Studio Monogatari: Episode 01

প্রথম পর্বেই থাকছে এমন একটি স্টুডিওর কথা যেটি বর্তমান যুগের আনিমের পথ মসৃণ করে তুলবার পিছনে রেখেছে যুগান্তকারী অবদান। আজকের স্টুডিও হল-

Mushi Production (or Mushi Pro)
1. mushi

 

আনিমে জগতে মুশি প্রোডাকশনের অবদান অনস্বীকার্য। স্টুডিওর শুরুটি হয় আনিমে/মাঙ্গার গডফাদার ওসামু তেজুকার হাত ধরে, যখন ১৯৬১ সালে চুক্তি শেষ হয়ে যাবার কারণে তিনি তোয়েই অ্যানিমেশন ছেড়ে চলে আসেন এবং নিজের মত করে তৈরি করেন এই মুশি প্রোডাকশন। আর হ্যাঁ, এই তোয়েই অ্যানিমেশন সেই স্টুডিও যেটি বিশাল পর্বের অনেক জনপ্রিয় কিছু আনিমে এখনও আমাদের উপহার দিয়ে আসছে। তবে এর গল্প আরেকদিন হবে। তোয়েই অ্যানিমেশনের সাথে পাল্লা দেবার জন্যে প্রতিপক্ষ স্টুডিও হিসেবেই গড়ে উঠে মুশি প্রোডাকশন, এবং এরপর স্টুডিওটি এমন কিছু জিনিস উপহার দেয় আমাদের যা পুরা আনিমের ধারণাকেই পালটে ফেলে!

2. Osamu Tezuka[ওসামু তেজুকা]

আসুন এক নজরে দেখে ফেলি আনিমে জগতকে কিছু “প্রথম” উপহার দেওয়া তাদের কাজগুলি-

  • Astro Boy (1963-1966): বর্তমান যুগের আনিমে বলতে আমরা যা বুঝে থাকি তারই শুরুটা হয় এই সিরিজ দিয়ে। বিশাল বিশাল চোখ ও চোখা চোখা গুচ্ছ চুলের স্টাইলের আনিমে ক্যারেক্টার দেখা যায় এতে, যা কিনা এখনও আনিমে চরিত্রদের আঁকার ধরণের একটা কমন স্টাইল হয়ে আছে। মুশি প্রোডাকশনের আরও কয়েকটি সিরিজের সাথে এটিও প্রথমবারের মত অ্যামেরিকান দর্শকদেরকে আনিমে জিনিসটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
  • Kimba the White Lion [Jungle Taitei] (1965-1966): জাপানের টিভিতে দেখানো প্রথম রঙিন আনিমে সিরিজ। শুধু তাই নয়, এই সিরিজ থেকে অনেক কিছু “inspiration” নিয়ে ভবিষ্যতে তৈরি হয় ডিজনির বিখ্যাত Lion King মুভিটি। দেখার মত এসব inspiration-এর কিছু অংশ-
    3. Kimba - Simba
  • Princess Knight [Ribbon no Kishi] (1967-1968): ম্যাজিকাল গার্ল বা মাহৌ শৌজো আনিমের প্রোটোটাইপ সিরিজ, অর্থাৎ এক কথায় এটি প্রথম ম্যাজিকাল গার্ল আনিমে।
  • 1001 Nights (1969) ও Cleopatra [Cleopatra: Queen of Sex] (1970): নাম দেখেই হয়তো আন্দাজ করতে পারছেন কিছুটা। এগুলি ছিল একদম প্রথম দিকের X-rated animated film [শুধু আনিমে নয় কিন্তু!]। অবশ্য তখনকার যুগে হেন্তাই হবার যা “যোগ্যতা” ছিল তা এখনকার যুগের স্বাভাবিক এচ্চি সিরিজের থেকেও অনেক কম। তাই এখনকার হিসাবে এগুলিকে হয়তো এচ্চি আনিমে বলে ধরে নেওয়া যায়।
  • Belladona of Sadness [Kanashimi no Belladonna] (1973): এই মুভিটিকে প্রথম avant-garde আনিমে হিসাবে ধরে নেওয়া যায়। ধরে নেওয়া যায় – এই কথা বলার কারণ সেই সময়ে স্বাভাবিক আনিমে টিভিতে নিয়ে আসাই বিশাল বড় যুদ্ধ ছিল, সেখানে একটা uncommercial কাজ নিয়ে এসে অনেক বড় সাহসের পরিচয় ছিল। এরকম সাহস দেখানো কাজ তখনও কোন স্টুডিও করে উঠে নাই। বাণিজ্যিকভাবে চরম ব্যর্থ হয় এটি, আর এই মুভির ব্যার্থতা মুশি প্রোডাকশনের বন্ধ হবার অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটিও মুশি প্রোডাকশনের আরেকটি X-rated আনিমে।

স্টুডিওটি নিয়ে কয়েকটি তথ্য-

  • পোকা সংগ্রহের প্রতি ছোটকাল থেকেই মারাত্মক ঝোঁক ছিল ওসামু তেজুকার, আর এর প্রভাগ তার কাজকর্মেও দেখা যেত। ওসামুশি [গ্রাউন্ড বিটল] এর নামের সাথে তার নামের মিল – এই ব্যাপারটা তার এত মনে ধরে যে নিজের ছদ্মনাম হিসেবেই ওসামুশি শব্দটি বেছে নেন তিনি। মুশি প্রোডাকশনের নামকরণের কারণটাও কিছুটা আন্দাজ করা যায় এ থেকে।
  • ওসামু তেজুকার বিপক্ষে একটা বড় অভিযোগ রয়েছে যে তিনি অকল্পনীয় রকমের অল্প বাজেট নির্ধারণ করতেন আনিমে নির্মাণের ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র আনিমে তৈরির কম্পিটিশনে প্রতিদন্দ্বীদের পরাস্ত করা যায় যেন। আর তার এই অল্প বাজেট নির্ধারণের ব্যাপারটিই মডেল হিসাবে নিয়ে নিয়েছে ভবিষ্যতের আনিমে স্টুডিওগুলি। আনিমে তৈরির পিছনের মানুষদের ধুঁকে ধুঁকে এগিয়ে যাবার পিছনে এটিকে অনেক বড় কারণ হিসাবে দেখা হয়। 
  • মুশি প্রোডাকশন ছেড়ে দেবার পর কয়েকজন প্রাক্তন স্টাফ এরপরে নির্মাণ করেন কয়েকটি বিখ্যাত আনিমে স্টুডিও। এগুলি হল Madhouse [ওসামু দেজাকি, মাসাও মারুইয়ামা, ইয়োশিয়াকি কাওয়াজিরি, রিন্তারো], Kyoto Animation [হিদেয়াকি হাত্তা, ইয়োক হাত্তা] এবং Tezuka Productions [ওসামু তেজুকা]।
  • প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবার জন্যে অল্প বাজেটে আনিমে তৈরি, আনিমের ইন্ডাস্ট্রি ঠিকমত উঠে না দাঁড়ানো অবস্থায় একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট হাতে নেওয়া এবং এসব প্রজেক্টের চরম ব্যার্থতা – এসব কিছুই কাল হয়ে দাঁড়ায় মুশি প্রোডাকশনের জন্যে। ১৯৬৮ সালে মুশি প্রোডাকশন ছেড়ে চলে যান ওসামু তেজুকা এবং তৈর করেন তেজুকা প্রোডাকশন। অবশেষে ১৯৭৩ সালে দেউলিয়া ঘোষিত হয়ে বন্ধ হয়ে যায় এই স্টুডিও। অবশ্য এরপর ১৯৭৭ সালে আবার নতুন করে মুশি প্রোডাকশন চালু হয় এবং আজ অবধি তা কাজ করে আসছে, কিন্তু ততদিনে সোনালী দিন অনেক পিছে ফেলে এসেছে মুশি প্রোডাকশন।

মুশি প্রোডাকশনেই কর্মজীবনের শুরু হয় ৭০-এর দশকে আনিমের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া নামকরা কয়েকজন আনিমে নির্মাতাদের। বেশ কিছু আইকনিক আনিমে নির্মাণ করেন এদের অনেকেই-

  • 4. Yoshiyuki TominoYoshiyuki Tomino: বিখ্যাত আনিমে ফ্র্যাঞ্চাইজ Gundam-এর জনক, অবশ্য সেই কাজ তিনি শুরু করেন স্টুডিও সানরাইজে গিয়ে। তার কাজের একটি বড় অংশের মধ্যে “Everybody Dies” এই আইডিয়াটার বাস্তবায়ন দেখা যায়।

 

 

 

 

 

  • 5. Osamu DezakiOsamu Dezaki: বক্সিং আনিমের মধ্যে কাল্ট ক্লাসিক সিরিজ Ashita no Joe এর ডিরেক্টর তিনি, সিরিজটি মুশি প্রোডাকশন থেকেই তৈরি হয়। এছাড়াও আরেকটি বিখ্যাত সিরিজ The Rose of Versailles এর একটি বড় অংশের ডিরেক্টর তিনি। নিজস্ব ধরনের অ্যানিমেশন স্টাইল ও আর্টস্টাইলের জন্যে তিনি বিখ্যাত- split screen, stark lighting, pastel-chalked freeze frame ইত্যাদি। তার অনেক ট্রেডমার্ক অ্যানিমেশন স্টাইল এরপর অনেক নামকরা অ্যানিমেটররা ব্যবহার করেছেন।

 

 

  • 6. RintaroRintaro: সাই-ফাই জনরার ভক্ত নামকরা ডিরেক্টর রিন্তারোর বিখ্যাত কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে Metropolis, Galaxy Express 999, The Dagger of Kamui ইত্যাদি।

 

 

 

 

 

মুশি প্রোডাকশনের কিছু জনপ্রিয় আনিমে-

7. Mushi-Pro anime

যদিও এখনকার মুশি প্রোডাকশন বিভিন্ন আনিমে তৈরিতে সহায়তা করে থাকে (প্রোডাকশন কাজ, অ্যানিমেশন কাজে সহায়তা, ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট, ফটোগ্রাফি ইত্যাদি) তারপরেও নিজস্ব কাজ হিসাবে তেমন কিছুই করে না তারা। ১৯৭৩ সালেই আসলে সত্যিকার মুশি প্রোডাকশন শেষ হয়ে যায়, এখন যা আছে তা খোলসমাত্র।

Kingdom [এনিমে রিভিউ] — Rezo D. Skylight

এনিমে রিভিউঃ
Kingdom
জনরাঃ অ্যাকশান, হিস্টোরিকাল, মিলিটারি, সেইনিন
স্টুডিওঃ Pierrot
এপিসোডঃ ৭৭ (৩৮+৩৯)
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ১ম সিজন (৮.২৫), ২য় সিজন (৮.৫৯)
আমার রেটিংঃ ১ম সিজন (৯/১০), ২য় সিজন (১০/১০)

