Sakib’s Hidden Gems – Episode #23

আনিমে: Ima, Soko ni Iru Boku (Now and Then, Here and There)

জানরা: অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি, সাই-ফাই, মিলিটারি, ড্রামা
এপিসোড সংখ্যা: ১৩
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/160/Ima_Soko_ni_Iru_Boku
 
গল্পের নায়ক মাতসুতানি শুউ হাসিখুশি, প্রাণবন্ত, ও অত্যন্ত অপটিমিস্টিক একটি ছেলে। একদিন সে লালা রু নামের এক অদ্ভুত ও রহস্যময়ী মেয়ের দেখা পায়। এর কিছু পরেই এক তীব্র আলোর ঝলকানির সাথে শুউ নিজেকে আবিষ্কার করে লালা রু এর সাথে এক সম্পূর্ণ অচেনা জগতে। সে জানতে পারে যে সে পড়ে গিয়েছে এক পাষণ্ড একনায়ক রাজা হামদোর খপ্পরে, যে কিনা নিজের স্বার্থের জন্য লালা রুকে চায়। শুউ কী পারবে লালা রুকে বাঁচাতে? সে কী পারবে নিজের জগতে ফিরে যেতে?
 
গল্পের সেটিং অত একটা অসাধারণ না হলেও আনিমেটি অনেক দিক দিযেই অসাধারণ। এতে মানবমনের কুৎসিত দিক ও ভালো দিক দুটিই কঠোর বাস্তবতার মিশেলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মানবমনে এর বিচিত্রমুখী প্রভাব ও সবশেষে ভায়োলেন্সের খারাপ পরিণতিগুলি চোখের সামনে চলে এসেছে কোনরকম রাখঢাক ও কৃত্রিমতা ছাড়াই। আনিমেটি বেশ ডিপ্রেসিং হলেও অবশ্যই দেখার মতো।
 
গল্পের চরিত্রগুলিকে অনেক যত্নের সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিধায় ওদের আপন বোধ হয়। ওপেনিং আর এন্ডিং গানদুটি চমৎকার। ডিরেকশন ও ওএসটির জবাব নেই। ধীরলয়ে, যত্নের সাথে এক অত্যন্ত মানবিক গল্প বলেছে আনিমেটি।
 
ডিপ্রেসিং জিনিসে আপত্তি না থাকলে অবশ্যই অবশ্যই দেখবেন। এইরকম আনিমে পাওয়াই যায় না।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #22

আনিমে: Eikoku Koi Monogatari Emma (Emma: A Victorian Romance)

জানরা: রোমান্স, হিস্টোরিকাল, স্লাইস অফ লাইফ, সেইনেন
এপিসোড সংখ্যা: ১২ + ১২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/345/Eikoku_Koi_Monogatari_Emma
 
লন্ডন, ১৮৯৬ সাল। এক অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধা গভর্নেসের বাসায় মেইডের কাজ করছে এমা নামের এক তরুণী। মিতভাষী শান্ত সুন্দরী এমার পাণিপ্রার্থীর অভাব হয় না, কিন্তু সবাইকে সে কেন জানি মানা করে দেয়। গভর্নেসকে দেখা করতে একদিন এলো উনার যত্নে বড় হওয়া লন্ডনের এক উচ্চবিত্ত ঘরের ছেলে উইলিয়াম। এমাকে দেখেই তার ভালো লেগে গেল। ফুর্তিবাজ ও খোলামেলা উইলিয়ামকে এমারও বেশ ভালোই লাগলো। এরপর শুরু হলো মন দেওয়া-নেওয়ার পালা। কিন্তু সমাজের একেবারে দুই প্রান্তে থাকা জুটি কী পারবে এক হতে?
 
