Colorful – মুভি রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

 

Colorful 1

Are you alive?

মাঝে মাঝে কি এমন সময় এসেছে যখন কোন একদিন মনে হয়েছে চিরজীবন বেঁচে থাকতে পারলে বোধহয় খুব ভাল হত? অথচ ঠিক তার পরদিনই হটাৎ করে সব কিছু অর্থহীন মনে হয়েছে? বেঁচে থাকার ইচ্ছের জায়গাগুলো কি হটাৎ করেই দখল করে নিয়েছে একরাশ হতাশা, নিজের উপর; চারপাশের মানুষগুলোর উপর? নিজের ভুলগুলোর জন্য নিজের উপর প্রবল আক্রোশ এসে ভর করেছে?
আমার ধারনা আমাদের সবার জীবনেই কখনো না কখনো এমন সময় এসেছে। এবং আমরা সেই অবস্থা কাটিয়েও উঠি, আবার ফিরে যাই যান্ত্রিক জীবন যাপনে; কখনো কারো সাহায্য নিয়ে; কখনো কখনো হয়ত নিজের মনের জোরেই।

আমরা অনেক সময়েই আসলে বেচে থাকাটাকে পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারি না। কারণ আমরা আসলে পুরোপুরি বেঁচে থাকি না কখনই। আমরা তিন বেলা খাই, সারারাত ঘুমাই আর সারা দিন ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ুতে থাকি; ক্যারিয়ার; পড়াশুনা; দায়িত্ব; কর্তব্য – এখান থেকে সেখানে। একটু স্থির হয়ে বসে গোটা দুনিয়াটাকে, আকাশটাকে; চারপাশে মানুষগুলোকে চোখ মেলে দেখার একটুও ফুরসত মেলে না আমাদের। আমরা পুরোপুরি বেঁচে থাকি না; বেঁচে থাকার অভিনয় করি যাই আসলে।

খুব প্রিয়জন যখন বড় কোন ভুল করে ফেলে; এমন কিছু করে বসে যা জন্ম দেয় একগাদা অবিশ্বাসের; সেই ঘটনা ভুলে গিয়ে তাকে পুরোপুরি ক্ষমা করে দিতে আসলে কত সময় লাগে? ১মাস? ৬ মাস? ১ বছর? পুরোপুরি কি ভুলে যাওয়া যায় আদৌ? যদি না যায় সেক্ষেত্রে করণীয় আসলে কি? আর সেই প্রিয়জনেরই বা কি করার থাকে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য?

Colorful 2

 

কালারফুল মুভিটা দেখতে শুনতে আট দশটা স্বাভাবিক পরিবারের মতন অথচ নানারকম মানসিক টানাপোড়েনে থাকা এক পরিবারের গল্প, যে পরিবারের সবচেয়ে ছোট, বিষাদগ্রস্থ, জুনিয়র হাই স্কুলে পড়া ছেলেটি একের পর এক খারাপ ঘটনার পিঠে জীবনের চরমতম সিদ্ধান্তটি নিয়ে নেয়। সৃষ্টিকর্তা অপর একটা অপরাধী আত্মাকে পাঠান সেই শরীরে; আত্মার শুদ্ধির জন্য। আমরা সেই আত্মার চোখে পরিবারটাকে দেখতে পাই; ছেলেটার চারপাশের পরিবেশটা দেখতে পাই; প্রতিদিনের সংগ্রামগুলো দেখতে পাই; একে একে সবার বদলে যাওয়াটা দেখতে পাই এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্যে একসময় আসলে জীবনের সৌন্দর্যগুলোরও খোজ পেতে আরম্ভ করি। প্রত্যেকটা মানুষের পিছনে যে আসলে অনেকগুলো মানুষের সহযোগিতা জড়িয়ে আছে; নীরবে হোক অথবা সরবে – কেউ না কেউ যে তার উপর ভরসা করে আছে, তাকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে আছে – এই সহজ সত্যগুলো আমরা ভুলে যাই মাঝে মাঝেই। এই মুভিটা সেই সত্যগুলোকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখতে শিখায়; সব কিছুকে মেনে নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়; সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কি করে জীবনটাকে উপভোগ করতে হয় তার একটা ছোট্ট উদাহরণ দেয় আমাদের।

