Akatsuki no Yona [রিএকশন] — Zahin Mobashshir

Akatsuki no Yona
২৪ এপিসোডের একটা এনিমে যার জেনারগুলা হল : Action, Adventure, Comedy, Fantasy, Romance, Shoujo.
এত্তগুলা জেনার দেখেই বুঝতে পারছেন যে এই এনিমেটা আসলে মিশ্রজাতীয় কিছু উপহার দেয়ার চেস্টা করতেছে এবং আসলেই এমন কিছু উপহার দিতে সক্ষম হয়।

কাহিনী সংক্ষেপ:
Princess Yona নামক এক মেয়েকে নিয়ে কাহিনী যে মাত্র ১৬ বছরে পদার্পণ করে। মা মারা যাওয়ার পর বাবা অনেক আদর সোহাগ দিয়ে বড় করে তুলে তাই স্বভাবতই একটু বেশি আদুরে এবং সামান্যতেই কেঁদে দেওয়া মানে ছিঁচকাঁদুনী হয়ে বড় হয়ে উঠে। এরপরে এক দুঃখজনক ঘটিনার কবলে পড়ে এবং বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে তাকে একেবারে রাস্তায় এসে পড়তে হয়। যেই মেয়ে কখনওই রাজপ্রাসাদের বাহিরেই বের হয় নাই তার জন্যে সামনের পিচঢালা রাস্তাও বরই কাঁটা বিছানো পথ বলেই মনে হবে। তার সেই কাঁটা বিছানো রাস্তায় তার ছোটবেলার সাথীকে সংগী হিসেবে নিয়ে সে কিভাবে নিজেকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে শক্ত করে তুলে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত হয়ে উঠে এটিই এই এনিমের মূল কাহিনী।

এবার আমি কিছু পয়েন্ট বলব যে কারনে এনিমেটি অনেক ড্রপ দিয়ে থাকেন, :—

১. এনিমের প্রথম সিনেই একটা যুদ্ধক্ষেত্র দেখায় এবং এটা দেখার সাথে সাথেই আপনার মনে হবে আররে এনিমেটা তো Action জেনারের, এই বুঝি শুরু হল এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ।

কিন্তু আসলে এই এক সিন যে আসলে এনিমেটার কোন সময় দেখাবে তা আপনি ১,২,৩,৪……. এপিসোড ধরে খালি চিন্তাই করতে থাকবেন এবং এক সময় ভাববেন যে আররে এত অপেক্ষা করার কি দরকার?!!! এনিমে ড্রপড।।।।

২. আগেই বলেছি যে প্রধান চরিত্র কিছুটা ছিঁচকাঁদুনে, আসলে কিছুটা বললে ভুল হবে। এনিমেতে এই ক্যারেকটারকে যতবারই দেখবেন ততবারই দেখবেন কেঁদে কেঁদে সাগর বানাচ্ছে, তখনই আপনার মনে হতে পারে যে এই মেয়ে নিজের সাগর বানাক আর আমি গিয়ে আমার সাগর পরিমাণ না দেখা এনিমে শেষ করে হার্ডডিস্কটাকে একটু ক্ষান্ত দিই।

এনিমে ড্রপড।।।।

৩.
৪.
৫.
……..

আরও অনেক কারনেই আপনি হয়ত এনিমেটা ড্রপ দিয়ে থাকতে পারেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার। এখন আমি যদি পুরা এনিমেটা দেখে বলি এটা আসলে ড্রপ দেয়া উচিত ছিল তাহলে তো আর ভাল কিছু লেখার সুযোগই থাকে না

এবার তাহলে জেনে নিন এনিমেটি কেন দেখবেন, :—–

১. এনিমের প্রথম সিনেই আপনাকে যেই যুদ্ধের আভাস দিয়ে গেল সেটার পরেই শুরু হবে এক অসাধারণ মিউজিক যা শুনে আপনি বিমুগ্ধ না হয়ে থাকতেই পারেন না এবং পুরা এনিমে জুড়েই OST গুলা আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
এনিমেটার ওপেনিং আর এন্ডিংগুলাই এককথায় অসাধারণ। OST গুলার প্রয়োগ এত সুন্দর সময়ে করেছে যে আপনার মনকে ছুঁয়ে যাবেই।

২. এনিমেটার ক্যারেকটার ডিজাইনিং খুবই সুন্দর। প্রত্যেকটা চরিত্রকেই নিজেদের স্বভাব অনুযায়ী অসাধারণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আর যারা বিশৌনেন ক্যারেকটার খুঁজে বেড়ান তাদের জন্যে এটা একটা স্বর্নের খনি। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আপনি খালি হা আ আ আ আ আ করে দেখেই যাবেন এবং মুগ্ধ হবেন।

৩. এনিমেটার আরেকটা সুন্দর দিক হল এটার ক্যারেকটারগুলার ব্যাকস্টোরি। প্রত্যেকটা ক্যারেকটারের একেকটা সুন্দর ব্যাকস্টোরি রয়েছে যা দেখে আপনি খুব সহজেই ক্যারেকটারগুলার বর্তমান অবস্থার কারন যাচাই করতে পারবেন।

৪. এনিমেটার কাহিনী প্রথমে অগুছানো মনে হলেও ধীরে ধীরে বুঝতে পারবেন যে আসলে এনিমেটার কাহিনী খুবই গুছানো এবং এনিমেটা যে অবস্থায়ই শেষ করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত একটা সুন্দর গুছানো কাহিনী উপহার দিয়ে যায়।

৫. আপাতত এনিমেটাই দেখেছি এবং এখনও মাংগা পড়া শুরু করিনি কিন্তু এখন থেকেই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে যে কিছু কিছু ক্যারেকটারের এনিমেশন দেখতে পারব না। বিশেষ করে এখানের সবচেয়ে কিউট ক্যারেকটার হল একটা কাঠবিড়ালি, যার দেখা পাওয়ার পর থেকেই আপনি তার দেখা পাওয়ার জন্যে ব্যস্ত হয়ে থাকবেন।

এবার আপনারা নিজেরাই বিচার করতে পারেন যে এনিমেটা দেখবেন কিনা।

আর কারও কোন মতামত থাকলে কমেন্টে জানাবেন।

Dojoji Temple [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Dojiji 1

Dojoji Temple নামের ১৯৭২ সালে মুক্তি পাওয়া ১৯ মিনিটের মুভিটি দেখলাম। যদিও এটাকে পুরোপুরি এনিমে বলা যাবেনা। ট্রেডিশনাল আর্টের সাথে পাপেট শো এর এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ নিয়ে Kihachiro Kawamoto’র তৈরি এ শিল্পকর্ম দেখে মন জুড়িয়ে যায়। জাপানিজ লোকগাথা উঠে এসেছে এই মুভিতে। এই লোকগাথা নিয়ে অনেক কাবুকিও মঞ্চস্থ করা হয়।

