Gamaran মাঙ্গা রিভিউ — Kazi Rafi

1

নাম- Gamaran
মাঙ্গাকা- Nakamaru Yousuke
জনরা- Action, historical, martial art, shounen
চ্যাপ্টার- ১৯৪ (সমাপ্ত)

উনাবারা রাজ্যের দাইমাও তাঁর ৩১ সন্তানের মধ্যে থেকে উত্তরাধিকারী নির্বাচনের লক্ষ্যে আয়োজন করে এক বিশাল মার্শাল আর্ট টুর্নামেন্টের, যেখানে এই ৩১ প্রার্থীর হয়ে লড়বে তাদের বাছাই করা ৩১টি স্টাইলের যোদ্ধা।
এবং পরবর্তীতে পরাক্রমশালী দুই মার্শাল আর্ট স্কুলের মধ্যে একেবারে অল আউট যুদ্ধ, প্রতিশোধ এবং একের পর এক বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে গড়ে উঠেছে অ্যাকশন, মার্শাল আর্ট নির্ভর ব্যাটেল মাঙ্গা Gamaran এর কাহিনী।

2

প্লাস পয়েন্টঃ

>সিম্পেল এবং ফাস্ট পেসড কাহিনী, বিশাল লেভেলের কোন প্যাচঘোচ নাই।
>পুরো মাঙ্গা আগাগোড়া বিরতিহীন একটার পর একটা দমবন্ধ করা, চরম উত্তেজনাকর সব ফাইট দিয়ে ভরা! একবার একটা ফাইটের মধ্যে আপনি ঢুকে যেতে পারলে কখন যে সময় উড়ে যাবে আপনি টেরও পাবেন নাহ।
>গামারান প্রচুর পরিমাণে ব্যাডঅ্যাস সব চরিত্রে পরিপুর্ণ। বিশেষ করে যখন সেনগকু আয়োরি, কাশিতারৌর মতন অতিরিক্ত অস্থির চরিত্রের আগমন ঘটবে, তখন কাকে ছেড়ে আপনি কাকে সাপোর্ট করবেন তাঁর কোন কূল কিনারাই করতে পাবেন নাহ।
>ফাইটে বৈচিত্র্য আনার জন্য প্রত্যেকটা চরিত্রের রয়েছে নিজস্ব মার্শাল আর্ট স্টাইল এবং নিজস্ব হাতিয়ার, এবং একেজনের হাতিয়ার একজনের থেকে সম্পুর্ণ আলাদা, যার ফলে পুরো মিডেল এডো সময়কালের সবধরনের অস্ত্রশস্ত্রের ব্যপারে আপনাদের একটা ছোটখাটো ডিগ্রী হয়ে যাবে। কি নাই এই মাঙ্গায়- হরেক রকমের লাঠি, তীর, চেইন, নুনচাকু, কানাবো, তেতসুবেন, সামুরাই সওার্ড, স্পিয়ার ইত্যাদি থেকে শুরু করে আরও বৈচিত্র্যময়, নাম নাহ জানা সব হাতিয়ারের সঙ্গে পরিচিত হবেন গামারানের মাধ্যমে।
>কমপ্লিটেড মাঙ্গা, মাত্র ১৯৪টি চ্যাপ্টার। একবার পড়া শুরু করলে শেষ করতে বেশী সময় লাগবে নাহ।

3

মাইনাস পয়েন্টঃ

>সম্ভবত ক্যানসেল হয়ে যাওয়ায় এন্ডিং কিছুটা রাশড, যা পাঠকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে.
>অতিরিক্ত পরিমাণে অপ্রয়োজনীয় পার্শ্ব চরিত্র, যাদের বেশীরভাগই ওয়ান ডাইমেনশনাল, নিষ্প্রভ, যারা কেউই বেশীদিন মনে রাখার মতন নাহ!

আপনি যদি ব্যাটেল মাঙ্গা, নন-স্টপ এপিক ফাইট এবং ব্যাডঅ্যাস চরিত্র, এইসব সৌনেন এলিমেন্টের ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে এই মাঙ্গাটি সম্পুর্ন আপনার জন্যই। তো আর দেরি নাহ করে প্রথম চ্যাপ্টার শুরু করে দিন।

4

Kakumeiki Valvrave(S1+S2) রিভিউ — ইমামুল কবির রিভু

11407132_1738605386366410_4665220486594992419_n

জনরা : মেকা,সাই-ফাই

এপিসোড : 24(including both s1 and s2)

স্টোরি : ঘটনার প্রথমে বলে নিতে হবে অ্যানিমেটার কাহিনী আপনি বলতে পারেন 2 জাতির মধ্যে যুদ্ধ যার কারণ একটি তৃতীয় পার্টি | তবে এই তৃতীয় পার্টি কারা সেইটা দেখে বের করে নেওয়ার দায়িত্ব আপনার | কাহিনীর প্রথমে দেখানো হয় সাকিমরি গাকুয়েনের দৈনন্দিন জীবন,JIOR নামক এক নিরপেক্ষ দেশের একটি স্কুল | অন্যদিকে Dorssia নামক আরেক দেশ যারা হল একটি সুপার পাওয়ার এবং একটি সামরিক শাসিত জাতি তারা নিজেদের এলাকা বাড়ানোর জন্য JIOR আক্রমণ করে । তো এর মধ্যে যখন সাকিমরি গাকুয়েনে আক্রমণ করা হয়,তখন আমাদের নায়ক হারুতো ডিসকভার করেন valvrave | অন্যদিকে আক্রমণের কিছুক্ষণ আগে 5জন Dorssian soldier সেই সাকিমরি গাকুয়েন ইনফিল্ট্রেট করেন এরা হলেন L-Elf,X-Eins,A-Drei,Q-vier এবং H-neun যারা অ্যানিমেটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র | এবার আসি আসল কথায় আমাদের হিরু তোকিশিমা হারুতো ঢুকে পরেন তার চোখের সামনে পরে থাকা valvrave-টির ভেতর | তবে এই valvrave সাধারণ কোন মেকা রোবট নয়,এটা চালাতে হলে এর সঙ্গে contract করতে যা অনেকটা নিজের আত্মা শয়তানের কাছে বিক্রয় করে দেওয়ার মত অথবা বলতে পারো তোমার একটা ভাম্পায়ার মেকা পাইলট হয়ে যেতে হবে | এই contract করার জন্য আপনার মানুষ হিসেবে থাকাটা ত্যাগ করতে হবে,তো যাই হোক আমাদের নায়ক সেটাই করে | আমি এ পর্যন্ত বললাম বাকিটুকু আপনার দেখে নিতে হবে | অ্যানিমেটার কাহিনীটি অনেক broad যার মধ্যে রয়েছে বহু twist & turn,তবে মূল লক্ষ হল Dorssia নামক রাষ্ট্রটিতে বিপ্লব ঘটানো | আর আপনাকে বলব দয়া করে দ্বিতীয় season-টি দেখুন নাইলে কাহিনী কিছুই বুঝবেন না |

আর্ট : আমাকে যদি বলা এই অ্যানিমেটার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস কোনটি,আমার উত্তর “আর্ট” | আর্টটা অনেক চার্মিং | কর্মকর্তাগুলাকে অনেক সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে | ভাল্ভরেইভ গুলাও ছিল অনেক আকর্ষণীয় | CG effect-এর ব্যাবহার ঠিক মত করা হয়েছে | চার দিকের পরিবেশ অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করেছে | আনিমের ক্যারেক্টার ডিজাইনটি অনেক চমৎকার ছিল । সব মিলিয়ে বলব কাহিনীর সঙ্গে আর্টটা ছিল মানানসই |

