Yawara! A Fashionable Judo Girl [রিভিউ] — Nazmus Sakib

আনিমে – Yawara! A Fashionable Judo Girl
এপিসোড সংখ্যা – ১২৪ + ১টি মুভি
লেখক – নাওকি উরাসাওয়া
স্টুডিও – ম্যাডহাউজ
ম্যাল রেটিং – ৭.৫০
ব্যক্তিগত রেটিং –
 
ধীরলয়ের, রিল্যাক্সিং, ও ব্যতিক্রমী স্পোর্টস কমেডি ড্রামা। “মন্সটার”- খ্যাত উরাসাওয়ার অপেক্ষাকৃত হাল্কা স্বাদের ও হ্যাপি মুডের কাজ এটি। পুরোনো দিনের স্লো পেসড ড্রামা দেখতে চাইলে এটি হতে পারে আইডিয়াল।
 
সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
সময়কাল আশির দশকের শেষদিক। ভীষণ প্রতিভাধর এক জুডো খেলুড়ে পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের কিশোরী মেয়ে ইয়াওয়ারা। জুডোতে তার জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু জুডোতে মোটেও আগ্রহ নেই ওর। সে বরং চায় সাধারণ মেয়ের মতই জীবনটাকে উপভোগ করতে, যৌবনের স্বাদ নিতে, ট্রেন্ডি স্টাইলের কাপড়চোপড় পরতে। কিন্তু বাদ সাধেন ওর দাদু। এক সময়কার ডাকসাইটে জুডোকা ঐ দাদুর শাসনে ইয়াওয়ারাকে প্রতিনিয়ত জুডোর প্র্যাকটিস করতে হয়। তার দাদুর একটাই ইচ্ছা – ইয়াওয়ারা যেন বার্সেলোনা অলিম্পিকে স্বর্ণ জয় করে। শুরু হয় ইয়াওয়ারার স্বাভাবিক জীবন আর জুডোকা হিসেবে ক্যারিয়ারের মাঝে ব্যালেন্স করে পথচলা। পথে ওর অনেক বন্ধু জুটে, ভালোবাসার পাত্রও জুটে যায়। এভাবেই আমাদের চোখের সামনে সে বেড়ে উঠতে থাকে আর জীবনের নানা মোড় পেরোতে থাকে।
 
গল্পঃ ৭
ট্রাডিশনাল স্পোর্টস সিরিজগুলো থেকে এটি একটু আলাদা। এখানে মেইন ক্যারেক্টার ইতিমধ্যেই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হবার দাবি রাখে। কিন্তু সে কিছু মানসিক বাধার কারণে নিজের ফুল পটেনশিয়ালটা ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করে। উল্টাদিকে ওর সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেশ কিছু রাইভ্যালের আবির্ভাব ঘটে, যারা দিনরাত খেটে ওর লেভেলে যাবার চেষ্টা করতে থাকে। এর পাশাপাশি গল্পে ঐ সময়কার জীবনের নানা দিক ও আবেগ ফুটে উঠেছে নৈপুণ্যের সাথে।
 
চরিত্রায়ণঃ ৯
সিরিজের স্ট্রং পয়েন্ট আসলে এই জায়গাতেই। ইয়াওয়ারাকে ভালো না লেগে থাকাই যায় না, এমন করেই বাস্তবতার ছোঁয়া দিয়ে তাকে গড়ে তুলেছেন লেখক। প্রায় প্রতিটা পার্শ্বচরিত্রের আছে আলাদা বৈশিষ্ট্য, যা মনে গেঁথে যায়। বেশ দীর্ঘ এই সিরিজে মূল চরিত্র ছাড়াও এদের সবাইকে সময় নিয়ে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন লেখক। প্রায় কেউকেই ওয়ান ডিমেনশনাল বলা যাবে না।
 
আর্ট ও এনিমেশনঃ ৮
আনিমের সময়কার আর্ট ও এনিমেশন স্টাইল ফলো করা হয়েছে। উরাসাওয়ার চিরাচরিত বাস্তবধর্মী ডিজাইনের প্রয়োগ ঘটেছে এখানে, যা গল্পের সাথেও যুতসই হয়েছে। “A Fashionable Judo Girl ” তকমা পাওয়া ইয়াওয়ারাকে একেক এপিসোডে একেক সাজে দেখতে পাওয়া যায়। জুডো ম্যাচের ডাইন্যামিক মুভমেন্টগুলো যত্নের সাথে দেখানো হয়েছে।
 
