সৌল ইটারঃ রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

SOUL.EATER.full.350803

কেনযেন নারু তামাশি ওয়া,
কেনযেন নারু সেইশিন তো,
কেনযেন নারু নিকুতাই নি ইয়াদোরু।

আনিমেটার প্রতি এপিসোডের শুরুতে মাকা আলবার্ন এর কণ্ঠে এই তিনটে কথা শোনা যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত আনিমেটায় এই কথাগুলোর কোন রকম গুরুত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না, একটা পরীক্ষার শূণ্যস্থান পূরণের মার্ক তোলা বাদে।

পুরো আনিমেটাই আসলে এরকম। সিরিয়াস বিপদের মধ্যেও যখন ব্ল্যাক স্টার “I’m going to transcend Gods” বলে চিল্লাচিল্লি করবে, বা কিড পলায়নপর শত্রুর পিছু নেওয়া বাদ দিয়ে সিমেট্রির পেছনে দৌড়িয়ে বেড়াবে, এদের ইউজলেস কাজকারবার দেখে একদিকে প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হবে, আবার হাসিও এসে যাবে।

আমি সাধারণত কোন আনিমের রানটাইম দুই সিজনের বেশি হলে সেটাকে ওয়াচলিস্ট থেকে বের করে দেই। তাও চার সিজন ধরে চলা ৫১ এপিসোডের এই আনিমেটা দেখা শুরু করি মূলত দুটো কারণে; প্রথমত বোনস এর আনিমে, ভাল না হোক, অন্তত খারাপ হবে না- এই আশা ছিল, দ্বিতীয়ত সেইয়্যু কাস্টে মামোরু মিয়ানো ছিল। মামোরু মিয়ানোর ক্যারেক্টারগুলো সাধারণত পাগলাটে হয়, দেখতে মজাই লাগে, আশা ছিল ডেথ দ্য কিড যদি সেই ক্যারেক্টারগুলোর ৫০% পাগলামিও করে, ভালই লাগবে। দুই দিক থেকেই আশা পূরণ হয়েছে ষোল আনা!! কথা বলছি সৌল ইটার নিয়ে।

2656-soul-eater-maka-and-soul

আনিমের কাহিনী বলা খুব সহজ, কারণ শুরুটা দেখে যে কারও মনে হবে যে ব্লিচ দেখছে, আরও ভাল আর্টওয়ার্ক এ। সেই পৃথিবীতে দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ানো পথভ্রষ্ট আত্মা, তাকে পাকড়াও করবে শিনিগামীর দূত। তবে মিল এখানেই শেষ, কাজেই নিশ্চিন্তে সামনে আগানো যাবে, রিপ অফ দেখব কিনা এই দুশ্চিন্তা না করে।

আমার সাধারণত আনিমে মনে থাকে কাহিনী দিয়ে, ক্যারেক্টারের নাম বা অন্যান্য খুঁটিনাটি কিছুদিন পর ভুলে যাই। সৌল ইটার এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যতিক্রম, কারণ এর কাহিনীর তুলনায় এর আর্ট, ওএসটি এবং অদ্ভুত ক্যারেক্টারগুলো আমাকে বেশি টেনেছে। শুরু থেকে আর্ট দেখে বারবার ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্ট এর কথা মনে পড়ছিল, আর মাকা আলবার্ন এর সাথে উইনরির স্বভাবে মিল পাচ্ছিলাম। ডেথ দ্য কিডকে নিয়ে আমি আসলে বেশি উৎসুক ছিলাম, কারণ মামোরু মিয়ানোর ক্যারেক্টার, এবং সে আমার উৎসাহের আগুনে বালতি বালতি ঘি ঢেলেছে; তাকে যতটা তারছিড়া আশা করেছিলাম সে তারচেয়েও বড় তারছিড়া! নরমালি সিমেট্রি নিয়ে পাগলামি করে বেড়ানো, অথচ কাজের সময় সেইরকম কুল, কিডকে দেখে বারবার বুঙ্গো স্ট্রে ডগস এর দাযাই ওসামুকে মনে পড়ছিল।

death_the_kid_b_and_w_vector_by_x__zero__x

ছেলের কথা যখন এল, বাপের কথাও বলা উচিৎ! শিনিগামী সামার নাকিসুরের কথা আমার মাথায় ঢুকে গেছে, অস্বীকার করব না, গত কয়েকদিন ধরে তার মত নাকিসুরে কথা বলতে চেষ্টা করেছি মাঝেমধ্যেই, যদিও তা আলটিমেটলি ব্যর্থ প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই হয়নি। ;-;

পছন্দের ক্যারেক্টারের লিস্ট আসলে শেষ করা সম্ভব না। সৌল ইভান্স (যে নাকি কুল না হলে কোন কাজ করেনা), ব্ল্যাক স্টার (যে বিধাতাকে অতিক্রম করে যাবে), ৎসুবাকি (সব তারছিড়ার মাঝে একমাত্র নরমাল ক্যারেক্টার), লিয-প্যাটি (এদের যেকোনো একজন কখনোই যথেষ্ট না, সবসময় জোড়ায় আসতে হবে, কারণ “symmetry is beautiful!”), স্পিরিট, স্টাইন হাকাসে, সিড সেন্সেই, মারি সেন্সেই, জাস্টিন (এর থিমটা জোস, সাথে কথা বলার স্টাইলও); এছাড়া আরও অনেক ক্যারেক্টার মনে রাখার মত লেগেছে। ওএসটি খুবই ভাল ছিল, নরমালি ফাইট সিন আমাকে তেমন টানে না, কিন্তু সৌল ইটারের ফাইটগুলোর জন্য আমি অপেক্ষা করে বসে থাকতাম, যাতে ফাইট মিউজিকগুলো শুনতে পাই। স্পেশালি কিড আর জাস্টিনের থিম সং আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। ওভার অল কাহিনীর পেসিং কিছুটা বুঙ্গোর মত লেগেছে (এমনকি লাস্টের ফাইটটাও বুঙ্গোর লাস্ট ফাইটের মত ফুড়ুৎ করে শেষ হয়ে গেল :p), আর একটা দুটা ফাইট সিন দেখে মবের কথা মনে হয়েছিল, যদিও এখন জিজ্ঞেস করে লাভ নেই, মনে করতে পারব না।

সবমিলিয়ে সৌল ইটার বেশ ভাল একটা আনিমে, দেখে বেশ এঞ্জয় করেছি।

strana manga tapety soul+eater walpapers pozadia anime

AIKI [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

AIKI

আপনি কি অতিরিক্ত শক্তিশালী মেইন ক্যারেক্টার এর ভক্ত? আপনি কি গড়াগড়ি খাওয়া কমেডির ভক্ত? আপনি কি কুস্তি থুক্কু মার্শাল আর্টের ভক্ত?? এবং সবশেষে ইচি ভক্ত? তাইলে আপনার জন্যই AIKI মাঙ্গা 😀 !!!
মাঙ্গা সাজেশন: AIKI
Beelzebub এর Oga এর কথা মনে আসে? সেই শয়তানি কলিজাকাপা হাসির সাথে ধুম ধারাক্কা ঘুষি!! এক কথায় পিউর Badass!!! এইরকম চরিত্র দেখলেই অস্থির লাগে। কোন মিন মিনে ভাব নাই, আসলাম, দেখলাম, ঘুষাইলাম!! সবকিছুরে তুচ্ছ কইরা দেয়। এ খারাপ না কিন্তু সাধুও না!!
তো আমাদের এই মাঙ্গার নায়ক জোকিয়ুউ। দেখতে পাড়ার বখাটে ছেলের মত। আসলেও তাই। গায়ে গতরে নরমাল। দেখলে মনে হয় হাইস্কুলে পড়ে। আসলে কি তাই?? অবশ্যই না !!! দুনিয়ার সেরা মার্শাল আর্টিস্ট সে, হ্যাঁ সেরা। তার উপরে আর কেউ গুরু নাই। তার এই বিশাল ক্ষমতা, With great power comes great responsibility. কিন্তু সে তার এই ক্ষমতা নিয়ে মেয়েদের পিছনে ছুকছুক করে বেড়ায় এবং বাপমায়ের অন্ন ধ্বংস করে। ছেলের ক্ষমতার বহর দেখে তার বাপ, এমন সিস্টেম করে যাতে জোকিয়ুউ তার শরীরের ১০ পারসেন্ট ক্ষমতাও ব্যাবহার করতে না পারে!! তাও তার সাথে কেউ পারে না । যেই মারামারি করতে যায় , লিটারেলি উড়ে যায়!! এখন দূর দুরান্ত থেকে লোক আসে তাকে দলে টানার জন্য, অথবা মার্শাল আর্ট শেখার জন্য!! আর টাকা বা নারীর ছলাকলা দেখলেই সে মাখনের মত গলে যায়। কিন্তু তার এই বজ্জাতির মধ্যেও আছে বুদ্ধির খেল , আরও জানতে হলে মাঙ্গা পড়া স্টার্ট করা দেন!!!
এই মাঙ্গা অতিরিক্ত অস্থির, এর ইচ্চিটুকু বাদ দিলে এইটা মাস্ট পড়ার মত মাঙ্গা। মাঙ্গার আকা খুব সুন্দর, এক্সপ্রেশন গুলা সেই!!!! যারা এক্সপ্রেশন এর ভক্ত তারা এই মাঙ্গা মাস্ট পড়বেন!!! ইচ্চিটা একটু বেশি কিন্তু তা বলে এই মাঙ্গা বাদ দেবার মত না। ওয়ানপাঞ্চ ম্যান, Beelzebub এর ভক্ত হয়ে থাকলে এই মাঙ্গা পড়া মাস্ট। তবে ইচ্চি কিন্তু অনেক বেশি!
চ্যাপ্টার মাত্র ৯৮টা। এর একটা সিকুয়াল ও আছে। নাম Aiki S. সেটা অনগোয়িং!!
আমার রেটিং: ৯/১০