জীবনের আসল উত্তরটা কি? তার সফলতা আর বিফলতাটাই বা কোথায়? একটা ভাল রেজাল্টে? ভাল চাকরিতে? একগাদা টাকা পয়সায়? নাকি পরিবারের সবাইকে নিয়ে; প্রিয় মানুষগুলোকে নিয়ে একটু ভাল থাকায়? তাদেরকে সময় দেওয়ায়? চারপাশের দুনিয়াটাকে দেখায়, মানুষজনের সাথে মেশায়, জীবনটাকে নিজের মতন করে উপলব্ধি করায়, উপভোগ করায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরগুলো আসলে কখনোই মেলে না। কিংবা আমরা হয়ত মেলাতে চাই-ও না। চারপাশের মানুষগুলোকে দেখে; তাদের চিন্তাভাবনা আর তাদের উত্তরগুলোকেই নিজের উপর চাপিয়ে নেই, অবলীলায়। অথচ নিজেকে একবারও প্রশ্ন করে দেখি না – আমি কি আসলেই এটাই চেয়েছিলাম? আমরা কখনোই বুঝতে চেষ্টা করি না যে অপরের সফলতা মানে কখনোই নিজের ব্যার্থতাও নয়; আর ৮-১০ জনের মতন হতে না পারাটা কোন বড় সমস্যাও নয়।

প্রত্যেকটা মানুষের ভিতরেই আরেকটা মানুষ বাস করে। যে মানুষটাকে আমরা কাউকে দেখাতে চাই না; তাকে লুকিয়ে রাখতে চাই নিরন্তর। কিন্তু খুব দুর্বল মুহূর্তগুলোতে সে কি করে কি করে যেন ঠিকই বেড়িয়ে আসে। এবং সে কারণে নিজের উপর খুব অভিমান হয় পরে। কিন্তু আমরা ভুলে যাই মানুষের রঙ আসলে একটা না; অনেকগুলো। সবার আলাদা আলাদা রঙ মিলেই পুরো পৃথিবীটা রঙিন। সবার জন্য একই ছাঁচ, একই ব্লুপ্রিন্ট খাটে না; খাটা উচিতও না। দিনশেষে শুধুমাত্র একগাদা রঙকে ধারণ করে, নিজের সবগুলো অপূর্ণতাকে মেনে নিয়ে নিজের মত করে বেঁচে থাকার মাধ্যমেই আমরা বুঝতে পারি –
Yes, I am alive.

…………

মুভিঃ কালারফুল।
সময়ঃ ২ ঘন্টা ৭ মিনিট।
ম্যাল স্কোরঃ ৮.১৩।

Colorful 3

 

Gedo Senki (Tales from Earthsea) রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

 

Gedo 1

কি দেখলাম – Gedo Senki (Tales from Earthsea)

স্টুডিও – জিবলী।
সময় – ১ ঘন্টা ৫৫ মিনিট।

হায়াতো মিয়াজাকির ছেলে গোরো মিয়াজাকির ডেব্যু মুভি। Ursula K. Le Guin এর তিনটে বই এর মুভি এডাপশন; যার কাহিনী আবর্তিত হয় এমন এক পৃথিবীতে; যেখানে খুব অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটা শুরু হয়। দুর্ভিক্ষ, জনগনের অদ্ভুত আচরন – এসব কিছুর সাথে যুক্ত হয় ড্রাগনের আবির্ভাব; যারা কিনা কখনই মানুষের সীমানায় প্রবেশ করে না। এরই মাঝে যাদুকর Sparrowhawk এর দেখা হয় ১৭ বছরের এক ছেলের সাথে; যার নিষ্পাপ চেহারার পিছনে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীত।

জিবলীর মুভিগুলোর মধ্যে গেডো সেনকি খুব উপরের দিকে থাকবে না সম্ভবত। তার পিছনের কারণগুলোও যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত। গেডোকে Ursula বলেছিলেন – ‘It is not my book. It is your movie. It is a good movie’; কিন্তু শেষমেশ তিনি তার অসন্তুষ্টিই প্রকাশ করেছিলেন মুভি নিয়ে। তিনটে বই এর এডাপশন হলেও শেষ বইটাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে; আগের বইগুলো থেকে আসা এলিমেন্টগুলো বেশিরভাগই ব্যাখ্যা করা হয়নি যথাযথভাবে।

মুভিটা রীতিমত একগাদা প্রশ্নের উত্তর অসম্পূর্ণ রেখে দিয়েছে। খুনের রহস্য কি, শহরে দাস কেন, কে দাস হতে পারবে আর কে পারবে না; Sparrowhawk এর সাথে টেনারের সম্পর্ক কি এবং তার ভিত্তি আসলে কি (আমাকে রক্ষা করেছে – আসলে খুব সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না); থেরুর অতীত কি জন্য এতো অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল; যাদুকর কারা হতে পারে; তাদের সংখ্যা কত আর এই ক্ষমতার উৎসই বা কি – এরকম অনেক প্রশ্ন এবং অনেক এঙ্গেলই মুভিটা গুরুত্ব দেবার প্রয়োজন বোধ করেনি।

