Ansatsu Kyoushitsu 2nd Season [রিএকশন] — Imamul Kabir Rivu

Ansatsu Kyoushitsu

আনসাৎসু কিয়ৌশিৎসুর দ্বিতীয় সিজন দেখে শেষ করলাম । প্রথম সিজন শেষ করায় অন্যতম প্রিয় সিরিজগুলোর একটা হয়ো উঠে এই আনিমেটা । দ্বিতীয় সিজন দেখার পর আমার সেরা ১০-এ একটা পার্মানেন্ট স্থান গেড়ে নিছে সিরিজটা । আনিমেটা এত বেশি ভালো লাগছে বলার মত না, সত্যি কথা বলতে সিরিজটায় কোন খুত খুজে পাই নাই সবকিছুই পার্ফেক্ট লাগছে আমার কাছে । এন্ডিংটা খুব কষ্টের হলেও, অনেক ভালো ছিল হয়তো সেরা এন্ডিংই বলবো আমি ।

কাহিনীটা খুব এক্সেপশোনাল যে কারণে প্রথম থেকেই ভালো লাগছে । যেভাবে কাহিনী আগাইছে খুবই ভালো লাগছে । আর শেষের ৪টা পর্ব অনেক বেশি ইন্টেন্স ছিল । আনিমে সবরকম এন্জোয়মেন্ট দিতে সক্ষম হইছে আমার কাছে । একসাথে হাসির মুহুর্ত ছিল, কষ্টের মুহুর্তও ছিল, অনেক সুথিং পর্ব ছিল, অনেক ইন্টেন্স পর্বও ছিল । অনেক এক্সেপশোনাল একটা ভালো শৌনেন আনিমের উদাহরণ আনসাৎসু কিয়ৌশিৎসু । আমার দেখা এই পর্যন্ত সেরা শৌনেনগুলোর একটা আনসাৎসু । আর শেষ দুই পর্ব পুরা আনিমেটার অবজেক্টিভ পূর্ণ করে দিয়েছে, বিষয়টা মানতে কষ্ট হলেও ।

কোন আনিমেতে একটা পুরা ক্লাসরুম ভর্তি চরিত্র থাকলে আসলেই মনে রাখতে কষ্ট লাগে । কিন্তু এখানে প্রত্যেকটা চরিত্রই মনে একটা ছাপ রেখে গেছে ঘটনাক্রমে । আর কোরো সেনসেই-এর কথা না বললেই নয়, এরকম অসাধারণ চরিত্র আমার আসলেই কম দেখা হইছে যতগুলো আনিমে দেখছি । সিরিজের একেবারে প্রথম দুই পর্বই তাকে খারাপ লাগবে কিন্তু আস্তে আস্তে বলে দিতে পারি আপনার দেখা অন্যতম সেরা চরিত্রগুলোর একটা হয়ে উঠবে কোরো সেন্সেই । আর এইখানে দ্বিতীয় সিজনে প্রত্যেকটা চরিত্রের এত ভালো ডেভেলপমেন্ট দেখাইছে, এটা আসলেই বলার মত ।

অ্যানিমেশন খুবই ভালো লাগছে । হয়তো চোখ ধাধানো তেমন কিছু নয় কিন্তু দেখে অনেক ভালো লাগবে এরকম অ্যানিমেশন । সিরিজের আর্ট অনেক ভালো লাগছে আমার কাছে, কালার স্যাচুরেশনটা বেশি সুন্দর লাগছে ।

আর সিরিজের OST আমার দেখা অন্যতম সেরাগুলোর একটা । প্রত্যেকটা ইন্সার্ট মিউজিক অনেক বেশি ভালো ছিল আর আনিমের মাঝে অনেক পার্ফেক্টভাবে মানানসই ছিল । প্রত্যেকটা ওপেনিং এন্জোয়েবল ছিল, অনেক বেশি ভালো । দ্বিতীয় সিজনের দুইটা ওপেনিং-ই বছরের সেরা ওপেনিং হওয়াটা ডিজার্ভ করে আমার কাছে । একই কথা বলব এন্ডিং গানগুলোর ক্ষেত্রে । প্রত্যেকটা এন্ডিংই সফ্ট ছিল এবং অনেক সুন্দর, শিয়োন মিয়াওয়াকির গানগুলো আসলেই অনেক বেশি সুন্দর ।

এখন আমার প্রত্যেক পস্টেরই ‘MUST’ একটা জিনিশ ভয়েস অ্যাক্টিং এই জিনিশ নিয়ে কথায় আসি । ফুকুয়ামা জুনের আমার দেখা সবচেয়ে এক্সেপশোনাল রোল কোরো সেন্সেই, এই লোক এত পার্ফেক্ট একটা কাজ করছে কোরো সেনসেই-এর হয়ে এরকম হয়তো আর কেউ পারতো না । ফুচিগামি মাই-এর বাকি যেই রোলগুলো শুনছি একটার সাথেও নাগিসার কণ্ঠ ম্যাচ করে না । ভাবতেই অবাক লাগছিলো যে এই মহিলা গুপে নিশিজুমি মিহোর সেইয়ূ । কিন্তু এরকম পার্ফেক্ট একটা ট্র্যাপে কণ্ঠ দিতে পারছে বলেই মহিলা স্বার্থক । ওকামোতো নোবুহিকোকে কার্মার কণ্ঠে অনেক সহজেই ধরা যায় । আয়া সুজাকিও কাঙ্কোলে বাদে যতগুলো আনিমেতে দেখছি প্রত্যেকটায় একই রকম কণ্ঠ দিয়ে চালায় গেছে, তাই কায়ানোকে ধরতেও কোন সমস্যা হয় নাই । মামোরু মিয়ানো, কানেমোতো হিসাকো, ইতৌ শিজুকা, উয়েদা কানা, কাওয়াসুমি আয়াকো, হায়ামি শৌ, নুমাকুরা মানামি, সুগিতা তোমোকাজু, ইয়াহাগি সায়ুরি, শিমাজাকি নোবুনাগা, সাতৌ সাতোমি এদের প্রত্যেককেই খুব সহজে ধরতে পারছি । আর এদের সকলের কাজই নিখুত লাগছে । ফুজিতা সাকির রিৎসু রোলটা অনেক বেশি এক্সেপশোনাল ছিল, আগে অনেকগুলো রোল দেখেছি উনার কিন্তু কারও কণ্ঠের সাথে রিৎসুর মিল পাই নাই । আর ওসাকা রিয়ৌতাকেও কেন জানি ইসোগাই হিসেবে ধরতে পারি নাই । কিন্তু সবমিলাম সবার ভয়েস অ্যাক্টিংই পার্ফেক্ট লাগছে ।

হয়তো আনিমেটা যতটা ভালো তার চেয়ে একটু বেশি বাড়ায় বলছি, কি আর করার পুরা দমের অন্ধ ফ্যানবয় হয়ে গেছি আনিমেটার ।

Rating: 10/10 ~!

