Maquia: When the Promised Flower Blooms [মুভি রিভিউ] — Md. Anik Hossain

Iorph – এক পৌরাণিক জাতিবিশেষ। অন্য মানুষদের থেকে যারা একটুখানি আলাদা। স্বাভাবিকের থেকে যারা বাঁচে অনেক বেশি বছর। তাদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিও তাই ঘটে খুবই ধীরে ধীরে। ফলে শত শত বছর যাবত্ তারা যেন ধরে রাখে নিজেদের তারুণ্য। মানব সভ্যতা থেকে দূরে পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা প্রত্যন্ত কিন্তু অপার সৌন্দর্যে ঘেরা ছোট্ট একটা গ্রামে তাদের বসবাস। চিরযৌবনা এ জাতির জীবন আবর্তিত হয় “হিবিওল” নামের তাঁতের এক বিশেষ মিহি কাপড় বুনে। তাঁতের বুননে বুননে তাদের ইতিহাস, ধর্মবিশ্বাস ,সংস্কৃতি ফুটে উঠে। নিজেদের মনের ভাষা পর্যন্ত এই কাপড়ের মাধ্যমে আদান-প্রদান করার কৌশল রপ্ত করেছে তারা। আর তাদের ই একজন Maquia. লাজুক, একাকী এতিম কিশোরী মেয়ে। গ্রাম প্রধানের আশ্রয়ে থাকে আর তার ছোটো-খাটো কাজে সাহায্য করে। একাকীত্বে ভোগা মাকিয়া দেখতে চায় এই জগত্টাকে, অনুভব করতে চায় অকৃত্রিম ভালো লাগার। কিন্তু গ্রাম প্রধান তাকে নিষেধ করে বাইরের জগতের মানুষের সাথে মিশতে, তাদের ভালোবাসতে। কারণ সেই মানুষগুলো মরে যাবে দীর্ঘজীবি Iorph দের তুলনায় অনেক আগেই। তখন প্রিয় মানুষগুলো হারিয়ে যাবে এক এক করে। অথচ Iorph রা থেকে যাবে প্রায় অনন্ত সময় ধরে। হারানোর এই ব্যাপারটি শুধু কষ্টই দিয়ে যাবে… সৃষ্টিকর্তা যেন Iorph দের এভাবেই তৈরি করেছে।
 
মাকিয়া ও অন্যান্য Iorph রা সুখে শান্তিতেই বাস করছিল। ছবির মতো সুন্দর জনপদ আর আছে অপূর্ব কাপড়। যার কদর চারিপাশজুড়ে। কাপড় বিক্রি করেই মিটে যায় পেশা নির্বাহের কাজ। কিন্তু কোনো সুখ চিরস্থায়ী নয়। Iorph দের এই চিরযৌবনের দিকে নজর পড়ে Mezarte রাজ্যের রাজার। সেই কুনজরে এক রাতে পুরো Iorph দের গ্রামে নেমে আসে ধ্বংসলীলা। অধিকাংশ Iorph মারা যায় ড্রাগনের পিঠে চরে আসা রাজকীয় বাহিনীর হাতে, নয়ত ধরে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীতে। কিন্তু কোনো এক ভাবেই হোক , মাকিয়া সেই নারকীয় অবস্থা থেকে বেঁচে যায় আর এক বনে এসে উপস্থিত হয়। কিন্তু পুরো গ্রামকে হারিয়ে ভেঙ্গে পড়ে মাকিয়া….. আর উঁচু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার জন্য উদ্যত হয়, ঠিক তখন ই বনের অদূরে ভেসে ওঠে এক বাচ্চার কান্নার আওয়াজ। হতোদ্যম মাকিয়া এগিয়ে যায় কান্নার উত্সের দিকে, আর এক তছনছ করা বসতিতে খুঁজে পায় একটি শিশুকে… মৃত মা শেষপর্যন্ত তার জীবন দিয়ে রক্ষা করেছে কলিজার টুকরো ঐ বাচ্চা শিশুটিকে। প্রথম নজরেই ছোট্ট এই বাবুর প্রতি মমতা অনুভব করে মাকুয়া। তারপর উদ্ধার করে খুঁজে পাওয়া অনাথ এই শিশুকে সাথে করে নিয়ে যায় আরেক অনাথ মাকিয়া। অতঃপর নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে মাকিয়া খুঁজে পাওয়া সেই বাবুকে নিজের সন্তানের মতো বড় করতে থাকে। কিন্তু সেই মা নিজেই মনের দিক থেকে শিশুশুলভ, সে কীভাবে আরেক শিশুকে লালন পালন করবে? তারচেয়েও বড় কথা – একদিন এই বাচ্চাটি বড় হবে, নিজের সন্তানের বাবা হবে, বৃদ্ধ হবে, একদিন চোখের সামনেই মারা যাবে। কিন্তু শত শত বছর ধরে বাঁচতে সক্ষম Maquia চিরদিন দেখতে একই রকম থেকে যাবে, দিন পেরিয়ে বছর যাবে, তবুও বাহ্যিক কোনো পরিবর্তন তাকে ছুঁতে পারবে না। একদিন সে বেঁচে থাকবে, কিন্তু প্রিয় সন্তান আর অন্যেরা তাকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যাবে। মূলত এমন বাস্তবতাকে ঘিরেই এগিয়ে যায় এই বছর মুক্তি পাওয়া এনিমে মুভি “Maquia : When the Promised Flower Blooms” এর কাহিনী।
উপরের অংশটিতে মূলত মুভি নিয়ে একটু জানানোর চেষ্টা করেছি, আরো ছোটো করে লিখতে চেয়েছিলাম তবে সহজ করে বর্ণনা করতে গিয়ে একটু বড় হয়ে গেল। তবে মুভির পটভূমি নিয়ে আজকের লেখাটা নয় প্রধানত। ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণ, ভালো লাগা-মন্দ লাগা নিয়ে অল্প-স্বল্প লিখব নির্দিষ্ট করে বললে।
 
মুভিটা সম্পর্কে প্রথম জেনেছিলাম অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড অঞ্চলে এনিমে ডিস্ট্রিবিউটর Madman Entertainment এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে, সেখানে মুভির ট্রেইলারটা দেখে বড়ই সন্তুষ্ট হয়েছিলাম। তয় অনলাইনে তখনো আসেনি তাই সেসময় দেখতে পারিনি।এই ৬-৭ মাসে প্রায় ভুলেই গেছিলাম এটার কথা। কিন্তু দিন কতক আগে দেখলাম ইতোমধ্যেই অনলাইনে এসে গেছে! কেন যেন এতদিন চোখে পড়েনি এটা। দীর্ঘসূত্রিতা না করে তত্ক্ষণাত্ নাফিয়ে ফেলি পুরো মুভি। আর আজ শুক্রবার বন্ধের সকালে নাশতা খাওয়ার পরই দেখতে বসে যাই। প্রায় দু’ঘন্টার এক চমত্কার মুভি উপভোগ করলাম তা নিঃসংকোচে বলা যায়।
 
