Kyousou Giga (TV) 2013 রিভিউ — Fahim Bin Selim

 

giga

কিয়োসৌগিগা(২০১৩) [Kyousou Giga(TV) 2013]
পর্বঃ ১০(+২+১)
জনরাঃ ফ্যান্টাসি, অ্যাকশন, সুপারন্যাচারাল
প্রযোজকঃ তোয়েই অ্যানিমেশন
মূলঃ মারুও মিহো
পরিচালকঃ রিয়ে মাতসুমোতো
থিমঃ ফ্যামিলী, লোকগাথা, প্যারালাল ইউনিভার্স
মাইঅ্যানিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.০২(#৪৭৩)

আপনি যদি কিয়োটো যান তাহলে সেখানে উমেগাহাতা তোগানোচোতে কৌযানজি(Kouzanji) বৌদ্ধ মন্দির এর দেখা পাবেন। পুরোহিত মিওয়ে-এর হাতে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির জাপানের অন্যতম সুন্দর দর্শনীয় স্থানই না, এর মহাত্ব্য সাংস্কৃতিকভাবেও অমূল্য। এর ভেতরে গেলে আপনি দেখবেন চারটি স্ক্রোলের সমন্বয়ে তৈরি একটি চিত্রপুস্তক। যাতে আছে ব্যাং-এর ছবি, খরগোশের ছবি, আর বানরের ছবি। এর নাম চৌজুগিগা(Choujuu Giga)। আর এই চৌজুগিগাই হল ইতিহাসের সর্বপ্রথম “মাঙ্গা”।

২০১১ সালে কোদোচা(Kodocha), কালারফুল(Colorful), স্কুল রাম্বল(School Rumble)-খ্যাত চিত্রনাট্যলেখিকা মারুও মিহো(Maruo Miho) চৌজুগিগার ছবিগুলো নিয়েই ফেঁদে বসলেন একটি গল্প, ২৫ মিনিটের ওভিএ। তোয়েই অ্যানিমেশনের প্রযোজনায়, নবাগত রিয়ে মাৎসুমোতোর(Rie Matsumoto) পরিচালনায় – কিয়োসৌগিগা(Kyousou Giga)। পরের বছর ১০ মিনিটের আরো ছয়টি পর্বের সিকুয়েল। আর সম্পূর্ণ গল্প নিয়ে অবশেষে ২০১৩ সালে ১০ পর্বের অ্যানিমে টিভি সিরিজ।

“Once when many planets intermingled and the boundary between human and Gods was vague, this is a story about a particular family, a tale of love and rebirth”

কিয়োটোর(Kyoto) এক কোনায় কৌযানজি মন্দির। আর তার ভেতর গুপ্ত আরেকটি শহর, “মিরর ক্যাপিটাল(Mirror Capital)”(জাপানীতে কিয়োটো, একই উচ্চারন, ভিন্ন কানজি)। কিয়োটোতে মানুষ বাস করে, ইয়োকাইরা বাস করে। আর কেউ কখনো মারা যায় না। আর এখানে নতুন কেউ প্রবেশ করতে পারে না। আর পারে না কেউ বের হতে। আর এখানে কোন কিছু ভেঙ্গে গেলে তা আপনাআপনি আবার জোড়া লেগে যায়। এই মনোমুগ্ধকর জগতের দেখভাল করার দায়িত্ব তিন ভাইবোনের উপর বর্তানো, দ্য কাউন্সিল অফ থ্রি – বড় ভাই কুরামা(Kurama), তাদের বোন ইয়াসে(Yase) আর সবচেয়ে ছোট ভাই মিওয়ে(Myoue)। যারা আছে তাদের বাবা-মা, প্রিস্ট মিওয়ে(Myoue Jonin) আর লেডি কোতো(Lady Koto)-‘র ফেরার অপেক্ষায়।
অনেক অনেক দিন ধরে কিয়োটো ছিল শান্তিপূর্ণ। অঘটনমুক্ত। ঘটনমুক্ত। অনাকর্ষনীয়।
তারপর একদিন একটি মেয়ে হঠাৎ মাত্রিক বিভেদ ভেঙ্গে চলে আসলো কিয়োটোতে, সাথে তার ছোট দুই ভাই, আ(A)(শুরু) আর উন(Un)(শেষ)। মজার ব্যাপার হল, এই মেয়েটার নামও, যা তাদের মায়ের নাম ছিল, কোতো(Koto)(একই উচ্চারন, ভিন্ন কানজি)। কোতো তার তার বিশাল হাতুড়ি দিয়ে সবকিছু ভেঙ্গে তছনছ করা শুরু করল, কিন্তু সেগুলা আর নতুন করে জোড়া লাগলো না! তারপর একটা বিশাল “মেকা”-র সাথে তুমুল লড়াইয়ে নেমে গেলো!
হঠাৎ করেই কিয়োটোতে একের পর এক ঘটনা ঘটা শুরু করল। অঘটন ঘটা শুরু করল। আর সবকিছু হয়ে উঠল আরো অনেক আকর্ষনীয়।

সিনোপ্সিস নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন প্রয়োজন নেই। প্রথম কয়েক পর্ব দেখার পর কিয়োসৌগিগা বেশ জটিল আর অগোছালো মনে হবে। এর কাহিনী এগুবো অতীত আর বর্তমানে সমান্তরালে। নন-লিনিয়ার ন্যারেটিভ, বুঝতে কষ্ট হওয়ারই কথা। তাই প্রথমে সবকিছু মাথার উপর দিয়ে গেলেও অসুবিধা নেই। সব জটিলতার পেছনে কিয়োসৌগিগার গল্প খুবই সহজ সরল, পারিবারিক ভালোবাসা। এক কোরের অনেক অরিজিনাল অ্যানিমেই ভালো শুরুর পর শেষে প্যাঁচ লাগিয়ে ফেলে বা পেসিং এ গড়বড় হয়ে যায়। মাত্র ১০ পর্বে যেকোন গল্প বলতেই কষ্ট হওয়ার কথা। তার উপর এই অ্যানিমের মত একটা গল্প। কিন্তু বিষ্ময়করভাবে শুধু ১০ পর্ব ধরে আখ্যানে অসাধারন সমন্বয় দেখানোই নয়, কিয়োসৌগিগা পুরো ১০ পর্ব ধরে দূর্দান্ত পেসিং-এ চলে সবশেষে সন্তোষজনক এক সমাপ্তী উপহার দিবে।
আর অন্যান্য অনেক “ভিজুয়ালি এনটাইসিং” অ্যানিমের মত “স্টাইল ওভার সাবস্টেন্স” না, কিয়োসৌগিগার স্টাইল যত মনোমুগ্ধকর, তার সাবস্টেন্সও ততই চিন্তাদ্দীপক। বিনোদনময়ীও। বেশিরভাগ সময়ই হালকা আবহের, ক্লাইম্যাক্সে কিছুটা ডার্ক, কিন্তু কখনোই সম্পূর্ণ গম্ভীর না।

তোয়েই অ্যানিমেশনের কাছে সাধারনত ভালো প্রোডাকশন ভ্যালু আশা করা যায় না। কিন্তু কিয়োসৌগিগা এর ব্যতীক্রম। প্রথম যে জিনিসটা হয়তো চোখে পরবে তা হল এর অসাধারন ভিজুয়াল, আর্টস্টাইল আর অ্যানিমেশন। রঙ্গিন আর ভাইব্রেন্ট। ফ্লুইড আর ফ্লেক্সিবল। কিয়োসৌগিগা চোখ জুড়ানো, ছবির বইয়ের মত। হাতে আঁকা অ্যানিমেশনের নিঁখুত উদাহরন। আর সাথে আছে এর অসাধারন পরিচালনা। মনে রাখার মত ওপেনিং আর এন্ডিং, এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আর ইন্সার্ট সং-এর চমৎকার ব্যবহার। চমকপ্রদ সিনেমাটোগ্রাফি। আর জমকালো, অ্যাড্রেনালীন তুঙ্গস্পর্শী করা সব অ্যাকশন সীন।

