Sakib’s Hidden Gems – Episode #49

আনিমে: Ristorante Paradiso

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, জোসেই, রোমান্স
এপিসোড সংখ্যা: ১১
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/5984/Ristorante_Paradiso
 
গল্পের মূল চরিত্র নিকোলেত্তা নামের প্রায় মধ্য বিশের ঘরের একটি মেয়ে। গল্পের শুরুতে সে ছোটবেলায় তাকে ছেড়ে চলে যাওয়া মায়ের খোঁজে ইতালির রোম নগরীতে আসে। ওর মা সেখানকার “রেস্তোরেন্তে দেল অরসো” নামের এক হোটেলের মালিকের সাথে ঘরকন্না করছে। ওর মার শখ অনুযায়ী ওখানকার প্রত্যেক স্টাফ হলো মধ্যবয়স্ক বা তারো বেশি বয়সের চশমা-আঁটা পুরুষ। ওর মা ওকে ওর বান্ধবির মেয়ে হিসাবে পরিচয় দেয় আর কিছুদিন সেখানে থেকে যেতে বলে। চাকুরির সন্ধানে থাকা নিকোলেত্তা ওর রান্নার আগ্রহের কারণে ওই হোটেলের শিক্ষানবিশ রাঁধুনি হিসেবে যোগদান করে। একই সাথে হোটেলের হেড ওয়েইটার
মাঝবয়েসি ডিভোর্সি ক্লাউডিওর উপর ওর দুর্বলতা এসে পড়ে। শুরু হয় নিকোলেত্তার এই নতুন শহরে ও একই সাথে ক্লাউডিওর হৃদয়ে নিজের জায়গা করে নেবার চেষ্টা।
 
আনিমের পুরোটা জুড়ে একটা শান্ত স্নিগ্ধতা আছে। কোন তাড়াহুড়ো নেই। নিকোলেত্তা আর ক্লাউডিওর উপরে বেশি ফোকাস থাকলেও আস্তে আস্তে অন্যান্য স্টাফ আর চরিত্রদেরও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ম্যাচিওর স্বাদের এই আনিমেতে কিছু জীবনধর্মী ইস্যু উঠে এসেছে, সবই মূলত নরনারীর সম্পর্ক সংক্রান্ত।
 
ভিজুয়াল একই সাথে সিমপ্লিস্টিক আর স্টাইলিশও। গল্পের মুডের সাথে বেশ মিলে গেছে। ক্লাসিক ঘরানার ওএসটি একে এনে দিয়েছে আভিজাত্য। আর গল্প এসে ঠেকেছে এক তৃপ্তিদায়ক পরিসমাপ্তিতে।
 
কিছুটা স্লো কিন্তু ম্যাচিওর স্বাদের বাস্তবিক কাহিনিওয়ালা কিছুর সন্ধানে থাকলে এটা চেখে দেখতে পারেন। কিছুটা ওপেন মাইন্ডেড হয়ে দেখতে পারলে ভালো লাগবে আশা করি। একই লেখিকার ACCA 13-ku আর House of Five Leaves দেখার প্রস্তাব রইল। এই দুটিকে নিয়েই আগে লিখেছি।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #48 [Movie Special]

Giovanni no Shima
https://myanimelist.net/anime/19115/Giovanni_no_Shima
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর জাপান এই কাহিনীর প্রেক্ষাপট। রাশিয়ার দখলকৃত শাখালিন (জাপানী ভাষায় কারাফুতো) দ্বীপে বসবাসকারী কিছু অভাগা জাপানী ও তাদের সাথে রাশিয়ানদের বিনিবনা নিয়ে এই গল্প এগিয়েছে। গল্পের কিছু রোমান্টিক দিক ফোরসড লাগলেও হিস্টরিকাল আনিমে ভক্তদের এটা দেখা উচিত।
 
Shikioriori
https://myanimelist.net/anime/37396/Shikioriori
 
কমিকস ওয়েভ স্টুডিওর চোখধাঁধানো ভিজুয়াল আর হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কয়েকটি ছোটগল্পের মিলনে এই মুভিটি। সবাই দেখবেন কিন্তু।
 
Omoide Poroporo
https://myanimelist.net/anime/1029/Omoide_Poroporo
 
আমার ফেভারিট মুভি এটা। এই মুভিতে স্টুডিও ঘিবলি তাদের চিরাচরিত হাসিখুশি ফ্যান্টাসি থেকে সরে এসে বেশ ম্যাচিওর থিমের, পুরোই বাস্তব ও জীবনধর্মী কিছু বানিয়ে দেখিয়েছে। গল্পের চরিত্রায়ন, ম্যাসেজ, আর এন্ডিংটা এক্কেবারে নিখুঁত। অবশ্যই অবশ্যই দেখবেন।
 
Kaijuu no Kodomo
https://myanimelist.net/anime/5655/Kaijuu_no_Kodomo
 
অত্যন্ত নান্দনিক ভিজুয়াল এইটার। মনে হবে যেন ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখছেন। গল্পটা একটু ডীপ। পুরো সৃষ্টিজগতের রহস্য আর মহাবিশ্বের সাথে মানুষের যোগটা কোথায় – এটাই এই আনিমের আলোচ্য বিষয়। এটা সবার ভালো লাগবেনা। তবে এই বর্ণনা পড়ে যদি দেখতে ইচ্ছে করে তো অবশ্যই দেখবেন।
 
Flanders no Inu
https://myanimelist.net/anime/2623/Flanders_no_Inu_Movie
 
গ্রেভ অফ ফায়ারফ্লাইজ দেখে যেরকম কষ্ট লাগে, এইটা দেখেও সেইরকম কষ্ট লাগে। ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের এক গরিব দুর্ভাগা বালক আর তার সাথী কুকুরের মর্মান্তিক জীবনকাহিনী এটা। দুঃখের কিছু দেখার মুড আসলে দেইখেন।
 
