Violet Evergarden [রিভিউ] — Loknath Dhar

I want to know what ‘I love you’ means.
– Violet Evergarden.
 
মানুষ – অদ্ভুত, জটিল একটা প্রাণী। সহজ, সরল আবেগগুলোকে কি জটিল করেই না উপস্থাপন করে! মাঝে মাঝে মনে হয়, সকল অসুন্দর আর সুন্দর -এর জন্ম এই সহজ আর জটিলতার মাঝে। আমার মনে পড়লো, একদিন ছোটভাইয়ের সাথে আমার রেগে যাওয়ার কথা, কোন একটা কারণে রেগে গিয়ে ফোনে বললাম, আবারও ফোন করলে তোর খবর আছে। রাতে আবিষ্কার করলাম, গাধাটায় সত্যি সত্যিই আর ফোন দেয় নি – ভয়ে হোক অথবা আমার কথা মেনে নিয়ে। অথচ আমি মানুষ, হয়তো ফোন দিয়ে ‘ভুল হয়ে গেছে’ বললেই কপট রাগে আমি বলতাম, হইছে, পড়তে যা। ফোনটা রেখে হয়তো একটু হেসে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম নিজের পৃথিবীতে। মানুষের শব্দই সবকিছু না। শব্দের বাইরেও বলার মত বিশাল পৃথিবী থাকে। মানুষ সবকিছু বুঝে উঠতে পারেও না। যেমন আমি, আমি বুঝি না পৃথিবীর অনেককিছুই। এই বিশাল, না বোঝার পৃথিবীতে আমার একলা একলা লাগে। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি, গল্পগুলো দেখি। মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামে, মাঝে মাঝে অসহ্য রোদ। ক্লান্ত বিকেলের পরে যে সন্ধ্যেগুলো বাতাস বয়ে নিয়ে আসে একটা ফিসফিসানি, একটু চোখ মেলে তাকানোর; তাতে সজোরে শ্বাস নিয়ে আমি বোঝার চেষ্টা করি, সমগ্র অস্তিত্বটাকে হাচড়ে পাঁচড়ে আঁকড়ে ধরে, বেঁচে থাকাটা আসলে কি? ঠিক যেমন, ভায়োলেটের যাত্রার মত, আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ কি?
 
 
অজস্র প্রশ্নে জর্জরিত পৃথিবীতে মানুষ সেই আদিকাল থেকেই খুঁজে বেড়াচ্ছে নিজের স্বত্তাকে অনুভব করার, বুঝে ওঠার; আমাদের অস্তিত্বের সাথেই, একেবারে পাশেই বসে থাকা প্রেম, এই ভালোবাসার অনুসন্ধান করে নি, এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর হতেও পারে। হয়তো বুঝে, হয়তো না বুঝে তবু সন্ধান করেছে সবাইই। তবুও, শব্দ সবকিছু বলে না, কথার বাইরেই কথা থাকে, থাকে আস্ত একটা পৃথিবী, ভালোবাসি তো মোটে ভাষার একটা শব্দ, একটা অনুভূতিকে নির্দেশ করে কিন্তু এই অনুভূতিটা কি? এই ছোট্ট শব্দটার বিস্তৃতি কতটুকু? এই শব্দটার সত্যিকারের অর্থ কি? প্রিয় ভায়োলেটের সাথে হাঁটতে হাঁটতে বিষণ্ণ, পরিচিত পৃথিবীতে ফিরে গিয়েছি অসাধারণ, অন্য পৃথিবী থেকে উঠে আসা সুরগুলোর সাথে, প্রিয় ভায়োলেট, তোমার উত্তর কি? একটা বিষণ্ণ কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর একটা হাসি!
 
হয়ত‌ো ওটাই ভালোবাসা?
ছোট্ট, বিষণ্ণ হাসি কত গল্প ধারণ করতে পারে, ভাবা আছে?
 
গল্পঃ বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি থেকে উঠে আসা গল্পের চরিত্র ভায়োলেট আবিষ্কার করে নতুন, একটা সম্পূর্ণ অপরিচিত পৃথিবী যেখানে সে আক্ষরিক অর্থেই একা। যুদ্ধে ভায়োলেট ছিলো খুনে একটা অস্ত্রের প্রতীক, যে শুধু খুন করতেই জানে, অন্য কোন অনুভূতির সাথে সে পরিচিত নয়। সে যুদ্ধের পৃথিবীতে তার একটাই মানুষ ছিলো, মেজর গিলবার্ট, যার অর্ডারে সে করতে পারতো না এমনকিছু নেই। যুদ্ধে মেজর গিলবার্ট মারা যাবার ঠিক আগে ভায়োলেটকে অর্ডার দিয়ে যায় বাঁচতে এবং, এবং, অনুভূতির এই জটিল, অপরিচিত পৃথিবীতে ভায়োলেটকে উপহার দিয়ে যায় তিনটি শব্দ, আমি তোমাকে ভালোবাসি।
 
আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ কি, ভায়োলেট?
 
আমি তোমাকে ভালোবাসি – এর অর্থ খুঁজতেই শুরু হয় ভায়োলেটের গল্প, যুদ্ধের পর যুদ্ধাবশেষের উপর গড়ে ওঠা নতুন একটা পৃথিবীতে। শুরু হয় এক ভ্রমণ, ভালোবাসার অর্থ খোঁজা যার মূল লক্ষ্য। অটো মেমোরি ডল হিসেবে জীবন শুুরু করে সে, যার কাজ হলো প্রিয়জনকে চিঠি লেখা। চিঠি লেখার মাধ্যমে মানুষের এই অসহ্যকর, অসহনীয় জটিল অথচ সহজ আর সুন্দর অনুভূতিকে তুলে আনা। সম্পূর্ণ অপরিচিত পৃথিবীতে ভায়োলেট তিনটি শব্দের অর্থ কি খুঁজে পাবে?
 
অনুভূতিকে বুঝতে হলে ছুঁতে হয় অন্যকে, আঙুলের, হাতের স্পর্শে নয় – খেয়াল করতে হয় মানুষটাকে; শব্দের সাথে সাথে খেয়াল করতে হয় চোখ, গলার কম্পন, হেঁটে চলে যাবার ভঙ্গি। শুনতে হয় তার গল্প, নিজেকে খুলে দিতে হয় তার কাছে, তার চোখ দিয়ে দেখা পৃথিবীটাকে গড়ে নিতে হয় নিজের ভেতর, তার জীবনের চরিত্রগুলোকে বুঝতে হয় তার চোখ দিয়ে, নিজের অনুভূতির অনেকটা অংশ বরাদ্দ দিতে হয় সেই পৃথিবীটার কাছে। মানুষ এমনই জটিল, এমনই সুন্দর!
 
ভালোবাসা কি শুধুই একটা শব্দ? বেঁচে থাকার কারণ, এগিয়ে যাবার কারণ, সুখ, দুঃখ, ব্যথা, হাসি, কান্নার কারণ – কত রহস্য ধারণ করে একট শব্দ? শব্দটা আসলে কি?
 
ভায়োলেটের উত্তর খুঁজে পাওয়ার সাথে সাথে উত্তর খুঁজে পাক সেই সকল মানুষ, যারা এই সুন্দর শব্দটার কাছে এসে বসেছে, বুঝতে চেয়েছে তার গতিপ্রকৃতি। উত্তর হোক যার যার নিজের মত, যতটা সুন্দর মানুষ হয়।
 
অসাধারণ এনিমেশন, চমৎকার গল্প (একটু ধীরগতির), চমৎকার সাউন্ডট্র্যাক আর অজস্র ব্যথা আর কান্নায় মোড়ানো এবং প্রবল বৃষ্টির পর দিনশেষে মেঘের আড়াল হতে বেরিয়ে আসা মিষ্টি রোদের মতন ছোট্ট একটু হাসি – এটা হচ্ছে আনিমে, ভায়োলেট এভারগার্ডেন।
 
সাজেশনঃ ভায়োলেট এভারগার্ডেনে অবর্ণনীয় একটা সৌন্দর্য আঁকা হইছে পুরোটা গল্প জুড়ে, যা বুঝতে হলে দেখতে হবে, বুঝিয়ে বলার কোন ভাষা নাই। আমার কাছে, ভায়োলেট এভারগার্ডেন একটা ক্লাস। এস্থেটিক কিছু একটা।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime : Violet Evergarden
  • Type : Series
  • Genre : Slice of life, Drama, Fantasy
  • Studio : Kyoto animation
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০
 
(বিঃদ্রঃ -০১: আনিমের ভেতর প্রিয় অনেক কথা আছে, অনেক দৃশ্যের ব্যক্তিগত গল্প আছে। বলতে গেলেই স্পয়লার হয়ে যাবে। সামলে রাখা পুরোটাই। দেখতে দেখতে উপলব্ধি হোক। উপলব্ধিতে ছুঁইতে পারলে পৃথিবী আরও সুন্দর হোক। এই আনিমের স্পয়লার দেয়া মারাত্মক অপরাধ। কারণ, অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড়ানো হোক নিজ থেকেই। চোখ জুড়ে কান্না আসুক, ঠোঁটে আসুক মিষ্টি একটু হাসি।
 
বিঃদ্রঃ -০২: কথাটা ইউটিউবের কমেন্ট থেকে পাওয়া; যারা আনিমেটা দেখেছেন, তারা কি উপলব্ধি করেছেন, শুরুর গানটা ভায়োলেটের, মেজর গিলবার্টের প্রতি?)

Ride Your Wave [মুভি রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

ইচ্ছেপূরণ বা wish-fulfillment একটা ইতিবাচক জিনিস হিসেবেই বিবেচিত আমাদের কাছে। দিনশেষে সবকিছু ভালভাবে মিটে গেলেই আমরা খুশী, মিটে না গেলেও সবকিছু মিটে যাওয়ার সুখস্বপ্ন নিয়ে থাকতে আমরা ভালোবাসি। কিন্তু লেবু বেশী চিপলে যেমন তিতে হয়ে যায় তেমনি অতিরিক্ত উইশ-ফুলফিলমেন্ট বাস্তবতাকে ততোধিক বিকৃত করে ফেলে। এনিমে ইন্ডাস্ট্রির একটা বড় আকারের কাজ এই দোষে দুষ্ট। তারপরেও এনিমে ইন্ডাস্ট্রিতে এ ধরণের গল্পের চাহিদা প্রচুর। প্রথমেই সমালোচনা করছি মানে এ নয় যে আমি এ ঘরানার গল্প নিতান্তই অপছন্দ করি। Clannad এই বৈশিষ্ট্যের পরাকাষ্ঠা হওয়ার পরেও আমার সেরা দশ এনিমের তালিকায় অনায়াসে জায়গা করে নেয়।

তবে Ride Your Wave নিয়ে শুরুতেই কেন আমার এত নেতিবাচক ভূমিকা! দোষটা আসলে সরাসরি এনিমে মুভিটার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া যায় না। দোষ দিলে দিতে হবে আমার এক্সপেক্টেশনকে! মাসায়াকি ইউয়াসা আর Science Saru এর কাছ থেকে আমার প্রত্যাশা বরাবরই প্রবল থাকে। ইউয়াসার কাজকে ক্ষুদ্র পরিসরে মাপা দুরূহ কাজ। সংক্ষেপে বলতে গেলে তার কাজের ব্রিলিয়ান্সটা লুকিয়ে আছে অদ্ভুতুড়ে জিনিস উপহার দেয়ার মধ্যে। জাদুবাস্তবতাও তার কাজের আরেকটা বড় উপাদান। এহেন ইউয়াসা যখন দু-বছর পরে (The Night is Short, Walk on Girl এর মুক্তির পর) এমন generic একটা মুভি বানিয়ে ফেলেন তখন নেতিবাচক পোস্ট দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