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিএকশন] — Abdullah Ar Rayhan

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu

[স্পয়লার-ফ্রি প্রতিক্রিয়া]

অ্যানিমেটা ওয়াচলিস্টে ছিল আগে থেকেই। গ্রুপের কভার ফটো দেয়ার সাথে সাথেই দেখা শুরু করে দিয়েছিলাম। শেষ করে মনে হলো কিছু অন্তত বলা উচিত।

এপিসোড সংখ্যাঃ ১৩
জনরাঃ জোসেই, ড্রামা
MAL স্কোরঃ ৮.৬৫/১০
ব্যক্তিগত স্কোরঃ ৯/১০

অ্যানিমেটি দেখার সময় যা মনে হচ্ছিলো, গ্রীষ্মের এ তপ্ত গরমে এ যেন এক পশলা ঠান্ডা বাতাস। এক্সাম শেষ করে মূড ঠিক করতে এমন পারফেক্ট একটা অ্যানিমে দরকার ছিল।

শুরুতে একটি গম্ভীর মনে হলেও হতে পারে; তবে তা বিরক্তি তো জাগায়ই না, বরং আরো ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। ৪৭ মিনিটের পাইলট এপিসোডটা প্লট সেটিং এর জন্য একদম যথার্থ। শুরুতেই দেখা যায় কারাগার থেকে বের হওয়া এক লোক যে কিনা ভেতরে থাকা অবস্থায় “শিনিগামি” নামে একটি রাকুগো শুনে এর পারফর্মার প্রবীণ ইয়াকুমো ইউরাকুতেই এর ভক্ত বনে যায় এবং তার শিষ্য হওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। ইয়াকুমো, যিনি কিনা কখনো শিষ্য নেননি এবং নেবেন না বলে পণ করেছিলেন, কি মনে করে একে শিষ্য হিসেবে নিয়ে নেন এবং নাম দেন ‘ইয়োতারো’। মাস্টারের ওখানেই তার সাথে দেখা হয় ‘কোনাতসু’ এর যে কিনা আরেক নামী রাকুগো পারফর্মার ‘সুকেরোকু’র একমাত্র মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই ইয়াকুমো’র কেয়ারে আছে কোনাতসু। ট্রেইনিং চলাকালে মাস্টার লক্ষ্য করেন সুকেরোকু’র স্টাইলের প্রতি ইয়োতারো’র ঝোঁক; আর সে সাথে আমরা দেখি কোনাতসু’র সাথে মাস্টারের শীতল সম্পর্ক যে তার বাবার মৃত্যুর জন্য ইয়াকুমো-কে দায়ী করে। এক রাতে মাস্টার ঠিক করেন দুজনকেই তাঁর আর সুকেরোকু’র অতীত শোনাবেন। এ হলো সংক্ষেপে পাইলট এর কাহিনী।
পরের এপিসোডেই আমরা চলে যাই অতীতে, মাস্টারের জবানিতে, যেখানে আমরা দেখি কিভাবে ইয়াকুমো আর সুকেরোকুর পরিচয় হয়, কিভাবে তারা একই মাস্টারের অধীনে বেড়ে ওঠে। মাঝে মাঝেই নাতিদীর্ঘ ‘রাকুগো’ পারফর্মেন্স। [রাকুগো এক প্রকার স্টোরিটেলিং যাতে একজন পারফর্মার স্টেজে বসে একা একা পারফর্ম করে যান। স্টোরিতে সবসময়ই একাধিক ক্যারেক্টার থাকে যা পারফর্মার নিজেই ভিন্ন ভয়েস আর অঙ্গভঙ্গি দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন।]

এ অ্যানিমে কেবল দু’জন মানুষের গল্পই নয়। কেবল রাকুগোর গল্পই নয়। এতে আমরা দেখি কিভাবে ট্রানজিশন পিরিয়ডে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে একটা শিল্প (বিশেষ করে টেলিভিশন এর আবির্ভাবের কারণে রাকুগোর জনপ্রিয়তা নিয়ে শংকা দেখা দেয়)। আমরা দেখি শিল্পের চিরাচরিত দ্বন্ধ। কিকুহিকো-র (ভবিষ্যতের ইয়াকুমো) ট্রেডিশন আর পারফেকশনের প্রতি ঝোঁক, সিরিয়াস আর পরিশ্রমী মনোভাব; বিপরীতে সুকেরোকু’র ফান-লাভিং আর সময়ের সাথে মানিয়ে নেয়ার প্রবণতা। একজন মাস্টারদের প্রিয়, আরেকজন দর্শকদের। সে সাথে এটি জীবনের গল্পও। আমরা দেখি কিভাবে বিপরীতমুখী দুটি চরিত্র বাধা পড়ে যায় একে অপরের সাথে, কিভাবে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে আবেগময় গভীর বন্ধুত্ব (এপিসোড ৩ এর শেষের অংশটা পার্টিকুলারলি ইমোশনাল; চোখে পানি এনে দেয়)।

অ্যানিমের নামটা নিয়েই কিছু বলা যাক। Shouwa আর Genroku হচ্ছে দুইটা টাইম পিরিয়ড। Genroku ইরা (১৬৮৮-১৭০৩) থেকে রাকুগো জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে [সম্ভবত], আর Shouwa ইরা (১৯২৬-১৯৮৯) এর মাঝামাঝি এসে এসে ‘রাকুগো’ টার্মটি পরিচিতি পায়। Shinjuu বা ডাবল সুইসাইড দেখেই শেষটা অনুমান করে ফেলা যায় (বিশেষ করে এপিসোড ৭ এর দিকে); তবে এটাকে ঠিক প্রেডিক্টিবিলিটি বলা যায় না। যে নিপুণ দক্ষতায় অনিবার্য সমাপ্তির দিকে দর্শককে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় তা-ই এ অ্যানিমের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

শুরুর দিকে কিছুটা স্লো। এ অংশগুলো কারেক্টার বিল্ডিং এ ব্যয় করা হয় এবং অ্যানিমেটি তাতে বেশ সফল হয় সন্দেহাতীতভাবেই। স্টোরি আর কারেক্টার বিল্ডিং এ অ্যানিমের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। এমন ইনটেন্স আর সলিড স্টোরি খুব একটা দেখা যায় না, সে সাথে কিছু মন হালকা করে দেয়ার মুহুর্ত যে নেই তা নয়। পুরো অ্যানিমেতেই স্ক্রিন থেকে মনোযোগ সরানো কঠিন, তবে এপিসোড ৭ এর দিকে এসে গতি বেড়ে যায়।