গ্রামের মোড়ল শোজি এবং তার মেয়ে কিয়োহিমের বসবাস হিদাকা নদীর তীড়ে। খুবই অবস্থাপন্ন জীবন তাদের। তাই দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের আশ্রয় এবং আপ্যায়নে কোন কমতি রাখতেন না শোজি। একদিন তরুণ ধর্মযাজক আনচিন উপস্থিত হয় শোজির বাড়িতে। কিয়োহিমে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যায় সেই তরুণটির উপর। রাত গভীর হলে কিয়োহিমে ঘুমন্ত আনচিনের কাছে আসে। আনচিন জেগে যায়। কিয়োহিমে তার ভালোবাসার কথা জানায় এবং আনচিনকে না যাওয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু আনচিনের মনে রাজ্যের সংশয়। প্রথমে অপারগতা জানালেও পরে সে কিয়োহিমের হাত ধরে কাছে টেনে নেয়।
কিন্তু পরদিন আনচিন না বলে চলে যায় শ্রাইনের উদ্দেশ্যে। কিয়োহিমে তা দেখে ফেলে। সে রেগে তার কাছে যায়। তখন কিয়োহিমের অন্য রূপ দেখা যায়। ভেতরের ক্রোধ ফুটে ওঠে তার চেহারায়। আনচিন দ্রুত নৌকোয় করে নদী পার হয় এবং মাঝিকে বলে দেয় কিয়োহিমেকে যাতে সে না উঠায়। তো কিয়োহিমে নদীর পাড়ে আসল এবং মাঝিকে অনুরোধ করল পার করে দেয়ার জন্য। কিন্তু মাঝি সাড়া দেয়না। কিয়োহিমে নদীতে ঝাঁপ দেয়। তখন কিয়োহিমের আরেক বিধ্বংসী রূপ দেখতে পাব। সে ক্রোধে এতটাই বশভর্তী হয়ে পড়ে যে সে একটি বিশাল ড্রাগনে পরিণত হয়।
ওদিকে আবার আনচিন ডোজোজি মন্দিরে গিয়ে সেখানের পন্ডিতদের সব কথা খুলে বলে এবং সাহায্য চায়। তারা একটি বিশাল ঘন্টার ভেতর আনচিনকে লুকিয়ে থাকতে বলে। যাইহোক কিয়োহিমে আসে। আনচিনকে খুঁজে। কোথাও পায়না। পরে ঘন্টার কাছে আনচিনের ঘ্রাণ পায়। তখন সে পুরো ঘন্টাটিকে পেঁচিয়ে ফেলে। মুখ থেকে আগুন বের করে জ্বালিয়ে দেয়। একসময় দেখি তার চোখ থেকে রক্ত ঝরছে। হয়ত কেউ যখন ক্রোধ সংবরণ করতে পারেনা তার কান্না রক্ত হয়েই ঝরে। যাই হোক সে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর পন্ডিতরা এসে ঘন্টা উঠায়। একটি কঙ্কাল ছাড়া কিছু দেখতে পায়না। ওদিকে কিয়োহিমেও দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে নদীতে ডুব দেয়। আর ওঠে না সে। এমন করুণ পরিণতির মধ্য দিয়েই শেষ হয় ছবিটি।

Dojiji 2

কোনকিছু পাবার ইচ্ছায় মানুষ এমন কিছু ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয় যা তাকে এবং তার আশেপাশের সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এবং না পাওয়ার ক্রোধ তার মনুষ্যত্বকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। যা এই মুভি আমাদের চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে। তারপরও যখন কিয়োহিমের মনের করুণ অবস্থা ফুটে ওঠে তার জন্য আসলেই কষ্ট হয়।

সম্পুর্ণ ডায়ালগ বিহীন এ মুভি খুব কম মানুষেরই ভাল লাগবে। কিন্তু যারা একটু নতুন কিছু চান তারা সময় নিয়ে দেখে ফেলতে পারেন। আগেই বলে রাখলাম ইট ইজ নট এভ্রিওয়ানস কাপ অফ টি।

Dojiji 3 Dojiji 4

Cat Shit One [রিভিউ] — Zahin Mobashshir

CSO 1

ইরানের এক মরুভূমির মাঝের দৃশ্য।
জংগী বাহিনী কিছু জিম্মীদেরকে নিজেদের কব্জায় আঁটকে রেখেছে।
নিরূপায় জিম্মিদেরকে জংগীদের কথা মতো বন্দীশালার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এমন সময় এক জিম্মী বিরোধ করে বসল, হাত বাঁধা অবস্থায়ই সে মুক্তি পেতে বিরান মরুভূমি পানে ছুট দিল………
*ঠাস*
একটা বুলেট মাটিতে আছড়ে পড়ল এবং পরমুহূর্তেই মাটিতে পড়ল নিরীহ জিম্মিটির নিথর দেহ।

কাহিনীটি পড়ে মনে হতে পারে বাস্তবে ঘটে যাওয়া কোন একটা অংশের চিত্র, আসলে এটি হল “Cat Shit ONE” নামক একটা ONA এর দৃশ্যপট।

CSO 2

নাম: Cat Shit ONE
ধরন: ONA
জনরা: Action, Fantasy, Military
ব্যপ্তি: ২২ মিনিট
ম্যাল স্কোর: ৭.২৬

Perkins এবং Botasky এরা দুজন হল একটা Special Ops গ্রুপের সদস্য। বর্তমানে তাদের মিশন হল ইরানের এক মরুভূমিতে এক বিরাট জংগী বাহিনীর হাত থেকে জিম্মিদের ছাড়িয়ে আনা। পরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনাস্থলে গিয়ে এই দুই তুখোড় সদস্য তাদের সার্ভে সম্পাদন করে এবং হেডকোয়ার্টারে এ সম্পর্কে জানায়। কিন্তু তাদের সামনেই এক জিম্মীকে হত্যা হতে দেখে তারা হেডকোয়ার্টারকে দ্রুত ব্যাকাপ পাঠাতে বলে কারন জংগীরা সংখ্যায় ছিল অনেক বেশি এবং তারা মাত্র দুইজন।
হেডকোয়ার্টার থেকে জানানো হয় যে ব্যাকাপ আসতে দেরি হবে এবং তাদের অপেক্ষা করার নির্দেশ দেয়া হয়। এই দুইজনের মধ্যে সিনিয়র ব্যক্তি অপেক্ষা করতে নারাজ হয় এবং নিজেরাই জিম্মীদের উদ্ধার করতে তৎপর হয়। এরপরে শুরু হয় বিশাল এক জংগী বাহিনীর সাথে দুইজন Special Ops সদস্যের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। কে জিতে এই যুদ্ধে??
জানতে দেখে ফেলুন এই ONAটি।

এরকম তো অনেক কাহিনীই দেখেছেন, এমনকি বাস্তব জীবনেও এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। তাহলে কেন এই ONAটি দেখবেন?
এখানের মজার বিষয় হল যে, Special Ops এর সদস্য দুইজন হল কিউট দুইটা খরগোশ । এই কিউট দুইটা খরগোসই এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অংশ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত………
থাক শেষে কি হয় সেটা নিজেরাই দেখে ফেলুন।

ONAটির গ্রাফিক্সের কথা না বললেই নয়। অনেকটা 3D আমেজের গ্রাফিক্সে তৈরি এই ONAটিতে আপনারা দেখতে পারবেন কিছু অসাধারন যুদ্ধের দৃশ্য, এমনকি এখানে কিছু স্লো মোশনের ফাইটসিনও আছে যা যুদ্ধের আমজকে আরো বাস্তবশীল করে তোলে।

ONAটির Sub এবং Dub দুইটা ভার্সনই বের হয়েছে।
আমার কাছে দুইটাই ভাল মনে হয়েছে। দুইটা ভার্সনেই খুব সুন্দরভাবে চরিত্রগুলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তবে সব Dub ভার্সনের মতো এখানেও অর্থের কিছু পরিবর্তন হয়েছে।
যারা Third Person or FPS গেম খেলে অভ্যস্ত তাদের জন্যে Dub ভার্সনটা সাজেস্ট করব।