একদিক দিয়ে চিন্তা করলে কিয়োসৌগিগা ইতিহাসের প্রথম “মাঙ্গা”-‘র অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন। কিন্তু আসলে কিয়োসৌগিগার চৌজুগিগার প্রাণহীন ছবিগুলোতে প্রাণ দিয়েছে; তার দ্বারা কেবল অনুপ্রাণিত হয়ে ধর্ম, ইতিহাস আর লোকগাঁথার সমন্বয়ে যে অসাধারন এক গল্প তৈরী করেছে, যে অনন্য একটি জগৎ তৈরি করেছে, তার ভেতরে চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে ফুটিয়ে তুলেছে – তা মিহো আর মাতসুমোতো, দুই রমণীর সৃজনশীল কল্পনার এক অনবদ্য উদাহরন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর জন্য একটি করে পর্ব বরাদ্দ করা, তাই প্রথম অংশ এপিসোডিক। তাদের চোখে জগতটা দেখানো, তাদের ভালোলাগা, মূল্যবোধের প্রকাশ; যা দ্বিতীয়াংশে সবগুলো চরিত্রের ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের সহায়ক।

এক কথায় বর্ণনা করতে গেলে কিয়োসৌগিগা হল পাগলাটে। এই অ্যানিমে দেখার অভিজ্ঞতার সাথে খুব কম অ্যানিমেরই মিল খুঁজে পাবেন। কিয়োসৌগিগা আমার দেখা অন্যতম সেরা ফ্যান্টাসি অ্যানিমে। (উচুতেন কাযোকুর পাশাপাশি) ২০১৩ সালের সেরা অ্যানিমেও।
কিয়োসৌগিগা হল জাত অ্যানিমেশন। লাইভ অ্যাকশন বা বই – আর কোন বিনোদন মাধ্যমেই যা ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হতো না। শুধু “অ্যানিমে” বা “টিভি বিনোদন” না, “অ্যানিমেশন”-এর ভক্ত হলে এখনই দেখতে বসে যান। কিয়োসৌগিগা আপনাকে মুগ্ধ করবে, বারবার মুগ্ধ করবে, অনেকদিন চোখে লেগে থাকবে, মনে গেঁথে থাকবে, আর আবারো মনে করিয়ে দিবে অ্যানিমেশনের সব কিছু যা এই মাধ্যমকে অনন্য আর আলাদা করেছে আর সবকিছু থেকে।

আমার রেটিংঃ ৮৯/১০০

[ বিদ্রঃ যেভাবে দেখবেন –

পর্ব ০০ – প্রথম ওভিএ। প্রথম ৪-৫ পর্বের সামারির মত, একটি নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ন ক্লিফহ্যাঙ্গারে গিয়ে শেষ। অবশ্য প্রথম দেখায় কিছু বুঝার কথা না।
পর্ব ০১-১০ – মূল কাহিনী
পর্ব ৫.৫ – সত্যিকারের কৌযানজি মন্দিরের উপর একটি ডকুমেন্টারি ধাঁচের পর্ব, অ্যানিমের তিন ভয়েস অ্যাকটরের উপস্থাপনায়।
পর্ব ১০.৫ – পুরো কাহিনীর একটি সামারি/রিভিউ ]

The Garden of Words রিভিউ — Mahsheed Noor Nini

রিভিউ (প্রথমবারের মত তাই চক্ষুতে চাপ পরলে ক্ষমা প্রার্থী 😛 )

নামঃ The Garden of Words
সময়: 46 mins
জনরা: romantic drama

প্লট:
মুভির শুরুতেই যে বিষয়টি আপনরা চোখে পরবে সেটি হল আর্ট ওয়ার্ক। অত অসাধারণ আর্ট ওয়ার্ক আমি কোন আনিমেতে পাইনি। আমি জানি অধিকাংশ আনিমে ভক্তরা জীবনে অন্তত একবার হলেও জাপানে যেতে চান এবং এই মুভিটা দেখে আপনার ইচ্ছা আরও পাকা পক্ত হবে। সব কিছু এত ডিটেইলড এখানে যে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য।

এবার আসি গল্পতে। কাহিনীটি একটু ধীরগতির কিন্তু আমার ভালো লেগেছে। কারণ এখানে অনেক কিছুই সাধারণের একটু বাইরে। ১৫ বছরের তাকাও নামের ছেলেটি যখন একজন শু মেকার হতে চায়, তখন আমি একটু অভিভূত না হয়ে পারি না! একটি বৃষ্টির দিনে পার্কে তার দেখা হয়ে যায় একটি নারীর সাথে। মেয়ে না বলে নারী বলছি কারণ তাদের এইজ ডিফারেন্সটা বেশী। এভাবেই বৃষ্টি হলে দুজন পার্কে চলে আসে একজন আরেকজনকে সঙ্গ দিতে। তাদের সম্পর্কটা কতটা অদ্ভুত জানতে হলে আপনার মুভিটি দেখতে হবে। মুভির শেষটি অন্তত টিপিকাল না এটা আপনাকে বলতে পারি।

Ima, Soko ni Iru Boku রিভিউ — Fahim Bin Selim

Now and Then, Here and There (今、そこにいる僕 Ima, Soko ni Iru Boku)
প্রচারকাল: ১৯৯৯-২০০০
জনরা : সাইফাই, মিলিটারি, ডিস্টোপিয়া, ওয়ার ড্রামা
পরিচালক : আকিতারো দাইচি
লেখক(অ্যানিমে অরিজিনাল) : হিদেইয়ুকি কুরাতা
প্রযোজক : এ.আই.সি.
পর্ব : ১৩
মাই অ্যানিমে লিস্ট রেটিং : ৭.৮

শুজুও “শু” মাতসুতানি সাধারন এক হাইস্কুল পড়ুয়া বালক। সে থাকে জাপানের ছোট এক শহরে, যার এক কোনায় আছে অনেকগুলো পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরির চিমনী, মধ্য দিয়ে বয়ে চলা সুন্দর একটা নদী, যা এক পাশে গিয়ে মিশেছে সাগরে, যেখানে বিকেলে সূর্যাস্তের গাঢ় লাল আভা ছড়িয়ে পড়ে। শু বেসবল খেলে, বল মেরে প্রতিবেশীর জানলার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে। স্কুলে কেন্দো ক্লাবের সদস্য সে;আবার যে মেয়েটাকে সে পছন্দ করে, সেই মেয়েটা পছন্দ করে তার রাইভালকে। শু ছিল সাধারন এক বালক।

তারপর একদিন স্কুল ছুটির পর সে লালা-রু নামের অদ্ভুত একটা মেয়েকে দেখতে পায় পরিত্যক্ত সেই চিমনীর উপর বসে থাকতে। শু সেখানে উঠে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। আর তখনই যেন ভোজবাজির মত হাওয়া থেকে উদয় হয় কিছু অদ্ভুতদৃশ্য অস্ত্রসজ্জার মানুষ। যেভাবে এসেছিল সেভাবেই তারা লালা-রুকে তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। আর ঘটনাক্রমে তাদের সাথে শু-ও এসে হাজির হয় অন্য এক জগতে।

বিশাল এক দূর্গস্বরুপ জায়গায়, যার পুরোটাই কংক্রিট আর লোহার বিশাল এক গোলকধাঁধাঁ। যার রাজত্বে রক্তপিপাসু এক স্বৈরশাসক, কিং হামদো। আর দূর্গজুড়ে ছড়ানো ছিটানো তার অধীন সৈন্যদল। যাতে আছে প্রাপ্তবয়স্ক, যুবক, কিশোর এমনিক শিশু সৈন্যরাও! শু আটকা পরল কিং হামদোর হাতে। আটকা পরল এই অপার্থিব জগতে, দূর্ভেদ্য এক দূর্গে, যার চারপাশে যতদুর চোখ যায় শুধু ধু-ধু মরুভূমি। নদী আর সাগর তো দুরের কথা, এক ফোঁটা পানি পাওয়াও যেখানে দুঃসাধ্য ব্যাপার!

