Sakib’s Hidden Gems – Episode #46

আনিমে: Aoi Bungaku Series

জানরা: সেইনেন, ড্রামা, হিস্টোরিকাল, সাইকোলজিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ১২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/7193/Aoi_Bungaku_Series
 
“They are evergreen (Aoi), because they are masterpieces.”
 
বিখ্যাত ডিরেক্টর তেতসুরো আরাকির নেতৃত্বে তখনকার জমকালো ম্যাডহাউজ স্টুডিওর আনিমে এটি। কয়েকটি জাপানী ক্লাসিকাল উপন্যাসকে আধার করে আনিমেটি বানানো হয়েছে। একেকটি গল্প একেক স্বাদের, আর গল্পের সাথে সমন্বয় করে একেক রকম আর্টস্টাইল আর মিউজিক ব্যবহৃত হয়েছে। ভিজুয়াল, মিউজিক, ভয়েস, ক্যারাকটার ডিজাইন (ডিজাইনার টিমে ব্লিচের মাঙ্গাকাও ছিলেন) – আনিমেটির সর্বত্র আপনি পাবেন যত্নের ছোঁয়া।
 
আনিমেটিতে নিম্নোক্ত ছয়টি বই এডাপ্ট করা হয়েছেঃ
১। দাজাই ওসামু রচিত No Longer Human
২। সাকাগুচি আঙ্গো রচিত In the Forest, under the Cherry Blossoms in Full Bloom
৩। নাতসুমে সৌসেকি রচিত Kokoro
৪। দাজাই ওসামু রচিত Run, Melos!
৫। আকুতাগাওয়া রিউনোস্কে রচিত The Spider’s Thread
৬। আকুতাগাওয়া রিউনোস্কে রচিত Hell Screen
 
প্রতিটি গল্পই আপনাকে ভাবাবে। ম্যাচিওর গল্পের ভক্তরা অবশ্যই এটি দেখবেন। আর দেখার পরে পূর্ণ রসাস্বাদনের জন্য আসল বইগুলি পড়ে দেখতে পারেন। প্রথম পর্বে ন্যারেটরের উক্তিটি দিয়ে শেষ করছি।
 
“In this country, there are literary works said to be masterpieces. But aren’t there many people who feel like they don’t relate to these works? To the younger generation, these are just old stories. To the older generation, these are stories they were forced to read long ago. If you were to pick up one of them once again, you’d be in for a surprise. Seeing the main characters worry, grieve and act reminds us of ourselves. Furthermore, they remind us that our days are filled with pain and life. Something we tend to forget about.”
 
তথ্যসুত্রঃ https://thevaultpublication.com/2014/12/13/masterpieces-hence-evergreen-aoi-bungaku-review/
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #45

আনিমে: Uchouten Kazoku (The Eccentric Family)

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, ফ্যান্টাসি
এপিসোড সংখ্যা: ১৩ + ১২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/57789/Uchouten_Kazoku
 
আনিমেটির ঘটনাস্থল জাপানের ঐতিহ্যবাহী কিয়োতো শহর। সেখানে মানুষের সাথে সহাবস্থান করছে জাপানী উপকথা থেকে উঠে আসা দুই জীব – তানুকি আর তেঙ্গু। এখানকার তানুকিরা নিজের আকৃতি বদল করতে পারে। তাই তারা সাধারণ তানুকির মত না থেকে মানুষের মধ্যে মিশে থেকে নিজেদের জীবনটাকে আরও রোমাঞ্চে ভরপুর করতে চায়। ঐ শহরের তানুকিদের সাবেক নেতা শিমোগামো সৌইচিরৌর চার ছেলে ও বৌকে নিয়েই গল্পটি আবর্তিত হয়। গল্পের মূল চরিত্র হল তিন নম্বর ছেলে ইয়াসাবুরো। মানুষের মাঝে ওর আর ওর পরিবারের ঘটনাবহুল জীবনযাত্রা নিয়েই কাহিনী।
 
