Tower of God, Season 1 Anime – রিভিউ, আশা/হতাশা, ২য় সিজন নিয়ে আকাঙ্ক্ষা, এবং ১ম সিজনের গল্প নিয়ে সামান্য স্পয়লারযুক্ত আলোচনা – Tahsin Faruque

বিশাল বড় টাইটেল দেখে আগেই বিরক্ত না হতে অনুরোধ করছি। সিরিজটা নিয়ে বেশ অনেক কিছু বলার ছিল। এক পোস্টেই আপাতত মনের কথাগুলি বলে ফেলছি। টাইটেলের মত পোস্ট এত বড় হবে না আসলে।
টাওয়ার অভ গড – ২০২০ সালের সবচাইতে আলোচিত এনিমেগুলির একটি। ১০ বছর আগে শুরু হওয়া ও দিনে দিনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠা কোরিয়ান ওয়েবটুনের উপর ভিত্তি করে বানানো এনিমেটি নিয়ে আগ্রহের একটা বড় কারণ ছিল যে, এই সিরিজের মাধ্যমে কোরিয়ান মানহা বা ওয়েবটুনের এনিমে এডাপ্টেশনের পথে যাত্রার শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে নোবেলিজের ছোট ২-১ পর্বের এডাপ্টেশন ছিল, কিন্তু সেগুলিকে ঠিক আসল এনিমে বলা যায় না। টাওয়ার অভ গড দিয়েই আসল যাত্রাটা শুরু, যা এরপরে গড অভ হাই স্কুল দিয়ে সামনের দিকেই আগাতে থাকবে। এজন্যে এই সিরিজটি একটি বিশাল বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে। তো, মাইলফলক সিরিজ হিসাবে কেমন অবদান রাখলো এটি?
আমার মতে, সিরিজটি অনেক অনেক বেশি ভাল হতে পারতো। তবে সেরকম ভাল না হলেও খারাপ হয় নি। সিরিজটি যদি দেখে থাকেন, তাহলে হয়তো আপনার মনে সিরিজটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকবে, মনে হবে কিছুই তো বুঝলাম না কী হল, কেন হল, একগাদা প্রশ্নের উত্তর পাবার বদলে আরও একশত প্রশ্ন গড়ে উঠলো। ব্যাপারটা স্বাভাবিক, কারণ শুধু এটুক মনে করতে পারেন যে এই ১৩ পর্ব যা দেখলেন (কিংবা যা দেখবেন যদি সিরিজটি দেখার প্ল্যান করেন), এটি অনেকটা নারুতো বা ব্লিচ বা ওয়ান পিস ধরণের বিশাল বড় এক মেগাসিরিজের সূচনা মাত্র। প্রথম ১৩ পর্ব মানহাটির প্রথম সিজন (অর্থাৎ প্রথম ৮০ পর্ব) এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও, এটুক অংশকে আসলে বড় সাইজের একটি prologue বলা যায়। ১ম সিজন শেষে গল্প যেখানে এসে দাঁড়ালো, সেখান থেকেই “আসল গল্প” শুরু হতে যাচ্ছে।
তবে এই কথা বলার অর্থ এটা না যে এর সব ত্রুটি মাফ হয়ে গেল। গুণ অনেক আছে যেমন, তেমনই দোষও নেহাত কম নেই। আপাতত ভাল অংশটুকু নিয়ে আলোচনা দিয়ে শুরু করি।
  • সম্ভবত সিরিজটির সবচাইতে ভাল দিক হচ্ছে এর মিউজিক। কেভিন পেনকিন সামনের দিনের সবচাইতে বড় এনিমে মিউজিক কম্পোজারদের একজন যে হতে যাচ্ছে, তা মেইড ইন এবিস, শিল্ড হিরোর পর টাওয়ার অভ গডের মাধ্যমে আবার একবার প্রমাণ করলো।
  • প্রথম দেখায় এনিমেশন তেমন ভাল লাগে নি, তবে এরপর একটু হাই কোয়ালিটির ভিডিওতে দেখার সময়ে বুঝলাম এনিমেশন আসলে খারাপ নয়। মানহার অরিজিনাল আর্টস্টাইল শুরুর দিকে খারাপ ছিল বেশ, নুবিশ আঁকা ছিল। পরের দিকে মাঙ্গাকার স্কিল বাড়তে থাকে, এবং আঁকার মানও উপরের দিকে উঠতে থাকে। এনিমের আর্টস্টাইল অনেকটা মাঙ্গাকার পরের দিকের আর্টস্টাইলের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে। কিছুটা নতুনত্ব আছে তা অস্বীকার করবো না।
  • যদিও ওয়ার্ল্ড বিল্ডাপ-এর প্রায় কিছুই দেখি নি আমরা, তারপরেও টাওয়ার অভ গডের দুনিয়াটা যে বেশ নতুনত্ব কিছু নিয়ে এসেছে, সেটা অবশ্যই বলতে হবে। টাওয়ার-টা আসলে কী, এর বাইরে কী আছে, এটা কত বড় – এমন হাজারোটা প্রশ্ন এটাকে বিভিন্ন মেগাসিরিজের মধ্যে একটাকে ইউনিক কিছু বানাতে পেরেছে। তথাকথিত “টাওয়ার” বেয়ে উঠতে গেলে যে বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা উতরে যেতে হবে, এটা দেখলে প্রথমেই হান্টার হান্টারের কথা মনে পড়তে পারে দর্শকের। তবে তারপরেও সিরিজটিতে এসব পরীক্ষানিরীক্ষার ধরণে অন্যরকম স্বাদ পাওয়া যায়।
  • একগাদা চরিত্র থাকলেও প্রায় সব বড় চরিত্র দর্শকদের পছন্দ হবার মত করেই বানাতে পেরেছে।
এবার আসি ক্রিটিসিজম প্রসঙ্গে।
 
  • অনেক তাড়াহুড়া করে গল্প আগাবে মনে হতে পারে। ৮০ চ্যাপ্টারের কন্টেন্ট ১৩ পর্বে এঁটে দেওয়া সহজ ব্যাপার না। পর্ব সংখ্যা অন্তত আরও ৩-৪টা বেশি হওয়া উচিৎ ছিল।
  • বড় বড় অনেক রহস্যের ব্যাখ্যা এখন না দিলেও, গল্পের এই পর্যায়ে এসে ওয়ার্ল্ড বিল্ডাপ নিয়ে যেসব সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দর্শকের জানতে পারা উচিৎ, তার অনেক কিছুই খোলাসা করা হয় নি।
  • আর বাকি যেসব নেগেটিভ দিক নিয়ে আলোচনা করবো, তা একটু নিচে স্পয়লার ট্যাগে আছে। দেখে নিতে পারেন।
 
 
২য় সিজন নিয়ে আশা/হতাশাঃ
১ম সিজন যেমনই হোক না কেন, দর্শকমহলে বেশ ভাল রিসিপশন পেয়েছে। ক্রাঞ্চিরোলের নিজস্ব প্রোজেক্ট বলে তারা ভাল করেই জানে কত বেশি দর্শক এটা দেখতে পেরেছে। (এক্ষেত্রে বলে রাখি, আপনি যদি বাংলাদেশে বা এই সাবকন্টিনেন্টে বসে দেখতে চান, ক্রাঞ্চিরোলে গিয়ে একদম 1080p-তেই দেখতে পারবেন আরামসে, একদম ফ্রিতে। তাই ফ্রিতে অরিজিনাল কন্টেন্ট সাপোর্ট করতে চাইলে একদম ক্রাঞ্চিরোলে গিয়েই দেখুন।) এজন্যে ২য় সিজন না আনাটা বোকামিই হবে তাদের জন্যে। তবে কিছু leaked source থেকে জানা গিয়েছে সামনের বছর ২য় সিজন আসবে। অফিশিয়াল ঘোষণা না আশা পর্যন্ত খবরটিকে আপাতত গুরুত্ব দিচ্ছি না।
তবে ২য় সিজন যদি আসে, আমি চাইবো যেন তারা rush না করে ভাল এডাপ্টেশন করতে পারে। ১ম সিজনের গল্প মানহাতে অনেক ধীরে ধীরে আগায়, যেটা আসলে rush না করলে দর্শককে বিরক্ত করে ফেলতে পারতো। তবে ২য় সিজন থেকে গল্প মানহাতেই ভাল স্পিডে আগায়। এটার স্পিড এনিমেতে আরেকটু বাড়াতে গেলে সর্বনাশ হবে। খেয়াল রাখবেন, টাওয়ার অভ গডের দুনিয়াটা বিশাআআআল, আর এখানে এত বেশি বেশি চরিত্র আছে যে, এনিমের পেসিং ঠিকমত না হলে দর্শকদের মাথা খারাপ হয়ে যাবে। স্পয়লার না দিয়েই বলি, মূল গল্পের অনেক মেইন চরিত্রকে এখনও আমরা এনিমের ১ম সিজনে দেখিই নাই। ২য় সিজন থেকেই আসলে এসব মেইন চরিত্রদের দেখতে পারবো। এজন্যে তাদের ক্যারেক্টার বিল্ডাপ খুব ভালমত হওয়া দরকার। ভালমত হওয়া দরকার সামনের দিকের কয়েকটা অসাধারণ রকমের ভাল story arc-এর। তাই, শুধু পেসিং জিনিসটি যদি ঠিক করতে পারে, আর গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ না কেটে ফেলে, তাহলে ২য় সিজন থেকে এনিমে নিয়ে কোন চিন্তা থাকবে না আমার।
 