Sub: https://kissanime.to/Anime/Cat-Shit-One

Dub: https://kissanime.to/Anime/Cat-Shit-One-Dub

CSO 3

Usagi Drop [রিভিউ] — Arafin Shanto

Usagi Drop

Anime:- Usagi Drop
Genre:- Comedy;; Slice Of Life
MAL rating:-8.6
personal rating:-8.9

এনিমেতে সাধারণত চাইল্ডকেয়ার বিষয়টি উপরে উঠে আসে না;
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখানো হয় দীর্ঘ সূত্রের পারিবারিক বন্ধন।যেখানে বাবা-মা না থাকলেও হয়ত সন্তান টি বড় হয়ে ওঠে পরিবারের অন্যান্যদের ছত্রছায়ায় ;;
সেদিক থেকে উসাগি ড্রপ সম্পূর্ণ আলাদা;;
যেখানে দেখা যায় ; দাদার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে গিয়ে গল্পের নায়ক দাইকিচি একটি অপিরিচিত; ছোট মেয়েকে দাদার বাড়ির আংিনায় দেখতে পায়। প্রথম দেখাতে মেয়েটি হতচকিত হয়ে দাইকিচির আড়ালে চলে যায়;;
পরে দাইকিচি পরিবারের অন্যান্যদের সূত্রে জানতে পারে; মেয়েটি তার দাদার সন্তান; যদিও অবৈধ ;; মেয়েটি সবার আড়ালে চুপচাপ থাকতেই বেশি পছন্দ করে;;

যাইহোক দাদার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে পারিবারিক সভা ডাকা হয় মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য;;খুভ সাভাবিক ভাবেই সবাই মেয়েটির দায়িত্ত নিতে অসীকৃতি জানায়; যখন অমিমাংসিত সভায় মেয়েটিকে চাইল্ডকেয়ারে দিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়াটাই চূড়ান্ত হচ্ছিল;তখন মুখ খোলে দাইকিচি;
সে মেয়েটিকে দত্তক নিতে চায়;
আর এভাবেই শুরু হয় দাইকিচি-রিনের জীবনের নতুন পথচলা;;
দাইকিচির জীবনে আসতে থাকে পরিবর্তন;
সে রিন কে তার প্রয়োজন এর তাগিদে ডে-কেয়ার এ ভর্তি করায়;;
সে অফিসের ওভারটাইম করা বন্ধ করে দেয়;;ছেড়ে দেয় বন্ধুদের সাথে আড্ডা;;

আরো অনেক আনন্দ-হাসি-কান্নার মধ্য দিয়ে চলতে থাকে দাইকিচি-রিনের জীবন;;

মাংগা নিয়ে আপত্তি থাকলেও আমি এনিম টা নিয়ে বলতে চাই এক কথায় অসাধারণ;
এখানে একজন সাধারণ বাবা-মেয়ের মতই দাইকিচি-রিনের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে ;;
এনিমের ড্রয়িং মোটামুটি ভালই ;
মিউজিক কোয়ালিটি যথেষ্ট ভাল;
ওপেনিং – ইন্ডিং বিশেষত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আপনাকে নিয়ে যাবে অন্যরকম ভাললাগার দুনিয়ায়।

তাই দেরি না করে তাড়াতাড়ি দেখে ফেলুন ১১ এপিসোডের এই সোল এনিমটি ;;

ধন্যবাদ

Arakawa Under The Bridge [রিভিউ] — Mithila Mehjabin

 

আমরা যারা মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত সংসারের মানুষ, বড়লোক বাপের বেটা দেখলেই পিঠপিছে কানাকানি শুরু করি!

মানুষের কথা বলি কেন, আমি নিজেই রাস্তার জ্যামে আটকা পরে বড়লোকদের গাড়িগুলোকে যে হারে গালাগালি করেছি, শুনলে ড্রাইভার তো বটেই, গাড়ীও তেড়ে মারত আসত আমাকে!

কিন্তু বড়লোকদের জীবনও কিন্তু বড় সহজ না, স্পেশালি যখন তাদের মানসিকতাটা হয় এরকম, যে কখনই “কারও কাছে ঋণী থাকা যাবে না!”

আজাইরারও একটা লিমিট আছে, কিন্তু Ichinomiya Ko এর বাকওয়াজ ডিকশনারীতে “আজাইরা” বলে কোন শব্দই নাই! নাহলে পোলাপানে টানাটানি করে পরনের প্যান্টখানা যখন ব্রিজের অনেক ওপরে, নাগালের বাইরে ঝুলায় দেয়, তখন আন্ডারওয়্যার পড়া Ichinomiya Ko এর মাথায় “কারো কাছে ঋনী থাকা যাবেনা” ধরনের আজাইরা চিন্তা আসে কোত্থেকে?

তার ঐ চিন্তাটাই কিন্তু কাল হয়েছে!

Arakawa Under the Bridge 1

রিভিউ: Arakawa Under The Bridge
এপিসোড: ১৩
ম্যাল রেটিং: ৭.৭
জনরা: কমেডি, রোমান্স, সেইনেন
Ichinomiya Ko মস্ত বড়লোক বাপের একমাত্র ছেলে। একদিন এক সুন্দর দুপুরে আরাকাওয়া নদীর ব্রিজের ওপর দিয়ে হাটাঁর সময় কিছু ছেলেপেলে তার বড়লোকি ভাব সইতে না পেরে তার প্যান্টখানি খুলে ব্রিজের সবচেয়ে উঁচু পিলারটায় ঝুলিয়ে দেয়। আন্ডারওয়্যার পড়া Ko তার অতিসুখী জীবনের চিন্তায় এতই রোমাঞ্চিত, যে আধান্যাংটো হয়ে ব্রিজের ওপর দাড়িয়ে থাকাটা তার কাছেই নিতান্তই ক্ষুদ্র একটা ব্যাপার মনে হয়। আর তখনই সে খেয়াল করে যে নীল চোখের হলুদচুলো একটা মেয়ে ব্রিজের কিনারে বসে বড়শী দিয়ে মাছ ধরছে। “কারও কাছে ঋনী থাকা যাবেনা” নীতিতে বিশ্বাসী Ko মেয়েটির সাহায্যের প্রস্তাব বেশ ডাটের সাথে ফিরিয়ে দেয়, আর বানরের তেলা বাঁশ বেয়ে ওঠার ভঙ্গিতে প্যান্ট নামানোর জন্য পিলার বেয়ে উঠতে গিয়ে আরাকাওয়া নদীতে পরে যায়! মেয়েটা তখন বাধ্য হয় সাহায্য করতে, কিন্তু ডাঙায় উঠে জ্ঞান ফেরামাত্রই মেয়েটি তার জীবন বাঁচিয়েছে, এই ঋণ শোধের চিন্তায় পুরোপাগল হয়ে যায় আধাপাগল Ichinomiya!
কি করলে মেয়েটির ঋণটি শোধ করতে পারে সে, এই প্রশ্নের উত্তরে মেয়েটি বলে তাকে ভালোবাসতে! আর ঠিক এখানেই ফেসেঁ যায় Ko, মেয়েটির সাথে আরাকাওযা নদীর পাগলা বাসিন্দাদের একজন হয়ে যায় মাল্টিবিলিয়নেয়ার কোম্পানীর ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট Ichinomiya Ko ওরফে Recruit! মেয়েটার দাবি সে একজন ভেনাসবাসী! আরও আছে কস্টিউম পড়া কাপ্পা, সিস্টার ওরফে গালকাটা ব্রাদার, তারামুখো গিটারিস্ট হোশি, এইগো নো স্টেলা, গাইওয়ালা, সবজিওয়ালা সহ আরো অনেকেই!

