Violet Evergarden [রিভিউ] — Naziur Rahman Nayem

 

খুব সুন্দর একটি এনিমে। মূলত দেখতে বসেছিলাম ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো শোনার জন্য। কিন্তু এখান থেকে কিছু ইন্টারেস্টিং বিষয় শিক্ষা করা গেলও বটে।

মানুষের চরিত্রগুলো রহস্যময় হয়ে ওঠে তার ভাবের কারণে। যৌক্তিকভাবে সব সোজাসাপটা কথা বলে দিলে মানুষে মানুষে সম্পর্কটা কেমন পানসে হয়ে ওঠে। আমরা যখন একে অপরের সাথে কথা বলি তখন এর শব্দের মাঝের অর্থ বুঝতে হয়। অথচ এটা যদি বলে দেওয়া হয় তখন সে ম্যাজিক আর কাজ করেনা।

এরজন্য যে দক্ষতাটার প্রয়োজন হয় তা হল ইনটুইশনাল দক্ষতা। তোমাকে আমি যা বলছি তা হুবুহু বলছি না বরং এর মাঝের আমার ভাবটা তোমায় দেখতে হবে এবং তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেখতে হবে তবেই না তুমি একটি সুন্দর চিঠি, সুন্দর বার্তালাপ করতে পারবে। অতিরিক্ত বুদ্ধিপ্রবনতা তথা মেকানিকাল প্রবণতা দিয়ে হৃদয়গত ইনটিউশন ধরা যায় না; যেমনটা এই এনিমের শুরুতে ধরতে পারেনি ভায়োলেট এভারগার্ডেন। কিন্তু ধীরে ধীরে “I Love You” বাক্যটির অর্থ খুঁজতে গিয়ে সে যে বিষয়গুলো অতিক্রম করে অবশেষে খুঁজে পায় তার উত্তর তা সত্যিই চমৎকার।

যন্ত্রগত ধাঁচে গড়ে ওঠে মানুষ তার হৃদয়টাকেই খুইয়ে বসে। এখানে সেই খুইয়ে বসা হৃদয়কেই পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেছে ভায়োলেট তার মেজর গিলবার্টের ভালোবাসার অর্থ অনুসন্ধান করতে যেয়ে।

এই এনিমেতে যে চিঠি লেখার যে প্রফেশন দেখানো হয়েছে তা সত্যিই বেশ সৃষ্টিশীল। একজন মানুষের বাক্যের মাঝের ভাবগুলোকে বুঝে তার হয়ে চিঠি লেখা সত্যিই দারুণ।

এরজন্য প্রচুর এমপ্যাথিক্যাল(সহমর্মিতাসম্পন্ন) হৃদয় লাগে। একটা আনন্দও আছে। অন্যের ঘটনাগুলোকে নিজের মাঝে প্রবেশাধিকারের অনুমতি দিয়ে সেই ঘটনাগুলির, ভাবগুলির আনন্দ, সুখ, বেদনা, দুঃখ ইত্যাদি দেখা, অনুভব করা ও তাতে সমৃদ্ধ হওয়া; এই শত মানুষের জানালা দিয়ে দেখা পৃথিবী আমাদের ভেতর যখন আমরা দেখতে পাই আমরা সহমর্মী হয়ে উঠি, অন্যের মাঝে আমাকে খুঁজে নিই। তখন যাকে হারিয়েছে তাকেও মনে হয় সে কখনো চলে যায়নি আমার কাছ থেকে আমার পাশেই সে দাড়িয়ে আছে; যেমনটা ভায়োলেট উপলব্ধি করেছিল এই এনিমেটির শেষে।

এজন্যই হয়তো মাঝে মাঝে ভাব প্রকাশের জন্য বড় বড় লেখা, কঠিন শব্দ কিংবা বাক্য এসব নয় খুব ছোট্ট করে, এক লাইন কিংবা এক শব্দেও গভীর অনুভূতি বলে দেওয়া যায়। যা হয়তো লক্ষ, কোটি মানুষ পেরিয়ে দুজন মানুষকে কাছে এনে দেয়, নিঃশব্দতায় ফেলে দেয়।

Penguin Highway (মুভি রিভিউ) — Loknath Dhar

পেঙ্গুইন হাইওয়ের গল্পটা সাদামাটা রঙের সুন্দর। আইওমা ফোর্থ গ্রেডের একজন ছাত্র যার প্রিয় কাজ হচ্ছে – শেখা, জানা এবং রিসার্চ করা। অসংখ্য ভাবনায় ডুবে থেকে একটা একটা করে আমাদের পৃথিবীটাকে চিনতে শেখা। আর দশটা বাচ্চা থেকে সে আলাদা কারণ সে জানে, সে স্মার্ট এবং সে আরও স্মার্ট হতে চায়। মানুষকে স্মার্ট করে তার জ্ঞান এবং তার জানার আগ্রহ। আইওয়ামার ক্রাশ তার ডেন্টিস্ট লেডি যে তাকে দাবা খেলা শিখায়, তার দাবা খেলার পার্টনার। এবং অনেক মেয়ে তাকে বিয়ে করতে চাইবে কিন্তু এটা একটা স্যাড সিচুয়েশন যে সে তাদের কাউকে বিয়ে করতে পারবে না। কারণ তার মনে একজনই, ডেন্টিস্ট লেডি। একদিন আইওয়ামা স্কুলে যাবার পথে রাস্তার পাশের একটা মাঠে একদল পেঙ্গুইন দেখতে পায়। পেঙ্গুইনরা সাধারণত থাকে এন্টার্কটিকায় এবং এছাড়া এদের একমাত্র দেখা যায় চিড়িয়াখানায় – এটাই সে জানতো। তাহলে, এই পেঙ্গুইনরা কোথা থেকে এলো?
 
