
এনিমেটা শুরুর ২-১টা এপিসোড দেখে বেশ আশা নিয়ে এনিমেটা ফলো করেছি শেষ পর্যন্ত। কিন্তু সত্যি বলতে হতাশ হতে হয়েছে। এইরকম Post-apocalyptic ধরণের এনিমে আগে দেখিনি বলে একটু বেশী আগ্রহ ছিল, এনিমেটা কীভাবে আগাবে।
২০১৬ সালের টকিও শহরে পারমাণবিক এক দুর্ঘটনার কারণে যে পরিমান রেডিয়েশন চারদিকে ছড়িয়ে পরে তাতে শহরটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে যায়। শহরটি বসতি শুন্য হয়ে পড়লেও, ২০ বছর পরও মাঝে মাঝে কিছু রেডিও সিগন্যাল পাওয়া যায় যে এখনো কিছু মানুষ সেখানে বেঁচে আছে। কিন্তু রেডিয়েশনের পরিমান এতো বেশী হয়ে পরেছে যে, কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে সেখানে গিয়ে তাদের নিয়ে আসা সম্ভব না। এই রেডিয়েশনে অল্প কয়েক সেকেন্ড থাকলেই মৃত্যু নিশ্চিত!!! তাই তাদের ফিরে নিয়ে আসার লক্ষ্যে জেনেতিকালি কিছু মানুষ তৈরি করা হয়েছে যারা এই রেডিয়েশন সহ্য করতে সক্ষম, শুধু তাই নয় তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু ক্ষমতাও আছে।এদেরকেই বলা হয় ‘Coppelion’
এইটুকু কাহিনী দিয়ে আসলে অনেক সুন্দর একটা Post-apocalyptic এনিমে বানানো সম্ভব ছিল। কিন্তু ধিরে ধিরে কাহিনী আসলে এনিমেটাকে একদম ডুবায় দিছে এনিমের মূল চরিত্র হাই স্কুলের ৩ মেয়ে,যাদের কাঁধে পড়েছে ঐ শহরের সকলকে উদ্ধার করে আনা!!! এইরকম একটা মিশনের দায়িত্ব দিছে হাই স্কুলের মেয়েদের কাঁধে , তাও আবার সবাই হাই স্কুলের ড্রেস পরেই মিশনে থাকে সব সময় :S !! ভাবলাম এনিমেতে তো সবই সম্ভব, কাহিনী কীভাবে আগায় সেটা দেখি। ২-৩ এপিসোড দেখে ভালো লাগছিলো, কিন্তু এইরকম অল্প বয়সের মেয়েদের এমন দায়িত্ব দিছে যারা অল্প কিছুতেই ভ্যা ভ্যা শুরু করে দেখতে একটু বিরক্ত লাগছিলো। তাও চালায় গেলাম ভালো কিছু হবার আসায়। তেমন একটা একশন থাকবে আশা করিনি, তবে যা ছিল আসলে বেশ ভালোই ছিল।
সাথে এনিমেটার গ্রাফিক্স/আর্ট/এনিমেশন যেটাই বলেন না কেন, Post-apocalyptic ভাবটা বেশ সুন্দর করে ধরে রাখছিল। শুধু ক্যারেক্টার বিলডাঁপ আর কাহিনীতে ধরা। যারা সব সময় একশন বা স্লাইস অফ লাইফ বা অন্য জনরা দেখে অভ্যস্ত তেমন একটা আশা না নিয়ে, সময় কাটানোর জন্য একটু আলাদা কিছু দেখতে চাইলে, একবার দেখতে পারেন এনিমেটা। দেখতে খুব একটা খারাপ লাগে না। তেমন আহামরি কোন কাহিনী নাই, এই যা।
MAL rating: 6.69
My rating 6.5