Steamboy
https://myanimelist.net/anime/565/Steamboy
 
স্টিমপাঙ্ক, ছিমছাম ভিজুয়াল, আর জুলভার্নের থিমওয়ালা সাইফাই ভালো লাগলে এইটাও খুব এঞ্জয় করবেন আপনারা। বেশ গতিময় ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হবে এটি দেখলে।
 
Kaguya-hime no Monogatari
https://myanimelist.net/anime/16664/Kaguya-hime_no_Monogatari
 
আর্টস্টাইলের দিক দিয়ে এটি একটি অনন্য ঘিবলি মুভি। শিশুতোষ রুপকথা এখানে প্রাণ পেয়েছে নান্দনিক স্কেচবুক ধাঁচের আর্টে। গল্পটাও খুব সুন্দর আর শিক্ষণীয়।
 
Pom Poko
https://myanimelist.net/anime/1030/Heisei_Tanuki_Gassen_Ponpoko
 
আমার মতে এটা ঘিবলি মুভির মধ্যে প্রচুর আন্ডাররেটেড। উপর থেকে দেখলে বাচ্চাদের জন্য উপযোগী ফ্যান্টাসি মনে হলেও এই গল্পের কিন্তু বেশ শিক্ষণীয় অন্তর্নিহিত ম্যাসেজ আছে। বেশ ইমোশনাল ও হৃদয়স্পর্শী এই মুভিটি সবাই দেখবেন।
 
Colorful
https://myanimelist.net/anime/8142/Colorful_Movie
 
বেশ জীবনধর্মী ও শিক্ষামুলক একটি গল্প। একটি কিশোর কী কারণে আত্মহত্যা করতে পারে আর কী করে একটি আপাত বিষাদময় জীবনকেও সুখী ও সুন্দর করে তোলা যায় – তা এই মুভিতে তুলে ধরা হয়েছে।
 
Kono Sekai no Katasumi ni
https://myanimelist.net/anime/15227/Kono_Sekai_no_Katasumi_ni
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে একটি জাপানী পবিবারের কাহিনী এটি। যুদ্ধের ভয়াবহ দিক ও তা থেকে মানুষের উঠে দাঁড়ানোর আরেকটি যুদ্ধ এই মুভিতে শক্তিশালী লেখনীর দ্বারা ফুটে উঠেছে কোন রাখঢাক ছাড়াই। আর্টও নয়নাভিরাম।
 

Maquia: When the Promised Flower Blooms [মুভি রিভিউ] — Md. Anik Hossain

Iorph – এক পৌরাণিক জাতিবিশেষ। অন্য মানুষদের থেকে যারা একটুখানি আলাদা। স্বাভাবিকের থেকে যারা বাঁচে অনেক বেশি বছর। তাদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিও তাই ঘটে খুবই ধীরে ধীরে। ফলে শত শত বছর যাবত্ তারা যেন ধরে রাখে নিজেদের তারুণ্য। মানব সভ্যতা থেকে দূরে পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা প্রত্যন্ত কিন্তু অপার সৌন্দর্যে ঘেরা ছোট্ট একটা গ্রামে তাদের বসবাস। চিরযৌবনা এ জাতির জীবন আবর্তিত হয় “হিবিওল” নামের তাঁতের এক বিশেষ মিহি কাপড় বুনে। তাঁতের বুননে বুননে তাদের ইতিহাস, ধর্মবিশ্বাস ,সংস্কৃতি ফুটে উঠে। নিজেদের মনের ভাষা পর্যন্ত এই কাপড়ের মাধ্যমে আদান-প্রদান করার কৌশল রপ্ত করেছে তারা। আর তাদের ই একজন Maquia. লাজুক, একাকী এতিম কিশোরী মেয়ে। গ্রাম প্রধানের আশ্রয়ে থাকে আর তার ছোটো-খাটো কাজে সাহায্য করে। একাকীত্বে ভোগা মাকিয়া দেখতে চায় এই জগত্টাকে, অনুভব করতে চায় অকৃত্রিম ভালো লাগার। কিন্তু গ্রাম প্রধান তাকে নিষেধ করে বাইরের জগতের মানুষের সাথে মিশতে, তাদের ভালোবাসতে। কারণ সেই মানুষগুলো মরে যাবে দীর্ঘজীবি Iorph দের তুলনায় অনেক আগেই। তখন প্রিয় মানুষগুলো হারিয়ে যাবে এক এক করে। অথচ Iorph রা থেকে যাবে প্রায় অনন্ত সময় ধরে। হারানোর এই ব্যাপারটি শুধু কষ্টই দিয়ে যাবে… সৃষ্টিকর্তা যেন Iorph দের এভাবেই তৈরি করেছে।
 
