দা তাতামি গ্যালাক্সি [রিভিউ] — Safin Zaman

The Tatami Galaxy

The Tatami Galaxy Review
পর্ব সংখ্যাঃ ১১
জনরাঃ মিস্টেরি, সাইকোলজিকাল, রোমান্স

প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। বেশ ইন্টারেস্টিং একটা কনসেপ্ট। ভাবতে মজাই লাগে আমাদের এই জগতের বাইরেও আরো অনেক জগত আছে যেখানে প্রায় সবকিছু একই, দুই একটা ক্ষুদ্র জিনিস ছাড়া। হয়তো আপনি এখন এই রিভিউ পড়ছেন, কিন্তু অন্য জগতের আরেক আপনি এই রিভিউ দেখেই স্ক্রল করে চলে গেছে। তার মানে বলা যায় এখন দুইটা জগত বিদ্যমান। একটাতে আপনি রিভিউ পড়ছেন, আরেকটাতে পড়ছেন না। হয়তো এমনও একটা জগত আছে যেইখানে আমি এই রিভিউই লেখি নাই। সব মিলিয়ে মজার হলেও বেশ জগাখিচুড়ি একটা অবস্থা। কিন্তু এই জগাখিচুড়ি কনসেপ্টকে এতটা সুন্দর আর উপভোগ্যভাবে দর্শকের সামনে উপস্থিত করেছে তাতামি গ্যালাক্সি তার প্রশংসা না করলেই নয়।

তাতামি গ্যালাক্সি তোমিহিকো মোরিমির লেখা এক উপন্যাসের অ্যাডাপ্টেশন যা স্টুডিও ম্যাডহাউজ ২০১০ অ্যাডাপ্ট করে। উপন্যাসের পুরোটাই ফার্স্ট পারসন ন্যারেটিভে লেখা । তাই হয়তো এনিমের কোথাও প্রোটাগনিস্টের নাম উল্লেখ করা হয় নি। লেখার স্বার্থে ধরি প্রোট্যাগনিস্টের নাম ‘ওয়াতাশি’। এই ওয়াতাশি এক কলেজ ছাত্র। অন্যসব কলেজ ছাত্রদের মতও তার স্বপ্ন এক পার্ফেক্ট কলেজ লাইফের যেখানে বন্ধুবান্ধব, ভালবাসার মানুষ নিয়ে কাটবে তার দিনকাল। তার ভাষায় এক “গোলাপী রঙ এর ক্যাম্পাস জীবন”। এই পরম আরাধ্য ক্যাম্পাস জীবনের জন্য সে বিভিন্ন সার্কেল বেছে নেয় আর স্বপ্ল দেখে সে বন্ধুবান্ধব ঘেরা থাকবে, কৃষ্ণকালো চুলের এক রমণী তার প্রেমে পড়বে… কিন্তু ফ্যান্টাসি তো ফ্যান্টাসিই। বাস্তব জীবনের সাথে তার আকাশ পাতাল তফাৎ। কৃষ্ণকালো চুলের রমণী তো দূরের কথা, পুরো ক্যাম্পাস লাইফে তার পরিচয়ই হয় দুইজন মেয়ের সাথে। আর বন্ধুবান্ধব ঘেরা থাকার বদলে তার সংগী ‘ওযু’ নামক এক আজব প্রাণীর যাকে দেখলেই পাতাল থেকে বের হওয়া এক ভূতের কথা মনে পরে।

তাতামি গ্যালাক্সির স্পেশালিটি এর গল্পকথন। কিংবা সোজা ভাষায় বললে, এর ন্যারেটিভ। এনিমের ১১টা এপিসোড ১১ রকমের পরিস্থিতি দেখায়, যার মুখোমুখি ওয়াতাশি হতে পারে। শেষ দুই পর্ব বাদে প্রত্যেক পর্ব শেষেই গল্প রিওয়াইন্ড হয়ে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ফেরত যায় যেইখানে ওয়াতাশি কোন গুরুত্বপূর্ণ ডিসিশন নিচ্ছিল। ফলাফল হিসেবে একেক এপিসোডে দর্শক ওয়াতাশির নেওয়া একেক ডিসিশনের ফলাফল দেখতে পারে। উদাহারণ হিসেবে এক এপিসোডে ওয়াতাশি ইংলিশ ক্লাবের সদস্য আরেক এপিসোডে সিনেমা ক্লাব। এই ডিসিশনের ভিন্নতার কারণে তৈরী ওয়াতাশির ভিন্ন ভিন্ন জীবন , আরেক কথায় প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। এক প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের ওয়াতাশি ইংলিশ ক্লাবের সদস্য, তার পরিচিত মানুষজন এক রকম, তার চিন্তাভাবনা এক রকম। আবার আরেক প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের ওয়াতাশি সিনেমা ক্লাবের সদস্য।তার জীবন ইংলিশ ক্লাবের ওয়াতাশি থেকে ভিন্ন। এইভাবে নয় এপিসোডে ওয়াতাশির নেওয়া নয় রকম ডিসিশনের ফলাফল হিসেবে নয় রকমের জীবন দেখানো হয়। কিন্তু একটা জীবনও ওয়াতাশির পছন্দ নয়। তার চাই সেই কল্পনার “Rose colored campus life”।ওয়াতাশি তার পরম আরাধ্য ক্যাম্পাস জীবনের পিছনে আজীবনই ছুটে যেত যদি না ৪.৫ তাতামির লুপহোলে পড়ে সে জীবনের চরম সত্যটা অনুধাবন না করত, “যা আছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা”।

ন্যারেটিভ বাদে তাতামি গ্যালাক্সির চরিত্রগুলো আর এর আর্টস্টাইলের কথা না বললেই নয়। চরিত্র এতে কম কিন্তু যেইগুলো আছে প্রত্যেকেই তাদের নিজস্বতায় পরিপূর্ণ। এমন কোন চরিত্র নাই যেইটা কেবল থাকার জন্য ছিল। প্রত্যেক চরিত্রেরই গল্পের পেছনে কিছুনা কিছু অবদান ছিল আর সেইটা চমৎকারভাবেই উপস্থাপন করেছে তাতামি গ্যালাক্সি।

তার পর আছে এর আর্টস্টাইল। এর আর্টস্টাইল শুরুতে কিছুটা অন্যরকম লাগলেও কাহিনী যত আগাবে তত মনে হবে এইরকম গল্পের জন্য এর চেয়ে ভালো আর্টস্টাইল হতেই পারে না। ডার্ক শেডেড কালার থেকে ভাইব্রেন্ট কালারের আর্টস্টাইলে শিফটগুলো অনেক সুন্দর ছিল। আর শেষ দুই পর্বে রিয়েল লাইফ ইম্যাজারি যোগ করেছে নতুন মাত্রা। সব মিলিয়ে এক অনবদ্য রঙের খেলা যেন এটা।

আমার কাছে এটা ১০/১০ এনিমে। তাই নেগেটিভ কোন পয়েন্ট থাকলেও খুঁজে পাচ্ছি না।আমার মতে এই এনিমে খারাপ লাগতে পারে একমাত্র যদি এই ধরণের এনিমে আপনার টেস্টের না হয়ে থাকে। এছাড়া তাতামি গ্যালাক্সি উপভোগ না করার কোন কারণ নেই। যদিও এর ন্যারেটিভ সাধারণ এনিমের তুলনায় একটু বেশিই দ্রুত তবে প্রথম ১০/১৫ মিনিটের পর অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। আর অভ্যস্ত না হলে স্লো করে দেখার অপশন তো আছেই।

সব মিলিয়ে এক কথায় মাস্টারপিস লেভেলের এক এনিমে তাতামি গ্যালাক্সি। একটা বড় পাজল অনেকখন ধরে মেলানোর চেষ্টা করার পর মিলালে যেমন আনন্দময় একটা অনুভূতি হয় ঠিক তেমন অনুভূতি পেয়েছি এই এনিমে শেষ করে। যাদের কাছে ব্রেইন টিজার টাইপের শো পছন্দ তাদের জন্য অবশ্যই রেকমেন্ডেড।