কাহিনীটা অনেকের কাছে বেশ সাধারণই মনে হবে, কিন্তু উপাস্থাপন করা হয়েছে অসাধারণ ভাবে। বেশ আগের একটা এনিমে হওযা সত্বেও প্রায় ইরেডিসেন্ট একটা স্বচ্ছ পর্দার ভেতর দিয়ে যেন দেখানো হয়েছে পুরো জিনিসটা! যেটাকে বলে ফটো ম্যাটেরিয়াল, কাহিনীর প্লেসমেট আরাকাওয়া নদী এবং ব্রিজ এর আশপাশ থেকে খুব একটা সরেনা যদিও, নদী এবং এর আশে পাশের ছোট পল্লীমতন তাদের জগৎটা খুবই দৃষ্টিনন্দনভাবে দেখানো হয়েছে!

Arakawa Under the Bridge 3

 

কমেডি সেই লেভেলের, ক্যারেক্টারগুলির তো মাথাই নষ্ট! পুরো সময়টা “একদল পাজি পোলাপানের হাতে ধোলাই হচ্ছেন এক আজাইরা ভদ্দরনোক” ধরনের একটা পৈশাচিক শৈশবকালীন মজা পাওয়া যায়! অদ্ভুত সব এঙ্গেল থেকে দেখানোটাও ভালোই হাসির খোরাক যোগায়! হালকা রোমান্স, কমেডি আর এত্তগুলা সুন্দর সুন্দর দৃশ্য, স্ক্রীনশট নিকে নিতে আঙ্গুল ব্যাথা হয়ে গেছে!

দারুণ একটা এনিমে, সব রমকম লাভারদের জন্য রেকমেন্ডেড!

বড়লোক পোলাপাইনদের: নো অফেন্স বাই দা ওয়ে! স্রেফ কৌতুক করার স্বার্থে পকপকানি!

Arakawa Under the Bridge 4

The Cat Returns [মুভি রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

The Cat Returns 1

ছোটবেলায় সুকুমার রায়ের একটা অসাধারণ চীনা লোকগাথার অনুবাদ পড়সিলাম । গল্পটার নাম লোলির পাহারা । গল্পটার কেন্দ্রীয় চরিত্র হল লোলি নামক এক কুড়ের হদ্দ ছেলে ।তো লোলির বাবা তাদের একমাত্র শুয়োরটাকে বিক্রি করবে এবং সেইটা পাহাড়ার দায়িত্ব দিয়ে যায় লোলিকে । তো লোলি ওই পাহারার ধার না ধেরে সোজা দিল ঘুম । ঘুম থেকে উঠে দেখে শুয়োর হাওয়া । তো শুয়োর খুজতে গিয়ে দুর্ভাগ্যক্রমে নিজেই শুয়োর হয়ে যায় । তো কল্পনা করুন আপনি যদি একদিন হঠাত্‍ করে বিলাই হয়ে যান !!?

The Cat Returns 6
তো দ্যা ক্যাট রিটার্নস এর কাহিনী হল হারুকে নিয়ে । হারু স্কুলপড়ুয়া এক মেয়ে ।সে কিছুটা আলসে , অনেকখানি ছটফটে এক মেয়ে । তো একদিন স্কুল থেকে ঝাড়ি বকা খেয়ে বাসায় ফেরার পথে দেখে একটা অদ্ভুত দেখতে বিলাই প্রায় ট্রাকচাপা পড়তে যাচ্ছে । তো হারু অসম্ভব ক্ষিপ্রতার সাথে বিড়ালটাকে বাচায় । তো বিড়ালটাকে বাঁচানোর পর যখন হারু ধাতস্থ হতে থাকে তখন দেখে বিড়ালটা দুই পায়ের উপর দাড়িয়ে গা ঝাড়ছে । এরপর চমক আরও বাকি । বিড়ালটা মানুষের ভাষায় হারুকে কৃতঙ্গতা প্রকাশ করে । হারুর তো মাথা খারাপ হবার যোগাড় । কেউ বিশ্বাস করে না হারুকে । তো হারুর দেখে যে সে বিলাইয়ের সাথে কথা বলতে পারে । তো একদিন রাতে বাদনা-বাজ্য বাজিয়ে হারুর বাসার সামনে উপস্থিত হয় একদল বিড়াল ।হেই বিড়ালদের মধ্যে থাকে একটা বিশাল ধুমসো বুড়ো হুলো । সে হল বিলাইদের রাজা ।সে হারুকে ধন্যবাদ জানাতে এসেছে কারণ হারু যে বিড়ালকে বাচিয়েছে সে হল স্বয়ং বিড়াল রাজ্যের রাজপুত্র । এবং চমকের আরও কথা হচ্ছে তারা হারুকে চায় রাজপুত্রের কনে হিসেবে নিতে ! তো এখন কি করবে হারু !? নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে যায় হারু । পরিচিত হয় মুটকো বিড়াল নাম মুটো এবং হৃদয়ের স্বরের সেই ব্যারন বিড়াল । উপস্থিত হয় বিড়ালের রাজ্যে এবং ঘটতে থাকে নানা মজার ঘটনা ।

The Cat Returns 2
মুভি স্টুডিও গিবলির । এর আর্টওয়ার্ক মানে ক্যারেকটার ডিজাইন নরমাল জিবলীর আর্ট থেকে বেশ আলাদা , যা সুন্দরই লেগেছে । এর আছে খুব সুন্দর এবং মজার সাউন্ডট্র্যাক এবং এর কাহিনীও সেরকমই । এর ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট জিবলীর মতই অর্থাত্‍ অসাধারণ । এই মুভি হল মনে শান্তিদায়ক মুভি । মনের স্ট্রেস নামক জিনিস ধুয়মুছে নিয়ে যায় ।কাহিনী ,ক্যারেকটার সবই সুন্দর । ব্যারন বিলাইয়ের উপস্থিতি ( হ্যা Whisper of the hearts এর সেই ব্যারন বিড়াল ) ! যারা বিলাই প্রেমিক তাদের জন্য এই মুভি দেখা সুন্নত 🙂 ! যারা দেখেননি তারা তাড়াতাড়ি দেখে ফেলুন । তবে একটা কথা । এটাকে গিবলির মাস্টারপিস ভেবে দেখতে বসলে হতাশ হতে পারেন । তাই আশার পারদ বেশি না রেখে শুধু উপভোগ করুন । বিলুই প্রেমিকদের জন্য এটা স্পেশাল ট্রিট ।

The Cat Returns 3

ডাউনলোড করুন: https://torcache.net/torrent/CC6F9B40B0FC173EC3774F4C68EC7E68C6D8B6C4.torrent?title=%5Bkat.cr%5Dthe.cat.returns.2002.dual.audio.1080p.hevc.x265

অনলাইনে দেখুন: https://kissanime.to/Anime/The-Cat-Returns-Dub
আমার রেটিং: ৮/১০

The Cat Returns 4

The Cat Returns 5

Behind the Voices – 23

 

Matsuoka Yoshitsugu

হারেম আনিমের ভক্ত হয়ে থাকলে মাৎসুয়োকা ইয়োশিৎসুগুর নামটা হয়তো অপরিচিত নয় আপনার কাছে। ২০১৩ থেকে এর পরের বছরগুলোর যতগুলো নামকরা হারেম-এচ্চি আনিমে রিলিজ পেয়েছে প্রায় সবগুলোতেই মূল চরিত্র কিংবা পার্শ চরিত্রের রোল পেয়েছেন তিনি। এছাড়া আজকাল overpowered মূল চরিত্রদের কণ্ঠেও তাকে বেশির ভাগ সময় পাওয়া যায়। অনেকগুলো হারেম আনিমের মূল চরিত্রের রোলের জন্য অনেক ভক্তদের মাঝে তিনি ‘সুগু সুগু’ নামটি বাদে ‘Harem King’ হিসেবেও পরিচিত। তার কণ্ঠটা ম্যানলি নয় বরং বেশ বয়িশ একটা টোন এবং তাই তার প্রায় সবগুলো চরিত্রই কিশোর। তার কণ্ঠ অভিনয়ের সবচেয়ে আইকোনিক দিক হল সে বেশ অদ্ভুট একটা স্বরে বেশ ভালোভাবেই চিল্লাচিল্লি করতে পারে যা শুনতেও বেশ মজা লাগে।

