Weathering With You/ Tenki no Ko [মুভি রিভিউ] — Rumman Raihan

 

অ্যানিমে: WEATHERING WITH YOU / Tenki no Ko / 天気の子

টাইপ: মুভি
জনরা: সুপারন্যাচারাল, ড্রামা, ফ্যান্টাসি, রোম্যান্স, স্লাইস অফ লাইফ
দৈর্ঘ্য: ১ ঘন্টা ৫৪ মিনিট
স্টুডিও: CoMix Wave
গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায়: মাকোতো শিনকাই
সময়কাল: ২০১৯

এই রিভিউটি স্পয়লারবিহীন। তবে নিচে আলোচনা দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে। স্পয়লারযুক্ত ও স্পয়লারমুক্ত আলোচনা মূল রিভিউয়ের পরে।

 
স্পয়লার বিহীন রিভিউঃ
 
১৭ জানুয়ারি তারিখে লন্ডনের প্রথম পাবলিক স্ক্রিনিং-এ দেখতে গিয়েছিলাম মাকোতো শিনকাই এর অ্যানিমে ফিল্ম – “Wheathering with you”. একই সিনেমায় কয়েকবছর আগেই দেখেছিলাম Your Name. সেটার রিভিউ পাওয়া যাবে এখানে
 
কাহিনী সংক্ষেপঃ
টোকিয়োতে বৃষ্টি হচ্ছে খুব, অনেকদিন ধরেই। অন্তহীন সেই বৃষ্টির মাঝে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘর পালানো এক ছেলে, হোদাকা । ক্ষুধা আর ভয় নিয়ে অচেনা এই শহরে সে একটা কাজের সন্ধান করছে।
এই শহরেই নাকি একটা মেয়ে আছে। যে কিনা প্রার্থনা করে বৃষ্টি থামিয়ে দিতে পারে। কালো মেঘ সব দূর করে দিতে পারে। অবশ্যই সেটা অলৌকিক কল্পকাহিনী আর রহস্য ম্যাগাজিনের গল্পের কথা।
তবে একদিন হোদাকা সেই মেয়েটার দেখা পেল। হিনা। রৌদ্র-বালিকা হিনা এসে হোকাদার জীবনে এনে দিল একফালি রোদ্দুর।
পারবে কি তারা একসাথে তাদের জীবনের ঝড়ঝঞ্জা আর বাঁধা পেরিয়ে যেতে?
 
কেমন লেগেছে:
অভিভূত হয়েছি।
মাকোতো শিঙ্কাইয়ের অ্যানিমের প্রোডাকশন শুরু হবার আগে লেখা ওয়েদারিং উইথ ইউ উপন্যাসের শেষে লেখকের ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন যে তিনি এমন গল্পের ফিল্ম তৈরি করতে চান যা কিনা খাঁটি অনুভূতির কথা বলে। হলিউডের বানানো আর্টিফিশিয়াল “লাভ” স্টোরি নয়, আবার সামার ব্লকবাস্টারের গৎবাঁধা মোরালিটির কোনো প্রোডাক্ট নয়। ইয়োর নেইম মুভিটাকে যখন পশ্চিমারা আকাশে তুলে ধরলো আবার কেউ কেউ গালমন্দ করতে লাগলো এর অগভীরতা নিয়ে, তখন শিনকাই উঠে পড়ে লাগলেন তার মনের মত একটা গল্পের উপহার দিতে। যেখানে ইয়োর নেইমে অনুপস্থিত আবেগ আর পশ্চিমাদের চিরচরিত নীতিবোধের তোয়াক্কা না করা গল্প। যেমনটা তিনি এর আগেও তৈরি করে এসেছেন।
এবং সত্যিই তাই। এই ফিল্ম দেখতে এসেছিল অনেক বাবা-মা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে এবং ভুল করেছেন। কারণ অনেক অংশে তাদের সংকোচের আওয়াজ শুনেছি।
আবার এই মুভিতেই কিছু মুহূর্তে শুনেছি থিয়েটারে কে জানি কাঁদছে।
আমার আর আমার বন্ধুর চোখেও পানি এসে গিয়েছিল…
 
RADWIMPS এর অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক dolby atmos সিস্টেমে শুনে আর বড় স্ক্রিনে কমিকস ওয়েভ স্টুডিয়োর সিগ্নেচার সিটিস্কেপ দৃশ্যগুলোর নিখুঁত ও জীবন্ত সব ডিটেইলস্‌ দেখে যে কেউ বিহ্বল বা অভিভূত হয়ে যাবে। কিন্তু তার উপর হোকাদা আর হিনা আর তাদের চারপাশের রঙিন সব চরিত্রগুলোর প্রতি আবেগ কাজ না করলে এই অ্যানিমেটা এত উপভোগ করতাম না।
 
সিনেমা থেকে বের হয়েই আবার দেখতে ইচ্ছে করেছে। তেনকি নো কো
~~ হাওয়ার টানে তোমার সনে~~

স্পয়লারযুক্ত আলোচনা:

মুভিটা দেখার পরে এই অংশটি পরবেন, ঠিক আছে?  স্পয়লার না চাইলে শেষের অংশে চলে যান।
স্পয়লার অ্যালার্ট
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
 
কোনো বাসার ছাদে লাল তোরী গেইট সহ শ্রাইন দেখলে ভুলেও সেখানে গিয়ে দেখে আসার ইচ্ছে পোষণ করবেন না। এরিয়ে যাবেন। যেভাবে নিচের মেজর স্পয়লার এরিয়ে যাবেন, সেভাবে।
 
