর সাকুরা দিয়ে আমার অ্যানিম জগতে প্রবেশ ঘটে, যদিও তখন অ্যানিম কি এটাই জানতাম না। পোকেমনের অন্ধভক্ত ছিলাম তাই পরে গিয়ে আর কার্ডক্যাপ্টর সাকুরা দেখা হয়নি। পরে কলেজ শেষ করার পর ফ্রেন্ডের কাছ থেকে নিয়ে দেখেছিলাম এবং আফসোস করেছিলাম, আরও আগে কেন দেখলাম না।

এই অ্যানিমটির জাপানিজ ভার্সন এবং ইংরেজী ভার্সনে কিছুটা পার্থক্য আছে, জাপানিজ ভার্সনটা দেখা হয়নি তাই ইংরেজী ভার্সনটা নিয়েই লিখছি।

সাকুরা অ্যাভলন, রিডিংটন নামক শহরের এক চঞ্চল স্কুলপড়ুয়া বালিকা। হাসিখুশি, খেলাধুলায় পারদর্শী, প্রাণবন্ত সাকুরার একটাই সমস্যা, সে কখনোই ঘুম থেকে জলদি উঠতে পারেনা। তার ভাইয়ের সাথে এ নিয়ে প্রায়ই তার মধুর ঝগড়া হয়।

মা হারা সাকুরার দিনকাল বাবা, ভাই, বন্ধু ম্যাডিসন ও ভাইয়ের বন্ধু জুলিয়ানের সাথে ভালই চলছিল, এমন সময় একটা ঘটনা সাকুরার জীবন পাল্টে দেয়। একদিন সাকুরা বাসায় ফিরে দেখতে পায় তার বাবা ভাই এখনো ফেরেনি। তখন সে বাবার লাইব্রেরী থেকে আওয়াজ শুনতে পায়। আওয়াজের উৎস খুঁজতে গিয়ে সেখানে সে একটা বই খুঁজে পায়, যেটা তার বাবা আগেরদিন কর্মস্থল থেকে নিয়ে এসেছিল কেউ বইটা খুলতে পারেনি বলে। সাকুরা বইটা হাতে নিতেই সেটা খুলে যায় এবং সে ভেতরে অনেকগুলো কার্ড দেখতে পায়।

সে “Windy” লেখা কার্ডটা হাতে নিয়ে সেটার নাম বলতেই হঠাৎ ঝোড়ো বাতাস এসে বাকি সবগুলো কার্ড উড়িয়ে নিয়ে যায়, থেকে যায় শুধু উইনডি।

এরপরই সাকুরার জীবন পাল্টে যায়। কার্ডগুলোর গার্ডিয়ান বিস্ট কিরোবেরোস সাকুরাকে জানায় প্রতিটা কার্ডের আলাদা আলাদা পাওয়ার আছে এবং তাদেরকে খুঁজে ফেরত না আনলে তারা পুরো শহর ধ্বংস করে দিতে পারে। কিরো সাকুরাকে দায়িত্ব দেয় প্রত্যেকটা কার্ড খুঁজে বের করে সেগুলোকে নিজের বশে নেয়ার। এরপর সাকুরা তার বন্ধুদের সাথে নেমে পড়ে কার্ড ক্যাপচার করার অভিযানে।

আমার খুব পছন্দের অ্যানিমের তালিকায় এই অ্যানিমটার জায়গা বেশ উপরের দিকে, ৭০ পর্ব একটানে দেখে শেষ করেছিলাম এবং এখনো সুযোগ পেলে মাঝেমধ্যেই রিভিশন দেই।

 

3.1

অ্যানিমের ইতিহাস – চতুর্থ পর্বঃ স্নেক এন্ড সাসকে – নিউক্লিয়াস এন্ড অ্যাটম – ফাহিম বিন সেলিম

 

