MOB Psycho 100 [রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

mob-psycho-100-1

গত বছরে ওয়ান পাঞ্চ ম্যান ব্লকবাস্টার হিট খাওয়ার পর ওয়ান চাচার কমিকের দিকে সবার নজর পরে , কারণ আমাদের প্রচলিত টিনেজ মেইন চরিত্র যে ধীরে ধীরে দুর্বল থেকে সবল হয়ে উঠবে ,প্রথমে কিছু ফাইট জিতবে , পরে হারার মাধ্যমে আবার শক্তশালি হয়ে উঠবে , পরে আসবে অতি শক্তিশালি ভিলেন যার সাথে লাস্ট মোমেন্টে পাওয়ারাপ হয়ে হিরো জিতবে । এই ফর্মুলা জনপ্রিয় এবং আমারো ভালো লাগে , কিন্তু সব একশান এনিমে ওই ফর্মুলাতে চলায় নতুন কিছু খুজছিলাম আর সেই নতুন কিছু হইল ওয়ান পাঞ্চ ম্যান !!! টাকলা , বলদা অতি শক্তিশালী মেইন চরিত্র !! কাহিনী মজার আর এনিমেশন আরও ভালো !! তো যখন শুনলাম ওয়ান এর আরেক ওয়েবটুন মব সাইকো ১০০ এনিমে পাবে তখন আমার মনে হইলো যে এইটা কি আরেক ওয়ান পাঞ্চ ম্যান হইবে নাকি !! প্রথম কয়েক চ্যাপ্টার পড়ে দেখি যে মেইন চরিত্র দেখতে চুল ওয়ালা সাইতামা আর অতি শক্তিশালি , ভাবলাম যে এইটাও আরেক ওয়ান পাঞ্চ ম্যান , কিন্তু এনিমের কয়েক এপি দেখে বুঝলাম যে আমি কত বড় বোকা !! হিমু পড়তে গেলেই খালি মনে আসে পুলিশ , হেলেন অফ ট্রয়ের মত মেয়ে , ভালো মাস্তান আর মাজেদা খালা , মানে কমন প্লট কিন্তু হিমুর ২টা গল্প ময়ূরাক্ষী আর হিমুর দ্বিতীয় প্রহর পুরাই আলাদা সারপ্রাইজ ছিল !! তেমনি মব সাইকো ১০০ আমাদের জন্য এক স্পেশাল সারপ্রাইজ !!

mob-psycho-100-2

কাহিনীর মেইন নায়ক আপাতত শিগেও , সে অতি পাওয়ারফুল সাইকিক এবং অতি উন্নতমানের সরল গাধা ! সে কাজ করে স্বঘোষিত দুনিয়ার সেরা ভূতের ওঝা রেইগেন সেন্সের সাথে , এই রেইগেন সেন্সে হইল টিরিয়ন লানেস্টারর মত , কথা বইলা শিং মাছের মত যে কোন পরিস্থিতি দিয়া পিছলায়ে বের হয়ে আসতে পারবে এবং তার কথা গুলা আসলেই কলিজায় লাগে ।মবরে দেখলে মনে হয় বিবাগী , দুনিয়ার কিছুতে নজর নাই , অনেকটা সাইতামার মত , কিন্তু আসলে টা না , সে প্রেমিক আছে , লেখাপড়ায় ভালো করতে চায় , মেয়েদের মধ্যে পপুলার হইতে চায় । তো এই অতি শক্তিমান বালক মব , তার ইন্সিকিউরিটিতে ভোগা লেখাপড়া , খেলাধুলায় অস্থির ছোট ভাই , ইসস্কুলের বেকামা সাইকিক ক্লাবের মেম্বার , এবং সেরা বড় ভাই ব্রাদার যুক্ত ফিটনেস ক্লাব ও আরো কিছু চরিত্র নিয়ে আমাদের মব সাইকো !! ( সব বইলা দিলে মজা পাইবেন না ) !!

অসাধারন পাওয়ার থাকলেই যে লাফ দিয়া পইরা হিরোগিরি করতে হইবে এই জিনিসটা মব করে নাই , সে নিজের অতি ভয়ঙ্কর ক্ষমতা নিয়া চিন্তিত ! মবের ইমোশন লেভেল ১০০ তে পৌঁছালে মোটামুটি মিনি কেয়ামত হয়ে যায় !!! আপনি হয়ত এনিমে দেখার সময় ভাবতাসেন এই জায়গায় এইটা হইবে , কিন্তু হবে পুরা ৩৬০ ডিগ্রি উল্টা !!! এই এনিমের ডায়লগ গুলা অস্থির , কমেডি আছে আর আছে অতি অতি অতি অস্থির সাউন্ডট্র্যাক !!!ওপেনিং আর এন্ডিং দুটাই কানে মধু এবং চোখে শান্তি !! এখন আসি এনিমেশনের কথায় !! ওয়ান চাচা কাহিনী ভালো বানায় কিন্তু আকে জঘন্য , আর মব তো ওয়ান পাঞ্চ ম্যানের মত রিড্র করা হয় নাই , কিন্তু স্টুডিও Bones কাপায়া দিসে !! অতিরিক্ত সিম্পল আর্টের সাথে চোখ ধাঁধানো গ্রাফিক্স দিয়েছে !! মানে এক প্লেট ভাত দেখতে প্লেইন কিন্তু তাতে একটু ঘি দিয়ে মাখিয়ে মুখে নিলে যেমন আরামে চোখ বন্ধ হয়ে যায় !! তেমনি মব সাইকো দেখলে ব্রেইনে মাখনের আরাম ইফেক্ট হয় !! একেকটা একশান সিন আপনার এন্ড্রালিন রাশের বারোটা বাজিয়ে দেবে !!! যদি আপনি ক্লিশে মুক্ত কিন্তু একশান ও কমেডিতে ভরা অস্থির এক সিরিজ দেখে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে চান তাইলে এখনি মব সাইকো ১০০ ১০৮০পিতে ১২ পর্ব নামিয়ে দেখা শুরু করেন !ভালো লাগবেই এইটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি !!!
Opening: https://www.youtube.com/watch?v=M4uCRncR3_w
Ending: https://www.youtube.com/watch?v=lZLEXj52lcc

mob-psycho-100-3

Kuroko no Basuke – Extra Game [মাঙ্গা রিভিউ] — Zahin Mobashshir

kuroko-no-basuke-extra-game

মাঙ্গা: Kuroko no Basuke – Extra Game
চ্যাপ্টার সংখ্যা: ০৮

কুরকো এনিমেটা যারা দেখেছেন তারা মনে হয় ইতিমধ্যেই শুনেছেন যে কুরকোর নতুন একটা মুভি আসতে পারে। সেই মুভিটা এই মাঙ্গা থেকে এডাপ্ট করা হবেই জানা গেছে।
মাঙ্গার কাহিনী তৈরি হয়েছে একটা ম্যাচকে কেন্দ্র করে।
আমেরিকা থেকে এক স্ট্রিট বাস্কেটবল দল এসেছে জাপানের অল-স্টার টিমের সাথে এক প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্যে। খেলা শেষে জাপানের সেই টিম খুবই দুর্বিষহভাবে হেরে যায়। কিন্তু আমেরিকার সেই স্ট্রিট বাস্কেটবল টিম ঐ টিমকে হারিয়েই ক্ষান্ত হয়নি বরং তাদেরকে যাচ্ছেতাই কথা শুনায় এবং গালিগালাজও করে। খেলাটা টিভিতে সরাসারি সম্প্রচার করায় পুরা জাপানের প্রায় সকলেই খেলাটি দেখে এবং এই ঘটনা চাক্ষুষ করে।
জেনারেশন অব মিরাকেলস এবং সাথে আমাদের লাইট আর শ্যাডোও খেলাটি দেখে এবং মনে মনে এর প্রতিশোধ নেওয়ার উপায় ভাবতে থাকে।
খেলার শেষে আমেরিকার সেই বাস্কেটবল টিমের কীর্তি তাদেরকে আনা হোস্টও চাক্ষুষ করেন এবং সেই হোস্ট হচ্ছে আমাদের খুবই পরিচিত সেইরিনের ম্যানেজার রিকোর পিতাজান। তিনি ঐ মুহুর্তেই “জ্যাবারওয়াক” তথা আমেরিকান স্ট্রিট বাস্কেটবল টিমকে আরেকটা ভিন্ন টিমের সাথে ম্যাচ খেলার চ্যালেঞ্জ করে।
নতুন গঠিত টিমটির নাম দেওয়া “ভোরপোল সোয়ার্ডস”।
টিমটির মেম্বার আমাদের পরিচিত সেই “জেনারেশন অব মিরাকেলস” এবং লাইট-শ্যাডো।
“কুরকো নো বাসুকে” এনিমের তিনটা সিজনে আমরা যত্ত মুভ এবং যত্ত কম্বিনেশন দেখেছি এবং মাঙ্গাটিতে তার সব কিছুই রয়েছে তার থেকে আরও অনেক অনেক গুন বেশি আছে। “ভোরপোল সোয়ার্ডস” এর প্রতিপক্ষও কম যায় না কিছুতেই। এদের সাথে লড়াই করতে সবাইকেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়েছে।
কিন্তু……………………
শেষ রক্ষা কি পায় “ভোরপোল সোয়ার্ডস”
জানতে হলে পড়ে ফেলুন এই ছোট মাঙ্গাটি।
প্রথম চার চ্যাপ্টার একটু বোরিং লাগতে পারে কিন্তু তাই বলে পরের চ্যাপ্টারগুলা না পড়লে অসম্ভব ভুল করবেন ।
তাই আর দেরি না করে পড়া শুরু করে দিন এবং বাস্কেটবলের ম্যাজিকে মেতে উঠুন।
অনলাইনে পড়ার লিংক: http://kissmanga.com/Manga/Kuroko-no-Basuke-Extra-Game