এই রহস্য উদঘাটনে সে নামে এবং তার সাথে যোগ দেয় তার বন্ধু উচিদা এবং অবশ্যই ডেন্টিস্ট লেডি।
 
মুভিটা নিয়ে আমি খুব বেশি নাড়াচাড়া দেখি নি। আন্ডাররেটেড? জানি না। তবে মুভিটা সত্যিই চমৎকার লেগেছে, অন্তত আমার কাছে। মুভির গল্পের ফ্লো সমান্তরালে গেছে। মেইন ক্যারেক্টারের শান্ত স্বভাব আমি বেশ উপভোগ করি বলে আমার কাছে চমৎকার লেগেছে। ম্যাচিউর হলেও দশ থেকে বারো বছরের বাচ্চা যতটুকু ম্যাচিউর হতে পারে, এর বেশি আমার কাছে মনে হয় নি। চমৎকার!
 
আনিমের একটা বড় ব্যাপার হলো, গল্প এবং তথ্য। এগুলো আনিমেকে আরও উপভোগ্য এবং ম্যাচিউর করে তোলে। ব্যতিক্রম নেই এটাতেও। সাই-ফাই গল্প হিসেবে মোটেও খারাপ না এবং যেসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে ফ্লো চলে যাওয়া (উদাহরণ হিসেবে বলা যায় পেঙ্গুইনের স্বভাব) – উপভোগ্য।
 
এনিমেশন, ভিজুয়াল, আর্ট স্টাইল চমৎকার ছিলো! সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, ধুমধাম (যেগুলোকে ফ্লাশি ইফেক্ট বলে আরকি) ইফেক্টের বদলে এনিমেশনটা ডিটেইলে যত্ন করে বানানো হয়েছে, যেটা খুবই খুবই উপভোগ্য এবং এটা মুভিটাকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে!
 
সাজেশন ক্যাটাগরিঃ আরামদায়ক দুটো ঘন্টা চলে যাবে আশা করি।
 
সংক্ষেপেঃ
 
  • Anime : Penguin Highway
  • Type : Movie
  • Genre : Fantasy, Sci Fi
  • Script : Makoto Ueda
  • Novel : Tomiko Morimi
  • Director : Hiroyasu Ishida
  • Studio : Studio Colorido
 
