xxxHOLIC [রিভিউ] — Anirban Mukherjee

এক্স এক্স এক্স হোলিক-জাপানের অতিপ্রাকৃতিক জগতের অন্দরমহলে
আনিমে সিরিজের পরিচালক:- ত্সুতমু মিজুশিমা ।
সিরিজের গল্প লিখেছেন:- নানাসে ওকাওয়া এবংমিচিকো ইয়োকোতে(টিম ক্লাম্পের সদস্য)।
এপিসোড সংখ্যা:- 24 টি।

xxxHOLIC 1

জাপানে “ইয়োকাই” শব্দটির অর্থ বাংলায় আত্মা এবং বা ইংরেজিতে স্পিরিট খুব কাছাকাছি। “আয়াকাশি” হলো এমন এক ধরনের “ইয়োকাই” যারা জলে বা জলের উপরে অবস্থান করে।
হয়ত কোন সকালে পথে হাঁটতে হাঁটতে দেখছেন ,কেউ আপনার সামনে দিয়ে কোনো কারন ছাড়াই চিৎকার করতে করতে দৌড়ে পালাচ্ছে, যেন কেউ বা কারা তাকে তাড়া করেছে–( “ছেড়ে দে -আমি বলছি, ছেড়ে দে,আমি কী কোন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা ?” ইত্যাদি ইত্যাদি) এবং কোন কারন ছাড়াই ছুটতে ছুটতে রাস্তাতে পড়ে কাতরাতে লাগল,গড়াগড়ি খেতে লাগল ,যেন তার উপরে কোন জগদ্দল বোঝা চেপে আছে এবং সে বোঝা থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইছে।স্বাভাবিক ভাবেই আপনি তাকে কোন পাগল -ছাগল- স্কিজোফ্রেনিক বলে পাশ কাটাবেন ।সত্যিই তো ,এমন কত পাগল আমাদের চারপাশে,হাওয়ার সঙ্গে কথা বলে ,হাওয়ায় বিনুনি কাটে আঙুল দিয়ে ।কিন্তু এই কেসটা সেরকম নয়,ইনি হচ্ছেন আমাদের কাহিনীর “বেচারা” নায়ক কিমিহিরো ওয়াতানুকি, সেইরকম বিরল মানুষের একজন যে শুধু নিয়মিত ইয়োকাই বা আয়াকাশি দেখতে পায় না ,বরং সেগুলো তার জীবনকে জ্বালিয়ে ছাড়ছে ।যেখানে যাচ্ছে ,জেলির মতো বিশাল বড় উদ্ভট আকৃতির ইয়োকাইগুলো তার পিছু ছাড়ে না ।তো সেদিনও সেই কাহিনীর রিপিট হচ্ছে, বেচারা ওয়াতানুকি দৌড়াচ্ছে, পেছনে সেই ইয়োকাইগুলো দৌড়াচ্ছে ,একসময় তার উপর চেপে বসল ইয়োকাইগুলো,বেচারা ওয়াতানুকি মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে ,মাটিতে হাত ঠুকছে ।মাটিতে হাত ঠুকতে ঠুকতে তার হাতটা গেয়ে পড়ল একটা বড় কাঠের প্রাচীরের গায়ে ।ব্যাস,সঙ্গে সঙ্গে জেলির মত আকৃতিহীন ইয়োকাইগুলও ভ্যানিশ !!মাঝ রাস্তা থেকে সে কীভাবে এখানে টপকে পড়ল ?
ওয়াতানুকি তো অবাক ।

xxxHOLIC 2
হাত ঝেড়ে ওঠে সে দেখল ,একটা বড় উদ্ভট ডিজাইনের বাড়ির সামনে সে দাঁড়িয়ে ।বাড়িটার ডিজাইন না ইউরোপীয়ান ,না জাপানি কায়দায় ,আবার বাড়ির দুটো ছাদে অর্ধগোলাকৃতি
চাঁদের প্রতীক ।ওয়াতানুকি সদর্পনে একটু উঁকি দিতেই দেখল বাড়িটা তাকে চুম্বকের মত টানছে ,প্রচণ্ড টান ,সত্যিই টান।এমন সময় বাড়ির সদর দরজা খুললো এবং দুজন অদ্ভুত হেয়ারস্টাইলের ছোট মেয়ে বেড়িয়ে এল,বয়স হবে হয়ত বারোর কাছাকাছি ,একজনার বিশাল গোটানো চুল মাটি ছুঁয়েছে , আর একজনের ছোট গোলাপি কালারের চুল কাঁধ ছাড়ায়নি ।তারা ওয়াতানুকিকে ওয়েলকাম করল ,এটা একটা কোনও দোকান !!
সেই রহস্যময় মেয়েদুটো ওয়াতানুকিকে টানতে টানতে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেল । তারা বিশাল সৌজি দরজাটা খুললো এবং ওয়াতানুকি ওপার থেকে একরাশ ধোঁয়া ছাড়িয়ে একটা বড় কেদারার উপর ধূমপানরত ,লাল কিমোনো পড়া ইউকো সানের দেখা পেলো ।সে তার জন্যই অপেক্ষা করছিলো

xxxHOLIC 3

এবার ইউকোর পরিচয় কীভাবে দি ? পুরোনো বঙ্গিম-কালীদাস মার্কা বাংলাতে বললে “বৃহৎবক্ষা-ক্ষীনকটি-গুরু নিতম্ব” ইত্যাদি ইত্যাদি অথবা আমার চলিত চিন্তাতে বললে ইউকো একজন কঠিন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মেয়ে ,যে আবার সময়ে সময়ে মেজাজের দিক থেকে ছোট বাচ্চাদের মত হয়ে যায় । চেন -স্মোকার পর্যায়ে ,পান করে প্রচুর,ওয়াতানুকিকে খাটিয়ে মারে কিন্তু গোটা সিরিজের একাংশে তার অন্যতম সেরা বন্ধু,পোশাক,খাবার এবং স্টাইল সচেতন ,নিজের জীবনটা ভালোভাবে উপভোগ করে,স্বাধীন । আবার এই ইউকোই তার ম্যাজিকের দোকানের কাস্টমারদের সামনে হয়ে যায় নম্র,বিনয়ী এবং নিজের রহস্যপূর্ণ দিকটা কাস্টমারের সামনে রেখে তাদের সমস্যার সমাধান যথাসম্ভবভাবে করে ।ইউকো ডাইমেনশন ভাঙার ক্ষমতা রাখে ,সেজন্য হোলিক সিরিজ ছাড়াও ৎসুবাসা সিরিজেও তার দেখা মেলে ।ইউকো কিন্তু অনেক দিন আগেই মারা গেছে ,ৎসুবাসা ইউনিভার্সের এক যাদুকর ইউকোর নিজস্ব বাস্তবতার টাইম জোনকে থামিয়ে দিয়েছে,সেজন্য সে হোলিক দুনিয়ায় বেঁচে আছে ।যদিও শেষ অবধি সে আর থাকবে না ,যাকে ম্যাজিকের ভাষাতে বলে ভ্যানিশ ।মৃত্যু ।

টিম ক্লাম্প ইউকোকে বানানোর পর মনে করেছিলো সেই হবে সিরিজের প্রধান চরিত্র ।তারপর মনে করে ,আরও একটা চরিত্র তৈরি করা যাক ,যে ইউকোর মতই আত্মা,দেবতা,অতিপ্রাকৃতিক জিনিস দেখতে পারে ।তো ,সেইমত তৈরি হলো ওয়াতানুকি ।ইউকো আর ওয়াতানুকির মধ্যে সম্পকটা অনেকটা ডোরিমনের ডোরিমন-নোবিতার সম্পকের মত ।যদিও ডোরিমন ছোটদের জন্য বানানো ।
ওয়াতানুকি ,অনেকটা সেইরকম চরিত্রের ,যে নিজের ইমোশনকে নিজের মনের মধ্যে বেঁধে রাখে না,বাইরে প্রকাশ করে দেয় ।আর তার ইমোশনকে প্রকাশ করে বিভিন্ন উদ্ভটভাবে হাত পা শরীর নাড়ানোর মাধ্যমে, জোরে কথা বলে ।যাতে ওয়াতানুকিকে হাস্যকর লাগে ।কিন্তু ওয়াতানুকির সহজাত বুদ্ধির দিকটা ঝলসে ওঠে কোন চরম বিপদের সময় ..আবার প্রচণ্ড কৌতুহলী মন,তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।

xxxHOLIC 4
হিমাওয়ারি, যার বাংলা অর্থ হবে সূর্যমুখী , ওয়াতানুকির ক্রাশ ।সে যদিও ইউকোর থেকে অনেকটা আলাদা ,এইরকম সরল,সাধাসিধে মেয়ে চরিত্র অনেক আনিমে সিরিজেই থাকে ।ওয়াতানুকি, দৌমেকি এবং ইউকোর ভালো বন্ধু হিমাওয়ারি, যখনই কোনও খাবার আনে দৌমেকি আর ওয়াতানুকির মধ্যে ভাগ করে দেয়,দৌমেকির অন্যতম প্রীয় বান্ধবী হওয়ার জন্য তারও কেয়ার নেয়, তীরন্দাজী প্রতিযোগিতায় তাকে চিয়ারস করে ,এবং এসব দেখে ওয়াতানুকির জ্বলে ।
দৌমেকি আবার ওয়াতানুকির চেয়ে অনেকটা আলাদা , একেবারে বিপরীত মেরুর । হ্যান্ডসাম ,কুল এবং কম সিরিয়াস ।যেখানে ওয়াতানুকি প্রচুর বকে,সেখানে দৌমেকি খুবই কম কথা বলে। সে বহু মেয়ের আকর্ষণের কেন্দ্র, যেটা দেখেও ওয়াতানুকির জ্বলে ।কিন্তু দৌমেকি ওয়াতানুকির খুব ভালো বন্ধু, কেয়ার নেয় অনেক ,যার প্রমান সিরিজের বহু এপিসোডে ।
আর যার কথা ছাড়া হোলিক গ্যাং এর কথা শেষ হয় না ,অবশ্যই মোকোনা ।খরগোশের মত দেখতে কালো আর সাদা রঙের এই দুটো কিউট প্রানীটা হোলিক ইউনিভার্স ছাড়াও ক্লাম্পদের বানানো আরও দুটো ইউনিভার্সে হাজির,ৎসুবাসা সিরিজ আর ম্যাজিক নাইট রেআর্থ ।দেখলে মনে হয় চোখ বন্ধ করে আছে,লম্বা লম্বা কান আর মাথার কাছে বড় একটা নীল রঙের গোলাকৃতি বস্তু -এই হচ্ছে প্রধান বৈশিষ্ট্য মোকোনার ।কালো মোকোনা ওরফে লার্গ বা রাগু হচ্ছে ইউকো-সানের অন্যতম প্রিয় বন্ধু,দাবা খেলা আর ড্রিঙ্কস পার্টনার ।

 