Katekyoshi Hitman Reborn [রিভিউ] — Yoshimura Hayato

katekyoshi-hitman-reborn

অনেস্ট এনিম রিভিউঃ Katekyoshi Hitman Reborn
MAL rating: 8.83
আমার রেটিংঃ 8/10

পুরানো শৌনেন এনিমে দেখা শুরু করেছিলাম, তারই অংশ হিসাবে এইটা দেখা। অনেকদিন ধরেই জমে ছিল হাতে। শেষমেশ দেখে ফেললাম পুরোটাই।

কাহিনী শুরু হয় মিডল স্কুলপড়ুয়া দুর্ভাগা মেইন ক্যারেক্টার সাওয়াদা সুনাওশি aka সুনাকে দিয়ে। তার কিচ্ছু নাই, না লেখাপড়া, না খেলাধুলা, না অন্যকিছু। তাই গোটা স্কুলেই তার নাম ‘হোপলেস সুনা’। স্কুল আইডল কিওকো চানকে পছন্দ করে সে, কিন্তু নিজের কাপুরুষত্ব তাকে কনফেস করার সুযোগ দেয় না।
এমন সময় সুনার সাথে দেখা হয় রিবর্ন নামের এক শিশুর সাথে যে কিনা তাকে বলে সুনা নাকি ইটালির সবচে শক্তিশালী মাফিয়া পরিবার “ভঙ্গোলা ফ্যামিলি”র দশম উত্তরসূরি।
বাচ্চার কথা উড়িয়ে দেয় সুনা, কিন্তু কালক্রমে জানতে পারে ঘটনা আসলেই সত্যি।
পরিবারের নবম লিডারের আদেশে রিবর্ন, যে কিনা একজন হিটম্যান সুনাকে ট্রেনিং দেবার দায়িত্ব নেয়। দক্ষ মাফিয়া বস হিসাবে সুনাকে গড়ে তোলার জন্য রিবর্ন অমানুষিক ট্রেনিং শুরু করে।

ইতিমধ্যে সুনার সাথে জুটে যায় ইটালিয়ান হিটম্যান গোকুদেরা হায়াতো, তার বোন পয়জন স্করপিয়ন বিয়াঙ্কি, সুনার সহপাঠী বেসবল খেলোয়াড় ইয়ামামোতো তাকেশি, স্কুল আইডল কাম সুনার ক্রাশ সাসাগাওয়া কিওকো চান, তার বক্সার ভাই সাসাগাওয়া রিওহেই, পিচ্চি হিটম্যান লাম্বো, স্কুলের ডিসিপ্লিনারি কমিটির হেড হিবারি সান।
যত দিন যায় ততই শত্রুর সংখ্যা বাড়তে থাকে সুনার, তাই তাকে মোকাবিলা করতে হয় নিজের চেয়ে অনেক শক্তিশালি শত্রুর। অবশ্য ঘরের শত্রু বিভীষণ রিবর্ন তাকে প্রতিদিন মাইরের উপ্রে আইমিন ট্রেনিং এর উপ্রে রাখে তাই সুনার কাছে প্রত্যেক দিনই নরক মনে হয়।
এর মধ্যে ফ্যামেলির উত্তরাধিকার নিয়ে এক ট্রায়ালের মুখোমুখি হয় সুনা। ফ্যামেলি মেম্বারদের নিয়ে সেই ট্রায়াল মোকাবিলা করে সুনা। সুনার ফ্যামেলিতে নতুন করে যোগ হয় ক্রোম দোকুরো নামের এক কিশোরী।

এনিমটার প্রথম বিশ এপিসোড কাহিনী বিল্ডআপ করতেই লেগে গেছে, অনেক অসহ্যকর মোমেন্ট ছিল, বিশেষ করে সুনার মাফিয়া বস হতে না চাওয়ার ব্যাপারটা। এই জিনিসটা একদম শেষ পর্যন্ত আমাকে জ্বালিয়ে গেছে।
কষ্ট করে বিশ এপিসোড দেখে ফেললেই আর কাহিনী থেকে উঠতে পারবেন না, এক বসায় দেখে ফেলতে হবে। অনেক ভাল্লাগছে, কিছু কিছু ব্যাপার বাদ দিয়ে।

অপছন্দের ক্যারেক্টারঃ
১/ হায়াতোঃ অতিরিক্ত সিন ক্রিয়েট করে, অত্যন্ত স্মার্ট ব্রেনের একটা ক্যারেক্টারকে বেশি কমেডি করে পচিয়ে ফেলা হয়েছে। মাথা একটু বেশিই গরম, ধৈর্য কম।
২/ লাম্বোঃ সবচেয়ে বিরক্তিকর লাগছে একে।
৩/ সুনাঃ দুঃখজনক হলেও সত্য যে সুনাকে অনেক বিরক্তিকর লেগেছে(নরমাল সুনা)। এত প্যাথেটিক মেইন ক্যারেক্টার আগে কখনো দেখি নাই।

পছন্দের ক্যারেক্টারঃ
১/ রোকুদো মুকুরোঃ সুনার মিস্ট গার্ডিয়ান, সবচেয়ে ডিসেন্ট রিজনওয়ালা এন্টিহিরো
২/ হিবারি কিওইয়াঃ সুনার ক্লাউড গার্ডিয়ান; গার্ডিয়ানদের ভেতরে সবচে শক্তিশালী।
৩/ হাইপার সুনাঃ সুনার ব্যাটল মোড। এই এনিমের সবচেয়ে কুলেস্ট ক্যারেক্টার।

ওয়াইফু ম্যাটেরিয়ালঃ ক্রোম দোকুরো

এইটাই একমাত্র এনিমে যার হিরোকে একই সাথে বিরক্তিকর আর কুল লেগেছে। এতটা সাংঘর্ষিক ক্যারেকটার আগে দেখা হয় নাই।
এনিম ২০৩ পর্বেই শেষ। আসল মজা পেতে হলে মাঙ্গা পড়ুন(ডাইলের মজা তলে)

Hajime no Ippo [রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

hajime-no-ippo-1

কারও উপর রাগ হলে , সেইরাগ কমানোর উপায় কি ? মেডিটেশন , উল্টাগোনা ? আমার মতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ঘুষানো ! যারা ফাইটক্লাব মুভিটা দেখসেন তারা জানেন মারামারির কি গুণ । এখন এই বিনোদনের জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঘুষাঘুষিকেই বলা হয় বক্সিং । এটা এমন একখেলা যেটাতে মৃত্যু অসম্ভব নয় । এবং এরকমন স্পোর্টস বেইজড এনিমে হবে না তা কি হয় !? এই বক্সিং নিয়েই হাজিমে নো ইপ্পোর কাহিনী ।

