Behind the Voices – 07

আজকের সেগমেন্ট শুরু করার আগে বলে নেই, আজ যে দুইজনকে নিয়ে লেখছি তাদের দুজনের-ই আজকে জন্মদিন । 


তাৎসুহিসা সুযুকি

তাৎসুহিসা সুযুকি একজন অসাধারণ কণ্ঠ-অভিনেতা, তার কণ্ঠটা শুনতে বেশ ভালো লাগে এবং চরিত্রগুলো ভালোভাবে তুলে ধরতে পারেন । তবে আমার কাছে একজন কণ্ঠ অভিনেতার চেয়ে তাকে একজন গায়ক হিসেবেই তুলনামূলক বেশি ভালো লাগে । OLDCODEX এই ব্যান্ডটার সাথে আপনারা সকলেই কম-বেশি পরিচিত এবং হয়তো এটাও জানেন যে তিনি কিন্তু এই ব্যান্ডের লিড ভোকাল ।

তার যে সকল রোলগুলো ভালো লেগেছে সেগুলো হল ‘Baka to Test’ আনিমের ইয়ূজি, ‘Tonari no Kaibutsu-kun’ আনিমের হারু, ‘Free!’ আনিমেটির মাকোতো, ‘Sora no Otoshimono’ আনিমেটির সুগাতা এইশিরো, ‘Servant x Service’ আনিমেটির হাসেবে, ‘Owari no Seraph’ আনিমেটির হীরাগি শিনইয়া এবং ‘Kuroko no Basket’ আনিমেটির তাকাও । তার আরও অনেক অসাধারণ সব রোল আছে । এখানে http://goo.gl/XYXbAv গিয়ে দেখে নিতে পারুন তার সব রোলগুলো ।

tatsuhisa suzuki 1

তার গায়ক হিসেবে খ্যাতি আছে ভালোই, জিনিশটা প্রথম লাইনেই বলে দেওয়া হয়েছে । OLDCODEX আমার দেখা অন্যতম অসাধারণ ব্যান্ডগুলার একটা । এই পর্যন্ত তাদের ৩টি অ্যালবাম এবং ১১টি সিঙ্গেল্স বের হয়েছে । এছাড়া ‘God Eater’, ‘Kuroko no Basket’, ‘Free’, ‘Arata Kangatari’ এই আনিমেগুলোর ওএসটিতে তাদের গান আছে । ব্যান্ডটির যে কয়টি গান শুনেছি প্রায় সব-ই ভালো লেগেছে । এর মধ্য থেকেও প্রিয় গানগুলো হল ‘WALK’ ( https://goo.gl/Vnqgww ), ‘Catal Rhythm’ ( https://goo.gl/glrTft), ‘Lantana’ ( https://goo.gl/AbVIxb ) যা যথাক্রমে কুরোকো নো বাস্কেটের ১ম সিজনের ২য়, ২য় সিজনের ১ম এবং ৩য় সিজনের শেষ এন্ডিং । সুধু তাই নয় ফ্রি আনিমেটির দুটি ওপেনিং ‘Rage On’ (https://goo.gl/tDelQ1 ) এবং ‘Dried up Youth Flame’ ( https://goo.gl/NGtY0O ) এই দুটি গানও আমার বেশ প্রিয় এবং তাদের-ই গাওয়া । আমার মতে তাদের গানগুলো স্পোর্টস আনিমে অথবা কোন বেশ হার্ডকোর অ্যাকশন আনিমের সাথে বেশ মানায় । এই ব্যান্ডটির অন্য মেম্বাররা হল YORKE, রিয়ো ইয়ামাগাতা, তাইযো নাকামুরা, শিন্জি ঔমুরা । সাবেক মেম্বাররা হল ইয়োশিরো নাকাও, হিরোমিৎসু কাওয়াশিমা, Sae, YoHsKe, R.O.N ।

সে আনিমেতে প্রথম রোল পান ২০০৩ সালে এবং এখন পর্যন্ত খুব অসাধারণ কণ্ঠ-অভিনয় করে যাচ্ছেন । আশা করি সামনেও আরও অনেক ভালো রোল পাবেন ।

tatsuhisa suzuki 2

কোমাৎসু মিকাকো

কোমাৎসু মিকাকো আমার দেখা ভালো কণ্ঠ অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন এবং আমার মতে ইনৌয়ে মারিনার পর হয়তো সে-ই সবচেয়ে ভালো টমবয়িশ চরিত্রগুলার রোল সুন্দর করে তুলে ধরতে পারেন । তার কণ্ঠটা একটু উঁচু-পর্দার হলেও তার কণ্ঠ-অভিনয় শোনার সময় এই স্বরটি বেশ ভালো লাগে ।

মাত্র ২০১০ সালে অভিষেক করে এই ৫ বছরের মধ্যে ভালো পরিমাণ রোল পেয়েছেন তিনি । তার যে রোলগুলো খুব ভালো লেগেছে সেগুলো হল ‘K-Project’-এর নেকো, ‘Nisekoi’-এর সুগুমি সেইশিরো, ‘Aldnoah.Zero’-ইঙ্কো, ‘Aoharu x Kikanjuu’-এর তাচিবানা হোতারু, ‘Oregairu’-তোৎসুকা সাইকা :3 । এরপরের সিজনের বেশ হাইপ্ড আনিমে ‘Ajin’ আনিমেটির শিমোমুরা ইযুমি চরিত্রটির কণ্ঠ দিবেন তিনি। তার আরও অনেক রোল আছে । এখানে গিয়ে এক নজরে দেখে নিতে পারেন তার সব রোলগুলোhttp://goo.gl/XYrR43 । সে Dragon Quest:Heroes, Kantai Collection (গেমটির নতুন দুটি চরিত্র), Tales of Zestiria এই গেমগুলোতেও কণ্ঠ দিয়েছেন ।

তার গানগুলাও বেশ ভালো কেননা তিনি একসময় আইডোল-ও ছিলেন । K-Project, Kamisama no Inai Nichiyoubi, Aoharu x Kikanjuu, Nisekoi, Mouretsu Pirates, Senki Zesshou Symphogear এই সব আনিমেগুলার ওএসটিতে তার কাজ আছে । তার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে আমার পছন্দের গানগুলো হল ‘Trick Box’ (https://goo.gl/nGbQRx) এবং ‘Tsumetai Heya, Hitori’ (https://goo.gl/oCWLSW) এগুলো যথাক্রমে Nisekoi-এর পঞ্চম এন্ডিং এবং K-Project-এর প্রথম এন্ডিং ।

একজন কণ্ঠ অভিনেত্রীর পাশাপাশি তিনি একজন অভিনেত্রীও। তার ভবিষ্যৎে অন্যতম সেরা কণ্ঠ-অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন হয়ে ওঠার প্রতিভা আছে, তাই সে সামনে আরও রোল পাবো এটাই আশা করি ।

 

কোমাৎসু মিকাকো

এনিমে রিভিউ: Pet Shop Of Horror — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মানুষের একাকিত্ব বেশি হয়ে গেলে তা ঘোচানোর জন্য মাঝে মধ্যে মানুষের সাহচার্য ছাড়াও অনেক সময় গৃহপালিত প্রানীর সাহচার্যের প্রয়োজন হয়ে থাকে । এবং এসব প্রানী পাওয়ার উপায় হল পেটশপ , কিন্তু সেখান থেকে কেনা প্রানী হয় যদি কোন মিথলজিকাল জন্তু যা তার জাতের একমাত্র এবং তা আপনার পাপ পুণ্য , অদমিত ইচ্ছা এবং লালসার প্রতিচ্ছবি হয় তাহলে কি হবে ? পেট শপ অফ হরর সেইরকম একটি এনিমে , যেখানে মডার্ন যুগের সাথে মিথলজি , সাইকোলজির এবং হররেরমিশেল ঘটানো হয়েছে এবং তার সফল উপস্থাপন করা হয়েছে ।
কাহিনী : আমেরিকার লাসভেগাসের চায়না টাউনে আছে এক অদ্ভূত পেট শপ । যেখানে বহু ক্ষমতাধর ব্যাক্তিদের প্রায়ই দেখা যায় । এবং সন্দেহের বিষয় হল এ দোকানের কিছু ক্রেতা প্রায়ই শহরের মধ্যে খুন হয় এবং তা আপাতদৃষ্টিতে বন্যপ্রানীর আক্রমনে । সুতরাং এক ডিটেকটিভ যোগাযোগ করে পেট শপের দোকানদার কাউন্ট ডি এর সাথে । তখন কাউন্ট ডি ই তাকে সোজা কাহিনী বলে দেয় । প্রত্যেকটি প্রানী বিক্রির সময় কিছু শর্ত মানতে হবে , যার মধ্যে প্রধান শর্ত হল জন্তুটি কাউকে দেখানো যাবে না । এরপর থাকে প্রানীভেদে আলাদা শর্ত । কেউ যদি এই শর্ত ভঙ্গ করে তাহলে তার ফলাফলের জন্য ক্রেতাই দায়ী থাকবে এই মর্মে চুক্তিপত্র সই করতে হবে । কিন্তু এই বিক্রি হওয়া প্রানীগুলো কি এবং এই মৃত্যুর পেছনের কাহীনি কি জানতে হলে এনিমেটি দেখা শুরু করে দিন ।
এনিমেটির মাত্র চার পর্ব । এবং একেকটি পর্ব একেকটি পুরো গল্প । ওপেনিং সং এই এনিমেতে নেই , আর্টস্টাইল মোটামুটি সুন্দর এবং কাহিনী বর্ননার ধরন বেশ ভালো । আর এটার ডাব ও সাবের , দুটোর মানই ভালো । সুতরাং হাতে সময় থাকলে চট করে দেখে ফেলুন পেট শপ অফ হররস।
আমার রেটিং: ৮/১০