Ride Your Wave মুভিটা যাবতীয় জেনেরিক দোষে দুষ্ট। ঘটনাক্রমে নায়ক-নায়িকার দেখা হয়ে গেল, তারপর তারা কিছু সময় কাটানোর পর কাছাকাছি হওয়া শুরু করলো, একে-অপরের অনুপ্রেরণা হিসেবে আবির্ভূত হল; এরকম কয়েকটা কমন থিম নিয়েই মুভির শুরুটা। তাও প্রথম ত্রিশ মিনিট আমি মুভিটাকে কিছুটা মাফ করে দিতাম কারণ নায়ক-নায়িকার মিষ্টি মিষ্টি সময় কাটানোটা ভালই লাগছিল। চরম ইউটোপিয়ান একটা পরিবেশে তখন দুজনে বাঁধা পড়ে, বল্গাহীন ভাবে তারা জীবনকে যৌবনের নিরীখে উপভোগ করছিল। একটা ভাল দিক ছিলো, মিনাতো আর হিনাকো দুজনেই ছিল হাইস্কুল পেরোনো মানুষ, তাই তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো ছিল সাধারণ এনিমের চেয়ে বেশী সাহসী। এখানে উইশ-ফুলফিলমেন্ট থেরাপি কাজ করছিল আমার উপর। দৈনন্দিন জীবনের যাঁতাকলে নিত্য পিষ্ট আমার কাছে দুই তরুণ-তরুণীর আগলছাড়া রোমান্টিসিজম ভাল লাগবে অবশ্যই।

ভাল না লাগার মাত্রাটা বাড়ে যখন গল্পের তাগিদে মিনাতো মারা যায়। মৃত্যূটা বীরোচিত ছিল তবে নিঃসন্দেহে বলা যায় কোন গভীরতা বহন করছিল না। ২০১৮ সালে বের হওয়া I wanna eat your pancreas মুভিতেও একই ঘটনা ঘটতে দেখেছি। এরপরেও ভেবেছিলাম মুভিটা সম্ভবত প্রিয় মানুষ হারানোর বেদনার উপর আলোকপাত করবে হিনাকোর দৃষ্টিকোণ থেকে। তাও হলো না! আকাশ থেকে আনা হলো সুপারন্যাচারাল ম্যাটেরিয়াল, আমাকে পুরো বোকা বানিয়ে মুভিটা দেখালো যে পানির মধ্যে মিনাতোর অস্তিত্ব নিতান্ত হিনাকোর হ্যালুসিনেশন নয় বরং বাস্তব! তারপর আবার ‘দেখা পেয়েও ছোঁয়া হলো না’ ঘরানার জেনেরিক জিনিসের আমদানী। অথচ বোকা আমি Shape of Water এর গন্ধ খোঁজার চেষ্টা করছিলাম তখন ফিল্মে! (অট্টহাসির আওয়াজ হবে)
শেষমেষ ফিল্মটা আমাকে শতভাগ বেকুব আর হতাশ বানিয়ে হিনাকোর সিঙ্গেল থাকা দেখিয়ে শেষ হলো।

তারমানে এমন না যে মুভিটাতে ভাল কোন উপাদান নেই। অ্যানিমেশন মনকাড়া, সার্ফিংয়ের জায়গাগুলা অপূর্ব। ইউয়াসার ট্রেডমার্ক ফ্লুইড অ্যানিমেশন আছে জায়গায় জায়গায়। ক্যারেকটার ডিজাইন সুন্দর, রোমান্টিক জায়গাগুলোতে হিনাকো আর মিনাতোকে খুবই সুন্দর লাগছিল। কিন্তু ঐযে style over substance বলে একটা কথা আছে না, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এই মুভিটা। আর ওএসটির কথা বলতে গেলে আরেক নাটকের অবতারণা করতে হয়! পুরো মুভিতে একটা মাত্র গান বারবার ব্যবহার করা হয়েছে যে জিনিসটা আমার কাছে পরে বিষপানের মত মনে হচ্ছিল। এমন বলবো না যে Generations from Exile Tribe এর গাওয়া ‘Brand New Story’ গানটা খারাপ, বরংচ বেশ ভাল একটা গানই এটা নিজ জনরার মনে করি। তবে বারবার একই গান ব্যবহার করাটা খুব বাজে লাগছিল, কেন একই গ্রুপকে দিয়েই আরো দু-তিনটা গান গাইয়ে মুভিতে ব্যবহার করা হলো না তা এখনও বোধগম্য হলো না। এই প্রথমবারের মত ইউয়াসা আমাকে পুরোপুরি হতাশ করতে সমর্থ হলেন!

সারাংশ:
সাধারণ মুভি হিসেবে উপভোগ্য
মাসায়াকি ইউয়াসা মুভি হিসেবে চরম হতাশাজনক

I Want to Eat Your Pancreas [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

যদি আপনাকে বলা হয়, আপনি আর দুই কি তিনমাস বেঁচে থাকবেন এই পৃথিবীতে, আপনি তখন কী করবেন? ঘরে বসে থেকে অজস্র চিন্তায় সময় নষ্ট করবেন নাকি আরও চমৎকার বেঁচে থাকার চেষ্টা করবেন, ঘর থেকে বেরিয়ে পড়বেন ক্ষুদ্র জীবনের ছোট্ট বাকেটলিস্টটার কিছু ইচ্ছে পূরণ করতে? ওয়েল, আমার মত অনেকেই দ্বিতীয় অপশনটা খপ করে ধরে নিবে। কিন্তু ধরেবেঁধে নিয়ম দিলেই আপনার কেন সেই ইচ্ছেটা পূরণ করতে হবে? আপনি তো আগামীকালও মারা যেতে পারেন ঘর বসে থেকেই, কিছু জেনে বুঝে ওঠার আগেই। তাহলে প্রতিদিন যে চমৎকার বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন না, নিজের ছোট্ট বাকেটলিস্টটার প্রতিটি অপশনে টিক দিচ্ছেন না, this was a life worth living কথাটা ভাবার আগেই যদি হারিয়ে ফেলেন সমস্ত অস্তিত্ব, তখন কেমন হবে? এখন, যদি উত্তর হয়, কারণ সাধারণ জীবনে আমাদের কিছু দায়িত্ব থাকে, সময় ও সুযোগ হয়ে উঠবে না অনেক ক্ষেত্রেই, দুইয়ে দুইয়ে চার হয় না, তাহলে বলুন, দুটি মৃত্যুর ভেতরে আসলে পার্থক্য কি খুব বেশি? জন্মিলে মরিতে হয় – এর চেয়ে সত্য যেমন নাই, তাহলে মৃত্যুটা নিশ্চয়তার জালে আটকা পড়ে গেছে অনেক আগেই; বেঁচে থাকার লিমিটটা জানা যদি হয়েও যায়, তবুও কেন তাকে আলাদা চোখে দেখতে হবে? আগামীকাল আপনি মারা যাবেন সম্ভাবনার সাথে এটা সত্য এই যে, একদিন না একদিন আপনি মারা যাবেনই; তাহলে দুই কি তিনমাস পরে যে মৃত্যুটাকে বরণ করতে যাচ্ছে, তার সাথে আপনার তো তেমন পার্থক্য নেই। তার জন্য মন খারাপ না করে, তাকে করুণার চোখে না দেখে বরং তার সাথে জীবনটাকে, নিজের সময়টাকে একটু মিলিয়ে নিজের স্বাভাবিক জীবনের মত তার জীবনকে স্বাভাবিক উপহার দিলে যে সৌন্দর্যের রচনা হয়, সে সৌন্দর্যের মতন সৌন্দর্য কমই আছে পৃথিবীতে, অনুভব করতে পারেন?
 
এমন অদ্ভুত নামের মুভিটাতে এই চিন্তার দেখা মিলেছে এবং মুভিটা সত্যিকার অর্থেই জানতে চেয়েছে, তার গল্পের মাঝে, আপনার কাছে, প্রিয় দর্শক, বেঁচে থাকাটা আপনার কাছে কি?
 
এবং মুভির উত্তরটা পেতে হলে আপনাকে নিজেরই দেখতে হবে।
 
 
প্যানক্রিয়াস নামের সাথে যদি পরিচয় না থাকে, অদ্ভুত নামটা দেখে ভাববেন না, হাতে তৈরি মিষ্টি, লোভনীয় কোনো খাবার, সাধারণ অর্থে প্যানক্রিয়া হইলো মানুষের দেহের পাচকতন্ত্রের একটা অঙ্গ, যা খাবার হজমে সহায়তা করে এবং মানুষকে তার দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতাকে চালু রাখার জন্য শক্তি প্রদান করে (ডাক্তারদের হাই!)। ওয়েট ওয়েট, এইটা ক্যানিবালিজম নিয়ে কোনো মুভিও না, মুভিতে শুধু একটুখানি প্যানক্রিয়া খাওয়ার ইচ্ছেই প্রকাশ করছে কারণ জাপানিজ এক প্রবাদ বা বিশ্বাস অনুযায়ী, আপনার কোনো দেহের কোনো অংশে যদি কোনো সমস্যা থাকে এবং প্রিয়জনের সেই অংশটা যদি আপনি খান, তাহলে আপনার সেই বডি পার্টটা সুস্থ হয়ে যাবে।
 
সাকুরা, গল্পের মূল চরিত্র প্যানক্রিয়াটিক ডিজিজে ভুগছে এবং শ্রীঘ্রই সে মারা যাবে। তারই ক্লাসের নামহীন এক ক্লাসমেইট হাসপাতালে একদিন তার ডায়রি আবিষ্কার করে এবং ডায়রিতে চোখ বুলিয়ে সে জানতে পারে, কিছুদিন পরেই সাকুরা মারা যাচ্ছে। সাকুরার কাছে জানতে পারে, ক্লাসের একমাত্র সেই জানলো এই তথ্যটা এবং ক্লাসমেইট বি লাইক, হু কেয়ারস। চললাম।
 
জীবন তাদের কাছে কি, বেঁচে থাকাটা কি সেটাই গল্পে উঠে এসেছে একদম শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত।
আই মিন, মার্ভেল ইউনিভার্সের মত ক্রেডিটের শেষেও গল্প রাখা আছে। দেখিয়েন।
 
মুভিটা প্রেডিক্টেবল। মুভির ডিরেক্টরও জানতেন, তাই শুরুতেই তিনি স্পয়লার খাইয়ে দিয়েছেন, লেখা পড়ে সেটাও আপনি বুঝতে পারছেন সহজেই। এই ধরনের মুভিতে উঠে আসার কথা যে যে বিষয়গুলো – কমবেশি সবই উঠে এসেছে এবং আপনি যদি ভাবেন, প্রেডিক্টেবল মুভিটা দেখে লাভ কি – ওয়েল, প্রেডিক্টেবল, তবুও সুন্দর। অনেক সুন্দর! এক্সট্রোভার্ট আর ইন্ট্রোভার্ট দুই প্রোটাগনিস্ট জীবনকে কিভাবে নিচ্ছে, নিতে যাচ্ছে – দেখতে দেখতে মন খারাপ হয়তো হবে আবার ভালোও লাগবে ভীষণ। মানুষ হিসেবে আমরা অন্য মানুষের কাছে কি চাই? সুন্দর কিছু স্মৃতি? হ্যাঁ, আর বুকের গভীরে কোথাও লুকিয়ে থাকা ছোট্ট একটা ইচ্ছে, আমাকে একটু মনে রাখুক।
 