এই অ্যানিমের ব্যাপারে কথা বলার আগে প্রথম পর্বটার কথা বলা বেশ জরুরী। প্রথম পর্ব দেখে দুটো জিনিস হওয়া স্বাভাবিকঃ (১) নরমাল ফ্যান্টাসি, শৌনেন ভাইব, শৌনেন হিরো দেখে যদি আশাহত হোন, তবে ফিরে আসুন, হাল ছাড়বেন না। আর (২) যদি নরমাল ফ্যান্টাসি, শৌনেন ভাইব দেখে অ্যাকশন প্যাকড, “হিরো সেভস দ্য ওয়ার্ল্ড” অ্যানিমে আশা করেন, তাহলে দেখা বাদ দিন, এটা আপনার জন্য না।

শু আসলেই এক সাধারন শৌনেন হিরো। সে লড়াইয়ে বুদ্ধি ব্যবহার করে না, বরং বেপরোয়া ভাবে আক্রমনই তার সম্বল। কিন্তু পার্থক্য হল আর সব শৌনেন হিরোর মত তার উল্লেখযোগ্য কোন শক্তি নেই;সে অত্যাচারিত হয়, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত হয়, কিন্তু তার কোন “নায়কোচিত” জবাব দিতে পারেনা। সে চরম দুর্দশার মূহুর্তেও আশার বাণী শোনায়, “বন্ধুত্ব”-এর ফাঁকা বুলি আওড়াও। কিন্তু পার্থক্য হল কেউ তার কথায় খুব একটা কান দেয় না, তার কথায় শত্রু বন্ধুতে পরিণত হয় না, বরং অনেকাংশে তার ছেলেমানুষিই অন্যের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শু বিশ্বজয়ী কোন নায়ক না, কিন্তু শু সাধারন এক বালক। এই অ্যানিমের আর সব চরিত্রের মতই। কাউকেই ভালো-খারাপের মানদ্বন্দে বিচার করা সম্ভব হবে না, কিন্তু এমনকি পার্শ্বচরিত্রগুলোও মনে রাখার মত। শুধু হাতে আঁকা কোন ছবি নয়, তারা সবাই-ই যেন নিজস্ব গল্প থাকা, নিজস্ব জীবনঅভিপ্রায় থাকা, বাস্তব এক একজন মানুষ। Now and Then, Here and There যতটা শু এর এই অভিযানের গল্প, ততটাই তার বন্দীসংগী সারা ‘র নিষ্পাপ কৈশোর থেকে নির্মম বাস্তবতার সাথে পরিচয়ের গল্প, বাস্তুহারা কিশোর সৈন্য নাবুকার অসম্ভব স্বপ্ন বুকে নিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার গল্প। এমনকি যেই অ্যান্টাগনিস্টকে দেখে প্রতি মূহুর্তে তাকে গলা টিপে খুন করার কথা মাথায় আসবে, সেই অবিশ্বাস্য নিষ্ঠুর কিং হামদোর অসাধারন চরিত্রায়নও অভিভুত হওয়ার মত। আর ভয়েস অ্যাক্টরদের অভিনয় বিশেষ প্রশংসার দাবিদার।

গত শতাব্দীর অ্যানিমে হওয়ায় স্বভাবতই আর্ট বেশ গুমোট, সাদামাটা; অ্যানিমেশন বিশেষ কিছু না। কিন্তু এর গল্পের সাথে মানিয়ে যাওয়ার মত। আর Now and Then, Here and There-এর গল্প হচ্ছে এর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। অসাধারন অর্কেস্ট্রাল আবহসঙ্গিতের মূর্ছনায় এর সুনিপুণ-নির্মিত দুনিয়ায় একবার হারিয়ে গেলে শেষ না করে উঠতে পারবেন না। ফ্যান্টাসি, শৌনেন ভাইব দেখে হাল ছাড়বেন না; কিন্তু দেখার আগে সতর্ক থাকুন।

Now and Then, Here and There ডার্ক, খুবই ডার্ক অ্যানিমে। হাসির দৃশ্য তো দুরের কথা, সাধারন খুশি করে দেওয়ার মত দৃশ্যও হাতেগোনা। উল্লেখযোগ্য কোন গোর কিংবা ন্যুডিটি নেই, কিন্তু এর ভায়োলেন্স সীমাহীন। তা অত্যাচার আর রক্তপাত থেকে শুরু করে শিশু নির্যাতন, দাসত্ব, হত্যা, গনহত্যা, আত্নহত্যা, এমনকি ধর্ষন পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু এর ভায়োলেন্স কখনোই কুরুচিপূর্ন না, শক-ভ্যালুর জন্য না; তা ভয়ংকর কিন্তু বাস্তব।

যুদ্ধের ভয়াবহতা, নির্মমতা নিয়ে এরকম বাস্তব আর হৃদয়বিদারী ভিজুয়াল ফিকশন হয়তো আর খুব বেশি নেই। Legend of the Galactic Heroes যদি শাসক আর নেতাদের দৃষ্টি থেকে যুদ্ধ-রাজনীতির গল্প হয়, তবে Now and Then, Here and There হল সাধারন মানুষের চোখে দেখা যুদ্ধের গল্প। নির্দিষ্ট করে বললে The Boy In The Stripped Pajamas-এর মত শিশুদের চোখে দেখানো যুদ্ধের গল্প, কিন্তু পার্থক্য হল এর বর্বরতা ব্যাকগ্রাউন্ডে না;বরং Schindler’s List আর The Pianist-এর সাথে তুলনীয় – বারবার চোখ ভিজিয়ে দেওয়া, গলা বাষ্পরুদ্ধ করা আর রাগে হতবিহবল করে দেওয়া।

কিন্তু এই অচেনা জগতের আড়ালেই সবচেয়ে ভয়াবহ আর দুঃখজনক বিষয় হল, Now and Then, Here and There-এর মূলগল্প অতিরঞ্জিত কিছু না। এটা যুদ্ধ বিগ্রহের গল্প, আমাদের চারপাশে হওয়া যুদ্ধ-বিগ্রহের গল্প; যা হাজার হাজার বছর আগেও হয়েছে, এবং এখনোও হচ্ছে। এখন আর তখন, এখানে আর সেখানে। সবসময়, সবজায়গায়। কিন্তু তারপরও Now and Then, Here and There শুধু নিরাশার গল্প না, মানবতার সৌন্দর্যের গল্পও, ভালোবাসার গল্প, পরিবারের গল্প। সকল হতাশার পরও হাল না ছাড়ার, নতুন শুরুর গল্প।
Now and Then, Here and There সম্ভবত একবার দেখা শেষ করলে আর দ্বিতীয়বার দেখতে চাইবেন না, কিন্তু একবার দেখা শেষ করলে আর কোনদিন ভুলতে পারবেন না।

সাজেস্টেড অডিয়েন্স : প্রাপ্তবয়স্ক (এবং শুধু বয়সের দিক দিয়ে না); ট্র্যাজেডি, হিউম্যান ড্রামা প্রেমীদের।
সামগ্রিক : চুম্বকাকর্ষী গল্প, ধীর কিন্তু ঘটনাবহুল, চিরদিন মনে রাখার মত চরিত্র, ‘৯০ এর আর্ট অ্যানিমেশন, চমৎকার আবহ সংগীত।
আমার রেটিং : A+

Nodame Cantabile রিভিউ — Sumaiya Kabir

nodame-cantabile

অ্যানিমে রিভিউ:
নাম: নোদামে কান্তাবিলে
জনরা: জীবনের টুকরা, রম-কম, ড্রামা এবং সবসময়… মিউজিক (Et puis toujours la musique)

অ্যানিমে সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য আগে দিয়ে দেই। নোদামে একজন সত্যিকারের মিউজিসিয়ানের উপর বেস করা ক্যারেক্টার! মাঙ্গাকা কাহিনীর ইন্সপিরেশন পান যখন এই সত্যিকারের নোদামে তার রুমের ছবি মাঙ্গাকার আন্ডারে থাকা এক ওয়েবসাইটে পোস্ট করে (রুমটা কেমন ছিল, তা অ্যানিমে দেখলেই বুঝতে পারবেন)। এই অ্যানিমেতে ব্যবহৃত সকল ক্লাসিক্যাল মিউজিক প্লে করার জন্য বিশেষ এক “নোদামে অর্কেস্ট্রা” তৈরি করা হয়েছিল। অ্যানিমের নামের “কান্তাবিলে” অংশটি একটি মিউসিকাল Jargon, যার অর্থ হচ্ছে অর্কেস্ট্রার এমন ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক, যা শুনতে গাওয়া গানের মত শোনায় (Citation Needed).