মাৎসুয়োকার সেইয়ূ হওয়ার পেছনে অনুপ্রেরণা যিনি সে হল ইশিদা আকিরা । ইশিদা আকিরার নাম হয়তো অনেকেই শুনেছেন গারা, যারযিস ব্রেক, কাৎসুরা কোতারো এই রোলগুলোর জন্য বেশ পরিচিত । মাৎসুয়োকা ইয়োশিৎসুগুর কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে অভিষেক ২০০৯ সালে Eden of the East আনিমেটির এক পার্শ চরিত্র দিয়ে । কিন্তু তার খ্যাতি অর্জন করতে অপেক্ষা করতে হয় ২০১১ পর্যন্ত, সে বছর Kamisama no Memochou-এর ফুজিশিমা নারুমি রোলটা দিয়ে । ঠিক তার পরের বছর Sword Art Online আনিমেটির মূল চরিত্র কিরিতো দিয়েই সবচেয়ে পরিচিতি অর্জন করেন তিনি । এরপর আস্তে আস্তে একজন খ্যাতিমান কণ্ঠ অভিনেতা হয়ে উঠেন তিনি । একাধিক আনিমের ক্যাস্টিং-এ দেখা গিয়েছে সে মূল চরিত্র থাকলে সাধারণত সে আনিমের নায়িকার সেইয়ূ কায়ানো আই থাকে ।

কম বেশি প্রায় সবরকম চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ারই খ্যআতি আছে মাৎসুয়োকা ইয়োশিৎসুগু । কিরিতোর পাশাপাশি তার নামকরা রোলগুলো হল ইয়ুকিহিরা সৌমা (Shokugeki no Souma), সোরা (NGNL), লাবক (Akame ga Kill!), সোরাতা (Sakurasou no Pet na Kanojo), তোমোয়া আকি(Saekano), ইচিজৌ মাসাকি (Mahouka Koukou no Rettousei), ক্রানেল বেল (Danmachi), আলেক্সিস টিটাস (Magi), আইতো ইয়ূকি (Mangaka-san to Assistan-san), কুসানাগি গোদৌ (Campione!) । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল ইয়ুকিহিরা সৌমা (Shokugeki no Souma), লাবক (Akame ga Kill!), সোরাতা (Sakurasou no Pet na Kanojo), আইতো ইয়ূকি (Mangaka-san to Assistan-san), ইয়ুকিমুরা তোরু (Aoharu x Kikanjuu), ওয়াতাসে আওবা (Buddy Complex), ইচিজৌ মাসাকি (Mahouka Koukou no Rettousei), ইকেজাওয়া মাসাওমি (Love Lab) এবং চিফ (Denki-gai no Honya-san) ।

এখন পর্যন্ত সে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত নয় । তবে Ace of Diamond, Aoharu x Kikanjuu, Nijiiro Days, Makai Ouji: Devils and Realist, Nijiiro Days, Super Lovers এই আনিমেগুলোর কাস্টের বাকি সদশ্যদের সাথে ওপেনিং/এন্ডিং গেয়েছেন ।

তার জন্ম ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬ । ২০১২ সালে 6th seiyu awards-এ Best New Actor এবং ২০১৬ সালে 10th seiyu awards-এ Best Lead Actor খেতাব পেয়েছেন তিনি। সে বেশ লাজুক স্বভাবের এবং প্রথম প্রথম ইন্টারভিয়ুগুলোর সময় সে ক্যামেরার দিকে সামনা-সামনি তাকাতেই বেশ লাজুক বোধ করতো । নোবুনাগা শিমাজাকি এবং তাৎসুহিসা সুজুকির বেশ ভালো বন্ধু তিনি । তার কণ্ঠ অভিনয় বেশ অসাধারণ এবং এখন বেশ ভালো পরিমাণের রোলই পাচ্ছেন তিনি । আশা করি ভবিষ্যৎেও সে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে ।

Matsuoka Yoshitsugu

 

Satomi Satou

সাতোমি সাতৌ সাধারণত ঠাণ্ডা স্বভাবের চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য বেশ পরিচিত । কিন্তু তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোল তাইনাকা রিৎসু (K-On!) তার সাধারণ গোছের চরিত্রগুলোর তুলোনায় ঠিক উল্টো । এমনকি চরিত্রটার ক্ষেত্রে সে যেই কণ্ঠটা ব্যবহার করেছে তা একেবারে তার সাধারণ কণ্ঠের সাথে মিলে না । ভক্তদের মাঝে ‘sugar’ হিসেবেও পরিচিত, যেহেতু সাতৌ (砂糖) শব্দটির অর্থ চিনি, যদিও তার নামের কানজিটা হল 佐藤 যা চিনির কানজির এক নয় । তার কণ্ঠটাও তার নামের মতই মিষ্টি ।

কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিষেক ২০০৭ সালে । সে মূলত সবচেয়ে বেশি খ্যাতি অর্জন করে তাইনাকা রিৎসু রোলটা দিয়েই । তবে তার আরও কিছু জনপ্রিয় রোল আছে যেগুলো হল চিতান্দা এরু (Hyouka), ওয়েন্ডি মারভেল (Fairy Tail), শিবাতা মিজুকি (Mahouka Koukou no Rettosei), শিচিজৌ আরিয়া (Setokai no Yakuindomo), তাকাহাশি চিয়াকি (SKET Dance), তামুরা মানামি (Oreimo) এবং চিয়া (Gochiusa) । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল রিৎসু (K-On!), চিয়া (Gochiusa), চিতান্দা (Hyouka), শিবাতা মিজুকি (Mahouka), সুমোরি হারুকা (Denki-gai no Honya-san) কারাসুমা সাকুরা (Kiniro Mozaic) এবং কানজাকি ইয়ুকিকো (Ansatsu Kyoushitsu) ।

তার মিউজিক ক্যারিয়ার মূলত ‘character song’ অথবা ওপেনিং-এন্ডিং এর মাঝেই সীমিত । এগুলো বাদে সুধু তার Kisty নামক এই ইউনিটের অংশ হয়ে সুধু একটি সিঙ্গেল আছে । এককভাবে সে Oreimo-এর প্রথম সিজনের ৬ষ্ঠ পর্বের এন্ডিং ‘Megami’ গানটা, Girlfriend (Kari) আনিমেটির এন্ডিং ‘Hareru Kanaa’, Seitokai Yakuindomo*-এর এন্ডিং ‘Mirai Night’, Waremete আনিমেটির ওপেনিং ‘Le jour’ এই গানগুলো গেয়েছেন এবং কায়ানো আইয়ের সাথে হিয়োকার ২টি এন্ডিং গেয়েছেন । আর Ansatsu Kyoushitsu, Fairy Tail, Golden Time, K-On!, Shoujo-tachi wa Kouya wo Mezasu এই আনিমেগুলোর ওপেনিং/এন্ডিং কাস্টের বাকি সদশ্যদের সাথে গেয়েছেন ।

