The Garden of Words (Kotonoha no Niwa) রিভিউ — Rokibul Islam

“A faint clap of thunder
Clouded skies, perhaps rain comes
Will you stay here with me?”

বৃষ্টি- বোধহয় সবারই কম বেশী প্রিয়। যখন লিখতে বসেছি এই বরফের দেশেও হালকা বৃষ্টি নামতে শুরু করেছে। আকাশ কালো করে ঝুমঝুমিয়ে নামা বৃষ্টি ঠিক না; তবে একেবারে গুঁড়িগুড়ি বৃষ্টিও বললে ভুল বলা হবে। কথাগুলো একটু অসংলগ্ন হয়ে গেল; আবার নাও হতে পারে (!)।

রিভিউ না, এটা আসলে একটা জাপানী অ্যানিমেশন দেখে ওঠবার পর দর্শক প্রতিক্রিয়া বলা চলে। লেখালেখি ব্যাপারটা আসে না; আগে দুচার লাইন স্ট্যাটাস দেবার একটা চেষ্টা করতাম, ওটাও কেন জানি দুঃসাধ্য হয়ে গেছে আজকাল। যাই হোক। আসল কথায় পা বাড়াই বরং; গল্প খুবই সামান্য- যথাসাধ্য চেষ্টা করবো স্পয়লার না দেবার।


সিনেমাঃ The Garden of Words (Koto no ha no niwa) (২০১৩)
পরিচালক/চিত্রনাট্যঃ মাকোতো শিনকাই
ভাষাঃ জাপানী
MAL লিঙ্কঃ http://myanimelist.net/anime/16782/Kotonoha_no_Niwa
ট্রেলারঃ http://youtu.be/udDIkl6z8X0

এনিমখোর গ্রুপ থেকে খোঁজ পাই এটার। দুটো কারণে বেশ আগ্রহ জন্মেছিল দেখবার ব্যাপারে- একটা কারণ হলো, পোষ্টারের অসাধারণ সবুজ আর বৃষ্টির ছড়াছড়ি কেমন যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। দ্বিতীয়ত, পরিচালকের নাম। ‘5 Centimeters Per Second’ এর একই সাথে ভিজুয়ালি এবং খুব সাদামাটা কিন্তু ছুঁয়ে যাওয়া প্লটের জন্য মাকাতো শিনকাই নামটা খুব সহজে ভোলা যাবে না।

পুরো সিনেমাটা ঘুরেফিরে কেবল দু’জন মানুষের গল্প- স্কুল পড়ুয়া এক কিশোর (Takao) আর বৃষ্টি দিনে পার্কের বেঞ্চে বসে থাকা এক বিষণ্ণ তরুণী (Yukari)। শুরুর দিকে একটু দ্বন্দ্বে পড়ে যেতে হয়- অসমবয়সী প্রেমের গল্প; নাকী দু’পাশ থেকে দেখা দু’জনের জীবনোপখ্যান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামবে। বাকিদের কথা জানি না- তবে অনেকটা সময় আমি টেনে টেনে বৃষ্টিই দেখেছি- এত চমৎকার ভাবে ডিজিটাল পর্দায় বৃষ্টি হয়তো কখনো দেখিনি। বাজি ধরে বলে দিতে পারি- এ’বৃষ্টিতে হয়তো শরীর ভিজবে না- কিন্তু মন ভিজবেই।

মাত্র ৪৫ মিনিটের সিনেমার খানিকটা দূর আগালেই হয়তো টের পেয়ে যাবেন- একটু অসমবয়সী প্রেমের গল্পই এটা- তবে কেবল প্রেমের গল্প বললে ছোট করা হবে। অদ্ভুতভাবে Takao আর Yukari এর দেখা হয় কেবল বৃষ্টির দিনগুলোতেই। একজন স্কুল পালিয়ে নিজের পছন্দের কিছু কাজ নিয়ে হাজির হয় পার্কের ছায়াঘেরে ছাউনিতে- আরেকজন কাজে অমনোযোগী। কারণগুলো শুরুতে একটু ঝাপসা থাকলেও সিনেমার চাকা গড়ানোর সাথে সাথে বেশ দৃশ্যমান হয়ে যাবে। সংলাপের স্বল্পতা থাকলেও তা পুষিয়ে যাবে চমৎকার কিছু কথার জাদুচ্ছটায় পুরো সিনেমাজুড়েই। বয়সে কিশোর হলেও মননে বেশ পরিণত তাকাও-এর আবেগটুকু খুঁজে পাওয়া যায় এই লাইনটুকুতে- “To me she represents nothing less than the very secrets of the world.”

খুব আহামরী কোন গল্প নেই- তবে যেটুকু আছে তা হয়তো কিছুটা সময়ের জন্য জড়িয়ে রাখবে। বেশ অনেকটা বিষণ্নতায় জড়িয়ে দিয়েও শেষটায় তাই একটু আশা, একটু আবেগের প্রশ্রয়- তাই খুব বেশি বিলাসীতা মনে হয় না।

অনেক কিছু হয়তো লেখা যায়; কিন্তু ইচ্ছেতে কুলোচ্ছে না। ক্ষমাপ্রার্থী। হাতে খানিকটা সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন। বৃষ্টিপ্রেমী হলে এই সিনেমাটা মন্দ লাগবে না।

একেবারে শুরুতে বলা লাইনগুলো আসলে কবিতাচ্ছলে একটা প্রশ্ন ছিল। উত্তরটাও খুঁজে পাবেন সিনেমার শেষটায়ঃ

“A faint clap of thunder
Even if the rain comes not,
I will stay here, together with you…”

I have seen rain in screen many times, but never that beautifully…

সবার জন্য বৃষ্টিমুখর ঘোরলাগা দিনের আশাবাদ রইলো।

Kingdom রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

অনেক অনেএএএএক ছোটবেলায় যখন সমাজ বইয়ে বঙ্গদেশের ইতিহাসে পড়তাম “বখতিয়ার খিলজী মাত্র ১৮ জন ঘোড়সওয়ার নিয়ে নদীয়া প্রাসাদ আক্রমণ করে বাংলা বিজয় করেন” তখন মনে হইত, আইসসালা, সিরাম কাবিল লুক তো ! কি সুন্দর সিস্টেমে ১৫-২০ জন নিয়া একটা দেশ গাপ কইরা দিল। তারপর কিছুদিন পরে বিটিভিতে “সোনারগাঁয়ের পথে পথে” নামক একটা ধারাবাহিক নাটক প্রচার হইসিল, ২০০৫-০৬ এর দিকে সম্ভবত। বন্ধু বান্ধবদের পচানি শুনেও নিয়ম করে ওইটা দেখতাম। মোদ্দাকথা হইল, মুখস্ত করার পেইনের না থাকলে আমার ইতিহাস ভাল্লাগে, বিশেষ কইরা যুদ্ধের ইতিহাস, ট্যাক্টিক্সের ইতিহাস। নিজে ভাল রকম ভীতু মানুষ দেইখাই হয়ত – বীরত্বের কাহিনী বড় ভাল্লাগে, সেইটা খিলজী ভাইয়ের চিপা দিয়া বাংলা ঘাপায় নেওয়ার কাহিনী হোক, কিংবা কড়া নিরাপত্তার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের আশেপাশে একটু বুমা টুমা মাইরা আওয়াজ তোলার কমান্ড পাইয়া ক্র্যাক প্লাটুনের একেবারে হোটেলে হামলা করার মতন এপিক কাহিনী হোক।