সাউন্ডঃ ৭
তিনটার মতো আলাদা ওপেনিং ও এন্ডিং গান ব্যবহার হয়েছে। কয়েকটা বেশ মনে ধরার মতো। তাছাড়া পুরনো দিনের কিছু সুদিং মিউজিক শোনা যাবে এই আনিমেটিতে।
 
এঞ্জয়মেন্টঃ ৯
উরাসাওয়ার ও পুরনো দিনের আনিমে ভক্ত হিসেবে এটি সত্যিকার অর্থেই এঞ্জয় করেছি। মধ্যভাগে এসে খুব বেশি স্লো হয়ে যাওয়ায় ধৈর্যচ্যুতি যে একেবারেই হয়নি তা বলতে পারি না, তবে মোটের উপর এটি দেখে সময়টা দারুণ কেটেছে। দেখার পর আনিমেটাকে মিস করছি। আনিমেটি দেখতে গিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন রকম আবেগ অনুভব করেছি। চরিত্রগুলিকে খুব কাছের মনে হয়েছে।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #53

আনিমে: High Score Girl

জানরা: রোমান্স, গেইম, সেইনেন, কমেডি
এপিসোড সংখ্যা: ১২ + ৩ + ৯
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/21877/High_Score_Girl

সময়টা নব্বইয়ের দশক। গেমিং ইন্ডাস্ট্রি তরতরিয়ে বেড়ে উঠছে। পাড়ায় পাড়ায় গেম সেন্টার গড়ে উঠছে, যেখানে পয়সা খরচ করে কিশোর ও তরুণ বয়সীরা গেম খেলার স্বাদ নিচ্ছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে একই গেমের নানা নতুন সংস্করণ আসছে।

এমতাবস্থায় আমরা দেখতে পাই প্রাইমারি স্কুলপড়ুয়া আমাদের গল্পের নায়ক ইয়াগুচি-কে। লেখাপড়া বা বন্ধুদের সাথে মেলামেশার চাইতে গেম খেলার দিকেই তার আসক্তি বেশি। একমাত্র গেম খেলার জগতেই সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। একদিন সে গেম সেন্টারে তারই বয়সী এক মেয়ে প্লেয়ারের খোঁজ পায় ও ওর খেলার প্রতিভা দেখে খুবই আশ্চর্য হয়।

এই মেয়েটি হল গল্পের নায়িকা ওনো। সে খুব বড়লোক পরিবারের মেয়ে। পরিবারের অতিরিক্ত শাসন ও শৃঙ্খলে অতিষ্ঠ হয়ে সে মাঝেসাঝে গেম সেন্টারে গিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। শিশুকাল থেকেই তার সমবয়সীদের সাথে মেলামেশার সুযোগ না পাওয়ায় কারণেই হয়তো সে একেবারেই চুপচাপ থাকে। ইয়াগুচি আর ওনোর মাঝে একটা সুন্দর প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয় আর ওরা একে অপরকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে ওদের সম্পর্কের উত্থান-পতন-পরিবর্তন হতে থাকে।

এদিকে সময় এগিয়ে যায়। রঙ্গমঞ্চে হিদাকা নামের আরেকটি মেয়ের আবির্ভাব হয়। ইয়াগুচির প্রভাবে সেও গেমিং-এর জগতে প্রবেশ করে। এই তিনজনের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে কাহিনী এগিয়ে যায় আর ওরাও বড় হয়ে উঠতে থাকে।

গল্পের সবচাইতে আকর্ষণীয় দিক হলো এর চরিত্রগুলি। খুব যত্নের সাথে লেখক ওদের ফুটিয়ে তুলেছেন যাতে ওদের ব্যাকগ্রাউন্ড আর চিন্তাচেতনা আমরা বুঝতে পারি। গল্পের পার্শ্বচরিত্রগুলিও বেশ সুগঠিত আর গল্প এগিয়ে নেওয়ায় ও প্রয়োজনে হাস্যরস সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গল্পের নায়কের ক্যারেক্টার প্রোগ্রেশন আর গল্পের সমাপ্তি এনে দেয় অনির্বচনীয় তৃপ্তি।

