রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২২: Naruto (Manga) — Uchiha Aoitizhho

[Spoiler Alert] – {Given on request of the participant}

 

মাঙ্গাঃ নারুতো
ভলিউমঃ ৭২
চ্যাপ্টারঃ ৭০০
জনরাঃ একশন, অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি, মার্শাল আর্টস
মাই এনিমে লিস্ট স্কোরঃ ৮.১৪/১০
আমার স্কোরঃ ৯.৮/১০

 

স্টোরিঃ

‘নারুতো’র কাহিনী গড়ে উঠেছে নিনজা ভিলেজ কোনোহার ছোট্ট বালক নারুতোকে কেন্দ্র করে। নারুতোর জন্মের সময় ওর মধ্যে সিল করে দেয়া হয় ভয়ংকর শক্তিশালী নাইন টেইলস ফক্স কিউবিকে। বাবা-মাবিহীন নারুতো সবসময় লক্ষ্য করতো ভিলেজের সবাই ওকে অবহেলা এবং একই সাথে ভয় করে, যার ফলে নারুতোর মাঝে নিজের অস্তিত্ব ফুটিয়ে তোলার প্রবল প্রচেষ্টা জেগে উঠে। তাই ওর জীবনের একমাত্র অভীষ্ট লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় হোকাগে অর্থাৎ সবচেয়ে শক্তিশালী নিনজা ও ভিলেজের লিডার হয়ে উঠার। অনেক সময়ই দেখা যায়, মেইন চরিত্র রাতারাতি দুর্বল থেকে বিশাল শক্তিশালী হয়ে যায়। কিন্তু নারুতোতে এমন অবাস্তব জিনিস দেখানো হয়নি। নারুতোর মাঝে কিউবির পাওয়ার লুকানো থাকা সত্ত্বেও নারুতো পাওয়ারফুল হয়েছে নিজের চেষ্টায়, ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে। প্রথমে কাগে-বুনশিন, তারপর রাসেঙ্গান, অতঃপর রাসেন-শুরিকেন, সবশেষে সাগে ও কিউবি মোড। এভাবেই নারুতো কপর্দকহীন থেকে শক্তিশালী হয়ে উঠে এবং হোকাগে হওয়ার পথে এগিয়ে চলে। তবে এর মাঝে ঘটে যায় অনেক কিছু। চুনিন এক্সাম, অরচিমারুর কোনোহা আক্রমণ, নারুতোর টীমমেট ও বেস্ট ফ্রেন্ড সাসকের ভিলেজ ত্যাগ, আকাৎসুকি ও তবির আবির্ভাব, পেইন এর আক্রমণ ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় কাহিনী। সবশেষে নাটকীয়ভাবে আসে নিনজা ওয়ার ও মাদারার আবির্ভাব।

একাকীত্ব কী তা জানতো বলেই নারুতো বন্ধুত্বকে অগ্রাধিকার দিত। সাসকেকে ফিরিয়ে আনার জন্যে এমনকিছু নেই যা নারুতো করেনি। নারুতোর অন্যকে বোঝানোর ক্ষমতাও অনেক। গারা, নেজি, পেইন, তবি সবাই নারুতোর সংস্পর্শে এসেই ভালো হয়ে যায়। এটা কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও ভালো লেগেছে যে মেইন ভিলেন মাদারা শেষ পর্জন্ত নিজ বিশ্বাসে অবিচল ছিল।

নিনজা দুনিয়া নিয়ে গড়ে উঠা ‘নারুতো’তে নিনজাদের বিভিন্ন কলা-কৌশল এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে একসময় নিজেকেই নিনজা মনে হচ্ছিল। পুরো মাঙ্গা জুড়ে দেখা যায় প্রচুর নিনজা ফাইট এবং প্রত্যেকটি ফাইটই একটির থেকে অন্যটি ভিন্ন ও টুইস্টে পরিপূর্ন। প্রতিটি মিশনও ছিল অ্যাডভেঞ্চারে ভরপুর। তাই যাদের একশন ও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় তাদের জন্যে নারুতো সেরা।

 

ক্যারেক্টারঃ

নারুতো মাঙ্গাটা যেহেতু অনেক বড়, তাই এতে ক্যারেক্টারও আছে প্রচুর, সংখ্যার দিক দিয়ে যা অন্য যেকোনো মাঙ্গার চাইতে বেশী এবং স্যার কিশিমতো প্রতিটি চরিত্রকেই গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেছেন। প্রায় প্রতিটি চরিত্ররই ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড, দুঃখ-কষ্ট, বিলিফ এত সুন্দর করে দেখনো হয়েছে যে সবার অনুভূতিই স্পর্শ করবে এবং প্রত্যেকের বিশ্বাস ও যুক্তিকেই সঠিক বলে মনে হবে। যেমন, ইতাচির নিজ ক্লানকে ধ্বংস করা, নাগাতো থেকে পেইন হয়ে উঠা, অবিতোর প্রতিশোধ, মাদারার নিনজা ওয়ার্ল্ড ধ্বংস করার পরিকল্পনা এমনকি সাসকের প্রতিশোধস্পৃহা সবগুলোর পিছনেই এত সুন্দর করে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে প্রতিটি চরিত্রকেই শক্তিশালী করে তুলেছে।

 

আর্টঃ

নিনজা ওয়ার্ল্ড হিসেবে নিনজাদের মুখোশ, বিশেষ ধরনের পোশাকের পাশাপাশি স্যার কিশিমতো একটু ভিন্নতারও ছুঁয়া লাগিয়েছেন, যেমন নারুতোর গায়ে দেখা যায় কমলা রঙের এক জাম্পস্যুট যা তাকে কিন্তু ভালোই মানিয়েছে।

 

১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৪ এই দীর্ঘ ১৭ বছরের পথচলায় ‘নারুতো’-র সাথে কেটেছে অসংখ্য ভক্তের শৈশব ও কৈশোর। নারুতোর সাথে সাথেই বড় হয়ে উঠেছে অনেকে। আমি যদিও নারুতোর শুরুর সময়টায় নারুতোর পাশে ছিলাম না, তবে নারুতোর শেষ সময়টায় নারুতোর পাশে থাকতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি। নারুতো দেখা শুরু করার পর হতে এই পর্যন্ত সবসময় নারুতো আমার পাশে বন্ধুর মতো ছিল। কখনো মন খারাপ হলে বা হতাশা কাজ করলে নারুতো থেকেই আমি অনুপ্রেরণা-উৎসাহ পেয়েছি। নারুতো থেকে সবচেয়ে বড় যেই শিক্ষাটা পেয়েছি তা হোল “Never give up” । সত্যি বলতে কি, নারুতোর জন্ম নেওয়া থেকে শুরু করে একটু একটু করে বড় হওয়া, নতুন নতুন জিনিস শিখা, নতুন বন্ধু বানানো এগুলো দেখতে দেখতে একসময় নারুতোকে বন্ধুর চাইতেও বেশী কিছু মনে হয়েছে। Really Naruto came as a story and left as a legend. নারুতো গল্প হিসেবে আসলেও হিরো-মহানায়ক হয়েই আমাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

22 Naruto manga

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২১: Shigatsu wa Kimi no Uso [Your Lie in April] — Maisha Musarrat

Are you going to forget ???? do you think you’ll be able to forget ??? প্রত্যেক মানুষের জীবনেই রয়েছে এমন কিছু ঘটনা…এমন কিছু মানুষ …যাকে চাইলেও ভোলা যায়না..মনের কোনো এক কোণে সে ঠিকই তার জায়গা করে নেয়.. your lie in April (shigatsu wa kimi no uso) আনিমেটি জীবনের ঠিক এই দিকটাই অসাধারণ ভাবে তুলে এনেছে আমাদের সামনে ..