২ দিন আগেই তার ৩০তম জন্মদিন ছিল (৮ মে, ১৯৮৬) । ব্যক্তিগত জীবনে ইয়োকো হিকাসার সাথে বেশ ভালো বন্ধুত্ব আছে তার । তার কণ্ঠ অভিনয় অসাধারণ, সামনে তার আরো রোল পাবো সেই আগ্রহে রইলাম ।

Satomi Satou

Chika Gentou Gekiga: Shoujo Tsubaki [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Chika Gentou

Chika Gentou Gekiga: Shoujo Tsubaki – ১৯৯২ সালে নির্মিত ৫০ মিনিটের ট্রেডিশনাল জাপানিজ হরর মুভি। এই ‘disgustingly beautiful piece of art’ তৈরির নেপথ্যে মূলত একজন- Hiroshi Harada। দীর্ঘ ৫ বছরের এই প্রজেক্টের কাজে তিনি তার সারাজীবনের কামাই ঢেলে দিয়েছেন। তার এই অসামান্য ডেডিকেশনের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই রিভিউ লেখা।

আমরা কম-বেশি সবাই নিষ্ঠুর। অন্যজনের কাছে এই নিষ্ঠুরতা কতখানি প্রকাশ করব তার উপর ভিত্তি করেই আমরা মানুষ বিচার করি। কিন্তু এমনকিছু ঘটনা থাকে যার কাছে সব ধরণের নিষ্ঠুরতা হার মানে। Shoujo tsubaki এমন একটি মুভি যার মাঝে নিষ্ঠুরতার বিভিন্ন রূপ আমরা দেখতে পাব।

মিদোরির মায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু দিয়ে কাহিনীর শুরু হয়। তার বাবা আগেই মারা গেছে। একদিন এক ভদ্রলোক মিদোরির দুর্দশা দেখে তার খরচাপাতি বহন করার প্রস্তাব দেয়। স্কুলে যেতে পারবে- এই মিথ্যা আশায় মিদোরির নিষ্পাপ মন আনন্দে নেচে উঠে। কিন্তু হায়! তার ভাগ্যে কি এ-ই অপেক্ষা করছিল?? তার ঠাঁই হয়েছে এক ‘ফ্রিক শো’ তে, যেখানে মানুষরূপী কিছু পশুর অত্যাচার ও লাঞ্চনা ছিল প্রতিদিনের রুটিন। কিন্তু তার তো আর কোথাও যাওয়ার নেই। বের হলেই সে ট্রেনের দিকে হাত নাড়ত। মনে শুধু একটাই আশা ছিল কোন এক রাজপুত্র তাকে উদ্ধার করবে এই নরক থেকে। শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে চরমভাবে বিপর্যস্ত হবার পর যখন মিদোরি আশা ছেড়ে দেবার কথা চিন্তা করে তখনই আবির্ভাব হয় ‘আরাশি’ নামের এক জাদুকরের। যে কিনা মিদোরির ত্রাণকর্তা।
জাদুকর আরাশি ও মিদোরির মাঝে এক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের মত এমন রোমান্টিক জুটি এই জগতে মেলা ভার। তাদের একসাথে থাকার স্বপ্ন মনকে নাড়া দেয়।

কিন্তু এই নির্ভেজাল ভালবাসার মধ্যে যখন ঈর্ষা কাজ করে তখন সবকিছু একটু কঠিন হয়ে যায়। বামন জাদুকর আরাশি যখন দেখে তাদের দলের একজন মিদোরিকে পছন্দ করে, তখন তাকে অদ্ভুতভাবে মেরে ফেলে। একদিন কোন এক কারণে আরাশির মেজাজ খারাপ থাকে। তখন সে তার দর্শকদের উপর চড়াও হয়। যার ফল হয় মারাত্মক। কত ব্রুটালি মানুষকে মারা যায় তা দেখে হতবাক হয়ে যেতে হয়। মিদোরিও ক্রমশ আরাশিকে ভয় পাওয়া শুরু করে। মিদোরি কি পারবে এই নরক থেকে ফিরে আসতে? সে কি তার স্বপ্নের পথে আগাবে? নাকি জাদুকরের ধূম্রজালে আটকা পড়বে?

কোন একটি সৃষ্টির সার্থকতা তখনই যখন তা থেকে শিক্ষা নেয়া যায়। যখন আপনার সাথে কেউ নিষ্ঠুর আচরণ করবে তখন চুপচাপ বসে না থেকে ট্যাক্টফুলি কীভাবে তার মোকাবেলা করা যায় তা আপনাকেই ভাবতে হবে। যদি এমন কোন অবস্থায় পড়েন যেখানে চারপাশে আপনার শত্রু তখন চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। নাইলে মিদোরির মতই আপনার কোন প্রিয় মানুষকে রেঁধে খাওয়ালেও আপনি হয়ত জানবেন না। এছাড়া মানুষকে সবসময় তার এ্যাপিয়ারেন্স দিয়ে বিচার করতে নেই এই সত্যিটাও আমরা শিখতে পারি এ মুভি থেকে। ট্রান্সভেস্টাইটদের অধিকার সম্পর্কেও ভাবায় এই মুভি। আর সবচেতে বড় শিক্ষা হল জীবনযুদ্ধে কখনই হার মানা যাবেনা। মিদোরি এত নিপীড়ন সহ্য করার পরও যখন সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তখন মনে হয় এই পৃথাবীতে কিছুই অসম্ভব না।

সাস্পেন্স, থ্রিলার, হরর, রোমান্স এ সবকিছুর মিশেল এই মুভি। আপনার হার্ট যদি ভুল জায়গায় হয় এবং আপনি যদি স্যাডিস্ট হন, তাহলে এটা আপনার জন্য পারফেক্ট মুভি। আর এম্নিই যদি দেখতে ইচ্ছা করে তবে caution নিতে ভুলবেন না।

Dareka no Manazashi [রিভিউ] — Shahoriar Rafi Amil

Dareka no Manazashi 1

Dareka no Manazashi

Genre : Drama, Slice Of Life
Duration : 6min
MAL Rating : 7.6
Directed By Makoto Shinkai

পরিবারে জন্ম হলেও অন্যান্য জিনিসের জাঁকজমকে আমরা সেটার মর্ম ভুলে যাই। শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবতে থাকি। আর পরিবারের মধ্যে সৃষ্টি হয় এক না চাওয়া দূরত্ব। তখন কি আর এই জাঁকজমক ভালো লাগে?

এমনই স্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে “আয়া অকুমার” জীবনে যে পড়ালেখা শেষ করে নতুন চাকরি তে ঢুকেছে। চাকরির খাতিরে সে আলাদা বাসায় থাকে। তার মা ও চাকরির সুবাদে দূরে থাকে। আর তাদের বাসায় শুধু থেকে যায় আয়ার বাবা আর তার ছোট বেলার খেলার সাথী “মি” নামের বিড়াল যে কিনা এখন শেষ বয়সে। এক ঝামেলাপূর্ন দিন শেষে আয়া তার বাসায় এসে বিছানায় কেবল গা এলিয়েছে আর তার বাবা ফোন আসলো!! কেমন আছে না আছে আলাপে মেয়ে বাবা দুই জনেই নিজেদের মিথ্যা সুখের কথা বলে। কিন্তু তার পর এমন কিছু ঘটে যা তাদের আবার এক হতে বাধ্য করে!!

