Hell Girl [রিভিউ] — Rahima Jahan Mitu

Jigoku Shoujo

THE ENTIRE ANIME IS A SPOILER. It doesn’t matter if anyone gives you a spoiler or not.

অমুকের উপর তমুক একটা অন্যায় করবে, অমুক অনেক সমস্যায় ভুগতে থাকবে। তারপর অমুকের পাশ দিয়ে দুইটা স্কুলপড়ুয়া মেয়ে হেঁটে যেতে যেতে Hell Link নিয়ে ফুসুর-ফাসুর করবে। অমুক রাত বারোটায় হেল লিংকে ঢুকে তমুকের নাম দিয়ে মেসেজ করবে। রাত বারোটা পেরিয়ে গেলে হেল লিংক কই গেল বলে কিবোর্ড নিয়ে গুতাগুতি করবে। এমন অবস্থাতেই চরকা কাটা দাদির কথামত Enma Ai অমুকের সামনে হুট করে হাজির হবে। অমুক চমকে গিয়ে জিজ্ঞেস করবে,

“আরে তুমিই হেল গার্ল?”
এনমা বলবে, “হ্যা। আমাকে ডেকেছিলে মনে নাই?”

তারপর সে একটা লাল ফিতে বাঁধা পুতুল দিয়ে বলবে কিভাবে পুতুলের ফিতে খুললেই সব মুশকিলে আসান। যেই মূহুর্তে অমুক আশান্বিত হয়ে মুখ খুলে কিছু একটা বলতে যাবে তখনই তাকে থামিয়ে দিয়ে এনমা বলবে, “কিন্তু, দাম দিতে হবে”।

-“কি দাম?”
-“মোরগরা ডেকেডুকে শ্রান্ত হয়ে ঘরে ফিরে আসে। তোমাকেও নরকে যেতে হবে।”
-“হায় হায়। এখন কি হবে?”
-“চিন্তা করো না। এখনই নরকে যেতে হবে না, মরার পরে।”

এই ফাঁকে অমুককে নরকের একটা প্রিভিউ দেখানো হবে। অমুক খুব চিন্তায় পড়ে যাবে, এনমা আবার উধাও হয়ে যাবে।

এদিকে তমুক আরো বেশি নিপীড়ন শুরু করবে। কোণঠাসা হয়ে পড়লে অমুক পুতুলের লাল ফিতে খুলে ফেলবে। সাথে সাথে ব্জ্রপাতের গুড়্গুড় গলায় একজন আকাশ থেকে ফিতে খুলার ভেরিফিকেশন জানাবে। দাদি ডাক দিলে পরে এনমা তার গোসল মাঝপথে থামিয়ে একটা কিমোনো গায়ে চাপিয়ে গাড়িতে চড়বে। ক্যামেরা প্রথমে আকাশে উড়ন্ত গাড়ির একটা চাকা দেখাবে, পরে আরেকপাশের আরেকটা চাকা দেখাবে। দুইটা চাকা দেখে আমরা বুঝতে পারি যে দুইটা চাকা আসলে একটা মাথারই দুই কপি।

অতঃপর এনমার বয়স্ক সাঙ্গোপাঙ্গরা তমুককে নানাভাবে ভয় দেখিয়ে তার স্বীকারোক্তি নেয়ার চেষ্টা করবে। তমুক জোর গলায় বলতে থাকবে সে কোনো ভুল করেনি। তখন তারা এনমাকে বলবে, “এই হল অবস্থা।” এনমা তখন দুই লাইনের একটা ডায়ালগের পর তমুককে বলবে, “একবার মরে দেখ না।”

এনমার কিমোনোর হাতা থেকে সুন্দর সুন্দর ফুল বের হবে। তারপরের দৃশ্যেই আমরা দেখতে পাব তমুককে সে নৌকা বেয়ে নরকের দ্বারে নিয়ে যাচ্ছে, তমুক ভয় পেয়ে চিল্লাচিল্লি করছে।