Seikaisuru Kado/Kado: The Right Answer [রিভিউ] — Safin Zaman

Kado

Seikaisuru Kado / Kado: The Right answer 
পর্ব সংখ্যাঃ ১২
জনরাঃ সাই-ফাই
ম্যাল রেটিংঃ ৭.১৭

অন্যসব দিনের মতই সাধারণ আরেকটা দিন। সব ঠিকই চলছে। কিন্তু হঠাত করেই আকাশ থেকে এক অজানা উড়ন্ত বস্তু নামলো, সেই অজানা বস্তুর ভেতর থেকে বের হলো কিম্ভুতাকার কিছু প্রাণী……অতিপরিচিত একটা সিনারিও।

‘ফার্স্ট কনট্যাক্ট’ বা এলিয়েনদের সাথে মানবজাতির দেখা সাক্ষাত নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। এ নিয়ে অজস্র মুভি,বই হয়েছে । কিছু জায়গায় এলিয়েনরা মানবজাতির ভাল চায়, আবার কিছু জায়গায় এলিয়েনদের কাজ হলো পিউ পিউ শব্দ করা লেজার গান নিয়ে মানবজাতি নির্মূল করা। তবে এত জনপ্রিয় হওয়ার পরেও এনিমেতে এই কনসেপ্টের উপর ভিত্তি করে এনিম ছিল না বললেই চলে। আর এই অভাব পুরন করতেই এল গত স্প্রিং ২০১৭ সিজনের এনিমে Seikaisuru Kado/ Kado: The Right Answer.

এনিমের শুরু অন্যসব ফার্স্ট কনট্যাক্টের মত করেই। একদিন হঠাত করে জাপানের এক এয়ারপোর্টের উপর আগমন ঘটে এক রহস্যময় কিউবের । ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ,প্রস্থ ও উচ্চতার এই পার্ফেক্ট কিউবের ভেতর আটকা পড়া প্যাসেঞ্জার প্লেন উদ্ধারে যখন দেশের উচ্চপদস্থরা ব্যস্ত তখন তাদের হতবাক করে দীয়ে কিউবের ভেতর থেকে বের হয়ে আসে সাদা চুলের এক রহস্যময়ী ব্যক্তি যে নিজের পরিচিয় দেয় Yaha kui zaShunina নামক এক ‘হাইয়ার ডাইমেনশনাল’ সত্বা হিসেবে। শুধু তাই নয়, সে তার সাথে এমন কিছু প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে যা মানবসভ্যতাকে কয়েক লক্ষ বছর সামনে এগিয়ে দিতে সক্ষম।

কিন্তু মানুষ মানুষই, এই হাইয়ার ডাইমেনশনাল বিইং আর এর প্রযুক্তি তারা কোনভাবেই ভালো মত নিতে পারল না। একদিকে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে কে প্রযুক্তিগুলোর মালিক হবে তা নিয়ে বাগড়া বাধল, আরেকদিকে মানবসভ্যতার এই আকস্মিক অগ্রগতির বিরুদ্ধেও মতামতও দেখা গেল। সব মিলিয়ে পুরো বিশ্ব এই বিষয় নিয়ে পড়ল চরম বিশৃংখলায়। আর এভাবেই এগিয়ে চলে এনিমের কাহিনী।

সেইকাইসুরু কাডোর অন্যতম ভালো দিক হচ্ছে এটি কিভাবে অন্য জগত থেকে আসা এক প্রাণির সাথে মানবজাতির কনট্যাক্টকে বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলেছে। এলিয়েনরা মানবসভ্যতাকে তাদের প্রযুক্তি অফার করলে আমরা যে তা হাসিমুখে না নিয়ে সেইটা নিয়ে রাজনীতি শুরু করব তা ভালোভাবেই দেখানো হয়েছে। অযথা কথাবার্তা নাই, মোটামুটি ফাস্ট পেইসড এই এনিমে একেবারে প্রথম এপিসোড থেকেই দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম।

আমার প্রথম ৮-৯ এপিসোড অনেকটা ভালোই লেগেছিল তবে সমস্যা শুরু হলো এপিসোড ১০ থেকে। এনিমে তার স্বাভাবিক রুপ বাদ দিয়ে হঠাত করেই যেন এক সেমি-রোমান্টিক, সেমি-একশন, হাইয়ার ডাইমেনশনাল বিইংদের ঠুকাঠুকিতে পরিণত হয়। কয়েকটা প্লট টুইস্ট ছিল যার কোন প্রয়োজনই ছিল না বলে আমি মনে করি। আর সিরিজটা যে তার নিজস্বতা বাদ দিয়ে অন্য পথ ধরে দৌড়ানো শুরু করে তা দেখে কিছুটা হতাশই হয়েছি বলা যায়। কাল্ট ক্লাসিক কিছু হওয়ার ভাল সম্ভাবনা ছিল।

তবে মনমত না হলেও যে এঞ্জয় করিনি তা বলা ভুল হবে। ভাগ্য ভাল যে শেষের দিকে গিয়ে যে এর কোয়ালিটি ড্রপ করা শুরু করে তার আন্দাজ আগে থেকেই ছিল। তা না হলে অনগোয়িং যারা দেখেছে তাদের মতই হতাশ হওয়া লাগত। মোটকথা, শুরু থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত কাডো আমি এঞ্জয় করেছি। এঞ্জয়মেন্টের হিসেবে স্কোর দিলে ইজিলি ৮/১০ দিয়ে দেওয়া যায়। খুব বেশি খুতখুতে না হয়ে স্রেফ এঞ্জয়মেন্টের জন্যও কাডো দেখা যায় চাইলে।

একটা জিনিস বলে রাখা ভাল যে এনিমেতে সিজির ব্যবহার ছিল কিন্তু তা যথেষ্ট ভাল। মুলত একশন সিরিজ না হয়ে ডায়ালগ বেইসড সিরিজ হওয়ায় এই সিজি অতটা চোখে লাগে নাই। সিজি সহ্য না করতে পারলেও এই সিজি খারাপ লাগবে না। সিজি হওয়া সত্বেও এর ভিজ্যুয়াল চমৎকার ছিল।বিশেষ করে কাডো এর ভেতরকার দিকের সিনগুলো।

সবশেষে যদি কোন সাই-ফাই জনরার এনিমে খুঁজে থাকেন তবে কাডো রেকমেন্ডেড।গতানুগতিক এনিমে বাদ দিয়ে একটু ম্যাচিউর ধরনের এনিমে খুঁজলে কাডো দেখতে পারেন। মাত্র ১২ পর্বের এই সিরিজ ভালো লাগবে আশা করি।

Lady Snowblood [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

Lady Snowblood

নব্য জাপানের এক মহিলাদের জেলখানায় এক মহিলা প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছে। জেলে সবাই তাকে বেশ্যা বলে ডাকে তার কারণ তার কাজই ছিল কয়েদের প্রহরী থেকে মন্দিরের পুরোহিতকে সিডিউস করা। কিন্তু এই বাবার পরীচয়হীন সন্তান প্রসবের সময়ে এসে সে জীবন বাজি রেখে বলল তাকে না বাচিয়ে তার সন্তানকে বাচাতে, কারণ তার সন্তানের জন্মদানের এক উদ্দেশ্য আছে। এই সন্তান তার হয়ে প্রতিশোধ নেবে। তার সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যই হচ্ছে প্রতিশোধ এবং তার অতীতের কাহিনী শুনে তার আশেপাশের সবাই ঝরঝর করে কেদে দেয়।