প্লট : এই এনিমের নায়ক অপাতদৃষ্টিতে ইপ্পো । বাবাহারা এক জেলে সন্তান , মাকে নৌকা ব্যাবসায় সাহায্য করা এবং পড়াশুনার মধ্যেই তার জীবন । বেশি বন্দ্ধু না থাকায় এবং চুপচাপ এবং লাজুক স্বভাবের হওয়ায় প্রায়ই বুলিইংএর শিকার হয় । এরকম এক পরস্থিতিতে পরে মার খাওয়ার সময় তাকে এক লোক গুন্ডাদের হাত থেকে বাঁচায় এবং ফার্স্ট এইড দেওয়ার জন্য জিমে নিয়ে যায় , এই লোক হচ্ছে এই এনিমের অন্যতম প্রধান ক্যারেকটার মামুরো টাকামুরা , যে একজন ট্যালেন্টেড এবং অজেয় উদীয়মান বক্সার । এখন রতনে রতন চেনে , মাকে নৌকা ভাড়া ব্যাবসায় ছোটবেলা থেকে সাহায্য করা দরুন ইপ্পোর শরীর ছিল সুগঠিত এবং আর ছিল ফাইটিং স্পিরিট যা টাকামুরার চোখ এড়ায় না । টাকামুরার জোরাজুরিতে এবং স্পারে ইপ্পোর পান্চিং পাওয়ার এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে জিমের কোচ গেনসান তাকে জিমে ভর্তি করে নেয় এবং শুরু হয় ইপ্পোর বক্সিং জগতে পথ চলা ।
আমি আত্নবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি যে সর্বকালের সেরা স্পোর্টস এনিমে বলতে গেলে ইপ্পোকে না রেখে কথা বলা যাবে না । প্রথম হল এর অসাধারন স্টোরিলাইন । এলাম .দেখলাম ,জয় করলাম এইরকম কাহিনী এখানে না । এখানে প্রত্যেক ক্যারেকটারকে স্ট্রাগল করতে হয়েছে এবং করতেই রয়েছে ।এখানে ইপ্পোকে প্রথমে মেইন ক্যারেকটার মনে হলেও ,পরে প্রত্যককেই মেইনক্যারেকটারের মতো মনে হবে । বক্সিং এমন এক স্পোর্টস যেখানে শুধু ট্যালেন্ট দিয়ে ভাত মেলে না । আগের যুগের বক্সারদের যে কি নারকীয় ট্রেনিং এর মধ্য দিয়ে যেতে হত তা এই এনিমে না দেখলে বোঝা যাবে না । এই এনিমের আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য দিক হল ক্যারেকটার ডেভলপমেন্ট । কিমুরা , আওকি , টাকামুরা . সেন্ডো এ ক্যারেকটারগুলোর শুধু সাইড ক্যারেকটার না , তারা এই এনিমের অপরিহার্য অংশ । এবং আপাতদৃষ্টিতে যাদের ভিলেন বা নায়কের প্রতিপক্ষ বলে মনে হবে তাদেরও রয়েছে হৃদয় ছোয়া ব্যাকস্টোরি । আমরা জানি যে মোহম্মদ আলী , মাইক টাইসন , জো ফ্রেজিয়ার এরা প্রত্যেকেই অস্বচ্ছল অবস্থা থেকে স্ট্রাগল কর পৃথিবীর চূড়ায় উঠেছে , এই এনিমে দেখলে কিছুটা হলেও তাদের স্ট্রাগল সম্পর্কে ধারনা পাবেন ।

এই এনিমে ম্যাডহাউজের সুতরাং এনিমেশন কোয়ালিটি পুরোনো হলেও অসাধারন । এর একশান বা ফাইটিং সিনগুলো দেখার সময় স্থির হয়ে বসে থাকতে পারবেন না । এই এনিমে দেখার পর আমনি বাসার দেয়ালের উপর জ্যাব প্র্যাকটিস করতে গিয়ে ঝাড়ি খাবেন না , তা হবে না ! এই এনিমে কমেডির দিক দিয়েও লেজেন্ডারি । টাকামুরা , কিমুরা এবং আওকির বাঁদরামি এবং পার্ভাটনেস আপনার পেটে খিল ধরিয়ে দেবে ।

প্রত্যেকটা ক্যারেকটারের বিল্ডআপ নিঁখুত । রোমান্স আছে , কমেডি আছে , শরীরের কাঁটা দেওয়া একশান আছে কিন্তু দুঃখের কথা হচ্ছে স্লাম ডাঙ্ক , কুরোকো , হাইয়াকু এসব এনিমের নাম যত শোনা যায় এটার নাম তত শোনা যায় না । যারা এটা একবার দেখেছে তারাই এটার মহাত্ন্য বুঝতে পারবে ।

hajime-no-ippo-2

এই এনিমের ৩টি সিজন
Hajime no ippo fighting যার ৭৫টা এপিসোড এবং Hajime no ippo rising এবং Hajime no ippo new challanger যার যথাক্রমে ২৪টি আর ২৬টি করে পর্ব । এই এনিমে দেখবেন আর ভালো লাগবে না , তা হয় না । পারফেক্ট স্পোর্টস একশান এনিমে দেখতে চাইলে দেখে ফেলুন হাজিমে নো ইপ্পো বা প্রথম পদক্ষেপ ।
আমার রেটিং :10/10

Amv :https://www.youtube.com/watch?v=UPeNNA9-q4k

Perfect Blue [মুভি রিভিউ] — শতদ্রু তালুকদার

perfect-blue

চিন্তা করুন, আপনি মানসিকভাবে এতোটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে আপনার পক্ষে ঠিক কল্পনা আর বাস্তবতা আলাদা করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। প্রতিটা দিনই আপনার কাছে বাস্তবতা আর কল্পনা মিলেমিশে ঘুরপাক খেয়ে যাচ্ছে। যতই দিন যাচ্ছে ততটাই আপনি এই কল্পনা-বাস্তবতার ঘুরপাকের অতলে তলিয়ে যাচ্ছেন।

Perfect Blue মুভিটার কাহিনীও মূলত তেমনই। মুভিটার প্রোট্যাগনিস্ট Mima Kirigoe একজন পপ আইডল গ্রুপের মেম্বার, নিজের ক্যারিয়ারকে আরও গড়ে তোলার করার জন্য সে পপ গ্রুপ ছেড়ে নিজেকে একজন এক্ট্রেস হিসেবে মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তই তার কাল হয়ে দাঁড়ায়। একে একে তার সাথে এবং তার পরিচিতদের চারপাশে নানান রহস্যময় ঘটনা ঘটতে থাকে। এক পর্যায়ে Mima মানসিকভাবে এতোটাই ভেঙ্গে পড়ে যে তার পক্ষে আর কল্পনা-বাস্তবতা আলাদা করা সম্ভব হয় না। ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ থেকে খারাপতর হতেই থাকে। তার মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হওয়া কিংবা তার মানসিক বিপর্যস্ততা থেকে কাটিয়ে ওঠা, তার চারপাশের রহস্যময় ঘটনাগুলোর খোলাসা করা নিয়েই “Perfect Blue” অত্যন্ত চমৎকার একটা এনিমেটেড মুভি।

আপনি যদি অনেকদিন ধরে বেশ ভালো কোন থ্রিলার দেখার অপেক্ষায় থাকেন তাহলে আপনার জন্য Perfect Blue হাইলি রিকমেন্ডেড। মুভিটার টুইস্ট এন্ড টার্নগুলো আপনাকে ভাবাবে, মুভি শেষ হওয়ার পরও বেশ ভাবাবে। প্লাস বোনাস হিসেবে মুভিটা Paprika বা Millennium Actress এর জন্য সুপরিচিত Satoshi Kon এর ডিরেক্ট করা মুভি।

আমার রেটিং –

স্টোরি – ১০/১০
মুভিটার স্টোরি এতোই সুন্দর করে বিল্ডাপ করা হয়েছে যে আপনি না চাইলেও নিজেকে Mima’র অবস্থায় চিন্তা করবেন। Mima’র প্রতিটা চিন্তা আপনি চিন্তা করবেন, ওর প্রতিটা অবস্থা আপনাকে ভাবাবে। মোটকথা Mima’র সাথে আপনি সারা মুভি জুড়ে বলা যায় এক প্রকার একাত্ম হয়ে থাকবেন।