গেমিং ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আগ্রহ থাকলে বা নস্টালজিক হতে চাইলে এই আনিমেটি দেখবেন। সত্যিকার অর্থেই একটি উৎকৃষ্ট মানের রোমকম দেখতে চাইলে এই আনিমেটি দেখবেন। গল্পের শুরুর কয় এপিসোড দেখতে অসুবিধা হতে পারে – এনিমেশন স্টাইল খাপছাড়া লাগতে পারে – তবুও পুরোটা শেষ করার মেন্টালিটি নিয়ে দেখুন। আশা করি আপনার পছন্দের তালিকায় স্থান পাবে।

 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #52

আনিমে: Hakumei to Mikochi (Hakumei and Mikochi)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, ফ্যান্টাসি
এপিসোড সংখ্যা: ১২ + ১
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/36094/Hakumei_to_Mikochi
 
কিউট পিচ্চি কিছু লিলিপুটদের নিয়ে এই আনিমের গল্প। গল্পের প্রধান চরিত্র হলো কাপড় সেলাই, রান্না ও অন্যান্য নানা কাজে পারদর্শী মিকোচি আর ছটফটে ও হাসিখুশি হাকুমেই নামের দুইটি মেয়ে। মাকানাতা নামের মফস্বল এলাকার একটি গাছের কোটরে তাদের বাড়ি। মজা ও আবেগ মিশানো ওদের নিত্যদিনের জীবন ও খুনসুটি নিয়েই গল্পের বুনন।
 
গল্পের প্রতিটি চরিত্রকেই পছন্দ হয়ে যায়। ওদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি সুন্দর করে ফুটে ওঠে আর ওদের একান্ত আপন বোধ হয়। এছাড়া প্রকৃতিঘেঁষা ওদের নৈমিত্তিক জীবনাচরণ দেখে দারুণ একটা প্রশান্তি কাজ করে। তার সাথে মনোরম ভিজুয়াল ও সাউন্ড একটি রিল্যাক্সিং অভিজ্ঞতা দেয়।
 
ধীরলয়ের ও প্রশান্তিকর একটি এপিসোডিক আনিমের খোঁজে থাকলে এটি বেছে নিতে পারেন। মাঝেমধ্যে এক দুইটি এপিসোড দেখলে তা আপনাদের কর্মক্লান্ত জীবনের ফাঁকে টনিক হিসেবে কাজ করবে আশা করছি।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #51

আনিমে: Shirokuma Cafe (Polar Bear Cafe)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, কমেডি, জোসেই
এপিসোড সংখ্যা: ৫০
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/12815/Shirokuma_Cafe
 
জাপানের কোন এক শহরতলীতে আছে “শিরোকুমা কাফে” নামের একটি চা-নাস্তা খাওয়ার রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টের মালিক কিন্তু কোন মানুষ নয়, বরং একটি শ্বেতভল্লুক! সকালে কাজে যাওয়ার আগে বা কাজ শেষে অবসাদ দূর করতে মানুষ আর জন্তু-জানোয়ার উভয়ের কাছেই এই ক্যাফেটি জনপ্রিয়। ক্যাফেতে কাজ করে সুন্দরী ও মিশুকে সাসাকো আপা। আর ক্যাফের নিয়মিত খদ্দেরের মধ্যে আছে বোকাসোকা কিউট পান্ডা এবং ব্যঙ্গে আর ব্যর্থ প্রেমে পারদর্শী পেঙ্গুইন। এছাড়াও আছে লামা, কচ্ছপ, স্লথ, আরো অনেক পশুপাখি। এছাড়া আছে শিরোকুমার বন্ধু গ্রিজলি ভালুক। এদের মজাদার দিনকাল নিয়েই এই স্লো ও রিল্যাক্সিং এনিমেটি বানানো হয়েছে।
 
আনিমের কমেডি অংশটুকু বিশেষ করে নজর কাড়ে। মুলত স্ল্যাপস্টিক কমেডি ঘরানার এই হাস্যরসে অনেক বাস্তব জীবনের ও বুদ্ধিদীপ্ত বিষয়ের মিশেল থাকায় বেশ ফ্রেশ আর উপভোগ্য হয়। ভয়েস কাস্টে বেশ কয়েকটি পরিচিত নাম খুঁজে পাবেন। এছাড়া আর্টস্টাইল ভালো, পর্ব শুরু বা শেষের গানগুলো উপভোগ্য, কিছু হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মুহূর্তও আছে। চরিত্রগুলিকে anthropomorphize করা হলেও ওদের জান্তব বৈশিষ্ট্যগুলি থেকে গিয়েছে। ইউনিক বৈশিষ্ট্যের চরিত্রগুলির দু-তিনটেকে পছন্দ হয়ে গেলে আপনি এটাতে হুকড হয়ে যাবেন আশা করি।
 
