Sakib’s Hidden Gems – Episode #48 [Movie Special]

Giovanni no Shima
https://myanimelist.net/anime/19115/Giovanni_no_Shima
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর জাপান এই কাহিনীর প্রেক্ষাপট। রাশিয়ার দখলকৃত শাখালিন (জাপানী ভাষায় কারাফুতো) দ্বীপে বসবাসকারী কিছু অভাগা জাপানী ও তাদের সাথে রাশিয়ানদের বিনিবনা নিয়ে এই গল্প এগিয়েছে। গল্পের কিছু রোমান্টিক দিক ফোরসড লাগলেও হিস্টরিকাল আনিমে ভক্তদের এটা দেখা উচিত।
 
Shikioriori
https://myanimelist.net/anime/37396/Shikioriori
 
কমিকস ওয়েভ স্টুডিওর চোখধাঁধানো ভিজুয়াল আর হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কয়েকটি ছোটগল্পের মিলনে এই মুভিটি। সবাই দেখবেন কিন্তু।
 
Omoide Poroporo
https://myanimelist.net/anime/1029/Omoide_Poroporo
 
আমার ফেভারিট মুভি এটা। এই মুভিতে স্টুডিও ঘিবলি তাদের চিরাচরিত হাসিখুশি ফ্যান্টাসি থেকে সরে এসে বেশ ম্যাচিওর থিমের, পুরোই বাস্তব ও জীবনধর্মী কিছু বানিয়ে দেখিয়েছে। গল্পের চরিত্রায়ন, ম্যাসেজ, আর এন্ডিংটা এক্কেবারে নিখুঁত। অবশ্যই অবশ্যই দেখবেন।
 
Kaijuu no Kodomo
https://myanimelist.net/anime/5655/Kaijuu_no_Kodomo
 
অত্যন্ত নান্দনিক ভিজুয়াল এইটার। মনে হবে যেন ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখছেন। গল্পটা একটু ডীপ। পুরো সৃষ্টিজগতের রহস্য আর মহাবিশ্বের সাথে মানুষের যোগটা কোথায় – এটাই এই আনিমের আলোচ্য বিষয়। এটা সবার ভালো লাগবেনা। তবে এই বর্ণনা পড়ে যদি দেখতে ইচ্ছে করে তো অবশ্যই দেখবেন।
 
Flanders no Inu
https://myanimelist.net/anime/2623/Flanders_no_Inu_Movie
 
গ্রেভ অফ ফায়ারফ্লাইজ দেখে যেরকম কষ্ট লাগে, এইটা দেখেও সেইরকম কষ্ট লাগে। ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের এক গরিব দুর্ভাগা বালক আর তার সাথী কুকুরের মর্মান্তিক জীবনকাহিনী এটা। দুঃখের কিছু দেখার মুড আসলে দেইখেন।
 
Steamboy
https://myanimelist.net/anime/565/Steamboy
 
স্টিমপাঙ্ক, ছিমছাম ভিজুয়াল, আর জুলভার্নের থিমওয়ালা সাইফাই ভালো লাগলে এইটাও খুব এঞ্জয় করবেন আপনারা। বেশ গতিময় ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হবে এটি দেখলে।
 
Kaguya-hime no Monogatari
https://myanimelist.net/anime/16664/Kaguya-hime_no_Monogatari
 
আর্টস্টাইলের দিক দিয়ে এটি একটি অনন্য ঘিবলি মুভি। শিশুতোষ রুপকথা এখানে প্রাণ পেয়েছে নান্দনিক স্কেচবুক ধাঁচের আর্টে। গল্পটাও খুব সুন্দর আর শিক্ষণীয়।
 
Pom Poko
https://myanimelist.net/anime/1030/Heisei_Tanuki_Gassen_Ponpoko
 
আমার মতে এটা ঘিবলি মুভির মধ্যে প্রচুর আন্ডাররেটেড। উপর থেকে দেখলে বাচ্চাদের জন্য উপযোগী ফ্যান্টাসি মনে হলেও এই গল্পের কিন্তু বেশ শিক্ষণীয় অন্তর্নিহিত ম্যাসেজ আছে। বেশ ইমোশনাল ও হৃদয়স্পর্শী এই মুভিটি সবাই দেখবেন।
 
Colorful
https://myanimelist.net/anime/8142/Colorful_Movie
 
বেশ জীবনধর্মী ও শিক্ষামুলক একটি গল্প। একটি কিশোর কী কারণে আত্মহত্যা করতে পারে আর কী করে একটি আপাত বিষাদময় জীবনকেও সুখী ও সুন্দর করে তোলা যায় – তা এই মুভিতে তুলে ধরা হয়েছে।
 
Kono Sekai no Katasumi ni
https://myanimelist.net/anime/15227/Kono_Sekai_no_Katasumi_ni
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে একটি জাপানী পবিবারের কাহিনী এটি। যুদ্ধের ভয়াবহ দিক ও তা থেকে মানুষের উঠে দাঁড়ানোর আরেকটি যুদ্ধ এই মুভিতে শক্তিশালী লেখনীর দ্বারা ফুটে উঠেছে কোন রাখঢাক ছাড়াই। আর্টও নয়নাভিরাম।
 

Maquia: When the Promised Flower Blooms [মুভি রিভিউ] — Md. Anik Hossain

Iorph – এক পৌরাণিক জাতিবিশেষ। অন্য মানুষদের থেকে যারা একটুখানি আলাদা। স্বাভাবিকের থেকে যারা বাঁচে অনেক বেশি বছর। তাদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিও তাই ঘটে খুবই ধীরে ধীরে। ফলে শত শত বছর যাবত্ তারা যেন ধরে রাখে নিজেদের তারুণ্য। মানব সভ্যতা থেকে দূরে পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা প্রত্যন্ত কিন্তু অপার সৌন্দর্যে ঘেরা ছোট্ট একটা গ্রামে তাদের বসবাস। চিরযৌবনা এ জাতির জীবন আবর্তিত হয় “হিবিওল” নামের তাঁতের এক বিশেষ মিহি কাপড় বুনে। তাঁতের বুননে বুননে তাদের ইতিহাস, ধর্মবিশ্বাস ,সংস্কৃতি ফুটে উঠে। নিজেদের মনের ভাষা পর্যন্ত এই কাপড়ের মাধ্যমে আদান-প্রদান করার কৌশল রপ্ত করেছে তারা। আর তাদের ই একজন Maquia. লাজুক, একাকী এতিম কিশোরী মেয়ে। গ্রাম প্রধানের আশ্রয়ে থাকে আর তার ছোটো-খাটো কাজে সাহায্য করে। একাকীত্বে ভোগা মাকিয়া দেখতে চায় এই জগত্টাকে, অনুভব করতে চায় অকৃত্রিম ভালো লাগার। কিন্তু গ্রাম প্রধান তাকে নিষেধ করে বাইরের জগতের মানুষের সাথে মিশতে, তাদের ভালোবাসতে। কারণ সেই মানুষগুলো মরে যাবে দীর্ঘজীবি Iorph দের তুলনায় অনেক আগেই। তখন প্রিয় মানুষগুলো হারিয়ে যাবে এক এক করে। অথচ Iorph রা থেকে যাবে প্রায় অনন্ত সময় ধরে। হারানোর এই ব্যাপারটি শুধু কষ্টই দিয়ে যাবে… সৃষ্টিকর্তা যেন Iorph দের এভাবেই তৈরি করেছে।
 
মাকিয়া ও অন্যান্য Iorph রা সুখে শান্তিতেই বাস করছিল। ছবির মতো সুন্দর জনপদ আর আছে অপূর্ব কাপড়। যার কদর চারিপাশজুড়ে। কাপড় বিক্রি করেই মিটে যায় পেশা নির্বাহের কাজ। কিন্তু কোনো সুখ চিরস্থায়ী নয়। Iorph দের এই চিরযৌবনের দিকে নজর পড়ে Mezarte রাজ্যের রাজার। সেই কুনজরে এক রাতে পুরো Iorph দের গ্রামে নেমে আসে ধ্বংসলীলা। অধিকাংশ Iorph মারা যায় ড্রাগনের পিঠে চরে আসা রাজকীয় বাহিনীর হাতে, নয়ত ধরে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীতে। কিন্তু কোনো এক ভাবেই হোক , মাকিয়া সেই নারকীয় অবস্থা থেকে বেঁচে যায় আর এক বনে এসে উপস্থিত হয়। কিন্তু পুরো গ্রামকে হারিয়ে ভেঙ্গে পড়ে মাকিয়া….. আর উঁচু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার জন্য উদ্যত হয়, ঠিক তখন ই বনের অদূরে ভেসে ওঠে এক বাচ্চার কান্নার আওয়াজ। হতোদ্যম মাকিয়া এগিয়ে যায় কান্নার উত্সের দিকে, আর এক তছনছ করা বসতিতে খুঁজে পায় একটি শিশুকে… মৃত মা শেষপর্যন্ত তার জীবন দিয়ে রক্ষা করেছে কলিজার টুকরো ঐ বাচ্চা শিশুটিকে। প্রথম নজরেই ছোট্ট এই বাবুর প্রতি মমতা অনুভব করে মাকুয়া। তারপর উদ্ধার করে খুঁজে পাওয়া অনাথ এই শিশুকে সাথে করে নিয়ে যায় আরেক অনাথ মাকিয়া। অতঃপর নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে মাকিয়া খুঁজে পাওয়া সেই বাবুকে নিজের সন্তানের মতো বড় করতে থাকে। কিন্তু সেই মা নিজেই মনের দিক থেকে শিশুশুলভ, সে কীভাবে আরেক শিশুকে লালন পালন করবে? তারচেয়েও বড় কথা – একদিন এই বাচ্চাটি বড় হবে, নিজের সন্তানের বাবা হবে, বৃদ্ধ হবে, একদিন চোখের সামনেই মারা যাবে। কিন্তু শত শত বছর ধরে বাঁচতে সক্ষম Maquia চিরদিন দেখতে একই রকম থেকে যাবে, দিন পেরিয়ে বছর যাবে, তবুও বাহ্যিক কোনো পরিবর্তন তাকে ছুঁতে পারবে না। একদিন সে বেঁচে থাকবে, কিন্তু প্রিয় সন্তান আর অন্যেরা তাকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যাবে। মূলত এমন বাস্তবতাকে ঘিরেই এগিয়ে যায় এই বছর মুক্তি পাওয়া এনিমে মুভি “Maquia : When the Promised Flower Blooms” এর কাহিনী।
উপরের অংশটিতে মূলত মুভি নিয়ে একটু জানানোর চেষ্টা করেছি, আরো ছোটো করে লিখতে চেয়েছিলাম তবে সহজ করে বর্ণনা করতে গিয়ে একটু বড় হয়ে গেল। তবে মুভির পটভূমি নিয়ে আজকের লেখাটা নয় প্রধানত। ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণ, ভালো লাগা-মন্দ লাগা নিয়ে অল্প-স্বল্প লিখব নির্দিষ্ট করে বললে।
 