আসল কিচ্ছায় ফেরত আসি। কিংডম এনিমটা দেখলাম; প্রথম সিজন। ইতিহাস ভিত্তিক একটা সিরিজ, তবে জাপানের না, চায়নার ইতিহাস। পটভুমি ৪৭৫ খ্রিস্টপূর্ব যুদ্ধপ্রবণ চায়না। শিন(Xin/Shin) এবং হিয়ো(Pyou/Hyou) কিন(Qin) রাজ্যের দুই অনাথ শিশু। যুদ্ধে বাবা মা নিহত হবার পর তাদের ঠাই হয় এক বড়লোকের বাড়িতে, দাস হিসেবে। দুজনের মনে স্বপ্ন, একদিন বড় জেনারেল হয়ে নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করার; তাও যে সে জেনারেল না; দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ জেনারেল। তাদের ভাগ্যে কি ঘটল, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র আর যুদ্ধপ্রবণ সময়ে Qin এর রাজা সেই (Zheng) কীভাবে পাহাড়ী লোকজনের সহায়তায় সৎভাই এর হাত থেকে রাজ্য উদ্ধার করলেন, ধীরে ধীরে পরিণত রাজা হয়ে উঠতে লাগলেন – এইরকম বেশ কিছু গল্প নিয়েই তৈরি করা হয়েছে সিরিজটি।

পুরো সিরিজটা বেশ খানিকটাই আপডাউনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তবে নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখলে খারাপ লাগার এলিমেন্টই খুজে পাওয়া যাবে বেশি। একে একে ব্যবচ্ছেদ করা যাক। তবে তার আগে একটা জিনিস পরিষ্কার করে নেওয়া ভাল; আমি শুধু প্রথম সিজন শেষ করেছি। নিচে অনেকগুলো নেগেটিভ দিকের কথা এসেছে; যেগুলোর অনেকটাই নাকি দ্বিতীয় সিজন কাটিয়ে উঠেছে। আর মাঙ্গা নাকি মোটামুটি এপিকের পর্যায়ে চলে গিয়েছে। নিচের রিয়েকশন শুধু প্রথম সিজনের জন্য প্রযোজ্য হবে।

সিরিজের সবচেয়ে বিরক্তিকর দিক CGI এনিমেশন। বাজেট সঙ্কটের কারণে হোক কিংবা এক্সপেরিমেন্টাল পারপাসে হোক, 3D এনিমেশন দেখলে মনে হয়েছে যেন বহু পুরোনো কোন ভিডিও গেইমের ক্লিপ দেখছি। সব কিছুই কেমন যেন আর্টিফিশিয়াল আর ক্রুড। কিছু কিছু ফাইট সিনে ব্যাপারটা ভাল লাগলেও ওভারওল ভাল রকম বিরক্তি উদ্রেক করেছে সারা সিরিজ জুড়ে।

সাউন্ডট্র্যাক খুবই সাধারণ মানের। দ্বিতীয়বার শোনার বদার করার কথা না কারো।

ভয়েস এক্টিং সিরিজের চমৎকার একটা দিক। শিনের ভয়েস এক্টর ইচিগোর ভয়েস এক্টর, আর সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ড ধারাভাষ্যকার খুব সম্ভবত ওয়ান পিসের জন; সুতরাং ভয়েস এক্টিং নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট।

প্রচুর একশন সিন থাক্লেও সবই বেসিক। এবং বেশির ভাগ একশন সিনই জঘন্য CGI এর জন্য বিরক্তির উদ্রেক করেছে। মেইন ক্যারেক্টারগুলোর ফাইটগুলো যথেষ্ট ইলাবোরেট এবং ভাল হলেও সাইড ক্যারেকটারদের মুড়ি মুড়কির মতন উড়ে যাওয়াগুলো ভয়াবহ রকমের আনরিয়েলিস্টিক ছিল। লাখে লাখে সৈনিক যুদ্ধ করলেও এবং মারা যেতে থাকলেও মোটেও সেই ফিলটা আসে নি; খুব সম্ভবত এনিমের টার্গেট অডিয়েন্স ইয়াং টিনএজার ছিল। রেজাল্ট? কিঞ্চিত লেইম ব্যাটেলস। তবে চালায়ে নেওয়া যায়; আহামরি না হলেও এভারেজ মার্ক্স দেওয়া যাবে।

স্টোরি – পুরো সিরিজটা এক নিঃশ্বাসে দেখেছি এবং রিভিউও লিখতে বসেছি – একমাত্র কারণ বোধহয় স্টোরি। প্রায় বাস্তব একটা ইতিহাসের গল্প আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা খুব চাট্টিখানি কথা না; সেটা বেশ মুন্সিয়ানার সাথেই করতে পেরেছে এই সিরিজ। যুদ্ধের ময়দানে ব্যাবহার করা ট্যাক্টিক্স, মুহূর্তে মুহূর্তে রঙ বদলানো যুদ্ধে কমান্ডিং জেনারেলদের বুদ্ধি, ক্ষমতা আর স্ট্র্যাটেজির খেলা – চমৎকার স্টোরি। যদিও স্টোরির উৎকর্ষতা যুদ্ধের ঘটনার সাথেই শেষ; ক্যারেকটারগুলোর ব্যাক স্টোরি দেখানোর বা তাদেরকে লাইকেবল করার জন্য মোটেও চেষ্টা করা হয় নি সিরিজে। ফলাফল – শিন ছাড়া আর কোন ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্ট একেবারে শূন্যর ঘরে। বিশেষত ভিলেনগুলো মনে ভীতি বা শ্রদ্ধা এধরণের অনুভুতির বদলে চরম বিরক্তির উদ্রেক করে। এছাড়া যুদ্ধ বা স্ট্যান্ড এলোন ব্যাটলের সময় ক্যারেকটারগুলোর বন্ধু বান্ধবদের লাইন ধরে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ উপভোগ এবং ধারাভাষ্য বর্ণনা – খুব ভাল ইম্প্রেশন ফেলে না।

এখন বার্নিং কোশ্চেন। সিরিজটা দেখা উচিত কি না? I absolutely loved the series; mostly because of its story, war tactics and history. এই জিনিসগুলো সমন্ধে আলাদা করে ইন্টারেস্ট না থাকলে এবং আর্টস্টাইল এবং সাউন্ডট্র্যাক এর মতন বিষয়গুলো নিয়ে নমনীয় না হলে আমার পরামর্শ থাকবে না দেখার জন্য।