তারপর থেকে প্রায় ১৮ বা ২০ বছর পরের কথা। জাপানে এক গুপ্তঘাতকের নাম ত্রাস ছড়াচ্ছে, সেই গুপ্তঘাতক একজন মেয়ে এবং সবাই তাকে চেনে রক্ত তুষার নামে। সে তার শিকারের কাছে যেতে তার অপরুপ সৌন্দর্য এবং ছলনাকে কাজে লাগায়। এবং তরবারি চালানো,ছবি আকায় অসম্ভব পারদর্শী! তবে তার আসল উদ্দ্যেশ্য চারজনকে হত্যা করা। এর জন্য সে নিজের দেহ জীবন সব বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত। তার জন্মর একমাত্র উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে প্রতিশোধ।

নব্য জাপানের নানা অন্ধকার দিক তুলে ধরেছে এই মাঙ্গা। জাপানের ইয়াকুজা সিস্টেম, রিলইফ ডান্স সহ আরো নানা দিক।

বিখ্যাত হলিউড ডাইরেক্টর টরেন্টিনোর মুভি কিলবিল এই গল্প থেকেই অনুপ্রাণিত। এই মাঙ্গা ১৯৭২ সালের। সেই হিসেবে আর্ট ডিসেন্ট। আপনার যদি ডার্ক, গোর এবং নুইড্যিটি সহ্য না হয় তাইলে এই মাঙ্গা পড়ার দরকার নেই। ইচি দ্যা কিলার টাইপের মাঙ্গা যাদের পছন্দ তারা পড়ে দেখতে পারেন। আরেকটা কথা হল অনেক মাঙ্গা সাইট এটাতে ইউরি ট্যাগ দিয়ে রেখেছে যা ভুয়া। নিজের শিকারের কাছে যেতে বা বিশ্বাস লাভ করতে অনেক নারীকেও সিডিউস করেছে তো হ্যা ইউরি সিন আছে ৩টার মত।

এর মাঙ্গাকা হল লেজেন্ডারি মাঙ্গা Lone wolf and cub এর মাঙ্গাকা। মাত্র ৪ভলিউম। চাইলে পড়ে দেখতে পারেন।

বিদ্র: এর অসাধারণ এক লাইভ একশান মুভি আছে, সেম নামে।

Monster [রিভিউ] — Ripon W. Mahmud

Monster

Monster: Not just some artwork. A huge suspenseful creation of drama and thrill combined with uncertainty.

ছোটবেলায় রূপকথার গল্পের বইয়ে নানা রকম দৈত্য দানবের কথা পড়ে আমরা বড় হয়েছি। না খেতে চাইলে, কোন কথা না শুনলে আমাদেরকে দৈত্য দানোর ভয় দেখানো হত। বেসিক হিউম্যান ইন্সটিংক্ট আমাদেরকে ছোটকালেই সাবধান করে দিয়ে অনুগত ভদ্রটি হতে বাধ্য করতো। কেন? কী এই দৈত্য দানব?

বড় হয়ে জানলাম আসলে এগুলো সব ভুয়া ছিলো। দৈত্য দানব বলতে আমাদেরকে যে ইমেজারি চিন্তা ভাবনায় ফেলা হতো তা এক্সিস্ট করেনা। শৈশবের দানো গেল। এবার ম্যাচুরড কংক্রিট রিয়েলিটিতেও আমাদের ভয় পেতে হয়। সেই দৈত্য দানবের ভয় আবার ফিরে আসে। কীভাবে? এই দৈত্য দানবের বড় বড় শিং বা চোখা ছুরির মত দাঁত নেই। তারা মানুষের মতই হাত পা নাক চোখ কান নিয়ে আমাদের চারপাশেই বসবাস করে। কিন্তু তাদের ধ্বংসাত্মক চিন্তাভাবনা ও কার্যকলাপের কারণে কখনও কখনও দানবের পর্যায়ে তাদের ফেলা যায়।

Monster অ্যানিমে নিয়ে লেখার ইচ্ছে হল। চাইলে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু তা না করে যারা এখনও দেখেনি তাদের জন্যে কীভাবে গুছিয়ে বলে দেয়া যায় তার চেষ্টাই করব। এই সিরিজটা অনেকগুলো টুকরো টুকরো ইভেন্ট ও আইডিয়োলজির মিশেল। যেখানে কেন্দ্রে বসে থাকা নামহীন এক দানবের গল্প আমাদেরকে নিশ্চিতভাবেই পুরো ৭৪টা পর্ব দেখতে বাধ্য করবে।

অ্যানিমেটা দেখতে দেখতে ডার্ক নাইট ট্রিলজিতে আলফ্রেড পেনিওয়ার্থের একটা কথা মনে পড়ে গিয়েছিলো। Some men just want to watch the whole world burn. তাদের কোন কারণ লাগেনা, কোন উদ্দেশ্য লাগেনা অ্যানার্কি সৃষ্টি করতে। তবে শেষবেলায় কাইবুতসু ইয়োহান লিবের্তের উদ্দেশ্যটা একটুখানি ভিন্ন লাগে বৈকি। সাইকোলজিক্যাল ড্রামার এক চমৎকার এক্সাম্পল এই অ্যানিমে।

অ্যানিমেটার টাইমলাইন একটু বেশিই গভীর। কোল্ড ওয়ার রেফারেন্স, ঐসময়কার ব্ল্যাক ভার্সাস হোয়াইট ওয়ার/রেসিজম, বার্লিন ওয়াল ও দুই জার্মানির প্লট রিলেশনগুলো বুঝতে গেলে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। কে, কেন, কোথায়, কীভাবে, কখন এই টার্মগুলো মাথায় রেখে বুঝে বুঝে এগোলে সিরিজটার পুরোটা নেয়া সম্ভব। কিন্তু আমি মাঝে মাঝেই ইন্ট্রা-পারসন ইন্সিডেন্ট, প্লেস, টাইম আর অব্জেক্টিভিটির খেই হারিয়েছি ব্যস্ততার জন্য বা একটানা না দেখার কারণে। একটানা এবং এর মাঝে অন্য কিছু না দেখে শুধু কেনজো তেনমা, ইয়োহান লিবের্ত, নিনা ফোর্তোনার, ইন্সপেক্টর লুঙ্গের সাথে বুঝে বুঝে এগোলে ভাল হয়। এরা তাদের মাথার ভেতরে কোথায় কী হচ্ছে কেন হচ্ছে কী হতে পারে সে বিষয়ে সম্যক ধারণা দিয়ে দিয়ে নিয়ে যাবে মন্সটারের গভীর থেকে গভীরে।

মিনিট ডিটেইল যাকে বলে এই অ্যানিমে সিরিজ তার ষোল আনাই তুলে ধরেছে। কোথাও এতটুকু ঢিলেঢালা ভাব নেই। সাইকোলজিক্যাল ড্রামার যে পরিবেশ তার অলমোস্ট শতভাগ, প্লট টুইস্ট আর চেঞ্জিং এর গতিটা বজায় রেখে মাঝেমাঝে মাথা খারাপ করে দেবার জোগাড় করে দেবে এই অ্যানিমে। কেন? যখন দেখা যাবে যে চারপাশে এক দানবের অঙ্গুলি হেলনে কেবল অনাসৃষ্টিই হচ্ছে! কিন্তু কি তার উদ্দেশ্য, কী তার আদর্শ, কেন সে পর্দার আড়ালে থেকে সব করে যাচ্ছে এমন শত প্রশ্ন মাথার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

যখন কোন একটা ক্রিয়েশন মাঝপথে অসম্ভব ভালো লাগার পরিবেশ তৈরি করে তখনই একটা সন্দেহ জাগে যে এর সমাপ্তি বা এন্ডিং কেমন হবে। অ্যাপ্রোপ্রিয়েট হবেতো? শেষে আবার কেলো করে দেবেনাতো? না। এন্ডিং ভালোই। ইনসেপশনে নোলান যেমন শেষে একটা ধাঁধা লাগিয়ে শেষ করেছেন, এই অ্যানিমেও অনেকটা সে রাস্তায়ই হেঁটেছে। তবে ভাল একটা ড্রামা থ্রিলারের বৈশিষ্ট্য হল ভিউয়ার যেন আগে থেকে অনুমান করতে না পারে যে কী হবে। ধাক্কাটা খায় সেভাবেই প্রি কন্সেপশনকে বুড়ো আঙুল দেখানো সিরিজ এটা। ইয়োহান লিবের্তের অত মায়ামাখা মুখ দেখেও অত আইডিয়া করে নেবার কিছু নেই। গুরু উচিহা ইতাচি বলে গেছেন – Do not judge others simply by their preconceptions, and judgement based on their appearance.