ধীরলয়ের কমেডির মুডে থাকলে এইটে ট্রাই করে দেখার প্রস্তাব রইল।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #50

আনিমে: Tenkuu no Escaflowne (The Vision of Escaflowne)

জানরা: এডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি, রোমান্স, মেকা, সাইকোলজিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/182/Tenkuu_no_Escaflowne
 
গল্পের নায়িকা হাইস্কুল পড়ুয়া ছাত্রী কানযাকি হিতোমি। সে তার ভালোবাসার পাত্রকে কনফেস করার মুহূর্তে জাদুবলে চলে যায় পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী Gaea নামক এক জগতে। সেখানে প্রকাশিত হয় তার এক আশ্চর্য ক্ষমতা – সে ভবিষ্যতে কী ঘটবে তার কিছু খন্ডচিত্র দেখতে পায় (premonition) আর তীব্র মনোনিবেশ করলে অজানা জিনিসের সন্ধান পায়। তার এই এবিলিটির কথা টের পেয়ে সাম্রাজ্যবাদী Zaibach এর রাজা ওকে নিয়ে যেতে চায়। এতে অলরেডি চলমান Fanel আর Zaibach রাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ আরো প্রকট আকার ধারণ করে। এরই মধ্যে হিতোমি পার্শ্ববর্তী Asturia রাজ্যের নাইট এলেনের প্রতি দুর্বলতা অনুভব করে। ফানেল আর তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলি কি পারবে Zaibach রাজার আগ্রাসনকে ঠেকাতে? হিতোমি কি পারবে ওর ভালোবাসার মানুষকে নিজের হৃদয়ের কথা জানাতে? ও কি পারবে নিজের জগতে ফিরে যেতে?
 
নব্বই-এর দশকের ট্র্যাডিশনাল আর্টস্টাইল এতে রক্ষিত হয়েছে। বেশ এস্থেটিক বলা যায়। চরিত্রগুলির বৈশিষ্ট্য বেশ নিপুনভাবে ফুটে উঠেছে। তাদের মনের অন্তর্দ্বন্দ্বগুলি তুলে ধরা হয়েছে বেশ বাস্তবিকভাবে। ক্লাসিক ঘরানার বৈচিত্র্যপূর্ণ ওএসটি আনিমেটিকে আরো উপভোগ্য করেছে। Mecha গুলোর ডিজাইন আর ফাইটগুলিও ভালোই বলা চলে। তবে সবচাইতে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে নায়িকার মানসিক বিকাশ ও তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি বেশ ম্যাচিওর ধাঁচের প্রেমের বহুভুজ।
 
যারা পুরোনো যুগের আনিমে পছন্দ করেন বা ফ্যান্টাসি জগতে ড্রামা খুঁজছেন তাদের হাই প্রায়োরিটি তালিকায় এটা জায়গা করে নেবার যোগ্যতা রাখে বলে আমি মনে করি।
 
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #49

আনিমে: Ristorante Paradiso

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, জোসেই, রোমান্স
এপিসোড সংখ্যা: ১১
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/5984/Ristorante_Paradiso
 
গল্পের মূল চরিত্র নিকোলেত্তা নামের প্রায় মধ্য বিশের ঘরের একটি মেয়ে। গল্পের শুরুতে সে ছোটবেলায় তাকে ছেড়ে চলে যাওয়া মায়ের খোঁজে ইতালির রোম নগরীতে আসে। ওর মা সেখানকার “রেস্তোরেন্তে দেল অরসো” নামের এক হোটেলের মালিকের সাথে ঘরকন্না করছে। ওর মার শখ অনুযায়ী ওখানকার প্রত্যেক স্টাফ হলো মধ্যবয়স্ক বা তারো বেশি বয়সের চশমা-আঁটা পুরুষ। ওর মা ওকে ওর বান্ধবির মেয়ে হিসাবে পরিচয় দেয় আর কিছুদিন সেখানে থেকে যেতে বলে। চাকুরির সন্ধানে থাকা নিকোলেত্তা ওর রান্নার আগ্রহের কারণে ওই হোটেলের শিক্ষানবিশ রাঁধুনি হিসেবে যোগদান করে। একই সাথে হোটেলের হেড ওয়েইটার
মাঝবয়েসি ডিভোর্সি ক্লাউডিওর উপর ওর দুর্বলতা এসে পড়ে। শুরু হয় নিকোলেত্তার এই নতুন শহরে ও একই সাথে ক্লাউডিওর হৃদয়ে নিজের জায়গা করে নেবার চেষ্টা।
 