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
 
তাকি আর মিতসুহাকে দেখে আমি আর আমার বন্ধু দুজন হা করে একে অপরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
(বলেছিলাম না এখানে স্পয়লার দিবো?!!)
এমন ক্যামিও আশা করিনি। যদিও ইয়োর নেইম দেখার সময়ও গার্ডেন অফ ওয়ার্ডসের ইউকারিকে দেখা যায়। তাই বলে ইয়োর নেইমের তাকি যে হোদাকাকে রিলেশনশিপ অ্যাডভাইসও দিবে তা কি আর আশা করা যায়? (হেহে no pun intended হেহে)
মুভিটা আবার দেখতে হবে, কেননা ইয়োর নেইমের অন্যান্য সাউড ক্যারেক্টারও নাকি ক্যামিও হিসেবে দেখা গিয়েছে, তাদেরকে ধরতে পারিনি।
ফ্যান থিওরি হচ্ছে, মুভির শেষের অংশে যখন তুষার পড়ছিল, ঠিক সেই সময়েই মিতসুহা আর তাকির ইয়োর নেইম-এ স্টেয়ারকেইসে দেখা হয়। কি জানি!
যাইহোক…
হোদাকা যখন হিনাকে নিয়ে প্রথম দৌড়ে পালানোর সময় পিস্তল টা বের করলো, তখন দেখে শ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল! একদম ইন্টেন্স একটা মোমেন্ট!
 
মুভিতে ড্রাগনটা দেখে স্পিরিটেড অ্যাওয়ের কথা মনে পড়েছিল। এমনকি একজন তো স্পিরিটেড অ্যাওয়ে হয়ে যাওয়ার রেফারেন্স ও দেয়। আর মুভির শেষে ইভাঙ্গেলিওনের টোকিয়োর কথা মাথায় এসে গেল। একটা চরিত্রের নামও তো ছিল আসকা। মনে হয় ইন্টেনশনাল রেফারেন্স। কেননা ইভাঙ্গেলিওনের মত এই মুভিটাও একটা অ্যান্টি-সেকাই-কেই (look up sekai-kei if you don’t know what it is)।
 
বেড়ালটা ছিল এত্ত সুন্দর দেখতে! কিন্তু টাইমস্কিপ হবার পরে ইয়া মোটকা হয়ে গেল। xD হাসতে হাসতে শেষ!
কেইস্কে সুগা বেড়ালটাকে কি খাইয়েছে কে জানে!
 
হোটেলের রাতটাতে যখন হিনা ষদচ্ছ/ হয়ে যেতে থাকে আর হোদাকা কাঁদতে শুরু করে, তখন আসলেই চোখে পানি এসে গিয়েছিল। অনেক ইমোশনাল একটা মুহুর্ত। আবার যখন cumulonimbus মেঘের উপর থেকে নিচে পৃথিবীতে ফিরে আসতে থাকে তখন একদম গুসবাম্পস এসে গেছে। আনন্দে চোখে পানি এসে গেছে আবার।
 
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️

স্পয়লারমুক্ত আলোচনা:

তবে এইরকম চমৎকার অ্যানিমের অত্যন্ত আনফেয়ার রিভিউ দেখা যাচ্ছে। যারা বলছে যে এই অ্যানিমেটা ইয়োর নেইমের কপি পেস্ট, তারা কি মাকোতো শিনকাই দূরে থাক, মামুরো ওশিও বাদ থাক, স্টুডিও জিব্লিরও কি কোনো অ্যানিমে দেখে নাই? ফিল্ম স্ট্রাকচার এক রেখে একটা ভিন্ন গল্প যে বলা যায় সেটা এরা কি জানে না? জেনে থাকলে এমন বাজে রিভিউ কেন?
 
এর কারণ হচ্ছে ঐযে বলেছি না মাকোতো শিনকার তার হলিউডে আর মেইন্সট্রিম অ্যানিমের মোরালিটির বাইরে গেছেন। তাই এই মুভি ভালো লেগেছে এটা অনেকেই মানতে পারছে না। প্রোস্টিটিউশন, গান-ভায়োলেন্স এর উপর কমেন্ট্রি, গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ আর টিনেইজ নন-ফিযিকাল, ইনোসেন্ট লাভ – এসব বিষয় পশ্চিমের অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না। ওয়েস্টার্ন পলিটিক্যাল এই এনভায়রনমেন্টে তাই এই মুভির তেমন প্রচারও করা হয় নি যেমনটি হয়েছিল ইয়োর নেইমের সময়। জি-কিডসের প্রচারণা একদম নগণ্য, কেননা আমি মুভিটার ট্রেইলার পর্যন্ত দেখিনি মুভিটা দেখে আসার আগে।
 
জাপানে কিন্তু এর জনপ্রিয়তা কোনোআংশে কম ছিল না। ৬ মাস ধরে সিনেমাতে চলেছে। এখানেও স্ক্রিনিং শিডিউল এক্সটেন্ড করা হয়েছে, কারণ প্রত্যেক সাবটাইটেল্ড স্ক্রিনিং দেখা যাচ্ছে ফুল হাউজ।
তাই অনলাইন রিভিউ বা অ্যানিটিউবারদের কথা না শুনে দেখে এই অ্যানিমেটা নিজে যাচাই করার চেষ্টা করবেন।

 

আমার রেটিংঃ ১০/১০

Comments