Naruto Fanfic: Minakushi — Rahat Rubayet

——————————————————————

(পারলে, https://www.youtube.com/watch?v=R451rerZ_Fw ost টা প্লে করে দিতে পারেন ব্যাকগ্রাউন্ডে)

——————————————————————

মিনাতো উত্তর পাশের ঝাউবনের পাশটায় দাঁড়িয়ে আছে। খাবারের দোকানগুলো কেবলই শেষ হয়েছে এদিকটায়। সকাল শেষ হয়েছে কেবল। দুপুরের আভাস পাওয়া যাচ্ছে রোদ আর বাতাসের অবস্থা দেখে। মিনাতোর ছোট বড় হলুদ চুল মৃদু বাতাস উড়িয়ে দিয়ে গেলেও, জুলফি বেয়ে ঘামের স্রোত ধীরে নেমে আসছে। গায়ে জোনিন জ্যাকেট নেই, দুধ-সাদা রঙের শার্ট যার পাশ দিয়ে একটা মাত্র কালো স্ট্রাইপ, পড়ে আছে। ফিরে তাকালো, “মিনাতো নি-চান” ডাক শুনেই।
পরিচিত মিষ্টি কন্ঠের আদ্রতাটুকু বরাবরের মতনই উপেক্ষা করে ফিরে তাকায়, ওর ছোট বোন, মৌনতা নামিকাজের দিকে। খুব ছোট বেলায় মৌনতাকে একটা মিশন থেকে উদ্ধার করে,নিজের ছোট বোন পরিচয়ে বড় করেছে।
-“হম,কি বলবে, বল?”
-“তুমি নাকি কয়েকদিনের ছুটি পাচ্ছো ৩য় হোকাগের কাছ থেকে? এবার কিন্তু আমাকে ঘুরতে নিয়ে যেতেই হবে।”
মিনাতো তার স্বভাবসুলভ হাসি প্রশস্ত করে, একটা হাত রাখে ওর আদরের ছোট বোনের মাথায়। একটা বার চুলগুলো এলোমেলো করে দেয়,ওর আহত চোখগুলোর দিকে তাকিয়ে। বলে,
“এবারের মতন ভাইটিকে মাফ করতে হবে যে। আমি কুশিনাকে আগেই কথা দিয়ে ফেলেছি, একটা যায়গায় ঘুরতে বেরুবো। ইনফ্যাক্ট, ও এই আসলো বলে”
মৌনতার মুখ কালো হয়ে যায়। কালো চুলের ফ্রেমে জমে ওঠে অভিমান। যার প্রকাশ পায় কন্ঠেও,
“সবসময়ই শুধু কুশিনা কুশিনা আর কুশিনা”, বলেই উলটো ঘুরে। হাটতে থাকে বিন্যস্তভাবে, যেন প্রতিটা পদক্ষেপই খুব মেপে মেপে ফেলছে। যাবার সময়ই কুশিনার সাথে দেখা হয়ে গেলো। কুশিনার হাসির প্রতিউত্তরের মাথা নামিয়ে রাখে মৌনতা।
“ওর আবার কি হলো?” পিছনে তাকিয়েই জিজ্ঞেস করে কুশিনা।
“সেরম কিছু না।”
কুশিনা সাদা রঙের একটা ফ্রক এর মতন জামা পরে আছে, বুকের কাছে ফিতা আঁটা আর মাথায় সুন্দর একটা হ্যাট পরে আছে ও। দুজনের জামা একই রঙের হওয়ায় একটু অপ্রভিত বোধ করে কুশিনা। পরক্ষনেই হেসে ফেলে। বলে,
“তা আজ আমাদের কোথায় যাওয়া হচ্ছে মশাই?”
“বলো, কোথায় যেতে চাও? ”
“একটু ঠান্ডা কোথাও গেলে ভালো হত না?” বলে কুশিনা অনিশ্চিত ভাবে।
মিনাতো হাতটা বাড়িয়ে ধরে। কুশিনা তাতে আলতো করে হাত রাখতেই, টেলিপোরট করে মিনাতো। একটানা টিপটিপ শব্দে কানে নেশার মতন বোধ হয়। শীত শীত ভাব আর ঠান্ডা একটা ভাব….. চোখ মেলতেই কুশিনার কপালে টুপ করে পানি পরে গাছের পাতা থেকে।