ম্যাচুরড এবং খুব অ্যাট্রাক্টিভ একটা সিরিজ। যার কয়েকটা রোল নিয়ে রীতিমত কিছুদিন ভাবা যায়। চিন্তা করা যায়। অনেক দেরি করে দেখার জন্য আফসোস নেই তবে আরেকবার নোটখাতা হাতে নিয়ে দেখার ইচ্ছে আছে। এই সিরিজটা নিয়ে বিবিসি বা নেটফ্লিক্স কিছু একটা করলে ভাল হত। ড. তেনমা আর ইয়োহান লিবের্তের দ্বৈরথটা অন্যভাবে দেখতে পেতাম।

Honobono Log [রিভিউ] — Fatiha Subah

Honobono Log 1

হনোবনো লগ
পর্ব: ১০
ডিউরেশন: প্রতি পর্ব ২ মিনিট
জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্স
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৪৭
ব্যক্তিগত রেটিং:

মাত্র ২ মিনিটে কিই বা দেখানো যায়? দেখানো গেলেও তা হবে নিশ্চয় অনেক গভীর, প্রতীকি, উচ্চমার্গীয় কিছু? আর শর্ট স্লাইফ অফ লাইফ আনিমে তো বেশ কিছুই আছে, এ আর এমন কি? নাহ! যদি এমনটা ভেবে থাকেন তো বিশাল ভুল করছেন। এই ছোট্ট দুই মিনিটের পর্বগুলোতেই হনোবনো লগ এমনভাবে দৈনন্দিন জীবনের সুখ, দু:খের ছোট ছোট মুহূর্ত তুলে ধরেছে যে আপনাকে অবাক করে দেবে। অহরহ ঘটে চলা এই মুহূর্তগুলোই যে দেখতে এত ভালো লাগতে পারে তাই নতুন করে আবিষ্কার করবেন। প্রতিটি পর্ব কোন না কোন কাপল বা পরিবারকে নিয়ে। তাদের গল্পগুলো এতই মিষ্টি যে অনেকে বলে তা নাকি ডায়াবেটিস ধরিয়ে দিতে পারে! তবে কথাটি নেগেটিভলি নেওয়ার মত কিছু না কিন্তু। কোন আনিমে অতিরিক্ত মিষ্টি হওয়ার পরেও যে তা চিনি দেওয়া সস্তা গল্প মনে না হয়ে মনের মধ্যে অন্যরকম ভালোলাগা সৃষ্টি করতে পারে তারই এক দারুণ উদাহরণ হনোবনো লগ। রোমান্স কিংবা অতি মিষ্টি কিছুতে আপনার এলার্জি থাকলেও চিন্তা নেই। তারপরেও আপনার ভালো লাগবে এই নিশ্চয়তা দিতে পারি। কারণ যেই আমি কিনা লাভি-ডাভি কাপল দেখলেই চেতে গিয়ে দৌড়ানি দিতে চাই সেই আমিই আবার এটা দেখার সময় ভেবেছিলাম, ‘ইশ!! এরকম কিছু জীবনে থাকলে মন্দ হত না মনে হয়!’!! হুম!! এই আনিমের ক্ষমতা এতটাই!!

ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে শর্ট আনিমের আর্ট অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব আনিমের আর্ট সাধারণ আনিমের তুলনায় অনেক সময় অদ্ভুত ধরণের হয়। আর্ট পছন্দ না হলেই সেটা দেখায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বলাই বাহুল্য হনোবনো লগ বানানোই হয়েছে একটি ছবির বই থেকে। ছবিগুলো দেখতে এবং এগুলোর রঙের ব্যবহার খুবই সুন্দর। ঠিক এই আর্টগুলোই শুধু অ্যানিমেট করা হয়েছে। আনিমের সাথে তা মানিয়ে গেছে ভালোভাবেই। ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদামাটা এক রঙা দেয়াল কিন্তু তা মোটেও কোন মুখ্য বিষয় না। খুব সাদামাটা কিন্তু সুন্দর এক কথায় বলতে গেলে।

এর সাথে আরো আছে মনকে শীতল, শান্ত করে দেওয়ার মত একটি ওপেনিং সং। আমে নো প্যারেডের মর্নিং। আনিমেটি এখনই দেখতে না চাইলেও গানটি একবার শুনে আসুন। মেজাজটা ঠাণ্ডা করার পাশাপাশি আনিমেটি দেখতেও আগ্রহী করে তুলবে বলে আশা করি। লিংক: https://youtu.be/VRn0cFH9-2Y

Honobono Log 2অল্প সময়ে সুন্দর কোন আনিমে দেখে ফেলার জন্য হনোবনো লগ খুবই উপযুক্ত। দশ দুগুণে মোট বিশ মিনিটেই কাছের মানুষদের মাঝে খুনসুটি দেখতে দেখতে কখন সময়টা পেরিয়ে যাবে খেয়ালই করবেন না। মাত্র ২০ মিনিটই তো! একটা সাধারণ দৈর্ঘ্যের আনিমের একটা পর্বের সমান। তাই কমের মাঝে উপভোগ্য সময় কাটাতে চাইলে দেখে ফেলুন হনোবনো লগ।

Shingeki No Bahamut Genesis [রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

Shingeki No Bahamut Genesis

মিথলজিতে আমরা যত ক্ল্যাশ দেখি তা বেশিরভাগ দেবকুল আর অসুরদের মধ্যে। স্বর্গ আর নরকের মধ্যে ক্ল্যাশ। বাট বাহামুত, এমন এক সত্তা যা স্বর্গ, নরক মানবকুল সবকিছুকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে এসেছে। তাকে মারা দেবতা বা ডিমনদের জন্য সনভব নয়। তখন দেবতা, মানুষ আর শয়তানের সম্মিলিত চেষ্টায় তাকে সাময়িক ভাবে বন্দি করে রাখা সম্ভব হয়।
এদিকে এক শহরে চলছে আরেক খেলা। ফাভারো এক আউলা চুলের পাগলা বাউন্টি হান্টার যার কথা হলো টাকা কামাবো, এক রাতে উড়াবো! মদ আর নারী হইলেই খুশি! তার পিছু নিয়েছে এক ফলেন নোবেলের ছেলে কায়সার। দুইজনের মধ্যে সারাদিন চলে চোর পুলিশ খেলা! কিন্তু তাদের এই রুটিনে বাধা পরে যখন এক সুন্দরী নারী এসে ফাভারোর সাহায্য চায়! মেয়ের যাত্রার লক্ষ্য হেলহাইম।
কম পর্বে কেউ যদি ভালো ফ্যান্টাসি এনিমে চায় তাইলে তার জন্য মাস্ট ওয়াচ। এনিমের কাজ করেছে স্টুডিও মাপ্পা।
এই এনিমের অসাধারন দিক হলো মাত্র ১২ পর্বে এক অসাধারন যাত্রা। মানুষ, দেবতা ও অসুরদের অন্তর্দন্দ, লোভ, লালসা আর হিংসার প্রতিফলন। একই সাথে আছে হাসির অনেক মোমেন্ট আবার আছে দুঃখের অনেক হার্টটাচিং মোমেন্ট! ক্যারেক্টারগুলা জোস। ক্যারেক্টারের চেইঞ্জ বেশ ভালোভাবেই দেখা যায়!
এই এনিমের গ্রাফিক্সের কাজ অস্থির। সিজিয়াইয়ের ব্যাবহার আছে কিন্তু এই মাপের ফ্যান্টাসি এনিমে বানাতে গেলে CGI ছাড়া কোন উপায় নাই! ক্যারেক্টার ডিজাইন দেখে বার্সাকের মুভি ট্রিলজির ক্যারেক্টার ডিজাইনের কথা মনে পড়ে গেসিল। গ্রাফিক্স চোখ ধাধানো সাথে অনেক সুন্দর ক্যারেক্টার ডিজাইন। মিউজিক ওপ্বনিং আর এন্ডিং অনেক অস্থির। এই এনিমে এক বসায় শেষ করতে পারবেন! ১২এপি মাত্র। দেখবেন আর ইঞ্জয় করবেন।
তো ওয়াচলিস্টের এক কোনায় ফেলে রাখবেন না অন্য সময় দেখবেন বলে। এখনই স্টার্ট করে দিন দেখা বাহামুতের ক্রোধ!!!
আমি নাম্বার দিতে পারি না আসলে, নিজেকে স্কুল মাস্টার মনে হয়, ভালো লাগলেই ১০ দিয়া দিতাম। তাই এই এনিমে দেখলে আপনার টাইম ওয়েস্ট হইবে? না ! দেখুন বাহামুত!!!