আর্ট নিয়ে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। ডিটেইলের দিকে বেশ মনোযোগ দেয়া হয়েছে। যেমন একটা দৃশ্যে মুহুর্তের জন্য দেখা যায় লাইটবাল্বের মৃদু আলোতে কিভাবে পোকামাকড় ভিড় করে, আরেকটা দৃশ্যে আমরা পানিভর্তি গ্লাসের মধ্য দিয়ে দেখতে পাই কিকুহিকো আর মিয়োকিচি কে। ইনসিগনিফিক্যান্ট একেকটা দৃশ্য কিন্তু মনে ছাপ ফেলে যায়।

মিউজিক আমাকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়ে গেছে এ অ্যানিমেতে। Shamisen এর চিয়ারফুল টুংটাং যতবারই শুনেছি ততবারই মনে হয়েছে শহরের যান্ত্রিকতা ফেলে দূরে কোথাও চলে গিয়েছি, মন ভালো হয়ে গেছে প্রতিবারই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও মন ভরিয়ে দেয়ার মত। একটা দৃশ্যের কথা বলতেই হয়। ‘টেনেসি’ নামক একটা বারের দৃশ্য। কিকুহিকো আর সুকেরোকু আলোচনা করছিলো ভবিষ্যত নিয়ে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে জ্যাজ মিউজিক। এ ছোট্ট দৃশ্যেও যে মনোযোগ দেয়া হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
ওহ, যেটা ভুলে গিয়েছিলাম; ভয়েস অ্যাক্টিং নিয়ে আমি খুব একটা মাথা ঘামাইনি কখনোই এবং তেমন কিছু জানিও না তবে আমার মনে হয়েছে অ্যানিমেটিতে অসাধারণ কাজ দেখিয়েছেন ভয়েস অ্যাক্টররা। রাকুগো তে এমনিতেই একজনকে বেশ কয়েক ভয়েসে কথা বলতে হয়, এক্ষেত্রে ভয়েস অ্যাক্টররাও কম দেখাননি। কন্ঠে এত বৈচিত্র্য দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম ভিন্ন ভিন্ন অ্যাক্টর দিয়ে করানো হয়েছে কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখলাম ইয়াকুমো’র বিশেষ অংশ ছাড়া বাকিদের ক্ষেত্রে প্রত্যেক কারেক্টারে একজনই কাজ করেছেন।

সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা সিরিজ। হয়তো বুক মোচড়ানো ইমোশন নেই, হার্ট অ্যাটাক করানোর মত ক্লাইম্যাক্স বা সারপ্রাইজ নেই, তবে ড্রামা হিসেবে একটা অ্যানিমের কাছে যা আশা করা যায় তার সবই আছে। হ্যাপি ওয়াচিং।

Bungaku shoujo প্রতিক্রিয়া এবং র‍্যান্ট — Mehedi Hasan Himel

Bungaku Shoujo 4

Bungaku shoujo প্রতিক্রিয়া এবং র‍্যান্ট (কোনো রিভিউ না)

এনিমের উপরঃ

  • Bungaku Shoujo Movie

সিরিয়ালওয়াইজ প্রথমে আসে এই মুভি, কোনোহা আর তোহকোর প্রথম পরিচয় থেকে শুরু, তারপর একে একে আসতে থাকে অন্যান্য চরিত্ররা। তোহকো হচ্ছে বুক গার্ল, সহজ কথায় সে বই খায়, বই খাবার মাধ্যমেই সে তার খাবারের প্রয়োজন মেটায়, সাধারণ খাবারের কোন স্বাদ সে নিতে পারে না। আর তার রাইটার হচ্ছে কোনোহা, প্রতিদিন ক্লাসের পর বুক ক্লাবের রুমে তাকে ৩ টি শব্দের উপর ভিত্তি করে ৫০ মিনিটের মধ্যে তোহকোর জন্য খাবার ( 😛 ) তৈরি করতে হয়, আর তোহকো তার পুরাটা খায়, যতই না খারাপ হোক। আর খাবার খাওয়ার সময় যা বর্ণণা দেয় তা আরেক জিনিস।

কোনোহার আরেকটা পরিচয় আছে, ২ বছর আগে সে ছিলো এক নভেল কন্টেস্টের বিজয়ী, মাত্র ১৪ বছর বয়সে সে জয়ী হয় এবং তার নোভেল অন্যতম বেস্ট সেলার হয়। যদিও তার নোভেল লেখার উদ্দেশ্য ছিলো অন্য একটা, তার বাল্যবন্ধু আসাকুরা মিউ এর প্রতি তার অনুভূতির কথা জানানো। যদিও তা তার উপর ব্যাকফায়ার করে। আসাকুরা মিউ এতই মানসিকভাবে নির্যাতিত হয় যে সে আর সহ্য করতে না পারে কোনোহার সামনের তাদের স্কুলের ছাদ থেকে লাফ দেয়। এই ঘটনা কোনোহাকে এতই বিপর্যস্ত করে যে সে এক বছরের জন্য আর ঘর থেকে বের হতে পারে নি।

হাইস্কুলে এসে তার জীবন অনেক চেঞ্জ হয়, বুক ক্লাবে যোগদান করে আর তোহকোর সাহায্যে সে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠে এবং আরেক সহপাঠী নানাসের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক ( -_- ) গড়ে উঠে।

এদিকে তারপর আগমন ঘটে মিউ এর, ২ বছর পর, কোনোহার সুখ ভাঙ্গার এবং কোনোহাকে নিজের করে নিতে সে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালায়, অনেকাংশে সফল ও হয়।

বুঙ্গাকু শৌজো এর প্রতিটা ভলিউম ই একটি নির্দিষ্ট নোভেলকে ঘিরে আবর্তিত হয়, ঐ নোভেলের চরিত্র গুলোর সাথে সিরিজের চরিত্রগুলোর একটা মিল তৈরি করে কাহিনীকে পূর্ণতা দেয়া হয়। এই মুভির ভিত্তি ছিলো কেঞ্জি মিয়াকাওয়ার Night on the Galactic Railroad.