আনিমেটির কাহিনী আবর্তিত পিয়ানো প্রডিজি Kousei Arima কে ঘিরে  …মায়ের মৃত্যুর কারণে যার সংগীত ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে খুব অল্প বয়সেই। সেই ঘটনার বছরখানেক পর্… ছেলেবেলার বন্ধু Watari আর Tsubaki এর সাথে Arima এর স্কুলজীবন কেটে যাচ্ছিল সাদামাটাভাবেই….কিন্তু বর্ণহীন সাদাকালো সেই জীবন হঠাৎ করেই নানা রং এ রঙ্গিন হয়ে উঠলো …উচ্ছল প্রানবন্ত তরুণী Miyazono Kaori এর আগমনে …ভায়োলিনিস্ট Kaori এর জীবন ও সংগীত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি Arima এর পুরো জীবনটাই ওলটপালট করে দেয়। যেখানে Arima এরকাছে সংগীত মানে ছিলো নির্ভুল অনুকরণ..সেখানে Kaori এর কাছে …”Music is freedom”… মুক্তমনা Kaori এর সংস্পর্শে এসে নতুনভাবে নিজের স্বাধীনতা আবিষ্কার করা আরিমা কি আবার সংগীত জগতে ফিরে আসতে পারবে???? Kaori…বন্ধু watari এর গার্লফ্রেন্ড হওয়া সত্ত্বেও …Kaori এর চোখে শুধুমাত্র Watari এর বিকল্প হওয়া সত্ত্বেও …সে কি পারবে তার সংগীত এরমাধ্যমে কাওরি এর হৃদয় এ পৌঁছাতে???নাকি আজীবন তাকে “friend A” হয়েই থাকতে হবে???

আনিমেটি দেখতে বসলে সবার আগে নজর কাড়বে এর চোখ ধাধানো অ্যানিমেশন …উষ্ণ উজ্জ্বল সব রং এর সমারোহ নিমিষেই মন ভাল করে দেয় ..সাথে রয়েছে অসাধারণ সঙ্গীতায়োজন… তা সে আনিমেটির অপেনিং ই হোক কিংবা আরিমার বাজানো পিয়ানো…সবসময়ই তা ছিলো ১০০% নিখুঁত

তো আর দেরি কেন?? Koiusei Arima আর Miyazono Kaori এর সাথে এই মিউজিক্যাল জার্নি তে আপনিও বেড়িয়ে পরুন আর অনুভব করুন বন্ধুত্ব..ভালবাসা.. জীবন..জীবনের নানা কষ্টকর অভিজ্ঞতাসত্ত্বেও এগিয়ে যাওয়া..আর সর্বোপরি ..সংগীতের প্রতি অপরিমেয় ভালবাসা.. 🙂

21 Shigatsu

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২০: Fairy Tail — Mehedi Zaman

ফেইরি টেইল (Fairy Tail)
এপিসোডঃ ২৪২+(চলমান)
জনরাঃ অ্যাকশান,এডভেনচার,ম্যাজিক,কমেডি,শাউনেন।
Myanimelist Score: ৮.৩৭

শুনে মনে হতে পারে এটি কোন রুপকথার এনিমে। আপনি যেমন সঠিক তেমনি ভুলও বটে। কারণ, বাক্যটি আসলে ‘ফেইরি টেল’ নয় ‘ফেইরি টেইল’।এইরকম অদ্ভুত নাম নিয়ে স্থাপিত হয়েছে একটি গি্লড। এই গিলডে যোগ দিতে আসা একজন তরুণীকে নিয়ে এনিমের গল্প শুরু। গিলডের এই নামের পেছনেও রয়েছে এক মজার গল্প আর এইসব জানতে এবং ম্যাজিকাল জগতে হারিয়ে যেতে দেখতে হবে ফেইরি টেইল।

 

কাহিনী/প্লটঃ ৮.৫/১০

লুসি হার্টফিলিয়া, ১৭ বছর বয়সী এক তরুণী, সে ফিওরে কিংডম এর মাগ্নলিয়া শহরের এক নামকরা গিলডে যোগ দেওয়ার জন্য আসে। আসার সময়ই তার সাথে দেখা হয় নাটসু দ্রাগ্নীলের, যে ফেইরি টেইল  এর একজন সদস্য। এভাবেই শুরু হয় ফেইরি টেইল এনিমেটির কাহিনী। এনিমেটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল  টিমওয়ার্ক ও বন্ধুত্ব। এনিমেটিতে রয়েছে ম্যাজিকের মাধ্যমে ফাইট করার এক দারুণ অভিজ্ঞতা।এর স্টোরির  রয়েছে বিভিন্ন আর্ক যার ফলে মেইন প্লটের আগে জানতে পারবেন কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি। প্রথমদিকে মনে হতে পারে এনিমেটির নির্দিষ্ট কোনও কাহিনী নেই, কিন্তু আসলে এনিমেটির রয়েছে একটি চমকপ্রদ প্লট যা আপনাকে একটির পর একটি এপিসোড দেখতে আগ্রহী করে তুলবে।

 

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টঃ ৯/১০

ফেইরি টেইল এমন একটি এনিমে যেখানে রয়েছে প্রচুর ক্যারেক্টার। তবে মেইন ক্যারেক্টার এর মধ্যে নাটসু, লুসি, গ্রে, এরজা, হ্যাপি এরা হল উল্লেখযোগ্য। ফেইরি টেইল এর একটি শক্তিশালী বিষয় হল এর ক্যারেক্টার দের তারা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রত্যেক ক্যারেক্টার এর পিছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী ব্যাকগ্রাউন্ড যা এনিমেটির ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টে রেখেছে এক অনন্য অবদান।

 

অ্যানিমেশনঃ ৮.৫/১০

ফেইরি টেইল এর অ্যানিমেশন কোয়ালিটি একটা বড় শো হিসেবে প্রশংসনীয়। এনিমেটির এনভাইরনমেনট অনেক কালারফুল যা ফেইরি টেইল এর স্টোরিলাইন এর সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ। ক্যারেক্টার দের ফেসিয়াল এক্সপ্রেসন ভালভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এবং এর ফলে ফেইরি টেইল এর এত এত ক্যারেক্টার দেরকে খুব সহজেই মনে রাখা যায়।

 

সাউনডট্র্যাক/মিউজিকঃ ৯.৫/১০

ফেইরি টেইল এনিমেটির একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় দিক হল এর সাউনডট্র্যাক। ফেইরি টেইল এর সাউনডট্র্যাকগুলো আমার কাছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আমেযিং সাউনডট্র্যাক। তাদের প্রোডাকশন কোম্পানি A-1 Pictures এবং Yasuharu Takanashi (একজন মিউজিক ডিরেক্টর)এক্ষেত্রে গুরুদায়িত্ব পালন করে। বিশেষ করে Masayume Chasing & Strike Out ওপেনিং দুটো আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। আপনি ফেইরি টেইল এনিমেটি না দেখে থাকলে খুবই ভাল মিউজিক মিস করছেন।

 

এঞ্জয়মেনটঃ ৮.৫/১০

ফেইরি টেইল এনিমেটি দেখে আপনি খুবই মজা পাবেন। কারণ এই এনিমেটির বেশ কিছু সিরিয়াস পার্টেও রয়েছে মেইন ক্যারেক্টারদের বিভিন্ন হাস্যকর কার্যকলাপ। আপনি যদি কমেডি জনরার ভক্ত হন তবে অবশ্যই আপনার কাছে ফেইরি টেইল ভাল লাগবে।

 

ওভারঅলঃ ৮.৫/১০

এই রেটিংটি আমার ব্যক্তিগত রেটিং। সবমিলিয়ে আমার কাছে ফেইরি টেইল এনিমেটি অনেক ভাল লেগেছে। এটুকু বলতে পারি যে, এনিমেটি আপনাকে হতাশ করবে না। তবে যারা খুব সাস্পেন্সের ভক্ত তাদের কাছে ফেইরি টেইল মাঝে মাঝে কিছুটা বোরিং লাগতে পারে। অনেকে বলে থাকেন যে, ফেইরি টেইল এর ফাইটগুলো শুধু নাকামা পাওয়ার আপ দিয়ে জেতা হয়। কিন্তু Erza vs Midnight, Natsu vs Jackal এই ফাইটগুলো সহ আরও অনেক ফাইটই Strategy বেসড।

 

ফেইরি টেইল হয়তবা সেরাদের সেরা নয় তবে এর বেশ কিছু নিজস্ব গুণ রয়েছে যা নিঃসন্দেহে এনিমেটিকে করে তুলে চমকপ্রদ এবং ইন্টারেস্টিং। সবশেষে একটা কথাই বলতে পারি যে, ‘I will fight for my friend  than watching them get hurt, I will fight for those I love.’- এরজা স্কারলেট, এরকমই কিছু অসাধারণ মুহূর্তের জন্য শুরু করে দিন ফেইরি টেইল।