Golgo 13 [রিভিউ] — Amor Asad

Golgo 13 - 01

পেলে পুষে রাজকীয় ঘোড়াটাকে বড় করেছে তরুনী। রেসের ঘোড়া। কিন্তু তরুনীর চাচা মেরে ফেলতে চায় ঘোড়া, পিওর ব্লাড না বলে। একরকম অনার কিলিং বলা যায়। ভাড়া করে হিটম্যান। ঘটনাক্রমে তরুণী জেনে ফেলে হিটম্যানের নাম। তাঁর হোটেলরুমে গিয়ে চেষ্টা করে কনট্রাক্ট বাতিল করার, টাকা-পয়সাসহ সবরকম প্রলোভন দেখিয়ে। প্রিয় পোষ্যর জীবন বাচাতে মরিয়া তরুণী। তাঁর মুখখানি দেখলে যে কারও মায়া লাগবে।
হিটম্যান কী করে? ঘোড়া, ঘোড়ার মালকিন—তরুণী এবং তরুণীর চাচা, তিনজনকেই পরপারে।
.
হিটম্যান জাতীয় সিনেমার সাজেশন খুঁজতে গিয়েছিলাম Reddit-এ। রিকমেন্ডেশনে আসা সিনেমাগুলো সব দেখা থাকলেও, একজন Golgo 13 অ্যানিমে সাজেস্ট করলেন, বেশ জোর দিয়ে। তখনই দেখতে বসেছিলাম। ৫০ পর্ব, একটানা দেখে চারদিনেই শেষ করে ফেলেছি।
.
প্রোটাগনিস্ট Golgo 13 বা Duke Togo বিশ্বসেরা হিটম্যান, এক নম্বর স্নাইপার। তাঁর স্কিলের কাছে ক্রিস কাইলেরা নস্যি। রহস্যময় চরিত্র, চাইলেই খোঁজ পাওয়া যাবে না। তাঁকে ভাড়া করতে চাইলে সেই হাজির হবে। মূল্যও চড়া, প্রতিটা চুক্তির বিনিময়ে গুণতে হবে ৩ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্বজোড়া সবাই তাঁর ক্লায়েন্ট। হোক সে মাফিয়া, CIA, FBI, লোকাল কোন বস বা প্রতারিত স্ত্রী। মিশন পছন্দ হলেই গ্রহণ করবে।
.
সিরিজের বৈশিষ্ট্য হলো, পুরোটাই এপিসোডিক, একটা এপিসোডের গল্প ওই এপিসোডেই শেষ। প্রায় প্রতিটা এপিসোডেই কোন না কোন খুনের কনট্রাক্ট এবং তাঁর বাস্তবায়ন দেখানো হয়।
সুতরাং খুব দ্রুতই একঘেয়ে লাগবার কথা। প্রথম দুই/তিন এপিসোডের পরের পাঁচ/ছয়টা এপিসোড লাগেও। সম্ভবত ক্রিয়েটরও বুঝতে পেরেছিলেন। এর পরের এপিসোডগুলোতে অ্যাসাসিনেশনের গল্প থাকলেও বিভিন্ন শর্ত আর জটিলতা যোগ করে গল্পে বিভিন্ন মাত্রা দেয়া হয়েছে। দেখতে ভালোই লাগে তখন। এছাড়া এপিসোডিক সিরিজের প্রতি বিশেষ পছন্দ কাজ করে। ধারাবাহিক গল্পের চেয়ে এপিসোডিক কিছু বিঞ্জ করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
.
এছাড়াও গলগো ১৩ এর চরিত্রায়ন পছন্দ করেছি। “নো উইটনেস” কথাটাকে আক্ষরিকভাবেই নেয়, কনট্রাক্ট কিলিং তাঁর কাছে বাস্তবিকই পেশা, ভালো-খারাপ, শুভ-অশুভের পার্থক্য বা পাপবোধ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় গলগো। মানবরচিত নিয়মের সাথে সে কতখানি অসম্পর্কিত, সেটা ভালোভাবে টের পাওয়া যায় সিরিজের ৪৯ নম্বর এপিসোডে।
স্পাইদের মতো রোমাঞ্চকর জীবনে অভ্যস্ত নয় সে, ওম্যানাইজারও নয়। তবে কোন এক অদ্ভুত কারণে প্রায়শই নারীরা তাঁর শীতল, নির্লিপ্ত, পাথরে খোঁদাই মূর্তির প্রেমে পড়ে যায়।
এছাড়া আরেকটা কথা বলে নেয়া উচিৎ হবে, এই সিরিজে এক্সপ্লিসিট সিনের অভাব নেই, হুটহাট হাজির হয়। তাও একদম খুল্লাম-খুল্লা এবং এক দুই সেকেন্ডের নয়। । দর্শকের ব্যাপারটায় সমস্যা থাকলে একা দেখতে হবে।
.
অ্যানিমেশন স্টাইল দেখে মনে হয় কেউ যেন গামার নবটা ধরে জোরে ঘুল্লি দিয়েছে। অনেকটা Kino no tabi-র মতো সাদাটে ভাব। তবে কিনো থেকে কম ডিটেইল্ড ফ্রেমগুলো। চরিত্রগুলোর ডিজাইন কাউবয় বিবপ ঘরানার এবং আবহগত ভাবে মুশিশির সাথে মিল আছে খানিকটা, নৈশব্দ নির্লিপ্ততা বলা যায়।
.
গ্রেট সিরিজ? নাহ। স্ক্রিনপ্লেতে বড় ধরণের সমস্যা আছে।
তবে উপভোগ্য অবশ্যই। এই সিরিজ থেকে মূল পাওনা আসলে Golgo 13 চরিত্র। তাঁকে 47 এর অলটার ইগো বলা যায়।

Golgo 13 - 02

Now and Then, Here and There [রিভিউ] — Barkat Hridoy

Now and Then Here and There 1

‘Don’t judge a book by it’s cover’
স্কুল জীবনের ‘English For Today’ এর কল্যাণেই হোক কিংবা বর্তমানের রিন পাওয়ার হোয়াইটের অ্যাডের কারণেই হোক প্রবাদটা আমাদের সবারই জানা। এ প্রবাদের উদাহরণও আছে অনেক এবং সেগুলো বাস্তব জীবন থেকে শুরু করে মুভি, বই, এনিমে সব স্থানেই দেখা যায়। সেই উদাহরনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো ‘Now and Then, Here and There’.