Gedo 2

তাছাড়া চরিত্রগুলো এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি খুবই অসম্পূর্ণ। Sparrowhawk প্রধান যাদুকর এটুকুই শুধু জানা যায়; তার পিছনের আর কোন কাহিনীই আমাদের জানা নাই; অথচ তার চেহারার দাগ ইঙ্গিত দেয় যে এখানে অনেক কিছুই ব্যাখ্যা করার অবকাশ ছিল। তাছাড়া মুভির মেইন ক্যারেক্টার আরেনের চরিত্র অসম্ভব রকমের সোজাসাপ্টা। পুরো মুভিতে আমি এমন কিছু পাই নি তার চরিত্রে যেটা তাকে পছন্দ করতে সাহায্য করবে। পুরো মুভিতেই সে ভয়াবহ বিভ্রান্ত এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরক্তিকর চরিত্র হিসেবেই সামনে এসেছে।
মুভিটা তার যে মেসেজ সেটাতে ট্রু ছিল শেষপর্যন্তই; কিন্তু জিবলীর অন্য মুভিগুলোর মতন গল্পের আড়ালে মেসেজ না দিয়ে রীতিমত গিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ছিল কিছু জায়গায়; যেটা মোটেও সুখকর ছিল না।

মুভির সাফল্যও ছিল কিছু। মধ্যযুগীয় কল্পনারাজ্যর যে সেটিং মুভি দিতে চেয়েছিল তাতে এটা পুরোপুরি সফল। ব্যাকগ্রাউন্ড, শহরের দৃশ্য – দুর্দান্ত; যদিও চরিত্র রুপায়ন আরেকটু ভাল হতে পারত। কিংবা এটাই হয়ত পরিচালক চেয়েছিলেন। সবচেয়ে শক্তিশালী দিক বোধহয় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। মাঝখানে একটা সময়ে কোন রকম ইন্সট্রুমেন্ট ছাড়া একটা গান আছে – যেটা আপাতত আমার নিউজিক প্লেয়ারে রিপিট অন করে বাজতেসে।
(লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=1hN3iGc1uW8)

ইন্টারনেট অবশ্য অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর একটা ব্যাখ্যা দেয় এই বলে যে, বইগুলো পড়ে নিতে হবে আগে; তাতে অনেক প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বসা যাবে; মুভিটা পুরোপুরি উপভোগও করা যাবে। কিন্তু যে মুভি দেখে বোঝার জন্য আমাকে তিনটে বই পড়ে নিতে হয়; সেটা যে তার উদ্দেশ্য পুরণে এবং নির্বর্তনে কিছুটা হলেও ব্যর্থ – একথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

Gedo 3

 

স্বপ্নযাত্রা – Shirobako এনিম রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

1

রোজকার মতন ফাইল ঠেলাঠেলি করে আর বসের ঝাড়ি খেয়ে লোকাল বাসে ঝুলতে ঝুলতে কখনও কি মনে হয়েছে “ব্যাস, অনেক হয়েছে; আর না?” মাঝে মাঝে কিছুটা একাকী সময়ে কি মনে হয়েছে এখন যেটা করছেন হয়ত সেটা করার কথা ছিল না কখনও? কিংবা হয়ত সেই সময় এখনও আসে নি; হয়ত এখনও ছাত্রজীবন পার করছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন একটা সাব্জেক্টে বছর দুয়েক পার করে ফেলেছেন; হটাত করেই কোন এক নির্ঘুম রাতে সোডিয়াম আলোয় ফাঁকা রাস্তায় হাটতে হাটতে মনে হল “এরপর কি?” ভবিষ্যতে আসলে কি করবেন বা কি করতে চান সেই সমন্ধে আপনার পরিষ্কার কোন ধারণাই নেই। হয়ত ক্লাসে ফলাফলের দিক থেকে আপনার অবস্থান ততটা আশাপ্রদ না; খুব চেষ্টা করে যাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু ঠিক যে পরিমাণ ফলাফল আসার কথা তার কিছুই পাচ্ছেন না? সবকিছু ছেড়েছুড়ে দেবার; দু’টো বছর আগে ফিরে যাবার; আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করার প্রবল ইচ্ছেটা মাঝে মাঝেই একগাদা সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ফেরত আসে সুযোগ পেলেই?