K 1

আমরা ছোট থাকতে কমবেশি সবাই অনেক রাজা-বাদশার গল্প পড়েছি। আর এসব গল্পতে বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহের যে কাহিনীগুলো ছিল সেগুলো কিন্তু বেশ মজারই ছিল। যাদের ইতিহাসের প্রতি লোভ বেশি, তাদের আবার এইসব টপিক আরও বেশি পছন্দের। হ্যাঁ! আমি এখন সেই ‘রাজা-বাদশার’ ও ‘যুদ্ধ-বিগ্রহের’ কাহিনীসম্পর্কিত এক এনিমের কথা বলতে যাচ্ছি, যার নাম ‘কিংডম’। তবে তা কোন কাল্পনিক গল্প না বরং ইতিহাসের সত্য কাহিনীর উপর নির্ভর করে এর কাহিনী রচিত।

অনেকদিন (৪৭৫-২২১ খ্রিষ্টপূর্ব) আগের কথা। তৎকালীন চীন সাম্রাজ্য সবসময় যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত। আর তখন সমাজে দাস প্রথা থেকে শুরু করে নানাধরেণের প্রথা প্রচলিত ছিল। সেই যুগে, চীনের কিন (Qin) সাম্রাজ্যের দাস প্রথার স্বীকার দুই বালক শিন (Li Xin) আর হিও (Piao) এক বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তাদের স্বপ্ন ছিল “Great Generals of the Heavens” তথা চীনের অন্যতম শক্তিশালী জেনারেল হওয়ার। কিন্তু তা হওয়া চারটে খানিক কথা না?! সমাজের অনেক প্রভাবশালী ব্যাক্তিরাও এই পদে কিন্তু সহজে যেতে পারে না। এই দাসের কাজ খেটে বেড়ানো এতিম ছেলে দুইজন জানত তাদের জন্য এই স্বপ্ন অসম্ভব। তারপরেও তারা তাদের এই অসম্ভব স্বপ্নকে সম্ভব করতে দৃঢ়প্রত্যয়ই ছিল। যাই হোক একদিন হটাৎ করেই রাজার লোকজন হিওকে কোন এক অজ্ঞাত কাজের জন্য ধরে নিয়ে যায়। হিও চলে যাবার পর শিন আবার নিজের মতো করে গ্রামে কাজ করা শুরু করে। এভাবে কয়েক মাস পার হয়ে গেল। এরপর একদিন হিও মৃত্যুমুখে হুট করেই আবার গ্রামে এসে হাজির হল শিনের সাথে দেখা করতে। সে বেশি কথা না বাড়িয়ে শিনকে এক নির্দিষ্ট ঠিকানায় যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। এরপর তার অনুরোধে শিন সেখানে গিয়ে দেখতে পেল ঠিক হিওর মতো দেখতে এক বালককে যার নাম জেং (Ying Zheng), যে কিনা, কিন (Qin) সাম্রাজ্যের রাজপুত্র। কিন্তু এখন সে নিজের ক্ষমতা হারিয়ে জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যে তার ভাইয়ের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এরপর ঘটনাক্রমে শিন, জেং এর সাথে যোগ দেয়। আর দুইজনে দুইধরণের শপথ গ্রহণ করে। জেং শপথ গ্রহণ করে “Unifying China” গড়ে তুলতে তথা সকল সাম্রাজ্য মিলে একটি মাত্র যুক্তরাষ্ট্র গড়ে তুলতে; আর অপরদিকে শিন শপথ গ্রহণ করে জেংকে তার স্বপ্নবাস্তবায়নে সাহায্য করে শুধুমাত্র “Great Generals of the Heavens” না বরং “Great General of the World” হতে। এভাবে দুই বালকের শপথ গ্রহণ মাধ্যমেই শুরু হয় ‘কিংডম’ এনিমের গল্প।

K 2

‘কিংডম’ এনিমে নিয়ে আমার নিজের অনুভূতি প্রকাশের আগে কয়েকটা মন্দ কথা বলে নেই। কিংডম এনিমের যে জিনিসটি আমার কাছে প্রথমত বিরক্তিকর লেগেছে তা হল “CGI animation” বা থ্রিডি ইফেক্টের ব্যাবহার। শুধু আমি না, আমার মতো অনেকেই হয়ত এই একই কারণে প্রথম এপিসোড শুরু করার সাথে সাথেই ড্রপ মারেবে। একে তো থ্রিডি ইফেক্ট তার উপর আবার হিস্টোরিকাল-সেইনিন এনিমে। তাই এই সিরিজ দেখার আগ্রহ বেশিরভাগ মানুষই হারিয়ে ফেলে। আর এখানেই আমাদের বোকামি। আমরা সিরিজটা ভালভাবে যাচাই না করেই, আর দ্বিতীয়বার না দেখার সিদ্ধান্তটা নিয়ে বসি। ইংরেজিতে আমরা একটা প্রবাদ প্রায়ই শুনে থাকি – “Don’t judge a book by its cover.”। ‘কিংডম’ এনিমের ক্ষেত্রেও কিন্তু সেই একই প্রবাদ খাটে। প্রথম প্রথম থ্রিডি ইফেক্ট কিছুটা বিরক্তিকর লাগবে কিন্তু একবার কাহিনীর মধ্যে আপনার মন ঢুকে পড়লে আর সহজে কিংডম দেখা ছাড়তে পারবেন না। ১১-১২ এপিসোড পার হবার পর দেখেবেন এই থ্রিডি ইফেক্টের মাত্রা আস্তে আস্তে কমে গেছে। আর ২য় সিজনে বলতে গেলে কোনই থ্রিডি ইফেক্ট নেই। তাই শুরুতে থ্রিডি ইফেক্ট দেখে বিরক্ত না হয়ে নিশ্চিন্তে ‘কিংডম’ দেখা শুরু দিন।

এই একটা কারণ ছাড়া কিংডম এনিমের আর কোন ত্রুটি দেখি নি। এখন যদি প্রশ্ন করে বসেন যে, কিংডমে ভাল লাগার মতো কি আছে? আমি বলব যে ভাল লাগার মতো নাই কি। বরং আরও বলতে পারি কিংডমের মতো আরও দু-চারটা এনিমে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল প্রথম এপিসোড থেকেই আপনার আকর্ষণ ধরে রাখবে। কিভাবে যে একটার পর একটা এপিসোড দেখে যাবেন টেরই পাবেন না। আর এখানেই কিংডমের সার্থকতা। কাহিনী থেকে শুরু করে প্রতিটা চরিত্রই কিন্তু মারাত্মক। আর শিনের স্বপ্নযাত্রা দেখতে দেখতে আপনি নিজেও অন্যান্য ক্যারেক্টারের ভক্ত হয়ে যাবেন। বিশেষ করে শিনের বীরত্ব আর জেংএর আত্মপ্রত্যয়ই মন যে কাউকেই অবাক করে দিবে।

K 3

কিংডম এনিমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হল এর যুদ্ধক্ষেত্রগুলো। প্রতিটা যুদ্ধ এত সুন্দরভাবে ডিটেইলস করে দেখানো হয়েছে তা আর বলার মতো না। আর যুদ্ধ-স্ট্রাটেজিগুলাও অসাধরন। যুদ্ধে স্ট্রাটেজিগুলো এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে যেন দেখার সময় আপনি একটার পর একটা টুইস্ট পান। আর যুদ্ধেক্ষেত্রের ইন্টেনসিটিও অনেক তীব্র। বিশেষ করে যখন একপক্ষের জেনারেলের সাথে অপরপক্ষের জেনারেলের ফাইট শুরু হয়, তখন আপনার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে। কিংডমে আরও রয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা, আপন মানুষ হারানোর বেদনা, প্রতিশোধ, বীরত্ব, ধ্বংসলীলাসহ এইরকম অনেক থিম। কখনো হয়ত শিনের বীরত্ব দেখে আপনার শরীরের রক্ত গরম হয়ে যাবে, আবার কিছু কিছু বীর-আত্মদান দেখে অনায়সে আপনার চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়বে। এভাবে মানুষের মনের আবেগ টেনে আনার মতোই এনিমে হল কিংডম।

এখন এনিমের সাউন্ডট্রাক নিয়ে কিছু কথা বলি। এই কিছুক্ষণ আগে মনের আবেগ নিয়ে যে কথা বলেছিলাম তার পিছনে কিন্তু সাউন্ডট্রাকগুলোর দারুন ভূমিকা রয়েছে। কেননা, কিংডমে সঠিক দৃশ্য অনুযায়ী সঠিক সাউন্ডট্রাক ব্যাবহার করা হয়েছে। ও.এস.টি গুলো মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দের “Shin Main Theme” (https://goo.gl/ndBWBw)। এই ও.এস.টি শুনে মনে অন্যরকম প্রশান্তি আসে। আর কিংডমের ওপেনিং আর এন্ডিং সংএর পিছনে রয়েছে Nothing’s Carved In Stone, The Sketchbook ও D☆DATE এর মতো ব্যান্ডগুলো। প্রতিটা গানই দারুন কিন্তু আলাদা করে ওপেনিং সং এর মধ্যে “Pride” by Nothing’s Carved In Stone (https://goo.gl/hIaAA2) আর এন্ডিং সং এর মধ্যে “21” by The Sketchbook (https://goo.gl/UQK1dS) বেশি ভাল লেগেছে। তারপরেও “Voice of Soul” by Takumi Ishida (https://goo.gl/SOqo24) এবং “Destiny Sky” by Yuki Wakai (https://goo.gl/DlVUL1) গান দুইটাও কিন্তু মারাত্মক সুন্দর। সবমিলিয়ে কিংডমে খুবই চমৎকার চমৎকার গান ব্যাবহার করা হেয়েছে।

K 4

কিংডমের ভয়েস অ্যাক্টিং রোলগুলাও কিন্তু চমৎকার। যেমন, এনিমের মূল চরিত্রগুলো – Li Xin, Ying Zheng, Lei Qiang ও He Liao Diao এর ভয়েস অ্যাক্টিং রোলে ছিলেন যথাক্রমে Masakazu Morita, Jun Fukuyama, Yoko Hikasa ও Rie Kugimiya। এছাড়া বাকি ক্যারেক্টারগুলোতেও বেশ ভাল ভাল ভয়েস অ্যাক্টিং রোল আছে।

কিংডম এনিমে দেখে কিন্তু প্রাচীন চীনের অনেক ঐতিহাসিক ধারণাও পাওয়া যায়। এই এনিমের ক্যারেক্টারগুলো সব হিস্টরিকাল ক্যারেক্টার। সম্রাট Ying Zheng এর চীন রিইউনাইটেড করার সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কিংডম মাঙ্গা/এনিমে তৈরি করা হয়েছে। (আরও জানতে – https://goo.gl/DmnZjr)

