Plunderer [রিভিউ] — Rakib Amin

Anime name: Plunderer
Genre: Action, Adventure, Comedy, Ecchi, Fantasy, Shounen
Episodes: 24
Aired: 2020 (winter)
 
Detailed Review:
★ This anime is the embodiment of the word “meh”. খুবই অ্যাভারেজ একটা এনিমে। অ্যাভারেজ প্লট, অ্যাভারেজ ক্যারেক্টার, অ্যাভারেজ এনিমেশন, বোরিং সাউন্ডট্র্যাক, বাজে স্টোরি-রাইটিং, আর প্লট-হোল দিয়ে ভরা। ওভারঅল খুবই হতাশাজনক অ্যাডাপ্টেশন।
 
★ এনিমেটা দেখে যা বুঝলাম যে রাইটারের অনেকগুলা আইডিয়া মাথায় ছিল, আর সেগুলা সবই কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়া স্টোরির উপর ঢেলে দিয়েছে। যার কারণে স্টোরির আগা-মাথা হযবরল হয়ে একাকার অবস্থা। এক এপিসোড পুরাটাই চাইল্ডিশ হিউমার দিয়ে ভরা, তো আরেক এপিসোড একেবারে খুনাখুনি টাইপ সিরিয়াস। কমেডি এবং সিরিয়াসনেস -এর মাঝে ব্লেন্ডটা একেবারে বাজেভাবে করা হয়েছে।
 
★ প্রথমদিকে ২-৩ এপিসোড মোটামুটি ভাবে এগুচ্ছিলো; তারপর সবকিছু উল্টাপাল্টা করে এমন অবস্থা যে অলমোস্ট ড্রপ করেই ফেলেছিলাম এনিমেটা। তবে মাঝের কয়েকটা এপিসোডে কিছু ব্যাকস্টোরি কাভার করা হয়েছিল যেটা এই এনিমের অনলি সেভিং-গ্রেস বলা যায়। ওই ব্যাকস্টোরি দেখার পর পুরা ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিং সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলে কিছুটা ইন্টারেস্ট ফিরে আসে এই এনিমের প্রতি। তারপর লাস্টের দিকের কয়েক এপিসোড আবারো একেবারে লেইম হয়ে পরে। সবচেয়ে বিরক্ত লেগেছে যখন দেখলাম যে এতো কষ্ট করে ২৪ এপিসোড দেখার পরেও দেখি যে স্টোরি কমপ্লিটেড না। মানে, এই ফালতু এনিমেরও আবার সেকেন্ড সিজন বের করতে চায় নাকি? অনেক মিস্টিরি এখনো ক্ল্যারিফাই করে নাই।
 
★ টু বি ফেয়ার, স্টোরির ইনিশিয়াল আইডিয়াটা খারাপ না। কিন্তু হয়তো প্রোপার প্ল্যানিং-এর অভাবে অথবা বাজে এনিমে অ্যাডাপ্টেশন -এর কারণে এতো বাজে অবস্থা। এইটার মাংগা’র রেটিং ভালোই দেখলাম। তাই আমার মনে হয় ভালো ডিরেক্টর এবং ভালো প্ল্যানিং থাকলে এনিমেটা কিছুটা বেটার হতে পারতো।
 
★ অ্যাকশন ফাইটগুলা খুবই, খুবই লেইম ছিল। এর বেশি কিছু বললাম না।….. কমেডি মোটামুটি ছিল, যদিও বেশিভাগ ছিল চাইল্ডিশ হিউমার। Ecchi পার্টগুলা একেবারেই লেইম ছিল। আমার মতো Ecchi -লাভারেরও মাঝেমাঝে বিরক্ত ধরে যাচ্ছিলো। 😑
 
★ ক্যারেক্টারগুলা খুবই এভারেজ। মেইন মেল্ ও ফিমেল ক্যারেক্টার আমার কাছে লেইম লেগেছে একেবারে। বরং সেকেন্ডারি ক্যারেক্টারগুলা এই দুইজনের চেয়ে বেটার ছিল। মেইন এন্টাগোনিস্ট ব্যাকস্টোরিতে দেখলাম একেবারেই দরদি এবং সিম্প্যাথেটিক একটা ক্যারেক্টার। কিন্তু মেইন টাইমলাইনে এসে সে পুরাই কোল্ড-ব্লাডেড ভিলেইন হয়ে পড়েছে। মানে কিছুই বুঝলাম না।
 

Ratings:
MAL ratings: 6.49
Personal rating: 6.2 (very generous rating)
 

World Trigger [রিভিউ] — Arnab Basu

উইকলি শোউনেন জাম্পকে অবিসংবাদিতভাবেই শোউনেন সিরিজের সবচেয়ে সেরা উৎস হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সর্বকালের সেরা সব শোউনেন সিরিজগুলা বেশিরভাগই এই ম্যাগাজিনে পাব্লিশ হয়েছে বা হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাগাজিনে প্রকাশিত মাঙ্গাগুলো অনেক জনপ্রিয়তা পায়। আর এই সিরিজগুলার এনিম এডাপ্টেশন নিয়ে সবারই কম বেশি এক্সপেক্টেশন কাজ করে আর বেশিরভাগ সিরিজই কম বেশি পপুলারিটি পায়। তবে দুই একটা সিরিজ যে ব্যাতিক্রম, তা কিন্তু না। সেটা এডাপ্টেশনের কারণে হোক, বা প্লটের দুর্বলতার কারণেই হোক। জাম্পের এমন সিরিজ খুব কমই আছে, যা অনেক সিরিজের মত লোকচক্ষুর আড়ালে পড়ে যায়। জুজুতসু কাইসেনের মত হাইপ তোলা সেরা এনিমেশন, ওয়ান পিসের মত লং রানিং মহীরথি কিংবা হিনোমারু সুমো আর প্রমিসড নেভারল্যান্ডের মত হতাশ এডাপ্টেশন, এই সিরিজগুলার প্রতি মানুষের এটেনশনের কমতি নেই। সেই হিসাবে World Trigger কে শোউনেন জাম্পের হিডেন জেম বলা যেতে পারে। হিডেন জেম এই অর্থে, যে জাম্পের মত কাটথ্রোট ম্যাগাজিন, যেখানে পপুলারিটির কমতির কারণে যে কোন মাঙ্গা কুড়ালের নিচে পড়তে পারে, সেখানে এই সিরিজটা ২০১৩ সাল থেকে এখনও চলছে (যদিও ২০১৮ তে জাম্প স্কয়ারে ট্রান্সফার হয়ে যায়)। আর World Trigger এনিমের ২ টা সিজন আছে, যার মোট পর্ব ৮৫ টি, যদিও প্রথম সিজনের শেষের দিকে একটা ফিলার আর্ক আছে। কিন্তু এই সিরিজটা দেখেছে এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি না।তাহলে এমন একটা অবসিকিওর সিরিজে কি এমন আছে যা খুব একটা নাম ডাক না থাকা সত্ত্বেও এখনও থেমে যায়নি? উত্তরটা হল এই সিরিজের ফাইট। World Trigger এর প্লট শুনলে খুবই সাদামাটা মনে হবে, এনিমের প্রথম কয়েকটা পর্ব দেখার পরে এনিম ড্রপ দিলে কাউকে দোষও দেয়া যাবে না। কিন্তু এই সিরিজের ফাইটগুলা এক কথায় অসাধারণ। জাম্পের ম্যাক্সিমাম সিরিজই ফ্যান্টাসি নির্ভর আর ফাইট বেশিরভাগই স্ট্রেংথ আর উইল নির্ভর। সেই দিক থেকে সাই-ফাই জন্রার এই সিরিজের ফাইটগুলা ভীষণ স্ট্র্যাটেজিক। হালের OP টাইপ MC রা হয়তো কুলনেস আর ব্যাডএসারি দিয়ে আপনাকে মুগ্ধ করবে, কিন্তু একই সাথে সিরিজের পাওয়ার স্কেলিং এর বারটা বাজবে, যার কারণে সিরিজ কিছুদিন পরেই ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে যাবে (ব্লিচ 😛 )। সেই দিক থেকে World Trigger এর ফাইটগুলা ইন্ডিভিজুয়াল স্ট্রেংথ এর থেকে টিম ওয়ার্ক আর স্ট্র্যাটেজির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং আর আনপ্রেডিক্টেবল।

জাম্পের কিছু সিরিজ স্লো স্টারটার। শুরুতে আহামরি না লাগলেও একটা সময় যেয়ে ঠিকই জনপ্রিয়তা পায়। এই সিরিজটাও তেমন। World Trigger নিয়ে আরও অনেক কিছুই বলা যাবে, কিন্তু এই ভিডিওটা দিয়ে পোস্টটা আপাতত এখানেই শেষ করলাম। Happy Watching!