1781574_734068656624954_453149461_o

অ্যানিমের গল্প বলতে গেলে মাঙ্গাকে তো বাদ দেওয়া যায় না! লেখা-আঁকার যুগলবন্ধী প্রচলিত ছিলো বহু আগে থেকেই। কিন্তু অ্যানিমের মত “মাঙ্গা”-র প্রসার ভালোভাবে শুরু হল যুদ্ধের পর। ১৯৪৭ সালে নতুন সংবিধান অনুযায়ী জাপানে সকল সেন্সরশীপ নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ায় সাহিত্য, বিনোদনের অন্যান্য মাধ্যমের মত মাঙ্গা-অ্যানিমেতেও ভিন্নধারার সূচনা ঘটল। ১৯৪৫ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের সময়গুলোতে, আমেরিকার তত্বাবধায়নে থাকার কারণে তাদের সংস্কৃতি দ্বারা অনুপ্রানিত হওয়াকেও একটা কারণ হিসেবে বলা যায়। মার্কিন সুপার-হিরো কমিকস জাপানীদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা ছিল। অনুপ্রানিত হলেও, জাপান অবশ্য তা অনুসরন করল না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হলেও সামগ্রিকভাবে যুদ্ধ-শান্তির প্রভাবটা বেশ ভালোভাবেই লক্ষনীয় ছিল। ১৯৫১ সালে, প্রথমবারের মত ‘সুপার হিরো’-দের কাহিনী জাপান নিজেদের আদলে বলা শুরু করল। ওসামু তেজুকা, যাকে বলা হয় আধুনিক অ্যানিমের নিউক্লিয়াস মাঙ্গার ধর্মপিতা, আঁকা শুরু করেন Tetsuan Atom(Mighty Atom), যেটা অধিক পরিচিত Astro Boy নামে।
আধুনিক আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাঙ্গা অবশ্য তারও আধ-দশক আগে শুরু হয়েছে। ১৯৪৬ সাল থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে যা প্রকাশিত হয়! ১৯৭৪ সালে মাঙ্গা প্রকাশ শেষ হওয়ার পাঁচ বছর আগেই অবশ্য তার অ্যানিমে প্রচারও শুরু হয়ে গিয়েছিল, ১৯৬৯ সালে। এবং তা আজ অবধি চলছে!
ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘকালব্যাপী এবং সর্বাধিক প্রচারিত পর্বের অ্যানিমে, মাচিকো হাসেগাওয়ার – Sazae-san।

এই Astro Boy আর Sazae-san কেই বলা যায় যথাক্রমে আধুনিক শৌনেন-সেইনেন আর শৌজো-জোসেই জনরার অ্যাডাম-ইভ।

অ্যানিমের গল্পে ফিরে আসা যাক। ১৯৪৮ সালে আলোর মুখ দেখল “জাপান অ্যানিমেটেড ফিল্ম” স্টুডিও। প্রথম দিকে তেমন উল্লেখযোগ্য কোন কিছু তৈরী করতে না পারলেও, ১৯৫৬ সালে তোয়েই কোম্পানী এই স্টুডিওকে কিনে নেওয়ার পর অবস্থা পাল্টে যায়। নতুন নাম হয় – তোয়েই অ্যানিমেশন। মাত্র দুই বছরের মাথায় তারা বের করে প্রথম রঙ্গিন জাপানিমেশন এবং সর্বপ্রথম আধুনিক “অ্যানিমে” – The Tale of the White Serpent, ১৯৬১ সালে যা সর্বপ্রথম অ্যানিমে হিসেবে আমেরিকায় মুক্তি পায়। প্রথম আধুনিক অ্যানিমে হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমান-প্রচলিত অ্যানিমে থেকে ডিজনীর রুপকথার গল্পগুলোর সাথেই এটার বেশি মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। এবং যথাযথ কারণেই এই মুভিটি তোয়েই অ্যানিমেশনকে এনে দেয় “প্রাচ্যের ডিজনী” উপাধি।
শুধু রঙই নয়, জাপানের তৎকালীন অ্যানিমেশন প্রযুক্তির একেবারে চূড়ান্ত ব্যবহার করা হয় এই চলচ্চিত্রে। কিন্তু চমকপ্রদভাবে তাইজি ইয়াবুশিতা আর কাজুহিকো ওকাবে পরিচালিত এই অ্যানিমে তৈরী করতে লেগেছিল মাত্র ৮ মাস! একসাথে কাজ করেছিল সাড়ে তের হাজারেরও বেশি কর্মী!