K 5

যাই হোক, ‘কিংডম’ নিয়ে অনেক কথাই লিখালাম। এখন পর্যন্ত আমার দেখা সেরা হিস্টোরিকাল এনিমে হল কিংডম। আমার মতে এটি ‘মাস্টারপিস’ এনিমের কাতারে পড়ে। আপনারা যারা এর আগে কখনো হিস্টরিকাল এনিমে দেখেন নি বা দেখতে চান না তারা একবার হলেও এটা দেখার চেষ্টা করুন। একসময় আপনার ঠিকই ভাল লাগবে। আশা করি রিভিউটা পড়ে ভাল লেগেছে, আর অবশ্যই কিংডম দেখবেন। তাহলেই আমার রিভিউটি লেখা সার্থক হবে।

K 6

 

Behind the Voices – 13

কাজি ইয়ূকি

কাজি ইয়ুকির কণ্ঠটা তার বয়সের তুলনায় বেশ ইম্মেচিউর । তবে সব কণ্ঠ অভিনেতারই যে সবসময় অধিক ম্যানলি চরিত্র করতে হবে তা তো আর নয় । সে তার এই কণ্ঠটাই নিজের সুভিধায় লাগিয়ে, নিজের ধাঁচের চরিত্রকেই কণ্ঠ দেওয়ায় নিজের দক্ষতা বারিয়েছে । এবং এখন আর বলা লাগে না যে আনিমে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সফল কণ্ঠ অভিনেতাদের মধ্যে তিনি একজন ।

কাজি ইয়ুকি বরাবরই কিশোর চরিত্রগুলোর কণ্ঠ দেওয়ার জন্য বেশ নামকরা, তবে কিছু কিছু অন্য রকম চরিত্রেরও কণ্ঠ দেওয়ার নমুনা আছে তার । সে আমার পছন্দের সেইয়ূর তালিকায় না থাকলেও তার বেশ কিছু রোল খুব ভালো লেগেছে তা মানতে রাজি । তার পছন্দের রোলগুলো হল ম্যাজাই-এর আলিবাবা, শিঙ্গেকি নো কিয়োজিনের এরেন ইয়েগার, হাইস্কুল DXD ইস্সেই, এস অফ ডায়ামন্ডের নারুমিয়া মেই, ব্ল্যাক বুলেটের রেনতারো, গিল্টি ক্রাউনের ঔমা শূ, নিসেকোই-এর মাইকো শূ, দুরারারার ওয়াকার, নোরাগামির ইউকিনে, হেন্তাই ঔজির হেন্তাই ঔজি, হাইকিউ-এর কেনমা, বাকুমানের তাৎসুরৌ এবং কুরোশিৎসুজির ফিনিয়ান । এছাড়া একজন গায়ক হিসেবেও তার ক্ষ্যতি আছে ।

1

তার জন্ম ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫ । একজন সেইয়ূ হিসেবে তিনি ২০০৬ থেকে অ্যাক্টিভ । তার সামনে আরও আরও ভালো রোল আসবে এ আশা করি ।

2

সাকুরা আয়ানে

কণ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে অধিক পটেনশিয়ালের অধিকারীদের একজন সাকুরা আয়ানে । তার গলায় এক ইউনিক টান থাকলেও প্রায় সব ধাঁচের চরিত্র করাতেই দক্ষ তিনি ।

মাত্র ২০১০-এ অভিষেক হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ নাম করে ফেলেছেন তিনি । এবং গত বছর থেকে যদি কোন হটশট কণ্ঠ অভিনেত্রীর নাম বলতে হয় তাহলে তার নাম নিঃসন্দেহে বলা হবে । ২০১১ থেকেই কম পক্ষে প্রতি বছর ১০ টা রোল আছে তার, তবে ২০১৩-এর আগ পর্যন্ত তার বেশির ভাগই ছিল গুরুত্বহীন সাইড ক্যারেক্টার । ২০১৪ থেকে হঠাৎ একাধিক ভালো ভালো রোল পাওয়া শুরু তার এবং তা ২০১৫ তেও বিদ্যমান ছিল ।

তার যে রোলগুলো আমার বেশ পছন্দ তা হল গোচিউসার কোকোয়া, ট্রিনিটি সেভেনের লেভি, সাইকো পাসের শিমোৎসুকি, ওরেগাইরুর ইশ্শিকি ইরোহা, ভিভিডরেড ওপেরেশনের আকানে, শিগাৎসুর সুবাকি এবং সাথে একটা পচা গেমের সেন্দাই, নাগাতো, মুৎসু এবং শিমাকাযে । এছাড়া তার হাইস্কুল DXD-এর গ্যাস্পার রোলটাও বেশ ভালো ছিল :v ।

3

তার কাজ করা বেশ কিছু আনিমেগুলার ওপেনিং-এন্ডিং এও তার অবদান রয়েছে যেমন হিদান নো আরিয়া, জোশিরাকু, নন নন বিয়োরি ইত্যাদি ।

কয়েকদিন আগেই তার জন্মদিন ছিল ২৯ জানুয়ারি । তার বয়স মাত্র ২২ এবং সামনে যে তার এক উজ্জ্বল ক্যারিয়ার আছে, তা তার পারফর্মেন্সই বলে দেয় ।

4

Behind the Voices – 12

উচিয়ামা কৌকি

উচিয়ামা কৌকির কণ্ঠটায় ঠিক অচঁচল এবং ‘ Don’t know, Don’t care’ ভাব আসে তার কণ্ঠের মাঝে । তাই সে সাধারণত এই ধাঁচের চরিত্রেরই কণ্ঠ দিয়ে থাকে এবং ৯০% কিশোর অথবা তরুণ চরিত্র । সে বেশির ভাগ সময়ই কণ্ঠ অভিনয় ছাড়া মিডিয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখেন ।

তার রোলগুলা বেশ ইউনিক হয় । আমার তার অনেক রোলই বেশ প্রিয় সেগুলো হচ্ছে সৌল ইটারের সৌল, হান্টার হান্টারের মেরেউয়েম, আমাগি ব্রিলিয়ান্ট পার্কের কানিয়ে সেইয়া, নিসেকোই-এর ইচিজৌ রাকু, বারাকামনের হিরোশি, হোতারুবি নো মোরি য়ে-এর গিন, হাইকিউর সুকিশিমা, বিনবৌগামি গা-এর কেইতা, সি-এর কিমিমারো, ডেথ প্যারেডের ক্লাভিস এবং যেতসুয়েন নো টেম্পেস্টের ইয়োশিনো । মজার ব্যাপার হল, নিসেকোই-এর ইচিজৌ রাকু এবং ইনফিনিট স্ট্রাটোসের ওরিমুরা ইচিকাকে চরিত্রের ক্ষেত্রে এক কাতারেই ফেলানো হয়, তাদের দুজনেরই সেইয়ূও কিন্তু এই লোক । কিংডম হার্টসের রক্সাস এবং রিবর্নের অ্যাডাপ্ট না হওয়া চ্যপ্টারগুলোতে কোযাতো এন্মার কণ্ঠও কিন্তু তিনি দিসেন ( কোন স্টুডিও অ্যাডাপ্ট করে না কেন >_< ) ।

1

তার জন্ম ১৬ আগস্ট, ১৯৯০ । কণ্ঠ অভিনয়ে তার অভিষেক ২০০৭-এ হলেও তিনি তার আগে টেলেভিশন ড্রামায় অভিনয় করতেন । ২০১১ সালের 5th Annual Seiyuu Awards-এ ‘Best New Actor’ পদক তিনি জিতেছেন । সামনে আরও ভালো ভালো রোল করবেন তিনি, সেটা তার দক্ষতা দেখেই বুঝা যায় ।

2

 

তৌয়ামা নাও

জাপানের কণ্ঠ অভিনয়ের ইন্ডাস্ট্রিতে যদি কেউকে সেরা ইংরেজি বলার খেতাব দেওয়া হয়ে থাকে, তবে আমি বিশ্বাস করি তার অধিকারি হবেন তৌয়ামা নাও । একজন কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনি প্রখর, ঠিক তার ইংরেজি বলার দক্ষতার মতই । তার কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে আবির্ভাব ২০১০-এ । এবং তার প্রথম রোলই ছিল কামি নোমি যো শিরু সেকাই-এর কানোন যিনি বেশ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন পুরা ফ্র্যান্চাইজে ।

কণ্ঠ অভিনয়ে তার গলার স্বর ধরা সহজ, তাই অনেকের কাছেই একটা ব্যাপার অজানা হয়ে থাকে যে সে সহজেই স্বর পরিবর্তন করতে পারেন । এটা হয়তো অনেক কণ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই পারে তবে গানের মধ্যে এই দক্ষতা প্রয়োগ করতে পারে, এরকম খুব কম জনকেই দেখেছি ( https://goo.gl/uaG4xlএইটা শুনে দেখতে পারেন ) । তার কণ্ঠটা প্রথমে প্রথমে পছন্দ হত না । আমার এখনো মনে আছে ২০১৪-এর দিকে আমি আর আমার এক বন্ধু মিলে তাকে ব্যাশ করতাম, যদিও সে সাওয়াশিরো মিয়ুকির বেশ বড় ভক্ত :3 । তবে ঠিক একটা গেম খেলার পর এবং তার আগে কিছু কিছু আনিমে দেখে আমার মতামত পরিবর্তন হয়েছে ।

৪ বছরে সে এক গাদা রোল করেছেন, এবং ২০১৩-এর শেষের দিক থেকে সে স্পটলাইটে আসতে শুরু করেন । কিনিরো মোজাইকের কুজৌ কারেন, গেট-এর লালেনা, কামি নোমি-এর কানন, ট্রিনিটি সেভেন-এর শার্লক লিসেলট্টে, ওরেশুরার নাৎসুকাওয়া মানা তার এই রোলগুলা আমার বেশ পছন্দ । সুধু তাই নয় কানকোলেতে তিনি একা ৬ টা রোল করেছেন কঙ্গৌ, হিয়েই, হারুনা, কিরিশিমা, মায়া, আতাগো এবং সবগুলাই আমার বেশ ভালো লেগেছে । এছাড়া তিনি গেমে মায়া এবং চৌকাই-এর কণ্ঠও দিয়েছেন যারা এ বছরে ফ্র্যান্চাইজটির মুভিতেই আসবে ।

3

তার গানগুলো এবং লাইভ পার্ফোমেন্স গুলোর বেশ বড় ভক্ত আমি । কামি নোমিতে কানোনের হইয়ে সে বেশ কয়েকটি গান গিয়েছেন, যার মধ্যে Love Kanon (https://goo.gl/NlpjRy) এবং All for you (https://goo.gl/xyfHVn) আমার বেশ প্রিয় শুনে দেখতে পারেন । এছাড়া Gate, Ikoku Meiro no Crosiee, Nisekoi, Military, Sabagebu, Oregairu, Zettai Karen Children-Unlimited, Symphogear এবং আরও কিছু আনিমেতে তার গাওয়া গান ওপেনিং অথবা এন্ডিং হিসেবে ব্যাবহৃত হয়েছে ।