মাকিয়া ও অন্যান্য Iorph রা সুখে শান্তিতেই বাস করছিল। ছবির মতো সুন্দর জনপদ আর আছে অপূর্ব কাপড়। যার কদর চারিপাশজুড়ে। কাপড় বিক্রি করেই মিটে যায় পেশা নির্বাহের কাজ। কিন্তু কোনো সুখ চিরস্থায়ী নয়। Iorph দের এই চিরযৌবনের দিকে নজর পড়ে Mezarte রাজ্যের রাজার। সেই কুনজরে এক রাতে পুরো Iorph দের গ্রামে নেমে আসে ধ্বংসলীলা। অধিকাংশ Iorph মারা যায় ড্রাগনের পিঠে চরে আসা রাজকীয় বাহিনীর হাতে, নয়ত ধরে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীতে। কিন্তু কোনো এক ভাবেই হোক , মাকিয়া সেই নারকীয় অবস্থা থেকে বেঁচে যায় আর এক বনে এসে উপস্থিত হয়। কিন্তু পুরো গ্রামকে হারিয়ে ভেঙ্গে পড়ে মাকিয়া….. আর উঁচু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার জন্য উদ্যত হয়, ঠিক তখন ই বনের অদূরে ভেসে ওঠে এক বাচ্চার কান্নার আওয়াজ। হতোদ্যম মাকিয়া এগিয়ে যায় কান্নার উত্সের দিকে, আর এক তছনছ করা বসতিতে খুঁজে পায় একটি শিশুকে… মৃত মা শেষপর্যন্ত তার জীবন দিয়ে রক্ষা করেছে কলিজার টুকরো ঐ বাচ্চা শিশুটিকে। প্রথম নজরেই ছোট্ট এই বাবুর প্রতি মমতা অনুভব করে মাকুয়া। তারপর উদ্ধার করে খুঁজে পাওয়া অনাথ এই শিশুকে সাথে করে নিয়ে যায় আরেক অনাথ মাকিয়া। অতঃপর নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে মাকিয়া খুঁজে পাওয়া সেই বাবুকে নিজের সন্তানের মতো বড় করতে থাকে। কিন্তু সেই মা নিজেই মনের দিক থেকে শিশুশুলভ, সে কীভাবে আরেক শিশুকে লালন পালন করবে? তারচেয়েও বড় কথা – একদিন এই বাচ্চাটি বড় হবে, নিজের সন্তানের বাবা হবে, বৃদ্ধ হবে, একদিন চোখের সামনেই মারা যাবে। কিন্তু শত শত বছর ধরে বাঁচতে সক্ষম Maquia চিরদিন দেখতে একই রকম থেকে যাবে, দিন পেরিয়ে বছর যাবে, তবুও বাহ্যিক কোনো পরিবর্তন তাকে ছুঁতে পারবে না। একদিন সে বেঁচে থাকবে, কিন্তু প্রিয় সন্তান আর অন্যেরা তাকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যাবে। মূলত এমন বাস্তবতাকে ঘিরেই এগিয়ে যায় এই বছর মুক্তি পাওয়া এনিমে মুভি “Maquia : When the Promised Flower Blooms” এর কাহিনী।
উপরের অংশটিতে মূলত মুভি নিয়ে একটু জানানোর চেষ্টা করেছি, আরো ছোটো করে লিখতে চেয়েছিলাম তবে সহজ করে বর্ণনা করতে গিয়ে একটু বড় হয়ে গেল। তবে মুভির পটভূমি নিয়ে আজকের লেখাটা নয় প্রধানত। ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণ, ভালো লাগা-মন্দ লাগা নিয়ে অল্প-স্বল্প লিখব নির্দিষ্ট করে বললে।
 
মুভিটা সম্পর্কে প্রথম জেনেছিলাম অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড অঞ্চলে এনিমে ডিস্ট্রিবিউটর Madman Entertainment এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে, সেখানে মুভির ট্রেইলারটা দেখে বড়ই সন্তুষ্ট হয়েছিলাম। তয় অনলাইনে তখনো আসেনি তাই সেসময় দেখতে পারিনি।এই ৬-৭ মাসে প্রায় ভুলেই গেছিলাম এটার কথা। কিন্তু দিন কতক আগে দেখলাম ইতোমধ্যেই অনলাইনে এসে গেছে! কেন যেন এতদিন চোখে পড়েনি এটা। দীর্ঘসূত্রিতা না করে তত্ক্ষণাত্ নাফিয়ে ফেলি পুরো মুভি। আর আজ শুক্রবার বন্ধের সকালে নাশতা খাওয়ার পরই দেখতে বসে যাই। প্রায় দু’ঘন্টার এক চমত্কার মুভি উপভোগ করলাম তা নিঃসংকোচে বলা যায়।
 
 
প্রথমত, মুভির visual ছিল এক কথায় দারুণ! P.A. Works কে ধন্যবাদ দিতে হয় এজন্য। তবে ক্যারেক্টার ডিজাইনগুলো কোনো এক কারণে খুব বেশি আকর্ষণ করেনি আমাকে। বিশেষত মাকিয়া এর ডিজাইন। হতে পারে চিরায়ত চোঁখা চোঁখা আকৃতির মুখ দেখতে দেখতে গোলগালা ডিজাইনের সাথে মানিয়ে নিতে পারিনি। কিন্তু এটুকু বলতে পারি কিছু কিছু দৃশ্যে সাইডের দিক থেকে মাকিয়া এর চেহারা খুব বেমানান ছিল। এক্ষেত্রে সম্ভবত উন্নতি করার সুযোগ ছিল। যাই হোক, সব দিক বিবেচনায় আমি ৯/১০ দিব এনিমেশন আর্টওয়ার্ক বিভাগে। এই বিভাগটি যদিও একান্ত ব্যক্তিগত ভালো লাগার জিনিস। হতে পারে ওভাররেটিং করছি, তবে মনে করি কেউ আশাহত হবেন না মুভির এনিমেশন দেখে।
 
দ্বিতীয়ত, মুভির পটভূমি ছিল আগ্রহজাগানিয়া, কাহিনী প্রবাহও বেশ স্মুথ লেগেছে। এখানে একটা বিষয় বলে রাখি, টাইম স্কিপের একাধিক দৃশ্য ছিল। যার বেশিরভাগ খাপ ছাড়া লেগেছে। টাইম স্কিপগুলো আরো ভালো করতে পারত।একেবারে খারাপ লেগেছে তা নয়, কিন্তু আহামরি ছিল না। ডিরেক্টর ও একইসাথে রাইটার হিসেবে মারি ওকাদা এর প্রথম মুভি ছিল এটি। আশা করি ভবিষ্যতে আরো জোড় দিবেন টাইম স্কিপিং এর ব্যাপারটাতে। সামগ্রিকভাবে এই ডিপার্টমেন্টে ৮/১০ দিব।
 