আনিমের পুরোটা জুড়ে একটা শান্ত স্নিগ্ধতা আছে। কোন তাড়াহুড়ো নেই। নিকোলেত্তা আর ক্লাউডিওর উপরে বেশি ফোকাস থাকলেও আস্তে আস্তে অন্যান্য স্টাফ আর চরিত্রদেরও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ম্যাচিওর স্বাদের এই আনিমেতে কিছু জীবনধর্মী ইস্যু উঠে এসেছে, সবই মূলত নরনারীর সম্পর্ক সংক্রান্ত।
 
ভিজুয়াল একই সাথে সিমপ্লিস্টিক আর স্টাইলিশও। গল্পের মুডের সাথে বেশ মিলে গেছে। ক্লাসিক ঘরানার ওএসটি একে এনে দিয়েছে আভিজাত্য। আর গল্প এসে ঠেকেছে এক তৃপ্তিদায়ক পরিসমাপ্তিতে।
 
কিছুটা স্লো কিন্তু ম্যাচিওর স্বাদের বাস্তবিক কাহিনিওয়ালা কিছুর সন্ধানে থাকলে এটা চেখে দেখতে পারেন। কিছুটা ওপেন মাইন্ডেড হয়ে দেখতে পারলে ভালো লাগবে আশা করি। একই লেখিকার ACCA 13-ku আর House of Five Leaves দেখার প্রস্তাব রইল। এই দুটিকে নিয়েই আগে লিখেছি।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #48 [Movie Special]

Giovanni no Shima
https://myanimelist.net/anime/19115/Giovanni_no_Shima
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর জাপান এই কাহিনীর প্রেক্ষাপট। রাশিয়ার দখলকৃত শাখালিন (জাপানী ভাষায় কারাফুতো) দ্বীপে বসবাসকারী কিছু অভাগা জাপানী ও তাদের সাথে রাশিয়ানদের বিনিবনা নিয়ে এই গল্প এগিয়েছে। গল্পের কিছু রোমান্টিক দিক ফোরসড লাগলেও হিস্টরিকাল আনিমে ভক্তদের এটা দেখা উচিত।
 
Shikioriori
https://myanimelist.net/anime/37396/Shikioriori
 
কমিকস ওয়েভ স্টুডিওর চোখধাঁধানো ভিজুয়াল আর হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কয়েকটি ছোটগল্পের মিলনে এই মুভিটি। সবাই দেখবেন কিন্তু।
 
Omoide Poroporo
https://myanimelist.net/anime/1029/Omoide_Poroporo
 
আমার ফেভারিট মুভি এটা। এই মুভিতে স্টুডিও ঘিবলি তাদের চিরাচরিত হাসিখুশি ফ্যান্টাসি থেকে সরে এসে বেশ ম্যাচিওর থিমের, পুরোই বাস্তব ও জীবনধর্মী কিছু বানিয়ে দেখিয়েছে। গল্পের চরিত্রায়ন, ম্যাসেজ, আর এন্ডিংটা এক্কেবারে নিখুঁত। অবশ্যই অবশ্যই দেখবেন।
 
Kaijuu no Kodomo
https://myanimelist.net/anime/5655/Kaijuu_no_Kodomo
 
অত্যন্ত নান্দনিক ভিজুয়াল এইটার। মনে হবে যেন ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখছেন। গল্পটা একটু ডীপ। পুরো সৃষ্টিজগতের রহস্য আর মহাবিশ্বের সাথে মানুষের যোগটা কোথায় – এটাই এই আনিমের আলোচ্য বিষয়। এটা সবার ভালো লাগবেনা। তবে এই বর্ণনা পড়ে যদি দেখতে ইচ্ছে করে তো অবশ্যই দেখবেন।
 