মুভিটার সবচেয়ে ভালো দিক ছিলো এনিমেশন, অসাধারণ এনিমেশন লেগেছে, ভাইব্র্যান্ট ছিলো, তারপর ট্রেনের সিনটা অনেক ভালোভাবে দেখিয়েছে। তারপর সাউন্ডট্র্যাক আর শেষের এন্ডিং সংটা। আর কানাজাওয়ার ভয়েস যা ছিলো <3 , তোহকোর সাথে কীবারে মিলে গিয়েসে, বোনাস হিসেবে ছিলো মিজুকি নানা।

এই মুভির অনেক কিছুই খাঁপছাড়া লাগবে। অনেক কিছুই হঠাৎ করে আনা হয়েছে বা করা হয়েছে, কিছু ব্যাখা যদিও Memoire তে দেয়া হয়েছে তাও আশানূরূপ নয়।

রেটিং: ৬.৫ / ১০

Bungaku Shoujo 3

  • Bungaku Shoujo Kyou no Oyatsu: Hatsukoi

১৫ মিনিটের একটা অভিএ, মুভির সাথে শুধু একটি কাহিনীরই মিল আছে, এছাড়া তেমন গুরুত্বপূর্ন না, দেখার জন্য দেখা আর কি।

Bungaku Shoujo 1

রেটিং: ৬/১০

  • Bungaku Shoujo Memoire

৩ পর্বের সিরিজ, ৩ টি পর্ব ৩ জন ভিন্ন নায়িকার উপর। প্রথম পর্ব তোহকো, ২য় পর্ব মিউ আর ৩য় পর্ব নানাসেকে নিয়ে।

মুভির কাহিনী অনেকাংশেই ব্যাখা করেছে পর্বগুলো। তোহকোর যে কোনোহার অতীত জানতো, সে যে তার প্রথম ফ্যান ছিলো, তাকে বুক ক্লাবে যোগদানে বাধ্য করাতে সে নাটকও সাজায় :3 । তার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ছিলো কোনোহাকে আবার নোভেল লিখাতে অনুপ্রাণিত করে এবং সে সার্থক হয়েছিলোও।

তারপর মিউ এর পর্ব। মিউ এর পারিবারিক দূর্দশা ই এখানেই প্রথম প্রকাশ পায়। তার বানোয়াট গল্পের প্রতি একমাত্র কোনোহাই আগ্রহ প্রকাশ করে, সে হয়ে উঠে কোনোহার প্রতি ওভারপ্রটেক্টিভ। কিন্তু যখন কোনোহা তাকে ছাড়িয়ে পুরস্কার জিতে নেয়, তখন সে চূড়ান্ত হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায়, শুধুমাত্র কোনোহাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য সে নিজে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে।

রেটিং: ৭.৫ / ১০

Bungaku Shoujo 2
র‍্যান্ট — নভেলের ভিত্তিতে (স্পয়লার এলার্ট)

প্রথমেই সবচেয়ে বড় ভুলটা হয়েছে মুভি করার সময়। ৮ ভলিউমের একটা সিরিজ। ২-৩ ভলিউম থেকে হয়তোবা শুরু করতে পারতো। নাহ একেবারে পঞ্চম ভলিউম!!!! জীবনেও দেখি নাই, অর্ধেক ম্যাটেরিয়াল পুরো স্কিপ। তাতে যা ক্ষতি হইলো প্রথম দিলের চরিত্রগুলোর। চিয়া ছিলো প্রথম ভলিউমের নায়িকা, তার কোনো ডেভেলপমেন্ট নাই, কিছু উল্লেখ ও করে নাই। অথচ এই হাসিখুশি মেয়েটাই নিজের বয়ফ্রেন্ডকে বুকে ছুরিকাঘাত করেছে, তাও ভরা রাস্তায়, সিরিজের সবচেয়ে টুইস্টেড ক্যারেক্টারগুলোর একটা।

তারপর রিইউতো। সিরিজের অন্যতম মেইন চরিত্র, শেষ ৩ ভলিউমের ভিলেইন আর কোনো উল্লেখই নাই এ ব্যাপারে। তোহকোর বাবা মা র সুইসাইডের পিছনে যে ওর হাত আছে তাও কেউ জানলো না। ও আর মাকি সিরিজের সবচেয়ে অসাধারণ কাপল, ২ জনকে অন্তত একবার সামনাসামনি হইলেও দাঁড় করাইতো এনিমেতে। অনেক আশা ছিলো যে মাকি কে নিয়ে একটা পর্ব কি, কিসের কি। পুরা সিরিজে ৫ মিনিটের বেশি টাইম ই পায় নাই। মাকি যে দৃঢ় মনোবল দেখিয়েছিলো শেষের দিকে, অন্তত একটি পর্ব তার পাওয়া উচিত ছিলো। টাইমলাইন তো এনিমে আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে, আর একটু করতো।

সবচেয়ে খারাপ দিক ছিলো মুভির এন্ডিংটা। প্রথমে মিউ এর প্রতি কোনোহার কনফেশন পুরো বাদ। কোনোহা নোভেল এ এটা লিখছিলো যদিও ফাইনাল সিলেকশনে এই অংশ বাদ পড়ে যায়। কিন্তু তোহকো পুরো পার্টটা প্লানেটারিয়মে পরে শোনায়। আর এনিমতে শুধু শেষ ২ টা লাইন মনে হয় দেখালো।

তারপর হলো মুভির এন্ডিং। মুভি ছিলো ভলিউম ৫ এর, এরপর শেষ ৩ মিনিট মানে এণ্ডিং টা আসলো ভলিউম ৮ এর থেকে, এইটা অবিশ্বাস্য। ৩ ভলিউম স্কিপ করে এন্ডিং দেখানো!!!! ওয়াও। আর এই সময় কোনোহার সাথে তোহকোর কোন রিলেশন কি, কেউ কাউকে পছন্দ করার বিন্দুমাত্র চিহ্ন ছিলো না, কোনোহার তখন কোতোবুকির সাথে প্রেম করতেছিলো। পুরাতন ভালবাসাকে অনুভূতির কথা জানিয়ে বর্তমান প্রেমিকাকে ফেলে আরেকজন মেয়ের পিছনে দৌড়ানো। ওয়াও, ৩ ভলিউমের ডেভেলপমেন্ট ৫ মিনিটে বিসর্জন।

Bungaku Shoujo 5

গ্লাসলিপ রিএকশন; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

12961176_197382797313440_1846287170956684497_o

কাল রাতে (তর্কসাপেক্ষে) এই দশকের সবচেয়ে বিতর্কিত অ্যানিমে গ্লাসলিপ দেখে শেষ করলাম। অ্যানিমেটার ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কোনদিন কোন পজেটিভ কথা শুনিনি, অনেকটা ঝোঁকের মাথায় দেখা শুরু করেছিলাম এই ভেবে যে, ভাল না লাগলে দেখা বাদ দিয়ে দেব।

কিন্তু দেখা শুরু করার পর আবিষ্কার করলাম, আমি মোটেই বোর হচ্ছিনা। শুরুর এপিসোডে কাকেরু এসে তৌকোকে যখন বলল, “তুমি যা দেখ, আমিও তাই দেখি”, তখন একটু লেইম লেগেছিল ব্যাপারটা, পরে বুঝলাম সেটার কারণ ছিল। রোমান্স পার্টটা অতটা খারাপ ছিল না, তবে সুপারন্যাচারাল ব্যাপারটা ঢুকানোর প্রয়োজন ছিল না। ওটা ছাড়া কাহিনীটা জমত ভাল।