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Run with the Wind [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Run with the Wind 1
তখন হয়তবা ক্লাস সেভেন নাকি এইটে পড়ি, ভোরবেলায় খালি রাস্তায় শহর যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন কানে ইয়ারফোন দিয়ে খালি পথে দিব্যি দৌড়িয়ে যাওয়া অনেক প্রিয় ছিলো। দৌড়িয়ে যাবার সময় বাতাস নিজের পাশ দিয়ে যাচ্ছে তখন যেই অনুভূতিটা আসে তা আসলেই খুব বিশেষ ধরণের। Run with The Wind এনিমেটা দেখে আবার স্মৃতিগুলো মনে পড়লো।
এনিমের কাহিনীটা হাকোনে একিদান প্রতিযোগিতামূলক ম্যারাথনের উপর। প্রতিটি ভালো স্পোর্টস এনিমের মতো এখানেও এটা দৌড়ের প্রতিযোগিতা নিয়ে যতটুকু তার চেয়ে বেশি এর চরিত্রদের নিয়ে বিশেষ করে হকোনের কষ্টসাধ্য পথে ঝড় হোক কিংবা বৃষ্টি হোক সেই ২১৭.৯ কিলোমিটার পথে দৌড়িয়ে যাওয়ার পিছে তাদের প্রত্যেকের নিজেদের প্রেরণা নিয়ে। এনিমেটা শুরু হয় মুল চরিত্র হাইজি তার ডর্মের সবাইকে ব্লেকমেইল করে হাকোনে দলগত ম্যারাথনে অংশগ্রহণের জন্য। যে যতই অনিচ্ছুক হোক, একে একে সবাই শেষমেশ রাজি হয় অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও। সবচেয়ে চমৎকার বিষয়টি হচ্ছে সিরিজ শেষে যখন সবাই হাকোনের রেইসে অংশগ্রহণ করে ততদিনে সবার জন্যই ওখানে দৌড়ানোর প্রেরণা ভিন্ন। কারো জন্য তা হাইস্কুলের অনুশোচনা মেটানো আবার কারো জন্য এটা নতুন এক পথ খোঁজার প্রচেষ্টা। সিরিজটার সাউন্ডট্র্যাক বিশেষ করে প্রতিটি বিশেষ মুহূর্তকে আরো স্মরণীয় করে রাখে। গতকাল থেকে সারাদিন “We Must Go” আর “Mutual” বার বার শুনছি।
সিরিজটার একটা হতাশার বিষয় হচ্ছে সাকাকি কউস্কে চরিত্রটি। এই সিরিজে সে নতুন ট্রান্সফার স্টুডেন্ট কাকেরুর পুরনো ট্র্যাকটিমের একজন সদস্য। দুঃখজনক ভাবে তার চমৎকার এক বেকস্টোরি এবং কুরাহারার প্রতি তার বিতৃষ্ণা থাকার এতো চমৎকার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যাবহার করা হয়েছে এই সিরিজে। এটাই সম্ভবত পিং পং এর মতো এনিমের সাথে রান ইউথ দ্যা ইউন্ডের মতো এনিমের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য। সাকাকি যদি পিং পং এনিমেশনে থাকতো তাইলে সে নিঃসন্দেহে সিরিজের সেরা চরিত্রগুলোর মধ্যে থাকতো। ভালো বেকস্টোরি, জাস্টিফাইড মোটিভেশন সবই ছিলো কিন্তু রান ইউথ দ্যা ইউন্ড তাকে কেবল গতানুগতিক এক সস্তা পার্শ্ব-চরিত্র হিসেবেই ব্যাবহার করেছে।
সিরিজটা যদিও কোনো কিছু একদম নতুন নিয়ে এসেনি স্পোর্টস জন্রার এনিমের জন্য তাও এর গল্পবলার মৌলিক জিনিসগুলো এতো চমৎকার ভাবে দেখিয়েছে যে অন্যকিছুর প্রয়োজন হয়নি। হ্যাঁ সাকাকি কিংবা ফুজিয়ামার মতো পার্শ্ব-চরিত্র গুলো আরো সময় পেলে প্রতিযোগিতাটা আরো ভালো লাগতো কিন্তু তাও এই সিরিজ যা দিয়েছে তা কোনক্ষেত্রে কম নয়। হয়তবা এটা মাসাকি ইয়ুয়াসার পিং পং দ্যা এনিমেশনের মতো টপ টিয়ার লেভেলের না কিন্তু ছুটির দিনে ল্যাপটপটা ছেড়ে একদিন দেখতে বসলে দেখবেন আপনি বোঝার আগেই এনিমেটার এই উদ্ভট সব চরিত্রগুলোর সাথে জড়িয়ে যাবেন। ২৩ পর্বের সময় যেনো নিমিষেই ফুরিয়ে যাবে।
Run with the Wind 2

Gankutsuou: The Count of Monte Cristo [রিভিউ] — Siam Maksud

Gankutsuou 1

Gankutsuou: The Count of Monte Cristo

Episodes: 24
Genre: Sci-fi(!)
MAL Rating: 8.4

আলেকজান্ডার দ্যুমার “দ্যা কাউন্ট অফ মন্টে ক্রিস্টো” বইটি হয়ত অনেকের পড়া। পড়ে না থাকলে বলব কপাল অনেক ভাল। পুরোপুরি এঞ্জয় করতে পারবেন এনিমেটি। বইটির প্লটকেই স্কেলেটন ধরেই এগিয়ে গেছে গল্প। একজন দুর্ভাগা মানুষের চূড়ান্ত প্রতিশোধের গল্পই এটা। এখন জনরায় সাই ফাই দেখে অনেকের চোখ কপালে উঠতেই পারে। ১৮০০ সালের প্লটকে রূপ দেয়া হয়েছে ৫০৫৩ সালের মহাকাশে বিস্তৃত সভ্যতার গল্পে। এখানেই জাদু-কোনো আবেদনই কমেনি তাতে, বরং বেড়েছে।

অল্প কথায় প্লট বলতে গেলে, ৫০৫৩ সালে পৃথিবীর বাইরে লুনায় (সম্ভবত আমাদের চাঁদই) বেড়াতে যায় ফরাসী এরিস্টোক্র‍্যাট ফ্রাঞ্জ ও তার বন্ধু আলবার্ট। তাদের পরিচয় হয় অদ্ভূত রহস্যময় চরিত্রের লর্ড কাউন্ট অফ মন্টে ক্রিস্টোর সাথে। সে পরিচয়ের জের ধরেই প্যারিসে আসেন তিনি। সম্ভ্রান্ত ফরাসী সমাজের অনেক উচ্চমহলে জায়গা করে নেন তিনি। ধীরে ধীরে বুনতে থাকেন বিশাল এক জাল । এরপর বললে স্পয়লার হয়ে যাবে।