Flanders no Inu
https://myanimelist.net/anime/2623/Flanders_no_Inu_Movie
 
গ্রেভ অফ ফায়ারফ্লাইজ দেখে যেরকম কষ্ট লাগে, এইটা দেখেও সেইরকম কষ্ট লাগে। ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের এক গরিব দুর্ভাগা বালক আর তার সাথী কুকুরের মর্মান্তিক জীবনকাহিনী এটা। দুঃখের কিছু দেখার মুড আসলে দেইখেন।
 
Steamboy
https://myanimelist.net/anime/565/Steamboy
 
স্টিমপাঙ্ক, ছিমছাম ভিজুয়াল, আর জুলভার্নের থিমওয়ালা সাইফাই ভালো লাগলে এইটাও খুব এঞ্জয় করবেন আপনারা। বেশ গতিময় ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হবে এটি দেখলে।
 
Kaguya-hime no Monogatari
https://myanimelist.net/anime/16664/Kaguya-hime_no_Monogatari
 
আর্টস্টাইলের দিক দিয়ে এটি একটি অনন্য ঘিবলি মুভি। শিশুতোষ রুপকথা এখানে প্রাণ পেয়েছে নান্দনিক স্কেচবুক ধাঁচের আর্টে। গল্পটাও খুব সুন্দর আর শিক্ষণীয়।
 
Pom Poko
https://myanimelist.net/anime/1030/Heisei_Tanuki_Gassen_Ponpoko
 
আমার মতে এটা ঘিবলি মুভির মধ্যে প্রচুর আন্ডাররেটেড। উপর থেকে দেখলে বাচ্চাদের জন্য উপযোগী ফ্যান্টাসি মনে হলেও এই গল্পের কিন্তু বেশ শিক্ষণীয় অন্তর্নিহিত ম্যাসেজ আছে। বেশ ইমোশনাল ও হৃদয়স্পর্শী এই মুভিটি সবাই দেখবেন।
 
Colorful
https://myanimelist.net/anime/8142/Colorful_Movie
 
বেশ জীবনধর্মী ও শিক্ষামুলক একটি গল্প। একটি কিশোর কী কারণে আত্মহত্যা করতে পারে আর কী করে একটি আপাত বিষাদময় জীবনকেও সুখী ও সুন্দর করে তোলা যায় – তা এই মুভিতে তুলে ধরা হয়েছে।
 
Kono Sekai no Katasumi ni
https://myanimelist.net/anime/15227/Kono_Sekai_no_Katasumi_ni
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে একটি জাপানী পবিবারের কাহিনী এটি। যুদ্ধের ভয়াবহ দিক ও তা থেকে মানুষের উঠে দাঁড়ানোর আরেকটি যুদ্ধ এই মুভিতে শক্তিশালী লেখনীর দ্বারা ফুটে উঠেছে কোন রাখঢাক ছাড়াই। আর্টও নয়নাভিরাম।
 

Odd Taxi [রিভিউ] — Nazmus Sakib

আনিমে – ODD TAXI
এপিসোড সংখ্যা – ১৩
ডিরেক্টর – বাকু কিনোশিতা
স্ক্রিপ্ট – কাযুইয়া কোনোমোতো
ম্যাল রেটিং – ৮.৫৯
ব্যক্তিগত রেটিং – ১০
 
এক কথায় একটা মডার্ন মাস্টারপিস। না দেখার কোনই কারণ নেই। মিস্টেরি জানরার সর্বকালের একটা রত্ন হয়ে থাকবে এইটা।
 
সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
গল্পের স্থান জাপানের টোকিও শহর। গল্পের নায়ক ওদোকাওয়া নামের এক মধ্যবয়স্ক ট্যাক্সি ড্রাইভার। তার স্বভাব হল কথা কম বলা আর বললেও সিনিকাল টোনে কথা বলা। গল্পের একেক পর্বে সে ভিন্ন ভিন্ন যাত্রীদের সার্ভিস দেয়। ঘটনাক্রমে সে এক হাইস্কুল ছাত্রীর কিডন্যাপিং এর ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই না, জাপানী মাফিয়ার দুই সদস্য ওর পিছনে হন্যে হয়ে লেগে যায়। ওদোকাওয়া কী পারবে নিজেকে বাঁচিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে?
 
