Genshiken [রিভিউ] — Md. Anik Hossain

𝙂𝙚𝙣𝙨𝙝𝙞𝙠𝙚𝙣

সম্প্রতি দেখে ফেললাম ওতাকু সংস্কৃতি নিয়ে তৈরি 𝙂𝙚𝙣𝙨𝙝𝙞𝙠𝙚𝙣 নামক সিরিজটি। ৩ টি সিজনে বিভক্ত সিরিজটির প্রেক্ষাপট একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ও তার সদস্যদের কেন্দ্র করে। 𝗠𝗼𝗱𝗲𝗿𝗻 𝗩𝗶𝘀𝘂𝗮𝗹 𝗖𝘂𝗹𝘁𝘂𝗿𝗲 𝗦𝘁𝘂𝗱𝘆 𝗦𝗼𝗰𝗶𝗲𝘁𝘆 বা সংক্ষেপে গেনশিকেন নামক ক্লাবটিতে সদস্যরা মূলত এনিমে, মাঙ্গা, গেইম , কসপ্লে, হেন্তাই এবং যাবতীয় ওতাকু সম্পর্কিত জিনিস নিয়ে আলাপ আলোচনা করে । গল্পের শুরু হয় ভার্সিটিতে সদ্য ভর্তি হওয়া কেঞ্জি সাসাহারা নামক ছেলেকে নিয়ে। বেশ নম্র ভদ্র স্বভাবের হলেও তার ইচ্ছা জাগলো বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে ওতাকু জগতে একটু প্রবেশ করে দেখবে । গেনশিকেনের খোঁজ পেয়ে ক্লাবটিতে সানন্দে সদস্য হয়ে গেল সে। একইসাথে মাকোতো কোসাকা নামক আরেক ছেলে তার সাথে ক্লাবে যোগ দেয়। কোসাকা দৈহিকভাবে বেশ সুদর্শন । একইসময় সাকি কাসুকাবে নামক মেয়ে প্রথম দেখাতেই কোসাকা এর প্রেমে পড়ে যায় এবং অদ্ভুতভাবে দুইজনে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে যায় এই অল্প সময়ে । কিন্তু ওতাকু কালচারকে অপছন্দ করা কাসুকাবে তার প্রেমিকের গেনশিকেন ক্লাবে যোগদানের ব্যাপারটা ভালো চোখে দেখলো না। তবু বাধ্য হয়ে ক্লাবে নিয়মিত যাতায়াত চলতে থাকে তার । একই সময় ক্লাবের পুরাতন সিনিয়র সদস্যদের সাথে সদ্য যোগ দেয়া এই ৩ জনের নানা হাসি ঠাট্টা, খোঁচাখুচি চলতে থাকে এবং এভাবে দিনকাল অতিবাহিত হতে থাকে।