তার জন্ম ১১ মার্চ, ১৯৯২ । তার শিক্ষিকা হওয়ারও যোগ্যতা আছে, কারণ সে ইংরেজি এবং ইতিহাশের উপর উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রি অর্জনের খেতাব আছে । এছাড়া তিনি কিন্তু একজন জোজো ভক্ত ।

4

JoJo’s Bizarre Adventure: Stardust Crusaders [এনিমে রিভিউ] — Rezo D. Skylight

এনিমে রিভিউঃ
JoJo’s Bizarre Adventure: Stardust Crusaders
জনরাঃ অ্যাকশান, অ্যাডভেনচার, শৌনেন
এপিসোডঃ ৪৮ (২৪+২৪)
স্টুডিওঃ David Production
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ১ম সিজন (৮.২৩), ২য় সিজন (৮.৬২)
পার্সোনাল রেটিংঃ ৯/১০

JoJo

JoJo’s Bizarre Adventure সিরিজের তৃতীয় পার্ট হল Stardust Crusaders। প্রথম দুই পার্টের সূত্র ধরেই Stardust Crusaders এর কাহিনী শুরু। তাই এনিমের প্রথম সিরিজের কাহিনী টেনে না এনে সরাসরি Stardust Crusaders কাহিনী ব্যাখ্যা করছি।

যারা জোজোর প্রথম দুই পার্ট দেখেছেন তাদের নিশ্চয়ই ডিয়োর কথা মনে আছে। হ্যাঁ, সেই ডিয়োই ঠিক ১০০ বছর পর জোনাথান জোস্টারের শরীর নিয়ে জেগে উঠেছে। আর এই ডিয়োর বিরদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জোসেফ জোস্টার তার একমাত্র পৌত্র কুজো জৌতারোর সাহায্য নিতে জাপানে আগমন করে। ততদিনে জোজো পরিবারের বংশধররা ‘স্ট্যান্ড’ ইউজারে পরিণত হয়েছে। আর তার সূত্র ধরেই জৌতারোর মাও ‘স্ট্যান্ড’ ইউজার হয়ার হাত থেকে রক্ষা পাইনি। ‘স্ট্যান্ড’ এর আবির্ভাব হয়ার সাথে সাথেই জৌতারোর মা ডিয়োর অভিশাপের কারণে এমন এক অসুখের স্বীকার হয় যা তাকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেয়। এখন উপায়?! একটাই উপায়; আর তা হল ডিয়োর বিরুদ্ধে লড়ে তাকে হত্যা করা। আর সেই উদ্দেশেই জৌতারো কুজো তার দাদা জোসেফ জোস্টারের সাথে তার সঙ্গীদের নিয়ে রওনা হয় মিশরের উদ্দেশ্যে। আর এখান থেকেই শুরু হয় Stardust Crusaders এর যাত্রা।

এখন প্রশ্ন হল ‘স্ট্যান্ড’ কি? স্ট্যান্ড হল একধরণের ইউনিক স্পিরিট যা যে কোন মানুষ নিজেকে রক্ষা করতে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে কিংবা অন্যকোন কাজে ব্যাবহার করতে পারে। আর যারা স্ট্যান্ড ব্যাবহার করতে পারে তারা ‘স্ট্যান্ড ইউজার’ হিসেবে পরিচিত। এই স্ট্যান্ডের অরিজিন নিয়ে Stardust Crusaders-এ আর কিছু ব্যাখ্যা করা হয়নি; পরবর্তী পার্টের কাহিনী সম্পর্কে কিছু না জেনে তাই আর কিছু বলতে পারছি না।

জোজোর আগের পার্ট দুইটা যারা দেখেছেন তারা জানেনই জোজো সিরিজ কেমন। জোজোর ক্যারেক্টারগুলো খুব সিম্পলিস্টিক এবং কাহিনীও অনেকটা সরল প্রকৃতির। কিন্তু তারপরেও জোজো এত ভাল লাগার কারণ কি?! ভাল লাগার অনেক কারণই আছে। প্রথমত, জোজোর ক্যারেক্টারগুলো সিম্পলিস্টিক হলেও বেশ ইন্টারেস্টিং। দেখতে দেখতে কখন যে আপনার ক্যারেক্টারগুলো আপনার ভাল লেগে যাবে টেরই পাবেন না। এছাড়া তাদের যাত্রাপথে বাধা অতিক্রম করার জন্য লড়াই করতে হয় বিভিন্ন স্ট্যান্ড উইজারদের সাথে। আর প্রতিটি লড়াই অনেক উপভোগ্য। এছাড়া কমেডিকাল মোমেন্টেরও অভাব নেই। জোজো দেখার সময় যে কতবার হাসছি তারও ঠিক নেই। আর জোজোর যে জিনিসটি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে আর তা হল ‘ইন্টেনস মোমেন্ট’ ক্রিয়েট করা। কিভাবে তারা এক একটি বাধা অতক্রম করবে তা কিছুতেই বলা যাবে না। সময় সময় আপনার মনে হবে “এখন উপায়?!”, “কিভাবে সম্ভব?!” এরকম ধরণের যতসব প্রশ্ন। কিন্তু আপনার সকল প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে আপনাকে এমন এক টুইস্ট উপস্থাপন করবে তাতে আপনি না চমকে বসে থাকতে পারবেন না। এমনকি আপনিও মাঝে মাঝে জোসেফ জোস্টারের মতো “Ohhh my god!!” বলে বসতে পারেন। এছাড়া জোজোতে রয়েছে রক্তগরম করা অনেক ‘হিরোয়িক মোমেন্ট’। সাথে আছে চমৎকার চমৎকার কিছু সাউন্ডট্র্যাক। আর মেইন ভিলেন হিসেবে ডিয়ো কিন্তু খুবই ইন্টারেস্টিং একজন চরিত্র। আবার মেইন প্রোটাগনিস্ট হিসেবে জৌতারোর কোনভাবেই ডিয়োর থেকে পিছিয়ে নেই। বরং অন্যান্য জোজোদের তুলনায় জৌতারো বেশি ভায়োলেন্ট। সবমিলিয়ে বলা যায়, যেকোনো অ্যাকশানপ্রেমিক এনিমেভক্তদের জোজো অবশ্যই দেখা উচিত।

জোজোর আর্টস্টাইল অন্যান্য এনিমের তুলনায় কিছুটা ব্যতিক্রম। লোকজন সাধারণত জোজোর আর্টস্টাইলকে ‘ম্যানলি আর্টস্টাইল’ বলে। মূলত জোজোর মাঙ্গাকা Hirohiko Araki-র আর্টস্টাইল এনিমেতে ফলো করা করা হয়েছে। অনেকেই হয়ত এই ‘ম্যানলি আর্টস্টাইল’ এর জন্য জোজো দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। কিন্তু কয়েক এপিসোড দেখার ট্রাই করলে আপনার কাছে আর্টটা একসময় মানানসই হয়ে যাবে। তাই ভুলেও আর্টের কারণ দেখিয়ে জোজো দেখা ড্রপ মারবেন না।

এখন পর্যন্ত জোজোতে আমার দেখা সেরা পার্ট হল Stardust Crusaders। বিশেষ করে ২য় সিজনের থ্রিলিং মোমেন্ট আর এক একটা ব্যাটেল ছিল সেই জোশ। আর এন্ডিংও অসাধরণ। তাই দেরি না করে হাতে সময় থাকলে জোজো Stardust Crusaders দেখতে বসে জান। তবে অবশ্যই আগে প্রথম পার্টগুলো দেখে নিবেন। আশা করি রিভিউটি পড়ে ভাল লেগেছে এবং আপনিও জোজো দেখার সময় বেশ উপভোগ করবেন।

শর্ট অ্যানিমে সাজেশনঃ মিস মোনোক্রোম; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

12628369_588377794660064_1367290930225803933_o

ভয়েস অ্যাক্ট্রেস হোরিয়ে ইউইকে আপনারা অনেকেই হয়ত চিনে থাকবেন, এই অ্যাক্ট্রেস এর অরিজিনাল ক্যারেক্টার ডিজাইন হল মিস মোনোক্রোম। এটিকে তিনি তার কনসার্টে থ্রিডি ভার্চুয়াল সিঙ্গার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এরপর এটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গেম “গার্লফ্রেন্ড” এও অ্যাপিয়ার করে। এরপরে ২০১৩ সালে প্রথম এয়ার হয় ৪ মিনিট করে মোট ১৩ এপিসোডের অ্যানিমে “মিস মোনোক্রোম”। আর ২০১৫ সালে যথাক্রমে এয়ার হয় সিজন ২ ও ৩, এবার প্রতিটি এপিসোডের রানটাইম ডাবল, অর্থাৎ ৮ মিনিট করে। এছাড়া অ্যানিমেটির একটি ওভিএ এবং একটি ওএনএ আছে।

মিস মোনোক্রোম একজন অ্যান্ড্রয়েড। নামের মত তার জীবনটাও মোনোক্রোম; সে সাদাকালো পছন্দ করে সবকিছু। তার জীবনের স্বপ্ন হল একজন জনপ্রিয় আইডল হওয়া এবং তার সময়কার বিখ্যাত আইডল কিকুকোর সাথে প্রতিযোগিতা করা। মিস মোনোক্রোম কি পারবে তার স্বপ্ন সত্যিতে রূপান্তর করতে? এই কাহিনী নিয়েই অ্যানিমেটি আবর্তিত হয়।

অ্যানিমেটিতে মিস মোনোক্রোমের কণ্ঠ দিয়েছেন হোরিয়ে ইউই, তার এই যান্ত্রিক কণ্ঠটা আমার খুব ভাল লেগেছে। এছাড়াও বাকি চরিত্রগুলোও অল্প সময়ের মাঝেই মনে ছাপ ফেলেছে। সিজন ১ এর এন্ডিং সংটায় মিস মোনোক্রোমের নাচটা স্কিপ করতে পারিনি, এত কিউট লেগেছিল। প্রতিটি ওপেনিং আর এন্ডিং এর নাচগুলো অনেকটা বার্বিডলের মত। অ্যানিমেশন বেশ সুন্দর, আর সবচেয়ে বড় কথা, শর্ট ডিউরেশনের অ্যানিমে হলেও এতে একটা চলমান কাহিনী রয়েছে।

সবমিলিয়ে মিস মোনোক্রোম আমার খুব ভাল লেগেছে। হাতে তিন-সাড়ে তিন ঘন্টা নিয়ে দেখে ফেলতে পারেন মোট ৪১ টি ছোট্ট এপিসোড।

12513517_588377821326728_8563363540658660651_o

Movie Time With Yami – টিং টং মুভি টাইম

12633583_591294291035081_5444090378713510034_o

টিং টং মুভি টাইম!!! (not really ;-;)