এনিমেশন – ৯/১০
১৯৯৭ এ রিলিজ হওয়া মুভির এনিমেশনের সাথে আজকের এনিমেশনের আলবত কিছু পার্থক্য থাকবেই, তবুও মুভিটা দেখার সময় আপনি স্টোরিতে এতোই ঢুকে থাকবেন যে এনিমেশন তেমন কোন ম্যাটার করবে না।

ক্যারেক্টার – ১০/১০
প্রোট্যাগনিস্ট হিসেবে Mima’র ক্যারেক্টার বিল্ডাপ আমার কাছে এতোটাই ফ্ললেস লেগেছে যে তা নিয়ে ঠিক নতুন কিছু বলার নেই। পাশাপাশি আরও নানান সাপোর্টিং ক্যারেক্টারদেরও চমৎকারভাবে মুভিটাতে উপস্থাপন করা হয়েছে। Satoshi Kon এর ডিজাইন করা ক্যারেক্টার, এটা বললেই আর ঠিক অন্য কিছু বলা লাগে না।

মিউজিক – ৯/১০

মুভিটার সাউন্ডট্রাকগুলো, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার খুবই চমৎকারভাবে করা হয়েছে। মুভিটার ভৌতিক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো মুভিটা শেষের পরও আপনার কানে বাজতে থাকবে । (Three cheers for Masafumi Mima!!!)

ওভারঅল – ৯.৫/১০
ইয়েপ মুভিটা নিঃসন্দেহে ৯.৫ থেকে ১০ পাওয়ার দাবিদার।

বিঃদ্রঃ মুভিটাতে কিছু নুডিটি, কিছুটা ভায়োলেন্স আছে। তাই ইয়ঙ্গার ভিউয়ারদের জন্য viewer discretion is advised.

Maris the Chojo [OVA রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

maris-the-chojo

Name: Maris the chojo
Genere: Sci-fi, Comedy
Running time: 46 মিনিট

Rumiko Takahashi’র ১৯৮০ সালের ওয়ানশট মাংগা থেকে ১৯৮৬ সালের এডাপটেশন এই OVA টি। এটাকে “Loosely based Sci-fi” ও বলা যায়। চিরাচরিত সাই-ফাই থেকে এখানে পার্সোনাল এজেন্ডা বেশি মুখ্য ছিল।

Maris হল Inter galactic space patrol এর অধীনে কর্মরত একজন তরুণী। যে কিনা Thanatos নামক গ্রহে বাস করত। এই গ্রহে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে একটি স্পেশালিটি আছে। সাধারণ মানুষের চেয়ে ৬ গুণ বেশি শক্তিশালী এরা। কোন এক কারণে একসময় এই গ্রহ ধ্বংস হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তার আগেই ঐ গ্রহের মানুষদের সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু তাদের সেই স্পেশালিটির কারণে তাদেরকে শেকল পড়ে থাকতে হত যাতে সেই পাওয়ার আনলিশ না হয়।
-যাই হোক একদিন এজেন্সি থেকে নির্দেশ আসে একটি কিডন্যাপিং কেস হ্যান্ডল করার। বিখ্যাত ধনকুবেরের ছেলে Maru Kogane কে কিডন্যাপ করেছে কে বা কারা। তাকে উদ্ধার করতে পারলে পুরস্কার হিসেবে বেশ ভাল এ্যামাউন্টের টাকা পাবে। Maris এই দায়িত্ব পেয়ে খুশি হয়। কারণ তার মদ্যপ বাবার হিংস্র চালচলন আর মায়ের দেখভালের জন্য তাকে টাকা পাঠাতে হয় কিছুদিন পর পর। আর তার অসামান্য স্ট্রেংথের কারণে অলরেডি ৪টা স্পেসশিপ ধ্বংস হয়ে গেছে। যার দরুণ এজেন্সির পক্ষ থেকে বড় ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে। এছাড়া তার নিজেরও এই জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসছে। তাই সে তার এ্যাসিস্টেন্ট নাইন-টেইল ফক্স Murphy’র সাথে রওয়ানা দেয়।
এক সময় কিডন্যাপারের কাছ থেকে কল আসে। সে আর কেউ না, তার একসময়কার প্রতিদ্বন্দ্বী Sue। যাকে সে রেসলিং এ হারায়। বাট থিংস গেট প্রিটি সিরিয়াস যখন জানা যায় তার এই কিডন্যাপে জড়ানোর কাহিনী। তো নানান ঝামেলা শেষে Maris পৌঁছে যায় Sue’ র বেইজমেন্টে। সেখানে আবার তাদের মধ্যে ছোটখাটো ম্যাচ হয়ে যায়। এরপরই ঘটে আন-এক্সপেক্টেড ঘটনা। Maris কি পারে ঐ ছেলেকে বাঁচাতে? শেষের দিকের টুইস্ট টার জন্যে হলেও পুরোটা দেখা উচিৎ বলে মনে করি। দেখার পর বারবার এটাই মাথায় আসবে Life is not a fairy tale.
-পুরোটা সময় নানা ধরণের কমেডিক এলিমেন্টে ভর্তি। এর মধ্যে ২-১ টা হয়ত ফোর্সড মনে হবে। কিন্তু বাকিগুলো ন্যাচারাল। কিছু হয়ত স্টুপিড মনে হতে পারে। কিন্তু ৮০’র এনিমে হিসেবে একটি OVA তে এর বেশি কিছু আশা করা যায়না। তবে যতটুক দরকার ততটুকুই আছে। আর আরেকটা মজার ব্যাপার হল গল্পের এক পর্যায়ে যখন তারা একটা গ্রহে ক্র্যাশ করে সেখানের কোন একটা বারের সামনে ডার্থ ভেডারকে (স্টার ওয়ার্স) জুস খেতে দেখা যায়। এছাড়াও অন্য এলিমেন্ট গুলো একদমই বোর হতে দিবেনা। এটা দেখে যে সময় নষ্ট হবেনা তা বলে দিতে পারি।
আর সাউন্ডট্র্যাকের ব্যাপারে বলব সেই পরিচিত ইউজুয়াল ৮০’র গান। শুনতে মজাই লাগবে। ওভারঅল হালকা ধাঁচের একটি এনিমে। দেখে খারাপ লাগবেনা।

ReLife [রিভিউ] — Zahin Mobashshir

relife-1

Anime: ReLife
Episode: 13
Genre: Romance, School, Slice of Life.

২৭ বছরের এক যুবক Kaizaki Arata। স্বদিচ্ছায় চাকরি ছেড়ে এখন বেকার জীবনযাপন করছে। বেকার বলে আজকাল সে আর ঘর থেকেও বের হয় না। তবে একদিন বন্ধুদের ডাকে সে সাড়া দেয় এবং বাসায় ফিরতে ফিরতে তার জীবন সম্পূর্ণরূপে পাল্টিয়ে যায়। সরকারের নতুন প্রজেক্টে কাজ করার জন্যে তাকে আহ্বান জানানো হয় এবং সে কি আর যেই সেই প্রজেক্ট! এ যে নতুন করে যৌবন অর্জন করার এক অভিনব আহ্বান।
স্বভাবতই বেকার যুবক Kaizaki ১ বছরের জন্যে মুফতে খাওয়া-দাওয়ার সাথে বছর শেষে একটা চাকরি লাভের আশায় সরকারের এই প্রজেক্টে কাজ করতে সম্মতি জানায় এবং শুরু হয় তার ReLife জীবন।
এই ব্যবস্থায় তাকে ফিরে যেতে হাইস্কুল লাইফে। তাকে ১৭ বছরের তরুন বানিয়ে হাইস্কুলের ৩য় বর্ষে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয় এবং সেও প্রতিশ্রুতি মতো তার নতুন জীবন তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী অতিবাহিত করতে শুরু করে দেয়।
এভাবেই শুরু হয় তার পুনরায় হাইস্কুল জীবন।
প্রথমদিন থেকেই তার বিভিন্ন কিম্ভূত কান্ডকারখানা দেখে সে রীতিমতো সবার নজর কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে তাই বাকি সহপাঠীদের সাথে পরিচিত হতে তার আর কোন বেগই পেতে হয়নি।

relife-3

এনিমেটার সেরা বিষয় হল প্রত্যেকটা ক্যারেকটারকেই খুবই সুন্দরভাবে তুলে ধরা। প্রত্যেকটা ক্যারেক্টারের ব্যাকগ্রাউন্ডস্টোরি থেকে শুরু করে তাদের ক্যারেক্টার গঠন খুবই ভালো লেগেছে। এছাড়া এই এনিমে কমেডিগুলা খুবই মজার। বিশেষ করে এখানের ফানি ফেস গুলা থেকে না হেসে থাকাই যায় না। প্রায় প্রতি এপিসোডেই এইসব ফানি ফেসের দেখা মেলে।