কাট-কন্টেন্ট যা থাকা উচিৎ ছিল, পরিবর্তিত কন্টেন্ট যা পরিবর্তন করা উচিৎ ছিল নাঃ
২য় সিজনের স্পয়লার দিব না, তবে ১ম সিজন যদি আপনি দেখে থাকেন, তাহলে আশা করি নিচের লেখাটি পড়তে সমস্যা হবে না। এখানে আমি মূল মানহার ১ম সিজনের শেষ পর্যন্ত গল্পের অংশে যেসব বড় বড় কন্টেন্ট এনিমেতে বাদ দিয়েছে বা পরিবর্তিত করেছে তা নিয়ে আলোচনা করবো। তাই, একটি স্পয়লার ওয়ার্নিং থাকলোঃ
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
  • সবার আগে সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা বাদ দিয়েছে এনিমেতে (যেটার জন্যে আমি বেশ ভাল রকমের বিরক্ত), তা হল…
    আপনি কী জানেন যে Bam x Endorsi একটা বিরাট ব্যাপার!? জানেন না? ওয়েবটুনটি না পড়লে জানার কথাও না, কারণ এনিমেতে এই বিশাল জিনিসটা সোজা সাপটা বাদ দিয়ে দিয়েছে!!! খুব বিশ্বাস না হলে গুগলে গিয়ে Bam x লিখুন, এরপর Endorsi নিজে থেকেই চলে আসবে। গল্পের এই পর্যায়ে বাম ও এন্ডোরসির এই সম্পর্কে যে একদম রোমান্টিক তা নয়, তবে তাদের অনেক interaction একদম চোখ বন্ধ করে বাদ দিয়েছে এনিমেতে। তাদের এই সম্পর্ক এত বিশাল বড় যে এটার এক বড় প্রভাব ২য় সিজনে দেখতে পারবেন (যদি এনিমেতে দয়া করে সেটাও বাদ না দিয়ে রেখে দেয়)।
  • এন্ডোরসির ক্যারেক্টার বিল্ডাপের অনেক কিছু বাদ পড়ে গিয়েছে। বিশাল বড় ইগো-ওয়ালা এই চরিত্র যে ১ম সিজন শেষের আগেই best girl হয়ে যায়, তা এনিমে দর্শক হয়তো জানবেও না মানহা না পড়লে। Bam x Endorsi এর অংশগুলা যা বাদ দিয়েছে, সেখানেই এগুলির অনেক কিছু পড়েছে।
  • Rachel-এ সিরিজে অনেকবারই এমন আচার আচরণ করতে দেখিয়েছে, যাতে তার প্রতি শুরু থেকেই সন্দেহ থাকে সবার। ব্যাপারটি মানহাতে সেরকম ছিল না। এন্ডোরসির কথাতে এনিমের মত সে রাগ হয় নি, কথায় কথায় মানুষজনের তাকে সন্দেহ করতে দেখা যায় নি। সোজা কথা, ১২-১৩ পর্বে তার সেই বিট্রেয়ালটা একটা সারপ্রাইজ হিসাবেই ছিল মানহাতে, এনিমতে সেটা foreshadow করে এসেছে যখনই পেরেছে।
  • ক্রাউন গেমের শেষের দিকে গিয়ে বাম শিনসুতে পরিবর্তিত হয়ে যায় নি আসলে, মানহাতে জিনিসটা এভাবে দেখিয়েছিল যে, হোয়া রিউনের দিকে তার কাছ থেকে এক ঝলক শিনশু এটাক গিয়েছিল। তার ঐ শিনসু এটাকে ক্রাউন ধ্বংশও হয় নি, আর রাগ হারিয়ে রিউনকে মারতে গেলে ব্ল্যাক মার্চ সময় থামিয়েও দেয় নি, বরং বাম সেখানেই সেন্সলেস হয়ে যায়।
  • ব্ল্যাক মার্চের কথা যেহেতু এসেছিল, যতদূর মনে পড়ে, এনিমেতে একে কাতানা বলে উল্লেখ করেছিল মনে হয়। কোরিয়ান থেকে জাপানিজ ট্রান্সলেশনের ভুল কিনা জানি না, কিন্তু ব্ল্যাক মার্চ কাতানা নয়, নিডল (needle)। হ্যাঁ, নিডল বা সুই-টাইপের অস্ত্র। সোর্ড আর নিডল দুই আলাদা জিনিস, কেন সেটাও এনিমেতে ভাল করে বলে নি।
  • বাম যে বিশেষ কিছু, বা ওর মধ্যে যে ভয়ংকর পটেনশিয়াল লুকানো, সেটা আমার মনে হয় এনিমতে ভালমত দেখায় নি। কয়েকটা উদাহরণ দেইঃ
    * লেরো রো-এর সেই শিনসু টেস্টের সময়ে সবাই শিনসু দেওয়ালের পিছে চলে গিয়েছিল, বাম বাদে। এই ঘটনাটা এনিমেতে দেখে মজা লাগতে পারে, তবে যেটা সবচাইতে বড় ধাক্কা দিত, সেটা ছিল লেরো রো-এর মুখের এক্সপ্রেশন। মানহাতে লেরো রো যেই চেহারা করেছিল, সেটা দেখলে মনে হত ও জীবনের সবচাইতে বড় ভয়ংকর কিছু দেখেছে নিজ চোখে।
    * ক্রাউন টুর্নামেন্টে শুধুমাত্র ওর uncontrollable shinsu flowটাই ওর ক্ষমতার একমাত্র indication ছিল না। মাঝখানে একটা বড় ফাইট একদম বাদ দিয়েছিল। সেখানে বামের ছোটখাট কিছু কারিশমা দেখলে বুঝা যেত ওর ট্যালেন্ট ধীরে ধীরে বাড়ছে।
    * Position training class, Hide and Seek – এই দুই জায়গাতে ranker-দের শিখানো দুইটা কৌশল এক দেখাতেই বাম শিখে ফেলে, যেটা ঐ ranker-দের ২-৩ বছর বা কয়েকশত বছর লেগেছিল শিখতে। বামকে একবারেই সেগুলি করতে দেখার পর ranker-দের মুখের এক্সপ্রেশন দর্শকদেরকে খুব সহজেই বুঝিয়ে দিতে পারতো বাম আসলে কোন লেভেলের monster. দুঃখের ব্যাপার, এনিমতে এগুলি ভালমত দেখায় নি।
  • বিভিন্ন পজিশনগুলি নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল (Fisherman, Wave Controller, Light Bearer, Scout etc.), সেই অংশটি অল্পের মধ্যে সেরেছে এনিমেতে। এই জিনিসটা এনিমেতে মানহার মত বড় করে দেখানো উচিৎ ছিল। সেটা না করাতে অনেকেই কনফিউজড হয়ে যেতে পারে, কারণ এই ধরণের পজিশন আইডিয়াটার সাথে আমরা এনিমে দর্শকরা পরিচিত না। ইউনিক একটা কন্সেপ্ট যেহেতু, এটা ভাল করে বুঝানো উচিৎ ছিল এনিমেতে। মানহাতে সেটা করেছিল।
  • আবার বাম ও এন্ডোরসির কথায় আসি। শেষ দৃশ্যে বামকে অনেক বেশি আশাবাদী হিসাবে দেখিয়েছে এনিমেতে। মানহাতে বাম তখন এত বড় বিট্রায়ালের পর মানসিকভাবে ভেঙ্গেচুড়ে গিয়েছে। জিনিসটা ২য় সিজনে রেটকন না করলে আসলে দুই সিজনের বামকে মিলাতে কষ্ট হবে দর্শকের। আর ওদিকে বামের “মৃত্যু”-এর খবরে এন্ডোরসির মনের ভিতর যেন শূন্যতায় ভরে গিয়েছিল। হ্যাঁ, মানহার এই বড় জিনিসটাও এনিমেতে নাই, কারণ কোন এক অদ্ভুত কারণ পুরা Bam x Endorsi জিনিসটা বাদ দিয়েছে এনিমেতে (যেই জিনিসটা মাফ করতে পারবো না)।
আরও কিছু ছোটখাট পরিবর্তন বা কাট-কন্টেন্ট ছিল, তবে সেগুলি অত গুরুত্বপূর্ণ না। এডাপ্টেশন করতে গেলে ওটুক পরিবর্তন করাই যায়। তবে উপরে বলা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলি শুধু শুধু গল্পকেই পরিবর্তন করে দিবে।
 