অনেকদিন কোন মুভি নিয়ে কথাবার্তা বলি না, আজকে তাই সুন্দর একটা শর্ট মুভি সাজেস্ট করি সবাইকে।

মুভির নাম- Aki no Kanade

আকি নামের মেয়েটি যখন এলিমেন্টারী স্কুলে পড়ত, তখন থেকেই তার স্বপ্ন যে সে তাইকো ড্রামার হবে। সেজন্য সে হাইস্কুলের পাঠ চুকে যাওয়ার পর তার গ্রাম ছেড়ে টোকিওতে চলে আসে এই স্বপ্নটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে। কিন্তু বিধি বাম!! চাইলেই যে সবকিছু মনমত হবে তা তো নয়। টোকিওতে থাকার খরচ জোগাতে পার্ট টাইম চাকরী, সেই সাথে ড্রাম বাজানোর ট্রেনিং – এ দুটো ব্যালান্স করতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছিল আকিকে।

এর মাঝে আকিকে হঠাৎ তার হাইস্কুলের শিক্ষক ফোন করে একটি অনুরোধ নিয়ে। প্রিয় শিক্ষকের অনুরোধে তাই গ্রামে ফিরে আসে আকি, হাইস্কুলের ড্রামস ক্লাবের সদস্যদের ট্রেনিং এ সাহায্য করতে। এরপর ঘটে সুন্দর কিছু ঘটনা, এবং আকির মনে পড়ে যায় তার নিজের ছোটবেলার কথা।

আমি জানিনা আপনাদের কি মনে হচ্ছে, তবে উপরে যা বর্ণনা দিলাম, তাতে আমার মনে হয় এটির একটা পূর্ণ ২ ঘন্টার মুভি, এমনকি ১২ এপিসোড এর অ্যানিমে হওয়ার মত পটেনশিয়াল রয়েছে। ২৫ মিনিট অনেক অল্প সময়, কিন্তু অ্যানিমে মিরাই প্রজেক্ট ট্রেইনিদেরকে এইটুকুই সময় বরাদ্দ করে, আর এই অল্প সময়ের মাঝে মুভিটিতে যেভাবে কাহিনীটা দেখানো হয়েছে, আমি চমকে গেছি যে এত সুন্দর করে এত অল্প সময়ে কিভাবে এতকিছু দেখাল। আমার আকির ছোটবেলার ঘটনাগুলো আরও ডিটেইল জানতে ইচ্ছে করছিল, টোকিওতে ওর স্ট্রাগলগুলো, আনাড়ি থেকে প্রফেশনাল ড্রামার হয়ে যাওয়ার গল্প, গ্রামে তার ড্রামের সাথে জড়িত স্মৃতিগুলো, এরপর নিজেকে আবার ফিরে পাওয়ার গল্প- এ সবই আরেকটু ডিটেইলে দেখতে পেলে হয়ত ভাল লাগত। ড্রামের বাদ্যগুলো আমার এক্সেপশনালি ভাল লেগেছে, সারাদিন ধরে শুনতেও আপত্তি নেই। আশা করে লাভ নেই জানি, তাও ক্ষীণ একটা ইচ্ছা কাজ করছে মনে, যদি ডেথ প্যারেডের মত এই মুভিটাও একটা ফুল লেংথ অ্যানিমে পেত, ভাল লাগত।

আর হ্যা, ভাল কথা, মুভির শুরুতেই ওরেকি হৌতারোকে হঠাৎ দেখে চমকে গিয়েছিলাম!! ও দেখি এখন এনার্জি কনসার্ভিং ছেড়ে ড্রাম বাজানো শুরু করেছে!!

নাগি নো আসুকারা [রিভিউ] — Fatiha Subah

নাগি নো আসুকারা
জানরাঃ ফ্যান্টাসি, রোমান্স, ড্রামা
পর্ব সংখ্যাঃ ২৬
সোর্সঃ ওরিজিনাল
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৩৮
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯.৫/১০

nagiasu 1

অনেক দিন আগে মুহম্মদ জাফর ইকবালের “জলমানব” নামের একটা সায়েন্স ফিকশন পড়েছিলাম। সেখানে মানুষ মূলত পানিতে বাস করত। এই থিমটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল। পানিতে থাকতে পারলে কি মজাটাই না হত! তখন দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিলাম এই ভেবে যে, ‘ইশ… এটার যদি একটা মুভি বা এরকম কিছু থাকতো তাহলে সরাসরি পানিতে ঘুরে বেড়ানো দেখতে পেতাম’। নাগি নো আসুকারা এই থিমের উপর ভিত্তি করে তৈরি শুনে আনন্দ লাগছিল। আমার ইচ্ছা পূরণ হইছে!! ইয়েএএএএ!!! আমার সবচেয়ে প্রিয় মাধ্যম আনিমেতে দেখতে পাব তার উপর সাথে আবার আমার প্রিয় রোমান্স জানরা। আমাকে আর পায় কে! কিন্তু শুরুতে আশাও করিনি আনিমেটা এতটা ভালো হবে। রোমান্স জানরার আনিমের নাম চাইলে সবাই বহু সাধারণ আনিমের নাম বলে কিন্তু এটার কথা কাউকে বলতে দেখি না। এরপরের বার দেখার জন্য রোমান্স আনিমে খুঁজতে চাইলে সোজা আগে এটা দেখবেন!

nagiasu 2

গল্পঃ অনেক আগে মানুষ সমুদ্রে বসবাস করত। সাগরের দেবতার দেওয়া “এনা” নামের মাছের আঁশের মত ত্বকের উপর এক ধরণের স্তর মানুষকে পানিতে বেঁচে থাকার ক্ষমতা দান করে। কিন্তু অনেক মানুষ সমুদ্র ছেড়ে মাটিতে উঠে আসে বাইরের পৃথিবীকে দেখার জন্য। অনেকে সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করতে শুরু করে। ফলাফলস্বরূপ তারা এনা হারিয়ে ফেলে। এনাহীন প্রজন্ম মাটির উপরেই জীবনযাপন করে এবং নিজেদের পরিবার নিয়ে বংশবৃদ্ধি করে। মানবজাতি দু ভাগে ভাগ হয়ে যায়। জলে “শিওশিশিও” গ্রাম আর স্থলে “ওশিওহশি”।
আনিমেটি শুরু হয় ৪ মিডেল স্কুল পড়ুয়া ছোটবেলার বন্ধু হিকারি সাকিশিমা, মানাকা মুকাইদো, চিসাকি হিরাদাইরা আর কানামে ইসাকি’কে নিয়ে। তাদের শিওশিশিও’র মিডেল স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয় ওশিওহশি’র স্কুলে আসতে। পথিমধ্যে দেখা হয় সুমুগু কিহারা নামের এক ছেলের সঙ্গে যে কিনা একজন জেলে এবং তাদের নতুন সহপাঠী।

nagiasu 3

এদিকে সাগর পাড়ের মানুষদের সাগর দেবতার প্রতি একটি দায়িত্ব ওফুনেহিকি নামের এক ধরণের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা যেখানে একজন কুমারীকে এবং অন্যান্য বলি দেবতার প্রতি উৎসর্গ করা হয়। কিন্তু দুই মানবজাতির মাঝে অন্তর্দ্বন্দ যেন বাড়তে বাড়তে তুঙ্গে পৌঁছেছে। বহুকাল যাবত ওশিওহশি’র লোকেরা ওফুনেহিকির আয়োজন করে না। সাগর দেবতা তাই তাদের উপর ব্যাপক অসন্তুষ্ট। সতর্কতা জারি করা হয় যে ওশিওহশি নোনা তুষারে ঢাকা পরে যাবে যদি না খুব শীঘ্রই ওফুনেহিকি পালন করা হয়। এর উপর অসম্ভব রকম ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করবে। সাগর ধীরে ধীরে জমে যাবে। কিন্তু এত কিছুর পরও কলহ-বিবাদের কারণে ওফুনেহিকি’র আয়োজন আবারো ভেস্তে যায়। হিকারি ঠিক করে যেভাবেই হোক এটার সমাধান করতে হবে। মানাকা, চিসাকি আর কানামেকে নিয়ে সে কাজে লেগে পড়ে। সাথে যোগ দেয় সুমুগু। তাদের উৎসাহ দেখে তাদেরকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে আরো নতুন সহপাঠীরা।

nagiasu 4

এই চার বন্ধু নতুন করে আবিষ্কার করে নতুন পৃথিবীটাকে, মুখোমুখি হয় দুই মানবজাতির দ্বন্দ্বের, খুঁজে পায় একই সাথে মিষ্ট আবার তিক্ত অনুভূতি, জানতে পারে সাগর দেবতার ইতিহাস আর বেড়িয়ে পরে নতুন এক অভিজ্ঞতায়!

nagiasu 5

আর্ট এবং অ্যানিমেশনঃ নাগি-আসু’র ব্যাপারে সবার আগে বোধ হয় এটা বলা অবশ্যকর্তব্য! এর অ্যানিমেশন এতটা অসাধারণ! যদিও পি.এ. ওয়ার্কসের অ্যানিমেশন এমনিতেও সেরা মানের। সেরা অ্যানিমেশনের আনিমের তালিকা করলে এটা নির্ঘাত অনেক উপরে থাকবে। তবে সুন্দর অ্যানিমেশন আসলে বহু আনিমেতেই আমরা অহরহ দেখি এখন। কিন্তু নাগি-আসু একটু ব্যতিক্রম এই দিক থেকে যে পানি নিয়ে কাজকারবার অন্য আনিমেতে খুব একটা নেই নদী, লেক, সুইমিং পুল আর হটস্প্রিং দেখানো ছাড়া। কিন্তু এখানে পানির প্রভাব অনেক বেশি। আনিমেটা দেখতে বসলে মনে হবে আপনি নিজেই যেন সমুদ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিংবা আপনার আশেপাশে মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে। পরিষ্কার টলটলে পানির নিচে সূর্য বা চাঁদের আলোয় ঝিকমিক করা শিওশিশিও গ্রামটা দেখতে আসলেই খুব ভালো লাগে। আর ওশিওহশি শহরটাও কম যায় না। তুষার ঢাকা শহরটার দিকেও তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করবে। মোটকথা, এরকম আনিমে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয়টা নেই তাই আপনি হাই কোয়ালিটি দেখেন আর না দেখেন এটা অবশ্যই পারলে ৭২০ বা ১০৮০ পিক্সেল বা এইচডি কোয়ালিটিতে দেখবেন।
এবার আসি ক্যারেক্টার ডিজাইনে। পুরা “মোয়ে মোয়ে” চোখ জলমানবদের! অনেকেরই এটা অপছন্দ। তাই মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে অনেকেই। কিন্তু তাদের আকাশী নীল রঙের চোখজোড়া আমার কাছে ভালোই লেগেছে। চরিত্রগুলোও এক কথায় “সুন্দর”। বিশেষ করে কানামে আর চিসাকি!