পুরা কাহিনী আমার এত্ত ভালো লেগেছে যে এটা আরও অনেক অনেকবার দেখার ইচ্ছা আছে। এনিমেটার আর্টের প্রশংসা না করলেই নয়। এনিমেটা দেখলে অবশ্যই ৭২০পিতে দেখার জন্য অনুরোধ করা হল।

এনিমেটার ওপেনিং এন্ডিং ভালোই লেগেছে। তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। প্রতিটা ফানি ফেস দেখানোর সাথে থাকত খুবই উপযোগী কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।

সর্বপরি এনিমেটা উপভোগ না করা প্রায় অসম্ভব। আর পুরা এনিমেটি যখন শেষ হয়ে আসবে তখন আপনাদের জন্যে উপস্থিত হবে ঠিক তখনই যেন আপনাদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়বে।

যারা দেখেননি তারা শীঘ্রই এনিমেটা দেখে ফেলুন। আর যাদের কোন কারনে মন খারাপ, কাজের চাপে জীবন অতিষ্ঠ, কিছুই ভালো লাগে না; তাদেরকে বল্ব আপনারা এখনই এনিমেটা দেখে ফেলুন এবং নিজেদের চাঙ্গা করে তুলুন।

relife-4

Tsumiki no Ie/The House of Small Cubes [মুভি রিভিউ] — Anoy Lawliet

tsumiki-no-ie-1

১২ মিনিট

হ্যাঁ ১২ মিনিটই প্রয়োজন ।

MAL সাইটের এক ব্যাক্তির সাথে একমত হতেই হচ্ছে ২৬ পর্বের দরকার নেই। ১৩ পর্বও হতে হবে না । দরকার নেই ১ ঘণ্টা হওয়ার । আপনার দরকার মাত্র ১২ মিনিট।
এই ১২ মিনিটে বুঝিয়ে দিবে আপনার জীবনের কঠিন সত্য, সুন্দর ও শান্ত সময়গুলো (একই সময়ে)। Le Maison en Petits Cubes (The House of Small Cubes) হল এর বড় প্রমাণ।

এটি একটি Oscar বিজয়ী ছোট মুভি (হ্যাঁ আপনি ঠিকই পড়েছেন, ২০০৯ সালের সেরা এনিমেটেড ছোট মুভি বিভাগের বিজয়ী এই এনিমেটি) যা একটি বৃদ্ধ ব্যাক্তির ভবনের তলা তৈরি করে পানি থেকে বেঁচে থাকার সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে। ভুলবশত তার তামাক খাওয়ার পাইপটি ঢুবে যাওয়া ভবনের তলায় পড়ে যায়। প্রিয় পাইপটি ফিরিয়ে আনার আশায় ঢুবে যাওয়া ভবনের যতো নিচের দিকে যেতে থাকে তার স্মৃতিগুলো ততো হানা দিতে থাকে। প্রতিটি তলা যেন জীবনের একেকটি অধ্যায়। জীবনের চলে যাওয়া অমূল্যবান সে সময় যা মিশে ছিল অটুট হাসি আর কান্নাদিয়ে ফিরে আসতে থাকে।

tsumiki-no-ie-2

এক ঘণ্টার চার ভাগের এক ভাগেরও কম সময় হওয়ার অনেক গল্পই হয়তো তুলে ধরতে সক্ষম হয়নি কিন্তু তারমানে এই নয় যে কাহিনীতে অপূর্ণতা রয়ে গেছে। একটি বৃদ্ধ ব্যাক্তি দ্বারা উদাহরণ দেওয়ার মাধ্যমে জীবনের অতীত ভালোভাবে তুকে ধরা সম্ভব হয়েছে। এই মুহূর্তে যদি আপনাকে বলা হয় এই সময়টিই আপনার জীবনের শেষ সময় তাহলে মাটিতে নিচে নিয়ে যাওয়ার মতো মুহূর্তগুলো কি হবে? আপনার প্রিয় মুহূর্তগুলো কি? যদি আপনি আজই মারা যান তবে আপনার মাটির উপর কাঁদার কেউ রয়েছে কি?

tsumiki-no-ie-3

না এই মুভিতে কোন ভয়েস নেই। তবে প্রতিটি মুহূর্তের সাথে এমন কিছু ভায়োলিন আর গিটারের সুর দেওয়া হয়েছে যা আপনাকে খুশি করে চোখ বন্ধ করে দিতে বাধ্য। নেই কোন উচ্চমাত্রার এনিমেশন স্টাইল। তবে আমি আশ্বাস দিয়ে বলতে পারি এতে আপনার মজা একটুও নষ্ট করবে না।

অবশেষে রেটিং যা না বললেই নয় । কোন ভাবনাচিন্তা ছারাই মন থেকে চলে আসবে ১০/১০

tsumiki-no-ie-4

91 Days (2016) রিভিউ — Fahim Bin Selim

91 Days(২০১৬)
★★★★☆
পরিচালনাঃ কাবুরাকি হিরো(Tonari no Kaibitsu-kun, Kimi ni Todoke, Hoozuki no Reitetsu)
মৌলিক গল্প
পর্ব সংখ্যাঃ ১২
জনরাঃ অ্যাকশন, ড্রামা, হিস্টোরিকাল
প্রযোজনাঃ স্টুডিও শুকা(Durarara x2, Natsume Go)

flkmycp

 

১৯২০; আমেরিকায় প্রোহিবিশন এরার শুরু। ১৮তম সংশোধনীর প্রেক্ষিতে “ড্রাই ক্রুসেডার”-দের নেতৃত্বে দেশজুড়ে অ্যালকোহলিক পানীয়ের তৈরি, আমদানী, পরিবহন কিংবা বিক্রি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হলো। পন্য খোলাবাজারে নিষিদ্ধ হওয়া মানে স্বভাবতই তার জায়গা হলো কালোবাজারে। আর তখন পর্যন্ত মাফিয়াদের মূল ব্যবসা পতিতালয় আর জুয়াড় আসরকে ফেলে প্রথম স্থান দখল করলো মদ্যপানের চালান। যার কাছে যত স্থায়ী, শক্তিশালী পানীয়ের মজুত, তাদের হাতেই শহরের দায়িত্ব!

ল’লেস, ইলিনয়। নামের স্বার্থকতা রক্ষার্থেই তাতে আইনের কোন বাধা ধরা নেই, অন্তত প্রচলিত অর্থে। বরং এখানকার আইনের বিধানকর্তা তার মাফিয়া পরিবারগুলো – ভানেত্তি আর অর্কো। তার ব্যাত্যয় ঘটলেই লাশ পরা সুনিশ্চিত; দিন-রাতে, খোলা রাস্তায়, পাব, নিজের ঘরে। ‘পরিবার’-কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই পরিবারের জন্যই ভানেত্তি পরিবারের অংশ অ্যাঞ্জেলো লাগুসা ছোটবেলায় বাবাকে খুন হতে দেখলো তার বাবার নিজের বন্ধু ভিনসেন্ট ভানেত্তির হাতে। সাথে তার মা আর ছোটভাইকেও – পুরো পরিবার একসাথে! ভাগ্যক্রমে একমাত্র বেঁচে যাওয়া অ্যাঞ্জেলো সাতবছর পর ফিরে আসলো ল’লেস-এ। প্রতিশোধের নেশায়, ব্রুনো আভিলিও ছদ্মনামে। এই ভানেত্তি পরিবারের ঢুকে যেতে। ভেতর থেকে একে একে খুন করতে, তালিকা ধরে, যারা খুন করেছিলো তার পরিবারকে। তার প্রবেশপত্র? ল’লেস হেভেন, শহরের সেরা মদ। যার প্রস্তুতকারক তার বাল্যকালের বন্ধু কর্তেও।
৭ বছর অপেক্ষার পর অ্যাঞ্জেলোর – আভিলিওর…৯১ দিনের শীতল প্রতিশোধ পরিবেশনের গল্প!