এনিমেটির সবচেয়ে সুন্দর দুটি বস্তু হচ্ছে ভিজুয়াল আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। এত কালারফুল সাররিয়েল আর্টস্টাইল, আভিজাত্য আর প্রযুক্তির এত সুন্দর মিশেল আমি অন্য কোনো এনিমেতে পাইনি। দেখতে দেখতে কিছুক্ষণের জন্য ধুলোমাখা আর ধূসর পৃথিবী থেকে দূরে চলে যাওয়া যায়। কাহিনীবিন্যাস বেশ ভাল। যদিও শেষের দিকে এসে কয়েক এপিসোড বেশি টানা হয়ে গেছে লাগে৷ কিন্তু শেষটা বেশ সুন্দর আর ভাল লাগার মতো৷ রাজনীতি, মানুষের অভ্যন্তরীণ লোভ, আভিজাত্যের মুখোশে ঢাকা পরা পাপ, বন্ধুত্ব আর বিশ্বাসঘাতকতার এক অনিন্দ্যসুন্দর মিশেল পাওয়া যায় এতে।

যারা এনিমেতে ম্যাচিউরড গল্প খোঁজে আর ভালবাসে ভিন্ন ঘরানার ভিজুয়াল, তাদের জন্য মাস্টওয়াচ।

বিঃদ্রঃ হাই রেজ্যুলিউশনে দেখার অনুরোধ করব।

Gankutsuou 2

Haikara-san ga Tooru Movie 1: Benio, Hana no 17-sai [রিভিউ] — Trisha Islam

Haikara-san 1

Haikara-san ga Tooru Movie 1: Benio, Hana no 17-sai
Genres: Comedy, Historical, Romance, Shoujo

এই এনিমে মুভিটির প্লট আসলে ১৯৭৫ সালের একটা বিখ্যাত মাঙ্গার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। মুভিটির নামের ট্রান্সলেশন করলে দাঁড়ায় Here Comes Miss High-Collar বা Here Comes Ms. Modern.

মুভিটার সেটিং হল ১৯১৭ অর্থাৎ ১ম বিশ্বযুদ্ধের টাইম পিরিয়ডকে কেন্দ্র করে কাহিনির বিচরন। ঐ সময়টাতে জাপান আস্তে আস্তে একটা আইসোলেটেড আইল্যান্ড থেকে মডার্ন জাপানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সে সময়টা তে ট্রাডিশন আর মডার্নিজম এর মধ্যে যে কনফ্লিক্ট কাজ করছিলো, কিভাবে ট্রাডিশনাল রোলস গুলো পরিবর্তন হচ্ছিল আর বিভিন্ন বয়স এবং শ্রেনীর মানুষ এই পরিবর্তনকে কিভাবে নিচ্ছিলো তা এই এনিমেতে বেশ সুন্দর করে দেখানো হয়েছে। আবার যেহেতু ১ম বিশ্বযুদ্ধে জাপান মিত্রপক্ষের একটা দেশ ছিল, তাই যুদ্ধের ব্যাপারটাও কিছুটা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে এইসব কঠিন কঠিন হিস্টোরিক্যাল বিষয়গুলোর থেকেও বড় কথা হচ্ছে, এটি একটি লাভ-কমেডি। তাই অনেকটা হাসতে হাসতে শেখার মত ব্যাপার আছে।

এখন কাহিনিতে চলে যাই, আমাদের Haikara-san বেনিও হানামুরা (Benio Hanamura) নিজেকে Modern লেডি হিসাবে ভাবেন এবং কিছুতেই ট্রাডিশনাল অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করতে রাজি নন। কিন্তু তার ভ্যাগেই যেন কার সাথে বিয়ে হবে দুই জেনারেশন আগে ঠিক করে রাখা হয়েছে। Modern লেডি, বিদ্রোহি কন্যা তোহ ঝাসির রানি। সে কিছুতেই বিনা যুদ্ধে হার মানবে না।

Haikara-san 2

কাহিনির শুরু হয় এভাবে। এরপর চলতে থাকে বিভিন্ন টুইস্ট অ্যান্ড টার্নের মাধ্যমে তার প্রেমে পড়ার কাহিনি। অনেক ধরনের বাধা আর বিপত্তির মধ্যে কি পারবে বেনিও হানামুরা তার নিজের পছন্দ করা কাউকে জীবন সঙ্গী পেতে? নাকি সে বাধ্য হবে দুই জেনারেশন আগে ঠিক করে রাখা মানুষটার সাথেই ঘর বাধতে? এমনটাও হতে পারে “Fate has some other plans for our miss High-collar”.