আপনি কেন বাঁচবেন জানেন? কারণ, আপনি মারা যাওয়ার সাথে সাথেই আপনাকে ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষগুলোর স্মৃতি আপনার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যাবে। আর এই স্মৃতিগুলো ইউনিক কারণ মানুষ হিসেবে আপনি নিজেই ইউনিক, আপনার মতন মানুষ পৃথিবীতে আর একটাও নাই, আপনার চোখ দিয়ে দেখা সেই মানুষগুলোর ছবি আর কারো চোখে দেখা নাই। তাই হয়তো মানুষ বাঁচে, তাই হয়তো বাঁচতে হয়। আনিমের কিছু শক্ত ভিত্তির ভেতর এই অনুভূতিটা অন্যতম একটা উপাদান এবং এই মুভিতেও এই ভাইভটা উঠে এসেছে শক্তভাবেই।
 
চমৎকার এনিমেশনের সাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সাথে, নরম, আরামদায়ক অথচ ব্যথাতুর উপস্থাপনার প্রেডিক্টেবল এই মুভিটা দেখা শেষ করে একটু ব্যথাই লেগেছে – প্রিয় মানুষগুলো চলে গেলেও ব্যথা বুকে নিয়ে মুখে হাসি রেখে বেঁচে থাকা জীবনটা এত সুন্দর, এত সুন্দর! সেই সৌন্দর্যটা অনুভব করে নিতে হয় কিন্তু চোখে দেখা যায় না কেন? এত অদ্ভুত সৌন্দর্যের কোনো মানে হয়?
 
সাজেশনঃ আবারও বলছি, প্রেডিক্টেবল মুভি। কিন্তু দেখে আশা করি মনে হবে না, সময় নষ্ট করেছি।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime : I want to eat your pancreas.
  • Type : Movie
  • Genre : Drama
  • Director : Shin’ichirō Ushijima
  • Studio : Studio VLON
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Weathering with You [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

আনিমের এই জগতে আমার পা রাখাই মাকাতো শিনকাই -এর হাত ধরে এবং অবশ্যই সেই আনিমের নাম ছিলোঃ Your name. এরপর আর পেছন ফিরে তাকানো হয় নি, একের পর এক আনিমে দেখছি, মাকাতো শিনকাই-এর কাজগুলোকে আনিমে ইউনিভার্সের অভিজাত এলাকার সদস্য বলে দাবি করতে করতে তার মুভিগুলো দেখেছি। এবং তিনি আবারো ফিরে এলেন তার মুভি Weathering with You দিয়ে; এই রিভিউটি মাকাতো শিনকাই, মুভির ভালো এবং খারাপ এবং আমার কিছু ব্যক্তিগত ভাবনা মিলিয়েই।
 
 
গল্পঃ হোদাকা ঘর পালানো ষোল বছরের একজন কিশোর যে টোকিওতে এসেছে অন্য এক জীবনের আশায়। জাপানের ব্যস্ততম শহর টোকিও তার কাছে বিভীষিকাময় লাগে কেননা টোকিও এবং এর বাইরের অঞ্চল যেন দুটো দুই পৃথিবী (উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা নতুন কোন মানুষের প্রথম ঢাকা দর্শনের অনুভূতির মতন); তবু টোকিওর পথে দিন পার করতে করতে তার পরিচয় হয় আঠারো বছরের হিনা নামের এক মেয়ের সাথে এবং সে আবিষ্কার করে, হিনা আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ঠিক একই সময়ে টোকিওতে প্রচুর ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে, টোকিওর ব্যবসায়িক অবস্থা পরিবেশের এই খারাপ অবস্থার জন্য নিম্নগামী। হোদাকা হিনাকে “সানশাইন গার্ল” হিসেবে ব্যবসা শুরু করতে বলে যে টাকার বিনিময়ে মানুষের প্রয়োজন অনুসারে আবহাওয়া পরিবর্তন করে মানুষকে সাহায্য করবে।
 

স্পয়লার এলার্ট

(ইওর নেম দেখেছেন, ভালো লেগেছে এবং এটা দেখেন নি – এমন হলে স্পয়লার না পড়াই শ্রেয়)
 
মাকাতো শিনকাই ইজ ব্যাক উইথ হিজ সিগনেচার স্টাইল – স্টোরি টেলিং এবং আর্ট।
 
একটা বড় প্রবলেম বলি, ইওর নেইম খুব বড় একটা ঝড় তুলে দিয়েছিলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড; ওয়েদারিং উইথ ইউ স্ট্যান্ড এলোন আনিমে হিসেবে চমৎকার কিন্তু একই ডিরেক্টরের দুটো মুভির উপস্থাপনের এনভায়রনমেন্ট স্টাইলটা একই হওয়ায় রিভিউগুলোতে খুব ভুগতে পারে। কেননা, আমি মুভি দেখার সময় বারবারই ফিরে ফিরে ইওর নেইমের কথা মনে পড়ছিলো। এবং (গভীর স্পয়লার এলার্ট), ইওর নেইমকে মনে পড়তে বাধ্য করে ছাড়লোও।
 
ওয়েদারিং উইথ ইউ এর পৃথিবী আলাদা। অন্যরকম। ব্যস্ত টোকিও শহরের অলিগলি উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউ -এর সাথে। শহরের সৌন্দর্যের পরিবর্তে শহরের স্বাভাবিক জীবনের ছুটে চলা সময়টা উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউতে যেটা ইওর নেইম থেকে একেবারেই আলাদা। মাঙ্গা ক্যাফে, শহরের কুৎসিত জায়গা, অসহ্যকর আবহাওয়া, অসম্ভব মনে হতে থাকা শহরের জীবনধারণ প্রক্রিয়া, মাফিয়া, ড্যাম কেয়ার মানুষজন – যেগুলো সাধারণ সৌন্দর্যের কথা বলে না, সেগুলোই উঠে এসেছে ওয়েদারিং উইথ ইউতে। তার অন্যান্য মুভির মত চকচকে, ঝকঝকে টোকিও শহরটা নেই, সাদামাটা একটা শহরে রঙিন দুটো প্রজাপতির মত কিশোর কিশোরীর একে অন্যকে আঁকড়ে ধরে বেড়ে ওঠার গল্পটা হয়তো ইওর নেইমের অসাধারণ উপস্থাপনার কাছে মিইয়ে এসেছে বলে মনে হবে প্রচুর দর্শকের কাছেই। কিন্তু আমার কাছে এর আবেদন একেবারেই অন্যরকম, একেবারেই আলাদা! টোকিওর আনাচে কানাচে সারভাইভ করতে করতে যে প্রেম গড়ে ওঠে, রূপ নেয় পরিবারে অথবা যায় ঝরে; মাকাতো শিনকাই এবারে সেই পৃথিবীর প্রেমটাকেই তুলে এনেছে ওয়েদারিং উইথ ইউ এর গল্পে, আরও বিশুদ্ধ রকম করে। যে প্রেমের ভেতর হয়তো অন্য কোন কিছুর স্থান নেই।
 
শিনকাই -এর মুভিগুলো দেখে আমার ভেতর একপ্রকার বিষণ্ণতা কাজ করে। আমার ভেতর একপ্রকার ব্যথাও করে। কারণ, শিনকাই তার প্রতিটি মুভিতে কেবল দূরত্ব তুলে ধরে। দুটো মানুষ যেন দুই পৃথিবীর, যারা একটু কাছে আসতে চায়, বসতে চায় মুখোমুখি, হয়তো বলতে চায় অগোছালো দু তিনটে কথা কিন্তু তাদের মাঝে কি বিশাল দূরত্ব! এই দূরত্ব কি করে পাড়ি দিয়ে কাছে এসে একবার বসা যাবে? আমার এ ভাবলে অদ্ভুত এক ব্যথা হয় যেন শিনকাই যে জীবনের কথা বলতে চায় তার দৃষ্টিকোণ থেকে, সে জীবনের অদৃশ্য দূরত্ব যেন ব্যক্তিগত জীবনে আমিও অনুভব করতে পারি, কোথাও কিছু একটা থাকার দরকার ছিলো। দ্য প্রমিজ ইন আওয়ার আরলি ডেইজ, ফাইভ সেন্টিমিটার পার সেকেন্ড, দ্যা গার্ডেন অব ওয়ার্ডস, ইওর নেইম এমনকি ওয়েদারিং উইথ ইউতেও এই দূরত্বের অনুভূতি টের পাওয়া যায়, দুটো মানুষের ভেতর কিন্তু ওয়েদারিং উইথ ইউতে এর গন্ধটা অন্যরকম। একেবারেই অন্যরকম।
 
তার অন্যান্য কাজের থেকে একটু আলাদা এই মুভিকে অনুভব করতে হলে হয়তো ভাবতে হতে পারে টোকিওর ছুটে চলা দিনগুলোর কথা, হয়তো ভাবতে হতে পারে আমাদেরই ঢাকা, আমাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং আমারই মত সারভাইভ করতে থাকা এই শহরের অচেনা কোনো প্রেমিকা। একদিন দেখা হলে বলে দেওয়া যেতে পারে, the world has always been crazy, it’s no one’s fault that it’s like this. I’m sure that I’ll be alright, we’ll be alright here, in this world.
 
যে প্রেমের কথা শিনকাই বলে গেলো ওয়েদারিং উইথ ইউতে সেটা কান্নার রংয়ে আঁকা, ব্যথার মতন সুন্দর। যে প্রেম শুধু মানুষটাকে চায় এই ব্যস্ততম শহরে, ব্যান্ড রডউইম্পসের সাথে বরাবরের মতই জীবন্ত হয়ে ফিরে এসেছে, বলতে চেয়েছে অনুভূতিটার কথা, দর্শক হয়তো খুব গোপন করে একসময় লালন করেছিলো সেই অনুভূতি।
 
অবশ্যই মুভিতে প্লটহোল আছে, ফ্যান্টাসি জনরার উপাদান আছে, স্টোরি এডভান্স হওয়ার কিছু জায়গা দুর্বল মনে হয়েছে বেশ কিন্তু যে গল্প আমি শুনতে চেয়েছি, বুঝতে চেয়েছি সে গল্পটা আমাকে টান দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে এসেছে সেসব জায়গা হতে। আমাকে বলতে চেয়েছে শিনকাই ইউনিভার্সের কথা, পরিচয় করিয়ে দিয়েছে তার পৃথিবীর সাথে। আর মেজর স্পয়লারটা এখানেই, ইওর নেইমের তাকি আর মিতসুহার দেখা পাওয়া (মিতসুহার মত রূপবতী আর কেউ নাই।
 