এনিমে: Now and Then, Here and There (Ima, Soko ni Iru Boku)
জনরা: ড্রামা,মিলিটারি, ফ্যান্টাসি, সাই-ফাই, এ্যাডভেঞ্চার
এপিসোড: ১৩
স্টুডিও/প্রযোজক: AIC
সোর্স: অরিজিনাল

সিনোপসিস: ‘শু’ মাতসুতানি একজন সাধারন হাইস্কুল পড়ুয়া বালক। সে অতি উৎসাহী,অতি আশাবাদী ও সর্বজয়ী মনোভাবের অধিকারী। স্কুলের কেন্ডো ক্লাবে তার রাইভালকে হারিয়েই নিজের পছন্দের মেয়েকে প্রপোজ করার প্রত্যয় নিয়ে স্কুলে গেলেও জয় তার হাতে ধরা দিলো না।’মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ পড়লো যখন ‘শু’ জানলো যে তার পছন্দের মেয়ের পছন্দ আবার সেই রাইভালই। ভাঙা মন নিয়ে হয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে শহরের পরিত্যক্ত চিমনির উপর’লালা-রু’ নামক এক রহস্যময়ী মেয়েকে বসে থাকতে দেখলো ‘শু’। অতি উৎসাহী ‘শু’ চিমনির উপর উঠে তার সাথে কথা বলতে চেষ্টা করার সময় হঠাৎই ভোজবাজির মত হাওয়া থেকে উদয় হয় কিছু অদ্ভুত অস্ত্রসজ্জার মানুষের। যেভাবে এসেছিল সেভাবেই তারা লালা-রুকে তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। আর লালা-রুকে বাঁচানোর চেষ্টায় তাদের সাথে শু-ও এসে হাজির হয় অন্য এক জগতে।

শু নিজেকে আবিষ্কার করলো “হেলিউড” নামক এক বিশাল মানবযানে যার পুরোটাই কংক্রিট আর লোহার বিশাল এক গোলকধাঁধাঁর মত। যার রাজত্বে এক নৃশংস স্বৈরশাসক, কিং হামদো। আর পুরো যানে ছড়ানো ছিটানো আছে তার অধীন সৈন্যদল। যাতে আছে বৃদ্ধ, মধ্যবয়স্ক,কিশোর এমনকি শিশু সৈন্যও! শু আটকা পরল কিং হামদোর হাতে। আর তারপর সে উপলব্ধি করল যে হেলিউডের চারপাশে যতদুর চোখ যায় ততদূর শুধু ধু-ধু মরুভূমি। নদী-সাগর দূরে থাক সেখানে এক ফোঁটা পানি পাওয়াও অনেক দুঃসাধ্য ব্যাপার! এ কঠিন পরিস্থিতিতে শু কি পারবে কিং হামদোর হাত থেকে বাঁচতে? সে কি বাঁচাতে পারবে লালা-রুকে?

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট: প্রথমত:
“First Episode is a BIG Fat Lie ”
প্রথম এপিসোড দেখে যদি ভাবেন ‘ আরে এটা তো আরেকটা টিপিকাল শৌনেন এনিমে” তাহলে বিশাল ভুল করছেন। কেননা সেই এপিসোডের পর আপনি এত এত শক খাবেন যে কল্পনাও করতে পারবেন না।
NTHT একটি ফ্যান্টাসি ডিস্টোপিয়ার চাদরে ঢাকা বাস্তব ওয়ার ড্রামা। এখানে যুদ্ধসময়কালীন পরিস্থিতিকে দেখানো হয়েছে শিশুদের চোখে। যুদ্ধের নৃশংসতা, তার ভয়াবহতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। টর্চার রক্তপাত, ভায়োলেন্স,শিশু নির্যাতন,রেপ এর মত ভারী ভারী জিনিস তুলে ধরা হয়েছে। তবে NTHT শুধু ডিপ্রেসিং জিনিসই নয় সাথে আরও তুলে ধরেছে কঠিন পরিবেশে ইচ্ছাশক্তির বলে বেঁচে থাকার গল্প, ক্ষীন আশাকে পুঁজি করে বেঁচে থাকার গল্প, হার না মানার গল্প, পরিবার আর ভালোবাসার গল্প।
আর এগুলো একটু ভিন্নভাবে তুলে ধরাই গল্পের মূল লক্ষ্য ছিল বলে আমি মনে করি। আর লেখক এসবকিছুই খুবই বুদ্ধিমত্তার সাথে আলাদা কোনো আদিখ্যেতা ছাড়াই তুলে ধরেছেন। টেকনিক্যাল দিকগুলো উল্লেখ করলে প্রথমেই বলতে হবে এনিমের ডিরেক্টিং চমৎকার।ব্রিলিয়ান্ট স্টোরিটেলিং।
গল্পের পেসিং একটু ধীর মনে হতে পারে কিন্তু গল্পের সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য করা হয়েছে ধারনা করা যায়। ভয়েস এক্টিং ছিল দূর্দান্ত!

Now and Then Here and There 2

ক্যারেক্টার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট:
NTHT এর প্রতিটি ক্যারেক্টার গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্রময়। প্রতিটি ক্যারেক্টারই যেন নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রতীক। শু যেখানে আশার প্রতীক সেখানে লালা-রু শোষিত মানুষের প্রতীক। কিং হামদো তুলে ধরে পৃথিবীর স্বৈরশাসকদের আর ‘আবেলিয়া’ চির আনুগত্যের প্রতীক। ‘নাবুকা’ মিথ্যে আশায় বেঁচে থাকা মানুষদের তুলে ধরে আর ‘সারা’ নির্মম বাস্তবতাকে। এছাড়া ‘সিস’,’তাবুল’,’বু’,’সুন’ সকলেই গুরুত্বপূর্ণ আর চিরকাল মনে রাখার মত ক্যারেক্টার।

ডেভেলপমেন্টের দিক দিয়ে ‘সারা’ হচ্ছে সিরিজের সবচেয়ে ডেভেলপড ক্যারেক্টার। কিং হামদো আর আবেলিয়ার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট হয়নি বললেই চলে। এছাড়া প্রায় সকলেরই কম বেশি ডেভেলপমেন্ট হয়েছে।

আর্ট ও অ্যানিমেশন:
আর্ট ও অ্যানিমেশন কোনোটিই আহামরি নয়। ৯০এর দশকের এনিমে হওয়াতে(+ বাজেট স্বল্পতা) তা না হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অ্যানিমেশনের ঘাটতি পুষিয়ে দেয় এর চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফি। কিছু কিছু সিন একইসাথে খুব অসাধারন ও অর্থবহ ছিল।

সাউন্ড ও মিউজিক:
পুরো এনিমেজুড়ে ছিল Taku Iwasaki এর অসাধারন মিউজিকের কাজ। মেইন থিম হিসেবে থাকা Standing in the Sunset Glow অসম্ভবরকমের সুন্দর একটি সাউন্ডট্র্যাক। Tears আমার শোনা সবচেয়ে ইমোশনাল সাউন্ডট্র্যাকের একটি। ওপেনিং সং এতটা আহামরি নয় হলেও রেইকো ইয়াসুহারার গাওয়া এন্ডিং সং “Lullaby ” অনেক সুন্দর ছিল।