হোলিক ইউনিভার্স প্রচণ্ড রহস্যময় ,ওয়াতানুকি প্রতি এপিসোডে নতুন নতুন অতিপ্রাকৃতিক জিনিসের সঙ্গে মুখোমুখি হয়,কখনও রহস্যময় আঙটি আর তার ইয়োকাই ,কখনও এমন কিছু অতিপ্রাকৃতিক উপাদান যা স্কুলে উদ্ভট ঘটনা ঘটাচ্ছে ,কখনও মানুষের মত কথাবলা শিয়াল পরিবার,বৃষ্টি আত্মা, আত্মা আর অতিপ্রাকৃতিক প্রানীদের দীর্ঘ মিছিল অথবা এমন এক পূর্ণিমার চাঁদ, যা ওয়াতানুকিকে এই বাস্তবতার গভীরে ঢুকতে সাহায্য করবে ।
কোন পূর্ণিমার রাত্রে,যখন বিশাল বড় বহুরঙা চাঁদ একদিকে ওঠে,তাদের মধ্যে দিয়ে কোন ঝাঁটায় উড়ন্ত যাদুকর ছাতা হাতে নেমে আসে বা মৃতদের উদ্ভট মিছিল দিগন্ত পেরোয় অথবা অমাবস্যার শেষে যখন অন্ধকার দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় ,সেই পথ দিয়ে ইয়োকাইরা জেলির মত ওয়াতানুকির পেছন নেয় অথবা বসন্তের চেরিব্লসম ঝড়া সন্ধ্যায়, কোন শিন্তো শ্রাইনের চত্বরে উদ্ভট প্রানীদের আনাগোনা শুরু হয়,এ রকমই হোলিকের প্রকৃতি, সঙ্গে অবশ্যই কমেডির মিশেল একে অন্য একটা চেহারা দেয়।

হোলিক আমাদের এটাও দেখায় যে সবার একটা নিজস্ব বাস্তবতা আছে,হয়ত কারও সেটা প্রচণ্ড একান্ত ,কোন গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ দিয়ে সবার বাস্তবতা এবং বোধ এক কাতারে ফেলা যায় না ।

xxxHOLIC 5

হোলিক হচ্ছে আনিমে জগতের ছোট্ট আরব্য রজনী ,সঙ্গে অবশ্যই কমেডির মিশেল ।অথবা হোলিককে কোনও কিছুর সঙ্গে তুলনাই করা উচিত নয়,হোলিক ইউনিভার্স এবং এর প্রত্যেক লৌকিক এবং অতিপ্রাকৃতিক চরিত্রগুলো অথবা গল্পের চরিত্রগুলো এবং দিকপ্রকৃতি এটতাই আলাদা আলাদা,উদ্ভট যে একে অন্য কোন কিছুর সঙ্গে তুলনা করতে ইচ্ছা করে না,এমনকী টিম ক্লাম্প এর অন্য কাজগুলোর সঙ্গে ও নয় ।

আনিমে সিরিজের অন্যতম অর্জন হচ্ছে এর এনিমেশন, পরিচালক ৎসুতমু মিজুশিমা একেবারে ক্লাম্পের মেজাজে পরিচালনা করেছেন ।
এছাড়া এর ওপেনিং আর এন্ডিং থিমও ব্যাপক ।বিশেষ করে এপিসোড 24 অবধি চলা ওপেনিং সং “19 সাই” আমার অন্যতম প্রিয় আনিমে ওপেনিং ,গান সমেত ভিডিওতে একটা যাদু বাস্তবতার আবেশ আছে ।এছাড়া এপিসোড 37 অবধি চলা “নোবডি নোওজ” ও খুব প্রিয় ।দুটোই গেয়েছে শুনা(শুগা) শি(ই)কো ।তেমনি 37 এপিসোড ধরে চলা এন্ডিং সং “রিসন” যেন সিরিজ সম্পকেই কথা বলে ।

যারা পরাবাস্তব,অ অথবা অতিপ্রাকৃতিক অথবা যাদু বাস্তবতাধর্মী এবং কমেডি ধাঁচের কাজ পছন্দ তার অবশ্যই এক্স এক্স এক্স হোলিক সিরিজ ভালো লাগবে,আশা করি ।এরপরও এর একটা ভালো সিনেমাও আছে ।
ব্যাক্তিগতভাবে এই সিরিজটা আমার প্রিয় দশটা আনিমে সিরিজের অন্যতম ।পাঁচ বছর আগে আনিম্যাক্সে দেখার পরও অনলাইনে একাধিক বার দেখেছি ।আর হ্যাঁ, ড্রয়িং আর এনিমেশনে সরু সরু হাত পা টিম ক্লাম্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।

xxxHOLIC 6

Anime Suggestion: Joshiraku — Imamul Kabir Rivu

শৌয়া গেনরোকু রাকুগো দেখে অনেকেরই হয়তো রাকুগো নিয়ে আগ্রহ জেগেছে । রাকুগো নিয়ে আরেকটি আনিমে আছে কিন্তু, তা জোশিরাকু । তবে এটা নামে মাত্র রাকুগো নিয়ে যদিও, কেননা রাকুগো নিয়ে বলার চেয়ে ৫ জন রাকুগো পারফর্মারের দৈনন্দিন জীবনের কাহিনী বলাটা বেশি মানানসই । পুরা আনিমেতে রাকুগোর দেখা পাবেন সুধু প্রতি পর্বের শুরুর দিকে । এরপর থেকে মারি, তেতোরা, কিগু, গান-চান এবং কুকুরুরা মিলে কি করে সেটাই পুরা পর্ব জুড়ে দেখানো হয় ।

Joshiraku

দেখতে মনে হয় কিউট গার্ল্স ডুইং কিউট থিংস তবে ঔ কাতারের আনিমের তুলনায় এই আনিমেটির কমেডিক এলিমেন্ট বেশ ম্যাচিউর । এছাড়া নানা বিষয় নিয়ে প্যারোডিও করা হয়েছে আনিমেটির মধ্যে । এই প্যারোডিগুলা ঠিক আনিমের চেয়ে বাস্তব জিনিশের পরিমান বেশি ।

ওপেনিং-এন্ডিং দুটা দেখেই বেশ মজা পাবেন । এটার এন্ডিংটা নিয়ে বহু প্যারোডিও আছে, যা ইউটিউবে গেলেই পাবেন ।

৫ জনের সেইয়ূও এখন বেশ পরিচিত নাম হলেও এই আনিমের রোলগুলা দিয়েই উঠে আসার পথ চলা, যদিও গান-চানের কণ্ঠ অভিনেত্রী নানজৌ ইয়োশিনো এর আগেই কাতেকিয়ো হিটম্যান রিবর্নের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ইউনির কণ্ঠ দিয়েছেন এবং এখন হয়তো লাভ লাইভ আর এর সাথে ফ্রিপসাইডের জন্যই বেশি পরিচিত । ওহ্ আর বাকি ৪ জন হল গোতৌ সাওরি, কোয়াই কোতোরি, সাকুরা আয়ানে এবং ইয়ামামোতো নোযোমি ।

১২ পর্বের হালকা ধাঁচের স্লাইস অফ লাইফ-কমেডি আনিমে । সময় নিয়ে দেখে ফেলতে পারুন । ওহ্, আর এই আনিমে এবং সায়োনারা যেৎসুবৌ সেনসেই-এর অথর কিন্তু একই ব্যক্তি ।

কামিচু! [রিভিউ] — Anirban Mukherjee

কামিচু!
আনিমে টেলিভিশন সিরিজের পরিচালক :- কোজি মাসুনারী
এপিসোড সংখ্যা:- 16 টি ।

Kamichu 3

গল্পের আরম্ভ অনেক আগে, যখন আমাদের জীবনটা কোন স্মার্ট ফোনের হাতে ফেলে দিয়নি, ফেসবুক আমাদের আর একটা জীবন হয়ে ওঠেনি, পার্সোনাল কম্পিউটারে ছেয়ে যায়নি পৃথিবী ।অথবা আমাদের তখন অস্তিতই ছিলো না, গল্পের শুরু যে বছরে, সে বছরে মোটোরোলা প্রথম বানিজ্যিক মোবাইল ফোন মোটোরোলা ডায়না টিএসি ৮০০০এক্স বাজারে ছাড়ে,আবার অ্যাপলের ম্যাকিনটোশ পার্সোনাল কম্পিউটার আসতেও একবছর দেরী, সেই বছরই আবার ইন্টারনেটের অফিসিয়াল জন্মবছর,সেই বছরই পৃথিবীর চ্যালেঞ্জার মহাকাশ ফেরির প্রথম যাত্রা, যা ছয়বছর তার শেষ যাত্রা সমাপ্ত করবে তার দশ নম্বর উড়ানে, সাত জন মহাকাশচারীর জীবন সঙ্গে নিয়ে। জাপানের প্রথম টোকিও ডিজনিল্যান্ড সেই বছরেই খোলে, বছরটা 1983 ।আরও ভালো করে বলতে গেলে 1983 এর এক রঙিন বসন্ত গল্পের শুরু, শেষ হয় পরের বসন্তে।

জাপানের শিন্তো ধর্ম খুবই প্রাচীন। অন্যসব প্যাগান ধর্মের মতই এই শিন্তো ধর্মও প্রকৃতি থেকে নিজের উপাদান, দার্শনিক মত, মিথোলজি নিয়েছে। অন্য সব ধর্মের মতনও শিন্তো প্রভাবিত করেছে জাপানের অন্যান্য কালচারাল মাধ্যমকে, প্রভাবিত করেছে জাপানের চিত্রকলা, উপকথা, কবিতা বা বর্তমানে আনিমে, ভিডিওগেম, মাঙ্গা, সাহিত্য সব জায়গায়। শিন্তো ধর্মে দেবতা এবং দেবী, উভয়দেরই কামি বলা হয়। এটা একটি উভয় লিঙ্গ শব্দের উদাহরন। আবার আত্মা, সর্বোচ্চ ঈশ্বর বোঝাতেও কামি শব্দটা ব্যাবহার হয়। একটা শব্দের অনেক অর্থ।

Kamichu 4

টোকিও থেকে সাতশো চৌত্রিশ কিলোমিটার দূরে হিরোসিমা প্রিফেকচারে শিটো ইনল্যান্ড সমুদ্রের ধারে অনমিচি একটা সুন্দর শহর। শহরকে দুভাগ, তিনভাগ করেছে নদীর মতো সমুদ্রের কয়েকটা অংশ, সৃষ্টি করেছে ছোটবড় বেশ কয়েকটা সুন্দর দ্বীপের। দ্বীপগুলোর মধ্যে যাওয়া আসার জন্য আছে ফেরি সার্ভিস।
গল্পের মূল চরিত্র, ইয়ুরি হিতত্সুবাসী,শহরের একটা মিডল স্কুলের ছাত্রী ,হটাৎ একদিন টিফিনের সময়ে, তার অন্যতম প্রিয় বান্ধবী মাত্সুরিকে বলেই ফেলল কথাটা “সে একজন কামি(দেবী)।”

নিজের হাতে দুধের প্যাকেটের মধ্যে স্ট্র ঢোকাতে ঢোকাতে মাৎসুরি অতি স্বাভাবিকভাবে জিজ্ঞাসা করলো “কিসের দেবী ?”