মুভিটা শেষ করে আমি ভাবছি, অবশ্যই আরও দশজন দর্শকের মত করে ভাবছি, দুটো গল্পের পৃথিবী একই। দুটো গল্প না শুধু, যেমন দ্য গার্ডেন অব ওয়ার্ডসের ইউকিনোকেও দেখা গিয়েছিলো ইওর নেইমে, বলা যায় তিনটে গল্পের পৃথিবী একটাই। শিনকাই পৃথিবী, যে পৃথিবীতে শিনকাই বাস করেন, শিনকাই বেঁচে আছেন এবং শিনকাই এর সমাপ্তির সাথে সাথেই পৃথিবীটা শেষ হয়ে যাবে। শিনকাই যেন বলতে চাইছেন, একই পৃথিবীতে সুখ দুঃখ হাসি কান্নার কথা, আমাদের ব্যক্তিগত পৃথিবী আলাদা এবং সবাই ঘুরেফিরে একে অন্যের সাথে কানেক্টেড। আমার মনে হলো, শিনকাই নিজেও চাচ্ছেন, তার চরিত্রগুলোর পৃথিবীতে, তার পৃথিবীতে তার নিজেকে লুকিয়ে রাখতে। অবশ্য এসবই আমার ব্যক্তিগত ভাবনা কিন্তু আমার মনে হলো, একই পৃথিবীকে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের চোখ দিয়ে উপস্থাপন করতে চাইছেন তিনি, কারণ রিয়ালিটিতে আমাদের দেখার দৃষ্টিকোণ আলাদা। আপনি যে চোখে ঢাকাকে দেখেন, যে ভাবনায় ভাবেন, সেভাবে আমি অবশ্যই দেখি এবং ভাবি না এবং শিনকাই তার পৃথিবীকে চেনার জন্য তুলে ধরছেন ভিন্ন ভিন্ন মানুষের চোখে। আমার মনে হয়, সামনেও তিনি একই কাজ করবেন এবং অন্য কারো চোখে তুলে ধরবেন শিনকাই-পৃথিবীকে কিন্তু তখনো মিতসুহা সবচেয়ে রূপবতী তরুণীই থাকবে আমার কাছে। আই লাভ মিতসুহা। মুভিতে ওকে দেখার পর পজ করে অনেকক্ষন দেখে নিয়েছিলাম মিতসুহাকে।
 
সাজেশনঃ ইওর নেইম থেকে ভালো হবে না খারাপ হবে ভাবা ছেড়ে দিয়ে উপভোগ করুন অন্যরকম টোকিওকে যদিও, ইয়ে মানে মিতসুহাই তখনো সেরা রূপবতী থাকবে, এটা না মানলে চলবে না।
 
সংক্ষেপেঃ
  • Anime: Weathering with You
  • Type: Movie
  • Genre: Slice of life, romance, fantasy
  • Director: Makoto Shinkai
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Yahari Ore no Seishun Love Comedy wa Machigatteiru [রিভিউ] — Loknath Dhar

এত বড় নাম পড়তে পড়তে কাহিল; যদিও পরে ছোট করে আরেকটা নাম জানতে পারলাম, Oregairu. এমনিতে অত বড় জাপানিজ নামের অর্থ হচ্ছে My Youth Romantic Comedy Is Wrong, As I Expected. নাম শুনে যদিও রোমান্টিক জনরার টিপিক্যাল আরেকটা আনিমে হতে পারে বলে মনে হচ্ছে, হচ্ছিল; ওরেগাইরু তার এক্সপেক্টেশন ছাড়িয়ে গিয়েছে।
 
গল্পঃ হাচিম্যান হিকিগায়া একজন টুইস্টেড কিশোর যার কাছে অন্যান্য সাধারণ কিশোরের এই বয়সটার চিত্র, তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। হাচিম্যানের কাছে তার আশেপাশের সমস্ত সম্পর্কই হাস্যকর, বলা চলে মিথ্যে প্রহসনের মত লাগে। স্কুলে তার কাউন্সেলর তার চিন্তা-ভাবনার সাথে পরিচিত হয় এবং তাকে জোর করে একটা ক্লাবে যোগ দেওয়ায় – সার্ভিস ক্লাব। সার্ভিস ক্লাবের কার্যক্রম হলো একটাই – অন্য শিক্ষার্থী অথবা ক্লাবকে সাহায্য প্রদান করা। সে যোগ দেবার পর সার্ভিস ক্লাবের মেম্বার একজন থেকে দুইজন হয়। প্রথম মেম্বার ছিলো ইউকিনো – মেধাবী, সুন্দরী ছাত্রী যার পার্সোনালিটি বরফ ঠান্ডা। সার্ভিস ক্লাবে যোগ দেবার পর থেকে তাদের কাছে আসা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বের করতে করতে পুরো সিরিজটির গল্প এগিয়ে যায়।
 
ওয়েল, গল্পটা আসলে ঠিক এরকমই।
 
 
আনিমেটা মোটামুটি হিকিগায়ার দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা। আশেপাশের সম্পর্ক, সমাজ এবং এসবের প্রতি তার চিন্তাভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গির কথাই মোটামুটি মূল ছিলো পুরো সিরিজটিতে। সার্ভিস ক্লাবের প্রথম মেম্বার ইউকিনোও তার আশেপাশের সমাজ, সম্পর্ক নিয়ে ভাবনা রাখে এবং সার্ভিস ক্লাবের কাছে আসা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে তাদের ভাবনা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। ক্যারেক্টার হিসেবে দুজনই বন্ধুহীন টাইপ কিন্তু হিকিগায়া নেগেটিভ দৃষ্টিকোণ লালন করে এবং তার সমাধান প্রায় সময়েই সেলফ ডেস্ট্রাক্ট টাইপের। এইরকম আচরণ বহু সময়েই ভুল উদাহরণের সৃষ্টি করে এবং তেমনটাই হয়েছে হিকিগায়ার জীবনে, স্কুলে মোটামুটি কেউই তাকে পছন্দ করে না। অন্যদিকে ইউকিনোর ঠান্ডা স্বভাবের সরাসরি কথা বলার অভ্যাসেও আঘাত পায় অনেকেই, সাথে যোগ হয়েছে পারফেক্ট স্টুডেন্ট হবার তকমা গায়ে লাগার দরুণ অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া হিংসা। এবং ক্লাবের তৃতীয় মেম্বার হিসেবে ইউই যোগ দেয় পরেই, স্বভাব ও পরিবেশের বিচারে এ দুজনের একেবারেই বিপরীত।
 
Oregairu এর সবচেয়ে দুর্দান্ত ফিচার হলো, ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট। শুধু লিড ক্যারেক্টারই নয়, গল্প এগোনোর সাথে সাথে সাপোর্টিং ক্যারেক্টারগুলোর ডেভেলপমেন্ট প্রচন্ড উপভোগ্য লেগেছে আমার কাছে! আনিমের গল্প এগোনোর সাথে সাথে কোনো চরিত্রই পিছিয়ে পড়ে নি, বরং সমানতালে ডেভেলপমেন্টের সাথে সাথে ভারসাম্য বজায় রেখেছে প্রতিটা ক্যারেক্টারই – আমার কাছে প্রচন্ড উপভোগ্য ছিলো ওরেগাইরু!
 
টিপিক্যাল আনিমের মতন না, পুরোটা সিরিজ জুড়েই আলাদা একটা ভাইভ দিয়েছে ওরেগাইরু। মেইন ক্যারেক্টার হিকিগায়ার পার্সোনালিটি, চিন্তা ভাবনা প্রকাশের ভঙ্গি এবং আশেপাশের সম্পর্কগুলোর দিকে তার এপ্রোচ – উপভোগ্য লেগেছে আমার কাছে! কমেডি হিসেবেও আনিমেটা চমৎকার, জোর করে সিচুয়েশন তৈরি করে হাসানো নয় বরং সাধারণ জীবন মেইন্টেইন করতে করতে গল্পের প্রয়োজনেই মোমেন্টগুলো তৈরি হয় এবং সেই মোমেন্টে তুলে ধরা ইমোশনাল অথবা কমেডি অথবা ভাবনার উপস্থাপনা – আমার কাছে দুর্দান্ত লেগেছে!
 
ওরেগাইরুর একটা উল্লেখ্য বিষয় হলো, বেশিরভাগ আনিমেতে নিজের ভাবনা, এক্সপ্রেশন গোপন রেখে তার গল্প এগিয়ে যায়, ভেতরকার মনোলগগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিরক্ত লাগে, অনেক ক্ষেত্রে খাপছাড়া আর অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। ওরেগাইরু ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের অগ্রগতির কারণেই নাকি এর প্রতি আমার দৃষ্টিকোণ শুরু থেকেই আলাদা হবার কারণে নাকি সত্যিকার অর্থেই – ইনার মনোলগগুলো বিরক্তিকর মনে হয় নি একটুও এবং কিছুক্ষেত্রে নিজের চিন্তাভাবনাকে লুকিয়ে রাখা বেড়ে ওঠা একজন কিশোরের স্বাভাবিক কাজ বলেই মনে হয়েছে যার জন্য আনিমের আবেদনটা আমার কাছে বেড়ে গিয়েছে আরও!
 
আনিমের আর্ট, ক্যারেক্টার ডিজাইন ভালো এবং উপভোগ্য। একইসাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।
 
মোটামুটি বলা চলে, আনিমের নাম অনুযায়ী এটা টিপিক্যাল রমকম আনিমে তো নয়ই বরং কাহিনী এগোবার ভঙ্গি অনুযায়ী রোমান্স আনিমের ছোট্ট একটা পার্ট বলে মনে হয়েছে শুরুর দিকে, যদিও পরে সেদিকেই এগিয়ে গিয়েছে গল্পটা। এবং অবশ্যই, গল্পটা সেদিকে এগিয়ে গেলেও প্রচন্ড উপভোগ্য এই ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ক্রমাগত হয়ে যাবার জন্য।
 
সাজেশনঃ মাস্ট ওয়াচ।
দুই সিজন+দুই OVA+তৃতীয় সিজন আসছে এই ২০২০ -এই।
(খুব সম্ভত তৃতীয় সিজনই ফাইনাল সিজন)
 
সংক্ষেপেঃ
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০

Weathering with You [মুভি রিভিউ] — Nazmus Sakib

মুভির নাম – Tenki no Ko (Weathering with You)
ডিরেক্টর + স্ক্রিপ্ট + ক্রিয়েটর – মাকোতো শিনকাই
ম্যাল রেটিং – ৮.৫৮
ব্যক্তিগত রেটিং – ৭

মোটামুটি ভাল জিনিস। খারাপ না। মোটের উপর বেশ এঞ্জয়েবল।

গল্পঃ ৬

রোমান্স মুভি হিসেবে বেশ ভাল। উনার এর আগে করা কিছু ফ্যান্টাসি রোমান্সের তুলনায় এইটাতে ফ্যান্টাসি এলিমেন্টটা অতটা বেখাপ্পা লাগে নি। কিন্তু বড় বড় ত্রুটিগুলো এখানেও রয়ে গিয়েছে। যেমনঃ ট্রোপের ব্যবহার (পিতামাতার অনুপস্থিতি, Onee-san ক্যারার উপস্থিতি, পিতা-কন্যা বা ভাইবোনের হৃদয়বিদারক(?!) গল্প) আর সস্তা প্লট ডিভাইস (বন্দুকটা ছাড়াও গল্প এগুনোর জন্য আরও কিছু কাকতালীয় ঘটনা)।

চরিত্রায়ণঃ ৮

এই দিকটা বেশ ভাল লাগল। গল্পের মূল দুই চরিত্র ওদের বয়স অনুযায়ী আচরণ করেছে আর ওদের রক্তমাংসের মানুষ বলেই মনে হয়েছে।

আর্ট ও এনিমেশনঃ ৫

এই দিকটা বেশ হতাশাজনক। উনার মুভিগুলোর এই দিকটার যেই সমস্যার কথা অনেকে বলে, তার সবই এইটাতে দেখলাম। অর্থাৎ ব্যাকগ্রাউন্ড দেখতে মনে হচ্ছিল ফটোগ্রাফ থেকে এডিট করা, আর ক্যারাকটারগুলি ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে যাচ্ছিল না। সিজিয়াই মুভমেন্টগুলো কোথাও কোথাও আড়ষ্ট মনে হয়েছে। আর টোকিওর ঘিঞ্জি এলাকাগুলো সেটিং হিসেবে কতোটা উপযুক্ত, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