I Had That Same Dream Again [মাঙ্গা রিভিউ] — Rafid Rafsani

♪♪♪ Happiness doesn’t walk to you ~
that’s why you walk towards it ~ ♪♪♪
 
“What is happiness to you?” খুবই সাধারণ একটি প্রশ্ন কিন্তু মানুষ ভেদে প্রত্যেকেরই উত্তর ভিন্ন। কারো কাছে পছন্দের খাবার খাওয়াই সুখ,কারো জন্য পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোই সব।আবার কেও কেও একাএকা নিজের পছন্দসই কাজ করাকেই প্রকৃত সুখ মনে করে।
এই বিষয় নিয়েই জনপ্রিয় ” I Want to Eat Your Pancreas” এর লেখকের লেখা মাংগা “I had that same dream again”. ১২ চ্যাপ্টারের মাংগাটার মাইএনিমেলিস্টে stats দেখলাম মাত্র ৪৯০০ মেম্বার। তাই ভাবলাম একটা রিভিও লিখেই ফেলি। মাত্র ১২ চ্যাপ্টার অনুযায়ী আমি বলবো, Worth to give a try.
 
Story:
মাংগাটির কাহিনি আগায় চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী Nanoka কে নিয়ে।যার স্কুল থেকে কাজ দেয় “what is happiness” এই প্রশ্নের উপর এসাইনমেন্ট। Nanoka তার পরিচিতদের সাথে এই “সুখের প্রকৃত সংগা ” খুজে বেড়ায়। তার পরিচিত মানুষ গুলা কিন্তু পরিবার অথবা স্কুলের বন্ধু নয়।তিনজন ভিন্ন বয়সের মানুষ। তাদের একজন অবসর সময়ে পরিত্যাক্ত বিল্ডিং এ হাত কেটে “কোনো বিষয় অনুভব” করতে চাওয়া হাইস্কুল ছাত্রী Minami-san.যে মা-বাবা মারা যাওয়ায় বিষন্নতায় একা দিন কাটায়। আরেকজন হাসি-খুশি ও প্রাণ-চঞ্চল Azumaboto-san. যে রাতে “অনৈতিক কাজ” করে অর্থ উপার্যন করে।কিন্তু সরল মনের Nanoka কে তার কাজ জানাতে চায় না।সবশেষে নির্জন পাহাড়ে একা থাকা Granny.যার পরিবারে কেউ নেই, একাই জীবনের শেষ সময় কাটাতে ব্যাস্ত।
এই তিনজন ভিন্ন শ্রেনীর মানুষই নানোকার বন্ধু।যারা জীবনের উপর প্রায় আশা হারিয়ে ফেললেও ও নানোকার সাথে ভালো সময় কাটায়। নানোকা আজুমাবতো-সানের সাথে অথেলো খেলে এবং স্ন্যাকস খেয়ে,মিনামি-সানের লেখা গল্প পড়ে কিংবা গ্র্যানির কুকি খেয়ে তাদের সঙ্গ উপভোগ করে।
মাংগাটি বেশ সুন্দর ভাবে চরিত্র গুলোর নিজস্ব হ্যাপিনেসের কথা তুলে ধরেছে। ৪ জনেরই ভিন্ন বয়স ও ভিন্ন জীবন। কিন্তু বয়স ও জীবন নির্বিশেষে সময়ের সাথে কিভাবে সুখের ধারনা পালটে যায় এইটাই মাংগার মূল বিষয়। পাশাপাশি নানোকার বন্ধুরা জীবন সম্পর্কে তারচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ হওয়ায়, প্রিয়জনদের ক্ষতি, কোনও সুযোগ নিতে ব্যর্থ হওয়া, কৃতিত্ব ত্যাগ করা, সাহস গড়ে তোলার ভয় ইত্যাদি বিষয়ের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। যার ফলে নানাকার যেকোনো সমস্যায় তারা নিজেদের জিবনের ব্যর্থতা থেকে পাওয়া শিক্ষা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যেন নানোকার পরিণতি তাদের মতো না হয়।
তবে মাংগার আকর্ষনীয় দিক ছিলো, এই চারজনের মধ্যে একটা অদৃশ্য মিল।যেটা শুরু থেকেই কিছুটা ধরা গেলেও, মাঝখানে এসে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়।এবং শেষে সম্পূর্ণ ব্যখ্যা পাওয়া যায়।এই হালকা প্লট টুইস্টটা জানার পর পুরো মাংগাটা অন্যরকম ভালো লাগবে সবার কাছে।
 
Art:
আর্ট নিয়ে আমার নিজেরই ধারনা কম তবে আর্ট স্টাইল ভালোই লেগেছে।Character design আর expression গুলা বেশ ভালো ছিলো।
Character:
মূল চরিত্র নানোকা ছোট হলেও বয়সের তুলনায় চিন্তা ভাবনা বেশ উন্নত। তার catchphrase কথা গুলা বেশ ভালো লেগেছে:
Life is like a japanese bento, you can’t put everything you want inside it.
Life is like a refrigerator, you can forget about onions but you can’t forget the cake.
Life is like a pudding, you might like the sweet part but you also have to eat the bitter part too.
 
এই রকম তার আরো কিছু কথা জীবনকে অন্যভাবে ভাবানোর মতোই। Side character দের ছোয়ায় তার বেশ ভালো ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টও হয়।
 
Enjoyment:
মাংগাটা আসলেই অনেক ভালো লেগেছে না হয় রিভিও লেখার সাহস করতাম না। চরিত্র গুলার পাশাপাশি নিজের জীবনের সুখ নিয়েও বেশ ভাবিয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছুই ভালো লেগেছে। তাই সবাইকেই বলবো একবার পড়ে দেখতে।
 
Title: Mata, Onaji Yume wo Miteita
English: I had that same dream again
Genre: Drama, Psychological, Slice of life
MAL rating: 8.44
MAL ranking: #147
Anilist rating: 85%
Anilist ranking: #112
Personal rating: 9
 

How to Fight [ওয়েবটুন রিভিউ] — Md. Anik Hossain

ভিডিও ব্লগিং বা Vlogging হাল আমলের তুমুল জনপ্রিয় জিনিস। বিশেষত ভিডিও আপলোড করে অর্থ উপার্জনের দুয়ার খুলে যাওয়ায় অনেকে জীবিকার পথ হিসাবেই বেঁছে নিয়েছে এটা। যা একটি বৈপ্লবিক ব্যাপার। ইউটিউব, বা চীনের উইবু এর মতো প্লাটফর্ম এই বিপ্লবে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। শুধু যে অর্থ আয়ের রাস্তা তা নয়, রীতিমতো সেলিব্রেটি বনে গেছে অনেকে ভিডিও ব্লগিং করে। তো ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে পয়সা, খ্যাতি অর্জন নিয়ে চমৎকার একটা ওয়েবটুন/মানহোয়া রয়েছে। নাম How to Fight.
 
☆কাহিনী সারসংক্ষেপ✰
হবিন এক গরিব হাই স্কুল পড়ুয়া ছেলে। দুর্বল হবিনের উপর সহপাঠীদের bullying চলে। চুপচাপ সহ্য করে গেলেও একদিন সহ্যের বাধ ভেঙে একজনের সাথে মারামারি লেগে যায়। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে এই মারামারির দৃশ্য লাইভ ভিডিও আকারে আপলোড হয়ে যায়। আর এতেই সে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে উঠে! এরপর সেই ভিডিও কে কাজে লাগিয়ে নতুন চ্যানেলকে আরো জনপ্রিয় করার মনস্থির করে হবিন। যাতে প্রত্যক্ষভাবে উৎসাহ যুগিয়েছে টাকা আয়ের বাসনা। সিদ্ধান্ত নেয় মারামারির ভিডিও আপলোড করেই চ্যানেলটা গড়ে তুলবে। কিন্তু দুর্বল ছোট্টখাট্টো হবিন এর সাথে আর যাই হোক মারামারির ব্যাপারটা যায় না। তাই ইউটিউব থেকেই ঘরোয়া উপায়ে মারামারি শিখার টিউটোরিয়াল দেখে ভ্লগিং করার খোঁজ চালায় সে। এরপর যা হয় তা বললে স্পয়লার হয়ে যাবে মনে হয়। তাই বেশি কিছু বললাম না।
মানহোয়ার আর্ট খুব নজরকাড়া। মুখের অভিব্যক্তিগুলো তো দেখার মতো। উদাহরণ হিসাবে ৩য় ছবিটি দেখুন। চরিত্রগুলোর বিকাশ বেশ ভালো লাগছে এখন পর্যন্ত। মানহোয়াটার মূল আকর্ষণ এটার মারামারির দৃশ্যগুলি। মজার ব্যাপার হলো, মারামারিতে বাস্তব মার্শাল আর্ট / স্পোর্টস এর বিভিন্ন রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। মার্শাল আর্ট নিয়ে আগা-মাথা কিছু না জানলেও মারামারিগুলো দেখতে চরম আকর্ষণীয় লাগে। সম্প্রতি Line Webtoon থেকে ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করা শুরু হয়েছে Viral Hit নামে। কিন্তু শুনেছি অনুবাদ সুবিধার না। PH Scans, Death Troll স্ক্যানলেশন গ্রুপের ব্যানারে ৫৮ টা চাপ্টার বের হয়েছে এখন পর্যন্ত। তাদেরটা পড়ে দেখতে পারেন।
অতিরিক্ত তথ্য- এই ওয়েবটুন এর স্রষ্টা এর আগে জনপ্রিয় Lookism সিরিজটা তৈরি করেছেন।
 