মোমোগাওকা মিউজিক ইউনিভার্সিটির পিছিয়ে পরা কিন্তু ট্যালেন্টেড নোদা মেগুমি ওরফে নোদামে আর আনওয়িলিং আইডল চিয়াকি শিনিচিকে নিয়ে কাহিনীর শুরুটা জাপান থেকে। অসম্ভব মেধাবী হবার পরেও নিজের আকাশ এবং নৌপথের যানবাহনের ভয় মেটাতে না পেরে জাপান ছেড়ে বিদেশে যেতে অপারগ চিয়াকি তার ছোটবেলার টিচার ভিয়েরা সেন্সের দেশে ফিরে যেতে পারছে না। একদিন “হারিসেন” টিচারের কাছে মার ও বকা খেতে খেতে ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে, টিচারকে যা তা শুনিয়ে চিয়াকি ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়। ঘটনা পরিক্রমায় সেদিনই তার প্রেমিকা তাকে “ফেলিয়ার” বলে ছেড়ে চলে যায়। ড্রাঙ্ক হয়ে শেষমেষ চিয়াকি নিজের বাসার সামনে বেহুঁশ না হয়ে, পাশের বাসার অজানা অচেনা সেই নোদা মেগুমির বাসার সামনে এসে বেহুঁশ হয়ে পড়লো। পরদিন সকালে অপূর্ব মিউজিকে তার ঘুম ভাঙল। এমন করে কে বাজাচ্ছে পিয়ানো? চোখ বুজেও সে দেখতে পেল পিয়ানোর রঙ্গিন তরঙ্গ। এমন তো সে আগে শোনেনি! চোখ খুলে যে রুমটা চিয়াকি দেখল তা দেখে তার মিউজিকাল ওয়ান্ডার উড়ে গেল। ময়লায় জর্জরিত, পোকামাকড়ে ভর্তি রুমের মাঝে বসে পিয়ানো বাজাচ্ছে তারই পাশের বাসার মেয়েটি। সেই মেয়ের আজব ব্যবহার, একই টিচারের কাছে পিয়ানো শেখা, একসাথে পিয়ানো বাজানো, প্রতিদিন সেই মেয়েকে রেধে খাওয়ানো, তার ভালবাসার তোড় সামলানো, তাকে শাসন করা, কোন কারণ ছাড়াই তার খেয়াল রাখা, পিয়ানো শেখায় হেল্প করা যেন চিয়াকির জীবনের অংশ হয়ে গেল। এরই মাঝে নিত্যনতুন বন্ধু বানানো, পিছিয়ে পরা অন্যান্য স্টুডেন্টদের মধ্যেও নোদামের মত প্রতিভার আভা দেখতে পাওয়া, মেজর চেঞ্জ করে পিয়ানো থেকে কন্ডাক্টিং এ যাওয়া, স্ট্রেসম্যানের মত মায়েস্ট্রর শিষ্য হতে পারা, এবং আস্তে আস্তে কন্ডাক্টিং এ হাত পাকানো। এরই মাঝে নব্য কন্ডাক্টরের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। স্ট্রেসম্যানের তৈরি বিশেষ “এস অর্কেস্ট্রা” পরিচালনা করে চিয়াকি কি পারবে “এ অর্কেস্ট্রা” কে হারাতে?

এরপর আসি নোদামের কথায়। পুরো ইউনিভার্সিটি যখন ভবিষ্যত ক্যারিয়ারের পথ গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত, নোদামে তখন তার সেন্সের সাথে মোজা মোজা মোজামির সুইট তৈরি করছে। ঘটনাক্রমে সেনপাই এর সাথে পিয়ানো বাজিয়ে জীবনে প্রথম প্রেমে পড়লো নোদামে। কিন্তু পারফেকশনিস্ট চিয়াকিকে সেন্সের মত ভুজুং ভাজং দিয়ে সন্তুষ্ট করা সম্ভব না। নোদামের “গিয়াবো”, “মুক্যা” চিৎকার, অগোছালো লাইফস্টাইলের মাঝেই দুজনের চমৎকার মিউজিকের অনুশীলন। জীবনীশক্তি ও উদ্দিপনায় ভরপুর নোদামের পিয়ানো চিয়াকির ছোঁয়ায় আরও চমৎকার করে বেজে উঠল। এতদিনে এই Raw diamond ক্যাম্পাসে পরিচিত হয়ে উঠল তার প্রতিভার জন্য। চিয়াকির সেই “হারিসেন” টিচারও এবার নোদামের প্রতিভায় বিমহিত। কিন্তু তার বাজে ব্যবহার ও মার নোদামের বুকের গভীরে চেপে রাখা ছোটবেলার কোন Trauma এর স্মৃতির কথা তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে?

চিয়াকির প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও সে জাপান ছেড়ে যেতে পারছে না। নানা ভাবে চেষ্টা করেও তার উড়োজাহাজ ও জাহাজের ভয় দূর করা যাচ্ছে না। নোদামে Raw Diamond হওয়া সত্ত্বেও পারছে না নিজের প্রতিভাকে আরও ঘষামাজা করে তার দীপ্তি চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে। কিছু স্মৃতি আমাদের পিছনে টানে, মনকে ভারাক্রান্ত, ভীরু করে। নোদামে আর চিয়াকি কি পারবে একে অপরের ভয়কে দূর করতে? মনকে মুক্ত করে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে? একসাথে কত পথ তারা পাড়ি দিতে পারবে? এতদিন সুনদেরে-গিরি করে চিয়াকি যখন শেষ পর্যন্ত নোদামের দিকে এক কদম এগিয়ে গেল … তখন নোদামে কেন দুই কদম পিছালো?

এই তো গেল ১ম সিজনের কথা। ২য় সিজনে নোদামে আর চিয়াকি শেষ পর্যন্ত সুদূর প্যারিসে পাড়ি জমালো। তাদের বিল্ডিং এ এবং স্কুলে অনেক বিদেশি মিউজিসিয়ানদের সাথে দেখা হল, বন্ধুত্ব হল। ফ্র্যাঙ্ক, তানিয়া, ইয়ুং লং, রুই এবং কুরকিদের সাথে নতুন ভাবে মিউজিককে আবিষ্কার করার যাত্রা শুরু হল।
এতদিনে চিয়াকি তার প্রিয় ভিয়েরা সেন্সের দেশে ফিরে এল। কিন্তু সেন্সের সামনে যাবার আগে তার নিজের পরিচয় তৈরি করে নিতে হবে। মাত্র দুই বছর কন্ডাক্টিং করে কম্পিটিশনে নেমে পড়া চিয়াকির এখন পারিসিয়ান পিয়ারসদের মুগ্ধ করার পালা। পরবর্তীতে ঐতিহ্যবাহী রু মার্লে অর্কেস্ট্রার দায়িত্ব পাবার পর মুষড়ে পড়া এই অর্কেস্ট্রাকে চিয়াকি আবার নিজের পায়ে খাড়া করতে পারবে কি?

এতদিন চিয়াকির আগে পিছে ঘোরা নোদামে এখন নতুন দেশ, নতুন ভাষা, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিজের থেকে কম বয়সী স্টুডেন্টের অনেক বেশি ভালো করতে দেখে নোদামে মিউজিকালি ফ্রাস্ট্রেটেড। এদিকে চিয়াকি নোদামের অবহেলা সহ্য করতে পারছে না। এই নিয়ে দুইজনের ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি এবং শেষ পর্যন্ত সংগীতের তৈরি করা দূরত্ব সংগীত দিয়েই দূর করা। চিয়াকি ভাবে, নোদামে কাছেই, আবার দূরেও বটে। কিন্তু যতদিন সে তার নজরের মধ্যে আছে, ততদিন সব ঠিক থাকবে। পাশাপাশি ওদের বন্ধুদের, বিশেষ করে তানিয়া, কুরকি এবং ইয়ুং লং এর মিউসিকাল জার্নি সামনে এগিয়ে চলছে। প্রথম নজরেই অপছন্দ হওয়া তানিয়া আর কুরকির মধ্যেও কি রোমান্সের বীজ দানা বাঁধছে? এদিকে শুধুমাত্র চিয়াকির সাথে পিয়ানোর কনসেরতো পারফর্ম করার স্বপ্নের চারিদিকে নিজের মিউজিককে আরও সাবলীল করে তুলতে ব্যস্ত নোদামের পরিণতি কি হবে?