গল্পঃ ১০
দারুণ প্লট। যেমন আনপ্রেডিক্টেবল, তেমনি মজাদার। অনেকগুলি আপাত বিচ্ছিন্ন প্লট পয়েন্ট এখানে প্যারালেলি চলেছে। প্রতি পর্বে দর্শকদের ছোটবড় ক্লু দেওয়া হয়েছে, যেন তারা ওদোকাওয়ার সাথে গল্পের মূল রহস্য সমাধানে অংশ নিতে পারে। এর সাথে দারুণ ডিরেকশন আর স্ক্রিপ্টরাইটিং-এর জোরে গল্পটিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আর গল্পের শেষ এপিসোডের টুইস্টটি একে নিয়ে গেছে মাস্টারপিসের উচ্চতায়।
 
 
চরিত্রায়ণঃ ১০
মূলত গল্প নির্ভর এই আনিমেতে যতটুকু চরিত্রায়ণ আশা করা যায়, তার সবই আছে। গল্পটির এপিসোড সংখ্যা কম হলেও অনেকগুলি চরিত্র আছে। তা সত্ত্বেও চরিত্রগুলির সাথে সহজেই নিজেকে কানেক্ট করা যায়, ওদের মনমানসিকতা বোঝা যায়, ওরা কখন কী করতে পারে তা আন্দাজ করা যায়। ওদেরকে বাস্তব চরিত্র বলেই মনে হয়। সাইড ক্যারেক্টারগুলোকেও যত্নের সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
 
আর্ট ও এনিমেশনঃ ৮
গল্পের সাথে তাল মিলিয়ে কিছুটা ইউনিক আর্টস্টাইল আর ক্যারেকটার ডিজাইন এখানে ব্যবহৃত হয়েছে। চোখ ধাঁধানো কিছু না হলেও তাতে এঞ্জয়মেন্টে কোনই ব্যত্যয় ঘটেনি।
 
সাউন্ডঃ ৯
ওপেনিং গান, এন্ডিং গান, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক – সব জায়গায় মূলত সিটি পপ থিমের আলোকে সাউন্ড ব্যবহার করা হয়েছে। টোকিও শহরে ঘটা থ্রিলিং গল্পের সাথে এক্কেবারে খাপে খাপ মিলে গেছে। গল্পের মুড অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সাউন্ড ইউজ করতে ডিরেক্টর কার্পণ্য করেননি।
 
এঞ্জয়মেন্টঃ ১০
মিস্টেরি জানরার ফ্যান হিসেবে এই আনিমেটা এই বছরের সেরা উপহার ছিল আমার কাছে। প্রতি সপ্তাহে এটার জন্য সবচাইতে বেশি মুখিয়ে থাকতাম। গল্পের চরিত্রগুলি, ওদোকাওয়ার সিনিকাল কথাবার্তা, গল্পে উঠে আসা এক্কেবারে বাস্তব ইস্যুগুলি, আর গল্পের শেষের সেই জব্বর টুইস্টটা আমার অনেকদিন মনে থাকবে।
 
দেরি না করে এইটা দেখে ফেলুন। বারবার দেখুন। কারণ খুব চাতুর্যের সাথে নানা ক্লু ছড়ানো আছে এই রত্নটির মধ্যে!
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #47

আনিমে: Fushigi no Umi no Nadia (Nadia: Secret of Blue Water)

জানরা: এডভেঞ্চার, সাইফাই, মিস্টেরি, রোমান্স, হিস্টোরিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ৩৯ (কিছু স্কিপ করার মত এপিসোড আছে)
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/1251/Fushigi_no_Umi_no_Nadia
 
ঘটনার শুরু ১৮৮৯ সালের ফ্রান্সে। Jean নামের একটি বিজ্ঞানমনস্ক কিশোর ছেলের সাথে হঠাত দেখা হয় সার্কাসের দলের এক কিশোরী নাদিয়া-র সাথে। নাদিয়ার কাছে আছে একটি রহস্যময় রত্ন “ব্লু ওয়াটার”, যার জন্যে তিনজন লোক ওকে ধাওয়া করছিল। ঘটনাচক্রে Jean ওর সদ্য আবিষ্কৃত প্লেনের সাহায্যে ওকে বাঁচায়। নিজের হারানো বাবার সন্ধানে থাকা Jean আর নিজের মাতৃভূমির সন্ধানে থাকা নাদিয়ার ভাগ্য একসাথে জড়িয়ে যায়। ওরা অংশ নেয় নটিলাস নামের এক অত্যাশ্চর্য ডুবোজাহাজের ক্রু হিসেবে পৃথিবীকে রক্ষার অভিযানে! কীভাবে হল এটা? জানতে আনিমেটি দেখবেন।
 