স্পাইস অ্যান্ড উলফ [নোভেল রিভিউ ও ডিসকাশন] — Saqib Shadman

Spice and Wolf

অবশেষে শেষ করলাম স্পাইস অ্যান্ড উলফের সবকটা ভলিউম (১৭ ভলিউমের short story গুল এখনও বাকি আছে, কিন্তু সিরিজের উপর মন্তব্য করার জন্য যথেষ্ট পরা হয়েছে)। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চমৎকার একটা যাত্রা হল।

গল্পের শুরুতে ভ্রমণকারক বনিক লরেন্সের সাথে পরিচয় হয় নেকড়ে ঈশ্বর হলোর সাথে। লরেন্স হলোকে তার ভস্মভূমিতে ফিরিয়ে দেবার জন্য রাজি হয়। যাত্রার পথে প্রত্যেক গ্রাম ও শহরে আমাদের দুই প্রধান চরিত্র জায়গার সমস্যায় জরিত হয়ে যায়।

স্পাইস অ্যান্ড উলফ এক অনন্য সিরিজ। যারা এর আগে এনিমে দেখছেন কিংবা নভেলগুলো পরেছেন জানেন যে প্রত্যেক গল্পের এক কেন্দ্রিয় বিষয়বস্তু হচ্ছে ব্যাবসা, অর্থনীতি, এবং কিছু রাজনীতি। প্রথম প্রথম পুর ব্যাপারটা বুঝতে বেশ অসুবিধা হত, কিন্তু শেষে মানতে হল যে এই বিষয় সিরিজে একটা অনন্য বুদ্ধিমত্তা দেয়।

দুনিয়াটাও বেশ বিশদ ও জটিল। আগেরকালের দিনকালের ঘটনাবলি বর্তমানে এখনও বেশ প্রভাবিতও করেছে। প্রত্যেক শহর ও গ্রামের পরিস্থিতি সংযুক্ত। যুদ্ধ বাতিল হবার কারনে এক শহরে অর্থনিতিক অবস্থা একদম কাহিল হয়ে থাকে, অন্যদিকে অর্থের মান কমার কারনে শত শত ব্যবসা দেউলিয়া হয়ে যায়। অর্থনীতিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আছে ধর্মের ও রাজপদের প্রতিষ্ঠান, যার ক্ষমতাও প্রচুর। এবং দুনিয়ার পরিস্থিতি যাত্রা ও চরিত্রদের উপর বেশ প্রগাঢ় ভাবে প্রভাব করে।

প্রধান দুই চরিত্র বাদেও সিরিজের বাকি চরিত্রগুলকেও বেশ ভাল লেগেছে। প্রত্যেক চরিত্র অপ্রতিম। কোন চরিত্রকে জেনেরিক বা সাধারণত বিরক্তিকর মনে হয় নাই। আছে লুদ্ধ মহিলা বণিক ইভ, আছে নরম মনের কিন্তু বুদ্ধিমত্তা কল। চরিত্রের ইতিহাস আলচনা করে চরিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি ও ব্যবহারের কারন উঠিয়ে আনা হয়। সিরিজের কিছু কিছু শর্ট স্টোরির অন্যান্য চরিত্রদের জন্যই নিবেদিত।

শর্ট স্টোরিগুলও বেশির ভাগ সময় ভাল লেগেছে, কোনটাই অপ্রয়জনিয় মনে হয় নায়। বরং প্রধান গল্পটাকে বেশ সুন্দর করে পূরক করে।

লরেন্স এবং হলোর সম্পর্কটা কিছুটা আলাদা ভাবে আলচনা করি। হইত শুরু থেকেই হইত বুঝেছেন যে এই দুইজন শেষমেশ প্রেমে পরে একসাথেই বাস করবে। ঠিক ওইটাই হয়। এবং জিনিষটা ঠিক মতন না করলে ফলাফল টা বেশ cheezy হয়। সৌভাগ্যক্রমে, ১৭ ভলিউমে character development টা বেশ ধিরে-সুস্তে নেওয়া হয়। দুজনের মধ্যেই বেশ টেনশন থাকে গল্পের বেশির ভাগ সময়। গল্প বাস্তবতাকে বেশ সুন্দর ভাবে সম্মান করে। লরেন্স এবং হলো দুজনই বেশিরভাগ সময় মাথায় রাখে যে পেশার বিনিময়ে হৃদয়ের ইচ্ছা পুরন করা যাবে না। এবং শেষে যাত্রার বিপদ থেকে উঠে আসতে পারায় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় একশাথে বাশ করার। দুই চরিত্রের ডেভেলপমেন্ট বেশির ভাগ সময় আশে একজন আরেকজনের থেকে। হলো পরিস্থিতি ও বিপদের মুখে জয়ি হওয়ার অনুপ্রেরণা ও জ্ঞান দেয়, মাঝে মাঝে কিছু রীতিবিরুদ্ধ ভাবে। লরেন্স হলকে সাহায্য করে নতুন দুনিয়ার বদলের সাথে, এবং হলোর স্বদেশ, পুরনো দিনকালের কিংবদন্তী ও সৌন্দর্য রক্ষা করার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

……………………………………………………

পুরো সিরিজটা শেষ করতে লাগল ৯ মাস (যদিও প্রথম ভলিউম পরেছিলাম ২০১৫ সালে)। আমি বেশ সন্তুষ্ট যে গত মার্চে কৌতূহলে সিদ্ধান্ত নিলাম ভলিউম ২ এবং ৩ কিনার। যারা নভেল পরেন, আমি পরামর্শ করলাম এইটা সিরিজটা পরে নিতে। যারা এনিমে দেখেছেন এবং নভেল পরার আগ্রহ আছে, তাদেরকে উপদেশ করলাম প্রথম থেকে পড়তে (এনিমে এডপশন হচ্ছে ভলিউম ১, ২, ৩ ও ৫)।

Keijo!!!!!!!! [রিভিউ] — Homayed Naser

Keijo

Keijo!!!!!!!!
জনরাঃ শৌনেন, স্পোর্টস

২০১৬ সালের এনিমে জগতে সারা জাগানো একটি এনিমে এটি। এনিমে জগতে এর আগে এভাবে সারা ফেলতে দেখা গিয়েছিল হাইস্কুল ডি এক্স ডি, ফেইরি টেইল এর মত এনিমেকে। হাই স্কুল ডি এক্স ডি যদিও বা আমাদের অনেকেরই প্রিয়, কিন্তু ফেইরি টেইল অধিকাংশ দর্শকদের কাছে মাস্টারপিস হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এ মাস্টারপিস এনিমের ফ্যানরা এখন নিজেরাই ভয়ে আছে কারন এনিমেটি ফ্যানসারভিস জেনারের বিধায় নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতে স্বার্থকভাবে সফল হয়েছে। কারণ কেইজো নামের এনিমেটি তথাকথিতভাবে ফেইরি টেইল এনিমেটির মত শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা না চালিয়ে সরাসরি ফ্যান সারভিসকেই একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থাপন করতে পেরেছে যা এনিমে জগতকে আরও সামনের দিকে অগ্রগামিতার ভার বহন করে।