pet shop of horror

Behind the Voices – 06

শিমোনো হিরো

শিমোনো হিরো আমার দেখা অসাধারণ কণ্ঠ-অভিনেতাদের মধ্যে একজন। তার কণ্ঠটা বেশ বিরল এবং তিনি বেশিরভাগ সময় কিশোর বয়সী চরিত্রদের কণ্ঠ দিয়ে থাকেন । আর তিনি তার চরিত্রগুলোকে এমনভাবে কণ্ঠ দেন যে অন্য কারও কণ্ঠে চরিত্রগুলোকে কল্পনা করা যায় না।

তার অনেক ভালো ভালো রোল আছে । তবে সেগুলোর মধ্যে আমার বেশ পছন্দের হল ‘Kami nomi zo Shiru Sekai’ আনিমেটির কেইমা কাৎসুরাগি চরিত্রটি, এই চরিত্রটির ক্ষেত্রে সে যে অসাধারণভাবে কণ্ঠ-অভিনয় করেছেন আমার মতে অন্য কারও কণ্ঠ-অভিনয়ের সাথে হয়তো বা চরিত্রটিকে এত ভালো লাগতো না । আরও আছে ‘SKET Dance’ সুবাকি সাস্কে চরিত্রটি, এর ক্ষেত্রে খুব অসাধারণভাবে গম্ভীর স্বরে কণ্ঠ-অভিনয় করেছেন তিনি বিশেষ করে চরিত্রটির বারবার ‘ওরোকামোনো’ বলার ধরণটা বেশ মজা লেগেছে । আরও পছন্দের রোলগুলো হল ‘Baka to Test’-এর আকিহিসা, ‘Senyuu’-এর আলবা, ‘Unbreakable Machine Doll’-এর রাইশিন, ‘Binbougami ga’-এর ইনুগামি, ‘Ace of Diamond’-এর কাওয়াকামি এবং ‘Tonari no Seki-kun’-এর সেকি-কুন ( যদিও চরিত্রটাকে পুরা সিরিজের মধ্যে একটুও কথা বলতে দেখি নাই ) । এই বছরও কিছু নতুন রোল পেয়েছেন তিনি, যেমন দুরারারার দ্বিতীয় সিজনের আওবা নামক নতুন চরিত্রটি। http://goo.gl/Fih7AV এখানে যেয়ে এক নজরে দেখেনিন তার আনিমে এবং গেম্সের সব চরিত্রগুলো ।

শিমোনো হিরো 1

তার জন্ম ২১ এপ্রিল, ১৯৮০ এবং ২০০২ সালে তিনি তার প্রথম রোল পান ‘RahXephon’ আনিমেটির কামিনা আয়াতো চরিত্র হিসেবে । তার কন্ঠ-অভিনয় নিঃসন্দহে অনেক সুন্দর । তাই সামনেও তিনি আরও কিছু ভালো ভালো রোল পাবেন এটা ধরে নেওয়াটাই স্বাভাবিক।

শিমোনো হিরো 2

নাযুকা কাওরি

আমার দেখা সবচেয়ে নরম এবং শ্রুতিমধুর কণ্ঠওয়ালা কণ্ঠ অভিনেত্রী নাযুকা কাওরি । সে শুধু একটি সুন্দর কণ্ঠেরই অধিকারী নয়, একজন অসাধারণ দক্ষ কণ্ঠ অভিনেত্রীও ।

তার পেশাগত জীবনে অনেক চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি, বলতে গেলে ৯০% কণ্ঠ অভিনেত্রীদের তুলনায় তার চরিত্রের পরিমাণ বেশি । শুধু তাই নয়, তার করা মূল চরিত্রের সংখ্যা পার্শ্বচরিত্রের চেয়ে বেশি । তার কণ্ঠ দেওয়া পছন্দের রোলগুলো হল ‘Eureka 7’-এর এউরেকা, ‘Soul Eater’-এর সুবাকি, ‘The World God Only Knows’-এর তেন্রি, ‘Kampfer’-এর সাঙ্গোউ শিযুকু, ‘Akame ga Kill’-এর চেলসি, ‘Fullmetal Alchemist Brotherhood’-এর মারিয়া রস, ‘To Love Ru’-এর কোতেগাওয়া ইউই, ‘Haikyuu’-এর কিয়োকো এবং ‘Code Geass’-এর নানালি । এছাড়া তার আরও অনেক রোল আছে বিভিন্ন আনিমে এবং গেমে, সেই রোলগুলো সব এক নজরে এই লিঙ্কে http://goo.gl/SKwl0S গিয়ে দেখে আসতে পারুন ।

 

নাযুকা কাওরি 1

তার জন্ম ২৪ এপ্রিল, ১৯৮৫ এবং আনিমেতে প্রথম রোল পান ১৯৯৯ সালে । তিনি ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিবাহিত হন এবং তার একটি কন্যাও আছে । সেই ছোটবেলা থেকে অসাধারণ কণ্ঠ-অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি এবং সামনে তিনি আরও ভালো রোল পাবেন এটা আশা রইলো ।

নাযুকা কাওরি 2

Mushishi রিভিউ — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

এনিমে রিভিউ : Mushishi (মুশিশি)
এই ছোট জীবনে আমার বহুরকম এনিমে দেখার সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য হয়েছে । নানা জনরার এনিমে দেখসি যেমন মেকা , সাইকোলজিকাল , শৌনেন , স্লাইস অফ লাইফ ইত্যাদি ইত্যাদি । কিন্তু এটা এমন এক এনিমে যাকে আমি কোন ভাগেই ঠিকমতো ফেলতে পারিনি । কোনরকম ফ্ল্যাশি মুভ , মাথা ঘুরিয়ে দেবার মত প্লট বা কোন রোমান্স কিছুই এই এনিমেতে নেই , কিন্তু তারপরও এই এনিমে একবার দেখার পর মাথা থেকে কিছুতেই বের করা যায় না । এটা দেখার পর একটা মায়াবী বা হিপনোটিক ভাব সারা মনকে ঘিরে রাখে । কি আছে এই এনিমেতে তাহলে ?