Slam Dunk রিভিউ — রোকেয়া শারমিন অরিন

১মেই হাবিজাবি রিভিউ লিখার জন্য সরি বলে নেই..এত সুন্দর একটা আনিমে নিয়ে এত পঁচা করে লিখে নিজেরই লজ্জা লাগতেছে 😛

রিভিউঃ
স্পোর্টস জনরার খুব বেশি আনিমে দেখি নাই কিন্তু এই জনরার আনিমে গুলা মেলা এক্সাইটমেন্টে ভরপুর থাকে বলে দেখতে মজা লাগে.. অনেক মজা লাগে …. যে কয়টায় দেখি না কেন এর মধ্যে নিঃসন্দেহে চোখ বুজে বলে দিতে পারি স্লাম ডাঙ্কের মত মজা আমি আর কোন এই জনরার আনিমে তে পাই নাই…স্লাম ডাঙ্কের তুলনা স্লাম ডাঙ্কই…আর ২য় টা নাই এর মত ..খালি স্পোর্টস জনরাই না যে কোন জনরার আনিমে সাথে কম্পিট করলে এটা সর্বকালের সেরা আনিমের তালিকায় থাকবে এতে কোন সন্দেহ নাই.. প্রতিটা ক্যারেক্টার প্রতিটা এপি প্রতিটা ম্যাচ একটুও খারাপ লাগে নাই একটা সিঙ্গেল মোমেন্টও খারাপ লাগে নাই..খারাপ লাগা তো অনেক পরের কথা এমন কোন এপি নাই যা দেখে আমি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দেই নাই ..পুরা মুগ্ধ হয়ে দেখছি পাগলের মত …মনে হইছে এর মধ্যে ঢুকে যাই আর বের হব না.. ওদের সাথে আমিও খেলা শুরু করে দেই.. ওদের মত আমিও মজা করি ..মেইন যে জিনিসটা বেশি ভাল লাগছে তা হল বাস্কেটবল খেলার ব্যাসিক অনেক ভালভাবে শিখতে পারছি.. বাস্কেটবল নিয়ে আনিমে এর আগে যেটা দেখছিলাম তা হল কুরোকো নো বাসুকে আনিমে টা মেলা ভাল লাগছিল অনেক এক্সাইটমেন্ট ছিল মজারও ছিল..কিন্তু মেইন সমস্যা ঐটা যত টা খেলার ব্যাসিক জিনিসপত্র ফোকাস করছে তার থেকে বেশি শোনেন আনিমের মত স্পেশাল পাওয়ারআলা জিনিসপত্র অনেক বেশি দেখাইছে (এটার জনরাতে শোনেন আছে অবশ্য 😛 )… আসল কথা বাস্কেটবলের ব্যাসিকের ১২ টা বাজাইয়া ছাড়ছে .. স্লাম ডাঙ্ক দেখে বাস্কেটবল নিয়ে এত কিছুই শিখছি যে বাস্কেটবল খেলার ভিডিও আমি ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখছি (জর্ডানের ভিডিও)… ক্যারেক্টারে আসি এবার ..এত বস বস সব ক্যরেক্টার একেকটা ..আর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ..একেকজনের একেক রকমের স্টাইলের খেলা অনেক মজার আর অনেক জোস করে দেখাইছে…মেজর মাইনর সকল ক্যারেক্টারই জোস….আর মেইন ক্যারেক্টার সাকুরাগি হানামিচি .. এর মত ক্যারেক্টার ভাল না লাইগা থাকা যায় না.. এর মত একটা ক্যারেক্টার থাকলেই যে কোন আনিমে দেখতে বসার আর কোন রিজন লাগে না..তার উপর সাথে তো এর সাথে আরও যেসব ক্যারেকটার আছে কোনটাই একটুও খারাপ লাগে নাই..সব কয়টা বস…এক কথায় অস্থির ,মাস্টার পিস ক্লাসিক একটা আনিমে আজ থেকে ৫০ বছর পরও এই জিনিস দেখে কারো খারাপ লাগবে না…আজ থেকে প্রায় ২২-২৩ বছর আগের জিনিস আনিমেশন দেখে অনেকেই নাক সিটকাতে পারে কিন্তু ২-৩ টা এপি দেখার পর এই আনিমেশনেই এমন অভ্যস্ত হবেন যে আনিমে শেষ হবার পর মনে হবে এই আনিমে আরও ১০০ টা এপি নাই কেন? স্লাম ডাঙ্ক কেন সারাজীবন ধরে চলবে না? কেন এত জলদি শেষ হয়ে গেল? এটা যদি সারাজীবন ধরে চলত..আমি যদি এদের সাথে সারাজীবন এমনে মজা করে কাটাইয়া দিতাম..শেষ হয়ে যাচ্ছে দেখে উল্টা মন খারাপ হবে…আর কাহিনী+ একেক টা ম্যাচ এত উত্তেজনার আর মজার আর হাসির জিনিসপত্র তো আছেই …হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দেয়াইয়া ছাড়ে…কাহিনীর শুরু হয় সাকুরাগি কেমনে শোহোকু বাস্কেটবল টীমে ঐ টিমের ক্যাপ্টেনের ছোট বোন হারুকোর প্রেমে পড়ে জয়েন করে এটা নিয়ে…মাথা মোটা মাথা গরম একটা ক্যারেক্টার ..আস্তে আস্তে এরপর ঐ টিমের বাকিদের সাথে কেমনে টিমটার + নিজের খেলার উন্নতি করে স্টেপ বাই স্টেপ এইভাবে আগাইছে কাহিনি..যত আগাইছে তত বেশি জোস হইছে..আনিমে তে কাহিনি শেষ করে নাই দেখে লাস্টে আইসা মনে হবে এরপর কি হবে? আনিমে দেখার পর মুভিগুলা+মাঙ্গা পড়লে পুরাটা ক্লিয়ার হয়ে যায়…

Anime: Slam Dunk (episode 101 টা)

রেটিংঃ আমার দেখা সর্বকালের সেরা স্পোর্টস আনিমে আর অন্যতম সর্বকালের সেরা আনিমে

Barakamon রিভিউ — Rokibul Islam

গতকাল রাতে একটানা দেখে শেষ করলাম বারাকামোন। দেখা শুরু করার আগে এইটা নিয়ে কোন রিভিউ পড়া হয়নি। গ্রুপে কিছু পোষ্ট দেখেছি, স্ক্রল করে নিচে নেমে গিয়েছি, পড়িনি। প্রচন্ড মন মেজাজ খারাপ নিয়ে ইউটুব ব্রাউজ করতে গিয়ে সাজেশনে এইটার একটা এপিসোড চোখে পড়লো FunAnimation এর আপলোডে- কী ভেবে প্রথম পর্বে গিয়ে চালু করে দিয়ে বসলাম।