মতামত ও পর্যালোচনা:
এই সিরিজের সবচেয়ে বড় দিকটা আমার মতে এর বাস্তবতা এবং ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট। ভার্সিটির শেষ বছরগুলোতে সবার চাকরি খোঁজা নিয়ে ব্যস্ততা ও হতাশা, প্রেমের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সঙ্গীর ভালো মন্দ লাগার ব্যাপারটা না চাইতেও মেনে নেয়া ও একটা সময় তাতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া, পেশাগত জীবনকে আলিঙ্গন করতে যেয়ে পুরনো সুখ স্মৃতিগুলো বিসর্জন দেয়ার মতো দিকগুলো ফুটে এসেছে। অন্যদিকে প্রায় প্রতিটি মূল চরিত্রকে বেশ ভালো রকম স্ক্রিন টাইম দিয়ে তাদেরকে গভীরতা দান করা হয়েছে । প্রত্যেকের দৃষ্টিকোণ থেকে একে অপরকে দেখানো হয়েছে। ধীরে সুস্থে সময় ও যত্ন নিয়ে এদের মধ্যে একটা গভীর বোঝাপড়া গড়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে সিরিজের আরেকটা ভালো দিক ছিল এর গল্প। স্লাইস অফ লাইফ হিসাবে গল্পের পেসিং নিয়ে এ ধরনের সিরিজে অনেক সময় সমস্যা দেখা যায়, বোরিং লাগে। কিন্তু সিরিজটিতে সেরকমটা লাগেনি মোটেও। যতটুকু ধীর ছিল, সেটা চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন ছিল।
এতক্ষণ যা যা বললাম সেগুলো মূলত প্রথম ২ সিজনের ব্যাপারে বলেছি। ৩য় সিজন থেকেই শুরু যত বিপত্তি। নতুন চরিত্রগুলোর মাঝে আগের মতো সেই চারিত্রিক দৃঢ়তা ছিল না। ক্লাবের কাজগুলো খুব রসকষহীন লাগছিল। গল্প Repetitive হয়ে যাচ্ছিল। পুরো গল্প বলতে গেলে শুধু ২ টা চরিত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছিল যেটা প্রথম ২ সিজনের পুরো বিপরীত। তবে মাদারামে এর চরিত্রটার এক্ষেত্রে প্রচুর বিকাশ ঘটে। ক্লাবের সবচেয়ে “বড় ওতাকু” এই সময় ম্যাচিউরিটি অর্জন করে। মাদারামে এর এই পরিপক্বতা দেখার মতো ছিল। কিন্তু সামগ্রিকভাবে পুরো ৩য় সিজন মানে 𝗚𝗲𝗻𝘀𝗵𝗶𝗸𝗲𝗻 𝗡𝗶𝗱𝗮𝗶𝗺𝗲 একটা আক্ষেপের নাম ছিল আমার কাছে। ক্লাবের পুরো ফোকাস হঠাৎ করে BL আর cross-dressing এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। প্রথম ২ সিজনে যেভাবে ছোটো থেকে বড় সকল চরিত্রের সুন্দর ডেভেলপমেন্ট দেখা গেছে, সেই তুলনায় ৩য় সিজনে মন ভরেনি। বিশেষত কুচিকি নামক চরিত্রটাকে তো ব্যবহার ই করা হয়নি ঠিকমতো। অল্প যেটুকু স্ক্রিনটাইম দেয়া হয়েছে কুচিকি কে, তা অযথা কাজকারবারে নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ ভারী রকম character based এই সিরিজে কুচিকি কে খুব ভালো করে ব্যবহারের সুযোগ ছিল।
সে যাই হোক। ৩য় সিজনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল মাদারামে এর চারিত্রিক বিকাশ। সম্ভবত, মাদারামে এর জন্যই পুরো ৩য় সিজনটা বানানো হয়েছে এক হিসাবে। পুরো সিরিজের সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হিসাবে মন জয় করে নিয়েছে।
সর্বোপরি, ওতাকুদের নিয়ে এ পর্যন্ত বেশ অনেকগুলো সিরিজ দেখেছি। তবে নিঃসন্দেহে 𝐆𝐞𝐧𝐬𝐡𝐢𝐤𝐞𝐧 এদের মধ্যে সেরা। ৩য় সিজনের কথা বাদ দিলে চমৎকার একটা সিরিজ। এনিমে, মাঙ্গা নিয়ে আমরা যারা সারাদিন মেতে থাকি, তাদের জন্য সিরিজটা দেখা আবশ্যক আমার মতে।

রেটিং
প্লট: ৮/১০
গল্প: ৮/১০
চরিত্রায়ন: ৮.৫/১০
এনিমেশন-আর্টওয়ার্ক: ৭.৫/১০ (আগের দিনের সিরিজ। সেই হিসাবে ভালোই)
সামগ্রিকভাবে –
সিজন ১+২: ৮/১০
সিজন ৩: ৭.৫/১০ (মাদারামে এর জন্য ০.৫ বাড়িয়ে দিলাম। এছাড়া ৭/১০ এর বেশি দিতে মন সায় দিচ্ছে না। বলে রাখা ভালো, আমার ৭ রেটিং হয়ত অন্যদের ৬.৫ বা ৬ এর সমান হবে 😂)