 

Soredemo Machi wa Mawatteiru/And Yet The Town Moves [রিভিউ] — Md. Anik Hossain

★কাহিনী সারসংক্ষেপ★
আরাশিয়ামা একটা বোকা মেয়ে, খাঁটি বাংলায় “মগা”। যেখানেই যায় সেখানেই ঝামেলা পাকায়। তবে নানা রকম রহস্য নিয়ে খুব আগ্রহ রয়েছে ওর। এক বুড়ির ছোট রেস্তোরাঁ / মেইড ক্যাফেতে কাজ করে। কিন্তু রেস্তোরাঁর ব্যবসার অবস্থা যাচ্ছেতাই। নিয়মিত গ্রাহক বলতে আরাশিয়ামার এক ক্লাসমেট…নাম তার সানাদা। আরাশিয়ামা আবার সানাদা সাহবের গোপন ক্রাশ। একদিন রেস্তোরাঁয় আরাশিয়ামার এক বান্ধবী তাৎসুনো আসে। আসার পর এখানকার ধ্বজভঙ্গ অবস্থা দেখে রেস্তোরাঁয় কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে ব্যবসার উন্নতি করা যায়। একইসাথে আরাশিয়ামার সাথে আরো ঘনিষ্ঠ হতে সুযোগটি লুফে নেয় সানাদা, সেও রেস্তোরাঁয় কাজ যোগ দেয়। অতঃপর রেস্তোরাঁয় তাদের প্রাত্যহিক হাস্যরসাত্মক কাজ, বিভিন্ন বেহুদা রহস্য উন্মোচন নিয়ে কাহিনী আবর্তিত হয়।
 
 
 
✴️মতামত ও সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা✴️
স্টুডিও Shaft এর আর্ট, এনিমেশন নিয়ে আলাদা করে দিছু বলার নেই। ওদের চকচকা আর্ট দেখলেই আমার মন ভালো হয়ে যায়।
মূলত কমেডি সিরিজ হলেও অনর্থক মিস্ট্রিগুলো বেশ আকর্ষণীয় ছিল। আমার কাছে Hyouka এর পরে ছোট রহস্য উদঘাটনের দিক দিয়ে এই সিরিজটা সবচেয়ে চমৎকার লেগেছে। রহস্য বলতে আমরা যেমন কাঠখোট্টা সিরিয়াস জিনিস ভাবি, সেটাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একরকম উপহাস করা হয়েছে এখানে। আমাদের রহস্যখোর নায়িকা আরাশিয়ামার চেহারাটা যেন তার চরিত্রের সাথে খাপে খাপ মিলে যায়। দেখলেই বোঝা যাবে বোকা একটা মেয়ে। কমেডির সাথে যথেষ্ট পরিমাণ রোমান্স এর স্বাদও পাওয়া গেছে সিরিজে। আরাশিয়ামা এবং সানাদার রসায়ন মন্দ ছিল না। এদিকে সময়ে সময়ে কমেডি ছাড়াও সুন্দর গুরুগম্ভীর মূহুর্ত ছিল। বিশেষত মালিক বুড়ির সাথে আমাদের নায়িকার অতীতের স্মৃতিগুলো বেশ মধুর লেগেছে।
এনিমের মিউজিক মুটামুটি বলা যায়। তবে এন্ডিং থিমটা দারুণ! Asobi Asobase সিরিজের কথা মনে আছে? অনেকটা ওরকম তবে Heavy metal(?) এর তুলনায় Soft rock গান :v (Ending link: https://www.youtube.com/watch?v=1k44tTuKKsg)
 
সিরিজটা দেখার সময় কখনো সময় নষ্ট হয়েছে বলে মনে হয়নি। পেইসিং আমার মতে ঠিকাছে, বিরক্তি আসেনি।
কন্ঠাভিনয় এর মান ভালো ছিল। আলাদা করে আরাশিয়ামার গলার স্বরের কথা উল্লেখ করা যায়। খুব খুউব মজা লেগেছে শুনে…. সরল-সোজা বাচ্চা মানুষের মতো গলা। এ জন্য ধন্যবাদ দিতে হয় কন্ঠাভিনেতা চিয়াকি ওমিগাওয়া কে।
 
✰রেটিং✰
অ্যানিমেশন-আর্ট : ৮.৫/১০ (এদিকটায় আমি একটু বিতর্কিত পরিমাণ ওভাররেটেড মনে হতে পারি)
প্রেক্ষাপট : ৭.৫/১০
কাহিনী : ৮.৫/১০
চরিত্রসমূহ : ৮/১০
মিউজিক : ৮/১০
কন্ঠাভিনয় : ৮.৫/১০
সামগ্রিকভাবে : ৮.৫/১০
 
সব মিলিয়ে দেখার মতো কিঞ্চিৎ underrated একটা এনিমে । আশা করি সকলের ভালো লাগবে।
 
 

I Sold My Life For 10,000 Yen A Year / Three Days of Happiness [মাঙ্গা রিভিউ] — Md. Anik Hossain

I Sold My Life For 10,000 Yen A Year
/
Three Days of Happiness
_______________________________________
 
একটা মানুষের জীবনের দাম কত ? কীসের বিনিময়ে আপনার জীবনের একেকটা বছর বেঁচা যেতে পারে ? আপেক্ষিক একটা বিষয় হতে পারে । যত আনন্দদায়ক হবে একটি বছর , সেটির দাম হয়ত তত বেশী । আরেকটু স্পষ্ট করে জিজ্ঞাসা করলে, আপনার সেই একেকটা বছরের “টাকায়” মূল্য কত হতে পারে ? কল্পনা করুন আপনার অবশিষ্ট জীবনকাল বিক্রি করা সম্ভব । এমন একটা দোকান আছে যেখানে বছর হিসাব করে আপনি ইচ্ছামতো আপনার আয়ুষ্কাল বেঁচতে পারবেন নগদ অর্থের বিনিময়ে । জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ আপনি । সামান্য রুটি রুজি করতে হিমশিম খাচ্ছেন । অভাবের তাড়ণায় বই-পত্র , গানের ক্যাসেট সব বিক্রি করতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে । বাকি ভবিষ্যত্টা একেবারেই অন্ধকারাচ্ছন্ন । এই বাকি জীবনটা রেখে তবে লাভ কি ? এই অনিশ্চিত্ , লক্ষ্যহীন , অপদার্থ জীবনটার কয়েক বছর বিক্রি করে যদি কিছু টাকা পাওয়া যায় তাহলে খারাপ কি ? এমন ই ভাবনা থেকে কুসুনোকি নামক বিশ বছরের এক যুবক সন্ধান পায় এমন একটি দোকানের, যেখানে মানুষের আয়ুষ্কাল , সময় এবং স্বাস্থ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। যেখানে গিয়ে সে তার অবশিষ্ট জীবনের সবটাই বিক্রি করে দেয়, মাত্র ৩মাস বাদে । বছর প্রতি কয় টাকার বিনিময়ে জানেন ? মাত্র ১০ হাজার ইয়েনের বিনিময়ে । একইসময় সে তার অবশিষ্ট ৩ মাসে যেন কোন সমস্যা তৈরি না করে, সে জন্য দোকান থেকে পাঠানো হয় মিয়াগি নামের এক মেয়েকে । যে কিনা গ্রাহকের পর্যবেক্ষক হিসাবে সর্বদা তার পাশে থাকবে, সে যেখানেই যাক না কেন । এই ৩ মাসে কুসুনোকি নিজের জীবনের কতটুকু মূল্য ও আনন্দ খুঁজে পাবে, অতীত জীবনের ভুল ও অপ্রাপ্তিগুলো কতটা আবিষ্কার করতে পারবে এক সহচারীর উপস্থিতিতে, তা নিয়েই আবর্তিত হয় কাহিনী ।
মাত্র ১৮ চাপ্টারের এই চমত্কার পটভূমিতে তৈরি মাঙ্গাটি আপনাকে যেমন জীবনের মূল্য শেখাবে… তেমনি শেখাবে হাজারো অপ্রাপ্তি , নিরানন্দ উপেক্ষা করে অল্প, কিন্তু মনে রাখার মতো কিছু স্মৃতিকে জীবিকা করে সন্তোষজনক এক পরিণতি বরণ করতে।
সুন্দর পটভূমির আড়ালে কিছু সীমাবদ্ধতা মাঙ্গাটিতে দেখতে পেয়েছি । মাঝে মাঝে কাহিনীর গতিশীলতা হারিয়ে ফেলছিল । আর্ট খারাপ ছিল না মোটেও, তবে অমায়িক এই প্লটের তুলনায় একটু সাদামাটা লেগেছে । চরিত্রের পরিমাণ এমনিতেই অত্যন্ত কম, আবার মূল চরিত্র বাদে বাকি কারো অতীত নিয়ে সেভাবে কিছু দেখানো হয়নি । হয়ত আরেকটু ভালোভাবে তাদের অতীতগুলো তুলে ধরলে আরো ইমোশনাল বানানো যেত গল্পটা ।
তবে মোদ্দাকথা , প্রত্যেক কে বলব মাঙ্গাটি পড়ে দেখতে । অত্যন্ত আবেগপূর্ণ , চিন্তা জাগানিয়া সিরিজটি এক বসাতেই পড়ে ফেলতে পারবেন । হয়ত আমার মতো আপনারাও জীবনের সুখ দূঃখের সম্পর্কে অন্যরকম এক অর্থ খুঁজে পাবেন !?
 