Screenshot_2016-04-11-22-12-11

অ্যানিমেটা খারাপ লাগার কারণ খুঁজে বের করতে আমার সত্যিই কষ্ট হয়েছে, নিজে বের করতে পারিও নি খুব বেশি, অন্যদের রিভিউ ঘাটাঘাটি করে বের করতে হয়েছে। আমি তারচেয়ে পয়েন্ট আকারে কিছু কথা বলি, বুঝতে সুবিধা হবে।

– প্রথমেই উল্লেখ করতে হবে আর্টওয়ার্ক। পিএ ওয়ার্কস এর অ্যানিমেশন, কিও অ্যানির পরে এই স্টুডিওর আর্ট আমার সবচেয়ে পছন্দ। প্রতিটা ছোট ছোট ডিটেইলের দিকে নজর রাখে তারা, উজ্জ্বল চোখজুড়ানো ল্যান্ডস্কেপ থাকে, শহরের দৃশ্য হোক বা গ্রাম, সমুদ্র হোক বা পাহাড়, সব কিছু অসম্ভব যত্ন নিয়ে আঁকে। ক্যারেক্টার ডিজাইনও সুন্দর হয়, পিএ ওয়ার্কস এর কাজ যে, সেই ছাপ থাকে। এই স্টুডিওর যত অ্যানিমে আমি দেখেছি, তার মাঝে গ্লাসলিপের আর্ট সেরা।

Screenshot_2016-04-11-20-59-27

– স্টোরি খারাপ ছিল না। আমি জানি অনেকে আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন, তাও বলছি, স্টোরি ভালই ছিল। সুপারন্যাচারাল পার্টটা যদি বাদ দেই, বাকিটা কিন্তু বাস্তব জীবনের সাথে বেশ মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে। ক্যারেক্টারগুলো বিরক্তিকর – এই কথাটার প্রেক্ষিতে আমি বলব, এই ধরণের বিরক্তিকর ক্যারেক্টার আমাদের আশেপাশে খুঁজলেই পাওয়া যায়। এই কারণেই বরং গ্লাসলিপ স্লাইফ অফ লাইফ হিসেবে সফল। সুনদেরে ইয়ানদেরে না দেখিয়ে তারা অন্তত কিছু রিলেটেবল ক্যারেক্টার দেখাতে পেরেছে, যারা ভুল করে, জেলাসও হয়, কিন্তু সেটাকে ওভারকামও করতে পারে।

– সুপারন্যাচারাল পার্টটার কথা এবার বলি, কোন দরকার ছিল না এটার। শুরুর দিকে ভালই লাগছিল, কিন্তু এপিসোড ১২-১৩ তে শুধুশুধু টুইস্টের মত কিছু একটা দেখাতে গিয়ে এন্ডিংয়ে খামাখা কাকেরুকে ভ্যানিশ করে দিল। পিএর কাজ অবশ্য এমনই, পারফেক্ট হ্যাপি এন্ডিং বোধহয় ওদের সহ্য হয়না। তবে ওইটুকু অতৃপ্তির জন্য পুরো অ্যানিমেটাকে খারাপ বলাটা খুবই অন্যায় হবে, কারণ আমি এর চেয়ে অনেক খারাপ অ্যানিমে দেখেছি। গ্লাসলিপের দোষ হল এটা স্লাইস অফ লাইফ রোমান্স, কাজেই খুব এক্সাইটিং কিছু ঘটেনা।

সবমিলিয়ে আমার মনে হয়েছে এটা দেখার যোগ্য অ্যানিমে, বাকিটা আপনারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিন। কাউকে দেখতে সাজেস্ট করব না, যেহেতু এটা এত এত মানুষের ভাল লাগেনি, যার দেখার ইচ্ছা নিজ দায়িত্বে দেখবেন, তবে খুব এক্সাইটমেন্ট পাবেন না এমনটা জেনে দেখতে বসলে ভাল লাগবে, এটা বলতে পারি।

I didn’t survive Glasslip, I enjoyed it.

12973375_197382847313435_8237480134203561675_o

অ্যানিমে সাজেশন- কামিসামা হাজিমেমাশিতা; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

দেখে শেষ করলাম কামিসামা হাজিমেমাশিতা সিজন ১। বাবার খামখেয়ালিপনার কারণে গৃহহারা হওয়া নানামি হঠাৎ করে পেয়ে বসে আস্ত একটা শ্রাইন আর সেইসাথে আর্থ গড হবার সম্মান। সেই শ্রাইনের হেরাল্ড তোমোয়ের সাথে নানামির সম্পর্কের ধীরে ধীরে উন্নতি, তাদের দৈনন্দিন জীবন ও অন্যান্য হেরাল্ড এবং ইয়োকাইদের সাথে তাদের ইন্টের‍্যাকশন নিয়ে এগিয়ে চলে অ্যানিমের কাহিনী, এবং অবশ্যই সাথে রোমান্সের খুনসুটি।

Screenshot_2016-04-07-17-55-50

প্রথমেই যে কথাটা মাথায় এল শেষ করার পর, শৌজো অ্যানিমের ক্লিশে- কোন একটা ছুতা বাইর করাই লাগবে সবকয়টা বিশৌনেনের সাথে রোমান্টিক মোমেন্ট দেখানোর। -_- এই কন্ট্র‍্যাক্ট সিল করার ছুতায় যে কত কাহিনী করল :v :v যাহোক, সেটা বড় কোন সমস্যা না, কারণ ওভার অল অ্যানিমেটা অনেক ভাল লেগেছে আমার। আর্ট ডিসেন্ট, কমেডি অনেক ভাল, হেসেছি অনেক; সবচেয়ে বড় কথা একেবারেই ফোর্সড কমেডি লাগেনি।

Screenshot_2016-04-07-13-34-31

এবার বলি যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে – ওএসটি। আমি সাধারণত ওপেনিং এন্ডিং স্কিপ করে যাই, এই অ্যানিমেটার ক্ষেত্রে একটাও স্কিপ করতে পারিনি। গান দুটো যতবার শুনেছি, আমার নাচতে ইচ্ছা করেছে!! আর অ্যানিমের ভেতরের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও সুন্দর; বিশেষ করে একেবারে শেষ এপিসোডের কাগুরা ডান্সটা অসম্ভব ভাল লেগেছে, রিপিট করে করে দেখেছি। কাহিনীটা কোথাও থমকে যায়নি, একটা নির্দিষ্ট পেসিং ধরে রেখেছে। আর তোমোয়ে যেভাবে নিজের জেদ বিসর্জন দিয়ে নানামিকে মন থেকে আসা কথাটা বলে দিল, এটা আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে।