এনিমেটির প্রধান চরিত্র কামিনাশি নোজোমিকে ঘিরেই মুল গল্পের সৃষ্টি।
এবং আরও তিনটি চরিত্র যারা নোজোমির রুমমেট তারাও গল্পে বহুলভূমিকা পালন করে।গল্পটি মূলত একটি শিল্পকলাকে ঘিরে। এবং এ শিল্পকলার মূলে রয়েছে কেইজো নামের একটি খেলা যেখানে পশ্চাতদেশ ও উরোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন কারুকার্যের মাধ্যমে পশ্চাতদেশ ও উরোজ এর সঠিক ব্যবহার করে একে অপরকে সেগুলো দিয়ে ধাক্কা অথবা ছোয়ার মাধ্যমে পুকুরে অথবা সুইমিং পুল এ ফেলে দেওয়ার মাধ্যমে খেলাটি সম্পন্ন হয়। খেলাটি ছোট মেয়ে থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারাও খেলতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হল সুগঠিত পশ্চাতদেশ, এবং বিভিন্ন বেয়ামের মাধ্যমে এনিমের চরিত্রদল তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ করে যা এনিমেটিকে একটি অনন্ত মাত্রায় নিয়ে যায় যা অনেক স্পোরটস আনিমেকেই হার মানায়।

প্রতিটি চরিত্রই এক একটি অনন্য কীর্তি। তাদের দেহের শুষম বন্টন এবং পশ্চাতদেশ ও উরোজের প্রয়োগ প্রশংসার দাবিদার। লেখককে এক্ষেত্রে বলতে হবে যে সে খুব চমৎকার ভাবে প্রতিটি চরিত্রকে ধারণ করেছে এবং তার অনন্যতম শৈলীগুলোর একটি।তাদের খেলার সময় ধারনকৃত প্রতিটি বিশেষ হামলা তাদের নিজ নিজ গুনাবলীর বহিঃপ্রকাশ।
এনিমেশনের বেপারে বলতে গেলে এক কথায় অসাধারণ। কারণ অনেক এনিমেই এরকম পশ্চাতদেশ এবং উরোজের মাধুরি দেখাতে গিয়ে খুব বাজে ভাবে ব্যর্থ হয়েছে যা কেইজোর ক্ষেত্রে ঠিক উলটো।
তো এ মাস্টারপিসটিকে অন্তত এ গ্রেড তো দেয়াই যায় নাকি? আপনারা কী বলেন?

Neon Genesis Evangelion + End of Evangelion [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Neon Genesis Evangelion

Neon Genesis Evangelion + End of Evangelion
পর্ব সংখ্যা- ২৬ পর্ব + ১ ছবি
জনরা-সাই-ফাই,মেকা, সাইকোলোজিকাল ড্রামা
M.A.L. রেটিং-৮.৩২/১০
ব্যক্তিগত রেটিং-১০/১০

১৯৯৫ সালের গাইনেক্স প্রযোজিত হিদেয়াকি আনো পরিচালিত নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনকে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী এনিমে হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯৫ সালে মুক্তির পর এনিমেটি প্রাপ্ত বয়স্ক দর্শকদের মধ্যে প্রশংসা লাভ করে এবং জাপান সহ পৃথিবীর বহু দেশে অনেক খ্যাতি পায়। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন আমার সবচেয়ে প্রিয় ৩ টি এনিমের মধ্যে একটি এবং আমার মতে সবচেয়ে সেরা ৫ এনিমের মধ্যে একটি (বাকি ৪ টি হলো কাউবয় বিবপ, মন্সটার, লেজেণ্ড অফ দা গেলাকটিক হিরোস, দা তাতামি গেলাক্সি)। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী সাহসের সাথে বিভিন্ন রকমের ধার্মিক, মনস্তাত্বিক এবং কঠিন বিষয় মোকাবেলা করে। কেবল এনিমের জন্য নয়, টিভি শো কিংবা চলচিত্রতেও এসব বিষয় দুর্লভ।নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী মূলত অ্যাঞ্জেল নামক দৈত্যরা পৃথিবীতে হামলা করেছে।তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য মানব জাতি ইভানগেলিওন নামক রোবট বানায়। ১৪ বছর বয়সী শিনজি ইকারিকে এই ইভানগেলিওনের সাহায্যে পৃথিবী বাচাতে হবে। আপনি মনে করছেন এখানে জটিল কিংবা কঠিন কাহিনী কোথায়? এটা তো খুবই সাধারণ কাহিনী তাই না? বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ”বহিরাবরণ দেখে কাউকে বিচার করতে নেই”। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনীটাও ঠিক সেরকম। প্রথম দেখায় খুব সহজ মনে হলেও পুরোটাই জিলাপির প্যাঁচে ভর্তি।নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী মানুষের বিভিন্ন মনস্তাত্বিক বিষয় যেমন সমব্যথী, আত্মঘাতী, বিষাদগ্রস্ততা, অন্যান্য মানুষের কাছে নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়া নিয়ে উদ্দিগ্নতা, জীবনের পরিচয় এবং অর্থ উপলব্ধি করা ইত্যাদি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গঠিত। প্রতিটি অসাধারন কাহিনীর পেছনে অসাধারন চরিত্র সমূহের ভূমিকা থাকে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন এনিমেও এই রীতি থেকে ভিন্ন নয়। অনুষ্ঠানটির কাহিনীর মতো এর চরিত্রসমূহও প্রথম দেখাতে সাধারণের বাইরে কিছু মনে হয় না। অনুষ্ঠানটি না দেখেই খুব সহজেই বলে দেয়া যায় যে শিনজি একজন ভীত ছেলে যে নিজের জন্য কিছু করতে পারে না কিংবা আসুকা একজন নিদারুণ প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু তা সত্যি নয়। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের প্রতিটি চরিত্রেরই রয়েছে কঠিন অতীত জীবন। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের প্রতিটি চরিত্রের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে নিষ্ঠুর নৈতিক প্রেষণা। এখনকার দিনে খুব সহজেই এনিমে বানানো যায় যে ১৫-১৬ বছরের কিশোরেরা বড় বড় দেয়ালের পেছন থেকে আক্রমণ করে বিশাল দৈত্যদের বিরুদ্ধে নির্ভয়ের সাথে যুদ্ধ করছে। কিন্তু বাস্তবতা কি এতই সহজ? এরকম অবস্থায় একজন ১৪-১৫ বছরের কিশোরের মানসিক অবস্থা বাস্তবতার সাথে মিল রেখে ফুটিয়ে তুলেছে নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন। এটি কোন পৃথিবী রক্ষার সাহসিকতার কোন রুপকথা নয় বরং এটি জীবনের নিষ্ঠুর প্রকৃতির পথ চলা নিয়ে, এরকম কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলায় ধীরে ধীরে মানসিক ভাবে নিজের জীবনের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়া নিয়ে। শিনজি এবং আসুকা আমার মতে এনিমের ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা দুটি কিশোর চরিত্র। লাইট ইয়াগামি এবং লেলুস যুদ্ধের ক্ষেত্রে খুবই প্রতিভাবান হলেও তাদের চরিত্র লেখার সময় প্রতিটি বিষয় এত যত্নের সাথে সবিস্তরে লেখা হয় নি যেভাবে শিনজি এবং আসুকার চরিত্রে লেখা হয়েছে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের এনিম্যাশন সেই সময়ের জন্য বৈপ্লবিক ছিল। এমনকি মুক্তি পাবার ২১ বছর পরেও ইভানগেলিওন ও অ্যাঞ্জেলদের মধ্যকার যুদ্ধ গুলো চোখ ধাদানো মনে হয়। অনুষ্ঠানটির সঙ্গীত প্রযোজনা করেছে শিরো সাগিসু, এবং সে তার ভূমিকা দুর্দান্ত ভাবে পালন করেছে। এনিমেটির সূচনা গান ‘’A Cruel Angel’s Thesis” আমার খুবই পছন্দের।