nagiasu 6

মিউজিক এবং সাউন্ডঃ প্রথমে ভয়েস অ্যাক্টিংয়ের কথা বলি। সেইয়ূ নির্বাচন যথাযথ হয়েছে। প্রতিটা চরিত্রের সাথে কণ্ঠগুলো মানিয়ে গেছে বেশ। কণ্ঠ শুনেই সবার ব্যক্তিত্ব ও স্বভাবচরিত্র বুঝা যায়। ওএসটি-এর ক্ষেত্রেও বেশ ভালো কাজ করেছে। শুরুতে জিন আকেতাগাওয়া ছিল সাউন্ডট্র্যাকের দায়িত্বে। পরে গুণী কম্পোজার ‘দেওয়া ইয়োশিয়াকি’কে দায়িত্ব দেয়া হয়। তাই কি আশা করতে পারেন সেটা বুঝতেই পারছেন। আনিমে দেখার সময় কাহিনীতে বুঁদ হয়ে থাকলে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অতটা খেয়াল নাও করতে পারেন। তাই ইয়ুটিউবে শুনে নিতে পারেন ওএসটি। ওপেনিং আর এন্ডিং গানগুলোও ভালো আছে। নাগি ইয়ানাগি’র “অ্যাকুয়া টেরারিয়াম” আর রে’র “এব এন্ড ফ্লো” পছন্দ হবে বেশী। সাউন্ড নিয়ে আরেকটা উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সাগরতলে যখন সাঁতার কাটা হয় তখনকার পানি প্রবাহের শব্দ আর বিভিন্ন জলজীবের শব্দগুলোও কেমন জানি মোহিত করে রাখে।

nagiasu 7

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টঃ নাগি-আসু’র প্রাণ হচ্ছে এর চরিত্রগুলো। প্রায় প্রতিটি চরিত্রেরই রয়েছে তার নিজস্ব ভূমিকা। এদের ছাড়া আনিমেটা অসম্পূর্ণ থেকে যেত। প্রধান চরিত্র শুধু সেই ৪-৫ জন ছেলে-মেয়ে না। আরও কিছু চরিত্র পরে এসে যোগ হয় যাদের অনেকেই প্রধান চরিত্র বা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যক্তিগতভাবে আমি অত খুঁতখুঁতে না তাই কাউকে নিয়েই আমার তেমন আপত্তি নাই। তবে হিকারি অনেক বদমেজাজি প্রধান চরিত্র হিসেবে। কিন্তু ধীরে ধীরে ওর মাঝে অনেক পরিবর্তন আসে তাই সেটা মাফ করা যায়। কিন্তু সমস্যা হল মানাকা আর সুমুগুকে নিয়ে। বেশির ভাগ মানুষ এই দুজনকে অপছন্দ করে। কেননা কাহিনীর ঝামেলা শুরুই এই দুইটার হাত ধরে এবং একেবারে শেষ পর্যন্ত এরাই গল্পটা নিয়ন্ত্রণ করে যায়। অথচ মানাকা পুরো একটা ছিঁচকাঁদুনে, আনমনা, আর বেহুঁশ মেয়ে যেটা খুব বেশী পরিচিত আনিমের প্রধান মেয়ে চরিত্র হিসেবে। আর সুমুগু চার বাল্যবন্ধুর মাঝে ঝড়ের মত এসে বাগড়া বাধায়। সুমুগু বাগড়া না বাধালে শেষে অনেক ভক্তের একটা ইচ্ছা পূরণ হত কিন্তু সেটা স্পয়েল না করার স্বার্থে আর বলছি না। মাঝে মাঝেই এই দুজনকে ধরে থাপড়ানোর প্রবল ইচ্ছা জেগে উঠলেও কিছু করার নেই! আবার সুমুগুকেই লাগতে পারে সবচেয়ে পরিপক্ক চরিত্র! চিসাকিকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আমার কাছে চিসাকিকে অনেক ভালো লেগেছে কারণ সে আশেপাশের সবার বিষয়ে অবগত, চিন্তাভাবনা করে সিধান্ত নেয় আর মানসিকভাবে পরিপক্ব হয়। মিউনা হল সেই “ভালো মেয়ে” যে কিনা প্রধান চরিত্রের একজন হয়ে কত কিছু করার পরেও পার্শ্ব চরিত্রের মত থেকে যায়। মিউনাও পছন্দনীয়। তবে আমার মতে সেরা চরিত্র দুটি হল কানামে আর সায়ু। দুঃখের বিষয় হল সবচেয়ে কম স্ক্রিনটাইম আর গুরুত্ব পেয়েছে এরাই। সবসময় কাহিনীর পেছনে ফেলে রাখা এই দুজনেই চুপচাপ সব পর্যবেক্ষণ করে এবং এদের অনুভূতিগুলো মনকে নাড়া দেয়ার মত। তবে যত যাইহোক, বিভিন্ন রকমের চরিত্র আছে যারা ঠিক গতানুগতিক হতে গিয়েও অগতানুগতিক। কোন কারণে আমার অগাধ বিশ্বাস বাস্তবে আসলেই মানাকা, চিসাকি, মিউনা আর সায়ু’র মত হয় মেয়েরা (মোর এই উক্তি মানিয়া লইয়া চলিলে অতঃপর আপনার জীবন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছুলে মুই দায়ি নহে)। আর হ্যাঁ, এত গুরুগম্ভীর নাটকীয়তার মাঝে একটু হাসাতে ও মজা দিতে পিচ্চি আকিরা তো আছেই!

nagiasu 8

এঞ্জয়মেন্টঃ এবার আসি আসল রিভিউয়ে। শুরুতেই বলে দিয়েছি এই আনিমেটা অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো। কিন্তু কেন? নাগি-আসু দেখলে শুরুতে এটিই মাথায় ঘুরবে। হয়ত পানিতে থাকাটা নতুনত্ব কিন্তু ঘুরেফিরে তো আবার সেই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়েই। তার উপর এরা আবার মাত্র মিডেল স্কুলে পরে। বাচ্চা পোলাপান! আরও বেশী বাচ্চামি করে বেড়াবে আর সব জগাখিচুড়ি পাকাবে! কথাটা কিছুটা সত্য। কিন্তু নাহ, এর থেকে বড় ভুল ধারণা নাগি-আসুকে নিয়ে আর হতেই পারে না। ডোন্ট জাজ অ্যান আনিমে বাই ইট’স পোস্টার! আপনি যদি ভেবে থাকেন এটা আর ১০টা রম-কম আনিমের মত বা এটা তার থেকে বাজে হবে তাহলে বিশাল ভুল করছেন। আপনি যদি রোমান্স আনিমের উপর পিএইচডি-ও করেন তাও লাভ নাই! নাগি-আসু এক কথায় “ওয়ান অফ এ কাইন্ড”। আমি নিজে বস্তায় বস্তায় রোমান্স আনিমে দেখেছি কিন্তু কোনটাই এটার ধারের কাছে নাই। অন্য কোন আনিমের সাথেও এর মিল নাই। আমি প্রতিবার হারেম থেকে রিভার্স হারেম কিংবা সাধারণ রোমান্স এমনকি নন-রোমান্স সবখানেই কে কাকে পছন্দ করে, জুটি কারা হবে সব কিছু হওয়ার আগেই অনুমান করে বসে থাকি আর লাফালাফি করি যখন সেগুলো আসলেই সত্যি হতে দেখি। কিন্তু এই এক নাগি-আসু’র ক্ষেত্রে কিছুই বুঝা সম্ভব না। কারা কারা জুটি হবে বা অন্য যেকোন কিছুই হোক সেটা, আপনাকে অবাক করার মত বহু কিছুই আছে। এটার গল্পটার আসলে দুইটা আর্ক বা অংশ আছে। প্রথম অংশও ভালো কিন্তু দ্বিতীয় অংশটায় পুরো কাহিনীর মোড় ঘুরে যায় এবং এখান থেকেই আনিমেটা জমজমাট হতে শুরু করে। তাই শুরুটুকু খুব সাধারণ লাগলে বলব যে একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। এখানে চমকের পর চমক অপেক্ষা করছে। এটা দেখতে মজাও আছে এজন্য। আপনি কত ভাল আন্দাজ করতে পারেন তারও একটা পরীক্ষা হয়ে যেতে পারে।

nagiasu 9

সমস্যা হল এই একই কারণে নাগি-আসু ভালো নাও লাগতে পারে। আপনি যেই জুটি সমর্থন করেছেন তা না দিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটা জুটি দিয়ে যখন আপনাকে বিস্মিত করে দিবে তখন সেটা মোটেও ভালো লাগবে না! খুবই স্বাভাবিক। আর নাগি-আসুতে এমনটা হওয়াই খুব স্বাভাবিক! এখানে যে প্যাঁচ আছে তার কোন তুলনা হয়না! আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, ১০০% অতুলনীয়! অন্য আনিমেতে ভালোবাসার চতুর্ভুজ বা পঞ্চভুজ পেতে পারেন খুব বেশী হলে। এখানে যে পুরা সপ্তভুজ এনে ছেড়েছে! তাছাড়া, সাধারণত কারা কারা এক সাথে হবে এটা আগে থেকেই বলে দেওয়া যায়। কিন্তু এখানে বাকি সময়ের মত শেষে কি হবে এটা মোটেও আগে থেকে বুঝে ফেলা সম্ভব না। এজন্যই প্রিয় জুটি দেখার সৌভাগ্য না হওয়ার সম্ভবনাও অনেক বেশি। শেষে গিয়ে তাই অনেকেই আশাহত হয়। তাই আনিমেটা বাজেও লাগতে পারে। আমার প্রিয় জুটিগুলোও একসাথে আমি দেখতে পারিনি। খারাপ লেগেছিল খুব। কিন্তু এরকম লাগলে আমি বলব যে পুরো ব্যাপারটা একবার ভেবে দেখবেন যে, যদি শেষটা একটুও আলাদা হত তাহলে কাহিনী কতটা অন্যরকম হয়ে যেত। যেহেতু এখানে প্যাঁচ বেশি তাই একটা জুটি পরিবর্তন করলে বা একটা চরিত্রেরও যদি অনুভূতি বা সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয় তো পুরা আনিমেটাই অন্যরকম হয়ে যাবে। সেই পরিবর্তন খুব আজগুবিও হত। একটু চিন্তা করলেই দেখবেন বাকি সম্ভাব্য জুটিগুলো আসলে অনেক উদ্ভট লাগত। তাই সমাপ্তিটা আসলে উপযুক্তই হয়েছে।