এটি মূলত সংলাপনির্ভর ফ্যামিলি ড্রামা। “তাতামি গ্যালাক্সি”-র রচয়িতা তোমিহিকো মরিমি জাপানের চিরাচরিত উপকথাকে আশ্রয় করে গল্পটি লিখেছেন। কিয়োতো শহরের গলিঘুপচি আর সংস্কৃতি এই গল্পে প্রাণ পেয়েছে। আনিমেটির আর্টস্টাইল বেশ অভিনব আর সুন্দর। প্রথম সিজনের শুরুর গানটির কথাগুলি বেশ মনোমুগ্ধকর। দ্বিতীয় সিজনের শেষের গানটিরও জবাব নেই।
 
তানুকিদের ভারমুক্ত ও রোমাঞ্চে ভরপুর জীবনযাত্রা দেখে নিজের মন হালকা করতে চাইলে দেখেই ফেলুন না!
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #44

আনিমে: Karakurizoushi Ayatsuri Sakon

জানরা: মিস্টেরি, হরর, থ্রিলার, শৌনেন
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/2204/Karakurizoushi_Ayatsuri_Sakon
 
সাকন নামের ছেলেটি পেশায় পুতুল-নাচিয়ে। চুপচাপ স্বভাবের সাকনের আছে উকন নামের এক পুতুল, যার সাহায্যে ভেন্ট্রিলোকুইজমের মাধ্যমে সে বেশিরভাগ সময়ে মানুষের সাথে কথা বলে। এছাড়াও ওর আরেকটা পরিচয় আছে। ও হল শখের গোয়েন্দা। এই আনিমেতে কয়েকটি ভাগে বা arc এ সাকন আর উকন, ওদেরকে ঘিরে ঘটা কিছু হত্যারহস্যের সমাধান করে।
 
আনিমেটি ট্র্যাডিশনাল মার্ডার মিস্ট্রি ধাঁচের হলেও এর এক্সিকিউশন বেশ ভালো। ভিজুয়াল আর মিউজিক দিয়ে বেশ রহস্যময় আবহ তৈরি করা হয়েছে। গল্পের যুক্তিতে ফাঁকফোকর খুব একটা ধরা পড়ে না। অন্যান্য কিছু আনিমের মত এখানে কিন্তু হত্যাকারি আজগুবি কৌশলের সহায়তা নেয় না। তাই দর্শক নিজ থেকে রহস্য সমাধানের সুযোগ পান। আর প্রতিটি আর্কের স্ট্রাকচার একইরকম হলেও একেবারে একটি আর্ক করে দেখলে একঘেয়েমি আসেনা।
 
পুরোনো আর্টস্টাইলে আপত্তি না থাকলে ডিটেকটিভ জানরার ভক্তরা এটি দেখতে পারেন।
 

Plunderer [রিভিউ] — Rakib Amin

Anime name: Plunderer
Genre: Action, Adventure, Comedy, Ecchi, Fantasy, Shounen
Episodes: 24
Aired: 2020 (winter)
 
Detailed Review:
★ This anime is the embodiment of the word “meh”. খুবই অ্যাভারেজ একটা এনিমে। অ্যাভারেজ প্লট, অ্যাভারেজ ক্যারেক্টার, অ্যাভারেজ এনিমেশন, বোরিং সাউন্ডট্র্যাক, বাজে স্টোরি-রাইটিং, আর প্লট-হোল দিয়ে ভরা। ওভারঅল খুবই হতাশাজনক অ্যাডাপ্টেশন।
 
★ এনিমেটা দেখে যা বুঝলাম যে রাইটারের অনেকগুলা আইডিয়া মাথায় ছিল, আর সেগুলা সবই কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়া স্টোরির উপর ঢেলে দিয়েছে। যার কারণে স্টোরির আগা-মাথা হযবরল হয়ে একাকার অবস্থা। এক এপিসোড পুরাটাই চাইল্ডিশ হিউমার দিয়ে ভরা, তো আরেক এপিসোড একেবারে খুনাখুনি টাইপ সিরিয়াস। কমেডি এবং সিরিয়াসনেস -এর মাঝে ব্লেন্ডটা একেবারে বাজেভাবে করা হয়েছে।
 