হুম, জীবনের কোন না কোন সময়ে অথবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক সময়েই এইরকম সময়ের মুখোমুখি হই আমরা সবাই। কিন্তু কঠোর বাস্তবতা হল বেশিরভাগ সময়েই এইসব প্রশ্ন বা ইচ্ছের কোন জবাব থাকে না। শুধু নিজের উপর বিশ্বাস ধরে রেখে সামনে আগাতে হয়, পথের শেষটা দেখার জন্য; জীবন সেই পথের শেষে কোন বিস্ময় লুকিয়ে রাখে কি না তা খোঁজার জন্য। ঠিক এমনই একটা থিমকে কেন্দ্র করে দাঁড় করানো এনিম সিরিজ “shirobako”.

 

2

আওই, এমা, সিজুকা, মিসা এবং মিদোরি – হাইস্কুলের এনিমেশন ক্লাবের পাঁচ বান্ধবী স্কুলের ফেস্টিভালের জন্য ছোট্ট একটা এনিমেশন তৈরি করার সময়েই বুঝতে পারে যেভাবেই হোক এনিমের জগতই হবে তাদের ভবিষ্যতের ঠিকানা। সকলে মিলে লক্ষ্যও ঠিক করে ফেলে একটা; একদিন না একদিন তারা একসাথে খুব বড় কিছু একটা সৃষ্টি করবে। কিন্তু তারা যেমনটা ভেবেছিল বাস্তবতা আসলে ততটা সহজ নয়। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে সবাই-ই টিকে থাকার সংগ্রাম আর নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয় প্রতিদিন। কিন্তু তার পরেও কেউ হাল ছেড়ে দেয় নি। সবাই সবাইকে অবলম্বন করে একটু একটু করে এগিয়ে যায় তাদের স্বপ্নের পথে।

পুরো সিরিজটা মোটামুটি ভাবে আবর্তিত হয়েছে আওইকে ঘিরে, যে তার ক্যারিয়ার শুরু করে বড় একটা এনিম কোম্পানির প্রোডাকশন সেক্টরে। একটা এনিম তৈরি করা বিশাল হ্যাপার কাজ; ডিরেক্টরের স্টোরি বোর্ড ড্রয়িং থেকে শুরু করে এনিমেশন, মোশন, সিজি ইফেক্ট, সাউন্ড ইফেক্ট, ব্যাকগ্রাউন্ড, ভয়েস এক্টিং থেকে ফিনিশিং কিংবা ডেলিভারি – প্রতিটা এপিসোডই এক একটা বিরাট কর্মযজ্ঞ। প্রোডাকশনের দায়িত্ব এই সকল কাজের জন্য আলাদা আলাদা টিমের মাঝে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, তাদের শিডিউল তৈরি করা, ইন হাউজ প্রোডাকশনে না কুলালে বাইরে থেকে কাজ করিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় দেখভালের। আওইর পারস্পেক্টিভ থেকে আমরা তাই একটা এনিম তৈরি করতে কি পরিমাণ এফোর্ট এবং টানাপোড়েন চলে তার প্রায় পুরো ছবিটাই স্পষ্ট দেখতে পাই। সেই সাথে ক্রিয়েটিভ লোকজনের পারস্পরিক ইগো ক্ল্যাশ, নিজের সাথে যুদ্ধ, নিজেকে দিন দিন নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম; স্বপ্ন, আশা; বাস্তবতার সাথে কল্পনার জগতের ব্যালেন্স করার লড়াই – সব কিছুই খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সিরিজটায়।

সিরিজটার শক্তির জায়গাগুলোর একটা হল বেশিরভাগ প্রোটাগোনিস্ট চরিত্রই মেয়ে হলেও তাদের কেউই ট্রেডিশনাল এনিম সিরিজের ড্রামাকুইন ক্যারেক্টার না; বরং তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা স্বপ্ন পুরণে তারা সকল সন্দেহ আর প্রতিবন্ধকতার সাথে লড়াই করে যায় নিরন্তর। প্রত্যেকটা চরিত্রই ভীষণ রকম বিলিভেবল, একটু খুজলেই আমাদের আশেপাশেই পাওয়া যাবে এমন লোকজন। এরা প্রত্যেকেই হোঁচট খায়, মাঝে মাঝেই সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে দেবার চিন্তা ভর করে মাথায়; এবং সেই চিন্তাগুলো দূরে সরিয়ে আবারও যার যার কাজে নেমে পড়ে।