সবশেষে বলবো, মানহা যদি পড়তে চান, কষ্ট করে ১ম সিজনটা পাড়ি দিতে পারলেই চলবে। ২য় সিজনের একদম শুরু থেকে টানটান উত্তেজনা! খুবই ফ্যানফেভারিট একগাদা নতুন মেইন চরিত্র যুক্ত হবে, থাকবে পুরানো চরিত্রদের badass প্রত্যাবর্তন, আর সবচাইতে বড় আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবে বাম নিজেই। এনিমের ২য় সিজনটাতে মানহা থেকে ভালমত এডাপ্টেশন করুক, এই আশায় পোস্ট এখানে শেষ করছি।

Movie Time With Yami – Pseudo Episode (টিং টং মুভি টাইম)

টিং টং, সিউডো মুভি টাইম উইথ ইয়ামি

আজকে মুভি দিবস পালন করলাম, তাই মেলাদিন পরে মুভি নিয়ে আবার কিছু লিখতে ইচ্ছা হল। রিভিউ টিভিউ দেয়া ধাতে পোষাবে না, কোনটা কেমন লাগল খালি সেটা লিখতেসি।

Penguinhighway

১. পেঙ্গুইন হাইওয়ে –

খুবই ভাল লেগেছে। বাচ্চাকাচ্চা পোলাপানের ইঁচড়েপাকা গবেষণা, ট্যান্ট্রাম থেকে শুরু করে শহরের মাঝখানে পেঙ্গুইনের আবির্ভাব, সবমিলিয়ে মোটামুটি উদ্ভট একটা প্লটকে খুব এঞ্জয়েবল ভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। একটা মুহূর্তের জন্যও স্লো বা বোরিং লাগেনি। অ্যানিমেশন, ওএসটি খুবই সুন্দর। যেকোনো আনিমেতে আমি ব্যাকগ্রাউন্ড, বাড়িঘর, গাছপালা, আকাশ বাতাসের দিকে আলাদা করে নজর দেই, এইখানে সেগুলো খুবই যত্ন নিয়ে বানিয়েছে, so I’m happy!!

Kimitonamininoretara

২. কিমি তো নামি নি নোরেতারা –

আমি খুবই খুশি যে সিনোপসিস না পড়ে বা কোনোরকম গবেষণা ছাড়া শুধুমাত্র পোস্টার দেখে এই মুভি দেখতে বসেছিলাম। এইজন্য শুরুর ২৪ মিনিটের মিষ্টি অংশটুকু খুব ভাল লেগেছে দেখে। এরপরে মোটামুটি ইমোশনের আপ ডাউনের উপর দিয়ে পার করেছি। প্লট মোটেও নতুন না, এর আগে এরকম প্লট নিয়ে আরও মুভি হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে, এক্সিকিউশনের কারণে কাহিনিটা আপন আপন লেগেছে। এন্ডিং পছন্দ হয়েছে। অ্যানিমেশন, ওএসটি ভাল, আমার মাথায় এখন মুভিতে অতি ব্যবহৃত গানটা কন্টিনিউয়াস ঘুরপাক খাচ্ছে।

Ninokuni

৩. নি নো কুনি –

উপরেই রাইড ইওর ওয়েভ নিয়ে যেটা বললাম, সেটার উল্টা ভার্সন এখানে বলব। ইসেকাইতে যাতায়াত, এই টাইপ প্লট মনে হয় তেমন আনকমন না, ওয়েল রিসিভড বলেই হয়ত, কিন্তু আমার মুভিটা তেমন ভাল লাগে নি। 30 minutes into the movie I got bored. পেসিং বাজে লাগল, একেবারেই টানছিল না আমাকে। অন্তত ২০/৩০ বার বোরড হয়ে উঠে গিয়ে অন্য কাজ করে এসে আবার বসেছি। কাহিনী বেশিই প্রেডিক্টেবল, ওয়েল প্রেডিক্টেবল হলে আমার কোনো সমস্যা হয় না ইউজুয়ালি, এটার এক্সিকিউশন ভাল লাগে নি। মেদেতাশি মেদেতাশি মার্কা এন্ডিংটা আমি দুই মাইল দূর থেকে চারচোখো হওয়া সত্ত্বেও দেখতে পাচ্ছিলাম, খুব পেইনফুল ভাবে সেটাই ঘটল। অ্যানিমেশন আহামরি লাগেনি, ওএসটি আদৌ শুনসি কিনা মনে পড়ে না

(নোট – এককালে কোনো কিছু বেশি ভাল লাগলে বলতাম “অতিরিক্ত ভাল লেগেছে”। Today this award goes to Penguin Highway )

Kimetsu no Yaiba [রিয়্যাকশন/সাজেশন] — Shifat Mohiuddin

KnY 1

সত্যি বলতে এই সিজনে এই এনিমেটা যে বের হচ্ছে তা আমি জেনেছি অনেক পরে। AOT আর OPM এর উপরেই মনযোগটা নিবদ্ধ ছিল বেশী, সিজনের নতুন জিনিস হিসেবে কোন এক কারণে Fairy Gone ই দেখছিলাম শুধু। কারণ ছিল ইন্টারনেট হাইপ আর শিল্প বিপ্লব পরবর্তী ঘরানার পটভূমি। অথচ যে কয়টা পর্বই দেখলাম আপাতত, ফেয়ারি গন পুরোই হতাশ করছে আমাকে এপর্যন্ত। তখনই আসলে কিমেতসু নো ইয়াইবা নিয়ে গ্রুপের বিভিন্ন পোস্ট বিশেষ করে গ্রুপের কাভার ফটোর সুন্দর পোস্টটা চোখে পড়লো। সেখান থেকেই জানতে পারলাম এনিমেটা ইউফোটেবলের, আমি মোটামুটি ইউফোটেবলের ফ্যানবয় হিসেবেই দাবী করি নিজেকে, এখন এত বড় খবর মিস হয়ে যাওয়ায় নিজের কাছে নিজেরই লজ্জায় মাথা কাটায় যোগাড়!

তো প্রথম পর্বটা প্লে করার সাথে সাথেই হুকড হয়ে গেলাম বরফে আচ্ছাদিত ল্যান্ডস্কেপ দেখে। তাতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখতে অসাধারণ সুন্দর দেখাচ্ছিল যদিও মনে মনে বিশাল অমঙ্গলের আশা করছিলাম। শেষমেশ কী যে বিশাল অমঙ্গল হয়েছে তা তো দর্শকদের সবার জানাই! তারপর বলতে গেলে একটানেই দশটা পর্ব দেখে ফেললাম। সেই ডিসেম্বরে গুরেন লাগান দেখার পর আর কোন এনিমে এভাবে একটানা দেখতে পারি নি। সে হিসেবে জিনিসটা খুব স্বস্তির ছিল, ভয় পাচ্ছিলাম যে এনিমের প্রতি আগের সেই অনুরাগ হারিয়ে ফেলছি বুঝি।

তো এনিমেটার যেসব জিনিস ভাল লেগেছে তা সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরছি:

প্রথমেই এনিমের শুরুটা, প্রথম পর্বেই যথেষ্ট পরিমাণে ভায়োলেন্স আর গোর দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে এনিমেটা ডার্ক ফ্যান্টাসি ঘরানার। এটাতে যে দর্শকদের অনেক আশার প্রতিফলন হবে না তাও যেন জানান দেয়া হল। প্রথম পর্ব হিসেবে যথেষ্ট ক্লাইমেটিক ছিল যা দর্শকদের এনিমেটা আরো দেখাতে আগ্রহী করেছে বলতেই হবে।