সাউন্ডঃ ১০

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অসাধারণ ছিল। প্রতিটা গান গল্পের ভাবের সাথে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। গানগুলি এতই ভাল, যে এমনি শুনতেও ভাল লাগবে। আর মুভির শেষের গানটা তো পুরা গল্পটাকেই সামারাইজ করে দিল কী সুন্দর করে। গানের সাবটাইটেল ছিল বলে কৃতজ্ঞ।

এঞ্জয়মেন্টঃ ৮

লো এক্সপেকটেশন নিয়ে দেখেছি। খারাপ লাগেনি। একবারে দেখে উঠার মত ছিল মুভিটা। সময়টা ভালই কেটেছে।

আপনারাও এইটা যদি স্রেফ সময় কাটানোর জন্য দেখেন, তাইলে ঠকবেন না অন্তত আশা করি। তাই ইচ্ছা থাকলে দেখেই ফেলুন না

The Garden of Words [মুভি রিভিউ] — Loknath Dhar

বৃষ্টির দিনে মরে যাই যাই অনুভূতি হয় একটা। হরমোনগুলোর নিঃসরণ হয়তো একটু বেশিই হয়। মনে হয় কারো গন্ধ চাই আবার মনে হয়, না, এভাবেই তো ঠিক আছে। বারান্দায় জল জমে বৃষ্টির, ভেজা গ্রিলে হাত রাখলে শিরশির করে গোটা দেহ, মনে হয়, এভাবেই বেঁচে থাকাটাও খুব সুন্দর। একা একা। ভেতর থেকে বহুকিছু ধীরে ধীরে চলে গেছে, একলা সুন্দর একটা স্বপ্নের ইচ্ছেয় দিনগুলো পার করতে থাকার অনুভূতিটাও সুন্দর। খুব সুন্দর।
 
আমি প্রায় সকল কিছুর ভেতরেই সৌন্দর্য খুঁজতে থাকি। সৌন্দর্যের তৃষ্ণা চোখে, বুকে, ঠোঁটে, মুখে।
 
আমার একটা ব্যক্তিগত ব্লগ আছে। নাম Garden of words; একটা প্রিয়, খুব প্রিয় আনিমের নামে নাম। আনিমের নামটাই, The Garden of Words. শব্দদের বাগান। এছাড়া আর কি! যে বাগান শব্দ দিয়ে তৈরি। আসলেই তাই। কিন্তু এই কথাটাই ভাবতে বসলে বুকের ভেতর আমার ভীষণ আলোড়ন তোলে। ভীষণ! শব্দদের বাগান! ব্লগটা আমার নিজস্ব একটা বাগান, যার ফুলগুলো শব্দ//অক্ষর দিয়ে ঘেরা, এরা মাঝে মাঝে ফোটে। যত দিন যায়, এদের রূপগুলো কমতে থাকে বলে মনে হয়, বারান্দায় ফিরে যাই, সিগারেট ধরিয়ে বৃষ্টির জলকে আহবান করতে থাকি আরও, আরও, আরও অনেকক্ষণ পড়ার। মন খারাপ না, তবু মন খারাপ করতে ইচ্ছে করছে। ভীষণ মন খারাপ ডুবিয়ে দেয়া যেত গোটা শহর!
 
 
গল্পঃ আনিমের গল্প নিয়ে কথা বলি বরং। বৃষ্টি ভালোবাসেন আমার মতো?
 
অবশ্য আমি বৃষ্টি ভালোবাসি একটু একটু।
এই মুভির পুরোটা জুড়ে কেবল বৃষ্টি আর বৃষ্টি।

১৫ বছর বয়সী একজন ছেলে, Takao (বাংলায় অদ্ভুত দেখতে লাগে নাম), একজন স্কুলছাত্র, যার ধ্যান-জ্ঞান হাতে জুতো ডিজাইন করা ও বানানো। বৃষ্টির দিন হলেই তার নিজের সাথে নিজের কথা দেওয়া আছে, স্কুল মিস সেদিন। এমনিতে সরগরম থাকা সিনজুকু ন্যাশনাল গার্ডেন সেদিন থাকে চুপচাপ, সে নিজের মত নিজের কাজে মনোযোগ দিতে পারে। তার এই কাজ তার ভালো লাগে।

এবং ২৭ বছর বয়সী একজন নারী, ইউকিনো, তাকে একদিন আবিষ্কার করে ন্যাশনাল গার্ডেনে; কেউ কাউকে চেনে না, শুধু যাবার আগে একটু ধাঁধা হয়ঃ

 
A faint clap of thunder
Clouded skies,
Perhaps rain comes,
If so, will you stay.. with me
 
এ এক খেয়ালী প্রশ্ন যেন। এক প্রাচীন জাপানিজ কবিতা।
চাই এর খেয়ালী সঠিক উত্তর।
এর উত্তর কি দেওয়া হবে?

সেখান হতে গল্পের পথ চলা আপন ভঙ্গিতে..

 
***Spoiler Alert***
 
এটা হয়তো রিভিউ, আবার রিভিউ না। আমার মত করে বলা একটা গল্প।
 
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি; আবার ভারী ভারী। এমন সময়ে মনে হয়, বোধহয় অন্য কোন পৃথিবীতে বেঁচে আছি। সময়টা থমকে আছে, থমকে আছে – বৃষ্টিরা আছড়ে পড়ছে ধীর থেকে ধীরে – ইউকিনো কোনো স্টেশন থেকে নেমে এগোচ্ছে কি না পার্কের দিকে, দেখার জন্য বাইরের জমে থাকা জলে পা বাড়াতে ইচ্ছে করে।
 
আমি বের হলাম। সেকেন্ডের কাটাটাও আছড়ে পড়ছে ধীরে, যেমনটা ধীরে আছড়ে পড়ছে প্রতিটা জল। আমার মনে পড়লো, এই মুভিটার একটা বিশেষত্ব আছে। এতে মাকাতো শিনকাই ক্যারেক্টারগুলোর ভাবনা বোঝার কোন উপায় রাখেন নি। ক্যারেক্টারগুলোর থটস বোঝার জন্য অনেকসময় ভেতরকার মনোলগ ব্যবহার করে ভাবনার দৃষ্টিকোণটা বুঝতে সাহায্য করে। মুভিতে এরকমটা নেই, যার রিপ্রেজেন্টশনটা হয় অনেকটা রিয়ালিটির মতন। আমরা শুধু আমাদেরটাই ভাবতে পারি, আমরা ভাবতে পারি না আমাদের সামনের মানুষটার ভাবনা। পুরো মুভিতে একটা রহস্য রহস্য ভাবনা, পা বাড়াতেই বিচলিত হয়ে উঠলো আমার মন, ইউকিনো কি ভেবেছিলো? কি ভেবেছিলো তাকাও? আজ বৃষ্টিতে তাকাও আর ইউকিনো পার্কে আসবে?
 
মন খারাপ হয়ে গেলো। অসম্পূর্ণ গল্পের সম্পূর্ণটা জানতে আমার ভীষণ পোড়ায়। চিরাচরিত, সাধারণ অনুভূতির চেয়ে আলাদা একটা প্রেম, সে কি করে এগোবে, আদৌ আগাবে কি না, জানতে ইচ্ছে করে। কেউ এক টানে নিয়ে বসিয়ে দিলো তাকাও এর সিটে – টের পেলাম, আমার বুক ছিঁড়ে আসে কারো মুখ দেখার। হয়তো বাস্তবের আমির মত।
 
আমি প্রতিটা দৃশ্য ধরে ধরে এগোতে থাকি।
 
আমার মনে পড়লো, মুভিতে কথোপকথন অনেক কম। মৃদু হাসলাম। যেখানে প্রতিটা ফ্রেম নিজেই এক একটা গল্প, সেখানে আলাদা করে কথোপকথনের কি দরকার আছে? দুজন পাশাপাশি চুপচাপ বসে থাকায় যে দুই পৃথিবীর দূরত্ব তুলে ধরে, কোন কথোপকথনটা সেখানে ঠিক মানাবে?
 
বৃষ্টি কি ভেতরের কান্নার কথা বলে? নাকি, বৃষ্টির পর প্রকৃতির নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার মতন, আবারও বেঁচে ওঠার মতন, তাদের আবারও নতুন করে হাঁটতে থাকার কথা বলে? আমি ভাবি, জীবনটা তো এইটুকু, স্বাদ শেষ হবার আগেই মনে হয়, জীবন শেষ হয়ে গেলো মনে হয় আমার এখনই, এই যে না বলা রহস্যটুকু, নিংড়ে পুরো পরিবেশটাকে দুচোখের ভেতরটাকে আটকে রেখেও তৃপ্তি না পাওয়া গল্পটা এরকমই থেকে যাবে?

JoJo Part 7: Steel Ball Run [মাঙ্গা রিভিউ] — Debashish Paul

সাল ১৮৯০। অ্যামেরিকার স্যান ডিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়াতে বসছে প্রায় ৪,৫০০ কিলোমিটারব্যাপী এক বিশাল ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা। গন্তব্য নিউ ইয়র্ক সিটি; মানে সেই ওয়েস্ট কোস্ট থেকে ইস্ট কোস্ট পর্যন্ত! দৌড়ের বিজয়ী পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, আর সাথে বিশ্বজোড়া খ্যাতি তো আছেই। দৌড়ে যত প্রতিযোগীর এস্টিমেট করা হয়েছিল তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি প্রতিযোগী এসেছে। বিভিন্ন্ দেশ থেকে শতশত মানুষ এসেছে অংশ নিতে। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত জকি থেকে নেপলসের রাজকর্মী; জাপানের বয়স্ক দৌড়বিদ থেকে ভ্যাটিকানের নান; খালি পায়ে দৌড়ানো এক নেটিভ ইন্ডিয়ান, এমনকি হাঁটতে না পারা এক পুরনো ঘোড়দৌড়বিদও! কিন্তু এই রেসই কি পুরো কাহিনী? জোজোর আগের পার্টগুলো নিয়ে কিছুটা ধারণা থাকলেও এর উত্তর আপনার জানা।
 
 
স্টোন ওশানের ধামাকাদার এন্ডিংয়ের পর এ আরেক রোলার কোস্টার রাইড। এই পার্টের প্রতিটা চ্যাপ্টার এত জমজমাট যে এটা পড়া শুরু করে শেষ না করা পর্যন্ত আর শান্তি নেই। এর আর্ট এত সুন্দর যে মনে হয় সত্যিই চোখের সামনে রেস হচ্ছে। আর ঘোড়াগুলো এত সুন্দর! স্টোন ওশানের আর্ট দেখে এত ভাল লেগেছিল যে ভেবেছিলাম এর চেয়ে বেশি সুন্দর আঁকা আরাকির দ্বারা হবেনা। বলাই বাহুল্য, ভুল ভেবেছিলাম। আর্টের দিক দিয়ে সম্ভবত সেরা পার্ট এইটা। কালার ভার্শন পড়াতে মনে হচ্ছিল সৌন্দর্য ঠিকরে পড়ছে! আর সাথে আরাকির ডাইভারসিটির প্রশংসা না করলেই নয়। যা নিয়েই গল্প লিখছেন সেখানেই বাজিমাত করছেন। জোজোর এই পর্যন্ত এসে এখন বুঝতে পারছি যারা আনিমে দেখে অথচ জোজো দেখেনি তারা আসলে কতকিছু যে মিস করে যাচ্ছে!
 