আনিমের পুরোটা জুড়ে একটা ধীরলয়, শান্ত সৌন্দর্য আছে। ওএসটি সুদিং, ওপেনিং ও এন্ডিং গানদুটিতে লিরিক্স নেই, কিন্তু বেশ প্রশান্তি আনে। আর্টস্টাইল সিমপ্লিস্টিক ও দেখতে ভালো লাগে। তৎকালীন ইউরোপের একটি বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে আনিমেটিতে। চরিত্রগুলি বেশ বাস্তবিক আচরণ করায় ওদের বেশ ভালো লেগে যায়, যোগস্থাপন করা যায় সহজেই। রোমান্টিক ডেভেলপমেন্টও বেশ বাস্তবসম্মত। তাই আমি রোমান্স জানরার বড় ভক্ত না হওয়া সত্ত্বেও এই আনিমেটি খুব উপভোগ করেছি।
 
বাস্তবতার ছোঁয়াসমৃদ্ধ ধীরলয়ের রোমান্টিক গল্পের সন্ধানে থাকলে এটি দেখবেন। মাঙ্গাটিও পড়তে পারেন। লেখিকা মরি কাওরু উনার আর্টের জন্য বিখ্যাত। ওনার Otoyomegatari মাঙ্গাটি পড়ে দেখার প্রস্তাব রইল।
 
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #21

আনিমে: Detroit Metal City

জানরা: কমেডি, মিউজিক, সেইনেন
এপিসোড সংখ্যা: ১২ (প্রতিটি এপিসোড ১৩ মিনিটের)
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/3702/Detroit_Metal_City
 
কলেজ গ্র্যাজুয়েট নেগিশি এক অতি সাধারণ শান্তশিষ্ট ছেলে। পড়াশুনার জন্য টোকিওতে আসা নেগিশির লক্ষ্য হল নিজের পায়ে দাঁড়ানো, আর বাপমায়ের মুখ উজ্বল করা। ওর আবার পপ মিউজিকের উপর খুব শখ। সে চায় নিজে গান গাইতে, আর নিজের ব্যান্ড খুলতে। কিন্তু আসল ঘটনা এত সহজ নয়। কারণ নেগিশি ঘটনাচক্রে এক ডেথ মেটাল ব্যান্ডের লীড ভোকালিস্ট হিসাবে যুক্ত হয়ে পড়ে! ডেথ মেটাল ব্যান্ডের অবস্থাও তথৈবচ – অদ্ভুত সব কস্টিউম পরে অত্যন্ত উচ্চস্বরে অশ্রাব্য লিরিক্সের গান চলে সারাক্ষণ। তাই বেচারা নেগিশির এখন দুই কূল সামলাতে হয়। বন্ধুবান্ধব আর তার love interest এর সামনে ভদ্র সাজতে হয়, আর স্টেজে উঠে ডেথ মেটাল গায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। কিন্তু বিধি বাদ সাধেন বারবার, আর হাস্যকর সব পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাকে।
মজাদার কিছু মুহূর্তের স্বাদ পেতে চাইলে এখনি শুরু করে দিন।
 
 
 
 
::::: বোনাস :::::
আনিমে: Dareka no Manazashi (Someone’s Gaze)
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/17121/Dareka_no_Manazashi
 
মাত্র ছয় মিনিটের এই শর্টফিল্মটি মাকোতো শিনকাই নির্মিত। ফিল্মটিতে পাবেন বাপ-মেয়ের মাঝে হাসি-কান্না মিশ্রিত কিছু পারিবারিক মুহূর্ত। আর তার সাথে টিপিকাল শিনকাই স্টাইলের আলট্রা-রিয়ালিস্টিক ভিজুয়াল তো থাকছেই।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #20

আনিমে: Capeta

জানরা: শৌনেন, মোটরস্পোর্টস
এপিসোড সংখ্যা: ৫২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/388/Capeta
 