(ব্যক্তিগত রেটিং):
* প্রেক্ষাপট: ৯.৫/১০
* গল্প: ৮/১০
* আর্ট: ৮/১০
* চরিত্রসমূহ: ৮.৫/১০
চূড়ান্তভাবে: ৯/১০
 

Monster [Review] — Naziur Rahman Nayem

Monster
Writer: Naoki Urasawa
Original Run: 7 April, 2004 – 28 September, 2005
Rating: 8.8/10
 
*Spoiler Alert
 
Tsugumi Ohba- এর Death Note এর পর Psychological-Mystery genre তে Naoki Urasawa-এর আরেকটা মাস্টারপিস হল এই “Monster” নামক এনিমে। এর এপিসোড মোট ৭৪ টা। যা “Death note”- এর তুলনায় দ্বিগুণ। এটা হল মিস্ট্রি সাইকো থ্রিলার জনরার এনিমে। এর জন্য এটা দেখা আরকী। ভাবলাম বহুত গভীর চিন্তা হইছে,,, এবার একটু বিনোদন নিয়ে আসি। তবে বিনোদন আর নেওয়া হইলো না। এটাতেও ডিপ ফিলোসফিকাল ব্যাপার স্যাপারের সম্মুখীন হতে হইল।
নাম শুনে মনে হতে পারে এটার মধ্যে সুপারন্যাচারাল ব্যাপার স্যাপার আছে। কিন্তু আদপে এর ভেতর তা নেই। এখানে কাহিনীকে যেভাবে টেনে নিয়ে যাওয়া হইছে ও যে চরিত্রগুলো যেভাবে দেখানো হইতে তা একদম বাস্তবভিত্তিক। তারপরও সাউন্ড ইফেক্ট ও এর স্লো পেসের জন্য এটা যেকোন হরর ও থ্রিলিং এনিমের থেকেও কম না। বাস্তবভিত্তিক হয়েও এটা আপনাকে যথেষ্ট থ্রিল প্রদান করবে। আর তার কারণ হলো এর প্লট ও কেন্দ্রীয় ভিলেন চরিত্রকে নিয়ে টুইস্ট।
এটি হল দুটি বিপরীত চরিত্রের ফিলোসফি নিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্বমূলক এনিমে। এই এনিমে নায়কের নাম থাকে হল ড. টেনমা যে কীনা একজন স্পেশালিষ্ট নিউরোসার্জন এবং যে ভিলেন তার নাম হল ইয়োহান লিবার্ট(যদিও এটা তার প্রকৃত নাম নয়!! এনিমে দেখলে ঘটনা বোঝা যাবে) এবং সে চরম এন্টাগনিষ্ট ও নিহিলিস্ট প্রকৃতির। অপরদিকে ড. টেনমা তিনি হলেন অপটিমিস্টিক ও জাস্টিস- এর প্রতীক।
কিন্তু ইনিই ঘটনাচক্রে একদিন যে হাসপাতালে তিনি কাজ করতেন সেখানে দুটো বাচ্চা ছেলে ও মেয়ে আহত হয়ে আসে। ছেলেটির মাথায় গুলি লাগে। আর এ চিকিৎসা ভার নায়কটি নেয়। যেহেতু তিনি বেশ দক্ষ সার্জন তিনি ছেলেটির সফলতার সাথে অপারেশন করেন।
কিন্তু বিপত্তী ঘটে পরবর্তীতে গিয়ে এ অপারেশন হবার কিছুদিন পর ছেলেটি হঠাৎ করে হাসপাতাল বেডের থেকে উধাও হয়ে যায় ও যে মেয়েটি ছিল সেও উধাও হয়ে যায়। সবাই সন্দেহ করতে থাকে এ হল খুনীর কাজ, খুনীই ছেলে ও মেয়েটিকে কিডন্যাপ করেছে।
এরপর রহস্যজনকভাবে হাসপাতালেরই ৩ জন মারা যায়। এসব কাহিনী ঘটার পর পুলিশী তদন্ত চলে এবং একজন দক্ষ গোয়ন্দা এ কেস সমাধানের দায়িত্ব নেয়। এ ঘটনায় গোয়েন্দাটির সন্দেহ গিয়ে পড়ে ড. টেনমার উপর। কেননা যে তিনজন মারা যায় তার ভেতর একজন হলেন হাসপাতালের ডিরেক্টর যিনি ড. টেনমাকে চক্রান্ত করে তার পদ থেকে ডিমোশন দিয়ে দেয়। আর এ ডিমোশনের কারণ হলো ঐ দুটি বাচ্চা ছেলে, মেয়েকে অপারেশনের সময় একজন মেয়রের অপারেশন করার জন্য ডিরেক্টর নির্দেশনা দিয়েছিলো।
এখন অন্যান্য ডাক্তারও ছিল কিন্তু নায়কের দক্ষতা মারাত্মক লেভেলের হওয়ায় এবং মেয়রের চিকিৎসা করলে হাসপাতালের রেপুটেশন বাড়বে ও ডোনেশন পাওয়া যাবে এটা ছিল ডিরেক্টরের হাবভাব। কিন্তু ড. টেনমা এটা বুঝতে পেরে এবং সে যেহেতু প্রথমে ঐই বাচ্চা দুটির কেসই হাতে পায় সে নির্দেশ অমান্য করে ঐ ছেলের অপারেশন করে। এর ফলে তার পদ থেকে তাকে ডিমোশন দেওয়া হয়। এতে ডাক্তার যে নতুন গবেষণা করছিলেন এটার সাহায্যও বন্ধও হয়ে যায়।
আর ডিরেক্টরের মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল, এটাও ভেঙ্গে যায়। সবমিলিয়ে প্রচন্ড ক্ষোভ আর হতাশা জন্মে ড. টেনমার মনে। এটাকেই গোয়েন্দা হত্যাকান্ডের মোটিভ হিসেবে ধরে নেন। কিন্তু তারপরও সুযোগ্য প্রমাণ ও খুনের সময় ডাক্তারের অন্য জায়গায় উপস্থিতির কারণে ব্যাপারটা প্রায় নয় বছর স্থগিত থাকে। আর এ নয়বছর পর তেমন খুনটুন আর হতে দেখা যায় না।
কিন্তু নয়বছর পর। ডিরেক্টর মারা যাবার পর নতুন ডিরেক্টর আসে ও ড. টেনমা তার পুরনো পদ আবার ফিরে পায়। সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চলছিলো, কিন্তু এরপরই আসে ঘটনার আসল টুইস্ট… হঠাৎ আরেকটা খুন হয় এবং সে খুনের সাক্ষী একজন চোর মারাত্মকভাবে আহত হয় ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে।
ড. টেনমা তাকে সুস্থ করে তোলার পর যেই চোরটি খুনীর বর্ণনা বলবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় ঠিক সেই রাতেই খুনীকে যে গার্ড নজরদারির মধ্যে রাখত সে মারা যায় ও চোরটি আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যায়। এরপর সেইসূত্র ধরে ড. টেনমাও চোরকে তাড়া করলে নয় বছরের সেই পুরনো স্মৃতি ফিরে আসে।
ভিলেনের সাথে তখন ডক্টরের মোলাকাত হয়। ভিলেনকে এত তাড়াতাড়ি দেখানো হবে এটা আমি আশা করিনি। তারপর ভিলেনটি বলে সে হল সেই বাচ্চা ছেলেটি যাকে টেনমা নয় বছর আগে অপারেশন করে বাঁচিয়েছিলো। এরপর যে খুনগুলো হয় এটা তারই করা। এরপর ড. টেনমার নৈতিকতা, ভ্যালু তাকে হন্টিং করা শুরু করে।
সে তো একজন ডাক্তার, মানুষ বাঁচানোই তার কাজ… কিন্তু তার বাঁচানো মানুষটাই আজ এসব ভয়ানক কাজ করছে। সে কী আসলেই ঠিক করেছে। তখন তার কাছে ভালো-খারাপের যে নৈতিকতা রয়েছে এই দ্বন্দ্ব এর যাতনায় সে প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। সে ভিলেনকে থামাবার চেষ্টা করে কিন্তু তার চোখের সামনে সে ঐ সাক্ষীকে খুন করে চলে যায়।
আর এরপরে ডক্টর হতাশ হয়ে গোয়েন্দাটিকে সমস্ত কথা বললে গোয়েন্দাটি তারপরও একে কাহিনী বলে সন্দেহ করতে থাকে ও মনে করতে থাকে ড. টেনমার নিশ্চয়ই দ্বৈত চরিত্র তথা ডাবল ক্যারেক্টার রয়েছে। সে সবার সামনে ভালো মানুষ কিন্তু যখন তার ক্যারেক্টার জেগে ওঠে তখন সে খুন করে ও আবার ভালো মানুষ হয়ে উঠে।
এরপর ডক্টর হাসপাতালের কাজ ছেড়ে দিয়ে ভিলেনকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে ও তাকে খুন করার কামনা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এতে পুলিশদের সন্দেহ বেড়ে গেলে ও তার এভাবে হঠাৎ উধাও হয়ে যাবার কারণে সে হয়ে যায় মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল।
এভাবেই অপরাধী হয়ে পালিয়ে বেড়িয়ে সেই ভিলেনকে খুঁজতে বেরিয়ে আরও ভয়ানক সব তথ্য বেরিয়ে আসে ও বেরিয়ে আসে গোপন অর্গানাইজেশনের কথা। ভিলেনের সম্বন্ধে মর্মান্তিক ও ভয়ানক সব তথ্য বের হতে থাকে। এবং এর সাথে আরও যুক্ত হতে থাকে অনেক চরিত্রের।
এ এনিমের মূল বিষয়ই হল ভিলেন। মানে ইয়োহানকে ঘিরে সমস্ত ঘটনা আবর্তিত হয়। আর এই চরিত্রকে এত সুন্দর করে চিত্রায়িত করা হয়েছে এটি আমাদের ভেতরকার শূন্যতা, একটা মানুষ যখন জীবনের অর্থ খুঁজে না পায় সে কিরূপ অসহায় হতে পারে ও শিশুমনে ভুল শিক্ষার কী পরিমাণ মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে তা আমাদেরে স্মরণ করিশে দিবে। ইয়োহান কে বলা যায় সে হল “Pessimistic nihilist” অর্থাৎ নেতিবাচক নৈরাশ্যবাদীর প্রতীক আর এর পেছনে রয়েছে তার অতীত জীবনের পারিপার্শ্বিক বিশাল প্রভাব যা ধীরে ধীরে এই চরিত্রটিকে গড়ে দেয়।
অপরদিকে ডক্টর এখানে আশাবাদী তার কথা হল একদিন না একদিন সুদিন আসবেই। সকল মানুষের জীবনের মূল্য সমান।
কিন্তু ইয়োহানের ধারণা হল মানুষ শূন্য,, এখানে মৃত্যু ছাড়া কিছুই নেই। তাই সবকিছু সে ধ্বংস করে দিতে চায় এমনকী নিজেকেও।
এভাবে পরস্পর দুটি ধারণা আমাদের এই এনিমের শেষে নিয়ে গিয়ে একটি গভীর বার্তা প্রদান করে যায়। নায়ক ও ভিলেন ছাড়াও এ এনিমে আরও যেকজন চরিত্র আছে তাদের নাম হলো – ডিটেক্টিভ লুংগে, এভা হাইনাম্যান, উলফ গ্রিমার, রবের্টো, নিনা, ডিটার, ফ্রান্স বোনাপার্টা ইত্যাদি ইত্যাদি। এর মধ্যে থেকে আমাদের পছন্দের চরিত্রটি হল উলফ গ্রিমার। আর সবচেয়ে অপছন্দ হয়েছে রবের্টো কে। ডিটেক্টিভ লুংগে প্রথম প্রথম ভালো না লাগলেও পরবর্তীতে যেয়ে ভালো লেগেছে। ভিলেনকেও ভালো লেগেছে তবে তার থেকে বেশী লেগেছে ভয়। এরকম ইমোশনলেস ভিলেন হলে তা খুবই স্বাভাবিক, আর কথা তো বলে না যেন ঠান্ডা ছুরি। সবমিলিয়ে অনবদ্য ছিল এই এনিমে টি।
সবশেষে বলা যায়, এই এনিমে পরবর্তীতে গিয়ে আমাদের শেখায় ভালো-খারাপের দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হতে গিয়ে একটা পর্যায়ে এক চরম শূন্যতার মুখোমুখি হতে হয়। আর তখন জীবনের জন্য কিছু ভ্যালু বা অর্থ (meaning) এর প্রয়োজন হয় যা চূড়ান্ত ভালোবাসা থেকে আসে, ক্ষমা থেকে আসে, সমস্ত দ্বন্দ্বের উর্ধ্বে থেকে আসে।
 