মুভিটা সম্পর্কে প্রথম জেনেছিলাম অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড অঞ্চলে এনিমে ডিস্ট্রিবিউটর Madman Entertainment এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে, সেখানে মুভির ট্রেইলারটা দেখে বড়ই সন্তুষ্ট হয়েছিলাম। তয় অনলাইনে তখনো আসেনি তাই সেসময় দেখতে পারিনি।এই ৬-৭ মাসে প্রায় ভুলেই গেছিলাম এটার কথা। কিন্তু দিন কতক আগে দেখলাম ইতোমধ্যেই অনলাইনে এসে গেছে! কেন যেন এতদিন চোখে পড়েনি এটা। দীর্ঘসূত্রিতা না করে তত্ক্ষণাত্ নাফিয়ে ফেলি পুরো মুভি। আর আজ শুক্রবার বন্ধের সকালে নাশতা খাওয়ার পরই দেখতে বসে যাই। প্রায় দু’ঘন্টার এক চমত্কার মুভি উপভোগ করলাম তা নিঃসংকোচে বলা যায়।
 
 
প্রথমত, মুভির visual ছিল এক কথায় দারুণ! P.A. Works কে ধন্যবাদ দিতে হয় এজন্য। তবে ক্যারেক্টার ডিজাইনগুলো কোনো এক কারণে খুব বেশি আকর্ষণ করেনি আমাকে। বিশেষত মাকিয়া এর ডিজাইন। হতে পারে চিরায়ত চোঁখা চোঁখা আকৃতির মুখ দেখতে দেখতে গোলগালা ডিজাইনের সাথে মানিয়ে নিতে পারিনি। কিন্তু এটুকু বলতে পারি কিছু কিছু দৃশ্যে সাইডের দিক থেকে মাকিয়া এর চেহারা খুব বেমানান ছিল। এক্ষেত্রে সম্ভবত উন্নতি করার সুযোগ ছিল। যাই হোক, সব দিক বিবেচনায় আমি ৯/১০ দিব এনিমেশন আর্টওয়ার্ক বিভাগে। এই বিভাগটি যদিও একান্ত ব্যক্তিগত ভালো লাগার জিনিস। হতে পারে ওভাররেটিং করছি, তবে মনে করি কেউ আশাহত হবেন না মুভির এনিমেশন দেখে।
 
দ্বিতীয়ত, মুভির পটভূমি ছিল আগ্রহজাগানিয়া, কাহিনী প্রবাহও বেশ স্মুথ লেগেছে। এখানে একটা বিষয় বলে রাখি, টাইম স্কিপের একাধিক দৃশ্য ছিল। যার বেশিরভাগ খাপ ছাড়া লেগেছে। টাইম স্কিপগুলো আরো ভালো করতে পারত।একেবারে খারাপ লেগেছে তা নয়, কিন্তু আহামরি ছিল না। ডিরেক্টর ও একইসাথে রাইটার হিসেবে মারি ওকাদা এর প্রথম মুভি ছিল এটি। আশা করি ভবিষ্যতে আরো জোড় দিবেন টাইম স্কিপিং এর ব্যাপারটাতে। সামগ্রিকভাবে এই ডিপার্টমেন্টে ৮/১০ দিব।
 
তৃতীয়ত, ইমোশনাল ব্যাপার নিয়ে আমার আলাদারকম দূর্বলতা আছে। আর এক্ষেত্রে মুভির আবহ, চরিত্রগুলোর মধ্যে মিথস্ক্রিয়া,বাস্তবতার নিরিখে মাকিয়া ও তার ছেলের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট টানাপড়েন খুব বাস্তবসম্মত লেগেছে। প্রচন্ড রকম ইমোশনাল ছিল। মুভি শেষে চোখ ভিজে গিয়েছিল একদম। অবশ্য অনেক ক্ষেত্রেই দূর্বল চরিত্রায়নও চোখে লেগেছে। কয়েকটা চরিত্রকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। রাজার সেনাপ্রধানের কথা এ ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে। এখানে আমি কোনো রেটিং দিব না কিছু সংগত কারণে।
 
চতুর্থত, মুভিতে গান না থাকলে হয় নাকি :v ? Ending সাউন্ডট্র্যাক টা অসাধারণ ছিল! একদিকে প্রাণ জুড়িয়ে দিচ্ছিল পিয়ানোর বাজনায় সুরেলা কন্ঠের গানটা। অন্যদিকে চোখের কোণে অনবরত পানি ঝরছিল গানটা শুনে। কোনো এক শূন্যতা অনুভূত হচ্ছিল। যদিও বাকি মুভিতে উল্লেখ করার মতো আর কোনো গান বা এজাতীয় কিছু ছিল না। মোটমাটে ৮/১০ দিব মিউজিকে। আর হ্যা ভয়েস কাস্টিং কিন্তু ভালো লেগেছে খুব। মাকিয়া এর কন্ঠ যে কী মিষ্টি লেগেছে! বলে বোঝানো যাবে না।
 
সব দিক বিবেচনায়, ৯/১০ দিব ফাইনাল স্কোর হিসাবে (মুভিতে আমি এক ধাপ বেশিই রেটিং দেই অবশ্য)।
 
সবশেষে এটাই বলব, আমার মতে এটা ২০১৮ সালে বের হওয়া সবচেয়ে সেরা এনিমে মুভি। এটা হয়ত কোনো কিংবদন্তীতুল্য মুভি নয়, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ এনিমে মুভিগুলোর একটি নয় কিন্তু নিঃসন্দেহে চমত্কার একটা মুভি। মায়ের মমতা, সমাজ বাস্তবতা নিয়ে এরকম মুভি খুব বেশি আছে বলে বোধ করি না। যারা Wolf Children দেখেছেন এবং পছন্দ করেছেন, তারা খুব উপভোগ করবেন আশা করি। এত সুন্দর একটা মুভি অথচ এটা নিয়ে এনিমে গ্রুপগুলোতে সাড়া শব্দ নেই তেমন। ব্যাপারটি খুব হতাশাজনক। Kimi no na wa আর Koe no Katachi পরবর্তী কোনো মুভি নিয়েই কোনো হইচই দেখি না।
 
তো আপনারাও দেরী না করে দেখে ফেলুন “Maquia : When the Promised Flower Blooms”…..
 
একটা শেষ কথা , ফ্যান্টাসি-ড্রামার এই মুভি তে ন্যুডিটি, সেক্সুয়াল সিনারি নেই। ফলে পরিবার পরিজন সকলকে নিয়ে নিশ্চিন্তে উপভোগ করার মতো আদর্শ এক মুভিটা।
 
তো আজ এটুকুই থাকুক।
Happy anime watching!

Made in Abyss Movie 3: Dawn of the Deep Soul [শর্ট রিয়েকশন] — Shifat Mohiuddin

মেইড ইন অ্যাবিস বের হয়েছিল সেই তিন বছর আগে, ২০১৭ সালে। দেখেছিলাম সেই বছরেই, তিন বছর পরে যখন এই সিকুয়েল মুভিটা দেখতে বসলাম তখন দেখা গেল এনিমের ভেতরকার অনেক তথ্যই ভুলে বসে আছি।
তবে এতদিন পরে সিরিজটার সংস্পর্শে যাওয়ার পরেও বুঝতে সমস্যা হয় নি তেমন। মুভিটাতে ফিফথ লেয়ারে পৌছানোর পর রিকো আর তার গ্যাংয়ের ফিফথ লেয়ারের sovereign ব্নড্রেডের সাথে কাহিনী দেখানো হয়েছে, যে জিনিসটাকে সিরিজের শেষ পর্বগুলাতে দারুণভাবে বিল্ডআপ করা হয়েছিল।
তো তিন বছর অপেক্ষার পর এই বিল্ডআপ বৃথা যায় নি। মুভিটা সিরিজের নান্দনিকতাকে ধরে রাখতে পেরেছে পুরোপুরি। অ্যানিমেশন খুবই ভাল ছিল, সিরিজে প্রথম দিকের লেয়ারগুলায় তাদের অ্যাডভেঞ্চার দেখানোতে সবুজের অনেক অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু এই ফিফথ লেয়ার মারাত্মক কর্কশ একটা জায়গা, প্রাণের ছিটেফোঁটা সেখানে অল্পই আছে। তো পরিবেশ এভাবে বদলে যাওয়ার পরেও Kinema Citrus তাদের মুন্সিয়ানা ঠিকই দেখিয়েছে।
সাউন্ডট্র্যাক আগের মতই সেরা ছিল। কেভিন পেনকিনের জাদু আবার টের পাওয়া গেছে, শিল্ড হিরোতে জিনিসটা পাই নি তেমনভাবে। সিরিজের আগের ওএসটি Hanezeve কে আরো এপিকভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। আর যে মুহূর্তে ট্র্যাকটা বাজানো হয়েছে সেটার আর কথা আর নাই বললাম।
সবশেষে আসি কাহিনীতে। এখানে কিছু বললেই স্পয়লার হয়ে যাবে। তবে এটুকু আশ্বাস দিতে পারি দর্শকরা সিরিজ দেখে যে অনুভূতিগুলার ছোঁয়া পেয়েছিলেন সেই অনুভূতিগুলো মুভিটাও আপনাদের সরবরাহ করবে। MIA এর ট্রেডমার্ক কাহিনীর হুট করে ডার্ক টার্ন নেয়াটা এখানে একেবারেই শুরু থেকে আছে। রিকো-রেগু-নানাচিদের সাথে আপনিও হাসবেন আর কাঁদবেন মুভি দেখার সময়।
১০ এ সলিড ৮.৫ দিলাম মুভিটাকে ব্যক্তিগত জায়গা থেকে। ৯ দিতাম যদি কাহিনীটা আরেকটু কম প্রেডিক্টেবল হতো।
দারুণ ব্যাপার হলো ১০৪ মিনিটের এত দারুণ একটা সিকুয়েলের পরেও সিরিজটার সাসপেন্স একটুও কমে নি। অ্যাবিসের রহস্য যেন শেষ হওয়ার নয়, মুভি শেষ হওয়ার পর আপনার মনে প্রশ্নের সংখ্যা না কমে বরং বাড়বে। এত এত রহস্য রেখে যায় বলেই সিরিজটার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করা স্বার্থক।
 

উচিয়াগে হানাবি ও কিছু অসংলগ্ন চিন্তাভাবনা — Shifat Mohiuddin

Uchiage Hanabi, Shita kara Miru ka? Yoko kara Miru ka?
 
