
ষাটের দশকে শুধু টিভিতে অ্যানিমের জাগরণের গান।
ওসামু তেজুকা আর তার মুশি প্রোডাকশন শুধু অ্যাস্ট্রো বয়েই থেমে থাকেননি। সেটা তো ছিল মাত্র শুরু। ১৯৫৯ আর তারপর ১৯৬৩ তে মাইটি অ্যাটম বা আরো বেশি জনপ্রিয় নাম, অ্যাস্ট্রো বয়ের নতুন যে সিরিজ শুরু হল সেগুলোর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৫ সালে তেজুকা তার নিজের লেখা মাঙ্গা জাঙ্গল এম্পেররের অ্যানিমে তৈরি করেন; যা সারা বিশ্বে আরো বেশি পরিচিত কিম্বা – দ্য হোয়াইট লায়ন নামে(Kimba – The White Lion)।
আফ্রিকার অরন্যের বেড়ে উঠা লিও(ইংরেজিতে কিম্বা) আর তার অভিযান নিয়েই তৈরি এই ৫২ পর্বের সর্বপ্রথম পুর্নরঙ্গিন অ্যানিমে। মাত্র এক বছরের মাথায় এটা আমেরিকায়ও মুক্তি পায়। আর এভাবেই জাপান থেকে সুদূর যুক্তুরাস্ট্র হয়ে সারাবিশ্বে অ্যানিমে প্রসার শুরু হল। যা পরবর্তীতে অনুদিত হয়েছে ইতালি, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, কাতালান, ডাচ, জার্মান সহ বিভিন্ন ভাষায় আর প্রচারিত হয়েছে শ’ কয়েক দেশে – হয়ত বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দায়ও আপনি তা দেখে থাকবেন। যা আজ পর্যন্ত, এই প্রজন্মের কাছে না হলেও এবং অ্যানিমে হিসেবে তেমন প্রচার না থাকলেও, অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাব বিস্তারকারী অ্যানিমে।
আর এসব অ্যানিমে শুধু জাপানই নয়, বিশ্বব্যাপী ছোট ছেলেমেয়েদের ‘চাইল্ডহুড’ বদলে দিচ্ছিল চিরদিনের জন্য। তেজুকার এসময়ের আরো একটি উল্লেখযোগ্য কাজ প্রিন্সেস নাইট, সর্বপ্রথম সৌজো, ম্যাজিকাল গার্ল জনরার অ্যানিমে। তবে তেজুকা যে একাই সব করছিলেন তা না, জাপানের ‘ডিজনী’ তোয়েই অ্যানিমেশন আর অন্যান্য নতুন গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোও বসে ছিল না। ১৯৬৩ সালেই প্রচারিত হয় জাইগেন্টর(Gigentor), আমেরিকার সেসময়কার বেশ জনপ্রিয় এক ‘কার্টুন’; যা মাত্র এক বছরের মাথায় আমেরিকা আর অর্ধদশক না পেরোতে পা রেখেছিল ডাউন-আন্ডারে। টিভি ডৌগার ম্যারিন বয়(Marine Boy), তোয়েই-এর সাইবর্গ ০০৯(Cyborg 009) এর পাশাপাশি ‘৬০-এর সবচেয়ে বড় নাম, তাতসুয়োকো প্রোডাকশনের – মাক গোগোগো(Mach GoGoGo)। টিনেজার স্পীড আর তার মাক ফাইভের রক্তগরম, শিরদারা আর হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেওয়া সব রেসিং। সাথে আছে রহস্যময় রেসার এক্স। ওহ, অ্যানিমেটার ১৯৯৭ সালের রিমেক, ২০০৮-এর কার্টুন রিমেক নেক্সট জেনারেশন অথবা একই সালের হলিউড লাইভ অ্যাকশন ফিল্ম হয়ত দেখে থাকবেন। অ্যানিমেটা বিশ্বব্যাপী পরিচিত স্পীড রেসার(Speed Racer) নামে।