কাহিনী : এই এনিমের প্রধান বিষয়বস্তু হল মুশি । মুশিরা হল একধরনের সত্ত্বা । এরা জীবও না বা এরা আত্নাও না । এরা হল এক ধরনের পিউর লাইফ ফর্ম এবং এদের অনেক প্রকারভেদ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতা আছে । আর সাধারন মানুষের খালি চোখে মুশি দেখতে পারে না কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া ।এদের বেশিরভাগই নিরীহ তবে কিছু কিছু মুশি আছে যারা মানুষের জীবনে ছোটখাট থেকে ভয়াব্হ ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে । এখন আসে আমাদের প্রধান কেন্দ্রীয় চরিত্রের কথা যার নাম হশ গিঙ্কো ( Ginko ) । সে পেশায় হল মুশি মাস্টার বা মুশির ওঝা । সে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মানুষদের ক্ষতিকর মুশির হাত থেকে বাঁচায় এবং সাথে মুশিদের উপর গবেষনা করে বেড়ায় । তার এই ভ্রমনে নানা অভিগ্ঙতার সম্ভুখীন হয় ।
এই এনিমের প্রত্যেকটি পর্বই একেকটি আলাদা কাহিনীর মতো ।প্রত্যেকটি গল্পই হৃদয় ছোঁয়া । এরপর আছে এর অসাধারন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক । জাপানের প্রাচীন ক্ল্যাসিকাল ফোক মিজজের ইন্সট্রুমেন্টের কাজ আপনাকে এনিমের দৃশ্যগুলো জীবন্ত করে তুলবে । এবং প্রধান আর মেইন আকর্ষন হলো এর আর্টওয়ার্ক , মুশিশির যে কোন সিন পজ করে দেখলেও চোখে শান্তি লাগে । এই এনিমের হালকা ভৌতিক এবং একই সাথে মুগ্দ্ধকর আব্হাওয়া এই আর্টস্টাইল সফলভাবেই তুলে ধরেছে ।
বর্তমানে যারা গত্‍বাধা কাহিনীর এনিমে দেখে ক্লান্ত ,তারা এই এনিমে অবশ্যই ট্রাই করবেন । এবং এই এনিমে দেখার পর এক অদ্ভূত মুগ্দ্ধকর অনুভূতি নিয়ে থাকবেন ।
এনিমের পর্ব সংখ্যা প্রথম সিজনে ২৬ টি ।আমার মতে সাব না দেখে ডাব দেখলেই ভালো হবে বেশি , কেননা ডাবে গিঙ্কোর গলার ভাবই আলাদা । সাথে এর ফুল সাউন্ডট্র্যাক আলাদা নামিয়ে নিলে আরো ভালো হয় ।
আমার রেটিং :১০/১০
সুতরাং হাতে সময় থাকতে দেখে ফেলুন মুশিশি ।

mushishi

The Wind Rises রিভিউ — Rafiul Alam

“The wind is rising! . . . We must try to live!”
– Paul Valéry’s poem, “Le Cimetière marin”

আমি জিব্লির হাতে গোনা কয়েকটা মুভি দেখেছি। কালকে যখন এই মুভিটা শেষ করলাম, মনে হল, আরো আগে দেখা উচিত ছিল। হায়াও মিয়াজাকি সাহেব পরিচালিত সর্বশেষ সিনেমা এটি। যা মুলত অ্যারোনটিক্যাল ডিজাইনার জিরো হিরোকশির জীবন কাহিনী। যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময় জাপানের জন্য যুদ্ধবিমান নকশা করেন। পর্দায় তুলে ধরা দৃষ্টিভঙ্গী, আর বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়ের কারণে সিনেমাটি সমালোচিত, আমি সেই বিষয়ে তেমন কিছুই জানি না, তাই সেব্যাপারে কোন মন্তব্য করব না।

Synopsis : জাপানী বালক জিরো বিমান ভালবাসে। সে বিদেশী বিমানের ম্যাগাজিন ঘেটে বেড়ায় অসীম কৌতূহলে। ইতালিয়ান ইঞ্জিনিয়ার জিওভান্নি কাপ্রনি তার আদর্শ। অ্যারোনটিকাল ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন এভাবেই সে তাড়া করতে থাকে।
বছর খানেক পরের দৃশ্য, বালক এখন যুবক। ভিড়ে ঠাসা ট্রেনের কামরা থেকে বেরিয়ে আসে জিরো। সবকিছু যখন স্থির ও শান্ত, তখনই ভুমিকম্প আঘাত হানে। ট্রেন দ্রুত থামানো হলে যাত্রীদের হুরোহুরি শুরু হয়ে যায়। এমন সময় এক মহিলার পা ভেঙে যায়। তাকে সাহায্য করতে গিয়ে জিরোর পরিচয় হয় নাওকো সাতমি নামের এক মেয়ের সাথে। সেবার নিজের নাম না বলেই বিদায় নেয় জিরো।
ধীরে ধীরে ভূমিকম্পের ক্ষতির রেশ কেটে যায়।শহর আবারো গড়তে শুরু হয়। বিমান ডিজাইনে মহা ব্যাস্ত হয়ে পড়ে জিরো, নিজের বোনের সাথেও দেখা করতে ভুলে যায় । কাজের প্রতি অত্যাধিক ভালবাসার কারণে জার্মানির সাথে সেই সময়ের জাপানের প্রযুক্তিগত পার্থক্য বুঝতে শুরু করে সে। এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তার লক্ষ্য হয় নানান সীমাবদ্ধতার মাঝে দ্রুতগামী ধাতব বিমান নকশা করা।সিনেমার পরবর্তীতে জিরোর কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের সুন্দর সংমিশ্রণ তুলে ধরা হয়েছে। যদিও সমাপ্তি ঠিক যুতসই ছিল না।

Theme setup, Animation and Music : সিনেমার ঘটনায় ১৯২৩ এর কান্তো ভুমিকম্প থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাপান স্থান পেয়েছে। তেমনিভাবে ৩০-৪০ দশকের জাপানী জীবনধারা ও সেই সময়ের সীমাবদ্ধতার বাস্তবিক চিত্রায়ন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলোও চোখের আরাম ছিল। এক্ষেত্রে জিব্লির স্কিল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রতিটি দৃশ্য ডিটেইলড। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, একটি চারাগাছের উপর বৃষ্টির দৃশ্য, রেললাইনের উপর একটি পাথর অথবা পাখির চোখে টোকিও শহর, এসব কিছুর পেছনেই এক ধরনের শৈল্পিকতা প্রকাশ পেয়েছে। আনিমেশন বরাবরের মতই রঙিন আর ফ্লুইড। টুডি, তবে জীবন্ত, জিব্লির প্রিয় একটি বৈশিষ্ট্য।মন ঠান্ডা করা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও পারফেক্ট মনে হয়েছে। সর্বোপরি, মিয়াজাকি তার নামের প্রমাণ দিতে পেরেছেন।

Characters Setup : জিরো কাজের প্রতি একনিষ্ঠ, বিনয়ী। সবচেয়ে ভাল লেগেছে যখন সে তার ভালোবাসার কথা অকপটে স্বীকার করে নেয়। জিরোর প্রতি নাওকোর কমিটমেন্ট সিনেমার একটা সুন্দর দিক ছিল, শক্ত চরিত্রের প্রকাশ। জিরোর অভিমানী বোনের হঠাৎ হঠাৎ স্ক্রিনে আগমন জিরোর পরিবারের দিকে নজর না দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে। সাইড ক্যারেকটার গুলোর মাঝে সাপোর্টিভ হোঞ্জো এবং রাগী কিন্তু নরম মনের গুরুজন, কুরাকাওয়া উল্লেখ্য।

পরিশেষে কিছু ব্যক্তিগত মতামত দেই, আমি বাচ্চাকাল থেকে এভিয়েশনের প্রতি আগ্রহী। তাই সিনেমার সামগ্রিক গল্প খুব একটা বক্তব্যধর্মী না হলেও আমার কাছে বেশ ইন্সপায়ারিং লেগেছে। সেই সময়ের কাঠ আর ত্রিপলের তৈরি বিমান যুদ্ধ করার জন্য মোটেও উপযোগী ছিল না। জিরোর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল প্রায় ২৭০মাইল/ঘন্টা বেগে উড়তে পারে এমন যুদ্ধবিমান তৈরি করা। কিন্তু এত বেশি বেগে যে ড্র‍্যগ তৈরী হবে,তা নেয়ার সামর্থ তৎকালীন কাঠের এয়ারফ্রেমের ছিল না। তাই তাকে স্টিলের বডি বানাতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্যা হল ওজন, তৎকালিন র‍্যডিকাল ইঞ্জিনের পক্ষে তখন পর্যাপ্ত থ্রাস্ট দিয়ে স্টিলের বডিকে ২৭০ মাইল/ঘন্টা স্পিডে নেয়া সম্ভব না। পরবর্তীতে সে অ্যালুমিনিয়াম এলয় ব্যাবহার করে সহনীয় উইং লোডিংয়ের বিমান বানাতে সক্ষম হয়। A6M ZERO বিমানটি লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন যে সেটি কনভেনশনাল এয়ারফ্রেমের বিমান, ঠিক প্রয়োজনীয় পরিমাণের ডাইহিড্রাল। কিন্তু ভাল করে তাকালে বুঝবেন যে এলোরনে পুশরড নেই। যার ফলে প্লেনের ড্র‍্যাগ অনেক কমাতে সক্ষম হয়েছেন জিরো। কয়েক বছরের সাধনার ফলস্বরূপ তার A6M5 ৩৪৫ মাইল /ঘন্টা রিচ করে। সর্বোপরি, জিরো হাল্কা ওজনের, ম্যানুভারেবল কিন্তু দ্রুতগতির বিমান বানাতে সীমিত সুবিধার মাঝেও কারিগরিকভাবে মহাসফল।যদিও অ্যালাইড ফোর্সের ইঞ্জিনিয়াররা যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই তাকে টেক্কা দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু জিরো হিরোকশির অর্জনকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। জানামতে মুভিটি “The wind has risen” উপন্যাসের অ্যাডাপ্টেশন। উপন্যাসটি পড়িনি, তাই মুভির সাথে বৈসাদৃশ্য নিয়ে আমার কোন ধারনা নেই। তবে শুনামতে, নাওকো চরিত্রটি উপন্যাসে অন্যভাবে ছিল। যাই হোক…..সকল বিতর্ককে একপাশে রেখে দিয়ে সিনেমাটি দেখতে বসে যান, আশা করি ২ ঘন্টার অপচয় হবে না।