Warning! পুরো পোস্টটাই একটা স্পয়লার।

উচিয়াগে হানাবি ও কিছু অসংলগ্ন চিন্তাভাবনা:
 
উচিয়াগে হানাবি মুভিটা আমি দেখেছিলাম সেই ২০১৮ সালে। বের হওয়ার পর যখন নেটে আসলো তার পরপরই দেখেছিলাম বলা চলে। দেখার পর স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম দেড় ঘন্টা সময় নষ্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে কেন এতদিন পরে পুরনো জিনিসকে টেনে আনা!
কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখলাম মুভিটার সাথে আমার কোন এক ধরণের আত্মার সংযোগ রয়েছে। হ্যাঁ, সিরিয়াসলিই বলছি। এনিমের সাথে আত্মার সংযোগ হওয়া সম্ভব আসলেই। এখন আপনারা একে নিছক উইবগিরি বলে উড়িয়ে দিতে পারেন, আমি বিতর্কে জড়াবো না কোন।
উচিয়াগে হানাবি নোরিমিচি ও নাজুনা নামের দুই কিশোর-কিশোরীর কাহিনী। কাহিনী না বলে কল্পনাও দাবি করা যেতে পারে। পুরো মুভিটাতে ফ্যান্টাসি আবহ শুরু থেকেই ছিল। এরকম ফ্যান্টাসির আবহ ক্লানাড নামের এনিমেটাতে দেখেছিলাম তবে সীমিত আকারে। উচিয়াগে হানাবিতে ফ্যান্টাসি মাধ্যমের উপূর্যপুরি ব্যবহার ছিল বারবার, ফলে মারাত্মক জগাখিচুড়িতে পরিণত হয়েছিল মুভিটা। বাস্তবতা আর কল্পনার ফারাক ধরতে গিয়ে যদি মুভিই শেষ হয়ে যায় তাহলে উস্মা প্রকাশ করাটাই স্বাভাবিক।
শুরুতেই একগাদা অভিযোগ করে ফেললাম। এখন উচিয়াগে হানাবির সাথে আমার নাড়ির টান কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো সেই আলোচনায় আসি।
উচিয়াগে হানাবির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এর ইউটোপিয়ান ভিশনের মধ্যে। কমবেশ সব স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্টিক এনিমেই ইউটোপিয়ান। এই জনরার এনিমেগুলো বেছে বেছে আমাদের জীবনের ইতিবাচক স্লাইসটাকেই পর্দায় তুলে আনে। বাস্তব জীবনের দুঃলহ-দুর্দশা তুলে ধরার চেষ্টা যে একদুইটা হয় না তা না, তবে বেশীরভাগ প্রদর্শনীই হয় মধুমাখা। কেন জানি ইনজাস্টিসে জর্জরিত এই দুনিয়ার সাথে এনিমের দুনিয়াকে মেলাতে পারি না।
 
উচিয়াগে হানাবি সম্ভবত এই কারণেই স্পেশাল যে এতে ইউটোপিয়ান উপাদানের পরিমাণ এতই বেশী যে দর্শকরা ঠিকভাবে এর সাথে মানসিক সংযোগই স্থাপন করতে পারে নি। একে অপরের হাত ধরে জাপানের কোন এক মফঃস্বল থেকে দুই কিশোর-কিশোরীর পালাতে চাওয়াটা ছিল ইউটোপিয়া তৈরির প্রথম ধাপ। নোরিমিচি আর নাজুনা দুজনেই কিন্তু বাহিরের কঠিন দুনিয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। আবার নোরিমিচির জীবনে নাজুনার আগমনও অপ্রত্যাশিতভাবে। তার উপর সাঁতারের সময় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া ইত্যাদি আসলে শুরু থেকেই মুভিটার চরম অবাস্তবতার দিকে ধাবিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছিলো। খেয়াল করা উচিত, মুভিটা কিন্তু কিশোর মানসিকতাকে আঁকড়ে ধরে বানানো। সেজন্য কিশোর নোরিমিচির চোখে কিশোরী নাজুনা সবসময়েই রহস্যের এক ভাণ্ডার। নাজুনা আকৃতিতে নোরিমিচির চেয়ে দীর্ঘাকৃতির। পুরুষ হিসেবে বলতে পারি ছেলেবেলায় ড্রিমগার্লরা এভাবেই আমাদের মানসপটে এসে জায়গা করে নিতো। তন্বী দেহই ছিল আমাদের অনেকের আদর্শ নারীর উদাহরণ। তুলনামূলক নাতিদীর্ঘ আকৃতির মেয়েরাও যে পূজনীয় হতে পারে তা তো পরে ইস্ট এশিয়ান কালচার হাতে-কলমে শেখালো!
 
নোরিমিচির মতো কিশোরকালে মিশুক মেয়েদের দিকে মন ঝুঁকে থাকতে চাইতো বেশী। মুভিতে খেয়াল করলে দেখা যায় নাজুনা বেশ বাঁচাল প্রকৃতিরই। নোরিমিচির দ্বিগুণ কথা সে নিজেই বলেছে বলা যায়। সে কথার টানেই কিন্তু নোরিমিচি সিদ্ধান্ত নিল বাসা থেকে পালাবে।
 
মুভির সবচেয়ে সুন্দর জায়গার একটা ছিল সাইকেলের পেছনে নাজুনাকে বসিয়ে নোরিমিচির ঢালু পথ বেয়ে নেমে যাওয়া। দৃশ্যটা দুটো জায়গার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল এক মুহূর্তে:
১। Whisper of the heart মুভির একেবারে শেষে ভোরে নায়ক-নায়িকার সাইকেলে চড়ে কাটানো সময়।
২। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ‘রাজু ও আগুনালির ভূত’ নামের কিশোর উপন্যাসের একেবারে শেষে ১১০ সিসি হোন্ডা বাইকে করে রাজু আর শাওনের পালিয়ে যাওয়া।
 
এই যে সাত-পাঁচ না ভেবে বাসা থেকে পালানোর মত ভয়ানক সিদ্ধান্ত নেয়ার যে তড়িৎ ক্ষমতা, অনেকে একে অদূরদর্শীতা বললেও আমি একে বয়ঃসন্ধিকালের সবচেয়ে বড় শক্তি বলবো। হাইস্কুলের কিশোর নোরিমিচি নাজুনাকে নিয়ে যে অবাস্তব স্বপ্ন দেখেছিল তা সে নিশ্চয়ই বিশ পেরিয়ে গেলে এত সহজে নিতে পারতো না। নাজুনাও সাহস যোগাতে পারতো না কোথাকার এক অর্ধপরিচিত ছেলের হাত ধরে টোকিওর মত বিশাল শহরে যাওয়ার।
কথা প্রসঙ্গে নাজুনার মনস্তত্ত্ব নিয়ে কিছু বলি। শ্যাফটের অ্যানিমেশনের কারিগরির কারণে তাকে প্রথম দিকে খুবই দুর্বোধ্য মনে হচ্ছিল। এতদিন পরে আস্তে আস্তে তাকে কিছুটা হলেও উপলদ্ধি করতে পেরেছি। নাজুনাও আসলে বয়ঃসন্ধি কালের অস্থির সময়ের এক প্রতিনিধি। পরিবারের শেকল ভেঙে সে কিছু দিনের জন্য হলেও বাঁধনহারা জীবন উপভোগ করতে চায়। প্রবল ইচ্ছে থাকার পরেও নানা বাঁধার কারণে কাজটা করতে পারছিল না সে। নোরিমিচিকে সঙ্গী করার মাধ্যমে সে শেষমেষ নিজেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করতে পারে কাজটা করার। আমার মতে নাজুনার সম্পূর্ণ আবেগে বয়ঃসন্ধিকালের আধাআধি বেড়ে উঠা যৌন চেতনার কোন প্রভাব ছিল না। পুরো ব্যাপারটাই ছিল তার কাছে কৌতুহলের খেলা। টোকিওতে গিয়ে সে কিভাবে নিত্য প্রয়োজনের যোগাড় করবে তার দুশ্চিন্তা বিন্দুমাত্র তার মাথায় ছিল না। সম্ভবত নোরিমিচিকে আশ্বাস দেয়ার জন্য সে কাজ খোঁজার কথা বলেছিল।
 