আনিমের এই শুরুটা যেকোনো মনোযোগী এনিমখোরকে অবাক করে দিতে পারে ।অথবা সিরিজে দুই বান্ধবীর মধ্যে কথোপোকথন দিয়ে শুরুটা অনেকটা ফ্রান্ৎস কাফকার মেটামরফোসিসের প্রথম বাক্যটা মনে করিয়ে দিতে পারে, গ্রেগর সামসার এক স্বপ্নবহুল ঘুম থেকে জেগে উঠে নিজেকে এক বিশাল পোকায় পরিনত লাভ করা যেমন গ্রেগরের কাছে অতি স্বাভাবিক ব্যাপার,তবুও সে অফিসের যাওয়ার জন্য ভেবে যাচ্ছে। সেইরকমই নিজেকে বা কোন বান্ধবীকে একজন দেবী হিসাবে জানা অতি স্বাভাবিক, রোজকেরে ব্যাপার ।

Kamichu 2

প্রথম এপিসোডে দেখব , ইয়ুরি তার দুই প্রিয় বান্ধবী মাত্সুরি আর মিত্সুএ এর সঙ্গে মাৎসুরিদের পারিবারিক শিন্তো মঠে যায় ,সে কোন বিষয়ের দেবী জানার জন্য ।আবার নিজেদের স্কুলের ছাদেও চলে তিন বন্ধু র পরীক্ষা ,তারা দেখতে চায় ইয়ুরির কীরকম শক্তি, টিভির সুপারহিরোদের মত পরীক্ষার ব্যবস্থা, কিন্তু কিছুই হয়না ।যদিও তখনই পরিচালক আমাদের দৃষ্টিকে শিটো উপসাগরের তীরের শহর থেকে দূর প্রশান্তের বুকে নীল জলের উপর ভাসমান একটা নৌকাতে নিয়ে গিয়ে ফেলে, কোনও অজানা কারনে সেই নৌকার পালে টাঙানো একটা কাপড়ের টুকরো দুলে ওঠে, কাকতালীয় ভাবে, হয়ত হাওয়ায়!!!!
সেই ছাদেই পরিচয় হয় কেনজি আর ইয়ুরির।কেনজি স্কুলের ক্যালিগ্রাফি ক্লাবের একমাত্র সদস্য (এবং প্রেসিডেন্ট)।
সেই রাত্রিতেই ইয়ুরি তার দেবীত্বের পরিচয় পেয়ে যায়, তৈরি করে ফেলে বিশাল একটা টাইফুন,কেনজি আবার সেই টাইফুনের কবলে পড়লে তাকে ইয়ুরি বাঁচায়।

পরের এপিসোডে, মাত্সুরি, আর তার বোন ঠিক করে তাদের নতুন দেবীর সম্মানে একটা উৎসব আয়োজন করবে তাদের শিন্তো মঠে। কিন্তু দেখে মঠের আরাধ্য দেবতা য়াশিমা নেই!! তো, ইয়ুরি যায় দেবতাদের জগতে, য়াশিমাকে ফিরিয়ে আনতে।

Kamichu 5

এইরকম আরও ভালো ভালো গল্প দিয়ে এগিয়েছে 2005 এ তৈরি কামিচুর পরবর্তী এপিসোডগুলো, এসেছে নতুন নতুন চরিত্রের সঙ্গে। যেমন য়াশিমা সামা, শহরের লোকাল কামি বা দেবতা। বা বিন চান, আর এক কামি, যে ইয়ুরির বিড়াল তামার শরীরে আশ্রয় নেবে।
গোটা আনিমেটা আমার কাছে মিথোলজি, ম্যাজিক রিয়ালিজম আর কমেডির সুন্দর সংমিশ্রণ লেগেছে। এনিমেশন খুবই ভালো, বেশ সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড দৃশ্য। ঐ ব্যাকগ্রাউন্ড দৃশ্যে যেসব শিন্তো মঠ মন্দির, প্রতিষ্ঠান দেখা গেছে সেগুলো অনমিচি শহরে আজও দেখা যাবে।
ইয়ুরির গলা দিয়েছে ভয়েস একট্রেস মাকো, এটা তার প্রথম কাজ ছিলো।
আনিমেটা কোনও মাঙ্গা থেকে তৈরি নয় বরং আনিমে সিরিজ থেকেই একট সমনামী মাঙ্গা তৈরি হয়েছে। শিন্তো ধর্মের মিথ ব্যাবহার করে কামিসামা কিস, নোরোগামীর মত জনপ্রিয় আনিমে তৈরি হয়েছে। যাদের এগুলো পছন্দ, তাদের আশাকরি অবশ্যই কামিচু পছন্দ হবে।

Kamichu 1

দেনপা তেকি না কানোজো [রিভিউ] — Imamul Kabir Rivu

—রিভিউ—

আনিমে – দেনপা তেকি না কানোজো
পর্ব – ২
জনরা – মিস্টেরি, থ্রিলার

দেনপা তেকি না কানোজো মূলত একটি ২ পর্বের এক এক্সেপশনাল ওভিয়ে । এবং এর কাহিনী এক বাক্যে, দুই প্রধান চরিত্র জুযাওয়া জূ এবং ওচিবানা আমের ২ পর্ব ধরে ২ টি কেস সল্ভ করার কাহিনী । তবে এর কিন্তু কোন ডিটেক্টিভ ডুয়ো না বরং বুঝতে উঠে পারার আগেই তারা কেসটির সাথে জড়িয়ে যায় ।

কাহিনীর শুরু হয় ঠিক কিভাবে জুযাওয়া জূ-এর সঙ্গে ওচিবানা আমের মিল হয় ও থেকে । ওচিবানা আমে হঠাৎ এসে হাজির হয় জূ-এর সামনে এবং সে বলে সে জূ-এর সাথে তার পূর্ব জন্মে পরিচিত ছিল তাই তাকে এখন থেকে সার্ভেন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে । প্রথমে জূ বিষয় এটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ঘটনাক্রমে মেনে নেয় ।

এবার আসি মূল কাহিনীতে । আগেই বলেছি, ২ পর্বে ২ টি ভিন্ন কেস । প্রথমটা বেশ টিপিকাল, দ্বিতীয় বেশ এক্সেপশনাল । প্রথমটার কাহিনী ঠিক এক সিরিয়াল কিলারকে নিয়ে । এই সিরিয়াল কিলার জ-এর নজরে আসে তার এক ঘনিষ্ট বন্ধের খুনের পর । প্রথমে ওচিবানা আমেকে সন্দেহ করলেও ঘটনাক্রমে বের হয়ে আসে আসল দোষী কে, তবে তা দেখে নেওয়ার কাজ আপনার । দ্বিতীয় পর্বটির কাহিনী ঠিক একটি মেয়ের ট্রমাকে ঘিরে । তার ট্রমার সাথে খানিকটা ওয়ারিমোনোগাতারির দ্বিতীয় আর্কে ঔকুরা সোদাচির ট্রমার সাথে কিছুটা মিল আছে, যাদের ওয়ারিমোনোগাতারি দেখা আছে তারা হয়তো কিছুটা ধরতে পেরেছেন । এ কাহিনীটা আমার বেশ ভালো লেগেছিল । কাহিনীটির মাঝে এক বড় টুয়িস্ট আছে । এবং সুধু তাই নয় ঠিক শেষের দিকে আরেকটি টুইস্ট । আগেই বলে দেই ওভিয়েটির এন্ডিংটা বেশ শকিং ।

আর্টটা বেশ ভালো ছিল । তবে এখানে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড ডিটেইলিং-এর উপর । ক্যারেক্টার ডিজাইনটা মোটামোটি তবে ব্যাকগ্রাউন্ড এবং চারপাশে পরিবেশ বেশ অসাধারণ ছিল । এর কোন ওপেনিং তবে ২ পর্বে ২ টি ভিন্ন এন্ডিং । ২ টি এন্ডিংই বেশ সুন্দর ছিল, বিশেষ করে দ্বিতীয় এন্ডিংটা বেশ সুন্দর এবং ইমোশোনাল ছিল ।

চরিত্রগুলোকেও বেশ ভালো লাগবে । কোন এক্সেপশনাল চরিত্র নেই । আর বাকি সাধারণ আনিমেগুলোর চরিত্রের ব্যক্তিত্বই এই আনিমের চরিত্রেগুলোর মাঝে বিদ্যমান । ২ পর্বে চারিত্রিক উন্নতি দেখানো প্রায় অসম্ভব, তাই তেমন কোন চারিত্রিক উন্নতি ২ টা পর্বে নজরে পরবে না ।

এবার আসি সেইয়ূদের কথায় । হিকারু এবং ফুজিশিমা কানাকো বাদে বাকি সবার সেইয়ূই ছিল অভিজ্ঞ এবং খ্যাতিমান । আমার কার কোন সেইয়ূ তা বের করতে নেটের কোন সাহাজ্যই লাগে নাই । না দেথেই বলে দেওয়া যায় যে জুযাওয়া জূর কণ্ঠ দিয়েছেন হোসোয়া ইয়োশিমাসা এবং ওচিবানা আমের কণ্ঠ দিয়েছেন হিরোহাশি রিয়ৌ । এছাড়া কাস্টে আরও ছিল কোশিমিযু আমি, উয়েদা কানা, সাইগা মিৎসুকি, কোবায়াশি ইয়ূ, নাকাহারা মাই এবং কিতামুরা এরিদের মত অসাধারণ কণ্ঠ অভিনেত্রীরা । মাত্র ২ পর্বের জিনিশে এরকম নামি-দামিদের দিয়ে কাজ করানো বেশ ভালো জিনিশ । শেষমেশ, সাইগা মিৎসকি বাদে বাকি সবায়ই আমার প্রিয় সেইয়ূ ।

৪ পর্বের সমান মাত্র ২ পর্বের ওভিয়ে, কেননা প্রতি পর্ব ৪০ মিনিট করে । অল্প সময়ের মধ্যে কোন ভালো মিস্টেরি আনিমে দেখতে চাইলে দেখে ফেলুন দেনপা তেকি না কানোজো ।

denpa teki no kanojo

FLAG!(2009) রিভিউ — Fahim Bin Selim

FLAG!(2009)
★★★★☆

[ইংলিশ ডাব]

অরিজিনাল নেট অ্যানিমেশন

জনরাঃ ওয়ার ড্রামা, মিলিটারী
প্রযোজকঃ দ্য অ্যান্সার স্টুডিও (Garden of Words, Golgo 13)
মূল ও পরিচালনাঃ রিওস্কে তাকাহাশি (Gasaraki, The Cockpit)