আনিমেটিতে সর্বত্র পাবেন পুরনো দিনের অডিওভিজুয়াল এস্থেটিক। গল্পের বেশিরভাগ অংশ জুড়েই কোন ফাঁকফোকর নেই। ছোটবড় সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছে। চরিত্রগুলি রিয়েলিস্টিক ও খুব যত্নের সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওদের সংলাপগুলি ও ইন্টারেকশন গুলি যেমন মজাদার, তেমনি রিলেটেবল।
 
গল্পটিতে Jules Verne এর কয়েকটি গল্পের ছায়া রয়েছে। এছাড়া বাইবেল আর Ancient Aliens থিওরির উল্লেখ আছে। সব মিলিয়ে খুব জমজমাট সাসপেন্স পাবেন। এভাঞ্জেলিওন খ্যাত হিদেয়াকি আন্নো এইটি পরিচালনা করেছেন। তাই সব বয়সের জন্যে উপযোগী এই আনিমেটি চেখেই দেখুন না।
 
[বিঃ দ্রঃ আনিমেটির এক পর্যায়ে একটি খারাপ মানের আর্ক আছে, যা না দেখাই ভালো। এই লিঙ্কে বিস্তারিত পাবেন:  https://myanimelist.net/forum/?topicid=402151#msg13345267]
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #46

আনিমে: Aoi Bungaku Series

জানরা: সেইনেন, ড্রামা, হিস্টোরিকাল, সাইকোলজিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ১২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/7193/Aoi_Bungaku_Series
 
“They are evergreen (Aoi), because they are masterpieces.”
 
বিখ্যাত ডিরেক্টর তেতসুরো আরাকির নেতৃত্বে তখনকার জমকালো ম্যাডহাউজ স্টুডিওর আনিমে এটি। কয়েকটি জাপানী ক্লাসিকাল উপন্যাসকে আধার করে আনিমেটি বানানো হয়েছে। একেকটি গল্প একেক স্বাদের, আর গল্পের সাথে সমন্বয় করে একেক রকম আর্টস্টাইল আর মিউজিক ব্যবহৃত হয়েছে। ভিজুয়াল, মিউজিক, ভয়েস, ক্যারাকটার ডিজাইন (ডিজাইনার টিমে ব্লিচের মাঙ্গাকাও ছিলেন) – আনিমেটির সর্বত্র আপনি পাবেন যত্নের ছোঁয়া।
 
আনিমেটিতে নিম্নোক্ত ছয়টি বই এডাপ্ট করা হয়েছেঃ
১। দাজাই ওসামু রচিত No Longer Human
২। সাকাগুচি আঙ্গো রচিত In the Forest, under the Cherry Blossoms in Full Bloom
৩। নাতসুমে সৌসেকি রচিত Kokoro
৪। দাজাই ওসামু রচিত Run, Melos!
৫। আকুতাগাওয়া রিউনোস্কে রচিত The Spider’s Thread
৬। আকুতাগাওয়া রিউনোস্কে রচিত Hell Screen
 
প্রতিটি গল্পই আপনাকে ভাবাবে। ম্যাচিওর গল্পের ভক্তরা অবশ্যই এটি দেখবেন। আর দেখার পরে পূর্ণ রসাস্বাদনের জন্য আসল বইগুলি পড়ে দেখতে পারেন। প্রথম পর্বে ন্যারেটরের উক্তিটি দিয়ে শেষ করছি।
 
“In this country, there are literary works said to be masterpieces. But aren’t there many people who feel like they don’t relate to these works? To the younger generation, these are just old stories. To the older generation, these are stories they were forced to read long ago. If you were to pick up one of them once again, you’d be in for a surprise. Seeing the main characters worry, grieve and act reminds us of ourselves. Furthermore, they remind us that our days are filled with pain and life. Something we tend to forget about.”
 
তথ্যসুত্রঃ https://thevaultpublication.com/2014/12/13/masterpieces-hence-evergreen-aoi-bungaku-review/