Aria [Anime Recommendation/Review] — Arijit Soumik

Aria
Seasons :
  1. Aria the Animation (1st season)
  2. Aria the Natural (2nd season)
  3. Aria the OVA: Arietta
  4. Aria the Origination (3rd season), and
  5. Aria the Avvenire (OVA series with 3 episodes)
Genre: Sci-fi, Slice of life, Fantasy
 
এনিমে দেখার পিছে অনেক কারন থাকতে পারে। কেউ দেখে টাইম পাস করার জন্য, কেউ দেখে নিজের সময়টাকে ভালোভাবে উপভোগ করার জন্য আবার কেউবা দেখে ক্লান্ত মনকে রিফ্রেশ করার জন্য। আর এই জন্য এক নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি আছে। একে Iyashikei or feel good/healing anime ও বলে। আর এই ধরনের এনিমেগুলোর মাঝে একটি হচ্ছে Aria.
 
Plot and setting:
অন্যান্য SoL/Iyashikei anime থেকে Aria এর বৈচিত্রময় আকর্ষন হচ্ছে এর সেটিং। Aria এর গল্পের শুরু আর আবর্তন মূলত Aqua নামের এক গ্রহে (যা কিনা mars এর নতুন নাম) Neo Venezia শহরে। এই Neo Venezia আবার ইতালির Venice এর অনুপ্রেরণায় নির্মিত। আর এই শহরের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে Water gondola guides যারা Prima Undine নামে পরিচিত। মিযুনাসি আকারি, Aria company এর এক apprentice যার স্বপ্ন prima undine হওয়ার। এই মনোরম শহরে তার ও তার বন্ধুদের জীবনযাত্রা কে কেন্দ্র করেই মূলত গল্প এগিয়ে যায়।
 
“A fateful encounter in life can lead to many miracles “ ~
এনিমেতে এটি খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। এছাড়াও জীবনে যেমন মোলাকাত আছে ঠিক তেমনি বিদায়ও আছে… তবে তা মেনেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এনিমে এই মেসেজটি অত্যন্ত নান্দনিক ভাবে দিয়েছে।
 
এনিমেটি প্রথমে কিছু ধীর মনে হতে পারে। তবে আমি বলবো এই ধীর গতি বরং এই এনিমের সাথে অত্যন্ত মানানসই। কারন এনিমেটিতে 1st season ছিলো মূলত character introduction আর Neo Venezia সম্পর্কে ধারনা দেওয়া। 2nd season ছিলো পুরো Aqua নিয়ে ধারনা দেয়া আর সাথে কিছু world building. আর এর ফল পাওয়া যায় 3rd season এ এসে। তার মানে এই না যে প্রথম দুই সিজনে কোন point of focus নেই। বরং এই দুই সিজনই গল্পের ভিত গড়ে দেয় আর 3rd সিজন একে আরো ডেভেলপ করে।
 
এনিমের art and animation আমার কাছে standard মনে হয়েছে। আহামরি কিছু না তবে এর যা purpose ছিলো তা ভালোভাবে fullfil করেছে মানে setting টা ভালোভাবে প্রকাশ করতে হেল্প করেছে। তবে যেদিকে এনিমেটি অসাধারণ সেটি হলো এর soundtrack. প্রতিটা গান এত্ত সুন্দর আর মনোমুগ্ধকর তা বলার মত না।
 
আর এনিমেটির প্রত্যেক ক্যারেকটার likeable and down to earth. Character interaction গুলো অত্যন্ত উপভোগ্য ছিলো। ক্যারেকটার গুলো কখন যে আপন হয়ে উঠবে বুঝতেও পারবেন না।
 
তবে voice acting এর কথা আলাদাভাবে না বললে VA দের প্রতি অসম্মান হবে। প্রত্যকে যে এনিমেটিকে নিয়ে কেয়ার করে তা তাদের ভয়েস এক্টিং শুনেই বুঝা যায়।
 
যাদের এই লকডাউনে আর কিছু ভালো লাগছে না বা যারা অনেক স্ট্রেসড আছেন তারা দেখে ফেলতে পারেন এই অসাধারণ এনিমে।
This one deserves more love to be honest.
 