ক্যারেক্টার : অ্যানিমের প্রধান চরিত্র তোকিশিমা হারুতো যাকে আমি বলব আর 2-1 সাধারণ অ্যানিমের মেইন প্রোটাগোনিস্টের মত | সাধারণত বেশিরভাগ অ্যানিমেতেই আমরা যা দেখি যে নায়ক প্রথমে থাকে একজন সাধারণ হাইস্কুল স্টুডেন্ট এবং প্রথম এপিসোডের শেষদিক শুরু হয় তার কুলনেস হারুতোর ক্ষেত্রেও তাই খালি সে হয় একজন ভ্যাল্ভরেইভ পাইলট | আর একজন প্রধান চরিত্র হল এল-এল্ফ | ক্যারাক্টারটা একটু ওভার-পাওয়ার্ড তবে বাকি সব ঠিক আছে মানে সাধারণ 2-3টা অ্যানিমের একটি ব্যাড্যাস চরিত্রের মত | প্রথম সিসনের তুলনায় দ্বিতীয় সিসনে এর-এরফুর স্ক্রিন-টাইম তুলনা মূলক একটু বেশি | তবে এর অ্যাকশন সিনগুলা অস্থির | আরও পাবেন আমাদের নায়িকা,আসলে সিরিসটাতে নায়িকা দুইজন রুকিনো সাকি এবং সাশিনামি শোকো | আপনার যদি শিপিং করতে ভাল্লাগে তাইলে আপনি হারুতো x শোকো নাইলে হারুতো x রুকিনো এই দুইটা কাপলের একটা শিপ করবেন এইটার গ্যারান্টি দিলাম | অ্যানিমেটাতে আরও অনেক ক্যারাক্টার থাকবে যাদের আপনার সিরিসটি দেখাকালিন সময় অনেক ভালো লাগবে এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিকিকুমোরি আকিরা আর বাকিদের নাম ভুলে গেছি,আপনিও সিরিসটা শেষে ওই ক্যারেক্টারগুলোর নাম ভুলে যাবেন | ডরশিয়ান মিলিটারির কিছু কিছু ক্যারাক্টারকে আপনার ভালো লাগবে যেমন এক্স-আইন্স,হা নেউন,কিউ-ভিয়ের,আ-ড্রাই এবং ক্রেইমহিল্ড | অ্যানিমেটার সেইয়ু ক্যাস্টেও নিজের প্রিয় প্রিয় সেইয়ু যেমন আই কায়ানো,জুন ফুকুয়ামা,তোমাতসু হারুকা,কাইজি ইয়ুকি.নানা মিযুকি.ওনো দাইসকে,মামোরু মিয়ানো এবং আরো অনেকে | এবং ভয়েস অ্যাক্টিং অনেক ভালো ছিল,বড় কথা হল সিচুয়েশনগুলো অনেক সুন্দর করে তুলে ধরেছে |

সাউন্ড : অ্যানিমেটার মিউসিক তেমন আহামরি না | ইন্টেন্স মোমেন্টগুলায় আলাদা কোন মিউযিক নেই বরং অ্যানিমের ওপেনিং-এন্ডিং ওই সময় ছাড়ে 😐 | ইমোশোনাল মোমেন্টগুলার সময় মিউযিকটা আমার কাছে টাচিং মনে হয় নাই | তবে অ্যানিমের ওপেনিংগুলা অনেক ভাল্লাগসে | এন্ডিংগুলা ভালো লাগে নাই তবে গানগুলা খারাপ বলব না |

আমার মন্তব্য : ওভারলি অ্যানিমেটা আমার ভালো লেগেছে | মেকা অ্যাকশনগুলো ছিল দুর্দান্ত | আপনি যদি মেকা অ্যানিমে পছন্দ করে থাকেন তাহলে দেরি না করে অ্যানিমেটি দেখে ফেলুন | অ্যানিমেটির সবচেয়ে ভালো জিনিস হল এন্ডিংটা ভালো করেছে,তবে এটাকে ঠিক হ্যাপি এন্ডিং বলব না | বলতে গেলে প্রথম সিসনে কিছুই দেখায় না কিন্তু দ্বীতিয় সিসন আমার কাছে অনেক ইন্টেন্স লেগেছে | অ্যানিমেটার কিছু কিছু পার্ট একটু বোরিং থাকে তবে সব মিলিয়ে এটা একটি অসাধারণ অ্যানিমে | আপনারা সবায় সময় পেলে অ্যানিমেটা দেখুন হয়তো আপনাদের ভালো লাগবে |

 

10456824_1738605383033077_2183200779724927100_n

Rainbow: Nisha Rokubou no Shichinin: রিভিউ/রিয়েকশন — মোঃ আসিফুল হক

Rainbow 1

“অরেতাচি নাকামাতাচি সুগোই কাক্কই দেসু” মূলমন্ত্র নিয়েই তৈরি হওয়া সিরিজটার পটভুমি ১৯৫৫ সালের যুদ্ধ পরবর্তী জাপানে। নানা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ৬ টিনএজ ছেলের জায়গা হয় এক বিশেষ সংস্কার স্কুলের একই সেলে; যেখানে তাদের সঙ্গী হয় আগে থেকেই সেই সেলে থাকা সাকুরাগি রকুরোতা। সাকুরাগির কল্যাণে এই ছেলেগুলো কাছাকাছি আসতে থাকে; একে অপরের বন্ধু হতে থাকে; নৃশংস, অন্ধকারাচ্ছন্ন সেই প্রকোষ্ঠে পরস্পরকে বাচার প্রেরণা যোগায়, সাহস যোগায়। সেই অন্ধকার ছেড়ে যখন ছেলেগুলো সমাজে ফিরে আসে তখনও সাকুরাগির শিক্ষা আর স্মৃতি বুকে নিয়ে নিজেদের স্বপ্নকে ধাওয়া করে চলে নিরন্তর।

চমৎকার স্টোরি, অন্তত শুরুর দিকটায় সেটিং চমৎকার; প্রত্যেকটা চরিত্র নিয়েই কম বেশি এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পর্যাপ্ত। একেবারে শুরুর কয়েক মিনিটেই সিরিজটা মনোযোগও ধরে ফেলার জন্য যথেষ্ট। এবং শুরুর কয়েক পর্বেই প্রত্যেকটা চরিত্রেরই কম বেশি ব্যাক স্টোরি পেয়ে যাই আমরা; এবং সেটাও যথেষ্ট রিচ। So far, so good. কিন্তু বাদ সাধে এর পরেই। সিরিজটা একেবারে পুরোপুরি মনোটোনাস আর একমুখী হাঁটা শুরু করে দেয়। চরিত্র নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার যে সুযোগটা ছিল, সেটা একেবারে জলে ফেলে দেওয়া হয়। সবগুলো চরিত্র একেবারে দাগ টেনে সাদা কালো দলে ফেলে দেওয়া সম্ভব হয়ে যায়। খুব বেশি জটিলতায় না গিয়ে সহজ কথায় বলি, সেলে থাকা ৭ টা চরিত্রগুলো খুব ভাল; তারা কোন রকম খারাপ কাজ করতে পারে না; সেটা যে কোন পরিস্থিতিতেই হোক, একেকজন দেবতার অবতার, বন্ধুঅন্তপ্রান, নীতিবান, সৎ, নিপাট ভদ্রলোক। আর বাকি চরিত্রগুলো সব খারাপ। শুধু খারাপ না; একেবারে সাক্ষাৎ ইবলিশ। এরা স্যাডিস্টিক, শিশু নির্যাতনকারী, ঘুষখোর, খুনী, ষড়যন্ত্রকারী। মানবতার ছিটেফোঁটাও নাই এদের মধ্যে। এইরকম প্লেইন চরিত্রগুলো কিছুদুর যাওয়ার পর আসলে বিরক্তিরই উদ্রেক করে।