এই পার্টের জোব্রো একজন মাত্র- জায়রো(জাইরো?) যেপেলি এবং সে আর মেইন জোজো, জনি জোস্টার যেন একে অপরের সম্পূরক। একজন প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী, আরেকজনের আত্মবিশ্বাসের বড় অভাব। একজনের সহজেই মাথা গরম হয়ে যায়, আরেকজন ভেবেচিন্তে কাজ করে। এই ক্যারেক্টার দুইটাকে এইভাবে সাজানোতে অনেক ভালভাবে অনেক ফাইট দেখানো গেছে। এটাই প্রথম জোজো পার্ট যেখানে পার্টের নামের সাথে মেইন জোজো স্ট্যান্ডের নামের মিল নেই, আছে তার প্রিয় বন্ধু জায়রোর স্ট্যান্ডের সাথে মিল। যদিও জায়রোকেই মেইন জোজো বলে মনে হয়- ক্যারিশম্যাটিক, প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী, শর্ট টেম্পার, এমনকি জোস্টারদের ব্যাটলক্রাইও ওর। প্রথমদিকে অনেক রহস্যময় এবং বদরাগী কিন্তু আস্তে আস্তে ওর ফানি সাইডটা প্রকাশ পায়; সে এমনকি গানও লিখে! এমন ক্যারেক্টারকে আসলে ভাল না বেসে উপায় নেই। এই পার্টে ওর প্রভাব অনেক বেশি। এবং নিঃসন্দেহে বেস্ট জোব্রো (Sorry, Bruno. You’re second.)
 
আগের পার্টগুলার চেয়ে এখানে তুলনামূলক মূল ক্যারেক্টার কম থাকাতে এদের ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট অনেক বেশি করা গেছে। তবে অন্যান্য রেসারদের প্রতি আরেকটু নজর দেয়া যেত। এই পার্টের কিছু ক্যারেক্টার পুরো জোজো সিরিজের সেরাদের মধ্যে উপরের দিকে থাকবে। জায়রো আর জনির ক্যারেক্টার দুইটা খুবই ভালভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এদের ব্যাকস্টোরি থেকে এদের ট্রান্সফরমেশন প্রচন্ড ভাল হয়েছে। ডিয়েগো ব্র্যান্ডোর ক্যারেক্টারটা কিছুটা আগের ডিওর আদলে তৈরি তবে প্রায় প্রতি পার্টেই ডিওকে বারবার টেনে না আনলেই বেশি ভাল লাগত। এদের সাথে আরও কয়েকটা সাইড ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্টও খুবই ভাল।
 
এই পার্টের ‘ভিলেনদের’ মধ্যে একটা ব্যাপার প্রচুর আলাদা আগের পার্টগুলোর চেয়ে- সেটা হচ্ছে এখানে কিছু ভিলেন যদিও মেইন ভিলেনের নির্দেশেই কাজ করেছে কিন্তু বেশিরভাগ ভিলেনদেরই নিজেদের উদ্দেশ্য আছে এবং এদের ভিলেন মনে হয় শুধুমাত্র জোজোর বিপরীতে আছে বলে। সত্যি বলছি, এই পার্ট অন্য ক্যারেক্টারদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো হলে জায়রো আর জনিকেই ভিলেন মনে হত। এই ব্যাপারটাই সবচেয়ে বেশি ভাল এই পার্টের। এই পার্টে হিউম্যানয়েড স্ট্যান্ড কম, এবং স্ট্যান্ড ফাইটগুলোর বেশির ভাগই ঘুষাঘুষির না, সাইকোলজিক্যাল ব্যাটল এবং এই কারণে স্ট্যান্ড ফাইটগুলো অনেক ইন্টেন্স।
 
এই পার্টের মেইন ভিলেন অনেকের মতে পুরো সিরিজের সেরা। আমার মতে ওর ক্যারেক্টারটা একটু নষ্ট করে ফেলেছে শেষের দিকে তবে এছাড়া ও সাংঘাতিক এক ক্যারেক্টার। সিভিল ওয়ার ভেটেরান, অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট। প্রচন্ড আদর্শবাদী, এবং দেশপ্রেমিক। দেশের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। দেশপ্রেম এত বেশি যে তার পিঠ পুরোটা অ্যামেরিকার জাতীয় পতাকার আদলে ট্যাটু করা! এর স্ট্যান্ডও অবশ্যই সুপার পাওয়ারফুল।
 
অনেক ট্র্যাজিক ব্যাকস্টোরি আছে তবে তার মানে সব চ্যাপ্টারই সিরিয়াস টোনে লেখা এমন না। বেশ কিছু কমেডিক এলেমেন্ট আছে। আছে উপকথার উপর নির্ভর করে সাজানো একটা আর্ক, আর আছে পাল্প ফিকশনের দারুণ একটা রেফারেন্স! এই দুটো গল্প পড়তে বেশ মজা লাগছিল।
 
আমি এই পার্টকে “পারফেক্ট” বলতে পারছিনা মাঙ্গার শেষেরদিকের নেয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে, তবে এটা বলব যে এটা আমার পড়া যেকোনো কিছুর মধ্যেই স্টিল বল রান সেরাদের একটা।
 

Now, some spoiler-y discussions.
[So, Spoiler Alert]

 
স্টোন ওশান পর্যন্ত More Dio = More Fun মনে হত; এই পার্টে এসে আর এই নামটা দেখতে ভাল লাগছে না। মনে হচ্ছে সব পার্টেই আরাকি জোর করে ডিওকে কোন না কোনভাবে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। তাও মোটামুটি চলছিল কারণ এই ডিয়েগোর সাথে আগের ডিওর বেশ পার্থক্য আছে, কিন্তু শেষে “The World” নিয়ে এসে একেবারে সব ভেস্তে দিল। “The World” দেখে এত বাজে লেগেছিল যে ফাইনাল ফাইটের মজাই নষ্ট করে দিয়েছিল একদম। যেখানে ফানি ভ্যালেন্টাইনের মত ভিলেন আছে আর আছে D4C এর মত স্ট্যান্ড, সেখানে ডিওকে দিয়ে ফাইনাল ফাইট না করালেও হত আর করালেও “The World”-কে না আনলেও হত।
স্পিকিং অফ ফানি ভ্যালেন্টাইন, এত ভাল ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের পর এক ধাক্কায় ওর ক্যারেক্টারে কালিমা লেপে দেয়াতে হতাশ হয়েছিলাম বেশ। তবে পরে ভেবে দেখি ওর প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করার মাধ্যমে আরাকি হয়ত বোঝাতে চেয়েছেন যে উপরে উপরে এত আদর্শবাদী দেশপ্রেমিক হওয়ার পরও দিনশেষে ভ্যালেন্টাইন একটা ইগোম্যানিয়াকই, যে সবার উপর নিজের স্বার্থই বুঝে। এতে কি আদর্শবাদী ভ্যালেন্টাইনের ক্যারেক্টারে দাগ লেগেছে? অবশ্যই। কিন্তু ঐটা হয়তোবা ভ্যালেন্টাইনের আসল ক্যারেক্টার ছিল না। তবে ও শেষ পর্যন্ত আদর্শবাদী থাকলেই বেশি ভাল লাগত।
 
শেষের আগের কয়েকটা চ্যাপ্টার প্রচন্ড ইমোশনালি ড্রেইনিং ছিল। বিশেষ করে ব্রেক মাই হার্ট, ব্রেক ইউর হার্ট পার্ট ১,২। জনির জন্য এত খারাপ লাগছিল! ওকে অনেকসময়ই বেশ স্বার্থপরের মত আচরণ করতে দেখেছি, যেখানে জায়রো তার মহৎ উদ্দেশ্য থাকার পরও জনির জন্যই ওর সাথে ঐ পার্টগুলো খুঁজতে গেছে যেটা ও না করলেও পারত। কিন্তু জনির আসলে স্বার্থপর না হয়ে উপায়ও ছিল না, একটা এক্সিডেন্টের জন্য কি থেকে কি হয়ে গেল ওর, সেখানে আবার হাঁটার সুযোগ পেলে সেটা নেয়াটাই স্বাভাবিক। ওর সামনে জায়রোকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ আসার পর ওর অসহায়তা- জায়রোকে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা সামনেই কিন্তু পেলেও আগের জায়রো হবেনা, কিন্তু আবার এদিকে ভ্যালেন্টাইনকে বিশ্বাসও করা যায়না! এই চ্যাপ্টারটা বেশিই ভাল ছিল।

Weathering With You/ Tenki no Ko [মুভি রিভিউ] — Rumman Raihan

 

অ্যানিমে: WEATHERING WITH YOU / Tenki no Ko / 天気の子

টাইপ: মুভি
জনরা: সুপারন্যাচারাল, ড্রামা, ফ্যান্টাসি, রোম্যান্স, স্লাইস অফ লাইফ
দৈর্ঘ্য: ১ ঘন্টা ৫৪ মিনিট
স্টুডিও: CoMix Wave
গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায়: মাকোতো শিনকাই
সময়কাল: ২০১৯

এই রিভিউটি স্পয়লারবিহীন। তবে নিচে আলোচনা দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে। স্পয়লারযুক্ত ও স্পয়লারমুক্ত আলোচনা মূল রিভিউয়ের পরে।

 
স্পয়লার বিহীন রিভিউঃ
 
১৭ জানুয়ারি তারিখে লন্ডনের প্রথম পাবলিক স্ক্রিনিং-এ দেখতে গিয়েছিলাম মাকোতো শিনকাই এর অ্যানিমে ফিল্ম – “Wheathering with you”. একই সিনেমায় কয়েকবছর আগেই দেখেছিলাম Your Name. সেটার রিভিউ পাওয়া যাবে এখানে
 
কাহিনী সংক্ষেপঃ
টোকিয়োতে বৃষ্টি হচ্ছে খুব, অনেকদিন ধরেই। অন্তহীন সেই বৃষ্টির মাঝে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘর পালানো এক ছেলে, হোদাকা । ক্ষুধা আর ভয় নিয়ে অচেনা এই শহরে সে একটা কাজের সন্ধান করছে।
এই শহরেই নাকি একটা মেয়ে আছে। যে কিনা প্রার্থনা করে বৃষ্টি থামিয়ে দিতে পারে। কালো মেঘ সব দূর করে দিতে পারে। অবশ্যই সেটা অলৌকিক কল্পকাহিনী আর রহস্য ম্যাগাজিনের গল্পের কথা।
তবে একদিন হোদাকা সেই মেয়েটার দেখা পেল। হিনা। রৌদ্র-বালিকা হিনা এসে হোকাদার জীবনে এনে দিল একফালি রোদ্দুর।
পারবে কি তারা একসাথে তাদের জীবনের ঝড়ঝঞ্জা আর বাঁধা পেরিয়ে যেতে?
 