Nihonkoku Shoukan [মাঙ্গা পরিচিতি] — Md. Anik Hossain

ইসেকাই কাহিনী এবং আধুনিক সমরাস্ত্রের ঝনঝনানি উপভোগ করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব পছন্দ করি। কিন্তু একই মাঙ্গায় যখন দুটো জিনিসই উপস্থিত থাকে, তখন আমার মাথা ঠিক থাকে না বলা বাহুল্য 🤣 ইসেকাই এবং আধুনিক সামরিক বাহিনীর কথা উঠলে প্রথমেই “Gate : Thus The JSDF Fought” সিরিজটির কথা আসবে। যারা Gate সিরিজটি পড়েছেন/দেখেছেন, এবং পছন্দ করেছেন, তাদের জন্য আদর্শ মাঙ্গা হতে পারে Nihonkoku মাঙ্গাটি।

মাঙ্গাটির কাহিনী অনেকটা এরকম-
রোডেনিয়াস নামক এমন এক মহাদেশ রয়েছে যেখানে মধ্যযুগীয় কয়েকটি দেশ একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। যে মহাদেশের রাজ্য, সাম্রাজ্যগুলো একে অপরকে ঘায়েল করতে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে অলৌকিক জাদু, উড়ন্ত ড্রাগন। মহাদেশটিতে তেমনি একটা রাজ্য হচ্ছে Qua-Toyne. একদিন হঠাৎ করেই এই রাজ্যে দেখা মিলে কিম্ভূতকিমাকার এক উড়ন্ত ড্রাগনের। যেই লৌহে আবৃত ড্রাগনকে কেউ আগে কখনো দেখেনি। রাজ্যের তৎসংলগ্ন এলাকাতেও দেখা গেল অদ্ভুত এক বিদেশী যুদ্ধজাহাজের। যেটার আকার এতটাই বিশাল যে প্রথম দেখায় সৈন্যরা ভাবলো এটা হয়ত কোন ভাসমান দূর্গ!
হঠাৎ এসব নিদর্শন রাজ্যটিতে দেখতে পাওয়ার কারণ কি হতে পারে? কারণ তেমন কিছুই না। ইয়ে মানে পুরো জাপান একদিন হটাৎ করে রোডেনিয়াস মহাদেশে এসে পড়ে। তাই জাপান নিজেদের টহল উড়োজাহাজ এবং নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার দিয়ে নতুন পৃথিবীর হালচাল দেখছিল। অতি দ্রুত Qua-Toynen এবং জাপান নিজেদের মাঝে বন্ধত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময় ব্যবস্থা গড়ে তুলে। কিন্তু অতি শীঘ্রই Qua-Toyne তাদের বৃহৎ প্রতিবেশী সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় এবং বলতে গেলে ভালো রকম মার খেতে থাকে। এ পর্যায়ে তারা জাপানের শরণাপন্ন হয় এবং জাপান তার আধুনিক সামরিক শক্তি ব্যবহার করে মিত্র রাজ্যের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
এই হলো মূল কাহিনী।