আপনি যদি নিওন জেনেসিস ইভানগেলিনের নাম শুনে থাকেন বা দেখে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই এর শেষ দুই পর্ব নিয়ে জানেন। এনিমের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কবাদী দুটি পর্ব। প্রথম দিকে বুঝতে কিছু সমস্যা হলেও আশা হারাবেন না এই পর্ব দুটি নিয়ে। অনেকেই এই পর্ব দুটি দেখে বুঝার চেষ্টা করে না কিন্তু কিছুটা সময় নিয়ে চিন্তা করলেই আপনি পর্ব দুটির মহত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন

End Of Evangelion:
অনেকেই মনে করে যে এই ছবিটি নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের সঠিক সমাপ্তি। কথাটিতে যেমন সত্যতা রয়েছে তেমনি ভুল রয়েছে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের শেষ পর্ব দুটি মূলত এন্ড অফ ইভানগেলিওনের কাহিনীর সময় শিনজি ইকারির মনে এবং মস্তিস্কে কি হচ্ছিল তার উপর। কাহিনীটি পুরোপুরি বুঝতে দুটিরই প্রয়োজন রয়েছে। এই দুটি ভিন্ন সমাপ্তি একত্রে মিলে আপনাকে এনিমের ইতিহাসের সবচেয়ে সন্তুষ্টিকর সমাপ্তি গুলোর মধ্যে একটি দিবে।
এরপর আপনার ইচ্ছা হলে আপনি রিবিল্ড ছবি গুলো দেখতে পারেন। ছবিগুলো খারাপ নয় এবং অনেক বিনোদনকারী, কিন্তু মুল অনুষ্ঠানটির মতো অসাধারণ নয়। এর মূল কারণ আমার কাছে শিনজি, আসুকা এবং রেয়ের চরিত্রের পরিবর্তনের বিষয়টি ভালো লাগে নি।

“শৌওয়া ও গেনরোকু আমলের ভালবাসার যুগ্ম মৃত্যু- রাকুগোর মাধ্যমে”; রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

rakugo

আমার এক বান্ধবী মাঝেমাঝে একটা কথা বলত, “পরীক্ষার সময় দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বসে থাকাও অনেক ইন্টারেস্টিং একটা কাজ বলে মনে হয়।” কথাটা শতভাগ সত্যি। এবং এই কথামতই, সারাটা বছর পার করে অবশেষে এই ডিসেম্বর মাসে এসে দেখলাম “শৌওয়া ও গেনরোকু আমলের ভালবাসার যুগ্ম মৃত্যু- রাকুগোর মাধ্যমে”।

আমি সাধারণত কমফোর্টেবল ফিল করি দুই ধরণের আনিমে নিয়ে কথা বলতে গেলে, একটা হল যেখানে কিছুই ঘটেনা, আরেকটা যেখানে আসলেই কিছু ঘটে না :3 সত্যি কথা, হাইস্কুলের পোলাপান দৌড়াদৌড়ি করে বেড়াচ্ছে, মজা করে বেন্তো খাচ্ছে; বা র্যান্ডম কিশোর বালক অ্যাডভেঞ্চার করতে বেরিয়ে দুনিয়া জয় করে ফেলছে, কিংবা খুব থ্রিলিং কম্পিটিশন বা মারামারি চলছে, এমন আনিমে নিয়ে কথা বলাটা আমার কাছে বেশি সহজ মনে হয়। কিন্তু যেখানে আসলেই কিছু ঘটছে, এবং জিনিসটা বাস্তবের খুব কাছাকাছি, সেটা নিয়ে কথা বলাটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। তারওপর যখন আনিমেটার মূল থিমই হয় গল্প বলা নিয়ে, সেখানে অনেক খুঁটিনাটি ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করাটা গিভেন হয়ে যায়, আর সেটা করতে গেলে গবেষণা করা লাগবে একগাদা, যেটা খুবই বিরক্তিকর একটা বিষয় (আমার জন্য)।

তাহলে কথা যেটা ওঠে এখানে, আমি তাও শৌওয়া নিয়ে লিখছি কেন, আর লিখছিই যখন, কোনরকম গবেষণা না করেই বা লিখছি কেন।

কারণ একটাই, আনিমেটা বেশ ভাল লেগেছে। শুধু ভাল লাগলে হয়ত লিখতে ইচ্ছে হত না, ইচ্ছেটা জেগেছে কারণ আনিমেটার প্লট খুব ইউনিক লেগেছে। বর্তমানের “ইসেকাই”, “তাইমু তোরাবেরু”, “আইদোরু”, বা অযথা এচ্চি দিয়ে ভরে রাখা আনিমের যুগে হাতেগোণা যে কয়টা আনিমে দেখলে মনে হয়, “নাহ! এ জিনিস তো আগে কোনদিন দেখিনি!”- তার মাঝে শৌওয়া অন্যতম।

কাহিনী মূলত জাপানের পটভূমিতে রাকুগো শিল্পের উত্থান পতন নিয়ে, কিন্তু এর পাশাপাশি খুব সুন্দরভাবে এগিয়ে চলেছে এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত একদল মানুষের জীবনের কাহিনী; তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও রাকুগো মিলেমিশে যেন একাকার হয়ে গেছে।

আনিমেটা আমি এতদিন শুরু করতে পারছিলামনা কারণ টাইটেলটা পড়ে এবং মানু্ষের রিভিউ পড়ে একটু ভয় কাজ করছিল যে সেই শৌওয়া আমলের প্লট, তাও আবার জাপানের বিবর্তন টাইপ জিনিস নিয়ে কারবার, যদি বোর হয়ে যাই! অনেকেই হয়ত এটা ভেবে “ভারী” এই আনিমেটা দেখেননি, বা আমি একাই হয়ত “ইয়োতারো”, কিন্তু আনিমেটার ৪৭ মিনিটের প্রথম এপিসোড দেখেই আমার সেই ধারণা ভেঙে গিয়েছিল। আর যাই হোক, শুরুটা খুবই ইন্টারেস্টিং। কেবল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এনার্জেটিক এক ছেলে গিয়ে সরাসরি পায়ে পড়ল রাকুগো শিল্পীর- দ্যাটস সামথিং ইউ ডোন্ট গেট টু ওয়াচ এভ্রিডে!!

আনিমের কাহিনী বেশ ভাল লেগেছে, অনেক কিছুই দেখার সময় আগে থেকেই আন্দাজ করে ফেলা যায়, তা মিলেও যায়, কিন্তু মজাটা এখানেই। আপনি জানবেন এরপর এটা আসছে, কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব তা আপনি ঠাহর করতে পারবেননা। তারপর যখন জিনিসটা ঘটবে, তখন অবাক হয়ে ভাববেন যে এটাই ঘটার কথা ছিল আসলে। এই ব্যাপারটা আমার কাছে আনিমের একটা প্লাস পয়েন্ট বলে মনে হয়েছে। আর সাথে তো রাকুগোর স্কিলফুল পারফরমেন্স গুলো আছেই, যা নিয়ে আমার আগেও অনেকে অনেক কিছু বলেছেন, ভয়েস একটরদের মুন্সিয়ানা গবেষণা করে বা অ্যানিমেশন আর মিউজিকের কম্বিনেশন কিভাবে নিখুঁতভাবে ম্যাচ করানো হয়েছে তা নিয়ে তথ্যবহুল পোস্ট দিয়েছেন, তাই আমি আর কষ্ট করলাম না। খালি দুটো কথা বলব, অ্যানিমেশন এখানে গৌণ ব্যাপার, কাহিনীতে একবার ঢুকে গেলে কিসের অ্যানিমেশন, কিসের কি! ওপেনিং গানটা বেশ ভাল লেগেছে, জাদুভরা কণ্ঠ।

“শৌওয়া গেনরোকু রাকুগো শিনজু” হয়ত আমার টপ ফেভারিট বা এমন কিছু হয়ে ওঠেনি, কিন্তু তাতে কি, ভাল তো লেগেছে, সেটাই যথেষ্ট। আর আমার মনে হয় একবার দেখা শুর করলে আনিমেটা যে কারও ভাল লাগবে।

Yuri!!! on ICE [রিএকশন/মিনি রিভিউ] — Mithila Mehjabin

yuri-on-ice

রিএকশন(এপি ১-৩)+মিনি রিভিউ
Yuri!!! on ICE
জনরা: স্পোর্টস
স্ট্যাটাস: অনগোয়িং

এনিমেটার প্রথম পোস্টার দেখে আহামরি কিছু হতে পারে, তা ঘুনাক্ষরেও মনে হয়নি। অথচ গত রাত থেকে এনিমেটার প্রথম তিনটা পর্ব তিনবার করে দেখা শেষ, প্রতিবারই এনিমে স্টার্ট করার আগে ওপেনিং শুনতে শুনতে কান দিয়ে ধোয়া বের হওয়ার আগ পর্যন্ত শুনে গেছি, এত বেশী শুনেছি যে ঘুমের ভেতরেও মাথার ভেতর বাজছে গানটা, বিরক্ত হয়ে ভোর চারটা সময় উঠে পড়তে বাধ্য হই!