তবে ট্রেনের বগির ভেতরে আমরা নাজুনার চিন্তার আরেকটা পিঠ দেখতে পাই। Ruriiro no Chikyuu গানটা গাওয়ার সময় নাজুনা নিজেকে রাজকুমারী হিসেবে কল্পনা করে। সে কল্পনা করে নোরিমিচি রাজপুত্র বেশে তাকে রথে করে অনেক অনেক দূরে কোথাও নিয়ে যাচ্ছে। শ্যাফটের অপূর্ব অ্যানিমেশন কিশোরী মস্তিষ্কের নিউরনের প্রতিটি স্পন্দনকে পিক্সেলে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছে এই জায়গাটাতে। নির্ভেজাল আবেগমেশা এই মুহূর্তগুলো তখন স্পর্শ না করলেও এখন হৃদইয়ে দাগ কাটতে সমর্থ হয়েছে।
নোরিমিচির জীবনে নাজুনার আগমনের মত করে আমাদের জীবনে কারোর আসার প্রশ্নই আসে না। তবে এর কাছাকাছি অনুভূতি নিশ্চয়ই অনেকেই নিয়েছেন কল্পনায় অথবা বাস্তবে। আমি আমার কিশোরকালের ব্যক্তিগত একটা ঘটনার বিবরণ দিচ্ছি প্যারালাল টানার জন্য:
 
২০১১-২০১২ সালের দিকে প্রচুর হংকংভিত্তিক মার্শাল আর্টস সিনেমা দেখা হতো। সেসব সিনেমায় নায়িকারা থাকতো চরম অবলা, নায়করা উদ্ধার না করলে তারা কিছুই করতে পারতো না। damsel in distress ই ছিল আমার কাছে নারীর একমাত্র সংজ্ঞায়ন, femme fatale বলতে যে কিছু আছে তা জানতাম না তখন!
স্কুলের একটা মেয়েকে বেশ ভাল লাগতো তখন। যদিও মুখ ফুটে কখনো বলা হয়ে উঠে নি। সে মেয়েটা আবার এলাকায় নতুন আসায় রাস্তাঘাট চিনতো না একদম। পাশাপাশি পাড়াতেই ছিল দুজনের বাসা।
ঘটনাক্রমে একদিন রাত নয়টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাস্তার মোড়ে দেখা! মফঃস্বল এলাকায় রাত আটটা বাজলেই তখন ঘুরঘুট্টি অন্ধকার। তার উপর লোডশেডিং চলছিল। জানতে পারলাম আত্মীয়ের বাসা থেকে ফেরার পথে পথ হারিয়ে ফেলেছে! এলাকার ছেলে হওয়ায় অনায়াসেই বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যেতে পেরেছিলাম। কিছুদিন আগেই The Karate Kid দেখায় নিজের উপর নিজেরই ভক্তি বেড়ে গিয়েছিল!
 
এই মেলোড্রামাটিক ঘটনার রেশ আমার উপর মাসখানেক ছিলো। তখন যদি নাজুনার মত আমাকে বলা হতো পালিয়ে যেতে, অনায়াসেই পনের বছরের আমি দু-চোখ যেদিকে যায় সেদিকে চলে যেতাম। যে চিন্তা ও কাজ উভয়ই এই বিশোর্ধ্ব নাগরিক আমার দ্বারা কোনভাবেই সম্ভব হতো না। অগ্রীম নানারকম দুশ্চিন্তার বেড়াজালে আটকে শেষমেষ ইতস্ততই করতাম। নোরিমিচি কিন্তু এই দ্বিধায় ভুগে আটকে থাকে নি, ঐ বয়সে আমিও অত ভাল-মন্দের ধার ধারতাম না।
 
উচিয়াগে হানাবি বয়ঃসন্ধি কালের এই অপার সম্ভাবনাকে সেলিব্রেট করে। একই সাথে মুভিটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সীমাবদ্ধতাকে ফ্যান্টাসির বর্শা দিয়ে বিদ্ধ করতে চায়। মরবিড চিন্তাভাবনার এ জায়গাটাতেই মুভিটার সার্থকতা আমার মতে। তবে তারমানে এই নয় যে এই দিকগুলো অন্য কোন এনিমের চেয়ে অনেক বেশী ভাল দেখিয়েছে। দিনশেষে প্রচন্ড সীমাবদ্ধতা থাকা একটা মুভি উচিয়াগে হানাবি। তবে কিছু জিনিস থাকে যার শত ক্রুটি থাকার পরেও মনের মধ্যে আলাদা একটা আবেদন থাকে, উচিয়াগে হানাবি আমার জন্য সেরকম একটা এনিমে।
 
দ্রষ্টব্য: জাফর ইকবাল পরবর্তীতে ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ নামে একটা বই লিখেছিল। এটাও কিছুটা এই ঘরানার হলেও আগুনালির মত হতে পারে নি মোটেই। চরিত্রগুলা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়াতেই সম্ভবত গল্পটা মাঠে মারা গিয়েছিল। আগুনালির মত গল্পের সাজেশন চাচ্ছি সবার কাছে।

I Want to Eat Your Pancreas [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

যদি আপনাকে বলা হয়, আপনি আর দুই কি তিনমাস বেঁচে থাকবেন এই পৃথিবীতে, আপনি তখন কী করবেন? ঘরে বসে থেকে অজস্র চিন্তায় সময় নষ্ট করবেন নাকি আরও চমৎকার বেঁচে থাকার চেষ্টা করবেন, ঘর থেকে বেরিয়ে পড়বেন ক্ষুদ্র জীবনের ছোট্ট বাকেটলিস্টটার কিছু ইচ্ছে পূরণ করতে? ওয়েল, আমার মত অনেকেই দ্বিতীয় অপশনটা খপ করে ধরে নিবে। কিন্তু ধরেবেঁধে নিয়ম দিলেই আপনার কেন সেই ইচ্ছেটা পূরণ করতে হবে? আপনি তো আগামীকালও মারা যেতে পারেন ঘর বসে থেকেই, কিছু জেনে বুঝে ওঠার আগেই। তাহলে প্রতিদিন যে চমৎকার বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন না, নিজের ছোট্ট বাকেটলিস্টটার প্রতিটি অপশনে টিক দিচ্ছেন না, this was a life worth living কথাটা ভাবার আগেই যদি হারিয়ে ফেলেন সমস্ত অস্তিত্ব, তখন কেমন হবে? এখন, যদি উত্তর হয়, কারণ সাধারণ জীবনে আমাদের কিছু দায়িত্ব থাকে, সময় ও সুযোগ হয়ে উঠবে না অনেক ক্ষেত্রেই, দুইয়ে দুইয়ে চার হয় না, তাহলে বলুন, দুটি মৃত্যুর ভেতরে আসলে পার্থক্য কি খুব বেশি? জন্মিলে মরিতে হয় – এর চেয়ে সত্য যেমন নাই, তাহলে মৃত্যুটা নিশ্চয়তার জালে আটকা পড়ে গেছে অনেক আগেই; বেঁচে থাকার লিমিটটা জানা যদি হয়েও যায়, তবুও কেন তাকে আলাদা চোখে দেখতে হবে? আগামীকাল আপনি মারা যাবেন সম্ভাবনার সাথে এটা সত্য এই যে, একদিন না একদিন আপনি মারা যাবেনই; তাহলে দুই কি তিনমাস পরে যে মৃত্যুটাকে বরণ করতে যাচ্ছে, তার সাথে আপনার তো তেমন পার্থক্য নেই। তার জন্য মন খারাপ না করে, তাকে করুণার চোখে না দেখে বরং তার সাথে জীবনটাকে, নিজের সময়টাকে একটু মিলিয়ে নিজের স্বাভাবিক জীবনের মত তার জীবনকে স্বাভাবিক উপহার দিলে যে সৌন্দর্যের রচনা হয়, সে সৌন্দর্যের মতন সৌন্দর্য কমই আছে পৃথিবীতে, অনুভব করতে পারেন?
 
এমন অদ্ভুত নামের মুভিটাতে এই চিন্তার দেখা মিলেছে এবং মুভিটা সত্যিকার অর্থেই জানতে চেয়েছে, তার গল্পের মাঝে, আপনার কাছে, প্রিয় দর্শক, বেঁচে থাকাটা আপনার কাছে কি?
 
এবং মুভির উত্তরটা পেতে হলে আপনাকে নিজেরই দেখতে হবে।
 
 
প্যানক্রিয়াস নামের সাথে যদি পরিচয় না থাকে, অদ্ভুত নামটা দেখে ভাববেন না, হাতে তৈরি মিষ্টি, লোভনীয় কোনো খাবার, সাধারণ অর্থে প্যানক্রিয়া হইলো মানুষের দেহের পাচকতন্ত্রের একটা অঙ্গ, যা খাবার হজমে সহায়তা করে এবং মানুষকে তার দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতাকে চালু রাখার জন্য শক্তি প্রদান করে (ডাক্তারদের হাই!)। ওয়েট ওয়েট, এইটা ক্যানিবালিজম নিয়ে কোনো মুভিও না, মুভিতে শুধু একটুখানি প্যানক্রিয়া খাওয়ার ইচ্ছেই প্রকাশ করছে কারণ জাপানিজ এক প্রবাদ বা বিশ্বাস অনুযায়ী, আপনার কোনো দেহের কোনো অংশে যদি কোনো সমস্যা থাকে এবং প্রিয়জনের সেই অংশটা যদি আপনি খান, তাহলে আপনার সেই বডি পার্টটা সুস্থ হয়ে যাবে।
 
সাকুরা, গল্পের মূল চরিত্র প্যানক্রিয়াটিক ডিজিজে ভুগছে এবং শ্রীঘ্রই সে মারা যাবে। তারই ক্লাসের নামহীন এক ক্লাসমেইট হাসপাতালে একদিন তার ডায়রি আবিষ্কার করে এবং ডায়রিতে চোখ বুলিয়ে সে জানতে পারে, কিছুদিন পরেই সাকুরা মারা যাচ্ছে। সাকুরার কাছে জানতে পারে, ক্লাসের একমাত্র সেই জানলো এই তথ্যটা এবং ক্লাসমেইট বি লাইক, হু কেয়ারস। চললাম।
 
জীবন তাদের কাছে কি, বেঁচে থাকাটা কি সেটাই গল্পে উঠে এসেছে একদম শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত।
আই মিন, মার্ভেল ইউনিভার্সের মত ক্রেডিটের শেষেও গল্প রাখা আছে। দেখিয়েন।
 