গল্পের মান এর ব্যাপারে যদি বলতে হয়, তবে বলবো খুব বেশি আশা রেখে না পড়াই ভালো। তেমন আহামরি না মোটেই। সমগ্র জাপানী ভূখণ্ড, মানুষজন হুট করে অন্য এক জগতে চলে আসার ব্যাপারটাও হাস্যকর বৈকি । আর্ট খারাপ না একদম । চরিত্র বলতে নির্দিষ্ট কোন নায়ক, নায়িকা, খলনায়ক নেই। খুব গভীর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন তেমন চরিত্র মাঙ্গাটিতে নেই। আবার জাপানের সামরিক বাহিনীকে যেভাব মহান এবং সাধু হিসাবে দেখানো হয়েছে, সেটা অনেক ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি বলে মনে হতে পারে। তবে প্রথমেই যেমনটা বলেছিলাম, মধ্যযুগীয় ইসেকাই জগতের সামরিক বাহিনী বনাম আধুনিক বিশ্বের অত্যাধুনিক সব অস্ত্রে সজ্জিত একটা বাহিনীর লড়াই কেমন হতে পারে, সেটা অনুভব করার জন্য চমৎকার একটা মাঙ্গা হতে পারে এটি। মাত্র ১১ পর্ব বের হয়েছে এ পর্যন্ত। পড়া শুরু করে অল্প সময়ের মাঝেই Up to date হওয়া যাবে। তাই পড়ে দেখার অনুরোধ করলাম।

 

Listen to Me, Girls. I Am Your Father! [রিয়্যাকশন] — Md. Anik Hossain

Papa no Iukoto wo Kikinasai!

সিরিজটা তেমন জনপ্রিয় কিনা বা খুব বেশি মানুষ দেখেছেন কিনা জানি না, তবে এটা নিয়ে এনিমেসমাজে তেমন আলাপ করতে দেখিনি কখনো। কোনো এক Random সাজেশনে সিরিজটার নাম পেয়েছিলাম অনেক দিন আগে ।এতদিন লিস্টে জমিয়ে রেখেছিলাম।অতঃপর গত পড়শু Wikipedia তে সিরিজের সিনোপসিস টা পড়ে সব পর্ব ডাউনলোড দিলাম । অবশেষে গতকাল দেখা শেষ করলাম।

যারা দেখেননি তাদের জন্য কাহিনী সারসংক্ষেপ: Yuuta মাত্র ভার্সিটি তে ঢুকেছে। এতিম Yuuta কে খুব কষ্ট করে মানুষ করেছে ওর বড় বোন Yuri… তো একবার Yuri আর তার হাজব্যান্ড এক বিজনেস ট্যুরে বিদেশে যাবে। এমন সময় Yuri এর মেয়ে আর তার সতীনের ঘরের আরো দুই মেয়েকে কিছুদিন দেখা শুনার দায়িত্ব পড়ে Yuuta এর উপর।১৪ বছর বয়সের বড় মেয়েটার নাম Sora, মেজো মেয়ের নাম Miu আর সবচেয়ে ছোটোজন মানে Yuuta এর আপন ভাগ্নীর নাম Hina. কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত Yuri আর তার স্বামী যে Plane এ ছিল সেটা বিধ্বস্ত হয়ে যায়। যাতে ধারনা করা হয় তারা মারা গেছে। এমন সময় Yuuta তার তিন ভাগ্নীকে একাই লালন পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় বাকি আত্মীয়দের মতামত উপেক্ষা করে। মূলত এই অবিবাহিত ছাত্র কীভাবে তার বোনের মেয়েদের পেলে বড় করে এবং যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয় তা নিয়েই কাহিনী আবর্তিত হয়।

দেখার পর আমার প্রতিক্রিয়া(তেমন স্পয়লার থাকার কথা নয়):
প্রথমত, অনেক বেশি আশা নিয়ে দেখতে বসেছিলাম। বাচ্চা পালা নিয়ে জিনিস-পাতি আমার এমনিতে খুব পছন্দ। কিন্তু এনিমের ভেতরটা আমার কাছে ছিল “UNEXPECTEDLY AWKWARD”……….. Pewdiepie এর স্টাইলে বলতে হয়, “My expectation was totally shattered!!!!!”