nagiasu 10

শুধু রোমান্স না, নাগি-আসু’র অনেক বড় একটা অংশ জুড়ে আছে ফ্যান্টাসি। ‘সমুদ্রে মানুষের বসবাস’-শুধু এখানেই ফ্যান্টাসির কাজ শেষ না। সাগরের দেবতা বা উমিগামির আছে এক নিজস্ব ইতিহাস। উমিগামি-সামা’র গল্পটা শুনলে মনে হবে আপনি কোন কিংবদন্তী লোককথা শুনছেন। উরোকো-সামা, জলমানব আর স্থলমানবদের মাঝের বিবাদ-কলহ যোগ করেছে প্লট টুইস্ট। আরেকটা বিষয় হল আমরা মাটির উপরে যা যা করি তার সব পানির মধ্য করা সম্ভব না। যেমন পানিতে আগুন ধরাবেন কিভাবে? পানিতেও কি তুষার পড়ে? সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ কি পানিতেও হতে পারে? এই জিনিসগুলো কিছুটা পরিমার্জন করে নতুন জগতটার সাথে মানিয়ে নেয়া হয়েছে। এরকম নতুন একটা সেটআপকে এত চমৎকারভাবে তুলে ধরার জন্য পি.এ. ওয়ার্কসকে কৃতিত্ব দিতেই হয়।

nagiasu 11

সবমিলিয়ে নাগি নো আসুকারা সত্যিই আনিমে জগতে নতুনত্ব এনেছে। রোমান্স আর ফ্যান্টাসির নিখুঁত সংমিশ্রণে তৈরি এমন আনিমে সহজে পাবেন না। রোমান্স আনিমে ভক্তদের জন্যে এটা মাস্ট ওয়াচ। জানি না কেন এটা যতটা জনপ্রিয়তা পাওয়ার যোগ্য ততটা জনপ্রিয়তা পায়নি। এনিমখোর টপচার্ট ২০১৪-এর অ্যাডমিনস চয়েসে কিন্তু নাগি-আসু’ই ছিল সেরা রোমান্স আনিমে ক্যাটাগরির বিজয়ী। তাই সময় পেলে অবশ্যই দেখে ফেলবেন আনিমেটি।

পিএসঃ আকাশসমান প্রত্যাশা থাকলে যেকোনো কিছুই আশাহত করতে পারে। তাই আশার মাত্রাটা একটু কমিয়ে নিয়ে দেখতে বসলে দেখবেন উপভোগ করতে পারছেন বেশ! ধন্যবাদ।

nagiasu 12 nagiasu 13

জীরোর স্বপ্ন অথবা রাগী বাতাসের কাহিনী — Anirban Mukherjee

ফুজিওকা শহর থেকে একটু দূরে ,যখন ভোরের সাদা কুয়াশাগুলো সবুজ শস্যক্ষেতের উপর গাঢ় হয়ে ভাসতে ,কাছেই একটা বাড়িতে,এক কিশোরের স্বপ্ন আর বাস্তবের সীমারেখা ধংস হয়ে যায় ।গাঢ় সাদা কুয়াশার সমুদ্রের মধ্যে বনেদি জাপানি বাড়িটা একটা বিচ্ছিন্ন ভাসমান দ্বীপের মতো লাগে ,যার বিশাল ত্রিকোনাকার ছাদের একপ্রান্তে ছেলেটাকে চড়তে দেখি ,চোখে একটা এভিয়েসন গ্লাস।সে ছাদের একপ্রান্তে একটা কাঠের এরোপ্লেনে চড়ে বসে ।প্লেনটা বেমানান, ছোট ইঞ্জিন,ডানাদুটো বাঁকানো ,শেষ প্রান্তে আবার পাখির পালকের মতো কারুকার্য করা ।ছেলেটা ইঞ্জিনটা চালু করে,প্লেনের প্রোপেলার ঘোরে ।দূরে সূর্যের প্রথম লাল আলো পড়া হলুদ -সবুজ পাহাড়গুলো ঘুরন্ত প্রপেলারের মধ্যে দেখলে মনে হবে একটা গলন্ত সুন্দর লাল – হলুদ কিছু পদার্থ ।প্লেনটা পাখির মতো ডানা ছাড়ে, আর ছেলেটা প্লেনের সঙ্গে ওড়ে ।সূর্যের প্রথম লাল -হলুদ আলো ,আর নীচের সবুজ উপত্যকা ,শস্যক্ষেত ।প্লেনটা যত এগোয় ,সেই শস্যক্ষেত থেকে অন্ধকার দ্রুত পেছনে সড়ে যেতে থাকে ।যেন প্লেনটা একটা বাজপাখি আর অন্ধার কোন ভীতু ইঁদুর ।নীচের ছোট-বড় নদী,সবুজ নদীদ্বীপ ছাড়িয়ে প্লেনটা এসে পৌছয় ফুজিওকা শহরের মধ্যে ,যেখানে কাঠের সাঁকো, রেল লাইন,মেয়েদের বোডিং হাউস পেরিয়ে দেখতে পায় কালো সারসের মতো অসংখ্য ছোট বেলুন শহরে ঢুকছে ,যার মধ্যে অদ্ভুতদর্শন কালো কাপড় পড়া মানুষ দাঁড়িয়ে ,বেলুনগুলো আবার একটা বিশাল কালো বেলুন থেকে ঝুলছে ।ছেলেটা সেগুলোকে বিপদ মনে করে লড়তে যায় ,পারেনা ,ছোট প্লেনটা ভেঙে যায়,তার এভিয়েসন গ্লাস ভেঙে পড়ে যায়,সেও পড়তে থাকে এবং একসময় তার স্বপ্ন ভেঙে যায় ।ছেলেটা জীরো হোরিকোশি ,আর দৃশ্যটা হায়াও মিয়াজাকির শেষ মাস্টারপিস উইন্ড রাইজেসের প্রথম স্বপ্নদৃশ্য ।তার সিনেমাগুলোকে প্রায়ই সিনেমার ম্যাজিক রিয়ালিজম জঁরের অন্যতম সেরা সাক্ষর মনে করা হয়,উইন্ড রাইজেসও এর বাইরে নয় ,এই সিনেমাতে বারবার স্বপ্ন আর বাস্তবের সীমানাটাকে মুছে ফেলা হয়েছে ।যেমন এর পরের স্বপ্নদৃশ্য,কায়ো,জীরোর ছোট বোন যখন জীরোর সঙ্গে বাড়ির ছাদে গাঢ় নীল রাত্রিআকাশে উল্কাবৃষ্টি দেখছিলো ,তখন জীরোর চোখ চলে যায় ইতালির রঙিন আকাশে ,একগাদা কাপ্রোনি কা 31 প্লেন ,যার পাখার রঙ ইতালির পতাকার মতো লাল-সাদা-সবুজে রাঙানো ,হয়ত কোনও যুদ্ধে যাচ্ছিল , আমরা পরে জানতে পারি এর ডিজাইনার জিয়োভাননি কাপ্রোনির মুখে ,ঐ প্লেনগুলো কেউ ফিরে আসবে না।পরের দৃশ্যে দেখব একটা শহরের ছবি ,যার গোটাটা প্লেনগুলোর বোমের লাল আগুনের শিখাতে গিলে ফেলেছে,প্লেনগুলোও বাঁচতে পারছে না ।এখানেই জীরো অনুপ্রেরনা পায় কাপ্রোনির কাছে ,পাইলট নয়,প্লেনের ডিজাইনার হওয়ায় উচিত তার লক্ষ ।আর অবশ্যই , “প্লেন কোনো যুদ্ধের যন্ত্র নয়,সেগুলো কোন টাকা কামাবার জিনিস নয়।এয়ারপ্লেন হচ্ছে সুন্দর স্বপ্ন,যার ইঞ্জিনগুলো স্বপ্নকে বাস্তবে পরিনত করে”।
পাঁচ বছর পর,জীরো নিজের স্বপ্নগুলোকে সত্যি দেখার জন্য ট্রেনে করে যাচ্ছে টোকিওতে,এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শিখতে টোকিও ইউনিভার্সিটিতে ।ট্রেনে দেখা হয় নায়োকোর সঙ্গে।দুজনেই ইটালিয়ান ভাষা জানে ।
Le vent se leve
Il faut tenter de vivere.
(The wind is rising ,we must try to live)

wind rises 1
এই আসার পথেই জীরো পরিচিত হয় প্রকৃতির ধংসের মুখের দিকে ,1923 সালের টোকিওর ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প, মিয়াজাকি তার সিনেমাতে ভূমিকম্পকে এক ভয়ঙ্কর সুন্দর মাত্রায় দেখিয়েছেন ।ভূমিকম্প যেন এক জীবন্ত সরীসৃপ, বিশাল বড় নিশ্বাস ফেলে স্থলভাগের দিকে ধেয়ে আসছে ,তারপর এক বিশাল শব্দ, মাটির উপর দিয়ে যেন এক বিশাল বড় ঢেউ খেলে গেল,টোকিওর বাড়িগুলো,রেলপথ আর ট্রেনটাও ও সেই ঢেউএর তালে নেচে উঠল ।দানবীয় শব্দের সঙ্গে মিয়াজাকি আমাদের পরিচয় করিেছেন ভূমিকম্প পরবর্তী বিশাল অগ্নিকান্ডের,টোকিওর রাস্তায় লক্ষ জনার ভীড়,বিশাল লাল-কালো মাশরুমের মতো আগুনের ধোঁয়া ঢেকে ফেলেছে টোকিওর আকাশ ।নায়োকোর আয়াকে বাঁচানোর পর জীরো দেখে তার বিশ্ববিদ্যালয় জ্বলে গেছে,তার বন্ধু কিরো হোনজো আরও কিছু বন্ধুদের নিয়ে কিছু বই আর গবেষনা পত্র বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে ।উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে আগুনে পোড়া কাগজ,কাঠের দরজা,পোড়া গাছের ছোট ডাল ।টোকিও শেষ ।প্রায়।
“কে জানে,সেখানে হয়ত কোনও আগুনের সমুদ্র ছিলো”
1927 সালে জীরো আর কিরো গ্রাজুয়েট হয় টোকিও ইউনিভার্সিটি থেকে ,তারপর তারা মিৎসুবিসি কোম্পানির হয়ে ফ্যালকন নামে একটা ফাইটারের ডিজাইনের উপর কাজ করতে থাকে ,যেটা পরে পরিত্যক্ত হয় ।এরমধ্যে তারা দুজনা জার্মানি যায়,সেই সঙ্গে উপলব্ধি করে যুদ্ধখাতে ব্যায় বারানোর জন্য কী দারিদ্র্যের মধ্যে যাচ্ছে জাপান ।জীরো সবসময় কাপ্রোনির কথা মনে রাখতো ,যে তাকে অনেক স্বপ্নদৃশ্য এ দেখা দিয়েছে,” এই পৃথিবীটা আরো ভালো হয়ে উঠতে পারে ,সুন্দর প্লেনের সাহায্যে”।
সিনেমার শেষ স্বপ্নদৃশ্য খুব সুন্দর, একগাদা মিৎসুবিসি এ ফাইভ সিক্সের ধংসাবশেষ পেরিয়ে জীরো এগিয়ে যাচ্ছে একটা নীল আকাশ আর সবুজ ঘাসের উঁচু প্রান্তে ,যেখানে কাপ্রোনি দাঁড়িয়ে আছে কথা বলার জন্য ।কথার ফাঁকে দেখতে পারি কিছু এ ফাইভ সিক্স উড়ে যাচ্ছে নীল আকাশে ,ফরিঙের মতো ,কিংবা অসংখ্য কাগজের প্লেনের মতো ।নীচে একটা ছাতা নিয়ে নায়োকো আসছে ।