20 Fairy Tail

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১৯: Fate/Zero — Debashish Paul

এনিমে- ফেইট/জিরো
এপিসোড- ২৫ (দুই সিজন মিলিয়ে)
জনরা- একশন, ফ্যান্টাসি, সুপারন্যাচারাল
স্টুডিও- Ufotable
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং- ৮.৬৯/১০ (দুই সিজন মিলিয়ে)

 

প্লট- ফেইট/জিরোর কাহিনী হচ্ছে ফেইট/স্টে নাইট সিরিজের ১০ বছর আগের ফুয়ুকি সিটিতে হওয়া ‘৪র্থ হোলি গ্রেইল ওয়ার’ নিয়ে। ‘হোলি গ্রেইল’ হচ্ছে একটি খ্রিষ্টান রেলিক, এটি যে পাবে তার যেকোনো একটি ইচ্ছা  গ্রেইলটি পূরণ করবে। ‘হোলি গ্রেইল ওয়ারে’ ৭জন মানুষ, ৭জন হিরোয়িক স্পিরিটকে আহ্বান করে। হিরোয়িক স্পিরিটরা হচ্ছে প্রাচীনকালের বিভিন্ন বড় বড় যোদ্ধা, যারা জীবিতাবস্থায় এমনসব কাজ করেছে যাতে তাদেরকে তাদের মৃত্যুর পর ‘হিরো’ উপাধি দেয়া হয় এবং তাদের কিছু ইচ্ছা তাদের জীবিতাবস্থায় পূরণ করা হয়নি। তারা আমাদের সময়ের হিসাবের বাইরে, তার মানে তাদেরকে যেকোনো সময় থেকে এই যুদ্ধে আহ্বান করা যাবে। এই যুদ্ধে ঐ ৭জন মানুষ অংশগ্রহণ করে ‘মাস্টার’ হিসেবে আর ৭জন হিরোয়িক স্পিরিট ‘সার্ভেন্ট’ হিসেবে। ‘হোলি গ্রেইল ওয়ার’ হচ্ছে এই ৭জন মাস্টার এবং ৭জন সার্ভেন্টের যুদ্ধ। যুদ্ধ শেষে যে জিতবে, সেই পাবে ‘হোলি গ্রেইল।’

 

রিভিউ- ফেইট/জিরো সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে এটির কাহিনীবিন্যাসের কথা। ফেইট/জিরোর কাহিনীবিন্যাস অসাধারণ। আমার দেখা সবচেয়ে সেরাদের একটি। কাহিনী খুবই সুন্দরভাবে গুছিয়ে দেখানো হয়েছে। কোন তাড়াহুড়ো নেই, আবার খুব ধীরগতিরও নয়। মারাত্মক সব  টানটান উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে ভরা। একটি এপিসোড দেখলে অন্যটি দেখার ইচ্ছা জাগবেই।

‘হিরো অফ জাস্টিস’ নিয়ে কিরিতসুগুর সংলাপগুলো যথেষ্ট ভাল। আবার ইস্কান্দার, আর্তুরিয়াদের রাজার দায়িত্ব নিয়ে সংলাপগুলো শুনলে মনে হবে সত্যিকারের রাজাদের কথোপকথন শুনছেন।

ফেইট/জিরোর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট অনবদ্য। প্রত্যেক মাস্টার এবং সার্ভেন্টই মানানসই। মাস্টারদের মধ্যে বিশেষ করে কিরিতসুগু, কিরেই, তোকিয়মি। সার্ভেন্টরাও অনবদ্য। গিলগামেশ, আর্তুরিয়া, ইস্কান্দার এবং বাকি সবাই একদমই মানানসই। কিছু কিছু চরিত্র একদম আজীবন মনে গেঁথে থাকার মত।

ওপেনিং, এন্ডিং সং, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলোর মান খুবই ভাল। সার্ভেন্টদের যুদ্ধের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজা মিউজিকগুলো খুবই মানানসই; যুদ্ধের আবহ সৃষ্টি করে।

এনিমেশন কোয়ালিটির জন্য ফেইট/জিরো নামকরা। মারাত্মক সব চোখধাঁধানো এনিমেশন। দেখলে অনেকসময় মনে হবে আপনি ঐ দৃশ্যে আছেন এবং আপনার সামনেই সবকিছু ঘটছে। Ufotable এক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করেছে।

যেহেতু এই এনিমের মূল কাহিনীই যুদ্ধ নিয়ে, সেহেতু যুদ্ধগুলোর মান নিয়ে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সার্ভেন্টদের যুদ্ধ করার ধরন একেকজনের একেকরকম। সার্ভেন্টরা সাধারণত অন্য সার্ভেন্টদের সাথেই যুদ্ধ করে, তাদের মাস্টারদের নির্দেশে। সার্ভেন্টদের একেকজনের থাকে ভিন্ন ভিন্ন ‘নোবেল ফ্যান্টাজম’, যেটি তাদের স্পেশাল পাওয়ার। মাস্টারদের নিজেদের মধ্যেও যুদ্ধ হয়। মাস্টারদের যুদ্ধ মূলত ‘মাইন্ড গেম’। একেক মাস্টার অন্য মাস্টারদের মাইন্ড গেমে পরাজিত করার চেষ্টা করেন। কিরিতসুগু এবং কিরেই এর মাইন্ড গেম অ-সা-ধা-র-ণ!

সবকিছু মিলিয়ে ফেইট/জিরো একটি অসাধারণ এনিমে। কাহিনীবিন্যাস, এনিমেশন, মিউজিক সব ক্ষেত্রেই খুবই ভাল। সব ভাল তার, শেষ ভাল যার। ফেইট/জিরোর শেষটাও যথারীতি খুবই ভাল হয়েছে। যতটুকু এখানে বলা হয়েছে, তার চেয়েও ভাল দেখার আশা করলেও নিরাশ হবেন না।

19 FZ

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১৮: The Cockpit [OVA] — Rafid Rahim

The Cockpit OVA(1994) review

নামঃ The Cockpit OVA
এপিসোডে সংখ্যা : ৩
জনরা : Historical,OVA,Military,Tragedy
MAL  রেটিং : 7.37

সাধারণ আনিমে দেখতে দেখতে একঘেয়েমি লাগছে?একটু ভিন্নধাচের আনিমে দেখতে চান?তাহলে মাত্র ৩ এপিসোড এর এই ব্যতিক্রমীধর্মী আনিমেটি দেখে ফেলতে পারেন।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ সম্পর্কে সাধারণত যত মুভি কিংবা documentary  আছে,প্রায় সবগুলি তেই দেখা যায় মিত্র শক্তির জয়জয়কার।তবে কখনো অক্ষ(Axis)  দৃশ্যানুযায়ী চিন্তা করে দেখছেন ? এই আনিমেটি তে অক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকেই কিছু গল্প তুলে ধরা হয়েছে এবং সেই সাথে যুদ্ধের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

 

পটভূমিঃ

এানিমেটি  ৩টি এপিসোডে এর মধ্যে ৩টি ভিন্ন গল্প বর্ণনা করা হয়েছে।তিনটি গল্পেই তিনটি নতুন প্রধান চরিত্র আনা হয়েছে এবং তাদের মর্মান্তিক কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।

এপিসোড ১: Slipstream( ৮.৫/১০)

প্রথম গল্পটি তথকালিন নাৎসি জার্মানি এর বৈমানিক Erhardt Von Rheindars কে  কেন্দ্র করে। তাকে তার কর্তব্য এবং মনুষ্যত্ব,এ দুটির মধ্যে কোন একটি  বাছাই করতে হবে। তার কর্তব্য হচ্ছে একটি বোমারু বিমান কে শত্রু আক্রমণ থেকে রক্ষা করা,বিমানটির মধ্যে রয়েছে জার্মান বিজ্ঞানীদের দ্বারা তৈরি বিশ্বের প্রথম পরমানবিক বোমা যা পরীক্ষা করার জন্য টেস্ট সাইট এ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ।বিমানটি রক্ষা করলে সে তার জাতির প্রতি কর্তব্য পূরণ করতে পারবে কিন্তু মনুষ্যত্ব পরবে হুমকির মুখে।