★ প্রথমদিকে ২-৩ এপিসোড মোটামুটি ভাবে এগুচ্ছিলো; তারপর সবকিছু উল্টাপাল্টা করে এমন অবস্থা যে অলমোস্ট ড্রপ করেই ফেলেছিলাম এনিমেটা। তবে মাঝের কয়েকটা এপিসোডে কিছু ব্যাকস্টোরি কাভার করা হয়েছিল যেটা এই এনিমের অনলি সেভিং-গ্রেস বলা যায়। ওই ব্যাকস্টোরি দেখার পর পুরা ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিং সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলে কিছুটা ইন্টারেস্ট ফিরে আসে এই এনিমের প্রতি। তারপর লাস্টের দিকের কয়েক এপিসোড আবারো একেবারে লেইম হয়ে পরে। সবচেয়ে বিরক্ত লেগেছে যখন দেখলাম যে এতো কষ্ট করে ২৪ এপিসোড দেখার পরেও দেখি যে স্টোরি কমপ্লিটেড না। মানে, এই ফালতু এনিমেরও আবার সেকেন্ড সিজন বের করতে চায় নাকি? অনেক মিস্টিরি এখনো ক্ল্যারিফাই করে নাই।
 
★ টু বি ফেয়ার, স্টোরির ইনিশিয়াল আইডিয়াটা খারাপ না। কিন্তু হয়তো প্রোপার প্ল্যানিং-এর অভাবে অথবা বাজে এনিমে অ্যাডাপ্টেশন -এর কারণে এতো বাজে অবস্থা। এইটার মাংগা’র রেটিং ভালোই দেখলাম। তাই আমার মনে হয় ভালো ডিরেক্টর এবং ভালো প্ল্যানিং থাকলে এনিমেটা কিছুটা বেটার হতে পারতো।
 
★ অ্যাকশন ফাইটগুলা খুবই, খুবই লেইম ছিল। এর বেশি কিছু বললাম না।….. কমেডি মোটামুটি ছিল, যদিও বেশিভাগ ছিল চাইল্ডিশ হিউমার। Ecchi পার্টগুলা একেবারেই লেইম ছিল। আমার মতো Ecchi -লাভারেরও মাঝেমাঝে বিরক্ত ধরে যাচ্ছিলো। 😑
 
★ ক্যারেক্টারগুলা খুবই এভারেজ। মেইন মেল্ ও ফিমেল ক্যারেক্টার আমার কাছে লেইম লেগেছে একেবারে। বরং সেকেন্ডারি ক্যারেক্টারগুলা এই দুইজনের চেয়ে বেটার ছিল। মেইন এন্টাগোনিস্ট ব্যাকস্টোরিতে দেখলাম একেবারেই দরদি এবং সিম্প্যাথেটিক একটা ক্যারেক্টার। কিন্তু মেইন টাইমলাইনে এসে সে পুরাই কোল্ড-ব্লাডেড ভিলেইন হয়ে পড়েছে। মানে কিছুই বুঝলাম না।
 

Ratings:
MAL ratings: 6.49
Personal rating: 6.2 (very generous rating)
 