মুভিটা প্রেডিক্টেবল। মুভির ডিরেক্টরও জানতেন, তাই শুরুতেই তিনি স্পয়লার খাইয়ে দিয়েছেন, লেখা পড়ে সেটাও আপনি বুঝতে পারছেন সহজেই। এই ধরনের মুভিতে উঠে আসার কথা যে যে বিষয়গুলো – কমবেশি সবই উঠে এসেছে এবং আপনি যদি ভাবেন, প্রেডিক্টেবল মুভিটা দেখে লাভ কি – ওয়েল, প্রেডিক্টেবল, তবুও সুন্দর। অনেক সুন্দর! এক্সট্রোভার্ট আর ইন্ট্রোভার্ট দুই প্রোটাগনিস্ট জীবনকে কিভাবে নিচ্ছে, নিতে যাচ্ছে – দেখতে দেখতে মন খারাপ হয়তো হবে আবার ভালোও লাগবে ভীষণ। মানুষ হিসেবে আমরা অন্য মানুষের কাছে কি চাই? সুন্দর কিছু স্মৃতি? হ্যাঁ, আর বুকের গভীরে কোথাও লুকিয়ে থাকা ছোট্ট একটা ইচ্ছে, আমাকে একটু মনে রাখুক।
 
আপনি কেন বাঁচবেন জানেন? কারণ, আপনি মারা যাওয়ার সাথে সাথেই আপনাকে ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষগুলোর স্মৃতি আপনার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যাবে। আর এই স্মৃতিগুলো ইউনিক কারণ মানুষ হিসেবে আপনি নিজেই ইউনিক, আপনার মতন মানুষ পৃথিবীতে আর একটাও নাই, আপনার চোখ দিয়ে দেখা সেই মানুষগুলোর ছবি আর কারো চোখে দেখা নাই। তাই হয়তো মানুষ বাঁচে, তাই হয়তো বাঁচতে হয়। আনিমের কিছু শক্ত ভিত্তির ভেতর এই অনুভূতিটা অন্যতম একটা উপাদান এবং এই মুভিতেও এই ভাইভটা উঠে এসেছে শক্তভাবেই।
 
চমৎকার এনিমেশনের সাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সাথে, নরম, আরামদায়ক অথচ ব্যথাতুর উপস্থাপনার প্রেডিক্টেবল এই মুভিটা দেখা শেষ করে একটু ব্যথাই লেগেছে – প্রিয় মানুষগুলো চলে গেলেও ব্যথা বুকে নিয়ে মুখে হাসি রেখে বেঁচে থাকা জীবনটা এত সুন্দর, এত সুন্দর! সেই সৌন্দর্যটা অনুভব করে নিতে হয় কিন্তু চোখে দেখা যায় না কেন? এত অদ্ভুত সৌন্দর্যের কোনো মানে হয়?
 
সাজেশনঃ আবারও বলছি, প্রেডিক্টেবল মুভি। কিন্তু দেখে আশা করি মনে হবে না, সময় নষ্ট করেছি।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime : I want to eat your pancreas.
  • Type : Movie
  • Genre : Drama
  • Director : Shin’ichirō Ushijima
  • Studio : Studio VLON
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Weathering with You [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

আনিমের এই জগতে আমার পা রাখাই মাকাতো শিনকাই -এর হাত ধরে এবং অবশ্যই সেই আনিমের নাম ছিলোঃ Your name. এরপর আর পেছন ফিরে তাকানো হয় নি, একের পর এক আনিমে দেখছি, মাকাতো শিনকাই-এর কাজগুলোকে আনিমে ইউনিভার্সের অভিজাত এলাকার সদস্য বলে দাবি করতে করতে তার মুভিগুলো দেখেছি। এবং তিনি আবারো ফিরে এলেন তার মুভি Weathering with You দিয়ে; এই রিভিউটি মাকাতো শিনকাই, মুভির ভালো এবং খারাপ এবং আমার কিছু ব্যক্তিগত ভাবনা মিলিয়েই।
 
 
গল্পঃ হোদাকা ঘর পালানো ষোল বছরের একজন কিশোর যে টোকিওতে এসেছে অন্য এক জীবনের আশায়। জাপানের ব্যস্ততম শহর টোকিও তার কাছে বিভীষিকাময় লাগে কেননা টোকিও এবং এর বাইরের অঞ্চল যেন দুটো দুই পৃথিবী (উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা নতুন কোন মানুষের প্রথম ঢাকা দর্শনের অনুভূতির মতন); তবু টোকিওর পথে দিন পার করতে করতে তার পরিচয় হয় আঠারো বছরের হিনা নামের এক মেয়ের সাথে এবং সে আবিষ্কার করে, হিনা আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ঠিক একই সময়ে টোকিওতে প্রচুর ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে, টোকিওর ব্যবসায়িক অবস্থা পরিবেশের এই খারাপ অবস্থার জন্য নিম্নগামী। হোদাকা হিনাকে “সানশাইন গার্ল” হিসেবে ব্যবসা শুরু করতে বলে যে টাকার বিনিময়ে মানুষের প্রয়োজন অনুসারে আবহাওয়া পরিবর্তন করে মানুষকে সাহায্য করবে।
 

স্পয়লার এলার্ট

(ইওর নেম দেখেছেন, ভালো লেগেছে এবং এটা দেখেন নি – এমন হলে স্পয়লার না পড়াই শ্রেয়)
 
মাকাতো শিনকাই ইজ ব্যাক উইথ হিজ সিগনেচার স্টাইল – স্টোরি টেলিং এবং আর্ট।
 
একটা বড় প্রবলেম বলি, ইওর নেইম খুব বড় একটা ঝড় তুলে দিয়েছিলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড; ওয়েদারিং উইথ ইউ স্ট্যান্ড এলোন আনিমে হিসেবে চমৎকার কিন্তু একই ডিরেক্টরের দুটো মুভির উপস্থাপনের এনভায়রনমেন্ট স্টাইলটা একই হওয়ায় রিভিউগুলোতে খুব ভুগতে পারে। কেননা, আমি মুভি দেখার সময় বারবারই ফিরে ফিরে ইওর নেইমের কথা মনে পড়ছিলো। এবং (গভীর স্পয়লার এলার্ট), ইওর নেইমকে মনে পড়তে বাধ্য করে ছাড়লোও।
 
ওয়েদারিং উইথ ইউ এর পৃথিবী আলাদা। অন্যরকম। ব্যস্ত টোকিও শহরের অলিগলি উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউ -এর সাথে। শহরের সৌন্দর্যের পরিবর্তে শহরের স্বাভাবিক জীবনের ছুটে চলা সময়টা উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউতে যেটা ইওর নেইম থেকে একেবারেই আলাদা। মাঙ্গা ক্যাফে, শহরের কুৎসিত জায়গা, অসহ্যকর আবহাওয়া, অসম্ভব মনে হতে থাকা শহরের জীবনধারণ প্রক্রিয়া, মাফিয়া, ড্যাম কেয়ার মানুষজন – যেগুলো সাধারণ সৌন্দর্যের কথা বলে না, সেগুলোই উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউতে। তার অন্যান্য মুভির মত চকচকে, ঝকঝকে টোকিও শহরটা নেই, সাদামাটা একটা শহরে রঙিন দুটো প্রজাপতির মত কিশোর কিশোরীর একে অন্যকে আঁকড়ে ধরে বেড়ে ওঠার গল্পটা হয়তো ইওর নেইমের অসাধারণ উপস্থাপনার কাছে মিইয়ে এসেছে বলে মনে হবে প্রচুর দর্শকের কাছেই। কিন্তু আমার কাছে এর আবেদন একেবারেই অন্যরকম, একেবারেই আলাদা! টোকিওর আনাচে কানাচে সারভাইভ করতে করতে যে প্রেম গড়ে ওঠে, রূপ নেয় পরিবারে অথবা যায় ঝরে; মাকাতো শিনকাই এবারে সেই পৃথিবীর প্রেমটাকেই তুলে এনেছে ওয়েদারিং উইথ ইউ এর গল্পে, আরও বিশুদ্ধ রকম করে। যে প্রেমের ভেতর হয়তো অন্য কোন কিছুর স্থান নেই।
 
শিনকাই -এর মুভিগুলো দেখে আমার ভেতর একপ্রকার বিষণ্ণতা কাজ করে। আমার ভেতর একপ্রকার ব্যথাও করে। কারণ, শিনকাই তার প্রতিটি মুভিতে কেবল দূরত্ব তুলে ধরে। দুটো মানুষ যেন দুই পৃথিবীর, যারা একটু কাছে আসতে চায়, বসতে চায় মুখোমুখি, হয়তো বলতে চায় অগোছালো দু তিনটে কথা কিন্তু তাদের মাঝে কি বিশাল দূরত্ব! এই দূরত্ব কি করে পাড়ি দিয়ে কাছে এসে একবার বসা যাবে? আমার এ ভাবলে অদ্ভুত এক ব্যথা হয় যেন শিনকাই যে জীবনের কথা বলতে চায় তার দৃষ্টিকোণ থেকে, সে জীবনের অদৃশ্য দূরত্ব যেন ব্যক্তিগত জীবনে আমিও অনুভব করতে পারি, কোথাও কিছু একটা থাকার দরকার ছিলো। দ্য প্রমিজ ইন আওয়ার আরলি ডেইজ, ফাইভ সেন্টিমিটার পার সেকেন্ড, দ্যা গার্ডেন অব ওয়ার্ডস, ইওর নেইম এমনকি ওয়েদারিং উইথ ইউতেও এই দূরত্বের অনুভূতি টের পাওয়া যায়, দুটো মানুষের ভেতর কিন্তু ওয়েদারিং উইথ ইউতে এর গন্ধটা অন্যরকম। একেবারেই অন্যরকম।
 
তার অন্যান্য কাজের থেকে একটু আলাদা এই মুভিকে অনুভব করতে হলে হয়তো ভাবতে হতে পারে টোকিওর ছুটে চলা দিনগুলোর কথা, হয়তো ভাবতে হতে পারে আমাদেরই ঢাকা, আমাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং আমারই মত সারভাইভ করতে থাকা এই শহরের অচেনা কোনো প্রেমিকা। একদিন দেখা হলে বলে দেওয়া যেতে পারে, the world has always been crazy, it’s no one’s fault that it’s like this. I’m sure that I’ll be alright, we’ll be alright here, in this world.
 