আমেরিকা আর ত্রিশের দশক, মাফিয়া, প্রতিশোধ গল্প – কোন অ্যানিমের আগে বরং স্করসেসি[১] কিংবা কোপোলার[২] চলচ্চিত্রের কথাই মাথায় আসার কথা সবার আগে! এবং তারপর যখন দ্বিতীয় পর্বে শিকাগোর গালাসিয়া পরিবারের রোনালদোর সাথে ভিনসেন্টের মেয়ে ফিও ভানেত্তির বিয়ের অনুষ্ঠানে অ্যাঞ্জেলো উপস্থিত হয়, নাচের দৃশ্য আর ভেতর অন্ধকার রুমে বসে থাকা ভিনসেন্ট ভানেত্তিকে দেখে ডন কর্লেওনি(Godfather[৩]) ভেবে ভুল হওয়া অস্বাভাবিক না। অথবা টাইটল স্ক্রিনের লোগোটার কথাই ধরা যাক। হেনরি হিলের(Goodfellas[৪]) মত সিসেরোর…না, না, কস্টিগানের(The Departed[৫]) মত কস্তেওদের সাথে অ্যাঞ্জেলোর মিশে যাওয়া! 91 Days এর অনুপ্রেরণা তো কোপোলা আর স্করসেসিতেই। এবং গল্পবর্ণনাতেও এই প্রভাব লক্ষনীয়। পর্বে পর্বে ক্লিফহ্যাঙ্গার আর একের পর এক অননুমেয় গল্প উপাদান, টিভি সিরিজের তুলনায় বরং সাড়ে চার ঘন্টার একটার মুভির সাথেই একে তুলনা করা যায়।

আর অ্যাঞ্জেলোর যাত্রাটা শুধু ক থেকে চন্দ্রবিন্দুতে গিয়েই শেষ না, নিজের অজান্তেই ল’লেস-এর অন্ধকার মাফিয়া জগতের মাকড়সার জালে ধীরে ধীরে পেঁচিয়ে যাওয়ায়। লম্বা সময় ধরে মিথ্যা অভিনয় করতে থাকো, সেটা একসময় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াবে। অ্যাঞ্জেলোর রেইসন দে’ত(Raison d’etre), বেঁচে থাকার একমাত্র অনুপ্রেরণা এই প্রতিশোধই, আর সেটা ছাড়া সে যেন এক অন্তস্বারশুন্য খোলের মত। সেও অংশ হয়ে যায় ল’লেস-এর মাফিয়া যুদ্ধে। লাল পানি আর রক্তের খেলায় – প্রতিশোধ সেখানে মধ্যবিরতির আকর্ষন কেবল। কাটা পরতে থাকে তালিকার বাইরের অনেক নামও।

গল্পের মূলচরিত্র, কিন্তু অ্যাঞ্জেলোর মাথার ভেতরে কখনো আমরা ঢুকতে পারি না, তার মনোলোগের অংশ হই না, কিংবা জানিনা তার পরবর্তী পরিকল্পনা কী। প্লেহাউসের উপর তলায় বসে কোন অপেরার মত অ্যাঞ্জেলোর এই অভিনয় আমরা দেখি বাইরে থেকে। গল্পের মূলচরিত্র, কিন্তু কোন পর্যায়েই অ্যাঞ্জেলো গল্পের ‘নায়ক’ না, বরং ফিল্ম-নয়ারের নিয়ম মেনে আর বাকিসব চরিত্রের মতই অ্যাঞ্জেলোর বিবেকবিচার আর কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ। এটাই গল্পের অননুমেয়তা আর বিষ্মিত করার প্রধান অস্ত্র। কস্টিগানের মত অ্যাঞ্জেলোর এই অভিনয় ‘খেলার’ পেছনে কোন ‘গ্রেটার গুড’ নীহিত নেই। তার পুরো যাত্রাটাই ব্যক্তিগত, স্বার্থপরতার। একাকীত্বের।

কস্টিগান – অ্যাঞ্জেলোর এই প্রতিশোধ চক্রের ব্যাসের অপর পাশেও একজন কলিন আছে – নেরো ভানেত্তি, ভিনসেন্টের ছেলে। নেরো বরং অ্যাঞ্জেলোর চেয়ে আরো বেশি জীবন্ত এক চরিত্র। অ্যাঞ্জেলোর প্রতিশোধ তালিকায় কাটা যেতে থাকা নামের সংখ্যা বাড়তে থাকার মানে হলো তার পরিচিতদের মৃত্যুর তালিকা ক্রমাগত বড় হওয়া। তবে এই তিনমাসের গল্প নেরোর জীবনটা উল্টেপাল্টে যাওয়ার, অ্যাঞ্জেলোর সাপের মত আষ্টেপৃষ্ঠে ধরা পরিকল্পনার কেন্দ্রে তো সে নিজেই! তার ছলচাতুরির ফাঁদে পরা সবচেয়ে বড় শিকার। তার দাবার গুটির শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা স্যাক্রিফাইসিং পন। বরং নেরোকেই গল্পের ট্র্যাজিক হিরোর উপাধি দেওয়া যায়। তার অভিনয়টা অবশ্য তিনমাসের জন্য না, সারাজীবন ধরে চলা। বারুদ আর রক্তের গন্ধ। বিশ্বাসঘাতকতা আর অবিশ্বাসের এক জগতে। পরিবারের সাথে মিশে যাওয়ার…টিকে থাকার জন্য। পরিবারের জন্য। তার যাত্রাটা সম্পূর্ণ বিপরীত – আত্নবিসর্জনের। তবে একাকীত্বেরও!

স্করসেসির মাফিয়াদের মত অ্যাঞ্জেলোর জীবনটা অবশ্য অতটা অবশ্য জাঁকজমকের না, অনেক বেশি গ্রাউন্ডেড। তার পতনটা যে অনিবার্যতায় ঘেরা। 91 Days-এর পরিবেশনাও সাধারণ। বেশিরভাগ সময় আবহসঙ্গীতবিহীন, জ্যাজ আর অর্কেস্ট্রা সেখানে প্রবেশ করে কদাচিৎ। বরং তার স্থানে জায়গা করে নেওয়া বাইরের যান-বাহন আর কোলাহলের শব্দ ল’লেস-এর মাফিয়াদের বাইরেরও আলাদা সাধারণ জীবনটা সম্পর্কে জানান দেয়। রক্তপাত, বিশ্বাসঘাতকতা আর ছলচাতুরিবিহীন, আসলেই পরিবারের সাথে একসাথে থাকা এক জীবন।

কিন্তু উপরতলার বিধান কর্তাদের সেখানে প্রবেশ করা নিষেধ। প্রতিশোধের নেশায় পাগল হওয়া মানুষদেরও।

91-days-poster-promo-imagem-destaque

১ – [https://en.wikipedia.org/wiki/Martin_Scorsese]
২ – [https://en.wikipedia.org/wiki/Ford_coppola ]
৩ – [https://en.wikipedia.org/wiki/The_Godfather]
৪ – [https://en.wikipedia.org/wiki/The_Departed]
৫ – [https://en.wikipedia.org/wiki/Goodfellas]

Re:Zero kara Hajimeru Isekai Seikatsu [রিভিউ/রিঅ্যাকশন] — Tahsin Faruque Aninda

Re:Zero kara Hajimeru Isekai Seikatsu
Tag: Psychological, Thriller, Groundhog Loop

2-1

Re:Zero, or more like Rem = Zero :))

Yeah I had to do it, sorry for that…

এই বছরের অন্যতম হাইপ পাওয়া সিরিজ, এবং সব জনপ্রিয় বা মেইনস্ট্রিম সিরিজের মতই একগাদা সাপোর্টারের পাশাপাশি একগাদা হেটারও জন্মেছে এটার। এটাই আসলে এই যুগের আনিমের ভাগ্যে জুটবার মত সবচাইতে স্বাভাবিক ঘটনা, হয় সিরিজটা মোটামুটি, নাইলে বেশিইইই ভাল+খারাপ, আর কিছু নাই।
এত সব আলোচনা, সমালোচনার ভীরে পক্ষে-বিপক্ষের কথা অনেক শুনা হয়ে গিয়েছে হয়তো, তাই আমি বরং পুরান কথা আবার আওড়ানোর বদলে নিরপেক্ষভাবে সিরিজটার ভাল-খারাপ কিংবা সিম্পল-স্পেশাল জিনিসগুলি নিয়ে আমার আলোচনা পোস্ট শুরু করি।