Dareka no Manazashi 4

আর্ট দেখে সহজেই মাকোতো শিনকাই এর কাজ বোঝা যায়, এই মাত্র ৬ মিনিটে অনেক তাড়াতাড়ি একটা গল্প বলা হয়েছে যার সাথে আপনি তখনই মিশে যাবেন এবং সব শেষে এটা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে। বুঝতে পারবেন পরিবারের কাছে ফিরে যেতে কারন লাগে না চাইলেই যাওয়া যায়। কেননা পরিবার পরিবারই!!

লিংক: https://kissanime.to/Anime/Dareka-no-Manazashi/Episode?id=51158

Dareka no Manazashi 2

A Brief Discussion on KanColle (+Review) — Imamul Kabir Rivu

Kancolle 1

কোন সাধারণ আনিমে ভক্তকে যদি প্রশ্ন করা হয় কয়েকটি উদ্ভট আনিমের নাম বলতে তাহলে সে তালিকায় Kancolle-র নামটা আসাটাই স্বাভাবিক। তবে যদি গেমটির সাথে অথবা জাপানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জলযুদ্ধগুলোর সাথে পরিচিত থাকেন তাহলে আনিমেটার মূল ধারণা এবং কি দেখাতে চাচ্ছে সে বিষয়টা অনেকটা হলেও ধরতে পারবেন। Kancolle আনিমেটা মূলত ৮০% গেম এবং ২০% দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংমিশ্রনে তৈরি একটা আনিমে। মূলত কথা হল, সেই সময়ে জাপানের নৌ বাহিনী তাদের গর্বের এক অংশ ছিল আর এখন তাদের সব বিষয় মোয়েতে পরিবর্তন করা তাদের গর্ব। তো সেকাল এবং একাল, এই দুই ভিন্ন যূগের গর্বের ফলাফল হল Kancolle.

Kancolle 2

Kancolle-এর কাহিনী মূলত জাপানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে কিউট কিউট মেয়েদের রুপে তুলে ধরা এবং প্যাসিফিক ফ্রন্টের নৌযুদ্ধগুলোকে তাদের কাজ কর্মের মাঝে তুলে ধরা। এখানে আপনাকে সরাসরি আমেরিকার জাহাজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে তা দেখাবে না বরং ধারণা অনেকটাই ওরকম সে বিষয়টা ধরিয়ে দিবে। এই হল সাধারণ ব্যাখ্যা। তবে আসল কাহিনী চিনজুফু (naval district)-এর কানমুসুদের সাধারণ দিনগুলো তুলে ধরা। এ বিষয়টা আরো ভালো ভাবে উপলবদ্ধি করতে হলে আপনার অন্তত গেমটার সাথে পরিচিত হতে হবে।

Kancolle 3

Pacific War-এর নানা রকম সংঘর্ষ আনিমেটিতে কিছুটা প্যারোডির মত করে তুলে ধরেছে যেমন Battle of the Wake Island-কে প্যারোডি করে “W Island” হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে । তবে Operation FS, RY, MI এগুলো কোন প্যারোডি নয় বরং বাস্তব মিশনগুলোর রেফারেন্স ছিল যেগুলো হল জাপানের ওশানিয়ার দ্বীপুঞ্জগুলো দখলের প্ল্যান আর MI হল মিডওয়ের রেফারেন্স ছিল এবং “curry ocean raid’ ছিল Indian Ocean Raid. এছাড়া প্রথম পর্বেই ইয়ূদাচি এবং মুৎসুকির আকাগি এবং কাগার প্রতি প্রশংসা সেটা ‘Pearl Harbour’-এর রেফারেন্স ছিল। এছাড়া ‘Battle of Santa Cruz’-এর ও হালকা রেফারেন্স ছিল আনিমেতে। আনিমের শেষ সংঘর্ষটি ছিল মূলত Battle of Midway-এর উপর তবে এটা জাপানি আনিমে এবং তাই সংঘর্ষটি একটু জাপানের পক্ষপাতেই থাকবে, আগে থেকে বলে দেই এটা স্পয়লার না। কথা হল রেফারেন্সগুলো Pacific War সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা থাকলে ধরতে পারবেন নাহলে পারবেন না। আর পাশাপাশি এক্সেডিশন মিশনের যে ব্যাপারটা নিয়ে অনেক সময়ই আনিমেতে উল্লেখ করে সেটা বুঝতে হলে আসলে গেমটা খেলতে হবে কিন্তু মূলত ‘Commerce Raiding’ বিষয়টাই এখানে এক্সপেডিশন হিসেবে দেখিয়েছে।

Kancolle 5

কাঙ্কোলের চরিত্রগুলোর মাঝে ইন্টারেকশন মূলত বাস্তব জীবনে জাহাজগুলোর নাবিকদলের একে অপরের প্রতি আচরণের উপরই তুলে ধরেছে। যেমন কাগা যেভাবে জুইকাকু এবং শৌকাকুকে ছোট চোখে দেখে বলা আছে বাস্তবেই সেই জাহাজগুলোর নাবিকদল তা করেছে। একেক চরিত্রের ব্যক্তিত্ব এবং ‘catch phrase’ মূলত গেমে যা আছে ওটাই হুবাহু বসায় দিয়েছে। গেমটা না খেলা থাকলে একেকজনকে একেক ‘unique’ চরিত্র হিসেবে উপোভগ করতে পারবেন তবে গেমটা খেলা থাকলে বিষয়টা আরেকভাবে মজা পাবেন, বুঝতে পারবেন যে সেইয়ূরা গেমে ব্যবহৃত লাইনগুলো আনিমের বহু দৃশ্যে অনেকবার রিপিট করেছে। তবে যারা গেমের সাথে পরিচিত নয় তারাও কয়েকটা চরিত্রের catch phrase ধরতে পারবেন, সেগুলো হল সেন্দাই-এর ‘yasen (night battle)’, কঙ্গৌর ‘Burning Love’, 6th Destroyer Division-এর একেকজনের catchphrase, আতাগোর ‘Pan Paka Pan’ এবং ইয়ূদাচির ‘POI’. যা সাধারণত কেউ ধরতে পারে না সেটা হল আকাগির ‘Manshinshite wa dame’, আশিগারার ‘Shouri wo Kizamu (will snatch victory) কিংবা Ueta Ookami (Hungry Wolf)’. আনিমের পার্শ চরিত্রগুলো সবাই কম-বেশি বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল সুধু প্রধাণ চরিত্র ফুবুকি বাদে।

Kancolle 6

আনিমেটার সেইয়ূ কাস্টটা অনেক মজার। ২-৩ টা চরিত্র একই আনিমেতে একজন সেইয়ূকে দিয়ে কণ্ঠ দেওয়া বিষয়টা অসাভাবিক কিছুই নয় তবে একাধিক জনেক ৮-৯ টা করে জিনিশটা বড়ই হাস্যকর। আনিমেটায় সাকুরা আয়ানের ৮টা, তৌয়ামা নাওর ৬টা, সুজাকি আয়ার ৬টা রোল, ইগুচি ইয়ুকার ৩টা রোল পুরা কাস্টা হল হাজার হাজার চরিত্র কিন্তু ঘুরে ফিরে কণ্ঠ দিয়েছে মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন। ফুজিতা সাকি, তানেদা রিসা, কায়ানো আই, হোরিয়ে ইয়ুই এরাও গেমটিতে অনেকগুলো চরিত্রের কণ্ঠ দিলেও কায়ানোন এবং হোচ্চানের (মামিয়া বাদে) কোন রোলই ছিল না, সাকির শুধু মাত্র আকাগি এবং রিসার নাচি ও হাগুরো থাকলেও মূলত কথা বলার সুজোগ পেয়েছে আশিগারা। তবে কণ্ঠ অভিনয় অসাধারণ, সাকুরা আয়ানে যে নাগাতোর মত এত ডিপ কণ্ঠে কথা বলতে পারে কাঙ্কোলে না চিনলে বিষয়টা অজানাই থাকতো। আর পুরো আনিমের এতোগুলো জাহাজের সেইয়ূ যে হাতেগোনা কয়েকজন বিষয়টা আপনি না ঘাটলে ধরতেই পারবেন না, মনে হবে অনেকগুলো সেইয়ূই আছে পুরো কাস্টে। আর একটা বিষয় পরিষ্কার করে দেই, আসলে গেমে প্রত্যেকটা জাহাজের ক্লাসের জন্য একজন করে সেইয়ূ এবং এর জন্যই একজন এতোগুলো চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছে। অবশ্য ব্যতিক্রমও আছে, যেমন শিরাৎসুয়ু ক্লাসের হারুসামের কণ্ঠ দিয়েছে কানেমোতো হিসাকো কিন্তু বাকি ৩ জনের কণ্ঠে ছিল তানিবে ইয়ুমি। আনিমেটির কাস্টে এ কয়জন ছাড়া নোতো মামিকো, কাওয়াসুমি আয়াকো, উয়েসাকা সুমিরেও আছে।

