কেনযেন নারু তামাশি ওয়া,
কেনযেন নারু সেইশিন তো,
কেনযেন নারু নিকুতাই নি ইয়াদোরু।
আনিমেটার প্রতি এপিসোডের শুরুতে মাকা আলবার্ন এর কণ্ঠে এই তিনটে কথা শোনা যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত আনিমেটায় এই কথাগুলোর কোন রকম গুরুত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না, একটা পরীক্ষার শূণ্যস্থান পূরণের মার্ক তোলা বাদে।
পুরো আনিমেটাই আসলে এরকম। সিরিয়াস বিপদের মধ্যেও যখন ব্ল্যাক স্টার “I’m going to transcend Gods” বলে চিল্লাচিল্লি করবে, বা কিড পলায়নপর শত্রুর পিছু নেওয়া বাদ দিয়ে সিমেট্রির পেছনে দৌড়িয়ে বেড়াবে, এদের ইউজলেস কাজকারবার দেখে একদিকে প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হবে, আবার হাসিও এসে যাবে।
আমি সাধারণত কোন আনিমের রানটাইম দুই সিজনের বেশি হলে সেটাকে ওয়াচলিস্ট থেকে বের করে দেই। তাও চার সিজন ধরে চলা ৫১ এপিসোডের এই আনিমেটা দেখা শুরু করি মূলত দুটো কারণে; প্রথমত বোনস এর আনিমে, ভাল না হোক, অন্তত খারাপ হবে না- এই আশা ছিল, দ্বিতীয়ত সেইয়্যু কাস্টে মামোরু মিয়ানো ছিল। মামোরু মিয়ানোর ক্যারেক্টারগুলো সাধারণত পাগলাটে হয়, দেখতে মজাই লাগে, আশা ছিল ডেথ দ্য কিড যদি সেই ক্যারেক্টারগুলোর ৫০% পাগলামিও করে, ভালই লাগবে। দুই দিক থেকেই আশা পূরণ হয়েছে ষোল আনা!! কথা বলছি সৌল ইটার নিয়ে।
আনিমের কাহিনী বলা খুব সহজ, কারণ শুরুটা দেখে যে কারও মনে হবে যে ব্লিচ দেখছে, আরও ভাল আর্টওয়ার্ক এ। সেই পৃথিবীতে দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ানো পথভ্রষ্ট আত্মা, তাকে পাকড়াও করবে শিনিগামীর দূত। তবে মিল এখানেই শেষ, কাজেই নিশ্চিন্তে সামনে আগানো যাবে, রিপ অফ দেখব কিনা এই দুশ্চিন্তা না করে।
আমার সাধারণত আনিমে মনে থাকে কাহিনী দিয়ে, ক্যারেক্টারের নাম বা অন্যান্য খুঁটিনাটি কিছুদিন পর ভুলে যাই। সৌল ইটার এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যতিক্রম, কারণ এর কাহিনীর তুলনায় এর আর্ট, ওএসটি এবং অদ্ভুত ক্যারেক্টারগুলো আমাকে বেশি টেনেছে। শুরু থেকে আর্ট দেখে বারবার ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্ট এর কথা মনে পড়ছিল, আর মাকা আলবার্ন এর সাথে উইনরির স্বভাবে মিল পাচ্ছিলাম। ডেথ দ্য কিডকে নিয়ে আমি আসলে বেশি উৎসুক ছিলাম, কারণ মামোরু মিয়ানোর ক্যারেক্টার, এবং সে আমার উৎসাহের আগুনে বালতি বালতি ঘি ঢেলেছে; তাকে যতটা তারছিড়া আশা করেছিলাম সে তারচেয়েও বড় তারছিড়া! নরমালি সিমেট্রি নিয়ে পাগলামি করে বেড়ানো, অথচ কাজের সময় সেইরকম কুল, কিডকে দেখে বারবার বুঙ্গো স্ট্রে ডগস এর দাযাই ওসামুকে মনে পড়ছিল।
ছেলের কথা যখন এল, বাপের কথাও বলা উচিৎ! শিনিগামী সামার নাকিসুরের কথা আমার মাথায় ঢুকে গেছে, অস্বীকার করব না, গত কয়েকদিন ধরে তার মত নাকিসুরে কথা বলতে চেষ্টা করেছি মাঝেমধ্যেই, যদিও তা আলটিমেটলি ব্যর্থ প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই হয়নি। ;-;
পছন্দের ক্যারেক্টারের লিস্ট আসলে শেষ করা সম্ভব না। সৌল ইভান্স (যে নাকি কুল না হলে কোন কাজ করেনা), ব্ল্যাক স্টার (যে বিধাতাকে অতিক্রম করে যাবে), ৎসুবাকি (সব তারছিড়ার মাঝে একমাত্র নরমাল ক্যারেক্টার), লিয-প্যাটি (এদের যেকোনো একজন কখনোই যথেষ্ট না, সবসময় জোড়ায় আসতে হবে, কারণ “symmetry is beautiful!”), স্পিরিট, স্টাইন হাকাসে, সিড সেন্সেই, মারি সেন্সেই, জাস্টিন (এর থিমটা জোস, সাথে কথা বলার স্টাইলও); এছাড়া আরও অনেক ক্যারেক্টার মনে রাখার মত লেগেছে। ওএসটি খুবই ভাল ছিল, নরমালি ফাইট সিন আমাকে তেমন টানে না, কিন্তু সৌল ইটারের ফাইটগুলোর জন্য আমি অপেক্ষা করে বসে থাকতাম, যাতে ফাইট মিউজিকগুলো শুনতে পাই। স্পেশালি কিড আর জাস্টিনের থিম সং আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। ওভার অল কাহিনীর পেসিং কিছুটা বুঙ্গোর মত লেগেছে (এমনকি লাস্টের ফাইটটাও বুঙ্গোর লাস্ট ফাইটের মত ফুড়ুৎ করে শেষ হয়ে গেল :p), আর একটা দুটা ফাইট সিন দেখে মবের কথা মনে হয়েছিল, যদিও এখন জিজ্ঞেস করে লাভ নেই, মনে করতে পারব না।
সবমিলিয়ে সৌল ইটার বেশ ভাল একটা আনিমে, দেখে বেশ এঞ্জয় করেছি।