দ্বিতীয়ত ইউফোটেবলের অসাধারণ ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের কাজ। বিশেষ করে তানজিরোর মুভমেন্টের সাবলীলতা। জানি না কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ফ্লুয়েন্সিটা আনা হয়, সম্ভবত মোশন সেন্সর জাতীয় কিছু দিয়ে। এ ঘরানার ফ্লুয়েন্ট মুভমেন্ট দেখেছিলাম Kara no Kyoukai সিরিজের মুভিগুলাতে। সবার নিশ্চয়ই শিকির করিডোর ফাইটের কথা মনে আছে! তানজিরোর থ্রি ডাইমেনশনাল নাড়াচাড়ার সাবলীলতা মুগ্ধ করার মত। অন্যকোন স্টুডিও হলে নিশ্চিত ভজকট পাকিয়ে ফেলতো, ভিডিও গেইম অ্যাডাপ্টেশনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ইউফোটেবলকে এখানে অনেক সাহায্য করেছে মনে করি।

KnY 2

আরেকটা ভাল লাগা ছিল এনিমেতে সুন্দর সিজিআইয়ের ব্যবহার। সাথে সাথে এটাও স্বস্তিদায়ক ছিল মানুষ ও বিশেষ করে ডিমনগুলাকে পরিশ্রম বাঁচানোর জন্য সিজিআই দিয়ে অ্যানিমেট না করাটা! আসলে চলন্ত আর নাড়াচাড়া করা জিনিস অ্যানিমেট করার বেলায় হাতে আঁকা ফ্রেমই এখনো শ্রেষ্ঠ। অথচ সেই জায়গায় ফেয়ারি গনের ফেয়ারিগুলাকে সিজি দিয়ে বীভৎস বানানো হয়েছে।  ইউফোটেবল খুব বুদ্ধিমানের মত অন্ধকার জঙ্গল, গাছপালা, বাড়িঘর ইত্যাদিকেই শুধু সিজি দিয়ে তৈরি করেছে। আর আমরা তো সবাইই জানি ইউফোটেবল রাতের দৃশ্য বানানোর ওস্তাদ! (UBW দ্রষ্টব্য) সেই হিসেবে KNY এনিমেটার বলতে গেলে সব মেজর দৃশ্যই রাতে, (যেহেতু শুধু রাতের বেলাতেই ডিমন আসে) ইউফোটেবলের অ্যাডাপ্ট করার জন্য একেবারে পারফেক্ট এনিমে ছিল এটা।

এনিমেটার স্টোরি আর ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংয়েরও প্রশংসা করতে হবে। নেজুকোকে ডিমন বানানোর কারিগরকে বেশ তাড়াতাড়ি স্টোরিতে দেখানোটা খুব ভাল হয়েছে আমার মতে। আবার এটাও জানান দেয়া হয়েছে যে তার বারোজন ঘনিষ্ঠ সহচরও আছে, মানে তাদের মুখোমুখি না হওয়ার আগ পর্যন্ত বস ফাইট হবে না। আবার Demon Slayer Corps. এর অর্ডারেরও বেশী কিছু খোলাসা করা হয়নি। তারমানে অনেক চমকপ্রদ জিনিস এখনো আছে মাঙ্গাকার ঝুলিতে। শুধু নেজুকোকে নিয়ে তানজিরোর একা একা জার্নি করাটাই ভাল লাগছে বেশী আপাতত। শীঘ্রই মনে হয় কমরেড পেতে যাচ্ছে তানজিরো, দেখি তারা কেমন ক্যারেকটার হয়।

এনিমেটাতে যথেষ্ট শৌনেন এলিমেন্ট আছে। যেমন পাওয়ারের নাম মুখে এনে পাওয়ার ব্যবহার করা ইত্যাদি। তানজিরোর সোর্ডের স্কিলগুলা দেখার মত। ওর সোর্ডের পানির যে অ্যানিমেশন সেরকম অ্যানিমেশন আমি এর আগে দেখি না কোনখানে। দারুণ অ্যাস্থেটিক স্কিলগুলা আর নামগুলাও খুব সুন্দর। তানজিরো একদমই মাথা গরম ঘরানার প্রোটাগনিস্ট না, সেটা আরো বড় স্বস্তির। আর তার পাওয়ারফুল হওয়ার কাজটাও হচ্ছে ধীরে ধীরে, আশা করি এই মাঙ্গার মাঙ্গাকা হুটহাট পাওয়ার বাড়ানোর ভুলটা করবেন না। (যেটা নারুতোসহ অনেক ভাল শৌনেন মাঙ্গার বিশাল একটা সমস্যা ছিল।)

এই এনিমের আরেকটা অত্যন্ত আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর মিউজিক, শুনেই বুঝেছিলাম কাজিউরা ইউকির কাজ! বিশেষ করে ডিমন আসার ক্রিটিকাল মোমেন্টে যে অশরীরী choir টা বাজে সেটা পুরোই গায়ের লোম দাঁড় করিয়ে দেয়। এই মিউজিকটা আবার প্রতি পর্বের নাম দেখানোর জায়গাটাতেও দেয়া হয় যেটা দারুণ একটা ভৌতিক আবহ তৈরি করে। প্রতিটা পর্বের নাম যে ক্যানভাসের উপর স্ক্রিপ্ট আকারে আসে সেই জিনিসটাও ভাল লাগে, এনিমেটা যে সম্রাট হিরাহিতো আমলের পটভূমিতে রচিত তা টের পাওয়া যায়।

শেষমেশ এনিমেটার এন্ডিং সংয়ের পর যে ফান সেগমেন্টটা হয় সেটা অনেক প্রশান্তি দেয়। পুরো পর্বের ভয়ানক ভয়ানক ঘটনার পর যখন নেজুকোর মৃদু মৃদু কণ্ঠস্বর শুনি তখন আসলে মন ভাল না হয়ে উপায় থাকে না।

KnY 3

Hirunaka no Ryuusei [মাঙ্গা রিয়্যাকশন] — Trisha Islam

Hirunaka no Ryuusei 1

Manga Name: Hirunaka no Ryusei; The Daytime Shooting Star 
Author: Yamamori Mika
Genre: Shoujo 
Status: Completed

ব্রাউজ করতে করতে হঠাৎ চোখে পড়ে গেলো আর আর্টস্টাইল দেখে আটকে গেলাম মাঙ্গাটায়… পুরো রাত জেগে না ঘুমিয়ে শেষ করে ফেললাম। অন্যসব শোজো মাঙ্গার মতোই স্কুল বেসড। সংক্ষেপে বলতে গেলে,
গ্রাম থেকে শহরে আসা এক মেয়ের (Yosano Suzume) শহুরে জীবনের সাথে খাপ খায়িয়ে নেয়া, এক ইকেমেনের (Shishio Satsuki) প্রেমে পড়া আর প্রেম সংক্রান্ত চড়াই-উতরাই এই নিয়েই মাঙ্গাটার পরিসর।

টিপিক্যাল মনে হলেও গল্পের নতুনত্ব আছে। প্রথমত, যে ব্যাপারটা চোখে পড়েছে এবং শেষ করার পর আরো জোড়ালো ভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি তা হলো গল্পটার রিয়েলিজম। সুজুমের জীবনের সাথে অনেকাংশেই রিয়েলিটির যোগাযোগ দেখা যায়। অনেক সময়ই আমার পড়তে পড়তে মনে হয়েছে আরে সত্যি তো এমনটা হয়, তাহলে জীবন কি আসলেই শোজো মাঙ্গা? অন্য সব শোজো এনিমে দেখে বা মাঙ্গা পড়ে সাধারন যেটা মনে হয় জীবন তো শোজো মাঙ্গা নয় যে তিন তলা থেকে লাফ দিয়ে মোটামুটি কিছুই হবে না বা আরো যা যা আছে আর কি।

Hirunaka no Ryuusei 2

[Spoiler Warning]

আর দ্বিতীয় হলো মাঙ্গাকার strength, প্রচন্ড আকারের একজন সেডিস্ট। পুরা প্রথম হাফ ধরে একটা লাভস্টোরি কে বিল্ডাপ করে তারপর তা ছুড়ে ফেলা সাধারন মানুষের কাজ নয়। আমি যদিও প্রথম থেকেই মামুরার দলে ছিলাম কিন্ত সেনসেই কেও অপছন্দ করার মত কিছু ছিল না। চাচ্ছিলাম মামুরার সাথেই সম্পর্কটা হোক, কিন্ত সেনসেই এর হার্টব্রেক মেনে নিতে অনেক কষ্ট হয়েছে। আর এখানেই হয়ত মাঙ্গাটা অন্যসব থেকে আলাদা।