Tower of God, Season 1 Anime – রিভিউ, আশা/হতাশা, ২য় সিজন নিয়ে আকাঙ্ক্ষা, এবং ১ম সিজনের গল্প নিয়ে সামান্য স্পয়লারযুক্ত আলোচনা – Tahsin Faruque

বিশাল বড় টাইটেল দেখে আগেই বিরক্ত না হতে অনুরোধ করছি। সিরিজটা নিয়ে বেশ অনেক কিছু বলার ছিল। এক পোস্টেই আপাতত মনের কথাগুলি বলে ফেলছি। টাইটেলের মত পোস্ট এত বড় হবে না আসলে।
টাওয়ার অভ গড – ২০২০ সালের সবচাইতে আলোচিত এনিমেগুলির একটি। ১০ বছর আগে শুরু হওয়া ও দিনে দিনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠা কোরিয়ান ওয়েবটুনের উপর ভিত্তি করে বানানো এনিমেটি নিয়ে আগ্রহের একটা বড় কারণ ছিল যে, এই সিরিজের মাধ্যমে কোরিয়ান মানহা বা ওয়েবটুনের এনিমে এডাপ্টেশনের পথে যাত্রার শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে নোবেলিজের ছোট ২-১ পর্বের এডাপ্টেশন ছিল, কিন্তু সেগুলিকে ঠিক আসল এনিমে বলা যায় না। টাওয়ার অভ গড দিয়েই আসল যাত্রাটা শুরু, যা এরপরে গড অভ হাই স্কুল দিয়ে সামনের দিকেই আগাতে থাকবে। এজন্যে এই সিরিজটি একটি বিশাল বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে। তো, মাইলফলক সিরিজ হিসাবে কেমন অবদান রাখলো এটি?
আমার মতে, সিরিজটি অনেক অনেক বেশি ভাল হতে পারতো। তবে সেরকম ভাল না হলেও খারাপ হয় নি। সিরিজটি যদি দেখে থাকেন, তাহলে হয়তো আপনার মনে সিরিজটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকবে, মনে হবে কিছুই তো বুঝলাম না কী হল, কেন হল, একগাদা প্রশ্নের উত্তর পাবার বদলে আরও একশত প্রশ্ন গড়ে উঠলো। ব্যাপারটা স্বাভাবিক, কারণ শুধু এটুক মনে করতে পারেন যে এই ১৩ পর্ব যা দেখলেন (কিংবা যা দেখবেন যদি সিরিজটি দেখার প্ল্যান করেন), এটি অনেকটা নারুতো বা ব্লিচ বা ওয়ান পিস ধরণের বিশাল বড় এক মেগাসিরিজের সূচনা মাত্র। প্রথম ১৩ পর্ব মানহাটির প্রথম সিজন (অর্থাৎ প্রথম ৮০ পর্ব) এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও, এটুক অংশকে আসলে বড় সাইজের একটি prologue বলা যায়। ১ম সিজন শেষে গল্প যেখানে এসে দাঁড়ালো, সেখান থেকেই “আসল গল্প” শুরু হতে যাচ্ছে।
তবে এই কথা বলার অর্থ এটা না যে এর সব ত্রুটি মাফ হয়ে গেল। গুণ অনেক আছে যেমন, তেমনই দোষও নেহাত কম নেই। আপাতত ভাল অংশটুকু নিয়ে আলোচনা দিয়ে শুরু করি।
  • সম্ভবত সিরিজটির সবচাইতে ভাল দিক হচ্ছে এর মিউজিক। কেভিন পেনকিন সামনের দিনের সবচাইতে বড় এনিমে মিউজিক কম্পোজারদের একজন যে হতে যাচ্ছে, তা মেইড ইন এবিস, শিল্ড হিরোর পর টাওয়ার অভ গডের মাধ্যমে আবার একবার প্রমাণ করলো।
  • প্রথম দেখায় এনিমেশন তেমন ভাল লাগে নি, তবে এরপর একটু হাই কোয়ালিটির ভিডিওতে দেখার সময়ে বুঝলাম এনিমেশন আসলে খারাপ নয়। মানহার অরিজিনাল আর্টস্টাইল শুরুর দিকে খারাপ ছিল বেশ, নুবিশ আঁকা ছিল। পরের দিকে মাঙ্গাকার স্কিল বাড়তে থাকে, এবং আঁকার মানও উপরের দিকে উঠতে থাকে। এনিমের আর্টস্টাইল অনেকটা মাঙ্গাকার পরের দিকের আর্টস্টাইলের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে। কিছুটা নতুনত্ব আছে তা অস্বীকার করবো না।
  • যদিও ওয়ার্ল্ড বিল্ডাপ-এর প্রায় কিছুই দেখি নি আমরা, তারপরেও টাওয়ার অভ গডের দুনিয়াটা যে বেশ নতুনত্ব কিছু নিয়ে এসেছে, সেটা অবশ্যই বলতে হবে। টাওয়ার-টা আসলে কী, এর বাইরে কী আছে, এটা কত বড় – এমন হাজারোটা প্রশ্ন এটাকে বিভিন্ন মেগাসিরিজের মধ্যে একটাকে ইউনিক কিছু বানাতে পেরেছে। তথাকথিত “টাওয়ার” বেয়ে উঠতে গেলে যে বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা উতরে যেতে হবে, এটা দেখলে প্রথমেই হান্টার হান্টারের কথা মনে পড়তে পারে দর্শকের। তবে তারপরেও সিরিজটিতে এসব পরীক্ষানিরীক্ষার ধরণে অন্যরকম স্বাদ পাওয়া যায়।
  • একগাদা চরিত্র থাকলেও প্রায় সব বড় চরিত্র দর্শকদের পছন্দ হবার মত করেই বানাতে পেরেছে।
এবার আসি ক্রিটিসিজম প্রসঙ্গে।
 
  • অনেক তাড়াহুড়া করে গল্প আগাবে মনে হতে পারে। ৮০ চ্যাপ্টারের কন্টেন্ট ১৩ পর্বে এঁটে দেওয়া সহজ ব্যাপার না। পর্ব সংখ্যা অন্তত আরও ৩-৪টা বেশি হওয়া উচিৎ ছিল।
  • বড় বড় অনেক রহস্যের ব্যাখ্যা এখন না দিলেও, গল্পের এই পর্যায়ে এসে ওয়ার্ল্ড বিল্ডাপ নিয়ে যেসব সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দর্শকের জানতে পারা উচিৎ, তার অনেক কিছুই খোলাসা করা হয় নি।
  • আর বাকি যেসব নেগেটিভ দিক নিয়ে আলোচনা করবো, তা একটু নিচে স্পয়লার ট্যাগে আছে। দেখে নিতে পারেন।
 
 
২য় সিজন নিয়ে আশা/হতাশাঃ
১ম সিজন যেমনই হোক না কেন, দর্শকমহলে বেশ ভাল রিসিপশন পেয়েছে। ক্রাঞ্চিরোলের নিজস্ব প্রোজেক্ট বলে তারা ভাল করেই জানে কত বেশি দর্শক এটা দেখতে পেরেছে। (এক্ষেত্রে বলে রাখি, আপনি যদি বাংলাদেশে বা এই সাবকন্টিনেন্টে বসে দেখতে চান, ক্রাঞ্চিরোলে গিয়ে একদম 1080p-তেই দেখতে পারবেন আরামসে, একদম ফ্রিতে। তাই ফ্রিতে অরিজিনাল কন্টেন্ট সাপোর্ট করতে চাইলে একদম ক্রাঞ্চিরোলে গিয়েই দেখুন।) এজন্যে ২য় সিজন না আনাটা বোকামিই হবে তাদের জন্যে। তবে কিছু leaked source থেকে জানা গিয়েছে সামনের বছর ২য় সিজন আসবে। অফিশিয়াল ঘোষণা না আশা পর্যন্ত খবরটিকে আপাতত গুরুত্ব দিচ্ছি না।
তবে ২য় সিজন যদি আসে, আমি চাইবো যেন তারা rush না করে ভাল এডাপ্টেশন করতে পারে। ১ম সিজনের গল্প মানহাতে অনেক ধীরে ধীরে আগায়, যেটা আসলে rush না করলে দর্শককে বিরক্ত করে ফেলতে পারতো। তবে ২য় সিজন থেকে গল্প মানহাতেই ভাল স্পিডে আগায়। এটার স্পিড এনিমেতে আরেকটু বাড়াতে গেলে সর্বনাশ হবে। খেয়াল রাখবেন, টাওয়ার অভ গডের দুনিয়াটা বিশাআআআল, আর এখানে এত বেশি বেশি চরিত্র আছে যে, এনিমের পেসিং ঠিকমত না হলে দর্শকদের মাথা খারাপ হয়ে যাবে। স্পয়লার না দিয়েই বলি, মূল গল্পের অনেক মেইন চরিত্রকে এখনও আমরা এনিমের ১ম সিজনে দেখিই নাই। ২য় সিজন থেকেই আসলে এসব মেইন চরিত্রদের দেখতে পারবো। এজন্যে তাদের ক্যারেক্টার বিল্ডাপ খুব ভালমত হওয়া দরকার। ভালমত হওয়া দরকার সামনের দিকের কয়েকটা অসাধারণ রকমের ভাল story arc-এর। তাই, শুধু পেসিং জিনিসটি যদি ঠিক করতে পারে, আর গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ না কেটে ফেলে, তাহলে ২য় সিজন থেকে এনিমে নিয়ে কোন চিন্তা থাকবে না আমার।
 