Screenshot_2016-04-07-19-39-01

সবমিলিয়ে বেশ ভাল একটা শৌজো অ্যানিমে ছিল এটি, চাইলে ট্রাই করে দেখতে পারেন।

Screenshot_2016-04-07-19-42-27

 

হানাসাকু ইরোহা রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

tumblr_mb3x3lVTdH1qzd219o1_500

হানাসাকু ইরোহা দেখে শেষ করলাম। শুরু থেকেই আর্ট এবং ক্যারেক্টার ডিজাইন দেখে আমার তারি তারি অ্যানিমেটার কথা মনে পড়ছিল, ম্যাল ঘেটে দেখলাম যা ভেবেছি তাই; দুটো অ্যানিমে একই স্টুডিওর বানানো। পিএ ওয়ার্কস স্টুডিওটির জন্য মোট ৩৪ টি টাইটেলের এন্ট্রি পেলাম (সেকেন্ড সিজন, ওভিএ, মুভির হিসাব সহ) এর মাঝে এঞ্জেল বিটস, এনাদার, শার্লট, শিরোবাকো নামগুলো চোখে পড়ল। হানাসাকু ও তারি তারির আর্ট খুব সুন্দর লেগেছে আমার, কিন্তু শার্লট আর এঞ্জেল বিটস সে তুলনায় অনেক বেশি সুন্দর আর ঝকঝকে ছিল।

ohana

স্টুডিও বন্দনা শেষ, এখন আসি হানাসাকু ইরোহা অ্যানিমেটির কথায়।

Hanasaku_Iroha

ওহানা একজন হাইস্কুল স্টুডেন্ট, মায়ের সাথে টোকিওতে থাকে। ওহানার মা একজন সুন্দরী ও খুবই খামখেয়ালি ধরণের মানুষ, ওহানার ওপর ঘর সামলানোর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে সারাক্ষণ নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এভাবেই চলছিল মা-মেয়ের সংসার, কিন্তু একদিন হঠাৎ বাধল বিপত্তি। ওহানার মা ও তার ছেলেবন্ধু একদিন ঠিক করলেন, চাঁদের আলোয় বাড়ি ছেড়ে পালাবেন তারা একজন আরেকজনের হাত ধরে। কারণ তাদের পেছনে লেগে আছে পাওনাদারেরা! ওহানাকে নিয়ে পালানো সম্ভব না, তাই ওহানার মা তাকে ধরিয়ে দেয় একটি “অনসেন ইন” এর ঠিকানা, যেটির মালিক ওহানার নানী। নিরূপায় ওহানা তার টোকিওর বন্ধুবান্ধব ও জীবনযাত্রা ছেড়ে রওনা দেয় ছোট শহরের সেই অনসেনের উদ্দেশ্যে।

অনসেনে যেতে যেতে ওহানা যা ভাবছিল, সেখানে গিয়ে তার কিছুই হল না। ওহানার নানী একজন কর্মপাগল মহিলা, কাজের বাইরে কোন কিছুই চোখে পড়েনা তার। ওহানার নতুন জীবন শুরু হল একজন অনসেন ওয়েইট্রেস হিসেবে, আর আস্তে আস্তে সে পৃথিবীটাকে নতুন রূপে দেখতে শিখল।

iroha

স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমের গতানুগতিক প্যাটার্নের চেয়ে এই অ্যানিমেটি অন্যরকম, এখানে শান্তিময় জীবনের ওপর ফোকাস করা হয়নি, বরং ওহানার জীবনের সংগ্রামগুলোর ওপর ফোকাস করা হয়েছে। শুরুটা বেশ সিরিয়াসভাবে হয় এই অ্যানিমের, কিন্তু পরে ওহানা কাজের মাঝে যেভাবে আনন্দ খুঁজে নেয় ও সবার সাথে মিলেমিশে কাজ করে, তা দেখে খুব ভাল লাগে। হাসার মত অনেক ভাল ভাল মোমেন্ট আছে অ্যানিমেটিতে। ক্যারেক্টারগুলো খুব সহজেই আপন হয়ে যায়, কখন যে ওদের সাথে আপনিও কিসসুইসোর অংশ হয়ে গেছেন, টের পাবেন না।

আর্টের ব্যাপারে আগেই বলেছি, প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওএসটি মানানসই, অ্যানিমের বিভিন্ন মুডকে ফুটিয়ে তুলেছে। ভয়েস অ্যাক্টিং টা আমার অনেক ভাল লেগেছে, প্রতিটি ক্যারেক্টারের সাথে কণ্ঠ খুব সুন্দর মানিয়েছে।

অ্যানিমেটির এন্ডিং টা একটু আশাহত করতে পারে অনেককে, তবে রিয়েলিস্টিক এন্ডিং হিসেবে আমার ভাল লেগেছে। এছাড়া পুরো ২৬ পর্বে এত এত ছোট ছোট কিন্তু সুন্দর সব ঘটনা ঘটে, সেগুলো সবই অ্যানিমেটিকে মনে রাখার মত একটি সিরিজে পরিণত করেছে। তাই সবাইকে সাজেস্ট করব এই সুন্দর অ্যানিমেটি দেখতে।

Hanasaku.Iroha.full.837892

মাঙ্গা রিএকশান: The Flowers Of Evil — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

এ মাঙ্গা নিয়ে আগে বেশ কয়েকটা পোস্ট দেখে আমি আগ্রহী হয়ে পড়তে শুরু করলাম আকু নো হানা। পড়া শেষ করার পর আমার মনে হলো অসাধারণ কিছু পড়া শুরু করেছি এবং তা ছিলোও কিন্তু শেষে গিয়ে ভাবলাম যে আরো অস্থির কিছু হতে পারত ।

The Flowers Of Evil 1
মাঙ্গার মেইন ক্যারেকটার তাকাও কাসুগা , এক মাধ্যমিক পড়ুয়া বইপোকা । ছেলে সবদিক দিয়ে ভালো এবং ক্লাসের এক সুন্দরী সহপাঠী নানাকো সায়েকির উপর ক্রাশ খাওয়া । তো একদিন ক্লাস থেকে বের হবার সময় দেখে যে নানাকোর জিমের পোশাক নিচে পরে আছে এবং কেমন করে জানি এই ভালো ছেলে তাকাও সেই পোশাক অনিচ্ছাকৃত ভাবে চুরি করে ফেলে । তো ভালো ছেলে হওয়ায় আত্নগ্লানিতে সে প্যারনয়েড হয়ে ওঠে এবং মড়ার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে সে নজরে পরে যায় ক্লাসের পাগলী স্যাডিস্ট মেয়ে সাওয়া নাকামুরার খপ্পরে যে তাকে পোশাক চুরি করতে দেখেছে এবং তাকে সেটা নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে গিয়েও না করে একধরনের মানসিক টর্চার শুরু করে !তাকাও পাগলপ্রায় হয়ে উড়াধুরা কাজ শুরু করে এবং অবস্থা আরও খারাপ হয় যখন নানাকো তাকাওর কাছে আসতে চায় ।