তার পরের বছরই ইয়াবুশিতা আবার আকিরা দাইকুবারার সাথে মিলে তৈরী করেন Magic Boy, যার জাপানী নাম Shounen Sarutobi (না, হিরুজেনও না, আসুমাও না, এমনকি কোনোহামারুও না) Sasuke [  ]!
এই অ্যানিমেও ডিজনীর গতবাধাঃ লোকগাথা-রুপকথা-গান-কথাবলাপশুপাখি ফর্মুলা অনুসরন করেছিল। ৮৪ মিনিটের এই দ্বিতীয় রঙ্গিন অ্যানিমে The Tale of the White Serpent-এর সাথে একই বছর আমেরিকায় মুক্তি পায়।

প্রতিবছর একটি মুভির ধারাবাহিকতায় ১৯৬০ সালে ওসামু তেজুকার My Son Goku মাঙ্গার উপর ভিত্তি করে তৈরী হয়, Alakazam the Great। তেজুকা আবার মাঙ্গাটি এঁকেছিলেন ষোল শতকের চাইনিজ উপন্যাস Journey to the West এর অবলম্বনে। তোয়েই অ্যানিমেশনের পক্ষ থেকে তেজুকাকে পরিচালক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলেও, তেজুকার ভাষ্যমতে স্টুডিওতে তার গমন বিজ্ঞাপনের জন্য ছবি তুলতে যাওয়া পর্যন্তই। তবুও এই মুভির কারণেই অ্যানিমেশনের প্রতি প্রথম তাঁর আগ্রহ জন্মায়। আর ১৯৬১ সালে অসন্তোষ আর সৃজনশীল অসামঞ্জস্য, যে কারণেই হোক, তোয়েই অ্যানিমেশনের সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তেজুকা নিজেরই একটা স্টুডিও খুলে বসলেন!
তোয়েই অ্যানিমেশনের সাথে সাথে কাঁধে কাঁধে পাল্লা দেওয়ার জন্য – মুশি প্রোডাকশন।

মাঙ্গার মতোই অ্যানিমেতেও আমেরিকানদের অনুসরন না করে জাপানের স্বকীয় আখ্যান বর্ণণা করতেই তিনি বেশী মনোযোগী হলেন। ১৯৬৩ সালে নতুন বছরের প্রথম দিনে জাপানের টেলিভিশন ইতিহাস পাল্টে গেল চিরদিনের জন্য।
হলের বড় পর্দার গন্ডি পেড়িয়ে অ্যানিমেশনের যাত্রা শুরু হল টিভির চারকোনা বাক্সে। আর মাঙ্গার মতই এখানেও প্রথম নামটি হল – Astro Boy!

 

অ্যানিমের ইতিহাস – তৃতীয় পর্ব: ওয়ার এন্ড পিস – ফাহিম বিন সেলিম

1796548_730218773676609_649659517_n

ত্রিশের দশক। জাপানীজ অ্যানিমেশন ততদিনে ডিজনীর কাছে ব্যাবসায়িক খেলায় হেরে দেশীয় চলচ্চিত্র বাজারের আধিপত্য হারিয়েছে। হলের বড় পর্দায় ব্যাবসায়িক অ্যানিমেটেড ফিল্মের পরিবর্তে তারা দায়িত্ব নিয়েছে শিক্ষা-জনসচেতনতা মুলক আর বিজ্ঞাপন-প্রচারণামুলক ভিডিও তৈরীর। জাপান সরকার এসময় সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন করায়, সেন্সরশিপ অনেক কঠোর হয়ে গেল।

তারা জাপানী চেতনা আর জাতীয়তা বাদে উদবুদ্ধ সিনেমা তৈরী করা পরিচালকদের অগ্রাধিকার দেওয়া শুরু করল। এ অভিব্যক্তি আরো জোড়ালো হল ১৯৩৯-এর চলচ্চিত্র আইন প্রণয়নের পর। ছোট ছোট অ্যানিমে ফিল্ম কোম্পানীগুলো একত্রিত হয়ে বড় বড় স্টুডিও গড়ে তুলল। আবার সো চিকুর মত বৃহত্তর স্টুডিও লাইভ অ্যাকশনের পাশাপাশি অ্যানিমে ফিল্ম বের করা শুরু করল। আর এই সোচিকুর সহায়তায় কেনজো মাসাওকা(Chikara to Onna no Yo no Naka) ১৯৪৩ সালে তৈরী করেন Kumo to Churippu[The Spider and the Tulip](১৯৪৩)-র মত মাস্টারপিস[যা ২০০১ সালে প্রকাশিত অ্যানিমেজের সর্বকালের সেরা অ্যানিমের তালিকায় ৪র্থ স্থান দখল করে ]।