গল্পের মূল চরিত্র দশ বছর বয়সের মা-মরা ছেলে তাইরা কাপেতা। বাবাকে নিয়ে থাকা কাপেতা এই কচি বয়সেই টুকটাক ঘরের কাজ করে বাবাকে সাহায্য করে। ওর বাবা কন্সট্রাকশন ওয়ার্কার, দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করায় কাপেতাকে খুব একটা সময় দিতে পারেন না। তাই তিনি চান ছেলেকে কিছু একটা উপহার দিয়ে ওর মুখে সত্যিকারের হাসি ফোটাতে। তো একদম পিচ্চি থাকতেই গাড়ি নিয়ে কাপেতার খুব আগ্রহ ছিল। তা লক্ষ্য করে ওর বাবা ওকে একটা পুরনো গো-কার্ট মেরামত করে মোটামুটি চালানোর উপযোগী করে উপহার দেন। সেটা পেয়ে কাপেতা অতি উৎসাহের সাথে চালানো শুরু করে। গল্পের শুরুটা এভাবেই, একদম রুট লেভেল থেকে। তারপরে কাপেতা ধীরে ধীরে প্রফেশনাল রেসিং ক্যারিয়ার গঠনে আরও বহুদূর এগিয়ে যায়। অবশেষে সে একজন রেসারের কাঙ্খিত স্বপ্ন – ফর্মুলা ওয়ান টুর্নামেন্ট পর্যন্ত যায়।
 
এই জানরার অন্যান্য কিছু রেসিং আনিমের থেকে আনিমে কাপেতাকে আলাদা রাখব এটার সিমপ্লিসিটির জন্য। এটা পূর্ণরূপে উপভোগ করতে আপনার গাড়ি সম্পর্কে অতটা জ্ঞান বা উৎসাহ না থাকলেও চলে। গল্পটি বেশ ইমোশনাল, কাপেতার সুখদুঃখের মুহূর্তগুলি আর ওর বেড়ে ওঠা দর্শকের মনে দাগ কাটে। আর একদম শুন্য থেকে একজন সফল রেসার হয়ে ওঠার ধাপগুলি এই আনিমেতে বেশ যত্নসহকারে দেখিয়েছে।
 
আনিমেটির ভিজুয়াল আর এনিমেশন মোটামুটি, রেসিং আনিমেগুলিতে এটাই কমন আসলে। তবে জমাটি গল্প আছে, দারুণ একটি রাইভালরি আছে, আর রেসিং-এর টানটান উত্তেজনা তো আছেই। তাই প্রথম কয়েকটি এপিসোড ট্রাই করেই দেখুন না।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #19

আনিমে: Bartender

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, সেইনেন, হিস্টোরিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ১১
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/1589/Bartender
 
গল্পের কর্ণধার সাসাকুরা রিউ হলো জাপানের গিনজা শহরে অবস্থিত “ইডেন হল” বারের বারটেন্ডার। গল্পের প্রতিটি এপিসোডে ওর কাছে কাস্টোমার আসে। তবে তারা শুধুই মদ খেতে আসে না – তারা চায় একটু মানসিক শান্তি আর জীবনের নানা ঝুটঝামেলা থেকে মুক্তি। অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, জ্ঞান, আর বিষয়বুদ্ধির অধিকারী রিউ প্রত্যেকবার ওর কাস্টোমারের মনের সুপ্ত ইচ্ছা বুঝতে পারে আর ওদের সমস্যার সমাধান দেয়। ব্যস, গল্প মোটামুটি এতটুকুই।
গল্পের প্রতি পর্বে বার ও বহুরকম ককটেলের ব্যাপারে নানা জিনিস জানানো হয়। আনিমেটার ভিজুয়াল খুব সিমপ্লিস্টিক হলেও ক্লাসিক ঘরানার ওএসটি আছে। ওপেনিং এন্ডিং গানগুলোও ভালো। প্রতি পর্বের শেষে লাইভ একশন পার্টে একজন বারটেন্ডার একটি ককটেল প্রস্তুত করেন।
একটি মনোমুগ্ধকর ও ধীরলয়ের বাস্তব শিক্ষামূলক আনিমের স্বাদ পেতে চাইলে এটি দেখতে পারেন। ভালো লাগলে মাঙ্গাটাও পড়ে দেখতে পারেন।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #18

আনিমে: Ashita no Joe (Tomorrow’s Joe)

জানরা: একশন, ড্রামা, স্পোর্টস, শৌনেন
এপিসোড সংখ্যা: ৭৯
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/2402/Ashita_no_Joe
 