The Flowers Of Evil 2
মাঙ্গার ফেস্টিভালের ইনসিডেন্ট পর্যন্ত আমার অস্থির লেগেছে । কিন্তু তাকাও এর চেইন্জ আর ভালো লাগেনি । আর লাস্ট পর্যন্ত সবশেষে ওই হ্যাপি এন্ডিং । আমি ভাবছিলাম পরে নাকামুরা আরও অস্থির বা ডেন্জারাস কিছু হবে । তবে স্বপ্নের ব্যাপারটা অস্থির ছিল । আর নাকামুরাকে ভাল লাগসে কারন সে ছিল ট্রু স্যাডিস্ট । আমি যখন জ্বলবো তখন আশেপাশের সবাইকে নিয়ে জ্বলবো । এরকম সোসাইটি থেকে বিচ্ছিন্ন স্যাডিস্টদের মানসিকতা নাকামুরার মধ্য দিয়ে দেখেছি ।
সবশেষে মাঙ্গাটা সত্যি খুবই ভালো লেগেছে । এরকম থ্রিলিং জিনিস পড়তে খুবই ভালো লাগে । আর্ট কোয়ালিটিও যথেষ্ট ভালো ! এবং ক্যারেক্টার গুলো যে মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে ,তা মাঙ্গায় ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ।যারা পড়েননি তারা পড়ে ফেলুন , আপনার সময়টা নষ্ট হবে না বলতে পারি!!

The Flowers Of Evil 3

Arslan Senki [Reaction] — Rezo D. Skylight

Arslan Senki:
পর্ব: ২৫
স্টুডিও: SANZIGEN, LAIDENFILMS
জনরা: Action, Adventure, Drama, Fantasy, Historical, Supernatural
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৯১

কিছুদিন আগে দেখে শেষ করলাম Arslan Senki। এনিমের শুরুটা বেশ ভালোই ছিল। কিছুটা Kingdom এনিমের ভাইব পাচ্ছিলাম আবার প্লটের সাথে Akatsuki no Yona-র মিল ছিল। কিন্তু পরে কাহিনী বহুত স্লো মনে হয়েছে। আর অ্যাকশনের পরিমান যতটা আশা করেছিলাম ততটা পাইনি, তবে যা ছিল খারাপ ছিল না। আর ওয়ার সিনগুলো আরও কিছুটা ডিটেইল করে দেখাতে পারতো। কিন্তু প্রত্যেক ওয়ার খুব তাড়াতাড়ি শেষ করে ফেলেছে। এছাড়া মাঝখানে সিন্দুরিয়ানদের নিয়ে যে আর্কটি ছিল তা মোটেই ভালো লাগেনি। আর মেইন ক্যারেক্টার হিসেবে আরস্লানকে মোটামুটি লেগেছে, তবে বাকি ক্যারেক্টারগুলো বেশ ভালো ছিল।

এতক্ষণ ধরে খালি খারাপ দিক আলোচনা করলাম। এখন কিছু ভালো দিকও তুলে ধরি। Arslan Senki-র আর কিছু ভালো না হোক OST ও Soundtrack গুলো ছিল অসাধরন। এনিমেশন কোয়ালেটি বেশ সুন্দর ছিল। স্টোরি স্লো মনে হলেও, মেইন প্লট খুব ভালো লেগেছে। আর মেইন ভিলেন হিসেবে Silver Mask এর চরিত্রও খুব ভালো ছিল। এছাড়া মেইন ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যে Daryun এর যুদ্ধকৌশল, Narsus এর স্ট্রাটেজি, Gieve এর চতুর কাজকর্ম সবই ভালো লেগেছে। তবে আরস্লানের আর কিছু না হলেও তার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ভালোভাবে দেখানো হয়েছে। কাহিনীর টুইস্ট, মিস্টেরি স্টোরি ব্যাকগ্রাউন্ডও যথেষ্ট ভালো ছিল। আর অ্যাকশনের মধ্যে Daryun এর সাথে Silver Mask এর ফাইটটা ভালো লেগেছে। যদিও মাঝে কাহিনী খুব স্লো ছিল বটে তবে শেষ কয়েক এপিসোড খুবই ভালো ছিল।

যাই হোক, Arslan Senki ওভারঅল খুব ভালো একটা ওয়ার-ড্রামা এনিমে। যদিও শেষমেশ কাহিনী অসমাপ্ত রেখেছে, এখন সেকেন্ড সিজনের জন্য বসে থাকতে হবে। আশা করি সেকেন্ড সিজন আরও ভালো হবে।

রেটিং – ৮/১০

[যাদের Arslan Senki ভালো লেগেছে তারা একবার Kingdom এনিমেটা পরখ করে দেখতে পারেন। Kingdom এর ইন্টেনসিটি, প্লট, ক্যারেক্টার ও যুদ্ধকৌশল আমার কাছে Arslan Senki থেকে ভালো লেগেছে।]

AS

অ্যানিমে সাজেশনঃ সাকুরাকো সান নো আশিমোতো নি ওয়া শিতাই গা উমাত্তেইরু; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

10014955_577552792409231_3034083471763853742_o

অ্যানিমে- সাকুরাকো সান নো আশিমোতো নি ওয়া শিতাই গা উমাত্তেইরু / এ কর্পস বারিড আন্ডার সাকুরাকোস ফিট

অ্যানিমেটি যখন দেখা শুরু করি, এর তিন মাইল লম্বা নাম দেখে মেজাজ খারাপ হয়েছিল, ভাবতাম যে এত বড় নাম হয় কেন রে বাবা লাইট নভেল গুলার!! কিন্তু আজ শেষ পর্বটি দেখার পর মনে হচ্ছে, নাহ!! এই নামকরণ আসলেই সার্থক। ওয়ান পাঞ্চ ম্যান বা নোরাগামী আরাগোতোর হাইপের আড়ালে ঢাকা পড়ার কারণে অনেকেই হয়ত অ্যানিমেটির নামও শোনেননি, কিন্তু মিস্ট্রি জানরার ফ্যানদের জন্য এটি একটি মাস্ট ওয়াচ অ্যানিমে।