মিথ্যে বলবো না, হুট করে মন ভালো করে দেয়ার টনিক এই এনিমেটা, অন্তত আমার জন্য সেভাবেই কাজ করেছে। ইন্ট্রোতে- নারু যখন কষ্টে সৃষ্টে দরজা খুলে সেনসেই’র ঘরে উঁকি দেয়- ঐ জায়গাটা দেখেই কেমন জানি মন ভালো হয়ে যায়।

খুব সাদামাটা গল্প, প্যাচগোছ নেই। কিন্তু, আছে উচ্ছাস, নিজেকে খুঁজে নেয়ার গল্প, দুরন্তপনা, একটু পর পর হেসে উঠবার বাহানা… পুরো সিরিজটার প্রাণ আমার কাছে হান্দা সেইসু আর নারু। নারুকে ভালো না লাগার কোন কারণ নেই; উপরি হিসেবে বলবো- এই দুরন্ত, হাসিখুশী পুচকে ছুঁড়িকে দেখলেই আমার পিচ্চি কাজিনটার কথা মনে পড়ে যায়- প্রায় কাছাকাছি বয়সী- কিন্তু একই রকম প্রাণশক্তি, পোকামাকড়ের ভক্ত, নানাবাড়ির এমাথা থেকে ওমাথা দৌড়ে বেড়াবে।

পুরো সিরিজটা ধরেই নিজেকে নতুন ভাবে চেনার কাজটুকু করে যাবে হানদা, সহজ সরল- পরোপকারী দ্বীপের মানুষগুলোর কাছে থেকে একটু একটু করে জীবনকে নতুন ভাবে শিখতে শুরু করবে। প্রথম পর্বে উঁচু দেয়ালের উপরে উঠতে গিয়ে হানদার উদ্দেশ্যে নারুর বলা শিশুমনের সরলোক্তিগুলো কিছুটা হলেও নিজেকে নাড়া দিয়ে গেছে; পুরোটা সিরিজেই এমন অনেক বার্তা রেখে গেছে দর্শকদের জন্য। একেবারে শেষ পর্বে হানদার মা’র কথাটুকু শেষটায় খুব সত্য মনে হয়- “হানদার ক্যালিগ্রাফি কেবল পরিণত হয়নি, মানুষ হিসেবে সেও পরিণত হয়েছে ঐ দ্বীপে গিয়ে…”

মাত্র ১২ টা পর্ব দেখে শেষটায় নিজেরই মন খারাপ হয়ে গেছে। ধুচ্ছাই, শেষ হয়ে গেল।

Aku no Hana (Flowers of Evil) মাঙ্গা রিএকশন — Farhad Mohsin

নোট: আপনি যদি শুধু আনিমে দেখে থাকেন (যেটার সিজন টু বেরোতেও পারে), তাহলে আপনি মাঙ্গার কাহিনীর হয়ত ওয়ান থার্ডের মত দেখেছেন। আমি রিয়েকশন পোস্ট আন-স্পয়লারিশ রাখার চেষ্টা করব, তারপরেও কিছু স্পয়েল করে দিলে দুঃখিত।

প্রথমত, এটা একটা coming-of-age গল্প, সেইখানে অস্বীকার করার কিছু নাই। কিন্তু এটা আপনার এভারেজ কামিং-অফ-এজ মাঙ্গা না। সিনোপ্সিস দেখতে গেলে আপনি দেখবেন সেখানে লেখা –
কাসুগা তাকাও, যে অনেক গভীর সাহিত্যিক জিনিস-পত্র পড়ে। সে ক্লাসের সায়েকি নামে এক মেয়েকে পছন্দ করে, অনেকটা অবসেশনের পর্যায়েই, এবং একদিন হঠাত ঝোঁকের মাথায় সে সায়েকির gym clothes চুরি করে বসে। এবং এই সময়েই সে ধরা পড়ে ক্লাসের ‘সাইকো’ মেয়ে নাকামুরার কাছে। এখানে শুরু হয় নাকামুরার ব্ল্যাকমেইল।

আকু নো হানার সিনোপ্সিস পড়ে কোনভাবেই প্রকৃত গল্পের টোন সম্বন্ধে আইডিয়া পাওয়া সম্ভব না। পড়ে মনে হতে পারে একটা পার্ভার্টেড ধরণের গল্প হতে পারে। কিন্তু পুরো টোনটা আসলেই অন্যরকম। মাঙ্গায় অনেক বেশি লিটারেসি রেফারেন্স আছে, প্রায় কিছুই কমন পড়ে নি। তবে টোনটা, কমন anarchic টোনটা ধরা খুব একটা কঠিন না। আর সেটাই গল্পকে মূলত ড্রাইভ করে নিয়ে যায়। অন্যতম মূল চরিত্র, নাকামুরার মত চরিত্র হিস্ট্রিতে, ফিলসফিতে কম দেখা যায় না। যেন সে অনেক কাছ থেকে সোসাইটিকে দেখেছে। সমাজের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, জীবিকার জন্য তাড়না, একটা রুটিনময় জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একইভাবে চলা, যে শহরে জন্ম সে শহর থেকে এক পাও বাইরে না দেওয়া, এসব কিছুই যেন তার কাছে অনেক অর্থহীন। আশেপাশের সকল মানুষকে তার মনে হয় ফাঁকা খোলসের মত।
এসব কিছু থেকেই বের হওয়ার ইচ্ছা তার। পারলে সে সাথে বের করে আনবে তাকাও কে। গল্পের প্রথম অংশ মূলত তার “Other side” এ যাওয়ার ইচ্ছা নিয়েই। আশেপাশের এই নর্দমার কীটদের মধ্য থেকে বের হয়ে, সে চলে যেতে চায় অন্য পারে। যেখানে এসব থাকবে না তার আশেপাশে।

চরিত্রায়নকে আমি বেশিই ভালো বলব। আমি পড়তে পড়তে মাঝে মাঝেই চিন্তায় পড়ে যেতাম, কোন চরিত্রটা বেশি ‘অসহ্য’, ক্যাওটিক। মাঙ্গাকা যা করতে চেয়েছেন ভালোমতই করেছেন মনে হয়। মূল চরিত্র, তাকাওকে একটা বিশাল সময় ধরে স্পাইনলেস একটা এম্পটি ক্রিচার ছাড়া কিছু মনে হয় না। মোটামোটিভাবে মাঙ্গার দ্বিতীয় ভাগের একটা সময়ের আগ পর্যন্ত কখনোই আমার তারে ভাল্লাগে নাই।

আর্টওয়ার্ক প্রথম দিকে জেনেরিক ও মিনিমাল ছিল। খুব আহামরি কিছু না। ধীরে ধীরে শেষের দিকে গিয়ে আর্টওয়ার্ক বেশ খানিকটা ইম্প্রুভ করে। তবে পুরো সময়েই যে জিনিসটা বেশ ভালো নজর কেড়েছে, তা হল ভিজুয়ালস।