গল্পের নায়ক ইয়াবুকি জো এক পথেঘাটে ঘুরে বেড়ানো যুবক। আপাতদৃষ্টিতে তাকে বখে যাওয়া অকর্মা ছেলে মনে হলেও ওর মধ্যে আছে বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করার ইস্পাতকঠিন মনোবল, আর অতীত নিয়ে পড়ে না থেকে নিজের ভবিষ্যৎ গঠনের তাগিদ। তাছাড়া ফাইটিং করার জন্য জো-এর আছে প্রকৃতিপ্রদত্ত প্রতিভা। কেউ এটা ধরতে না পারলেও এক বয়স্ক বক্সিং কোচ দাঙ্গে তানপের কাছে তা ধরা পড়ে। ব্যর্থতার ভারে জরাজীর্ণ দাঙ্গে জো-এর মধ্যে নিজের ভবিষ্যতকে দেখতে পায়। বহু অনুরোধ ও কষ্টের পরে সে জোকে বক্সিং শুরু করতে রাজি করায়। শুধু জাপান নয়, সারা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বক্সার হওয়ার লক্ষ্যে জো এগিয়ে যায়।
ট্রাডিশনাল স্পোর্টস আনিমের থেকে এটি অনেকাংশে আলাদা। কারণ এতে বক্সিংয়ের পাশাপাশি জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য জো-এর সংগ্রামকে ফোকাস করা হয়েছে। গল্পে অনেক ইমোশনাল ঘটনা ঘটছে, ক্রাইম ঘটছে, মানুষজন জেলে যাচ্ছে – এগুলা আসলে এখনকার স্পোর্টস আনিমেগুলোতে ঘটে না। আসলে ৭০ এর দশকের এই আনিমের সাথে এখনকার সময়ের বিস্তর তফাৎ।
গল্পে আপনি আরও পাবেন চোখে পানি এসে যাওয়ার মতো কষ্টের স্ট্রাগল, স্রেফ অসাধারণ একটি রাইভালরি, আর সর্বোপরি আনিমে ইতিহাসের অন্যতম ট্রাজিক ও শ্রেষ্ঠ সমাপ্তি।
গল্পের গতি বেশ ধীর। আর খুবই পুরনো আনিমে হওয়ার কারণে এখনকার মনকাড়া ভিজুয়াল ও আনিমেশন নেই এইটাতে। কিন্তু তাই বলে ক্যারাক্টারগুলো ও তাদের মুভমেন্ট দেখতে খারাপ লাগবে না আশা করি। আসলে আশিতা নো জো আপনি মূলত দেখবেন গল্পের জন্য, ভিজুয়ালের জন্য নয়।
এটার একটা সিকুএলও আছে (৪৭ পর্বের)। তবে আমার মতে সেটা প্রথম সিজনের গল্পের কোয়ালিটি ধরে রাখতে পারেনি বলে দেখা আবশ্যক নয়।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #17

আনিমে: Kamisama no Inai Nichiyoubi (Sunday Without God)

জানরা: ফ্যান্টাসি, অ্যাডভেঞ্চার, মিস্টেরি
এপিসোড সংখ্যা: ১২ + ১টি ওভিএ
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/16009/Kamisama_no_Inai_Nichiyoubi
 