সেন্সরঃ সরাসরি ভায়োলেন্স অনুপস্থিত

মাইঅ্যানিমেলিস্ট রেটিংঃ ৭.৩৬(#২০২৬)

 

FLAG

গৃহযুদ্ধ-বিদ্ধস্ত উদিয়ানা(Uddyana). একে অনেকটা মধ্যপ্রাচ্য আর দক্ষিণ এশিয়ার সংকর বলা যায়। একপাশে দিগন্ত বিস্তৃত মরুভূমি আর বেদুঈনদের বাস, আরেকদিকে চারিদিক ঘেরা সুউচ্চ পাহাড়ের খাঁজে গড়ে ওঠা এর প্রধান শহর সুবাশি(Subasci) – আর তার মানুষ – সনাতন আর বৌদ্ধ ধর্মের মিশেলে এক ধর্মের অনুসারী যারা, আর তাদের প্রার্থণার বড় একটা অংশ জুড়েই হয়তো বা ছিলো চলমান যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে রেহাই পাওয়ার ব্যগ্র কামনা।

সায়াকো শিরাসু – জাপানী অনুসন্ধানী চিত্র-সাংবাদিক – তরুণী। যুদ্ধের কারণেই উদিয়ানায় পা রাখা তার, জ্যেষ্ঠ আর অভিজ্ঞ কেইচি আকাগির সাথে।তারপর হঠাৎ যখন বিক্ষোভের উত্তাল এক মূহুর্তে  তার তোলা বিপ্লবীদের হাতে উড়ন্ত UNF(জাতিসংঘ)-এর পতাকার এক ছবি হয়ে দাঁড়ালো উদিয়ানার শান্তিচুক্তির শক্ত হাতিয়ার, পুরো জাতির আশার প্রতীক, তখন খুব দ্রুতই শিরাসুর জীবনের মোড় ঘুড়ে গেল। সে পেয়ে গেল নায়োকোচিত(নায়িকাচিত?) সংবর্ধনা, আর আন্তর্জাতিক খ্যাতি। কিন্তু চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগেই অপহৃত হলো সেই বিখ্যাত পতাকা। UNF থেকে তৈরি করা হল গোপন এক মিলিটারী ইউনিট, একমাত্র লক্ষ্য – শান্তিচুক্তির আগেই সেই পতাকা পুনোরুদ্ধার। আর সেই পতাকার সাথে তার যোগসূত্র থাকায়, অনেকটা মাসকট হিসেবেই শিরাসুকে জুড়ে নেওয়া হল এই দলে। তার সু্যোগ মিললো পুরো অপারেশনটা ক্যামেরাবন্দী করার। আর চিরদিনের জন্য একটি জাতির কিংবদন্তীর অংশ হওয়ার।

vlcsnap-2016-02-11-00h04m03s203

পলিটিক্যাল ড্রামা অ্যানিমে তুলনামূলক কম হলেও, একেবারে কম না। কিন্তু এক্ষেত্রে FLAG এর বিশেষত্ব হচ্ছে তার গল্পের প্রেক্ষাপট, বাস্তব-বিশ্বের সাথে রিলেটেবলিটি আর অবশ্যই এর গল্পবর্ণনার পারস্পেরক্টিভ। আর এখানে এর কৌশলগত বিশেষত্বও। FLAG-এর পুরোটাই তার দুই মূল চরিত্র সাংবাদিকের চোখ দিয়ে দেখানো, এবং সেটা আক্ষরিক অর্থেই – FLAG হলো (সম্ভবত) প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র “Found Footage” টিভি অ্যানিমে। অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য এক কীর্তি বলেই মনে হবে! কিন্তু সত্যি সত্যি-ই, FLAG-এর ২০ মিনিট ব্যপ্তীর পুরো ১৩ পর্ব ধরে দেখানো প্রতিটি মূহুর্ত হয় তার চরিত্রদের তোলাঃ স্থিরচিত্র বা ভিডিও অথবা কম্পিউটার পর্দায় চলা কোন ফাইল অথবা হেলিকপ্টার, সমরযন্ত্রের ভেতর-বাইরের ক্যামেরায় বন্দী হওয়া দৃশ্য – যেগুলো কখনো কখনো কেবলই একগাঁদা স্থিরচিত্রের মনটাজ, কখনো বা সম্মুখসমরে চলা রুদ্ধশ্বাস কোন দৃশ্য, আবার কখনো বা দুপুরের ব্যস্ততার সময়টায় মিলিটারী ক্যাম্পের রাঁধুনীর একান্ত সাক্ষাৎকার।

vlcsnap-2016-02-12-16h31m54s196

“Found Footage” কায়দাটা “সত্যিকারের” ক্যামেরায় কাজে লাগানো যতটা সহজ, অ্যানিমেশনে ততটাই কঠিন, যেহেতু অ্যানিমেশন বানাতে কোন ক্যামেরা লাগেনা। সাধারন ক্ষেত্রে ক্যামেরার বিভিন্ন বিষয়গুলো খুব দ্রুত এবং সহাজাতভাবেই হয়, সেখানে অ্যানিমেটরদের তা প্রতিটি ফ্রেমেই আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। এটেনশন টু ডিটেইলস হাঁ করে দেওয়ার মত। FLAG-এর “পাওয়া ফুটেজ”-গুলো কেবল এক কোনায় “REC” আর আরেক কোনায় সময়-তারিখ দিয়েই শেষ হয়ে যায়নি, এর ক্যামেরাগুলো গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে ক্যামেরাগুলো হঠাৎ সূর্যের আলোতে তাক করলে পর্দা অন্ধকার হয়, জুম-ইন আর জুম-আউটের সময় ঘোলাটে হয়ে যায়, বাহকদের কাঁপা কাঁপা হাতের সাথে তারাও নড়তে থাকে। অধিকাংশ সময়ই ফার্স্ট পারসন ভিউ থেকে দেখানো, শটগুলোও অনেক সময় দীর্ঘ আর আনকাট। আর একারণেই গল্পের দুই মূলচরিত্র শিরাসু আর কেইচির স্ক্রিনটাইম খুবই নগন্য। আমরা তাদের হাতে ধরা ক্যামেরার সাথেই পুরো উদিয়ানা চষে বেড়াই।

vlcsnap-2016-02-11-00h07m25s214

FLAG এর গল্প দুটো – সমান্তরালে চলা – শিরাসু আর কেইচির। শিরাসুর উপস্থিতি মিলিটারী ক্যাম্পের ভেতরে, যা আপাত নিরস, নির্মোহ সৈন্যদেরও – যাদের কাজই হচ্ছে মানুষের প্রাণ নেওয়া, সেটা সন্ত্রাসবাদ রুখতে কোন পরিকল্পিত আক্রমনের বলী চরমপন্থীই হোক, বা কোন “অঘটনে্র শিকার” সাধারণ মানুষে – মানবীয় দিক উপস্থাপনের প্রয়াস। আমরা শিরাসুর সাথে ঘুরে বেড়াই মিলিটারী ক্যাম্পের ব্যারাক, তার রান্নাঘর, তার পরিকল্পনা রুমে – আমরা তার সাথে হেলিকপ্টারে চড়ি, বেদুঈনদের সাথে দিন কাটাই, মধ্যরাতের রোমাঞ্চকর সব মিশনের সঙ্গী হই। আবার যুদ্ধ-রাজনীতির বিশাল বিস্তৃত সাদা-কালো ঘর করা ছকে ধীরে ধীরে সৈন্য শ্রেনীর গুঁটি হিসেবে আটকা পরি, আর বাকিদের মত।

HAVWC(team)

শিরাসু যেখানে বাইরের বিশ্ব থেকে বিযুক্ত, সেখানে কেইচি বরং সুবাশিতে আমাদের ভ্রমণসঙ্গী। আমরা তার সাথে পৌছাই বেজমেন্টের এক ক্যাফেতে যেখানে সব ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের আসর বসে, অথবা জ্যোৎস্না রাতে দেখে আসি উদিয়ানার শতাব্দী প্রাচীন এক ধর্মীয় আচার, কিংবা হতবিহবল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি সদ্য বোমা-বিদ্ধস্ত এক নগরীর ধ্বংসস্তুপে। কেইচি আমাদের ন্যারেটর। সে উদিয়ানার ইতিহাস সম্পর্কে জানায়, তার ঐতিহ্য সম্পর্কে জানায় – আর আমরা যখন উদিয়ানার এই সমৃদ্ধ ইতিহাস আর তার প্রাণবন্ত ঐতিহ্য সম্পর্কে জানি – তা কোন অংশেই “ফিকশনাল” মনে হয় না। যেন পৃথিবীর মানচিত্র ফুঁড়ে বের হওয়া জীবন্ত কোন দেশ। উদিয়ানার বারুদের গন্ধ ভেসে বেড়ানো বাতাস আর এর রক্তভেজা পাহাড়, চারিদিক ছড়িয়ে থাকা এর মিথোলজি আর তার মানুষের জীবন-দর্শন, তাদের  অনিশ্চয়তায় ঘেরা বর্তমান আর আশায় বুক ভরা ভবিষ্যতের সাথে আমরা একাকার হই।

vlcsnap-2016-02-11-00h05m48s18

“Now we are out of place in our own home,” কেইচি সেইসব মানুষের ছবি তুলে, তাদের গল্প শুনে।  “You take our pictures and go home. But we have to stay here and live through all of this. Because this is the only place we can stay.”  তাদের মুখে লেগে থাকা স্মিত হাসির গভীরে দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়। লুকিয়ে রাখা সেইসব ক্ষত জট পাকিয়ে বেরিয়ে আসে, দুই পাহাড়ের মাঝখানে অস্ত যাওয়ার সূর্যের ক্ষনিক আভায় দ্যুতি ছড়ায়। কেইচির ক্যামেরায় আটকা পরে যুদ্ধের রেখে যাওয়া ধ্বংসলীলা।

vlcsnap-2016-02-12-16h32m58s66

ইংলিশ ডাবের ভয়েস অ্যাক্টিং সহজাত। আর্ট আর অ্যানিমেশন চমৎকার। এমনকি থ্রিডি অ্যানিমেশনও আর বেশিরভাগ অ্যানিমের চেয়ে ভালো। আর সবকিছুর মতই এর ক্যারেক্টার আর মেকা ডিজাইনও বাস্তবস্মত। যুদ্ধযন্ত্রগুলো এক লাফে দশ ফুট উঠে যায় না, আকাশে ভেসে বেড়ায় না। বরং যখন নতুন তাতে নতুন এক রাইফেল লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়, তখন বেশ কঠিন অংক কষেই তার পরিমার্জন করা হয়। তাদেরও দূর্বলতা, সীমাবদ্ধতা আছে। তারা পদার্থবিজ্ঞানে সূত্র মেনেই চলে। মেকা অ্যাকশন দৃশ্য হাতে গোনা এবং সাধারণ, বরং এর ক্যারেক্টার ড্রামাই গল্পের মূল আকর্ষন।

vlcsnap-2016-02-12-16h30m39s177

এর চরিত্ররদের মুভমেন্ট, ফেস এক্সপ্রেশন বাস্তবসম্মত না হয়েও বাস্তবসম্মত – সর্বদাই ক্যামেরা সামনে থাকায়, সেলফ-অ্যাওয়ার হওয়ায়, আলাদা একটা অস্বস্তি, জড়তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর এখানেই মূলত FLAG ভালো লাগা, না-লাগার ব্যাপারটা এসে যায়। এর গল্প যতই আকর্ষনীয় হোক, ন্যারেটিভ স্টাইলকে কোনভাবেই অগ্রাহ্য করা যায় না। তার চরিত্রগুলোর মতই ক্যামেরার উপস্থিতি সবসময়ই আমাদের চোখে লেগে থাকে। তার সাথে মানিয়ে নিতে না পারলে ১৩ পর্ব ধরে বসে থাকার মত ধৈর্য্য হওয়ার কথা না। FLAG-এর পেসিং ধীরগতির না হলেও, তখন সেটা “বোরিং” লাগাই স্বাভাবিক।