অবশ্য ব্যাপারটি অত সহজ নয়।কারন সেই বিমানটির মধ্যে রয়েছে তার প্রেমিকা এবং তার বাবা। Rheindars কি বিমানটি রক্ষা করে নিজের আত্মা শয়তান এর কাছে বেচে দিবে নাকি নিয়ে পরমানবিক বোমাটি ধ্বংস হয়ে যেতে দিয়ে মনুষ্যত্ব এর পক্ষ নিবে?……জানার জন্য অবশই আনিমেটি দেখতে  হবে।

এপিসোড ২: Sonic Boom Squadron(৭.৫/১০)

এবার এর প্রধান চরিত্র একজন জাপানিজ কামিকাজে পাইলট Ensign Nogami।তার স্বপ্ন ছিল রকেট বিজ্ঞানী হওয়ার এবং সেই ভাবেই সে পড়ালেখা করেছে।কিন্তু যুদ্ধের কারণে তাকে বাধ্য হয়েই কামিকাজে পাইলট এর দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়।এখন সে নিজ জীবন দেশের  রক্ষার্থে উৎসর্গ করতে ইচ্ছুক।তবে শক্তিশালী আমেরিকান বাহিনীর এর প্রতিরক্ষা প্রাচীর ভেদ করে তাদের গায়ে আঘাত হানা মোটেও সহজ ব্যাপার নয়।সে কি পারবে তার মাতৃভূমি এর জন্য জীবন উৎসর্গ করতে?নাকি অসংখ্য কামিকাজে পাইলটের মত তার জীবনবলিটিও বৃথা যাবে?…

এই এপিসোডটি আমেরিকান এবং জাপানিজ দুই দৃষ্টিকোন থেকেই গল্পটি দেখানো হয়েছে।

এপিসোড ৩:  Knight  of the Iron Dragon(৫.৯/১০)

এইখনে প্রধান চরিত্র দুইজন জাপানিজ সৈনিক ।তারা তাদের বন্ধুদের কাছে করা প্রতিশ্রুতি  রক্ষা করার জন্য একটি বিমান ঘাটি এর দিকে রউনা হয় যদিও তাদের জানা আছে যে ঘাটিটি শত্রু আক্রমণ দ্বারা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের বন্ধুদের বেচে থাকার আশা খুবই কম। তবে তাদের কোন ধারনা নেই যে সামনে তাদের জন্য কি রকম মর্মান্তিক দুর্ভাগ্য অপেক্ষা করছে।…

 

আর্টঃ (৬.৭/১০)

যেহেতু এানিমেটি ৯০ দশকে বানানো সুতরাং আর্ট স্টাইলটি ৯০ দশকের এানিমে গুলার মতই। যারা ক্লাসিক আনিমে এর ফ্যান তাদের এই আর্ট স্টাইল অবশই ভাল লাগবে।পুরো আনিমেতে ক্যারেক্টার ডিজাইন ভাল থাকলেও কিছু কিছু জাপানিজ ক্যারেক্টারদের  হাস্যকর বানানো হয়েছে।১৯৯৪ সালের এর বানানো আনিমে হিসেবে সেই সময় এর জন্য এনিমেশন বেশ ভালই। Dogfight এর দৃশ্য গুলো খুব ভাল ভাবে এানিমেট করা হয়েছে।

 

ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্টঃ

প্রতিটি এপিসোডে মাত্র ২৪ মিনিটের হলেও এই অল্প সময় এর মধ্যেই প্রধান চরিত্র দের চমৎকার ভাবে ক্যারেক্টার  ডেভলপ করা হয়েছে। যদিও সহযোগী ক্যারেক্টার দের খুব বেশি ডেভলপ করা সম্ভব হয়নি।তাও কাহিনী এর সাথে ক্যারেক্টার গুলো ভাল ভাবেই মানানসই হয়েছে।প্রথম দুই এপিসোডের এর প্রধান ক্যারেক্টার গুলো মনে রাখার মত।

 

মিউজিকঃ

Background মিউজিকগুলা চমৎকার ভাবে আনিমেটির থিম এর সাথে মিলেছে।Ending গান টি অসাধারণ যা আপনার Feels জাগ্রত করতে পারবে। চাইলে গানটি শুনতে পারেন এইখানে https://www.youtube.com/watch?v=DKn10wt96kk( ভিডিওটিতে  স্পইলার আছে তাই ২য় এপিসোডটি দেখার পর এটা দেখলেই ভাল, তবে চাইলে প্রথম দেড় মিনিট দেখতে পারেন)

 

কেন এই এনিমেটি আপনি দেখবেনঃ

যারা ইতিহাস এর ব্যাপারে আগ্রহী তারা এই এানিমেটি অবশই দেখবেন। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ সম্পর্কে এই রকম ভাল controversial খুব অল্পই পাওয়া যায়।যারা ইতিহাস   সম্পর্কে আগ্রহী নয় তারাও দেখতে পারেন। কারণ এপিসোড সংখ্যা মাত্র ৩ টা,এর মদ্ধের রয়েছে ৩টি অসাধারণ কাহিনী। অনেকে মনে করে থাকতে পারে যে এানিমেটি শুধু যুদ্ধ নিয়েই কিন্তু আসলে তা নয়।যুদ্ধের দৃশ্য খুব অল্পই আছে,এখানে স্রেফ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ক্ষতিকর দিক গুলো তুলে ধরা হয়েছে।তাছাড়া প্রতিটি এপিসোড এই রয়েছে যথেষ্ট feels এবং বেদনাদায়ক মুহূর্ত।

তবে দেরি না করে এখনি এানিমেটি ডাউনলোড করে ফেলুন। রেভিউটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ 🙂

18 The Cockpit OVA

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১৭: Cardcaptor Sakura — Tuhin Mahfuz

আনিমে: কার্ডক্যাপ্টর সাকুরা (Cardcaptor Sakura)
জানরা: অ্যাডভেঞ্চার, কমেডি, ড্রামা, ফ্যান্টাসি, ম্যাজিক, রোম্যান্স, স্কুল, সৌজ
এপিসোড সংখ্যা: ৭০
MyAnimeList রেটিং: ৮.১৯
ব্যাক্তিগত রেটিং: ৮.৭৫

আচ্ছা আপনি আগে এমন কোনো আনিমে দেখেছেন যেইটা দেখে মনে হয় “আরে! এইটা তো চেনা চেনা লাগে! কোথায় যে দেখেছিলাম!”। কার্ডক্যাপ্টর সাকুরা এমনই একটি আনিমে। যারা ২০০২-২০০৩ এর দিকে কার্টুন নেটওয়ার্কের ভক্ত ছিলেন তাদের বলতে গেলে সবাই এই আনিমেটির সাথে পরিচিত। আমার মত অনেকেরই এটি ছিল তার জীবনের দেখা প্রথম আনিমে। যারা দেখেন নি তাদের অনেকে মনে করে থাকতে পারেন “এটা তো বাচ্চাদের আনিমে, ছোটোবেলায় হয়ত ভালো লাগত, এখন আর তেমন ভাল লাগবে না” তাহলে আপনি সম্পূর্ণ ভুল। এই আনিমেটা এত সুন্দর সুন্দর জিনিস দিয়ে সাজানো যে সকল বয়সের দর্শকের কাছেই এটি উপভোগ্য। সময় নিয়ে আনিমেটি দেখে ফেলুন আর কিনোমোতো সাকুরার সাথে চলে যান এক জাদুর দুনিয়ায়।

 

স্টোরি/প্লট (৮.৭৫/১০):

কার্ডক্যাপ্টর সাকুরার কাহিনী একজন দশ বছর বয়সী বালিকা, কিনোমোতো সাকুরাকে নিয়ে। সে তার বড় ভাইয়ের সাথে অতি সাধারণ এবং আনন্দময় জীবন কাটাতে থাকে। যদিও সে জানত না তার জীবন আর মোটেও সাধারণ থাকছে না। একদিন সে তাদের বাসার নিচতলায় একটি অদ্ভুত বই আবিষ্কার করে। বইটি নাড়াচাড়া করতে করতে সে ভুলবশত সে বইয়ের মধ্যে রাখা সব “ক্লো কার্ড” ছেড়ে দেয়।এই ক্লো কার্ডগুলো মোটেও সাধারণ কোনো কার্ড নয়। প্রত্যকটি কার্ডের আলাদা আলাদা রূপ ও জাদুই শক্তি আছে।বইটি থেকে শুধু কার্ডই বের হয়ে আসে নি।সাকুরাকে অবাক করে দিয়ে বের হয়ে আসে কেরোবেরোস নামের এক অদ্ভুত প্রানি যাকে দেখে মনে হয় ছোটো খাটো একটি বিড়াল, যে কিনা অই কার্ডগুলোর রক্ষক! সাকুরা নিজেও ততক্ষনে বুঝে ফেলে যে সে অস্বাভাবিক কিছু করে ফেলেছে।কেরোবেরোস সাকুরার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয় এক মস্ত বড় দায়িত্ব, “তুমি কার্ডগুলকে হারিয়েছ আর তোমাকেই তা ফিরিয়ে আনতে হবে।” এইখান থেকেই শুরু হয় সাকুরার রোমাঞ্ছকর জীবন। সাকুরা তার নতুন অর্জিত অদ্ভুত ও অসাধারন সব জাদুই শক্তি দিয়ে কার্ডগুলো খুজতে থাকে এবং রুপান্তরিত হয়, যাকে আমরা বলে থাকি “Magical Girl” এ।