এন্জয়মেন্ট: খুব কম এনিমেই পারে দর্শকের সকল ইমোশন বের করে আনতে আর Now & Then, Here & There নিঃসন্দেহে সে লিস্টে থাকবে। এখানে কিং হামদোর কাজকর্ম যেমন আপনার মাঝে চরম ঘৃনার জন্ম দিবে তেমনিভাবে সিসের সরল উক্তি, ” Wars don’t raise children” আপনার মনকে আঘাত করবে। প্রতি এপিসোডের শুরুতে লালা-রু এর উক্তি, “Because 10 billion year’s time is so fragile, so ephemeral… it arouses such a bittersweet, almost heartbreaking fondness” আপনাকে যেমন ভালো খারাপের ধন্দে ফেলবে তেমনিভাবে বারবার শু এর বলা “Things may look bad now, but good things are bound to happen if you survive long enough.” আপনার মনে আশা যোগাবে। হ্যাঁ আশা যা সে নিরাশার রাজ্যে বেঁচে থাকার ও সামনে এগিয়ে যাবার নূন্যতম ইচ্ছাটাকে সজাগ রাখে। For sometimes hope is all there is to hold onto.
And sometimes, hope is enough.
এজন্যই Now & Then, Here & There অনন্য,অসাধারন এবং চিরকাল মনে রাখার মত এনিমে। তাই দেখে ফেলুন মাত্র ১৩ এপিসোডের চমৎকার এই এনিমেটি। আশা করি পস্তাবেন না।

MyAnimelist Rating: 7.79
Personal Rating: 9

P.S: ১. এনিমেটিতে নুডিটি, গোর নেই তবুও রোজা রেখে না দেখাটাই উত্তম
২. বয়সের পাশাপাশি মানসিক ভাবে ম্যাচিউর না হলে না দেখাই উচিত।

Now and Then Here and There 3

Sundome [মাঙ্গা রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Sundome 1

জনরা- ইরোটিক, সাইকোলোজিকাল, রোমান্স
চ্যাপ্টার-৭৬
MAL Link-https://myanimelist.net/manga/1501/Sundome

এই মাঙ্গাটি দেখতে হয়তোবা হেনটাই মাঙ্গা মানে হতে পারে,এটা পড়তেও হেনটাই মাঙ্গা মনে হতে পারে কিন্তু এটি হেনটাই কিংবা এচ্চি নয়।মাঙ্গাটি পড়ার আগে কিছু জিনিস নিয়ে সাবধান থাকবেন।প্রথমত,১৮ বছরের নিচে যারা আছেন তারা না পড়লেই ভালো কারণ তারা মাঙ্গার মুল উদ্দেশ্যটি বুঝতে না পারার সম্ভাবনা অনেক বেশি। দ্বীতিয়ত,আপনি যদি খুব সহজেই অফেন্ড্যাড হয়ে থাকেন তাহলে মাঙ্গাটি আপনার জন্য নয়।মাঙ্গাটি কিশোর বয়সের বহু যৌনগত বিষয়ের উপর।

কাহিনীঃ ৮.৫
“Sundome” শব্দটির অর্থ হচ্ছে “কোন কিছু শেষ হবার আগ মুহূর্তে থামা”।মাঙ্গার মূল কাহিনীটি মূলত এই নিয়মটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়।হিদেও আইবা এক সাধারণ ছাত্র যে স্কুলের রোমান ক্লাবের সদস্য।তাদের ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য যতো সব উদ্ভট জিনিস আছে তা নিয়ে গবেষণা করা।যেমন এলিয়েন কিংবা ভুতের বাড়ি।ক্লাবটি অনেক প্রভাবশালী মানুষদের দিয়ে চালিত।কেউ যদি ক্লাবের শর্ত না ভেঙে স্কুল পাশ করতে পারে তাহলে তাদেরকে ভালো জায়গায় চাকরি কিংবা পড়া-লেখা করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। শর্তটি হচ্ছে কোনো রোমান ক্লাব মেম্বার তাদের হাই স্কুল উত্তীর্ণ করার পূর্বে তাদের কুমারত্ব হারাতে পারবে না।হিদেও আইবার স্কুলের প্রথম বছর কুরুমি সাহানা নামের একটি মেয়ে ট্রান্সফার হয়ে তার শ্রেণীতে আসে।প্রথম দেখায় মেয়েটিকে খুব মিষ্টি কিংবা সহজ-সরল মনে হলেও সে খুব দ্রুত আইবার যৌন আকাঙ্খা ধরতে পারে এবং তা আইবার বিপক্ষে ব্যাবহার করে।তাদের মধ্যে একটি খেলার মতো শুরু হয়।কুরুমি আইবাকে সবকিছুই করতে দিবে কিন্তু আইবা বীর্য পাতন করতে পারবে না।আমি নিশ্চিত আপনারা সবাই চিন্তা করছেন যে এটা তো পুরোপুরি হেনটাই কিন্তু আসলে তা নয়।মাঙ্গাটি অসাধারণ ভাবে কুরুমি এবং আইবার সম্পর্ক এবং বন্ধনটিকে ফুটিয়ে তুলেছে।কিশোর জীবনের বহু সমস্যা এবং কঠিন বিষয় মাঙ্গাটি চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।আমরা কতটুকু যৌন কর্মে লিপ্ত কে ভালবাসা বলতে পারি এবং কতটুকুকে বলতে পারি বিকৃত মনের আকাঙ্খা। দিন শেষে, মাঙ্গাটি কুরুমি এবং আইবার বন্ধন এবং তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে।এটি হাস্যকর কিন্তু এটি কান্নাদায়ক।এটি চমৎকার কিন্তু এটি সর্বনাশা।তাদের সম্পর্ক একটি মারাত্মক বিপর্যয়ের মতো যা আমরা পাঠক হয়ে নিজেদের চোখের সামনে ঘটতে দেখি।এই মাঙ্গার সমাপ্তি আমার সবচেয়ে প্রিয় সমাপ্তি।আমি কখনো বিশ্বাস করতে পারে নি যে এমন একটি দিন আসবে যখন অন্য কোনো মাঙ্গার সমাপ্তি “20th Century Boys” এর জায়গাটি দখল করে নিবে।

চরিত্রায়নঃ ৯.৫/১০
মাঙ্গাটিতে কিছু পার্শ্ব চরিত্র আছে যারা মূলত মাঙ্গার হাস্যকর দিক গুলোতে ব্যাবহারের জন্য রয়েছে।যেমন তাদের বিভিন্ন এলিয়েন এবং ভুতুরে বাড়ি ইনভেস্টিগেশনের সময় ক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাবহার করা হয়।কিন্তু তারা মাঙ্গার মূল কেন্দ্রবিন্দু নয়।আমি বলব না যে আমি হাজারো মাঙ্গা পড়েছি কিন্তু মোটামোটি আত্মবিশ্বাসের সাথেই বলতে পারি যে ভালো পরিমাণ মাঙ্গাই আমি পড়েছি। এই জন্য আমি মোটামোটি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে আইবা এবং কুরুমির মতো এমন অসাধরন চরিত্রায়ন বলতে গেলে অন্য কোনো মাঙ্গার কিশোর চরিত্রে নেই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উভয় চরিত্র অসাধারণ ভাবে কাহিনীর সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে।আইবা এবং কুরুমির সম্পর্ক এবং তাদের বন্ধনের আড়ালের লুকানো আবেগ গুলোই তাদের সংলাপ এবং মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে তোলে।Sundome হলো মাঙ্গার Leaving Las Vegas.মাঙ্গার এন্ডিংটা কিছুটা নিকোলাস কেজের ১৯৯৫ সালের অস্কার জয়ী চলচিত্রটির মতো।

চিত্রঃ ৮.৫/১০
আমি বলবো না যে, মাঙ্গার চিত্রায়ন এতই চমৎকার যে আপনার চোখে পানি এসে যাবে।সত্যি কথা বলেতে এর চিত্রায়ন খুবই সাদা-মাটা কিন্তু অত্যন্ত কার্যকারী। চমৎকার কালার কন্ট্র্যাস্ট এবং শ্যাডিং মাঙ্গাটিকে কিছুটা নিও-নুয়ার এবং পুরনো একটি ভাব তৈরি করে যা মাঙ্গার শেষ দিকে অসাধারণ ভাবে গল্পটিকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