FLAG অনুসন্ধানী-সাংবাদিকতার প্রতি প্রেমপত্র। একে অ্যানিমেটেড স্যুডো-ডকুমেন্টারি বলা যায়, অথবা তার চেয়েও বেশি বলা যায় কোন ভবিষ্যৎ ডকুমেন্টারি বানানোর পেছনের গল্প – তার কাঁচামাল ইমেজ আর ভিডিওর সমাহার মাত্র। সেই ডকুমেন্টারি আদৌ বের হয় কিনা আমাদের জানা সম্ভব না। কারণ FLAG-এর কাহিনী অসমাপ্তই থেকে যায়। পৃথিবীর বুকে চলতে থাকা বর্তমান সব যুদ্ধের মতই কি না?

Behind the Voices – 14

হোসোয়া ইয়োশিমাসা

হোসোয়া ইয়োশিমাসা সাধারণত তার এক্সেপশনালি ম্যানলি কণ্ঠের জন্য পরিচিত । সে সুধু মাত্র তার কণ্ঠ দিয়েই তার চরিত্রগুলার মধ্যে এক ইউনিক ভাইব তুলে ধরে । বেশির ভাগ সময়ে তার চরিত্রগুলো একটা ম্যানলি ইম্প্রেশন ফেলে যায় ফ্যানদের মাঝে, মূলত তার এই ম্যানলি কণ্ঠের জন্যেই । এমনে তিনি আমার সবচেয়ে প্রিয় সেইয়ূগুলার মাঝে তিনি একজন ।

২০০৪ থেকে ভয়েস অ্যাক্টিং-এর সাথে জরিত থাকলেও, তার স্ক্রিনটাইম পাওয়া কোন ভালো রোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০১০ পর্যন্ত । তার প্রথম মেজর রোল হল কাতানাগাতারির ইয়াসুরি শিচিকা । ঠিক তারপর থেকেই প্রতি বছর কোন না কোন অসাধারণ রোল পেয়েই যাচ্ছেন তিনি ।

আমি প্রথমে তার ভক্ত হই চিহায়াফুরুর ওয়াতায়া আরাতা, কুরোকো নো বাস্কেটের হিয়ূগা জুনপেই এবং স্ট্রাইক দি ব্লাডের আকাৎসুকি কোজৌ এই তিনটি রোলের জন্য । এরপর তার আরও যত রোল দেখি প্রায় সবই ভালো লাগা শুরু করে, সাধারণত কোন কণ্ঠ-অভিনেতার কাজ দেখে আমি এতটা ইম্প্রেস্ড হই নাই । যাই হোক তার আরও কিছু পছন্দের রোলগুলো হল কাতানাগাতারির ইয়াসুরি শিচিকা, আকামে গা কিলের ওয়েইভ, এস অফ ডায়ামন্ডের ইয়ুকি তেৎসুয়া, ডেথ প্যারেডের গিনটি, হাইস্কুল DXD-এর মিকাইল, ম্যাজাইয়ের মাস্রুর, ফ্রি-এর ইয়ামাযাকি সৌস্কে এবং হাইকিউয়ের আসাহি ।

1

তার গানের কণ্ঠও বেশ প্রখর । ইনু এক্স বকু, ফ্রি, কিমি নো ইরু মাচি, প্রিন্স অফ টেনিস এবং আরও কিছু আনিমের ওপেনিং অথবা এন্ডিং-এ অবদান আছে তার ।

তার কণ্ঠ অভিনয় বরাবরই বেশ ভাল্লাগে এবং তিনি তার কণ্ঠ অভিনয়ের মাঝে কেমন জানি এক ইউনিক ফিল আনতে পারে, যা অনেক নামকরা কণ্ঠ অভিনেতারাও পারে না । এছাড়া বছরের পর বছরের তার রোলের পরিমান বেড়েই চলছে । এই বছরেও আজিন, বুঙ্গৌ স্ট্রে ডগ্স, বকু নো হিরো অ্যাকাডেমিয়ার মত আনিমেতে কণ্ঠ দিবেন তিনি । সামনে যে ভালো ভালো রোল পাবেন তিনি তা একেবারে স্বচ্ছ । ওহ্, আর আজকে কিন্তু তার ৩৪ তম জন্মদিন 😉 ।

2

 

কানায়ে ইতৌ

কানায়ে ইতৌর কণ্ঠ নিয়ে যদি কোন মন্তব্য করতেই হয় তবে ‘অধিক কিউট’ বাদে আর কিছু মাথায় আসে না । এই পর্যন্ত তার যত রোল দেখেছি সবগুলা চরিত্রতেই তার কাজ এত সূক্ষ ছিল যে চরিত্রটির কিউটনেস হয়তো তার কণ্ঠের জন্যেই বেশ বেড়ে গিয়েছে । তার কণ্ঠে বেশ ফেমিনিন ভাব আছে এবং শুনতেও বেশ ভাল্লাগে ।

তার বেশ ভালো পরিমানেরই রোল আছে, যদিও আমি মনে করি তার আরও বেশি রোল থাকা উচিৎ । তার যে রোলগুলো বেশ ভালো লেগেছে তা হল বকু ওয়া তোমোদাচি গা সুকুনাই-এর নিকু ইয়ে মানে কাশিওয়াযাকি সেনা ( আমার মতে তার সেরা রোল এবং জনগণের মতেও ), কামি নোমি যো শিরু সেকাই-এর এলশি, ওদা নোবুনা নো ইয়াবৌ-এর ওদা নোবুনা, হাতারাকু মাও সামার সুযুনো, রেইলগান-এর সাতেন রুইকো, ওকামি-সান তো শিচিনিন নো নাকামাতাচি-এর আকাই রিঙ্গো, টু-লাভ রু-এর নানা ডেভিলিউক ।

3

তার গানগুলার সংখ্যাও বেশ বড় । আসোবি নি ইকু ইয়ো, বকু ওয়া তোমোদাচি গা সুকুনাই, কামি নোমি যো শিরু সেকাই, মায়োই নেকো, কুইন্স ব্লেড, শিনরিয়াকু ইকা মুসুমে, তাইশৌ ইয়াকিউ মুসুমে এবং আরও কিছু আনিমের ওপেনিং অথবা এন্ডিং অথবা ইনসার্ট সং হিসেবে তার গান ব্যবহার করা হয়েছে । ইচ্ছা থাকলে ইউটিউব ঘেটে শুনে নিতে পারেন, তার গানের গলাও বেশ সুন্দর ।

তার জন্ম নভেম্বর ২৬, ১৯৮৬ । ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আকি তোয়োসাকির বেশ ভালো বন্ধু যেহেতু তারা একসাথে বেশ অনেকগুলো আনিমেতেই কাজ করেছে ( আকি তোয়োসাকিকে অনেকেই চিনেন হিরাসাওয়া ইয়ুইর জন্য এছাড়া তাকে নিয়ে সেগমেন্টে না লিখলেও কোন একদিন পোস্ট দিসিলাম, সার্চ করে নিতে পারেন না দেখে থাকলে ) । কানায়ে ইতৌ সামনে আরও রোল পাবে এই আশা রইলো ।

4

অ্যানিমের কাছে আসার গল্প — রুফিয়াস মিলেনিয়াম

অ্যানিমের কাছে আসার গল্প
(লাইক এনিবডি কেয়ারস্‌)

আমার একটা সমস্যা আছে। আমার সহজে ঘুম ভাঙ্গে না। যখন আমি অনেক ছোট, কেবল নার্সারিতে অথবা ক্লাস ওয়ানে পড়ি, তখন থেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হত, এবং স্কুলে যাওয়ার সময় হলে আমাকে ঘুম থেকে উঠানোর জন্য যথারীতি পীড়াপীড়ি করতে হত। এখনো করতে হয়। যাইহোক, তা একদিন সকালে আমাকে ঘুম থেকে উঠানোর খুব সহজ এক পদ্ধতির আবিষ্কার করা হল। সকাল বেলায় বিটিভি তে স্যামুরাই এক্স প্রচার করা হত। টিভি ছেড়ে দেয়া হল আর উদো জিনে নামের সেই ভিলেন কে দেখে আমি যে ভয় পেয়েছিলাম তাতে আমার ঘুম শেষ। আর কামিয়া কাওরু কে কেনশিন কিভাবে উদ্ধার করবে সেটা দেখার জন্য আর তর সইছিল না। এর পর অনেক দিন বিটিবি তে প্রতি বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টার সময় স্যামুরাই এক্স দেখার জন্য বসে থাকতাম।

আমাদের বাসায় তখনও ক্যাবল নেটওয়ার্ক নেয়া হয়নি, ক্লাস টু/ থ্রি তে পড়ি, এরকম সময়ে একদিন পাশের বাসায় গিয়ে দেখি সেখানের পিচ্চি ছেলেটা খুব উত্তেজিত হয়ে কি জানি দেখছে আর কিছুক্ষণ পর পর লাফাচ্ছে, চিৎকার করছে (ঠিক ইউরোপিয়ান ফুটবল ফ্যান্ দের মত)। সেখানে কত্তসব কত আকারের আজগুবি প্রাণী! (না ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেল না)।দেখি কার্টুনের নাম কার্টুন নেটওয়ার্ক! কি আজব! ক্লাস ফোর বাঁ ফাইভে পড়ার সময় ক্যাবল নেটওয়ার্ক আসার পরে জানলাম এটার নাম, পকিমন!… আই অয়ানা বি দা ভেরি বেস্ট! লাইক নো ওয়ান এভার অয়াজ!… ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পাইনি বলে ক্যাবল নেটওয়ার্ক আবার সরিয়ে নেয়া হল। আমার চাইনিজ কার্টুন দেখার ক্ষান্ত হল।

ক্লাস সেভেনে আবার ক্যাবল নেটওয়ার্ক নেয়া হল। একদিন বিকেলে কার্টুন নেটওয়ার্কে দেখলাম ড্রাগন বল জি। যখন আসে পাশে কেউ না থাকে, তখন গোকুর সাথে আমিও বিছানার উপরে লাফালাফি করতাম। কা মে হা মে হাআআআআআআ!