কার্ডক্যাপ্টর সাকুরার কাহিনী খুব সুন্দরভাবে রচনা করা। এ বিষয়ে “ক্ল্যাম্প” গ্রুপকে বাহবা দিতেই হয়। প্রিতিটি এপিসোডকেই রোমাঞ্ছকর করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তা কমবেশি সফলও হয়েছে। যদিও কার্ডগুলো ধরাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় কিন্তু কাহিনী আগাতে থাকলে বেরিয়ে আসে অনেক রোমাঞ্ছকর সব জিনিস।

 

চরিত্র (৮.৫/১০):

কার্ডক্যাপ্টর সাকুরার মাধ্যমে পরিচিত হওয়া যায় মনে রাখার মত কিছু চরিত্রের সাথে। আমরা পরিচিত হই সাকুরার মত এক অসাধারন মেয়ের সাথে। কাহিনী আগানোর সাথে সাথে সাকুরার মধ্যকার পরিবর্তন খুব সহজেই লক্ষ্য করা যায়।  কেরোবেরোসের কথা না বললেই নয়। সে আমার ব্যাক্তিগত প্রিয় একটি চরিত্র। তার এবং সাকুরার কর্মকাণ্ড দেখে মাঝে মাঝে না হেসে পারি না। সাকুরার বেস্টফ্রন্ড, তোমোয়া আনিমেটিতে খুব ভাল করে যায়গা করা নেয়। সে সাকুরার সাথে প্রায় প্রতিটি কার্ড ধরতে যায় আর তা ক্যামেরাবন্দিও করে রাখে। কিছু সময় পার হওয়ার পর সাক্ষাত মেলে শাওরান লী এর সাথে। সে প্রথমে আসে সাকুরার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। কে এই শাওরান লী? তাদের সম্পর্ক কি? এসব আনিমেটি দেখেই জানতে হবে। আরও দুটি চরিত্র যাদের কথা বলা লাগে, তারা হল সাকুরার ভাই, কিনোমোতো তোওইয়া ও তার বন্ধু সুকিশিরো ইউকিতো। সাকুরার সাথে তার ভাইয়ের সম্পর্ক বেশ মজার। কার্ডক্যাপ্টর সাকুরার একটি বিশেষত্ব হল প্রতি এপিসোডেই নতুন কোনো না কোনো চরিত্র আসে।

 

আর্টওয়ার্ক/ ভিসুয়ালস (৯/১০):

কার্ডক্যাপ্টর সাকুরায় রয়েছে চমৎকার আর্টওয়ার্ক ও অ্যানিমেশান। ফাইটিং দৃশ্যগুলো এত সুন্দরভাবে করা যে তা উপভোগ্য না হয়ে পারে না। ম্যাডহাউস প্রোডাকশান এতে পুরোপুরি সফল।

 

সাউন্ড এফেক্ট (৮.৫/১০):

আনিমেটিতে মনে রাখার মত কিছু মিউজিক রয়েছে। প্রথম অপেনিং এবং কার্ডগুলো ফিরানোর সময় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুলা মনে গেঁথে যায়।

 

বিনোদন (৯/১০):

আবারও বলছি, কার্ডক্যাপ্টর সাকুরা বাচ্চাদের আনিমে এইটা একদম ভাবা চলবে না আবার সৌজ জানরার বলে যে শুধু মেয়েদের জন্যই এমনটিও নয়। আনিমেটিতে এমনসব মুহূর্ত, এমনসব আবেগ রয়েছে যেটি সবার কাছেই সমান উপভোগ্য। তাই আপনি যদি ভেবে থাকনে, “ছোটো বেলায় দেখতাম, ভাল লাগত। এখন ভাল লাগবে না” তাহলে আবার একটু কষ্ট করে দেখুন। আমি ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে বলতে পারি এইটা আপনার পুরনো স্মৃতিকে আবার জাগিয়ে তুলবে। আর যারা এই আনিমে আগে দেখেন নি তারা তো আরও আগে দেখবেন। এত সুন্দর একটি আনিমে না দেখলেই নয়।

যারা কার্ডক্যাপ্টর সাকুরা দেখতে চান তাদের সুবিধারতে আনিমেটি ডাউইনলোড করার লিংক দিয়ে দেওয়া হল,

http://coalgirls.wakku.to/129/cardcaptor-sakura

http://www.torrentbd.com/torrent/torrents-details.php?id=111632

হ্যাপি আনিমিং!!!

17 Cardcaptor Sakura

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১৬: Shigatsu wa Kimi no Uso [Your Lie in April] — Arnab Basu

[NOTE: রিভিউতে বেশ বড় কিছু স্পয়লার আছে, তাই আনিমেটি দেখে না থাকলে রিভিউ পড়বার সময়ে সতর্ক থাকুন। – Animekhor Admin Panel]

———————————————————————————————–

এনিম/মাঙ্গা : শিগাতসু ওয়া কিমি নো উসো (Your Lie in April)
মাঙ্গাকা : নাওশি আরাকাওয়া
জনরা : মিউজিক, ড্রামা, রোম্যান্স, ট্রাজেডি
পর্ব : ২২
ম্যাল রেটিং :.৯৩

শিগাতসু ওয়া কিমি নো উসো দেখে আপনি হাসবেন, কাঁদবেন আর অসাধারণ সুরের মূর্ছনায় নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন। মিউজিক ভিত্তিক এনিম হিসাবে এর মূল আকর্ষণ হল ক্লাসিকাল ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিকের অসাধারণ প্রদর্শন। এর সাথে আছে হৃদয়স্পর্শী কাহিনী।

 

কাহিনীসংক্ষেপ ও রিভিউ :

ছোটদের পিয়ানোর জগতে ধূমকেতুর মত প্রবেশ আরিমা কৌসেইর। একের পর এক প্রতিযোগিতা জয় করে নিজের প্রতিভার পরিচয় দেয় সে। কিন্তু সবকিছু বদলে যায় যখন তার মা মারা যায়। ছোটবেলা থেকে তাকে পিয়ানো শেখানো মায়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে বিদ্ধস্ত হয় আরিমা, তার শ্রবণশক্তিতে কোন সমস্যা না থাকার পরেও সে তার নিজের পিয়ানোর শব্দ শোনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলে। এই ঘটনার দুই বছর পরেও আরিমার অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না। পিয়ানো থেকে দূরে সরে যাওয়া আরিমার জীবন ওলট-পালট হয়ে যায় মিয়াজোনো কাওরির আবির্ভাবে। কাওরি বেহালা বাজায়। সারা জীবন নিখুঁতভাবে নোট অনুসরণ করে পিয়ানো বাজানো আরিমা কাওরির উচ্ছল এবং স্বাধীনচেতা বেহালার সুরে মুগ্ধ হয়। অনেকটা জোর করেই আরিমাকে আবার সঙ্গীতের জগতে ফিরিয়ে আনে কাওরি। তার বিশ্বাস, আরিমা তার সুরের মাধ্যমে নিজের অনুভূতিগুলো সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেবে। শুরু হয় সঙ্গীতের জগতে তাদের নতুন করে পথচলা।