 

3

কিছু ছোটখাট পয়েন্টঃ
১) রোজার দিন সিরিজটা দেখা খানিকটা কষ্টকর। নাহ; ফ্যানসার্ভিস না; ফ্যানসার্ভিস বলে একটা বস্তু পুরো সিরিজে একেবারেই নাই (থ্যাঙ্ক গুডনেস); বরং কিছুক্ষণ পর পরই কেউ না কেউ কিছু না কিছু মজাদার খাবার খেতে থাকে। :(

২) বিপুল পরিমাণ চরিত্রের উপস্থিতি। আবছা আবছাভাবে সবার নাম আর একজনের সাথে আরেকজনের সম্পর্কগুলো বুঝে উঠতেই আমার ৪-৫ পর্ব লেগে গেছে। এই দিকটার জন্য প্রথম প্রথম সিরিজটার সাথে তাল মিলাতে কষ্ট হতে পারে; কিন্তু একবার এই Phase পার হয়ে গেলেই আসল মজাটা পাওয়া যাবে। :)

৩) ম্যাল এ সিরিজটায় দুটো ট্যাগ দেওয়া; একটা ড্রামা, আরেকটা কমেডি। পুরো সিরিজে কমেডি এসেছে মুলত লোকজনের পারস্পরিক ইন্টারেকশনে, খুব ন্যাচারালি; কোথাও খুব বেশি অতিরঞ্জন নেই; জোর করে হাসানোর চেষ্টাও নেই। তারপরেও হেসেছি, দম ফাটায়েই হেসেছি, খুব দুর্দান্ত কিছু সিচুয়েশনাল কমেডি এবং ওভারঅল সিরিজের লাইট থিমের জন্যই।

সিরিজটার সাউন্ডট্র্যাক অত আহামরি কিছু না; তার কারণ পুরোটাই সংলাপ নির্ভরতা এবং দ্রুতগতি। প্রায় পুরোটা সিরিজেই টেকনিকাল টার্ম এক্সপ্লেনেশন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা সেক্টরের কাজকর্ম, দায়িত্ব ব্যাখ্যা করেছে খুব সুন্দর করে, এবং সেটা সিরিজের ফ্লো-তে কোনরকম বিঘ্ন না ঘটিয়েই।

P.A. Works এর এনিমেশন এবং ডিজাইন, এবং তারা তাদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পেরেছে পুরোপুরিই। প্রত্যেকটা চরিত্রের এক্সপ্রেশন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দুর্দান্তভাবে; যেটার উপর অনেকটাই সিরিজটার সাফল্য – ব্যার্থতা নির্ভর করছিল।

ছাত্রজীবনের প্রায় শেষ দিকে থাকার দরুণ ব্যাক্তিগত জীবনে আমি নিজেও বেশ খানিকটা ধাঁধার মধ্যে আছি, ভবিষ্যৎ, ক্যারিয়ার, স্বপ্ন, পরিবার – সব কিছু নিয়েই। সে দিক থেকে সিরিজটার সাথে খুব সহজেই নিজেকে রিলেট করতে পেরেছি, উপভোগ করতে পেরেছি, প্রত্যেকটা চরিত্রের স্ট্রাগল দেখে তার মাঝে নিজেকে খুজেছি, তারা কি করে সেখান থেকে উৎরে আসে সেটা দেখেছি আগ্রহভরে, তাদের সাথে তাদের সাফল্যে আমিও হেসেছি। বেশ কিছুদিন ধরেই দুই দিনে ২৪ পর্বের একটা সিরিজ শেষ করা আমার জন্য খুব দুর্লভ, shirobako আমাকে সেই দুর্লভ মুহূর্তের সাথে আবারও দেখা করিয়ে দিয়েছে। :)

I simply loved it !

4

 

হরর মাঙ্গার রাজা – ইতৌ জুন্জি

 

19230_468959826590403_8634242293780997866_n

সত্যজিৎ রায়ের অসাধারণ ছোট গল্পগুলো পড়েছেন? খগম, মঙ্গলই স্বর্গ, এমন রহস্য আর ভয়ের মিশেলে গড়ে ওঠা গল্পগুলো, যাদের কোন সুখকর সমাপ্তি নেই, বরং গায়ে কাঁটা দেয়া পরিস্থিতি। মজার ব্যাপার হল, এসব গল্পে প্রচলিত অর্থে ভূতপ্রেত নেই, সেই জায়গায় আছে অতিপ্রাকৃত বিষয়াবলী। এই সব গল্প চিত্রায়িত করা গেলে কেমন হত?