ক্লাস এইটে যখন পড়ি, কার্টুন নেটয়ার্ক কেন যেন হটাত অ্যানিমে দেখানো বন্ধ করে দিল।তার বদলে দেয়া হত ইন্ডিয়ান (ফালতু) কার্টুন। অ্যানিম্যাক্স চ্যানেলে কোনো সাবটাইটেল ছাড়া অ্যানিমে দেখে কিছুই বুঝতাম না। পরিসমাপ্তি ঘটল অ্যানিমে দেখার আরেকটি অধ্যায়ের।
আমার স্কুলের বন্ধুরা খালি হিন্দি সিনেমা দেখতো। আমি বলতাম, ভাই তোরা ইংলিশ ভার্সানে পরস, পারলে ইংলিশ ফিল্ম দেখ” কিন্তু কে শোনে কার কথা। তা এরমাঝেও কয়জন ছিল যারা কিনা, ব্লিচ, পকিমন, ফেইরি টেইল নামের কার্টুন নিয়ে কথা বলত। আমি কান পেতে সেসব গল্প শুনে যেতাম। তখন অনেক পকিমন কার্ড জমাতাম।

এন্টার আমার এস এস সি পরীক্ষার পরে ছুটির সময়। মোবাইলে ফ্রি মেগাবাইট নিয়ে ইউটিউবে আবার দেখলাম স্যামুরাই এক্স। আমার বন্ধু তানভির আমাকে ফোন করে বলল, “দোস্ত অ্যানিমে দেখস? জাপানিজ কার্টুন?” আমি বললাম, “হোয়াট এ কোইন্সিডেন্স! আমি একটু আগাই স্যামুরাই এক্স দেখতেছিলাম।” তানভির বলল, “ আমি নারুতো দেখতেছি। জাস্ট অসাম!”… মোবাইলের সেই ছোট স্ক্রিনে নারুতোর প্রথম দুইটি পর্ব দেখার পরে আর দেখা হল না।আমার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে যাওয়া হল।

(স্কিপ দিস প্যারা ইফ ইউ অয়ান্ট টু )তারপর… আমি বিদেশে চলে আসলাম। লন্ডনে আমি একা হয়ে গেলাম। ছোট্ট একটা ঘরে বন্দী হয়ে ভাবতে লাগলাম, ইশ , জাফর ইকবাল আর হুমায়ুন আহমেদ এর বইগুলো নিয়ে আসতাম যদি! পুরো ৬ মাস আমি ঘরে থাকতাম, বাইরে বের হতাম না।বাইরে গেলেই ইংরেজিতে কথা বলতে হয়, আর নার্ভাস ফিল করি।আমার ঘরের একটা বড় জানালা ছিল। সেখানে সারাক্ষন দাঁড়িয়ে থাকতাম। বাংলাদেশে বন্ধুদের সাথে কথা বলতাম মোবাইল ফোনে। আব্বু বলেছেন, বাংলাদেশের বন্ধুদের সাথে শেষ কথা বলে নিতে। কারণ আমার এখানে নতুন জীবন শুরু হয়েছে। তাদের কথা আসতে আসতে ভুলে যেতে হবে।শীতের একদিনে ঘরের বড় জানালাটা বন্ধকরে ইন্টারনেট আর ফেসবুকের জানালা খুলে দিলাম।

নারুতো আমার প্রথম দেখা “অ্যানিমে”। নারুতোর মাঝে খুঁজে পেলাম আমি একাকিত্ত, অদক্ষতা, দুষ্টুমি, অবহেলা, বন্ধুত্ব… অনেক কিছু। একটা ছেলে, বাবা মা নেই, কোনও বন্ধু নেই, কিচ্ছু পারেনা, কিন্তু কিভাবে সে তার অটল আত্মবিশ্বাসে সকল প্রতিবন্ধকতা গুলোকে পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তা দেখে আমি অভিভূত হলাম। একটা অ্যানিমে যে একজন মানুষ কে কিভাবে প্রভাবিত করতে পারে তা নারুতো দেখে শিখেছি।

তা এখানে প্রথম যখন স্কুলে গিয়েছি, সেই একদিন এর কথা। অঙ্ক ক্লাসে গিয়ে দেখি আমার পাশের সিটে একটা মেয়ে ঋষিদেরদের মতন আসন করে বসে আছে। আমি জিজ্ঞেস না করে পারলাম না, বললাম, “ আয়শা, কি করছ?” মেয়েটা বলল, “ আমি সেইজ মোডে যাওয়ার চেষ্টা করছি”…

বৃহস্পতিবার, কম্পিউটার ক্লাসে দেখি একটা ছেলে নারুতো দেখছে। নতুন পর্ব বের হয়েছে এই মাত্র তাই। ইংলিশ ক্লাসের একটা অ্যাসাইন্মেন্টে আমি প্লানেটারি ডিভাস্টেশন কথাটি ব্যাবহার করেছিলাম, পাশে বসে থাকা ছেলেটি সেটা পরে বলে উঠলো, “ ওওওওওও! আমি জানি তুমি এইটা কোথা থেকে পাইসো!”…

এই ছিল আমার অ্যানিমের কাছে আসার গল্প। অ্যানিমের জগতে আমি এখনো নতুন।

nertu

নিনগিও শিরিযুউ (মারমেড ফরেস্ট) — Anirban Mukherjee

নিনগিও শিরিযুউ (মারমেড ফরেস্ট)
আনিমে টিভি সিরিজ পরিচালক:- মাসাহারু ওকুয়াকি

mf 1

পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক সভ্যতার মিথোলজির দিক থেকে দুটো মিল আমাদের চোখে পরে ।হোক না সেই সভ্যতা মূল ইউরেশিয়ান ভূপৃষ্ঠ থেকে হাজার হাজার বছর ধরে বিচ্ছিন্ন, তবুও মহাপ্লাবন আর মৎসকন্যা বা মারমেডের(মারপিপলস) মিথ সেখানকার মিথোলজিতে পাওয়া যাবে,হয়ত কিছু ব্যাতিক্রম থাকবে ।মহাপ্লাবনের মিথের কথাই ধরা যাক, প্রাচীন সুমেরদের “ইরিডু জেনেসিস”,প্রাচীন ব্যাবিলনে গিলগামেশের মহাকাব্যে বর্নিত মহাপ্লাবন,বাইবেলের নোয়ার আর্ক, গ্রীক পুরানে বর্নিত তিনটি মহাপ্লাবন, আইরিশদের লেবর গ্যাবালা স্যাসার এর বর্নিত মহাপ্লাবন,নর্সদের বের্গেল্মির দানব আর মহাপ্লাবনের কাহিনী, মধ্য আমেরিকায় মায়ানদের “পোপোল ভূ”তে বর্নিত মহাপ্লাবনের কাহিনী, দক্ষিন আমেরিকার উনু পাচাকুটি বা (ভিরাকোচার অভিশাপে)লেক টিটিকাকায় মহাপ্লাবন, হাওয়াই মিথোলজির নু’উ আর মহাপ্লাবনের কাহিনী, হোপিদের উপকথায় ,মাউরি উপকথায় -মহাপ্লাবনের মিথ আছে পৃথিবীর সব সভ্যতার প্রান্তে ,ভারতীয় উপমহাদেশেই আছে তিন চারটে আলাদা মহাপ্লাবনের কাহিনী (তারমধ্যে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য হলো আন্দামানের আদিবাসীদের মিথটা ,যারা উপমহাদেশের মূল ভূপৃষ্ঠ থেকে হাজার হাজার বছর বিচ্ছিন্ন)।

সেই রকম মারমেড বা মৎসকন্যা জাতীয় প্রানীর মিথ,চিত্র বা দেওয়াল চিত্র কিংবা গুহাচিত্র গোটা পৃথিবীর সব সভ্যতার প্রান্তে প্রচলিত ,সেটা পেরুর কুসকোর প্রাচীন পাথুরে দেওয়ালে অঙ্কিত মারমেড রিলিফ হোক,বা প্রাচীন আসিরিয়ার উপকথা পুরানের দেবী আট্রাগেটিস,এমনকী আলেকজান্দারের বোন থেসালোনিকা , গ্রীক উপকথা মতে যে মরার আগে একটা মৎসকন্যায় রুপান্তর হয়।আরব্য রজনীর আবদুল্লাহর অদ্ভুত জলজগৎএ ভ্রমনের গল্প, বা ব্রিটেনের প্রাচীন উপকথায় ,যেখানে মৎসকন্যা অশুভ জিনিস,আবার সেই পশ্চিম ব্রিটেনের জেনোরের কোন এক গ্রামে,আটলান্টিকের তীরে,ম্যাথু নামে এক মানুষের সঙ্গে এক মৎসকন্যার প্রেম হয়, এই ভাবেই বিভিন্ন লোককথায় মৎসকন্যারা বেঁচে থাকে ।

জাপান সমুদ্র দিয়ে ঘেরা দেশ,সেখানে মৎসকন্যার উপকথা থাকবে না এমন নয়।”নিনগিও”(উচ্চারনটা আবার বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন দেখলাম,ফ্রেঞ্চ এ একরকম,ইংরেজিতে অন্যরকম ,আমার এটাই সঠিক মনে হলো , “人魚”) হচ্ছে সেখানকার মৎসকন্যাদের জাপানিজ নাম, “人魚”কে যদি গুগল ট্রান্সলেটর এর সাহায্যে বাংলায় অনুবাদ করা হয় তবে ফলাফল দিচ্ছে মৎসনারী।
জাপানের বিখ্যাত মৎসকন্যার গল্প “ইয়াও কিকুনি”,যার সঙ্গে আজকের আলোচ্য বিষয় মারমেড ফরেস্ট (বা সাগার) মিল প্রচন্ড ।

“ইয়াও বিকুনি” বা “আটশ বছর বয়সী বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী” গল্পে একজন ধীবর জাপান সাগরের তীরে ওয়াকাসা এলাকায় থাকতো, একদিন সে একটা অদ্ভুত ধরনের মাছ ধরলো তার জালে ,এমন মাছ সে কোনদিনই ধরেনি ,দেখেওনি।সে তার বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানালো তার বাড়িতে, মাছটা সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়ার জন্য ।

তার একজন বন্ধু একটু কৌতুহল হয়ে ধীবরের রান্নাঘরে ঢুকলো ,এবং দেখলো ঐ মাছটার মাথাটার জায়গায় পুরো একটা মানুষের মাথা, সে তো অবাক । তারাতারি তার অন্য বন্ধুদের বললো ঐ মাছটা যেন তারা না খায় ।