আর এসব অ্যানিমে দেখে বড় হওয়া প্রজন্ম কয়েক দশক পর আনবে নতুন এক মেলবন্ধন। জাপান, আমেরিকা – অ্যানিমে, হলিউডের মাঝে। তবে সে অনেক পরের গল্প।
টিভির কাছে স্তিমিত হয়ে গেলেও হলে তখনো অ্যানিমে মুভি বের হওয়া বন্ধ হয়নি। কিন্তু ১৯৬৯ সালে মাঙ্গার জনক, আধুনিক টিভি অ্যানিমের জনক, তেজুকা যা বানালেন তার কথা কেউ ভাবতেও হয়ত পারেনি। ১৯৬৯ সালের জুনে জাপানের হলগুলোতে বেরোল ওয়ান থাউজ্যান্ড এন্ড ওয়ান নাইটস(1001 Nights), হ্যা আলাদিনের সেই ধ্রুপদি কাহিনী। কিন্তু তেজুকার হাতে এই চেনা কাহিনীটাই আমূল বদলে গেল। শব্দ আর চিত্র গ্রহনের অনন্য পরিচালনায় তৈরি হল অনবদ্য মুভি, তাতে আছে শিল্পের ছোয়া আবার যৌনতা আচড়। আর-এক্স রেটেড, আনসেন্সরড – ওয়ান থাউস্যান্ড এন্ড ওয়ান নাইটস হয়ে গেল সর্বপ্রথম অ্যানিমেটেড পর্নোগ্রাফি – হেন্তাই। যদিও তা বর্তমানের ‘হেন্তাই’-শব্দটার ব্যবহারিক অর্থের সাথে মিলে না। বাগদাদ, অ্যাামাজন অথবা আলিবাবার ও ৪০ চোরের গুহা পার হয়ে এ অ্যানিমে পরিবেশন করবে বাস্তব আর স্বপ্নের এক অসাধারন সমাহার।
শুধু এখানেই অবশ্য শেষ না, পরের বছর বেরোল ক্লিওপেট্রা – দ্য সেক্স কুইন(Cleopetra The Sex Queen) আর ১৯৭৩-এ ২৩তম বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালে মুক্তি পেল বেলাডোনা অফ দ্য স্যাডনেস(Belladona of the Sadness)। সবগুলোই আর-এক্স হেন্তাই।
আর এভাবেই টিভির জাগরন আর থিয়েটারে বড়সড় একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ‘৭০-এ পা রাখল অ্যানিমে। কাতসুদো সাশিন আর কুমো তো চুরিপ্পুর মত অজানা এক জগত পেরিয়ে এজায়গাটা সাধারন অ্যানিমে ভক্তদের কাছে অবশ্য বেশ পরিচিত। ১৯৭০-এর অনেক অ্যানিমেই আমাদের হয়ত আমাদের প্রিয়, বারবার দেখা। আবার হয়ত কারো দেখা সেগুলোর সাম্প্রতিককালে প্রচারিত রিমেক। নামগুলো শুনেই হয়ত মুখে ক্ষীন একটা হাসির আভাস দেখা দিবে। অ্যানিমে এখন বিশ্বব্যাপী, অ্যানিমে এখন বিশ্বজয়ী।
কারণ ‘৭০-এ অ্যানিমে জগতে পা রাখবে –
লুপিন দ্য থার্ড, আশিতা নো জো, ফিউচার বয় কোনান, মাজিঙ্গার জি, গ্যালাক্সি এক্সপ্রেস ৯৯৯, রোস অফ ভার্সাইলেস, স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো, মোবাইল স্যুট গুনদাম।
ডোরেমন!
// জাপান থেকে আমেরিকায় অ্যানিমের প্রভাব, প্রচার ও প্রসার সম্পর্কে বেশ ভালো একটা ডকুমেন্টারি – অ্যানিমে ড্রয়িং এ রেভ্যুলুশন। দেখতে পারেনঃ http://www.veoh.com/watch/v15806437gxSnEpdK?h1=anime+drawing+a+revolution //