আর শেষে এনজয়মেন্টের দিক দিয়ে বলব, পড়তে পড়তে যতই মেজাজ গরম হোক, রেখে দেওয়ার মত ছিল না। আকর্ষণ ধরে রেখেছে শেষ পর্যন্ত। গল্পের দ্বিতীয় পার্ট প্রথম পার্টের তুলনায় খানিকটা বেশি soothing ছিল, পরিবর্তনটা ভাল্লাগসে। পুরো গল্পে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্রের আবির্ভাবও মূলত এই সময়েই হয়।

সব মিলিয়ে বেশ বেশ ভালো একটা মাঙ্গা আকু নো হানা। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে সবার জন্য না। আপনার যদি একটু ডার্ক ধরণের সাইকোলজিকাল গল্প ভালো লেগে থাকে তাহলে ট্রাই করে দেখতে পারেন। এ কথা মনে হয় এর আগে বলেছিলাম Goodnight Punpun এর ব্যাপারে।

MAL rating:
manga – 8.15
anime – 7.19

আমার মাঙ্গা রেটিং – 8.5

Kingdom রিভিউ — Gourab Roy

Kingdom:

টেকনোলজির এই যুগে এসব ঢাল তলোয়ারের পিটোপিটি কি ভাল লাগে? হাহ!।এই মনোভাব নিয়ে দেখতে বসলাম কিংডম…তারপরে চোখের নিচে কালি ফেলে ৩ দিনে শেষ করে ফেললাম
আমার দেখা অন্যতম intense এনিমে কিংডম।একশন, মিলিটারি,হিস্টোরিকাল,সেইনেন এর পারফেক্ট সমন্বয়।চাইনিজ ইতিহাসের পরতে পরতে যে এমন টুইস্ট লুকিয়ে আছে যা দেখার সময় মিস্টার
টুইস্ট এর টুইস্ট ও নস্যি মনে হবে।
গল্পের নায়ক xin একজন স্লেভ এবং আহোবাকা।আর আহো বাকা নায়ক দের সবাই বেশ পছন্দ করে ।তার জানের জান ,প্রানের প্রান বন্ধু হিও ও একজন স্লেভ।তাদের এক্টাই লক্ষ্য,আর তা হল এই পৃথিবীর সবচেয়ে হ্যাডা জেনারেল হওয়া।চাইলেই তো হয়না।
ঘটনার পরিক্রমায় হিও আর জিন এর একসাথে থাকা আর হয়ে ওঠেনা।জিন এর তখন পরিচয় হয় গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র Zheng এর সাথে,যে কিনা তরুন বয়সে রাজা হয় এবং কুটিল রাজনীতি এর
শিকার হয়।অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে জিন আর Zheng এর সেই রাজ্য উদ্ধার এবং রাজা হওয়ার পরে রাজ্য রক্ষা এবং জিনের সর্ব শ্রেষ্ঠ জেনারেল হওয়ার কাহিনী নিয়ে চলতে থাকে কিংডম এনিমে এর ঘটনাপ্রবাহ।ডুয়েল,এসেসিনেশন
ফুল স্কেল ব্যাটেল সিন,ব্যাড ass কুল ass,ও কিছু assহীন চরিত্রের ছড়াছড়ি আর অসংখ লোম খাড়া করা সিন ও ডায়ালগ দেখতে দেখতে কখন যে চাইনিজ খেতে মন চাইবে টের ও পাবেন না

এ এনিমের এক্টাই খারাপ দিক,তা হল এনিমেশন।প্রথম এক দুই এপিসোড দেখার পরে সেটাও আর খারাপ লাগবেনা।ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক মানানসই। ওপেনিং আর এন্ডিং সং দুটোই ওয়ার থিমের
সাথে ভাল যায়।ভয়েস এক্টিং যেখানে যেরকম দরকার সেখানে সেরকম একদম।নায়ক জিনের আর ইচিগোর ভয়েস এক্টর একই।তাই ব্লিচ এর ফিলিংস পেতে পারেন মাঝে মদ্ধে।গল্পে নায়িকা নেই
বললেই চলে।তবে কিছু শক্তিশালী নারী চরিত্র আছে,যাদের চেহারা দেখে সাথে সাথে ক্রাশ খেয়ে যাওয়া বিচিত্র নয়।সিজন ১ এর সিজন ফিনালে আমার দেখা অন্যতম সেরা সিজন ফিনালে।
স্টোরি ছাড়া আমার এ এনিমের যেটা বেশ ভাল লাগে তা হল ওভারহোয়েল্মিং কিছু চরিত্র।দেখা যাবে বেশিক্ষনের জন্য তারা স্ক্রিন টাইম না পেলেও তারা আপনার কোকোরো কে ডমিনেট
করবে।একবার ঢুকে গেলে এনিমের মদ্ধে, পুরোটা না খেয়ে আপ্নি আর উঠতে পারবেন না,এবং নিজেকে আরো একবার এনিমখোর হিসেবে আবিষ্কার করবেন।
আমার রেটিং :৯.৯৯।(.০১ এনিমেশনের জন্য কাটা) :v
আর এটা পুরোপুরি বায়াসড রিভিউ,ব্যাক্তিগত এনিমে লিস্টে এটা টপ ৫ এ চলে যাওয়ার জন্য অনেক টুক টাক ভাল না লাগা ও বাদ দিয়ে গেছি সানন্দে।
তো আর দেরি না করে দেখে ফেলুন কিংডম,আর ভুলে যান দম ফেলতে কারন এটা যে রুদ্ধশ্বাস এনিমে।

Natsume Yuujinchou রিভিউ — Gourab Roy

Natsume Yuujinchou:(Natsume’s Book of Friends):

মনে করুন দিন রাত ২৪ ঘন্টা আপনি একটা কোন কিছু দেখতে পাচ্ছেন,যা আপনার চারপাশের কেউ পাচ্ছেনা।বল্লেও কেউ বিশ্বাস করছেনা,এদিকে আপনাকে বিনা পয়সায় মিথ্যাবাদী উপাধি দিচ্ছে.।বুক ফাটছে আপনার কিন্তু মুখ ফুটছেনা।
এনিমের নায়ক নাতসুমে ঠিক এ পরিস্থিতি তেই দিন কাটাচ্ছিল।সে ইয়োকাই বা আয়াকাশি দের দেখতে পায়,যা কিনা অন্য রা পায়না।তার একাকি দিনের অবশান ঘটে যখন সে তার গ্রান্ডমা এর রেখে যাওয়া একটা ইয়োকাই দের নাম সম্বলিত বই পায়।এ বই আলাদিনের চেরাগের মতই ক্ষমতাশালী ।এ বইয়ে যে সব ইয়োকাই দের নাম আছে তাদের সবাই ই নাতসুমের হুকুম তামিল করতে বাধ্য।কিন্তু গকু লেভেলের ভদ্রলোক নাতসুমে ইয়োকাই দের কে নাম ফিরিয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর।আর এদিকে নাতসুমের সাথে পরিচয় হয় এক মোটা গোটা হুলো বেড়াল ইয়োকাই এর।যে নাতসুমের বডি গার্ড হিসাবেই থাকে।