যে প্রেমের কথা শিনকাই বলে গেলো ওয়েদারিং উইথ ইউতে সেটা কান্নার রংয়ে আঁকা, ব্যথার মতন সুন্দর। যে প্রেম শুধু মানুষটাকে চায় এই ব্যস্ততম শহরে, ব্যান্ড রডউইম্পসের সাথে বরাবরের মতই জীবন্ত হয়ে ফিরে এসেছে, বলতে চেয়েছে অনুভূতিটার কথা, দর্শক হয়তো খুব গোপন করে একসময় লালন করেছিলো সেই অনুভূতি।
 
অবশ্যই মুভিতে প্লটহোল আছে, ফ্যান্টাসি জনরার উপাদান আছে, স্টোরি এডভান্স হওয়ার কিছু জায়গা দুর্বল মনে হয়েছে বেশ কিন্তু যে গল্প আমি শুনতে চেয়েছি, বুঝতে চেয়েছি সে গল্পটা আমাকে টান দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে এসেছে সেসব জায়গা হতে। আমাকে বলতে চেয়েছে শিনকাই ইউনিভার্সের কথা, পরিচয় করিয়ে দিয়েছে তার পৃথিবীর সাথে। আর মেজর স্পয়লারটা এখানেই, ইওর নেইমের তাকি আর মিতসুহার দেখা পাওয়া (মিতসুহার মত রূপবতী আর কেউ নাই।
 
মুভিটা শেষ করে আমি ভাবছি, অবশ্যই আরও দশজন দর্শকের মত করে ভাবছি, দুটো গল্পের পৃথিবী একই। দুটো গল্প না শুধু, যেমন দ্য গার্ডেন অব ওয়ার্ডসের ইউকিনোকেও দেখা গিয়েছিলো ইওর নেইমে, বলা যায় তিনটে গল্পের পৃথিবী একটাই। শিনকাই পৃথিবী, যে পৃথিবীতে শিনকাই বাস করেন, শিনকাই বেঁচে আছেন এবং শিনকাই এর সমাপ্তির সাথে সাথেই পৃথিবীটা শেষ হয়ে যাবে। শিনকাই যেন বলতে চাইছেন, একই পৃথিবীতে সুখ দুঃখ হাসি কান্নার কথা, আমাদের ব্যক্তিগত পৃথিবী আলাদা এবং সবাই ঘুরেফিরে একে অন্যের সাথে কানেক্টেড। আমার মনে হলো, শিনকাই নিজেও চাচ্ছেন, তার চরিত্রগুলোর পৃথিবীতে, তার পৃথিবীতে তার নিজেকে লুকিয়ে রাখতে। অবশ্য এসবই আমার ব্যক্তিগত ভাবনা কিন্তু আমার মনে হলো, একই পৃথিবীকে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের চোখ দিয়ে উপস্থাপন করতে চাইছেন তিনি, কারণ রিয়ালিটিতে আমাদের দেখার দৃষ্টিকোণ আলাদা। আপনি যে চোখে ঢাকাকে দেখেন, যে ভাবনায় ভাবেন, সেভাবে আমি অবশ্যই দেখি এবং ভাবি না এবং শিনকাই তার পৃথিবীকে চেনার জন্য তুলে ধরছেন ভিন্ন ভিন্ন মানুষের চোখে। আমার মনে হয়, সামনেও তিনি একই কাজ করবেন এবং অন্য কারো চোখে তুলে ধরবেন শিনকাই-পৃথিবীকে কিন্তু তখনো মিতসুহা সবচেয়ে রূপবতী তরুণীই থাকবে আমার কাছে। আই লাভ মিতসুহা। মুভিতে ওকে দেখার পর পজ করে অনেকক্ষন দেখে নিয়েছিলাম মিতসুহাকে।
 
সাজেশনঃ ইওর নেইম থেকে ভালো হবে না খারাপ হবে ভাবা ছেড়ে দিয়ে উপভোগ করুন অন্যরকম টোকিওকে যদিও, ইয়ে মানে মিতসুহাই তখনো সেরা রূপবতী থাকবে, এটা না মানলে চলবে না।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime: Weathering with You
  • Type: Movie
  • Genre: Slice of life, romance, fantasy
  • Director: Makoto Shinkai
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Weathering with You [মুভি রিভিউ] — Nazmus Sakib

মুভির নাম – Tenki no Ko (Weathering with You)
ডিরেক্টর + স্ক্রিপ্ট + ক্রিয়েটর – মাকোতো শিনকাই
ম্যাল রেটিং – ৮.৫৮
ব্যক্তিগত রেটিং – ৭

মোটামুটি ভাল জিনিস। খারাপ না। মোটের উপর বেশ এঞ্জয়েবল।

গল্পঃ ৬

রোমান্স মুভি হিসেবে বেশ ভাল। উনার এর আগে করা কিছু ফ্যান্টাসি রোমান্সের তুলনায় এইটাতে ফ্যান্টাসি এলিমেন্টটা অতটা বেখাপ্পা লাগে নি। কিন্তু বড় বড় ত্রুটিগুলো এখানেও রয়ে গিয়েছে। যেমনঃ ট্রোপের ব্যবহার (পিতামাতার অনুপস্থিতি, Onee-san ক্যারার উপস্থিতি, পিতা-কন্যা বা ভাইবোনের হৃদয়বিদারক(?!) গল্প) আর সস্তা প্লট ডিভাইস (বন্দুকটা ছাড়াও গল্প এগুনোর জন্য আরও কিছু কাকতালীয় ঘটনা)।

চরিত্রায়ণঃ ৮

এই দিকটা বেশ ভাল লাগল। গল্পের মূল দুই চরিত্র ওদের বয়স অনুযায়ী আচরণ করেছে আর ওদের রক্তমাংসের মানুষ বলেই মনে হয়েছে।

আর্ট ও এনিমেশনঃ ৫

এই দিকটা বেশ হতাশাজনক। উনার মুভিগুলোর এই দিকটার যেই সমস্যার কথা অনেকে বলে, তার সবই এইটাতে দেখলাম। অর্থাৎ ব্যাকগ্রাউন্ড দেখতে মনে হচ্ছিল ফটোগ্রাফ থেকে এডিট করা, আর ক্যারাকটারগুলি ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে যাচ্ছিল না। সিজিয়াই মুভমেন্টগুলো কোথাও কোথাও আড়ষ্ট মনে হয়েছে। আর টোকিওর ঘিঞ্জি এলাকাগুলো সেটিং হিসেবে কতোটা উপযুক্ত, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

সাউন্ডঃ ১০

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অসাধারণ ছিল। প্রতিটা গান গল্পের ভাবের সাথে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। গানগুলি এতই ভাল, যে এমনি শুনতেও ভাল লাগবে। আর মুভির শেষের গানটা তো পুরা গল্পটাকেই সামারাইজ করে দিল কী সুন্দর করে। গানের সাবটাইটেল ছিল বলে কৃতজ্ঞ।

এঞ্জয়মেন্টঃ ৮

লো এক্সপেকটেশন নিয়ে দেখেছি। খারাপ লাগেনি। একবারে দেখে উঠার মত ছিল মুভিটা। সময়টা ভালই কেটেছে।

আপনারাও এইটা যদি স্রেফ সময় কাটানোর জন্য দেখেন, তাইলে ঠকবেন না অন্তত আশা করি। তাই ইচ্ছা থাকলে দেখেই ফেলুন না

The Garden of Words [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

বৃষ্টির দিনে মরে যাই যাই অনুভূতি হয় একটা। হরমোনগুলোর নিঃসরণ হয়তো একটু বেশিই হয়। মনে হয় কারো গন্ধ চাই আবার মনে হয়, না, এভাবেই তো ঠিক আছে। বারান্দায় জল জমে বৃষ্টির, ভেজা গ্রিলে হাত রাখলে শিরশির করে গোটা দেহ, মনে হয়, এভাবেই বেঁচে থাকাটাও খুব সুন্দর। একা একা। ভেতর থেকে বহুকিছু ধীরে ধীরে চলে গেছে, একলা সুন্দর একটা স্বপ্নের ইচ্ছেয় দিনগুলো পার করতে থাকার অনুভূতিটাও সুন্দর। খুব সুন্দর।
 
আমি প্রায় সকল কিছুর ভেতরেই সৌন্দর্য খুঁজতে থাকি। সৌন্দর্যের তৃষ্ণা চোখে, বুকে, ঠোঁটে, মুখে।
 
আমার একটা ব্যক্তিগত ব্লগ আছে। নাম Garden of words; একটা প্রিয়, খুব প্রিয় আনিমের নামে নাম। আনিমের নামটাই, The Garden of Words. শব্দদের বাগান। এছাড়া আর কি! যে বাগান শব্দ দিয়ে তৈরি। আসলেই তাই। কিন্তু এই কথাটাই ভাবতে বসলে বুকের ভেতর আমার ভীষণ আলোড়ন তোলে। ভীষণ! শব্দদের বাগান! ব্লগটা আমার নিজস্ব একটা বাগান, যার ফুলগুলো শব্দ//অক্ষর দিয়ে ঘেরা, এরা মাঝে মাঝে ফোটে। যত দিন যায়, এদের রূপগুলো কমতে থাকে বলে মনে হয়, বারান্দায় ফিরে যাই, সিগারেট ধরিয়ে বৃষ্টির জলকে আহবান করতে থাকি আরও, আরও, আরও অনেকক্ষণ পড়ার। মন খারাপ না, তবু মন খারাপ করতে ইচ্ছে করছে। ভীষণ মন খারাপ ডুবিয়ে দেয়া যেত গোটা শহর!
 