Overall Rating :
MAL Rating : 8.3
IMDb Rating : 7.8
My Rating : 8.0

The Wind Rises

এনিমে সায়েন্স ২ – স্পাইস এন্ড উলফ ট্রেনি কাহিনী ২

গত পর্বে আমরা অর্থের অর্থ, অর্থ হিসেবে কি এবং কেন ব্যাবহার করি, কিভাবে এর মূল্য নির্ধারণ এবং কেনইবা করি এসম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম। এছাড়াও জানতে পেরেছিলাম যে কেন এই সেগমেন্টের উৎপত্তি হয়েছে এবং এর নাম কেন এনিমে সায়েন্স রাখা হয়েছে।

as2

আর যা আমরা জানতে পারিনি অর্থাৎ যেখানে এসে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত হুট করে সেগমেন্টটি শেষ হয়ে গিয়েছিল তা হল,

এই গুজব ছড়িয়ে লাভটা কি?

এর উত্তরে আপনাদেরকে একদিনে বেশি ডোজ না নিয়ে যা পেয়েছেন তাই নিয়ে সন্তুষ্টচিত্তে জীবনধারণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

কিন্তু অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হয়েছে!

সময় হয়েছে আরও একটি নতুন ডোজ নেওয়ার!!

নতুন করে ডোজ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আমি পাভেল আহমেদ সকল সম্মানিত এনিমখোরের সামনে পুনরায় হাজির হয়েছি সেগমেন্টের ২য় পর্ব নিয়ে।

তাহলে শুরু করছি গত পর্বের সেই রহস্যঘেরা প্রশ্নটি দিয়ে যার উত্তর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি (অন্তত এই সেগমেন্টে!)।

তবে তার আগে

যারা যারা স্পাইস এন্ড উলফ এখনও দেখেনি তাদের জন্য স্পয়লারএলারট >>>>>

.

.

.

.

.

এখন প্রশ্ন হল যে ট্রেনি সিলভার কয়েনের পিউরিটি বৃদ্ধি পাচ্ছে এই গুজব ছড়িয়ে তাদের লাভটা কি?

যখন মানুষ জানতে পারবে যে ট্রেনি সিলভার কয়েন নতুন করে ছাড়া হচ্ছে সিলভারের পরিমান বৃদ্ধি করে তখন তারা বুঝতে পারবে যে তাদের কাছে থাকা ট্রেনি সিলভার কয়েনের মূল্য খুব শীঘ্রই নিচে নেমে যাবে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা চেষ্টা করবে যত দ্রুত সম্ভব তাদের কাছে থাকা ট্রেনি কয়েন বিক্রি করে দেওয়ার যাতে করে তারা আসন্ন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। এমনকি ক্ষতি যাতে তুলনামূলক কম হয় সেজন্য তারা বর্তমান বাজারদর থেকে সামান্য কমেও বিক্রি করতে রাজি হতে পারে।

ওভারঅল প্ল্যানটা হল এরকম যে, মেডিও কোম্পানি যতরকমভাবে সম্ভব ট্রেনি কয়েনের পিউরিটি বৃদ্ধির গুজব বিভিন্ন ব্যাবসায়িদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইছিলো। ব্যাবসায়িরা একারনে পুরানো ট্রেনি কয়েন জমানো শুরু করে দিবে। কিন্তু যখন তারা টের পাবে যে কয়েনের পিউরিটি বরং কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে তখন তারা ওই কয়েন বিক্রির জন্য তোড়জোড় শুরু করে দিবে। এবস্থায় মেডিও কোম্পানি এক ধাক্কায় সব কয়েন কিনে নিবে। ধরা খাওয়া ব্যাবসায়িরাও কখনই তাদের এই ধরা খাওয়ার কথাটা কারও সামনে উচ্চারন করবে না তাদের প্রেস্টিজ পাংচার হওয়ার ভয়ে। এরপরে মেডিও কোম্পানি একটি বিশেষ মেথডে এই কয়েন থেকে প্রফিট করবে যে সম্পর্কে পরে আলোচনা করা হবে।

কয়েনের গুজব ছড়ানোর পিছনে খুব সম্ভব মেডিও কোম্পানির আরও একটি উদ্দেশ্য জড়িত ছিল। আর সেটি হল, রাজ্যের অভ্যন্তরে কয়েনের দাম উপর্যুপরি কমিয়ে নিয়ে আসা। যখন কোন বস্তুর সাপ্লাই অতিরিক্ত পরিমানে হয় তখন সেই বস্তুর দাম অনেক কমে যায়। কয়েনের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি কিছুটা সেভাবেই হয়। সাধারণত যখন একটি দেশের সম্পদের তুলনায় টাকা বা অর্থ বেশি বেড়ে যায় তখন সেই অর্থের মূল্য নিচে নেমে যায়। অর্থের মূল্য কমে যাওয়ার এই ব্যাপারটিকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। তবে অর্থ বা মুদ্রার আধিক্যই কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির একমাত্র কারন নয়। তবে আমরা এখানে আমরা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে কথা বলছি না। এখানে আমরা বলছি সাপ্লাই এর সাথে ডিমান্ডের সম্পর্ক নিয়ে। যখন সাপ্লাই বৃদ্ধি পায় তখন ডিমান্ড আস্তে আস্তে কমে যেতে থাকে। আর ডিমান্ড কমে যেতে থাকলে আস্তে আস্তে সাপ্লাই করা বস্তুর মূল্যও কমে যেতে থাকে। কারন মানুষের চাহিদার তুলায় দ্রব্য বেশি হয়ে গিয়েছে। ঠিক এই ট্রিকটিই ক্রাফট লরেনস ২য় সিজনের শুরুর দিকে খাটিয়েছিল। সে প্ল্যান করেছিল যে মার্কেটে পাথরের সাপ্লাইয়ের ওভার ফ্লো দিয়ে পাথরের মার্কেটকে ধসিয়ে দিবে যাতে ওই পুচকা মাছ ব্যাবসায়ি ধরা খায়! সাথে অবশ্য আরও একটি ট্রিকও ছিল!!

বিঃদ্রঃ একই টেকনিক ব্যাবহার করে সেয়ার বাজারেও ধ্বস ঘটানো সম্ভব তবে পকেটে বেশ ভালো পরিমানে পাত্তি থাকতে হবে!

যাই হোক, মেডিও কোম্পানির গুজবের কারনে অনেকেরই ট্রেনি সিলভার কয়েন বিক্রি করে দেওয়ার কথা। কয়েনের প্রতি ব্যাবসায়িদের হারানো ট্রাস্ট ইস্যু এবং অধিক পরিমানে সাপ্লাই এই দুইয়ের কারনে কয়েনের প্রাইজ নতুন কয়েন সার্কুলেশন আসার আগেই নিচের দিকে নেমে যাওয়ার কথা (অন্তুত যারা যারা এসম্পর্কে যানে তাদের কাছে)। সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে যে মেডিও কোম্পানি আরও বড় একটা দাঁও মারার চিন্তাভাবনা করছিল। কারন মানুষ যদি বর্তমান বাজারদরের থেকেও কমে তাদের কাছে কয়েন বিক্রি করে তাহলে কোম্পানির প্রফিটের পরিমান আরও বেশি থাকবে। অবশ্য এই ব্যাপারটি হয়তো নাও হতে পারে। এটি হয়তো শুধু একটি স্পেকুলেসনমাত্র।

আরেকটি প্রশ্ন এখন আমাদের সামনে এসে পড়েছে।
আর সেটি হল, কেন ট্রেনি সিলভার কয়েনের পিউরিটি কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে?

