Violet Evergarden [রিভিউ] — Loknath Dhar

I want to know what ‘I love you’ means.
– Violet Evergarden.
 
মানুষ – অদ্ভুত, জটিল একটা প্রাণী। সহজ, সরল আবেগগুলোকে কি জটিল করেই না উপস্থাপন করে! মাঝে মাঝে মনে হয়, সকল অসুন্দর আর সুন্দর -এর জন্ম এই সহজ আর জটিলতার মাঝে। আমার মনে পড়লো, একদিন ছোটভাইয়ের সাথে আমার রেগে যাওয়ার কথা, কোন একটা কারণে রেগে গিয়ে ফোনে বললাম, আবারও ফোন করলে তোর খবর আছে। রাতে আবিষ্কার করলাম, গাধাটায় সত্যি সত্যিই আর ফোন দেয় নি – ভয়ে হোক অথবা আমার কথা মেনে নিয়ে। অথচ আমি মানুষ, হয়তো ফোন দিয়ে ‘ভুল হয়ে গেছে’ বললেই কপট রাগে আমি বলতাম, হইছে, পড়তে যা। ফোনটা রেখে হয়তো একটু হেসে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম নিজের পৃথিবীতে। মানুষের শব্দই সবকিছু না। শব্দের বাইরেও বলার মত বিশাল পৃথিবী থাকে। মানুষ সবকিছু বুঝে উঠতে পারেও না। যেমন আমি, আমি বুঝি না পৃথিবীর অনেককিছুই। এই বিশাল, না বোঝার পৃথিবীতে আমার একলা একলা লাগে। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি, গল্পগুলো দেখি। মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামে, মাঝে মাঝে অসহ্য রোদ। ক্লান্ত বিকেলের পরে যে সন্ধ্যেগুলো বাতাস বয়ে নিয়ে আসে একটা ফিসফিসানি, একটু চোখ মেলে তাকানোর; তাতে সজোরে শ্বাস নিয়ে আমি বোঝার চেষ্টা করি, সমগ্র অস্তিত্বটাকে হাচড়ে পাঁচড়ে আঁকড়ে ধরে, বেঁচে থাকাটা আসলে কি? ঠিক যেমন, ভায়োলেটের যাত্রার মত, আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ কি?
 
 
অজস্র প্রশ্নে জর্জরিত পৃথিবীতে মানুষ সেই আদিকাল থেকেই খুঁজে বেড়াচ্ছে নিজের স্বত্তাকে অনুভব করার, বুঝে ওঠার; আমাদের অস্তিত্বের সাথেই, একেবারে পাশেই বসে থাকা প্রেম, এই ভালোবাসার অনুসন্ধান করে নি, এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর হতেও পারে। হয়তো বুঝে, হয়তো না বুঝে তবু সন্ধান করেছে সবাইই। তবুও, শব্দ সবকিছু বলে না, কথার বাইরেই কথা থাকে, থাকে আস্ত একটা পৃথিবী, ভালোবাসি তো মোটে ভাষার একটা শব্দ, একটা অনুভূতিকে নির্দেশ করে কিন্তু এই অনুভূতিটা কি? এই ছোট্ট শব্দটার বিস্তৃতি কতটুকু? এই শব্দটার সত্যিকারের অর্থ কি? প্রিয় ভায়োলেটের সাথে হাঁটতে হাঁটতে বিষণ্ণ, পরিচিত পৃথিবীতে ফিরে গিয়েছি অসাধারণ, অন্য পৃথিবী থেকে উঠে আসা সুরগুলোর সাথে, প্রিয় ভায়োলেট, তোমার উত্তর কি? একটা বিষণ্ণ কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর একটা হাসি!
 
হয়ত‌ো ওটাই ভালোবাসা?
ছোট্ট, বিষণ্ণ হাসি কত গল্প ধারণ করতে পারে, ভাবা আছে?
 
গল্পঃ বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি থেকে উঠে আসা গল্পের চরিত্র ভায়োলেট আবিষ্কার করে নতুন, একটা সম্পূর্ণ অপরিচিত পৃথিবী যেখানে সে আক্ষরিক অর্থেই একা। যুদ্ধে ভায়োলেট ছিলো খুনে একটা অস্ত্রের প্রতীক, যে শুধু খুন করতেই জানে, অন্য কোন অনুভূতির সাথে সে পরিচিত নয়। সে যুদ্ধের পৃথিবীতে তার একটাই মানুষ ছিলো, মেজর গিলবার্ট, যার অর্ডারে সে করতে পারতো না এমনকিছু নেই। যুদ্ধে মেজর গিলবার্ট মারা যাবার ঠিক আগে ভায়োলেটকে অর্ডার দিয়ে যায় বাঁচতে এবং, এবং, অনুভূতির এই জটিল, অপরিচিত পৃথিবীতে ভায়োলেটকে উপহার দিয়ে যায় তিনটি শব্দ, আমি তোমাকে ভালোবাসি।
 
আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ কি, ভায়োলেট?
 
আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ খুঁজতেই শুরু হয় ভায়োলেটের গল্প, যুদ্ধের পর যুদ্ধাবশেষের উপর গড়ে ওঠা নতুন একটা পৃথিবীতে। শুরু হয় এক ভ্রমণ, ভালোবাসার অর্থ খোঁজা যার মূল লক্ষ্য। অটো মেমোরি ডল হিসেবে জীবন শুুরু করে সে, যার কাজ হলো প্রিয়জনকে চিঠি লেখা। চিঠি লেখার মাধ্যমে মানুষের এই অসহ্যকর, অসহনীয় জটিল অথচ সহজ আর সুন্দর অনুভূতিকে তুলে আনা। সম্পূর্ণ অপরিচিত পৃথিবীতে ভায়োলেট তিনটি শব্দের অর্থ কি খুঁজে পাবে?
 
অনুভূতিকে বুঝতে হলে ছুঁতে হয় অন্যকে, আঙুলের, হাতের স্পর্শে নয় – খেয়াল করতে হয় মানুষটাকে; শব্দের সাথে সাথে খেয়াল করতে হয় চোখ, গলার কম্পন, হেঁটে চলে যাবার ভঙ্গি। শুনতে হয় তার গল্প, নিজেকে খুলে দিতে হয় তার কাছে, তার চোখ দিয়ে দেখা পৃথিবীটাকে গড়ে নিতে হয় নিজের ভেতর, তার জীবনের চরিত্রগুলোকে বুঝতে হয় তার চোখ দিয়ে, নিজের অনুভূতির অনেকটা অংশ বরাদ্দ দিতে হয় সেই পৃথিবীটার কাছে। মানুষ এমনই জটিল, এমনই সুন্দর!
 
ভালোবাসা কি শুধুই একটা শব্দ? বেঁচে থাকার কারণ, এগিয়ে যাবার কারণ, সুখ, দুঃখ, ব্যথা, হাসি, কান্নার কারণ – কত রহস্য ধারণ করে একট শব্দ? শব্দটা আসলে কি?
 