World Trigger [রিভিউ] — Arnab Basu

উইকলি শোউনেন জাম্পকে অবিসংবাদিতভাবেই শোউনেন সিরিজের সবচেয়ে সেরা উৎস হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সর্বকালের সেরা সব শোউনেন সিরিজগুলা বেশিরভাগই এই ম্যাগাজিনে পাব্লিশ হয়েছে বা হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাগাজিনে প্রকাশিত মাঙ্গাগুলো অনেক জনপ্রিয়তা পায়। আর এই সিরিজগুলার এনিম এডাপ্টেশন নিয়ে সবারই কম বেশি এক্সপেক্টেশন কাজ করে আর বেশিরভাগ সিরিজই কম বেশি পপুলারিটি পায়। তবে দুই একটা সিরিজ যে ব্যাতিক্রম, তা কিন্তু না। সেটা এডাপ্টেশনের কারণে হোক, বা প্লটের দুর্বলতার কারণেই হোক। জাম্পের এমন সিরিজ খুব কমই আছে, যা অনেক সিরিজের মত লোকচক্ষুর আড়ালে পড়ে যায়। জুজুতসু কাইসেনের মত হাইপ তোলা সেরা এনিমেশন, ওয়ান পিসের মত লং রানিং মহীরথি কিংবা হিনোমারু সুমো আর প্রমিসড নেভারল্যান্ডের মত হতাশ এডাপ্টেশন, এই সিরিজগুলার প্রতি মানুষের এটেনশনের কমতি নেই। সেই হিসাবে World Trigger কে শোউনেন জাম্পের হিডেন জেম বলা যেতে পারে। হিডেন জেম এই অর্থে, যে জাম্পের মত কাটথ্রোট ম্যাগাজিন, যেখানে পপুলারিটির কমতির কারণে যে কোন মাঙ্গা কুড়ালের নিচে পড়তে পারে, সেখানে এই সিরিজটা ২০১৩ সাল থেকে এখনও চলছে (যদিও ২০১৮ তে জাম্প স্কয়ারে ট্রান্সফার হয়ে যায়)। আর World Trigger এনিমের ২ টা সিজন আছে, যার মোট পর্ব ৮৫ টি, যদিও প্রথম সিজনের শেষের দিকে একটা ফিলার আর্ক আছে। কিন্তু এই সিরিজটা দেখেছে এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি না।তাহলে এমন একটা অবসিকিওর সিরিজে কি এমন আছে যা খুব একটা নাম ডাক না থাকা সত্ত্বেও এখনও থেমে যায়নি? উত্তরটা হল এই সিরিজের ফাইট। World Trigger এর প্লট শুনলে খুবই সাদামাটা মনে হবে, এনিমের প্রথম কয়েকটা পর্ব দেখার পরে এনিম ড্রপ দিলে কাউকে দোষও দেয়া যাবে না। কিন্তু এই সিরিজের ফাইটগুলা এক কথায় অসাধারণ। জাম্পের ম্যাক্সিমাম সিরিজই ফ্যান্টাসি নির্ভর আর ফাইট বেশিরভাগই স্ট্রেংথ আর উইল নির্ভর। সেই দিক থেকে সাই-ফাই জন্রার এই সিরিজের ফাইটগুলা ভীষণ স্ট্র্যাটেজিক। হালের OP টাইপ MC রা হয়তো কুলনেস আর ব্যাডএসারি দিয়ে আপনাকে মুগ্ধ করবে, কিন্তু একই সাথে সিরিজের পাওয়ার স্কেলিং এর বারটা বাজবে, যার কারণে সিরিজ কিছুদিন পরেই ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে যাবে (ব্লিচ 😛 )। সেই দিক থেকে World Trigger এর ফাইটগুলা ইন্ডিভিজুয়াল স্ট্রেংথ এর থেকে টিম ওয়ার্ক আর স্ট্র্যাটেজির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং আর আনপ্রেডিক্টেবল।

জাম্পের কিছু সিরিজ স্লো স্টারটার। শুরুতে আহামরি না লাগলেও একটা সময় যেয়ে ঠিকই জনপ্রিয়তা পায়। এই সিরিজটাও তেমন। World Trigger নিয়ে আরও অনেক কিছুই বলা যাবে, কিন্তু এই ভিডিওটা দিয়ে পোস্টটা আপাতত এখানেই শেষ করলাম। Happy Watching!

I Had That Same Dream Again [মাঙ্গা রিভিউ] — Rafid Rafsani

♪♪♪ Happiness doesn’t walk to you ~
that’s why you walk towards it ~ ♪♪♪
 
“What is happiness to you?” খুবই সাধারণ একটি প্রশ্ন কিন্তু মানুষ ভেদে প্রত্যেকেরই উত্তর ভিন্ন। কারো কাছে পছন্দের খাবার খাওয়াই সুখ,কারো জন্য পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোই সব।আবার কেও কেও একাএকা নিজের পছন্দসই কাজ করাকেই প্রকৃত সুখ মনে করে।
এই বিষয় নিয়েই জনপ্রিয় ” I Want to Eat Your Pancreas” এর লেখকের লেখা মাংগা “I had that same dream again”. ১২ চ্যাপ্টারের মাংগাটার মাইএনিমেলিস্টে stats দেখলাম মাত্র ৪৯০০ মেম্বার। তাই ভাবলাম একটা রিভিও লিখেই ফেলি। মাত্র ১২ চ্যাপ্টার অনুযায়ী আমি বলবো, Worth to give a try.
 