এনিমটার মেসেজ আর প্রশ্নগুলোও বড্ড একঘেয়ে। বন্ধুত্ব কি, ফ্যামিলি কি, মানবিকতা, নীতি, ভালবাসা এবং এই জিনিসগুলোর জন্য একটা মানুষ কতটুকু আত্মত্যাগ স্বীকার করতে পারে সেই উত্তরগুলোই খোজার চেষ্টা হয়েছে; সেই উনিশশো কটকটি সাল থেকে এখন পর্যন্ত সিরিজগুলোর মতনই।

আরেকটা নেগেটিভ দিক হল মেলোড্রামা। মোটামুটি শেষ ৮-৯ টা পর্ব হিন্দী সিনেমার লেভেলে নিয়ে গেসে সিরিজটাকে। কেউ কিছু একটা করে বিপদে পড়বে, এবং বাকি বন্ধুরা পারলে নিজেদের জীবনটাকে বাজি রেখে তাদেরকে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার করবে, তাদের মুখে হাসি নিয়ে আসবে – এই জিনিসটাকেই ৬ বারের মতন সেইম লুপে ফালায়ে ভ্যারিয়েবল চেইঞ্জ করে দেখানো হয়। পিওর মেলোড্রামা। তার সাথে যোগ করে নিন প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর একবার করে ধারাবিবরণী। পরিচালক মহোদয় বোধহয় ধরেই নিয়েছেন প্রত্যেকটা দর্শক গর্ধভ শ্রেণীর লোক, কোন একটা ইমোশনাল সিচুয়েশন তারা নিজেদের বুদ্ধি খাটায়ে বুঝে নিতে পারবে না; সুতরাং কিছু একটা ঘটার সাথে সাথে পুরো ফ্রেম ফ্রিজ করে দিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ সহ সেই সময় প্রতিটা চরিত্র কি ভাবতেসিল, তাদের চোখে জল ছিল কি না, এবং থাকলে তার পরিমাণ সহ ব্যাখ্যা আমাদের সরবরাহ করেছেন।
আমরা কৃতজ্ঞ।

কিছু কিছু এনিম বোদ্ধারা এই সিরিজটাকে বিগিনারদের জন্য সাজেস্ট করতে চেষ্টা করেন। সিরিজটা দেখার পর আমি তাদের পোয়েটিক সারকাজমের জায়গাটা অবশ্য ফিল করতে পারতেসি। ডার্ক থিম এবং সেটিং এ এইরকম হালকা ধাঁচের সিরিজ পাওয়াটা আসলেই দুষ্কর।

ভয়েস এক্টিং, সাউন্ডট্র্যাক, এনিমেশন, আর্ট – সবগুলো দিক দিয়েই রেইনবো বেশ ভাল কাজ দেখাইসে। কোনটা নিয়েই কোন আপত্তি নাই। বিশেষ করে ভয়েস এক্টিং বেশ পছন্দ হইসে।

বটমলাইন, রেইনবো খুব ভিন্ন ধরণের কিছু না; বরং পুরনো বোতলে নতুন মদের মতন ডিফারেন্ট প্লট সেটিং এ শৌনেন সিরিজে পরীক্ষিত ফর্মুলা আর আইডিয়োলোজিগুলোরই এক্সিকিউশন মাত্র।

রেইনবো কেমন সিরিজ? খুব খারাপ? মোটেই না। মাস্টারপিস? কখনই না। পুরো সিরিজটা দেখে একটা শব্দই মাথায় আসে – “হতাশাজনক।” বিশাল প্রমিজ নিয়ে শুরু করা একটা সিরিজকে এইরকম প্রেডিক্টেড পথে চলতে দেখাটা আসলেই হতাশাজনক। আর প্রথম দিকের পর্বগুলো তাও বেশ উপভোগ্য, দ্বিতীয় ভাগের পর্বগুলো তার পিওর মেলোড্রামাটিক সেইম রিপিটিভ স্টোরি দিয়ে পুরো সিরিজেরই বারোটা বাজায় দিসে।

এখন রিকমেন্ডেশনঃ প্রথম ১৩টা পর্ব দেখেন। এইগুলা মোটাদাগে বেশ ভাল। ভাল লাগবে আশা করতেসি। পরের ১৩টা দেখতে চাইলে নিজ দায়িত্বে দেখবেন। মেলোড্রামা ভাল না লাগলে অইগুলা এভয়েড করাটাই সমীচীন হবে বোধকরি।

Rainbow 2

নিওন জেনেসিস ইভাঙ্গেলিওন + এন্ড অফ ইভাঙ্গেলিওন রিভিউ — Rafiul Alam

Evangelion

“So, where is my dream?
-It is a continuation of reality.
But where is my reality?
-It is at the end of your dream.”

নিয়ন জেনেসিস ইভাঙ্গেলিয়ন আমার প্রিয় ৫ টা এনিমের মধ্যে একটা।২৬ এপিসোডের এই আনিমে মেকা জানরার মাঝে সেরা,Gainax স্টুডিওয়ের শ্রেষ্ঠ উপহার,৯০ দশকের মাস্টার পিস গুলোর মাঝে অন্যতম। কিন্তু আমি এটা সবাইকে রেকমেন্ড করব না।কারণ দুইটা।প্রথমত,অনেকেই এর হাইথট প্লট পছন্দ করে নাই বা করবে না।এইরকম মাথা ঘুরানো প্লট খুব একটা পাবেন না।ধর্ম,ফিলোসফি আর সাইকোলজির এমন কন্সেপ্ট এই আনিমেকে শৈল্পিক স্তরে নিয়ে গিয়েছে।দ্বিতীয়ত,আমার চেনা জানা অনেকে ৯০ এর এনিমে দেখতে পারে না।তাদের কাছে কাউবয় বিবপও “পুরানো “।তা যাই হোক,নিঃসন্দেহে এটা সবচেয়ে বিতর্কিত এনিমের মধ্যে একটা,যা সবচে বেশি এক্সপ্লেনেশনের দাবিদার। তাই আপনি দেখে থাকলে “welcome to the club”