ভায়োলেটের উত্তর খুঁজে পাওয়ার সাথে সাথে উত্তর খুঁজে পাক সেই সকল মানুষ, যারা এই সুন্দর শব্দটার কাছে এসে বসেছে, বুঝতে চেয়েছে তার গতিপ্রকৃতি। উত্তর হোক যার যার নিজের মত, যতটা সুন্দর মানুষ হয়।
 
অসাধারণ এনিমেশন, চমৎকার গল্প (একটু ধীরগতির), চমৎকার সাউন্ডট্র্যাক আর অজস্র ব্যথা আর কান্নায় মোড়ানো এবং প্রবল বৃষ্টির পর দিনশেষে মেঘের আড়াল হতে বেরিয়ে আসা মিষ্টি রোদের মতন ছোট্ট একটু হাসি – এটা হচ্ছে আনিমে, ভায়োলেট এভারগার্ডেন।
 
সাজেশনঃ ভায়োলেট এভারগার্ডেনে অবর্ণনীয় একটা সৌন্দর্য আঁকা হইছে পুরোটা গল্প জুড়ে, যা বুঝতে হলে দেখতে হবে, বুঝিয়ে বলার কোন ভাষা নাই। আমার কাছে, ভায়োলেট এভারগার্ডেন একটা ক্লাস। এস্থেটিক কিছু একটা।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime : Violet Evergarden
  • Type : Series
  • Genre : Slice of life, Drama, Fantasy
  • Studio : Kyoto animation
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০
 
(বিঃদ্রঃ -০১: আনিমের ভেতর প্রিয় অনেক কথা আছে, অনেক দৃশ্যের ব্যক্তিগত গল্প আছে। বলতে গেলেই স্পয়লার হয়ে যাবে। সামলে রাখা পুরোটাই। দেখতে দেখতে উপলব্ধি হোক। উপলব্ধিতে ছুঁইতে পারলে পৃথিবী আরও সুন্দর হোক। এই আনিমের স্পয়লার দেয়া মারাত্মক অপরাধ। কারণ, অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড়ানো হোক নিজ থেকেই। চোখ জুড়ে কান্না আসুক, ঠোঁটে আসুক মিষ্টি একটু হাসি।
 
বিঃদ্রঃ -০২: কথাটা ইউটিউবের কমেন্ট থেকে পাওয়া; যারা আনিমেটা দেখেছেন, তারা কি উপলব্ধি করেছেন, শুরুর গানটা ভায়োলেটের, মেজর গিলবার্টের প্রতি?)

Ride Your Wave [মুভি রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

ইচ্ছেপূরণ বা wish-fulfillment একটা ইতিবাচক জিনিস হিসেবেই বিবেচিত আমাদের কাছে। দিনশেষে সবকিছু ভালভাবে মিটে গেলেই আমরা খুশী, মিটে না গেলেও সবকিছু মিটে যাওয়ার সুখস্বপ্ন নিয়ে থাকতে আমরা ভালোবাসি। কিন্তু লেবু বেশী চিপলে যেমন তিতে হয়ে যায় তেমনি অতিরিক্ত উইশ-ফুলফিলমেন্ট বাস্তবতাকে ততোধিক বিকৃত করে ফেলে। এনিমে ইন্ডাস্ট্রির একটা বড় আকারের কাজ এই দোষে দুষ্ট। তারপরেও এনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে এ ধরণের গল্পের চাহিদা প্রচুর। প্রথমেই সমালোচনা করছি মানে এ নয় যে আমি এ ঘরানার গল্প নিতান্তই অপছন্দ করি। Clannad এই বৈশিষ্ট্যের পরাকাষ্ঠা হওয়ার পরেও আমার সেরা দশ এনিমের তালিকায় অনায়াসে জায়গা করে নেয়।

তবে Ride Your Wave নিয়ে শুরুতেই কেন আমার এত নেতিবাচক ভূমিকা! দোষটা আসলে সরাসরি এনিমে মুভিটার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া যায় না। দোষ দিলে দিতে হবে আমার এক্সপেক্টেশনকে! মাসায়াকি ইউয়াসা আর Science Saru এর কাছ থেকে আমার প্রত্যাশা বরাবরই প্রবল থাকে। ইউয়াসার কাজকে ক্ষুদ্র পরিসরে মাপা দুরূহ কাজ। সংক্ষেপে বলতে গেলে তার কাজের ব্রিলিয়ান্সটা লুকিয়ে আছে অদ্ভুতুড়ে জিনিস উপহার দেয়ার মধ্যে। জাদুবাস্তবতাও তার কাজের আরেকটা বড় উপাদান। এহেন ইউয়াসা যখন দু-বছর পরে (The Night is Short, Walk on Girl এর মুক্তির পর) এমন generic একটা মুভি বানিয়ে ফেলেন তখন নেতিবাচক পোস্ট দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

Ride Your Wave মুভিটা যাবতীয় জেনেরিক দোষে দুষ্ট। ঘটনাক্রমে নায়ক-নায়িকার দেখা হয়ে গেল, তারপর তারা কিছু সময় কাটানোর পর কাছাকাছি হওয়া শুরু করলো, একে-অপরের অনুপ্রেরণা হিসেবে আবির্ভূত হল; এরকম কয়েকটা কমন থিম নিয়েই মুভির শুরুটা। তাও প্রথম ত্রিশ মিনিট আমি মুভিটাকে কিছুটা মাফ করে দিতাম কারণ নায়ক-নায়িকার মিষ্টি মিষ্টি সময় কাটানোটা ভালই লাগছিল। চরম ইউটোপিয়ান একটা পরিবেশে তখন দুজনে বাঁধা পড়ে, বল্গাহীন ভাবে তারা জীবনকে যৌবনের নিরীখে উপভোগ করছিল। একটা ভাল দিক ছিলো, মিনাতো আর হিনাকো দুজনেই ছিল হাইস্কুল পেরোনো মানুষ, তাই তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো ছিল সাধারণ এনিমের চেয়ে বেশী সাহসী। এখানে উইশ-ফুলফিলমেন্ট থেরাপি কাজ করছিল আমার উপর। দৈনন্দিন জীবনের যাঁতাকলে নিত্য পিষ্ট আমার কাছে দুই তরুণ-তরুণীর আগলছাড়া রোমান্টিসিজম ভাল লাগবে অবশ্যই।

ভাল না লাগার মাত্রাটা বাড়ে যখন গল্পের তাগিদে মিনাতো মারা যায়। মৃত্যূটা বীরোচিত ছিল তবে নিঃসন্দেহে বলা যায় কোন গভীরতা বহন করছিল না। ২০১৮ সালে বের হওয়া I wanna eat your pancreas মুভিতেও একই ঘটনা ঘটতে দেখেছি। এরপরেও ভেবেছিলাম মুভিটা সম্ভবত প্রিয় মানুষ হারানোর বেদনার উপর আলোকপাত করবে হিনাকোর দৃষ্টিকোণ থেকে। তাও হলো না! আকাশ থেকে আনা হলো সুপারন্যাচারাল ম্যাটেরিয়াল, আমাকে পুরো বোকা বানিয়ে মুভিটা দেখালো যে পানির মধ্যে মিনাতোর অস্তিত্ব নিতান্ত হিনাকোর হ্যালুসিনেশন নয় বরং বাস্তব! তারপর আবার ‘দেখা পেয়েও ছোঁয়া হলো না’ ঘরানার জেনেরিক জিনিসের আমদানী। অথচ বোকা আমি Shape of Water এর গন্ধ খোঁজার চেষ্টা করছিলাম তখন ফিল্মে! (অট্টহাসির আওয়াজ হবে)
শেষমেষ ফিল্মটা আমাকে শতভাগ বেকুব আর হতাশ বানিয়ে হিনাকোর সিঙ্গেল থাকা দেখিয়ে শেষ হলো।