Story:
মাংগাটির কাহিনি আগায় চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী Nanoka কে নিয়ে।যার স্কুল থেকে কাজ দেয় “what is happiness” এই প্রশ্নের উপর এসাইনমেন্ট। Nanoka তার পরিচিতদের সাথে এই “সুখের প্রকৃত সংগা ” খুজে বেড়ায়। তার পরিচিত মানুষ গুলা কিন্তু পরিবার অথবা স্কুলের বন্ধু নয়।তিনজন ভিন্ন বয়সের মানুষ। তাদের একজন অবসর সময়ে পরিত্যাক্ত বিল্ডিং এ হাত কেটে “কোনো বিষয় অনুভব” করতে চাওয়া হাইস্কুল ছাত্রী Minami-san.যে মা-বাবা মারা যাওয়ায় বিষন্নতায় একা দিন কাটায়। আরেকজন হাসি-খুশি ও প্রাণ-চঞ্চল Azumaboto-san. যে রাতে “অনৈতিক কাজ” করে অর্থ উপার্যন করে।কিন্তু সরল মনের Nanoka কে তার কাজ জানাতে চায় না।সবশেষে নির্জন পাহাড়ে একা থাকা Granny.যার পরিবারে কেউ নেই, একাই জীবনের শেষ সময় কাটাতে ব্যাস্ত।
এই তিনজন ভিন্ন শ্রেনীর মানুষই নানোকার বন্ধু।যারা জীবনের উপর প্রায় আশা হারিয়ে ফেললেও ও নানোকার সাথে ভালো সময় কাটায়। নানোকা আজুমাবতো-সানের সাথে অথেলো খেলে এবং স্ন্যাকস খেয়ে,মিনামি-সানের লেখা গল্প পড়ে কিংবা গ্র্যানির কুকি খেয়ে তাদের সঙ্গ উপভোগ করে।
মাংগাটি বেশ সুন্দর ভাবে চরিত্র গুলোর নিজস্ব হ্যাপিনেসের কথা তুলে ধরেছে। ৪ জনেরই ভিন্ন বয়স ও ভিন্ন জীবন। কিন্তু বয়স ও জীবন নির্বিশেষে সময়ের সাথে কিভাবে সুখের ধারনা পালটে যায় এইটাই মাংগার মূল বিষয়। পাশাপাশি নানোকার বন্ধুরা জীবন সম্পর্কে তারচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ হওয়ায়, প্রিয়জনদের ক্ষতি, কোনও সুযোগ নিতে ব্যর্থ হওয়া, কৃতিত্ব ত্যাগ করা, সাহস গড়ে তোলার ভয় ইত্যাদি বিষয়ের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। যার ফলে নানাকার যেকোনো সমস্যায় তারা নিজেদের জিবনের ব্যর্থতা থেকে পাওয়া শিক্ষা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যেন নানোকার পরিণতি তাদের মতো না হয়।
তবে মাংগার আকর্ষনীয় দিক ছিলো, এই চারজনের মধ্যে একটা অদৃশ্য মিল।যেটা শুরু থেকেই কিছুটা ধরা গেলেও, মাঝখানে এসে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়।এবং শেষে সম্পূর্ণ ব্যখ্যা পাওয়া যায়।এই হালকা প্লট টুইস্টটা জানার পর পুরো মাংগাটা অন্যরকম ভালো লাগবে সবার কাছে।
 
Art:
আর্ট নিয়ে আমার নিজেরই ধারনা কম তবে আর্ট স্টাইল ভালোই লেগেছে।Character design আর expression গুলা বেশ ভালো ছিলো।
Character:
মূল চরিত্র নানোকা ছোট হলেও বয়সের তুলনায় চিন্তা ভাবনা বেশ উন্নত। তার catchphrase কথা গুলা বেশ ভালো লেগেছে:
Life is like a japanese bento, you can’t put everything you want inside it.
Life is like a refrigerator, you can forget about onions but you can’t forget the cake.
Life is like a pudding, you might like the sweet part but you also have to eat the bitter part too.
 