যথাসময়ে ধীবর লোকটা মাছটাকে রান্না করে নিয়ে এল এবং সাকের সঙ্গে আমন্ত্রিত অতিথি বন্ধুদের পরিবেশন করল।অতিথি বন্ধুরা বললো এই মাছটা তারা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খেতে চায়,সেইমত কাগজ দিয়ে মুড়ে দিতে ।ধীবর তাই করল এবং বন্ধুরা বাড়ি যাওয়ার পথে রাস্তাতে মাছগুলো ফেলে দিলো ।

কিন্তু একজন বন্ধু একটু বেশিই সাকে খেয়ে ফেলেছিলো,সে মদের ঘোরে মাছটাকে বাড়িতে নিয়ে এলো ।তার ছোট মেয়ে তার কাছ থেকে উপহার চেয়ে বসলে সে মদের ঘোরে কাগজে মোড়া মাছটা তাকে দিলো ।কিছুক্ষণ পরেই তার মদের ঘোর কেটে গেলে সে দেখল একি করলাম,তার মেয়েকে সঙ্গে সঙ্গে নিরস্ত করতে গেল যাতে সে মাছটা না খায়।কিন্তু কে কার কথা শোনে,নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আগ্রহ সবার বেড়ে যায় ,সে ছোট হোক বা বড় ।বাচ্চা মেয়েটা মহাআগ্রহে মাছটা খাওয়ার পর তার বাবা মেয়েটা মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে লাগে ।সময় যায়,মেয়েটার কিছুই হয় না,বরং আরও বেশি সময় যায় ,বাচ্চা মেয়েটা যুবতী হয়,বিয়ে হয় এবং আরও সময় যায়, মেয়েটার স্বামী বুড়ো হতে থাকে এবং একসময় মরেও যায় ,কিন্তু মেয়েটার বয়স বাড়ে না ,যুবতীই থেকে যায় এবং এভাবে ক্রমশ আটশ বছর বহুবার বিধবা হওয়ার পর সে সংসারের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসে,নিজের অমরতাকে বোঝা মনে হতে লাগে এবং শেষে একটু শান্তির খোঁজে বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী হয়ে যায়।

ইনুইয়াসা, রান্মা 1/2 এবং ওয়ান পাউন্ড গসপেল খ্যাত মাঙ্গাকার রুমিকো তাকাহাসি তার দেশেরই এই বিখ্যাত উপকথাকে তার তৃতীয় মাঙ্গার প্লট নির্মানের জন্য ব্যাবহার করলেন ,এবং মাঙ্গা শেষ হওয়ার নবছর পর আমরা পেলাম এর আনিমে এডাপশন ।মাসাহারু ওকুয়াকি যার পরিচালক ।

মারমেড ফরেস্টের মূল নায়ক ইয়োটা,ইয়াও বিকুনির সেই মেয়েটার মতোই অমরতার অভিশাপে সে জর্জরিত ।পাঁচশ বছর আগে সে ও তার কিছু বন্ধু ধীবর ছিলো ,তারাও মৎসকন্যা শিকার করেছিলো,একসঙ্গে খেয়েছিলো ।কিন্তু কয়েকজন বন্ধু সঙ্গে সঙ্গে বিষাক্রান্ত হয়ে মরে যায়,কিছু বন্ধু প্রচন্ড কুৎসিত এক দানবে পরিনত হয়,যাদের নাম আমরা দেখতে পায় “লস্ট সোল” হিসেবে ।ইয়োটা ভয় পেয়ে যায় তারও কিছু এরকম হবে একদিন ।কিন্তু সেই “একদিন ” কোন দিনও আসে না ।সময় যায় ,সে এসব কিছু ভুলে যায় ,বিয়ে করে সংসার পাতে ।আরও সময় যায়,তার স্ত্রী অভিযোগ করে সে বৃদ্ধ হচ্ছে কিন্তু ইয়োটা সেই একই যুবক আছে ।ক্রমশ সে উপলব্ধি করে সে অমর হয়ে গেছে,কিন্তু সে স্বাভাবিক ভাবে মরতে চায় ,সংসার ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে আবার মারমেডের সন্ধানে ।সে শুনেছে আবার যদি সে মারমেডের মাংস খায় তবে সে মরনশীল মানুষে পরিনত হবে ।
প্রথম এপিসোডে দেখি ,ইয়াটো পাঁচশ বছর পর এই আধুনিক জগৎ এ শেষ অবধি মারমেডদের এক আস্তানার সন্ধান পায়।জাপানের কোনও সূদূর কোনে এক সমুদ্র ঘেরা পাহাড়ি গ্রামে ,যেখানে একই রকম দেখতে যুবতী আর একই রকম বৃদ্ধারা গ্রামের অধিবাসী ।তারাই আসলে মারমেড ।মারমেডরাও ক্রমশ বৃদ্ধ হয়,কিন্তু তারা আবার যৌবন ফিরে পেতে কোনও মানুষের মেয়েকে ছোটবেলায় ধরে আনে,তাকে পনেরো বছর ধরে পায়ে বেড়ি পরিয়ে মানুষ করে ,এবং একসময় তাকে মারমেডের মাংস খাওয়ায় ।ফল হয় দুটো ,সে হয়ত বেঁচে যায় এবং অমর হয়ে যায় ,নাহলে বিষের কারনে মরে যায় কিংবা লস্ট সোলে পরিনত হয় ।

যে বেঁচে যায় সে কিন্তু আর অমরতার স্বাদ অনুভব করতে পারে না ।সে ঐ বৃদ্ধ মারমেডদের খাবারে পরিনত হয়,এবং ঐ বৃদ্ধ মারমেডরা আবার যৌবন ফিরে পায় ।

মানা,এইরকমই একজন মেয়ে ,যাকে মারমেডরা বন্দি করে রেখেছিলো খাবে বলে,ইয়োটা তাকে বাঁচায়,যদিও ততক্ষন সে অমর ।

দ্বিতীয় এবং তৃতীয় এপিসোডে,ইয়োটার অতীতকে আমরা দেখি,যেখানে সে টোবা দ্বীপের (নামেমাত্র) জলদস্যুদের নেতার মেয়ে রিনের সঙ্গে শাকাগামি দ্বীপের জলদস্যুদের বিরুদ্ধে যায়।দুপক্ষই মারমেড মাংসের জন্য একে অপরের উপর চরাও হয় ।রিনের বাবা , শাকাগামি দ্বীপের জলদস্যুদের প্রধানের স্ত্রী ইশাগো দ্বারা আহত হয়,রিন আর ইয়োটা মনে করে রিনের বাবা মারা যাবে ,সেজন্য মারমেড মাংসের খোঁজে সমুদ্রে পারি দেয় দুজনে ।তারা মারমেডের খোঁজ পেলেও ,শাকাগামি দ্বীপের জলদস্যুরা তা কেড়ে নেয় ,ইয়োটাকে মেরে ফেলে এবং মারমেডের মাংস আর রিনকে শাকাগামি দ্বীপের জলদস্যু প্রধানের কাছে নিয়ে আসে ।সবাই মাংস খায় এবং একে একে লস্ট সোলে পরিনত হয় ।অমর ইয়োটা মরেও মরে না! রিনকে উদ্ধার করে,এবং সব শেষে জানতে পারে ইশাগোও একজন মারমেড ।

এর পরের এপিসোড থেকে আবার বর্তমানে ফিরে আসে সিরিজের গতিপথ,আমরা ক্রমে মাসাতো, মিশা,ওমানাকো প্রভৃতি চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হয় ।মাসাতো,একজন সাতশো বছর বয়সী “বাচ্চা ছেলে”।যে খুব ছোট বয়সে মারমেডের মাংস খেয়েছিলো,তারপর তার আর বয়স বাড়েনি ।আসল বাবা মাকে হারানোর পর সে গত সাতশো বছরে বহু বাবা মা পেয়েছে,আবার তাদের হারিয়েছে বিভিন্ন যুদ্ধে,দুভিক্ষে অথবা স্বাভাবিক ভাবে ।ক্রমশ সে একজন ছোটখাটো স্যাইকোপ্যাথে পরিনত হয়েছে ,তবুও শেষ অবধি মিশাকে তার মা বানিয়েছে ।মিশাও তার আসল ছেলে এবং স্বামীকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হারিয়েছে ।এরপর তার সঙ্গে মাসাতোর আলাপ হয়,সে তাকে এক অদ্ভুত মাংস খেতে দেয় ।খাওয়ার অনেক দিন পর মিশা উপলব্ধি করে সে আর তার পালিত ছেলে মাসাতো কেউ বয়সে বাড়ছে না ।সে ভয় পেয়ে যায় ।

শেষের এপিসোডটা প্রচন্ড রক্তিম হিংস্র (ব্রুটাল)।মাসাতো শেষ এপিসোডে নিজের হিংস্রতাকে খুব শান্তভাবেই প্রদর্শন করেছে,যেটা যেকোনো সাইকোর খুব স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য । আবার এই শেষ এপিসোডেই এন্ডিং সংএর আগে শেষ তিন চার মিনিট প্রচন্ড ভালো লেগেছে ।
পরিচালক মাসাহারু ওকুয়াকি খুব ভালোভাবেই গোটা প্রজেক্টটা সামলেছেন ।সুন্দর অ্যানিমেশন,আমার বরাবরই গত দশকের প্রথমদিকের আনিমের অ্যানিমেশন ভালো লাগে ।কালারফুল ব্যাকগ্রাউন্ড, ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রয়োজনমত প্রচুর নীল এবং গাঢ় নীল আর কমলা রঙের দুর্দান্ত ব্যাবহার আর প্রচন্ড ভালো ডিটেলিং যা প্রাচীন বা আধুনিক দু ধরনের জাপানকেই সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে ।এবং প্রচন্ড ভালো চরিত্র রুপায়ন ।ইয়োটা আর মানা প্রাতেক্য এপিসোডে প্রয়োজন মত আলাদা আলাদা জামা কাপড় পড়েছিল,একটা জামা পড়ে গোটা সিরিজ কাটায় নি (এটা নিশ্চয়ই দেখেছেন কীভাবে লুফি বা নোবিতা বছরের পর বছর প্রায় একই জামা পড়ে কাটিয়ে দেয়) ।এটা বাস্তব বুদ্ধিযুক্ত ডিটেলিং এর একটা ছোট উদাহরণ ।

মারমেড বা মৎসকন্যা,এই ধরনের মিথোলজিক্যাল জীবের সঙ্গে বাচ্চা বয়সে আমরা পরিচয় হয় হানস এন্ডারসনের লিটিল মারমেড বা তার অতিসফল ডিজনির অ্যানিমেশন এডাপটেশনের সঙ্গে ,বা কোন শিশুপাঠ্য বাংলা পাক্ষিক পত্রিকার পাতায় রুপকথার গল্পে(আমার ছোটবেলায় আনন্দমেলাতে বা ঐ টাইপের ছোটদের পত্রিকাতে পড়া কিছু নাম ভুলে যাওয়া রুপকথা এক্ষেত্রে মনে আসছে) বা অবশ্যই মিয়াজাকির পোরনিওতে ।কিন্তু পরে বড় হয়ে একই মিথোলজিক্যাল জিনিসকে এইরকম হিংস্র অথবা ভয়ঙ্কর সুন্দর ভাবে পরিচয় লাভ করা যায় আনিমের পর্দাতে ।
এই আনিমেতে কিছু মারমেড হোমারের ওডিসির সাইরেনদের কথা মনে পড়িয়ে দেয়।শান্ত হিংস্র ।