Kancolle 4

আনিমের আর্টটা সুন্দর খালি অনেকগুলো অ্যাকশনেই বেখাপ্পা CG ব্যবহার করেছে সে বিষয়টা বাদে। OST-টা অসাধারণ, ওপেনিং মীরো (https://goo.gl/0uczzL) এবং এন্ডিং ফুবুকি (https://goo.gl/ZA8wIU) এই দুইটা গান যে কারো ভালো লাগবে। থীমটার সঙ্গে মানানসই ছিল সবই।

Kancolle 7

গেমটা না খেলা থাকলে পুরা আনিমে জুড়ে ৩টা বিষয় আপনার কাছে অস্পষ্ট লাগবে (না লাগতোও পারে), সেইগুলোর উত্তর একটু বলে দিচ্ছি। প্রথমত Abyssal জিনিশটা কি? অনেকেই ধরে নেয় এটা হয়তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমেরিকা এবং ব্রিটেইনের জাহাজগুলোকে Abyssal হিসেবে দেখানো হয়েছে। ধারণাটা কিছু কিছু দিক থেকে ঠিক আবার কিছু কিছু দিক থেকে ভুল। গেমটার বসগুলো অনেক সময় কিছুটা হলেও বিভিন্ন বিখ্যাত নৌযুদ্ধে জাপানের প্রতিপক্ষগুলোর (আমেরিকা) প্যারোডি থাকে। যেমন মিডওয়ে প্রিন্সেস যে কি না আনিমের মূল খলনায়িকা থাকে সে কিন্তু মিডওয়ের আমেরিকার ক্যারিয়ারগুলোরই প্যারোডি। বিষয়টা কখনই পরিষ্কার করে না, ধারণা হিসেবেই রেখে দেয় কেননা আমেরিকা এখন জাপানের খুব ভালো বন্ধু। তবে মিডওয়ে প্রিন্সেসের ব্যবহৃত প্লেনগুলোর নাম ছিল Abyssal Cat Fighter, Abyssal Revenge Torpedo Bomber, Abyssal Hell Dive Bomber যেগুলো কিনা আমেরিকার ব্যবহৃত F6F Hellcat, TBF Avenger, SBC Helldiver এর প্যারোডি ছিল। এ ধারণাটা অনেকটাই সঠিক হলেও একেবারে সঠিক না কেননা আজকে থেকে গেমে শুরু হতে যাওয়া Spring 2016 ইভেন্টেই আসছে আমেরিকার অন্যতম বিখ্যাত রণজাহাজগুলোর একটি USS Iowa. তাই তাদের অনেকটা Bleach-এর Hollow-দের মত কিছু একটা ধরেই আনিমেটা উপভোগ করা শ্রেয়। দ্বিতীয় প্রশ্নটি হল, ‘অ্যাডমিরাল কে’? গেমে মূলত অ্যাডমিরাল হলেন আপনি মানে গেমের প্লেয়ার। তো এই ক্ষেত্রে সাধারণত আপনার naval district-তে কানমুসুগুলোর (Ship girl) দৈনন্দিন জীবনই আনিমের রুপে দেখানো হয়েছে। আর ইয়ূদাচির বিবর্তনটাও অনেকে বুঝে না। এ বিষয়টা হল গেমে চরিত্রগুলোকে খেলায় লেভেল আপ করানো হয়। তো এক নির্দিষ্ট লেভেল পর্যন্ত লেভেল-আপ করলে জাহাজগুলোকে রি-মডেল করা যায়। তো এই রি-মডেলের দুই পার্ট আছে, প্রথমটা হল kai যেটা lvl 18,20,25,30 একেক জাহাজের জন্য এক লেভেলে করা যায়, ইয়ামাতো এবং মুসাশিপ জন্য সেটা lvl 60 অবশ্য। দ্বিতীয়টা হল kai ni যেটা lvl 55, 60, 65, 70, 75, 77 এ করা যায় এখানেও একেক জাহাজের জন্য একেক লেভেল আর অনেকেরই kai ni নেই অথবা এখনো আসে নাই। তো kai ni করলে জাহাজের চেহারা এবং রুপের পরিবর্তন ঘটে, ইয়ূদাচির ক্ষেত্রে ঠিক তাই হয়েছে। ফুবুকিকেও kai ni করা হয়েছিলো, চেহারায় পরিবর্তন হয়নি কিন্তু গেমে কিছুটা হলেও হয়। Kai ni করতে হলে জাহাজগুলোকে একাধিক ‘sortie’-তে পাঠাতে হয়, আনিমেতে সে বিষয়টা অনেকটাই মিশন এবং ট্রেইনিং-এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।

Kancolle 8

আনিমেটি দেখার উপভোগ করার ক্ষেত্রে অনেক কিছুই নির্ভর করে আবার এতকিছু না চিন্তা করে সাধারণ একটা আনিমে হিসেবেও উপভোগ করা যায়। প্রধাণত গেমটা খেলা থাকলে একভাবে উপোভগ করবেন, না খেলা থাকলে আরেকভাবে। খেলা থাকলে চরিত্রদের অনেক কিছুই ধরতে পারবেন। আনিমেটাতে যে ওশিয়ো, কুরোশিয়ো, রিয়ুজৌ, হিরয়ূ, সোরয়ু, আসাশিয়ো, কাগোরৌ এরা ছিল এ বিষয়টা ধরতে পারবেন। না খেলা থাকলে ওদের সুধু চিনজুফুর সাধারণ কানমুসু হিসেবে দেখবেন অবশ্য বিষয়টা ধরতে পারা কিংবা না পারা এটা তেমন কোন বড় বিষয় না। জাহাজ এবং সংঘর্ষগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে একভাবে উপোভগ করবেন, না থাকলে আরেকভাবে। মূলত আনিমেটা বুঝতে চাইলে wiki-তে নৌবাহিনির নানা রকম যুদ্ধের জাহাজ, জাপানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাহাজ, নৌযুদ্ধ এ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা করুন কিংবা গেমটা খেলুন তারপর আনিমেটা ধরুন আর যদি উপভোগ করতে চান তাহলে সাধারণ ‘Daily life of cutie ship girls’ এভাবে ধরেই আনিমেটি উপভোগ করুন। যদি আপনার এই নানা রকম জিনিশ মোয়েফাই করা এ বিষয়টা নিয়ে আপত্যি থাকে তবে আমার মতে এই আনিমো না ধরাই ভালো।