তাকিয়ে দেখে মিনাতো এক হাতে ঝুলে আছে একটা বিশাল গাছের ডাল ধরে। আরেক হাতে ওর কোমরটা পেচিয়ে ধরে রেখেছে। বিকট শব্দে বজ্রপাত হতেই চমকে ওঠে কুশিনা। একবার ভাবলো, মিনাতোর গলাটা জড়িয়ে ধরে। কি মনে করে যেন ধরলো না।
কুশিনাকে নিয়ে নিচে নামে মিনাতো। তাকিয়ে থাকে আড়চোখে কুশিনার দিকে। আড়ষ্টভাবটা কাটিয়ে উঠেছে এরই মধ্যে। বনের মধ্যটা ছপছপ করছে পানিতে। একপাশেই, দোতলা একটা বাড়ি দেখা যাচ্ছে। দেখে পরিত্যক্তই মনে হচ্ছে। বাড়িটার গা ঘেষে নেমুনোকি গাছের প্রশস্ত ছায়া দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির সাথেই কড়া গন্ধে মাথাটা একটু ঝিমঝিম করে যেন ওদের।
লোহার মরিচা ধরা গেটটা সরিয়ে হাটতে থাকে ভেতরের দিকে। পুরনো সিড়ি বেয়ে কুশিনার আগে উঠে পরে মিনাতো। খাবারের র‍্যাকস্যাক টা কাধে থেকে নামায় দোতলায় উঠেই। কুশিনা খুটিয়ে খুটিয়ে সবকিছু দেখছে।
এমন একটা নির্জন যায়গায় বাকিটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারলে মন্দ হতো না, ভাবতে থাকে ও। একটা ফুটফুটে সুন্দর বাচ্চা, ও আর ওর বর। চিন্তা করতেই চোখের নিচেটা লাল হতে চায় ওর। সেই সাথে প্রশস্ত চোখে তাকায় মিনাতোর দিকে।
আর কতদিন দেরি করবে ছেলেটা? একটা বার মুখ ফুটে বলে দিলেই তো হয়। কুশিনা বুঝে উঠতে পারে না, ওর কি নিজে থেকে কিছু করা উচিৎ?
মিনাতোর ডাকে হুশ ফেরে ওর,
“কিছু বলো?”
“বললাম, বাকিটা জীবন এভাবে কাটিয়ে দিতে পারলে ভালো হতো”
“অবশ্যি ভালো হতো” প্রতুত্তর করে যেন কুশিনা।
“বিয়েথা করে এমন একটা নিরিবিলি পরিবেশেই থাকার ইচ্ছে আমার।”
কুশিনা অপেক্ষা করছে। নিঃশ্বাস টাও নিচ্ছে না, আটকে রেখেছে-যদি মিনাতোর কোন একটা কথা শুনতে না পায়!
আড়চোখে তাকিয়ে দেখে, মিনাতোর হাতে একটা আংটির বক্স শোভা পাচ্ছে। কুশিনা আর থাকতে না পেরে, জড়িয়ে ধরে মিনাতোকে।
কতদিন, কতদিন………… কত্তদিন অপেক্ষার পর…… কুশিনা কিছু চিন্তা করতে পারে না। মাথাটা ফাঁকা হয়ে গেছে ওর। মুখ তুলে মিনাতোর অপ্রস্তত মুখের দিকে তাকায় একটা বার। অপলক চোখে কিসের অপেক্ষা করতে থাকে যেন।
কুশিনার চুলের গন্ধে মিনাতোর সবটা কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যেতে চায়। মাতালের মতন লাগে কেন জানি ওর। হাত দিয়ে কুশিনার মাথা থেকে হ্যাট টা ফেলে দেয়।
ইতস্তত বোধ ছাড়াই কুশিনার ঠোঁটে ঠোট মিলায় মিনাতো। সময় গতি হারাতে শুরু করে যেন।

Comments

comments