তারমানে এমন না যে মুভিটাতে ভাল কোন উপাদান নেই। অ্যানিমেশন মনকাড়া, সার্ফিংয়ের জায়গাগুলা অপূর্ব। ইউয়াসার ট্রেডমার্ক ফ্লুইড অ্যানিমেশন আছে জায়গায় জায়গায়। ক্যারেকটার ডিজাইন সুন্দর, রোমান্টিক জায়গাগুলোতে হিনাকো আর মিনাতোকে খুবই সুন্দর লাগছিল। কিন্তু ঐযে style over substance বলে একটা কথা আছে না, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এই মুভিটা। আর ওএসটির কথা বলতে গেলে আরেক নাটকের অবতারণা করতে হয়! পুরো মুভিতে একটা মাত্র গান বারবার ব্যবহার করা হয়েছে যে জিনিসটা আমার কাছে পরে বিষপানের মত মনে হচ্ছিল। এমন বলবো না যে Generations from Exile Tribe এর গাওয়া ‘Brand New Story’ গানটা খারাপ, বরংচ বেশ ভাল একটা গানই এটা নিজ জনরার মনে করি। তবে বারবার একই গান ব্যবহার করাটা খুব বাজে লাগছিল, কেন একই গ্রুপকে দিয়েই আরো দু-তিনটা গান গাইয়ে মুভিতে ব্যবহার করা হলো না তা এখনও বোধগম্য হলো না। এই প্রথমবারের মত ইউয়াসা আমাকে পুরোপুরি হতাশ করতে সমর্থ হলেন!

সারাংশ:
সাধারণ মুভি হিসেবে উপভোগ্য
মাসায়াকি ইউয়াসা মুভি হিসেবে চরম হতাশাজনক

I Want to Eat Your Pancreas [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

যদি আপনাকে বলা হয়, আপনি আর দুই কি তিনমাস বেঁচে থাকবেন এই পৃথিবীতে, আপনি তখন কী করবেন? ঘরে বসে থেকে অজস্র চিন্তায় সময় নষ্ট করবেন নাকি আরও চমৎকার বেঁচে থাকার চেষ্টা করবেন, ঘর থেকে বেরিয়ে পড়বেন ক্ষুদ্র জীবনের ছোট্ট বাকেটলিস্টটার কিছু ইচ্ছে পূরণ করতে? ওয়েল, আমার মত অনেকেই দ্বিতীয় অপশনটা খপ করে ধরে নিবে। কিন্তু ধরেবেঁধে নিয়ম দিলেই আপনার কেন সেই ইচ্ছেটা পূরণ করতে হবে? আপনি তো আগামীকালও মারা যেতে পারেন ঘর বসে থেকেই, কিছু জেনে বুঝে ওঠার আগেই। তাহলে প্রতিদিন যে চমৎকার বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন না, নিজের ছোট্ট বাকেটলিস্টটার প্রতিটি অপশনে টিক দিচ্ছেন না, this was a life worth living কথাটা ভাবার আগেই যদি হারিয়ে ফেলেন সমস্ত অস্তিত্ব, তখন কেমন হবে? এখন, যদি উত্তর হয়, কারণ সাধারণ জীবনে আমাদের কিছু দায়িত্ব থাকে, সময় ও সুযোগ হয়ে উঠবে না অনেক ক্ষেত্রেই, দুইয়ে দুইয়ে চার হয় না, তাহলে বলুন, দুটি মৃত্যুর ভেতরে আসলে পার্থক্য কি খুব বেশি? জন্মিলে মরিতে হয় – এর চেয়ে সত্য যেমন নাই, তাহলে মৃত্যুটা নিশ্চয়তার জালে আটকা পড়ে গেছে অনেক আগেই; বেঁচে থাকার লিমিটটা জানা যদি হয়েও যায়, তবুও কেন তাকে আলাদা চোখে দেখতে হবে? আগামীকাল আপনি মারা যাবেন সম্ভাবনার সাথে এটা সত্য এই যে, একদিন না একদিন আপনি মারা যাবেনই; তাহলে দুই কি তিনমাস পরে যে মৃত্যুটাকে বরণ করতে যাচ্ছে, তার সাথে আপনার তো তেমন পার্থক্য নেই। তার জন্য মন খারাপ না করে, তাকে করুণার চোখে না দেখে বরং তার সাথে জীবনটাকে, নিজের সময়টাকে একটু মিলিয়ে নিজের স্বাভাবিক জীবনের মত তার জীবনকে স্বাভাবিক উপহার দিলে যে সৌন্দর্যের রচনা হয়, সে সৌন্দর্যের মতন সৌন্দর্য কমই আছে পৃথিবীতে, অনুভব করতে পারেন?
 
এমন অদ্ভুত নামের মুভিটাতে এই চিন্তার দেখা মিলেছে এবং মুভিটা সত্যিকার অর্থেই জানতে চেয়েছে, তার গল্পের মাঝে, আপনার কাছে, প্রিয় দর্শক, বেঁচে থাকাটা আপনার কাছে কি?
 
এবং মুভির উত্তরটা পেতে হলে আপনাকে নিজেরই দেখতে হবে।
 
 
প্যানক্রিয়াস নামের সাথে যদি পরিচয় না থাকে, অদ্ভুত নামটা দেখে ভাববেন না, হাতে তৈরি মিষ্টি, লোভনীয় কোনো খাবার, সাধারণ অর্থে প্যানক্রিয়া হইলো মানুষের দেহের পাচকতন্ত্রের একটা অঙ্গ, যা খাবার হজমে সহায়তা করে এবং মানুষকে তার দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতাকে চালু রাখার জন্য শক্তি প্রদান করে (ডাক্তারদের হাই!)। ওয়েট ওয়েট, এইটা ক্যানিবালিজম নিয়ে কোনো মুভিও না, মুভিতে শুধু একটুখানি প্যানক্রিয়া খাওয়ার ইচ্ছেই প্রকাশ করছে কারণ জাপানিজ এক প্রবাদ বা বিশ্বাস অনুযায়ী, আপনার কোনো দেহের কোনো অংশে যদি কোনো সমস্যা থাকে এবং প্রিয়জনের সেই অংশটা যদি আপনি খান, তাহলে আপনার সেই বডি পার্টটা সুস্থ হয়ে যাবে।
 
সাকুরা, গল্পের মূল চরিত্র প্যানক্রিয়াটিক ডিজিজে ভুগছে এবং শ্রীঘ্রই সে মারা যাবে। তারই ক্লাসের নামহীন এক ক্লাসমেইট হাসপাতালে একদিন তার ডায়রি আবিষ্কার করে এবং ডায়রিতে চোখ বুলিয়ে সে জানতে পারে, কিছুদিন পরেই সাকুরা মারা যাচ্ছে। সাকুরার কাছে জানতে পারে, ক্লাসের একমাত্র সেই জানলো এই তথ্যটা এবং ক্লাসমেইট বি লাইক, হু কেয়ারস। চললাম।
 