জাপানী মাঙ্গাকা ইতো জুঞ্জি মাঙ্গা আঁকছেন বিশ বছরের বেশি সময় ধরে। এরই মধ্যে তিনি হরর মাঙ্গার রাজা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে গেছেন। তাঁকে বেশিরভাগ ফ্যানই চেনে মূলত উজুমাকির মাধ্যমে, কিন্তু উনি লিখেছেন দারুণ সব ওয়ানশটও, যেগুলো তাদের নিজস্বতায় ভাস্বর। এখানেই আসে রায় সাহেবের প্রসঙ্গ তোলার কারণ। জুঞ্জি এত প্রতিভাবান, উনি সরাসরি ভূতপ্রেত নিয়ে কাজ না করে রায়ের মতই ভয়ের প্রকারভেদকে উম্মোচিত করেছেন। কত ধরনের ভয়? কিটোফোবিয়া[চুলের ভয়], মেলিসোফোবিয়া[মৌমাছির ভয়], এক্রফোবিয়া[উচ্চতার ভয়], পুপাফোবিয়া[পুতুলের ভয়], হিমোফোবিয়া[রক্তের ভয়], ট্রাইপোফোবিয়া[ছিদ্রের ভয়] আরো কত কি! উদ্ভট সব কাহিনী ফেঁদে সেই সাথে ভৌতিক আবহ সৃষ্টি করায় তাঁর জুড়ি মেলা ভার।

তাঁর মাঙ্গা যেগুলো স্ক্যানলেট হয়েছে, পড়তে পারবেন মাঙ্গাফক্সে। আর ডাউনলোড করার জন্য বাকাবিটি তো আছেই। http://bakabt.me/torrent/180715/the-junji-ito-horror-comic-collection-museum-of-terror-ito-junji-kyoufu-manga-collection

আমার নিজের পছন্দের কিছু টাইটেল হচ্ছে – The Bee Hive, The Bully, Falling, My Dear Ancestors, The Groaning Drain, Frankenstein [হ্যাঁ, মেরি শেলির সেই বিখ্যাত কাহিনীর মাঙ্গারূপ]

তবে জুঞ্জির মুনশিয়ানা কিন্তু কেবল হরর মাঙ্গাতেই সীমাবদ্ধ না, উনি গ্যাগ মাঙ্গায়ও পারদর্শী। সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুই ধরনের মাঙ্গা আঁকতে পারা, সব্যসাচী ছাড়া আর কি বলা যায়? জুঞ্জি কিন্তু নিজেকে আর তাঁর স্ত্রীকে চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করেও একটা মাঙ্গা এঁকেছেন। বিড়ালপ্রেমী মাঙ্গাকা তাঁর স্ত্রীর সাথে লড়াই করছেন। তাঁদের পোষা বিড়াল দম্পতির কাকে বেশি ভালবাসে, জায়াকে, নাকি পতিকে, এই বিষয় নিয়ে। এমন মাঙ্গাকাকে পছন্দ না করে পারা যায়?

A V’s Random Suggestion: Little Witch Academia

Presenting “Little Witch Academia”

 

[I can’t remember when it was the last time 26 minutes felt that short. It was over in almost an instant and had no dull moments. It was funny, suspenseful and full of quality. Pure entertainment!     -LaughingManlet]

 

“লিটেল উইচ একাডেমিয়া”, “এনিমে মিরাই প্রজেক্ট” থেকে বের হওয়া শর্ট ফিল্ম গুলোর মধ্যে এটা অন্যতম সেরা এনিমে।

ছোটবেলা থেকেই “আক্কো” Flashe স্টেজ ম্যজিসিয়ান “সাইনিং চেরিওটের” খুব ভক্ত । বাকিসব উইচরা চেরিওটকে খুব নীচু চোখে দেখে, কিন্তু আক্কোর কাছে সে হিরো । আক্কো সাইনিং চেরিওটের মত হতে চায় তাই, সেই উদ্দ্যেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আক্কো ভর্তি হল একটা উইচ একাডেমিতে এবং সেখানে সে দুজন বন্ধু পেল “লোট্টে” এবং “সুছী”…………স্পয়লার ছারা ২৬ মিনিটের এই এনিমে সমন্ধে আরকিছু বলাটা কষ্টকর।

এক পর্বের এনিমের তুলনায় LWA -র সাউন্ড ইফেক্ট এবং এনিমেশন একটু বেশীই জোশ্।

Veteran’s Rating: 7.5

A V’s Random Suggestion: Nazo no Kanojo X a.k.a Mysterious Girlfriend X

Presenting “Nazo no Kanojo X” a.k.a “Mysterious Girlfriend X”