শিগাতসু ওয়া কিমি নো উসো কে বাংলা করলে দাঁড়ায় “এপ্রিলে তোমার মিথ্যা”। কখনো কখনো কিছু মিথ্যার দাম সত্যের চেয়ে বেশি, বিশেষ করে সত্যটা যখন খুব কষ্টদায়ক। সুন্দরী আর প্রাণোবন্ত কাওরিকে প্রথম দেখাতে তার প্রতি আকৃষ্ট হয় আরিমা। কিন্তু কাওরি আরিমাকে যখন “Friend A” হিসাবে আখ্যায়িত করে, তখন আরিমাও তার ভাগ্য মেনে নেয়, কাওরি হয় তার “বন্ধুর প্রেমিকা”। অথচ কাওরিরও পছন্দ আরিমাকে। এভাবে দুজনই তাদের সত্যিকার অনুভূতিগুলোকে লুকিয়ে এক মিথ্যা খেলায় অবতীর্ণ হয়। কারণ সত্যটা মেনে নেওয়া দুজনের কাছেই অনেক বেশি কঠিন। নিজেদের সত্যিকারের অনুভূতিগুলোর প্রকাশ তারা দেখিয়েছে তাদের সুরের মাধ্যমে। এনিমের কাহিনী ট্র্যাজিক, কিন্তু তাই বলে এটা শুধুমাত্র একটা ট্র্যাজেডির গল্প না। প্রিয়জন হারানোর শোক একটা মানুষের জীবনকে কিভাবে থমকে দিতে পারে  কিংবা জীবনের আশা হারিয়ে ফেলা একজন মানুষের মানসিকতাগুলো এই গল্পের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চরিত্রগুলোর নিজেদের অনুভূতি নিয়ে সংশয়, সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা, নিজেদের প্রমাণ করার লড়াই ও পরিশ্রম, কঠিন সত্যগুলোকে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে চলার মত বিষয়গুলোও গল্পে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কাহিনীর কিছু ত্রুটির মধ্যে ড্রামার আধিক্য অন্যতম। তবে এনিমের কাহিনী একটু সিরিয়াস ধরণের হওয়ায় এই ত্রুটি মেনে নেওয়া যায়। তবে মাঝখানের পর্বগুলো বেশ ধীরগতির আর একই ফ্ল্যাশব্যাক বার বার দেখাটা মাঝে মাঝে বিরক্তিকর লাগতে পারে।

 

চরিত্র :

এই এনিমটি শুধুই আরিমা আর কাওরিকে নিয়ে। আরিমার বন্ধু হিসাবে ওয়াতারি কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে এমি আর তাকেশিকে দেখানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারা কেউই তেমন গুরুত্ব পায়নি। সুবাকি আরিমার ছোটকালের বন্ধু, আরিমাকে সবসময় নিজের ছোটভাই এর মত দেখে এলেও একসময় তার প্রতি সুবাকির অনুভূতিগুলো পালটে যায়। এ কারণে সুবাকি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কাওরির ঔজ্জ্বলের সামনে সুবাকি অনেকটা ম্লান। এনিমের বাকী চরিত্রগুলো শুধুমাত্র  প্রয়োজনের তাগিদ মিটিয়েছে।

 

মিউজিক ও এনিমেশন:

এনিমের মূল থিম মিউজিক, যেটা তার সবচাইতে শক্তিশালী দিক। আসলে মিউজিকই এই এনিমের সব। কাওরি আর আরিমার বেহালা আর পিয়ানো বাজানোর মিউজিকগুলো তো আছেই; OST, ওপেনিং আর এন্ডিং এর গানগুলোও অসাধারণ। আর তার সাথে যোগ হয়েছে চমৎকার আর্টওয়ার্ক আর বর্ণিল এনিমেশন, যা একই সাথে চক্ষু ও কর্ণের জন্য আনন্দদায়ক।

 

শিগাতসু ওয়া কিমি নো উসো তার কাহিনী দিয়ে হয়তো সবার মন জয় করতে পারবে না, তবে এই এনিমটা প্রমাণ করেছে যে অসাধারণ গল্পই সবসময় শেষ কথা না। মিয়াজোনো কাওরি আর চমৎকার মিউজিকে মন্ত্রমুগ্ধ হওয়ার জন্যই সবার উচিৎ অন্তত একবার হলেও এই এনিমটা দেখা।

16 Shigatsu wa Kimi no Uso

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১৫: Katekeyo Hitman Reborn! — Rezo D. Skylight

এনিমেঃ Katekeyo Hitman Reborn!
জনরাঃ অ্যাকশান, কমেডি, শউনেন, সুপার পাওয়ার
পর্ব সংখ্যাঃ ২০৩
মাই এনিমে লিস্ট রেটিংঃ ৮.৪৩
ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ৯.০০

আমরা সকলেই হয়তো অনেক অ্যাকশান-শউনেন এনিমে দেখি থাকি। যেমন নারুতো, ব্লিচ, ওন পিছের নাম তো সবার মুখে মুখেই শোনা যায়। কিন্তুু আপনি কখনো রিবর্নের নাম শুনেছেন? যদি না শুনে থাকেন তাহলে দেরি না করি মাফিয়া নিয়ে এই বেতিক্রম ধর্মী শউনেন এনিমেটা দেখার ট্রাই করুন। আপনি অ্যাকশান-শউনেন এনিমের ভক্ত হলে অবশ্যই আপনার রিবর্ন ভালো লাগবে। যদিও রিবর্নের জনপ্রিয়তা নারুতো, ব্লিচ, ওন পিছের মতো না। কিন্তুু তারপরেও রিবর্ন বেশ ভালো লাগার মতো একটি এনিমে। একটি অ্যাকশান-শউনেন এনিমেতে অ্যাকশান, ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট থেকে শুরু করে যা যা থাকা প্রয়োজন তার সবই রিবর্নে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

কাহিনী (৮/১০):

কাহিনী ঠিক এমন এক সময় যখন মাফিয়া ওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করে ইটালির সবচেয়ে শক্তিশালী মাফিয়া পরিবার “ভঙ্গলা”। বর্তমান ভঙ্গলা পরিবারের হেড ৯ম, এর জীবনকাল প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এখন সে অবসর গ্রহন করবে। কিন্তুু অবসর গ্রহনের পূর্বে সে চায় নতুন হেড নির্বাচন করতে। আর সে জন্য তিনি একজন প্রফেশনাল হিটম্যানের সহযোগিতা চায়; যার নাম রিবর্ন।

এনিমের প্রধান চরিত্র সাওয়াদা সুনায়োশি; সংক্ষেপে সুনা। অত্যন্ত সাধারন টাইপের একজন কিশোর। বেক্তিগত জীবনে সে খুবই অবহেলিত। স্কুলের জনপ্রিয়তা তো দূরের কথা তার কোন বন্ধুও নেই। স্কুলের পরীক্ষার ফলাফলও খারাপ। এমন এক কিশোরের জীবনে হতাশা ছাড়া আর কিছুই আশা করা যায় না। কিন্তুু হটাত একদিন সকালে তার বাড়িতে এসে হাজির হয় রিবর্ন। সুনার আপত্তি থাকা সত্তেও সে তার গৃহশিক্ষক হয়ার দাবি জানায়। এভাবেই দেখা হয় সুনা আর রিবর্নের। শুরু হয় সুনার জীবনের নতুন অধ্যায়, পরিবর্তন ঘটে তার ভাগ্যের। আর এখান থেকেই শুরু হয় নতুন ভঙ্গলা বস হওয়ার গল্প।

 

আর্টওয়ার্ক (৮/১০):

আর্টওয়ার্ক যে কোন এনিমেরই বড় একটা ফ্যাক্ট। আর্টওয়ার্ক ভালো না হলে দর্শক এনিমে দেখার জন্য আগ্রহি হয় না। রিবর্ন এর এনিমে এডাপশন করেছে আর্টল্যান্ড স্টুডিও। আর্টল্যান্ডের ততো বেশি কাজ আমি দেখি নি। তবে তাদের কাজগুলোর মধ্যে মুশিশি উল্লেখযজ্ঞ। ২০০৬ সালের এনিমের আর্টওয়ার্ক হিসেবে রিবর্নের আর্ট যথেষ্ট ভালো। তবে শেষের দিকের এপিসোডগুলার আর্টওয়ার্ক, প্রথম দিকের আর্টওয়ার্কের তুলুনায় আরও ভালো। আর আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে অ্যাকশান সিনগুলোর আর্টইফেক্টগুলো।

 

সাউন্ড এফেক্ট (৯/১০):