 
প্রথমত, মুভির visual ছিল এক কথায় দারুণ! P.A. Works কে ধন্যবাদ দিতে হয় এজন্য। তবে ক্যারেক্টার ডিজাইনগুলো কোনো এক কারণে খুব বেশি আকর্ষণ করেনি আমাকে। বিশেষত মাকিয়া এর ডিজাইন। হতে পারে চিরায়ত চোঁখা চোঁখা আকৃতির মুখ দেখতে দেখতে গোলগালা ডিজাইনের সাথে মানিয়ে নিতে পারিনি। কিন্তু এটুকু বলতে পারি কিছু কিছু দৃশ্যে সাইডের দিক থেকে মাকিয়া এর চেহারা খুব বেমানান ছিল। এক্ষেত্রে সম্ভবত উন্নতি করার সুযোগ ছিল। যাই হোক, সব দিক বিবেচনায় আমি ৯/১০ দিব এনিমেশন আর্টওয়ার্ক বিভাগে। এই বিভাগটি যদিও একান্ত ব্যক্তিগত ভালো লাগার জিনিস। হতে পারে ওভাররেটিং করছি, তবে মনে করি কেউ আশাহত হবেন না মুভির এনিমেশন দেখে।
 
দ্বিতীয়ত, মুভির পটভূমি ছিল আগ্রহজাগানিয়া, কাহিনী প্রবাহও বেশ স্মুথ লেগেছে। এখানে একটা বিষয় বলে রাখি, টাইম স্কিপের একাধিক দৃশ্য ছিল। যার বেশিরভাগ খাপ ছাড়া লেগেছে। টাইম স্কিপগুলো আরো ভালো করতে পারত।একেবারে খারাপ লেগেছে তা নয়, কিন্তু আহামরি ছিল না। ডিরেক্টর ও একইসাথে রাইটার হিসেবে মারি ওকাদা এর প্রথম মুভি ছিল এটি। আশা করি ভবিষ্যতে আরো জোড় দিবেন টাইম স্কিপিং এর ব্যাপারটাতে। সামগ্রিকভাবে এই ডিপার্টমেন্টে ৮/১০ দিব।
 
তৃতীয়ত, ইমোশনাল ব্যাপার নিয়ে আমার আলাদারকম দূর্বলতা আছে। আর এক্ষেত্রে মুভির আবহ, চরিত্রগুলোর মধ্যে মিথস্ক্রিয়া,বাস্তবতার নিরিখে মাকিয়া ও তার ছেলের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট টানাপড়েন খুব বাস্তবসম্মত লেগেছে। প্রচন্ড রকম ইমোশনাল ছিল। মুভি শেষে চোখ ভিজে গিয়েছিল একদম। অবশ্য অনেক ক্ষেত্রেই দূর্বল চরিত্রায়নও চোখে লেগেছে। কয়েকটা চরিত্রকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। রাজার সেনাপ্রধানের কথা এ ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে। এখানে আমি কোনো রেটিং দিব না কিছু সংগত কারণে।
 
চতুর্থত, মুভিতে গান না থাকলে হয় নাকি :v ? Ending সাউন্ডট্র্যাক টা অসাধারণ ছিল! একদিকে প্রাণ জুড়িয়ে দিচ্ছিল পিয়ানোর বাজনায় সুরেলা কন্ঠের গানটা। অন্যদিকে চোখের কোণে অনবরত পানি ঝরছিল গানটা শুনে। কোনো এক শূন্যতা অনুভূত হচ্ছিল। যদিও বাকি মুভিতে উল্লেখ করার মতো আর কোনো গান বা এজাতীয় কিছু ছিল না। মোটমাটে ৮/১০ দিব মিউজিকে। আর হ্যা ভয়েস কাস্টিং কিন্তু ভালো লেগেছে খুব। মাকিয়া এর কন্ঠ যে কী মিষ্টি লেগেছে! বলে বোঝানো যাবে না।
 
সব দিক বিবেচনায়, ৯/১০ দিব ফাইনাল স্কোর হিসাবে (মুভিতে আমি এক ধাপ বেশিই রেটিং দেই অবশ্য)।
 
সবশেষে এটাই বলব, আমার মতে এটা ২০১৮ সালে বের হওয়া সবচেয়ে সেরা এনিমে মুভি। এটা হয়ত কোনো কিংবদন্তীতুল্য মুভি নয়, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ এনিমে মুভিগুলোর একটি নয় কিন্তু নিঃসন্দেহে চমত্কার একটা মুভি। মায়ের মমতা, সমাজ বাস্তবতা নিয়ে এরকম মুভি খুব বেশি আছে বলে বোধ করি না। যারা Wolf Children দেখেছেন এবং পছন্দ করেছেন, তারা খুব উপভোগ করবেন আশা করি। এত সুন্দর একটা মুভি অথচ এটা নিয়ে এনিমে গ্রুপগুলোতে সাড়া শব্দ নেই তেমন। ব্যাপারটি খুব হতাশাজনক। Kimi no na wa আর Koe no Katachi পরবর্তী কোনো মুভি নিয়েই কোনো হইচই দেখি না।
 
তো আপনারাও দেরী না করে দেখে ফেলুন “Maquia : When the Promised Flower Blooms”…..
 
একটা শেষ কথা , ফ্যান্টাসি-ড্রামার এই মুভি তে ন্যুডিটি, সেক্সুয়াল সিনারি নেই। ফলে পরিবার পরিজন সকলকে নিয়ে নিশ্চিন্তে উপভোগ করার মতো আদর্শ এক মুভিটা।
 
তো আজ এটুকুই থাকুক।
Happy anime watching!

Bleach [লাইভ অ্যাকশন রিভিউ] — Tahsin Faruque

(Mild Spoilers warning)

 
অ্যানিমে লাইভ অ্যাকশন অ্যাডাপ্টেশন, আর নেটফ্লিক্স – এই দুইটার কম্বিনেশন অনেকের মনেই আতঙ্কের সৃষ্টি করে এসেছে যেন। এই সিরিজে এর আগে দুটি এরকম লাইভ অ্যাকশন মুভি দেখেছিলাম, ডেথ নোট আর ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্ট। দুটি দেখেই ভয়ংকর হতাশ হয়েছিলাম। তার অনেকদিন পর আজকে হঠাত এটার ট্রেইলারটা চোখে পড়তে মনে হল, ট্রেইলারে যেসব দৃশ্য চোখে পড়লো তা দেখে অন্তত মনে হয়েছে সোর্সকে সম্মান করেই বানিয়েছে (এক্ষেত্রে মাঙ্গার সাথে অ্যানিমেকেও সোর্স হিসাবে ধরছি)। মুভিই তো, দেখেই নেই না হয় কেমন হল!
 