এর কারন হিসেবে স্পাইস এন্ড উলফ এ বলা হয়েছে যে রাজ পরিবার অর্থ সংকটে ভুগছে। তাই তারা কয়েন প্রস্তুত করার প্রোডাকশন কস্ট কমানোর জন্য কয়েনে সিলভার ব্যাবহারের হার কমিয়ে দেয়। উদাহরণঃ আগে নির্দিষ্ট পরিমান সিলভার দিয়ে যদি ১০টি কয়েন তৈরি করা সম্ভব হয় পিউরিটি কমানোর পরে তাহলে সেখানে ১০ এর অধিক কয়েন প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। ১০ টি কয়েনের সিলভার দিয়ে যদি ১৩টি কয়েন তৈরি করা হয় তাহলে অতিরিক্ত তিনটি কয়েন পাওয়া যাচ্ছে একই পরিমান সিলভার দিয়ে।

আচ্ছা এখন কয়েন প্রোডাকশন কস্ট নাহয় কমিয়ে দিলাম কিন্তু মোট কয়েনের পরিমান বাড়লেও মোট সিলভারের পরিমান তো আর বৃদ্ধি পায়নি।

তাহলে লাভটা কি হল?

এখানে আমি পুনরায় কয়েনের ফেস বা ব্র্যান্ড ভ্যালুর কথাটি নিয়ে আসতে চাই। মানুষ ট্রেনি সিলভার কয়েনকে নির্দিষ্ট একটি মূল্যের সমপরিমান হিসেবে ট্রাস্ট করে। বাজারে যদি কম পিউর কয়েনও ছাড়া হয় মানুষের কিন্তু বোঝার উপায় নেই যে এটি কম পিউর। তারা যখন কয়েনে ট্রেনি কিংডমের রাজার মুখের ছাপ মারা দেখবে তখনই আনন্দে বিগলিত হয়ে সেটাকে নির্দিষ্ট মূল্যের জন্য ব্যাবহার শুরু করবে। এভাবেই ট্রেনি রাজ্যের ইমিডিয়েট ক্যাপিটাল বা সম্পদের পরিমান বহুলগ্নে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু লং টার্মের জন্য এই কাজ মোটেও ভালো হবে না। কারন আন্তর্জাতিক মার্কেটে একসময় না একসময় ধরা পড়বেই যে এই কয়েনের পিউরিটি কম। যেহেতু মানুষজন আসলে বেকুব না এবং কয়েনের পিউরিটি মাপার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তাদের কাছে আছে সেহেতু ব্যাপারটি ধরা পড়তে বাধ্য এবং সেটা খুব দ্রুতই।

আন্তর্জাতিক মার্কেটে এই ব্যাপারটি ধরা পড়ার সাথে সাথে মার্কেটে বেশি পিউর, কম পিউর নির্বিশেষে সকল ট্রেনি কয়েনের মূল্য নিচের দিকে নেমে যাবে। মানুষ তখন আর মেপে দেখতে যাবে না যে কোন ট্রেনি কয়েনে সিলভার বেশি আর কোন কয়েনে কম। ট্রেনি রাজার খোমার ছাপ্পাটা কয়েনে দেখা মাত্রই তারা বুঝে নিবে যা বোঝার। নির্বিচারে সকল ট্রেনি কয়েনকে তারা নিচু জাত হিসেবে বিবেচনা করবে। পাতিলের একটা ভাত টিপলেই বাকিগুলোর অবস্থা টের পাওয়া যায় এই নীতিতে তাদেরকে কঠোরভাবে অবস্থান করতে দেখা যাবে! অর্থাৎ এখানে কয়েনের কোয়ালিটি মেইনটেইন করতে না পারার কারনে ট্রেনি কয়েনের ব্র্যান্ড জনগনের সেই আস্থাটা আর পাবে না। একবার এভাবে ব্র্যান্ড থেকে মানুষের আস্থা উঠে যাওয়া শুরু করলে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন। তার মানে ভবিষ্যতে যদি ট্রেনি কয়েনের পিউরিটি বৃদ্ধিও করা হয় তাহলেও মানুষকে এসসম্পর্কে কনভিনস করানোটা অত্যন্ত কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ একটি ব্যাপার হবে। এভাবেই ট্রেনি রাজ্যের জন্য এই সিদ্ধান্ত লং টার্মে অনেক ক্ষতিকর হয়ে দেখা দিবে। তবে এত কিছু বিবেচনা করেও যেহেতু তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মানে তাদের আসলে  অবস্থা কেরোসিন।

একারনেই বলা হয় ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না!
আবার এটাও বলা হয় যে অর্থই অনর্থের মূল!!
এদিকে আবার এটাও বলা হয় যে অর্থই সকল সুখের মূল!!!
অর্থ নিয়ে এতসব কথার অর্থটা কি কে যানে?

এবার তাহলে অর্থ নিয়ে এতসব অনর্থ করার পিছনে মেডিও কোম্পানির অনৈতিক অর্থনৈতিক কাজগুলোর মূল অর্থটা এক্সপ্লেইন করি।

ট্রেনির রাজা আসলে আদেশ দিয়েছিল যে পুরানো সকল ট্রেনি কয়েনকে গলিয়ে নতুন করে কম পিউর কয়েন তৈরি করতে। কিন্তু সেজন্য প্রচুর পরিমানে পুরানো ট্রেনি কয়েন তাদের প্রয়োজন। যে বা যারা রাজাকে বিশাল পরিমানে কয়েন সাপ্লাই দিতে পারবে সে বা তারা ওই কয়েনের বিনিময়ে রাজার সাথে নেগোসিয়েসন বা দরাদরি করে বিভিন্ন ধরনের স্পেশাল রাইট বা অধিকার আদায় করতে পারবে যেগুলো একটি কোম্পানির জন্য অত্যন্ত পরিমানে লাভজনক হয়ে দেখা দিবে। এদিকে আবার পুরানো কয়েনের সাথে তারা নতুন কয়েন এক্সচেঞ্জ করে আরও বেশি সংখ্যায় কয়েন পাবে। এদিক থেকেও তারা লাভবান। কারন পুরানো ১০টি কয়েনের পরিবর্তে তারা যদি ১৩টি কয়েন পায় তাহলে তৎক্ষণাৎ মার্কেটে ব্যাবহার করলে পুরানো ১৩টি কয়েনের সমানই মূল্য পাবে।

এই পর্যন্ত বিশ্লেষণ দিয়ে লেখাটি এখানেই শেষ করছি।

আশা করা যায় যে আর কোন সমস্যা থাকবে না।

তবে!
কেউ যদি আর কোন প্রশ্নের উত্তর চান মশলা এবং নেকড়ে সম্পর্কিত তাহলে কমেন্টে প্রশ্ন করে রাখতে পারেন। যথাসাধ্য যত দ্রুত সম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। কমেন্টে উত্তর দেওয়া সম্ভব না হলে ঠিক এরকমই আরেকটি সেগমেন্ট আপনাকে Dead E Cat করে লেখা হবে!

তাহলে আজকের মত এখানেই B দায় জানাচ্ছি।

ভালো থাকুন

সুস্থ থাকুন

সুখে থাকুন

শান্তিতে থাকুন এবং …..

এনিম দেখুন!

তথ্যসূত্র জানতে হলে যেতে পারেন –

এখানেঃ
http://spiceandwolf.wikia.com/wiki/Currency

ওখানেঃ
https://bignanime.wordpress.com/2008/02/09/wolf-spice-and-currency-the-economics-of-wolf-and-spice/

এবং

সেখানেঃ
https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AB%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF

THE END (আপাতত)

Behind the Voices – 05

জুন ফুকুয়ামা

একজন মানুষ সাধারণত এক ধাঁচের কণ্ঠেই কথা বলে অভ্যস্ত। খুব কম মানুষই একাধিক স্বরে কথা বলতে পারে, এমনকি দক্ষ কণ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যেও হাতে গোনা কয়েকজন এই কাজটা পারে। জুন ফুকুয়ামা হলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি একাধিক স্বরে নির্ভুলভাবে কণ্ঠ অভিনয় করে যেতে পারেন। এমনকি একটি আনিমেতে ভিন্ন স্বরের একাধিক চরিত্রকে অসাধারণ ভাবে তুলে ধরার নমুনাও আছে; উদাহরণ: আমাগি ব্রিলিয়ান্ট পার্ক, ব্লিচ ।

জুন ফুকুয়ামা এখন পর্যন্ত অনেকগুলো চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয় করেছেন, যার মাঝে এমন সব চরিত্রও আছে যার সাথে তারআরেকটি কণ্ঠ দেওয়া চরিত্রের কণ্ঠের মধ্যে মিল পাবেন না। এমনকি নিজে থেকেই প্রশ্ন করবেন ” আরে, এই দুইটা চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছে একই মানুষ, কেমনে কি ?”। এছাড়া সে যে কত সহজ ভাবে কণ্ঠ বদলাতে পারে সেটার এক নমুনা দেখুন এই ভিডিওটিতে https://goo.gl/mN9uxM ।