ওপেনিং সংটাও দুর্দান্ত (ও প্লিজ কাম ডাউন লাইক এন অ্যাঞ্জেল)।

mf 2

Arslan Senki [Reaction] — Rezo D. Skylight

Arslan Senki:
পর্ব: ২৫
স্টুডিও: SANZIGEN, LAIDENFILMS
জনরা: Action, Adventure, Drama, Fantasy, Historical, Supernatural
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৯১

কিছুদিন আগে দেখে শেষ করলাম Arslan Senki। এনিমের শুরুটা বেশ ভালোই ছিল। কিছুটা Kingdom এনিমের ভাইব পাচ্ছিলাম আবার প্লটের সাথে Akatsuki no Yona-র মিল ছিল। কিন্তু পরে কাহিনী বহুত স্লো মনে হয়েছে। আর অ্যাকশনের পরিমান যতটা আশা করেছিলাম ততটা পাইনি, তবে যা ছিল খারাপ ছিল না। আর ওয়ার সিনগুলো আরও কিছুটা ডিটেইল করে দেখাতে পারতো। কিন্তু প্রত্যেক ওয়ার খুব তাড়াতাড়ি শেষ করে ফেলেছে। এছাড়া মাঝখানে সিন্দুরিয়ানদের নিয়ে যে আর্কটি ছিল তা মোটেই ভালো লাগেনি। আর মেইন ক্যারেক্টার হিসেবে আরস্লানকে মোটামুটি লেগেছে, তবে বাকি ক্যারেক্টারগুলো বেশ ভালো ছিল।

এতক্ষণ ধরে খালি খারাপ দিক আলোচনা করলাম। এখন কিছু ভালো দিকও তুলে ধরি। Arslan Senki-র আর কিছু ভালো না হোক OST ও Soundtrack গুলো ছিল অসাধরন। এনিমেশন কোয়ালেটি বেশ সুন্দর ছিল। স্টোরি স্লো মনে হলেও, মেইন প্লট খুব ভালো লেগেছে। আর মেইন ভিলেন হিসেবে Silver Mask এর চরিত্রও খুব ভালো ছিল। এছাড়া মেইন ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যে Daryun এর যুদ্ধকৌশল, Narsus এর স্ট্রাটেজি, Gieve এর চতুর কাজকর্ম সবই ভালো লেগেছে। তবে আরস্লানের আর কিছু না হলেও তার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ভালোভাবে দেখানো হয়েছে। কাহিনীর টুইস্ট, মিস্টেরি স্টোরি ব্যাকগ্রাউন্ডও যথেষ্ট ভালো ছিল। আর অ্যাকশনের মধ্যে Daryun এর সাথে Silver Mask এর ফাইটটা ভালো লেগেছে। যদিও মাঝে কাহিনী খুব স্লো ছিল বটে তবে শেষ কয়েক এপিসোড খুবই ভালো ছিল।

যাই হোক, Arslan Senki ওভারঅল খুব ভালো একটা ওয়ার-ড্রামা এনিমে। যদিও শেষমেশ কাহিনী অসমাপ্ত রেখেছে, এখন সেকেন্ড সিজনের জন্য বসে থাকতে হবে। আশা করি সেকেন্ড সিজন আরও ভালো হবে।

রেটিং – ৮/১০

[যাদের Arslan Senki ভালো লেগেছে তারা একবার Kingdom এনিমেটা পরখ করে দেখতে পারেন। Kingdom এর ইন্টেনসিটি, প্লট, ক্যারেক্টার ও যুদ্ধকৌশল আমার কাছে Arslan Senki থেকে ভালো লেগেছে।]

AS

Anime of The Year 2015 as Baka-kun Says — Maruf Raihan

প্রাচীনকালে যখন এক দেশের রাজা অন্য রাজ্যের সাথে সন্ধিতে আবদ্ধ হতে চাইতেন তখন ভোজসভায় আহবান করাই ছিল পন্থা।অর্থাৎ ভোজনরস মন জয় করার সর্বোত্তম উপায়।বাস্তবিকই খাবারের স্বাদের কাছে পৃথিবী অসহায়।আর যখন এই খাবার বানানোর কৌশল শিল্পে রূপ নেয় তখন তার চেয়ে মোক্ষম অস্ত্র আর কি হতে পারে!!

তাই বছর ২০১৫ কে নিজের করে নিতেই বোধহয় J.C. Staff  বেছে নিল ইয়ুতো সুকুদা’র মাঙ্গা শোকুগেকি নো সোমা’কে।আর তাদের হাত ধরেই এল বছরের কমবেশি সবার দেখা,সবারই ভালো লাগা আর ক্ষুধা উদ্রেক এক এনিমে সিরিজ “Shokugeki no Souma:Food Wars”

Shokugeki

 

২৪ এপিসোডের এই এনিমেটির এয়ারিং শেষ হয় ’১৫ এর সেপ্টেম্ব্রে।বের হওয়ার পর পরই বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়।যদিও এচ্চি হেটাররা এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি,কিন্ত পরবর্তীতে তারাও স্বীকার করেছেন “এনিমেটা মন্দ নয়”

গল্প শুরু এক বরাবরই এক ছেলে যে সেই ছোট্টবেলা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত রান্নার মাধ্যমে তার ফ্যামিলি রেস্টুরেন্টের ক্রেতাদের খুশি করাকেই জীবনের মূলমন্ত্র বলে শেখে।আর বাবার কাছে রান্না শেখা,কিন্তু বাবার সাথে প্রতি সপ্তাহে রান্নার লড়াই করত সে,যদিও একবারও বাবাকে হারানো হয়নি তার।

এই ছেলের নাম ইউকিহিরা সোউমা।বাবা ইউকিহিরা জোউইচিরো।শহরতলীর একপ্রান্তে থাকা তাদের ফ্যামিলি রেস্তোরাঁ ইউকিহিরা থেকে বাবার সাহচর্যে(চাপে বলাই ভাল) পাড়ি জমায় সোউমা ততসুকি কালিনারি একডেমিতে,যা কিনা জাপানের সবচেয়ে বিখ্যাত রন্ধন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এই একাডেমি কে ঘিরেই গল্প অন্য দিকে মোড় নেয়,একডেমিতে প্রবেশের পরপরই আলোড়ন সৃষ্টি করে সে।তবে বাধা-বিপত্তিও কম ছিল না এই পথে।আর এভেবেই শুরু হয় সোউমার ততসুকিতে টিকে থাকার যাত্রা……

রান্না নিয়ে এনিমে – খাবারের লোভনীয় উপস্থিতির মধ্যেই কেবল সীমাবদ্ধ নয়,প্রতিটি ডিশের প্রণালী ও এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োগও দেখানো হয়েছে এতে।আর “Shokugeki” বা রান্নার প্রতিযোগিতাই পুরো এনিমের উল্লেখযোগ্য হাইপ হওয়ার মত অংশ।রান্নায় বিশ্বভ্রমণের দেখাও মেলে এতে, শুধু জাপানি নয় আমেরিকান হার্ডকোর বিফ কুকিং,ইটালিয়ান পরিছন্ন রেসিপি,ফ্রেঞ্চ কুইসিনের জাদুকরি ছোঁয়া এমনকি ভারতবর্ষের মসলা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর উপস্থাপনা এক কথায় অতুলনীয়………

চরিত্রের বাহারি সমাহারও আছে।নাকিরি এরিনা(যার নাম অনেক এনিমেখোরের ক্রাশলিস্টে উঠে আছে),তাদোকোরো মেগুমি(২০১৫ এর সেরা ওয়াইফু),নাকিরি এলিস,আরাতো হিসাকো(২য় ওয়াইফু)ইত্যাদি……

আর ইউকিহিওরা সোউমা ছাড়াও ইশিকি সাতোশি(দ্যা Cool Dude অফ ২০১৫),আলদিনি ব্রাদার্স,দোউজিমা গিন এর মত কিছু হেভিওয়েট চরিত্র দেখা গেছে।

আর আর্ট ও এনিমেশন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।এনিমেশন ও আর্টের ব্যাপারে পুরো সিরিজে ব্রিলিয়ান্সি ও Consistency  থাকায় সিরিজটিকে প্লাস পয়েন্ট দিতেই হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল খাবারগুলো এমন সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে দেখে সত্যিকারের খাবার মনে হয়েছে।তবে একটা জিনিসই Awkward  লেগেছে আর তা হল ক্যারেক্টারগুলোর শরীরে রেড স্পট।

আর এনিমেটি খুবই খুবই এন্টারটেইনিং,আর চরিত্রগুলোর Interaction  এত ভালোভাবে স্টোরিলাইনের সাথে খাপ খেয়েছে যে যতক্ষণ এনিমেটি দেখবেন বোর হবেন না অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায়……

এচ্চি নিয়ে অনেকেই এনিমেটাকে কিছু মাইনাস পয়েন্ট দিয়েছেন আবার অনেকে বলছেন “এচ্চির জন্যই বেশি ভালো লেগেছে”।যাই হোক আমি মধ্যমপন্থীর মত দিয়েই বলি—“শুরুতে এচ্চি বেশি থাকলেও গল্প যতই এগিয়েছে এচ্চি গল্পের সাথে একাকার হয়ে গেছে”

আর ওপেনিং এর সময় জানিনা কয়জন খেয়াল করেছেন রাইস প্লেটের কারি’র ডিজাইন প্রায় প্রতি এপিসোড অন্তরই চেঞ্জ হয়ে যায়,আর এ কারণেই আমি আর আমার ছোট বোন একবারও ওপেনিং স্কিপ মারতাম না,এনিমের চেয়েও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত আজ প্লেটে কি ডিশ দেখায় সেটা।১ম ওপেনিং টা এক নজরে দেখে ফেলুন—

https://www.youtube.com/watch?v=rCvvjpzQkyY

ব্যাকগ্রাঊন্ড মিউজিক খুবই ভাল, বিশেষ করে শোকুগেকি চলার সময় ওস্তাদের শেষ মার(অর্থাৎ লড়াই এর উইনিং মুভ) এর সময় যে মিউজিক টা দেয় তা এখনো কানে বাজে।

MAL রেটিং – ৮.৬৭
ব্যক্তিগত রেটিং – ৯.২

যদি এখনো দেখে না থাকেন তবে এখনই দেখে ফেলুন বছরের অন্যতম সেরা এনিমে Shokugeki no Souma