৩য় সিজনে দেখা গেল তানিয়ার কম্পিটিশনে শোনা রাভেলের জি মেজরের পিয়ানো কনসেরতোটি চিয়াকির অর্কেস্ট্রার সাথে পারফর্ম করতে নোদামে এক পায়ে খাড়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে একই মিউজিক পিস চিয়াকিকে পারফর্ম করতে হল সিদ্ধহস্ত পিয়ানিস্ট রুই এর সাথে। নোদামেরও এতে আপত্তি ছিল না। কিন্তু পারফর্মেন্স শোনার পর মনঃক্ষুণ্ণ নোদামে ডেভিলের সাথে ডিল করে চিয়াকিকে ফেলে পালিয়ে গেল। এতদিন যে নোদামে নজরের সীমার মধ্যে ছিল তাকে হারিয়ে চিয়াকিও দিশেহারা। একশ দুইশ বছর পুরানো মিউজিককে যখন একই ভাবে অনুভব করার কারণে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুজন মানুষ কাছে আসতে পারে, তখন সেই মিউজিককে আশ্রয় করে চিয়াকি কি নোদামকে ফিরিয়ে আনতে পারবে? নোদামের ইনপালসিভ কিন্তু তাদের দুইজনের জীবনের সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট প্রশ্নের জবাব হ্যাঁ হলেও, চিয়াকির সেই জবাব একসেপ্ট করার মানসিকতা নোদামের থাকবে কি? বাতাসে যে অপূর্ব তরঙ্গ ধ্বনি ছড়িয়ে পরছে, তা কি বিদায়ের সংকেত, নাকি চিয়াকি আর নোদামের নতুন জীবনের Prelude (Kurikaesu atarashi prelude)?
জানতে হলে দেখে ফেলুন নোদামে কান্তাবিলে।
শুধুমাত্র মিউজিক্যাল experience টার জন্যে হলেও অ্যানিমেটা দেখা উচিত বলে আমি মনে করি। অন্য কারো কেমন লাগবে জানিনা, কিন্তু আমার জন্য আনিমেটা ছিল কান্তাবিলে (গানের মতন)।

Dude, Dat’s Deep (BECK) – By Kuro-Hat no “Deep”to Haque

Anime: BECK
Episodes: 26
Genre: Music, Drama, Slice of Life
Year: 2004
বেক এনিমেটা একটা উঠতি মিউসিশিয়ান ও ব্যান্ডকে নিয়ে। এতে প্রতি পর্বের আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে নানা রেফারেন্স, নানা মৃত রকস্টারদের প্রতি ট্রিবিউট। যাদের জীবনে মিউসিক অনেক বড় অংশ জুড়ে আছে, তাদের জন্য একটা পারফেক্ট এনিমে হল বেক (যদিও এর কাহিনী পুরাটুকু জানার জন্য মাঙ্গা পড়তে হবে…)

#Characterizations:

১। Yoshiyuki Taira: বেক ব্যান্ডের বেসিস্ট। একে পোট্রে করা হয়েছে সম্পূর্ণভাবে Red Hot Chilli Peppers ব্যান্ডটির বেসিস্ট Michael “Flea” Balzary এর উপর ভিত্তি করে। দুজনের বেইজ গিটার বাজানোর স্টাইল একরকম, দুজনেরি ব্লিচড চুল ও খালি গায়ে পারফরমেন্স করার অভ্যাস।

২। Tsunemi Chiba: বেক ব্যান্ডের ভোকাল (র‍্যাপার)। তার র‍্যাপিং ও গান গাওয়ার স্টাইলের সাথে Rage Against the Machine ব্যান্ডের Zack De La Rocha এর অনেক মিল পাওয়া যায়। বাই দা ওয়ে, দুজনেরই AFRO আছে…

৩। Eddie Lee: রিউসকে এর বড় ভাই এর মত। Dying Breed ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট। একে দেখতে অনেকটা Kurt Cobain এর মত।

৪। Matt Reed: Dying Breed ব্যান্ডের ভোকালিস্ট। The Smashing Pumpkins ব্যান্ডের ভোকাল ও সং রাইটার Billy Corgan যদি সানগ্লাস পড়ত, তাইলে ওরে ম্যাটের মত দেখাইত…

৫। Beck(কুত্তা), Page(কাকাতুয়া) and Keith(আরেকটা কুত্তা): এদের নাম যথাক্রমে Jeff Beck (Guitarist, The Yardbirds), Jimmy Page (Guitarist of Led Zeppelin) এবং Keith Richards (Guitarist of The Rolling Stones) এর নাম থেকে এসেছে।

# কোইউকির স্বপ্নঃ

না এখানে কোইউকির বড় মিউজিশিয়ান হওয়া বা মাহোকে কাছে পাওয়ার স্বপ্নের কথা বলা হচ্ছে না।

এপিসোড ১৪ তে কোইউকির জ্বর হয় ও তখন ঘুমের ঘোড়ে সে একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে। এতে দেখা যায় অনেক আজব কিছু ব্যাক্তি বিশাল এক মাঠে ময়লা পরিষ্কার করছে। এরা আসলে প্রত্যেকেই নানা মৃত রকস্টার। তাদের নাম নিচে এপেয়ারেন্স অনুসারে দেয়া হলঃ

i) John Lennon : চশমা পড়া লম্বা চুলের ভদ্রলোক। The Beatles এর ফাউন্ডিং মেম্বার ও আমার প্রিয় মিউসিক ব্যাক্তিত্ব। নিজের কনসার্টে নিজেরই একজন ভক্তের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন।

ii) Freddie Mercury: সাদা প্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরা মোচওয়ালা গে-ইশ পুরুষ। Queen ব্যান্ডের ভোকাল ও এখন পর্যন্ত বিশ্বের সেরা ভোকাল (Scientifically Proven!)। বাইসেক্সুয়াল ছিলেন ও এইডস এ মারা যান।

iii) Jim Morrison: আওড়া কাওড়া কালো চুলের তরুণ। The Doors ব্যান্ডের ভোকাল ও পিয়ানিস্ট। The Lizard King নামেও পরিচিত। এও মাত্র ২৭ বছর বয়সে (সম্ভবত অতিরিক্ত ড্রাগস নেয়ার জন্যই) মারা গেছে।

iv) Kurt Cobain: সোনালি চুলের হ্যান্ডসাম যুবক। Nirvana ব্যান্ডের গিতারিস্ট ও ভোকাল। মাত্র ২৭ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যু নিয়ে অনেক গুজব ও রহস্য রয়েছে।

v) Sid Vicious: চেহারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভচকা করে রাখা খাড়া চুলের তরুণ। The Sex Pistols ব্যান্ডের বেসিস্ট ও টেকনিকালি পাঙ্ক এর জনক। ইনি প্রেমিকার মৃত্যুশোকে আত্মহত্যা করেন।

vi) দুঃখিত… ইনাকে চিনতে পারতেসি না…

vii) Jimi Hendrix: কোঁকড়ানো চুলের বিড়ি খেতে থাকা লোক। এও মাত্র ২৭ বছর বয়সে অতিরিক্ত ড্রাগস নেয়ার জন্য মারা গেছে। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গিটারিস্ট হিসেবে বিবেচিত। একে Guitar God ও বলা হয়ে  থাকে।

#Lucille:

Lucille হল বেক এনিমেতে রিউসকের ব্যবহার করা গিটার। এতে অনেকগুলা গুলির গর্ত আছে। এনিমেতে বলা হয়, এটা আসলে Sonny Boy এর গিটার। কিন্তু ঘটনা অন্য জায়গায়…

Lucille নামে আসলেই একটা গিটার আসে, এবং সেটা B. B. King এর। সেটার ইতিহাস হলঃ

একবার এক বারে (Random Word pun) বসে বি বি কিং গিটার বাজাচ্ছিলেন। এমন সময় ২ ব্যক্তির মধ্যে লুসিল নামের এক মেয়েকে নিএ বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ব্যাপারটা ভয়াবহ আকার ধারন করে ও বারে আগুন লেগে যায়।

অগ্নিস্নাত বার থেকে বি বি কিং বের হয়ে আসার পর বুঝতে পারলেন যে উনি উনার মাত্র ৩০ ডলারের(গিটারের জন্য অনেক কম) গিবসন গিটারটি ফেলে এসেছেন। তাই, উনি আবার সেই জ্বলন্ত বারে আবার ঢোকেন সেই গিটারটি আনার জন্য।

সেই গিটারটি ফেরত পাবার পর এই ঘটনাকে স্মরণীয় করার জন্য গিটারটির নাম দেন “লুসিল”।

(বাই দা ওয়ে, সনি বয় নামে আসলেই একজন ব্লুস মিউজিসিয়ান ছিলেন… কিন্তু এই ঘটনার সাথে উনার কন সম্পৃক্ততা খুজে পাওয়া যায় নি…)

#বিবিধঃ

১। এনিমেতে ক্যারেক্টারদের গায়ে প্রায়ই নানা ব্যান্ডের টি-শার্ট দেখা যায়, যেমন- The Rammones, The Pixis, The Who, etc.