[watching this anime made me realize that there is a special thing about it …in a good or in a bad way]

কাহীনিটা সাধারন। উরাবে [নায়িকা] বদলি ছাত্রী হিসাবে [নায়ক] সুবাকির ইস্কুলে ভর্তি হয়। উবারের ব্যতিক্রমি ব্যক্তিত্ব সুবাকির মনে কৌতূহল জাগায়, এবং সে কৌতূহলবসত ডেস্ক এ লেগে থাকা উরাবের লালা [!] চেটে দেখে। এরপর সুবাকি প্রেমে পরে উরাবের।

এই পর্যায়ে দর্শকের মনে, হয়-

১। গা গুলান, বাজে, নরকে জাও। 🙁
অথবা, ২। ভাল, মজা পাচ্ছি। 😀
অথবা, ৩। একটু গা গুলান, কিন্তু ভাল লাগছে, পরবর্তিতে কি হয় জানতে চাই । 🙂  অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

তো যাইহোক, এনিমেটা যে একটু special সেটা নিয়ে কোনো সণ্দেহ নেই। গল্পটা অসাধারন এক সম্পর্কের। উরাবে এবং সুবাকির মাঝে Drool-Bond টা একই সাথে হাস্যকর এবং অভাবনীয়।

এনিমেটার মিউজিক ভাল, শুনলে কেমন যেন একটা সার্কস-সার্কস ফিল জাগে ।

V’s Rating: 7.5

A V’s Random Suggestion: Heroic Age

☞ Presenting “Heroic Age”

[First of all – “Heroic Age” isn’t a Mecha anime, প্রধান চরিত্র যে জিনিসটাতে রুপান্তরিত হয় সেটা আর যাই হোক ‘বট নয়। যে যাই বলুক, আমি একে মেকা বলতে নারাজ।]

 

দূর ভবিষ্যতে , মহাবিশ্বের কোন এক প্রান্তে কিছু প্রাণী ছিল যারা নিজেদের “The Tribe of Gold” বলে আখ্যায়িত করত । তারা গ্রহানিপুঞ্জ সৃষ্টি করেছিল এবং তারা ভবিষ্যত দেখতে পারত । একদা তারা মহাবিশ্বের সকল উন্নয়নশীল জাতির প্রতি এক বার্তা পাঠাল- “Come Forth, From The Planets You were Born on, Out into Space”

তিনটি জাতি তাদের এ ডাকে সারা দিল, Tribe of Gold তাদের নাম দিল “The Tribe of  Silver”, “The Tribe of  Bronze” এবং “The Tribe of  Heroes”. শেষ মূহুর্তে চতুর্থ যে জাতিটি নিজ ক্ষমতায় মহাশূন্যে এ বেরিয়ে এল তারা হল মানবজাতি, Tribe of Gold তাদের নাম দিল “The Tribe of Iron”.

Tribe of Gold যখন এই মহাবিশ্ব ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলো তখন একটা বিশেষ ঘটনা ঘটল, একটি মহাশূন্যযান একটি নির্দিষ্ট গ্রহে ক্রাশ ল্যান্ড করল। ঐ মহাশূন্যযানে ছোট একটি বাচ্চা ছাড়া কেউ জীবিত ছিলনা। Tribe of Gold তখন Tribe of  Heroes এর একজনকে এই বাচ্চার জীবন রক্ষা করার আদেশ দিল। তারা ঘোষনা করল; এই বাচ্চার অধিকার পাবে শুধুমাত্র Tribe of Iron, এবং মানবজাতির উদ্দেশ্যে একটি বার্তা পাঠাল- “Humans: The Child of Your Destiny is Here” .

এরপর, Tribe of Gold এই চার জাতিকে তাদের উত্তরসূরী হিসাবে রেখে এই মহাবিশ্ব ত্যাগ করে; অন্য মহাবিশ্বের উদ্দেশ্যে রওনা হল। আর মানবজাতি মুখমুখি হল ভয়াবভ এক লড়াইয়ের – বেঁচে থাকার লড়াই।

A V’s Random Suggestion: Aishiteruze Baby, & UFO Baby

দু’টোই মাস্ট ওয়াচ এনিমে তাই আর Synopsis লেখার ঝামেলায় গেলাম না ।  এনিমে দু’টো ভালো লাগবেই ।

 

[অনেকেই হয়তো দেখে ফেলেছেন,কিন্তু যারা দেখেনি/নতুন ওটাকু তাদের জন্যে নাম দু’টো তুলে আনলাম]

A V’s Random Suggestion: Kousetsu Hyaku Monogatari A.K.A. Requiem from the Darkness A.K.A. Hundred Stories

[Warning: If you’re looking for a happy, warm anime, stay away.If you have a weak constitution to gore or horror, stay away. On the other hand, if you enjoy taking a trip into twisted darkness, don’t mind blood and gore and love sinister plot twists, this is an anime you’ve been looking for.]