11427238_1604511349803334_4095648615649397673_n

Synopsis: ঘটনার প্রেক্ষাপট ২০১৫ সাল।যখন মানব সভ্যতা হুমকির মুখে angels নামক ভয়াবহ দানবের আক্রমণের জন্য।এই angels গুলো হল চুড়ান্ত অভিযোজিত প্রাণি।যারা কিনা যেকোনো চরম পরিস্থিতিতে প্রাণ ধারণ করতে সক্ষম।তো এই ধ্বংসাত্নক দানবদের কবল থেকে মানুষজনকে রক্ষা করার জন্য কাজ করে ইউএন এর একটি সংস্থা,NERV.তো ঘটনার শুরুতেই দেখা যায় ইকারি শিঞ্জি নামের এক ১৪ বছরের বালককে এঞ্জেলের আক্রমণ থেকে উদ্ধার করে NERV এর হেডকোয়ার্টারে নিয়ে আসেন তরুণী অফিসার ক্যাপ্টেন মিসাতো কাতসুরাগী।যেখানে শিঞ্জি তার বাবা গেন্ডো ইকারির দেখা পায় বহুদিন পরে ।কিন্তু শিঞ্জিকে নিয়ে আসার কারণ ভিন্ন।এঞ্জেলদের আক্রমণ থেকে সবাইকে রক্ষা করার জন্য NERV এর রয়েছে বিশেষ ধরনের অস্ত্র,ইভা ইউনিট।যা হল মূলত অতিকায় রোবট।NERV এর সেরা প্রযুক্তির এই রোবটগুলোই হল মানব সভ্যতার শেষ আশা।জ্বি হ্যা,এই রোবটের ভিতরে বসে তা অপারেট করার জন্যই শিঞ্জিকে নিয়ে আসা হয়,কারণ শুধু তার বয়সেরই কেউ তা চালাতে পারবে।এখন শিঞ্জি কি করবে?সে তো আগে কখনও এমন কিছু দেখেইনি!বিরক্তিকর এক পরিবেশের সৃষ্টি করার পর অবশেষে সে রাজি হয়।এরপর একশন!ড্রামাটিক এক লড়াই করে সে এঞ্জেলের বিরুদ্ধে।পরবর্তী এপিসোডগুলোতে এমনি মানুষ আর এঞ্জেলেদের এপিক লড়াই হয়।NERV এর আওতায় মোট তিনটি ইভা ইউনিট।অন্য দুটির অপারেটর বা পাইলট হল রেই আয়ানামি আর আসুকা ল্যাঙলেই।সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের এই তিনজনের উপর নির্ভর করছে মানব জাতির ভবিষ্যত।আনিমেটা দেখার সময় কিছু মুহুর্ত চূড়ান্ত উত্তেজনা অনুভব করবেন।কিছু ক্ষেত্রে রাগে মাথা চাপড়াবেন।আবার কিছু পারফেক্টলি ক্রাফটেড মুহুর্তে নির্বাক হয়ে যাবেন।তবে আসল খেলা বা ট্রাম্প কার্ড হল লাস্টের দুই এপিসোড।এবং ঘটনা সম্পূর্ণ জানার জন্য তাই এন্ড অফ এভাঙ্গেলিওন দেখা অবশ্যক।

22784_1604511363136666_1035733331435278699_n

Theme Setup,Music and Animation: NERV এর হেডকোয়ার্টারের ভিতরে অন্য রকম এক আবহ দেখানো হয়েছে। বিশাল,দানবতুল্য ইভা ইউনিটগুলো যখন অপারেশনের জন্য তৈরী করা হয়,তখন ইঞ্জিনিয়ারদের অস্থিরতায় প্রতিবার সেই এক এপিক সিচুয়েশন তৈরী হয়।এমনি ৯৫ সালে ২০১৫ সালকে কল্পনা করা হয়েছে।কোন ফিউচারিস্টিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অতিরঞ্জন করার চেস্টা করা হয়নি।গল্পের পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে নিতে দর্শকের পরিশ্রম করা লাগবে না।থিম কিছু ক্ষেত্রে ডার্ক মনে হবে,যা এই প্লটের জন্য মাস্ট।শেষের দুই এপিসোডে মাথা ঘুরানো সাইকোলজিক্যাল থিম আপনার সহ্য করা কঠিন হবে। ধর্মীয় বিষয়গুলো উল্লেখ করার সময় অদ্ভুত সুন্দর ফিলোসফিকাল অনুভূতি পাবেন।এন্ড অফ এভাঙ্গেলিওনে যার চুড়ান্ত পরিণতি দেখবেন।আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কথা বলতে গেলে সবার আগে বলব এপিসোড ২২ এর এঞ্জেল আক্রমণের সময় বিটোভেনের সিম্ফনি নাইন।Cowboy Bebop এর Green Bird এর পর এত ওয়েল ক্রাফটেড সিন আমি দেখিনি।ও হ্যা, আরেকটাও আছে,এন্ড অফ এভাঙ্গেলিওনের সুইট ডেথ।অপেনিংটাতো সবাই শুনেছেন, Zankoku na Tenshi. আর এন্ডিংটাও আমার খুব প্রিয়,Fly me to the moon.বিশেষ করে প্রায় প্রতিটা এপিসোডে নতুন স্টাইলের এন্ডিংয়ের বিষয়টা ভালই ছিল।সাইকোলজিক্যাল অংশে শিঞ্জির ভায়োলিনের কথাও বলতে হয়।এইবার আসি আনিমেশনে,অ্যাকশন সিনগুলো নিয়ে কোন অভিযোগ নেই।কিন্তু কিছু কিছু সিন অতিরিক্ত লম্বা।আমার মনে হয় বিষয়টা অভারলুকড হওয়া নির্মাতারা ডিজার্ভ করে।কারণ তখনকার স্বল্প প্রযুক্তি নিয়েও তারা অসাধারণ আর্টওয়ার্ক উপহার দিয়েছেন।আমরা ধারণা করতে পারি প্রতিটি ফ্রেম হাতে আঁকার ব্যাপারটা কতটা শ্রমসাধ্য।

11401294_1604511529803316_4712263915210155291_n11140315_1604511533136649_907437397840372071_n

Characters Setup: আসল জায়গায় আসলাম এইবার।এই সিরিজের সব চরিত্রই কেমন জানি ব্রোক।এই আনিমের যত সমালোচনা করা হয়,তার প্রধান কারণই মনে হয় ইকারি শিঞ্জি।তো এই ইকারি শিঞ্জিকে সবার বিরক্তিকর লাগার মূল কারণ হল সে দূর্বল প্রকৃতির বিষন্ন মনের কিশোর।বেশিরভাগ সময় পরিস্থিতির দাবির দিকে কোন পাত্তা দেয় না।তবে সত্যি বলতে,আমার শিঞ্জিকে কখনও বিরক্তিকর মনে হয়নি।বরং ওকে নিয়ে সাইকোলজিক্যাল সিনগুলি অনেক বেশি পাওয়ারফুল ছিল।শিঞ্জির পরে আসে রেই আয়ানামির নাম।শান্ত চরিত্রের।কিন্তু শুরু থেকেই কিছু লুকানো হচ্ছে,এমন আভাস পাবেন।এর পর ক্যাপ্টেন মিসাতো কাতসুরাগি,সিরিজের সবচেয়ে প্রাণউচ্ছল চরিত্র।বিপদজনক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উদ্যমী।ইকারি শিঞ্জিকে সহ্য করার জন্য উনাকে আমার বেশি ভালো লেগেছে।কিন্তু তার অতীত ঘটনা বেশ ট্রাজিক।সিরিজের কয়েক এপিসোড যাওয়ার পর ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত tsundere আসুকা ল্যাঙলেইয়ের আগমন ঘটে।তারও বলার মত ব্যাকস্টোরি আছে।এছাড়াও রিটসুকো,শিঞ্জির বাবা গেন্ডো ইকারি,শিঞ্জির মা,কোজো,রিটসুকোর মা, সবারি একই সুত্রে বাধা অতীত সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।চরিত্রগুলো সিরিজের অন্যতম আকর্ষণ।তাই এই বিষয়ে হতাশ হবেন না।সব ক্যারেকটারকেই আলাদাভাবে অনুভব করবেন।