খুব অল্প যে কয়টা লাইভ অ্যাকশন অ্যাডাপ্টেশন দেখা হয়েছে অ্যানিমের, তার মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচাইতে বেশি ভাল লেগেছে এইটা, তবে মন্দের ভাল হিসাবে নয়, আসলেই ভাল লেগেছে। শুরুতেই বলে নেই, এই মুভিতে ব্লিচের Agent of the Shinigami আর্কটি পুরাটা অ্যাডাপ্ট করেছে। যারা ব্লিচ পড়েছেন বা দেখেছেন, তারা জানেন এই আর্ক অ্যাডাপ্ট করলে গল্পের কোন জায়গায় গিয়ে মুভিটি শেষ হবে। একই জায়গাতেই শেষ হয়েছে, তবে গল্পে সামান্য বৈচিত্র হলেও এনেছে যেন মুভিটি স্বতন্ত্র মুভি হিসাবেও কাজ করে। সিকোয়েল মুভি আসবে কি আসবে না তার যেহেতু নিশ্চয়তা নেই, তাই সেরকম হিসাব করেই গল্প শেষ করতে হয়।
 
মুভিতে স্ক্রিন রাইটার ও ডিরেক্টরের যে হাল্কা কিছু ক্রিয়েটিভ সিদ্ধান্ত নেয় নাই তা নয়, বরং লাইভ অ্যাকশন মুভি হিসাবে একটা মাঙ্গা বা অ্যানিমের গল্পকে তুলে ধরতে হলে কিছু জিনিসের পরিবর্তন করতেই হবে। মাঙ্গাতে বা অ্যানিমেশনে অনেক দৃশ্য ও রিয়্যাকশন যেভাবে কাজ করে, লাইভ অ্যাকশনে তা কাজ করে না। সেখান বাস্তব মানুষের বাস্তব রিয়্যাকশন দেখাতে হয়, যা গল্পের অরিজিনাল সোর্সের সাথে কনফ্লিক্ট করতেও পারে। তবে ব্লিচের এই মুভিতে সেসব ছোটখাট পরিবর্তন যা এনেছে, আমার কাছে তা খুবই পজিটিভ দিক মনে হয়েছে মুভিটির। এমনিতে মূল গল্পে ও তার চরিত্রদের মধ্যে এতটুকুও পরিবর্তন আনে নাই এখানে। ব্লিচের অরিজিনাল গল্পের প্রথম দিকের অংশতে অনেক কমেডি উপাদান ছিল, মুভিতেও সেগুলি রয়েছে। ইচিগো-রুকিয়ার কথোপকথন, ইচিগোর বন্ধুদের সামনে রুকিয়ার উপস্থিতি ও তাদের নিজেদের মধ্যে কথোপকথন, চালচলনে কোন অহেতুক জিনিস আনা হয় নি। যা ছিল, একদম আসল গল্পকে সম্মান জানিয়েই দেখানো হয়েছে। ইচিগো রুকিয়ার কথাবার্তা শুনে শব্দ করেই হেসেছিলাম মুভি দেখার মাঝে।
 
 
মুভির স্বার্থেই মাঙ্গা বা অ্যানিমের প্রথম দিকের হলোর সাথের অনেকগুলি ফাইট দেখানো হয় নি, এবং সেই ব্যাপারটি খারাপ হয় নি আসলে। হলোর উপস্থিতি অতিরিক্তও নয়, একদম কমও নয়। আর এখানে সিজিআই-এর কাজ একদম খারাপও নয়, বেশ বিশ্বাসযোগ্য।
চরিত্রদের মধ্যে সবচাইতে ভাল লেগেছে আসলে ইচিগোকেই। নায়ককে ধন্যবাদ দিতেই হবে, এই চরিত্রটাকে লাইভ অ্যাকশনে প্রাণ দেবার জন্যে। এই আর্কে ওরিহিমের উপস্থিতি সেরকম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না আসলে, তাই ওরিহিমে এখানে সাইড ক্যারেক্টারদের দলেই চলেই গিয়েছে। চাদো ও উরইয়ুর চরিত্র করা অভিনেতাদের কাজ ভালই ছিল। তবে রুকিয়ার চরিত্রটি একটু সমস্যাজনক ছিল। নায়িকার কাজ একদম খারাপ যে তা নয়, কিন্তু রুকিয়ার মুখে ৯০% সময় জুড়েই একটি রিয়্যাকশন লেগে ছিল, তা সে ঐ মুহুর্তে খুশি হোক বা অবাক, বিরক্ত হোক বা রাগ, চেহারার অভিমূর্তি দেখে বুঝে উঠে সমস্যা হত। মাঙ্গা পড়া ছিল বলে জানি এই জায়গাতে রুকিয়া আসলে কেমন অনুভব করছিল, ঐ জায়গাতে রুকিয়া আসলে রাগ নয়, অবাক হয়ে ছিল। এটা জানা না থাকলে মুভিটি দেখার সময়ে মনে হয়, রুকিয়ার সমস্যা কী!? আর রেঞ্জি ও বিয়াকুয়ার চরিত্র দুটি যেহেতু এই আর্কের ভিলেইন ছিল, আমার কাছে মনে হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে তাদের আচরণ একটু বেশি ভিলেইনসুলভ হয়ে গিয়েছিল। ভিলেইন হলেও যে তাদের আচরণ এরকম হবার কথা নয় তা মাঙ্গা পাঠক বা অ্যানিমের দর্শকের জানার কথা। রেঞ্জির অভিব্যক্তি মাঝেমধ্যে অতিরঞ্জিত হয়েছে।
 
আর চরিত্রদের কথা বললে ইচিগোর দুই পিচ্চি বোন দুটির কথা না বললেই নয়! অতিরিক্ত কিউট দুটি পিচ্চি তাদের স্ক্রিনটাইমের প্রায় পুরাটাই মুখে হাসি ফুটিয়ে রাখার মত অভিনয় করেছে।
 
সব শেষে মুভির পজিটিভ ও নেগেটিভ দিকগুলি অল্পের মধ্যে তুলে ধরিঃ
 
(+) পজিটিভ দিকঃ
  • সোর্সের প্রতি সম্মান দেখানো
  • ইচিগো
  • ইচিগোর দুই বোন
  • ইচিগো-রুকিয়ার কথোপকথন
  • সোর্ড ফাইটের দৃশ্যগুলি (চমৎকার ছিল এগুলি)
  • অ্যানিমেশন (সেরকম আহামরি না হলেও, বিশ্বাসযোগ্য)
  • ইচিগোর স্কুলের অংশগুলি
  • সউল-রিমুভিং গ্লাভস
  • শেষের ফাইট
(-) নেগেটিভ দিকঃ
  • রুকিয়ার চরিত্র
  • রেঞ্জি ও বিয়াকুয়ার “ভিলেইন” সুলভ আচরণের অতিরিক্ততা
ট্রেইলার দেখে বা একের পর এক অ্যানিমে লাইভ অ্যাকশনের ব্যর্থতা দেখে ভয় পেয়ে থাকলে চিন্তা ছাড়া মুভিটি দেখে নিতে পারেন। ব্লিচের লাইভ অ্যাকশন মুভি আমার দৃষ্টিতে অন্যতম সফল অ্যাডাপ্টেশন। এই মুভির সিকোয়েল বের করুক এই আশাতেই আজকের রিভিউ শেষ করছি।
 
ও হ্যাঁ, আমার রেটিংঃ
মুভি হিসাবেঃ ৭/১০
অ্যানিমে আডাপ্টেশন মুভি হিসাবেঃ ৮/১০
 

Odd Taxi [রিভিউ] — Nazmus Sakib

আনিমে – ODD TAXI
এপিসোড সংখ্যা – ১৩
ডিরেক্টর – বাকু কিনোশিতা
স্ক্রিপ্ট – কাযুইয়া কোনোমোতো
ম্যাল রেটিং – ৮.৫৯
ব্যক্তিগত রেটিং – ১০
 
এক কথায় একটা মডার্ন মাস্টারপিস। না দেখার কোনই কারণ নেই। মিস্টেরি জানরার সর্বকালের একটা রত্ন হয়ে থাকবে এইটা।
 
সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
গল্পের স্থান জাপানের টোকিও শহর। গল্পের নায়ক ওদোকাওয়া নামের এক মধ্যবয়স্ক ট্যাক্সি ড্রাইভার। তার স্বভাব হল কথা কম বলা আর বললেও সিনিকাল টোনে কথা বলা। গল্পের একেক পর্বে সে ভিন্ন ভিন্ন যাত্রীদের সার্ভিস দেয়। ঘটনাক্রমে সে এক হাইস্কুল ছাত্রীর কিডন্যাপিং এর ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই না, জাপানী মাফিয়ার দুই সদস্য ওর পিছনে হন্যে হয়ে লেগে যায়। ওদোকাওয়া কী পারবে নিজেকে বাঁচিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে?
 