গল্পের নায়ক মোমুস্কে একজন যুবক গদ্য লেখক । মোমুস্কে গ্রমাঞ্চলের প্রচলিত রহস্যময় ও অপ্রীতিকর গল্পগুলোকে সংকলন করতে ইচ্ছুক । তো, সে তার উদ্যেশ পূরণ করার লক্ষ্যে দেশ ভ্রমনে বেরুলো । পথিমধ্যে তার সাথে পরিচয় হল ওগিন, নাগামিমি এবং মাটাইচি নামক তিন ওঙ্গিঊর (ওঝা) সঙ্গে ।

এই তিনজনেরই আবার অদ্ভুদ কিছু ক্ষমতা রয়েছে । ওঙ্গিঊরা মূলত অতৃপ্ত আত্নাদের মুক্তিদান করে থাকে । তো, গল্পের নায়ক মোমুস্কেও ভীরে গেল তাদের সঙ্গে , এবং সম্মুখিন হতে লাগল Dark, Disturbing যতসব ঘটনার সঙ্গে ।

Kousetsu Hyaku Monogatari এর আর্টের ধরনটা Original , যা কিনা এর কাহীনির সাথে একটা ভয়াল পরিবেশ সৃষ্টিতে সাহায্য করে । এটা এমনই একটি এনিমে যেটা, রাতের বেলা বাতি নিভিয়ে দেখলে স্যত্তিকার অর্থেই আপনাকে আতঙ্কিত করে তুলতে পারে ।

[নোটঃ মাটাইচি চরিত্রের Voice Acting করেছেন DBZ ফ্রীজা খ্যাত Ryūsei Nakao, যার কন্ঠ হয়ত আপনারা অন্যান্য এনিমেতেও শুনে থাকবেন]

A V’s Random Suggestion: Casshern Sins

Presenting “Casshern Sins”

আসিতেছে “Casshern Sins” …Sins…Sins…Sins (echo) 🙂
অদূর ভবিষ্যত, মানুষের সাথে যুদ্ধে জয়ী হয়ে জ্বরাহীন রোবটেরা ধরেই নিল তাদের দুঃখের দিন বুঝি শেষ হতে চলেছে। কিন্তু বিধীবাম, মরনব্যাধী “জং” (rust) হানা দিল তাদের মাঝে। ব্যপারটা ভালোভাবে মেনে নিল না তারা,শুরু হলো অরাজগতা।

এমতাবস্তায় একটি গুজব আলোড়ন সৃষ্টি করল- মৃত্যুকে মুক্ত করেছে “ক্যাসান”, “খতম কর ক্যাসান,হবে সব সমস্যার সমাধান”-এই রকম একটা রব উঠলো চারিদিকে।ব্যাস,বাঁচার আঁশায় ক্যাসানকে খতম করতে আট-ঘাট বেঁধে নামল রোবটেরা।

ওদিকে আমাদের গল্পের নায়ক ক্যাসান (Robot) যে কিনা সৃতিশক্তি হারিয়ে; খুজে বেরাচ্ছে নিজেকে,খুজে বেরাচ্ছে নিজের অতীতকে।
সে কি পারবে বৈরী মনোভাবের রোবটদের কাছ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে?
পারবে তার পাপের প্রাসচিত্র করতে,যে পাপের জন্যে তাকে দায়ী করা হচ্ছে?
জানতে হলে আজই দেখুন “Casshern Sins” …Sins…Sins…Sins (echo).

 

Miscellaneous:

“Casshern Sins” is a heavily underrated anime (One of my personal favorite. 🙂 ) .To be honest- this anime is not for novice viewers.This anime is slow paced.There is a lot of silence, introspection, and philosophical dialog.

Casshern Sins strengths in it’s simple but interesting story, cool sounds & high budget animation [By madhouse who brought us Black Lagoon, Boogiepop Phantom, Death Note, Dennou Coil, Gunslinger Girl, Nana, everything Satoshi Kon, Texhnolyze, Trigun, and X]