এই মুভির আসলে দুইটা পার্ট, যার প্রথমটা হলো এইটা। শেষ পার্ট এখনো আসেনি। বেশ উপভোগ্য একটা মুভি আর আপনার যদি History নিয়ে আগ্রহ থাকে তাহলে তোহ কথাই নেই – ভালো লাগতে বাধ্য। আর্ট ওয়ার্ক বেশ ভালো। আমার নিজের পুরান আর্টের প্রতি এলার্জি আছে তাই অনেক ভালো ভালো সিরিজ দেখা হয় না। কিন্তু এরকম ক্লিন আর্ট দিয়ে সব পুরান এনিমে গুলা রিমেক করলে বেশ হয়।

বেনিও হানামুরা ভয়েস এক্টর হচ্ছে Hayami Saori যার করা Yukinoshita Yukino কে অনেক বেশি ভালো আর Shiba Miyuki কে অনেক বেশি বিরক্তিকর লেগেছিলো। কিন্তু এখানে আবার বেশ উপভোগ করেছি তার কাজ। আর লিড মেইল এর ভয়েস এক্টর হচ্ছে Miyano Mamoru, যার কাজ বেশ ভালো লাগে।

আমার কাছে বেশ লেগেছে আর রেটিং হচ্ছে: ৮।

Bloom Into You [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Bloom Into You

দুঃখজনক ভাবে এনিমে কমিউনিটির খুব বড় একটি অংশ এনিমেতে ইয়ুরি কিংবা ইয়াওয়ি ট্যাগ দেখলেই এনিমেগুলোকে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেয় অর্থাৎ কখনোই দেখে না এবং সত্যি কথাতে তাদের দোষ দেয়া যায় না। বেশিরভাগ সময় এসব শৌজো এ আই মার্কা শোগুলি নির্লজ্জ ফ্যানসার্ভিস দিয়ে কিছু টাকা বাগানোর জন্যই বানানো হয়। গত বছরের (২০১৮) শুরুর সিটরাস তার একটি উদাহরণ। কিন্তু যখন আসলেই একটা ভালো ইয়ুরি কিংবা ইয়াওয়ি এনিমে আসে যেখানে তাদের সেক্সুয়্যালিটি কোনো ফ্যানসার্ভিস নয় বরং চমৎকার চরিত্রায়ন এবং গল্প বলার মাধ্যমে ফোটানো হয় তখন সেটা আর কেউ দেখে না।

গত বছরের (২০১৮) জমজমাট ফলের এনিমের মধ্যে এই রত্নটা প্রায় হারিয়েই গেছে। এর বড় একটি কারণ সিটরাস মোটামুটি ইয়ুরি জিনিসটাকেই একটি হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করেছে। ব্লুম ইন্টু ইয়ু কেবল আমার দেখা সেরা শৌজো এ আই এনিমেই নয় বরং আমার প্রিয় রোমান্টিক এনিমে হবার দাবি রাখে যদিও ওই ক্যাটাগরিতে কারে কানো আর টোরাডোরা ছাড়া কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেবার মতো নেই। সিরিজটার পরিচালনা থেকে শুরু করে দৃশ্য পরিকল্পনা, সিনেমাটোগ্রাফি, মিউজিক্যাল স্কোর প্রতিটি অংশই প্রশংসার দাবীদার।

খুব কম টিভি সিরিজ তরুণ বয়সের রোমান্সের বিষয়টা বুঝে। বাইরে থেকে সবার কাছেই মনে হয় যে যখনই তোমার “সউল মেট”কে দেখবে তখন সময় তোমার জন্য থেমে যাবে কিংবা সবকিছুই তখন মধুর মনে হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সত্যিতে ওই মুহূর্তটা ডিজনির জমকালো রূপকথার তুলনায় কিছুটা হতাশজনক। সিরিজটি যতটুকু রোম্যান্টিক তার চেয়ে বেশি বেশি ইয়ুই এবং অন্যান্য চরিত্রের আত্মবোধ নিয়ে। এখানে নানামি ইয়ুইকে মেয়ে বলে ভালোবাসে নি বরং ভালবেসেছে কারণ সে মনে করে যে ইয়ুই তাকে বুঝতে পারবে এবং কেবল ইয়ুই এর সাম্নেই সে তার সত্যিকারের নিজেকে প্রকাশ করতে পারবে। এই জিনিসটার আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে যে এখনে হোমোসেক্সুয়্যালিটির বিষয়টা কোনো আচরণ-ধর্ম নয় বরং দুইজন “মানুষের” দুইজন “মানুষ”কে ভালোবাসা দিয়ে প্রকাশ করেছে। এখানে আমি মানুষ শব্দটিতে গুরুত্ব দিচ্ছি কারণ এরকম অন্যসব এনিমের মতো এটা নির্লজ্জ সেক্সুয়াল এপিলে ভর করে না।

সত্যি কথাতে এনিমেতে রোমান্সজিনিসটা এতোই স্ল্যাপস্টিক কমেডি নির্ভর যে এরকম লীলায়িত এবং সিরিয়াস ধরণের গল্পবলাটা অপ্রত্যাশিত ছিলো আর এনিমেটা যখন ইয়ুরি তখন জিনিসটা আরো ইম্প্রেসিভ। এই সিরিজের টোন অন্যসব রোমান্স নয় বরং কিছু স্লাইস অফ লাইফ জন্রার সিরিজ যেমন কিডস অন দ্যা স্লোপ কিংবা মার্চ কামস ইন লাইক এ লায়ন এর সাথে সদৃশ।

Otoyomegatari [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Otoyomegatari