এই রকম তার আরো কিছু কথা জীবনকে অন্যভাবে ভাবানোর মতোই। Side character দের ছোয়ায় তার বেশ ভালো ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টও হয়।
 
Enjoyment:
মাংগাটা আসলেই অনেক ভালো লেগেছে না হয় রিভিও লেখার সাহস করতাম না। চরিত্র গুলার পাশাপাশি নিজের জীবনের সুখ নিয়েও বেশ ভাবিয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছুই ভালো লেগেছে। তাই সবাইকেই বলবো একবার পড়ে দেখতে।
 
Title: Mata, Onaji Yume wo Miteita
English: I had that same dream again
Genre: Drama, Psychological, Slice of life
MAL rating: 8.44
MAL ranking: #147
Anilist rating: 85%
Anilist ranking: #112
Personal rating: 9
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #43

আনিমে: Mononoke

জানরা: মিস্টেরি, হরর, সাইকোলজিকাল, হিস্টোরিকাল, সেইনেন
এপিসোড সংখ্যা: ১২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/2246/Mononoke
 
আনিমেটি আগের দিনের জাপান ও যুগ যুগ ধরে চলে আসা নানা জাপানী উপকথাকে আশ্রয় করে বানানো হয়েছে। জাপানী লোকমুখে আছে যে, মানুষের মনের সুপ্ত ইচ্ছা ও Negative চিন্তাভাবনার উপর ভর করে সৃষ্টি হয় “মনোনোকে” নামক এক প্রকার আধিভৌতিক কিছুর। গল্পের নায়ক এক “ঔষধ বিক্রেতা”। তার কাছে রয়েছে এই মনোনোকেদের শেষ করবার জন্য একটি বিশেষ তরবারি। কোন মনোনোকের Form, Truth, আর Regret জানতে পারলেই সে ঐ তরবারি প্রয়োগ করতে পারে। গল্পের পাঁচটি ভাগের প্রতিটিতে সে একেকটি জায়গায় উপস্থিত হয়ে একটি মনোনোকে সম্পর্কে ঐ তথ্যগুলি বের করে তার বিনাশ করে।
 
আনিমের আর্টস্টাইল, গল্প বলবার ধরণ, সাউন্ড ইফেক্ট – সব জায়গায় একটি অনন্য সৃষ্টিশীলতার ছোঁয়া আছে, যা খুবই বিরল। সুনিপুণ ডিরেকশনের দ্বারা একটি ভৌতিক ও রোমাঞ্চকর পরিবেশের সৃষ্টি করা হয়েছে। এতো সুন্দরভাবে গল্পটি বলা হয়েছে আর দেখানো হয়েছে যে আপনার মনে হতেই পারে এই গল্পের জন্য এটাই আদর্শ। গল্পের একেকটি ভাগে মানুষের মনের ও তৎকালীন সমাজের নানা কুৎসিত দিক উঠে এসেছে। এছাড়া এপিসোড শুরুর গানটি খুব ভালো।
 
গল্পের পরিবেশনে একটু নন-লিনিয়ার আর পাজলের মত স্টাইল অনুসরণ করা হয়েছে। তাই মনোযোগ দিয়ে না দেখলে বুঝার ফাঁক থেকে যেতে পারে। আমি পরামর্শ দেব একটি ভাগ (arc) একেবারে দেখতে। বুঝার সমস্যা হলে কিছু অংশ আবার দেখতে, বা নেটের সাহায্য নিতে।
 
একটি ইউনিক ও সৃষ্টিশীল আনিমের খোঁজে থাকলে এটা অবশ্যই দেখবেন। হরর আর মিস্টেরি জানরার ভক্তদেরও এটা ভালো লাগবে। ও আরেকটা কথা, এই আনিমে দেখার জন্য এটার প্রিকুএল আনিমে (আয়াকাশি) না দেখলেও চলে।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #42

আনিমে: Log Horizon
জানরা: ফ্যান্টাসি, গেম, একশন, এডভেঞ্চার
এপিসোড সংখ্যা: ২৫ + ২৫ + ১২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/17265/Log_Horizon
 