1412744_577554125742431_4213871888005648295_o

কাহিনী আবর্তিত হয় কুজোও সাকুরাকো নামের সুন্দরী অস্টিওলজিস্ট এবং তার হাইস্কুল পড়ুয়া অ্যাসিস্ট্যান্ট শৌতারোকে ঘিরে। হাড়প্রেমী খামখেয়ালী সাকুরাকো সান হাড়ের সন্ধান পেলে দুনিয়া ভুলে যান, আর তার এই খামখেয়ালীপনার লাগাম টেনে ধরে শৌতারো। মৃতদেহ কথা বলে তার সাথে; হাড়ের অবস্থা দেখে সাকুরাকো সান সমাধান করে রহস্যের, বের করে আনে লুকিয়ে থাকা চাবিকাঠি।

অ্যানিমেটির গ্রাফিক্স অনেক বেশি সুন্দর, আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার পার্ফেক্ট। অ্যানিমেটিতে দেখানো মিস্ট্রিগুলো খুবই চমকপ্রদ, সেকেন্ড সিজনের জন্য অনেক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।

মাত্র ১২ পর্বের এই অ্যানিমেটি যারা দেখেননি এখনও, দেখে ফেলতে পারেন, ভাল লাগবে আশা করি। আমার কাছে এটি এ বছরের সেরা অ্যানিমেগুলোর একটি।

1933220_577553085742535_1007971363804566011_o

Reaction Post: Tsuritama (2012) — Abdullah Ar Rayhan

প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত ফুজিসাওয়া শহরের অন্তর্ভুক্ত ছোট্ট একটি দ্বীপ এনোশিমা। মেইনল্যান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মনোমুগ্ধকর এ দ্বীপটি ৬০০মিটার লম্বা একটি ব্রিজ দিয়ে ফুজিসাওয়া-র সাথে যুক্ত। অপূর্ব সামুদ্রিক সৌন্দর্য দেখলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়; ইচ্ছে করে স্ক্রিনের ভেতর ঢুকে যাই। দাদির চাকুরির সুবাদে এখানকার স্থানীয় স্কুলে ট্রান্সফারড হয়ে আসে ইউকি। কোন বন্ধুবান্ধব নেই ওর। মানুষের সাথে কমিউনিকেট করতে জানে না। কারো সাথে কথা বলতে গেলেই মনে হয় ডুবে যাচ্ছে, সে সাথে নার্ভাস হয়ে চেহারা এমন হয়ে যায় যে দেখে মনে হয় সাক্ষাত দানব, রাগে এখুনি খেয়ে ফেলবে। প্রথমদিনেই তার সাথে দেখা হয় হাতে রহস্যময় ওয়াটার-গান নিয়ে ঘুরে বেড়ানো অদ্ভুত এক ছেলের। হারু নামের সরল সিধে এ ছেলেটি নিজেকে এলিয়েন বলে দাবি করে। মানুষকে কাছে টানার আশ্চর্য এক গুণ আছে ওর। শুরুতে অসহ্য লাগলেও ক্রমেই হারু ইউকি-র সবচেয়ে কাছের বন্ধুতে পরিণত হয়। ওদের সাথে একই ক্লাসে পড়া আরেকটি ছেলে নাতসুকি। গোমড়ামুখো নাতসুকি মাছ ধরায় তুখোড় দক্ষতার সুবাদে স্কুলের বাইরে প্রিন্স নামে পরিচিত। আর এদেরকেই সবসময় দূর থেকে লক্ষ্য রাখে কোলে হাঁস নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ইয়ামাদা নামের এক ভারতীয়। সিরিজের প্রধান চারটি চরিত্রের সবারই নিজস্ব একটা গল্প আছে। আছে বৈপরিত্য। তারপরও কিভাবে তারা এক বিন্দুতে মিলিত হয়? কিভাবে কাছের বন্ধু হয়ে ওঠে একেকজন? উত্তর মিলবে শুরুতেই। হারুর চাপে মাছ ধরতে রাজি হয় ইউকি। এখানেই এসে পড়ে নাতসুকি, যে এ দুজনকে মাছ ধরা শেখায়।

আপাতদৃষ্টিতে সিরিজটি হাসি, রাগ আর মাছধরার মধ্য দিয়ে চার স্ট্রেঞ্জারের বন্ধু হয়ে ওঠার গল্প। সমুদ্রে মাছ ধরা আর হারু-র অদ্ভুত কিন্তু নির্দোষ কর্মকান্ড দেখতে দেখতে নিজের অজান্তেই মন ভাল হয়ে যাবে। ঈর্ষা হবে। একেবারে আদর্শ কমেডি – স্লাইস অফ লাইফ মিক্স। তাহলে এর মাঝে সায়েন্স ফিকশনটা কোথায়? মনে কি আছে কি হারু-র ইউকি-কে মাছ ধরতে চাপাচাপির কথা? এর কারণ কি? হারু-ই বা কোত্থেকে এসেছে? ইয়ামাদা-র উদ্দেশ্য কি? সামান্য মাছ ধরার সাথে দুনিয়া বাঁচানোর যোগসূত্র কোথায়?

সিরিজটি শুরু হয়েছে দারুণভাবে। চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশ ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে আর্টওয়ার্কে। ব্যক্তিগতভাবে ইউকি-র ফেইসটা আমার পছন্দ হয়েছে। উঠতি বয়সের সব বৈশিষ্ট্যের সাথে লাল চুল যোগ করাটা ভাল লেগেছে কেন জানি বেশ। আর মিউজিক নিয়ে অভিযোগ করার কোন উপায় নেই। ওপেনিং-এন্ডিং এত্ত চিয়ারফুল যে একটাও স্কিপ করার মত না। খুব সম্ভাবনাময় এ অ্যানিমেটি কিছুটা ট্র্যাক হারিয়ে ফেলে শেষের দিকে এসে, সায়েন্স ফিকশন রিলেটেড ব্যাপারগুলো বোঝা দায়। যেগুলা কোন সেন্স তৈরি করে না উল্টো কেমন যেন একটা ভজকট পাকিয়ে দেয়। সিরিজটি এ জনরার প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। এন্ডিংটা বেশ অদ্ভুত। অ্যানিমের কাহিনী নিয়ে কিছু জটিলতা থাকলেও আমি বলবো কমেডি-র ক্ষেত্রে সুবিচার করেছে, সে সাথে কিছুটা থ্রিলিংও বটে! বিশেষ করে ইউকির প্রথম মাছ ধরার সময়টায় আমি নিজেও উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলাম। শেষের দিকের অংশটুকু ঠিক বুঝে কুলিয়ে উঠতে না পারলেও ওভারঅল দেখার মত একটা অ্যানিমে।

Episodes: 12
Genres: Comedy, Sci-Fi, Slice of Life, Sports
MAL Score: 7.88
Personal Rating: 7.5

Tsuritama