ইয়ুরি অন আইস- নামটাই গড়বড়ে!  এনিমের মধ্যে না তো ইউরি আছে না ইয়াওই, ফ্যানসার্ভিস আছে যদিও, এবং ভালো পরিমাণেই আছে! সাবজেক্ট: ফিগার স্কেটিং। সোজা কথায় বরফের ওপর স্পেশাল ধরণের জুতা পড়ে পিছলিয়ে যে নাচ বা খেলা।
ম্যালের মতে, স্টুডিও মাপ্পা’র (MAPPA) চার বছর ধরে প্ল্যান করা অরিজিনাল একটি সিরিজ এটি। ক্রিয়েটর মিত্সুরো কুবো এবং ডিরেক্টর সায়ো ইয়ামামোতো সিরিজ প্ল্যানিং এর আগে রাশিয়া, বার্সেলোনা ও বেইজিং ঘুরে এসেছেন লোকেশন হান্টিং এর জন্য। ক্যারেক্টার ডিজাইনারদের একজন তাদাশি হিরামাত্সু, পরিচিত Parasyte: The Maxim এর ক্যারেক্টার ডিজাইনিংয়ের জন্য, এনিমের মেইন ক্যারেকটার: কাত্সুকি ইউরি কে দেখলেই ইযুমি শিনিচি’র কথা মনে হয়। ওপেনিং থিম “History Maker” গেয়েছেন ডীন ফুজিওকা, এই মাল্টিলিংগুয়াল মডেল, অভিনেতা ও গায়কের গাওয়া ওপেনিংটা সম্পূর্ণ চমৎকার ঝরঝরে ইংরেজীতে!  সাসুগা…ইকেমেনদের জন্য গাওযা ওপেনিং এর গায়কও একজন ইকেমেন!

গল্পের শুরু কাত্সুকি ইউরি’কে নিয়ে, যার ফিগার স্কেটার হওয়ার স্বপ্নের উদ্যোক্তা পরপর পাঁচ বার গ্র্যান্ড প্রিক্স ফাইনাল জেতা ২৭ বছর বয়সী রাশান স্কেটার ভিক্টর নিকিফরভ্! ছোট থেকে দেখে আসা স্বপ্নের পথ ধরে গ্র্যান্ড প্রিক্সে আসার সুযোগ পেলেও সেটা ধরে রাখতে পারে না কাত্সুকি, প্রচন্ড পরিশ্রমের পরও প্রেশারের কাছে পরাজিত হয় সে, এবং জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড প্রিক্স এ শেষ স্থান পাওয়ায় তার ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়! শেষমেষ সবকিছু ছেড়েছুড়ে, ফিগারের বারোটা বাজিয়ে আপাতত জাপান ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় ও, বাস্তবতার হাত থেকে পালিয়ে!

পাচঁ বছর পর বাড়ী ফিরলেও মন ভালো নেই কাত্সুকি’র, শুয়ে-বসে ডিপ্রেশনে ভুগতে ভুগতে বিরক্ত কাত্সুকি অবশেষে ঘর থেকে বেরোয়, উদ্দেশ্য: ছেলেবেলার স্মৃতিঘর হাসেত্সু আইস ক্যাসেল। ফিগার স্কেটিংয়ের শুরু এখান থেকেই, প্রবেশ করতেই দেখা হয় ছেলেবেলার স্কেটিং সঙ্গীনী ইউ-চান এর সাথে! দুবছরের সিনিয়র মেয়েটি ছিল তার অনুপ্রেরণার আরেক অন্যতম উৎস্য। অফিশিয়াল স্কেটিং থেকে আপাত অবসর নিলেও পঞ্চম গ্র্যান্ড প্রিক্সে ভিক্টরের পারফর্ম করা ডান্স টা আয়ত্ত করেছে ও, ইউ-চান কে দেখাবে বলে। বরফের উপর ভিক্টরের পারফর্ম করা নাচটা পারফর্ম করছে কাত্সুকি, মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখছে ইউ! কি মনে হয়..একটি প্রেমের সূচনা?
মোটেই না, ইউ যখন মুগ্ধ হয়ে কাত্সুকির নাচ দেখছে, তার তিনি বদের হাড্ডি আশেপাশেই কোথাও লুকিয়ে ভিডিও করছে নাচটির!  গোলগাল তিনটে বাচ্চা, জামাই নিশিগোরিও কাছাকাছিই আছে কোথাও!

রিইউনিয়ন ও খুনসুটির পর বাড়ী ফিরে নানান ভাবে ক্লান্ত কাত্সুকি মেসেজ পায় নিশিগোরির কাছ থেকে, খবর হলো: নাচটার ভিডিও অনলাইনে আপলোড করে দিয়েছে তার তিন সুকন্যা! 😀 ব্যাস, আর যায় কই! হাজার হাজার বার রিটুইট হয়ে পৌছে যায় ভিডিওটি স্বয়ং ভিক্টর নিকিফরভের কাছে! তারপর?

তারপর কি হয় জানতে চাইলে দেখতে হবে!  

এনিমেটা সম্বন্ধে প্রথমেই যা বলতে হয়, তা হলো মনোমুগ্ধকর এনিমেশন! এবং যেনতেন ধরণের মনোমুগ্ধকর না, দম বন্ধ করা মনোমুগ্ধকর!  বিশেষ করে ওপেনিংয়ে তাদের ডান্সগুলো দেখলে ঘন্টাখানেক আর অন্য কিছুই দেখতে মন চাইবে না! প্রধান তিনটে ক্যারেকটার রুপোলী চুল ও নীল চোখের ভিক্টর নিকিফরভ, শিনিচির ছোট, হ্যান্ডসাম ভাই কাত্সুকি ইউরি আর সোনালী চুল ও সবুজ চোখের গর্জিয়াস লুকিং পাঙ্ক ইউরি পিলসেতস্কি! ক্যারেক্টার ডিজাইন ছাড়াও লাইট রেফলেকশন, কস্টিউম, ডান্স-কোরিওগ্রাফি আর সং চয়েসে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে মাপ্পা!  নীলাভ সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডটা দারুণ ভাল্লাগে!  ভিএ হিসেবে আছেন ভিক্টর, কাতসুকি আর পিলসেতস্কির জন্য যথাক্রমে জুনিচি সুয়াবে, তোনিশি তোয়োনাগা, কোউকি উচিয়ামা।

স্টোরিটা দারুণ আগাচ্ছে, লেটেস্ট তিন নম্বর এপিসোডটা চমৎকার ছিল!  হালকা ফ্যানসার্ভিসটা, এইরকম একটা স্পোর্টের ক্ষেত্রে তেমন বেমানান কিছু লাগে না। খালি অনসেন-সিনগুলোর সময় ভিক্টরের অস্তিত্বের কথা মাথা থেকে বাদ রাখলেই হয়, দৃশ্যত আর কোনো সমস্যা নেই কোথাও….এখনও পর্যন্ত!  আইস-স্কেটিং বিষয়ে শূণ্য জ্ঞানহীন আমি ইউটিউবে মেন’স ফিগার স্কেটিং সার্চ দিয়ে যে ভিডিওই পাই, কমেন্টবক্সে ইউরি অন আইসের জয়জয়কার!

অনগোয়িং এনিমেটার তিনটে এপিসোড এসেছে এই পর্যন্ত, কত এপিসোডের হবে তা এখনও নির্দিষ্ট করা হয়নি ম্যাল এ। ডাবের এনাউন্সমেন্ট দিয়েছে ফানিমেশন, অক্টোবর ২৪, ২০১৬ অর্থাৎ আগামীকাল ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী রাত ১০ টায় প্রথম এপিসোডের ডাব রিলিজ হওয়ার কথা রয়েছে। *-*

মিনি রিভিউ বলেছিলাম, কিন্তু এরচেয়ে বড় রিভিউ দেয়া আদৌ পসিবল কি না, জানি না!  বালিকার উচ্ছাস কে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল!