যাই হোক, আমার দেখা জুন ফুকুয়ামার সেরা রোল হল xxxHOLiC-এর ওয়াতানুকি কিমিহিরো এবং নুরারিহিয়োন নো মাগোর রিকুও চরিত্র দুটি । তার আরও অনেক চরিত্র আমার কাছে ভালো লেগেছে তবে এই দুইটা চরিত্রকে সেরার তালিকায় রাখার মূল কারণ হল এই দুইটি চরিত্র আমার মতে জুন ফুকুয়ামা ছাড়া আর কেউ মনে হয় এত অসাধারণ ভাবে তুলে ধরতে পারতো না । হাইস্কুলের চঞ্চল ওয়াতানুকি এবং প্রাপ্ত বয়স্ক ওয়াতানুকি; তারপর সাধারণ রিকুয়ো এবং ইয়োকাই রিকুয়ো। শুধু তাই নয়, আনসাৎসু কিয়োশিৎসুর কোরো সেনসেই, তেগামি বাচির গশে, কোড গিয়াসের লেলুশ প্রত্যেকটা চরিত্রের কণ্ঠে তফাৎ ছিল কিন্তু সবাইকেই ত্রুটিহীন ভাবেই জুন ফুকুয়ামা তুলে ধরেছেন। এই চরিত্র বাদেও তার অনেক চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয় আমার ভালো লেগেছে, যেমন ওয়ার্কিং-এর তাকানাশি, ব্লিচের ইয়ুমিচিকা, চুনিবিওর ইয়ূতা, কুরোকো নো বাস্কেটের হানামিয়া মাকোতো, দুরারারার শিনরা, ব্লু এক্সোরসিস্টের ইউকিও, বুসৌ রেঙ্কিনের কাযুকি, কে-প্রজেক্টের ইয়াতা এবং আরও অনেক । তবে সে যে সব চরিত্রেই অসাধারণ কণ্ঠ অভিনয় করেন এই বিষয়ে আমি ঠিক একমত না কারণ স্পাইস এন্ড উল্ফ আনিমেটিতে আমার মতে তার লরেন্স চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয়টি ঠিক তেমন ভালো ছিল না, তার বদলে অন্য কেউ হয়তো আরও সুন্দর করে চরিত্রটিকে তুলে ধরতে পারতো। তার এতোগুলো চরিত্র সব এক নজরে দেখে নিতে পারেন।

জুন ফুকুয়ামা 1

আনিমের ওএসটিতেও তার অনেক কাজ রয়েছে। বিভিন্ন আনিমের ওপেনিং এবং এন্ডিং তার গাওয়া আছে । তার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে আমার ব্যক্তিগতভাবে প্রিয় ‘Wild Crow'( https://goo.gl/gCiH2y ), ‘Dedicate’ (https://goo.gl/BGJWQ0 ), ‘Regeneration’ ( https://goo.gl/NB9WdJ ) যেটা লেলুশের ক্যারেক্টার সং । এছাড়া তার গাওয়া ‘ Bamboo☆Scramble’ ( https://goo.gl/eHZmK0 ) গানটা বেশ মজা লাগে । তার ৪ টা এলবাম রিলিজ আছে, সেই গানগুলোও সুন্দর, শুনে দেখতে পারেন।

তার জন্ম ২৬ নভেম্বর, ১৯৭৮ । ১৯৯৬ সালে তার অভিষেক । একজন কণ্ঠ অভিনেতা এবং গায়ক হিসেবে তিনি নিঃসন্দেহে সফল। 1st Seiyuu Awards-এ তিনি ‘Best Voice Actor’ খেতাবটা অর্জন করেছিলেন লেলুশ ভি ব্রিটানিয়া চরিত্রটির জন্য। এখনো তিনি অনেক চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয় করে যাচ্ছেন এবং সামনেও তা করবেন এই আশা রইলো। আমার মতে তাকে কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে কিংবদন্তী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিৎ ।

জুন ফুকুয়ামা 2

কোশিমিযু আমি

আমার সবচেয়ে প্রিয় কণ্ঠ অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন কোশিমিযু আমি। প্রায় সব ধাঁচের চরিত্র সে অনেক সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারেন তিনি ।

তার কণ্ঠ-অভিনয় করা চরিত্রগুলো আমার বরাবর-ই ভালো লাগে । তবে যে রোলগুলো সবচেয়ে ভালো লেগেছে সেগুলো হল স্কুল রাম্বলের সুকামোতো তেনমা কারণ চরিত্রটির কণ্ঠ খুব-ই কিউট লেগেছে আমার কাছে, পার্সোনা ৪-এর আমাগি ইউকিকো, এউরেকা ৭-এর আনেমোনে, কোড গিয়াসের কালেন, তেগামি বাচির আরিয়া লিঙ্ক, কিল লা কিলের মাতোই রিউকো, মাওয়ূ মাওউ ইয়ূশার মাওউ, স্পাইস অ্যান্ড উল্ফের হোলো এবং A certain scientific railgun S-এর মুগিনো শিযুরি। এছাড়া আরও যেই চরিত্রগুলো ভালো লেগেছে সেগুলো হল ওরেগাইরুর কাওয়াসাকি সাকি, কামি নোমি দ্বিতীয় সিজনের কাসুগা সেনপাই, ব্লাড +-এর মাও, ওমামোরি হিমারির হিমারি, ব্লাক বুলেটের শিবা মিওরি, D-Frag!-এর মিনামি সেনসেই Dog Days-এর লিওনমিশেল্লি, মারিয়া-সামা গা মিতেইরুর কানাকো । তার কণ্ঠ-অভিনয় অনেক ভালো কিন্তু কেন জানি এই বছর সহ বিগত কয়েক বছর ধরেই তিনি পার্শ্বচরিত্র-এর রোল পেয়ে যাচ্ছে । এছাড়া তার অনেক গেমে জাপানি ডাব-এ অনেক ভালো রোল আছে। এই লিঙ্কে  http://goo.gl/JbcHBj যেয়ে এক নজরে দেখে নিতে পারেন তার আনিমে এবং গেমের সব রোলগুলো ।

আনিমের ওএসটিতেও তার কাজ আছে। মাই-ওতোমে, স্কুল রাম্বল, ওমামোরি হিমারি, স্ট্রাইক উইচেস এই আনিমেগুলার এন্ডিং এবং লেডিস ভার্সাস বাটলার আনিমেটির ওপেনিং-এ তার কণ্ঠ আছে। তার গাওয়া গানগুলোর মধ্যে আমার ‘Hari no Sora'( https://goo.gl/e1mrfY ) গানটা বেশ প্রিয়।

তার জন্ম ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ এবং তার কণ্ঠ-অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক ২০০৩ সালে । তিনি 1st seiyuu awards-এ ‘Best Actress in supporting roles’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তার কণ্ঠ-অভিনয় অনেক বেশি ভালো তাই আশা করি সামনে সে আরও অনেক আনিমেতে ভালো রোল পাবে।

কোশিমিযু আমি 1

 

ওহ! আর এই দুইজনের আনিমেতে অনেকগুলা কাপলের রোল আছে। কাপলগুলো হল তেগামি বাচির গশে x আরিয়া, স্পাইস এন্ড উল্ফের লরেন্স x হোলো, মাওয়ূ মাওউ ইয়ূশার ইয়ূশা x মাওউ।

কোশিমিযু আমি 2

Movie Time With Yami – 67

Name: Bungaku Shoujo / Literature Girl
Duration: 1 hr. 40 min.
MAL Score: 7.71
Ranked: 981
Genres: Drama, Mystery, Romance, School

একটা সুন্দর মুভি বা টিভি সিরিজ দেখার পরে আপনার ভাললাগার অনুভূতিটা নষ্ট করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়টা কি বলতে পারেন? উত্তর- বিভিন্ন ফোরামে গিয়ে “বিখ্যাত” ক্রিটিকদের বিশ্লেষণমূলক রিভিউ পড়া। বুঙ্গাকু শৌজো মুভিটি দেখার পর আমার এত বেশি ভাল লেগেছিল যে, আমি দৌড়ে গেছিলাম এটার রেটিং, রিভিউ ঘাটাঘাটি করতে। এবং সেগুলো দেখার পরে আমি উপলব্ধি করি, কোনরকম ধারণা ছাড়া মুভিটি দেখা শেষ করে আমি আসলেই ভাল কাজ করেছি।

ইনৌয়ে কোনোহা, আমাদের অ্যাভারেজ হাইস্কুল স্টুডেন্ট। শান্তশিষ্ট, চুপচাপ এ ছেলেটির সাথে একদিন স্কুলের ক্যাম্পাসে দেখা হয় একটি অদ্ভুত মেয়ের। নিজেকে “বুঙ্গাকু শৌজো” বা লিটারেচার গার্ল নামে পরিচয় দেয়া এ মেয়েটি প্রতীকী অর্থে নয়, বরং আক্ষরিক অর্থেই বই এর পৃষ্ঠা চিবিয়ে খায়। এক একটি গল্প এ মেয়েটির কাছে এক একটি সুস্বাদু স্ন্যাক!