সিরিজটা নিয়ে অনেক অনেক আগেই যখন ঘোষণা আসে, তখনই এর সিনোপসিস পড়ে বুঝতে পারি সিরিজটা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার মত একটা কিছু হবে, হয় সেটা ভাল কারণে না হয় খারাপ কারণে। গল্পের নায়ক কোন এক কারণে হঠাত বাস্তব জগত থেকে এক ফ্যান্টাসি জগতে চলে আসে, যা কিনা এখনকার যুগের লাইট নোভেল আর আনিমের মধ্যে সবচাইতে কমন থিম। তবে গল্পের মূল আকর্ষণ হল এই যে, নায়কের মৃত্যু হয়ে থাকলে অতীতের কোন এক সময়ে ফেরত চলে যাবে সে। অর্থাৎ গ্রাউন্ডহগ লুপ, যার ট্রিগের হয় নায়কের মৃত্যুর মাধ্যমে – অনেকটা গেমের মত, যেখানি আপনি খেলার সময়ে মৃত্যুবরণ করলে এরপর আগের কোন এক সেইভ পয়েন্ট থেকে কন্টিনিউ করতে পারবেন। তবে এরকম থিম নিয়ে গল্প হলেও এটা আবার এই যুগের আরেক জনপ্রিয় জনরা গেম + ফ্যান্টাসির মধ্যে পরে না। আর এই আইডিয়াটাই গল্পটাকে জনপ্রিয় করার জন্যে একটা বড় উপাদান!

প্রথম পর্বটাই double episode করার মাধ্যমে বুঝা যায়, প্রস্তুতকারকেরা সিরিজটাকে একদম ঠিকমত দর্শকদের কাছে তুলে ধরার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছে। White Fox স্টুডিওকে কৃতিত্ব দিতে হবে সিরিজটাকে চমৎকারভাবে তৈরি করবার জন্যে। অ্যানিমেশন, মিউজিক, ক্যারেক্টার আর্ট — সবকিছুতেই নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়েছে তারা। অতএব, প্রোডাকশনের দিক থেকে বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই।

এবার আসি গল্পের কথায়। শুরুর দিকে দর্শকদের কাছে এটাকে “আরেকটি টিপিকাল ফ্যান্টাসি আনিমে” এরকম একটা আইডিয়া দিয়েই শুরু করেছে গল্পটি, তবে তার প্রধাণ কারণ যেন কয়েক পর্বের মধ্যেই সেই ভুল ভাংতে পারে। Travel to Fantasy World এই আইডিয়ার গল্পগুলার একটা Deconstruction সিরিজ হিসাবে Re:Zero বেশ ভাল ভূমিকা রেখেছে। এরকম গল্পে নায়ক যেমন সেরাদের সেরা, অদ্বিতীয় অপরাজেয়, এরকম ধারণা থেকে শুরুতেই বের হয়ে আসে যখন দেখা যায় গল্পের নায়কের প্রায় কোন ক্ষমতাই নাই কোন কিছু নিয়ে, একটা মাত্র জিনিস বাদে। তবে সেই একটা ক্ষমতাই অবশ্য সবচাইতে বড় Deus Ex Machina, আর তা হল Return by Death. Basically, নায়কের মৃত্যু হলে আগের একটা জায়গায় ফেরত আসবে, আর নায়কের মৃত্যুর আগের সব ঘটনা শুধু তারই মনে থাকবে, অন্য কেউ কিছু জানবে না। এই ক্ষমতাটাই বিশাল বড় একটা ব্যাপার হতে পারে, যদি সেটা ভালমত ব্যাবহার করতে পারা যায়। আর এইটা নিয়ে আমার প্রথম আপত্তিঃ শুধুমাত্র plot convenience-এর জন্যে আমরা দেখতে পাই “কী করবো, কেমন করবো” এরকম ধারণা নিয়ে চলা নায়ক বারবার মৃত্যুর পর যেবার বেঁচে থেকে পুরা একটা অধ্যায় শেষ করতে পারবে, সেই সময়ে অকল্পনীয়ভাবে মারাত্মক কঠিন সব সমস্যার সমাধান অনেক ভাল ভাল সমাধান দিতে পারে। অবশ্য গল্পের শেষের দিকে গিয়ে এই পরিস্থিতিতে একটু লাগাম পরানো হয়ে থাকে, তাই এইটুক ব্যাপার গল্পের শেষ পর্যন্ত আর বড় issue হয়ে উঠে নাই।

এখানে একটা জিনিস বলে রাখতে চাই, কোন সমস্যার সমাধান না হলে মৃত্যুর মাধ্যমে আবার পিছে ফিরে গিয়ে সেটা ঠিক করে দেওয়া যায় – এই ব্যাপারটাকে ছেলেখেলা হিসাবে দেখানো হয় নাই। মৃত্যু জিনিসটা অনেক কঠিন আর painful, আর সেটা নায়কের সাথে সাথে দর্শকও অনেক ভালভাবে বুঝে উঠতে পারবে। তাই Return by Death এই আইডিয়াটাকে অহেতুক স্প্যামিং করবে এরকম ভেবে থাকলে চিন্তামুক্ত হতে পারবেন যে যতটুকু দেখানো হয়, সেটা বেশ “বাস্তবসম্মত”ভাবেই দেখানো হয় [অর্থাৎ যদি বাস্তব হত আর কি! LOL KEK LOL]। আর মৃত্যুর ব্যাপারগুলি সেন্সরিং করে নাই, gore অনেক আছে, এইটার জন্যে White Foxকে আবার ধন্যবাদ দিতে হয়।

আনিমেটির এই সিজনে ৩টি আর্ক দেখানো হয়। গল্পের পেসিং শুরুর দিকে ভালমত আগাতে থাকলেও ২য় আর্কে এসে একটু ঝিমিয়ে পরে। অবশ্য ৩য় আর্ক থেকে সেটা আবার ভালভাবে আগাতে শুরু করে। আর প্রথম ২ আর্ক মোটামুটি হলেও ৩য় আর্ক বেশ চমৎকার হয়ে উঠে, এখানে দেখানো psychological aspect অনেক বেশি ভাল লেগেছে।

চরিত্রদের ব্যাপারে আসি এবার। প্রথমেই বলে রাখি, নায়ক Subaru বেশ বিরক্তিকর, এবং এটা আসলে গল্পের জন্যে ভাল মানিয়েছে। কারণ বিরক্তিকর একটা চরিত্র হবার কারণেই তার ক্যারেক্টার ডেভপমেন্ট খুব ভালমত হতে পেরেছে। বারবার মৃত্যুর ভয়াবহতা একটা irritating brat-কে কিভাবে শারীরিক আর মানসিকভাবে একের পর এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেটা গল্পের ৩য় আর্কে গিয়ে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। তবে সিরিজে সবচাইতে ভাল ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট যদি কারও হয়ে থাকে, সেটা এই মুহুর্তে আনিমে জগতের সবচাইতে জনপ্রিয় ক্যারেক্টার Rem-এর। Also, Rem is pretty much the MVP of this series. গল্পের আরেক প্রধাণ চরিত্র Emiliya-এর ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট আরেকটু ভাল হতে পারতো। তার স্ক্রিনটাইম আরও কিছু বেশি হওয়া উচিত ছিল। বাকি চরিত্রদের উপস্থিতিও ভালভাবেই তুলে ধরা হয়েছে।