অমুকের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আর তমুক হঠাত করে কিভাবে উধাও হল এ নিয়ে মানুষ একটু বলাবলি করবে। অমুক তার বুকের উপর নরকের সীলমোহর দেখে একটু মন খারাপ করবে, তারপর “জীবনে কি আছে” টাইপের একটা হাসি দিয়ে দৃশ্যের সমাপ্তি ঘটাবে। অমুকের নামে একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে পর্ব শেষ হবে।

ধৈর্য ধরে যদি এটুকু পড়ে থাকেন তবে আপনার Hell Girl দেখা হয়ে গেছে। ২০ মিনিট, কিংবা 20 x N মিনিট ব্যয় করার চেয়ে এই ৫ মিনিটেই যদি আপনি একটা এনিমে দেখে শেষ করতে পারেন তবে সেটা অবশ্যই অধিকতর সাশ্রয়ী।

চতুর্থ সিজন আসবে শুনে হেল গার্ল দেখতে বসেছিলাম। চারটা পর্ব দেখার পর বুঝলাম না এই জিনিস আবার তিনটা সিজনের পর আরেকটা সিজন দেখার ধৈর্য হবে কিভাবে মানুষের। ভিলেনগুলো একদম স্টিরিওটাইপ ভিলেন, তাদেরকে কোণঠাসা করার সময় ওএসটি শুনে মনে হয়েছে প্রতিশোধকে গ্লোরিফাই করা হচ্ছে। এটা বাদ দিলে এই এনিমের ওএসটি আমার ভাল লেগেছে, বিশেষত এন্ডিং সংটা অনেক ভাল। স্ক্রীনশটটা এন্ডিং সং থেকে নেয়া। ভিজ্যুয়াল মন্দ না। এনমার বাড়ির আর্টটা পছন্দ হয়েছে।

এছাড়া Hell Girl নিয়ে বলার মত কিছুই নেই, absolutely NOTHING.

জিগোকু শৌজো রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

জিগোকু শৌজো / হেলগার্ল সিজন ১ দেখে শেষ করলাম। শুরু করেছিলাম অনেকদিন আগে, প্রায় আট নয়মাস হবে। শুরুর দিকে খুব ইন্টারেস্টিং লাগছিল, কারণ মানুষের মনের কদাকার রূপগুলোকে খুব বাস্তবসম্মত ভাবে তুলে আনা হয়েছিল, মনে কিছুটা চাপও পড়ছিল। কিন্তু ১০-১১ টা পর্যন্ত দেখার পর আবিষ্কার করলাম, জিনিষটা বেশ বোরিং হয়ে গেছে, কারণ প্রতি এপিসোডের কাহিনী একইরকম। ভয়াবহ রিপিটেশন দেখে বোর হয়ে তখন আপাতত বাদ দিয়েছিলাম, এতদিন পর অবশেষে বাকি এপিসোড গুলো দেখলাম। এবং দেখে স্বস্তি পেলাম যে, রিপিটেশন পুরোপুরি দূর না হলেও, শেষদিকে হাজিমে ও তার মেয়ে সুগুমির কাহিনী ইনক্লুড হওয়ার কারণে জিনিষটা অনেক ইন্টারেস্টিং ভাবে শেষ হয়েছে।

ভেবেছিলাম অল্প কথায় রিএকশন লিখে পোস্ট করব, এখন দেখছি বলার মত অনেক কথা মাথায় ঘুরছে। রিভিউ লিখেই ফেলি ছোট করে।

Enma.Ai.full.722587

পৃথিবীতে যতদিন মানুষ থাকবে, ততদিন অন্যায়, অত্যাচারও থাকবে। দুর্বলেরা নির্যাতিত হবে, তাদের অধিকার খর্ব করা হবে, আর সবলেরা অন্যায়ভাবে সুবিধা ভোগ করবে। ন্যায়বিচার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক দিবাস্বপ্ন; নির্যাতিতের মনে তাই জ্বলতে থাকে প্রতিশোধের আগুন। ক্লাসে আপনার পাশে বসা মেয়েটিই হয়ত আরেকটি মেয়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইচ্ছামত তাকে দিয়ে অন্যায় করিয়ে নিচ্ছে, আপনি টেরও পাচ্ছেন না। অথবা পাশের বাড়ির যে মহিলাটিকে কিছুদিন আগে দুশ্চরিত্রা অপবাদ দেয়া হল, কেউ খোঁজ নিয়েও দেখল না যে বাস্তবে সে কত বড় ষড়যন্ত্রের শিকার। কিংবা হাসিমুখে আপনাকে সাহায্য করতে আসা প্রতিবেশীটি হয়ত মনে মনে আপনার ক্ষতি করার প্ল্যান নিয়ে এসেছে, আপনি যখন জানবেন, ততক্ষণে সব শেষ, কিচ্ছু করার নেই।