এ পর্যন্ত শোনার পর মনে হতে পারে, এইতো, শুরু হল হাইস্কুল রোমান্স এর প্যানপ্যানানি, খালি এই বই চিবিয়ে খাওয়ার ব্যাপারটা একটু নতুন লাগছে। আমিও তাই ভেবে বসেছিলাম! এই মুভিটি দেখার আগে এর ১৫ মিনিটের একটি ওভিয়ে দেখা ছিল, সেটিও এমনই একটা আভাস দিয়েছিল। সুন্দর আর্টওয়ার্ক, প্রশান্তিদায়ক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কাহিনীটাকে উপভোগ করতে বেশ সাহায্য করছিল।

কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই মোড় ঘুরে গেল কাহিনীর!! বেরিয়ে এল কোনোহার অতীত জীবনের এক বেদনাদায়ক কাহিনী, হাইস্কুল রোমান্স পরিণত হল মানবিক টানাপড়েন এর এক অপরিচিত গল্পে।

আচ্ছা, অনেকেই তো বলে, ভালবাসার মানুষকে কাছে রাখার জন্য আমি সবকিছু করতে পারব। সেই সবকিছুর দৌড়টা আসলে কতদূর? মিরাই নিক্কির গাসাই ইউনোর কল্যাণে সেই কতদূরের দৌড় কিছুটা হয়ত জানা আছে আমাদের, কিন্তু সেটা আমার কাছে অতি অবাস্তবতার মত লেগেছিল। এই মুভিটিতে বরং ব্যাপারগুলো বাস্তবতার খুব কাছাকাছি রেখে দেখানো হয়েছে, আর তাই আরও বেশি ভাল লেগেছে।

এ পৃথিবীতে কোন কিছুই নিখুঁত নয়, অবশ্যই এ মুভিটিও তার ব্যাতিক্রম নয়। আমার কাছে মনে হয়েছে মুভিটি তার প্রাথমিক উদ্দেশ্য থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরে গেছে, অবশ্য এটা রিভিউ নিয়ে ঘাটাঘাটি করার আগে তেমন বড় হয়ে চোখের সামনে আসেনি। আর তা হল, লিটারেচার গার্ল নিজে। মুভিটির মাঝখানের বড় একটা অংশে তার কোন খোঁজ নেই, যদিও ঠিক সময়ে সে তার গুরুত্ব ঠিকই ফিরে পেয়েছে। কিন্তু তার এই বই চিবিয়ে খাওয়ার ব্যাপারটায় কোন আলোকপাত করা হয়নি, এটা একটু হতাশার ব্যাপার।

যাই হোক, সবমিলিয়ে মুভিটি আমার অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে, মানবিক সম্পর্ক ও টানাপড়েন এর ব্যাপারটা এর আগে কোন মুভিতে এত সুন্দরভাবে পাইনি, আর ভুলোমনা লিটারেচার গার্ল এর পরিণত আচরণ আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Book-Girl
OVA Link-
http://kissanime.com/Anime/Book-Girl-OVA

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Anohana: The Flower We Saw That Day [এনিমে রিভিউ] — Mehedi Zaman

এনিমে রিভিউ
Anohana: The Flower We Saw That Day
(Ano Hi Mita Hana no Namae wo Bokutachi wa Mada Shiranai)

পর্বঃ ১১
জনরাঃ জীবনের খণ্ডাংশ (Slice Of Life), অতিপ্রাকৃত (Supernatural)।

শৈশব, এক অসাধারণ আনন্দময় সময় আমাদের সকলের জন্য। এ সময় আমাদের থাকে কিছু অন্তরঙ্গ বন্ধু যাদের নিয়ে আমরা গড়ে তুলি আমাদের মনের মতো একটি দল। এই দলের জন্য সকলে মিলে ঠিক করি একটি আজগুবি নাম এবং ওই দলের মিটিং এর জন্য থাকে এক গুপ্ত স্থান। কিন্তু আমাদের সবার ক্ষেত্রেই কি শৈশব অত্যন্ত আনন্দের ছিল? আমাদের এই বন্ধুদের মাঝেও কিছু বন্ধুর শৈশবে হয়ত ঘটে গেছে কোন দুর্ঘটনা। যেই ঘটনা তাদের সুখময় শৈশবকে করে তুলেছিল দুঃসপ্নময়। যদি আপনারও এমন কিছু অভিজ্ঞতা থেকে থাকে অথবা আপনিও পেতে চান সেইসব অভিজ্ঞতা, তাহলে আপনারই জন্য আনোহানা।

কাহিনীঃ
ইয়াদমি, ছোটবেলায় যে জিনতান নামে পরিচিত ছিল এখন এক ঘরকুনো কিশোর, যে ঠিকমতো স্কুলেও যায় না। কিন্তু শৈশবে এই জিনতান-ই ছিল তার অন্তরঙ্গ দলের নেতা। তার দলের নাম ছিল “সুপার পিস বাসটারস্‌” (Super Peace busters)। সময় অনেক ভালই কাটছিল সুপার পিস বাসটারস্‌ -এর, হঠাৎ সেই দলের সবচেয়ে ছোট এবং পছন্দনীয় সদস্য, মেনমা, এক দুর্ঘটনায় তার জীবন হারায়। ভেঙ্গে যায় সুপার পিস বাসটারস্‌ এবং সকলে একে অপর হতে বিছিন্ন হয়ে যায়। বেশ কিছু বছর পর মেনমার ভূত (আত্মাও বলা যায়) জিনতান এর কাছে এসে হাজির হয়। প্রথমদিকে জিনতান নিজের দেখার ভুল বলে মেনমাকে এড়িয়ে চলে, কিন্তু কিছুদিন পর সে বাধ্য হয়েই মেনমার কথা শুনে এবং জানতে পারে যে মেনমার কোন এক ইচ্ছা অপূর্ণ থাকায় সে এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে পারছে না। জিনতান তার সকল বন্ধুদের একত্র করে মেনমার অজানা ও অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণে সচেষ্ট হয়। কিন্তু সে কি পেরেছিল তার শৈশবের বন্ধুদের একত্র করে মেনমাকে মুক্তি দিতে?

চরিত্রঃ
আনোহানা এনিমেটির মূল চরিত্র ছয়জন- জিনতান, মেনমা, আনারু, ইয়ুকিয়াটসু, সুরুকো এবং পোপ্পো। এদের প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য এবং সকলের জীবনধারণই ভিন্ন। তবে এরা সবাই ছেলেবেলায় ‘সুপার পিস বাসটারস্‌’- এর সদস্য ছিল। জিনতান এর কথা আগেই বলেছি এখন অন্যদের কথা বলি। মেনমা ছিল এক মিষ্টি মেয়ে। সে সবসময় সকলের কাছে অনেক ভাল বলে পরিচিত ছিল। আনারু শৈশবে ভাল থাকলেও পরবর্তীতে কিছু অসৎ বান্ধবীর সাথে মিশে তাদের মতো আচরণ শুরু করে। তবে সে তার পুরনো বন্ধুদের সঙ্গ পেয়ে আবার নিজের আগের পরিচয় ফিরে পায়। ইয়ুকিয়াটসু ও সুরুকো দুজনেই পড়াশোনায় মনোযোগী এবং এদের চরিত্র কিছুটা একে অপরের সাথে মিলে যায়। তবে আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে পোপ্পোকে। সে হচ্ছে সবকিছু মেনে নেওয়া রকমের এবং সবসময় হাসি-তামাশায় মেতে থাকার মতো ছেলে। তো, চরিত্র ভালোভাবে তুলে ধরার দিক দিয়ে আনোহানা চমৎকার কাজ করেছে মাত্র ১১ পর্বে।

এনিমেশনঃ
এনিমেশনের ক্ষেত্রে আমার তেমন কিছু বলার নেই কারণ এর এনিমেশন বেশ সাধারণ ছিল এবং আমার এটা ভালই লেগেছে। আর্ট ও পরিবেশ বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল। প্রত্যেকটি চরিত্রের মুখভঙ্গি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে মেনমার বয়স বাড়ার পরও তাকে অনেকটা একই রকম লেগেছিল যা আমার কাছে একটু অস্বাভাবিক।