যুদ্ধ শুরু হল। আর এসময় সকল স্টুডিওর একত্রিকরণের ধারাবাহিকতায় মাত্র ৩ টি বড় স্টুডিও অবশিষ্ট থাকল, আর এবার তারা সেনাঅর্থায়নে সিনেমা তৈরী করা শুরু করল। আর যুদ্ধকালীন সময় আমেরিকানরা যেমন কমিক আর কার্টুনের চরিত্র ব্যাবহার করে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছিল, পুরোনো চরিত্রদের যুদ্ধের সাজে সাজানো অথবা নতুন চরিত্রই তৈরী করা(সবচেয়ে বড় উদাহরণ Captain America); জাপান ও তার সৈন্য আর সাধারণ জনতাকে এই কঠিন সময় পার করতে সাহায্য নিল অ্যানিমের।

১৯৪৩ সালে মিতসুয়ো সেও(Ari-chan) গেইজুতসু এইগাশার প্রযোজনায়, জাপানের লোকগাথার সাথে চলমান যুদ্ধের আবহকে কাজে লাগিয়ে তৈরী করেন Momotaro’s Sea Eagles. [মজার ব্যাপার হল, আমেরিকান সমসাময়িক কার্টুন আর কমিকসে যেমন প্রতিপক্ষ হিটলার অথবা জাপানী সেনাদের আবির্ভাব ঘটা শুরু করল, তেমনই জাপানীরাও তাদের জবাব দেওয়া শুরু করল। যেমন এই অ্যানিমেতে বহুল জনপ্রিয় কার্টুন পপাই এর চরিত্র ব্লুটোকে দেখা যায় একজন সাধারণ মাতাল হিসেবে।] ৩৭ মিনিটের এই অ্যানিমেকে বলা যায় ফিচার লেংথ অ্যানিমেশনের পথে প্রথম সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।

মাত্র দুই বছর পরই সেও তৈরী করেন এর সিকুয়্যেল, এবার সোচিকুর প্রযোজনায় – Momotaro’s Divine Sea Warriors. ৭৩ মিনিটের এই অ্যানিমে ফিল্মটিই সর্বপ্রথম ফিচার লেংথ জাপানিজ অ্যানিমেশন। ১৯৪১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ডিজনী মুভি Fantasia দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে তৈরী হওয়া এই দুটি মুভির উপরের প্রোপাগান্ডার আর যুদ্ধের ভয়াবহতার চাদরের আড়ালে ছিল শান্তি আর আশার বার্তা।

যুদ্ধে পরাজিত হলেও তাই জাপানীরা নিজেদের সমৃদ্ধ অতীত, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর সৃজনশীলতা প্রকাশের নতুন এক মাধ্যমের খোঁজ পেল। ধংসস্তুপ থেকে জাপানের নবজাগরনের সাথে নতুন শুরু হল অ্যানিমেরও।
আরো বৃহৎ, আরো ভালোভাবে!

যারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালে সূচনা ঘটল জাপানের ডিজনী – তোয়েই অ্যানিমেশনের।
আর এই তোয়েই অ্যানিমেশনই অ্যানিমের ইতিহাসকে বদলে দিবে সবচেয়ে বড়ভাবে। শুধু প্রথম রঙ্গিন অ্যানিমে অথবা সর্বপ্রথম “আধুনিক” অ্যানিমেই নয়; হালের জনপ্রিয় সব অ্যানিমেগুলোতেও তারা রাখবে অবদান, দশক দশক পর এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকেই তৈরী হবে –
Seint Seiya, Space Captain Harlock, Toriko, Sailor Moon…
Slam Dunk, One Piece…
Dragon Ball Z!

// ছবি Kumo to Churippu-র //
// Momotaro’s Divine Sea Warriors লিঙ্ক: https://www.youtube.com/watch?v=me5bFtkEAso //

 

পূর্ণধাতব রসায়নবিদ রিভিউ (FullMetal Alchemist) – ইশমাম আনিকা

O9NOqgoপূর্ণধাতব রসায়নবিদ রিভিউ (FullMetal Alchemist)
[spoiler থাকতে পারে, আমি নিজে নিশ্চিত নই]

“Humankind cannot gain anything without first giving something in return. To obtain, something of equal value must be lost. That is alchemy’s First Law of Equivalent Exchange. In those days, we really believed that to be the world’s one, and only, truth.”

যদি আপনার সামনে এমন সুযোগ আসে যে আপনি আপনার মৃত প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন, যদিও সেটার কোন নিশ্চয়তা নেই, সেটার ফলাফল কি হবে কেউ জানেনা এবং এটা নিষিদ্ধ কাজ, তাহলে আপনি কি করবেন?