জনপ্রিয় রোল প্লেয়িং গেম “এল্ডার টেইল” এর বেশ কিছু প্লেয়ার হঠাত একদিন তাদের প্রিয় গেমের জগতের ভিতরে চলে যায়। লগ আউট করার অপশন না থাকায় তৎক্ষণাৎ ওদের নিজেদের জগতে ফেরার কোন উপায় থাকে না। তারা অনুভব করে যে, এই গেমের জগতটা এখন তাদের কাছে নিজের জগতের মতই বাস্তব। গেমে যারা ছিল নন প্লেয়িং ক্যারাকটার (NPC), তারা এখানে নিজেদের “পিপল অফ দা ল্যান্ড” বলা রক্তমাংসের মানুষ। এভাবেই শুরু হয় গল্পের নায়ক শিরোয়ে ও বাকি সবার এই নতুন জগতে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর ও পিপল অফ দা ল্যান্ড-দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সংগ্রাম। একই সাথে চলতে থাকে ওদের নিজেদের জগতে ফিরবার পথের অনুসন্ধান।
 
সেটিং দেখেই অনেকের বাদ দেওয়ার ইচ্ছা চাগাড় দিয়ে উঠতেই পারে। কিন্তু আসলে এই সেটিং-এর মধ্যেও কী নিপুণভাবে গল্পের এক্সিকিউশন হয়েছে তাই দেখবার বিষয়। সাধারণ দু-দশটা গল্পের মত এইটাতে গল্পের নায়ক মোটেই মন্সটার মারা আর হারেম বানানোর দিকে মনোযোগ দেয় না। বরং একেবারেই জীবনমুখী ও লজিক্যাল সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করে। যেমনঃ নতুন জগত সম্বন্ধে প্রথমেই তথ্য অনুসন্ধান করা, নিজেদের থাকার জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, অন্যান্য প্লেয়ারদের সাথে আর পিপল অফ দা ল্যান্ড-দের সাথে বিভিন্ন চুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করা, এবং নিজেদের জগতে ফেরার উপায় খোঁজা। নায়কের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কাজের মধ্যেই যুক্তি আছে, যা দেখে যে কারোরই ভালো লাগার কথা। ও আর আনিমেটির ওপেনিং গানটি অসাধারণ।
 
ফ্যান্টাসি আর গেমনির্ভর উঁচুমানের আনিমের খোঁজে থাকলে অবশ্যই দেখবেন।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #41

আনিমে: Giant Killing

জানরা: স্পোর্টস, ড্রামা, সেইনেন
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/7661/Giant_Killing
 
জাপানিজ সকার লীগের এককালের শক্তিশালী দল ইস্ট টোকিও ইউনাইটেড (ইটিইউ) কয়েক বছর ধরেই খুব বাজে পারফরম্যান্স করে আসছে। প্রথম সারির দল থেকে নিচে নামার দ্বারপ্রান্তে থাকা টিমের ম্যানেজম্যান্ট এক শেষ চেষ্টা হিসেবে তাতসুমি তাকেশি নামের একজনকে ইংল্যান্ড থেকে ধরে এনে ম্যানেজার হিসাবে নিয়োগ দেয়। গল্পের নায়ক এই তাতসুমি, ইটিইউ এর প্রাক্তন খেলোয়াড় ছিল। ইটিইউ সাফল্যের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় সে কোন এক কারণে দল ত্যাগ করে ইংল্যান্ডে চলে যায়। এর পর থেকে ইটিইউ আর উঠে দাঁড়াতে পারছে না। শুরুতে তাই দলের অনেক সদস্য আর পুরানো ভক্তরা ওকে মেনে নিতে পারেনি। কিন্তু তাতসুমি ওর অভিনব কোচিং স্টাইল আর ভালো ফলাফলের জোরে ধীরে ধীরে এই অবস্থায় পরিবর্তন আনতে থাকে। তাতসুমির নেতৃত্বে পুনরুজ্জীবিত ইটিইউ একের পর এক লীগের লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকা দলগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে থাকে।
 
ভিজুয়াল, সাউন্ড, আর্ট, তথা সবমিলিয়ে প্রোডাকশন কোয়ালিটি বেশি না হলেও আনিমেটির গল্পই এর আকর্ষণ। রিয়ালিস্টিক আনিমেটিতে প্রফেশনাল ফুটবলের জগত সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা পাওয়া যায়। প্রতিটা ম্যাচ হয় দারুণ গেম স্ট্র্যাটেজির উপর ভিত্তি করে। জমজমাট উত্তেজনায় সময় পার হয়ে যায় নিমেষেই।
 