গল্পঃ ১০
দারুণ প্লট। যেমন আনপ্রেডিক্টেবল, তেমনি মজাদার। অনেকগুলি আপাত বিচ্ছিন্ন প্লট পয়েন্ট এখানে প্যারালেলি চলেছে। প্রতি পর্বে দর্শকদের ছোটবড় ক্লু দেওয়া হয়েছে, যেন তারা ওদোকাওয়ার সাথে গল্পের মূল রহস্য সমাধানে অংশ নিতে পারে। এর সাথে দারুণ ডিরেকশন আর স্ক্রিপ্টরাইটিং-এর জোরে গল্পটিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আর গল্পের শেষ এপিসোডের টুইস্টটি একে নিয়ে গেছে মাস্টারপিসের উচ্চতায়।
 
 
চরিত্রায়ণঃ ১০
মূলত গল্প নির্ভর এই আনিমেতে যতটুকু চরিত্রায়ণ আশা করা যায়, তার সবই আছে। গল্পটির এপিসোড সংখ্যা কম হলেও অনেকগুলি চরিত্র আছে। তা সত্ত্বেও চরিত্রগুলির সাথে সহজেই নিজেকে কানেক্ট করা যায়, ওদের মনমানসিকতা বোঝা যায়, ওরা কখন কী করতে পারে তা আন্দাজ করা যায়। ওদেরকে বাস্তব চরিত্র বলেই মনে হয়। সাইড ক্যারেক্টারগুলোকেও যত্নের সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
 
আর্ট ও এনিমেশনঃ ৮
গল্পের সাথে তাল মিলিয়ে কিছুটা ইউনিক আর্টস্টাইল আর ক্যারেকটার ডিজাইন এখানে ব্যবহৃত হয়েছে। চোখ ধাঁধানো কিছু না হলেও তাতে এঞ্জয়মেন্টে কোনই ব্যত্যয় ঘটেনি।
 
সাউন্ডঃ ৯
ওপেনিং গান, এন্ডিং গান, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক – সব জায়গায় মূলত সিটি পপ থিমের আলোকে সাউন্ড ব্যবহার করা হয়েছে। টোকিও শহরে ঘটা থ্রিলিং গল্পের সাথে এক্কেবারে খাপে খাপ মিলে গেছে। গল্পের মুড অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সাউন্ড ইউজ করতে ডিরেক্টর কার্পণ্য করেননি।
 
এঞ্জয়মেন্টঃ ১০
মিস্টেরি জানরার ফ্যান হিসেবে এই আনিমেটা এই বছরের সেরা উপহার ছিল আমার কাছে। প্রতি সপ্তাহে এটার জন্য সবচাইতে বেশি মুখিয়ে থাকতাম। গল্পের চরিত্রগুলি, ওদোকাওয়ার সিনিকাল কথাবার্তা, গল্পে উঠে আসা এক্কেবারে বাস্তব ইস্যুগুলি, আর গল্পের শেষের সেই জব্বর টুইস্টটা আমার অনেকদিন মনে থাকবে।
 
দেরি না করে এইটা দেখে ফেলুন। বারবার দেখুন। কারণ খুব চাতুর্যের সাথে নানা ক্লু ছড়ানো আছে এই রত্নটির মধ্যে!
 

Onanie Master Kurosawa [মাঙ্গা রিভিউ] — Rafid Rafsani

পড়া শেষ করার পর প্রথমেই যা মনে আসছে “Never judge a book by It’s cover”। পড়ার আগে নাম দেখে Onanie Master Kurosawa (Masturbation Master Kurosawa) কত কিছুই ভেবেছিলাম! নাম শুনে সবার হেন্টাই, ইচ্চি মনে হলেও ধারণা পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হবে। কারণ এটার জেনারে যে সাইকোলজিক্যাল ড্রামা!

কাহিনির মূল চরিত্র জুনিয়র হাইস্কুলের ছাত্র কুরোসায়োয়া। সবার সাথে কথা-বার্তা কম বলে, তেমন বন্ধুও নেই চুপ-চাপ স্বভাবের। স্কুলে অবসর সময়ে লাইব্রেরিতে কাটায়। বন্ধুদের আড্ডাও এড়িয়ে চলে। যাকে ‘ইন্ট্রোভার্ট’ বলা চলে আরকি। কিন্তু সবার অগোচরে সে ছুটির পর গার্লস টয়লেটে হস্তশিল্প চর্চা করে (if you know what I mean ) যেটিকে মাঙ্গায় ‘ডেইলি রুটিন নামে পরিচয় দেয়। তো এইভাবেই তার দিন যেতো। তার ক্লাসেরই একজন মেয়ে কিরিহারা, দুর্বল ও বোকা হওয়ায় ক্লাসের অন্য মেয়েরা তাকে বিভিন্ন বিরিক্ত করতো। ঘটনা ক্রমে কিরিহারা, কুরোসাওয়াকে বাথরুমে ডেইলি রুটিনের কাজ করতে হাতেনাতে ধরে এবং তাকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে যেন সে যেসব মেয়েরা কিরিহারাকে বিরক্ত করে অথবা যাদের কিরিহারা পছন্দ করে না তাদের বিভিন্ন জামা, বই, অন্যান্য ব্যবহারের জিনিসে সাদা তরলের শিল্পকর্ম করতে। এইভাবেই কাহিনি এগিয়ে যায়।

৩১ চ্যাপ্টারের মাঙ্গাটিতে কাহিনি সাধারণ অথবা নোংরা মনে হলেও ২৬ চ্যাপ্টারের পর একটা অন্যরকম টার্ন নেয়, যার কারণের myanimelist-এ পোস্ট লেখার মুহুর্তে ৮.৪+ রেটিং নিয়ে #70 most popular manga-তে এর অবস্থান। সেই স্পয়লার আর না দিলাম, তবে কাহিনীর সেই ভিন্ন মোড় নেওয়ার কারণেই সাধারণ একটা মাংগা অসাধারণ হয়ে উঠে। আমাদের মেইন ক্যারেক্টারের প্রত্যেকটা অনুভুতি যেমন বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে বাজেভাবে ভেংগে পড়া,খারাপ সময়ে শক্ত থাকা এরকম অনেক কিছুই আমাদের কমবেশি সবার জীবনেই ঘটায় কাহিনিটা অনেক বেশি রিলেটেবল সবার কাছে। এটিতে মাত্র ৩১ চ্যাপ্টারে যতটুকু ক্যারেক্টর ডেভলপমেন্ট হয় অনেক মাংগাতে ২০০ চ্যাপ্টারেও তা দেখা যায় না।