সবার আগে বলব ফ্যানসার্ভিসিং এর কথা। এচ্চি ট্যাগ ছিল নাকি চেক করিনি কিন্তু কিছু জিনিসে এচ্চি একেবারে বেমানান লাগে। এক্ষেত্রেও তাই।
ছোটো ছোটো মেয়েদের উপর সেক্সুয়াল ফ্যানসার্ভিসিং এক্কেবারে ফালতু একটা ব্যাপার। হার্ডকোর এচ্চি ছিল না তবে যেটুকু ছিল সেটুকুও মোটেই মানানসই লাগেনি আমার কাছে। সাথে প্লট এর তুলনায় কিছু dirty(?) কথা বার্তা ছিল। বেশি পাঁকনা মেয়ে হইলে যা হয় আরকি।

দ্বিতীয়ত, হা বুঝলাম আপন রক্তের সম্পর্ক নাই। কিন্তু তারপরেও “মামা X ভাগ্নী” রোমান্টিক সম্পর্কের উপর ফোকাস! ক্যাম্নে কি!

এখানে Yuuta আর Raika (Yuuta এর ভার্সিটির বড় আপু) এর রিলেশনশিপের মাঝে বেশি ফোকাস করলে ভালো হতো বলে মনে করি। আমি হলে স্টোরিলাইনটা এইভাবে সেট করতাম – “Sora এর তার সত্‍ মামা Yuuta এর উপর সিক্রেট ক্রাশ আছে। ওকে ব্যাপার না। ছোটোমানুষ অনেকসময় আকাশ কুসুম কল্পনা করতেই পারে। কিন্তু সময় যাওয়ার সাথে সাথে Yuuta আর Raika এর মাঝে সম্পর্কটা আরো গভীর হতে থাকবে। খালি ফ্রেন্ডশিপের মাঝেই আবদ্ধ থাকবে না।ওরা সিরিয়াসলি ডেটিং করা শুরু করবে এরকম কিছু”। কিন্তু না! সিরিজে মামাজানের প্রতি tsundere বড় ভাগ্নীর এত্ত বেশি দূর্বলতা দেখিয়েছে যে শেষ পর্যন্ত জিনিসটা বিরক্তিকর ঠেকেছে। লেবু বেশি কচলালে তিতা হয়ে যায় ।

এমনকি আরো গভীরভাবে একটু গবেষণা করতে গিয়ে আমি তো একেবারে ওয়াদ্দাপাক হয়ে গেছি… অরিজিনাল লাইট নোভেলে এই মামা আর ভাগ্নি নাকি সত্যি সত্যি বিয়ে করেছে! পুরাই Usagi Drop 2.0।

সিরিজটা আসলে ললিকন দের কথা মাথায় রেখে তৈরি নাকি তা জানি না। কিন্তু আমার আশানুরুপ হয়নি। বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে। যদিও এনিমের অন্যান্য দিকগুলো নিয়ে আমার তেমন অভিযোগ নেই।

আমি বরাবর ই সব এনিমে কে বেশি বেশি রেটিং দেওয়ার চেষ্টা করি। এই সিরিজটাকেও আমি অন্তত 8/10 দেওয়ার চেষ্টা করলাম অনেক। কিন্তু মন থেকে 7/10 এর বেশি দিতে ইচ্ছে করছে না এই মূহুর্তে।

আপনাদের কি মতামত সিরিজটা নিয়ে?