এডওয়ার্ড এলরিক এবং অ্যালফনস এলরিক দুই ভাই। দুজনের মাঝে বয়সের পার্থক্য ১ বছর। খুব ছোটবেলায় তাদের বাবা তাদের ছেড়ে কোথাও চলে যায় এবং এরপর তারা তাদের মায়ের সাথে জীবন কাটাতে থাকে। ছোট অবস্থাতেই দুজনেই “অ্যালকেমি” তে পারদর্শী হয়ে উঠতে থাকে। এমন সময় হঠাত তাদের মা মারা যায়। বাস্তবতা মেনে নিতে না পেরে এডওয়ার্ড ঠিক করে অ্যালকেমির সাহায্যে “হিউম্যান ট্র্যান্সমিউটেশন” এর মাধ্যমে তাদের মাকে ফিরিয়ে আনবে। প্রথমে ভয় পেলেও ভাই অন্তঃপ্রাণ অ্যালফনস ভাইকে ট্র্যান্সমিউটেশনে সাহায্য করে। কিন্তু ইক্যুইভ্যালেন্ট এক্সচেঞ্জ এর পরিনতি হিসেবে এড তার বাম পা হারায়, এবং অ্যাল তার শরীর হারায়। এই ট্র্যান্সমিউটেশনের ফল হিসেবে তৈরি হয় একটি হোমানকুলাই। অ্যাল এর আত্মাকে বাঁচানোর জন্যে এড সাথে সাথে একটা suit of Armour এর মাঝে চক্র আঁকে এবং নিজেকে উৎসর্গ করে, যেন নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও সে অ্যালকে ফেরত পায়। অবশেষে নিজের ডান হাতের বিনিময়ে সে অ্যালের আত্মা ফেরত পায় এবং অ্যাল suit of Armour এ বন্দী আত্মা হিসেবে জীবিত থেকে যায়। ওদের শরীর Gate of Alchemy র মাঝে আটকা পড়ে যায়। ডান হাত ও বাম পা হারানো এডকে নিয়ে অ্যাল দৌড়ে যায় তাদের প্রতিবেশী “রকবেল” দের কাছে যাদের অটোমেইল এর কারখানা আছে (কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বানানোর কারখানা), সেখানে এড কে মেকানিক্যাল হাত ও পা বানিয়ে দেয় উইনরি ও তার দাদি।

নিজের ভুলকে শোধরানোর জন্যে বদ্ধপরিকর এড ঠিক করে, যে করেই হোক, ফিলসফারস স্টোন খুঁজে বের করবে, এবং সেটার সাহায্যে সে যে ভুল করেছিল, সেটা শোধরাবে আর অ্যালকে তার আসল শরীরে ফিরিয়ে আনবে। এ জন্যে তার দরকার ছিল অনেক তথ্য, যেটা একমাত্র মিলিটারির লাইব্রেরীতে পাওয়া সম্ভব। তাই সে কর্নেল রয় মাসট্যাং এর পরামর্শে মিলিটারির অ্যালকেমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ও বিভিন্ন বাঁধা পেরিয়ে পরীক্ষা পাস করে “সর্বকনিষ্ঠ স্টেট অ্যালকেমিস্ট” হিসেবে যোগ দেয়। মিলিটারি থেকে সে বিভিন্ন জায়গায় অ্যাসাইনমেনট কমপ্লিট করতে যায় এবং একই সাথে খুঁজতে থাকে ফিলসফারস স্টোন।

ব্রাদারহুড এখনো দেখা হয়ে ওঠেনি, কাজেই তুলনা করার প্রশ্নই আসেনা। তবে সবদিক মিলিয়ে আমার কাছে ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্ট খুবই ভালো লেগেছে এবং শেষ না করা পর্যন্ত নিঃশ্বাস নিতে পারিনি। এন্ডিংটা ভালো লেগেছে, খারাপ ও লেগেছে এডওয়ার্ড, অ্যালফনস এবং উইনরির জন্যে।

চরিত্র বিশ্লেষণে যাবনা, কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে প্রতিটা চরিত্রই তার মর্যাদা রেখেছে। আর এডওয়ার্ড কে কেউ শর্ট বললে তার রিঅ্যাকশন, যতবার দেখি কখনো পুরনো হয়না! দুই ভাই এর মাঝে যে বন্ধন, সেটা দেখে অবাক হয়েছি অনেকবার ই।

প্রতিটা ওপেনিং আর এন্ডিং সুন্দর, তবে আমার কানে সবসময় বাজতে থাকে প্রথম ওপেনিং টা।