ডিসকভারি চ্যানেলে প্রায়ই নানা উপজাতিদের নিয়ে ডকুমেন্টারি দেখাত। আমাজনের উপজাতি, এস্কিমোদের জীবন আরও নানা কিছু। তো আমার সবচেয়ে পছন্দের ছিল কিরিগিজ জাতি, যারা যাযাবর টাইপের। রুক্ষ পরিবেশে বাস, অসাধারন তাদের জীবন ও সংস্কৃতি!!
তো ভালো আর্টের মাঙ্গা খোজ করতে গিয়ে পেয়েছিলাম Otoyomegatari মাঙ্গা আর পড়ার পর আমি মুগ্ধ!!
মাঙ্গার কাহিনী এক প্যারালালে না, বিভিন্ন লোকের কাহিনী নিয়ে এই মাঙ্গা। মাঙ্গার কাহিনী শুরু হয় কারলুক আর আমিরা হালগাল এর বিয়ের কাহিনী দিয়ে। বউ আমিরার চাইতে স্বামী কারলুক ৮বছরের ছোট। এইরকম এইজগ্যাপ ম্যারিজ ওদের সমাজে চালু আছে। এখন মনে হতে পারে যে এরা কি মানিয়ে নিতে পারবে! কিন্তু তাদের মত মিষ্টি রোমান্স বেশি দেখি নাই। কারলুক, আমিরা ও তাদের জীবনের দিনগুলো নিয়ে শুরু হয় মাঙ্গা, এরপর আছে দুই জমজ বোনের, শয়তানি, তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে এক গল্প। এই পার্ট অনেক কমেডির আর আমাদের দেশের বিয়ের অনুষ্ঠানের সাথে রিলেট করতে পারবেন!! আছে আরও ছোট ছোট নানা সুন্দর গল্প।

মাঙ্গা সেইনেন, সুতরাং কোন রকমের ন্যাকামি এই মাঙ্গাতে নেই। কাহিনীর পেসিং অসাধারন। রোমান্স আছে, কমেডি আছে, সংঘাত আছে। এখন আসি আসল কথায়! এই মাঙ্গার আর্ট আমার দেখা অলটাইম বেস্ট আর্টগুলার একটা। ড্রেসের ডিজাইন, কানের দুল, চাদর, ব্যাকগ্রাউন্ড, কভার আর্ট এত সুন্দর তা বলার মত না। মাঙ্গা পড়ার সময় প্যানেলের দিকে তাকিয়ে কল্পনায় হারিয়ে যাবেন!! এত সুন্দর। কাওরি মরি সেন্সেই একটা জিনিয়াস!!!
সুন্দর আর্ট সাথে সুন্দর কাহিনী। না পড়ার কোন কারন নাই। এই মাঙ্গা হল একটা আর্টিস্টিক জার্নাল বই! এই বেদুঈনদের জীবন, তাদের চিন্তাধারা, ভাবনা সব দেখতে পারবেন, বুঝতে পারবেন! অনুভব করতে পারবেন!! এই মাঙ্গার ক্ষেত্রে একটা কথাই খাটে! অতিরিক্ত অসাধারন!!!
তো আজকেই পড়া শুরু করে দিন মাঙ্গা Otoyomegatari!!

Hirunaka no Ryuusei [মাঙ্গা রিয়্যাকশন] — Trisha Islam

Hirunaka no Ryuusei 1

Manga Name: Hirunaka no Ryusei; The Daytime Shooting Star 
Author: Yamamori Mika
Genre: Shoujo 
Status: Completed

ব্রাউজ করতে করতে হঠাৎ চোখে পড়ে গেলো আর আর্টস্টাইল দেখে আটকে গেলাম মাঙ্গাটায়… পুরো রাত জেগে না ঘুমিয়ে শেষ করে ফেললাম। অন্যসব শোজো মাঙ্গার মতোই স্কুল বেসড। সংক্ষেপে বলতে গেলে,
গ্রাম থেকে শহরে আসা এক মেয়ের (Yosano Suzume) শহুরে জীবনের সাথে খাপ খায়িয়ে নেয়া, এক ইকেমেনের (Shishio Satsuki) প্রেমে পড়া আর প্রেম সংক্রান্ত চড়াই-উতরাই এই নিয়েই মাঙ্গাটার পরিসর।

টিপিক্যাল মনে হলেও গল্পের নতুনত্ব আছে। প্রথমত, যে ব্যাপারটা চোখে পড়েছে এবং শেষ করার পর আরো জোড়ালো ভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি তা হলো গল্পটার রিয়েলিজম। সুজুমের জীবনের সাথে অনেকাংশেই রিয়েলিটির যোগাযোগ দেখা যায়। অনেক সময়ই আমার পড়তে পড়তে মনে হয়েছে আরে সত্যি তো এমনটা হয়, তাহলে জীবন কি আসলেই শোজো মাঙ্গা? অন্য সব শোজো এনিমে দেখে বা মাঙ্গা পড়ে সাধারন যেটা মনে হয় জীবন তো শোজো মাঙ্গা নয় যে তিন তলা থেকে লাফ দিয়ে মোটামুটি কিছুই হবে না বা আরো যা যা আছে আর কি।

Hirunaka no Ryuusei 2

[Spoiler Warning]