ইয়োকাই খারাপ হয় ,ভাল হয় ,আবার অনেক কিউট ও হয় ।কিউট ইউওকাই গুলো দেখলে মনে হয় ইস ! একটু চটকে আসি… 😛 । নাতসুমে চায় এদের সাথে কো এক্সিস্ট করতে।কিন্তু কখন ও কখনো তাকে মারপিট করাই লাগে এই ইয়োকাই দের সাথে।
শেষ পর্জন্ত নাতসুমে পেরেছিল কিনা মানুষ এবং ইয়োকাই দের সাথে কো এক্সিস্ট করতে,কি হয়েছিল সেই পাওয়ারফুল বইটার এগুলো জানতে দেখে ফেলতে পারেন ৪ সিজনের,মোট ৫২ এপিসোডের নাতসুমে ইউজিঞ্চো।

এনিমেশন বেশ ভাল।এপিসোডিক কাহিনি,এবং একটু স্লো পেসড।স্লাইস অব লাইফ এর স্বাদ পাবেন বেশ ভাল ভাবেই। ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক বেশ মানান্সই কাহিনির সাথে।আর ওপেনিং আর এন্ডিং সং গুলো বেশ হৃদয়গ্রাহী।প্রতিটা এপিসোড দেখার সময় আপনার মনে হবে জীবনে বুঝি কোন ব্যাস্ততা নেই,মনে হবে শীতের সকালে হাল্কা রোদে একটু কাপুনির সাথে আরামে শরীর এলিয়ে দিয়ে রোদ পোহাচ্ছেন ।

হয়ত আপনার ধুন্ধুমার পিটাপিটি দেখতে ইচ্ছে হচ্ছেনা,আবার একদম স্লাইস অব লাইফ এর ফ্যান ও না আপ্নি ।তাহলে সুপারন্যাচারালিটির স্বাদ যুক্ত Natsume Yuujinchou দেখে ফেলুন আর দেরী না করে,আর হারিয়ে যান এক অজানা ভাল লাগায় 🙂
আমার রেটিং: ৮.৫

এনিমে রেকমেন্ডেশান: বাকুম্যান (Bakuman) — S M Nehal Hasnaeen

এনিমে রেকমেন্ডেশান – বাকুম্যান (Bakuman)
আগেই বলে রাখি এটা বাংলায় লেখা আমার প্রথম রিভিউ। কেমন হবে জানি না তাও হঠাৎ মনে হল তাই লিখতে বসলাম, সকল ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। 🙂
বাকুম্যানের কাহিনীর শুরু ১৪-বছর বয়সী মাশিরো মোরিতাকাকে দিয়ে। মোটামুটি নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলের (middle school এর যথাসম্ভব পরিমার্জিত বাংলা :P) গোটা সময়ই ক্লাসমেট আজুকি মিহোর প্রেমে পড়ে থাকে। এদিকে তার চাচা মাশিরো নবুহিরো একজন মোটামুটি পরিচিত মাংগাকা ছিলেন, যার একটা সুপারহিরো গ্যাগ মাংগা এনিমে এডাপটেশান পায়। তিনিও মিডিল স্কুলে একজনকে ভালবাসতেন, যার সাথে তার কেবল চিঠিতে কথা হত, এবং নবুহিরো সাফল্য পাবার আগেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার বিয়ে হয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে তার মাংগা শৌনেন জ্যাক থেকে ক্যানসেলড হয় এবং পরবর্তী সিরিয়ালাইজেশান এর জন্য হাঁড়ভাঙা পরিশ্রমের কারণে তিনি অকালে মৃত্যুবরণ করেন। ছোট্ট মোরিতাকার জন্য তার চাচাই ছিল সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা, চাচার মৃত্যুতে তার নিজের মাংগাকা হবার স্বপ্নও বাধাপ্রাপ্ত হয়। দুই বছর এভাবে যাবার পর তার স্বপ্ন তাকে আবার দেখতে শেখায় তার ক্লাসের মডেল স্টুডেন্ট তাকাগি আকিতো। প্রথমবার মাশিরোকে প্রস্তাব দিলেও সে তা ফিরিয়ে দেয়। এরপর আজুকির প্রতি মাশিরোর অনুভূতিকে পুঁজি করে এবার সে সরাসরি আজুকির বাসায় চলে যায়, মাশিরো মরিয়া হয়ে ছুটে যায় সেখানে। তাকাগির কাছে মাশিরো জানতে পারে আজুকির স্বপ্ন একজন সেইয়ু (voice actress) হওয়া। এরপর তার চাচার কথা স্মরণ করে মাশিরো বলে বসে, তার আর তাকাগির মাংগা এনিমে এডাপটেশান পেলে আজুকিকে মেইন ফিমেল ক্যারেক্টার এর ভয়েস করতে দেওয়া হবে, আর তাদের দুইজনের এই স্বপ্ন যখন পূর্ণ হবে, তখন তারা বিয়ে করবে। সবাইকে অবাক করে আজুকি রাজি হয়, শুরু হয় তাদের স্বপ্ন ছোঁয়ার এক অনবদ্য রূপকথা।
এবার টেকনিকাল বিষয়গুলাতে আসি, স্টোরিলাইন আমার মতে খুঁতবিহীন, একজন মাংগাকার সব ধরণের স্ট্রাগল আর ট্রায়াম্ফের কথা চমৎকারভাবে উঠে এসেছে। রাইভ্যাল, বিবাদ, ভুল বোঝাবুঝি, ইত্যাদি অনেক ক্লিশে এখানে থাকলেও তা কেন জানি ঠিক ক্লিশে মনে হয়না। আশিরোগির (তাকাগি আর মাশিরোর পেন নেম) হাসিকান্নার সাথে আপনার হাসিকান্না একাকার হয়ে মিশে যেতে বাধ্য। এনিমে যত সামনের দিকে যেতে থাকবে স্টোরিলাইন ততই চুম্বকের মত আপনাকে টানবে।
এনিমেশন আর মিউজিক যথেষ্ট ভাল মনে হয়েছে। এনিমেশন এর একটা দুর্বলতা হল মোটামুটি ১০ বছরে কোন চরিত্রের চেহারা বা দেহগঠন এর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই, যদিও মাংগায় তা ভালভাবেই আছে। এটা ছাড়া তেমন অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়েনি। আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পরিবেশের সাথে একদম মানিয়ে গিয়েছে।
আমি যখন ভাল কোন এনিমে দেখি তখন খালি মনে হয় একে আমার টপ টেনে রাখব কিনা। বাকুম্যান দেখার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, সাথে সাথে মনে হয়েছে এটা যেভাবেই হোক আমি আমার প্রথম দশটা এনিমের মধ্যে রাখব। ক্ষনিকের জন্য হলেও আশিরোগির স্বপ্ন আমার স্বপ্ন হয়ে গিয়েছিল। এই এনিমে থেকে শিখার অনেক কিছুই আছে, তবে এর প্রধান উপজীব্য হল, যত বাধাই আসুক না কেন , লেগে থাকলে তোমার স্বপ্ন সত্যি হবেই, তা তিন বছর পরেই হোক আর দশ বছর পরেই হোক, শুধু নিজের কাজকে ভালবেসে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে যেতে হবে।