২। মাহো আর কোইউকির পুনর্মিলন যে রেলস্টেশনে হয়, ডার্টফোর্ডের ঠিক একই রকম এক স্টেশনে Mick Jagger ও Keith Richards এর রিইউনিয়ন হয়, আর সেখান থেকেই The Rolling Stones নামের এক বিখ্যাত ব্যান্ড তৈরি হয়।

আশা করি কোন ভুল ইনফো দেই নাই। কোন কারেকশান এর প্রয়োজন বোধ হলে জানাতে ভুলবেন না।

I hope you all liked it!

ও, অলমোস্ট ফরগট, Beck নামে আসলেও একটা ফেমাস মিউজিশিয়ান আছে, যার পুরা নাম Beck Hansen. (এর বিখ্যাত গান “Loser” শুনে দেখতে পারেন… )

beck

Kaze no Stigma রিভিউ — Mithila Mehjabin

Kaze.no.Stigma.full.93320

“Kaze no Stigma” বা “Stigma of the wind”, বাংলা করলে দাড়ায় “বাতাসের কালিমা” সত্যিই খুব চমৎকার একটা অ্যানিমে! 🙂

কাহিনীটা এরকম: Kanagi ফ্যামিলীর সবচেয়ে বড় ছেলে Kazuma kanagi তাদের পরিবারের ঐতিহ্যবাহী “Fire magic” আত্নস্থ করতে ব্যার্থ হয়, এবং স্ব-পরিবারের চার বছরের ছোট কাজিন Ayano kanagi এর সাথে একটি ডুয়ালে হেরে যায়। এতে তার পিতা Genma Kanagi অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে ত্যাগ করে। কাহিনী শুরু হয় যখন এই Kazuma Kanagi চার বছর পর Kazuma Yogami নাম নিয়ে এবং Fire magic এর বদলে অসম্ভব Wind magic পাওয়ার নিয়ে বিদেশ থেকে জাপানে ফিরে আসে। Kanagi পরিবার তার এই হঠাৎ আবির্ভাব এর কথা জানতে পারে এবং পরিবারের ওপর তার রোষ থেকে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি হতে পারে ভেবে শঙ্কিত হয়। এদিকে হঠাৎ করে পরিবারের দুজন সদস্য Wind magic দ্বারা খুন হয়ে যায়। যদিও খুনী থাকে অন্য কেও, পরিবারের সদস্যরা এতে Kazuma কেই খুনী ধরে নেয় এবং তারা তাকে হন্যে হয়ে খুজতে থাকে , তন্মধ্যে সবচেয়ে আগ্রহী থাকে পরিবারের ভবিষ্যৎ প্রধান এবং Kazuma’র সেই ছোট বেলার কাজিন মেয়েটি, Ayano Kanagi, যে থাকে কাহিনীর মূল নারী চরিএ। তারপর বিভিন্ন প্লট টুইস্টের মাধ্যমে Kazuma, Ayano এবং Kazuma’র ছোট ভাই Ren Kanagi কে ঘিরে কাহিনী এগিয়ে যায়…

এখানে Ren Kanagi’র কথা না বললেই নয়। Kazuma’র এই ছোট ভাইটি থাকে অসম্ভব kawai!! 😀 ইনোসেন্ট লুকিং নরম স্বভাবের ছেলেটা যে কারো ভালোবাসা জয় করে নিতে বাধ্য! কাহিনীতে তার ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য।
এদিকে রাগী এবং গরম স্বভাবের, অথচ সৎ সুন্দর Ayano Kanagi এবং স্থির, তেড়া, একরোখা এবং হ্যান্ডসাম লুকিং Kazuma Kanagi’র রসায়নটি থাকে খুবই মজার! 😀

মোট ২৪ টা এপিসোড এর কাহিনী, ডাব এবং সাব দোনোটাই এভেইলেবল। সাব টা দেখিনি যদিও, তবে ডাব টা এক কথায় অসাধারণ! বিশেষ করে Kazuma’ র গর্জিয়াস ভয়েসটা সবার ই ভাল্লাগার কথা।
এপ্রসঙ্গে একটা মজার জিনিস বলি, Kazuma’র ভয়েসে সবচেয়ে মজার শোনায় যে ওয়ার্ড টা, সেটা হলো “Basturd!” আর Ayano’র ভয়েসে “Pervert!” 😀

সো, আগ্রহী বন্ধুরা দেখে ফেলতে পারো। 🙂

বি:দ্র: কাহিনীটা একটানা এ্যাকশন মতন কিছু না, রোমান্স এবং কমেডিরও প্রচুর খোরাক রয়েছে…সুতরাং একঘেয়ে লাগবে না, এটা আশা করা যেতেই পারে!
Arigatou Minna! 🙂

Ouran Highschool Host Club রিভিউ — Mithila Mehjabin

প্রথমে যখন এই এনিমে টা দেখতে শুরু করলাম, মেজাজটা খুব খারাপ হচ্ছিল, কারণ সহজকথায়, এহেন ছাগলমার্কা এনিমে আর দেখিনি।
আর যখন দেখা শেষ করলাম তখনও মেজাজ খারাপ হচ্ছিল, কারণ পাগলামি-ছাগলামি যে এত মজার হতে পারে, তার নমুনাগুলো আর দেখা হবেনা…!

হ্যা…বলছি Ouran Highschool Host Club এর কথা!
আসলে এই এ্যানিমে সম্পর্কে বেশী কিছু বলতে গেলে Spoiler হয়ে যায়…আর না বললে বোধহয় অবিচার হয়ে যায়..তাই একটুকিছু বলা উচিৎ..
কাহিনীর শুরু এরকম: ধনী এবং উচ্চবংশীয় ছেলে-মেয়েদের অভিজাত স্কুল Ouran Academy তে স্কলারশিপ পাওয়া একজন মধ্যবিত্ত স্টুডেন্ট Haruhi Fuziwoka পড়ার সুবিধার্থে একটু নিস্তব্ধতার আশায় একটি পরিত্যাক্ত মিউজিক রুম এ ঢুকে পড়ে, এবং অবাক হয়ে যায় ৬ জন অত্যন্ত ধনী এবং উচ্চবংশীয় স্টুডেন্ট তাকে ওয়েলকাম করছে দেখে, যা সে মোটেই আশা করেনি। সেখানে সে জানতে পারে যে এই ৬ জন স্টুডেন্ট মিলে গড়ে তুলেছে একটি হোস্ট ক্লাব, Ouran Highschool Host Club, যেখানে উচ্চবংশীয় সুদর্শন হোস্টরা অনেক অবসর সময় নিয়ে সেসকল উচ্চবংশীয় মেয়েদের এন্টারটেইন করে যাদের হাতেও অনেক অবসর সময় রয়েছে! পুরো ব্যাপারটাই Haruhi’র কাছে খাপছাড়া লাগে, কিন্ত ঘটনাচক্রে একটা অত্যন্ত দামী ভাস্ ভেঙে ফেলায় তার দায় মেটানোর জন্য তাকে বাধ্য হয়েই ক্লাবটিতে জয়েন করতে হয়। প্রখমে তাকে ঠুনকো কাজ করার জন্য রাখা হলেও পরে সে যে অত্যন্ত কাওয়াই, সেটা আবিষ্কার করে ক্লাবের হেড তাকে হোস্ট হিসেবে নিয়োগ করে, তারপর একটি চমক, এবং এখান থেকেই গল্পটির যাত্রা শুরু….:)