নামটা আবার বলি Onanie Master Kurosawa. নাম যেমনই হোক, পড়া শেষ করলে নিঃসন্দেহে মনে অন্যরকম একটা ছাপ ফেলে যাবে এটি।

Name: Onanie Master Kurosawa
Genere: Physiological,Drama,School
Personal Ratings: 9.5/10

 

Plunderer [রিভিউ] — Rakib Amin

Anime name: Plunderer
Genre: Action, Adventure, Comedy, Ecchi, Fantasy, Shounen
Episodes: 24
Aired: 2020 (winter)
 
Detailed Review:
★ This anime is the embodiment of the word “meh”. খুবই অ্যাভারেজ একটা এনিমে। অ্যাভারেজ প্লট, অ্যাভারেজ ক্যারেক্টার, অ্যাভারেজ এনিমেশন, বোরিং সাউন্ডট্র্যাক, বাজে স্টোরি-রাইটিং, আর প্লট-হোল দিয়ে ভরা। ওভারঅল খুবই হতাশাজনক অ্যাডাপ্টেশন।
 
★ এনিমেটা দেখে যা বুঝলাম যে রাইটারের অনেকগুলা আইডিয়া মাথায় ছিল, আর সেগুলা সবই কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়া স্টোরির উপর ঢেলে দিয়েছে। যার কারণে স্টোরির আগা-মাথা হযবরল হয়ে একাকার অবস্থা। এক এপিসোড পুরাটাই চাইল্ডিশ হিউমার দিয়ে ভরা, তো আরেক এপিসোড একেবারে খুনাখুনি টাইপ সিরিয়াস। কমেডি এবং সিরিয়াসনেস -এর মাঝে ব্লেন্ডটা একেবারে বাজেভাবে করা হয়েছে।
 
★ প্রথমদিকে ২-৩ এপিসোড মোটামুটি ভাবে এগুচ্ছিলো; তারপর সবকিছু উল্টাপাল্টা করে এমন অবস্থা যে অলমোস্ট ড্রপ করেই ফেলেছিলাম এনিমেটা। তবে মাঝের কয়েকটা এপিসোডে কিছু ব্যাকস্টোরি কাভার করা হয়েছিল যেটা এই এনিমের অনলি সেভিং-গ্রেস বলা যায়। ওই ব্যাকস্টোরি দেখার পর পুরা ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিং সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলে কিছুটা ইন্টারেস্ট ফিরে আসে এই এনিমের প্রতি। তারপর লাস্টের দিকের কয়েক এপিসোড আবারো একেবারে লেইম হয়ে পরে। সবচেয়ে বিরক্ত লেগেছে যখন দেখলাম যে এতো কষ্ট করে ২৪ এপিসোড দেখার পরেও দেখি যে স্টোরি কমপ্লিটেড না। মানে, এই ফালতু এনিমেরও আবার সেকেন্ড সিজন বের করতে চায় নাকি? অনেক মিস্টিরি এখনো ক্ল্যারিফাই করে নাই।
 
★ টু বি ফেয়ার, স্টোরির ইনিশিয়াল আইডিয়াটা খারাপ না। কিন্তু হয়তো প্রোপার প্ল্যানিং-এর অভাবে অথবা বাজে এনিমে অ্যাডাপ্টেশন -এর কারণে এতো বাজে অবস্থা। এইটার মাংগা’র রেটিং ভালোই দেখলাম। তাই আমার মনে হয় ভালো ডিরেক্টর এবং ভালো প্ল্যানিং থাকলে এনিমেটা কিছুটা বেটার হতে পারতো।
 
★ অ্যাকশন ফাইটগুলা খুবই, খুবই লেইম ছিল। এর বেশি কিছু বললাম না।….. কমেডি মোটামুটি ছিল, যদিও বেশিভাগ ছিল চাইল্ডিশ হিউমার। Ecchi পার্টগুলা একেবারেই লেইম ছিল। আমার মতো Ecchi -লাভারেরও মাঝেমাঝে বিরক্ত ধরে যাচ্ছিলো। 😑
 
★ ক্যারেক্টারগুলা খুবই এভারেজ। মেইন মেল্ ও ফিমেল ক্যারেক্টার আমার কাছে লেইম লেগেছে একেবারে। বরং সেকেন্ডারি ক্যারেক্টারগুলা এই দুইজনের চেয়ে বেটার ছিল। মেইন এন্টাগোনিস্ট ব্যাকস্টোরিতে দেখলাম একেবারেই দরদি এবং সিম্প্যাথেটিক একটা ক্যারেক্টার। কিন্তু মেইন টাইমলাইনে এসে সে পুরাই কোল্ড-ব্লাডেড ভিলেইন হয়ে পড়েছে। মানে কিছুই বুঝলাম না।
 

Ratings:
MAL ratings: 6.49
Personal rating: 6.2 (very generous rating)
 

World Trigger [রিভিউ] — Arnab Basu

উইকলি শোউনেন জাম্পকে অবিসংবাদিতভাবেই শোউনেন সিরিজের সবচেয়ে সেরা উৎস হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সর্বকালের সেরা সব শোউনেন সিরিজগুলা বেশিরভাগই এই ম্যাগাজিনে পাব্লিশ হয়েছে বা হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাগাজিনে প্রকাশিত মাঙ্গাগুলো অনেক জনপ্রিয়তা পায়। আর এই সিরিজগুলার এনিম এডাপ্টেশন নিয়ে সবারই কম বেশি এক্সপেক্টেশন কাজ করে আর বেশিরভাগ সিরিজই কম বেশি পপুলারিটি পায়। তবে দুই একটা সিরিজ যে ব্যাতিক্রম, তা কিন্তু না। সেটা এডাপ্টেশনের কারণে হোক, বা প্লটের দুর্বলতার কারণেই হোক। জাম্পের এমন সিরিজ খুব কমই আছে, যা অনেক সিরিজের মত লোকচক্ষুর আড়ালে পড়ে যায়। জুজুতসু কাইসেনের মত হাইপ তোলা সেরা এনিমেশন, ওয়ান পিসের মত লং রানিং মহীরথি কিংবা হিনোমারু সুমো আর প্রমিসড নেভারল্যান্ডের মত হতাশ এডাপ্টেশন, এই সিরিজগুলার প্রতি মানুষের এটেনশনের কমতি নেই। সেই হিসাবে World Trigger কে শোউনেন জাম্পের হিডেন জেম বলা যেতে পারে। হিডেন জেম এই অর্থে, যে জাম্পের মত কাটথ্রোট ম্যাগাজিন, যেখানে পপুলারিটির কমতির কারণে যে কোন মাঙ্গা কুড়ালের নিচে পড়তে পারে, সেখানে এই সিরিজটা ২০১৩ সাল থেকে এখনও চলছে (যদিও ২০১৮ তে জাম্প স্কয়ারে ট্রান্সফার হয়ে যায়)। আর World Trigger এনিমের ২ টা সিজন আছে, যার মোট পর্ব ৮৫ টি, যদিও প্রথম সিজনের শেষের দিকে একটা ফিলার আর্ক আছে। কিন্তু এই সিরিজটা দেখেছে এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি না।তাহলে এমন একটা অবসিকিওর সিরিজে কি এমন আছে যা খুব একটা নাম ডাক না থাকা সত্ত্বেও এখনও থেমে যায়নি? উত্তরটা হল এই সিরিজের ফাইট। World Trigger এর প্লট শুনলে খুবই সাদামাটা মনে হবে, এনিমের প্রথম কয়েকটা পর্ব দেখার পরে এনিম ড্রপ দিলে কাউকে দোষও দেয়া যাবে না। কিন্তু এই সিরিজের ফাইটগুলা এক কথায় অসাধারণ। জাম্পের ম্যাক্সিমাম সিরিজই ফ্যান্টাসি নির্ভর আর ফাইট বেশিরভাগই স্ট্রেংথ আর উইল নির্ভর। সেই দিক থেকে সাই-ফাই জন্রার এই সিরিজের ফাইটগুলা ভীষণ স্ট্র্যাটেজিক। হালের OP টাইপ MC রা হয়তো কুলনেস আর ব্যাডএসারি দিয়ে আপনাকে মুগ্ধ করবে, কিন্তু একই সাথে সিরিজের পাওয়ার স্কেলিং এর বারটা বাজবে, যার কারণে সিরিজ কিছুদিন পরেই ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে যাবে (ব্লিচ 😛 )। সেই দিক থেকে World Trigger এর ফাইটগুলা ইন্ডিভিজুয়াল স্ট্রেংথ এর থেকে টিম ওয়ার্ক আর স্ট্র্যাটেজির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং আর আনপ্রেডিক্টেবল।