11427218_1604511403136662_2287385630477565425_n

Overall Rating:
MAL Rating : 8.3,End of Evangelion:8.2
My Rating : 9.6

Opening: https://www.youtube.com/watch?v=wQq8yLco070

Ost playlist: https://www.youtube.com/watch…

Sweet Death: https://www.youtube.com/watch?v=BAmko4fvkC0

Fly me to the moon: https://www.youtube.com/watch?v=RF59-SNAi-s

1902869_1604511619803307_6098738166043621905_n

A V’s Suggestion: Ima, Soko ni Iru Boku (This is not Random)

পরিবেশন করছি “Ima, Soko ni Iru Boku” a.k.a. “Now and Then, Here and There” a.k.a. “এখন এবং তখন, এখানে এবং সেখানে”

[প্রথমতঃ এই এনিমেটা কোন Happy-Happy Going এনিমে নয়।
এবং দ্বিতীয়তঃ এনিমেটা কম বাজেটে করা সত্বেও এনিমেটার পেছনে প্রস্তুতকারকদের গভীর আন্তরিকতা অনুভব করা যায়।]

সাধারন শব্দ দ্বারা কখনো এই এনিমেটাকে বিবৃত করা সম্ভব নয় । কারন, শব্দ বহন করতে পারেনা কন্ঠশিল্পীদের গভীর বেদনার স্বর , আর্ট এবং সুরের কারুকাজ ।

Ima, Soko ni Iru Boku

“Ima, Soko ni Iru Boku” ফ্যন্টাসি এবং সায়েন্স-ফিকশানের এক অনন্য মিশ্রন । এখানে মানুষের নিষ্ঠুরতা, হিংসা, পাষবিকতা যেমন দেখানো হয়েছে ; তেমনি এর বিপরীত চিএও দেখিয়েছে । এনিমেটা দেখতে দেখতে হয়ত কখনো আপনি নিজের অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন অথবা শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবেন উপরের দেয়ালের দিকে । যেন আপনার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে একটি অনুভূতির পেয়ালা , আর আপনি চুমুকে চুমুকে পাণ করছেন তার বিভিন্ন রকম স্বাদ ।

গল্পের নায়ক “সূ” (আসলে একজন victim) ঘটনাচক্রে চলে যায় এক ভিন্ন জগতে । যেখানে ভূমি, দিগন্তজোড়া বিস্তৃন পাথুরে আর আকাশ রক্তলাল । যেখানে এক ফোঁটা পানির জন্য মানুষ মানুষকে খূন করতে দ্বিধা বোধ করেনা ।এই রকম অচেনা অসহায় পরিবেশে ও প্রচন্ড অত্যচারের মধ্যও “সূ”কে টিকিয়ে রাখে দুটো জিনিস, বাঁচার প্রবল ইচ্ছা আর একটি প্রতিজ্ঞা ।
অপর দিকে গল্পের নায়িকা “লালা-রু” বহন করে এমন এক ক্ষমতা যা কিনা বাঁচাতে পারে ধ্বংশের পথে চলা এই জগতটাকে । ঘটনাচক্রে “লালা-রু”কে অপহরন করে এক পাগলা ডিকটেটর “লর্ড হামডো” যে কিনা “লালা-রু”র ক্ষমতাকে নিজের স্বার্থসিদ্ধীর জন্য ব্যবহার করতে চায় ।
আর একটি চরিত্রের কথা না বললেই নয়, সে হল “সারা” । মূল দুই চরিত্রের চেয়েও আমাকে বেশী স্পর্স করেছে “সারা” চরিত্রটি । ওর দুর্ভাগ্যের ঘটনা আজ নাহয় নাই বললাম ।

This is one of those anime you really can’t judge from the cover!! প্রত্যেক পরিনীত এনিমে দর্শকের ওয়াচলিস্টে এই এনিমেটা থাকা উচিত ।

ভেটরনস্ রেটিং: ৮

Mushishi রিভিউ — Hasin RA Aunim

Mushishi

Anime review: Mushishi

Episodes: 26
MAL rank: 23
MAL rating: 8.81
My rating: 9.5

“The World is filled with life unknown to man”

মুশি – অদ্ভুত এক সত্ত্বা যা ঠিক প্রাণী ও নয় আবার গাছের কাতারেও ফেলা যাবে না। এই মুশিরা শাশ্বত কাল ধরেই বাস করে আসছে পৃথিবীতে। এদের যারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তারাই মুশিশি। তেমনই এক মুশিশি গিনকোর প্রতিদিনের গল্প এই “মুশিশি”।

এনিমেটিতে মুশিরা নানা সমস্যার সৃষ্টি করে (যেগুলো প্রায়শই প্রাণনাশ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায়) আর তা সমাধানের দায়িত্ব পড়ে গিনকোর ঘাড়ে। গিনকো নিজ জীবন বিপন্ন করে সবার মুশিসমস্যার সমাধান করে কিন্তু তবুও পারতপক্ষে কোন মুশিকে হত্যা করে না। কেননা তার ভাষ্যমতে মুশিরা শুধু তাদের স্বভাবসিদ্ধ কাজ করে যাচ্ছে।

গিনকো একেবারেই আলাদা একটি চরিত্র। এমনকি অন্যান্য মুশিশিদের মাঝেও গিনকো তার স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে। যেখানে অন্য মুশিশিদের দেখানো হয়েছে মুশি-কিলিংমেশিন হিসেবে সেখানে গিনকো সবসময় চেষ্টা করেছে অকারণে মুশিহত্যা এড়ানোর। গিনকো একাধারে ক্ষুরধার মস্তিষ্কের অধিকারী, দূরদর্শী, কোমলহৃদয় এবং সেই সাথে অনন্য রসবোধেসম্পন্ন।

অন্যান্য চরিত্রগুলোর সিংহভাগকেই একটি পর্বের বেশি দেখা যায় নি। তবুও চরিত্র গুলো বেশ ভালভাবেই মনে দাগ কাটবে বলে আমার বিশ্বাস। মুশিদের কারসাজিতে পর্বগুলোতে যে পরিস্থিতিগুলো সৃষ্টি হয় সেগুলো মনে বেদনার ছাপ ফেলতে বাধ্য।

মুশিশির আর্ট স্টাইল বিশেষভাবে উল্লেখ করার মত। গ্রামীণ পরিবেশ অত্যন্ত নিঁখুতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা প্রাণভরে দেখার মত। প্রকৃতিতে ঋতুর প্রভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মুন্সিয়ানার সাথে। তবে প্রতিটি পর্বে চরিত্রগুলোকে প্রায় identically আঁকা হয়েছে যা হয়ত এড়ানো যেত।

সেই সাথে যে OST ব্যবহার করা হয়েছে তাও মোহনীয় এবং এনিমেটির সাথে মানানসই। এ দুটির সংমিশ্রণে এনিমেটি অনেকটা ধ্যানমগ্নতার ভাব জাগায়।

অনেকের অভিযোগ এনিমেটি অতিরিক্ত ধীরগতির। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হবে এনিমেটির অপূর্ব storytelling এর ইন্দ্রজালে একবার বাঁধা পড়লে ২৫ টি মিনিট কোনদিক দিয়ে বেরিয়ে যাবে টেরই পাবেন না।

যে পর্ব দিয়েই শুরু করুন না কেন বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়, কেননা মুশিশি একটি এপিসোডিক এনিমে। তাই পর্বগুলোর কাহিনীর সরাসরি যোগাযোগ নেই বললেই চলে। তবু ও সবগুলো পর্ব মিলে মুশিশি যেন এক অনবদ্য চিত্রকর্ম – অদ্ভুত প্রশান্তি জাগায় মনে।

গতানুগতিক শৌনেন এনিমের ধুন্ধুমার একশন একঘেয়ে লাগা শুরু করলে অথবা মোয়ের আতিশয্যে বিরক্ত হলে দারস্থ হতে পারেন মুশিশির।

This will be an experience you’ll have a hard time forgetting.

Saiunkoku Monogatari রিভিউ — Nowsheen Tabassum

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের জন্য বাংলা ব্যাকরণে প্রতিশব্দ দেয়া হয়েছে অবলা, মানে যার বল নেই। কিন্তু এখন পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সব ক্ষেত্রেই নারীদের অবস্থান। তবে এই অবস্থা কিন্তু কয়েকশ বছর আগে ছিল না। Saiunkoku Monogatari সেই সময়ের গল্প। 🙂

কাহিনীর নায়িকা Hong shurei লক্ষ্য রাজপ্রাসাদে চাকরি করে রাজ্যের জন্য ভালো কিছু করা। এজন্য সে আমাদের দেশে যেমন BCS, তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওদিকে রাজ্যের বর্তমান রাজা আবার প্রথম কথা বলেই তাকে ভালোবেসে ফেলল। ওদিকে মেয়ে বলে অবজ্ঞা, আর বিভিন্ন অপমান তো রাজপ্রাসাদের লোকজন তাকে ছুড়ে দিচ্ছেই। কিন্তু Shurei হাল ছাড়ল না, দাঁতে দাঁত চেপে সে সিদ্ধান্ত নিল, লড়ে যাবে সে, দেখিয়ে দেবে সে অন্য পুরুষদের সাথে কাজ করার যোগ্য! 😀

second season দেখিনি, first season দেখে এই রিভিউ। আমার দেখা অন্যতম সেরা কাহিনী আর soundtrack। আর Seiran তো বেশি cute!!! সবাইকেই দেখতে বলব। 🙂

Saiunkoku Monogatari

Jigoku Shoujo রিভিউ — Torsha Fariha

Jigoku Shoujo

জিগোকু সোওজো: সহজ উপায়ে আপনার অপছন্দের মানুষকে দোজোখে পাঠান।

জানরা- সুপারন্যাচারাল, হরর, মিস্ট্রি
সিজন- ৩ টা

একজনকে ঠিক কতটুকু ঘৃণা করলে আপনি তাকে নরকে পাঠাতে চাইবেন?
প্রশ্নটা আরেকটু বিস্তৃত করি – এরকম একটা সুযোগ যদি আপনার সামনে আসে তখন কি করবেন?
মানুষ নিজের চেষ্টায় তার ভাগ্য পরিবর্তন করে। কিন্তু এমন একটা পরিস্থিতি যদি হয় যেখানে কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয়? এবং সেটা যদি হয় হেল গার্লের?

ইন্টারনেটে একটা অদ্ভুত সাইট আছে যেটা ঠিক রাত ১২ টায় একটিভেটেড হয়। সেখানে আপনি আপনার সবচেয়ে অপছন্দের মানুষ যাকে আপনি নরকের নিকৃষ্টতম স্থানে পাঠাতে চান তার নাম লিখতে পারবেন। ঠিক তারপরেই আপনার সামনে এসে হাজির হবে হেল গার্ল –এনমা আই। হাতে একটা পুতুল।

সে জানাবে এই কাজের জন্য আপনাকে একটা মূল্য পরিশোধ করতে হবে সেটা হল- নরকে যেতে হবে আপনাকেও – অবশ্য সেটা স্বাভাবিক মৃত্যুর পর।

মানুষ কতখানি ডেসপারেট হলে নিজের ক্ষতি করে হলেও প্রতিশোধ নিতে চায়? এই প্রশ্ন নিয়ে আপনি অ্যানিমেটা দেখা শুরু করলে প্রশ্নটা বদলে যেতে পারে সময়ে সময়ে – ‘মানুষের মন-মানসিকতার কতটুকু পরিবর্তন ঘটলে এমন একটা কন্ট্রাক্ট সে করতে পারে?

এমনই একটা কাহিনী নিয়ে ‘জিগোকু সোওজো’ অ্যানিমে। একটু স্লো পেসের অ্যানিমে। বলতে গেলে সব এপিসোডই আলাদা আলাদা কাহিনী বেজড। একসময় বিরক্ত লাগাও অস্বাভাবিক না। কারণ প্রতিটা কাহিনীর প্যাটার্ন এর কোন বৈচিত্র্য নাই।

কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার মনে প্রশ্ন জাগবে কে এই জিগোকু সোওজো? কি তার উদ্দেশ্য? তার সাথের সহযোগীরাই বা কারা? আর কেই বা হাজিমে চান যার মেয়ের সাথে অদ্ভুত একটা মানসিক যোগাযোগ আছে এনমার?

যত সামনে আগাতে থাকবেন ততই কাহিনী এই প্রশ্নগুলার উত্তর দিতে থাকবে তখন বাজি ধরে বলতে পারি এক নিশ্বাসে অ্যানিমেটা দেখবেন।

এই অ্যানিমের আরও দুইটা সিজন আছে। আমি মোটামুটি শিউর প্রথমটা দেখে পরের সিজনও দেখতে চাইবেন। 🙂 অন্য সিজনগুলার কাহিনী আবার অন্যরকম। দেখে ভালো লাগবে।

আসলে সুপারন্যাচারাল ধাঁচের অ্যানিমে তো তাই লজিক টজিক পাবেন না এখানে 😛
খুব যে অসাধারণ অ্যানিমে তা না। তবে পড়ালেখা নিয়ে বিজি থাকলে একটানা টান টান উত্তেজনার অ্যানিমে দেখা রেজাল্টের জন্য খারাপ। তখন আরকি এরকম অ্যানিমে দেখতে পারেন যার দুই-তিনটা এপিসোড দেখে আবার পড়া রিস্টার্ট করতে পারবেন 🙂

না দেখার কারণ- প্রতিটা সিজনের বৈশিষ্ট্য অনেকটা এরকম – প্রথম দিকের এপিসোড গুলা হচ্ছে ছাড়া ছাড়া। একটার সাথে আরেকটার কোন সম্পর্ক নাই। তবে প্যাটার্ন পুরা একই। তখন একটু বিরক্ত লাগতেই পারে।

তবে শেষের দিককার এপিসোডগুলার পরস্পরের মধ্যে লিঙ্ক আছে। ঐগুলা দেখতে ভালো লাগে 🙂

ম্যাল রেটিং-
জিগোকু সোওজো- 7.89
জিগোকু সোওজো ফুতাকোমোরি- 8.16
জিগোকু সোওজো মিৎসুগানে – 7.9

Area no Kishi রিভিউ — Zakaria Mehrab

হেহ হেহ আসিয়া গেল আরেকটি ইয়া বিশাআল রিভিউ থুক্কু ড়িভিউ
>
>
>
>
এই বলে আমি একখান সুন্দর, সুললিত ড়িভিউ লেখতে চাইসিলাম , কিন্তু আপাততঃ যেইটা নিয়া ড়িভিউ লেখতে যাচ্ছিলাম ঐটা শেষ করার পর থেকে মেজাজ খিচড়ায় আছে , তাই সুন্দর সুললিত রিভিউ এর পরে ইহারে যথাসম্ভব ব্যবচ্ছেদ করা হইবেক

anime: The Knight in The Area (Area No Kishi)

episodes: 37

genre: Sports, Comedy, School, Shounen (জায়গায় জায়গায় shoujo ও মনে হইতে পারে)

অগ্রজ সুগুরু একজন ফুটবল জিনিয়াস এবং প্লেমেকার , অনূর্ধ্ব ১৫ জাপান টিমের সদস্য সে এবং প্রায় সবাই তাকে জাপানের ফিউচার বলে গণ্য করে । সুগুরু নিজেও স্বপ্ন দেখে যে সে একসময় ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি টা হাতে নিবে , তবে আপাততঃ তার প্রধান দুশ্চিন্তা হইল একজন আদর্শ স্ট্রাইকার খোঁজা নিয়ে , যে কিনা পেনাল্টি এরিয়ায় নির্দ্বিধায় শট নিতে ও গোল দিতে পারবে । তার ধারণা তার অনুজ কাকেরু ই হইতে পারে সেরকম আদর্শ স্ট্রাইকার (হম, পক্ষপাতিত্বের গন্ধ পাওয়া যাইতেছে) । কিন্তু সুগুরুর বলদ ভাই কাকেরু তার গুরুর আশা ভঙ্গ করে একটা দুর্ঘটনার পর সে ফুটবল খেলা ছেড়ে দেয় আর তার অগ্রজ এর স্কুলের সকার ক্লাবের বলবয় হিসেবে যোগ দেয় । যাই হোক তার ঘাড়ত্যারামি বেশিদিন টিকে না , কিছু ঘটনা- দুর্ঘটনার পর আবার সে ফুটবল খেলা শুরু করে , আর তার সাথে ঘটনাপ্রবাহে যোগ দেয় তার ছোটবেলার বান্ধবী নানা মিশিমা (হ হ , বুঝতে পারসেন তো ছোটবেলার বান্ধবী মানে কি, এখন হাসি থামান) । কাকেরু তার ভাই এর স্কুল চেঞ্জ করে নতুন আরেক স্কুল এ জয়েন করে এবং সেইখানকার ফুটবল টিম দিয়া তার যাত্রা শুরু করে এবং আমাদের কৃতার্থ করে ।
কাজেই এখন আপনিও তাকে কৃতার্থ করার জন্য হাতে ফুটবল আর পায়ে পপকর্ণ নিয়ে বসে যান এই এনিমেটি দেখতে……

-_- হম ফরমালিটি শেষ , এইবার শুরু করি এক ভুতুড়ে রেটিং সিস্টেম ……… (নিচের অংশ মোটামুটি পারসনাল রি একশান বলা যায় , কোন স্পয়লার নাই , তারপর ও কারো ডর লাগলে এইহানেই ইস্তফা দ্যান)
>
>
>
>
এনিমের প্রথম ৫ এপিসোড হচ্ছে বেশি ইমোশনাল , ট্র্যাজিক এনিমের শেষে যেইরাম ইমোশন এর ফোয়ারা ছুটতে থাকে এই প্রথম ৫ এপিসোড এ মোটামুটি দ্বিগুণ ফোয়ারা বইয়ে দেয় ; আপাতত স্পয়লার না দিয়া এর বেশি কিছু বলা যাইতেছে না , যাই হোক এই ৫ এপিসোড এর জন্য আমার রেটিং ৮/১০

এরপরের ৮-১০ এপিসোড হচ্ছে কাকেরুর নতুন ফুটবল টিম নিয়ে । তাহলে কি ভাবছেন ? এখন শুরু হবে আসল খেলা ? জি না , এই কয়েক এপিসোড এ যা হয় তারে খেলা না বইলা ভগী বললে বেশি ভালো হয় । অধিকাংশের ই হয়ত ফিফা ২০০২ ওয়ার্ল্ড কাপ গেইম টার কত্থা খেয়াল আছে । ঐ যে কিছু প্লেয়ার দের পাশে তারা আঁকা থাকে , মাঝমাঠের পর কোন এক জায়গায় তাদের পায়ে বল এনে দাও , ৫০০ মিলিসেকেন্ড ধরে D বাটন প্রেস কর , দরকার হলে গোলপোস্ট সামনে চলে আসবে , তাও গোল হবেই । এই কয়েকটা এপিসোডেও এমন তারকাখচিত খেলা দেখা যায় , যেইগুলা দেখিয়া আপাতত চারপাশে তারা দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না । বিল্ড আপ এর কোন বালাই নাই , হঠাৎ এরকম অমানুষিক খেলা দেখিয়া এই কথা মনে হওয়া খুব ই স্বাভাবিক যে কেন তারা ওয়ার্ল্ড কাপ না খেলে হাই স্কুল ফুটবল খেলছে !! স্পোর্টস এনিমে আর স্পোর্টস এনিমে নাই , সুপারপাওয়ার এনিমে হইয়া গেসে । তাই এই কয়েকটা এপিসোড এর জন্য আমার রেটিং ৫.৫/১০

তারপর ১৪-১৫ এপিসোড থেকে বলা যায় আসল স্পোর্টস এনিমের রেশ পাওয়া শুরু হয় । ভগী একেবারে নাই হয়ে যায় বলব না , কিন্তু সহনীয় পর্যায়ের ভগী , এট লিস্ট দেখে আর অনন্ত জলিল এর কথা মনে পড়ে না । এনিমেতে এতটুকু ভগী সহ্য করাই যায় , সব তো আর স্ল্যাম ডাঙ্ক এর মত না । মোটামুটি ৩০ এপিসোড পর্যন্ত ভালো একটা ফ্লো নিয়ে কাহিনী আগায় এবং এই অংশতে আমার রেটিং ৮.৫/১০

এরপর ৩০ থেকে শেষ পর্যন্ত দেখে যা মনে হল তা হইল , বাজেট শেষ হয়ে আসছে , এখন লাগাও জোড়াতালি । একটা কেবলমাত্র ভালো খেলা পাওয়া গেছিল এই কয়েক এপিসোড এ , আর বাকি সব হাইলাইটস , এমনিতে স্পোর্টস এনিমেতে শেষ বলে কিছু নাই, যত ইচ্ছা তত টানা যায় , কিন্তু একসময় শেষ করতে হয় । কিন্তু তারপর ও স্ল্যাম ডাঙ্ক কিংবা জায়ান্ট কিলিং যেরকম মোটামুটি একটা লেভেল এ যাইয়া শেষ করসে , এইটার ফিনিশিং সেই তুলনায় খুব ই এব্রাপ্ট , এবং এই মেজাজ খিচড়ানো ফিনিশিং এর জন্য যথাসম্ভব উদার হয়ে রেটিং দিলাম ৬.৫/১০

হে হে , এই অদ্ভুতুরে রেটিং সিস্টেম শেষ প্রায় , আরেকটু ধৈর্য ধরেন

এনিমের মাঝে মাঝে হঠাৎ করে নাদেশিকো জাপান মানে জাপান মহিলা ফুটবল টিম কেও ফোকাস করা হয়েছে । মানে একটু বেশি ই ফোকাস করা হয়েছে , এবং ১৫ এপিসোড এর পর মোটামুটি সব ভগী ই এই মহিলা ফুটবল টিম রে ঘিরে । এম্নিতে আমি জানি না জাপানের মহিলা ফুটবল টিম বা পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে যেইসব মহিলা ফুটবল টিম পারফর্ম করে তারা কেমন খেলে বা কিভাবে খেলে , তবে আর যাই হোক এই লেভেল এর খেলা যে খেলে না তাহা আমি মোটামুটি নিশ্চিত । একেকজন যেই হাফ ভলি , ফুল ভলি , ব্যাকহিল করে গোল দেয় ইহা যদি ইব্রাহিমোভিচ দেখিতেন তিনি হয়ত ফুটবল খেলা ছাড়িয়া আজ গম চাষ করতেন । ইব্রার ফুটবল ক্যারিয়ার কে এমনভাবে হুমকির মুখে ফেলার জন্য নাদেশিকো জাপান এর এই পার্টটুকুর রেটিং ৬/১০

খেলা চলাকালীন এনিমেশন গুলা যথেষ্ট ভালো , বিশেষ করে ড্রিবলিং এবং ফেইন্ট মুভগুলা । রেটিং ৮/১০

ফাইনালি, সব স্পোর্টস এনিমেতেই কিছু মাত্রার কমেডি এক্সপেক্টেড , এইহানেও সেইটা আছে , তবে খেলার মধ্যকার কমেডি খুব কম (যেটা স্ল্যাম ডাঙ্ক এ প্রচুর পরিমাণ এ) । কমেডির জন্য আলাদা এপিসোড আছে , খেলোয়াড় রা খেলা থেকে বিরতি নিয়ে কোথাও ঘুরতে গেল এরকম কিছু এপিসোড কমেডির জন্য বরাদ্দ । মোটামুটি এঞ্জয়েবল , বিশেষ করে ৩২ নম্বর এপিসোড টা কমেডির জন্য প্রাইসলেস । কমেডির জন্য রেটিং ৭/১০

অতএব শেষমেশ আমার রেটিং দাঁড়াইল ৭.১/১০

আর এইদিকে MAL সাহেবের রেটিং ৭.৪৫/১০ (আরেহ কাছাকাছি ই তো দেখি)

“So Lets enjoy soccer” (আমার কথা না কিন্তু , এনিমেতে কেউ একজন বলসে)

জি এতক্ষন ধৈর্য ধরে আপনার পিসি/ল্যাপ্টপ/মোবাইল বা অন্যকিছুর স্ক্রিন না ভেঙ্গে এই আজাইরা জিনিস পড়ার জন্য ধন্যবাদ । 😀 ড়িভিউটি শেষ হইল (বাপ্রে বাপ)

Shinsekai Yori রিভিউ — Amin Haque Isha

tumblr_na4i54LQie1taipg7o1_1280

Anime Walkthrough With Shadowgear #1
Anime Name : Shinsekai Yori
English Synonym: From The New World
Episode: 25
Mal Score: 8.52
Ranked: #89
Personal Rating: 9/10
Genres: Drama, Horror, Sci-Fi, Supernatural

ভবিষ্যৎ। শব্দটা শুনলেই চোখে ভাসে সুউচ্চ দালান,অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, স্বয়ংক্রিয় জীবন ব্যবস্থা । উন্নত এক সমাজ। কিন্তু এমন ভবিষ্যৎ কি কল্পনা করা যায় যেখানে মানুষ বাস করছে গ্রাম্য এক পরিবেশে । গ্রামীণ এক সমাজ ব্যবস্থা যেখানে মানুষ মানুষ এর কোন ক্ষতি করতে পারে না। সমাজে এ অসাধারণ শান্তি বিরাজ করছে। কিন্তু তাতেও রয়েছে এক অকল্পনীয় কাল রহস্য । আর এই এক অসম্ভব অদ্ভুত এক কাহিনি নিয়ে হাজার বছর পরের ভবিষ্যৎ কে ঘিরে গরে উঠেছে Shinsekai Yori এর স্টোরি।

হাজার বছর আগের মানুষ এর গবেষণার সফলতায় মানুষ পায় cantus নামক এ ক্ষমতা। আর এই ক্ষমতাকে নিয়েই সৃষ্টি হয় মানব্জাতির এক রক্তাক্ত অতিত। হাজার বছরের পথচলায় মানুষ গড়ে তোলে হানাহানিবিহীন এক নতুন গ্রাম্য সমাজ । এই গ্রামের ই এক মেয়ে ওয়াতানাবি সাকিকে ঘিরেই গল্পের সূচনা। ভয়ঙ্কর এক নিয়মের মাঝে নিজেদের জীবনের এক অকল্পনীয় সত্য জানতে পারা ও নিজেদের বন্ধুত্ত কে অটুট রাখার এক সুন্দর চাওয়াকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চমৎকার ভাবে। ভয়, ক্ষতি, আশা , বিশ্বাসঘাতকতা. ইচ্ছা, ক্ষমতা, মিথ্যা, এবং পরিপূর্ণতা এর এক অসাধারণ সুন্দর মিশ্রণে আনিমে টি সত্তিই অতুলনিও হয়ে উঠেছে।

আনিমে টিতে চরিত্র গুলকে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে । প্রতিটি চরিত্রেরই ছিল নিজস্ব বিচিত্রতা ও গুরুত্ত। প্রতিটি ডায়ালগ ছিল সুন্দর ও সার্থক। বাকগ্রাউনড মিউজিক গুলো স্টোরি কে ফুটিয়ে তুলেছে অসাধারণ ভাবে। তাছারা কান্না করানোর মত সিন এর নিশ্চয়তা তো আছেই! [আমার নিজেকেই কাঁদতে হয়েছে অনেকবার]

আনিমেটির গ্রাফিক্স অত্তন্ত মনমুগ্ধকর । বিশেশত ব্যাকগ্রাউন্ড Scenery গুলো তো এক কথায় চমৎকার। আর স্টোরি টা তো অবিশ্বাসো রকম অস্থির। প্রতিটা এপিসোড শেষে পরের এপিসোডে না দেখলেই নয়। [আমি নিজে ৬ ঘণ্টা টানা দেখে শেষ করসিলাম 😛 ] ইউনিক ক্যারেক্টার ডিসাইন, অসাধারণ আর্ট ও সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আনিমেতাকে এক অন্য লেভেল দিয়েছে। মজার বেপার হল আনিমে টিতে কোন ওপেনিং মিউজিক নেই । তবে এইনডিং মিউজিক টা জটিল। প্রতিটা এপিসোড এই আমাকে এই মিউজিক টা শোনা লেগেছে আর এন্দিং টাতো আপনাকে নিয়ে যাবে ভাললাগার এক অন্য দুনিয়ায় টা তো নিশ্চিত।

তাই এই কথাটা বলতে পারি, নানান টুইস্ট , ফিলস, ট্রাজেডি, হ্যাপিনেস, সেডনেস , অশাধারন ব্যাক গ্রাউন্দ এ ভরপুর এই আনিমে টি দেখার সময় কাউকেই নিরাশ হতে হবে না।
তাই দেরি না করে দেখে নিন আপনার জীবনের এক অসম্ভব ভাল লাগার মত আনিমে।
[আমাকে পরে ধন্নবাদ দিলেও হবে 😛 ]