এইসব মানুষ কি তাহলে কোনদিন ন্যায়ের দেখা পাবে না? এভাবে অত্যাচারিত হয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে তাদের?

তাদের জন্য রয়েছে হেল লিঙ্ক। এমন একটি ওয়েবসাইট, যা শুধুমাত্র রাত ১২ টায় একসেস করা যায়, আর যা শুধু অত্যাচারিত মানুষই একসেস করতে পারে। আপনার সাথে যে অন্যায় করেছে তার নামটা লিখে দিন সেখানে, নরক কন্যা এনমা আই আপনার হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। কিন্তু সেজন্য মূল্য দিতে হবে আপনাকে। আপনার মৃত্যুর পর অনন্তকালের জন্য আপনার আত্মার ঠাঁই হবে নরকে।

অ্যানিমেটির যে দিকটা আমার ভাল লেগেছে, আপনার নৈতিকতা, বিবেকবোধ এবং মনুষত্ব্যের মাঝে একটা ছোটখাটো গৃহ যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে অ্যানিমেটি, যা হয়ত ডেথ নোট, কোড গিয়াসও করতে পারেনি। কিরকম? আপনাকে প্রথমে নির্যাতিতের কষ্টটা প্রত্যক্ষভাবে দেখানো হবে। নির্যাতিতের ক্ষোভ আপনি নিজে অনুভব করবেন। আর যখন ভাগ্যের সেই লাল সুতো টেনে খুলতে সে দ্বিধাবোধ করবে, আপনার নিজেরই ইচ্ছে হবে যে গিয়ে সুতোটা খুলে দিয়ে আসি।

কিন্তু যদি ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করা হয়, তাহলে ব্যাপার টা কি দাড়াতে পারে? এভাবে নিজের আত্মাকে অনন্তকালের জন্য বিসর্জন দিয়ে ক্ষণিকের মুক্তির জন্য প্রতিশোধ নেয়াটা কতখানি যৌক্তিক? প্রতিশোধের এই মরণচক্র তো তাহলে কোনদিন শেষ হবে না! রিপোর্টার হাজিমে ও তার মেয়েকে এনে অ্যানিমেটার কাহিনী আরও জটিল হয়েছে, কিন্তু সেইসাথে আরেকটা দৃষ্টিভঙ্গি দর্শকের সামনে উঠে এসেছে, তাই কাহিনীটা আরও ভাল লেগেছে।

অ্যানিমেটার আর্ট ভালই, ওএসটি অনেক সুন্দর। কাহিনীর পেসিং এ একটু সমস্যা আছে, এছাড়া ওভার অল এটি অবশ্যই সবার দেখার মত অ্যানিমে। শেষ দিকে জিগোকু শৌজোর লাইফ নিয়ে কিছু ঘটনা দেখানো হয়, এটা ভাল লেগেছে। সিজন টু দেখার জন্য আগ্রহ বেড়ে গেছে এখন।

jigoku_shoujo_sakura_kimono_girl_brunette_posture_29489_1920x1080

Jigoku Shoujo রিভিউ — Torsha Fariha

Jigoku Shoujo

জিগোকু সোওজো: সহজ উপায়ে আপনার অপছন্দের মানুষকে দোজোখে পাঠান।

জানরা- সুপারন্যাচারাল, হরর, মিস্ট্রি
সিজন- ৩ টা

একজনকে ঠিক কতটুকু ঘৃণা করলে আপনি তাকে নরকে পাঠাতে চাইবেন?
প্রশ্নটা আরেকটু বিস্তৃত করি – এরকম একটা সুযোগ যদি আপনার সামনে আসে তখন কি করবেন?
মানুষ নিজের চেষ্টায় তার ভাগ্য পরিবর্তন করে। কিন্তু এমন একটা পরিস্থিতি যদি হয় যেখানে কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয়? এবং সেটা যদি হয় হেল গার্লের?