কেমন লেগেছে:
অভিভূত হয়েছি।
মাকোতো শিঙ্কাইয়ের অ্যানিমের প্রোডাকশন শুরু হবার আগে লেখা ওয়েদারিং উইথ ইউ উপন্যাসের শেষে লেখকের ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন যে তিনি এমন গল্পের ফিল্ম তৈরি করতে চান যা কিনা খাঁটি অনুভূতির কথা বলে। হলিউডের বানানো আর্টিফিশিয়াল “লাভ” স্টোরি নয়, আবার সামার ব্লকবাস্টারের গৎবাঁধা মোরালিটির কোনো প্রোডাক্ট নয়। ইয়োর নেইম মুভিটাকে যখন পশ্চিমারা আকাশে তুলে ধরলো আবার কেউ কেউ গালমন্দ করতে লাগলো এর অগভীরতা নিয়ে, তখন শিনকাই উঠে পড়ে লাগলেন তার মনের মত একটা গল্পের উপহার দিতে। যেখানে ইয়োর নেইমে অনুপস্থিত আবেগ আর পশ্চিমাদের চিরচরিত নীতিবোধের তোয়াক্কা না করা গল্প। যেমনটা তিনি এর আগেও তৈরি করে এসেছেন।
এবং সত্যিই তাই। এই ফিল্ম দেখতে এসেছিল অনেক বাবা-মা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে এবং ভুল করেছেন। কারণ অনেক অংশে তাদের সংকোচের আওয়াজ শুনেছি।
আবার এই মুভিতেই কিছু মুহূর্তে শুনেছি থিয়েটারে কে জানি কাঁদছে।
আমার আর আমার বন্ধুর চোখেও পানি এসে গিয়েছিল…
 
RADWIMPS এর অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক dolby atmos সিস্টেমে শুনে আর বড় স্ক্রিনে কমিকস ওয়েভ স্টুডিয়োর সিগ্নেচার সিটিস্কেপ দৃশ্যগুলোর নিখুঁত ও জীবন্ত সব ডিটেইলস্‌ দেখে যে কেউ বিহ্বল বা অভিভূত হয়ে যাবে। কিন্তু তার উপর হোকাদা আর হিনা আর তাদের চারপাশের রঙিন সব চরিত্রগুলোর প্রতি আবেগ কাজ না করলে এই অ্যানিমেটা এত উপভোগ করতাম না।
 
সিনেমা থেকে বের হয়েই আবার দেখতে ইচ্ছে করেছে। তেনকি নো কো
~~ হাওয়ার টানে তোমার সনে~~

স্পয়লারযুক্ত আলোচনা:

মুভিটা দেখার পরে এই অংশটি পরবেন, ঠিক আছে?  স্পয়লার না চাইলে শেষের অংশে চলে যান।
স্পয়লার অ্যালার্ট
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
 
কোনো বাসার ছাদে লাল তোরী গেইট সহ শ্রাইন দেখলে ভুলেও সেখানে গিয়ে দেখে আসার ইচ্ছে পোষণ করবেন না। এরিয়ে যাবেন। যেভাবে নিচের মেজর স্পয়লার এরিয়ে যাবেন, সেভাবে।
 
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
 
তাকি আর মিতসুহাকে দেখে আমি আর আমার বন্ধু দুজন হা করে একে অপরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
(বলেছিলাম না এখানে স্পয়লার দিবো?!!)
এমন ক্যামিও আশা করিনি। যদিও ইয়োর নেইম দেখার সময়ও গার্ডেন অফ ওয়ার্ডসের ইউকারিকে দেখা যায়। তাই বলে ইয়োর নেইমের তাকি যে হোদাকাকে রিলেশনশিপ অ্যাডভাইসও দিবে তা কি আর আশা করা যায়? (হেহে no pun intended হেহে)
মুভিটা আবার দেখতে হবে, কেননা ইয়োর নেইমের অন্যান্য সাউড ক্যারেক্টারও নাকি ক্যামিও হিসেবে দেখা গিয়েছে, তাদেরকে ধরতে পারিনি।
ফ্যান থিওরি হচ্ছে, মুভির শেষের অংশে যখন তুষার পড়ছিল, ঠিক সেই সময়েই মিতসুহা আর তাকির ইয়োর নেইম-এ স্টেয়ারকেইসে দেখা হয়। কি জানি!
যাইহোক…
হোদাকা যখন হিনাকে নিয়ে প্রথম দৌড়ে পালানোর সময় পিস্তল টা বের করলো, তখন দেখে শ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল! একদম ইন্টেন্স একটা মোমেন্ট!
 
মুভিতে ড্রাগনটা দেখে স্পিরিটেড অ্যাওয়ের কথা মনে পড়েছিল। এমনকি একজন তো স্পিরিটেড অ্যাওয়ে হয়ে যাওয়ার রেফারেন্স ও দেয়। আর মুভির শেষে ইভাঙ্গেলিওনের টোকিয়োর কথা মাথায় এসে গেল। একটা চরিত্রের নামও তো ছিল আসকা। মনে হয় ইন্টেনশনাল রেফারেন্স। কেননা ইভাঙ্গেলিওনের মত এই মুভিটাও একটা অ্যান্টি-সেকাই-কেই (look up sekai-kei if you don’t know what it is)।
 
বেড়ালটা ছিল এত্ত সুন্দর দেখতে! কিন্তু টাইমস্কিপ হবার পরে ইয়া মোটকা হয়ে গেল। xD হাসতে হাসতে শেষ!
কেইস্কে সুগা বেড়ালটাকে কি খাইয়েছে কে জানে!
 
হোটেলের রাতটাতে যখন হিনা ষদচ্ছ/ হয়ে যেতে থাকে আর হোদাকা কাঁদতে শুরু করে, তখন আসলেই চোখে পানি এসে গিয়েছিল। অনেক ইমোশনাল একটা মুহুর্ত। আবার যখন cumulonimbus মেঘের উপর থেকে নিচে পৃথিবীতে ফিরে আসতে থাকে তখন একদম গুসবাম্পস এসে গেছে। আনন্দে চোখে পানি এসে গেছে আবার।
 
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️
⛩️

স্পয়লারমুক্ত আলোচনা:

তবে এইরকম চমৎকার অ্যানিমের অত্যন্ত আনফেয়ার রিভিউ দেখা যাচ্ছে। যারা বলছে যে এই অ্যানিমেটা ইয়োর নেইমের কপি পেস্ট, তারা কি মাকোতো শিনকাই দূরে থাক, মামুরো ওশিও বাদ থাক, স্টুডিও জিব্লিরও কি কোনো অ্যানিমে দেখে নাই? ফিল্ম স্ট্রাকচার এক রেখে একটা ভিন্ন গল্প যে বলা যায় সেটা এরা কি জানে না? জেনে থাকলে এমন বাজে রিভিউ কেন?
 
এর কারণ হচ্ছে ঐযে বলেছি না মাকোতো শিনকার তার হলিউডে আর মেইন্সট্রিম অ্যানিমের মোরালিটির বাইরে গেছেন। তাই এই মুভি ভালো লেগেছে এটা অনেকেই মানতে পারছে না। প্রোস্টিটিউশন, গান-ভায়োলেন্স এর উপর কমেন্ট্রি, গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ আর টিনেইজ নন-ফিযিকাল, ইনোসেন্ট লাভ – এসব বিষয় পশ্চিমের অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না। ওয়েস্টার্ন পলিটিক্যাল এই এনভায়রনমেন্টে তাই এই মুভির তেমন প্রচারও করা হয় নি যেমনটি হয়েছিল ইয়োর নেইমের সময়। জি-কিডসের প্রচারণা একদম নগণ্য, কেননা আমি মুভিটার ট্রেইলার পর্যন্ত দেখিনি মুভিটা দেখে আসার আগে।
 
জাপানে কিন্তু এর জনপ্রিয়তা কোনোআংশে কম ছিল না। ৬ মাস ধরে সিনেমাতে চলেছে। এখানেও স্ক্রিনিং শিডিউল এক্সটেন্ড করা হয়েছে, কারণ প্রত্যেক সাবটাইটেল্ড স্ক্রিনিং দেখা যাচ্ছে ফুল হাউজ।
তাই অনলাইন রিভিউ বা অ্যানিটিউবারদের কথা না শুনে দেখে এই অ্যানিমেটা নিজে যাচাই করার চেষ্টা করবেন।

 

আমার রেটিংঃ ১০/১০

One Outs [রিভিউ] — Naziur Rahman Nayem

One Outs

WRITTEN BY: SHINOBU KAITANI
DIRECTED BY: YŪZŌ SATŌ, TADAO IWAKI
ORIGINAL RUN: 2008-2009
GENRE: PSYCHOLOGY, STRATEGY, WIT, SPORTS
PERSONAL RATING: 9.5/10

এনিমেটি মূলত বেসবলকেন্দ্রিক ও এরসাথে যুক্ত হয়েছে গেম্বলিং ও সাইকোলজিক্যাল বিষয়াদি। এনিমেটির প্রতিটি পর্বে তাই রয়েছে সাইকোলজিক্যাল ও স্ট্র্যাটেজিক্যাল ব্যাখ্যা ও টুইস্ট। এখন তাহলে এর একটু ভেতরে প্রবেশ করা যাক।
 
জাপানের ওকিনওয়া নামক স্থানে যেখানে খেলোয়াড়রা প্রফেশনাল বেসবল থেকে একটু অন্য আঙ্গিকে বেসবল খেলে থাকে। এবং এ খেলাতে চলে মিলিয়ন মিলিয়ন ইয়েনের গেম্বলিং অর্থাৎ জুয়া। এ খেলার নাম তাই বেসবল নয়, এর নাম ওয়ান আউট।
 
খেলার নিয়মও বেসবল থেকে বেশ ভিন্ন। নিয়মটি পিচার অর্থাৎ যে বল ছোড়ে সে যদি নির্দিষ্ট জায়গায় বল ছুড়ে পরপর তিনবার ব্যাটসম্যানকে স্ট্রাইক করাতে পারে তথা মিস করাতে পারে তাহলে তার বিপক্ষে যারা বাজি ধরেছে তার সব ইয়েন তার। অন্যদিকে ব্যাটসম্যান যদি একটি বলও হিট করতে পারে এবং তার বল যদি বেসবলের ইনফিল্ডের সীমানা অতিক্রম করে তাহলে সে জয়ী এবং তার বিপক্ষের ইয়েনগুলো সব তার হয়ে যাবে।
 
তো দুজন বেসবল খেলোয়াড় যারা লায়াকুন টিমের হয়ে প্রফেশনাল বেসবল খেলে থাকে যাদের টিমে একজন পিচারের স্বল্পতা দেখা দিলে ওকিনওয়া গ্রাউন্ডের একজন গেম্বলার তাদের পিচারের সন্ধান দেবার নাম করে তাদের ফিল্ডে নিয়ে গেলে তারা এই জুয়া খেলার খপ্পরে পড়ে যায়। তার আগে একটু বলে নেওয়া ভালো লায়াকুন টিমের সেলিব্রিটি টাইপের একজন খেলোয়াড় আছে যার নাম হল কোজিমা। এই খেলোয়াড়টি হল এমন একজন দূর্ভাগা ব্যাটসম্যান যে সব ধরনের খেলায় জয়ী হলেও নিজের টিমের হয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ ট্রফি জেতাতে পারেনি। তার সারাজীবনের আফসোস এটি।
 
তো লায়াকুন টিমেরই দুজন খেলোয়াড় ওকিওয়া ফিল্ডে গেলে তারা বাজি লাগায় এমন একজন পিচারের বিরুদ্ধে যে কীনা এ পর্যন্ত একটি বাজিও হারেনি। এই পিচারটির নাম হল তকুচি তোয়া। মূলত এই হল এনিমেটির মূল চরিত্র। এ চরিত্রটি সম্পর্কে কিছু বলা যাক।
 