একই সাথে মজা, অ্যাকশন, রহস্য, ইমোশন আমার অল্প এনিম দেখা জীবনে আর পাইনি। কাজেই কেউ সাজেশন চাইলে একবাক্যে এটার নাম বলতে দ্বিধা করব না 

 

108065

Children Who Chase Lost Voices – Anime movie review by Torsha Fariha

ডিরেকটর- মাকোতো শিনকাই
আইএমডিবি রেটিং- ৭.৩/১০

যারা মাকোতো শিনকাই এর নাম শুনেই ৫ সিএম পার সেকেন্ড কিংবা কোতোনোহা নো নিওয়া’র মত ম্যাচিউরড অ্যানিমেশন মুভি আশা করছেন তাদের বলছি এই মুভিটা ফিকশনাল( অনেকটা মিয়াজাকির ঘিবলি মুভিগুলার মত)। তাঁর নরমাল কাজের তুলনায় বেশি লাইভলি, অ্যাডভেঞ্চারাস। তবে একেবারে বাচ্চাদের কাহিনী এটা না। বোঝার, ফীল করার, কষ্ট পাবার, শূন্যতা অনুভব করার সব উপকরণই আছে। 

এই কাহিনীর নায়িকা আসুনা নামের একটা মিডল স্কুলে পড়া মেয়ে। আসুনার বাবা মারা যায় ছোট থাকতেই আর মা নার্স। যেহেতু কাজের চাপে মা খুব একটা সময় দিতে পারে না আসুনাকে। তাই দিনের অনেকটা সময়ই সে একা একা তার বাবার দেয়া ক্রিস্টাল রেডিও শুনে কাটায়। মাঝে মাঝেই সে খুব অদ্ভুদ সুর শুনতে পেত রেডিওতে। খুব সুরেলা কিন্তু কেমন যেন মনকে বিষাদ করে দেয়া একটা ভিনদেশী গান।
একদিন ক্লাব হাউজে যাবার পথে আসুনাকে হঠাৎই একটা অদ্ভুত জন্তু আক্রমন করে বসে। এবং তাকে বাঁচায় শুন নামের এক রহস্যময় ছেলে। এভাবেই দেখা হয় শুন আর আসুনার।
পর পর দুইদিন দেখা হয় তাদের। আসুনা শুনকে তার হাইড আউটে নিয়ে আসে, তার ক্ষত পরিষ্কার করে দেয়, তাকে ক্রিস্টাল রেডিওতে সেই অদ্ভুত গান শুনায়।

শুন জানায় সে আগার্থা নামের এক দেশ থেকে এসেছে একটা জিনিস খুঁজতে। শেষ দিন শুন বিদায় নেয়ার সময় আসুনার কপালে কিস করে ব্লেসিং হিসেবে। আসুনা তো লজ্জায় লাল হয়ে কোন মতে পরের দিন আসবে বলে পালিয়ে আসে।

কিন্তু পরের দিন তার মা তাকে জানায় পাহাড়ের কাছে এক ছেলের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এবং দেখা গেল সেটা শুনের মৃতদেহ ছিল। আসুনা কোনভাবেই বিশ্বাস করে না শুন মারা গেছে। 
সে এরপর একদিন ক্লাসে আগার্থা নামে দেশের কথা জানতে পারে তাদের নতুন টিচারের কাছ থেকে। আগার্থা হল মৃতদের দেশ। এর কিছুদিন পর তার সাথে শুনের জমজ ভাইয়ের সাথে দেখা হয় যে শুনকে খুঁজতে এসেছিল।

যাহোক ঘটনাক্রমে আসুনা জানতে পারে তাদের নতুন টিচার মুরাসাকি আগার্থায় যেতে চায় তার মৃতা স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে। এভাবেই আসুনা, শুনের যমজ ভাই আর মুরাসাকি সেন্সেই এর আগার্থা অভিযান শুরু হল। একদিকে সেই গানের রহস্য অন্যদিকে শুনের অন্তর্ধানের রহস্য- সব কিছুর সমাধানে বিপদ সংকুল পথে পা বাড়ায় আসুনা।

মোটামুটি এটাই হল কাহিনী। চমৎকার একটা মুভি। যদিও আমি প্রথমে বলেছি ঘিবলির হাসিখুশি মুভির মত এটা । প্রথমে হয়তো যে কারোই সেরকম মনে হবে। কিন্তু দেখা শুরু করলে বোঝা যাবে মাকোতো শিনকাই এর হাতের কাজ কতটা ইউনিক… কতটা অন্যরকম!