আমার কাছে যে অসাধারণ লেগেছে তা নতুর করে বলা বাহুল্য, এবং আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে বলে সবার কাছেই অসাধারণ লাগবে- এরকম হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু অন্তত ওপেনিংটা দেখুন, এবং নিজেরাই বিচার করুন দেখবেন কি দেখবেন না! ওপেনিংটার কথা আলাদা করে বলতেই হয়, ম্যাল অনুযায়ী আমার দেখা এনিমের সংখ্যা মাত্র ১৪১ টা, সেই হিসেবে আহামরি অনেক ওপেনিং দেখা বা শোনা আছে, এটা বলা যায় না। কিন্তু এই ওপেনিংটা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। বেস্ট বলে না, ওয়ান অফ আ কাইন্ড বলে। এরকম অভিভূত করা একটা ওপেনিং সচরাচর চোখে পড়েনা বলেই আমার মনে হয়েছে!  জাপানীজ একজন লোক এরকম শুদ্ধ ইংরেজী উচ্চারণ করতে পারে, না শুনলে বিশ্বাস করাই মুশকিল! এরইমধ্যে এক মিলিয়নের বেশী ভিউ পড়েছে ওপেনিং ভিডিওটিতে, চেক করে আসতে পারেন নিচের লিঙ্কটি থেকে:

 

ভালো এনিমেটা ভালোভাবে শেষ হলে বছরের অন্যতম সেরা এনিমেগুলোর একটি হলেও হতে পারে!  সবাইকেই দেখার অনুরোধ থাকবে!

সকল তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া এবং মাইএনিমেলিস্ট।

yuri-on-ice-2

Owari no Chronicle/The Ending Chronicle [লাইট নোভেল রিভিউ] — তৌফিক সরকার

owari-no-chronicle-1

Owari no Chronicle বা The Ending Chronicle
লেখকঃ Minoru Kawakami
জনরাঃ সাইন্স ফিকশ, ফ্যান্টাসী, একশন,রোমান্স

এই সিরিজ নিয়ে লেখার আগে এর ইউনিভার্স নিয়ে কথা বলি। Owari no Chronicle এর লেখক মিনোরু কাওয়াকামি নিজস্ব একটা ইউনিভার্স তৈরী করেছেন। সেই ইউনিভার্স ছয়টা এরা (era) ভাগে ভাগ করেছেন। সেই ছয়টা এর নিচে দেয়া হলঃ

১) FORTH- সিরিজ নামঃ Rapid-fire King – এর দুটো বই বের হয়েছে (ইংরেজী অনুবাদ হয়নি)।

২) AHEAD- সিরিজ নামঃ Owari no Chronicle – মোট ১৪টা বই বের হয়েছে এবং সম্পূর্ন হয়েছে (সম্পূর্ন ইংরেজী অনুবাদ হয়েছে।)

৩) EDGE- এখনো কোনো বই বের হয়নি।

৪) GENESIS- সিরিজ নামঃ Kyoukai Senjou no Horizon- ২৩ টা বই এবং এখনো চলমান (ইংরেজী অনুবাদ চলছে।) [Owari no Chronicle এর সিক্যুয়েল এটা।]

৫) OBSTACLE- সিরিজ নামঃ Clash of Hexennacht- ৩ টা বই বের হয়েছে এবং চলমান (ইংরেজী অনুবাদ চলছে।)

৬) CITY- CITY সিরিজ নামে পরিচিতি ৭টা ভাগে মোট ১৭ টা বই বের হয়েছে এবং সম্পূর্ন (ইংরেজী অনুবাদ চলছে।)

Owari no Chronicle সিরিজটা AHEAD- era এর মধ্যে অন্তর্গত। এটাকে জাপানের সেরা সাইন্স ফিকশন সিরিজের কাতারে ফেলা হয়, এবং এই সিরিজ বেশ কয়েকটা পুরষ্কারও পেয়েছে।

কাহিনী শুরু একসম ১৯৪৫ সালের দিকে। তখন ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলছে, কিন্তু এই বিশ্ব যুদ্ধের আড়ালে আরেকটা যুদ্ধ হয়েছে সেটাকে বলা হয় কনসেপ্ট ওয়ার ( Concept War), যেটা কিনা ইতিহাসের পাতায় লেখায় হয়নি।

এরপর ষাট বছর পর, গল্পের নায়ক সায়ামো মিকোটোর দাদা মারা গিয়েছে। মারা যাওয়ার আগে তার জন্যে একটা উইল রেখে গিয়েছেন তিনি। সে উইল জানার জন্যে একটা বিশাল কম্পানী ও রিসার্চ সেন্টার আইএআই( IAI) তে যায় জানতে পারে, পৃথিবী ধ্বংসে কাছাকাছি, কারণ নেগেটিভ কনসেপ্ট এর পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, তার কাজ হচ্ছে এখন অন্যন্যা প্যারালাল ওয়ার্ল্ড থেকে তাদের কনসেপ্ট নিয়ে আসতে হবে, তবে সেটা নেগোসিয়েশন বা সন্ধি করে।

এখন সে কিভাবে অন্যান্য প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের সাথে সন্ধি করবে যেখানে তার পূর্বসূরীরা সেই ওয়ার্ল্ডকে ধ্বংস করেছে বলা বাহুল্য সেই পূর্বসূরীদের মধ্যে তারা দাদাও ছিল।

আর এভাবেই Owari no Chronicle এর কাহিনী শুরু।

কাহিনী সংক্ষেপ গুরুগম্ভীর দিয়ে শুরু হলে পুরো কাহিনীতে একশন, রোমান্স আর কমেডিতে ভরপুর। আর প্রতিটা চরিত্রই ইউনিক একেক দিক দিয়ে। তবে সিরিজের মেইন নায়ক সায়ামা মিকোটো ইউনিকের দিক দিয়ে রাজা। তার হ্যালিরিয়াস যুক্তি এবং সেটা দিয়ে যেকোনো বিপদ কাটানোতে তার জুড়ি নেই।

তাছাড়া এই সিরিজের আসলে যে ব্যাপারটা হচ্ছে সম্পূর্ন নায়ক কেন্দ্রিক না হওয়াটা। জাপানিজ লাইট নভেলের বেলায় দেখা যায় যে নায়কই সব করে দিচ্ছে, A-Z সব। কিন্তু এই সিরিজে তা নয়, নায়কের সাথে সাথে আরো বেশ কয়েকটা ডিপেন্ডেবল চরিত্র আছে যারা নায়কের সন্ধি স্থাপনায় সাহায্য করেছে, যেখানে সায়ামা একটা সন্ধিতে ব্যস্ত সেখানে তার সঙ্গীরা এই সন্ধিতে যাতে ব্যাঘাত না ঘতে সেটা নিয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আর লেখক সবার চরিত্র একদম সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাদের আচার আচরণ, রোমান্স, স্ট্রাগল, সুখ-দুঃখ সব ।উদাহরণ দেয়া যায় তৃতীয় আর্কের বেলায়, মেইন ক্যারেক্টার বাদের, দুই সাইড ক্যারেক্টার (অবশ্য তারা পরের দিকের বেশ ভালো ভূমিকা রাখে) এর রোমান্স ছিল আমার ফেভারিট। খুব কম সময়ের মধ্যে তাদের রোমান্সটা লেখক খুব দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন।

আর রোমান্স যখন আসলোই, তখন নায়ক সায়মা ও নায়িকা শিনজৌ সাদাগিরি রোমান্সটুকু খুব সুন্দরভাবে ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, এমনকি সাদাগিরির সিক্রেট (নভেলের খুব ক্রুশিয়াল পয়েন্ট এটা।) জানার পরেও সায়ামা সাদাগিরিকে গ্রহণ করেছে এবং নভেলের শেষে অফিশিয়ালি কাপোল হয়েছে।

এই সিরিজটা সাইন্স ফিকশন হলেও, এর মধ্যে ফ্যান্টাসীর মিশ্রণ ছিল। এবং লেখক ফ্যান্টাসী ও সাইন্সের মধ্যে জগাখিচুড়ী লাগিয়ে দেয়নি বরং একে অপরের সাথে এত সুন্দরভাবে যোগ করেছে যে সহজে ভ্রু কুঁচকে উঠবে না।

আর কাহিনীর শেষের দিকে টুইস্টটা ছিল মারাত্মক, একদম কল্পনার করা যায়নি এমন কিছু একটা হবে।