Hisone & Maso-Tan [রিভিউ] — Md. Anik Hossain

কাহিনী সারসংক্ষেপঃ গল্পটা এমন এক কাল্পনিক পৃথিবীতে যেখানে ড্রাগনের অস্তিত্ব আছে। তবে প্রাচীনকাল থেকেই এগুলোকে সরকারিভাবে আমজনতার চোখ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়ে আসছে।তো একবিংশ শতকের এই আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ড্রাগনদের দেখাশোনা ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় বিমানবাহিনীর হাতে।সিরিজের মূল চরিত্র Hisone হচ্ছে বিমানবাহিনীতে কর্মরত এক অবুঝ(?) মেয়ে। মনের ভিতর কোনো প্যাঁচগোছ নেই। মেয়ে ৯৯% ফিটফাট…খালি একটু খুঁত আছে। মুখ পাতলা স্বভাবের। মনের অজান্তেই মুখের উপর মানুষের সমালোচনা করে দেয়। একদিন ভাগ্যক্রমে বিমানঘাঁটিতে গোপন হ্যাঙ্গারে থাকা একটা ড্রাগনের সাথে দেখা হয়ে যায়। এবং আরো কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে সে এই ড্রাগনের পাইলট হয়ে উঠে। মূলত বিমানঘাঁটির লোকবল ও তার মতো অন্যান্য ড্রাগন পাইলটদের নিয়েই এনিমের কাহিনী আবর্তিত হয়।
Hisone & Maso-Tan
দেখাশেষে আমার প্রতিক্রিয়াঃ অনেক দিন ধরে নতুন একটা “Cute girls doing cute things with cute cute military toys” ধাঁচের সিরিজ খুঁজছিলাম। অবশেষে মজার কিছু পেয়ে আমিতো বেজায় খুশী! আর Studio Bones এর অন্ধভক্ত হিসেবে পুরো সিরিজটা একদম গোগ্রাসে গিলে খেয়েছি। Chibi(?) ক্যারেক্টার ডিজাইনগুলো বেশ অন্যরকম একটা মজাদার অভিজ্ঞতা দিল। টিভি তে বাচ্চা-কাচ্চাদের চিবি মার্কা বাদে আর কোনো এরকম এনিমে দেখা হয়ে উঠেনি আসলে। কাহিনীর কথা বললে তেমন বিশেষ কিছু পাইনি এবং পাবার আশাও করিনি প্রথম থেকে। তবে কিছুটা অন্যরকম কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ মনে হয়েছে আমার নিকট। মোট কথা বললে, বিনোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে মোটেও আশাহত হইনি দেখা শেষে।

কিছু জিনিসে আমার মতে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ভুল ধরতে যাওয়া বা সমালোচনা করা উচিত নয়। দেখবেন, হাসবেন, বিনোদিত হইবেন- ব্যাস। ভালো একটা শান্তিময় সময় কাটাবেন বাসার সব বয়সীদের নিয়ে। Hisone & Maso-Tan ঠিক সেরকম একটা এনিমে ছিল। Mind refreshing কিছু দেখতে চাইলে সবাইকে দেখতে বলবো সিরিজটা।

জানি না কেন সিরিজটা খুব একটা জনপ্রিয়তা পেল না। হয়ত এনিমেশন আর ক্যারেক্টার ডিজাইন সংখ্যাগরিষ্ঠ দর্শকের ভালো লাগেনি। মনে হয় বাজেট একটু কম ছিল। দু-একটা পর্ব দেখে অপছন্দ হলে ড্রপ মারবেন না হয়। আর আগেই যেমনটা বলেছিলাম যে কাহিনী বেশ সাদামাটা। মাথা একেবারে খালি করে দেখতে বসবেন।

হাবিজাবি রেটিং:
কাহিনী: ৩/৫
ক্যারেক্টার ডিজাইন: ৪/৫
এনিমেশন: ৩.৫/৫
সামগ্রিকভাবে: +-৩.৯/৫

Ninja Batman (2018) [মুভি রিভিউ] — Md Anik Hossain

Ninja Batman

কয়েক সপ্তাহ যাবত্‍ দেখব দেখব করে দেখা হচ্ছিল না। শেষে আজ সকালে দেখলাম।

মূল কাহিনীর সারাংশ হয়ত শিরোনাম দেখেই বোঝা যায়। তবুও বলি আর কি- ব্যাটম্যান যখন গোরিলা গ্রড এর সাথে মারামারি করছে এমন সময় গ্রডের বানানো টাইম মেশিন সম্ভবত দুর্ঘটনাঃবশত এক্টিভেট হয়ে যায়। আর ব্যাটম্যান টাইম মেশিনের বদৌলতে প্রাচীন জাপানে চলে আসে। সেখানে গিয়ে খুঁজে পায় তার কিছু চিরশত্রুদেরকে। আর তাদের খতম করে আবার বর্তমানে ফিরে আসা নিয়েই Ninja Batman এর মূল theme.