তৃতীয়ত, ইমোশনাল ব্যাপার নিয়ে আমার আলাদারকম দূর্বলতা আছে। আর এক্ষেত্রে মুভির আবহ, চরিত্রগুলোর মধ্যে মিথস্ক্রিয়া,বাস্তবতার নিরিখে মাকিয়া ও তার ছেলের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট টানাপড়েন খুব বাস্তবসম্মত লেগেছে। প্রচন্ড রকম ইমোশনাল ছিল। মুভি শেষে চোখ ভিজে গিয়েছিল একদম। অবশ্য অনেক ক্ষেত্রেই দূর্বল চরিত্রায়নও চোখে লেগেছে। কয়েকটা চরিত্রকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। রাজার সেনাপ্রধানের কথা এ ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে। এখানে আমি কোনো রেটিং দিব না কিছু সংগত কারণে।
 
চতুর্থত, মুভিতে গান না থাকলে হয় নাকি :v ? Ending সাউন্ডট্র্যাক টা অসাধারণ ছিল! একদিকে প্রাণ জুড়িয়ে দিচ্ছিল পিয়ানোর বাজনায় সুরেলা কন্ঠের গানটা। অন্যদিকে চোখের কোণে অনবরত পানি ঝরছিল গানটা শুনে। কোনো এক শূন্যতা অনুভূত হচ্ছিল। যদিও বাকি মুভিতে উল্লেখ করার মতো আর কোনো গান বা এজাতীয় কিছু ছিল না। মোটমাটে ৮/১০ দিব মিউজিকে। আর হ্যা ভয়েস কাস্টিং কিন্তু ভালো লেগেছে খুব। মাকিয়া এর কন্ঠ যে কী মিষ্টি লেগেছে! বলে বোঝানো যাবে না।
 
সব দিক বিবেচনায়, ৯/১০ দিব ফাইনাল স্কোর হিসাবে (মুভিতে আমি এক ধাপ বেশিই রেটিং দেই অবশ্য)।
 
সবশেষে এটাই বলব, আমার মতে এটা ২০১৮ সালে বের হওয়া সবচেয়ে সেরা এনিমে মুভি। এটা হয়ত কোনো কিংবদন্তীতুল্য মুভি নয়, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ এনিমে মুভিগুলোর একটি নয় কিন্তু নিঃসন্দেহে চমত্কার একটা মুভি। মায়ের মমতা, সমাজ বাস্তবতা নিয়ে এরকম মুভি খুব বেশি আছে বলে বোধ করি না। যারা Wolf Children দেখেছেন এবং পছন্দ করেছেন, তারা খুব উপভোগ করবেন আশা করি। এত সুন্দর একটা মুভি অথচ এটা নিয়ে এনিমে গ্রুপগুলোতে সাড়া শব্দ নেই তেমন। ব্যাপারটি খুব হতাশাজনক। Kimi no na wa আর Koe no Katachi পরবর্তী কোনো মুভি নিয়েই কোনো হইচই দেখি না।
 
তো আপনারাও দেরী না করে দেখে ফেলুন “Maquia : When the Promised Flower Blooms”…..
 
একটা শেষ কথা , ফ্যান্টাসি-ড্রামার এই মুভি তে ন্যুডিটি, সেক্সুয়াল সিনারি নেই। ফলে পরিবার পরিজন সকলকে নিয়ে নিশ্চিন্তে উপভোগ করার মতো আদর্শ এক মুভিটা।
 
তো আজ এটুকুই থাকুক।
Happy anime watching!

Bleach [লাইভ অ্যাকশন রিভিউ] — Tahsin Faruque

(Mild Spoilers warning)

 
অ্যানিমে লাইভ অ্যাকশন অ্যাডাপ্টেশন, আর নেটফ্লিক্স – এই দুইটার কম্বিনেশন অনেকের মনেই আতঙ্কের সৃষ্টি করে এসেছে যেন। এই সিরিজে এর আগে দুটি এরকম লাইভ অ্যাকশন মুভি দেখেছিলাম, ডেথ নোট আর ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্ট। দুটি দেখেই ভয়ংকর হতাশ হয়েছিলাম। তার অনেকদিন পর আজকে হঠাত এটার ট্রেইলারটা চোখে পড়তে মনে হল, ট্রেইলারে যেসব দৃশ্য চোখে পড়লো তা দেখে অন্তত মনে হয়েছে সোর্সকে সম্মান করেই বানিয়েছে (এক্ষেত্রে মাঙ্গার সাথে অ্যানিমেকেও সোর্স হিসাবে ধরছি)। মুভিই তো, দেখেই নেই না হয় কেমন হল!
 
খুব অল্প যে কয়টা লাইভ অ্যাকশন অ্যাডাপ্টেশন দেখা হয়েছে অ্যানিমের, তার মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচাইতে বেশি ভাল লেগেছে এইটা, তবে মন্দের ভাল হিসাবে নয়, আসলেই ভাল লেগেছে। শুরুতেই বলে নেই, এই মুভিতে ব্লিচের Agent of the Shinigami আর্কটি পুরাটা অ্যাডাপ্ট করেছে। যারা ব্লিচ পড়েছেন বা দেখেছেন, তারা জানেন এই আর্ক অ্যাডাপ্ট করলে গল্পের কোন জায়গায় গিয়ে মুভিটি শেষ হবে। একই জায়গাতেই শেষ হয়েছে, তবে গল্পে সামান্য বৈচিত্র হলেও এনেছে যেন মুভিটি স্বতন্ত্র মুভি হিসাবেও কাজ করে। সিকোয়েল মুভি আসবে কি আসবে না তার যেহেতু নিশ্চয়তা নেই, তাই সেরকম হিসাব করেই গল্প শেষ করতে হয়।
 