 
গল্পঃ আনিমের গল্প নিয়ে কথা বলি বরং। বৃষ্টি ভালোবাসেন আমার মতো?
 
অবশ্য আমি বৃষ্টি ভালোবাসি একটু একটু।
এই মুভির পুরোটা জুড়ে কেবল বৃষ্টি আর বৃষ্টি।

১৫ বছর বয়সী একজন ছেলে, Takao (বাংলায় অদ্ভুত দেখতে লাগে নাম), একজন স্কুলছাত্র, যার ধ্যান-জ্ঞান হাতে জুতো ডিজাইন করা ও বানানো। বৃষ্টির দিন হলেই তার নিজের সাথে নিজের কথা দেওয়া আছে, স্কুল মিস সেদিন। এমনিতে সরগরম থাকা সিনজুকু ন্যাশনাল গার্ডেন সেদিন থাকে চুপচাপ, সে নিজের মত নিজের কাজে মনোযোগ দিতে পারে। তার এই কাজ তার ভালো লাগে।

এবং ২৭ বছর বয়সী একজন নারী, ইউকিনো, তাকে একদিন আবিষ্কার করে ন্যাশনাল গার্ডেনে; কেউ কাউকে চেনে না, শুধু যাবার আগে একটু ধাঁধা হয়ঃ

 
A faint clap of thunder
Clouded skies,
Perhaps rain comes,
If so, will you stay.. with me
 
এ এক খেয়ালী প্রশ্ন যেন। এক প্রাচীন জাপানিজ কবিতা।
চাই এর খেয়ালী সঠিক উত্তর।
এর উত্তর কি দেওয়া হবে?

সেখান হতে গল্পের পথ চলা আপন ভঙ্গিতে..

 
***Spoiler Alert***
 
এটা হয়তো রিভিউ, আবার রিভিউ না। আমার মত করে বলা একটা গল্প।
 
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি; আবার ভারী ভারী। এমন সময়ে মনে হয়, বোধহয় অন্য কোন পৃথিবীতে বেঁচে আছি। সময়টা থমকে আছে, থমকে আছে – বৃষ্টিরা আছড়ে পড়ছে ধীর থেকে ধীরে – ইউকিনো কোনো স্টেশন থেকে নেমে এগোচ্ছে কি না পার্কের দিকে, দেখার জন্য বাইরের জমে থাকা জলে পা বাড়াতে ইচ্ছে করে।
 
আমি বের হলাম। সেকেন্ডের কাটাটাও আছড়ে পড়ছে ধীরে, যেমনটা ধীরে আছড়ে পড়ছে প্রতিটা জল। আমার মনে পড়লো, এই মুভিটার একটা বিশেষত্ব আছে। এতে মাকাতো শিনকাই ক্যারেক্টারগুলোর ভাবনা বোঝার কোন উপায় রাখেন নি। ক্যারেক্টারগুলোর থটস বোঝার জন্য অনেকসময় ভেতরকার মনোলগ ব্যবহার করে ভাবনার দৃষ্টিকোণটা বুঝতে সাহায্য করে। মুভিতে এরকমটা নেই, যার রিপ্রেজেন্টশনটা হয় অনেকটা রিয়ালিটির মতন। আমরা শুধু আমাদেরটাই ভাবতে পারি, আমরা ভাবতে পারি না আমাদের সামনের মানুষটার ভাবনা। পুরো মুভিতে একটা রহস্য রহস্য ভাবনা, পা বাড়াতেই বিচলিত হয়ে উঠলো আমার মন, ইউকিনো কি ভেবেছিলো? কি ভেবেছিলো তাকাও? আজ বৃষ্টিতে তাকাও আর ইউকিনো পার্কে আসবে?
 
মন খারাপ হয়ে গেলো। অসম্পূর্ণ গল্পের সম্পূর্ণটা জানতে আমার ভীষণ পোড়ায়। চিরাচরিত, সাধারণ অনুভূতির চেয়ে আলাদা একটা প্রেম, সে কি করে এগোবে, আদৌ আগাবে কি না, জানতে ইচ্ছে করে। কেউ এক টানে নিয়ে বসিয়ে দিলো তাকাও এর সিটে – টের পেলাম, আমার বুক ছিঁড়ে আসে কারো মুখ দেখার। হয়তো বাস্তবের আমির মত।
 
আমি প্রতিটা দৃশ্য ধরে ধরে এগোতে থাকি।
 
আমার মনে পড়লো, মুভিতে কথোপকথন অনেক কম। মৃদু হাসলাম। যেখানে প্রতিটা ফ্রেম নিজেই এক একটা গল্প, সেখানে আলাদা করে কথোপকথনের কি দরকার আছে? দুজন পাশাপাশি চুপচাপ বসে থাকায় যে দুই পৃথিবীর দূরত্ব তুলে ধরে, কোন কথোপকথনটা সেখানে ঠিক মানাবে?
 
বৃষ্টি কি ভেতরের কান্নার কথা বলে? নাকি, বৃষ্টির পর প্রকৃতির নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার মতন, আবারও বেঁচে ওঠার মতন, তাদের আবারও নতুন করে হাঁটতে থাকার কথা বলে? আমি ভাবি, জীবনটা তো এইটুকু, স্বাদ শেষ হবার আগেই মনে হয়, জীবন শেষ হয়ে গেলো মনে হয় আমার এখনই, এই যে না বলা রহস্যটুকু, নিংড়ে পুরো পরিবেশটাকে দুচোখের ভেতরটাকে আটকে রেখেও তৃপ্তি না পাওয়া গল্পটা এরকমই থেকে যাবে?

Weathering With You/ Tenki no Ko [মুভি রিভিউ] — Rumman Raihan

 

অ্যানিমে: WEATHERING WITH YOU / Tenki no Ko / 天気の子

টাইপ: মুভি
জনরা: সুপারন্যাচারাল, ড্রামা, ফ্যান্টাসি, রোম্যান্স, স্লাইস অফ লাইফ
দৈর্ঘ্য: ১ ঘন্টা ৫৪ মিনিট
স্টুডিও: CoMix Wave
গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায়: মাকোতো শিনকাই
সময়কাল: ২০১৯

এই রিভিউটি স্পয়লারবিহীন। তবে নিচে আলোচনা দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে। স্পয়লারযুক্ত ও স্পয়লারমুক্ত আলোচনা মূল রিভিউয়ের পরে।

 
স্পয়লার বিহীন রিভিউঃ
 
১৭ জানুয়ারি তারিখে লন্ডনের প্রথম পাবলিক স্ক্রিনিং-এ দেখতে গিয়েছিলাম মাকোতো শিনকাই এর অ্যানিমে ফিল্ম – “Wheathering with you”. একই সিনেমায় কয়েকবছর আগেই দেখেছিলাম Your Name. সেটার রিভিউ পাওয়া যাবে এখানে
 
কাহিনী সংক্ষেপঃ
টোকিয়োতে বৃষ্টি হচ্ছে খুব, অনেকদিন ধরেই। অন্তহীন সেই বৃষ্টির মাঝে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘর পালানো এক ছেলে, হোদাকা । ক্ষুধা আর ভয় নিয়ে অচেনা এই শহরে সে একটা কাজের সন্ধান করছে।
এই শহরেই নাকি একটা মেয়ে আছে। যে কিনা প্রার্থনা করে বৃষ্টি থামিয়ে দিতে পারে। কালো মেঘ সব দূর করে দিতে পারে। অবশ্যই সেটা অলৌকিক কল্পকাহিনী আর রহস্য ম্যাগাজিনের গল্পের কথা।
তবে একদিন হোদাকা সেই মেয়েটার দেখা পেল। হিনা। রৌদ্র-বালিকা হিনা এসে হোকাদার জীবনে এনে দিল একফালি রোদ্দুর।
পারবে কি তারা একসাথে তাদের জীবনের ঝড়ঝঞ্জা আর বাঁধা পেরিয়ে যেতে?
 
কেমন লেগেছে:
অভিভূত হয়েছি।
মাকোতো শিঙ্কাইয়ের অ্যানিমের প্রোডাকশন শুরু হবার আগে লেখা ওয়েদারিং উইথ ইউ উপন্যাসের শেষে লেখকের ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন যে তিনি এমন গল্পের ফিল্ম তৈরি করতে চান যা কিনা খাঁটি অনুভূতির কথা বলে। হলিউডের বানানো আর্টিফিশিয়াল “লাভ” স্টোরি নয়, আবার সামার ব্লকবাস্টারের গৎবাঁধা মোরালিটির কোনো প্রোডাক্ট নয়। ইয়োর নেইম মুভিটাকে যখন পশ্চিমারা আকাশে তুলে ধরলো আবার কেউ কেউ গালমন্দ করতে লাগলো এর অগভীরতা নিয়ে, তখন শিনকাই উঠে পড়ে লাগলেন তার মনের মত একটা গল্পের উপহার দিতে। যেখানে ইয়োর নেইমে অনুপস্থিত আবেগ আর পশ্চিমাদের চিরচরিত নীতিবোধের তোয়াক্কা না করা গল্প। যেমনটা তিনি এর আগেও তৈরি করে এসেছেন।
এবং সত্যিই তাই। এই ফিল্ম দেখতে এসেছিল অনেক বাবা-মা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে এবং ভুল করেছেন। কারণ অনেক অংশে তাদের সংকোচের আওয়াজ শুনেছি।
আবার এই মুভিতেই কিছু মুহূর্তে শুনেছি থিয়েটারে কে জানি কাঁদছে।
আমার আর আমার বন্ধুর চোখেও পানি এসে গিয়েছিল…
 
RADWIMPS এর অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক dolby atmos সিস্টেমে শুনে আর বড় স্ক্রিনে কমিকস ওয়েভ স্টুডিয়োর সিগ্নেচার সিটিস্কেপ দৃশ্যগুলোর নিখুঁত ও জীবন্ত সব ডিটেইলস্‌ দেখে যে কেউ বিহ্বল বা অভিভূত হয়ে যাবে। কিন্তু তার উপর হোকাদা আর হিনা আর তাদের চারপাশের রঙিন সব চরিত্রগুলোর প্রতি আবেগ কাজ না করলে এই অ্যানিমেটা এত উপভোগ করতাম না।
 