আর্টস্টাইল নিয়ে বলতে গেলে আগেই বলে নি, Sawako-chan এতো দিন পর্যন্ত আমার কাছে সবচেয়ে কিউট শোজো হিরোইন ছিল কিন্ত সুজুমে-চান আসার পর তা হয়ত বদলে গেছে। সুজুমে খুউবই এক্সপ্রেশনলেস (most of the time) কিন্ত তার মধ্যে দিয়ে মাঙ্গাকা এতো বেশি এক্সপ্রেশন ফুটিয়ে তুলেছে… আর প্রতিটাই কেমন যেন কোকোরো তে গিয়ে লাগে। আর যে হাসি গুলা সেনসেই বা মামুরা দেয় উফফফ kokoro no doki doki. তবে সবচেয়ে বেশি জোস লেগেছে তার চোঁখ আঁকার ধরন। এতো প্রশান্তি লাগে চোঁখ গুলার দিকে তাকালে।

তবে ভালোর মধ্যেও কিছু খারাপ ছিল। যেমন, মাঝে যখন সেনসেইর সাথে সুজুমের সম্পর্কের রাইজিং একশন থেকে ক্লাইমেক্স পয়েন্টে যাচ্ছিল তখন মামুরার সাথে সুজুমের সম্পর্কের বিল্ডাপ তেমন ভাবে দেখানো হয়নি… আরো ভালো ভাবে তা এক্সিকিউট করা যেত… বিধায় কেমন যেন খাপছাড়া লেগেছে। এই কারনেই আমার কাছে মনে হয়েছে এটা হয়ত মাঙ্গাকার ইনিশিয়াল এন্ডিং ছিল না। হয়ত মাঝপথে এসে তা চেঞ্জ করা হয়েছে।

Story: 9
Art: 9.5
Overall: 9

P.S. এটার এনিমে Adaptation দরকার। একটা মুভি আছে কিন্ত সত্যি বলতে তিন লিড ক্যারাক্টার এর কাউকেই আমার মাঙ্গার ক্যারাক্টার এর মত মনে হয়নি… কেমন যেন ফানি লাগে জাপানিদের অভিনয়গুলো… খুব বেশি মেকি।

Hirunaka no Ryuusei 3

Listen to Me, Girls. I Am Your Father! [রিয়্যাকশন] — Md. Anik Hossain

Papa no Iukoto wo Kikinasai!

সিরিজটা তেমন জনপ্রিয় কিনা বা খুব বেশি মানুষ দেখেছেন কিনা জানি না, তবে এটা নিয়ে এনিমেসমাজে তেমন আলাপ করতে দেখিনি কখনো। কোনো এক Random সাজেশনে সিরিজটার নাম পেয়েছিলাম অনেক দিন আগে ।এতদিন লিস্টে জমিয়ে রেখেছিলাম।অতঃপর গত পড়শু Wikipedia তে সিরিজের সিনোপসিস টা পড়ে সব পর্ব ডাউনলোড দিলাম । অবশেষে গতকাল দেখা শেষ করলাম।

যারা দেখেননি তাদের জন্য কাহিনী সারসংক্ষেপ: Yuuta মাত্র ভার্সিটি তে ঢুকেছে। এতিম Yuuta কে খুব কষ্ট করে মানুষ করেছে ওর বড় বোন Yuri… তো একবার Yuri আর তার হাজব্যান্ড এক বিজনেস ট্যুরে বিদেশে যাবে। এমন সময় Yuri এর মেয়ে আর তার সতীনের ঘরের আরো দুই মেয়েকে কিছুদিন দেখা শুনার দায়িত্ব পড়ে Yuuta এর উপর।১৪ বছর বয়সের বড় মেয়েটার নাম Sora, মেজো মেয়ের নাম Miu আর সবচেয়ে ছোটোজন মানে Yuuta এর আপন ভাগ্নীর নাম Hina. কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত Yuri আর তার স্বামী যে Plane এ ছিল সেটা বিধ্বস্ত হয়ে যায়। যাতে ধারনা করা হয় তারা মারা গেছে। এমন সময় Yuuta তার তিন ভাগ্নীকে একাই লালন পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় বাকি আত্মীয়দের মতামত উপেক্ষা করে। মূলত এই অবিবাহিত ছাত্র কীভাবে তার বোনের মেয়েদের পেলে বড় করে এবং যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয় তা নিয়েই কাহিনী আবর্তিত হয়।

দেখার পর আমার প্রতিক্রিয়া(তেমন স্পয়লার থাকার কথা নয়):
প্রথমত, অনেক বেশি আশা নিয়ে দেখতে বসেছিলাম। বাচ্চা পালা নিয়ে জিনিস-পাতি আমার এমনিতে খুব পছন্দ। কিন্তু এনিমের ভেতরটা আমার কাছে ছিল “UNEXPECTEDLY AWKWARD”……….. Pewdiepie এর স্টাইলে বলতে হয়, “My expectation was totally shattered!!!!!”

সবার আগে বলব ফ্যানসার্ভিসিং এর কথা। এচ্চি ট্যাগ ছিল নাকি চেক করিনি কিন্তু কিছু জিনিসে এচ্চি একেবারে বেমানান লাগে। এক্ষেত্রেও তাই।
ছোটো ছোটো মেয়েদের উপর সেক্সুয়াল ফ্যানসার্ভিসিং এক্কেবারে ফালতু একটা ব্যাপার। হার্ডকোর এচ্চি ছিল না তবে যেটুকু ছিল সেটুকুও মোটেই মানানসই লাগেনি আমার কাছে। সাথে প্লট এর তুলনায় কিছু dirty(?) কথা বার্তা ছিল। বেশি পাঁকনা মেয়ে হইলে যা হয় আরকি।

দ্বিতীয়ত, হা বুঝলাম আপন রক্তের সম্পর্ক নাই। কিন্তু তারপরেও “মামা X ভাগ্নী” রোমান্টিক সম্পর্কের উপর ফোকাস! ক্যাম্নে কি!

এখানে Yuuta আর Raika (Yuuta এর ভার্সিটির বড় আপু) এর রিলেশনশিপের মাঝে বেশি ফোকাস করলে ভালো হতো বলে মনে করি। আমি হলে স্টোরিলাইনটা এইভাবে সেট করতাম – “Sora এর তার সত্‍ মামা Yuuta এর উপর সিক্রেট ক্রাশ আছে। ওকে ব্যাপার না। ছোটোমানুষ অনেকসময় আকাশ কুসুম কল্পনা করতেই পারে। কিন্তু সময় যাওয়ার সাথে সাথে Yuuta আর Raika এর মাঝে সম্পর্কটা আরো গভীর হতে থাকবে। খালি ফ্রেন্ডশিপের মাঝেই আবদ্ধ থাকবে না।ওরা সিরিয়াসলি ডেটিং করা শুরু করবে এরকম কিছু”। কিন্তু না! সিরিজে মামাজানের প্রতি tsundere বড় ভাগ্নীর এত্ত বেশি দূর্বলতা দেখিয়েছে যে শেষ পর্যন্ত জিনিসটা বিরক্তিকর ঠেকেছে। লেবু বেশি কচলালে তিতা হয়ে যায় ।

এমনকি আরো গভীরভাবে একটু গবেষণা করতে গিয়ে আমি তো একেবারে ওয়াদ্দাপাক হয়ে গেছি… অরিজিনাল লাইট নোভেলে এই মামা আর ভাগ্নি নাকি সত্যি সত্যি বিয়ে করেছে! পুরাই Usagi Drop 2.0।

সিরিজটা আসলে ললিকন দের কথা মাথায় রেখে তৈরি নাকি তা জানি না। কিন্তু আমার আশানুরুপ হয়নি। বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে। যদিও এনিমের অন্যান্য দিকগুলো নিয়ে আমার তেমন অভিযোগ নেই।

আমি বরাবর ই সব এনিমে কে বেশি বেশি রেটিং দেওয়ার চেষ্টা করি। এই সিরিজটাকেও আমি অন্তত 8/10 দেওয়ার চেষ্টা করলাম অনেক। কিন্তু মন থেকে 7/10 এর বেশি দিতে ইচ্ছে করছে না এই মূহুর্তে।

আপনাদের কি মতামত সিরিজটা নিয়ে?