ইন্টারনেটে একটা অদ্ভুত সাইট আছে যেটা ঠিক রাত ১২ টায় একটিভেটেড হয়। সেখানে আপনি আপনার সবচেয়ে অপছন্দের মানুষ যাকে আপনি নরকের নিকৃষ্টতম স্থানে পাঠাতে চান তার নাম লিখতে পারবেন। ঠিক তারপরেই আপনার সামনে এসে হাজির হবে হেল গার্ল –এনমা আই। হাতে একটা পুতুল।

সে জানাবে এই কাজের জন্য আপনাকে একটা মূল্য পরিশোধ করতে হবে সেটা হল- নরকে যেতে হবে আপনাকেও – অবশ্য সেটা স্বাভাবিক মৃত্যুর পর।

মানুষ কতখানি ডেসপারেট হলে নিজের ক্ষতি করে হলেও প্রতিশোধ নিতে চায়? এই প্রশ্ন নিয়ে আপনি অ্যানিমেটা দেখা শুরু করলে প্রশ্নটা বদলে যেতে পারে সময়ে সময়ে – ‘মানুষের মন-মানসিকতার কতটুকু পরিবর্তন ঘটলে এমন একটা কন্ট্রাক্ট সে করতে পারে?

এমনই একটা কাহিনী নিয়ে ‘জিগোকু সোওজো’ অ্যানিমে। একটু স্লো পেসের অ্যানিমে। বলতে গেলে সব এপিসোডই আলাদা আলাদা কাহিনী বেজড। একসময় বিরক্ত লাগাও অস্বাভাবিক না। কারণ প্রতিটা কাহিনীর প্যাটার্ন এর কোন বৈচিত্র্য নাই।

কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার মনে প্রশ্ন জাগবে কে এই জিগোকু সোওজো? কি তার উদ্দেশ্য? তার সাথের সহযোগীরাই বা কারা? আর কেই বা হাজিমে চান যার মেয়ের সাথে অদ্ভুত একটা মানসিক যোগাযোগ আছে এনমার?

যত সামনে আগাতে থাকবেন ততই কাহিনী এই প্রশ্নগুলার উত্তর দিতে থাকবে তখন বাজি ধরে বলতে পারি এক নিশ্বাসে অ্যানিমেটা দেখবেন।

এই অ্যানিমের আরও দুইটা সিজন আছে। আমি মোটামুটি শিউর প্রথমটা দেখে পরের সিজনও দেখতে চাইবেন। 🙂 অন্য সিজনগুলার কাহিনী আবার অন্যরকম। দেখে ভালো লাগবে।

আসলে সুপারন্যাচারাল ধাঁচের অ্যানিমে তো তাই লজিক টজিক পাবেন না এখানে 😛
খুব যে অসাধারণ অ্যানিমে তা না। তবে পড়ালেখা নিয়ে বিজি থাকলে একটানা টান টান উত্তেজনার অ্যানিমে দেখা রেজাল্টের জন্য খারাপ। তখন আরকি এরকম অ্যানিমে দেখতে পারেন যার দুই-তিনটা এপিসোড দেখে আবার পড়া রিস্টার্ট করতে পারবেন 🙂

না দেখার কারণ- প্রতিটা সিজনের বৈশিষ্ট্য অনেকটা এরকম – প্রথম দিকের এপিসোড গুলা হচ্ছে ছাড়া ছাড়া। একটার সাথে আরেকটার কোন সম্পর্ক নাই। তবে প্যাটার্ন পুরা একই। তখন একটু বিরক্ত লাগতেই পারে।

তবে শেষের দিককার এপিসোডগুলার পরস্পরের মধ্যে লিঙ্ক আছে। ঐগুলা দেখতে ভালো লাগে 🙂

ম্যাল রেটিং-
জিগোকু সোওজো- 7.89
জিগোকু সোওজো ফুতাকোমোরি- 8.16
জিগোকু সোওজো মিৎসুগানে – 7.9