বেশ ভাল ভাল অনেকগুলি দিকের কথা তুলে ধরলাম, এবার তাহলে সিরিজটির কিছু short-coming নিয়ে কথা বলা যাক। ২৫টা পর্ব দেখার পর একটা প্রশ্নই মনে জাগবে, গল্পের আসল উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য কী? এরই মধ্যে অনেক অনেক নিউজের মাধ্যমে সিরিজটা না দেখা আনিমে দর্শকেরাও জেনে গিয়েছেন যে কাহিনী প্রথম সিজনে যেখানে শেষ হয়েছে তারপর গল্পে আরও অনেক অনেক কিছু আছে। প্রথম সিজনটা পুরা গল্পের অর্ধেকও না। অনেকে আবার একটু বাড়াবাড়ি করে বলে বসবে এটা প্রোলগ।
কথা হল, এটা প্রোলগ না। হ্যাঁ, গল্পের ছোট্ট একটা অংশ মাত্র, কিন্তু প্রোলগ না। আর প্রোলগ হোক বা না হোক, যত বিশাল বিশাল গল্প আছে সেগুলির দিকে তাকালেও আপনি দেখতে পারবেন যে গল্পের মধ্যে অল্প কিছুদূর যাবার পরেই গল্পের শেষ পরিণতি বা মেইন ফোকাস কী তা জেনে গিয়েছেন। এরপর গল্প কিভাবে সেই লক্ষ্যের দিকে আগায় সেটা দেখার ব্যাপার। খুব বেশি খুঁজবার দরকার নাই, বিগ ৩-এর দিকেই তাকান, দেখবেন যে নারুতোর শুরুর দিকেই আমরা জেনে গিয়েছি গল্পের লক্ষ্য হল নারুতোর হোকাগে হওয়ার স্বপ্নপূরণ, ওয়ান পিসে লুফির পাইরেট কিং হওয়া, কিংবা ব্লিচের জন্যে ইচিগোর দলের লক্ষ্য আইজেনকে থামানো। রিঃজিরো এত বড় গল্প না, তারপরেও ২৫ পর্ব দেখে উঠার পরেও বুঝতে পারবেন না আসলে গল্পের ফোকাসটা কোথায়। সুবারুর প্রধাণ লক্ষ্য কী শুধুমাত্র নায়িকার মন জয় করা, নাকি ফ্যান্টাসি দুনিয়ায় নিজেকে অদ্বিতীয় এক “খেলোয়াড়” হিসাবে তুলে ধরা, নাকি নিজের বাস্তব জগতে ফিরে যাওয়া… এরকম অনেক অনেক প্রশ্ন জেগে উঠবে। হ্যাঁ, প্রথম সিজন বলে এখনই অনেক উত্তর অজানা থেকে যাবে এটাই স্বাভাবিক, পরের কোন সিজন [যদি বের হয়] আমাদের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিবে, তবে গল্পের আসল উদ্দেশ্য কী এটা বুঝে উঠতে না পারা একটা বড় হতাশার কারণ হতে পারে।

আরেকটা বড় issue হল, সুবারু প্রথম পর্বের শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাস্তব জগত থেকে হঠাত করে ফ্যান্টাসি জগতে চলে আসলো, এরপর তার রিএকশন দেখে অনেক বেশি অবাক হতে হয়। এক দুনিয়া থেকে তুলে এনে আরেক দুনিয়ায় ফেলে দেবার পর নতুন জগতে কেন আসলাম, পুরান জগতের কী হল, হঠাত এরকম উলটাপালটা হয়ে গেল কেন সবকিছু – এরকম মনে হওয়া যেখানে স্বাভাবিক, সেখানে সুবারু যেন ব্যাপারটাকে ডালভাত গিলে ফেলার মতই স্বাভাবিকভাবে নেয়; বা জাপানিজ টার্ম অনুযায়ী, র‍্যামেন ঢকঢক করে গিলে ফেলার মত মেনে নেয় (যেটা কল্পনা করতে আপনার সুবিধা হয়)। আর গল্পের অনেকদূর পর্যন্ত গিয়েও নায়কের এইটা নিয়ে আর কোন ভাবনা করতে না দেখাটাও তাই একটু হতাশাজনক লাগে।

প্রথম সিজনের গল্পের এন্ডিং নিয়ে অনেকের অনেক মত থাকতে পারে, তবে আমার মতে, একটা ভাল এন্ডিং হয়েছে। “প্রথম” সিজন, বা ইনকমপ্লিট গল্প — এসব হয়ে থাকার পরেও ক্লিফহ্যাঙ্গার না টেনে বরং একটা ভাল সিজন ফিনালি দিতে পেরেছে। গল্প এখানেই পুরাপুরি শেষ করে দিলেও খুব বেশি চোখে লাগবে না হয়তো।

মিউজিক আর গানের কথা আলাদাভাবে বলি আবার। OST এর ব্যবহার যথোপযুক্ত হয়েছে, ED 1, OP 2 এই দুইটা এত বেশি ভাল হয়েছে যে বছরের সেরা গানের তালিকায় উপরের দিকে থাকবে এ দুটি। MYTH & ROID এর জন্যে ২০১৬ সালটা Hit আর Hit দিয়েই ভরা!

এখন একটা কথা বলে রাখি, মেইন্সট্রিম বা অতিরিক্ত জনপ্রিয় হলেই সিরিজটার প্রতি বিরক্তি পোষণ না করার আহ্বান জানাই। মেইন্সট্রিম জিনিসকে ঘৃণা করাও কিন্তু অনেক বেশি মেইন্সট্রিম হয়ে গিয়েছে এখন। এটা সত্যি, যেকোন সিরিজের ফ্যানবেজের বাড়াবাড়ি আচরণের কারণে অন্যান্য স্বাভাবিক দর্শকের জন্যে সেটা বিরক্তিকর লাগতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে সেগুলি ইগনর করতে পারেন। কোনরকমের বদ্ধ ধারণা নিয়ে দেখতে না বসে বরং রিলাক্স মন নিয়ে নিজে সিরিজটি দেখুন, তাহলে অন্যদের দেওয়া মত বারবার না আওড়িয়ে বরং নিজেই নিজের মত দিতে পারবেন। ভাল লাগলো না খারাপ, নাকি মিডিওকর, নিজেই সেটা বিচার করতে পারবেন।

সিরিজটি নিয়ে আমার মতামত শেষ করি দুটি প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমেঃ

> Re:Zero কী Masterpiece?
– না। Masterpiece হবার জন্যে আরও অনেক কিছু দরকার। সবার আগে দরকার গল্পটা শেষ হবার। ইনকমপ্লিট গল্পকে মাস্টারপিস দাবী করার মানে নেই। গল্পের মাঝপথে অনেক কিছুই ভাল লাগতে পারে, শেষে গিয়ে ভরাডুবি হলে একদম মত উলটে যেতে পারে। তাই আগে নতুন সিজন আসুক, গল্প শেষ হোক, তখন এই প্রশ্ন তুলবার সত্যিকারের সময়, এখন নয়।
আর গল্পের লেখক আনিমের এই জনপ্রিয়তা দেখে বলেছেন যে যথাসম্ভব খাটুনি দিয়ে যাচ্ছেন, আর আশা করছেন যে সামনের চার বছরের মধ্যে গল্পটি শেষ হবে। চার বছর বেশি সময় না কিন্তু; Shingeki no Kyojin প্রথম সিজন শেষ হয়ে যাবার চার বছর পর দ্বিতীয় সিজন আসতে যাচ্ছে সামনের বছর। Re:Zero-এর ক্ষেত্রেও দেখতে দেখতেই সময় চলে যাবে দ্বিতীয় সিজন আসার আগে।

> মাস্টারপিস না হলে Re:Zero কি তাহলে ভাল হবে?
– শুধু কি সেরাদের সেরা হলেই একটা জিনিস দেখার উপযুক্ত হয়? কোন সিরিজ ভাল হবার জন্যে সেটাকে তো সর্বকালের সেরা হবার দরকার নেই। সব মিলিয়ে ভাল একটা সিরিজ হলেই সেটা অনেক উপভোগ্য হয়ে উঠবে। আর কোন সিরিজ যদি মেইন্সট্রিম হয়ে উঠে, নিশ্চয়ই সেটার মধ্যে এমন কিছু আছে যা “মেইন্সট্রিম” বা “বেশিরভাগ দর্শক”ই উপভোগ করতে পেরেছে, তাই না!?

অতএব সিরিজটি দেখুন। এই বছরের অন্যতম সেরা আর বিনোদনপূর্ণ সিরিজ। বছরের ১ নম্বর স্থান দখল করবে কি করবে না সেটা একেকজনের একেক মত, তবে সব কথার শেষ হল, আমরা মুভি, সিরিজ, আনিমে – এগুলি দেখি বিনোদন পাবার জন্যে। আর বিনোদনের জন্যে এই সিরিজটি অনেক ভাল একটি চয়েস হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে।