হানাসাকু ইরোহা রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

tumblr_mb3x3lVTdH1qzd219o1_500

হানাসাকু ইরোহা দেখে শেষ করলাম। শুরু থেকেই আর্ট এবং ক্যারেক্টার ডিজাইন দেখে আমার তারি তারি অ্যানিমেটার কথা মনে পড়ছিল, ম্যাল ঘেটে দেখলাম যা ভেবেছি তাই; দুটো অ্যানিমে একই স্টুডিওর বানানো। পিএ ওয়ার্কস স্টুডিওটির জন্য মোট ৩৪ টি টাইটেলের এন্ট্রি পেলাম (সেকেন্ড সিজন, ওভিএ, মুভির হিসাব সহ) এর মাঝে এঞ্জেল বিটস, এনাদার, শার্লট, শিরোবাকো নামগুলো চোখে পড়ল। হানাসাকু ও তারি তারির আর্ট খুব সুন্দর লেগেছে আমার, কিন্তু শার্লট আর এঞ্জেল বিটস সে তুলনায় অনেক বেশি সুন্দর আর ঝকঝকে ছিল।

ohana

স্টুডিও বন্দনা শেষ, এখন আসি হানাসাকু ইরোহা অ্যানিমেটির কথায়।

Hanasaku_Iroha

ওহানা একজন হাইস্কুল স্টুডেন্ট, মায়ের সাথে টোকিওতে থাকে। ওহানার মা একজন সুন্দরী ও খুবই খামখেয়ালি ধরণের মানুষ, ওহানার ওপর ঘর সামলানোর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে সারাক্ষণ নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এভাবেই চলছিল মা-মেয়ের সংসার, কিন্তু একদিন হঠাৎ বাধল বিপত্তি। ওহানার মা ও তার ছেলেবন্ধু একদিন ঠিক করলেন, চাঁদের আলোয় বাড়ি ছেড়ে পালাবেন তারা একজন আরেকজনের হাত ধরে। কারণ তাদের পেছনে লেগে আছে পাওনাদারেরা! ওহানাকে নিয়ে পালানো সম্ভব না, তাই ওহানার মা তাকে ধরিয়ে দেয় একটি “অনসেন ইন” এর ঠিকানা, যেটির মালিক ওহানার নানী। নিরূপায় ওহানা তার টোকিওর বন্ধুবান্ধব ও জীবনযাত্রা ছেড়ে রওনা দেয় ছোট শহরের সেই অনসেনের উদ্দেশ্যে।

অনসেনে যেতে যেতে ওহানা যা ভাবছিল, সেখানে গিয়ে তার কিছুই হল না। ওহানার নানী একজন কর্মপাগল মহিলা, কাজের বাইরে কোন কিছুই চোখে পড়েনা তার। ওহানার নতুন জীবন শুরু হল একজন অনসেন ওয়েইট্রেস হিসেবে, আর আস্তে আস্তে সে পৃথিবীটাকে নতুন রূপে দেখতে শিখল।

iroha

স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমের গতানুগতিক প্যাটার্নের চেয়ে এই অ্যানিমেটি অন্যরকম, এখানে শান্তিময় জীবনের ওপর ফোকাস করা হয়নি, বরং ওহানার জীবনের সংগ্রামগুলোর ওপর ফোকাস করা হয়েছে। শুরুটা বেশ সিরিয়াসভাবে হয় এই অ্যানিমের, কিন্তু পরে ওহানা কাজের মাঝে যেভাবে আনন্দ খুঁজে নেয় ও সবার সাথে মিলেমিশে কাজ করে, তা দেখে খুব ভাল লাগে। হাসার মত অনেক ভাল ভাল মোমেন্ট আছে অ্যানিমেটিতে। ক্যারেক্টারগুলো খুব সহজেই আপন হয়ে যায়, কখন যে ওদের সাথে আপনিও কিসসুইসোর অংশ হয়ে গেছেন, টের পাবেন না।

আর্টের ব্যাপারে আগেই বলেছি, প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওএসটি মানানসই, অ্যানিমের বিভিন্ন মুডকে ফুটিয়ে তুলেছে। ভয়েস অ্যাক্টিং টা আমার অনেক ভাল লেগেছে, প্রতিটি ক্যারেক্টারের সাথে কণ্ঠ খুব সুন্দর মানিয়েছে।

অ্যানিমেটির এন্ডিং টা একটু আশাহত করতে পারে অনেককে, তবে রিয়েলিস্টিক এন্ডিং হিসেবে আমার ভাল লেগেছে। এছাড়া পুরো ২৬ পর্বে এত এত ছোট ছোট কিন্তু সুন্দর সব ঘটনা ঘটে, সেগুলো সবই অ্যানিমেটিকে মনে রাখার মত একটি সিরিজে পরিণত করেছে। তাই সবাইকে সাজেস্ট করব এই সুন্দর অ্যানিমেটি দেখতে।

Hanasaku.Iroha.full.837892

Studio Monogatari: Episode 04

Tezuka Productions

Tezuka Logo.ai

১৯৬৮ সালে মুশি প্রোডাকশন ছেড়ে বের হয়ে এসে ওসামু তেজুকা প্রতিষ্ঠা করেন তেজুকা প্রোডাকশনস। মুশি প্রোডাকশন ছেড়ে দিয়ে তেজুকা প্রোডাকশন তৈরির কারণ কিন্তু এই না যে সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, বরং তেজুকা নিজের মত করে কাজ করবার জন্যে মুশি প্রোডাকশনের একটি স্পিন-অফ প্রতিষ্ঠান হিসাবে তেজুকা প্রোডাকশন প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুর দিকে স্টুডিওটি মুশি প্রোডাকশনের বিভিন্ন অ্যানিমেশন কাজের সাবকন্ট্রাক্ট নিয়ে কাজ করতো। ১৯৭৩ সালে মুশি প্রোডাকশন দেউলিয়া হয়ে যাবার পর তেজুকা প্রোডাকশনের পূর্ণ উদ্যোমে ব্যবসা শুরু করে এবং মুশি প্রোডাকশনের আনিমে ও মাঙ্গার কপিরাইট নিয়ে নেয়।

তেজুকা প্রোডাকশনের একদম প্রথম দিকের নিজস্ব কাজের মধ্যে অন্যতম হল Fushigi na Merumo (Marvelous Melmo), যা সেই সময়ের অন্যতম বিতর্কিত টিভি সিরিজ ছিল। আনিমেতে “panchira” জিনিসটি নিয়ে আনার পিছনে যেসব আনিমের অবদান রয়েছে তার মধ্যে একদম শুরুর দিকে ছিল এই সিরিজটি, একই সাথে বাচ্চাদের উদ্দেশ্য করে বানানো হলেও ওসামু তেজুকার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল সিরিজটিকে শিশুদের জন্যে introductory sex education হিসেবে নিয়ে আনা। বলার অপেক্ষা রাখে না সেই সময়ে সিরিজটি নিয়ে বাবা-মাদের মধ্যে অনেক ঝড় তুলে।

মুশি প্রোডাকশন অ্যাস্ট্রো বয় সিরিজটি নিয়ে আনলেও তাদের অ্যাস্ট্রো বয় মুভিটি নিয়ে ওসামু তেজুকা বেশ অসন্তুষ্ট ছিল, একারণে তেজুকা প্রোডাকশনের হয়ে ১৯৮০-১৯৮১ সালে নতুন করে আবার অ্যাস্ট্রো বয়-এর আনিমে নিয়ে আসে।

তেজুকা প্রোডাকশনের কিছু আনিমে-

  • ১৯৭০-১৯৮০: Marvelous Melmo, Jetter Mars
  • ১৯৮০-১৯৯০: Astro Boy, Aoi Blink, The New Adventures of Kimba the White Lion
  • ১৯৯০-২০০০: The Three-Eyed One, Oniisama e…, Black Jack OVA, Black Jack the Movie
  • ২০০০-২০১০: Astro Boy (2003-2004), Hi no Tori, Black Jack (TV)
  • ২০১০-বর্তমান: Sengoku Musou, Young Black Jack, The Life of Budori Gusuko, Kumi to Tulip

এছাড়াও Madhouse-এর সাথে যৌথভাবে Mokke, TMS Entertainment-এর সাথে Genji Monogatari Senneki এবং MAPPA এর সাথে Sakamichi no Apollon তৈরি করে তারা।

Tezuka Collage 3

 

 

Shin-Ei Animation (Shin-Ei Douga)

shinei

 

অনেক বেশি পর্বের কিছু আনিমের কথা কল্পনা করুন, যেগুলি অনেক অনেক বছর ধরে সব শ্রেণীর দর্শকের মন জয় করে আসছে… খুঁজে পেয়েছেন এমন কিছু সিরিজ?

 

ডোরেমন, নিঞ্জা হাতোরি, পারম্যান, হাগেমারু, আতাশিন’চি, ক্রেয়ন শিন-চান… আনিমে দর্শকদের একটা বড় অংশের ক্ষেত্রেই শৈশবকাল থেকে দেখে আসা এসব সিরিজ তৈরি করেছে যেই স্টুডিওটি তা হল শিন-এই দৌগা। ১৯৭৬ সালে তোয়েই অ্যানিমেশনের একজন প্রাক্তন অ্যানিমেটর, দাইকিচিরো কুসুবে শিন-এই দৌগা স্টুডিওটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই ১৯৭৯ থেকে ডোরেমন এবং ১৯৯২ থেকে ক্রেয়ন শিন-চান যে চলা শুরু করেছে তা এখনও থামার নাম নেই। ডোরেমনের তো সিরিজের পাশাপাশি মুভিও বের হয় অনেক। আর শুধু এগুলোই নয়, বরং একের পর এক শতাধিক পর্বের সব বয়সী দর্শকের উপযোগী আনিমে বানিয়ে আসা এবং একই সাথে সেগুলি খুব জনপ্রিয় করে তুলতে পারার ক্ষমতা আসলেই বিশেষ কিছু!

 

শিন-এই দৌগার কিছু জনপ্রিয় আনিমে-

  • ১৯৭০-১৯৯০: Doraemon, Kaibutsu-kun, Ninja Hattori-kun, Fukuchan, Perman, Obake no Q-taro, Hagemaru-kun
  • ১৯৯০-২০০০: Crayon Shin-chan, Dororonpa!, Manmaru the Ninja Penguin, 21 Emon
  • ২০০০-বর্তমান: Atashin’chi, Ninja Hattori-kun (2004-2008), Ninja Hattori-kun (2013-বর্তমান), Tonari no Seki-kun, Denkigai no Honya-san, Kaitou Joker
  • মুভি: Summer Days with Coo, Crayon Shin-chan-এর ২৫টার মত মুভি এবং Doraemon-এর ২০-২৫টা মুভি

 

 

আর কিছু হোক না হোক, অনেকের শৈশবকাল গড়ে তুলার পিছনে শিন-এই দৌগার ভূমিকা কোনভাবেই অগ্রাহ্য করা যায় না। শিন-এই দৌগার তৈরিকৃত আনিমেগুলি দেখলে বুঝা যায় বাচ্চাদের টার্গেট করে তৈরি সিরিজই তাদের কাজের প্রধান অংশ। যদিও এসব সিরিজ এমনই যে বড়রাও তা উপভোগ করতে পারে [যেমন টম-এন্ড-জেরি, লুনি টুন্স সব বয়সী দর্শকদের জন্যেই, এগুলিও তেমনই]।

Shin-Ei Collage 3

 

 

এনিমে রিভিউ: Barakamon — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Barakamon 1

একজন সাধারন মানুষের জীবনে লক্ষ্য কি !? ছাত্রবস্থায় পরীক্ষায় ভালো করা , এক্সট্রা কারিকুলার একটিভিটে ভালো করা , ভালো কলেজে চান্স পাওয়া , ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া , মানে সবমিলিয়ে খ্যাতিমান হওয়া , অনেকের মাঝে স্ট্যান্ড আউট করা । কিন্তু এই অসংখ্য কিছু করার তাগিদে আপনার জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারিয়ে যাচ্ছে না তো ?! হঠাত্‍ করে যদি কোন এক কারণে আপনি যদি উপলদ্ধি করেন যে আপনি কি হারাচ্ছেন , আপনি আপনার আশেপাশে লুকিয়ে থাকা রত্নগুলো , জীবনকে উপভোগ করার আসল রহস্য আপনার সামনে এসে পরে তাহলে কেমন হবে ? তেমনি এক যুবক হানদার হাসিখুশি জীবনের আসল মানে খুঁজে পাবার যাত্রা নিয়ে এনিমে বারাকামন ।
হানদা এক ২২বছর বয়সী বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার । বেশ কম বয়সেই সে ক্যালিগ্রাফির জন্য সুপরিচিত । বাপকা বেটা অর্থাত্‍ হানদা বাবার মতই ক্যালিগ্রাফার । তো একদিন এক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বাধলো বিপত্তি । প্রদর্শনীর পরিচালক হানদার ক্যালিগ্রাফী দেখে বলে যে হানাদা তার বাবার স্টাইল কপি করে সাফল্য পাচ্ছে , তাতে নেই কোন নতুনত্ত্ব । তো হানদা বেশ রগচটা বা একটু রিএকশান বেশিই করে । বলা নেই কওয়া নেই , হানদা বুড়া পরিচালকের গালে বসিয়ে দিল বিরাশি সিক্কির ঘুষি । যথারিতী তার বাবা তাকে এক নির্জন দ্বীপে বনবাসে পাঠিয়ে দিল মাথাটা ঠান্ডা করার জন্য এবং আরও একটা গোপন কারনে যেটা হানদা জানেনা । তো শহুরে ছেলে হানাদা গ্রামে এসে ঠিক সুবিধে করে নিতে পারছিল না । কিন্তু নতুন বাড়িতে উঠতে গিয়ে পরিচয় হল গ্রামের দস্যি মেয়ে নারুর সাথে , মিষ্টি এই দস্যি মেয়ে অপরিচিত এই শহুরে শাট ইনকে কয়েকঘন্টার মধ্যেই আপন করে নেয় । এবং সাথে গ্রামের সকলে তার সাথে পরিচিত হতে আসে । প্রথমে হানাদা মন খারাপ করলেও পরে সে বলে “দিনগুলো মনে হয় খারাপ কাটবে না ,, । ডাকাতসর্দারের মেয়ে মিওয়া , অতিবুঝা শখের মাঙ্গাকা তামা , অতি কিউট হিনা আর গ্রামের চ্যাংড়া পিচ্চির দলের জ্বালাতনে কখোনো বিরক্ত , কখোনোবা নিজেই তাদের সাথে বাদরামিতে নেমে পরা । যেই হানদার জীবনে এক কাওয়াফুজি ছাড়া আর কোন বন্দ্ধু ছিল না আজে তার জীবন যেন এই দস্যিদের ছাড়া ফাঁকা হয়ে যাবে । নারুর কাছ থেকে , এই গ্রামের কাছ থেকেই সে ক্যালিগ্রাফিকে নিজের স্টাইলে করার চেষ্টা করে । হানাদা সেনসে কি পারবে তার জীবনের খারাপ মুহূর্তগুলোকে ভুলে নতুন একজন হয়ে উঠতে !?
বারাকামন আমার দেখা সেরা স্লাইস অফ লাইফ এনিমে । এই এনিমেতে রোমান্সের র ও নেই যা বিরল । এর আর্ট স্টাইল খুবই সুন্দর .আছে দম ফাটানো কমেডি এবং ক্যারেকটারগুলোও অস্থির । এর ওপেনিং গানটা একবারও স্কিপ করার না । এই এনিমে দেখার পর একটা কথাই মনে হবে
“দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া , ঘরের বাইরে দু পা ফেলিয়া ,,
হানাদার অবস্থা অনেকটা আরণ্যক গল্পের নায়কের মত , প্রথমে গ্রামে এসে ভাবছিল কেমন করে শহরে পালাবে আর ২বছর পর ভাবছে শহরের গন্ডগোল থেকে পালিয়ে কেমন করে গ্রামে ফিরে যাবে । হয়ত এই এনিমে দেখার পর আপনারও মনে হবে আমি কি কিছু হারাচ্ছি !?
তো এই এনিমে দেখুন এবং অসাধারন এক যাত্রায় সওয়ার হন এবং নারু নামক এক দস্যি মেয়ের ভক্ত হয়ে যান ।
রেটিং :১০/১০ ।

Barakamon 2

Claymore রিভিউ — Rafiul Alam

Claymore

আপনি কি এনিমে দেখায় অরুচিতে ভুগছেন? সহজ, কিন্তু অসাধারণ কোন গল্প সন্ধান করছেন? ডার্ক, ফ্যান্টাসি এবং মেডিভ্যাল‍ কিছুর জন্য ক্রেভিং হচ্ছে?
তাহলে উপরের সকল অসুখের ডোজ হিসেবে ২৬ এপিসোডের ক্লেইমোর (বা ক্লেমোর) সেবন করুন!
এর কার্যকরীতার প্রমাণ এই আমি নিজেই।
ক্লেইমোর একটি অসাধারণ সংগ্রাম, সাহসিকতা এবং মনুষ্যত্বের গল্প, যা তার স্বকীয় শৈল্পিকতা অর্জন করেছে দৃষ্টিকটু কিছু ব্যাপার থাকা সত্ত্বেও। ম্যাডহাউজ তৈরীকৃত আনিমেটি প্রচারিত হয় ২০০৭ সালে, মাংগার কাহিনী অসম্পূর্ণ রেখেই, ২৬ টি এপিসোডে।আমি সাব দেখেছি, ডাবও শুনেছি। সাব>ডাব মনে হয়েছে, তবে আপনার ব্যাক্তিগত পছন্দকে গুরত্ব দেয়ার অনুরোধ করব।
ক্লেইমোর শব্দ দিয়ে মূলত মধ্যযুগীয় স্কটিশ তলোয়ারকে বোঝায়। এনিমেতে ঠিক সেই তলোয়ারই দেখানো হয়েছে।

Synopsis : ঘটনার প্রেক্ষাপট মধ্যযুগের ইউরোপ। যেখানে মানুষের জীবন বিপন্ন ইয়োমার কারণে। ইয়োমা হল এক ধরনের নরখাদক রাক্ষস, যারা কিনা মানুষের রূপ ধারন করে মানুষের মাঝে মিলেমিশে থাকতে পারে। মহাবিপদ! এখন এই রাক্ষসের উপদ্রব থেকে মানুষজনের উদ্ধার পাওয়ার একমাত্র সম্বল হল কয়েকজন নারীযোদ্ধা, যাদের সাধারণ মানুষজন ক্লেইমোর বলে ডাকে।
ঘটনার শুরুতে, এক জনপদে ইয়োমার আক্রমণে ৬ জন নিহত হয়। ফলে সেখানে ক্লেইমোর বাহিনীর আগমণ ঘটে। ক্লেইমোরদের ইয়োমাবিনাশী ক্ষমতা, শক্তিশালী দৈহিক গঠন, অতিরিক্ত ফ্যাকাশে ত্বক, এবং অস্বাভাবিক চোখের রঙের কারণে মানুষজন তাদের ভয়ের চোখে দেখে। কিন্তু ইয়োমার কাছে পরিবার হারানো অসহায় ছেলে রাকি ক্লেইমোরদের সাধারণ মানুষদের থেকে আলাদা নজরে দেখে না। ফলে রাকি, ক্লেয়ার নামের এক ক্লেইমোরের পিছু নেয়। ঘটনার আবর্তনে ক্লেয়ার আর রাকি নানামুখী প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়। ফলে চরিত্রগুলোর সাথে দর্শকদের বন্ধন তৈরী হওয়ার পাশাপাশি ঘটনার প্রবাহ ত্বরান্বিত হয়। একই সাথে দর্শকদের কাছে ক্লেইমোরদের উদ্দেশ্য, গাঠনিক নিয়মাবলী পরিষ্কার হয়। নামবিহীন ‘দ্যা অর্গানাইজেশন’ এর কলকাঠি নাড়াচাড়া স্ক্রিনে আসলে গল্পেটি আরেক দিক থেকে দেখার সু্যোগ হয়। কাহিনী যত এগোয়, নতুন নতুন চরিত্র ও তাদের উদ্দেশ্য উন্মোচিত হয়। গল্পের যে দিকটি নজর কেড়েছে , তা হল এখানে চরিত্রগুলোর উদ্দেশ্য খুবই সহজে বোঝা যায়, কিন্তু গভীরতার দিক থেকে কোন অংশেই কম না। এবং অসাধারণ পেসিং থাকার কারণে কাহিনীর সমাপ্তি না জেনেও এনিমের একটি ভাল সমাপ্তি আশা করতে পারেন।

Theme setup, Animation and Music : ইউরোপের প্রকৃতি, তুষার, মধ্যযুগের পাথরের স্থাপত্য ও ধর্মীয় বিশ্বাস সবই বেশ বাস্তবিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আনিমেতে পরিমিত সূর্যের আলো দেখানোর ফলে গথিক একটা ভাইব তৈরী করতে পেরেছেন নির্মাতারা। যা আমার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অবচেতনভাবেই দর্শক মনে প্রভাব ফেলবে এর সিনগুলো। অসাধারণ আর্টওয়ার্ক যাকে আরও এম্প্লিফাই করেছে। তবে এনিমেশনের কিছু কিছু ব্যাপার দৃষ্টিকটু ছিল। বিশেষ করে একশন সিনগুলিতে রক্ত পড়াকে ফোয়ারার মত দেখানো হয়েছে। আবার অনেক সময় একশনগুলি বেশি অবাস্তব মনে হওয়াও অসম্ভব নয়। অবশ্য তামিল মুভির ভক্ত হলে অনুভূতি ভিন্ন হতে পারে।
এবার আসি মিউজিকে। এনিমেটির ঝাকানাকা অপেনিং খুবই মনোমুগ্ধকর লেগেছে আমার কাছে। ফোক মেটালের এন্ডিং আরও বেশি পারফেক্ট ছিল, পুরো এনিমেটির সাথে খুবই, খুবই ভালভাবে মানিয়ে যায়। তবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যাবহার অনেক সময় খাপছাড়া মনে হয়েছে। অনেক সময় দুটি ট্র‍্যাক গ্যাপ ছাড়া কন্টিনিউয়াসলি প্লে করা হয়েছে। এমন সাডেন চেঞ্জে কোন কোন দৃশ্যে দর্শকের ফিলিংস কনফিউজড হয়ে যায়। তবে আমি বলব, গ্লিচগুলিকে অভারলুক করা গেলে ক্লেইমোর আপনার জন্য নিঃসন্দেহে উপভোগ্য হবে।

Characters Setup : এনিমেটির ক্যারেক্টার বিল্ডআপ এর সবচেয়ে মুল্যবান দিকগুলোর একটি। কোন ফাইট শেষ হওয়ার পর তার আগের ফাইটকে খুবই নগণ্য মনে হয়েছে। ক্লেয়ার চরিত্রটি অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। চরিত্রগুলি বেশ জীবন্ত মনে লেগেছে। যদিও রাকি চরিত্রটি বিরক্তিকর লাগতে পারে অনেকের কাছে। কাহিনীতে তেরেসা, মিরিয়া, ডেনেভ, আইরিন, অফিলিয়াসহ প্রচুর চরিত্র আছে, কিন্তু তাদের স্টোরি ঠিক যতটুকু স্পটলাইট ডিসার্ভ করে, ততটুকুই দেয়া হয়েছে। একই সাথে চরিত্রগুলির স্বতন্ত্রতা বজায় ছিল, ফলে মনে রাখা সহজ হয়।

Overall Rating :
MyAnimeList.net : 7.95/10
IMDb Rating : 8.1/10
My Rating : 8.6/10

Opening:

https://www.youtube.com/watch?v=umgoE_SASK0

Ending:

 

Great Teacher Onizuka (GTO) রিভিউ — Mahbub Yusuf

GTO 1 GTO 2

Name: Great Teacher Onizuka (GTO)
Genres: Comedy, Drama, School, Slice of Life

মাত্রই দেখা শেষ করলাম Great Teacher Onizuka। এত সুন্দর আর সিম্পল কাহিনীর এনিম দেখব তা প্রথমে ভাবতে পারিনি । এনিমেতে মূলত আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যাবস্থার মধ্যে যে গলদ্গুলি আছে তাই বিভিন্ন কৌতুকপূর্ণ আর হাস্যরসাত্মকভাবে সবার সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
ছাত্র- শিক্ষকের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত ?
শিক্ষকের কাজ কি শুধুই বইয়ের পাতা আর স্কুলের গন্ডির মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত?
আমাদের অধিকাংশের অভিজ্ঞতাই বলে শিক্ষকরা আমাদের সেকেন্ড অভিভাবক তবে খুব কম শিক্ষককেই বন্ধু হিসেবে দেখা যায় যার পরিমান আসলেই অনেক কম। আর বইয়ের পাতা আর স্কুল কলেজের গন্ডির বাইরে শিক্ষকদের তেমন এক্টিভিটিও চোখে পড়ে না।

মূলত শিক্ষক- ছাত্রদের সম্পর্ক এই এনিমেতে নিখুতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ছাত্র-শিক্ষকের খুনসুটি, একশন, বাইক রেসিং ,কার চেজিং, রোমান্স কমেডীর কমপ্লিট প্যাকেজ Great Teacher Onizuka।

GTO 3

Eikichi Onizuka যে কিনা ছাত্রজীবনে একজন গ্যাংস্টার বাইক রাইডার ছিল। যার স্বপ্ন জাপানের গ্রেটেস্ট টিচার হওয়ার। তবে তবে প্রথাগত ভাবে তার শিক্ষক হবার ইচ্ছা নেই, বরং প্রথার বাইরে থেকে Great Teacher Onizuka হবার স্বপ্ন তার। তবে সেই স্বপ্ন পুরনে শুরু থেকেই বাধার সম্মুখীন হতে থাকে । আর সেই সকল বাধাও সে তার বুদ্ধিমত্তার সাথে এক এক করে পার হতে থাকে আর সকলের কাছে ধীরে ধীরে Great Teacher Onizuka হিসেবে পরিচিত হতে থাকে।

Eikichi Onizuka কে নিয়ে বলতে গেলে শুরুতেই বলতে হয় সে একজন পারভার্ট যার টার্গেট শুধুমাত্র হাইস্কুলের সুন্দরী ছাত্রীদের পড়ানো। একজন ২২ বছর বয়সী ভার্জিন , মার্শাল আর্টিস্ট। সৎ, গ্রেট সেন্স অফ হিউমার, গ্রেট সেন্স অফ জাস্টিস এই গুনগুলো ভালভাবেই তার রপ্ত করা। তার ছাত্রছাত্রীরা কোন ধরনের সমস্যায় পড়লে সে সবার আগে এগিয়ে যায় , কখনও নিজের জীবন বাজি রেখে কখনও বা নিজের পেশা। ছাত্রছাত্রীদের বিপদের সময় কোন কিছুর পরোয়া করে না। এই ব্যাপারে বলতেই হয় সে তার সর্বোচ্চ ডেডিকেশন দেয়ার চেষ্টা করে। আর এটাই তার প্রধান শক্তিশালী পয়েন্ট। তাকে কখনও দেখা যায় তার স্টুডেন্টদের সাইকোলজিস্ট হিসেবে, কখনও বা বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে। কখনও হাতি কখনও বা ড্রাগন সেজে স্কুলে ঘুরে বেড়ায়। আবার ক্লাসের মাঝে সিগারেটের ধোয়া উড়াতে উড়াতে লেকচার দিতে দেখা ।

এই এনিমেটি ভাল লাগের আরেকটি GTO 4কারন পার্শ্ব চরিত্রগুলোর ডেভেলপমেন্ট। প্রতিটি ক্যারেক্টেরে ডেভেলপমেন্ট যথেষ্ট ভাল । প্রতিটি ক্যারেক্টারের আলাদা আলাদা বিশেষ গুণ আছে যা কিনা ভিউয়ারদের যথেষ্ট আকৃষ্ট করে। Yoshito Kikuchi , Urumi Kanzaki, Noboru Yoshikawa, Kunio Murai এদের কাউকেই কারও চাইতে কম বলা যায় না। সবার ইন্ডিভিজুয়ালি ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট এনিমএকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

আর এনিম দেখা শুরু করলে কখন শেষ হয়ে যায় তা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন না । যদিও এনিম মাঙ্গার অর্ধেক কাভার করেছে , পুরো এডাপ্টেশন করেনি এটাই একমাত্র খারাপ লাগার কারন ।

MAL Rating : 8.8
Personal Rating : 9

হ্যাপি এনিম ওয়াচিং

জিগোকু শৌজো রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

জিগোকু শৌজো / হেলগার্ল সিজন ১ দেখে শেষ করলাম। শুরু করেছিলাম অনেকদিন আগে, প্রায় আট নয়মাস হবে। শুরুর দিকে খুব ইন্টারেস্টিং লাগছিল, কারণ মানুষের মনের কদাকার রূপগুলোকে খুব বাস্তবসম্মত ভাবে তুলে আনা হয়েছিল, মনে কিছুটা চাপও পড়ছিল। কিন্তু ১০-১১ টা পর্যন্ত দেখার পর আবিষ্কার করলাম, জিনিষটা বেশ বোরিং হয়ে গেছে, কারণ প্রতি এপিসোডের কাহিনী একইরকম। ভয়াবহ রিপিটেশন দেখে বোর হয়ে তখন আপাতত বাদ দিয়েছিলাম, এতদিন পর অবশেষে বাকি এপিসোড গুলো দেখলাম। এবং দেখে স্বস্তি পেলাম যে, রিপিটেশন পুরোপুরি দূর না হলেও, শেষদিকে হাজিমে ও তার মেয়ে সুগুমির কাহিনী ইনক্লুড হওয়ার কারণে জিনিষটা অনেক ইন্টারেস্টিং ভাবে শেষ হয়েছে।

ভেবেছিলাম অল্প কথায় রিএকশন লিখে পোস্ট করব, এখন দেখছি বলার মত অনেক কথা মাথায় ঘুরছে। রিভিউ লিখেই ফেলি ছোট করে।

Enma.Ai.full.722587

পৃথিবীতে যতদিন মানুষ থাকবে, ততদিন অন্যায়, অত্যাচারও থাকবে। দুর্বলেরা নির্যাতিত হবে, তাদের অধিকার খর্ব করা হবে, আর সবলেরা অন্যায়ভাবে সুবিধা ভোগ করবে। ন্যায়বিচার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক দিবাস্বপ্ন; নির্যাতিতের মনে তাই জ্বলতে থাকে প্রতিশোধের আগুন। ক্লাসে আপনার পাশে বসা মেয়েটিই হয়ত আরেকটি মেয়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইচ্ছামত তাকে দিয়ে অন্যায় করিয়ে নিচ্ছে, আপনি টেরও পাচ্ছেন না। অথবা পাশের বাড়ির যে মহিলাটিকে কিছুদিন আগে দুশ্চরিত্রা অপবাদ দেয়া হল, কেউ খোঁজ নিয়েও দেখল না যে বাস্তবে সে কত বড় ষড়যন্ত্রের শিকার। কিংবা হাসিমুখে আপনাকে সাহায্য করতে আসা প্রতিবেশীটি হয়ত মনে মনে আপনার ক্ষতি করার প্ল্যান নিয়ে এসেছে, আপনি যখন জানবেন, ততক্ষণে সব শেষ, কিচ্ছু করার নেই।

এইসব মানুষ কি তাহলে কোনদিন ন্যায়ের দেখা পাবে না? এভাবে অত্যাচারিত হয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে তাদের?

তাদের জন্য রয়েছে হেল লিঙ্ক। এমন একটি ওয়েবসাইট, যা শুধুমাত্র রাত ১২ টায় একসেস করা যায়, আর যা শুধু অত্যাচারিত মানুষই একসেস করতে পারে। আপনার সাথে যে অন্যায় করেছে তার নামটা লিখে দিন সেখানে, নরক কন্যা এনমা আই আপনার হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। কিন্তু সেজন্য মূল্য দিতে হবে আপনাকে। আপনার মৃত্যুর পর অনন্তকালের জন্য আপনার আত্মার ঠাঁই হবে নরকে।

অ্যানিমেটির যে দিকটা আমার ভাল লেগেছে, আপনার নৈতিকতা, বিবেকবোধ এবং মনুষত্ব্যের মাঝে একটা ছোটখাটো গৃহ যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে অ্যানিমেটি, যা হয়ত ডেথ নোট, কোড গিয়াসও করতে পারেনি। কিরকম? আপনাকে প্রথমে নির্যাতিতের কষ্টটা প্রত্যক্ষভাবে দেখানো হবে। নির্যাতিতের ক্ষোভ আপনি নিজে অনুভব করবেন। আর যখন ভাগ্যের সেই লাল সুতো টেনে খুলতে সে দ্বিধাবোধ করবে, আপনার নিজেরই ইচ্ছে হবে যে গিয়ে সুতোটা খুলে দিয়ে আসি।

কিন্তু যদি ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করা হয়, তাহলে ব্যাপার টা কি দাড়াতে পারে? এভাবে নিজের আত্মাকে অনন্তকালের জন্য বিসর্জন দিয়ে ক্ষণিকের মুক্তির জন্য প্রতিশোধ নেয়াটা কতখানি যৌক্তিক? প্রতিশোধের এই মরণচক্র তো তাহলে কোনদিন শেষ হবে না! রিপোর্টার হাজিমে ও তার মেয়েকে এনে অ্যানিমেটার কাহিনী আরও জটিল হয়েছে, কিন্তু সেইসাথে আরেকটা দৃষ্টিভঙ্গি দর্শকের সামনে উঠে এসেছে, তাই কাহিনীটা আরও ভাল লেগেছে।

অ্যানিমেটার আর্ট ভালই, ওএসটি অনেক সুন্দর। কাহিনীর পেসিং এ একটু সমস্যা আছে, এছাড়া ওভার অল এটি অবশ্যই সবার দেখার মত অ্যানিমে। শেষ দিকে জিগোকু শৌজোর লাইফ নিয়ে কিছু ঘটনা দেখানো হয়, এটা ভাল লেগেছে। সিজন টু দেখার জন্য আগ্রহ বেড়ে গেছে এখন।

jigoku_shoujo_sakura_kimono_girl_brunette_posture_29489_1920x1080

“Yowamushi Pedal : হে দুর্বল প্যাডাল ঘুরা” — Siam Maksud

ভূমিকা: কবি বলেছেন
‘ইচ্ছে করে লিখি একটা গান”
আমার ইচ্ছা করছে রিভিউ লেখতে। কাজেই লিখে ফেললাম। given below-
বিষয়বস্তু: একখানা স্পোর্টস এনিমে। নাম তাহার Yowamushi Pedal”
সিজন: 2 খানা।
খেলার নাম : রোড রেস( সাইকেল দিয়া যে আগে দাগ পার হইবে সে ভাব নিয়া জিতিতে পারিবে)

সাইকেল কি: ইহার বাংলা নাম দ্বিচক্রযান। দুই চাক্কার রিকশা। পেডেল ঘুড়াইয়া চালাইতে হয়।শিখিতে বহুত কসরত করিতে হইবে।মানুষ সাধারনত নিজে চালায় কেউবা আবার ড্রাইভার রাখিয়া পেছনে বসে। সুবিধা- তেলের খরচ নাই।

এনিমের প্লট : অনেক অনেক দিন আগের কথা( 2014 maybe). ওনাদা সাকামিচি নামের এক বিশিষ্ট ওতাকু বালক জাপানে বসবাস করত। তার কোনো বন্ধু ছিল না কারন সে এনিমে ভালবাসত আর মিডল স্কুলের পোলাপান এনিমে দেখত না। বহু কষ্টে মিডল স্কুল পাশ করিয়া সে সোউহোকু হাই স্কুলে ভর্তি হইয়াছে। প্রথমদিনে সে অতি খুশি মনে স্কুলে গেল। মনে বড় আশা সে এনিমে ক্লাবে জয়েন করিবে। এনিমে নিয়া গল্পগুজব করিবে( এনিমখোরের মেম্বার হইলে এই কষ্ট করতে হতো না) । কিন্তু হায় ‘ অভাগা যেদিকে চায়, বুড়িগঙ্গা ট্যানারি বর্জ্যে দূষিত হয়ে যায়।’ কাজেই হতভাগা ওনাদা এনিমে ক্লাবের সামনে গিয়া দেখিল এনিমে ক্লাব লোকস্বল্পতায় ভুগিয়া দেউলিয়া হইয়া গিয়াছে। হতাশ ওনাদার সাথে তখনই দেখা হইল নায়িকা( যার প্রেমিক বাইসাইকেল) মিকির। ওনাদা সাহেবের একখানা ব্যাক স্টোরি আছে। সে বাসের পয়সা বাচাইয়া প্রতি সপ্তাহে তাহার mommy bike নিয়া 45 km দূরের আকিহাবারায় যাতায়াত করিত আর পয়সা দিয়া তৈজসপত্র কেনাকাটা করিত( আক্ষরিকভাবেই ওতাকু) । কাজেই নিজের অজান্তেই দ্বিচক্রযানে অভিজ্ঞ হইয়া গিয়াছিল।ইহা সহ্য হয় না সিরিয়াস রেসার ইমাইজুমির ( ওরফে হটশট) । ওনাদার হাসিখুশি স্পিডিং তার অহমে আঘাত দেয়। সে তাকে রেসে আহবান করে। টিলার ঢালের রেস বাইসাইকেল ক্লাবের কর্তাব্যাক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। যাইহোক, ঘটনাবহুল রেসের পর ওনাদা বাইসাইকেল ক্লাবে যোগদিতে আগ্রহী হয়( সব বলনা কারন স্পয়লার খেতে পারেন।[মূল কথা টাইপ করা কষ্টকর কাজ।])তারপর দিন যায় রাত যায় ওনাদা এগিয়ে চলে। সৌহোকু এগিয়ে চলে। ইমাইজুমিরা এগিয়ে চলে……… তারপর আসে ইন্টার হাই চ্যাম্পিয়নশিপ…..
এই হইল মূল প্লট।

কেন দেখবেন:
আমার বর্ননা শুনে যতটা ক্লিশে হবে বা খ্যাত হবে ভাবছেন আসলে এনিমেটা ততটাই বেশি ইন্টারেস্টিং। লেখকের দোষে এনিমেটিকে বঞ্চিত করবেন না। একের পর এক টুইস্ট কাহিনীর মোড় ঘুরায়। আর আছে প্রতি এপিসোডের শেষের দিকের কয়েক মিনিটের হাস্যরস যা যথেষ্ট উপভোগ্য। বিপক্ষ দলের প্রতিটি রাইডারো অসাধারণ। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল এনিমেতে প্রতিটা চরিত্রের ব্যাক স্টোরি দেখানো হয়েছে। এমনকি মহাভিলেন মিদৌসুজি আকিরার ব্যাক স্টোরিটি চোখে পানি এনে দেবার মত। কাজেই রেসে কার পক্ষে থাকবেন এই
সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কষ্টকর হবে। থ্রিল, উপভোগ্য কাহিনী, মানানসই মিউজিক , অসাধারণ ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট সব মিলিয়ে এক টানে দেখে ফেলার মতYowamushi Pedal

 

Gingitsune [Anime Review] — Imamul Kabir Rivu

Gingitsune 3

Gingitsune

জনরা – স্লাইস অফ লাইফ, সুপারন্যাচুরাল

একটি পার্ফেক্ট রিফ্রেশিং আনিমে কাকে বলে, তার এক অন্যতম উদাহরণ গিঙ্গিৎসুনে । আনিমেটির কাহিনী মূলত একটি জিন্জা এবং তার আশে পাশের মানুষদের ঘিরে । আনিমের মূল চরিত্র প্রধানত মাকোতো, সাতোরু এবং গিনতারো তবে আনিমের কাহিনীটি প্রচলনে তাদের সমান ভূমিকা আনিমেটির বাকি সব পার্শ চরিত্রেরও । কেননা, কাহিনীতে মূলত এই ৩ জনের চারপাশের মানুষ সাধারণ জীবন যাপনই তুলে ধরেছে মূলত । এছাড়া ইনারি জিন্জা কাহিনীর মুল ফোকাস হলেও মাকোতোর স্কুল এবং শহরেও গরে উঠে কাহিনীর এক গুরুত্বপূর্ন অংশ । এছাড়া প্রায় সবগুলো পর্বের এক গুরুত্বপূর্ন অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে কোন না কোন চরিত্রের আগের কাহিনী । শেষে যা বলব, আনিমেটার কাহিনী কোন এক নির্ধারিত পথ নেই । পেসিং ধীর গতির তবে প্রতি পর্বে অপনার মনে শান্তি দিতে ব্যর্থ হবে না । আর এই চরিত্রগুলোর দিনকালের মাঝেই রয়েছে অতি প্রাকৃতিক এলিমেন্ট, কেননা জিন্জার মেসেন্জারগুলো সেই কাতারেই পরে এবং তারা সিরিজটির এক গুরুত্বপূর্ন অংশ ।

আনিমের আর্টটা বেশ সুন্দর । আনিমেটার আর্ট এবং চরিত্রের ডিজাইন যে কারো পছন্দ হবে । চারপাশের পরিবেশ বেশ উজ্জ্বল করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, এই আনিমের ব্যাকগ্রাউন্ডের দিকে তাকায় থাকলেও বেশ শান্তি পাবেন ।

Gingitsune 2

আর্টের সাথে আনিমের মিউজিকও আনিমের থিমের সাথে বেশ ভালোভাবে মানিয়েছে । আনিমের OST-এর মিউজিকগুলো অসম্ভব পর্যায়ের সূথিং । সাথে ওপেনিং-এন্ডিং দুটি গানই অনেক সুন্দর এবং আনিমের সাথে মানানসই । ওপেনিং গানটি ছিল fhana ব্যন্ডটির গাওয়া tiny lamp নামক গানটি । এর ইন্সট্রুমেন্টের কাজের সাথে towana-এর কণ্ঠ সাথে গানটির অর্থ, অন্য এক পর্যায়ের অসাধারণত্ব । এন্ডিংটা ছিল SCREEN mode-এর গাওয়া Gekkou STORY গানটি, একটি বেশ সুন্দর সফ্ট গান ।

আনিমেটির কাস্ট আমার দেখা অন্যতম সেরা কাস্টগুলার একটি । কানেমোতো হিসাকো যেইসব আনিমেতে মূল চরিত্রগুলোর কণ্ঠ দেয়, এই পর্যন্ত যা দেখসি সবগুলোরই কাহিনী এক্সেপশোনালি ভালো ছিল । গিঙ্গিৎসুনেও তার ব্যতিক্রম নয় এছাড়া মাকোতো রোলটি ছিল এনের্জেটিক ধাঁচের চরিত্রগুলোর একটি, এবং এই রোলটি বরাবরের মতই সে অসম্ভব সুন্দর করে করেছেন । সাতোরুর কণ্ঠ অভিনেতা ছিল কেনশো ওনো, বরাবরের মত ঠাণ্ডা মেজাজের চরিত্র সে বরাবরই অসাধারণ ভাবে তুলে ধরতে পারেন ( যেমনটা কুরোকো ), সাতোরুও তার ব্যতিক্রম নয় । গিনতারোর কণ্ঠে ছিল মিকি শিনিচিরো, বরাবরই ব্যডঅ্যাস চরিত্র করেন তিনি । গিনতারো চরিত্রটা ঠিক ঔ ধাঁচের না হলেও, লেইড ব্যক ব্যাডঅ্যাস টাইপ চরিত্র । সাথে সাইড ক্যরেক্টারগুলোর সেইয়ূরাও বেশ অসাধারণ ছিল এবং এর মাঝে ছিল আমার সেইয়ূগুলোর অনেকেই । কোশিমিজু আমি, ফুজিমুরা আয়ুমি, সেকি তোমোকাযু, হিরোইউকি ইয়োশিনো, সুগিতা তোমোকাযু, ওনো ইয়ূকি, তানাকা আৎসুকো, ওকুবো রুমি, আকাসাকি চিনাৎসু, কৌয়াই কোতোরি, নোজিমা হিরোফুমি এদের কথাই বলছি । ফুজিমুরা আয়ুমির হারু রোলটা দেখলে আপনার নিশ্চিৎ তেগামি বাচির নিচ্চির কথা মনে পরবে, দুজন প্রায় একই ধাঁচের চরিত্র সাথে একই সেইয়ূ । ফুনাবাশি হিওয়াকো এবং ইকেগামি ইয়ুমির রোলে কোশিমিজু আমি এবং আকাসাকি চিনাৎসুর কাজও বেশ ভালো ছিল । যদিও আকাসাকি চিনাৎসুর খুব বেশ একটা রোল শোনা হয় নাই, তেমন ভালোভাবে দেখেছি চুনিবিয়োর মোরি সামার এবং একটা ইতালিয়ান জাহাজ এই আর কি । কিনুকাওয়া তাইস্কে এবং কিরিশিমা সেইশিরৌ এই দুটি ওনো ইয়ুকি এবং সুগিতা তোমোকাযুর সাধারণ ধাঁচের রোলগুলোর কাতারেই ছিল । এছাড়া আমামোকো শৌহেই, কিনজিরো, তোয়োকুরা এৎসুকো, আমামোতো ফুজিনো, ফুকু এই চরিত্রগুলো বেশ কম সময় স্ক্রিনটাইম পেলেও এদের কণ্ঠে যারা ছিল সবই দক্ষ কণ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রী ।

শেষমেশ, যদি কোন রিফ্রেশিং আনিমে খুজতে থাকেন তবে দেরী না করে ধরে ফেলুন ১২ পর্বের এই আনিমেটি ।

Gingitsune 1

ট্যাঙ্ক, ললি এবং মোয়ে — Anirban Mukherjee

 

Girls & Panzer 1

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুনিয়া কাঁপানো ট্যাঙ্ক , আর একবিংশ শতকের দুনিয়া কাঁপানো মোয়ে এবং ললি চরিত্রগুলোর সংমিশ্রণ একটাই,গার্লস উন্দ পানজার । এম ফোর শের্মান,পানজার ফোর বা পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট মাউস এর মতো শক্তিশালী ট্যাঙ্ক গুলোর পাশাপাশি মিশো,সাউরি বা হানার মতো কাওয়ায়ি চরিত্রগুলো কল্পনা করতে হয়ত এতদিন বেমানান লাগতো , কিন্তু গার্লস উন্দ পানজারে নয়। এনিমখোরে যেহেতু রিভুর একটা ভালো রিভিউ আছে, সেজন্য সেদিকে না গিয়ে আমি এই লেখাতে ট্যাঙ্ক, ট্যাঙ্ক সম্পকে ব্যাবহৃত পরিভাষা এবং গার্লস উন্দ পানজারে ব্যাবহৃত ট্যাঙ্ক গুলোর বৈশিষ্ট্য এবং ইতিহাস সম্পকে আলোকপাত করবো।

Girls & Panzer 2

ইতিহাসের দিকে……….

যারা প্রেমেন্দ্র মিত্রের সৃষ্টি ঘনাদা চরিত্রের একনিষ্ঠ ভক্ত তাদের বলতে হবে না ট্যাঙ্ক কার প্রথম আবিষ্কার ।ঘনাদা তখন বনমালী নস্কর লেনের মেসবাড়ির মজলিশ ছেড়ে লেকের ধারে জমিয়ে বসেছেন ।এখানে তিনি আর ঘনাদা নন,বরং ঘনশ্যাম বাবু ।এবং তার গল্পের বিষয় তার “তস্য তস্য পূর্বপুরুষ”গন ।সেইরকম এক পূর্বপুরুষ ঘনরাম দাস ওরফে গানাদো , বাংলা সাহিত্যে ক্লাসিক প্রতিম “সূর্য কাঁদলে সোনা” উপন্যাসে ইনকা সভ্যতার আর রাজা আতাহুয়াল্পার পতনে যোগ দেওয়ার আগে ,একটা ছোট গল্প “দাস হলেন ঘনাদা”তে তার পরিচয় পায় ।সেখানে দেখি মায়ানদের খপ্পর থেকে বাঁচার জন্য স্পেনীয় অভিযাত্রী এবং টেনচটিটলান বিজয়ী এর্নান কোর্তেস গানদোর হাতে পায়ে ধরছে।আর গানদো তৈরি করল “মান্টা” ।”রথের মত মোটা তক্তায় তৈরি দোতলা সাঁজোয়া গাড়ি ।সে ঢাকা সাজোঁয়া গাড়ির তলাতেই বন্দুক নিয়ে থাকবে সৈনিকরা ।নিজেরা কাঠের দেওয়ালের আড়ালে তীর বল্লম আর ইট পাটকেলের ঘা বাঁচিয়ে নিরাপদে বন্দুক ছুড়তে পারবে শত্রুপক্ষের উপর ।” ঘনাদার দাবী এই মান্টাই হলো পৃথিবীর প্রথম ট্যাঙ্ক ,যার সাহায্যে এর্নান কোর্তেস আর তার সৈনিকরা ,মায়ার দ্বীপ-নগরী টেনটচটিটলান থেকে জানে-প্রানে বেঁচেছিলো ।
কিন্তু ঘনাদা মানেই গুল,একেবারে শিল্পসম্মত গুল ।তাই ফিকশনের দুনিয়া ছেড়ে আমাদের খোঁজ করতে হবে বাস্তবের দুনিয়াতে । পৃথিবীর প্রথম ট্যাঙ্কের কনসেপ্ট সেই এর্নান কোর্তেস এর মেক্সিকো বিজয়ের কয়েক দশক আগেই আসে ।ইতালিয়ান পলিম্যাথ এবং মোনা লিসা বা লা জকোন্দা খ্যাত লিওনার্দো দা ভিঞ্চির নোটবই এ পাওয়া যায় তাঁবু বা ছুঁচলো ইএফও মতো এর কাঠের তৈরি এক ধরনের বাহনের নকশা ,সেটাই নাকী আদি ট্যাঙ্কের কনসেপ্ট ।

Tank 1

[লিওনার্দো দা ভিঞ্চির “আদি” ট্যাঙ্ক কনসেপ্ট]

আবার সায়েন্স ফিকশনের দুনিয়াতে গেলে পাবো 1903 খ্রিস্টাব্দে এইচ .জি ওয়েলসের লেখা ছোটগল্প “দ্যা ল্যান্ড আইরন ক্লাদ্স ” ,যেখানে বর্ননা দেওয়া আছে এমন একধরনের লোহার তৈরি ক্যানন আর মেশিনগান যুক্ত বাহনের ,যেটা লোহা আর ইস্পাতের শক্ত বর্ম দ্বারা আচ্ছাদিত ।

Tank 2

[এইচ.জি ওয়েলস এর গল্প অনুযায়ী ট্যাঙ্ক কনসেপ্ট]

তবে পৃথিবীকে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হলো না ,এর তেরো চোদ্দ বছর পর ,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ব্রিটিশ মার্ক ওয়ান,টু ,থ্রি থেকে আরম্ভ করে টেন পযন্ত সিরিজের ট্যাঙ্কের লড়াই দেখলো পৃথিবী ।ব্রিটেনের শত্রু-মিত্র সবার কাছে ছিলো এই সিরিজের ট্যাঙ্ক । ব্রিটেনের কাছে ছিলো মার্ক ওয়ান থেকে টেন অবধি সব শ্রেণীর ট্যাঙ্ক , জার্মানের কাছে ছিলো মার্ক ফোর শ্রেণীর ট্যাঙ্ক , জাপানের কাছেও ছিলো মার্ক ফোর শ্রেণীর ট্যাঙ্ক ।তবে ফরাসি ট্যাঙ্ক রেনাউল্ট এফ টি হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম মর্ডান ট্যাঙ্ক ।এটাই পৃথিবীর প্রথম ট্যাঙ্ক ,যার মাথায় একটা 360○ ঘূর্ণমান উঁচু গান টারেট ছিলো ,যেখান থেকে 37 মিমি শর্ট ব্যারেলের একটা ক্যানন বন্দুক শত্রুর ঢেরা ছিন্নভিন্ন করে দিতো । রেনাউল্ট একটা হাল্কা শ্রেণীর ট্যাঙ্ক হলেও এটা ব্রিটেনের মার্ক সিরিজের ট্যাঙ্কগুলো থেকে একটা জায়গায় এগিয়ে ছিলো ,উঁচু গান টারেট ।

Tank 3[ব্রিটিশ মার্ক ওয়ান]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জার্মান এ সেভেন ভি(A7V) সিরিজের ট্যাঙ্ক গুলো ছিলো একটা ছোটখাটো চলন্ত দূর্গ,এরও কোন উঁচু টারেট ছিলো না ।

Tank 4

[জার্মান এ সেভেন ভি, যেন একটা চলন্ত দূর্গ]

পরিভাষাসমূহ…….

1. ট্যাঙ্ক টারেট:-
টারেট বা গান টারেট হচ্ছে ট্যাঙ্কের প্রচন্ড প্রয়োজনীয় অংশ ।এই শব্দটার বাংলা অনুবাদ করলে পাবো চূড়া অথবা কামান রাখিবার ঘূর্ণিমান মঞ্চবিশেষ ।প্রধানত ট্যাঙ্কের উপরে যে উঁচু অংশটায় ট্যাঙ্কের প্রধান কামানটি থাকে তাকে ট্যাঙ্কের টারেট বলে,এটি 360○ ঘুরতে পারে,ফলে ট্যাঙ্কের গতিমুখের সমকোনে ঘুরে গোলা দাগতে সক্ষম হয় ।প্রথম যে ট্যাঙ্কে টারেট ব্যাবহৃত হয় সেটি ফ্রান্সের রেনাউল্ট এফ টি,সেটা আগেই বলেছি ।টারেট এর ওজনও ট্যাঙ্কের একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, যেমন আধুনিক কালের জার্মানের লেপার্ড টুএফোর (2A4) এর টারেটের ওজন 16 টন এবং আরও কিছু ফাংশান (বৈশিষ্ট্য )যোগ হওয়া লেপার্ড টুএসিক্স(2A6) এর ওজন 21 টন।

Tank 5

[পৃথিবীর প্রথম আধুনিক ট্যাঙ্ক ,ফ্রান্সের রেনাউল্ট]

টারেট একবার 360○ ঘুরতে যতটা সময় নেয় সেটাও যুদ্ধের ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ ।যেমন জার্মান লেপার্ড টু সিরিজের সমস্ত ট্যাঙ্কের টারেট একবার পূর্ণ 360○ ঘুরতে সময় নেয় নয় সেকেন্ড।

2. ট্যাঙ্ক আর্মর বা ট্যাঙ্কের বর্ম:-
ট্যাঙ্কের বর্ম ,ট্যাঙ্ককে বিভিন্ন গুলি,বোম ,শেলের হাত থেকে রক্ষা করে ।বিভিন্ন ধরনের বর্ম আবিষ্কার হয়েছে ট্যাঙ্ককে রক্ষা করার জন্য ।যেমন স্লোপেড আর্মর ,রিয়াকটিভ আর্মর , সল্ট আর্মর ইত্যাদি ।গোটা ট্যাঙ্ক আর্মর কে দুভাগে ভাগ করতে পারি,হুল আর্মর এবং টারেট আর্মর ।

3. হুল আর্মর :-
টারেট বাদে অন্য কাঠামোর আর্মর বা বর্ম ।যেমন পানজার ফোরের সামনে আর্মর আশি মিলিমিটার মোটা,দুপাশে ত্রিশ এবং পেছনে কুড়ি মিলিমিটার মোটা ।

4. টারেট আর্মর :-
শুধু টারেটকে আলাদা ভাবে বাঁচানোর জন্য একটা বর্ম আঁটানো হয় ।পানজার ফোরে সামনের টারেট আর্মরটা 50 মিলিমিটার ঘনত্বের এবং পাশের এবং পেছনের আর্মরের ঘনত্ব ত্রিশ মিলিমিটার ।

পানজারের ট্যাঙ্কসমূহ………
ভূমিকাতে কিছু আলোচনা করে এবার মূল বিষয়ে ফিরি । গার্লস উন্দ পানজারের জগতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ট্যাঙ্কগুলো এখন খেলা এবং প্রতিযোগিতার বিষয় ।একসময়ের বিভিষকা, বর্তমান সময়ে রোমাঞ্চ এবং উত্তেজনার বিষয় । গার্লস উন্দ পানজারে মোট আট ধরনের ট্যাঙ্ক, প্রধানত দেখা পেয়েছি ।নামগুলো হলো জার্মানের পানজার ফোর, পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট “মাউস”, পোর্সে টাইগার, স্তুগ ত্রি,জাপানের টাইপ এইটটি নাইনবি আই গো অতসু, টাইপ নাইনটিন সেভেন চি হা,আমেরিকার এম ফোর শের্মান, ফ্রান্সের রেনাউল্ট বি ওয়ান ।এছাড়া আছে আরও কিছু ট্যাঙ্ক, যেগুলো নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা হবে ।

1. পানজার ফোর:-
পানজার ফোর বা পানজারক্যাম্পফাওগেন ফোর হচ্ছে জার্মান মাঝারি শ্রেনির ট্যাঙ্ক, যেটা 1930 থেকে 1945 অবধি বানানো হয়েছিলো ।এইসময় প্রায় 8569 টা পানজার ফোর বানানো হয়।এর মোট দশটা ভারসন ছিলো ।পোল্যান্ড আক্রমণের সময় এবং ফ্রান্সের যুদ্ধের সময় এই ট্যাঙ্ক প্রচন্ড ব্যাবহৃত হয় ।পোল্যান্ড আক্রমণের সময় 211 টা পানজার ফোর ব্যাবহার করে জার্মানি ।সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে কুর্স্কের যুদ্ধে 841 টা পানজার ফোর হারায় জার্মান ।সব মিলিয়ে পূর্ব সীমান্তে দুহাজারের উপর পানজার ফোর হারায় জার্মান ।

Tank 6

[পানজার ফোর]

2. পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট “মাউস”:-
পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট মাউস হচ্ছে জার্মানির “সুপার হেভি ট্রাঙ্ক” ।অনেকে একে এখনও পযন্ত সবচেয়ে ভারী “আর্মর ফাইটিং ভেহিকলস” বলে ।কিন্তু এর মাত্র দুটো প্রোটোটাইপ তৈরি হয়েছিলো(v1 আর v2)।188 টন ওজন নিয়ে সবচেয়ে বেশি কুড়ি কিলোমিটার গতিবেগে যেতে পারতো,গড়ে তেরো থেকে আঠরো কিলোমিটার ।এর আর্মরের ঘনত্বও ছিলো প্রচণ্ড ।হুল আর্মর আর টারেট আর্মরের সামনের দিকে ঘনত্ব ছিলো 220 মিলিমিটার ।

Tank 7

[অতিকায় “মাউস”]

3. পোর্সে টাইগার:-
আর একটা হেবি ট্যাঙ্ক যেটা জার্মানরা প্রোটোটাইপ অবধিই সীমাবদ্ধ রেখেছিলো সেটা হলো পোর্সে টাইগার ।এর সামনের হুল আর্মর আর টারেট আর্মর এর ঘনত্ব একশ মিলিমিটার ।

Tank 8

[অতিকায় “টাইগার”]

4. স্তুগ ত্রি:-
জার্মানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে বেশি বানানো ট্যাঙ্ক হচ্ছে স্তুগ ত্রি ।এগারো হাজারের উপর বানানো হয় ।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়াও ইজরায়েল আর মিশরের মধ্যে 1964 এ সংগঠিত ছয় দিনের যুদ্ধেও এটা ব্যাবহৃত হয় ।নাজি জার্মান ছাড়াও বুলগেরিয়া,কিংডম অফ রোমানিয়া, কিংডম অফ বুলগেরিয়া ,ফিনল্যান্ড,ইটালি,সিরিয়া ব্যাবহার করে ।সোভিয়েত এটা টেস্টিং এর জন্য ব্যাবহার করে ।এর এগারোটা ভারসন বানানো হয় ।যেহেতু এটা একটা ট্যাঙ্ক ডেসট্রয়ার ,সেজন্য এখানে টারেট ব্যাবহৃত হয়নি ,সেজন্য এটা ট্যাঙ্ক কম ,বড় আর্টিলারী বন্দুক বেশি মনে হয়।

Tank 9

[স্তুগ থ্রি]

5. টাইপ এইটটি নাইন বি আই গো অতসু:-
জাপান এই ট্যাঙ্কটা ডিজাইন করেছিলো 1928 এ ।এটা দ্বিতীয় সিনো জাপান যুদ্ধে চীনের বিরুদ্ধে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যাবহৃত হয় ।এর দুটো ভারসন ছিলো ।

Tank 10

 

[টাইপ এটটি নাইন]

6. টাইপ নাইনটি সেভেন চি হা:-
এই ট্যাঙ্কটা ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের জাপানের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ট্যাঙ্ক ।একটা মেন গান ছাড়াও দুটো মেশিনগান থাকতো ।1162 টা ট্যাঙ্ক প্রস্তুত করা হয় মোট ।

Tank 11

 

[টাইপ নাইনটি সেভেন]

এম ফোর শের্মান :-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্রপক্ষের অন্যতম সেরা বাজি ছিলো এম ফোর শের্মান ।আসলে এটি পূর্বতন এম থ্রি লি এর উন্নত সংস্করন।এম থ্রি লি এর মাথার উপর একটা রোটিং টারেট বসিয়ে এবং সেখানে আরও উন্নত এম থ্রিফোর এ ওয়ান ক্যানন গান চরিয়ে তৈরি করা হয় এম ফোর শের্মান ।শুধু আমেরিকা নয়,ব্রিটিশরাও এই ট্যাঙ্ক ব্যাবহার করেছে ।তারা চাইছিলো শের্মান এর মত আমেরিকান ট্যাঙ্কের উপর ব্রিটিশ ট্যাঙ্ক গান বসাতে ।তো তৈরি হয়ে গেল এম ফোর শের্মান ফায়ার ফ্লাই ।এই ট্যাঙ্কের সবচেয়ে বিখ্যাত বৈশিষ্ট্যটি হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে এর ব্যাবহারকারী পরস্পরের শত্রু মিত্র দেশ ।যেমন দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর জাপান,ইতালি,বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন,কানাডা,ফ্রান্স এমনকী নাজি জার্মান ।এছাড়া বাংলাদেশ,ভারত,পাকিস্তান, ইরাক,ইরান,ইজরায়েল, লেবানন,ভিয়েতনাম ।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়াও এই ট্যাঙ্ক লড়েছে 1965 এর ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধে,1971 এ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ এবং পশ্চিম ফ্রন্টে ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধে ,ইজরায়েল এর সিক্স ডে ওয়ার বা বিখ্যাত ছদিনের যুদ্ধে,ইরান-ইরাক যুদ্ধে,কিউবান বিপ্লবে, সুয়েজ ক্যানেল ক্রাইসিসে ।

ইনফ্রানটি ট্যাঙ্ক মার্ক থ্রি মাটিলডা:-
সাধারনত ইনফ্রানটি বাহিনীর সহায়ক হিসাবে এই ট্যাঙ্ক তৈরি করে ব্রিটিশরা ।এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিকে জার্মান ট্যাঙ্ক যেমন পানজার থ্রির বিরুদ্ধে ভালো পারফর্ম করেছিল ।এর এর 78 মিলিমিটার ঘনত্বের সামনের হুল আর্মর আর 75 মিলিমিটার ঘনত্বের টারেট আর্মর খুব মজবুত হলেও এটি কাছের টার্গেটের বিরুদ্ধে ভালো পারফর্ম করতে পারতো না ।এর আর একটি নাম ছিলো,কুইন অফ ডেজার্ট বা মরুভূমির রানি ।প্রধানত 1940-41 এ আফ্রিকার অপারেশন এ ইটালিয়ান ট্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ভালো পারফর্মের জন্য ।

টি চৌত্রিশ /টি থারট্রি ফোর/T-34:-
শুধু সোভিয়েত রাশিয়া নয়,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সবচেয়ে বেশি যে ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়েছিলো ।এই ট্যাঙ্কের মহিমা বহু কথাতেও শেষ করা যাবে না ।1930 সালে ডিজাইন করা এই ট্যাঙ্কটা আজও বহু দেশের আর্মিতে ব্যাবহার হয় ।টি সিরিজের অন্য ট্যাঙ্ক যেমন টি -62,টি-72 এবং টি-90 এর দিশারী ছিল এই টি-34 ট্যাঙ্ক ।সম্ভবত এখনও অবধি সবচেয়ে বেশি তৈরি করা ট্যাঙ্ক এই টি-34 ,এমনকী হালে 1996 অবধি এই ট্যাঙ্ক উৎপাদন করা হয়েছে ।তৈরি হয়েছে বহু ভারসন,উৎপাদন করা হয়েছে আশি হাজারেরও বেশি ।তখনকার দিনে তৈরি হলেও অনেক বিষয়ে এগিয়ে ছিলো এই ট্যাঙ্ক, এর আর্মর ছিলো প্রচণ্ড মজবুত ,পশ্চিম সীমান্তে নাৎসিদের সম্পূন ভাবে রুখে দিয়েছিলো এই ট্যাঙ্ক।নাৎসিদের বিভীষকা স্বরুপ এই ট্যাঙ্ক ব্যাবহার করেছে নাৎসি এবং ইটালিরাই ।এছাড়া অস্ট্রিয়া,বসনিয়া, লাউস,কিউবা,তৎালীন ইস্ট জার্মানি, লিবিয়া,পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া,গনচীন,প্যালেস্তাইন ।

এম থ্রি লি:-
পানজার সিরিজে যে কিউট পিঙক কালারের ট্যাঙ্ক টা ছিলো,যেটা দেখতে অনেকটা শের্মান এর মত ,সেটাই এম থ্রি লি ।আসলে একেই উন্নত করে তৈরি করাহয় শের্মান ।এটি কর্নেল রবার্ট. ই. লি এর সম্মানে নাম দেওয়া হয় ।ব্রিটিশরা এর নাম দেয় ইউনিয়ন জেনারেল এবং আঠোরো তম আমেরিকান রাষ্ট্রপতি ইউলিসিস গ্রান্টের নামে,এম থ্রি গ্রান্ট ।

তথ্যসূত্র :- পানজারউইকি,ট্যাঙ্কগুরু

Hanayamata [রিভিউ] — Santo Kun

Hanayamata 1

Anime name: HANAYAMATA

MAL Information:
Type: TV
Episodes: 12
Status: Finished Airing
Genres: Comedy, School, Seinen, Slice of Life
MAL Statistics:
Score: 7.45
Ranked: #1698
Popularity: #993
Personal score: 8.00 (অবশ্যই MAL থেকে একটু বেশি দেওয়া লাগে কারন আমার ফেভারেট। তেহে!! )

স্পেশাল এমন কি আছে আমাদের প্রধান চরিত্র নারু সেরকিয়ার মধ্যে? সবইতো সাধারণ, না আছে অন্যান্য এনিমে ক্যারেক্টারের মত সুন্দর চেহারা, না আছে ট্যালেন্ট।

Hanayamata 2

“Petals fluttering, the cherry blossoms are in full bloom. The encounter I had on that moonlit night changed my life”

এনিমের শুরুটা এইভাবেই। নারু সেকিয়া ১৪ বছর বয়সী একজন সাধারণ মেয়ে। তার জীবনটাও অনেক সাধারণ। প্রত্যেকদিন একই রকম কোন নতুনত্ব নেই। সবারই একটা লক্ষ থাকে কিন্তু নারুর বেলায় তা ভিন্ন। কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও প্রথম স্টেপটা নিতেই ভয় পায় সে। খুবই লাজুক ধর্মী। যেখানে তার বান্ধবীরা তাদের সর্বস্ব ঢেলে দিচ্ছে সেখানে নারু শুধু পিছনে থেকে তাদের প্রশংসা করে যাচ্ছে। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে তার মধ্যে।

“I was hoping something would change once I started middle school, but….”

Hanayamata 3

এই কিন্তুটাই ঘটে এক জ্যোৎস্না রাতে এক পরীর সাথে দেখা পেয়ে। পরী তাকে অন্য জগতে নিয়ে যাবে,তার সব ইচ্ছা পূরণ করবে। এসবই নারুর চিন্তা ভাবনা কারন ছোট বেলা থেকে ফেইরি টেইল পছন্দ ও বিশ্বাস করে। নিজের চিন্তার সাথে খাপ খায়িয়ে পরীকে বলতে থাকে তাকে অন্য জগতে নিয়ে যেতে। সেখানে কিছু ঘটনা ঘটে। এবং নারু শেষে সেখান থেকে পালিয়ে চলে আসে।

সেই লম্বা হলদে চুল, টানা টানা চোখ , সুন্দরী পরীর মত দেখতে মেয়েটা হল “হানা”। পরের দিনেই স্কুলে তাদের দেখা হয়। হানা আমেরিকা থেকে এসেছে, ছোট বেলায় জাপানে থাকা অবস্থায় ইয়াসাকই নাচ দেখে মুগ্ধ হয়। সেখান থেকেই ইয়াসাকই নাচের লক্ষ ঠিক করে । এবং সেই জ্যোৎস্না রাতে সে ইয়াসাকই নাচই করছিল , ভাগ্য ক্রমে নারুর সাথে তার দেখা… নারুকেও নাচের জন্য আমন্ত্রন জানায় সে কিন্তু নারু সেখান থেকে পালিয়ে আসে এই ভেবে সে কোন কিছুই করতে পারে না। হানা নারুর কথা শুনে কিছু বুজেনি কিন্তু তাকে প্রমিস করে বসে সে তার জন্য ফিরে আসবে। তাই পরের দিনই নারুকে আবার আমন্ত্রন জানায় ইয়াসাকই নাচের জন্য।

Hanayamata 4

এছাড়া অনেক ইন্টারেস্টিং চরিত্রের সাথে পরিচয় হবে এনিমেতে। এনিমেতে দেখার বিষয় হল নারুর ক্যারেক্টার ডেভ্লপমেন্ট , ভিসুয়াল, ওএসটি, ওপেনিং এবং এন্ডিং । তাছাড়া এনিমেরে কাহিনীটা অনেক বাস্তবধর্মী । অনেক সুন্দর করে প্রতিটি ইমসন এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। প্রত্যেকটি সিচুয়েসনে ওএসটি গুলো পারফেক্ট আর ওপেনিংটা অনেক জোস। আপনাদের পার্সনাল ফেভারিট হয়ে যেতে পারে। ওভার অল অনেক ভাল একটা এনিমে ।এনিমেটা দেখা শেষে মনে একপ্রকার শান্তি অনুভব করেছিলাম। এই ফিলিংস গুলো Slice Of Life এনিমে থেকে ভাল পাওয়া যায়।

ও আরেকটা কথা এনিমের নামটা আমার কাছে অনেক কুল লেগেছে(হানায়ামাতা)। নামের আসলে কোন অর্থ নেই এনিমের প্রধান ৫টি চরিত্রের নামের কম্বিনেসন এ নামকরন। হানার “হা” নারুর “না” মাচির “মা” ইয়ায়ার “ইয়া” আর তামির “তা” “হানায়ামাতা”

যারা এনিমেটা দেখেননি আসা করি দেখবেন।

ধন্যবাদ।

 Hanayamata 5