উইন্ড রাইজেসের প্লেনগুলি:-

ক্যাপ্রোনি কা 1 বা ক্যাপ্রোনি কা 31:-
জীরোর দ্বিতীয় স্বপ্ন দৃশ্যে যে বাইপ্লেনগুলো আমরা দেখতে পায়,সেগুলো সম্ভবত ক্যাপ্রোনি কা 31 সিরিজের ।এগুলো আসলে বোমারু বিমান ,দিনের বেলায় শত্রু দেশে বোম ফেলার জন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নাগাদ তৈরি হয় ।মোট 162 থেকে 166 টা তৈরি করা হয়েছিলো।এর প্রথম প্রটোটাইপের নাম ছিলো ক্যাপ্রোনি কা ওয়ান,যেটা প্রথম উড়ানেই ক্রাশ খেয়েছিলো ।প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইতালির হারের পর কিছু এই সিরিজের বিমান যাত্রী পরিবহনে ব্যাবহার হতো ।মোট ছয় থেকে চারজন যাত্রী ধরতো এখানে ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এগুলো অস্ট্রিয়া -হাঙ্গেরি, লিবিয়া এবং ফ্রান্সে বোমাবর্ষণের কাজে ব্যাবহার করেছিলো ইতালি ।

ফ্যালকন প্রোটোটাইপ:-
সিনেমাতে দেখি জীরো হোরিকোশি আর কিরো হৌনজো ,দুজনেই একটা এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বেসড প্লেন তৈরি করার চেষ্টা করে ,মিৎসুবিসির হয়ে,জাপানি নেভির জন্য ।সেই প্রজেক্টটার নাম ফ্যালকন, মাত্র দুটো তৈরি হয়েছিলো ।আর এটাই ছিলো জাপানের প্রথম ক্যারিয়ার বেসড এয়ার ক্রাফট তৈরির উদ্যোগ ।এই প্লেনটা নেভির দ্বারা প্রতাখ্যাত হয়,তার বদলে জাপানি নেভি বেছে নেয় নাকাজিমা এ ওয়ান এন ।যেটা 1935 অবধি জাপানিজ নেভির সঙ্গে ছিলো ।মোট একশ একান্নটা তৈরি করা হয় ।

মিৎসুবিসি এ ফাইভ এম :-
জীরো হোরিকোশির অন্যতম পিয়েটা,যে প্লেনকে দেখে সিনেমাতে তার বন্ধু কিরো বলেছিলো একটা “আঁভা গার্দ” ডিজাইন ।আমেরিকার মিত্রপক্ষ এর নাম দিয়েছিলো ক্লাউড ।
1934 সালে যখন জাপানের নেভি একটি এমন এক ডিজাইন চাইলো দুই কোম্পানি, মিৎসুবিসি আর নাকাজিমার কাছে যেটা 350 কিলোমিটার প্রতিঘন্টা গতিবেগ নিয়ে উড়তে পারবে,আর 6.5 মিনিটে পাঁচ হাজার মিটার উচ্চতায় উঠতে পারবে ।আগের 1927 সালের প্রতিযোগিতায় নাকাজিমা জেতে ,মিৎসুবিসির ফ্যালকনকে হারিয়ে ।কিন্তু এবার জেতে মিৎসুবিসি ।
মোট দশটা ভারসন ছিলো,প্রথম প্রটোটাইপের ডানা অনেকটাই বাঁকানো ছিলো ।এ ফাইভ এম ফোর ভারসনের সবচেয়ে বেশি 440 কিলোমিটার প্রতিঘন্টা গতিবেগে যেতে পারতো আর 1200 কিমি এর রেনজ ছিলো ।

মিৎসুবিসি এ সিক্স এম জিরো :-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ডগফাইটে যে আমেরিকার মিত্রপক্ষের শিরঁদাড়া কাঁপিয়ে দিয়েছিলো ,সেটা নেভির টাইপ জিরো ক্যারিয়ার ফাইটার ওরফে মিৎসুবিসি এ সিক্স এম জাপানিজ জিরো ।মোট দশ হাজারের উপর বানানো হয়েছিলো ।
জাপানিজ নেভি চাইছিল এমন এক ফাইটার, যেটা সাড়ে তিন মিনিটে তিন হাজার মিটার যেতে পারে এবং “600 কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা” সবচেয়ে বেশি গতিবেগ হয় ।
প্রচণ্ড হালকা করা হয়েছিলো একে,যাতে শত্রুপক্ষের প্লেনকে ডগফাইটে নাস্তানাবুদ করতে পারতো সহজে ।অথবা দ্রুত দুটো ষাঠ কেজির বোম শত্রু পক্ষের ঘাঁটির উপর ফেলে চলে আসতে পারতো ।
কিন্তু এই অতিরিক্ত হালকা করার জন্য কিছু অনেক জিনিজ বাদ দিতে হয়েছিলো ।আর সেটাই হয় জিরোর দুর্বলতা ।
1942 এর 4 টা জুন,আমেরিকার ডাচ হারবারের উপর হামলা চালানোর সময় একটা জিরো তেলের অভাবে ল্যান্ডিং করে ,ডাচ হারবারের কুড়ি মাইল দূরে ।পিছলে গিয়ে ল্যান্ডিং টা ক্রাশ ল্যান্ডিং এ পরিনত হয়,পাইলট মাথার আঘাতে মারা যায় আর আমেরিকা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর তার অন্যতম ত্রাসের অপারেশনের সুযোগ পায় ।ভালোভাবে যাচাই করার পর দেখে ওজন কমানোর জন্য জিরোর পাইলট , ইঞ্জিন বা অন্য ক্রিটিক্যাল পয়েন্টের চারপাশে কোন বর্ম দেওয়া নেই,যেটা সেযুগের প্লেন এবং পাইলটের অন্যতম রক্ষাকবচ ।

মিৎসুবিসি জিথ্রিএম :-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের অন্যতম সেরা বোমারু বিমান তথা পরিবহন বিমান ।এটা ডিজাইন করেছিলো জীরোর বন্ধু কিরো হৌনজো। হাজারের উপরে তৈরি করা হয় এই বোমারু বিমান ।সিক্স এম জিরোর মতো,এটাও ওজন কমানোর জন্য বেশি বর্ম (আর্মর ) দেওয়া হয়নি ।সাতজন লোক এবং আটশ কেজি বোম অথবা একটা এরিয়াল টর্পেডো নিয়ে পাড়ি দিতে পারতো চার হাজার চারশ কিলোমিটার দুরত্ব ।পার্ল হারবারের উপর আক্রমণের সময় এটার অবদান অনেক ।

ক্যাপ্রোনি কা ফোর :-
অনেকগুলো(মূলত তিনটে) মূল ডানা যুক্ত বাইপ্লেন সিনেমাতে দেখা যায়। এগুলো ক্যাপ্রোনি কা ফোর সিরিজের প্লেন, মূলত বোমারু অথবা যাত্রীবাহী এরোপ্লেন হিসাবে তৈরি করার কথা ভেবেছিলেন ডিজাইনার জিয়োভাননি ক্যাপ্রোনি ।এর যাত্রীবাহী মডেল ক্যাপ্রোনি কা 48 ,প্রথম উড়ানেই ক্রাশ করে,ইটালির ভেরনা নামক জায়গায়, চোদ্দ থেকে সতেরো জন মারা যায় ।এটা ইতালির প্রথম বিমান দুর্ঘটনা ,সিনেমাতে এই ঘটনার একটা রেফারেন্স সম্ভবত আছে ।

সব শেষে-
ক্যাপ্রোনি কা 309 জিবলি :-
সম্ভবত মিয়াজাকির সবচেয়ে প্রিয় প্লেন, যার নামানুসারে নিজের (অথবা নিজেদের) কোম্পানির নামকরণ করেন ।

wind rises 2

Studio Monogatari: Prologue

আজকের এই Prologue পর্বের জন্যে থাকছে জাপানের আনিমে ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সর্বপ্রথম আনিমে স্টুডিওটির কথা —

Kitayama Eiga Seisakujo

জাপানের সর্বপ্রথম সত্যিকার অর্থের অ্যানিমেশন স্টুডিও হল কিতায়ামা এইগা সেইসাকুজো (Kitayama Eiga Seisakujo), বিংশ শতাব্দীর একদম শুরুর দিকের জনপ্রিয় অ্যানিমেটর Seitaro Kitayama ১৯২১ সালে এই স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন। সেইতারো কিতায়ামাকে বলা হয় আনিমে নির্মাণের সর্বপ্রথম পথিকৃৎদের একজন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ কিছু আনিমে তৈরি করলেও তিনি এই স্টুডিও-এর অধীনে ৩টি আনিমে তৈরি করেন: Kiatsu to Mizuage Ponpu (Atomospheric pressure and suction pumps) (1921), Shokubutsu Seiri: Seishoku no Maki (Plant Physiology: Story of Reproduction) (1922), Usagi to Kame (Rabbit and Tortoise) (1924)

kitayama

[বহু বছর পূর্বের এই ছবিটি সেইতারো কিতায়ামা-এর]

দুঃখের কথা হল, স্টুডিওটি বেশিদিন টিকতে পারে নি। ১৯২৩ সালের এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের (Great Kanto Earthquake) জন্যে এবং এরপর বাণিজ্যিক সাফল্য না আসার কারণে ১৯২৪ সালে স্টুডিওটি বন্ধ হয়ে যায়।
সেই সময়ে কিতায়ামা আনিমে তৈরির জন্যে ব্যবহার করতো Chalkboard Technique, এবং পরবর্তীতে Paper Technique যেখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকতো প্রিন্ট করা দৃশ্য এবং কাগজ কেটে তৈরি করা চরিত্রের নড়াচড়ার মাধ্যমে অ্যানিমেশন চলতো।

Segmentটির Prologue শেষ হবার আগে থাকছে একটি আনিমে সাজেশন। আনিমে স্টুডিও নিয়ে সেগমেন্টটি শুরু করবার আগে আগেই স্টুডিওগুলিতে কিরকম কাজ চলে, কাজের চাপ কেমন থাকে, আনিমে নির্মাতাদের জীবন কিরকম এসব নিয়ে জানতে চাইলে এবং একই সাথে বাস্তব জীবনের নামকরা কয়েকজন আনিমের সাথে সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিদের আনিমেতে দেখতে চাইলে জলদি দেখে ফেলুন Shirobako

Shirobako