কোবাতো বন্দনা – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

download

“কোবাতো” আনিমেটা দেখে শেষ করলাম মাত্র। এবং বলতেই হবে, অসাধারণ আনিমে ছিল। এত বেশি ভাল লেগেছে যে দৌড় দিয়ে মিথিলার পোস্টে কমেন্ট লিখা শুরু করে দিয়েছিলাম, কারণ মিথিলার সুন্দর রিভিউটা পড়েই এই আনিমে দেখতে বসেছিলাম। পরে আবিষ্কার করলাম বেশি উত্তেজনায় রচনা লিখে ফেলেছি, তাই সেই রচনা একটু বাড়িয়ে চাড়িয়ে এখানে আবার পোস্ট করছি।

কোবাতো আনিমেটা শুরুর দিকে মনে হচ্ছিল, চিনির শিরার মধ্যে সারারাত ডুবিয়ে রেখে সকালে প্রেজেন্ট করেছে। কোবাতো অতিরিক্ত বেশি সুইট, এত বেশি যে সেটা দমবন্ধ করে দেয়ার মত অবস্থা করে। শুরুতে কোবাতোকে একটা এয়ারহেড, কিছুটা এনোয়িং কেয়ারলেস একটা মেয়ে ছাড়া কিছুই মনে হয়না, এবং হানাযাওয়া কানা ইউজলেস ক্যারেক্টার যে খুব ভালভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন, তা এই আনিমে দেখে সবচেয়ে বেশি বোঝা যায়। প্রথম দু-তিনটা পর্ব দেখে যদি কেউ বিরক্ত হয়ে আনিমেটা ড্রপ দেয়ার কথা ভাবে, সত্যি বলছি অবাক হব না।

এরপর আনিমেটা দেখা চালিয়ে যেতে থাকলাম, কোবাতোর স্বভাব চরিত্রে কোন পরিবর্তন এল না। কিন্তু আমি একটা ব্যাপার উপলব্ধি করলাম। তা হল, আমাদের সবার জীবনেই আসলে একজন কোবাতো প্রয়োজন, যে তার সারল্য, উচ্ছলতা, প্রাণবন্ততা দিয়ে আমাদের ম্যাড়মেড়ে মানসিকতাটা পালটে দেবে। কোবাতো সরল হতে পারে, কিন্তু বোকা নয়। সে একটা কাজ অসম্ভব জেনেও হাত গুটিয়ে বসে থাকে না, শুধুমাত্র তার সদিচ্ছার জোরে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে সে। কাজের ক্ষেত্রে হাজারটা গোলমাল করে, কিন্তু তাও সে হাত গুটিয়ে বসে থাকে না, কাজটা করেই ছাড়ে। কোবাতোর ওপর বিরক্ত হওয়া যায়, কিন্তু সেটা প্রকাশ করা যায় না। তার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকালে সব বিরক্তি চলে যেতে বাধ্য।

13b605e23ec7ae50a8b6f6b56bde4dbd

কোবাতো বন্দনা বেশি করে ফেলছি, কারণ আমার এই ইউজলেস মেয়েটাকে দেখে খুব বেশি ভাল লেগেছে। এখন একটু অন্যদের কথাও বলা যাক!

আমি ফুজিমোতো আর কোবাতোকে শুরুতে দেখে, এমনকি প্রায় ১৯-২০ এপিসোড পর্যন্ত দেখেও কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না যে এই দুটোকে কিভাবে কাপল হিসেবে কল্পনা করব। কিন্তু শেষের দুই এপিসোড যা দেখাল :’) আমার পছন্দের কাপলগুলোর একটা (অ্যাজ ইফ আমার আর কোন পছন্দের কাপল আছে :v) হয়ে গেল কোবাতো – কিওকাযু। মাঝে অল্প সময় সেকেন্ড লিড সিন্ড্রোম ধরি ধরি করছিল, এখন সেটা পালিয়ে গেছে।

আর সবচেয়ে বড় কথা, একটা স্টোরি খালি বানালেই হয়না, সেটার এক্সিকিউশন সেইরকম না হলে আলটিমেটলি অত উপভোগ্য হয়না। কোবাতোকে প্রথমে দেখে তার অতি এন্থুসিয়াস্টিক আচরণ দেখে মেয়েটাকে এনোয়িং লাগছিল, কিন্তু আনিমে আগাতে আগাতে পুরাই “I want to protect that smile” ফিল এনে দিল, যেমনটা কিওকাযুর সাথে ঘটল, সেটা যেন আমার সাথেও ঘটল। বিরক্ত লাগে, কিন্তু সামহাউ রাগ ওঠে না। আনিমের প্রতিটা চরিত্রকেই কাহিনীর প্রয়োজনে খুব দ্রুত, কিন্তু সুচারুভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, এতে পরিবর্তনটা চোখে লাগে না, কিন্তু মনে প্রভাব ফেলে। ফুজিমোতো কিওকাযুর ডেভেলপমেন্টটা বিশেষ করে আমার খুব ভাল লেগেছে। ওর শূণ্যতাগুলো যেন নিজে অনুভব করতে পারছিলাম।

আর ক্ল্যাম্পের মেয়েগুলাকে পেলে যে কি করব 😐 😐 প্রত্যেকটা ছেলেকে এত বেশি ইকেমেন বানাতে কে কইসে এদের :’| কিওকাযু চেতলেও চেহারা কি সুন্দর দেখা যায় <3

আর হ্যাঁ, ক্ল্যাম্প ভার্সের ইস্টার এগ!! ওয়াতানুকিকে দেখাল, তাও আবার তার কুল ফর্মে <3 আবার সুবাসার ক্যারেক্টারদের নিয়ে আস্ত একটা পর্বই দিয়ে দিল!! খুব ভাল লেগেছে :’) ফাইকে আবার দেখলাম <3 এছাড়া চবিটস এর মেইন ক্যারেক্টাররা এখানে পার্মানেন্ট চরিত্র হিসেবে আছে, সেটিং এও মিল আছে দুই আনিমের।

সবমিলিয়ে কোবাতো আনিমেটি আমার খুবই ভাল লেগেছে। সুইট একটা স্টোরি, মন ভাল করে দেবার মত মিষ্টি একটা আনিমে।

07a75ed2b83a14c71e191566552f29d1

Steins;Gate [রিএকশন] — Iftekhar Irafat Ifti

Steins;Gate Reaction

Steins gate: রিঅ্যাকশন পোস্ট
এপি ১: গ্র্যান্ড ওপেনিং
১ম এপিতেই হুকড। যা শুনছিলাম তাই। খুব সিরিয়াস ওপেনিং। মাথা নষ্ট কিছু দেখার জন্য রেডি হয়ে গেলাম।
এপি ২-১১: বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার
পরের এপিগুলা দেখি। এমন হওয়ার কথা ছিল নাকি? এটা কি মাইন্ড ফাক সাইফাই নাকি ফানি সাইফাই অ্যানিমে? অবশ্য মন্দ না। জাফর ইকবালের কিছু কমিক সাইফাই বই আছে না? বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার। ওকাবেকেও তেমন মনে হচ্ছিল। পাগলা সায়েন্টিস্ট। মাথার ভেতর কন্সপিরেসি থিওরি। অদ্ভুত সব জিনিসপত্র বানায় যেগুলার কেমনে কাজ করে নিজেও জানে না। মানুষজন ইচ্ছেমতন আবদার নিয়ে আসতেছে অতীত চেঞ্জ করার জন্য। আর বাটারফ্লাই ইফেক্টকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সেও কাউকেই ফিরিয়ে দিচ্ছে না।
এক স্টুডেন্ট বলেছিলো এই সময়টা বোরড লাগবে। আমার তেমন কিছু হয়নি। মোটামুটি মজা নিয়েই এই স্টেজ পার করলাম। কিছু কথাবার্তা শুনে হাসতে হাসতে শেষ। যখন কুরিসু আর মায়ুরি রান্না করতে বসে দারু আর ওকাবের রিঅ্যাকশন মনে আছে?
-It seems I’ve released the seals that bound a dark god.
-When this meal over, I’m going to retire and get married.