কাট-কন্টেন্ট যা থাকা উচিৎ ছিল, পরিবর্তিত কন্টেন্ট যা পরিবর্তন করা উচিৎ ছিল নাঃ
২য় সিজনের স্পয়লার দিব না, তবে ১ম সিজন যদি আপনি দেখে থাকেন, তাহলে আশা করি নিচের লেখাটি পড়তে সমস্যা হবে না। এখানে আমি মূল মানহার ১ম সিজনের শেষ পর্যন্ত গল্পের অংশে যেসব বড় বড় কন্টেন্ট এনিমেতে বাদ দিয়েছে বা পরিবর্তিত করেছে তা নিয়ে আলোচনা করবো। তাই, একটি স্পয়লার ওয়ার্নিং থাকলোঃ
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
  • সবার আগে সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা বাদ দিয়েছে এনিমেতে (যেটার জন্যে আমি বেশ ভাল রকমের বিরক্ত), তা হল…
    আপনি কী জানেন যে Bam x Endorsi একটা বিরাট ব্যাপার!? জানেন না? ওয়েবটুনটি না পড়লে জানার কথাও না, কারণ এনিমেতে এই বিশাল জিনিসটা সোজা সাপটা বাদ দিয়ে দিয়েছে!!! খুব বিশ্বাস না হলে গুগলে গিয়ে Bam x লিখুন, এরপর Endorsi নিজে থেকেই চলে আসবে। গল্পের এই পর্যায়ে বাম ও এন্ডোরসির এই সম্পর্কে যে একদম রোমান্টিক তা নয়, তবে তাদের অনেক interaction একদম চোখ বন্ধ করে বাদ দিয়েছে এনিমেতে। তাদের এই সম্পর্ক এত বিশাল বড় যে এটার এক বড় প্রভাব ২য় সিজনে দেখতে পারবেন (যদি এনিমেতে দয়া করে সেটাও বাদ না দিয়ে রেখে দেয়)।
  • এন্ডোরসির ক্যারেক্টার বিল্ডাপের অনেক কিছু বাদ পড়ে গিয়েছে। বিশাল বড় ইগো-ওয়ালা এই চরিত্র যে ১ম সিজন শেষের আগেই best girl হয়ে যায়, তা এনিমে দর্শক হয়তো জানবেও না মানহা না পড়লে। Bam x Endorsi এর অংশগুলা যা বাদ দিয়েছে, সেখানেই এগুলির অনেক কিছু পড়েছে।
  • Rachel-এ সিরিজে অনেকবারই এমন আচার আচরণ করতে দেখিয়েছে, যাতে তার প্রতি শুরু থেকেই সন্দেহ থাকে সবার। ব্যাপারটি মানহাতে সেরকম ছিল না। এন্ডোরসির কথাতে এনিমের মত সে রাগ হয় নি, কথায় কথায় মানুষজনের তাকে সন্দেহ করতে দেখা যায় নি। সোজা কথা, ১২-১৩ পর্বে তার সেই বিট্রেয়ালটা একটা সারপ্রাইজ হিসাবেই ছিল মানহাতে, এনিমতে সেটা foreshadow করে এসেছে যখনই পেরেছে।
  • ক্রাউন গেমের শেষের দিকে গিয়ে বাম শিনসুতে পরিবর্তিত হয়ে যায় নি আসলে, মানহাতে জিনিসটা এভাবে দেখিয়েছিল যে, হোয়া রিউনের দিকে তার কাছ থেকে এক ঝলক শিনশু এটাক গিয়েছিল। তার ঐ শিনসু এটাকে ক্রাউন ধ্বংশও হয় নি, আর রাগ হারিয়ে রিউনকে মারতে গেলে ব্ল্যাক মার্চ সময় থামিয়েও দেয় নি, বরং বাম সেখানেই সেন্সলেস হয়ে যায়।
  • ব্ল্যাক মার্চের কথা যেহেতু এসেছিল, যতদূর মনে পড়ে, এনিমেতে একে কাতানা বলে উল্লেখ করেছিল মনে হয়। কোরিয়ান থেকে জাপানিজ ট্রান্সলেশনের ভুল কিনা জানি না, কিন্তু ব্ল্যাক মার্চ কাতানা নয়, নিডল (needle)। হ্যাঁ, নিডল বা সুই-টাইপের অস্ত্র। সোর্ড আর নিডল দুই আলাদা জিনিস, কেন সেটাও এনিমেতে ভাল করে বলে নি।
  • বাম যে বিশেষ কিছু, বা ওর মধ্যে যে ভয়ংকর পটেনশিয়াল লুকানো, সেটা আমার মনে হয় এনিমতে ভালমত দেখায় নি। কয়েকটা উদাহরণ দেইঃ
    * লেরো রো-এর সেই শিনসু টেস্টের সময়ে সবাই শিনসু দেওয়ালের পিছে চলে গিয়েছিল, বাম বাদে। এই ঘটনাটা এনিমেতে দেখে মজা লাগতে পারে, তবে যেটা সবচাইতে বড় ধাক্কা দিত, সেটা ছিল লেরো রো-এর মুখের এক্সপ্রেশন। মানহাতে লেরো রো যেই চেহারা করেছিল, সেটা দেখলে মনে হত ও জীবনের সবচাইতে বড় ভয়ংকর কিছু দেখেছে নিজ চোখে।
    * ক্রাউন টুর্নামেন্টে শুধুমাত্র ওর uncontrollable shinsu flowটাই ওর ক্ষমতার একমাত্র indication ছিল না। মাঝখানে একটা বড় ফাইট একদম বাদ দিয়েছিল। সেখানে বামের ছোটখাট কিছু কারিশমা দেখলে বুঝা যেত ওর ট্যালেন্ট ধীরে ধীরে বাড়ছে।
    * Position training class, Hide and Seek – এই দুই জায়গাতে ranker-দের শিখানো দুইটা কৌশল এক দেখাতেই বাম শিখে ফেলে, যেটা ঐ ranker-দের ২-৩ বছর বা কয়েকশত বছর লেগেছিল শিখতে। বামকে একবারেই সেগুলি করতে দেখার পর ranker-দের মুখের এক্সপ্রেশন দর্শকদেরকে খুব সহজেই বুঝিয়ে দিতে পারতো বাম আসলে কোন লেভেলের monster. দুঃখের ব্যাপার, এনিমতে এগুলি ভালমত দেখায় নি।
  • বিভিন্ন পজিশনগুলি নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল (Fisherman, Wave Controller, Light Bearer, Scout etc.), সেই অংশটি অল্পের মধ্যে সেরেছে এনিমেতে। এই জিনিসটা এনিমেতে মানহার মত বড় করে দেখানো উচিৎ ছিল। সেটা না করাতে অনেকেই কনফিউজড হয়ে যেতে পারে, কারণ এই ধরণের পজিশন আইডিয়াটার সাথে আমরা এনিমে দর্শকরা পরিচিত না। ইউনিক একটা কন্সেপ্ট যেহেতু, এটা ভাল করে বুঝানো উচিৎ ছিল এনিমেতে। মানহাতে সেটা করেছিল।
  • আবার বাম ও এন্ডোরসির কথায় আসি। শেষ দৃশ্যে বামকে অনেক বেশি আশাবাদী হিসাবে দেখিয়েছে এনিমেতে। মানহাতে বাম তখন এত বড় বিট্রায়ালের পর মানসিকভাবে ভেঙ্গেচুড়ে গিয়েছে। জিনিসটা ২য় সিজনে রেটকন না করলে আসলে দুই সিজনের বামকে মিলাতে কষ্ট হবে দর্শকের। আর ওদিকে বামের “মৃত্যু”-এর খবরে এন্ডোরসির মনের ভিতর যেন শূন্যতায় ভরে গিয়েছিল। হ্যাঁ, মানহার এই বড় জিনিসটাও এনিমেতে নাই, কারণ কোন এক অদ্ভুত কারণ পুরা Bam x Endorsi জিনিসটা বাদ দিয়েছে এনিমেতে (যেই জিনিসটা মাফ করতে পারবো না)।
আরও কিছু ছোটখাট পরিবর্তন বা কাট-কন্টেন্ট ছিল, তবে সেগুলি অত গুরুত্বপূর্ণ না। এডাপ্টেশন করতে গেলে ওটুক পরিবর্তন করাই যায়। তবে উপরে বলা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলি শুধু শুধু গল্পকেই পরিবর্তন করে দিবে।
 