জীবনে যে হাসেনাই, এই এনিমেটি দেখে এমনকি সেও হাসতে বাধ্য! 😀

এনিমেটা মূলত কমেডি, তবে হালকে রোমান্স এর ছোয়াঁটা খুবই আবেদনময়। হোস্টক্লাবটির হেড Tamaki Suo এবং অন্যন্য সদস্য…Kyoya Outory, Hikaru এবং Kaoru Hitachi, Hanni Nozuka, Mory Nozuka এবং Haruhi Fuziwoka…এদেরকে ঘিরে যত কীর্তিকারখানাই এনিমেটার কাহিনী।

এনিমেটাতে মূলত বড়লোকদের বড়লোকীয় কাজকারবারের অর্থ বুঝতে অনভিজ্ঞ একজন মধ্যবিত্তের মিশেলে অম্ল-মধূর মুহুর্তগুলোর মধ্য দিয়ে দু’দলের কাছে পরস্পরকে বোঝার এবং পরস্পরের কাছে পরস্পরের প্রয়োজনীয়তা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। এই আদর্শটিই এনিমেটাকে আরও ইন্টারেস্টিং করে তুলেছে… 🙂

২৬ টি এপিসোড এর এনিমেটাতে পাগলামি-ছাগলামির কোনো অভাব নেই! ডাব এবং সাব দুটোই আছে। তাড়াহুড়ো করে দেখতেও মন চাইবে না…যখন খুশি তখন দেখাতেও মজা বাড়বে বৈ কমবে না।

সো, হাতে অবসর থাকুক বা না থাকুক, যারা দেখনি তারা দেখে ফেলতে পারো! এনিমেটা যদিও নতুন নয়, আর এর একেকটা পর্ব দেখা মানেই অবসর সার্থক! বলে রাখা ভালো, এনিমেটার আসল স্বার্থ জাস্ট্ ফান্ …আর কিছু নয়। 🙂

এনিমেটা নতুন কিছু নয়, তারপরও এতকিছু লিখে যাদের বিরক্তি ধরিয়ে ফেললাম, তাদেরকে আগে থেকেই সরি বলে রাখছি! গোমেন্নাসাই!

Arigatou Minna!

Ghost Hunt রিভিউ — Mithila Mehjabin

হরর/প্যারানর্মাল ইনভেস্টিগেশন/মিস্টেরি/একশন/টিমওয়ার্ক- এই জাতীয় এনিমে যাদের পছন্দ, তাদের জন্য এই এনিমে টা একশবার রেকমেন্ডেড!

বলছি Ghost Hunt এর কথা! 🙂

শুরুটা এরকম: Mai Taniyama স্কুলে ক্লাস শেষে রুমের আলো নিভিয়ে বন্ধুদের নিয়ে ভূতের গল্প করতে পছন্দ করে। একদিন তাদের পুরোনো স্কুলবিল্ডিংটি নিয়ে এমনই গল্পচলাকালীন একজন অপরিচিত সুদর্শন যুবক হঠাৎ করে তাদের ক্লাসরুমটিতে ঢুকে পড়লে ভয় পেয়ে যায় মেয়েগুলো! সুদর্শন ছেলেটির নাম Kazuya Shibuya, নিজেকে একজন ফ্রেশমেন হিসেবে পরিচয় দিলেও ছেলেটার কথা, কন্ঠ, স্থির – অচঞ্চল ভাবটার মধ্যে কোথাও যে একটা রহস্য লুকিয়ে আছে, এ ব্যাপারটা Mai ঠিকই বুঝতে পারে। পরদিন স্কুলে যাওয়ার পথে তাদের সেই পরিত্যাক্ত পুরোনো ভুতুড়ে স্কুল বিল্ডিংটা চোখে পড়লে কৌতুহল বশে Mai এর ভেতরে ঢুকে পড়ে, এবং পরিত্যাক্ত বিল্ডিংটিতে একটি ক্যামেরা দেখতে পেয়ে অবাক হয়ে যায়। যেই না ক্যামেরাটি ধরতে যাবে, অমনিই ঘটে যায় বিপত্তি! হঠাৎই একটা কন্ঠ শুনে ভয় পেয়ে যায় Mai, আর তারই ধাক্কায় একটা বুকশেলফ তার ওপর পড়ে যেতে নিলে কন্ঠধারী ব্যাক্তিটি তাকে বাচাঁতে গিয়ে নিজেই মারাত্নক ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এসময় Kazuya নামের গতদিনের সেই রহস্যময় ছেলেটি এসে হাজির হয়, এবং আঘাতপ্রাপ্ত ব্যাক্তিটিকে সাহায্য করে। একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায় অবাক হয়ে গেলেও পরে Mai জানতে পারে সেই আঘাতপ্রাপ্ত ব্যাক্তিটি ছিল Kazuya’র এসিস্টেন্ট, এবং ১৭ছর বয়সী Kazuya নামের রহস্যময় ছেলেটি আসলে একজন প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর, একটি সাইকিক রিসার্চ সেন্টার এর মালিক, যাকে ঐ ভুতুড়ে স্কুলবিল্ডিংটার রহস্যোদ্ঘাটনের জন্য হায়ার করা হয়েছে! এদিকে ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলায়, এবং তার কারনে Kazuya’র এসিস্টেন্ট আপাতত কিছুদিনের জন্য অচল হয়ে যাওয়ায় তাকেই আপাতত Kazuya’র এসিস্টেন্ট হিসেবে যোগ দিতে বাধ্য হতে হয়। তাদের ইনভেস্টিগেটিং এ আরও যোগ দেয় Monk Takigawa- একজন এক্সরসিস্ট, John Brown- প্রিস্ট, Masuko Hara- স্পিরিচুয়ালিস্ট, Ayako Matsuzaki- স্রাইন মেইডেন। শুরু হয় গল্প, এবং একের পর এক রুদ্ধশ্বাস্ অভিযান!

স্টোরির আর্টওয়ার্ক এবং প্লটগুলো অসাধারণ, এবং এক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রশংসার দাবিদার হচ্ছে স্টোরির সাউন্ড সিস্টেম টা। এক কথায় ভয়ঙ্কর! শুধু সাউন্ড গুলোই যে কাউকে ভয় পাওয়াতে যথেষ্ট……আর মিস্টেরি ও একশন তো আছেই! 😀

২৫ টি এপিসোড্, ডাব্ ও সাব্ দুটোই আছে। সো, যারা এই ধরনের প্লটে আগ্রহী, তারা বিনা দ্বিধায় দেখে ফেলতে পারো, নিরাশ হবে না! 🙂
আর, ইয়ে….দূর্বল চিত্তের মানুষদের রাতে না দেখাই ভালো! 😛

আর এই ধরণের প্লটের আরও কোনো সাজেশন থাকলে তা জানাবেন, প্লীজ! 🙂

আরিগাটোও মিন্না!