গল্পটি লেখা হয়েছে খ্রিস্টধর্মের ক্রিয়েশন স্টোরিকে আধার করে। এই গল্পে ঈশ্বর এক সপ্তাহের প্রথম ছয়টি দিনে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করে সপ্তম দিনে অর্থাৎ রবিবারে কোন কারণে তাঁর সৃষ্টিজগতের প্রতি অনাসক্ত হয়ে পড়েন। যার মনের তীব্র ইচ্ছা যা ছিল তা পূরণ করে তিনি বিদায় গ্রহণ করেন। এখন মানুষের তীব্র ইচ্ছা ছিল অমর হওয়ার, তাই এই জগতে মানুষের প্রকৃত মৃত্যু নেই। দৈহিক মৃত্যুর পর সেখানকার মানুষজন অনেকটা জোম্বির মত হয়ে পড়ে। আবার অনন্ত জীবনকে ভয় পেয়ে অনেকে ঈশ্বরের কাছে তখন মৃত্যুকামনা করে। তাই দেখে তিনি Gravedigger সৃষ্টি করেন। কারও দৈহিক মৃত্যুর পর কোন Gravedigger তাকে কবর দিলে সে আর ফিরে আসবে না। এই অদ্ভুত জগৎ নিয়েই এই আনিমেটি।
গল্পের নায়িকা হলো আই আস্টিন নামের এক কিশোরী। তার মা ছিল Gravedigger, আর বাবা হলো হাম্পনি হামবার্ট নামের এক “অমর” মানুষ। ছবির মতো সুন্দর গ্রামে গ্রামবাসীদের সাথে থাকা আই ওর মৃত মায়ের মতই চায় এমন এক জগতের, যেখানে সবাই সুখী হতে পারবে। মা মারা যাওয়ার পর আই নিজের কাঁধে নেয় Gravedigger এর দায়িত্ব। কিন্তু হঠাৎ একদিন ওর বাবা তাদের গ্রামে হাজির হয়ে গ্রামবাসীদের মেরে ফেলে। কেন? জানতে হলে আনিমেটি দেখতে হবে।
আনিমেটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো এর অত্যন্ত সুন্দর, রঙিন ভিজুয়াল এবং সাউন্ডট্র্যাক। ফ্যান্টাসির জগৎটাকে মনোরমভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওপেনিং আর এন্ডিং গানদুটি ভাল। গল্প মোটেও খারাপ নয়। বেশ ডিপ্রেসিং এক জগতে বেশ কিছু ডিপ্রেসিং মুহূর্ত উপহার দিয়েছে এটি।
গল্পের বুননে কিছু ছোটখাট ত্রুটি রয়েছে, কাহিনী খুব একটা আগায়নি। তবুও বেশি এক্সপেক্টেশন নিয়ে না দেখে সুন্দরভাবে সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে আনিমেটি দেখলে ভালো লাগবে আশা করি।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #16

আনিমে: Fuujin Monogatari (Windy Tales)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, সুপারন্যাচারাল, স্কুল
এপিসোড সংখ্যা: ১৩
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/1524/Fuujin_Monogatari
 
জুনিয়র হাই স্কুলের ডিজিটাল ক্যামেরা ক্লাবের সদস্যা উয়েশিমা নাও-য়ের শখ হল সময় পেলেই স্কুলের ছাদে যেয়ে মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকা আর ছবি তোলা। তো একদিন সে ছাদে গিয়ে হঠাৎ একটি শূন্যে ভাসমান বিড়ালকে দেখতে পায়। বিড়ালটার ছবি তুলতে গিয়ে সে ছাদের কার্নিশ থেকে পড়ে যায়, আর তার স্কুলের একজন শিক্ষক (মাকিনো সেনসেই) অলৌকিকভাবে তাকে মাটিতে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। নাও জানতে পারে যে, বিড়ালটা আর ঐ শিক্ষক – দুই-ই বাতাসকে ম্যানিপুলেট করতে জানে। এর আগে কোন অলৌকিক কিছু না দেখা নাও ও ক্যামেরা ক্লাবের বাকি সদস্যা কাতাওকা মিকির জন্য এটা একটা চরম রোমাঞ্চকর জিনিস – যা ওদের সামনে একটা নতুন জগৎ খুলে দেয়। মাকিনো সেনসেই – এর কাছ থেকে ওরা বাতাসকে ম্যানিপুলেট করার বিদ্যা শিখতে শুরু করে। নাও, মিকি, ও জুন নামের একটি ছেলে নানা বিচিত্র (কখনও মজাদার, কখনও শিক্ষামূলক) অভিজ্ঞতা লাভ করতে থাকে।
আনিমেটি মূলত এপিসোডিক। প্রতিটা এপিসোডের থিম ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু সবগুলোই একসূত্রে গাঁথা, কারণ বাতাসের সাথে কোন না কোনভাবে সম্পর্ক থাকে। আর নাওয়ের স্কুলের মুহূর্তগুলিও বেশ মজাদার – টিচারেরা সবাই বন্ধুবৎসল।
আনিমেটি ঠিক যেন গতানুগতিক স্লাইস অফ লাইফ আনিমের মত না। এর ক্যারাক্টার ডিজাইন খুবই ইউনিক। ওদের অনেকসময় খড়কুটোর মত দেখতে মনে হয়, বাতাসের এক ঝটকায় উড়ে যাবে যেন। আরেকটি উল্লেখযোগ্য জিনিস হলো আনিমেটিতে অসাধারণ ওএসটির ব্যবহার – মিউজিক দ্বারা এতো সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা আমি খুব বেশি আনিমেতে দেখিনি।
ভিন্ন স্বাদের স্লাইস অফ লাইফ আনিমের খোঁজে থাকলে এই আনিমেটি দেখতে পারেন। একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে মজাও পাবেন, আর কিছুটা চিন্তার খোরাকও পাবেন আশা করি।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #15