মুভিতে স্ক্রিন রাইটার ও ডিরেক্টরের যে হাল্কা কিছু ক্রিয়েটিভ সিদ্ধান্ত নেয় নাই তা নয়, বরং লাইভ অ্যাকশন মুভি হিসাবে একটা মাঙ্গা বা অ্যানিমের গল্পকে তুলে ধরতে হলে কিছু জিনিসের পরিবর্তন করতেই হবে। মাঙ্গাতে বা অ্যানিমেশনে অনেক দৃশ্য ও রিয়্যাকশন যেভাবে কাজ করে, লাইভ অ্যাকশনে তা কাজ করে না। সেখান বাস্তব মানুষের বাস্তব রিয়্যাকশন দেখাতে হয়, যা গল্পের অরিজিনাল সোর্সের সাথে কনফ্লিক্ট করতেও পারে। তবে ব্লিচের এই মুভিতে সেসব ছোটখাট পরিবর্তন যা এনেছে, আমার কাছে তা খুবই পজিটিভ দিক মনে হয়েছে মুভিটির। এমনিতে মূল গল্পে ও তার চরিত্রদের মধ্যে এতটুকুও পরিবর্তন আনে নাই এখানে। ব্লিচের অরিজিনাল গল্পের প্রথম দিকের অংশতে অনেক কমেডি উপাদান ছিল, মুভিতেও সেগুলি রয়েছে। ইচিগো-রুকিয়ার কথোপকথন, ইচিগোর বন্ধুদের সামনে রুকিয়ার উপস্থিতি ও তাদের নিজেদের মধ্যে কথোপকথন, চালচলনে কোন অহেতুক জিনিস আনা হয় নি। যা ছিল, একদম আসল গল্পকে সম্মান জানিয়েই দেখানো হয়েছে। ইচিগো রুকিয়ার কথাবার্তা শুনে শব্দ করেই হেসেছিলাম মুভি দেখার মাঝে।
 
 
মুভির স্বার্থেই মাঙ্গা বা অ্যানিমের প্রথম দিকের হলোর সাথের অনেকগুলি ফাইট দেখানো হয় নি, এবং সেই ব্যাপারটি খারাপ হয় নি আসলে। হলোর উপস্থিতি অতিরিক্তও নয়, একদম কমও নয়। আর এখানে সিজিআই-এর কাজ একদম খারাপও নয়, বেশ বিশ্বাসযোগ্য।
চরিত্রদের মধ্যে সবচাইতে ভাল লেগেছে আসলে ইচিগোকেই। নায়ককে ধন্যবাদ দিতেই হবে, এই চরিত্রটাকে লাইভ অ্যাকশনে প্রাণ দেবার জন্যে। এই আর্কে ওরিহিমের উপস্থিতি সেরকম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না আসলে, তাই ওরিহিমে এখানে সাইড ক্যারেক্টারদের দলেই চলেই গিয়েছে। চাদো ও উরইয়ুর চরিত্র করা অভিনেতাদের কাজ ভালই ছিল। তবে রুকিয়ার চরিত্রটি একটু সমস্যাজনক ছিল। নায়িকার কাজ একদম খারাপ যে তা নয়, কিন্তু রুকিয়ার মুখে ৯০% সময় জুড়েই একটি রিয়্যাকশন লেগে ছিল, তা সে ঐ মুহুর্তে খুশি হোক বা অবাক, বিরক্ত হোক বা রাগ, চেহারার অভিমূর্তি দেখে বুঝে উঠে সমস্যা হত। মাঙ্গা পড়া ছিল বলে জানি এই জায়গাতে রুকিয়া আসলে কেমন অনুভব করছিল, ঐ জায়গাতে রুকিয়া আসলে রাগ নয়, অবাক হয়ে ছিল। এটা জানা না থাকলে মুভিটি দেখার সময়ে মনে হয়, রুকিয়ার সমস্যা কী!? আর রেঞ্জি ও বিয়াকুয়ার চরিত্র দুটি যেহেতু এই আর্কের ভিলেইন ছিল, আমার কাছে মনে হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে তাদের আচরণ একটু বেশি ভিলেইনসুলভ হয়ে গিয়েছিল। ভিলেইন হলেও যে তাদের আচরণ এরকম হবার কথা নয় তা মাঙ্গা পাঠক বা অ্যানিমের দর্শকের জানার কথা। রেঞ্জির অভিব্যক্তি মাঝেমধ্যে অতিরঞ্জিত হয়েছে।
 
আর চরিত্রদের কথা বললে ইচিগোর দুই পিচ্চি বোন দুটির কথা না বললেই নয়! অতিরিক্ত কিউট দুটি পিচ্চি তাদের স্ক্রিনটাইমের প্রায় পুরাটাই মুখে হাসি ফুটিয়ে রাখার মত অভিনয় করেছে।
 
সব শেষে মুভির পজিটিভ ও নেগেটিভ দিকগুলি অল্পের মধ্যে তুলে ধরিঃ
 
(+) পজিটিভ দিকঃ
  • সোর্সের প্রতি সম্মান দেখানো
  • ইচিগো
  • ইচিগোর দুই বোন
  • ইচিগো-রুকিয়ার কথোপকথন
  • সোর্ড ফাইটের দৃশ্যগুলি (চমৎকার ছিল এগুলি)
  • অ্যানিমেশন (সেরকম আহামরি না হলেও, বিশ্বাসযোগ্য)
  • ইচিগোর স্কুলের অংশগুলি
  • সউল-রিমুভিং গ্লাভস
  • শেষের ফাইট
(-) নেগেটিভ দিকঃ
  • রুকিয়ার চরিত্র
  • রেঞ্জি ও বিয়াকুয়ার “ভিলেইন” সুলভ আচরণের অতিরিক্ততা
ট্রেইলার দেখে বা একের পর এক অ্যানিমে লাইভ অ্যাকশনের ব্যর্থতা দেখে ভয় পেয়ে থাকলে চিন্তা ছাড়া মুভিটি দেখে নিতে পারেন। ব্লিচের লাইভ অ্যাকশন মুভি আমার দৃষ্টিতে অন্যতম সফল অ্যাডাপ্টেশন। এই মুভির সিকোয়েল বের করুক এই আশাতেই আজকের রিভিউ শেষ করছি।
 