আর দ্বিতীয় হলো মাঙ্গাকার strength, প্রচন্ড আকারের একজন সেডিস্ট। পুরা প্রথম হাফ ধরে একটা লাভস্টোরি কে বিল্ডাপ করে তারপর তা ছুড়ে ফেলা সাধারন মানুষের কাজ নয়। আমি যদিও প্রথম থেকেই মামুরার দলে ছিলাম কিন্ত সেনসেই কেও অপছন্দ করার মত কিছু ছিল না। চাচ্ছিলাম মামুরার সাথেই সম্পর্কটা হোক, কিন্ত সেনসেই এর হার্টব্রেক মেনে নিতে অনেক কষ্ট হয়েছে। আর এখানেই হয়ত মাঙ্গাটা অন্যসব থেকে আলাদা।

আর্টস্টাইল নিয়ে বলতে গেলে আগেই বলে নি, Sawako-chan এতো দিন পর্যন্ত আমার কাছে সবচেয়ে কিউট শোজো হিরোইন ছিল কিন্ত সুজুমে-চান আসার পর তা হয়ত বদলে গেছে। সুজুমে খুউবই এক্সপ্রেশনলেস (most of the time) কিন্ত তার মধ্যে দিয়ে মাঙ্গাকা এতো বেশি এক্সপ্রেশন ফুটিয়ে তুলেছে… আর প্রতিটাই কেমন যেন কোকোরো তে গিয়ে লাগে। আর যে হাসি গুলা সেনসেই বা মামুরা দেয় উফফফ kokoro no doki doki. তবে সবচেয়ে বেশি জোস লেগেছে তার চোঁখ আঁকার ধরন। এতো প্রশান্তি লাগে চোঁখ গুলার দিকে তাকালে।

তবে ভালোর মধ্যেও কিছু খারাপ ছিল। যেমন, মাঝে যখন সেনসেইর সাথে সুজুমের সম্পর্কের রাইজিং একশন থেকে ক্লাইমেক্স পয়েন্টে যাচ্ছিল তখন মামুরার সাথে সুজুমের সম্পর্কের বিল্ডাপ তেমন ভাবে দেখানো হয়নি… আরো ভালো ভাবে তা এক্সিকিউট করা যেত… বিধায় কেমন যেন খাপছাড়া লেগেছে। এই কারনেই আমার কাছে মনে হয়েছে এটা হয়ত মাঙ্গাকার ইনিশিয়াল এন্ডিং ছিল না। হয়ত মাঝপথে এসে তা চেঞ্জ করা হয়েছে।

Story: 9
Art: 9.5
Overall: 9

P.S. এটার এনিমে Adaptation দরকার। একটা মুভি আছে কিন্ত সত্যি বলতে তিন লিড ক্যারাক্টার এর কাউকেই আমার মাঙ্গার ক্যারাক্টার এর মত মনে হয়নি… কেমন যেন ফানি লাগে জাপানিদের অভিনয়গুলো… খুব বেশি মেকি।

Hirunaka no Ryuusei 3

Le Portrait de Petit Cossette [রিভিউ] — Krista King

Cossette no Shouzou 1

Anime Name– Cossette No Shouzou/ Le Portrait De Petit Cossette
Genre– Drama, Supernatural, Romance, Psychological, Horror
Demographic– Seinen
Type– OVA
Episode– 3
Author– Asuka Katsura
Director– Akiyuki Shinbo
Music– Kajiyuri Yuki
Aired– 2004

সারসংক্ষেপ-
এইরি কুরাহাশি(Eiri Kurahashi) একজন শিল্পী ও একটা প্রত্নতত্ত্বের দোকানের মালিক। সে হঠাৎ-ই একটা সুন্দর রঙিন গ্লাসের প্রতি টান অনুভব করে। গ্লাসটির মধ্যে সে এক পুতুলের মত মিষ্টি মেয়ের আত্মা আবদ্ধ, যে এইরিকে সঙ্গ দেয়, দেখায় তাকে নিজের ভালো-খারাপ অতীত। কোসেটী(cosette), মেয়েটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল এমনই একজন শিল্পী ও তার প্রেমিক। তার আত্মার মুক্তি পাওয়ার এখন একটাই উপায়, হত্যাকারীর সমচরিত্রের কাউকে তার শাস্তিভোগ করতে হবে। অতঃপর এইরিইও সৌন্দর্য পিপাসু ও কোসেটীর প্রেমে পরে যায়, এখন সেই পারে অসহ্য যন্ত্রণাকে অতিক্রম করে কোসেটীকে নরক থেকে মুক্তি দিতে।

Cossette no Shouzou 3

My View-
গল্পটি সাধারণ কিন্তু এতে যেটা দেখানো হয়েছে সেটা হল দৃশ্যমান করার কৌশল। OVAটির প্রতিটি দৃশ্যে শিল্পত্বের ছোঁয়া। যেহেতু এটি একটি শিল্পীর গল্প তার ভাবনা, আবেগ ও অনুভূতিতে অসামান্য সৌন্দর্য, যা চমৎকার রঙিন চিত্রকল্প প্রকাশিত। আলো-আঁধো ভাবছায়ায় কখনো মিশেছে এইরি ও কোসেটীর আবেগ ও প্রেম, কখনোবা আক্রোশ প্রতিশোধ চাঞ্চল্যতা ও ভয়। দৃশ্যের সাথে সুরের উপযুক্ত মিশ্রণ দর্শককে প্রভাবিত করার মত।