জীবন তাদের কাছে কি, বেঁচে থাকাটা কি সেটাই গল্পে উঠে এসেছে একদম শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত।
আই মিন, মার্ভেল ইউনিভার্সের মত ক্রেডিটের শেষেও গল্প রাখা আছে। দেখিয়েন।
 
মুভিটা প্রেডিক্টেবল। মুভির ডিরেক্টরও জানতেন, তাই শুরুতেই তিনি স্পয়লার খাইয়ে দিয়েছেন, লেখা পড়ে সেটাও আপনি বুঝতে পারছেন সহজেই। এই ধরনের মুভিতে উঠে আসার কথা যে যে বিষয়গুলো – কমবেশি সবই উঠে এসেছে এবং আপনি যদি ভাবেন, প্রেডিক্টেবল মুভিটা দেখে লাভ কি – ওয়েল, প্রেডিক্টেবল, তবুও সুন্দর। অনেক সুন্দর! এক্সট্রোভার্ট আর ইন্ট্রোভার্ট দুই প্রোটাগনিস্ট জীবনকে কিভাবে নিচ্ছে, নিতে যাচ্ছে – দেখতে দেখতে মন খারাপ হয়তো হবে আবার ভালোও লাগবে ভীষণ। মানুষ হিসেবে আমরা অন্য মানুষের কাছে কি চাই? সুন্দর কিছু স্মৃতি? হ্যাঁ, আর বুকের গভীরে কোথাও লুকিয়ে থাকা ছোট্ট একটা ইচ্ছে, আমাকে একটু মনে রাখুক।
 
আপনি কেন বাঁচবেন জানেন? কারণ, আপনি মারা যাওয়ার সাথে সাথেই আপনাকে ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষগুলোর স্মৃতি আপনার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যাবে। আর এই স্মৃতিগুলো ইউনিক কারণ মানুষ হিসেবে আপনি নিজেই ইউনিক, আপনার মতন মানুষ পৃথিবীতে আর একটাও নাই, আপনার চোখ দিয়ে দেখা সেই মানুষগুলোর ছবি আর কারো চোখে দেখা নাই। তাই হয়তো মানুষ বাঁচে, তাই হয়তো বাঁচতে হয়। আনিমের কিছু শক্ত ভিত্তির ভেতর এই অনুভূতিটা অন্যতম একটা উপাদান এবং এই মুভিতেও এই ভাইভটা উঠে এসেছে শক্তভাবেই।
 
চমৎকার এনিমেশনের সাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সাথে, নরম, আরামদায়ক অথচ ব্যথাতুর উপস্থাপনার প্রেডিক্টেবল এই মুভিটা দেখা শেষ করে একটু ব্যথাই লেগেছে – প্রিয় মানুষগুলো চলে গেলেও ব্যথা বুকে নিয়ে মুখে হাসি রেখে বেঁচে থাকা জীবনটা এত সুন্দর, এত সুন্দর! সেই সৌন্দর্যটা অনুভব করে নিতে হয় কিন্তু চোখে দেখা যায় না কেন? এত অদ্ভুত সৌন্দর্যের কোনো মানে হয়?
 
সাজেশনঃ আবারও বলছি, প্রেডিক্টেবল মুভি। কিন্তু দেখে আশা করি মনে হবে না, সময় নষ্ট করেছি।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime : I want to eat your pancreas.
  • Type : Movie
  • Genre : Drama
  • Director : Shin’ichirō Ushijima
  • Studio : Studio VLON
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Sakib’s Hidden Gems – Episode #06

আনিমে: Sakurako-san no Ashimoto ni wa Shitai ga Umatteiru (Beautiful Bones -Sakurako’s Investigation)

জানরা: মিস্টেরি
এপিসোড সংখ্যা: ১২
 
হাইস্কুল স্টুডেন্ট তাতেওয়াকি শৌতারৌ ঘটনাচক্রে একদিন দেখা পায় কুজৌ সাকুরাকো নামের এক সুন্দরী মহিলার সাথে। সাকুরাকোর একটা অদ্ভুত খেয়াল আছে – সে তার চারপাশের মানুষদের ব্যাপারে যতটা উদাসীন, জীবজন্তু ও মানুষের শবদেহ ও হাড়গোড়ের ব্যাপারে ঠিক ততটাই উৎসাহী। এই উৎসাহকে সে প্রায় পাগলামির পর্যায়ে নিয়ে গেছে এবং সে তার হাড়গোড় সম্পর্কে গভীর জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অস্টিওলজিস্ট হিসেবে রোজগারও করছে। কিন্তু এর বাইরেও ওর আরও একটা শখ আছে। মৃতদেহের উপর নজর বুলিয়েই সে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে অনেক কিছু আঁচ করে নিতে পারে একজন দক্ষ ফরেনসিক বিশেষজ্ঞর মতোই। এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সে আনিমে জুড়ে বেশ কিছু কঠিন মার্ডার মিস্ট্রির সমাধান করে। এই কাজে তাতেওয়াকি ওর সহকারীর ভূমিকা নেয়।
 
 
গল্পের কেসগুলো বেশ উপভোগ্য। সাকুরাকোকে আপনার ভালো লাগার কথা। আর ভালো লাগলে এই আনিমেটাও ভালো লাগবে আশা করি।
মিস্ট্রি আনিমে ভক্তদের আমি এই আনিমেটি সাজেস্ট করলাম। তবে আনিমেটি মাঝপথে শেষ হয়ে গেছে। এই ব্যাপারে খুব বেশি আপত্তি না থাকলে স্বচ্ছন্দে দেখতে পারেন।

Sakib’s Hidden Gems – Episode #05

আনিমে: Saiunkoku Monogatari (The Story of Saiunkoku / ColourCloud Palace)

জানরা: শৌজো, হারেম, হিস্টরিকাল, ড্রামা
এপিসোড সংখ্যা: ৩৯ + ৩৯
 
গল্পের সেটিং হচ্ছে প্রাচীনকালের চীনদেশ। গল্পের নায়িকা কৌ শূরেই, যে কিনা একটি দরিদ্র অথচ অভিজাত পরিবারের মা মরা মেয়ে। খুব বুদ্ধিমতি ও শিক্ষিত কৌ শিশুকাল থেকেই রাজ্যের অধিকাংশ গরীব মানুষদের দুঃখ কষ্ট ও অভাব-অনটন দেখে আসছে। ধনী-গরীবের মাঝে বিস্তর ফারাকও সে দেখেছে। সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওদের রাজ্যের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সরকারী কাজ করবার অধিকার অর্জনের। এভাবে সে চায় সরকারি কাঠামোর ভিতরে ঢুকে একটা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে। (হ্যাঁ, এটা আমাদের বিসিএসের মতই কিছু একটা।) কিন্তু এর জন্য তাকে লড়তে হবে তৎকালীন পুরুষপ্রধান সমাজের বিরুদ্ধে, যেই সমাজে এখনো নারীদের এই পরীক্ষায় অংশ নিতেই দেওয়া হয়নি।
এমতাবস্থায় বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত তার কাছে একটি প্রস্তাব আসে। বহু স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে তাকে বর্তমান অকর্মা রাজার উপপত্নী হতে হবে, আর তাকে রাজ্যচালনার দিকে মনোনিবেশ করাতে হবে। কৌ এই চ্যালেঞ্জ মেনে নেয়, এরই সাথে নিজের স্বপ্ন পূরণের দিকেও পা বাড়ায়। এভাবেই গল্প আগাতে থাকে।
 
 
গল্পটির সেটিং খুবই ইউনিক, তবে গল্পের প্রাণ হল কৌ। সে তার চারিত্রিক দৃঢ়তা ও অকপট আচরণ দ্বারা কেবল রাজাই নয়, রাজ্যের আরও অনেক হর্তাকর্তাদের মন জয় করে নেয়। অনেক হারেম আনিমের মূল চরিত্রের থেকে সে আলাদা। সে আর গল্পে উঠে আসা চীনের আর্থসামাজিক অবস্থা ও স্ট্রাগলই আনিমেটার মান ধরে রেখেছে।
 
ভালো লাগার মত ও বুদ্ধিমতি নারীচরিত্র সম্পন্ন আনিমের খোঁজে থাকলে, বা শৌজো আনিমের খোঁজে থাকলে এই আনিমেটি চেখে দেখতে পারেন।

Weathering with You [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

আনিমের এই জগতে আমার পা রাখাই মাকাতো শিনকাই -এর হাত ধরে এবং অবশ্যই সেই আনিমের নাম ছিলোঃ Your name. এরপর আর পেছন ফিরে তাকানো হয় নি, একের পর এক আনিমে দেখছি, মাকাতো শিনকাই-এর কাজগুলোকে আনিমে ইউনিভার্সের অভিজাত এলাকার সদস্য বলে দাবি করতে করতে তার মুভিগুলো দেখেছি। এবং তিনি আবারো ফিরে এলেন তার মুভি Weathering with You দিয়ে; এই রিভিউটি মাকাতো শিনকাই, মুভির ভালো এবং খারাপ এবং আমার কিছু ব্যক্তিগত ভাবনা মিলিয়েই।
 
 
গল্পঃ হোদাকা ঘর পালানো ষোল বছরের একজন কিশোর যে টোকিওতে এসেছে অন্য এক জীবনের আশায়। জাপানের ব্যস্ততম শহর টোকিও তার কাছে বিভীষিকাময় লাগে কেননা টোকিও এবং এর বাইরের অঞ্চল যেন দুটো দুই পৃথিবী (উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা নতুন কোন মানুষের প্রথম ঢাকা দর্শনের অনুভূতির মতন); তবু টোকিওর পথে দিন পার করতে করতে তার পরিচয় হয় আঠারো বছরের হিনা নামের এক মেয়ের সাথে এবং সে আবিষ্কার করে, হিনা আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ঠিক একই সময়ে টোকিওতে প্রচুর ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে, টোকিওর ব্যবসায়িক অবস্থা পরিবেশের এই খারাপ অবস্থার জন্য নিম্নগামী। হোদাকা হিনাকে “সানশাইন গার্ল” হিসেবে ব্যবসা শুরু করতে বলে যে টাকার বিনিময়ে মানুষের প্রয়োজন অনুসারে আবহাওয়া পরিবর্তন করে মানুষকে সাহায্য করবে।
 

স্পয়লার এলার্ট

(ইওর নেম দেখেছেন, ভালো লেগেছে এবং এটা দেখেন নি – এমন হলে স্পয়লার না পড়াই শ্রেয়)
 
মাকাতো শিনকাই ইজ ব্যাক উইথ হিজ সিগনেচার স্টাইল – স্টোরি টেলিং এবং আর্ট।
 
একটা বড় প্রবলেম বলি, ইওর নেইম খুব বড় একটা ঝড় তুলে দিয়েছিলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড; ওয়েদারিং উইথ ইউ স্ট্যান্ড এলোন আনিমে হিসেবে চমৎকার কিন্তু একই ডিরেক্টরের দুটো মুভির উপস্থাপনের এনভায়রনমেন্ট স্টাইলটা একই হওয়ায় রিভিউগুলোতে খুব ভুগতে পারে। কেননা, আমি মুভি দেখার সময় বারবারই ফিরে ফিরে ইওর নেইমের কথা মনে পড়ছিলো। এবং (গভীর স্পয়লার এলার্ট), ইওর নেইমকে মনে পড়তে বাধ্য করে ছাড়লোও।
 
ওয়েদারিং উইথ ইউ এর পৃথিবী আলাদা। অন্যরকম। ব্যস্ত টোকিও শহরের অলিগলি উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউ -এর সাথে। শহরের সৌন্দর্যের পরিবর্তে শহরের স্বাভাবিক জীবনের ছুটে চলা সময়টা উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউতে যেটা ইওর নেইম থেকে একেবারেই আলাদা। মাঙ্গা ক্যাফে, শহরের কুৎসিত জায়গা, অসহ্যকর আবহাওয়া, অসম্ভব মনে হতে থাকা শহরের জীবনধারণ প্রক্রিয়া, মাফিয়া, ড্যাম কেয়ার মানুষজন – যেগুলো সাধারণ সৌন্দর্যের কথা বলে না, সেগুলোই উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউতে। তার অন্যান্য মুভির মত চকচকে, ঝকঝকে টোকিও শহরটা নেই, সাদামাটা একটা শহরে রঙিন দুটো প্রজাপতির মত কিশোর কিশোরীর একে অন্যকে আঁকড়ে ধরে বেড়ে ওঠার গল্পটা হয়তো ইওর নেইমের অসাধারণ উপস্থাপনার কাছে মিইয়ে এসেছে বলে মনে হবে প্রচুর দর্শকের কাছেই। কিন্তু আমার কাছে এর আবেদন একেবারেই অন্যরকম, একেবারেই আলাদা! টোকিওর আনাচে কানাচে সারভাইভ করতে করতে যে প্রেম গড়ে ওঠে, রূপ নেয় পরিবারে অথবা যায় ঝরে; মাকাতো শিনকাই এবারে সেই পৃথিবীর প্রেমটাকেই তুলে এনেছে ওয়েদারিং উইথ ইউ এর গল্পে, আরও বিশুদ্ধ রকম করে। যে প্রেমের ভেতর হয়তো অন্য কোন কিছুর স্থান নেই।
 
শিনকাই -এর মুভিগুলো দেখে আমার ভেতর একপ্রকার বিষণ্ণতা কাজ করে। আমার ভেতর একপ্রকার ব্যথাও করে। কারণ, শিনকাই তার প্রতিটি মুভিতে কেবল দূরত্ব তুলে ধরে। দুটো মানুষ যেন দুই পৃথিবীর, যারা একটু কাছে আসতে চায়, বসতে চায় মুখোমুখি, হয়তো বলতে চায় অগোছালো দু তিনটে কথা কিন্তু তাদের মাঝে কি বিশাল দূরত্ব! এই দূরত্ব কি করে পাড়ি দিয়ে কাছে এসে একবার বসা যাবে? আমার এ ভাবলে অদ্ভুত এক ব্যথা হয় যেন শিনকাই যে জীবনের কথা বলতে চায় তার দৃষ্টিকোণ থেকে, সে জীবনের অদৃশ্য দূরত্ব যেন ব্যক্তিগত জীবনে আমিও অনুভব করতে পারি, কোথাও কিছু একটা থাকার দরকার ছিলো। দ্য প্রমিজ ইন আওয়ার আরলি ডেইজ, ফাইভ সেন্টিমিটার পার সেকেন্ড, দ্যা গার্ডেন অব ওয়ার্ডস, ইওর নেইম এমনকি ওয়েদারিং উইথ ইউতেও এই দূরত্বের অনুভূতি টের পাওয়া যায়, দুটো মানুষের ভেতর কিন্তু ওয়েদারিং উইথ ইউতে এর গন্ধটা অন্যরকম। একেবারেই অন্যরকম।
 
তার অন্যান্য কাজের থেকে একটু আলাদা এই মুভিকে অনুভব করতে হলে হয়তো ভাবতে হতে পারে টোকিওর ছুটে চলা দিনগুলোর কথা, হয়তো ভাবতে হতে পারে আমাদেরই ঢাকা, আমাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং আমারই মত সারভাইভ করতে থাকা এই শহরের অচেনা কোনো প্রেমিকা। একদিন দেখা হলে বলে দেওয়া যেতে পারে, the world has always been crazy, it’s no one’s fault that it’s like this. I’m sure that I’ll be alright, we’ll be alright here, in this world.
 
যে প্রেমের কথা শিনকাই বলে গেলো ওয়েদারিং উইথ ইউতে সেটা কান্নার রংয়ে আঁকা, ব্যথার মতন সুন্দর। যে প্রেম শুধু মানুষটাকে চায় এই ব্যস্ততম শহরে, ব্যান্ড রডউইম্পসের সাথে বরাবরের মতই জীবন্ত হয়ে ফিরে এসেছে, বলতে চেয়েছে অনুভূতিটার কথা, দর্শক হয়তো খুব গোপন করে একসময় লালন করেছিলো সেই অনুভূতি।
 
অবশ্যই মুভিতে প্লটহোল আছে, ফ্যান্টাসি জনরার উপাদান আছে, স্টোরি এডভান্স হওয়ার কিছু জায়গা দুর্বল মনে হয়েছে বেশ কিন্তু যে গল্প আমি শুনতে চেয়েছি, বুঝতে চেয়েছি সে গল্পটা আমাকে টান দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে এসেছে সেসব জায়গা হতে। আমাকে বলতে চেয়েছে শিনকাই ইউনিভার্সের কথা, পরিচয় করিয়ে দিয়েছে তার পৃথিবীর সাথে। আর মেজর স্পয়লারটা এখানেই, ইওর নেইমের তাকি আর মিতসুহার দেখা পাওয়া (মিতসুহার মত রূপবতী আর কেউ নাই।
 
মুভিটা শেষ করে আমি ভাবছি, অবশ্যই আরও দশজন দর্শকের মত করে ভাবছি, দুটো গল্পের পৃথিবী একই। দুটো গল্প না শুধু, যেমন দ্য গার্ডেন অব ওয়ার্ডসের ইউকিনোকেও দেখা গিয়েছিলো ইওর নেইমে, বলা যায় তিনটে গল্পের পৃথিবী একটাই। শিনকাই পৃথিবী, যে পৃথিবীতে শিনকাই বাস করেন, শিনকাই বেঁচে আছেন এবং শিনকাই এর সমাপ্তির সাথে সাথেই পৃথিবীটা শেষ হয়ে যাবে। শিনকাই যেন বলতে চাইছেন, একই পৃথিবীতে সুখ দুঃখ হাসি কান্নার কথা, আমাদের ব্যক্তিগত পৃথিবী আলাদা এবং সবাই ঘুরেফিরে একে অন্যের সাথে কানেক্টেড। আমার মনে হলো, শিনকাই নিজেও চাচ্ছেন, তার চরিত্রগুলোর পৃথিবীতে, তার পৃথিবীতে তার নিজেকে লুকিয়ে রাখতে। অবশ্য এসবই আমার ব্যক্তিগত ভাবনা কিন্তু আমার মনে হলো, একই পৃথিবীকে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের চোখ দিয়ে উপস্থাপন করতে চাইছেন তিনি, কারণ রিয়ালিটিতে আমাদের দেখার দৃষ্টিকোণ আলাদা। আপনি যে চোখে ঢাকাকে দেখেন, যে ভাবনায় ভাবেন, সেভাবে আমি অবশ্যই দেখি এবং ভাবি না এবং শিনকাই তার পৃথিবীকে চেনার জন্য তুলে ধরছেন ভিন্ন ভিন্ন মানুষের চোখে। আমার মনে হয়, সামনেও তিনি একই কাজ করবেন এবং অন্য কারো চোখে তুলে ধরবেন শিনকাই-পৃথিবীকে কিন্তু তখনো মিতসুহা সবচেয়ে রূপবতী তরুণীই থাকবে আমার কাছে। আই লাভ মিতসুহা। মুভিতে ওকে দেখার পর পজ করে অনেকক্ষন দেখে নিয়েছিলাম মিতসুহাকে।
 
সাজেশনঃ ইওর নেইম থেকে ভালো হবে না খারাপ হবে ভাবা ছেড়ে দিয়ে উপভোগ করুন অন্যরকম টোকিওকে যদিও, ইয়ে মানে মিতসুহাই তখনো সেরা রূপবতী থাকবে, এটা না মানলে চলবে না।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime: Weathering with You
  • Type: Movie
  • Genre: Slice of life, romance, fantasy
  • Director: Makoto Shinkai
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Sakib’s Hidden Gems – Episode #04

আনিমে: Seirei no Moribito (Moribito – Guardian of the Spirit)

জানরা: ফ্যান্টাসি, একশন, এডভেঞ্চার, জোসেই
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
 
আজ লিখব একটি সত্যিকার অর্থেই হিডেন জেম সম্পর্কে। এই অসামান্য গল্পটি আবর্তিত হয়েছে মহিলা রক্ষী (Bodyguard) বালসা ও ইয়াগু রাজ্যের ছোট রাজকুমার চাগুমকে কেন্দ্র করে। বালসা ওর জীবনের প্রথমভাগে কাজের প্রয়োজনে আটজনের প্রাণ নিয়েছিল। পরে অনুতপ্ত হয়ে সে তার প্রায়শ্চিত্ত হিসাবে আটজনের জীবন রক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে ঘটনাচক্রে চাগুমের শরীরে প্রবেশ করেছে একটি Water Spirit এর ডিম, যেটা থেকে কিনা এমন একটি Spirit জন্ম নিবে, যা সারা দেশে ভয়াবহ খরা ডেকে আনবে। তাই বাধ্য হয়ে ওর নিজের বাবা (অর্থাৎ রাজ্যের রাজা) ওর প্রাণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন ছেলের প্রাণ বাঁচাতে ওর মা বালসাকে অনুরোধ করে চাগুমকে নিয়ে কোথাও চলে যেতে এবং ওকে একরকম মায়ের মতই আগলে রাখতে। বালসা রাজি হয় এবং এভাবেই গল্প এগোতে থাকে।
 
 
 
 
 
এই আনিমের সব জায়গায় আপনি যত্নের ছোঁয়া পাবেন। ব্যাকগ্রাউন্ড ও ক্যারাকটার ডিজাইন খুবই এস্থেটিক (আমার কাছে কেন জানি Avatar কার্টুনটার মতো লেগেছে)। গল্পটি বলা হয়েছে সময় নিয়ে ও যত্নের সাথে। চরিত্র গঠন, ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং স্রেফ অপূর্ব। প্রতিটি চরিত্রের (ভালো হোক বা মন্দ হোক) চিন্তাভাবনা ও ধ্যানধারণা নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আনিমেটিতে খুবই সুদিং ফোক ঘরানার ওএসটি ব্যবহার হয়েছে, যা আপনাকে এনে দেবে প্রশান্তি (নিচের ভিডিওটি দেখলে আপনি একটি ভালো নমুনা পাবেন) । আর সর্বোপরি আছে ফিমেইল লিড বালসা – যার মানবতা, বৈষয়িক জ্ঞান, কঠোরতা, কোমলতা, ও মাতৃত্বের অনন্য মিশেল অনায়াসে আনিমে ইতিহাসের সেরা নারীচরিত্রের দলে নিজের স্থান করে নিয়েছে। আর চাগুমও বুদ্ধি ও মনের জোরের দিক দিয়ে কম যায় না।
 

 
একটি ফ্যান্টাসি আনিমে হওয়া সত্ত্বেও আনিমেটিতে আপনি জীবনের ছোঁয়া পাবেন সবক্ষেত্রে। এটি আমি সব্বাইকে সাজেস্ট করলাম। আর এর সাথে একই লেখিকার আরেকটি মাস্টারপিস Kemono no Souja Erin ও দেখতে ভুলবেন না। এটি নিয়ে সুযোগ পেলে লিখব।

Yahari Ore no Seishun Love Comedy wa Machigatteiru [রিভিউ] — Loknath Dhar

এত বড় নাম পড়তে পড়তে কাহিল; যদিও পরে ছোট করে আরেকটা নাম জানতে পারলাম, Oregairu. এমনিতে অত বড় জাপানিজ নামের অর্থ হচ্ছে My Youth Romantic Comedy Is Wrong, As I Expected. নাম শুনে যদিও রোমান্টিক জনরার টিপিক্যাল আরেকটা আনিমে হতে পারে বলে মনে হচ্ছে, হচ্ছিল; ওরেগাইরু তার এক্সপেক্টেশন ছাড়িয়ে গিয়েছে।
 
গল্পঃ হাচিম্যান হিকিগায়া একজন টুইস্টেড কিশোর যার কাছে অন্যান্য সাধারণ কিশোরের এই বয়সটার চিত্র, তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। হাচিম্যানের কাছে তার আশেপাশের সমস্ত সম্পর্কই হাস্যকর, বলা চলে মিথ্যে প্রহসনের মত লাগে। স্কুলে তার কাউন্সেলর তার চিন্তা-ভাবনার সাথে পরিচিত হয় এবং তাকে জোর করে একটা ক্লাবে যোগ দেওয়ায় – সার্ভিস ক্লাব। সার্ভিস ক্লাবের কার্যক্রম হলো একটাই – অন্য শিক্ষার্থী অথবা ক্লাবকে সাহায্য প্রদান করা। সে যোগ দেবার পর সার্ভিস ক্লাবের মেম্বার একজন থেকে দুইজন হয়। প্রথম মেম্বার ছিলো ইউকিনো – মেধাবী, সুন্দরী ছাত্রী যার পার্সোনালিটি বরফ ঠান্ডা। সার্ভিস ক্লাবে যোগ দেবার পর থেকে তাদের কাছে আসা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বের করতে করতে পুরো সিরিজটির গল্প এগিয়ে যায়।
 
ওয়েল, গল্পটা আসলে ঠিক এরকমই।
 
 
আনিমেটা মোটামুটি হিকিগায়ার দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা। আশেপাশের সম্পর্ক, সমাজ এবং এসবের প্রতি তার চিন্তাভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গির কথাই মোটামুটি মূল ছিলো পুরো সিরিজটিতে। সার্ভিস ক্লাবের প্রথম মেম্বার ইউকিনোও তার আশেপাশের সমাজ, সম্পর্ক নিয়ে ভাবনা রাখে এবং সার্ভিস ক্লাবের কাছে আসা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে তাদের ভাবনা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। ক্যারেক্টার হিসেবে দুজনই বন্ধুহীন টাইপ কিন্তু হিকিগায়া নেগেটিভ দৃষ্টিকোণ লালন করে এবং তার সমাধান প্রায় সময়েই সেলফ ডেস্ট্রাক্ট টাইপের। এইরকম আচরণ বহু সময়েই ভুল উদাহরণের সৃষ্টি করে এবং তেমনটাই হয়েছে হিকিগায়ার জীবনে, স্কুলে মোটামুটি কেউই তাকে পছন্দ করে না। অন্যদিকে ইউকিনোর ঠান্ডা স্বভাবের সরাসরি কথা বলার অভ্যাসেও আঘাত পায় অনেকেই, সাথে যোগ হয়েছে পারফেক্ট স্টুডেন্ট হবার তকমা গায়ে লাগার দরুণ অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া হিংসা। এবং ক্লাবের তৃতীয় মেম্বার হিসেবে ইউই যোগ দেয় পরেই, স্বভাব ও পরিবেশের বিচারে এ দুজনের একেবারেই বিপরীত।
 
Oregairu এর সবচেয়ে দুর্দান্ত ফিচার হলো, ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট। শুধু লিড ক্যারেক্টারই নয়, গল্প এগোনোর সাথে সাথে সাপোর্টিং ক্যারেক্টারগুলোর ডেভেলপমেন্ট প্রচন্ড উপভোগ্য লেগেছে আমার কাছে! আনিমের গল্প এগোনোর সাথে সাথে কোনো চরিত্রই পিছিয়ে পড়ে নি, বরং সমানতালে ডেভেলপমেন্টের সাথে সাথে ভারসাম্য বজায় রেখেছে প্রতিটা ক্যারেক্টারই – আমার কাছে প্রচন্ড উপভোগ্য ছিলো ওরেগাইরু!
 
টিপিক্যাল আনিমের মতন না, পুরোটা সিরিজ জুড়েই আলাদা একটা ভাইভ দিয়েছে ওরেগাইরু। মেইন ক্যারেক্টার হিকিগায়ার পার্সোনালিটি, চিন্তা ভাবনা প্রকাশের ভঙ্গি এবং আশেপাশের সম্পর্কগুলোর দিকে তার এপ্রোচ – উপভোগ্য লেগেছে আমার কাছে! কমেডি হিসেবেও আনিমেটা চমৎকার, জোর করে সিচুয়েশন তৈরি করে হাসানো নয় বরং সাধারণ জীবন মেইন্টেইন করতে করতে গল্পের প্রয়োজনেই মোমেন্টগুলো তৈরি হয় এবং সেই মোমেন্টে তুলে ধরা ইমোশনাল অথবা কমেডি অথবা ভাবনার উপস্থাপনা – আমার কাছে দুর্দান্ত লেগেছে!
 