ও হ্যাঁ, আমার রেটিংঃ
মুভি হিসাবেঃ ৭/১০
অ্যানিমে আডাপ্টেশন মুভি হিসাবেঃ ৮/১০
 

Odd Taxi [রিভিউ] — Nazmus Sakib

আনিমে – ODD TAXI
এপিসোড সংখ্যা – ১৩
ডিরেক্টর – বাকু কিনোশিতা
স্ক্রিপ্ট – কাযুইয়া কোনোমোতো
ম্যাল রেটিং – ৮.৫৯
ব্যক্তিগত রেটিং – ১০
 
এক কথায় একটা মডার্ন মাস্টারপিস। না দেখার কোনই কারণ নেই। মিস্টেরি জানরার সর্বকালের একটা রত্ন হয়ে থাকবে এইটা।
 
সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
গল্পের স্থান জাপানের টোকিও শহর। গল্পের নায়ক ওদোকাওয়া নামের এক মধ্যবয়স্ক ট্যাক্সি ড্রাইভার। তার স্বভাব হল কথা কম বলা আর বললেও সিনিকাল টোনে কথা বলা। গল্পের একেক পর্বে সে ভিন্ন ভিন্ন যাত্রীদের সার্ভিস দেয়। ঘটনাক্রমে সে এক হাইস্কুল ছাত্রীর কিডন্যাপিং এর ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই না, জাপানী মাফিয়ার দুই সদস্য ওর পিছনে হন্যে হয়ে লেগে যায়। ওদোকাওয়া কী পারবে নিজেকে বাঁচিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে?
 
গল্পঃ ১০
দারুণ প্লট। যেমন আনপ্রেডিক্টেবল, তেমনি মজাদার। অনেকগুলি আপাত বিচ্ছিন্ন প্লট পয়েন্ট এখানে প্যারালেলি চলেছে। প্রতি পর্বে দর্শকদের ছোটবড় ক্লু দেওয়া হয়েছে, যেন তারা ওদোকাওয়ার সাথে গল্পের মূল রহস্য সমাধানে অংশ নিতে পারে। এর সাথে দারুণ ডিরেকশন আর স্ক্রিপ্টরাইটিং-এর জোরে গল্পটিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আর গল্পের শেষ এপিসোডের টুইস্টটি একে নিয়ে গেছে মাস্টারপিসের উচ্চতায়।
 
 
চরিত্রায়ণঃ ১০
মূলত গল্প নির্ভর এই আনিমেতে যতটুকু চরিত্রায়ণ আশা করা যায়, তার সবই আছে। গল্পটির এপিসোড সংখ্যা কম হলেও অনেকগুলি চরিত্র আছে। তা সত্ত্বেও চরিত্রগুলির সাথে সহজেই নিজেকে কানেক্ট করা যায়, ওদের মনমানসিকতা বোঝা যায়, ওরা কখন কী করতে পারে তা আন্দাজ করা যায়। ওদেরকে বাস্তব চরিত্র বলেই মনে হয়। সাইড ক্যারেক্টারগুলোকেও যত্নের সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
 
আর্ট ও এনিমেশনঃ ৮
গল্পের সাথে তাল মিলিয়ে কিছুটা ইউনিক আর্টস্টাইল আর ক্যারেকটার ডিজাইন এখানে ব্যবহৃত হয়েছে। চোখ ধাঁধানো কিছু না হলেও তাতে এঞ্জয়মেন্টে কোনই ব্যত্যয় ঘটেনি।
 
সাউন্ডঃ ৯
ওপেনিং গান, এন্ডিং গান, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক – সব জায়গায় মূলত সিটি পপ থিমের আলোকে সাউন্ড ব্যবহার করা হয়েছে। টোকিও শহরে ঘটা থ্রিলিং গল্পের সাথে এক্কেবারে খাপে খাপ মিলে গেছে। গল্পের মুড অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সাউন্ড ইউজ করতে ডিরেক্টর কার্পণ্য করেননি।
 
এঞ্জয়মেন্টঃ ১০
মিস্টেরি জানরার ফ্যান হিসেবে এই আনিমেটা এই বছরের সেরা উপহার ছিল আমার কাছে। প্রতি সপ্তাহে এটার জন্য সবচাইতে বেশি মুখিয়ে থাকতাম। গল্পের চরিত্রগুলি, ওদোকাওয়ার সিনিকাল কথাবার্তা, গল্পে উঠে আসা এক্কেবারে বাস্তব ইস্যুগুলি, আর গল্পের শেষের সেই জব্বর টুইস্টটা আমার অনেকদিন মনে থাকবে।
 
দেরি না করে এইটা দেখে ফেলুন। বারবার দেখুন। কারণ খুব চাতুর্যের সাথে নানা ক্লু ছড়ানো আছে এই রত্নটির মধ্যে!
 

Onanie Master Kurosawa [মাঙ্গা রিভিউ] — Rafid Rafsani

পড়া শেষ করার পর প্রথমেই যা মনে আসছে “Never judge a book by It’s cover”। পড়ার আগে নাম দেখে Onanie Master Kurosawa (Masturbation Master Kurosawa) কত কিছুই ভেবেছিলাম! নাম শুনে সবার হেন্টাই, ইচ্চি মনে হলেও ধারণা পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হবে। কারণ এটার জেনারে যে সাইকোলজিক্যাল ড্রামা!