 রিবর্ন এনিমে দেখেছে কিন্তুু এর সাউন্ড এফেক্ট ভালো লাগেনি এমন মানুষ মনে হয় খুব কমই আছে। সত্যি বলতে কি এই এনিমের সাউন্ড এফেক্টগুলা আমার কাছে অসাধরন লেগেছে। প্রায় প্রতিটি ওপেনিং এবং এন্ডিং গানই বেশ ভালো। আর অবশ্যই ওএসটিগুলা আমার কাছে আরও ভালো লেগেছে। অ্যাকশান সিনগুলার সময় একেবারে পারফেক্টওএসটি ব্যাবহার করেছে। (আমার পছন্দের একটি ওএসটি – https://www.youtube.com/watch?v=iS-npAstKBo) ওপেনিং গানগুলার মধ্যে আমার মাসামি মিতসুকার গাওয়া “লাস্ট ক্রস” গানটা বেশ ভালো লেগেছে। (ফুল ভার্সন সুন্তে চাইলে এই লিঙ্কে ঘুরে আসুন – https://www.youtube.com/watch?v=sEcdvzbDLeQ) । এছাড়া এনিমেতে সেইয়ু হিসেবে কায করেছে সাতমি আকেসাকা ও তাকাসি কন্দউর মতো আরও নামকরা সেইয়ু।

 

ক্যারেক্টার (১০/১০):

রিবর্নের অন্যতম কি-পয়েন্ট হল এর ক্যারেক্টারগুলো। যদিও দুই-একটি বিরক্তিকর ক্যারেক্টার রয়েছে (যেমন- ল্যাম্বো) তারপরেও সবগুলো ক্যারেক্টারই উনিক টাইপের এবং প্রায় প্রতিটি ক্যারেক্টারই আমার ভালো লেগেছে। এনিমের মেইন ক্যারেক্টারগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেক্টারগুলোও খুব যত্ন সহকারে বানানো হয়েছে। আমার কাছে সুনার “ডাইং ফ্লেম মোড” খুব ভালো লেগেছে। এছাড়াো আমার পছন্দের ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যে অন্যতম হল রিবর্ন, হিবারি আর ইয়ামামোটো।

 

বিনোদন (১০/১০):

  রিবর্ন এমন এক এনিমে যা আপনি একবার দেখা শুরু করলে শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্ক্রীনের সামনে থেকে উঠতে পারবেন না। এনিমের অন্যতম ভালো দিক হল এতে গাদা গাদা ফিলার এপিসোড নেই। শুধু কিছু আর্ক শেষে অল্প কিছু ফিলার এপিসোড দেখানো হয়েছে। তাই এনিমেটি খুব ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। আমার কাছে প্রতিটি ফাইট অসাধরন লেগেছে। আপনি এনিমেটির যত গভীরে ঢুকতে থাকবেন, দেখবেন কাহিনী তত জমজমাট হতে শুরু করেছে। পরিশেষে বলতে পারি আমি এনিমেটি খুব উপভোগ করেছি।

 

দোষ-ত্রুটি:

 রিবর্নের দোষ-ত্রুটির কথা বলতে গেলে আমি তেমন কোনো দোষ-ত্রুটি খুঁজে পাইনি। যদিও এনিমের শুরুটা অন্যান্য অ্যাকশান-শউনেন এনিমের তুলোনায় খুব উইক; বলতে গেলে অনেকটা গ্যাগ এনিমের মতো শুরু হয়েছিল। কিন্তু যদি আপনি ধৈর্য্য ধরে ২০টা এপিসোড দেখতে পারেন তাহলে আশা করি এরপর থেকে আপনার নিজেরই রিবর্ন দেখার নেশা লেগে যাবে।

 

আশা করি, রিভিউটি পড়ে ভালো লেগেছে এবং একটু হলেও আপনাদের মনে এনিমেটা দেখার আগ্রহ জন্মেছে। সুতরাং, আপনারা সময় পেলে এনিমেটা দেখা শুরু করে দিন।

15 Hitman Reborn

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১৪: Parasyte -the maxim- — Maruf Raihan

[NOTE: রিভিউতে বেশ বড় কিছু স্পয়লার আছে, তাই আনিমেটি দেখে না থাকলে রিভিউ পড়বার সময়ে সতর্ক থাকুন। – Animekhor Admin Panel]

———————————————————————————————–

এনিমে : প্যারাসাইট দ্যা ম্যাক্সিম (কিসেইজু-সেই নো কাকুরিতসু)
এপিসোড : ২৪ টি
MyAnimelist Score : 8.67
জেনার: অ্যাকশন, সাইকোলজিক্যাল, সাই-ফাই,ড্রামা
প্রযোজনা: ম্যাডহাউজ ও ভিওপি

শর্ট সিরিজ এনিমের মাঝে যারা অতিরিক্ত মাত্রায় উত্তেজক আর ড্রামাটিক গল্প খুজে বেড়াচ্ছেন,তাদের জন্যই যেন রয়েছে প্যারাসাইট দ্যা ম্যাক্সিম। হিতোশি ইওয়াকির সাইন্স ফিকশনাল মানগা ‘কিসেইজু-সেই নো কাকুরিতসু’ এর আলোকে  এই এনিমেটি বানানো হয়েছে।।

১৭ বছর বয়সী এক তরুণ শিনিচি ইজুমি প্রতিদিনকার মত ডিনার সেরে আইপড আর কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। হঠাৎ নাকে অস্বস্তি অনুভব করলে হাচি দিয়ে তার ঘুম ভাঙ্গে।সে দেখতে পায় একটি ক্ষুদ্র জীব তার হাত ভেদ করে উপরের দিকে উঠছে। এমতাবস্থায় সে ইয়ারফোন এর তার দিয়ে তার হাতের উপরের অংশ বেধে ফেলে,যাতে সেটি আর উপরে উঠতে না পারে। এই জীবগুলোই এনিমের প্রধান প্রকরণ পরজীবী প্যারাসাইট। এরা ভ্রুনাবস্থায় মুক্ত হয়ে নিকটবর্তী মানুষের মস্তিষ্ক হরণের চেষ্টা করে। কিন্তু শিনিচির ক্ষেত্রে তার প্যারাসাইট শুধু হাতের অংশে বৃদ্ধি লাভ করে।আর এভাবেই সাধারণ হাইস্কুল ছাত্র শিনিচি ইজুমি জড়িয়ে পড়ে এক রক্ত-রহস্যের খেলায়।

টোকিও তে নানা জায়গায় মানুষের ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া শুরু হয়।বলা বাহুল্য প্যারাসাইট এর শিকার ইজুমি একা নয়,অনেকেই হয়েছিল। যারা পুরোপুরি প্যারাসাইট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তারাই জড়িত ছিল এই হত্যাকান্ডগুলোতে।

গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র মুরানো সাতোমি(ইজুমির সহপাঠী ও বন্ধু), ইজুমির মাঝে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করে। ফলে ইজুমিকে বাইরের কাছ থেকে প্যারাসাইট এর গোপনীয়তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

অত:পর আবির্ভাব হয় তামিয়া রেইকো নামের এক প্যারাসাইটিকের,যে প্যারাসাইট আর মানুষের মধ্যে জীববৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে গোতোউ এর মত শক্তিশালী প্যারাসাইট তৈরিতে সক্ষম হয়। সে শিনিচির স্কুলে গণিতের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে। একই সময়ে শিনিচির বাবা-মা ভ্রমণ করতে গেলে সেখানেই এক প্যারাসাইটিকের হাতে শিনিচির মায়ের মৃত্যু হয়। তারপর ঘটনাচক্রে শিনিচির মআমায়ের প্যারাসাইটের হাতেই শিনিচি জখম হয়, কিন্ত শিনিচির প্যারাসাইট মিগির সহায়তায় প্রাণে বেচে যায় সে। কিন্ত মিগির  হৃৎপিন্ড  প্রতিস্থাপন এর ফলে শিনিচির মাঝে কিছু সুপারন্যাচারাল শক্তি দেখা যায়। এদিকে হিরামা নামের এককজনকে টোকিও মেয়র নির্বাচন এপ্রার্থী বানিয়ে প্যারাসাইটিকের কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার নীলনকশা করে। বিচিত্র ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হতে থাকে।