Kyousou Giga (TV) 2013 রিভিউ — Fahim Bin Selim

 

giga

কিয়োসৌগিগা(২০১৩) [Kyousou Giga(TV) 2013]
পর্বঃ ১০(+২+১)
জনরাঃ ফ্যান্টাসি, অ্যাকশন, সুপারন্যাচারাল
প্রযোজকঃ তোয়েই অ্যানিমেশন
মূলঃ মারুও মিহো
পরিচালকঃ রিয়ে মাতসুমোতো
থিমঃ ফ্যামিলী, লোকগাথা, প্যারালাল ইউনিভার্স
মাইঅ্যানিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.০২(#৪৭৩)

আপনি যদি কিয়োটো যান তাহলে সেখানে উমেগাহাতা তোগানোচোতে কৌযানজি(Kouzanji) বৌদ্ধ মন্দির এর দেখা পাবেন। পুরোহিত মিওয়ে-এর হাতে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির জাপানের অন্যতম সুন্দর দর্শনীয় স্থানই না, এর মহাত্ব্য সাংস্কৃতিকভাবেও অমূল্য। এর ভেতরে গেলে আপনি দেখবেন চারটি স্ক্রোলের সমন্বয়ে তৈরি একটি চিত্রপুস্তক। যাতে আছে ব্যাং-এর ছবি, খরগোশের ছবি, আর বানরের ছবি। এর নাম চৌজুগিগা(Choujuu Giga)। আর এই চৌজুগিগাই হল ইতিহাসের সর্বপ্রথম “মাঙ্গা”।

২০১১ সালে কোদোচা(Kodocha), কালারফুল(Colorful), স্কুল রাম্বল(School Rumble)-খ্যাত চিত্রনাট্যলেখিকা মারুও মিহো(Maruo Miho) চৌজুগিগার ছবিগুলো নিয়েই ফেঁদে বসলেন একটি গল্প, ২৫ মিনিটের ওভিএ। তোয়েই অ্যানিমেশনের প্রযোজনায়, নবাগত রিয়ে মাৎসুমোতোর(Rie Matsumoto) পরিচালনায় – কিয়োসৌগিগা(Kyousou Giga)। পরের বছর ১০ মিনিটের আরো ছয়টি পর্বের সিকুয়েল। আর সম্পূর্ণ গল্প নিয়ে অবশেষে ২০১৩ সালে ১০ পর্বের অ্যানিমে টিভি সিরিজ।

“Once when many planets intermingled and the boundary between human and Gods was vague, this is a story about a particular family, a tale of love and rebirth”

কিয়োটোর(Kyoto) এক কোনায় কৌযানজি মন্দির। আর তার ভেতর গুপ্ত আরেকটি শহর, “মিরর ক্যাপিটাল(Mirror Capital)”(জাপানীতে কিয়োটো, একই উচ্চারন, ভিন্ন কানজি)। কিয়োটোতে মানুষ বাস করে, ইয়োকাইরা বাস করে। আর কেউ কখনো মারা যায় না। আর এখানে নতুন কেউ প্রবেশ করতে পারে না। আর পারে না কেউ বের হতে। আর এখানে কোন কিছু ভেঙ্গে গেলে তা আপনাআপনি আবার জোড়া লেগে যায়। এই মনোমুগ্ধকর জগতের দেখভাল করার দায়িত্ব তিন ভাইবোনের উপর বর্তানো, দ্য কাউন্সিল অফ থ্রি – বড় ভাই কুরামা(Kurama), তাদের বোন ইয়াসে(Yase) আর সবচেয়ে ছোট ভাই মিওয়ে(Myoue)। যারা আছে তাদের বাবা-মা, প্রিস্ট মিওয়ে(Myoue Jonin) আর লেডি কোতো(Lady Koto)-‘র ফেরার অপেক্ষায়।
অনেক অনেক দিন ধরে কিয়োটো ছিল শান্তিপূর্ণ। অঘটনমুক্ত। ঘটনমুক্ত। অনাকর্ষনীয়।
তারপর একদিন একটি মেয়ে হঠাৎ মাত্রিক বিভেদ ভেঙ্গে চলে আসলো কিয়োটোতে, সাথে তার ছোট দুই ভাই, আ(A)(শুরু) আর উন(Un)(শেষ)। মজার ব্যাপার হল, এই মেয়েটার নামও, যা তাদের মায়ের নাম ছিল, কোতো(Koto)(একই উচ্চারন, ভিন্ন কানজি)। কোতো তার তার বিশাল হাতুড়ি দিয়ে সবকিছু ভেঙ্গে তছনছ করা শুরু করল, কিন্তু সেগুলা আর নতুন করে জোড়া লাগলো না! তারপর একটা বিশাল “মেকা”-র সাথে তুমুল লড়াইয়ে নেমে গেলো!
হঠাৎ করেই কিয়োটোতে একের পর এক ঘটনা ঘটা শুরু করল। অঘটন ঘটা শুরু করল। আর সবকিছু হয়ে উঠল আরো অনেক আকর্ষনীয়।

সিনোপ্সিস নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন প্রয়োজন নেই। প্রথম কয়েক পর্ব দেখার পর কিয়োসৌগিগা বেশ জটিল আর অগোছালো মনে হবে। এর কাহিনী এগুবো অতীত আর বর্তমানে সমান্তরালে। নন-লিনিয়ার ন্যারেটিভ, বুঝতে কষ্ট হওয়ারই কথা। তাই প্রথমে সবকিছু মাথার উপর দিয়ে গেলেও অসুবিধা নেই। সব জটিলতার পেছনে কিয়োসৌগিগার গল্প খুবই সহজ সরল, পারিবারিক ভালোবাসা। এক কোরের অনেক অরিজিনাল অ্যানিমেই ভালো শুরুর পর শেষে প্যাঁচ লাগিয়ে ফেলে বা পেসিং এ গড়বড় হয়ে যায়। মাত্র ১০ পর্বে যেকোন গল্প বলতেই কষ্ট হওয়ার কথা। তার উপর এই অ্যানিমের মত একটা গল্প। কিন্তু বিষ্ময়করভাবে শুধু ১০ পর্ব ধরে আখ্যানে অসাধারন সমন্বয় দেখানোই নয়, কিয়োসৌগিগা পুরো ১০ পর্ব ধরে দূর্দান্ত পেসিং-এ চলে সবশেষে সন্তোষজনক এক সমাপ্তী উপহার দিবে।
আর অন্যান্য অনেক “ভিজুয়ালি এনটাইসিং” অ্যানিমের মত “স্টাইল ওভার সাবস্টেন্স” না, কিয়োসৌগিগার স্টাইল যত মনোমুগ্ধকর, তার সাবস্টেন্সও ততই চিন্তাদ্দীপক। বিনোদনময়ীও। বেশিরভাগ সময়ই হালকা আবহের, ক্লাইম্যাক্সে কিছুটা ডার্ক, কিন্তু কখনোই সম্পূর্ণ গম্ভীর না।