আনিমে: Hikaru no Go (Hikaru’s Go)

জানরা: শৌনেন, গেইম
এপিসোড সংখ্যা: ৭৫ + ১টি মুভি
 
গল্পের নায়ক শিনদো হিকারু এলিমেন্টারি স্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্র। কিছুটা ডানপিটে স্বভাবের হিকারু একদিন পুরনো জিনিসের খোঁজে তার দাদামশাইয়ের স্টোররুমে গিয়ে আবিষ্কার করে একটি বেশ পুরনো “গো” খেলার বোর্ড (“গো” হল দুইজনে মিলে খেলার জন্য একটি বোর্ড গেম। প্রতি দানে একটি করে গুটি বসিয়ে আস্তে আস্তে বর্ডার তৈরি করে বোর্ডের এরিয়া দখল করতে হয়। প্রতিপক্ষের গুটি কাটার ব্যবস্থাও আছে।)। এখন ঘটনা হলো, এই বোর্ডটির সাথে জড়িত আছে জাপানি হেইসেই আমলের বিখ্যাত গো ইন্সট্রাক্টর ফুজিওয়ারা নো সাই এর অতৃপ্ত আত্মা। শুধু হিকারুই সাইকে চোখে দেখতে পায়। গো খেলার আশ মেটাতে সাই সঙ্গ নেয় হিকারুর। সাইকে নিয়ে গো সেন্টারে গিয়ে হিকারু ওরই সমবয়সী আকিরা নামের প্রতিভাবান ছেলের সাথে একদান খেলে। আসলে হিকারুর মাধ্যমে সাই-ই চাল দেয়। এরপর কিছুটা সাই-এর চাপাচাপিতে ও বাকিটা নিজের ইচ্ছাতেই হিকারু গো খেলা শিখতে শুরু করে। গো খেলার সৌন্দর্য আবিষ্কার করে হিকারু সাইকে ওর গো ইন্সট্রাক্টর হতে বলে। সে চায় আবার কোন একদিন আকিরার সাথে খেলতে, আর নিজের শক্তিতে ওকে হারাতে। এর জন্য সে এখনকার একজন প্রফেশনাল গো খেলোয়াড়ের মতই তার ক্যারিয়ার গঠন শুরু করে।
একটি স্পোর্টস আনিমেতে যা যা আশা করা যায়, আনিমেটি তার যথেষ্টই পূরণ করে। গল্পের ফ্লো যথেষ্ট ভাল, হিকারু আর আকিরার উপরই ফোকাস করেছে, আর খুব একটা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করেনি। প্রফেশনাল গো এর জগতটা বেশ ভালোভাবেই বুঝিয়েছে। এক এপিসোড শেষ করে পরেরটা শুরু করার ক্ষুধাটা সবসময়ই ছিল। আনিমের আর্ট, সাউন্ড ইত্যাদিতেও খারাপ লাগার মত কিছুই নেই। গো খেলাটা বেশি একটা না বুঝলেও সমস্যা নাই।
স্পোর্টস আনিমের ভক্তরা এটা ট্রাই করে দেখতে পারেন। আর পুরো গল্পের স্বাদ পেতে চাইলে মুভি পর্যন্ত দেখে মাঙ্গার ১৪৯ নং চ্যাপ্টার থেকে পড়া শুরু করবেন। মাঙ্গায় মোট ১৯৮টা চ্যাপ্টার আছে।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #14