Sundome মাঙ্গাটি আমি সবাইকেই পড়ার জন্য বলেতে চাই কিন্তু আমি তা বলবো না।আমি জানি অনেকজন এসব জিনিস সহ্য করতে পারবে না এবং তারা এর কাহিনীর মূল উদ্দেশ্য দেখতে পাবে না কারণ তারা মাঙ্গাটিকে এর বিকৃত জিনিসগুলোর জন্যই কেবল দেখবে এবং সমালোচনা করবে।কিন্তু তাতে সমস্যা নেই।সবকিছু তো আর সবার জন্য নয়।কিন্তু আপনি যদি এইসব জিনিস দেখে ভয় না পেয়ে থাকেন তাহলে চেষ্টা করতে তো দোষ নেই।প্রথম দিকে কাহিনী ঠিক মতো না আগালেও শেষটা আপনাকে মুগ্ধ করবে।সময় পেলে পড়ে দেখতে পারেন।আশা করি ভালো লাগবে।

আমার রেটিংঃ ৯/১০

মাঙ্গাটি যাদের জন্য-
মাঙ্গা- যারা আকু নো হানা,কুজু নো হোঙ্কাই, ইনিও আসনোর কাজ পছন্দ করেছেন।
এনিমে- যারা বেলাডোনা অফ স্যাডনেজ পছন্দ করেছেন।
মুভি- যারা লিভিং লস ভেগাস,নিম্ফমেনিয়াক পছন্দ করেছেন।

Kino’s Journey: The Beautiful World [রিভিউ] — Siam Maksud

Kino no Tabi 1

কিনো নো তাবি – একটি অসাধারণ গোলমেলে যাত্রার গল্প
The world is not beautiful ; And that, in a way, lends it a sort of beauty…..

জনরাঃ এডভেঞ্চার ফিকশন, ফ্যান্টাসি, সায়েন্স ফিকশন
এপিসোড সংখ্যাঃ ১৩ + ২ টি মুভি
ম্যাল রেটিংঃ ৮.৫
আই এম ডি বি রেটিংঃ ৮.৫
আমার রেটিংঃ আহা! রেটিং নিয়ে ঝামেলা ক্যান? অতি ভাল এনিমে তো………

কল্পনা করা যাক এমন একটি সমাজের কথা যেখানে মানুষকে জীবিকার জন্য লড়াই করতে হয় না, তারা সবদিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু তাদের কাছে কি জীবনের আর কোনো অর্থ থাকবে? অথবা এমন কোনো জায়গা যেখানে কেবল শিশু আর প্রাপ্তবয়স্কদের বাস, বারো বছরের যেখানে পরেই যেখানে সরিয়ে ফেলা হয় অপ্রয়োজনীয় সব অনুভূতি, শিশুটি পরিণত হয় সমাজের ‘আদর্শ নাগরিকে’। এটা কি আসলেই সমাজের ভাল করছে? কিংবা চিরকাল সুখে থাকা এক কবি কি পারবে তার কবিতায় মানুষের দুঃখ কে তুলে ধরতে, এমনকি তাকে বাধ্য করা হলেও? এক উদ্দেশ্যহীন ভ্রমণকারীর যাত্রাপথের এমন সব গোলমেলে গল্প নিয়েই এগিয়ে চলে Kino’s Journey: The Beautiful World (Kino no Tabi)।

গল্পের শুরু কিনোকে নিয়ে, ভাবলেশহীন মুসাফির, যে কিনা একটি কথা বলা মোটরবাইক নিয়ে দেশে দেশে ঘুরে বেড়ায়।
– কেন?
– কে জানে কেন? উদ্দেশ্য নেই।

কাজের কথায় আসি। তো কিনোর গুণাবলির মাঝে একটি অনন্য গুণ হচ্ছে বেচে থাকার প্রয়োজনে অনায়াসে মানুষ খুন করতে পারা। আর তার নির্মম নির্লিপ্ততা। সে মৃত্যুপথযাত্রী মানুষকে বাচিয়ে তোলে , আবার সে মানুষটা বিশ্বাসঘাতকতা করলে তাকে নির্দ্বিধায় মেরে ফেলতেও বাধে না। যাত্রাপথের কারো সমস্যাতেই নিজেকে জড়ায় না, পাশ কাটিয়ে চলে যায়।এ পাশ কাটানো কখনো মনে হয় বুদ্ধিমত্তার পরিচয়, কখনো চরম নিষ্ঠুরতা। কিন্তু এটাই তার চরিত্রের বড় আকর্ষন। কিনো কিন্তু একা নয় এ যাত্রায় । তার সংগী মোটরবাইকের নাম হেরমেস। অতি ভাল যন্ত্র, কিনোর সব কথা শোনে। কথা বলে প্রচুর । তো এ দুজনের যাত্রার সংগী হিসেবে কিনো নো তাবি দেখার জন্য আমন্ত্রণ।

আমার কাছে অনেক ভাল লেগেছে এনিমেটি। এমন কিছু এনিমে মাঝে মাঝে পাওয়া যায় যা শেষ হয় কিছু চিন্তার খোরাক যুগিয়ে। হয়তো বদলে দেয় কোনো বিষয়ে পুরো দৃষ্টিভংগি। কিনো নো তাবিও এমনি একটি এনিমে কিন্তু পার্থক্যটা হলো এ পরিবর্তন ঘটবে প্রতি এপিসোডে । এপিসোডিক এনিমে, প্রতি এপিতেই নতুন নতুন গল্প, নতুন নতুন শহরের নতুন মানুষদের সাথে পরিচয়, বিভিন্ন ধরণের সমাজব্যবস্থার দেখা পাওয়া । এসবের মাঝেই কিনোর অতীত খুজে ফেরা, অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়া। মানুষের ভাল দিকগুলোর সাথে বিভৎস রূপটাও এখানে বেশ ভালভাবে দেখানো হয়েছে। ভালবাসা, করুণা , দয়ার সাথেই দেখা যায় ভয়াবহ স্বার্থপরতা, বিশ্বাসঘাতকতা, অন্যায়ের অদ্ভূত মিশেল। এ যাত্রাপথে দেখা হয় কোনো এক ভবঘুরে, স্মৃতি হারিয়ে ফেলা এক জীবন্ত কিংবদন্তি, প্রেমে পড়ে যাওয়া খুনী, ধ্বংসপ্রাপ্ত এক সভ্যতার সর্বশেষ জীবিত মানুষটির মতোই আরো অনেকের সাথে। সমাজের বিভিন্ন নিয়মের সীমাবদ্ধতাকে নগ্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে এনিমেটিতে। দেখতে দেখতে একসময় নিজের কাছে মনে হবে “ আরে! এটাতো এভাবেও চিন্তা করা যায়!” অন্যরকম এক বিষন্ন ভাললাগার মাঝেই যাত্রাপথ উপভোগ্য হয়ে উঠবে।

গ্রাফিক্স আহামরি কিছু নয়, কিন্তু গল্পের সাথে চমৎকার ভাবে মানিয়ে গিয়েছে । আর সাউন্ডট্র্যাক অসাধারণ। বিশেষ করে এন্ডিং সং টি আমি অনেকবার ইনফিনিট লুপে বাজিয়েছি। গল্পের সাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অন্যরকম ভাললাগার জন্ম দেবে। এটা দেখে না থাকলে এনিমে ইন্ডাস্ট্রির একটি মাস্টারপিস মিস করা হবে, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

বি.দ্রঃ মুশিশি ফ্যানদের জন্য এটা মাস্ট ওয়াচ এনিমে। মুশিশি টাইপের ভাইভ পাওয়া যাবে। তবে তা অনেকটাই ডার্ক।

বি.দ্র ২ঃ মুড ভাল হয়ে যাবে এ আশা নিয়ে বসলে পস্তাবেন। বিষন্নতা, হতাশা বেড়ে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

Kino no Tabi 2