তোয়েই অ্যানিমেশনের কাছে সাধারনত ভালো প্রোডাকশন ভ্যালু আশা করা যায় না। কিন্তু কিয়োসৌগিগা এর ব্যতীক্রম। প্রথম যে জিনিসটা হয়তো চোখে পরবে তা হল এর অসাধারন ভিজুয়াল, আর্টস্টাইল আর অ্যানিমেশন। রঙ্গিন আর ভাইব্রেন্ট। ফ্লুইড আর ফ্লেক্সিবল। কিয়োসৌগিগা চোখ জুড়ানো, ছবির বইয়ের মত। হাতে আঁকা অ্যানিমেশনের নিঁখুত উদাহরন। আর সাথে আছে এর অসাধারন পরিচালনা। মনে রাখার মত ওপেনিং আর এন্ডিং, এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আর ইন্সার্ট সং-এর চমৎকার ব্যবহার। চমকপ্রদ সিনেমাটোগ্রাফি। আর জমকালো, অ্যাড্রেনালীন তুঙ্গস্পর্শী করা সব অ্যাকশন সীন।

একদিক দিয়ে চিন্তা করলে কিয়োসৌগিগা ইতিহাসের প্রথম “মাঙ্গা”-‘র অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন। কিন্তু আসলে কিয়োসৌগিগার চৌজুগিগার প্রাণহীন ছবিগুলোতে প্রাণ দিয়েছে; তার দ্বারা কেবল অনুপ্রাণিত হয়ে ধর্ম, ইতিহাস আর লোকগাঁথার সমন্বয়ে যে অসাধারন এক গল্প তৈরী করেছে, যে অনন্য একটি জগৎ তৈরি করেছে, তার ভেতরে চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে ফুটিয়ে তুলেছে – তা মিহো আর মাতসুমোতো, দুই রমণীর সৃজনশীল কল্পনার এক অনবদ্য উদাহরন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর জন্য একটি করে পর্ব বরাদ্দ করা, তাই প্রথম অংশ এপিসোডিক। তাদের চোখে জগতটা দেখানো, তাদের ভালোলাগা, মূল্যবোধের প্রকাশ; যা দ্বিতীয়াংশে সবগুলো চরিত্রের ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের সহায়ক।

এক কথায় বর্ণনা করতে গেলে কিয়োসৌগিগা হল পাগলাটে। এই অ্যানিমে দেখার অভিজ্ঞতার সাথে খুব কম অ্যানিমেরই মিল খুঁজে পাবেন। কিয়োসৌগিগা আমার দেখা অন্যতম সেরা ফ্যান্টাসি অ্যানিমে। (উচুতেন কাযোকুর পাশাপাশি) ২০১৩ সালের সেরা অ্যানিমেও।
কিয়োসৌগিগা হল জাত অ্যানিমেশন। লাইভ অ্যাকশন বা বই – আর কোন বিনোদন মাধ্যমেই যা ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হতো না। শুধু “অ্যানিমে” বা “টিভি বিনোদন” না, “অ্যানিমেশন”-এর ভক্ত হলে এখনই দেখতে বসে যান। কিয়োসৌগিগা আপনাকে মুগ্ধ করবে, বারবার মুগ্ধ করবে, অনেকদিন চোখে লেগে থাকবে, মনে গেঁথে থাকবে, আর আবারো মনে করিয়ে দিবে অ্যানিমেশনের সব কিছু যা এই মাধ্যমকে অনন্য আর আলাদা করেছে আর সবকিছু থেকে।

আমার রেটিংঃ ৮৯/১০০

[ বিদ্রঃ যেভাবে দেখবেন –

পর্ব ০০ – প্রথম ওভিএ। প্রথম ৪-৫ পর্বের সামারির মত, একটি নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ন ক্লিফহ্যাঙ্গারে গিয়ে শেষ। অবশ্য প্রথম দেখায় কিছু বুঝার কথা না।
পর্ব ০১-১০ – মূল কাহিনী
পর্ব ৫.৫ – সত্যিকারের কৌযানজি মন্দিরের উপর একটি ডকুমেন্টারি ধাঁচের পর্ব, অ্যানিমের তিন ভয়েস অ্যাকটরের উপস্থাপনায়।
পর্ব ১০.৫ – পুরো কাহিনীর একটি সামারি/রিভিউ ]

The Garden of Words রিভিউ — Mahsheed Noor Nini

রিভিউ (প্রথমবারের মত তাই চক্ষুতে চাপ পরলে ক্ষমা প্রার্থী 😛 )

নামঃ The Garden of Words
সময়: 46 mins
জনরা: romantic drama

প্লট:
মুভির শুরুতেই যে বিষয়টি আপনরা চোখে পরবে সেটি হল আর্ট ওয়ার্ক। অত অসাধারণ আর্ট ওয়ার্ক আমি কোন আনিমেতে পাইনি। আমি জানি অধিকাংশ আনিমে ভক্তরা জীবনে অন্তত একবার হলেও জাপানে যেতে চান এবং এই মুভিটা দেখে আপনার ইচ্ছা আরও পাকা পক্ত হবে। সব কিছু এত ডিটেইলড এখানে যে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য।

এবার আসি গল্পতে। কাহিনীটি একটু ধীরগতির কিন্তু আমার ভালো লেগেছে। কারণ এখানে অনেক কিছুই সাধারণের একটু বাইরে। ১৫ বছরের তাকাও নামের ছেলেটি যখন একজন শু মেকার হতে চায়, তখন আমি একটু অভিভূত না হয়ে পারি না! একটি বৃষ্টির দিনে পার্কে তার দেখা হয়ে যায় একটি নারীর সাথে। মেয়ে না বলে নারী বলছি কারণ তাদের এইজ ডিফারেন্সটা বেশী। এভাবেই বৃষ্টি হলে দুজন পার্কে চলে আসে একজন আরেকজনকে সঙ্গ দিতে। তাদের সম্পর্কটা কতটা অদ্ভুত জানতে হলে আপনার মুভিটি দেখতে হবে। মুভির শেষটি অন্তত টিপিকাল না এটা আপনাকে বলতে পারি।