(তবে বিরক্ত করেছে মিউ মিউ আর তার ভয়েস। এই ঢং গুলা অসহ্য।)
এপি ১২-২২: এটা জানতাম/টাইম ট্রাভেল নিয়ে ছিনিমিনি খেলে ইতিহাসে কেউ আজ পর্যন্ত সুখী হতে পারে নাই। তারপরেও প্রথম যখন মোয়েকা পিস্তল বের করে এবং সত্যি সত্যি ট্রিগার টেনে বসে সেটা দেখে বিশ্বাস করতেও সময় লাগে। হঠাৎ হালকা মুড থেকে এমন সিরিয়াস টার্ন নেয়ায় শক ইনটেনসিটি থাকে বেশি।
এইসময়ে ওকাগেকে আর চেনাও যায় না। আগের মতন ফাজলামি করে না। তাকে শুরুতে ওইরকম পাগল দেখা হয়েছে বলেই কিন্তু এই সময় তার পরিবর্তনগুলো বেশি চোখে লাগে।
মাঝখানে অকাবে কুরিসুর কেমিস্ট্রি। আবেগী ডায়ালগ।তারা দুজন একসাথে হলেই মনে হয় রোমান্টিক সাই ফাই।
-No matter what world line you’re in, you aren’t alone. I’m here.
২২ নং এপিতে সিরিজটা শেষ করে দিলেও চমৎকার একটা ডার্ক এন্ডিং হতো। দেখলাম আরো দুইটা এপি বাকি।

এপি ২৩-২৪: শ্রোডিঞ্জারের বিড়াল = কুরিসু (জীবিত নাকি মৃত?)
শেষ দুই এপি দেখে কোয়ান্টাম লেভেলের আনন্দ পেলাম। টাইম ট্রাভেল নিয়ে কিছু দেখলেই যা আশা করি লুপ ক্লিয়ার, কোয়ান্টাম হাবিজাবি,নেটে কিছুক্ষন গবেষণা করার মতন টপিক সবই পেলাম।
আর শেষে ওকাবের এই কথাগুলো। প্লেটোনিক ভালবাসা। রোমিও দেখলেও চোখ বড় বড় করে বলবে, কেমনে পারো ম্যান?!
-You don’t remember the three weeks we spent together. But that’s okay. Right now you’re breathing, speaking, thinking your hardest about something. That’s enough. You’re watching the same world as I am.

মুভি:
অবশ্য শেষে হ্যাপি এন্ডিং দেখেও মনে হয় আরো কিছু বাকি। আরো কিছু দেখার আছে। পুরা সিরিজটা আসলে দেখা হয়েছে ওকাবের চোখে। সে সবাইকে অবজার্ভ করে গেছে। কিন্তু অন্য কারো চোখে? কুরিসুর ফিলিংস? ডেজাভু মুভিতে সব পেলাম।তবে একটা ব্যাপার আশা করিনি।মুভিটা অনেকগুলা ইমো খাইয়ে দিলো।
-Remembering something that no one else can is a painful thing. You can’t talk to anyone about it. No one will understand you. You’ll be alone.

তাই জাস্ট হারিয়ে গেলে কেমন হয়? সেই মানুষগুলো কি মনে রাখে?

আবারো হ্যাপি এন্ডিং। কিন্তু তাও ইমোশনাল করেই রাখলো শেষ পর্যন্ত।
সিরিজ, ওভিএ আর মুভির শেষের তিনটা প্রিয় দৃশ্য একসাথে জোড়া লাগালাম।তিনবারই শেষ হয়েছে এই দুইজনকে দিয়ে।অ্যানিমে দেখা বেস্ট কাপল লিস্টে এদের না রেখে উপায় নেই। মিস করি এই দুইজনের ঝগড়া।

Majin Tantei Nougami Neuro [রিএকশন/রিকমেন্ডেশন] — Bashira Akter Anima

Majin Tantei Nougami Neuro

গত কয়দিনে রাতে মশার কামড় খেয়ে-ঘুম মেরে এবং নানান হাবিজাবি করে Majin Tantei Nougami Neuro এনিমে টা দেখলাম। আমার আবার রিকমেন্ডেশন দেখে এনিমে বের করার হালকা অভ্যাস আছে আর নতুন এনিমে দেখলে সিনোপসিস বা রিভিউ একটু পড়ে ফেলি হয়তো সেটা ভালো অভ্যাস না তাও পড়ে ফেলি। এইটার রিভ্যু ভালো দেখলেও কাহিনী কেমন জানি সাদামাটা লাগতেছিলো। এনিমে এর ঘটনা হইলো নেওরো নামের এক ডেমন হেল এর সকল মিস্ট্রি সল্ভ করে পৃথিবীতে আসছে পৃথিবীর মিস্ট্রির আশায়। তার রহস্যের ক্ষুধা মিটছিলোই না যেনো। এখানে এসে সে এক হাইস্কুলের মেয়ের সাথে পার্টনারশীপ করে কারণ এখানে সে নিজের পরিচয় রিভিল করবে না। তাই সকল রহস্য সমাধানে সে মূলে থাকলেও সবাই জানে যে হাইস্কুল ডিটেকটিভ ইয়াকো ই সব রহস্যের সমাধান করে। দুনিয়ার সবার সামনে সে সেনসেই সেনসেই করে আহ্লাদ করলেও পিছনে মেয়েটারে কিলাইয়া, ঘুষাইয়া, পিডাইয়া সে অস্থির। এভাবে ঘটনা আগায় প্রতি পর্বেই নতুন রহস্য তবে একটা চলমান বিশাল রহস্যের উপস্থিতি ও পাওয়া যায় যার সাথে জড়িয়ে যায় সবাই।

আমি ভাবলাম কি না কি, দেখি এমনে এক-দুই পর্ব। এই এনিমে থেকে যদি এটা আশা করা যায় যে এখানে নানান ক্লু থাকবে এরপর সেগুলা ধরে অপরাধী ধরবে সেটা এখানে নাই। অনেক অপরাধীকে আগে থেকেই বুঝা যায়, বা নেওরো বিভিন্ন হেল থেকে আনা টুল ব্যবহার করে ধুম ধাম করে সব ধরে ফেলে। কিন্তু মজার ব্যাপার হয় যখন অপরাধী ধরা পরে তখন সে তার আসল সত্ত্বার রূপ ধারণ করে। একটা সময় খেয়াল করলাম আমি এই পার্ট টার জন্য বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতেছি। আমার ১২ পর্বে আঁটকা পড়ার অভ্যাস আছে, অনেক এনিমে দেখতে পারি না কিন্তু দেখলাম কেমনে জানি এটা আমি ২৫ পর্ব দেখে ফেলছি। রিভ্যু পড়ে দেখলাম অনেকের ই এই অবস্থা হইছে, প্রথমে কাহিনী পড়ে লেইম লাগলেও দেখতে গিয়ে বেশ মজা পাইছে। উইকি তে পরে দেখলাম এটার মাঙ্গা টা বেশি জনপ্রিয় ছিলো, এনিমেটা এত না। অবশ্য মাঙ্গা মনে হয় না পড়বো। ভালো লাগছে এটাই আসল। আর ২৫ পর্বের এনিমে দেখে আমার সফলতা এই যে আমি নারুহোদো মানে যে I see এটা শিখছি। 😐 এরপর এনিমে শেষের দুঃখে তাদের নানান ফ্যান আর্ট ডাউনলোড করে স্বান্তনা দিছি নিজেকে।

গ্রেট টিচার ওনিযুকা – আনিমে সাজেশন দিয়েছেন ইশমাম আনিকা

Onizuka.Eikichi.full.291265

কিভাবে একটি টিপিকাল শৌনেন আনিমে বানাবেন যাতে সেটা টিপিকাল না লাগে?

বিখ্যাত কোন একটি টিপিকাল শৌনেন আনিমে (ধরে নিলাম ওয়ান পিস) নিন। সেখান থেকে “গ্রেটেস্ট জলদস্যু হতে চাই” রিপ্লেস করে বসিয়ে দিন “গ্রেটেস্ট টিচার হতে চাই”। নাকামা রিপ্লেস করুন স্টুডেন্ট দিয়ে, শত্রু রিপ্লেস করুন স্কুলের ফ্যাকাল্টি দিয়ে। অবশ্যই শত্রুদের মাঝেও কেউ কেউ হিরোর পক্ষে থাকবে, এবং নাকামারা শুরুতে হিরোকে এক্সেপ্ট করতে পারবে না। এটাও রুলের মধ্যেই পড়ে। হিরো হবে কেয়ারফ্রি এবং যা হতে চায় সেটা হওয়ার পূর্বশর্তেই গোড়ায় গলদ থাকবে (পাইরেটের সাঁতার না জানা, অথবা টিচারের এডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ড জঘন্য হওয়া)। তার কাজকর্ম দেখে নাকামাদের মাথায় হাত পড়া বাধ্যতামূলক, কিন্তু যখন সিচুয়েশন একেবারেই হাতের বাইরে চলে যাবে, তারা বলবে “ইন লিডার/টিচার উই ট্রাস্ট”। এবং দুনিয়ার সব ব্লাণ্ডার ঘটিয়েও আলটিমেটলি যখন প্রোটাগনিস্ট মন থেকে একাগ্রচিত্তে কোন কাজ করতে বসবে নাওয়া খাওয়া ভুলে, ঠিকই অসম্ভবকে সম্ভব করবে। রেসিপি শেষ, আর রেসিপি ফলো করে আমরা পেয়ে গেলাম, এক টুকরো শিক্ষক, থুক্কু, “গ্রেট টিচার ওনিযুকা”।