সিনেমা থেকে বের হয়েই আবার দেখতে ইচ্ছে করেছে। তেনকি নো কো
~~ হাওয়ার টানে তোমার সনে~~

স্পয়লারযুক্ত আলোচনা:

মুভিটা দেখার পরে এই অংশটি পরবেন, ঠিক আছে?  স্পয়লার না চাইলে শেষের অংশে চলে যান।
স্পয়লার অ্যালার্ট
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
 
কোনো বাসার ছাদে লাল তোরী গেইট সহ শ্রাইন দেখলে ভুলেও সেখানে গিয়ে দেখে আসার ইচ্ছে পোষণ করবেন না। এরিয়ে যাবেন। যেভাবে নিচের মেজর স্পয়লার এরিয়ে যাবেন, সেভাবে।
 
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
 
তাকি আর মিতসুহাকে দেখে আমি আর আমার বন্ধু দুজন হা করে একে অপরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
(বলেছিলাম না এখানে স্পয়লার দিবো?!!)
এমন ক্যামিও আশা করিনি। যদিও ইয়োর নেইম দেখার সময়ও গার্ডেন অফ ওয়ার্ডসের ইউকারিকে দেখা যায়। তাই বলে ইয়োর নেইমের তাকি যে হোদাকাকে রিলেশনশিপ অ্যাডভাইসও দিবে তা কি আর আশা করা যায়? (হেহে no pun intended হেহে)
মুভিটা আবার দেখতে হবে, কেননা ইয়োর নেইমের অন্যান্য সাউড ক্যারেক্টারও নাকি ক্যামিও হিসেবে দেখা গিয়েছে, তাদেরকে ধরতে পারিনি।
ফ্যান থিওরি হচ্ছে, মুভির শেষের অংশে যখন তুষার পড়ছিল, ঠিক সেই সময়েই মিতসুহা আর তাকির ইয়োর নেইম-এ স্টেয়ারকেইসে দেখা হয়। কি জানি!
যাইহোক…
হোদাকা যখন হিনাকে নিয়ে প্রথম দৌড়ে পালানোর সময় পিস্তল টা বের করলো, তখন দেখে শ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল! একদম ইন্টেন্স একটা মোমেন্ট!
 
মুভিতে ড্রাগনটা দেখে স্পিরিটেড অ্যাওয়ের কথা মনে পড়েছিল। এমনকি একজন তো স্পিরিটেড অ্যাওয়ে হয়ে যাওয়ার রেফারেন্স ও দেয়। আর মুভির শেষে ইভাঙ্গেলিওনের টোকিয়োর কথা মাথায় এসে গেল। একটা চরিত্রের নামও তো ছিল আসকা। মনে হয় ইন্টেনশনাল রেফারেন্স। কেননা ইভাঙ্গেলিওনের মত এই মুভিটাও একটা অ্যান্টি-সেকাই-কেই (look up sekai-kei if you don’t know what it is)।
 
বেড়ালটা ছিল এত্ত সুন্দর দেখতে! কিন্তু টাইমস্কিপ হবার পরে ইয়া মোটকা হয়ে গেল। xD হাসতে হাসতে শেষ!
কেইস্কে সুগা বেড়ালটাকে কি খাইয়েছে কে জানে!
 
হোটেলের রাতটাতে যখন হিনা ষদচ্ছ/ হয়ে যেতে থাকে আর হোদাকা কাঁদতে শুরু করে, তখন আসলেই চোখে পানি এসে গিয়েছিল। অনেক ইমোশনাল একটা মুহুর্ত। আবার যখন cumulonimbus মেঘের উপর থেকে নিচে পৃথিবীতে ফিরে আসতে থাকে তখন একদম গুসবাম্পস এসে গেছে। আনন্দে চোখে পানি এসে গেছে আবার।
 
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️

স্পয়লারমুক্ত আলোচনা:

তবে এইরকম চমৎকার অ্যানিমের অত্যন্ত আনফেয়ার রিভিউ দেখা যাচ্ছে। যারা বলছে যে এই অ্যানিমেটা ইয়োর নেইমের কপি পেস্ট, তারা কি মাকোতো শিনকাই দূরে থাক, মামুরো ওশিও বাদ থাক, স্টুডিও জিব্লিরও কি কোনো অ্যানিমে দেখে নাই? ফিল্ম স্ট্রাকচার এক রেখে একটা ভিন্ন গল্প যে বলা যায় সেটা এরা কি জানে না? জেনে থাকলে এমন বাজে রিভিউ কেন?
 
এর কারণ হচ্ছে ঐযে বলেছি না মাকোতো শিনকার তার হলিউডে আর মেইন্সট্রিম অ্যানিমের মোরালিটির বাইরে গেছেন। তাই এই মুভি ভালো লেগেছে এটা অনেকেই মানতে পারছে না। প্রোস্টিটিউশন, গান-ভায়োলেন্স এর উপর কমেন্ট্রি, গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ আর টিনেইজ নন-ফিযিকাল, ইনোসেন্ট লাভ – এসব বিষয় পশ্চিমের অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না। ওয়েস্টার্ন পলিটিক্যাল এই এনভায়রনমেন্টে তাই এই মুভির তেমন প্রচারও করা হয় নি যেমনটি হয়েছিল ইয়োর নেইমের সময়। জি-কিডসের প্রচারণা একদম নগণ্য, কেননা আমি মুভিটার ট্রেইলার পর্যন্ত দেখিনি মুভিটা দেখে আসার আগে।
 
জাপানে কিন্তু এর জনপ্রিয়তা কোনোআংশে কম ছিল না। ৬ মাস ধরে সিনেমাতে চলেছে। এখানেও স্ক্রিনিং শিডিউল এক্সটেন্ড করা হয়েছে, কারণ প্রত্যেক সাবটাইটেল্ড স্ক্রিনিং দেখা যাচ্ছে ফুল হাউজ।
তাই অনলাইন রিভিউ বা অ্যানিটিউবারদের কথা না শুনে দেখে এই অ্যানিমেটা নিজে যাচাই করার চেষ্টা করবেন।

 

আমার রেটিংঃ ১০/১০

Penguin Highway (মুভি রিভিউ) — Loknath Dhar

পেঙ্গুইন হাইওয়ের গল্পটা সাদামাটা রঙের সুন্দর। আইওমা ফোর্থ গ্রেডের একজন ছাত্র যার প্রিয় কাজ হচ্ছে – শেখা, জানা এবং রিসার্চ করা। অসংখ্য ভাবনায় ডুবে থেকে একটা একটা করে আমাদের পৃথিবীটাকে চিনতে শেখা। আর দশটা বাচ্চা থেকে সে আলাদা কারণ সে জানে, সে স্মার্ট এবং সে আরও স্মার্ট হতে চায়। মানুষকে স্মার্ট করে তার জ্ঞান এবং তার জানার আগ্রহ। আইওয়ামার ক্রাশ তার ডেন্টিস্ট লেডি যে তাকে দাবা খেলা শিখায়, তার দাবা খেলার পার্টনার। এবং অনেক মেয়ে তাকে বিয়ে করতে চাইবে কিন্তু এটা একটা স্যাড সিচুয়েশন যে সে তাদের কাউকে বিয়ে করতে পারবে না। কারণ তার মনে একজনই, ডেন্টিস্ট লেডি। একদিন আইওয়ামা স্কুলে যাবার পথে রাস্তার পাশের একটা মাঠে একদল পেঙ্গুইন দেখতে পায়। পেঙ্গুইনরা সাধারণত থাকে এন্টার্কটিকায় এবং এছাড়া এদের একমাত্র দেখা যায় চিড়িয়াখানায় – এটাই সে জানতো। তাহলে, এই পেঙ্গুইনরা কোথা থেকে এলো?
 
এই রহস্য উদঘাটনে সে নামে এবং তার সাথে যোগ দেয় তার বন্ধু উচিদা এবং অবশ্যই ডেন্টিস্ট লেডি।
 
মুভিটা নিয়ে আমি খুব বেশি নাড়াচাড়া দেখি নি। আন্ডাররেটেড? জানি না। তবে মুভিটা সত্যিই চমৎকার লেগেছে, অন্তত আমার কাছে। মুভির গল্পের ফ্লো সমান্তরালে গেছে। মেইন ক্যারেক্টারের শান্ত স্বভাব আমি বেশ উপভোগ করি বলে আমার কাছে চমৎকার লেগেছে। ম্যাচিউর হলেও দশ থেকে বারো বছরের বাচ্চা যতটুকু ম্যাচিউর হতে পারে, এর বেশি আমার কাছে মনে হয় নি। চমৎকার!
 
আনিমের একটা বড় ব্যাপার হলো, গল্প এবং তথ্য। এগুলো আনিমেকে আরও উপভোগ্য এবং ম্যাচিউর করে তোলে। ব্যতিক্রম নেই এটাতেও। সাই-ফাই গল্প হিসেবে মোটেও খারাপ না এবং যেসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে ফ্লো চলে যাওয়া (উদাহরণ হিসেবে বলা যায় পেঙ্গুইনের স্বভাব) – উপভোগ্য।
 
এনিমেশন, ভিজুয়াল, আর্ট স্টাইল চমৎকার ছিলো! সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, ধুমধাম (যেগুলোকে ফ্লাশি ইফেক্ট বলে আরকি) ইফেক্টের বদলে এনিমেশনটা ডিটেইলে যত্ন করে বানানো হয়েছে, যেটা খুবই খুবই উপভোগ্য এবং এটা মুভিটাকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে!
 
সাজেশন ক্যাটাগরিঃ আরামদায়ক দুটো ঘন্টা চলে যাবে আশা করি।
 
সংক্ষেপেঃ
 
  • Anime : Penguin Highway
  • Type : Movie
  • Genre : Fantasy, Sci Fi
  • Script : Makoto Ueda
  • Novel : Tomiko Morimi
  • Director : Hiroyasu Ishida
  • Studio : Studio Colorido
 
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০