সাউন্ডট্র্যাকঃ
Kimi to natsu no owari shourai no yume Ookina kibou wasurenai
Juu nen go no hachigatsu mata deaeru no wo shinjite…
আনোহানার এই এন্ডিংটা আমার অনেক প্রিয়। এই অসাধারণ গানটি গেয়েছে Kayano Ai & Tomatsu Haruka & Hayami Saori। গানটি হল secret base ~Kimi ga Kureta Mono~ (10 years after ver.) । বুঝতেই পারছেন আনোহানার সাউন্ডট্র্যাক গুলো আমার কাছে মারাত্মক লেগেছে। ওপেনিং-ও বেশ ভাল ছিল এবং প্রায় প্রত্যেকটি পর্বের শেষে এন্ডিং থিম সং বাজানোর জন্য পরের পর্ব না দেখে থাকা যায় না। এককথায়, আনোহানা তার সাউন্ডট্র্যাক এর জন্য আমার কাছে আরও বেশি ভাল লেগেছে।

আনন্দঃ
আনোহানা এনিমেটি দেখার সময় আমি ভেবেছিলাম ১১টি পর্বে কিই বা আনন্দ দিবে? কিন্তু না, ১১টি পর্বে আনোহানা আমাকে এতো স্মৃতিকাতরতা, কান্না এবং আনন্দ দিয়েছে যে আমি পুরোপুরি মুগ্ধ। এছাড়াও, বাস্তবতার সাথে অতিপ্রাকৃতিক কিছু বিষয়ের মিশ্রণের ব্যাপারটি অনেক দুর্লভ এবং আমি এই এনিমেতে এই বিষয়ের একটি সেরা উদাহরণ পেয়েছি। তাই অবশ্যই আনোহানা আমাকে অনেক আনন্দের পাশাপাশি নতুন কিছু অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

সার্বিকঃ
সবকিছু মিলিয়ে আমি আনোহানাকে ৯/১০ দিব। আসলে এই এনিমেটি দেখার পর থেকেই আমি Slice Of Life জনরার ভক্ত হয়ে গিয়েছি। আনোহানার বাস্তবিক দৃশ্যপট, অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক, বিভিন্ন চরিত্রের মানসিকতা এবং আরও অনেক কিছুর দ্বারা এটি আমার মন জয় করেছে। সত্যি বলছি, হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি এনিমেই আনোহানার মতো আমার এতটা ভাল লেগেছে।

পরিশেষে আমি সকলকে (যারা আনোহানা দেখেননি) এটি দেখার জন্য আহ্বান জানাবো। যদি আপনি Slice Of Life এর ভক্ত না-ও হন তাও আনোহানা দেখার চেষ্টা করবেন, এতটুকু বলতে পারি যে এনিমেটি আপনার খারাপ লাগবে না। একটি উদ্ধৃতি দিয়ে আমার লেখা শেষ করব।
“I thought I could apologize to you tomorrow. But that tomorrow…never came.”-Jinta Yadomi.

anohana

Reaction Post: Tsuritama (2012) — Abdullah Ar Rayhan

প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত ফুজিসাওয়া শহরের অন্তর্ভুক্ত ছোট্ট একটি দ্বীপ এনোশিমা। মেইনল্যান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মনোমুগ্ধকর এ দ্বীপটি ৬০০মিটার লম্বা একটি ব্রিজ দিয়ে ফুজিসাওয়া-র সাথে যুক্ত। অপূর্ব সামুদ্রিক সৌন্দর্য দেখলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়; ইচ্ছে করে স্ক্রিনের ভেতর ঢুকে যাই। দাদির চাকুরির সুবাদে এখানকার স্থানীয় স্কুলে ট্রান্সফারড হয়ে আসে ইউকি। কোন বন্ধুবান্ধব নেই ওর। মানুষের সাথে কমিউনিকেট করতে জানে না। কারো সাথে কথা বলতে গেলেই মনে হয় ডুবে যাচ্ছে, সে সাথে নার্ভাস হয়ে চেহারা এমন হয়ে যায় যে দেখে মনে হয় সাক্ষাত দানব, রাগে এখুনি খেয়ে ফেলবে। প্রথমদিনেই তার সাথে দেখা হয় হাতে রহস্যময় ওয়াটার-গান নিয়ে ঘুরে বেড়ানো অদ্ভুত এক ছেলের। হারু নামের সরল সিধে এ ছেলেটি নিজেকে এলিয়েন বলে দাবি করে। মানুষকে কাছে টানার আশ্চর্য এক গুণ আছে ওর। শুরুতে অসহ্য লাগলেও ক্রমেই হারু ইউকি-র সবচেয়ে কাছের বন্ধুতে পরিণত হয়। ওদের সাথে একই ক্লাসে পড়া আরেকটি ছেলে নাতসুকি। গোমড়ামুখো নাতসুকি মাছ ধরায় তুখোড় দক্ষতার সুবাদে স্কুলের বাইরে প্রিন্স নামে পরিচিত। আর এদেরকেই সবসময় দূর থেকে লক্ষ্য রাখে কোলে হাঁস নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ইয়ামাদা নামের এক ভারতীয়। সিরিজের প্রধান চারটি চরিত্রের সবারই নিজস্ব একটা গল্প আছে। আছে বৈপরিত্য। তারপরও কিভাবে তারা এক বিন্দুতে মিলিত হয়? কিভাবে কাছের বন্ধু হয়ে ওঠে একেকজন? উত্তর মিলবে শুরুতেই। হারুর চাপে মাছ ধরতে রাজি হয় ইউকি। এখানেই এসে পড়ে নাতসুকি, যে এ দুজনকে মাছ ধরা শেখায়।

আপাতদৃষ্টিতে সিরিজটি হাসি, রাগ আর মাছধরার মধ্য দিয়ে চার স্ট্রেঞ্জারের বন্ধু হয়ে ওঠার গল্প। সমুদ্রে মাছ ধরা আর হারু-র অদ্ভুত কিন্তু নির্দোষ কর্মকান্ড দেখতে দেখতে নিজের অজান্তেই মন ভাল হয়ে যাবে। ঈর্ষা হবে। একেবারে আদর্শ কমেডি – স্লাইস অফ লাইফ মিক্স। তাহলে এর মাঝে সায়েন্স ফিকশনটা কোথায়? মনে কি আছে কি হারু-র ইউকি-কে মাছ ধরতে চাপাচাপির কথা? এর কারণ কি? হারু-ই বা কোত্থেকে এসেছে? ইয়ামাদা-র উদ্দেশ্য কি? সামান্য মাছ ধরার সাথে দুনিয়া বাঁচানোর যোগসূত্র কোথায়?

সিরিজটি শুরু হয়েছে দারুণভাবে। চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশ ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে আর্টওয়ার্কে। ব্যক্তিগতভাবে ইউকি-র ফেইসটা আমার পছন্দ হয়েছে। উঠতি বয়সের সব বৈশিষ্ট্যের সাথে লাল চুল যোগ করাটা ভাল লেগেছে কেন জানি বেশ। আর মিউজিক নিয়ে অভিযোগ করার কোন উপায় নেই। ওপেনিং-এন্ডিং এত্ত চিয়ারফুল যে একটাও স্কিপ করার মত না। খুব সম্ভাবনাময় এ অ্যানিমেটি কিছুটা ট্র্যাক হারিয়ে ফেলে শেষের দিকে এসে, সায়েন্স ফিকশন রিলেটেড ব্যাপারগুলো বোঝা দায়। যেগুলা কোন সেন্স তৈরি করে না উল্টো কেমন যেন একটা ভজকট পাকিয়ে দেয়। সিরিজটি এ জনরার প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। এন্ডিংটা বেশ অদ্ভুত। অ্যানিমের কাহিনী নিয়ে কিছু জটিলতা থাকলেও আমি বলবো কমেডি-র ক্ষেত্রে সুবিচার করেছে, সে সাথে কিছুটা থ্রিলিংও বটে! বিশেষ করে ইউকির প্রথম মাছ ধরার সময়টায় আমি নিজেও উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলাম। শেষের দিকের অংশটুকু ঠিক বুঝে কুলিয়ে উঠতে না পারলেও ওভারঅল দেখার মত একটা অ্যানিমে।

Episodes: 12
Genres: Comedy, Sci-Fi, Slice of Life, Sports
MAL Score: 7.88
Personal Rating: 7.5

Tsuritama