কাহিনির মূল চরিত্র জুনিয়র হাইস্কুলের ছাত্র কুরোসায়োয়া। সবার সাথে কথা-বার্তা কম বলে, তেমন বন্ধুও নেই চুপ-চাপ স্বভাবের। স্কুলে অবসর সময়ে লাইব্রেরিতে কাটায়। বন্ধুদের আড্ডাও এড়িয়ে চলে। যাকে ‘ইন্ট্রোভার্ট’ বলা চলে আরকি। কিন্তু সবার অগোচরে সে ছুটির পর গার্লস টয়লেটে হস্তশিল্প চর্চা করে (if you know what I mean ) যেটিকে মাঙ্গায় ‘ডেইলি রুটিন নামে পরিচয় দেয়। তো এইভাবেই তার দিন যেতো। তার ক্লাসেরই একজন মেয়ে কিরিহারা, দুর্বল ও বোকা হওয়ায় ক্লাসের অন্য মেয়েরা তাকে বিভিন্ন বিরিক্ত করতো। ঘটনা ক্রমে কিরিহারা, কুরোসাওয়াকে বাথরুমে ডেইলি রুটিনের কাজ করতে হাতেনাতে ধরে এবং তাকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে যেন সে যেসব মেয়েরা কিরিহারাকে বিরক্ত করে অথবা যাদের কিরিহারা পছন্দ করে না তাদের বিভিন্ন জামা, বই, অন্যান্য ব্যবহারের জিনিসে সাদা তরলের শিল্পকর্ম করতে। এইভাবেই কাহিনি এগিয়ে যায়।

৩১ চ্যাপ্টারের মাঙ্গাটিতে কাহিনি সাধারণ অথবা নোংরা মনে হলেও ২৬ চ্যাপ্টারের পর একটা অন্যরকম টার্ন নেয়, যার কারণের myanimelist-এ পোস্ট লেখার মুহুর্তে ৮.৪+ রেটিং নিয়ে #70 most popular manga-তে এর অবস্থান। সেই স্পয়লার আর না দিলাম, তবে কাহিনীর সেই ভিন্ন মোড় নেওয়ার কারণেই সাধারণ একটা মাংগা অসাধারণ হয়ে উঠে। আমাদের মেইন ক্যারেক্টারের প্রত্যেকটা অনুভুতি যেমন বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে বাজেভাবে ভেংগে পড়া,খারাপ সময়ে শক্ত থাকা এরকম অনেক কিছুই আমাদের কমবেশি সবার জীবনেই ঘটায় কাহিনিটা অনেক বেশি রিলেটেবল সবার কাছে। এটিতে মাত্র ৩১ চ্যাপ্টারে যতটুকু ক্যারেক্টর ডেভলপমেন্ট হয় অনেক মাংগাতে ২০০ চ্যাপ্টারেও তা দেখা যায় না।

নামটা আবার বলি Onanie Master Kurosawa. নাম যেমনই হোক, পড়া শেষ করলে নিঃসন্দেহে মনে অন্যরকম একটা ছাপ ফেলে যাবে এটি।

Name: Onanie Master Kurosawa
Genere: Physiological,Drama,School
Personal Ratings: 9.5/10

 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #47

আনিমে: Fushigi no Umi no Nadia (Nadia: Secret of Blue Water)

জানরা: এডভেঞ্চার, সাইফাই, মিস্টেরি, রোমান্স, হিস্টোরিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ৩৯ (কিছু স্কিপ করার মত এপিসোড আছে)
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/1251/Fushigi_no_Umi_no_Nadia
 
ঘটনার শুরু ১৮৮৯ সালের ফ্রান্সে। Jean নামের একটি বিজ্ঞানমনস্ক কিশোর ছেলের সাথে হঠাত দেখা হয় সার্কাসের দলের এক কিশোরী নাদিয়া-র সাথে। নাদিয়ার কাছে আছে একটি রহস্যময় রত্ন “ব্লু ওয়াটার”, যার জন্যে তিনজন লোক ওকে ধাওয়া করছিল। ঘটনাচক্রে Jean ওর সদ্য আবিষ্কৃত প্লেনের সাহায্যে ওকে বাঁচায়। নিজের হারানো বাবার সন্ধানে থাকা Jean আর নিজের মাতৃভূমির সন্ধানে থাকা নাদিয়ার ভাগ্য একসাথে জড়িয়ে যায়। ওরা অংশ নেয় নটিলাস নামের এক অত্যাশ্চর্য ডুবোজাহাজের ক্রু হিসেবে পৃথিবীকে রক্ষার অভিযানে! কীভাবে হল এটা? জানতে আনিমেটি দেখবেন।
 
আনিমেটিতে সর্বত্র পাবেন পুরনো দিনের অডিওভিজুয়াল এস্থেটিক। গল্পের বেশিরভাগ অংশ জুড়েই কোন ফাঁকফোকর নেই। ছোটবড় সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছে। চরিত্রগুলি রিয়েলিস্টিক ও খুব যত্নের সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওদের সংলাপগুলি ও ইন্টারেকশন গুলি যেমন মজাদার, তেমনি রিলেটেবল।
 
গল্পটিতে Jules Verne এর কয়েকটি গল্পের ছায়া রয়েছে। এছাড়া বাইবেল আর Ancient Aliens থিওরির উল্লেখ আছে। সব মিলিয়ে খুব জমজমাট সাসপেন্স পাবেন। এভাঞ্জেলিওন খ্যাত হিদেয়াকি আন্নো এইটি পরিচালনা করেছেন। তাই সব বয়সের জন্যে উপযোগী এই আনিমেটি চেখেই দেখুন না।
 
[বিঃ দ্রঃ আনিমেটির এক পর্যায়ে একটি খারাপ মানের আর্ক আছে, যা না দেখাই ভালো। এই লিঙ্কে বিস্তারিত পাবেন:  https://myanimelist.net/forum/?topicid=402151#msg13345267]
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #46

আনিমে: Aoi Bungaku Series

জানরা: সেইনেন, ড্রামা, হিস্টোরিকাল, সাইকোলজিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ১২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/7193/Aoi_Bungaku_Series
 
“They are evergreen (Aoi), because they are masterpieces.”
 