প্রথমেই স্টোরিলাইনের কথা বললে কাহিনী পুরাই লুলমার্কা হাস্যকর মনে হইছে আমার কাছে। কিন্তু একইসাথে প্লট টা মজাদার ছিল এটা মানতে হবে।
প্লট-কাহিনী মিলিয়ে 6/10 দিব।

আর্টওয়ার্ক বেশ ভালো লেগেছে। ওয়েস্টার্ন কমিকের এডাপ্টেশন হিসেবে মানানসই ছিল। এটার এনিমেশনে বেশ Uncommon একটা vibe পাওয়া যায়। Afro Samurai খ্যাত তাকাশি ওদাকাই এর সৃষ্টি বলে কথা। CGI এনিমেশন এর মুভমেন্টগুলো খারাপ লাগেনি। আর একশন সিকোয়েন্সগুলো অস্থির ছিল। বিশেষত একবারে শেষের ব্যাটম্যান বনাম জোকার এর Duel টা 
এই খাতে 8/10 দিলাম।

ব্যাটম্যান সেই চিরাচরিত ব্যাটম্যানের মতোই ছিল। নিজের আদর্শ ও বাস্তবতার মাঝে বিরোধ ভালোভাবেই ফুটেছে মুভিতে। আর বিখ্যাত জোকার মামু এবং কুইন এর পাগলামি ছিল এক্কেবারে দারুণ! পুরা মুভিতে জোকার মামুর কান্ডকারখানাই সবচেয়ে উপভোগ্য ছিল। ক্যাটওমেন,টু ফেইস,গোরিলা গ্রুড কেও কমবেশি ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছে বলে মনে হলো। অন্যান্য ক্যারেক্টার রা খুব বেশি স্ক্রীনটাইম পায়নি।যেটুকুও পেয়েছে, চলে আরকি।
তো চরিত্রগুলোর মিথস্ক্রিয়ার দিকটাতে 7+1/10 দিব(জোকার মামুর জন্য ১ বোনাস)

নেগেটিভ দিকের কথা আর কি বলব, মুভির নাম দিছে নিনজা ব্যাটম্যান আর পোশাক পরাইছে সামুরাই যোদ্ধাদের মতো, পুরাই আজব! তার উপ্রে প্রাক-শিল্পবিল্পব জমানায় ইয়া বিশাল বড় বড় রোবোট নিয়ে মারামারি দেখায় দিল। দেখে তো আমি হাসতে হাসতে কতক্ষণ লুটোপুটি খেলাম।

মুভির সবচেয়ে সেরা মূহুর্ত: বাতুমান-দোনো যখন হাত দিয়া নারুটোর মতো শারিনগান(?) জুত্‍সুর হ্যান্ড সিগনাল দেখাইল।