জাম্পের কিছু সিরিজ স্লো স্টারটার। শুরুতে আহামরি না লাগলেও একটা সময় যেয়ে ঠিকই জনপ্রিয়তা পায়। এই সিরিজটাও তেমন। World Trigger নিয়ে আরও অনেক কিছুই বলা যাবে, কিন্তু এই ভিডিওটা দিয়ে পোস্টটা আপাতত এখানেই শেষ করলাম। Happy Watching!

I Had That Same Dream Again [মাঙ্গা রিভিউ] — Rafid Rafsani

♪♪♪ Happiness doesn’t walk to you ~
that’s why you walk towards it ~ ♪♪♪
 
“What is happiness to you?” খুবই সাধারণ একটি প্রশ্ন কিন্তু মানুষ ভেদে প্রত্যেকেরই উত্তর ভিন্ন। কারো কাছে পছন্দের খাবার খাওয়াই সুখ,কারো জন্য পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোই সব।আবার কেও কেও একাএকা নিজের পছন্দসই কাজ করাকেই প্রকৃত সুখ মনে করে।
এই বিষয় নিয়েই জনপ্রিয় ” I Want to Eat Your Pancreas” এর লেখকের লেখা মাংগা “I had that same dream again”. ১২ চ্যাপ্টারের মাংগাটার মাইএনিমেলিস্টে stats দেখলাম মাত্র ৪৯০০ মেম্বার। তাই ভাবলাম একটা রিভিও লিখেই ফেলি। মাত্র ১২ চ্যাপ্টার অনুযায়ী আমি বলবো, Worth to give a try.
 
Story:
মাংগাটির কাহিনি আগায় চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী Nanoka কে নিয়ে।যার স্কুল থেকে কাজ দেয় “what is happiness” এই প্রশ্নের উপর এসাইনমেন্ট। Nanoka তার পরিচিতদের সাথে এই “সুখের প্রকৃত সংগা ” খুজে বেড়ায়। তার পরিচিত মানুষ গুলা কিন্তু পরিবার অথবা স্কুলের বন্ধু নয়।তিনজন ভিন্ন বয়সের মানুষ। তাদের একজন অবসর সময়ে পরিত্যাক্ত বিল্ডিং এ হাত কেটে “কোনো বিষয় অনুভব” করতে চাওয়া হাইস্কুল ছাত্রী Minami-san.যে মা-বাবা মারা যাওয়ায় বিষন্নতায় একা দিন কাটায়। আরেকজন হাসি-খুশি ও প্রাণ-চঞ্চল Azumaboto-san. যে রাতে “অনৈতিক কাজ” করে অর্থ উপার্যন করে।কিন্তু সরল মনের Nanoka কে তার কাজ জানাতে চায় না।সবশেষে নির্জন পাহাড়ে একা থাকা Granny.যার পরিবারে কেউ নেই, একাই জীবনের শেষ সময় কাটাতে ব্যাস্ত।
এই তিনজন ভিন্ন শ্রেনীর মানুষই নানোকার বন্ধু।যারা জীবনের উপর প্রায় আশা হারিয়ে ফেললেও ও নানোকার সাথে ভালো সময় কাটায়। নানোকা আজুমাবতো-সানের সাথে অথেলো খেলে এবং স্ন্যাকস খেয়ে,মিনামি-সানের লেখা গল্প পড়ে কিংবা গ্র্যানির কুকি খেয়ে তাদের সঙ্গ উপভোগ করে।
মাংগাটি বেশ সুন্দর ভাবে চরিত্র গুলোর নিজস্ব হ্যাপিনেসের কথা তুলে ধরেছে। ৪ জনেরই ভিন্ন বয়স ও ভিন্ন জীবন। কিন্তু বয়স ও জীবন নির্বিশেষে সময়ের সাথে কিভাবে সুখের ধারনা পালটে যায় এইটাই মাংগার মূল বিষয়। পাশাপাশি নানোকার বন্ধুরা জীবন সম্পর্কে তারচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ হওয়ায়, প্রিয়জনদের ক্ষতি, কোনও সুযোগ নিতে ব্যর্থ হওয়া, কৃতিত্ব ত্যাগ করা, সাহস গড়ে তোলার ভয় ইত্যাদি বিষয়ের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। যার ফলে নানাকার যেকোনো সমস্যায় তারা নিজেদের জিবনের ব্যর্থতা থেকে পাওয়া শিক্ষা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যেন নানোকার পরিণতি তাদের মতো না হয়।
তবে মাংগার আকর্ষনীয় দিক ছিলো, এই চারজনের মধ্যে একটা অদৃশ্য মিল।যেটা শুরু থেকেই কিছুটা ধরা গেলেও, মাঝখানে এসে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়।এবং শেষে সম্পূর্ণ ব্যখ্যা পাওয়া যায়।এই হালকা প্লট টুইস্টটা জানার পর পুরো মাংগাটা অন্যরকম ভালো লাগবে সবার কাছে।
 
Art:
আর্ট নিয়ে আমার নিজেরই ধারনা কম তবে আর্ট স্টাইল ভালোই লেগেছে।Character design আর expression গুলা বেশ ভালো ছিলো।
Character:
মূল চরিত্র নানোকা ছোট হলেও বয়সের তুলনায় চিন্তা ভাবনা বেশ উন্নত। তার catchphrase কথা গুলা বেশ ভালো লেগেছে:
Life is like a japanese bento, you can’t put everything you want inside it.
Life is like a refrigerator, you can forget about onions but you can’t forget the cake.
Life is like a pudding, you might like the sweet part but you also have to eat the bitter part too.
 