স্পোর্টস আনিমে ভক্তরা এইটা নিশ্চয়ই দেখবেন। আর সামনের গল্প জানতে মাঙ্গাও পড়ে দেখতে পারেন।
 

How to Fight [ওয়েবটুন রিভিউ] — Md. Anik Hossain

ভিডিও ব্লগিং বা Vlogging হাল আমলের তুমুল জনপ্রিয় জিনিস। বিশেষত ভিডিও আপলোড করে অর্থ উপার্জনের দুয়ার খুলে যাওয়ায় অনেকে জীবিকার পথ হিসাবেই বেঁছে নিয়েছে এটা। যা একটি বৈপ্লবিক ব্যাপার। ইউটিউব, বা চীনের উইবু এর মতো প্লাটফর্ম এই বিপ্লবে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। শুধু যে অর্থ আয়ের রাস্তা তা নয়, রীতিমতো সেলিব্রেটি বনে গেছে অনেকে ভিডিও ব্লগিং করে। তো ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে পয়সা, খ্যাতি অর্জন নিয়ে চমৎকার একটা ওয়েবটুন/মানহোয়া রয়েছে। নাম How to Fight.
 
☆কাহিনী সারসংক্ষেপ✰
হবিন এক গরিব হাই স্কুল পড়ুয়া ছেলে। দুর্বল হবিনের উপর সহপাঠীদের bullying চলে। চুপচাপ সহ্য করে গেলেও একদিন সহ্যের বাধ ভেঙে একজনের সাথে মারামারি লেগে যায়। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে এই মারামারির দৃশ্য লাইভ ভিডিও আকারে আপলোড হয়ে যায়। আর এতেই সে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে উঠে! এরপর সেই ভিডিও কে কাজে লাগিয়ে নতুন চ্যানেলকে আরো জনপ্রিয় করার মনস্থির করে হবিন। যাতে প্রত্যক্ষভাবে উৎসাহ যুগিয়েছে টাকা আয়ের বাসনা। সিদ্ধান্ত নেয় মারামারির ভিডিও আপলোড করেই চ্যানেলটা গড়ে তুলবে। কিন্তু দুর্বল ছোট্টখাট্টো হবিন এর সাথে আর যাই হোক মারামারির ব্যাপারটা যায় না। তাই ইউটিউব থেকেই ঘরোয়া উপায়ে মারামারি শিখার টিউটোরিয়াল দেখে ভ্লগিং করার খোঁজ চালায় সে। এরপর যা হয় তা বললে স্পয়লার হয়ে যাবে মনে হয়। তাই বেশি কিছু বললাম না।
মানহোয়ার আর্ট খুব নজরকাড়া। মুখের অভিব্যক্তিগুলো তো দেখার মতো। উদাহরণ হিসাবে ৩য় ছবিটি দেখুন। চরিত্রগুলোর বিকাশ বেশ ভালো লাগছে এখন পর্যন্ত। মানহোয়াটার মূল আকর্ষণ এটার মারামারির দৃশ্যগুলি। মজার ব্যাপার হলো, মারামারিতে বাস্তব মার্শাল আর্ট / স্পোর্টস এর বিভিন্ন রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। মার্শাল আর্ট নিয়ে আগা-মাথা কিছু না জানলেও মারামারিগুলো দেখতে চরম আকর্ষণীয় লাগে। সম্প্রতি Line Webtoon থেকে ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করা শুরু হয়েছে Viral Hit নামে। কিন্তু শুনেছি অনুবাদ সুবিধার না। PH Scans, Death Troll স্ক্যানলেশন গ্রুপের ব্যানারে ৫৮ টা চাপ্টার বের হয়েছে এখন পর্যন্ত। তাদেরটা পড়ে দেখতে পারেন।
অতিরিক্ত তথ্য- এই ওয়েবটুন এর স্রষ্টা এর আগে জনপ্রিয় Lookism সিরিজটা তৈরি করেছেন।