বিখ্যাত ডিরেক্টর তেতসুরো আরাকির নেতৃত্বে তখনকার জমকালো ম্যাডহাউজ স্টুডিওর আনিমে এটি। কয়েকটি জাপানী ক্লাসিকাল উপন্যাসকে আধার করে আনিমেটি বানানো হয়েছে। একেকটি গল্প একেক স্বাদের, আর গল্পের সাথে সমন্বয় করে একেক রকম আর্টস্টাইল আর মিউজিক ব্যবহৃত হয়েছে। ভিজুয়াল, মিউজিক, ভয়েস, ক্যারাকটার ডিজাইন (ডিজাইনার টিমে ব্লিচের মাঙ্গাকাও ছিলেন) – আনিমেটির সর্বত্র আপনি পাবেন যত্নের ছোঁয়া।
 
আনিমেটিতে নিম্নোক্ত ছয়টি বই এডাপ্ট করা হয়েছেঃ
১। দাজাই ওসামু রচিত No Longer Human
২। সাকাগুচি আঙ্গো রচিত In the Forest, under the Cherry Blossoms in Full Bloom
৩। নাতসুমে সৌসেকি রচিত Kokoro
৪। দাজাই ওসামু রচিত Run, Melos!
৫। আকুতাগাওয়া রিউনোস্কে রচিত The Spider’s Thread
৬। আকুতাগাওয়া রিউনোস্কে রচিত Hell Screen
 
প্রতিটি গল্পই আপনাকে ভাবাবে। ম্যাচিওর গল্পের ভক্তরা অবশ্যই এটি দেখবেন। আর দেখার পরে পূর্ণ রসাস্বাদনের জন্য আসল বইগুলি পড়ে দেখতে পারেন। প্রথম পর্বে ন্যারেটরের উক্তিটি দিয়ে শেষ করছি।
 
“In this country, there are literary works said to be masterpieces. But aren’t there many people who feel like they don’t relate to these works? To the younger generation, these are just old stories. To the older generation, these are stories they were forced to read long ago. If you were to pick up one of them once again, you’d be in for a surprise. Seeing the main characters worry, grieve and act reminds us of ourselves. Furthermore, they remind us that our days are filled with pain and life. Something we tend to forget about.”
 
তথ্যসুত্রঃ https://thevaultpublication.com/2014/12/13/masterpieces-hence-evergreen-aoi-bungaku-review/
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #45

আনিমে: Uchouten Kazoku (The Eccentric Family)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, ফ্যান্টাসি
এপিসোড সংখ্যা: ১৩ + ১২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/57789/Uchouten_Kazoku
 
আনিমেটির ঘটনাস্থল জাপানের ঐতিহ্যবাহী কিয়োতো শহর। সেখানে মানুষের সাথে সহাবস্থান করছে জাপানী উপকথা থেকে উঠে আসা দুই জীব – তানুকি আর তেঙ্গু। এখানকার তানুকিরা নিজের আকৃতি বদল করতে পারে। তাই তারা সাধারণ তানুকির মত না থেকে মানুষের মধ্যে মিশে থেকে নিজেদের জীবনটাকে আরও রোমাঞ্চে ভরপুর করতে চায়। ঐ শহরের তানুকিদের সাবেক নেতা শিমোগামো সৌইচিরৌর চার ছেলে ও বৌকে নিয়েই গল্পটি আবর্তিত হয়। গল্পের মূল চরিত্র হল তিন নম্বর ছেলে ইয়াসাবুরো। মানুষের মাঝে ওর আর ওর পরিবারের ঘটনাবহুল জীবনযাত্রা নিয়েই কাহিনী।
 
এটি মূলত সংলাপনির্ভর ফ্যামিলি ড্রামা। “তাতামি গ্যালাক্সি”-র রচয়িতা তোমিহিকো মরিমি জাপানের চিরাচরিত উপকথাকে আশ্রয় করে গল্পটি লিখেছেন। কিয়োতো শহরের গলিঘুপচি আর সংস্কৃতি এই গল্পে প্রাণ পেয়েছে। আনিমেটির আর্টস্টাইল বেশ অভিনব আর সুন্দর। প্রথম সিজনের শুরুর গানটির কথাগুলি বেশ মনোমুগ্ধকর। দ্বিতীয় সিজনের শেষের গানটিরও জবাব নেই।
 
তানুকিদের ভারমুক্ত ও রোমাঞ্চে ভরপুর জীবনযাত্রা দেখে নিজের মন হালকা করতে চাইলে দেখেই ফেলুন না!
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #44

আনিমে: Karakurizoushi Ayatsuri Sakon

জানরা: মিস্টেরি, হরর, থ্রিলার, শৌনেন
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/2204/Karakurizoushi_Ayatsuri_Sakon
 
সাকন নামের ছেলেটি পেশায় পুতুল-নাচিয়ে। চুপচাপ স্বভাবের সাকনের আছে উকন নামের এক পুতুল, যার সাহায্যে ভেন্ট্রিলোকুইজমের মাধ্যমে সে বেশিরভাগ সময়ে মানুষের সাথে কথা বলে। এছাড়াও ওর আরেকটা পরিচয় আছে। ও হল শখের গোয়েন্দা। এই আনিমেতে কয়েকটি ভাগে বা arc এ সাকন আর উকন, ওদেরকে ঘিরে ঘটা কিছু হত্যারহস্যের সমাধান করে।
 
আনিমেটি ট্র্যাডিশনাল মার্ডার মিস্ট্রি ধাঁচের হলেও এর এক্সিকিউশন বেশ ভালো। ভিজুয়াল আর মিউজিক দিয়ে বেশ রহস্যময় আবহ তৈরি করা হয়েছে। গল্পের যুক্তিতে ফাঁকফোকর খুব একটা ধরা পড়ে না। অন্যান্য কিছু আনিমের মত এখানে কিন্তু হত্যাকারি আজগুবি কৌশলের সহায়তা নেয় না। তাই দর্শক নিজ থেকে রহস্য সমাধানের সুযোগ পান। আর প্রতিটি আর্কের স্ট্রাকচার একইরকম হলেও একেবারে একটি আর্ক করে দেখলে একঘেয়েমি আসেনা।
 
পুরোনো আর্টস্টাইলে আপত্তি না থাকলে ডিটেকটিভ জানরার ভক্তরা এটি দেখতে পারেন।