তাই যারা সাইন্স ফিকশন পড়তে পছন্দ করেন তারা নির্দ্বিধায় পড়ে ফেলতে পারেন এই সিরিজ।

ছবিতে Owari no Chronicle বইয়ের এক অংশ দেখানো হলো, ডান পাশেরটা Owari no Chronicle এর সব বই আর Kyoukai Senjou no Horizon এর প্রথম ৮ টা বই।

owari-no-chronicle-2

The King of Pigs [মুভি রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

মাঝে মাঝে MAL এ হাবিজাবি ঘাঁটতে গিয়ে এমনকিছু চোখে পড়ে যেগুলো হয়ত নিজে কখনও খুঁজব না। দুইদিন আগে The King of Pigs এর কথা জানলাম এভাবে। MAL rating এ ৭ যেখানে তা ৮ এর উপরে হওয়া উচিৎ এবং হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। আর একেকজনের রেটিং এও আকাশপাতাল ফারাক। মুভিটা শুরু থেকেই ডিপ্রেসিং ছিল। হয়ত অনেকে সহজভাবে নিতে পারেনি।

the-king-of-pigs
Yeon Sang-ho’র নাম হয়ত অনেকের কাছেই এখন পরিচিত এই বছরের Train to Busan নামের চলচ্চিত্রটির কারণে। তবে তিনি বিখ্যাত তাঁর কোরিয়ান এনিমেটেড মুভিগুলোর জন্যে। মূলত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ধাঁচের এই মুভিগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল চরম বাস্তবতা। মানুষের জীবনের স্ট্রাগলকে কোন রকম অতিরঞ্জিত করা হয়নি। মানুষের ইম্পালসিভ ন্যাচার সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে তার মুভিগুলোতে। Satoshi Kon এর কাজগুলো দ্বারা তিনি বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত। তাঁর The King of Pigs মুভিটি Busan International Film Festival এ ৩টি এওয়ার্ড জিতেছে। তাছাড়া এটি Cannes Film Festival এ প্রদর্শিত প্রথম কোরিয়ান এনিমেটেড ফিল্ম। কোরিয়ান থ্রিলার মুভিগুলোর সাথে যারা মোটামুটি পরিচিত তারা নিশ্চয়ই ভায়োলেন্সের পরিমাণ অনুমান করতে পারছেন। ফিজিকাল এ্যাবিউজ থেকে শুরু করে এনিম্যাল এ্যাবিউজ কিছুই বাদ যায়নি এখানে।
নিজের স্ত্রীকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় Kyung Min এর কাহিনী। ব্যবসায় ব্যর্থতার দরুণ সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সে রাতে সে কল দেয় তার একসময়ের বেস্ট ফ্রেন্ড Jung Jong-suk কে। Jung একজন জার্নালিস্ট। তবে তার লেখক হবার স্বপ্ন। কিন্তু তার বই পাব্লিশ করতে কোন প্রকাশকই রাজি হচ্ছেনা। ঐদিন রাতে বাসায় গিয়ে তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে বেরিয়ে পড়ে। এই সময়ে Kyung min এর কল পায়। দুজন একটা রেস্টুরেন্টে বসে। ১৫ বছর পর তাদের দেখা। এরপর ফ্ল্যাশব্যাকে কাহিনী আগাতে থাকে।
১৫ বছর আগে হাইস্কুলে থাকার সময় এই দুই বন্ধু বুলির শিকার হত প্রতিদিন। তখনকার সময়ে গরীব বা অসহায়দের Pigs আর ধনী বা শোষণকারীদের Dogs বলে অভিহিত করা হত। তাদের ক্লাসের ২ জন ছিল এলিট সোসাইটির। তাদের কারণে সবাই আতংকে থাকত। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কেউ ছিল না। ভুল করে যদি একবার তর্ক করে ফেলে তখন সিনিয়রদের নিয়ে এসে একসাথে পেটায় তাকে। প্রতিদিনের মত Kyung min কে হেনস্তা করছিল তারা। হঠাৎ একটা ছেলে পেছন থেকে উঠে দাঁড়ায় এবং এসে ঐ ছেলেগুলোকে পেটায়। ছেলেটার নাম Chul Kim। হিংস্র হলেও এক পর্যায়ে Kyung min আর Jung এর ভাল ফ্রেন্ড হয়ে যায় সে। সবার কাছে সে হয়ে ওঠে King of pigs. একদিন ঐ ছেলেগুলোকে মারার সময় টিচার দেখে ফেলে। তাই কিছুদিনের জন্য তাকে সাস্পেন্ড করা হয়। দুই বন্ধু একটা পরিত্যক্ত গোডাউনে আসত Chul এর সাথে দেখা করার জন্য। সেখানেই তারা তাদের প্রথম ক্রাইমটি করে। আর এই ঘটনা আজও Jung কে কুড়ে কুড়ে খায়। যাই হোক ঘটনার এক পর্যায়ে স্পাইনলেস Kyung min বিট্রে করে। কিন্তু Chul তাকে কিছু বলেনা। বরং ফন্দি করে ঐ বুলিগুলোকে শিক্ষা দেয়ার। সে ঠিক করে একদিন এসেম্বলির সময় স্কুল ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সে আত্মহত্যা করবে। আর এই সিদ্ধান্ত সে নিয়েছিল এই ভেবে যে এই ঘটনা সবার মনে দাগ কাটবে। যারা আজ তাদেরকে টর্চার করছে, পরবর্তীতে এই দিনের কথা মনে করে তাদের মুখের হাসি যাতে চলে যায়। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু ঘটনার একটু আগে Chul তার সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলে। কেন? কারণ একদিন তার মাকে সে কাঁদতে দেখে, নির্যাতিত হতে দেখে। সে ঠিক করেছিল নিজেকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিবে। নতুন করে সব শুরু করবে। তার মায়ের পাশে থাকবে। কিন্তু তারপরও সে ছাদ থেকে লাফ দেয়। কেন? এটা কি শুধুই সুইসাইড ছিল? আর কেউ যদি তাকে হত্যাও করে কারণ টা কী?
মুভির লাস্ট ১৫ মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ টুইস্ট টা থাকে এই মুহূর্তে। মুভির শেষটাও খুব ডিপ্রেসিং।
এই তিনজনের ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড দেখানো হয় কাহিনীর বিভিন্ন সময়ে যাতে করে দর্শকেরা তাদের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে চিন্তা করতে পারে। এবং তাদের ভাগ্যটাও যে পরস্পর সাথে সম্পর্কিত তা অনুধাবন করতে পারে। তাদের প্রত্যেকের স্ট্রাগল দেখানো হয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হবে সে এটা না করলেও পারত। কিন্তু একজন হাইস্কুলের ছাত্র হিসেবে তার মানসিক পরিপক্কতা আর কতটুকুই বা থাকবে? এছাড়া তাদের ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট ছিল চোখে পড়ার মত। একসময়ের স্পাইনলেস ছাত্রের খুনী হয়ে ওঠা বা Jung এর মত একটা ছেলের হিংস্রতার কাছে হার মানা সবকিছু আপনাকে অভিভূত করবে, আপনাকে ভাবাবে।
এই মুভি নাকি Yeon San-ho’র জীবন থেকেই নেয়া। হয়ত এ কারণেই প্রতিটি চরিত্রের আবেগ-অনুভূতি আলাদা এবং সুচারুভাবে ফুটে উঠেছে।
গ্রুপে এটা নিয়ে অনেক আগে একজন পোস্ট দিয়েছিল যদিও। A must watch.