সবশেষে বলবো, মানহা যদি পড়তে চান, কষ্ট করে ১ম সিজনটা পাড়ি দিতে পারলেই চলবে। ২য় সিজনের একদম শুরু থেকে টানটান উত্তেজনা! খুবই ফ্যানফেভারিট একগাদা নতুন মেইন চরিত্র যুক্ত হবে, থাকবে পুরানো চরিত্রদের badass প্রত্যাবর্তন, আর সবচাইতে বড় আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবে বাম নিজেই। এনিমের ২য় সিজনটাতে মানহা থেকে ভালমত এডাপ্টেশন করুক, এই আশায় পোস্ট এখানে শেষ করছি।

Genshiken [রিভিউ] — Md. Anik Hossain

𝙂𝙚𝙣𝙨𝙝𝙞𝙠𝙚𝙣

সম্প্রতি দেখে ফেললাম ওতাকু সংস্কৃতি নিয়ে তৈরি 𝙂𝙚𝙣𝙨𝙝𝙞𝙠𝙚𝙣 নামক সিরিজটি। ৩ টি সিজনে বিভক্ত সিরিজটির প্রেক্ষাপট একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ও তার সদস্যদের কেন্দ্র করে। 𝗠𝗼𝗱𝗲𝗿𝗻 𝗩𝗶𝘀𝘂𝗮𝗹 𝗖𝘂𝗹𝘁𝘂𝗿𝗲 𝗦𝘁𝘂𝗱𝘆 𝗦𝗼𝗰𝗶𝗲𝘁𝘆 বা সংক্ষেপে গেনশিকেন নামক ক্লাবটিতে সদস্যরা মূলত এনিমে, মাঙ্গা, গেইম , কসপ্লে, হেন্তাই এবং যাবতীয় ওতাকু সম্পর্কিত জিনিস নিয়ে আলাপ আলোচনা করে । গল্পের শুরু হয় ভার্সিটিতে সদ্য ভর্তি হওয়া কেঞ্জি সাসাহারা নামক ছেলেকে নিয়ে। বেশ নম্র ভদ্র স্বভাবের হলেও তার ইচ্ছা জাগলো বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে ওতাকু জগতে একটু প্রবেশ করে দেখবে । গেনশিকেনের খোঁজ পেয়ে ক্লাবটিতে সানন্দে সদস্য হয়ে গেল সে। একইসাথে মাকোতো কোসাকা নামক আরেক ছেলে তার সাথে ক্লাবে যোগ দেয়। কোসাকা দৈহিকভাবে বেশ সুদর্শন । একইসময় সাকি কাসুকাবে নামক মেয়ে প্রথম দেখাতেই কোসাকা এর প্রেমে পড়ে যায় এবং অদ্ভুতভাবে দুইজনে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে যায় এই অল্প সময়ে । কিন্তু ওতাকু কালচারকে অপছন্দ করা কাসুকাবে তার প্রেমিকের গেনশিকেন ক্লাবে যোগদানের ব্যাপারটা ভালো চোখে দেখলো না। তবু বাধ্য হয়ে ক্লাবে নিয়মিত যাতায়াত চলতে থাকে তার । একই সময় ক্লাবের পুরাতন সিনিয়র সদস্যদের সাথে সদ্য যোগ দেয়া এই ৩ জনের নানা হাসি ঠাট্টা, খোঁচাখুচি চলতে থাকে এবং এভাবে দিনকাল অতিবাহিত হতে থাকে।

মতামত ও পর্যালোচনা:
এই সিরিজের সবচেয়ে বড় দিকটা আমার মতে এর বাস্তবতা এবং ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট। ভার্সিটির শেষ বছরগুলোতে সবার চাকরি খোঁজা নিয়ে ব্যস্ততা ও হতাশা, প্রেমের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সঙ্গীর ভালো মন্দ লাগার ব্যাপারটা না চাইতেও মেনে নেয়া ও একটা সময় তাতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া, পেশাগত জীবনকে আলিঙ্গন করতে যেয়ে পুরনো সুখ স্মৃতিগুলো বিসর্জন দেয়ার মতো দিকগুলো ফুটে এসেছে। অন্যদিকে প্রায় প্রতিটি মূল চরিত্রকে বেশ ভালো রকম স্ক্রিন টাইম দিয়ে তাদেরকে গভীরতা দান করা হয়েছে । প্রত্যেকের দৃষ্টিকোণ থেকে একে অপরকে দেখানো হয়েছে। ধীরে সুস্থে সময় ও যত্ন নিয়ে এদের মধ্যে একটা গভীর বোঝাপড়া গড়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে সিরিজের আরেকটা ভালো দিক ছিল এর গল্প। স্লাইস অফ লাইফ হিসাবে গল্পের পেসিং নিয়ে এ ধরনের সিরিজে অনেক সময় সমস্যা দেখা যায়, বোরিং লাগে। কিন্তু সিরিজটিতে সেরকমটা লাগেনি মোটেও। যতটুকু ধীর ছিল, সেটা চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন ছিল।
এতক্ষণ যা যা বললাম সেগুলো মূলত প্রথম ২ সিজনের ব্যাপারে বলেছি। ৩য় সিজন থেকেই শুরু যত বিপত্তি। নতুন চরিত্রগুলোর মাঝে আগের মতো সেই চারিত্রিক দৃঢ়তা ছিল না। ক্লাবের কাজগুলো খুব রসকষহীন লাগছিল। গল্প Repetitive হয়ে যাচ্ছিল। পুরো গল্প বলতে গেলে শুধু ২ টা চরিত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছিল যেটা প্রথম ২ সিজনের পুরো বিপরীত। তবে মাদারামে এর চরিত্রটার এক্ষেত্রে প্রচুর বিকাশ ঘটে। ক্লাবের সবচেয়ে “বড় ওতাকু” এই সময় ম্যাচিউরিটি অর্জন করে। মাদারামে এর এই পরিপক্বতা দেখার মতো ছিল। কিন্তু সামগ্রিকভাবে পুরো ৩য় সিজন মানে 𝗚𝗲𝗻𝘀𝗵𝗶𝗸𝗲𝗻 𝗡𝗶𝗱𝗮𝗶𝗺𝗲 একটা আক্ষেপের নাম ছিল আমার কাছে। ক্লাবের পুরো ফোকাস হঠাৎ করে BL আর cross-dressing এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। প্রথম ২ সিজনে যেভাবে ছোটো থেকে বড় সকল চরিত্রের সুন্দর ডেভেলপমেন্ট দেখা গেছে, সেই তুলনায় ৩য় সিজনে মন ভরেনি। বিশেষত কুচিকি নামক চরিত্রটাকে তো ব্যবহার ই করা হয়নি ঠিকমতো। অল্প যেটুকু স্ক্রিনটাইম দেয়া হয়েছে কুচিকি কে, তা অযথা কাজকারবারে নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ ভারী রকম character based এই সিরিজে কুচিকি কে খুব ভালো করে ব্যবহারের সুযোগ ছিল।
সে যাই হোক। ৩য় সিজনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল মাদারামে এর চারিত্রিক বিকাশ। সম্ভবত, মাদারামে এর জন্যই পুরো ৩য় সিজনটা বানানো হয়েছে এক হিসাবে। পুরো সিরিজের সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হিসাবে মন জয় করে নিয়েছে।
সর্বোপরি, ওতাকুদের নিয়ে এ পর্যন্ত বেশ অনেকগুলো সিরিজ দেখেছি। তবে নিঃসন্দেহে 𝐆𝐞𝐧𝐬𝐡𝐢𝐤𝐞𝐧 এদের মধ্যে সেরা। ৩য় সিজনের কথা বাদ দিলে চমৎকার একটা সিরিজ। এনিমে, মাঙ্গা নিয়ে আমরা যারা সারাদিন মেতে থাকি, তাদের জন্য সিরিজটা দেখা আবশ্যক আমার মতে।

রেটিং
প্লট: ৮/১০
গল্প: ৮/১০
চরিত্রায়ন: ৮.৫/১০
এনিমেশন-আর্টওয়ার্ক: ৭.৫/১০ (আগের দিনের সিরিজ। সেই হিসাবে ভালোই)
সামগ্রিকভাবে –
সিজন ১+২: ৮/১০
সিজন ৩: ৭.৫/১০ (মাদারামে এর জন্য ০.৫ বাড়িয়ে দিলাম। এছাড়া ৭/১০ এর বেশি দিতে মন সায় দিচ্ছে না। বলে রাখা ভালো, আমার ৭ রেটিং হয়ত অন্যদের ৬.৫ বা ৬ এর সমান হবে 😂)