ওরেগাইরুর একটা উল্লেখ্য বিষয় হলো, বেশিরভাগ আনিমেতে নিজের ভাবনা, এক্সপ্রেশন গোপন রেখে তার গল্প এগিয়ে যায়, ভেতরকার মনোলগগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিরক্ত লাগে, অনেক ক্ষেত্রে খাপছাড়া আর অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। ওরেগাইরু ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের অগ্রগতির কারণেই নাকি এর প্রতি আমার দৃষ্টিকোণ শুরু থেকেই আলাদা হবার কারণে নাকি সত্যিকার অর্থেই – ইনার মনোলগগুলো বিরক্তিকর মনে হয় নি একটুও এবং কিছুক্ষেত্রে নিজের চিন্তাভাবনাকে লুকিয়ে রাখা বেড়ে ওঠা একজন কিশোরের স্বাভাবিক কাজ বলেই মনে হয়েছে যার জন্য আনিমের আবেদনটা আমার কাছে বেড়ে গিয়েছে আরও!
 
আনিমের আর্ট, ক্যারেক্টার ডিজাইন ভালো এবং উপভোগ্য। একইসাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।
 
মোটামুটি বলা চলে, আনিমের নাম অনুযায়ী এটা টিপিক্যাল রমকম আনিমে তো নয়ই বরং কাহিনী এগোবার ভঙ্গি অনুযায়ী রোমান্স আনিমের ছোট্ট একটা পার্ট বলে মনে হয়েছে শুরুর দিকে, যদিও পরে সেদিকেই এগিয়ে গিয়েছে গল্পটা। এবং অবশ্যই, গল্পটা সেদিকে এগিয়ে গেলেও প্রচন্ড উপভোগ্য এই ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ক্রমাগত হয়ে যাবার জন্য।
 
সাজেশনঃ মাস্ট ওয়াচ।
দুই সিজন+দুই OVA+তৃতীয় সিজন আসছে এই ২০২০ -এই।
(খুব সম্ভত তৃতীয় সিজনই ফাইনাল সিজন)
 
সংক্ষেপেঃ
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Sakib’s Hidden Gems – Episode #03

আনিমে: Zipang

জানরা: মিলিটারি, অ্যাকশন, হিস্টরিকাল, সেইনেন
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
 
একবিংশ শতকের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন জাপানি যুদ্ধজাহাজ “মিরাই” একটি মিলিটারি ড্রিলের সময় মাঝসাগরে অদ্ভুতুড়ে আবহাওয়া ও Natural Anomaly র সম্মুখীন হয়। ঝড় কাটার পরে মিরাই ও তার ক্রু নিজেদের আবিষ্কার করে যে তারা টাইম ট্রাভেল করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার রণক্ষেত্রের মাঝে চলে এসেছে। তারা কী এখন পারবে ইতিহাসকে অপরিবর্তিত রেখে আবার নিজেদের সময়কালে ফিরে যেতে, নাকি সিদ্ধান্ত নেবে চল্লিশের দশকের রণক্ষেত্রে একবিংশ শতকের অস্ত্রশস্ত্র ও বিদ্যাবুদ্ধি প্রয়োগ করে নিজের দেশের আসন্ন পরাজয়কে ঠেকাতে?
 
 
এটি একটি বাহুল্যবর্জিত মিলিটারি আনিমে। যুদ্ধের পরিবেশ ও বিভিন্ন কলাকৌশলই এখানে মুখ্য। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত, তাই এই আনিমেতে WWII সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে (যেমন – জাপানি যুদ্ধজাহাজ ইয়ামাতো, Battle of Midway ইত্যাদি)।
 
২০০৪ সালের আনিমে, তাই এখনকার ঝা-চকচকে ভিজুয়াল এটাতে পাবেন না। ক্যারাকটার ডিজাইন বেশ সিমপ্লিস্টিক আর রিয়ালিস্টিক। প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলি খুব সুন্দর করে আঁকা, দেখতে ভাল লাগে বেশ। আর ওপেনিং গানটা বেশ ভাল।
মোটামুটি সবার জন্যই আমি এই আনিমেটি সাজেস্ট করব। তবে যদি আপনি মিলিটারি আনিমের ফ্যান হন, বা বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে আনিমে দেখতে চান, তাহলে এখনি শুরু করে দিন।

Weathering with You [মুভি রিভিউ] — Nazmus Sakib

মুভির নাম – Tenki no Ko (Weathering with You)
ডিরেক্টর + স্ক্রিপ্ট + ক্রিয়েটর – মাকোতো শিনকাই
ম্যাল রেটিং – ৮.৫৮
ব্যক্তিগত রেটিং – ৭

মোটামুটি ভাল জিনিস। খারাপ না। মোটের উপর বেশ এঞ্জয়েবল।

গল্পঃ ৬

রোমান্স মুভি হিসেবে বেশ ভাল। উনার এর আগে করা কিছু ফ্যান্টাসি রোমান্সের তুলনায় এইটাতে ফ্যান্টাসি এলিমেন্টটা অতটা বেখাপ্পা লাগে নি। কিন্তু বড় বড় ত্রুটিগুলো এখানেও রয়ে গিয়েছে। যেমনঃ ট্রোপের ব্যবহার (পিতামাতার অনুপস্থিতি, Onee-san ক্যারার উপস্থিতি, পিতা-কন্যা বা ভাইবোনের হৃদয়বিদারক(?!) গল্প) আর সস্তা প্লট ডিভাইস (বন্দুকটা ছাড়াও গল্প এগুনোর জন্য আরও কিছু কাকতালীয় ঘটনা)।

চরিত্রায়ণঃ ৮

এই দিকটা বেশ ভাল লাগল। গল্পের মূল দুই চরিত্র ওদের বয়স অনুযায়ী আচরণ করেছে আর ওদের রক্তমাংসের মানুষ বলেই মনে হয়েছে।

আর্ট ও এনিমেশনঃ ৫

এই দিকটা বেশ হতাশাজনক। উনার মুভিগুলোর এই দিকটার যেই সমস্যার কথা অনেকে বলে, তার সবই এইটাতে দেখলাম। অর্থাৎ ব্যাকগ্রাউন্ড দেখতে মনে হচ্ছিল ফটোগ্রাফ থেকে এডিট করা, আর ক্যারাকটারগুলি ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে যাচ্ছিল না। সিজিয়াই মুভমেন্টগুলো কোথাও কোথাও আড়ষ্ট মনে হয়েছে। আর টোকিওর ঘিঞ্জি এলাকাগুলো সেটিং হিসেবে কতোটা উপযুক্ত, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

সাউন্ডঃ ১০

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অসাধারণ ছিল। প্রতিটা গান গল্পের ভাবের সাথে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। গানগুলি এতই ভাল, যে এমনি শুনতেও ভাল লাগবে। আর মুভির শেষের গানটা তো পুরা গল্পটাকেই সামারাইজ করে দিল কী সুন্দর করে। গানের সাবটাইটেল ছিল বলে কৃতজ্ঞ।

এঞ্জয়মেন্টঃ ৮

লো এক্সপেকটেশন নিয়ে দেখেছি। খারাপ লাগেনি। একবারে দেখে উঠার মত ছিল মুভিটা। সময়টা ভালই কেটেছে।

আপনারাও এইটা যদি স্রেফ সময় কাটানোর জন্য দেখেন, তাইলে ঠকবেন না অন্তত আশা করি। তাই ইচ্ছা থাকলে দেখেই ফেলুন না