এই রকম তার আরো কিছু কথা জীবনকে অন্যভাবে ভাবানোর মতোই। Side character দের ছোয়ায় তার বেশ ভালো ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টও হয়।
 
Enjoyment:
মাংগাটা আসলেই অনেক ভালো লেগেছে না হয় রিভিও লেখার সাহস করতাম না। চরিত্র গুলার পাশাপাশি নিজের জীবনের সুখ নিয়েও বেশ ভাবিয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছুই ভালো লেগেছে। তাই সবাইকেই বলবো একবার পড়ে দেখতে।
 
Title: Mata, Onaji Yume wo Miteita
English: I had that same dream again
Genre: Drama, Psychological, Slice of life
Personal rating: 9
 

How to Fight [ওয়েবটুন রিভিউ] — Md. Anik Hossain

ভিডিও ব্লগিং বা Vlogging হাল আমলের তুমুল জনপ্রিয় জিনিস। বিশেষত ভিডিও আপলোড করে অর্থ উপার্জনের দুয়ার খুলে যাওয়ায় অনেকে জীবিকার পথ হিসাবেই বেঁছে নিয়েছে এটা। যা একটি বৈপ্লবিক ব্যাপার। ইউটিউব, বা চীনের উইবু এর মতো প্লাটফর্ম এই বিপ্লবে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। শুধু যে অর্থ আয়ের রাস্তা তা নয়, রীতিমতো সেলিব্রেটি বনে গেছে অনেকে ভিডিও ব্লগিং করে। তো ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে পয়সা, খ্যাতি অর্জন নিয়ে চমৎকার একটা ওয়েবটুন/মানহোয়া রয়েছে। নাম How to Fight.
 
☆কাহিনী সারসংক্ষেপ✰
হবিন এক গরিব হাই স্কুল পড়ুয়া ছেলে। দুর্বল হবিনের উপর সহপাঠীদের bullying চলে। চুপচাপ সহ্য করে গেলেও একদিন সহ্যের বাধ ভেঙে একজনের সাথে মারামারি লেগে যায়। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে এই মারামারির দৃশ্য লাইভ ভিডিও আকারে আপলোড হয়ে যায়। আর এতেই সে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে উঠে! এরপর সেই ভিডিও কে কাজে লাগিয়ে নতুন চ্যানেলকে আরো জনপ্রিয় করার মনস্থির করে হবিন। যাতে প্রত্যক্ষভাবে উৎসাহ যুগিয়েছে টাকা আয়ের বাসনা। সিদ্ধান্ত নেয় মারামারির ভিডিও আপলোড করেই চ্যানেলটা গড়ে তুলবে। কিন্তু দুর্বল ছোট্টখাট্টো হবিন এর সাথে আর যাই হোক মারামারির ব্যাপারটা যায় না। তাই ইউটিউব থেকেই ঘরোয়া উপায়ে মারামারি শিখার টিউটোরিয়াল দেখে ভ্লগিং করার খোঁজ চালায় সে। এরপর যা হয় তা বললে স্পয়লার হয়ে যাবে মনে হয়। তাই বেশি কিছু বললাম না।
মানহোয়ার আর্ট খুব নজরকাড়া। মুখের অভিব্যক্তিগুলো তো দেখার মতো। উদাহরণ হিসাবে ৩য় ছবিটি দেখুন। চরিত্রগুলোর বিকাশ বেশ ভালো লাগছে এখন পর্যন্ত। মানহোয়াটার মূল আকর্ষণ এটার মারামারির দৃশ্যগুলি। মজার ব্যাপার হলো, মারামারিতে বাস্তব মার্শাল আর্ট / স্পোর্টস এর বিভিন্ন রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। মার্শাল আর্ট নিয়ে আগা-মাথা কিছু না জানলেও মারামারিগুলো দেখতে চরম আকর্ষণীয় লাগে। সম্প্রতি Line Webtoon থেকে ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করা শুরু হয়েছে Viral Hit নামে। কিন্তু শুনেছি অনুবাদ সুবিধার না। PH Scans, Death Troll স্ক্যানলেশন গ্রুপের ব্যানারে ৫৮ টা চাপ্টার বের হয়েছে এখন পর্যন্ত। তাদেরটা পড়ে দেখতে পারেন।
অতিরিক্ত তথ্য- এই ওয়েবটুন এর স্রষ্টা এর আগে জনপ্রিয় Lookism সিরিজটা তৈরি করেছেন।
 
 

Soredemo Machi wa Mawatteiru/And Yet The Town Moves [রিভিউ] — Md. Anik Hossain

★কাহিনী সারসংক্ষেপ★
আরাশিয়ামা একটা বোকা মেয়ে, খাঁটি বাংলায় “মগা”। যেখানেই যায় সেখানেই ঝামেলা পাকায়। তবে নানা রকম রহস্য নিয়ে খুব আগ্রহ রয়েছে ওর। এক বুড়ির ছোট রেস্তোরাঁ / মেইড ক্যাফেতে কাজ করে। কিন্তু রেস্তোরাঁর ব্যবসার অবস্থা যাচ্ছেতাই। নিয়মিত গ্রাহক বলতে আরাশিয়ামার এক ক্লাসমেট…নাম তার সানাদা। আরাশিয়ামা আবার সানাদা সাহবের গোপন ক্রাশ। একদিন রেস্তোরাঁয় আরাশিয়ামার এক বান্ধবী তাৎসুনো আসে। আসার পর এখানকার ধ্বজভঙ্গ অবস্থা দেখে রেস্তোরাঁয় কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে ব্যবসার উন্নতি করা যায়। একইসাথে আরাশিয়ামার সাথে আরো ঘনিষ্ঠ হতে সুযোগটি লুফে নেয় সানাদা, সেও রেস্তোরাঁয় কাজ যোগ দেয়। অতঃপর রেস্তোরাঁয় তাদের প্রাত্যহিক হাস্যরসাত্মক কাজ, বিভিন্ন বেহুদা রহস্য উন্মোচন নিয়ে কাহিনী আবর্তিত হয়।
 
 
 