আনিমে: Hai to Gensou no Grimgar (Grimgar of Ashes and Fantasies)

জানরা: ইসেকাই, একশন, অ্যাডভেঞ্চার, ড্রামা
এপিসোড সংখ্যা: ১২
 
গল্পের নায়ক হারুহিরো হঠাৎ করে নিজেকে এক অজানা অচেনা জগতে আবিষ্কার করে। সে সাথে পায় তারই মত একই ভাগ্য বরণ করা আরও কয়েকজনকে, আর পায় তার এই অবস্থায় আসার আগের জীবন সম্পর্কে ভাসা ভাসা কিছু স্মৃতি। এখন তাদের একমাত্র ধ্যানজ্ঞানের বিষয় হয়ে ওঠে কীভাবে এই নতুন জগতে নিজেকে টিকিয়ে রাখা যায়। ওরা নির্দেশনা পায় যে, আপাতত টিকে থাকার একমাত্র উপায় হল কয়েকজনের দল গঠন করে মন্সটার হান্টিং করা। এটাই ওদের জন্য টাকাপয়সা কামানোর একমাত্র উপায়। তো এটা শুনে হারুহিরো আরও কয়েকজনের সাথে দল গঠন করে শুরুতে গবলিন মারার সিদ্ধান্ত নেয়।
এইটুকু শুনে তেমন আকর্ষণীয় মনে না হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু আমার মতে এই আনিমেটি মূলত দুই দিক দিয়ে ট্রাডিশনাল ইসেকাই থেকে আলাদা। একটি হচ্ছে পেইন্টিং এর মতো দেখতে ব্যাকগ্রাউন্ডগুলি। ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ডের সাথে খুবই সুন্দর খাপ খেয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে ক্যারাক্টার গুলোও খুব সুন্দরভাবে মিশে যায়। মোটকথা আনিমেটি ভিজুয়ালের দিক থেকে অনবদ্য।
আরেকটি দিক হচ্ছে এর পেসিং, ক্যারাক্টার ডেভেলপমেন্ট, আর ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং-এর নিপুণতা। আজকাল অনেক সাধারণ ইসেকাইয়ে দেখা যায় যে, দর্শক ইসেকাই জগৎ সম্পর্কে খুব বেশি জানার আগেই নায়ক হুটহাট ফাইট শুরু করে দেয়, আর গল্পও বহুদুর এগিয়ে যায়। এই আনিমেটি কিন্তু ব্যতিক্রম। গল্পের প্রথম আর্কে খুব যত্নের সাথে ও সময় নিয়ে ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং করা হয়েছে, আর চরিত্রগুলির বৈশিষ্ট্য ও তাদের নিজেদের মধ্যে মিথষ্ক্রিয়াগুলি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অচেনা জগতের সাথে খাপ খাওয়াতে প্রথমদিকে হারুহিরোদের স্ট্রাগল বেশ বাস্তবসম্মতভাবেই তুলে ধরা হয়েছে। ১২ পর্বের ইসেকাই আনিমেতে এটা আনেক্সপেক্টেড ছিল, আর আমার খুব ভাল লেগেছে। তার পরের দুই আর্কে কিন্তু যথেষ্ট উত্তেজনাকর একশন আছে।
আনিমেটি কিন্তু শেষমেষ লাইট নভেলটার প্রোমোশনের জন্যেই বানানো। তাই গল্প শেষ করা হয়নি। এতে আপত্তি না থাকলে কিছুটা ভিন্ন স্বাদের এই ইসেকাই আনিমেটি দেখতে পারেন।