Character
Eiri Kurahashi- শিল্প ও সৌন্দর্যের পূজারি এইরি নিজে একজন উৎকৃষ্টমানের শিল্পী। কোসেটীর প্রতি অগাধ প্রেম, তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সারা জীবন যন্ত্রণা ও শাস্তি ভোগ করতে পারে। কোসেটীর থেকে বিরহের চেয়ে যন্ত্রণা অনেক ভালো। তার বলিদানের মানসিকতায় কোসেটীও উপলব্ধি করে সে তার পুর্ব প্রেমিকের মত নিষ্ঠুর নয়।

Cossette- আঠারোশো শতাব্দীর সম্ভ্রান্ত পরিবারের কিশোরী। যার রঙ, রূপ ও সৌন্দর্য শিল্পীকে বানিয়েছে উন্মত্ত নেশারু। পরীর মত মিষ্টি কোসেটীর জীবনটাও ছিল রূপকথার মত, হিংসা ভয় প্রতিকূলতা কী সে জানত না। রূপ তার জীবনে এনেছে যেমন অসীম প্রেম তেমনই এনেছে করাল ছায়া। শিল্পীর প্রেমে তার জীবন হয়ে গিয়েছিল মিথ্যে, সে রয়ে গিয়েছিল শুধুই শিল্পীর তুলির টানে জীবন্ত।

Cossette no Shouzou 2

Miyori No Mori [আনিমে ও মাঙ্গা রিভিউ] — Krista King

Name: Miyori No Mori
Genre: fantasy, drama, spiritual (nature).
Demographic: All
Anime Duration: 1hr 47min
Manga: vol2, ch.8
Author: Hideji Oda
Director: Nizo Yamamoto
Aired: 2007

সারসংক্ষেপ–
একদা মিয়োরি নামক একটি মেয়ে শৈশবে খেলতে খেলতে অরণ্যের গভীরে হারিয়ে গিয়েছিল। সেখানে ডিভাইন ট্রী-এর স্পিরিট তাকে অরণ্যের রক্ষী হিসাবে নির্বাচন করে। এখন মা ও বাবার মধ্যে অনবরত কলহের মাঝে ছোট্ট মিয়োরি একা হয়ে যায়। বড় হওয়ার সাথে সাথে সে মানুষের চেয়ে প্রকৃতিকে বেশি আপন করে ফেলত। মা বাবার বিচ্ছেদের দরুন এগারো বছরের মিয়োরি থাকতে শুরু করে ঠাকুমা-ঠাকুরদার সাথে সেই অরণ্য সংলগ্ন গ্রামে। প্রথমে অসুবিধা হলেও পরে গ্রামের মানুষ ও অরণ্যের স্পিরিটদের সাথে মিশে যায়। ইতিমধ্যে গ্রামে একদল মানুষের আবির্ভাব হয় যারা সেখানকার নদীতে বাঁধ বানাতে চায় কিন্তু সেটা হলে গ্রামসহ অরণ্য ডুবে যেতে পারে। সমস্ত অরণ্যের স্পিরিটদের একত্রিত করে তাদের এমন চমকায়, যাতে তারা আর ফেরত না আসে। এইভাবেই ছোট্ট মিয়োরি সকলকে বাঁচিয়ে নেয়।

Miyori No Mori 1

My View-
অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলি। বেশ একটা গিবলি সিনেমাগুলোর মত অনুভব হয়। ক্যারেকটার ডিজাইন বাস্তবিক যেটা সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে আমার। মিয়োরির চরিত্রটি সবচেয়ে আকর্ষক। ছিচকাঁদনে অতিমিষ্টি চরম উৎসাহী নয় বরং শান্ত-শিষ্ট, নম্র অথচ দৃঢ়-মনস্কা, বাস্তবিক। শৈশব থেকে মা-বাবা, সহ-পাঠীদের কাছে তিরস্কৃত হওয়ার পরও, সবকিছু ভুলে মানসিকভাবে আরো দৃঢ় হয়ে ওঠার পরিণতিটি দেখার মত। মানুষের চেয়ে প্রকৃতির প্রতি এত টান, কোথায় একটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “বলাই”এর কথা মনে করিয়ে দেয়। সবমিলিয়ে গল্প শেষে বেশ একটা ভালো লাগা থেকে যায়।

(আপনি এর মাঙ্গাটাও পড়ে দেখতে পারেন, মাত্র আটটি চ্যাপ্টারের, সেখানেও চিত্রগুলো খুব সুন্দর ও বাস্তবিক, মাঙ্গাতে আরোকিছু details আছে ঘটনাতে।)

Miyori No Mori 2