তকুচি তোয়া প্রফেশনালি একজন গেম্বলার ও মানুষের সাইকোলজি সম্পর্কে তার বেশ ধারণা রয়েছে। আর এই ধারণা দিয়ে সে বেসবলের ওয়ান আউট গেমের বাজিতে সকলকে কুপোকাত করে দেয়। তার প্রতিটি বাজির স্ট্র্যাটেজি সাইকোলজিক্যাল ট্রিকে ভরপুর। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু সেট করে নিয়ে সে প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়।
 
তো এরপর যথারীতি বাজি শুরু হয়ে যায়। ঐ দুজন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন তকুচি’র বিপক্ষে ব্যাটসম্যানের পক্ষ হয়ে ৪০০০ ইয়েনের বাজি লাগিয়ে গো হারা হেরে যায়। এরপর এই সব অর্থ হারানোর ব্যাপারটা জানতে পারে দূর্দান্ত বেসবল ব্যাটসম্যান কোজিমা। সে পরবর্তীতে আসে এর শোধ নিতে ও বেসবল নিয়ে জুয়া খেলে প্রফেশনাল বেসবলের অসম্মান করার সমুচিত শিক্ষা দেবার জন্য।
 
কিন্তু এখানেও সেই তকুচি তোয়ার ট্রিকের কাছে তাকে নাস্তানাবুদ হতে হয় ও ৪ লক্ষ ইয়েন বাজি সে হেরে যায়। এরপর কোজিমা দূরে কোন জঙ্গলে চলে যায় ও সেখান থেকে আরও অনুশীলনের পর ফেরত আসে আবার তকুচি তোয়ার সাথে ওয়ান আউট গেম খেলার জন্য। বলে নেওয়া ভাল যে এ গেমটি আবার তকুচি তোয়ার নিয়মে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ধাঁচে সংঘটিত হয়।
 
তকুচি তোয়া বাজি আগে বলে যে যদি সে তার বল কেবলমাত্র টাচ করতে পারে তাহলে সে জিতে যাবে। এ নিয়ম মেনে নিয়ে কোজিমা তার প্রথম গেম হারার পর আরও অনুশীলন করে আসে দ্বিতীয় গেমের জন্য। গতবারের গেমে চরম অপমানের পর এবারের গেমে সে তার ক্যারিয়ারকে বাজি ধরে। যদি সে হারে তাহলে তাহলে সে বেসবল খেলা থেকে রিটায়ার্ড করবে। আর তকুচি জিতে গেলে কোজিমা তার জুয়া খেলার হাত ভেঙ্গে দিবে।
 
এমন একটা থমথমে অবস্থায় বাজির দুটি বল হয়ে যায় এবং দুটিই স্ট্রাইক হয়। পরবর্তী শেষ বলটির জন্য ওকিনওয়া মাঠের চারদিকে তখন টানটান উত্তেজনা, কী জানি কী হয় কেউ জানে না। যথারীতি তৃতীয় বলটি গেল কোজিমা এবারও বলটি ব্যাট দিয়ে হিট করতে পারলো না। সবাই তকুচির জয়ে যখন লাফাচ্ছে তখন তকুচি বলল কোজিমা জিতে গেছে। কেননা সে ব্যাট দিয়ে বল আঘাত না করলেও হাত দিয়ে বল ঠেকিয়েছে আর নিয়মানুযায়ী বল টাচ করতে পারলেই হল সেটা ব্যাট কিংবা যা দিয়েই হোক না কেন।
 
এ হিসেবে তোয়া স্বীকার করে নেয় যে তার এ খেলার জীবনে এটাই তার প্রথম হার। সে চাইলে তার হাত ভেঙ্গে দিতে পারে। এই বলে সে তার হাত কোজিমার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। কোজিমাও তার হাত ধরে,,,,
 
কী ভাবছেন কাহিনী এটাই,,, না কাহিনী এটা নয়, এটা কেবল কাহিনীর শুরু।
 
কোজিমা, তকুচির হাত ধরে বলে তোমার এ হাত ভাঙ্গার জন্য নয়, এ হাত হলো প্রফেশনাল বেসবল খেলার জন্য। তুমিই আমাদের টিমে খেলবে ও তোমার মনস্তাত্ত্বিক ভেলকীবাজি দেখিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ টুর্নামেন্টে টিম লায়াকুনের হয়ে খেলবে। এভাবে তকুচি তোয়া সুযোগ পেয়ে যায় ওয়ান আউট গেম থেকে প্রফেশনাল গেম খেলার। তারপর কোজিমা টিমের মূল যে ম্যানেজার তার সাথে তাকে বলে তকুচিকপ টিমে নেবার জন্য।
 
কিন্তু ম্যানেজার প্রথমে তকুচিকে নিতে চায় না তার উদভ্রান্ত ও কেয়ারলেসনেস আচরণের জন্য। এরপর তকুচি তোয়া অদ্ভুত এক প্রস্তাব দিয়ে বসে। প্রস্তাবটি হল যতজনকে সে আউট করবে তার প্রতিটি আউটের জন্য তাকে ৫ মিলিয়ন ইয়েন দিতে হবে। অন্যদিকে সে যত রান খাবে তার বিনিময়ে ম্যানেজারকে সে ৫০ মিলিয়ন ইয়েন দিবে। এভাবে একটা ওয়ান আউট কনট্রাক্ট সাইন হয় ম্যানেজার ও তকুচির মধ্যে।
 
ম্যানেজার প্রচন্ড ধূর্ত ও লোভী প্রকৃতির লোক। নিজের টিম বারবার লাস্টে আসার পরও কেবলমাত্র বাজিতে জেতার জন্য সে তকুচিকে যত প্রকার ফাঁদে ফালানো যায় তার ব্যাবস্থা করে। আর তকুচি! সেও কম নয় প্রতিটা ফাঁদের জবাব সে পাক্কা সাইকোলজিক্যাল মাস্টারমাইন্ডদের মত করে একের পর এক ম্যানেজারকে রিটার্ন করতে থাকে।
 
সেইসাথে কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী তরতর করে তার ইয়েন বেড়ে গিয়ে ৪.৬ বিলিয়নে গিয়ে দাঁড়ায়।
 
এখন হয়তো ভাবছেন আমি স্পয়লার দিয়ে ফেলছি। কিন্তু নাহ! এ এনিমের স্পয়লার দেওয়া মোটেই সম্ভব নয়। কারণ কীভাবে তকুচি তোয়া ট্রিক প্রয়োগ করে ভেলকী দেখাচ্ছে তার বিশ্লেষণ এই এনিমে না দেখলে আপনারা বুঝতেই পারবেন না। কিছুটা শার্লক হোমসের মত অপরাধী কে তা আন্দাজ করা গেলেও কীভাবে যে অপরাধী নির্দিষ্ট ব্যক্তিটিই হবে তার ব্যাখ্যার জন্য আপনাকে শেষ পর্যন্ত যেমন গল্পগুলো পড়তে হয়, তেমনভাবে এই এনিমে আপনাকে শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে।
 
মোট ২৫টি এপিসোড রয়েছে এ এনিমেটিতে। তবে শেষে এটা যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়। এরজন্য আপনার মাঙ্গা কমিক পড়তে হবে। তাহলে আপনি শেষ অব্দি কী হল এই কৌতূহল মেটাতে পারবেন।
 
এই এনিমেটি দেখতে দেখতে অনেক নতুন নতুন সাইকোলজিক্যাল পার্সপেক্টিভ আমি খুঁজে পেয়েছি। এনিমেটির মাঝে কোন রংচংয়ে ব্যাপার নাই, কোন ইমোশনের আদিখ্যেতা নাই। পুরোদমে প্রাকটিকাল ও স্ট্র্যাজেজিক্যাল। আর ব্যাখ্যার কথা কী আর বলব! এককথায় অসাধারণ। এনিমেটি দেখতে দেখতে বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিল চীনা দার্শনিক লাওৎসু ও “Art of War”- এর লেখক সানজু’র কথা।
 
আর মনে পড়বে নাইবা কেন এইসব ট্যাকটিকগুলোর জন্য তো এনারা ওস্তাদ। কিছু কিছু মার্ক করে রাখবার মত। নিচে একটু উল্লেখ করছি সেগুলো-
 
তকুচি তোয়াকে যখন তার টিমমেটরা এসে তাদের বিপক্ষদলের অতীতের বীরত্বপূর্ণ রেকর্ড দেখাচ্ছিল ও এরকম বলাবলি করছিলো যে, ওরা এত ভালো খেলে, আমরা কী পারব ওদের সাথে? এমন সময় তকুচি বলে যে, ” দেখো তোমরা আজকে যাদের সাথে খেলতে নামবে ওরা হল আজকের দল।
 

যেগুলো তোমরা আমায় দেখাচ্ছো ওগুলো অতীতের কাহিনী। তাই আমাদের প্রতিযোগিতা অতীতের টিমের সাথে নয়, আজকের টিমের সাথে। তাই অতীতের রেকর্ড ঘেঁটে ভীত না হয়ে বরং আজকের ওদেরকে দেখো ও ওদের দূর্বলতাগুলো খুঁজে বের করো। অতীত দেখে বৃথা আতঙ্কিত হয়ে ওদের আজকের দূর্বলতাকে দৃষ্টিগোচর হতে দিও না।

 

আরেক জায়গার একটি ঘটনাতে যখন লায়কুন টিম এখনও জিতে নি তবে জিতে যাবে এমন একটি মুহূর্তে টিমের সবাই উল্লাস করতে আরম্ভ করে দিলো তখন তকুচি তাদেরকে বলে, “আমরা এখনও জিতে যাইনি বিজয়ের আগে বোকারাই তা সেলিব্রেট করে।” এখানে এই কথাটা সানজু’র আর্ট অব ওয়ারের সাথে মিলে যায়।

 
সবশেষে একটা চরম ট্রিকি টিমের সাথে লায়াকুন টিমের খেলা হয়। এটা ছিল তাদের হোম গ্রাউন্ড। ফলে তারা পুরো স্টেডিয়ামে তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে রেখেছিল। এটা টিমের প্রায় সবাই জেনে বিপক্ষ টিমকে দোষারোপ করলেও তকুচি বলে যে তাদের ওপর দোষারোপ না করে ওদের চালাকি ও ষড়যন্ত্রকে কীভাবে ওদের থেকে ভালো কোন ট্রিক দিয়ে কিংবা বলা যায় চোরের উপর বাটপারি অথবা টিট ফর ট্যাট আকারে কীভাবে ফেরত দেয়া যায় তা করাটাই সমীচিন।
 
এভাবে দূর্বল হয়ে দোষারোপ করলে ওদের এতে কিছু যাবেও না আসবেও না; উল্টো আমরা চ্যাম্পিয়নশীপ থেকে বেরিয়ে যাবো। তাই খেলায় জিততে হলে ওইভাবে তোমাকে জাল বিছাতে হবে।
 
এতক্ষন যা বললাম তা কিছুই নয়। এ এনিমের মূল আকর্ষণ হলো এর সাইকোলজিক্যাল ব্যাখ্যাগুলো। আর প্রতিপক্ষকে কীভাবে হতভম্ব করে দেয় তকুচি তা দেখবার মত।
 
সবশেষে এই এনিমেটি বেসবল খেলাভিত্তিক হলেও এর প্রতিটি মুহূর্তে আপনি থ্রিল, রোমাঞ্চ, রহস্যের স্বাদ পাবেন। একটা স্পোর্টস জনরার এনিমেকে যেভাবে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার আকারে রূপ দেওয়া হয়ে হয়েছে তা সত্যিই অনবদ্য।