Lion Book series [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

হাল আমলের ফ্ল্যাশি এনিমে থেকে একটু ব্রেক নিতে চাইলে দেখে আসতে পারেন Lion Book series টি। Astro Boy, Kimba the Lion, Black Jack এর স্রষ্টা Osamu Tezuka’র কিছু মাংগার কালেকশন নিয়ে এই সিরিজ। এ ব্যাপারে অবশ্য একটু কনফিউজন আছে। যদিও বলা হয় এই সিরিজ মূলত ১৯৫৬ এবং পরবর্তীতে ‘৭০ এর কিছু মাংগার কালেকশন, তবে এর মধ্য থেকে শুধুমাত্র ৬টির এনিমে এডাপটেশন হয়েছিল যেগুলো Osama Tezuka’র রচনা এবং ডিরেক্ট করা। ৬টি ইউনিক গল্প দিয়ে সাজানো এই এনিমে কালেকশন খুব একটা মন্দ না। কিছু পরিচিতি দেই-

*1.The Green Cat:
গল্পের মূল চরিত্র বলতে গেলে ৪টে, বিড়ালটা সহ। একটি দূর্ঘটনার কারণে সাংগো ছোটবেলাতেই একা হয়ে পড়ে। ঐসময় ত্রাণকর্তা হিসেবে তার কাছে আসে এক সবুজ বিড়াল। তার জীবন পাল্টে দেয় এই বিড়াল। একসময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের বড় নাম হয়ে যায় সাংগোর। অন্যদিকে দেখা যায় শুনসাকু-বান নামের একজন ডিটেক্টিভ তার বন্ধুর খুনের রহস্য ভেদ করায় জান-প্রাণ দিয়ে খাটছে। ঘটনাক্রমে সাংগো এবং তার বিড়াল ও শুনসাকু-বানের মধ্যে কাকতালীয় সম্পর্ক বিরাজ করে। প্রকাশ পায় সবুজ বিড়ালের রহস্য।

lion-book-1

*2.Rain Boy:
পুরো কালেকশনে এই গল্পটিই সবচাইতে সুন্দর। বন্ধুত্ব এবং বন্ধুত্বের মর্যাদা দেয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে এই গল্পে। ছোট্ট মোউতা’র কোন বন্ধু নেই। এই ছোট্ট জীবনে তার হতাশার শেষ নেই। হঠাৎ একদিন সে দেখে তারই সমান একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে ঘিরে আছে একটি পুরান ছাতা এবং মাথার উপরে এক টুকরো মেঘ। এক পর্যায়ে বন্ধুত্ব হয় তাদের। ছাতাবন্ধু মোউতার নতুন জুতা দেখে খুব করে বলে তাকে ঐ জুতোজোড়া দিয়ে দিতে বিনিময়ে তার ৩টা ইচ্ছা পূরণ করবে। মোউতার ৩টা ইচ্ছা পূরণ ও হয়ে যায়। কিন্তু সে ছাতাবন্ধুর কথা ভুলে যায়, ভুলে যায় তাদের প্রতিজ্ঞার কথা। ৪০ বছর পর হঠাৎ মোউতার মনে পড়ে। তখন সে শহরের এক ব্যবসায়ী। তাড়াতাড়ি সে গ্রামে ছুটে যায়। এবং ব্রিজের নীচে গিয়ে দেখে তার সেই ছাতাবন্ধু দাঁড়িয়ে আছে একা।

lion-book-3

*3. Lunn Flies into the Wind:
হাইস্কুলের স্টুডেন্ট আকিরা প্রতিদিন তার ক্লাসমেট এবং টিচারদের দ্বারা বুলিড হয়। একদিন বাসায় ফেরার পথে একটি কফির বিজ্ঞাপনের পোস্টার দেখে থমকে যায় সে। এক দেখাতেই ভালবেসে ফেলে পোস্টারের মেয়েটাকে। সে পোস্টারটা খুলে তার পড়ার টেবিলের সামনে টাঙিয়ে রাখে। মেয়েটাকে নাম দেয় লুন। সারাদিনের কাহিনী এবং জীবনধর্মী আলোচনা ছিল প্রতিদিনের বিষয়। একসময় সে খুঁজে বের করে পোস্টারের মেয়েটিকে। কিন্তু সে জানতে পারে এই কফির বিজ্ঞাপন অনেক পুরোনো। পোস্টারের মেয়েটির বিয়ে হয়ে এখন সে বুড়িয়েও গেছে। একটা মেয়েও আছে তার। যখন সে হাল ছাড়তে যাবে তখন সে ঐ মেয়েটিকে দেখল। আর পোস্টার টা? সেটা নাহয় দেখেই জানুন।

lion-book-4

*4. Yamataro Comes Back:
ভাল্লুকছানা ইয়ামাতারো ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারায়। বন্ধুত্ব পাতায় এক স্টিম ইঞ্জিনের সাথে নাম যার C64। এভাবে দিন কেটে যাচ্ছিল। সময়ের সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়। টাউনের মানুষেরা ইয়ামাতারো কে মারতে আসে। কিন্তু C64 তার হুইসেল দিয়ে তাকে সতর্ক করে দেয়। এভাবে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল ইয়ামাতারো। একসময় সভ্যতার ছোঁয়ায় স্টিম ইঞ্জিনকে রিপ্লেস করে হাইস্পীড রেইল। তো টাউনের মানুষরা ফন্দি আঁটে সেই স্টিম ইঞ্জিনের হুইসেল দিয়ে ইয়ামাতারো কে ফাঁদে ফেলবে। কিন্তু C64 যখন এ কথা জানে তখন সে নিজে ক্র্যাশ করে, নিজেকে স্যাক্রিফাইস করে বন্ধুত্বের টানে। এভাবে শেষবারের মত সতর্ক করে ইয়ামাতারো কে।

lion-book-5

*5. Adachi-ga Hara:
যদিও এটাকে সাই-ফাই তকমা দেয়া হয়েছে কিন্তু এটাকে সাই-ফাই বললে অপমান হবে। কাহিনী শুরু হয় একজন বৃদ্ধা মহিলাকে দিয়ে যাকে ডাইনী হিসেবে সন্দেহ করা হয়। জেস একজন তরুণ এস্ট্রোনাট। পৃথাবীতে থাকাকালীন সময়ে তৎকালীন স্বৈর সরকার কে উৎখাত করতে বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দেয় জেস এবং তার স্ত্রী। ঘটনাক্রমে তারা আলাদা হয়ে যায়। বছরের পর বছর কেটে যায়। জেস কে মিশনে পাঠানো হয় এই গ্রহে যেখানে গুজব রয়েছে এক ডাইনী এবং তার কুকীর্তির। একসময় ডাইনীর রহস্য ফাঁস হয়। কিন্তু ততক্ষনে দেরী হয়ে যায় অনেক।

lion-book-2

*6.Akuemon:
হিদারি তাইশো গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। একদিন এক জোতিষী তাকে বলে, যদি সে ১০০০ টা শেয়াল শিকার করতে পারে তবে সে দেশের শাসক হতে পারবে। এদিকে আকুয়েমন ছিল রগচটা ও হিংস্র একজন শিকারি। কেউ তাকে পছন্দ করত না। স্ত্রী এবং এক ছেলেকে নিয়ে থাকত। হিদারি তাকে বাছাই করে, নির্দেশ দেয় ১০০০ শেয়াল হত্যা করার। বিনিময়ে এটা-সেটা দিয়ে তার পরিবারকে সচ্ছল রাখত। ওদিকে শেয়ালবাহিনীর তরফ থেকে এক নারী শেয়ালকে পাঠাল আকুয়েমন কে শায়েস্তা করার জন্য। তো সেই নারী-শেয়াল আকুয়েমনের স্ত্রীর রূপ নেয়। এবং তার সাথে থাকতে শুরু করে। যখন আকুয়েমন শিকার করতে যায় তখন সে বাকিদের সতর্ক করে দেয়। একসময় আকুয়েমনকে ভালবেসে ফেলে সে। আর তাদের বাচ্চার সাথে অন্যরকম বন্ধন তৈরি হয়। একসময় ধরা পড়ে যায় সে। একদিকে তার শেয়ালবাহিনী আরেকদিকে আকুয়েমন ও তার বাচ্চাকে ছেড়ে যাবার শোক তার হৃদয়কে বিদীর্ণ করে দেয়।

lion-book-6

এই গল্পগুলো হয়ত অনেকেরই চেনা-জানা। কিন্তু এগুলোর এনিমে এডাপটেশনে অনেক কিছুই আপনি উপলদ্ধি করতে পারবেন যেটা হয়ত এমনি গল্পটি পড়ে আপনার মনে হয়নি। আবার অনেক কিছু আপনার কাছে ক্লিশে মনে হতে পারে। তবে ৬টা না দেখলেও Rain Boy, Lunn flies into the wind এবং Yamataro comes back, Akuemon -এই ৪টি পার্সোনালি রিকমেন্ড করব। যেহেতু এটা ‘৮০র এনিমে তাই এক্সপেকটেশন কম রাখাই ভাল। এখনকার ঝলমলে গ্রাফিক্সের সাথে তুলনা না করে দেখলেই মজা পাবেন। No one would watch this anyway.