✴️মতামত ও সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা✴️
স্টুডিও Shaft এর আর্ট, এনিমেশন নিয়ে আলাদা করে দিছু বলার নেই। ওদের চকচকা আর্ট দেখলেই আমার মন ভালো হয়ে যায়।
মূলত কমেডি সিরিজ হলেও অনর্থক মিস্ট্রিগুলো বেশ আকর্ষণীয় ছিল। আমার কাছে Hyouka এর পরে ছোট রহস্য উদঘাটনের দিক দিয়ে এই সিরিজটা সবচেয়ে চমৎকার লেগেছে। রহস্য বলতে আমরা যেমন কাঠখোট্টা সিরিয়াস জিনিস ভাবি, সেটাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একরকম উপহাস করা হয়েছে এখানে। আমাদের রহস্যখোর নায়িকা আরাশিয়ামার চেহারাটা যেন তার চরিত্রের সাথে খাপে খাপ মিলে যায়। দেখলেই বোঝা যাবে বোকা একটা মেয়ে। কমেডির সাথে যথেষ্ট পরিমাণ রোমান্স এর স্বাদও পাওয়া গেছে সিরিজে। আরাশিয়ামা এবং সানাদার রসায়ন মন্দ ছিল না। এদিকে সময়ে সময়ে কমেডি ছাড়াও সুন্দর গুরুগম্ভীর মূহুর্ত ছিল। বিশেষত মালিক বুড়ির সাথে আমাদের নায়িকার অতীতের স্মৃতিগুলো বেশ মধুর লেগেছে।
এনিমের মিউজিক মুটামুটি বলা যায়। তবে এন্ডিং থিমটা দারুণ! Asobi Asobase সিরিজের কথা মনে আছে? অনেকটা ওরকম তবে Heavy metal(?) এর তুলনায় Soft rock গান :v (Ending link: https://www.youtube.com/watch?v=1k44tTuKKsg)
 
সিরিজটা দেখার সময় কখনো সময় নষ্ট হয়েছে বলে মনে হয়নি। পেইসিং আমার মতে ঠিকাছে, বিরক্তি আসেনি।
কন্ঠাভিনয় এর মান ভালো ছিল। আলাদা করে আরাশিয়ামার গলার স্বরের কথা উল্লেখ করা যায়। খুব খুউব মজা লেগেছে শুনে…. সরল-সোজা বাচ্চা মানুষের মতো গলা। এ জন্য ধন্যবাদ দিতে হয় কন্ঠাভিনেতা চিয়াকি ওমিগাওয়া কে।
 
✰রেটিং✰
অ্যানিমেশন-আর্ট : ৮.৫/১০ (এদিকটায় আমি একটু বিতর্কিত পরিমাণ ওভাররেটেড মনে হতে পারি)
প্রেক্ষাপট : ৭.৫/১০
কাহিনী : ৮.৫/১০
চরিত্রসমূহ : ৮/১০
মিউজিক : ৮/১০
কন্ঠাভিনয় : ৮.৫/১০
সামগ্রিকভাবে : ৮.৫/১০
 
সব মিলিয়ে দেখার মতো কিঞ্চিৎ underrated একটা এনিমে । আশা করি সকলের ভালো লাগবে।
 
 

I Sold My Life For 10,000 Yen A Year / Three Days of Happiness [মাঙ্গা রিভিউ] — Md. Anik Hossain

I Sold My Life For 10,000 Yen A Year
/
Three Days of Happiness
_______________________________________
 
একটা মানুষের জীবনের দাম কত ? কীসের বিনিময়ে আপনার জীবনের একেকটা বছর বেঁচা যেতে পারে ? আপেক্ষিক একটা বিষয় হতে পারে । যত আনন্দদায়ক হবে একটি বছর , সেটির দাম হয়ত তত বেশী । আরেকটু স্পষ্ট করে জিজ্ঞাসা করলে, আপনার সেই একেকটা বছরের “টাকায়” মূল্য কত হতে পারে ? কল্পনা করুন আপনার অবশিষ্ট জীবনকাল বিক্রি করা সম্ভব । এমন একটা দোকান আছে যেখানে বছর হিসাব করে আপনি ইচ্ছামতো আপনার আয়ুষ্কাল বেঁচতে পারবেন নগদ অর্থের বিনিময়ে । জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ আপনি । সামান্য রুটি রুজি করতে হিমশিম খাচ্ছেন । অভাবের তাড়ণায় বই-পত্র , গানের ক্যাসেট সব বিক্রি করতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে । বাকি ভবিষ্যত্টা একেবারেই অন্ধকারাচ্ছন্ন । এই বাকি জীবনটা রেখে তবে লাভ কি ? এই অনিশ্চিত্ , লক্ষ্যহীন , অপদার্থ জীবনটার কয়েক বছর বিক্রি করে যদি কিছু টাকা পাওয়া যায় তাহলে খারাপ কি ? এমন ই ভাবনা থেকে কুসুনোকি নামক বিশ বছরের এক যুবক সন্ধান পায় এমন একটি দোকানের, যেখানে মানুষের আয়ুষ্কাল , সময় এবং স্বাস্থ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। যেখানে গিয়ে সে তার অবশিষ্ট জীবনের সবটাই বিক্রি করে দেয়, মাত্র ৩মাস বাদে । বছর প্রতি কয় টাকার বিনিময়ে জানেন ? মাত্র ১০ হাজার ইয়েনের বিনিময়ে । একইসময় সে তার অবশিষ্ট ৩ মাসে যেন কোন সমস্যা তৈরি না করে, সে জন্য দোকান থেকে পাঠানো হয় মিয়াগি নামের এক মেয়েকে । যে কিনা গ্রাহকের পর্যবেক্ষক হিসাবে সর্বদা তার পাশে থাকবে, সে যেখানেই যাক না কেন । এই ৩ মাসে কুসুনোকি নিজের জীবনের কতটুকু মূল্য ও আনন্দ খুঁজে পাবে, অতীত জীবনের ভুল ও অপ্রাপ্তিগুলো কতটা আবিষ্কার করতে পারবে এক সহচারীর উপস্থিতিতে, তা নিয়েই আবর্তিত হয় কাহিনী ।
মাত্র ১৮ চাপ্টারের এই চমত্কার পটভূমিতে তৈরি মাঙ্গাটি আপনাকে যেমন জীবনের মূল্য শেখাবে… তেমনি শেখাবে হাজারো অপ্রাপ্তি , নিরানন্দ উপেক্ষা করে অল্প, কিন্তু মনে রাখার মতো কিছু স্মৃতিকে জীবিকা করে সন্তোষজনক এক পরিণতি বরণ করতে।
সুন্দর পটভূমির আড়ালে কিছু সীমাবদ্ধতা মাঙ্গাটিতে দেখতে পেয়েছি । মাঝে মাঝে কাহিনীর গতিশীলতা হারিয়ে ফেলছিল । আর্ট খারাপ ছিল না মোটেও, তবে অমায়িক এই প্লটের তুলনায় একটু সাদামাটা লেগেছে । চরিত্রের পরিমাণ এমনিতেই অত্যন্ত কম, আবার মূল চরিত্র বাদে বাকি কারো অতীত নিয়ে সেভাবে কিছু দেখানো হয়নি । হয়ত আরেকটু ভালোভাবে তাদের অতীতগুলো তুলে ধরলে আরো ইমোশনাল বানানো যেত গল্পটা ।
তবে মোদ্দাকথা , প্রত্যেক কে বলব মাঙ্গাটি পড়ে দেখতে । অত্যন্ত আবেগপূর্ণ , চিন্তা জাগানিয়া সিরিজটি এক বসাতেই পড়ে ফেলতে পারবেন । হয়ত আমার মতো আপনারাও জীবনের সুখ দূঃখের সম্পর্কে অন্যরকম এক অর্থ খুঁজে পাবেন !?
 
(ব্যক্তিগত রেটিং):
* প্রেক্ষাপট: ৯.৫/১০
* গল্প: ৮/১০
* আর্ট: ৮/১০
* চরিত্রসমূহ: ৮.৫/১০
চূড়ান্তভাবে: ৯/১০