Myself ; Yourself! রিভিউ — Mithila Mehjabin

সো দিস ইস্ দা স্টোরি অফ Myself;Yourself! 🙂
(May contain a bit spoiler)

কথায় আছে, ” Childhood is all about future, youth is about present and Old age is all about past!” 🙂

আমরা যারা ইয়ুথ যাপন করছি, সবাই আমরা বর্তমানে বেচেঁ থাকি, এবং ভবিষ্যত কে সাজাই, অতীত নিয়ে যেহেতু করার কিছু নেই, তা নিয়ে মাথা ঘামাই না। সুন্দর অতীত নিঃসন্দেহে সম্পদ, আর দুঃসহ অতীত থেকে পালিয়ে বেড়াই! 🙁
হ্যা, অতীত কে বদলানোর কোনো উপায় নেই, কিন্তু দুঃসহ অতীতের প্রতি আমাদের অনুভূতি বা দৃষ্টিভঙ্গি কে বদলে, ‘খারাপ কিছুও আমার জীবনে ঘটেছে’- এই ব্যাপারটাকে স্বস্তির সাথে স্বীকার করেও যে সামনে এগুনো যায়, এই ধরণের একটা অনুভূতি কে জাগিয়ে তোলা কাহিনীই হলো Myself;Yourself!
🙂
শুরুটা এরকম: Sana Hidaka নামক অতিমাত্রায় কিউট ছোট্ট ছেলেটিকে পারিবারিক কারণে প্রিয় শহর, এবং প্রিয় বন্ধুদেরকে রেখে অনেক দূরে চলে যেতে হয়। পাচঁ বছর পর যখন সে আবার ফিরে আসে, ছোটোবেলার সেই প্রিয় শহর এবং বন্ধুদের চেনা ব্যাপারগুলোর সাথে মিল-অমিল, মান-অভিমান এবং স্মৃতিকাতরতা তাকে একইসাথে আনন্দ এবং অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। এবং তার অস্বস্তির সাথে কাটাঁ হয়ে বিধেঁ সেই ছোট্টবেলার শান্ত – শিষ্ট, মিষ্টি, মার্জিত, অতিচেনা-পরিচিত মেয়ে Nanaka Yatsushiro এর আমূল বদলে যাওয়াটা। কি হয়েছিল এই পাচঁটি বছরে? Nanaka কেন আর ভায়োলিন বাজায় না? Shuu এবং Shuri Wakatsuki কেন এত ক্লোজ্? রক্তাক্ত ছুরি কেন Sana কে এত ভয় পাইয়ে দেয়?
এসব প্রশ্নের উওর জানতে হলে দেখে ফেলতে হয় সিম্পল, অথচ সুন্দর এই ছোট্ট এনিমে টা.. 🙂

গল্পের প্রতিটি চরিত্রের ভূমিকাই অনেক যত্ন নিয়ে সাজানো হয়েছে। Aoi’র কমেডি, Hinako’র ছেলেমানুষি, এবং Hoshino’র ভিতরের সত্তাটি গল্পে অন্যরকম প্রভাব ফেলে।

রোমান্স, ড্রামা, স্কুল, স্লাইস অফ লাইফ জেনরের এই এনিমেটা মোটেই টিপিকাল কিছু না, তাই দেখার জন্য কোনো তাড়াহুড়ো অনুভব হয় না। এই হাসিখুসি, প্রাণোচ্ছল মানুষগুলোর হাসির পেছনে জীবনটা যে কতটা কুৎসিত হতে পারে, তা-ই এই কাহিনীর মূল আকর্ষণ। জীবনের তুচ্ছ ব্যাপারগুলোই হাসি-কান্নার খোরাক, গল্পটা সেটাই বারবার মনে করিয়ে দেয়। অনেকের কাছেই নষ্টালজিক মনে হতে পারে। 🙂

এনিমেটির আর্টওয়ার্ক খুবই সুন্দর, এবং টাচিং সাউন্ডট্র্যাক। গল্পজুড়ে যে ব্যাপারগুলো রেফ্লেক্টেড হয়, তা মনে ছাপ ফেলে। ১৩ টি এপিসোড এবং ৩ টি স্পেশাল এপিসোড্, সাবড্ এভেইলেবল্।। 🙂

MAL rating: 7.53
Personal rating: 7
🙂

সো, আগ্রহী বন্ধুরা দেখে ফেলতে পারো! 😀

Arigatou! 🙂

Clannad : After Story, একটি স্পয়লারহীন (প্রায়) রিভিউ — সাজিদ হাসান আপন

“I laughed…
I cried…
I experienced something that changed my life… ” – My Anime List

“It will captivate your heart.” – IMDb

Clannad : After Story যারা দেখসে, আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি সবার অনুভূতি একই রকম। উপরের এই quote দুইটা দিয়েই আসলে পুরা অ্যানিমেটা বর্ণনা হয়ে যায়।

Genre: Drama, Romance
IMDb Rating : 8.9 / 10
My Rating : 9 / 10
22 Episodes + 1 Extra + 1 Summary + 1 OVA = 25 In total.

কেনো দেখবো?

সর্বকালের সেরা ইমোশনাল অ্যানিমেগুলার মধ্যে এটার নাম অনায়াসে থাকবে। Friendship, পারিবারিক টানাপোড়ন, কঠোর বাস্তবতা, জীবনের ছোট-ছোট চাওয়া-পাওয়া – এই জিনিসগুলা একটামাত্র অ্যানিমেতে উপস্থাপনের কঠিন কাজটা Kyoto Animation Limited চমৎকারভাবে করসে এই সিরিজে। Kyoto’র অ্যানিমে মানেই অস্থির Graphic Detail, Nostalgic soundtrack আর চমৎকার Character building. তবে এই অ্যানিমের Soundtrack বিশেষভাবে বিশেষ। (Soundtrack এর link নিচে দেয়া আছে।)

কমেডিগুলা সুন্দর, Meaningful. সুড়সুড়ি দিয়ে হাসানোর চেষ্টা করেনি। (Season: 1 টা বেশি হাসির। Season: 2, মানে যেটা নিয়ে লিখতেসি, কিছুটা গম্ভীর।)

সিরিজটার সবচেয়ে বড় Twist হইলো এর Ending – একেবারেই কল্পনার বাইরে ছিলো Ending টা. আর পুরা সিরিজ জুড়ে চলতে থাকা আপাত অর্থহীন আর কাহিনীর সাথে সম্পর্কহীন জিনিসগুলা Ending-এ এমনভাবে প্রভাব ফেলসে যে (আর কমু না। নিজে দেইখা লন। শুধু এটুকুই বলতে পারিঃ হুমায়ূন আহমেদ টাইপ Ending – “নিজের মতো কল্পনা কইরা লন” জাতীয়।)

Clannad – যার অর্থ Family বা Clan – এই অ্যানিমের মূল Theme. ধুম-ধারাক্কা অ্যাকশন, খুনাখুনি, রক্তারক্তি, Ecchi আর Harem দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে গেলে Watch-list এ অ্যাড করার জন্য Clannad: After Story এর চেয়ে ভালো অপশন বোধ হয় আর নাই। আর সেই সাথে আপনি যদি খানিকটা Fantasy-lover হয়ে থাকেন, তাইলে এখনই বসে পড়েন দেখতে।

কেনো দেখবো না?

লুতুপুতু-মার্কা অ্যানিমে-বিদ্বেষীরা আর পইড়েন না। আপনাদের জন্য এইটা না। Action-lover রাও কাইটা পড়েন। আপনারা বরং Deadman Wonderland দেখতে পারেন।

এই অ্যানিমেতে কিছু (আসলে বেশ কিছু) অপ্রাকৃতিক ব্যাপার (Fantasy) আছে যেগুলা ভালো না-ও লাগতে পারে। (আমার কাছে lame লাগসে।)

Ending টা হঠাৎ করে চলে আসছে এবং Kyoto Animation এর কাছে আরও ভালো Ending আশা করাই যায়। তবে Visual Novel এর সাথে মিল রাখতে গিয়ে এমন Ending দরকার ছিলো।

নায়িকাটারে খারাপ লাগে নাই। তবে আরও ভালো Female Character ছিলো। (Season: 1)

কান্নাকাটি করতে না চাইলে এই অ্যানিমে দেইখেন না।

শেষকথাঃ

আমার কাছে কেউ ১০টা অ্যানিমের লিস্ট চাইলে এটা সেই লিস্টে থাকবে। English Subbed টা দেইখেন, Dubbed না।

পুনশ্চঃ

Clannad: After Story আসলে Clannad এর 2nd Season. এবং এইটা দেখার আগে 1st Season দেখা আবশ্যক। 1st Season টা 2nd Season এর ধারে-কাছেও নাই তবে কাহিনী বুঝতে হইলে এটা দেখা জরুরী। তাই আমারে গালি না দিয়ে ধৈর্য ধরে দেখতে থাকেন – হতাশ হবেন না।

Download Link:

Season 1:

http://www.animeout.com/clannad-720p-bd-90mb-encoded/
https://coalgirls.wakku.to/28/clannad

Season 2:

http://www.animeout.com/clannad-after-story-complete-batch-bd-100mb-720p-encoded/
https://coalgirls.wakku.to/2470/clannad-after-story

Original soundtrack:

https://www.youtube.com/watch?v=7EOEcE-3v0E (Album 1)
https://www.youtube.com/watch?v=gdh5ysIgl1A (Album 2)