কিন্ত এনিমেটিতে আবেগময় ও কান্নার দৃশ্যও রয়েছে, যা এনিমেটিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। কানা কিমিশিমার দুর্ভাগ্যজনক ট্রাজিক মৃত্যু যেকোনো দর্শক এর হৃদয়স্পর্শ করবে।  কানা তার অন্তিমকালে শিনিচির কাছে তার ভালোবাসার কথা প্রকাশ যেন এতো রক্তাক্ত বাস্তবতার মাঝেও আবেগী রোমান্টিসিজমের অবতারণা করেছে।

কিন্ত পরিস্থিতি বেশি খারাপের দিকে যেতে শুরু করলে সরকার অঅনুমোদিত বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনী মুখোমুখি আক্রমণ পরিহার করে এসল্ট হিডেন পরিকল্পনায় অগ্রসর।  গল্পের বাকিটা এনিমখোরদের জন্যই থাক।

অনেকেই বলে শর্ট সিরিজের এনিমে লং সিরিজের এনিমের মত মনে রেখাপাত করতে পারে না।তাদের জন্য বলবো,প্যারাসাইট এনিমেটি দেখুন। এটি আমার দেখা সেরা ১০ এনিমের মধ্যে একটা।তাই এই এনিমের প্রতিটি এপিসোড শেষে আপনি পরের এপিসোডে কি হবে তা ভেবে হাত বা আংগুল কামড়ানো, চুল ছেড়া ইত্যাদি করতে পারেন।

আর এনিমের শুরুতে ‘Fear & Loathing inn Las Vegas ‘ এর ‘Let me Hear’ গানটি এনে দেবে অন্যরকম উন্মাদনা।

সুতরাং, আর দেরি কেন,আজই শুরু করে দিন প্যারাসাইট দ্যা ম্যাক্সিম, ভালো না লাগা রীতিমতো অসম্ভব।

প্যারাসাইট সংক্রান্ত কিছু লিনক:

http://www.imdb.com/title/tt3358020/

http://www.crunchyroll.com/parasyte-the-maxim

https://www.youtube.com/watch?v=9ho1ZRZv6aQ

https://www.youtube.com/watch?v=yGvyH4hh4SY

http://myanimelist.net/anime/22535/­Kiseijuu:_Sei_no_Kakuritsu

14 Parasyte

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #১৩: NANA — Maliha Mahjabin

অ্যানিমে:  NANA
জনরা: জোসেই, রোম্যান্স, কমেডি, মিউজিক, স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা
এপিসোড সংখ্যা: ৪৭
MyAnimeList র‍্যাংক: #৬৪
MyAnimeList রেটিং: ৮.৬/১০
ব্যাক্তিগত রেটিং: ৯/১০

আমরা যতো বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকি ততোই আমাদের হৃদয়ের বোঝা বেড়ে চলে। এই এক বাক্যেই NANA’র কাহিনীর সামান্য আঁচ পাওয়া যায়।

 

স্টোরি/প্লট:

“Hey, Nana! Remember the first time we met?”

NANA’র শুরুটা হয় এভাবেই, সুদূর ভবিষ্যতের কোনো একজনের স্মৃতিচারণার মাধ্যমে।

কাহিনীর প্রেক্ষাপট এক আধুনিক ও জমকালো টোকিয়ো শহরে। অ্যানিমের শুরুতেই দেখানো হয় ২০ বছর বয়সী এক প্রফুল্ল তরুণীকে, নাম নানা কোমাতসু, যে কিনা তার স্বপ্নের জীবন যাপন করার জন্য তার শহর ছেড়ে টোকিয়োর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

ট্রেন এ উঠার পর তার পরিচয় হয় গিটারবাহী এক মেয়ের সাথে। মেয়েটি গোথিক, নানা কোমাতসুর ব্যাক্তিত্ত্বের সম্পূর্ণ বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। তার নাম নানা ওসাকি। নিজের শহরের ”ব্ল্যাস্ট” নামক এক আন্ডারগ্রাউন্ড পাঙ্ক ব্যান্ড এর ভোকালিস্ট ছিলো সে। কোনো এক কারণে ব্যান্ডটি ভেঙ্গে যায়, আর সেও টোকিয়োর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে প্রোফেশনাল মিউজিসিয়ান হওয়ার স্বপ্নটাকে ছোঁয়ার আশায়। ভাগ্যের পরিহাসে তাদের জীবন একে অন্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায় এবং নতুন সব মোড় নেয়।

অ্যানিমেটি কাহিনী উপস্থাপনার দিক দিয়ে অত্যন্ত আকর্ষনীয়, এই উপস্থাপনা পুরো সিরিজের আবহাওয়াই বদলিয়ে দেয়! সিরিজটি জীবনের কিছু কাহিনী নিয়ে, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি এবং দুইটি ব্যান্ড এর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বীতা নিয়ে। বিভিন্ন মানুষ ও তাদের মধ্যকার প্রেম-ভালবাসা, সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে, যা ঠিক আমাদের জীবনের মতোই। হয়তো ভাবছেন, এ আর এমন কী, অসাধারন কিছু তো নয়! তাহলে এই অ্যানিমেটির এতো কদর কেন করছি? তার কারণ হলো অ্যানিমেটি বাস্তববাদি। চরিত্রগুলোর মতো একদম একই কাহিনী আপনার জীবনে না ঘটলেও আপনি টের পাবেন কিছু কিছু অনুভূতি আপনিও বাস্তব জীবনে অনুভব করেছেন কোনো না কোনো সময়, তা না হলেও, কমপক্ষে নিজেই অনুভব করতে পারবেন চরিত্রগুলো কীসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আর দশটা রোম্যান্স অ্যানিমের মতো শুভ সমাপ্তি নয়, বরং এতে কয়েনের এপিঠ-ওপিঠ দুই পিঠ-ই দেখানো হয়েছে।

আমার দেখা আর কোনো অ্যানিমেতেই এতো সুন্দর ও রিয়েলিস্টিক ভাবে এ ব্যাপারগুলো তুলে ধরা হয়নি যা এই অ্যানিমেতে করা হয়েছে।

 

ক্যারেক্টার ও আর্টঃ

NANA’র প্রত্যেকটি চরিত্রই গল্পের সাথে সম্পূর্ন মানানসই ভাবে তৈরি করা হয়েছে, প্রত্যেকটি চরিত্রই বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। শান্তশিষ্ট,ম্যাচুয়র চরিত্র থেকে শুরু করে ঘৃণীত প্রায় সব রকমের চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে এতে। NANA’র আর্টস্টাইল খুব বেশি সুন্দর নয়, তবে তা গল্পের সিরিয়াস সেটিং ও চরিত্রগুলোর সাথে ভালোভাবে মিশে গিয়েছে।

 

মিউজিক:

যেহেতু  NANA’র কাহিনী মিউজিক নিয়েই তাই মিউজিক সিরিজটির একটি বড় অংশ। ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ডট্র‍্যাক গুলো গল্পের সাথে বেশ ভালোভাবে মিলে গিয়েছে। ওপেনিং ও এন্ডিং সং গুলোও খুব সুন্দর। ২ ব্যান্ড এর ভোকালিস্ট হিসেবে Anna Tsuchiya নানা’র এবং Olivia Lufkin আরেক ভোকালিস্ট রেইরা’র গানগুলো গেয়েছেন। এছাড়া পুরো অ্যানিমে জুড়েই বিভিন্ন পার্ফর্মেন্স তো রয়েছেই।

 

ওভারঅল:

সবমিলিয়ে NANA এমন একটি অ্যানিমে যাতে কমেডি, রোম্যান্স, ট্র‍্যাজেডি সবকিছুর এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ ঘটেছে। জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সিদ্ধান্ত সামগ্রিক জীবনে কিভাবে প্রভাব ফেলে, কীভাবে জীবনের কাঁটা ঘুরে যায়, এসবই সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে চমৎকার এ সিরিজে। সিরিজটিতে কিছু ম্যাচিউর কন্টেন্ট আছে যা সবার জন্য উপযুক্ত নয়। বলে রাখা ভালো,যারা নাটকীয়তা পছন্দ করেননা তাদের কাছে সিরিজটি এতো ভালো না-ও লাগতে পারে। কিন্তু তারপরও নিজে একবার চেখে দেখতে তো ক্ষতি নেই। কে জানে, হয়তো আপনার-ও এতোটাই ভালো লেগে যেতে পারে, যতোটা না আমার লেগেছে!

13 Nana