তো সে যাইহোক, সামগ্রিকভাবে সময় কাটানোর জন্য ভালোই লাগল। ৭/১০ দিলাম সব মিলিয়ে।

Giovanni no Shima (Giovanni’s Island) [মুভি রিকমেন্ডেশন] — Md Anik Hossain

Giovanni's Island

১৫ আগস্ট, ১৯৪৫

দুই দুটো পারমাণবিক বোমার আঘাতে অবশেষে হার মানল যুদ্ধবাজ জাপানি সাম্রাজ্য। স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে বেতার ভাষণে সম্রাট হিরোহিতো ঘোষণা দিলেন আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত। সমগ্র সূর্যদয়ের দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের মাতম। তা থেকে বাদ যায়নি ছোট্ট দ্বীপ শিকোতান। অবশ্য যুদ্ধে সরাসরি দ্বীপটি আক্রান্ত হয়নি। বাহ্যিকভাবে অক্ষতই ছিল। সে দ্বীপের প্রধান নিরাপত্তারক্ষীর দুই সন্তান জুনপেই এবং কান্তা। মা মরা জুনপেই এবং কান্তার ডাক নাম ছাড়াও আরেকটা করে ভালো নাম আছে। Giovanni ও Campanella… ওদের মায়ের দেয়া নাম। নাম দুটো বিখ্যাত Night on the Galactic Railroad বই থেকে নেয়া। ওর মায়ের প্রচন্ড পছন্দের বই ছিল এটা। তো সদা হাস্যোজ্জ্বল জুনপেই ও কান্তাই এর দিনকাল ভালোই চলছিল…চলমান বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেও। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হতেই তাদের জীবন যায় চিরদিনের জন্য বদলে। জাপানের আত্মসমর্পণ ঘোষণার কিছুদিন পরেই হঠাত্‍ একদিন দ্বীপে একটা অপরিচিত যুদ্ধজাহাজ আসে। খেয়াল করে দেখা গেল , এটাতো প্রতিবেশী সোভিয়েত ইউনিয়নের জাহাজ। কিছু বুঝে উঠার আগেই স্রোতের মতো অসংখ্য সোভিয়েত সৈন্য ওদের দ্বীপে নেমে আসল। এবং দখল করে নিল দ্বীপটিকে বিনা বাঁধায়। অতঃপর শাখারিন প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত করে সোভিয়েত ইউনিয়নে যুক্ত করে দ্বীপটিকে। কিন্তু দ্বীপটিতে শুধু ভিনদেশী সৈন্য নয়, তাদের পরিবারেরাও আসে। তাদের মাঝে সোভিয়েত কমান্ডারের মেয়ে Tanya.
রাশিয়ান ও জাপানি। ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন জীবনাচরণ। কিন্তু একই মানবিক অনুভূতি। একে অপরের শত্রু হবার পরেও ভাব হয়ে যায় জুনপেই ও তানিয়ার মাঝে। গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে তাদের বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকেই ছোটো মানুষের মিষ্টি মধুর ভালোবাসা ভালো লাগায় রূপ নিতে থাকে এক পর্যায়ে। একদিকে দখলদার বহিরাগতদের রাজত্ব, অপরদিকে যুদ্ধে হারা দ্বীপবাসীদের দূঃখ দুর্দশা। আরেকদিকে আমাদের ছোট্ট জুনপেই কান্তাই ও তানিয়ার নির্ভেজাল বন্ধন। কোন দিকে যাবে তাদের জীবন? তাদের এই সম্পর্ক কতদূর গড়াবে? তাদের শেষ নিয়তি কী হবে?

উত্তর দিবে ঘটনার বহু বহু বছর পরে প্রৌঢ়ত্বে পৌছানো জুনপেই আর তার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। যারা ফিরে যাবে সেই অতীতের দিনগুলোতে। সেই আলো অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীতে নিয়ে যাবেন আমাদের। তাদের ভাষাতেই আমাদের কাছে তুলে ধরবেন সেই স্মৃতিগুলো।

ইতিহাস ও ফ্যান্টাসি-ফিকশন এর মিশেলে একটি চমত্‍কার, একটি অনবদ্য সৃষ্টি বলেই আমার বিশ্বাস এটি।
একটা আবেগপ্রবণ সুন্দর সময় কাটানোর জন্য অবশ্যয়ই দেখুন জাপানি এনিমে মুভি “Giovanni no Shima (Giovanni’s Island)”.

যারা Grave of the Fireflies মুভিটি দেখেছেন এবং পছন্দ করেছেন তাদের জন্য Highly recommended. যদিও GotF এর তুলনায় হয়ত একটু কম আবেগতাড়িত হবেন। তবে দেখে খুব ভালো লাগবে বলেই আশা করি।