এখন ওনিযুকা ফ্যানরা আমাকে শাপশাপান্ত শুরু করার আগেই বলি, টিপিকাল শৌনেন তো কোন খারাপ কিছু না! আমি উপরোক্ত রেসিপি দিয়ে ওনিযুকাকে খারাপ বলছি না, আনিমেটা আমার বেশ ভাল লেগেছে। বরং কথাগুলোকে পজেটিভলি এভাবেও নেয়া যায়, সাধারণ শৌনেন প্যাটার্ন ফলো করেও আনিমেটা আমাদের সমাজে প্রচলিত অনেক সমস্যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পেরেছে, তাদের বাহবা প্রাপ্য।

ইন্ট্রোতেই বলে দিয়েছি ওনিযুকার কাহিনী কেমন হতে পারে, আর বলার দরকার আছে মনে করছি না। শুধু কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করব,

স্টুডিও পিয়েরট এর তৈরি আনিমেটা সেই ১৯৯৯ সালের, আর্ট সেরকম, এটা মাথায় রেখে দেখতে বসলে ভালই লাগে।

এত পার্ভি জিনিসপাতি মাঝেমাঝে ভালই বিরক্তিকর লেগেছে, তবে মনে হয়না সেটা তেমন বেশি মানুষকে ভুগিয়েছে।

জাপানের হাইস্কুলের মেয়েরা মনে হয় সবাই এরকম হাড়বজ্জাত, নইলে মাঙ্গাকা মেয়েদের দেখতে পারে না। একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জ্বালায়ে শেষ করসে -_-

লাস্ট এপিসোডটা এরকম ফালতু না হলেও পারত। পুরো ৪২ টা এপিসোড ভালই দেখলাম, লাস্টে এসে এমন একটা এন্ডিং দিল :/

যাহোক, ওভার অল আমার মনে হয় সবারই ভাল লাগার মত আনিমে এটি, রিকমেন্ডেড।

“শৌওয়া ও গেনরোকু আমলের ভালবাসার যুগ্ম মৃত্যু- রাকুগোর মাধ্যমে”; রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

rakugo

আমার এক বান্ধবী মাঝেমাঝে একটা কথা বলত, “পরীক্ষার সময় দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বসে থাকাও অনেক ইন্টারেস্টিং একটা কাজ বলে মনে হয়।” কথাটা শতভাগ সত্যি। এবং এই কথামতই, সারাটা বছর পার করে অবশেষে এই ডিসেম্বর মাসে এসে দেখলাম “শৌওয়া ও গেনরোকু আমলের ভালবাসার যুগ্ম মৃত্যু- রাকুগোর মাধ্যমে”।

আমি সাধারণত কমফোর্টেবল ফিল করি দুই ধরণের আনিমে নিয়ে কথা বলতে গেলে, একটা হল যেখানে কিছুই ঘটেনা, আরেকটা যেখানে আসলেই কিছু ঘটে না :3 সত্যি কথা, হাইস্কুলের পোলাপান দৌড়াদৌড়ি করে বেড়াচ্ছে, মজা করে বেন্তো খাচ্ছে; বা র্যান্ডম কিশোর বালক অ্যাডভেঞ্চার করতে বেরিয়ে দুনিয়া জয় করে ফেলছে, কিংবা খুব থ্রিলিং কম্পিটিশন বা মারামারি চলছে, এমন আনিমে নিয়ে কথা বলাটা আমার কাছে বেশি সহজ মনে হয়। কিন্তু যেখানে আসলেই কিছু ঘটছে, এবং জিনিসটা বাস্তবের খুব কাছাকাছি, সেটা নিয়ে কথা বলাটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। তারওপর যখন আনিমেটার মূল থিমই হয় গল্প বলা নিয়ে, সেখানে অনেক খুঁটিনাটি ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করাটা গিভেন হয়ে যায়, আর সেটা করতে গেলে গবেষণা করা লাগবে একগাদা, যেটা খুবই বিরক্তিকর একটা বিষয় (আমার জন্য)।

তাহলে কথা যেটা ওঠে এখানে, আমি তাও শৌওয়া নিয়ে লিখছি কেন, আর লিখছিই যখন, কোনরকম গবেষণা না করেই বা লিখছি কেন।

কারণ একটাই, আনিমেটা বেশ ভাল লেগেছে। শুধু ভাল লাগলে হয়ত লিখতে ইচ্ছে হত না, ইচ্ছেটা জেগেছে কারণ আনিমেটার প্লট খুব ইউনিক লেগেছে। বর্তমানের “ইসেকাই”, “তাইমু তোরাবেরু”, “আইদোরু”, বা অযথা এচ্চি দিয়ে ভরে রাখা আনিমের যুগে হাতেগোণা যে কয়টা আনিমে দেখলে মনে হয়, “নাহ! এ জিনিস তো আগে কোনদিন দেখিনি!”- তার মাঝে শৌওয়া অন্যতম।

কাহিনী মূলত জাপানের পটভূমিতে রাকুগো শিল্পের উত্থান পতন নিয়ে, কিন্তু এর পাশাপাশি খুব সুন্দরভাবে এগিয়ে চলেছে এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত একদল মানুষের জীবনের কাহিনী; তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও রাকুগো মিলেমিশে যেন একাকার হয়ে গেছে।

আনিমেটা আমি এতদিন শুরু করতে পারছিলামনা কারণ টাইটেলটা পড়ে এবং মানু্ষের রিভিউ পড়ে একটু ভয় কাজ করছিল যে সেই শৌওয়া আমলের প্লট, তাও আবার জাপানের বিবর্তন টাইপ জিনিস নিয়ে কারবার, যদি বোর হয়ে যাই! অনেকেই হয়ত এটা ভেবে “ভারী” এই আনিমেটা দেখেননি, বা আমি একাই হয়ত “ইয়োতারো”, কিন্তু আনিমেটার ৪৭ মিনিটের প্রথম এপিসোড দেখেই আমার সেই ধারণা ভেঙে গিয়েছিল। আর যাই হোক, শুরুটা খুবই ইন্টারেস্টিং। কেবল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এনার্জেটিক এক ছেলে গিয়ে সরাসরি পায়ে পড়ল রাকুগো শিল্পীর- দ্যাটস সামথিং ইউ ডোন্ট গেট টু ওয়াচ এভ্রিডে!!

আনিমের কাহিনী বেশ ভাল লেগেছে, অনেক কিছুই দেখার সময় আগে থেকেই আন্দাজ করে ফেলা যায়, তা মিলেও যায়, কিন্তু মজাটা এখানেই। আপনি জানবেন এরপর এটা আসছে, কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব তা আপনি ঠাহর করতে পারবেননা। তারপর যখন জিনিসটা ঘটবে, তখন অবাক হয়ে ভাববেন যে এটাই ঘটার কথা ছিল আসলে। এই ব্যাপারটা আমার কাছে আনিমের একটা প্লাস পয়েন্ট বলে মনে হয়েছে। আর সাথে তো রাকুগোর স্কিলফুল পারফরমেন্স গুলো আছেই, যা নিয়ে আমার আগেও অনেকে অনেক কিছু বলেছেন, ভয়েস একটরদের মুন্সিয়ানা গবেষণা করে বা অ্যানিমেশন আর মিউজিকের কম্বিনেশন কিভাবে নিখুঁতভাবে ম্যাচ করানো হয়েছে তা নিয়ে তথ্যবহুল পোস্ট দিয়েছেন, তাই আমি আর কষ্ট করলাম না। খালি দুটো কথা বলব, অ্যানিমেশন এখানে গৌণ ব্যাপার, কাহিনীতে একবার ঢুকে গেলে কিসের অ্যানিমেশন, কিসের কি! ওপেনিং গানটা বেশ ভাল লেগেছে, জাদুভরা কণ্ঠ।

“শৌওয়া গেনরোকু রাকুগো শিনজু” হয়ত আমার টপ ফেভারিট বা এমন কিছু হয়ে ওঠেনি, কিন্তু তাতে কি, ভাল তো লেগেছে, সেটাই যথেষ্ট। আর আমার মনে হয় একবার দেখা শুর করলে আনিমেটা যে কারও ভাল লাগবে।